Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প305 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মীরার প্রেম

    ভোর সাড়ে চারটে৷ গঙ্গার ওপরের পুবদিকের আকাশ একটু একটু করে ফর্সা হচ্ছে৷ সূর্যের হাল্কা কমলা আভা গঙ্গায় পড়ে অপার্থিব এক রঙের সৃষ্টি করেছে, কিন্তু প্রকৃতিকে উপভোগ করার মতো সময় বা ইচ্ছে কোনোটাই উপস্থিত লোকজনের নেই, তারা অন্য জিনিস দেখতে মশগুল৷ এ ওর গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে উপরদিকে দেখছে, কয়েকজনের হাতে আবার মেলা থেকে কেনা সস্তা দূরবিন৷

    হাওড়া ব্রিজের একটা প্রান্তে দাঁড়িয়ে ইন্সপেক্টর তালুকদার জোরে জোরে ওয়াকিটকিতে কাউকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন, ‘‘হ্যালো, হ্যালো ওয়ান সেভেন টু নাইন… হ্যালো, প্রশান্ত, শুনতে পাচ্ছ? শোনো রাইট টার্ন নিয়ে সোজা ওপরে উঠে যাও, বাঁদিকের লিভারটা দেখে…… হ্যালো হ্যালো!’’

    কনস্টেবল অজয় ছুটে এল ইনস্পেক্টরের দিকে, ‘‘স্যার, নামিয়ে ফেলেছে! ওই যে, দ্যাখা যাচ্ছে! আপনি লাইনটা বরং ডিসকানেক্ট করে দিন…৷’’

    ইন্সপেক্টর ত্রিদিব তালুকদার শশব্যস্ত হয়ে ব্রিজ থেকে অনেকটা সরে প্রায় হাওড়া স্টেশনের সামনে এসে চোখের ওপর হাত রেখে দেখলেন অজয় ঠিকই বলেছে৷ হাওড়া ব্রিজের একদম ওপরে পিঁপড়ের মতো হলেও বোঝা যাচ্ছে প্রশান্ত সাবধানে দড়ির ক্লাইম্বারটা বেয়ে নামছে, পিঠে মেয়েটা৷ ত্রিদিব একটা নিঃশ্বাস ফেললেন৷ রিটায়ারমেন্টের আর বছর তিনেক বাকি৷ বত্রিশ বছরের সুদীর্ঘ পুলিশি কেরিয়ারে এরকম কেস তিনি কোনোদিন দেখেননি৷ মাঝরাতের অসম্পূর্ণ ঘুমটা এতক্ষণে যেন আবার ফিরে আসতে চাইছে, চোখ দুটোকে কচলে মনের জোরে ক্লান্তিটাকে দূর করে চারপাশে তাকালেন ত্রিদিব৷

    আকাশ প্রায় ফর্সা হয়ে আসছে৷ পাঁচটা নাগাদ ডাউন লোকালগুলো স্টেশনে ঢোকা শুরু করবে, তার আগেই এখানটা পুরো ক্লিয়ার করে ফেলতে হবে৷ এখনো খুব বেশি লোক জড়ো হয়নি, তবে যারা হয়েছে তারা সোৎসাহে অন্যদের ডেকে আনছে৷ দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরাও ভোরবেলা নেমেই ভিড় করছে৷ অবশ্য ভিড় করবারই কথা৷ মাঝে মাঝে খবরের কাগজে এক-আধটা পাগলের সবার চোখ এড়িয়ে হাওড়া ব্রিজে উঠে পড়াটা সকলেরই জানা, কিন্তু ভোররাতে একটা ঠিকঠাক পোশাক পরা সুস্থ যুবতি ভদ্রপরিবারের মেয়ে হাওড়া ব্রিজের টঙে উঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর চিৎকার করে কাঁদছে, এ ঘটনা অভূতপূর্ব বটে!

    প্রায় ঘণ্টাদুয়েক বাদে সব ঝামেলা ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে সদর থানায় ত্রিদিব যখন মেয়েটাকে ওসির সামনের চেয়ারে এসে বসালেন, তখন প্রায় সাড়ে সাতটা৷ ওসি সুরজিৎ চক্রবর্তী তাঁর অভিজ্ঞ দৃষ্টি দিয়ে জরিপ করছিলেন মেয়েটাকে৷ বয়স আন্দাজ ত্রিশ-বত্রিশ, শরীরে শাঁখা-পলা সিঁদুর জাতীয় কিছু নেই, কাজেই বিয়ে হয়েছে কি না বোঝা যাচ্ছে না, গায়ের রং চাপা হলেও মুখের মধ্যে একটা আলগা কমনীয়তা আছে, আবার একইসঙ্গে সে মুখে জীবনযুদ্ধে নানা সংগ্রামের ছাপ৷ জংলা প্রিন্টের একটা খাদির সালোয়ার কামিজ পরনে, পায়ে সস্তা রবারের জুতো৷ মেয়েটা এখন আর না কাঁদলেও ফোঁপাচ্ছে থেকে থেকেই, চোখ মুখ ফুলে উঠেছে৷

    দেখে তো ভদ্র মেয়ে বলেই মনে হচ্ছে৷

    মুশকিল হল, এখন এই সাতসকালে মহিলা পুলিশ থানায় কেউ নেই, থাকার কথা ছিল দুজনের, কিন্তু তাদের অন্য একটা জরুরি কাজে হঠাৎ তলব পড়েছে৷ কাজেই মেয়েটাকে এখন এখানে কিছুক্ষণ আটকে রাখতে হবে৷

    সুরজিৎ চোখের ইঙ্গিতে ত্রিদিবকে এখানেই থাকার নির্দেশ দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ঈষৎ গলাখাঁকারি দিয়ে শুরু করলেন, ‘‘আপনার নাম কী?’’

    মেয়েটা প্রথমে উত্তরও দিল না, মুখও তুলল না৷ বারদুয়েক প্রশ্নের পর মুখটা ধীরে ধীরে উপরদিকে তুলে অস্ফুটে বলল, ‘‘কানুপ্রিয়া৷ আ-আমার নাম কানুপ্রিয়া ঘোষ৷ ডাকনাম মীরা৷’’

    সুরজিৎ ভ্রূ কুঁচকোলেন, বাবা এ যে একদম জয়দেবের গীতগোবিন্দ থেকে উঠে এসেছে! তাঁর নিজের বই পড়ার ভীষণ শখ, তিনি সোজা হয়ে বসলেন৷ রাধার আরেক নাম কানুপ্রিয়া হলেও খুবই আনকমন নাম, সচরাচর বাঙালি পরিবারে এই নাম খুব একটা শোনা যায় না৷ মেয়েটি আর যাই হোক একদম অশিক্ষিত পরিবারের নয় বলেই মনে হচ্ছে৷ বৈষ্ণব হয়তো৷

    তিনি নরম গলায় বললেন, ‘‘আপনি কাঁদছেন কেন? আর হাওড়া ব্রিজেই বা উঠেছিলেন কেন? আর উঠলেনই বা কী করে!’’

    মেয়েটির কান্নার দমক হঠাৎ বেড়ে গেল৷ এবার আর ফোঁপানি নয়, জোরে জোরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘‘পার্থসারথিকে বাঁচাতে উঠেছিলাম স্যার, কিন্তু পারলাম না! ও……ও আর নেই স্যার, তলিয়ে গেছে গঙ্গায়! আমিও আর বাঁচব না ওকে ছাড়া!’’

    পরবর্তী দু-ঘণ্টা ধরে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জেরা করে যা জানা গেল, তাতে সুরজিৎ আর ত্রিদিব দুজনেই নড়েচড়ে বসলেন৷ না, ব্যাপারটা তো অন্য কোনো পাগলের ব্রিজে ওঠার মতো কেস নয়!

    ততক্ষণে কনস্টেবল বাসন্তীদি এসে পড়েছে৷ সুরজিৎ মেয়েটাকে ভেতরে নিয়ে বসাতে আদেশ দিয়ে ত্রিদিবের দিকে তাকালেন, ‘‘জলদি পুরো কেসটা লিখে ফ্যালো ত্রিদিব ইন ডিটেইল৷ আর লালবাজার কন্ট্রোলে খবর দাও!’’

    ত্রিদিব দ্রুত চিন্তা করতে লাগলেন৷ হাওড়া ব্রিজে উঠেছে, তারপর সঙ্গের ছেলেটা নাকি জলে ঝাঁপ দিয়েছে৷ এমনিতে এখানে গঙ্গার দায়িত্বে থাকেন কলকাতা পুলিশের বন্দর বিভাগের অফিসারেরা, কিন্তু এই কেসটায় সেইসঙ্গে রিভার ট্রাফিক পুলিশকেও খবর দিতে হবে, ওঁদের আন্ডারে বাইশটা মতো নটিক্যাল এরিয়া রয়েছে, আর চব্বিশ ঘণ্টার জওয়ান বাহিনীও আছে, বডি খুঁজে পেতে সুবিধা হবে৷

    ত্রিদিব ফোনগুলো মিটিয়েই ঝড়ের গতিতে ফাইলে লিখতে লাগলেন, ‘‘কানুপ্রিয়া ঘোষ ওরফে মীরা৷ বয়স তেত্রিশ৷ অবিবাহিত৷ বাগবাজারে বাড়ি৷ বাড়িতে আছেন বাবা৷ মা মারা গেছেন৷ বাবার শ্যামবাজারে ছোট স্টেশনারি দোকান, ভালো চলে না৷ কানুপ্রিয়া নিজে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করে৷ সাত-আট বছর আগে পর্যন্ত তার বিয়ের দেখাশোনা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে বিয়ে হয়নি৷ মাস চারেক আগে ওর সাথে পরিচয় হয় পার্থসারথি বলে একটা ছেলের৷ পার্থসারথি হাওড়ার সালকিয়ায় থাকে,কাজ করে বেসরকারি একটা কুরিয়ারে৷ কানুপ্রিয়ার বাবা ওদের দুজনের বিয়েতে কোনো কারণে মত না দেওয়ায় গতকাল রাতে পার্থসারথি কানুপ্রিয়ার বাড়ি গিয়ে অপমানিত হয়৷ রাতে ফোনে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়, শেষে হাওড়া ব্রিজে দুজনে মিট করতে আসে৷ কানুপ্রিয়ার বয়ান অনুযায়ী পার্থসারথি আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে ব্রিজের পিলারগুলো দিয়ে উপরে উঠতে থাকে, পেছন পেছন কানুপ্রিয়াও৷ কানুপ্রিয়া উপরে উঠতেই পার্থসারথি ব্রিজ থেকে নীচে ঝাঁপ দেয় আন্দাজ ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ৷’’

    এই পর্যন্ত লিখে ত্রিদিব একটু থামলেন, ‘‘স্যার, পার্থসারথি আবার কৃষ্ণের নাম, আর কানুপ্রিয়া মানে আপনি বললেন রাধা, এ তো রাধা কৃষ্ণের লীলা স্যার!’’

    সুরজিৎ হাসলেন, ‘‘যা বলেছ!’’

    ত্রিদিব আবার লেখাটার দিকে তাকালেন, একটু ন্যারেটিভ করতে হবে রিপোর্টটা৷ কেটে লিখতে যাবেন, এমন সময় কনস্টেবল অজয় ছুটতে ছুটতে এল, ‘‘স্যার, বাসন্তীদি ডাকছে আপনাকে! কাকে নাকি খুন করেছে মেয়েটা, বিড়বিড় করে বকছে!’’

    সুরজিৎ দৌড়লেন ইনভেস্টিগেশন রুমের দিকে, কে আবার কাকে খুন করল!

    ত্রিদিব এডিটিং শেষ করে যখন পৌঁছলেন, সুরজিৎ তখন রীতিমতো কড়া ভাষায় জেরা করছেন কানুপ্রিয়াকে, ‘‘ঠিকঠাক করে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলো, না হলে এক্ষুনি তোমাকে অ্যারেস্ট করা হবে! বাবার বডিটা কোথায় রয়েছে?’’

    কানুপ্রিয়া বলে মেয়েটার দু-গাল বেয়ে জলের ধারা নামছিল, তার মধ্যেই ফুঁসে উঠে বলল, ‘‘স্যার, আ-আমার কোনো দোষ নেই! আপনি জানেন না, বাবা ছোট থেকে কোনোদিনও আমায় ভালোবাসেনি, মা মরে যাওয়ার পর থেকে খেটে খেটে মরেছি, ইচ্ছে করে বিয়ে দিল না আমার! আমার সব বন্ধুর বিয়ে হয়ে গেছে কত্তদিন আগে, আ-আমি পুরো একা হয়ে গেছিলাম স্যার! এতদিন বাদে একজনকে পেলাম, পার্থসারথি এত ভালো, এত ভালোবাসে আমায়, তবু ও এসে কাল বিয়ের কথা বলতেই বাবা বিচ্ছিরিভাবে অপমান করল ওকে! বাবা চায় না আমি ভালো থাকি৷’’

    সুরজিৎ ত্রিদিবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘গাড়ি বের করতে বলো কুইক৷ বডি আছে বাড়িতে৷’’

    রাস্তায় যাওয়ার সময় বিশেষ কোনো কথা হল না৷ কানুপ্রিয়া আর কয়েকজন পুলিশকে নিয়ে ভ্যানটা আগে আগে চলছিল, পেছনে ত্রিদিবদের জিপটা৷ সুরজিৎ বললেন, ‘‘যতদূর মনে হচ্ছে, কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার, বুঝলে! মেয়েটা মনে হয় সত্যিই বলছে৷ ওই পার্থসারথি ছেলেটাই উসকেছে বাবাকে খুন করতে অথবা সে নিজেই মার্ডারটা করেছে৷ কিন্তু মালটা এত কিছুর পর ব্রিজ থেকে ঝাঁপ মারল কেন!’’

    ত্রিদিব বললেন, ‘‘স্যার, আমার মনে হয় কী জানেন, মেয়েটা এমনিই ডিপ্রেশনে ভুগছিল৷ তার ওপর ওই ছেলেটা দিনের পর দিন ওকে প্রোভোক করেছে৷’’

    সুরজিৎ অন্যমনস্কভাবে বললেন, ‘‘হুম৷ কিন্তু গঙ্গা থেকে এখনো কোনো খবর এল না কেন! বডি তো এতক্ষণে পেয়ে যাওয়ার কথা!’’

    ত্রিদিব মোবাইলে নম্বর টিপলেন, ‘‘হ্যাঁ রঞ্জন, আমি ত্রিদিবদা কথা বলছি৷ পেলে বডি?’’

    ফোনটা রেখে ত্রিদিব বললেন, ‘‘নো আপডেট৷ স্যার, ছেলেটা অন্যদিক দিয়ে নেমে পালায়নি তো! পাঁচ-ছ’ঘণ্টা আগে ঝাঁপ দিলে তো এতক্ষণে পেয়ে যাওয়ার কথা৷’’

    কানুপ্রিয়ার দেখানো রাস্তা অনুসারে বাগবাজারের অলিগলি পেরিয়ে যে বাড়িটার সামনে ওদের গাড়ি দুটো দাঁড়াল, সেটাকে বাড়ি না বলে পোড়োবাড়ি বলাই ভালো৷ অবহেলায় অনাদরে হাড় পাঁজরা বেরিয়ে পড়েছে, তাতে থাবা বসিয়েছে বট অশ্বত্থের ডাল৷ আশপাশে তেমন কোনো বাড়ি নেই, দুপাশে নির্মীয়মাণ বাড়ি অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে৷ কাছেপিঠে দোকান বলতে একটা চায়ের গুমটি৷

    সুরজিৎ নেমেই সবাইকে আদেশ দিলেন বাইরে ওয়েট করার জন্য, বাকিরা বলতে দুজন মহিলা পুলিশ আর দুজন কনস্টেবল৷ তারা বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল৷

    শুধু ত্রিদিব আর কানুপ্রিয়াকে নিয়ে সুরজিৎ ঢুকলেন ভেতরে৷ তালাচাবির কোনো ব্যাপারই নেই, হাল্কা ঠেলতেই একটা আর্তনাদ করে দরজাটা খুলে গেল৷ আর একটা ভ্যাপসা জঘন্য গন্ধ ভক করে এসে নাকে লাগল৷

    ত্রিদিব নাকে রুমাল চাপা দিয়ে বলল, ‘‘রাইগার মরটিস শুরু হয়ে গেছে মনে হচ্ছে স্যার!’’

    কানুপ্রিয়া ঘ্যানঘ্যান করে বলেই যাচ্ছিল, ‘‘স্যার, আমাকে যা শাস্তি দেবেন দিন, পার্থসারথিকে কিছু দেবেন না, ওর কিছু হলে আমি বাঁচব না!’’

    ভেতরে দুটো ঘর, সেগুলোতে মাকড়সা ভর্তি, কোথাওই কোনো লাশ চোখে পড়ল না৷ কিন্তু গন্ধটা যেন বেড়েই চলেছে৷

    গোটা বাড়িটায় দীনতার ছাপ স্পষ্ট৷

    সুরজিৎ বললেন, ‘‘লাশ কোথায় রেখেছিলে?’’

    কানুপ্রিয়া কেমন হিস্টিরিয়া রুগির মতো কাঁপছিল, ‘‘স্যা-স্যার, আ-আমি এই প্রথম কারও ভালোবাসা পেয়েছি স্যার, আমার জীবনটা শেষ করে দেবেন না! আপনার দুটি পায়ে পড়ি স্যার!’’

    সুরজিৎ প্রকাণ্ড একটা ধমক দিয়ে বললেন, ‘‘বডিটা কোথায় রেখেছ?’’

    কানুপ্রিয়া ভয়ে ভয়ে রান্নাঘরের দিকে আঙুল তুলতেই দুজনে এগিয়ে গেলেন রান্নাঘরের দিকে৷

    কানুপ্রিয়াও পেছন পেছন যাচ্ছিল, হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে কার স্পর্শ পেয়ে মুখ ফিরিয়ে দ্যাখে, পার্থসারথি!

    কানুপ্রিয়ার চোখ দুটো আনন্দে বড় বড় হয়ে উঠল, আজন্ম উপোসি শরীরটা সামান্য পুরুষস্পর্শে কেঁপে উঠল যেন, উদ্ভাসিত হয়ে ও জড়িয়ে ধরল পার্থসারথিকে, ‘‘তুমি ফিরে এসেছ? তোমার কিছু হয়নি তো সোনা?’’

    পার্থসারথি ওকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘‘না! তোমাকে ছেড়ে কি আমি কোথাও যেতে পারি?’’ তারপর ওর গাল দুটো শক্ত করে ধরে চোখে চোখ রাখল, ‘‘এই পুলিশ দুটোর জন্য কিন্তু আমাদের বিয়ে হবে না মীরা!’’

    কানুপ্রিয়া আর্তনাদ করে উঠল, ‘‘না! সে কিছুতেই হতে পারে না! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না! তুমি কেন কাল আমার সঙ্গে ঝগড়া করে বললে মরে যাবে?’’ বলতে বলতে ও কেঁদে ফেলল৷

    পার্থসারথি বলল, ‘‘সে তো রাগের কথা৷ তোমার বাবা যেমন আমাদের সম্পর্কটাকে তোমার মাথার দোষ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল, এরাও তেমনি দেবে! উল্টে তোমায় অ্যারেস্ট করবে৷’’ ও এগিয়ে এসে কানুপ্রিয়ার কাঁধ দুটোকে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল, ‘‘মীরা, আমাদের সেই স্বপ্নের সংসারটা…সেই সংসারটা আর কোনোদিনও তৈরি হবে না!’’

    কানুপ্রিয়া থেবড়ে বসে পড়ে জোরে জোরে মাথা নাড়াল, ‘‘সেটা আমি কিছুতেই হতে দেব না পার্থসারথি! তোমাকে আমার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না!’’

    পার্থসারথি সম্মোহনী গলায় আঙুল তুলল, ‘‘তবে যাও!’’

    কানুপ্রিয়া কেমন শূন্য দৃষ্টিতে বলল, ‘‘কোথায়?’’

    ‘‘যে বঁটিটা দিয়ে কাল বাবার গলায় কোপ মেরেছিলে, সেটা নিয়ে শেষ করে দাও এই দুজনকে!’’ পার্থসারথির গলাটা যেন অনেক দূর থেকে ভেসে এল৷

    কানুপ্রিয়া উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে গেল পাশের ঘরে, হাতড়ে হাতড়ে খাটের তলা থেকে বের করে আনল রক্তমাখা বঁটিটা, কাল পার্থসারথির কথামতো সেখানেই লুকিয়ে রেখেছিল সেটা, তারপর ছুটে গেল রান্নাঘরে৷

    পেছন থেকে পার্থসারথি কাতরভাবে বলে উঠল, ‘‘আমি তোমায় ভালোবাসি মীরা! তোমার সঙ্গেই সারাটা জীবন কাটাতে চাই৷’’

    ত্রিদিব আর সুরজিৎ তখন কাল রাতের মার্ডারড বডিটা উবু হয়ে দেখছিলেন, প্রায় বারো ঘণ্টা আগে খুন হওয়া বয়স্ক লোকটার ঘাড়ে ধারালো কোপ৷ রক্ত গড়িয়ে পড়ে জমাট বেঁধে চলে গেছে নর্দমার দিকে৷

    ত্রিদিব সুরজিৎকে বলতে গেলেন, ‘‘কাটারি হতে পারে কি?’’ কিন্তু কথাটা শেষ করতে পারার আগেই জান্তব একটা চিৎকার করে বঁটিটা নিয়ে পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কানুপ্রিয়া ত্রিদিবের ঘাড়ে একটা কোপ চালিয়ে বঁটিটাকে বসিয়ে দিল৷

    অস্ফুট একটা আর্তনাদ করে ত্রিদিব লুটিয়ে পড়লেন কাল রাতের মৃতদেহটার পাশে৷

    সুরজিৎ একঝলক ত্রিদিবের দিকে তাকিয়েই রিভলভারটা বের করে সোজা গুলি চালালেন৷ পরপর দুবার৷ নির্ভুল লক্ষ্যে সে দুটো গিয়ে একটা ফুঁড়ে দিল কানুপ্রিয়ার বুকের পাঁজরগুলোকে, অন্যটা ডান হাতের কবজিতে৷

    গোটা রান্নাঘরটা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল৷ আর তারই মধ্যে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল ত্রিদিবের৷ সুরজিৎ হুইসল বাজিয়ে দিয়েছিলেন, ছুটে এসেছে অন্যরা৷

    জ্ঞান হারাবার আগে ত্রিদিব দেখলেন, কানুপ্রিয়ার বুক থেকে রক্ত ছলকে বেরোচ্ছে, মহিলা পুলিশ দুজন ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছে ওকে, তার মধ্যেও কানুপ্রিয়া গোঙাতে গোঙাতে বিকৃতভাবে বলছে, ‘‘আমার পাগলামি, আমার কল্পনা, না? এ-এত সুন্দর রাজপুত্তুরের মতো বর হবে আমার, আর কেউ হিংসায় সহ্য করতে পারছে না! আ-আমি সব বুঝি! আমার জন্য, শুধু আমার জন্য সোনা তুমি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েও বেঁচে ফিরে এসেছ? এত ভালো আমায় কেউ কোনোদিন বাসেনি, আর বাবা বলছিল তুমিই নাকি নেই? সব হিংসা! দিয়েছি সববাইকে শেষ করে!’’

    সুরজিৎ রিভলভারটা আস্তে আস্তে পকেটে ভরলেন৷ এই বেখাপ্পা সময়ে তাঁর সাহিত্যপ্রীতি ফিরে এল হঠাৎ৷ তাঁর মনে পড়ে গেল, অতীতের মীরাবাইও কৃষ্ণপ্রেমে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন, দ্বারকার মন্দিরের গর্ভগৃহে কৃষ্ণকে জড়িয়ে ধরে বিলীন হয়েছিলেন নাকি তিনি, সেটাও কি স্কিজোফ্রেনিয়া থেকেই?

    দারিদ্র্য, তীব্র মানসিক অবসাদ, সংসার করার প্রবল ইচ্ছে, হীনম্মন্যতা এই গরিব মেয়েটাকে একজন কাল্পনিক প্রেমিক উপহার দিয়েছিল, যার অস্তিত্বকে অস্বীকার করলে তাকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করছে না সে৷

    সুরজিৎ একালের মীরাবাইয়ের দিকে তাকালেন, তীব্র ব্যথার মধ্যেও মহিলা পুলিশ দুটোর বাধা এড়িয়ে কানুপ্রিয়া তখন আপ্রাণ চেষ্টা করছে শূন্যের মধ্যেই কাউকে একটা জড়িয়ে ধরার৷ হাপুস নয়নে কান্নার মাঝেই শূন্যে কাকে যেন প্রবল আশ্লেষে চুমু খেয়ে চলেছে সে৷

    তার এত কষ্টে পাওয়া সংসারটাকে সে কিছুতেই শেষ হয়ে যেতে দেবে না!

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }