Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    লেখক এক পাতা গল্প365 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কলকাতার ব্যবসা

    কলকাতার ব্যবসায়ে বাঙালী বনাম অবাঙালীর ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনার কোন কৈফিয়তের প্রয়োজন হয় না। কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী। পশ্চিমবঙ্গ বাঙালীদের দেশ। সুতরাং এটাই স্বাভাবিক যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালীদেরই প্রাধান্য থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তা নয়। কলকাতার ব্যবসা-বাণিজ্যের সিংহভাগ অবাঙালীর হাতে। বাঙালীর অংশ খুবই নগণ্য। তা-ও ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

    সপ্তদশ শতাব্দীর শেষমুখে ইংরেজরা যখন কলকাতায় এসে তাদের বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে, তখন তারা যাদের সঙ্গে বাণিজ্য করত তারা সবাই বাঙালী। বাঙালী বণিকদের তখন আবাসস্থল ছিল বড়বাজারে এবং বড়বাজারই ছিল ব্যবসার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। ইংরেজদের খাতা-পত্রে এটাকে ‘গ্রেট বাজার’ বলে বর্ণনা করা হত।

    কলকাতায় এসে যে বণিকদের সঙ্গে ইংরেজদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়, তারা হচ্ছে শেঠ- বসাকদের তৎকালীন প্রতিভু জনার্দন শেঠকে তাদের দালাল নিযুক্ত করে। শেঠেরা চালানী মালের ওপর শতকরা তিন টাকা হারে দালালী পেত। শেঠেরা ইংরেজদের অনেক উপকার করেছিল। তারা ইংরেজদের দুর্গনির্মাণের জন্য লালদীঘির পশ্চিমে তাদের ভদ্রাসন ছেড়ে দিয়ে বড়বাজারে উঠে এসেছিল। তাছাড়া অর্থসংকটের সময় শেঠেরা ইংরেজদের টাকা ধার দিত। ১৭০৪ খ্রীষ্টাব্দে ইংরেজরা শেঠ-বসাকদের কাছ থেকে শতকরা একটাকা সুদ হারে টাকা ধার নিয়েছিল।

    চালানী কারবারে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর একচেটিয়া অধিকার ছিল। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাঙালীদেরই হাতে ছিল। ইংরেজরা দুর্গ-বিশিষ্ট সুরক্ষিত নগরী তৈরী করছে শুনে বাঙালীরা শহরের দিকে ছুটে এসেছিল। তারা এখানে নানারকম ব্যবসা শুরু করেছিল।

    ইংরেজদের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান পণ্য ছিল সোরা, চিনি, কাঁচা রেশম, সূতা ও সুতীবস্ত্র। বাঙলার সকল জাতিই যে এ-সব পণ্য উৎপন্ন করত তা নয়। মাত্র জাতিবিশেষই বিশেষ পণ্য উৎপন্ন করত। কেবল সুতাই সকল জাতির লোকেরা কাটত। ইংরেজদের সঙ্গে বাণিজ্যের ফলে তাদের বৃদ্ধি ঘটেছিল। সুতীবস্ত্রটা তন্তুবায় গোষ্ঠীই উৎপন্ন করত। শেঠেরা এ বিষয়ে সজাগ ছিল, কেননা ১৭৪৮ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানী যখন তন্তুবায় গোষ্ঠীর বাইরের লোকদের দাদন দিয়েছিল, তখন তারা তার প্রতিবাদ করেছিল। অবশ্য কৌলিক বৃত্তিসমূহের ক্রমশ বিলুপ্তি ঘটছিল।

    বাঙালী যে কৌলিক বৃত্তি হারিয়ে ফেলছিল এবং নানান জাতির লোক যে নানারকম ব্যবসায়ে লিপ্ত হচ্ছিল, তা আমরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের ব্যবসাদারদের নাম থেকে বুঝতে পারি। এইসব ব্যবসাদারদের মধ্যে ছিলেন বৈষ্ণবচরণ শেঠ, গোকুল মিত্র, মোদনমোহন দত্ত, রামদুলাল সরকার, গোবর্ধন রক্ষিত, গৌরী সেন, নিমাইচরণ মল্লিক, সাগর দত্ত, শিবকৃষ্ণ দাঁ, দর্পনারায়ণ ঠাকুর, প্রীতিরাম মাড় প্রমুখ। বৈষ্ণবচরণ ছিলেন তন্তুবায় গোষ্ঠীর লোক। গোবর্ধন ছিলেন তাম্বুলি ও গৌরীচরণ, নিমাইচরণ, সাগর দত্ত প্রমুখ ছিলেন সুবর্ণবণিক সম্প্রদায়ভুক্ত। আর গোকুল মিত্র, মদন দত্ত ও রামদুলাল ছিলেন কায়স্থ। দর্পনারায়ণ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্মণ ও প্রীতিরাম মাড় কৈবর্ত।

    ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বড় বাঙালী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর, মতিলাল শীল, আনন্দমোহন পাল, সুবলচন্দ্র পাল, কৃষ্ণমোহন পাল, গঙ্গাগোবিন্দ শীল, হরগোবিন্দ শীল, বিশ্বম্ভর পাইন, চন্দ্রকুমার পাইন, রামনারায়ণ দে, মাধবচন্দ্র দে, মথুরামোহন সেন, সুবলচন্দ্র নন্দী, ক্ষেত্রপাল সরকার প্রমুখ। সকলেরই ইংরেজদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। এই সময়ের আরও যে সব বাঙালী ব্যবসায়ীদের নাম করা যেতে পারে তাঁরা হচ্ছেন বিশ্বনাথ মতিলাল, রাধামাধব বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ বসুমল্লিক, পীতম্বর মুখোপাধ্যায়, জয়গোপাল মল্লিক, রামকিনু সরকার, জয়নারায়ণ সাঁতরা, কালীকুমার কুণ্ডু, তারকনাথ প্রামাণিক, রাধামোহন প্রামাণিক, রাখালদাস প্রামাণিক, দ্বারকানাথ গুপ্ত ও রামগোপাল ঘোষ। এঁদের মধ্যে অনেকেই ইংরেজদের সঙ্গে যুক্ত- মালিকানায় ব্যবসায়ে লিপ্ত ছিলেন, বিশেষ করে পীতাম্বর মুখোপাধ্যায়, জয়গোপাল মল্লিক, রামকিনু সরকার, জয়নারায়ণ সাঁতরা, কালীকুমার কুণ্ডু, তারকনাথ প্রামাণিক, রাধামোহন প্রামাণিক, রাখালদাস প্রামাণিক, মনিলাল শীল, রামগোপাল ঘোষ ও দ্বারকানাথ ঠাকুর। ইংরেজদের সঙ্গে বাঙালীরা তো গোড়া থেকেই ব্যবসায়ে লিপ্ত ছিল। কিন্তু এরূপভাবে লিপ্ত থাকার মধ্যে বিভিন্ন কালে একটা তারতম্য ছিল গোড়ার দিকে তারা সরাসরি ইংরেজদের মাল বেচত, তারপর তারা বেনিয়ানগিরি করত, পরে (১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দের সনদ দ্বারা ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার রহিত হবার পর) যুগ্ম মালিকানায় সওদাগরী অফিস স্থাপন করেছিল। মতিলাল শীলের সওদাগরী অফিসের নাম ছিল ওসওয়ালড্ শীল অ্যাণ্ড কোম্পানি দ্বারকানাথ ঠাকুরের ফার্মের নাম ছিল কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানি ও রামগোপাল ঘোষের ফার্মের নাম ছিল কেলসন ঘোষ অ্যাণ্ড কোম্পানি। কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানি বিখ্যাত সওদাগর অফিসে পরিণত হয়েছিল। এর অংশীদার ছিলেন চারজন—দ্বারকানাথ ঠাকুর, ডবলিউ. কার, ডবলিউ. প্রিনসেপ ও ডি. এম. গর্ডন। দ্বারকানাথ নীল ও রেশম রপ্তানি, কয়লাখনি ক্রয়, জাহাজী ব্যবসা ও চিনির কল স্থাপন করেছিলেন। ইংরেজদের সঙ্গে যুগ্ম মালিকানায় বিলাতী কেতায় ব্যবসা করে তিনি তাঁর সময়ের একজন বিখ্যাত ধনী শিল্পপতি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আলেকজাণ্ডার অ্যাণ্ড কোম্পানি (ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের খুব বড় বিলাতী ফার্ম) দেউলিয়া হবার পর, তিনি তাদের কাছ থেকে চিনাকুরি কয়লাখনি কিনে নিয়ে, পরে তাকে ‘বেঙ্গল কোল কোম্পানিতে’ রূপান্তরিত করেন। এ দেশে চিনি উৎপাদনে বাষ্পীয় যন্ত্র ব্যবহারের তিনিই প্রবর্তক। জাহাজী ব্যবসা শুরু করে বহু মালবাহী জাহাজ ও ‘দ্বারকানাথ’ নামে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করেন। তাঁর উদ্যোগের একমাত্র দুর্বলতা ছিল যে, তিনি বহু ব্যাপারে একসঙ্গে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। ১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি মারা যান, এবং তার দু-বৎসর পরে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক যখন বিপাকে পড়ে, কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানির পক্ষে তখন সবদিক সামলানো খুব দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ১৮৫১ খ্রীষ্টাব্দে ‘কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানি’ উঠে যায়।

    ‘কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানি’ উঠে যাবার পর বাঙালীর ব্যবসায়ের আর জলুস রইল না। ১৮৬৪ খ্রীষ্টাব্দে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় যখন ব্যবসা জগতে একটা ‘বুম’ আসে, তখন বাঙালী ব্যবসায়ীরা কিছু পয়সা করেছিলেন বটে, কিন্তু ওই ‘বুমের পদক্ষেপে যখন মন্দা এল, তখন তার প্রতিঘাত বাঙালী ব্যবসায়ীদের ওপরই গিয়ে পড়ল। তারপর ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষের সময় যখন জমিদারীসমূহ নীলাম হতে লাগল, তখন অনেক বাঙালী ব্যবসায়ী জমিদারী কিনে রাতারাতি বণিক থেকে জমিদারে পরিণত হল। তবে বাঙালীর ব্যবসা একেবারে উঠে গেল না। এক নতুন রূপ নিল।

    কোম্পানির বিনা শুল্কে বাণিজ্য করবার যে সুযোগ ছিল, তা ইংরেজদের কর্মচারীরা অবৈধভাবে নিত। এতে মাত্র কোম্পানিরই যে ভীষণ ক্ষতি হত তা নয়, তাদের জোর জুলুম ও অত্যাচার বাঙালীর ব্যবসাকেও বিঘ্নিত করত। কোম্পানির কর্মচারীদের এই দুর্নীতি ও অত্যাচার দমন করবার জন্য ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্দে বিলাতের কর্তারা ওয়ারেন হেষ্টিংসকে গভর্ণর নিযুক্ত করেন। পর বৎসর রেগুলেটিং অ্যাক্ট বিধিবদ্ধ হবার পর দ্বৈত শাসন প্রণালীর অবসান ঘটে ও নিজেদের অধিকৃত অঞ্চলসমূহের শাসনভার ইংরেজ কোম্পানি নিজ হস্তে গ্রহণ করে। ওয়ারেন হেষ্টিংসকে গভর্ণর-জেনারেল নিযুক্ত করা হয়। হেষ্টিংস কোম্পানির কর্মচারিগণ কর্তৃক অবৈধ ‘দস্তক’ গ্রহণ বন্ধ করে দেন। এরই পদক্ষেপে ১৭৮১ খ্রীষ্টাব্দে কর্ণওয়ালিসের অবৈধ মুনাফা রোধ আইন ও ১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দে এজেন্সী প্রণালীর প্রবর্তন অবৈধ ব্যবসার পতন ঘটায়। ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যেই কলকাতায় ১৫টি এজেন্সী হাউসের সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে প্রধান ছিল ফেয়ারলি ফারগুসন অ্যাণ্ড কোম্পানি, প্যাকটন ককারেল অ্যাণ্ড ডেলিসল, ল্যামবার্ট অ্যাণ্ড রস, কলভিনস্ অ্যাণ্ড ব্যাজেট এবং জোসেফ ব্যারোটা। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এবং ১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দের সনদ দ্বারা কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসার বিলুপ্তির পর ইংরেজরা যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে ছিল আলেকজাণ্ডার অ্যাণ্ড কোম্পানি, পামার অ্যাণ্ড কোম্পানি, ম্যাকিনটশ অ্যাণ্ড কোম্পানি, ফারগুসন অ্যাণ্ড কোম্পানি, কলভিন অ্যাণ্ড কোম্পানি, ক্রুটেনডেন অ্যাণ্ড কোম্পানি, ডেভিডসন অ্যাণ্ড কোম্পানি, মারসার অ্যাণ্ড কোম্পানি, বারনেট অ্যাণ্ড কোম্পানি, মেনচিটা উনেকোর্ট অ্যাণ্ড কোম্পানী প্রভৃতি।

    বস্তুতঃ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকেই এজেন্সী হাউস ছাড়া, বহু ইংরেজ দোকানদার ও ব্যবসায়ীর কলকাতায় আবির্ভাব ঘটেছিল। এসব ব্যবসায়ী তাদের সঞ্চিত অর্থ শতকরা দশ টাকা সুদ হারে এজেন্সী হাউস সমূহে বিনিযুক্ত করত। বহু বাঙালী ব্যবসায়ীও তাদের টাকা এজেন্সী হাউসে জমা রাখত। পরের ধনে পোদ্দারী করে এজেন্সী হাউসমূহ খুব রমরমা কারবার করত। তাঁদের এক একজন অংশীদার যখন অবসর গ্রহণ করে বিলাতে ফিরে যেতেন, তখন তাঁদের বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াত ১০০,০০০ থেকে ১৫০,০০০ পাউণ্ড। (মনে রাখতে হবে সে যুগে আয়করের বালাই ছিল না)।

    ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দের পর এদেশে যখন নীলের চাষের সূত্রপাত হয়, তখন এজেন্সী হাউসসমূহ এইভাবে পরের গাছ থেকে লব্ধ টাকা নীলচাষে বিনিযুক্ত করেছিল। ১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার বিলুপ্ত হবার পর, তারা প্রভূত পরিমাণে নীলের রপ্তানী করত। ১৮৩১ খ্রীষ্টাব্দে বিলাতে অর্থনৈতিক মন্দা প্রকাশ পায়। মন্দার ঢেউ এখানে এসেও পৌঁছায়। নীলের দাম ভীষণভাবে হ্রাস পায়। এর প্রতিঘাত এজেন্সী হাউসসমূহ সামলাতে পারে না। একের পর এক এজেন্সী হাউস দেউলিয়া হয়ে যায়। এ সময় রাজকৃষ্ণ দত্ত জালিয়াতি ও এজেন্সী হাউসসমূহের পতনের এক কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    এরা দেউলিয়া হওয়ার ফলে বিদেশী ও এদেশী বহু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদেশী লোকদের মধ্যে যেসব বাঙালী ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তারা হচ্ছে বিশ্বনাথ মতিলাল যাকে তাঁর ক্ষতির জন্য কাঁসারীপটির জমিজমা বেচে দিতে হয়েছিল। আনন্দমোহন পাল ও সুবলচন্দ্র পালের ক্ষতি হয়েছিল ১,৫০,০০০ টাকা, রাধামোহন ও কৃষ্ণমোহন পালের ১,০০,০০০ টাকা, গঙ্গাগোবিন্দ শীল ও হরগোবিন্দ শীলের ২,৫০,০০০ টাকা, বিশ্বম্ভর পাইন ও চন্দ্রকুমার পাইনের ৬০,০০০ টাকা, রামনারায়ণ দে ও মাধবচরণ দে-র ২,৫০,০০০ টাকা, মথুরামোহন সেনের ১৩,০০,০০০ টাকা ও সুবলচন্দ্র নন্দীর ৫০,০০০ টাকা। আমরা পরে দেখব যে, ঠিক এই সময় থেকেই উত্তর ভারত থেকে অবাঙালী ব্যবসায়ীরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, কেননা এর পরই ‘কার টেগোর অ্যাণ্ড কোম্পানি’, ‘কেলসন ঘোষ অ্যাণ্ড কোম্পানি’ প্রভৃতির জন্ম হয়। কিন্তু ইউনিয়ন ব্যাংক ফেল হওয়ার পর বাঙালী-ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    তারপর ইংরেজের ব্যবসায়ে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। শতাব্দীর মধ্যাহ্ েলিমিটেড লায়েবিলিটি কোম্পানি আইন প্রণীত হওয়ার পর ইংরেজরা ম্যানেজিং এজেন্সী হাউসসমূহ স্থাপন করে শিল্প উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দেয়। তবে প্রথম জুট মিল ভাগ্যান্বেষী জর্জ অকল্যাণ্ড ও বাঙালী বামচরণ সেনের যৌথ চেষ্টাতেই গঠিত হয়েছিল। কিন্তু তার পরে যেসব যৌথ কোম্পানি যথা চটকল, কয়লাখনি, চা-বাগান, চিনির কল, ইঞ্জিনীয়ারিং কোম্পানি প্রভৃতি গঠিত হয়, সেগুলি সবই সাহেবী কোম্পানি। এরাই কলকাতার ব্যবসায়ের অধিপতি হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, বহু বৈদেশিক ফার্ম নানারূপ কারবারে লিপ্ত হয়। স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গেই এইসব বৈদেশিক কোম্পানি তাঁদের মালিকানা স্বত্ব মারবাড়ীদের বেচে দিয়ে দেশে চলে যায়। তার ফলে কলকাতার ব্যবসা জগৎটার মারবাড়ীদের হাতে চলে যায়।

    অবাঙালীদের মধ্যে মারবাড়ীরাই প্রথম কলকাতায় আসেনি। এসেছিল পাঞ্জাব ও উত্তর ভারতের লোক। পলাশী যুদ্ধের সময়েই দু-একজন অবাঙালী ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের অন্যতম চিল উমিচাঁদ ও তাঁর আত্মীয় হুজুরীমল। দুজনেই পাঞ্জাবের লোক। উত্তর ভারত থেকে কলকাতায় আসা তখন সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না। বেনারস পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এসে, মীরজাপুর থেকে নৌকা ভাড়া করে নদীপথে কলকাতায় আসতে হত। নদীপথে কলকাতায় আসার খরচ বেশ মোটা অঙ্কের ছিল। এটাই কলকাতায় আসার পক্ষে প্রধান অন্তরায় ছিল। আর এক অন্তরায় ছিল পথিমধ্যে দস্যুতার ভয়। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে স্লীম্যান সাহেব যখন দস্যুতা দমন করলেন, এবং লটারী কমিটি কলকাতাকে নবগঠিত করল, তখন উত্তর ভারতের লোকেরা কলকাতায় এসে ব্যবসা করার প্রতি নিবিষ্ট হল। তারপর ১৮৬২-৬৫ খ্রীষ্টাব্দে দিল্লী পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের পর উত্তর ভারতের লোকেরা হুড়হুড় করে কলকাতায় আসতে থাকে।

    ১৮?? খ্রীষ্টাব্দে চার্লস ব্লানসী বনাম ক্ষেত্রপাল সরকার মামলায় ৫৯ জন তুলা ব্যবসায়ীর নাম উল্লিখিত হয়েছিল। তাদের মাত্র ২৩ জন ছিল বাঙালী, আর বাকী ৩৬ জন ইংরেজ, রাজস্থানী, গুজরাটী, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের লোক ও উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রী সম্প্রদায়ের লোক। অবাঙালী ব্যবসায়ীদের মধ্যে নামজাদা ব্যবসায়ী ছিলেন বাবু নিক্কামল, বৈশাজী, নিশারা, জগন্নাথ ট্যাণ্ডন, মাভোজী মিশ্র, জগন্নাথজী মেহেতা, যোধরাজ ধানুকা, ঘনশ্যামদাস গোয়েংকা, ও মুকুন্দলাল বাবু। ১৮২৩ খ্রীষ্টাব্দে মুকুন্দলাল বাবুর মৃত্যুর সময় তাঁর সম্পত্তির মূল্য ছিল ২৪ লক্ষ টাকা। এ থেকে বোঝা যায় যে, কলকাতার ব্যবসায়ের বেশ একটা বড় অংশ বাঙ্গালীদের হাত থেকে অবাঙ্গালীদের হাতে গিয়ে পড়েছিল।

    মুকুন্দলাল বাবুর মৃত্যুর পর কলকাতার ব্যবসায়ের একছত্র অধিপতিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন একজন পারসী ব্যবসায়ী—নাম রুস্তমজী কাওয়াসজী। তিনি তাঁর ব্যবসার সুবিধার জন্য তৎকালীন প্রসিদ্ধ বাঙালী ব্যবসায়ীদের যথা দ্বারকানাথ ঠাকুর, বিশ্বনাথ মতিলাল, রামকমল সেন, বিশ্বম্ভর সেন, প্রসন্নকুমার ঠাকুর, রাজা কালীকৃষ্ণ বাহাদুর প্রমুখের সহযোগিতা কামনা করেন। রুস্তমজী কাওয়াসজীর বাড়ী ছিল এখন যেখানে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স কলেজ হয়েছে। আর বাকী অবাঙ্গালী ব্যবসায়ীরা এসে নিজেদের আস্তানা গাড়ে বড়বাজার অঞ্চলে বা তার আশপাশে। আগে এ অঞ্চলটা ছিল বাঙালী ব্যবসায়ীদের কেন্দ্র। এখন থেকে এই অবাঙ্গালী ব্যবসায়ীদের আগমনই কলকাতায় বাঙ্গালী ব্যবসায়ের পতন সূচনা করে। এর পর বাঙ্গালী ব্যবসায়ীরা হাটখোলা অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল।

    উত্তর ভারত থেকে যারা এসেছিল, তারা সকলেই এক প্রদেশভুক্ত বা এক জাতিভুক্ত ছিল না। এদের মধ্যে বেনিয়ানও ছিল, আবার ব্রাহ্মণও ছিল। কেউ এসেছিল উত্তরপ্রদেশের বারাণসী-লক্ষ্ণৌ অঞ্চল থেকে, আবার কেউ এসেছিল পাঞ্জাব থেকে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ‘ক্ষেত্রী’ সমাজের লোক। তাদের মধ্যে ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দ নাগাদ শীতলপ্রসাদ খড়গ হাওড়ায় ‘অভ্যুদয় কটন মিল’ স্থাপন করেন। ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে মোহনলাল ক্ষেত্রী হাওড়ার ঘুসুরিতে ‘এমপ্রেস অফ ইণ্ডিয়া জুট প্রেস’ স্থাপন করেন। তারপর ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে ব্রাহ্মণ কুলোদ্ভব দামোদর চৌবে এসে কলকাতায় শেয়ার ও কোম্পানির কাগজ কেনাবেচার কাজ করেন। ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে ওমর সিং মণিলাল হীরা জহরতের ব্যবসা শুরু করেন। ১৮৯৫ খ্রীষ্টাব্দে বাদলরাম লছমীনারায়ণ তাঁর সুপ্রসিদ্ধ জরদা ও তাম্বুল বিহারের কারবার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৮ খ্রীষ্টাব্দে ছাজুরাম চৌধুরী এসে কতকগুলো ইউরোপীয় কোম্পানীর ডিরেক্টর হন। আরও অনেকে এসেছিলেন এবং তাঁরা অনেক রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।

    মুসলমান ব্যবসায়ীরাও আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এম. এম. ইসপাহানি চা রপ্তানীর কারবার শুরু করেন। তাছাড়া আরও অনেক মুসলমান ব্যবসায়ী এসে ক্যানিং ষ্ট্রীট ও দিল্লীপটিতে আমদানীকৃত নানা রকম জিনিষের কারবার শুরু করেন।

    ১৮৬২-৬৬ খ্রীষ্টাব্দে ইস্ট ইণ্ডিয়া রেল কোম্পানি দিল্লী পর্যন্ত লাইন স্থাপন করেন। এর ফলে রাজস্থানের লোকদের কলকাতায় আসার পথ সুগম হয়। রাজস্থানীরা দলে দলে কলকাতার দিকে আসতে শুরু করে। মারবাড়ীরা যখন কলকাতায় এসে হাজির হল, তখন ম্যানচেষ্টারে তৈরী কাপড় কলকাতার বাজারে হুডুমুড় করে আসতে আরম্ভ করে দিয়েছিল। সাহেবদের এ সময় ম্যানচেষ্টারের কাপড় বিক্রির জন্য বেনিয়ানের প্রয়োজন ছিল। মাড়বাড়ীরাই বিলাতী কোম্পানিসমূহের বেনিয়ানের পদে নিযুক্ত হয়। কিন্তু যারা এসেছিল, তারা সকলেই পয়সাওয়ালা লোক ছিল না যে বেনিয়ানগিরি করবে। সেজন্য পয়সা উপায়ের তারা অন্য উপায় খুঁজতে থাকে। মারবাড়ীদের একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। তাদের শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হয় জুয়ার নেশা। জুয়ার সন্ধান পেলে মারবাড়ী নিছক ব্যবসায়ের দিকে কখনও মন দেয় না।

    জুয়ারই সহোদর ভাই হচেছ ফাটকা। কেননা ফাটকার জন্য প্রয়োজন হয় ঝুঁকি নেবার বিরাট ক্ষমতা। জুয়াও এই ঝুঁকি নেবার ক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফাটকার জন্য মারবাড়ী পাটের বাজার ও শেয়ার বাজারকে তাদের উপার্জনের কেন্দ্রস্থল করে নিয়েছিল। শতাব্দীর সূচনায় ও প্রথম মহাযুদ্ধের সময় মারবাড়ী সমাজ প্রচুর অর্থ করে নিল শেয়ার বাজার থেকে। চিত্তরঞ্জন এভেন্যু-র দু’ধারে জমি কিনে বড় বড় প্রাসাদতুল্য বাড়ী করল মারবাড়ীরা।

    পরের তিরিশ বছরে শেয়ার বাজারে এল কয়েকবার জোয়ার ও ভাঁটা। তা সে জোয়ারই হোক আর ভাঁটাই হোক মারবাড়ী ঠিক পয়সা করে নিল। নিঃস্ব হল শুধু সে- সব বাঙ্গালী, যারা রাতারাতি বড়লোক হবার আশায় শেয়ার বাজারে যায় ফাকা করবার জন্য। এখন শেয়ার বাজারে মাত্র মুষ্টিমেয় বাঙ্গালী ফার্ম আছে। সমস্ত বাজারটা অবাঙ্গালীর কুক্ষিগত। এরপর দেশ স্বাধীন হল। সাহেবরা যে যার দেশে চলে গেল। যাবার সময় মারবাড়ীর দল সে-সব ব্যবসাগুলো কিনে নিল। তারপর মাড়োয়ারী রাতারাতি শিল্পপতি হয়ে দাঁড়াল। বাঙ্গালী শুধু দোকানদারি, আর গোলামি করতে লাগল।

    আমরা আবার বাঙ্গালীর ব্যবসায়ে ফিরে আসছি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে কলকাতার ব্যবসায়ে রোমাঞ্চকর অভ্যুত্থান ঘটে বটকৃষ্ণ পালের। শৈশবে পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে বেনিয়াটোলায় মামার বাড়ীতে মানুষ হয়ে, জীবন শুরু করেন খোংড়াপটিতে এক মসলার দোকান খুলে। মসলার দোকানে কিছু কিছু বিলাতী ওষুধও রাখতেন। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতার সর্বশ্রেষ্ঠ ওষুধ ব্যবসায়ী হয়ে দাঁড়ান ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা পান। আজ বটকৃষ্ণ পালের প্রতিষ্ঠান জীর্ণশীর্ণ। অনুরূপভাবে হিন্দু হোষ্টেলের সামান্য বাজার সরকারী করে, কলকাতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেন কলকাতার তৎকালীন শ্রেষ্ঠ পুস্তক ব্যবসায়ী ও প্রকাশন সংস্থা গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়।

    বটকৃষ্ণ পালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনুপ্রেরণা দিয়েছিল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রকে ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যাণ্ড ফার্মাসিউটিক্যাল’ কোম্পানি স্থাপনে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে আর যেসব বাঙ্গালী কলকাতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বিখ্যাত হন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে জবাকুসুম তৈল প্রস্তুতকারক সি. কে. সেন অ্যাণ্ড কোম্পানী, দর্জিপাড়া কেমিক্যাল ওয়ার্কস্-এর প্রতিষ্ঠাতা পি. এম. বাগচী, কে. বি. সেন অ্যাণ্ড কোম্পানি, বিলাতী কাগজ আমদানীকারক চন্দ্রমোহন সুর, প্যারীচরণ সুর ও পান্নালাল শীল, জরীপ যন্ত্র আমদানীকারক যজ্ঞেশ্বর সুর (জে. সুর অ্যাণ্ড কোম্পানি), ষ্টেশনারী দ্রব্যের আমদানীকারক নীলমণি হালদার ও টোটা বন্দুক আমদানীকারক কালীকুমার বিশ্বাস (কে. সি. বিশ্বাস অ্যাণ্ড কোম্পানি) ও দ্বারিকানাথ বিশ্বাস (ডি. এন. বিশ্বাস অ্যাণ্ড কোম্পানি)।

    ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে স্থাপিত হয় এইচ. বোস অ্যাণ্ড কোম্পানির পারফিউমারী ওয়ার্কস। এইচ. বোস অ্যাণ্ড কোম্পানির ‘কুন্তলীন’ হেয়ার অয়েল এক সময় বাঙলাদেশে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। আরও যেসব বাঙ্গালী প্রখ্যাত ব্যবসায়ী হিসাবে এ সময় সুনাম অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ‘হারমোনিয়াম’ যন্ত্রের আবিষ্কারক দ্বারকানাথ ঘোষ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ডোয়ার্কিন অ্যাণ্ড সনস্’ এক সময় বাঙলাদেশের বাদ্য-যন্ত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করত।

    বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে এক বিরাট ইংরেজ প্রতিষ্ঠানের অংশীদাররূপে আবির্ভূত হন স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। মার্টিন কোম্পানীর অংশীদার হয়ে তিনি পলতা ওয়াটার ওয়ার্কস, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভবন প্রভৃতি নির্মাণ করেন। ভারতে রেলপথসমূহ স্থাপনও তাঁর কৃতিত্ব। পরে তিনি বার্ন কোম্পানিরও অংশীদার হন। মার্টিন-বার্ন একত্রিত হবার পর ইণ্ডিয়ান আয়রন অ্যাণ্ড স্টীল কোম্পানি’ নামে বিখ্যাত লৌহ ও ইস্পাত কোম্পানির পরিচালনভার তাঁর পুত্র স্যার বীরেন মুখার্জীর ওপর পড়ে। সরকারী রোষে পড়ায় তাঁর বড় বড় কোম্পানিসমূহ ভারত সরকার কর্তৃক অধিকৃত হয়েছে।

    বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে স্বদেশী আন্দোলনের আওতায় বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস্, মোহিনী মিল, ঢাকেশ্বরী কটন মিল প্রভৃতি কাপড়ের কলগুলি বাঙ্গালীর মূলধনে ও বাঙ্গাালীর পরিচালনে স্থাপিত হয়। বিংশ শতাব্দীর আরও কয়েকজন বাঙ্গালী ব্যবসায়ীর কথা বলে এ প্রসঙ্গ শেষ করব। ৬০ বছর পূর্বে করুণা কুমার কর ‘কে. কে. কর অ্যাণ্ড কোম্পানি স্থাপন করেন। এঁরা ৮০টি কোম্পানীর ম্যানেজিং এজেণ্ট ছিলেন। এখন এঁদের কোম্পানিগুলি সবই উঠে গেছে। একমাত্র ‘নাগা হিল টি কোম্পানি’ জীবিত আছে, তবে অবাঙ্গালীর হাতে। সমসাময়িককালে বাঙ্গালীর উদ্যোগে জলপাইগুড়িতে অনেকগুলি চা- বাগিচা কোম্পানি স্থাপিত হয়, তবে সেগুলি মোটামুটি এখনও বাঙ্গালীর হাতে আছে। ওই সময় শেঠ কোম্পানি ও কে.সি.বসু বিস্কুট বার্লির কারবার করে। এর প্রথমটা আছে, দ্বিতীয়টা নেই। প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্বে এন. সি. সরকার অ্যাণ্ড সনস্ বহু কয়লাখনি কোম্পানি স্থাপন করে। ১৯১৯ খ্রীষ্টাব্দে চ্যাটার্জী অ্যাণ্ড কোম্পানি সাতগ্রাম কোল কোম্পানি লিমিটেড স্থাপন করে। কিন্তু বাঙ্গালী পরিচালিত এ সকল কয়লাখনি কোম্পানি বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে উঠে যায়।

    বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাঙালী প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল ন্যাশনাল ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে বাঙালী জনসমাজের সর্বনাশ করে। পরে স্থাপিত বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাংক, কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাংক, কুমিল্লা ব্যাংকিং কর্পোরেশন ও হুগলী ব্যাংক একত্রিত হয়ে ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়া নাম ধারণ করে এখন এদেশে সরকার পরিচালিত অন্যতম বড় ব্যাংক হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালে ক্যালকাটা ন্যাশনাল ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গিয়ে আবার বাঙালী সমাজকে বিপর্যস্ত করেছে। ওই সময় হেমেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিসমূহও উঠে যায়।

    মধ্যে সামান্য অবস্থা থেকে উঠে আলামোহন দাশ দাশনগরে এক বিরাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন, কিন্তু আজ তা ভারত সরকারের পরিচালনাধীনে।

    বিংশ শতাব্দীর তিনটি সাফল্যমণ্ডিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বেঙ্গল ইম্যুনিটি কোম্পানি, ক্যালকাটা কেমিক্যাল ওয়ার্কস্ ও সুলেখা ইংক ফ্যাক্টরী।

    শেষ যে বাঙালী যৌথ মূলধনী কোম্পানিসমূহ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তারা হচ্ছে কে. এন.মুখার্জী অ্যাণ্ড কোম্পানি ও রণবীর চৌধুরী। কিন্তু আজ তাঁরা নানা রকমভাবে বিপর্যস্ত। প্রথম প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল রবার ও ইনচেক টায়ার ভারত সরকার কর্তৃক অধিকৃত।

    সকলের শেষে আর একটি বাঙালী প্রতিষ্ঠানের কথা বলব। সেটা হচ্ছে সেন র‍্যালে অ্যাণ্ড কোম্পানি। এঁরা সাইকেল নির্মাণ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।

    তবে আজও বাঙালী ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত থাকলে কি হবে? অবাঙালী রুই- কাতলার মধ্যে সে চুনো-পুঁটি হিসাবে কোন রকমে তার অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। দোকানদারী ক্ষেত্রে অবশ্য বাঙালীর এখনও প্রাধান্য আছে মেয়েদের শাড়ী ও অলংকারের ক্ষেত্রে। কিন্তু তাও কতদিন থাকবে জানি না। কেননা, ব্যবসা ক্ষেত্রের প্রতি অংশ থেকেই বাঙ্গালী আজ হটে যাচ্ছে। তাছাড়া বাঙালীর ভিটাগুলোও মারবাড়ীরা কিনে নিচ্ছে। এখন বাঙ্গালীর অবস্থা হচ্ছে ‘বল মা তারা দাঁড়াই কোথা?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ
    Next Article মহাভারত ও সিন্ধুসভ্যতা – অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }