Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রহস্যের ব্যবচ্ছেদ অথবা হিরন্ময় নীরবতা – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প311 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. মেকানিক

    মেকানিক

    ষাট বছর বয়সে হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছি আমি। দুরারোগ্য ক্যান্সার গ্রাস করেছে আমায়। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু। তার ভারি নিঃশ্বাস শুনতে পাচ্ছি। এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার সময় হয়ে গেছে। আমার পরিবার আর পরিচিতজনদের আক্ষেপ, বড্ড অকালেই চলে যাচ্ছি আমি, কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি, আমার কোনো আফসোস হচ্ছে না। এ জীবনে যা পেয়েছি, যতোটুকু হয়েছি, তাতে সন্তুষ্টচিত্তেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারবো।

    খুবই তুচ্ছ আর সাধারণ এক ছেলে ছিলাম আমি। তারপরও যে জীবন আমি পেয়েছি সেটা পাবার কথা ছিল না। অনেক কিছু আমি পেয়েছি-জীবনের শুরুতে যা আমি সাহস করেও কল্পনা করতে পারতাম না। তবে একজন মানুষ না থাকলে এসবের কিছুই পেতাম কি না সন্দেহ। সেই মানুষটার কাছে চিরঋণী আমি। এ কথা আমার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিচিত অনেকেই জানে। আমি কখনও তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার কথা ভুলিনি। ঐ মানুষটা না থাকলে আমি যে ভাগাড়ে ছিলাম সেখানেই পড়ে থাকতাম হয়তো। সেই মানুষটিকে নিয়ে অসংখ্য গল্প আছে আমার স্মৃতিভাণ্ডারে। আজ থেকে প্রায় আটচল্লিশ বছর আগে, এমনই এক গল্প আপনাদেরকে বলবো আজ। সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা অসাধারণ মানুষদের গল্প এটি। যদি না বলি তাহলে আমার মৃত্যুর সাথে সাথে গল্পটা বিলীন হয়ে যাবে-আমি ছাড়া আজ আর এই গল্পের কোনো পাত্র-পাত্রিই বেঁচে নেই।

    আমি ছিলাম খুবই দরিদ্র পরিবারের এক নমশূদ্র হিন্দুর ছেলে। জন্মের পর বাবাকে পাইনি। শুনেছি আমার বয়স যখন দেড় বছর তখনই আমার মাকে পরিত্যাগ করে সে। আমি আমার চিরদুঃখিনী মায়ের স্নেহেই বড় হয়েছি। বাবা নামের লোকটা যে কী কারণে আমাকে আর মাকে ছেড়ে চলে গেছিল জানি না। শুরুর দিকে কেউ কেউ ভাবতো সে নিখোঁজ হয়েছে, কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে করুণ পরিণতি বরণ করেছে। আদতে সে রকম কিছু ঘটেনি। আমার বয়স যখন আট, তখনই কলকাতাফেরত এক আত্মীয়ের কাছ থেকে মা জানতে পারে, তার স্বামী দিব্যি বেঁচে আছে, বিয়ে-থা করে নতুন সংসার পেতেছে ওখানে। সেই আট বছর বয়স থেকেই লোকটার প্রতি আমার ঘেন্নার জন্ম, এর শেষ হবে চিতার আগুনে কেবল আমার দেহ ভষ্ম হবার সাথে সাথে!

    মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে আমার মা আমার মুখে অন্ন তুলে দিতো। অনেক চেষ্টা করেও তিন ক্লাসের বেশি পড়াতে পারেনি আমাকে। পুরনো ঢাকার শাঁখারীবাজারের এক সরু গলির ভেতরে, শত বছরের পুরনো নড়বড়ে দালানের ছোট্ট এক কামরায় থাকতাম আমরা। ঘরের ভাড়া আরা দু দুটো মুখের অন্ন জোগাতে এগারো বছর বয়সে আমাকে কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হয় আমার মা, বাড়ির পাশে ধোলাইখালে এক গ্যারাজে ঠাঁই হয় আমার। গ্যারাজের মালিকের নাম ছিল আবু ওস্তাদ-তবে তাকে আমরা ‘ওস্তাদ’ বলেই ডাকতাম। ওস্তাদ শুনলেই ভারিক্কি কোনো মানুষের ছবি ভেসে ওঠে, কিন্তু আমার সেই ওস্তাদ তখন টগবগে এক যুবক, বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ। খুবই আমুদে স্বভাবের ছিলেন তিনি। ওস্তাদের এক বন্ধুর বাসায় আমার মা কাজ করতো বলে তিনি তাকে আগে থেকেই চিনতেন।

    এভাবে এগারো বছর বয়সে আমি হয়ে গেলাম আবু ওস্তাদের সাগরেদ!

    ওস্তাদ ছিল একজন অটোমোবাইল মেকানিক। আমার সাথে তার দুটো মিল ছিল-জন্মের পর তিনিও তার বাবাকে পাননি। অবশ্য, তার বাবা তাদেরকে রেখে পালিয়ে যাননি কোথাও, অকালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আর আমার মতোই অল্প বয়সে অভাবের সংসারে মানুষ হয়েছেন তিনি। একদিন তার মা-ও শরণাপন্ন হয়েছিলেন আরেক ওস্তাদের কাছে। সেই ওস্তাদের কাছেই তিনি শিখেছিলেন মোটরগাড়ির কলকজা মেরামতের কাজ। তবে এতো বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে শিখেছিলেন যে, একদিন তার ওস্তাদ তাকে ডেকে সস্নেহে বলেছিলেন, এক ঘরে দুই পীর থাকতে নেই! ওস্তাদ যেন এখন থেকে নিজের পথ নিজেই দেখে। তার হাত ভালো, খুব দ্রুতই মেকানিক হিসেবে নাম করে ফেলবে সে।

    আর সেটাই হয়েছিল। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে ওস্তাদ ছোট্ট একটা গ্যারাজ দিয়ে নিজের পথচলা শুরু করেন। খুব দ্রুতই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। যে কাজ অন্য মেকানিকেরা করতে ব্যর্থ হতো সেগুলো তারা পাঠিয়ে দিতো আবু ওস্তাদের কাছে। তিনি কখনওই ব্যর্থ হতেন না। গাড়ির কলকজা তিনি যেন দৈবশক্তিবলে পড়ে ফেলতে পারতেন। তার দক্ষতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছিল যে, অন্যদের মতো ইঞ্জিন নেড়েচেড়ে দেখারও দরকার মনে করতেন না। কীভাবে তিনি গাড়ির ‘অসুখ’ ধরতেন সেটা একটু পরেই বলবো। একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছি না, এক বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন আমার ওস্তাদ। তিনিও এক সময় আমার পিঠে হাত রেখে কিছু কথা বলেছিলেন, আমাকে অন্য পথ দেখতে বলেছিলেন, তবে সেটা আমার কাজের দক্ষতার জন্য নয়-তিনি বলেছিলেন, এরকম ভাগাড়ে পড়ে থাকলে নাকি আমার প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে! মিথ্যে বলেননি ওস্তাদ। অল্প বয়সেই তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এই ধোঁয়া, মরচে পড়া লোহা আর পোড়া তেলের ভাগাড়!

    তো, আবু ওস্তাদের গ্যারাজে কোনো গাড়ি আসলে সবার আগে আমরা ছুটে যেতাম। ওস্তাদ চোখে সানগ্লাস পরে বসে থাকতেন গ্যারাজের সামনে এক চিলতে খালি জায়গায়, ওখানে প্রাইভেটকারের একটি সিট ছিল, সেটাই ছিল ওস্তাদের আসন। তাকে চলচ্চিত্রের নায়কদের মতোই দেখাতো। দেখতে ছিলেন অসম্ভব সুদর্শন। টকটকে ফর্সা রঙের জন্য নয়, তার একহারা গড়ন আর তীক্ষ্ণ চেহারা, অন্তর্ভেদি চোখ, সাইড-সিঁথি করা ছোটো ছোটো চুল, হাঁটার ভঙ্গি-সবই ছিল রূপালি পর্দার নায়কের মতো। প্রতি রোববার ইংলিশ সিনেমা দেখা আর বাইক চালানো ছিল তার শখ। মজার মজার কথা বলে মানুষকে হাসিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়াতেও পারতেন তিনি। তার উপস্থিত বুদ্ধির কোনো তুলনাই ছিল না।

    ওস্তাদের ছিল জলপাই রঙের চমৎকার একটি বাইক। আমরা ওটাকে ভটভটি বলে ডাকতাম। ভটভট শব্দ করে ছুটতো ওটা। কাজ-কর্ম না থাকলে এই বাইকটা নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন ওস্তাদ। অন্যান্য জেলা থেকে গাড়ি মেরামতের জন্য ডাক আসলে প্রিয় এই বাইকটা নিয়েই ছুটে যেতেন তিনি যশোর কিংবা সিলেটে, ময়মনসিংহ কিংবা খুলনায়। কয়েকবার আমিও তার সঙ্গি হয়েছিলাম।

    টারজান আর হেনরি নামে ওস্তাদের গ্যারাজে আরও দুজন ছিল, কিন্তু তারা সবাই ছিল বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড়। টকটকে ফর্সা হেনরির ছিল অদ্ভুত নীলচে রঙের চোখ। পরে জেনেছি, সে ছিল অ্যাংলো- ইংরেজ আর বাঙালির মিশ্রণ! আর টারজানের ছিল পেশিবহুল পেটানো শরীর। সম্ভবত এ কারণে কি না জানি না, তাকে টারজান বলে ডাকতো সবাই। তবে সত্যিটা কখনও জানা হয়নি আমার।

    হেনরি আর টারজানও আমাকে খুব স্নেহ করতো। কোনো ভারি আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দিতো না। আগলে রাখতো সব সময়। মনে আছে, প্রথম দিন গ্যারাজে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল আমাকে নিয়ে। খুবই শরমিন্দা হয়েছিলাম আমি। কিছুই জানি না তখন, ওস্তাদও আমাকে হাতেখড়ি দেননি তখনও। চুপচাপ গ্যারাজের সামনে খোলা জায়গায় একটা বাতিল টায়ারের উপর বসে ছিলাম আমি, আর আবু ওস্তাদ একটা গাড়ির বনেট খুলে ইঞ্জিনের দিকে ঝুঁকে কী যেন দেখছিলেন। এমন সময় হাঁক ছাড়লেন : “বড় ডালিটা দে তো।”

    হেনরি আর টারজান গ্যারাজের টিনশেড দেয়া ঘরের ভেতরে কী নিয়ে যেন ব্যস্ত, তারা ওস্তাদের কথাটা শুনতে পায়নি। তো, আমি এগিয়ে গেলাম ওস্তাদের সাহায্যে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি একটা গাছের ডাল পড়ে আছে, সেটা বড় কি না বুঝতে পারলাম না। তবে দ্রুত সেটা কুড়িয়ে ওস্তাদের দিকে বাড়িয়ে দিলাম। তিনি ইঞ্জিনের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে চেয়েছিলেন, হাত বাড়িয়ে ডালটা নিতেই চমকে তাকালেন আমার দিকে, তারপরই প্রাণখোলা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন।

    “ওই দেখ…বাবুল কী করছে!” নিজের কালিলাগা নোংরা প্যান্টের পায়ে ডালটা দিয়ে বাড়ি মারতে মারতে হেসে বললেন তিনি। “গাছের ডালি দিছে আমারে! হা-হা-হা।” ওস্তাদের প্রাণখোলা হাসির সাথে সেই আমার প্রথম পরিচয়। ওস্তাদের অট্টহাসি শুনে গ্যারাজের ভেতর থেকে টারজান আর হেনরি ছুটে এলো, ডালিকাণ্ডের কথা শুনে তারাও হাসতে হাসতে খুন। সেদিনই আমি শিখেছিলাম, ডালি মানে এক ধরণের টুল-ডলি কিন্তু দোলাইখালের সব মেকানিক ওটাকে ডালি বলতো।

    যাইহোক, আবু ওস্তাদ আমাকে খুব আগ্রহ নিয়ে সব কিছু শেখাতেন, অনেক স্নেহ করতেন। তবে সেটা তিনি কখনও উকটভাবে প্রকাশ করতেন না। পিতারহে পাইনি, কিন্তু ওস্তাদ আমাকে সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে থেকে আমি খুব দ্রুতই শিখে গেলাম, মানুষের মতো গাড়িরও নাম আছে, আছে মডেল নাম্বার। কোনো গাড়ির নাম ডজ, কোনোটার নাম বেডফোর্ড। অস্টিন, ক্যাডিলাক, ফোর্ড, ভক্সওয়াগন, টয়োটা, আলফা রোমিও, অ্যাম্বাসেডর, মরিস, মার্সিডিজ-কতো নামের যে গাড়ি আছে এ দুনিয়ায় তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আর সেইসব গাড়ির প্রতিটাতে থাকে হাজার হাজার ছোটোবড় যন্ত্র, যন্ত্রাংশ। মানুষের যেমন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাম আছে ঠিক সেরকম গাড়িরও আছে। মানুষের শরীর তো গাড়ির বডি; মানুষের থাকে হৃদপিণ্ড, গাড়ির থাকে পাম্প; পায়ের জায়গায় চাকা, কঙ্কালের বদলে চেসিস। এছাড়াও গিয়ারবক্স, ডিফেন্সল, ক্র্যাংশ্যাফট, পিস্টন, পিনিয়াম, ইনজেক্টর, রেডিয়েটর, ব্রেক-কতো কী। তবে গাড়ির মাথা নেই! যদিও ইঞ্জিনে ‘হেড’ নামে একটা জিনিস আছে। তো, ওস্তাদকে একদনি আমি এটা বলেওছিলাম-গাড়ির তো হেড আছে, ওস্তাদ! হেড মানে তো মাথাই!

    মুচকি হেসেছিলেন ওস্তাদ। বলেছিলেন, মানুষের মতো গাড়ির আসলে কোনো মাথা নেই। যেটাকে হেড বলি সেটা আসলে ইঞ্জিনের উপরিভাগ, তাই হেড বলে।

    গাড়ির মাথা নেই কেন?

    প্রশ্নটা শুনে ওস্তাদ বলেছিলেন, গাড়ি চালায় মানুষ, তাই গাড়ির কোনো মাথা থাকার দরকার নেই। যদি থাকতো, গাড়ি নিজেই নিজেকে চালাতে পারতো! মানুষই গাড়ির মাথা! ওস্তাদ আরও বলতেন, যন্ত্র হলেও গাড়ি নাকি আসলে একটা জন্তু!

    মানুষের মতো?

    আমার বালসুলভ প্রশ্ন শুনে মাথা দুলিয়ে বলেছিলেন ওস্তাদ, মানুষের মতো কিছু নেই এই জগত-সংসারে। মানুষও যন্ত্র, তবে অনেক জটিল আর দুর্বোধ্য।

    মাঝেমধ্যে ওস্তাদ উদাস হয়ে দার্শনিকের মতো কথা বলতেন। আমি সেসব বুঝে-না-বুঝে শুনে যেতাম শুধু। ওস্তাদ আমাকে প্রতিটি যন্ত্রাংশের কী কাজ তা শিখিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, আগে জানতে হবে কোনটার কী কাজ। যদি এটা জানতে পারি তাহলে নাকি আমি যন্ত্রের অসুখ ধরতে পারবো খুব সহজে।

    তখন রোববার ছিল ছুটির দিন। ওস্তাদের ওখানে আমরা যারা কাজ করতাম তারা হপ্তা পেতাম প্রত্যেক শনিবারে। মাস হিসেবে বেতন দেয়া হতো না দোলাইখালে। এখন হয় কি না আমার জানা নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি সেই জগত থেকে বিচ্ছিন্ন।

    ওস্তাদের ওখানে আমার কাজের বয়স যখন এক কি দেড় বছর তখনই দেশটা অস্থির হয়ে উঠল। পাকিস্তানিদের হাত থেকে আমরা নাকি স্বাধীন হয়ে যাবো-এরকম কথা শোনা যেতো বড়দের মুখে। ছোটোরাও যে পিছিয়ে ছিল তা নয়। দোলাইখালে আমার মতো অনেক পিচ্চি মেকানিকও বলতো এসব কথা। ব্যাপারটা ভালোই লাগতো আমার কাছে। ওস্তাদ অবশ্য রাজনীতি নিয়ে খুব একটা কথা বলতেন না, মাথাও ঘামাতেন না। তার ধ্যানজ্ঞান ছিল গাড়ি আর তার ইঞ্জিন নিয়ে। তারপরও কার প্ররোচনায় কে জানে, সত্তরের নির্বাচনের সময় নিজের গ্যারাজের সামনে বাঁশ আর কাগজে বানানো একটা নৌকা টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নৌকাই জয়ি হয়েছিল সেই নির্বাচনে, কিন্তু সেই জয়ের খুশিতে পানি ঢেলে দিলো পাকিস্তানিরা। দেশটা অস্থির হতে শুরু করলো। বড়রা আলাপ করতো এসব নিয়ে, তাদের সবার কথার মধ্যে একটা মিল ছিল বেশ : ওদের সঙ্গে আর থাকা যাবে না!

    যাইহোক, ১৯৭১ চলে এলো এরপর। ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি নির্বিচারে বাঙালি নিধন শুরু করে দিলো। যেসব নিরন্ন মানুষ রাস্তায় ঘুমাতো তারাও রেহাই পেলো না। হিন্দু অধ্যুষিত শাঁখারীবাজারেও হামলা করলো তারা। সেই কালো রাতেই আমার চিরদুঃখি মা নিহত হলেন মিলিটারির আক্রমনে। একটা আম কাঠের খাটের নিচে লুকিয়ে জীবন বাঁচাই আমি। হত্যাযজ্ঞ শেষ হলে মৃত্যুর ভয়ে ভীত আমি আশ্রয় নেই ওস্তাদের বাড়িতে। শাঁখারীবাজার থেকে ওস্তাদের মহল্লায় যাবার সময় আমার ছোট্ট হৃদপিণ্ডটা কেমন করে লাফাচ্ছিল সেটা আজো মনে আছে।

    ঐ কালো রাতের পর থেকে বন্ধ হয়ে গেল দোলাইখাল। দ্রুত বদলে যেতে লাগলো সব কিছু। অনিশ্চয়তায় কাটতে শুরু করলো প্রতিটা দিন।

    এক মাস পর, এপ্রিলে অবরুদ্ধ ঢাকার পরিস্থিতি যেমন গুমোট তেমনি গুজবে পরিপূর্ণ। বাতাসে ভেসে বেড়াতো, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে দেশে। কিন্তু আমরা দেখতাম পাকিস্তানি মিলিটারি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরজুড়ে। পথেঘাটে প্রায়শই নিহত মানুষের লাশ পড়ে থাকতো।

    ওস্তাদ থাকতেন লক্ষ্মীবাজারের ছোট্ট একটা একতলা বাড়িতে। ওটাই ছিল তার বাপ-দাদার বাড়ি। উনার বয়স্ক মা ছিলেন প্রায় অন্ধ। সারাটা দিন নিজের ঘরের জানালার কাছে বসে বিড়বিড় করতেন। মহিলার ধারণা ছিল, যতো বেশি ওষুধ খাবেন ততো বেশিদিন বাঁচবেন তিনি। রোজ রোজ সিরাপ আর ওষুধের বায়না ধরতেন নিজের একমাত্র সন্তানের কাছে। আমাকেও মাঝেমধ্যে বলতেন, আমি যেন ওস্তাদকে মনে করিয়ে দেই তার ওষুধের কথা। বুড়ি আমাকে সব সময় ‘বাবুইল্যা’ বলে ডাকতেন। যতোটুকু দেখেছি, দুনিয়ার প্রায় সবাইকেই তিনি এভাবেই ডাকতেন।

    প্রায় এক মাস কর্মহীন থাকার পর ওস্তাদের জমানো টাকা যখন নিঃশেষ হবার পথে তখনই এলাকার মুসলিমলীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন ওস্তাদকে ডেকে বলল, আগামিকাল থেকে তার গ্যারাজ ভোলা রাখতে হবে-মিলিটারির কিছু গাড়ি মেরামত করে দিতে হবে। মিলিটারির নিজস্ব মেকানিক ছিল কিন্তু তারা নাকি কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তাদের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে গাড়ির সমস্যাও বেড়ে গেছে। আর কিছু কিছু গাড়ির সমস্যা এতটাই জটিল যে, সেসব গাড়ি মেরামত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। মিলিটারির অল্প কিছু মেকানিক। এরকম অবস্থায়

    যাইহোক, পরদিন আমাকে নিয়ে ওস্তাদ গেলেন গ্যারাজে। টারজান আর হেনরির খবর তখনও জানি না। অনেকেই তখন পালিয়ে গেছে নয়তো বেঘোরে মরেছে মিলিটারির হাতে। কেউ কেউ যুদ্ধেও গেছে শুনতাম। কিন্তু হেনরি আর টারজানের ভাগ্যে কী ঘটেছিল সেটা কোনো দিনও জানতে পারিনি আর।

    সকালে গ্যারাজ ভোলা হলেও কোনো মানুষজন এলো না। গ্যারাজের সামনের খালি জায়গায় আমি আর ওস্তাদ বসে রইলাম চুপচাপ। ওস্তাদ যথারীতি সেই প্রাইভেটকারের সিটে, চোখে সানগ্লাস নিয়ে, আর আমি তার পাশে একটা বাতিল টায়ারের উপরে। অন্য কোনো দিন হলে ওস্তাদ মজার মজার সব গল্প করতেন, কিন্তু সেদিন তিনি ছিলেন ভীষণ রকম নিশ্চুপ। চারপাশটাও কেমন স্তব্ধ ছিল।

    দুপুরের আগে দিয়ে একটা মিলিটারি জিপে করে ময়েজ উদ্দিন এলো, সঙ্গে করে নিয়ে এলো আরেকটা জিপ আর ট্রাক। ওস্তাদ সঙ্গে সঙ্গে সানগ্লাসটা খুলে ফেলেছিলেন। যেন মিলিটারির সামনে ওসব পরা অন্যায়। তো বদর-কমান্ডার ময়েজ উদ্দিন চোস্ত উর্দুতে মিলিটারিকে জানালো, আমার ওস্তাদ দুনিয়ার সেরা মেকানিক। সে ঠিক করতে পারে না এমন কোনো সমস্যা নাকি নেই। লোকটা পাকিস্তানিদের দালাল হলেও এ কথাটা কিন্তু মিথ্যে বলেনি!

    স্পষ্ট মনে আছে, মিলিটারির সেই অফিসার ওস্তাদকে দেখে খুব অবাক হয়েছিল। সে হয়তো মেকানিক হিসেবে এমন সুদর্শন কাউকে আশা করেনি। কিংবা একজন বাঙালি দুনিয়ার সেরা মেকানিক হতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল তার!

    ময়েজ উদ্দিন ওস্তাদকে মিলিটারির গাড়ি দুটো ঠিক করে দিতে বললে তিনি আমাকে এক গ্লাস পানি আনার জন্য বললেন। মিলিটারি দেখে তখন ভয়ে জমে আছি আমি। এরাই তো ২৫শে মার্চের রাত থেকে শাঁখারীবাজারসহ ঢাকা শহরে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। আমার মাকেও খুন করেছে! এরা তখন আমার কাছে একেকটা যম।

    ওস্তাদ তাগাদা দিলে ভয়ে জরোসরো আমি গ্যারাজের ভেতরে থাকা মাটির কলস থেকে এক গ্লাস পানি এনে ওস্তাদের হাতে না দিয়ে মিলিটারির জিপের বনেটের উপরে রেখে দিলাম। মিলিটারির লোকটা বিস্ময়ে চেয়ে রইলো। এরপর ড্রাইভারকে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে বললেন ওস্তাদ। পাকিস্তানি ড্রাইভার যারপরনাই অবাক। তার বিস্মিত চোখ বনেটের উপরে রাখা পানির গ্লাসের দিকে। যাইহোক, ইঞ্জিন স্টার্ট দেবার পর ওস্তাদ গ্লাসে পানির আলোড়ন দেখে গেলেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে, কিছুক্ষণ পর হাত তুলে ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন তিনি।

    এসব কী হচ্ছে?! বুঝতে না পেরে মিলিটারির অফিসার বিস্ময়ে জানতে চাইলো।

    হাত তুলে ময়েজ উদ্দিন তাকে আশ্বস্ত করে ওস্তাদকে বলল, “টেরাবলটা ধরবার পারছোস, আবু?”

    “হ।” আর কিছু না বলে বনেটের উপর থেকে গ্লাসটা নিয়ে পানি খেয়ে চুপচাপ কাজে নেমে পড়লেন ওস্তাদ।

    পাকিস্তানি মিলিটারি অবাক হলেও আমি হইনি। আমার ওস্তাদ এরকম আরও অদ্ভুত পন্থায় গাড়ির অসুখ’ ধরতেন!

    ঐদিনের পর থেকে ক-দিন পর পরই গ্যারাজে মিলিটারির ট্রাক-জিপ আসতে শুরু করলো, ওস্তাদও সেগুলো ঠিক করে দিতেন। আমার ছোটো মাথায় অনেক কিছু না ঢুকলেও এটা ঠিকই বুঝতাম, ওস্তাদ বাধ্য হয়েই এই যমগুলোর গাড়ি মেরামতের কাজ করে দিচ্ছিলেন।

    এক দিন এক অফিসারের একটি জিপ এলো, ওস্তাদ এবার পানির গ্লাস, বরং জিপের পেছনে গিয়ে ড্রাইভারকে ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে বললেন। ইঞ্জিন স্টার্ট দিতেই গাড়ির ধোঁয়া শুঁকলেন তিনি!

    “এইটার পেট খারাপ,” আমাকে আস্তে করে বলেছিলেন তিনি।

    তার কথাটা বুঝতে পেরেছিলাম। আরও বুঝে গেছিলাম গাড়ির কোন অংশটা চেক করতে হবে। ঐ জিপটা ঠিক করতে সময় লেগেছিল বেশি। মিলিটারির লোকটা বলে গেল, পরদিন যেন গাড়িটা ঠিক করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে দিয়ে আসা হয়। একটা কাগজে কী সব লিখে দিলো সেই লোক। ওটা থাকলে তাকে কোনো মিলিটারি পথে আটকাবে না। পরদিন দুপুরের পর জিপটা ঠিক করে ওস্তাদ আমাকে নিয়ে রওনা দিলেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। সানগ্লাস পরা ওস্তাদকে জিপ চালাতে দেখে অনেক মিলিটারি ভুল করে স্যালুটও দিলো! তার পাশের সিটে বসে ছিলাম আমি। অবাক হয়ে আমাকে দেখেছিল তারা। কী ভেবেছিল কে জানে!

    ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার সময় অবশ্য কাগজটা দেখাতে হলো। মিলিটারি পুলিশ ভুরু কুঁচকে তাকিয়েছিল ওস্তাদের দিকে। আমাদেরকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেবার পর ওস্তাদ জিপটা নিয়ে ঢুকে পড়লেন ক্যান্টনমেন্টে। কিন্তু প্যারেড গ্রাউন্ড পেরিয়ে যাবার সময় এক মিলিটারি হুইসেল বাজিয়ে জিপটা থামাতে বাধ্য করে। সে নাকি হাত তুলে জিপটা থামার ইশারা করেছিল, ওস্তাদ সেটা অমান্য করেছেন! ওস্তাদ তাকে বললেন, তিনি তাকে দেখতে পাননি।

    “শালে বাহেনচোদ্দ বাঙ্গাল!” ওস্তাদের পরিচয় জানার পর গালি দিলো সেই মিলিটারি, তার আদেশ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে প্যারেড গ্রাউন্ডে জিপ নিয়ে দশ চক্কর দিতে হুকুম করলো!

    তার কথার কোনো প্রতিবাদ না করে চুপচাপ চারটা চক্কর দেবার পরই জিপ থামিয়ে দিলেন আমার ওস্তাদ। দৌড়ে এলো সেই লোক। জানতে চাইলো, কী হয়েছে। ওস্তাদ জানালেন, গাড়িতে অনেক কম তেল ছিল, অতিরিক্ত চক্কর দেবার কারণে শেষ হয়ে গেছে এখন। সেই লোক পড়ল মহা ঝামেলায় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে গাড়িটা কীভাবে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে এখন?

    ওস্তাদই উপায় বাতলে দিলো : দু-তিনজন সিপাহীকে ডেকে গাড়িটা ধাক্কা দিতে বললেন। উপায় না দেখে সেই লোক আরেকজন মিলিটারিকে ডেকে নিজেও যোগ দিলো ধাক্কা দেবার কাজে। বেচারা ভর দুপুরের গরমে গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে ঘেমেটেমে একাকার হয়ে গেছিল।

    ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেরার সময় ওস্তাদ আর আমি হাসতে হাসতে শেষ!

    ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ি সেনাক্যাম্পে ডাক পড়তো ওস্তাদের। তিনিও সেখানে গিয়ে গাড়ি মেরামত করে আসতেন। এভাবে মাসের পর মাস গড়িয়ে সেপ্টেম্বর চলে এলো। চারপাশে ভেসে বেড়াতে লাগলো মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতার কথা। এক রাতে তিন-চারজন অপরিচিত লোক এলো ওস্তাদের বাড়িতে। তারা আমাকে ঘরের বাইরে যেতে বলে কী সব শলাপরামর্শ করলো। কিন্তু কৌতূহলি আমি কিছু কিছু কথা ঠিকই শুনেছিলাম জানালার বাইরে নীচু হয়ে বসে থেকে।

    অক্টোবরের দিকেও লোকগুলো আবার এলো। আমি তাদের কথাও শুনলাম একইভাবে।

    নভেম্বরে ঢাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেল। এখানে ওখানে মুক্তিবাহিনীর চোরাগুপ্তা হামলা, বোমা ফাটানো চলছে। এরকমই এক সময় মিলিটারির একটা ট্রাক এলো মেরামতের জন্য, ওস্তাদ সেটার পেছনে যেতেই থমকে গেলেন। আমি উৎসুক হয়ে দেখলাম, ট্রাকের পাটাতনে রক্তের দাগ! যেন বড়সর ব্রাশ দিয়ে কেউ রক্তের পোচ দিয়েছে!

    ওস্তাদ আর আমি কিছুই বললাম না, কারণ আমরা সবাই সব কিছু জানতাম!

    “ওস্তাদ, মানুষ যুদ্ধ করে, ক্যান?” একদিন আমি এ কথা বলেছিলাম। ওস্তাদ হেসে আমার মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে উদাস হয়ে গেছিলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন : মানুষ নাকি এখন পুরোপুরি মানুষ হতে পারেনি! যেদিন হবে সেদিন থেকে সে আর যুদ্ধ করবে না।

    “মানুষ কবে মানুষ হবে, ওস্তাদ?”

    আমার দিকে প্রসন্নভাবে তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন, “যেইদিন থিকা যুদ্ধ কইরা মানুষ কোনো লাভ করবার পারবো না সেইদিন থিকা!”

    কথাটার মানে বহুদিন পর্যন্ত আমি বুঝতে পারিনি।

    নভেম্বরের শুরুতে ভারতীয় সেনাবাহিনী বিমান হামলা শুরু করলে ঢাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দু-দিন ধরে সারা রাত নিজের গ্যারাজে কাজ করে গেলেন তিনি, আমাকে সঙ্গে রাখলেন না। মাঝেমধ্যে ছোটোখাটো যন্ত্রাংশ লেদ মেশিন আর ভাইস ব্যবহার করে টারজান আর হেনরিকে দিয়ে বানিয়ে নিতেন ওস্তাদ। আমি বুঝতে পেরেছিলম, এবার তিনি সেই কাজ নিজেই করছেন।

    এর কদিন পর টের পেলাম ওস্তাদ একটু চিন্তিত। বিকেলের দিকে তার বুড়ো মাকে রেখে এলেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। বুড়ি কোনোভাবেই তার প্রয়াত স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। ওস্তাদ তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করাতে পেরেছিলেন। সেই রাতেই তিনি জানালেন, কাল সকালে কয়েকটা দিনের জন্য ঢাকার বাইরে যাবেন। আমার থাকার ব্যবস্থা করেছেন তার এক বন্ধুর বাসায়। কাল থেকে আমি যেন ভুলেও গ্যারাজে না যাই। পরিস্থিতি ভালো না হবার আগপর্যন্ত রাস্তাঘাটে বের হবারও দরকার নেই।

    পরদিন সকালে নিজের প্রিয় বাইকটায় করে আমাকে নাজিরাবাজারে তার সেই বন্ধুর কাছে সোপর্দ করে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন ওস্তাদ। স্বাধীনের আগে তাকে আর দেখিনি। ডিসেম্বরের শুরুতে আমাদের গ্যারাজটা আগুনে পুড়িয়ে দিলো মিলিটারি, সেই সাথে বদরবাহিনীর কমান্ডার ময়েজ উদ্দিনের যমলিস্টে উঠে গেল আবু ওস্তাদের নামটাও!

    পরে জেনেছি, ওস্তাদ যেসব মিলিটারি ক্যাম্পে গাড়ি মেরামতের কাজ করতে যেতেন সেগুলোর ভেতরে কোথায় কী আছে সব বলে দিয়েছিলেন মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদেরকে। গেরিলাদের একজন মিলিটারির হাতে ধরা পড়ার পরই ওস্তাদ পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তা-ই না, পালিয়ে যাবার আগে যে-কটা মিলিটারি গাড়ি মেরামত করেছিলেন তার সবগুলো এমনভাবে মেরামত করেছিলেন, যেন কিছুদিন চলার পরই ব্রেক ফেইল করে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে নাকি বেশ কয়েকজন মিলিটারি মারাও গেছিল।

    ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলো, কিন্তু আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিনটি ছিল ১৭ই ডিসেম্বর। দৃশ্যটা আমি কখনও ভুলবো না: নাজিরাবাজার থেকে হাঁটতে হাঁটতে ওস্তাদের পুড়ে খাঁক হওয়া গ্যারাজের সামনে এসে গালে হাত দিয়ে বসে আছি আমি। আমাদের গ্যারাজটা মাটিতে মিশে গেছে। ওটা তখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই না। আমার মন ভীষন খারাপ। যে পুরনো টায়ারের উপরে বসতাম সেটা কালচে পাউডার হয়ে মাটিতে মিশে আছে! ওস্তাদের সিটটার কঙ্কাল তখনও বসে আছে সেখানে! গ্যারাজের ছাদের টিন দুমড়েমুচড়ে একাকার। দেয়ালগুলো কালো ধোঁয়ার কালিতে লেপ্টে আছে।

    কিছুক্ষণ পরই শুনি সেই পরিচিত ভটভট শব্দটা। দেখি, দোলাইখালের পুবদিক থেকে জলপাই রঙের বাইকটা এগিয়ে আসছে! ওটায় বসে আছে আমার ওস্তাদ, তার চোখে সানগ্লাস! একদম নায়কের মতো লাগছিল তাকে। একেবারে সত্যিকারের নায়ক!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইনফার্নো – ড্যান ব্রাউন
    Next Article রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }