Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বহুলাড়া

    ছোটগল্প সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প11 Mins Read0

    বহুলাড়া

    জায়গাটির নাম ওন্দা। রিনির মতে, খুব মিষ্টি নাম। যে-সব শব্দের কোনও মানে বোঝা যায় না, সেইসব শব্দ রিনির খুব পছন্দ।

    কোথায় ওই ওন্দা? যদি জানা যায় যে বাঁকুড়া জেলার মধ্যেই, তাহলে খুঁজে পাওয়া মোটেই শক্ত নয়। বাঁকুড়া শহর আর বিষ্ণুপুরের মধ্যে কোনও এক জায়গায়। বাস যায়, রেল স্টেশন আছে।

    রিনি আর প্রতুল ভিড়ের বাসে চেপেই পৌঁছোল সেখানে।

    বাঁকুড়া শহরে প্রতুলের অফিসের কাজ ছিল। সে ওষুধের ফেরিওয়ালা, তাকে অনেক জায়গায় ঘুরতে হয়। কলকাতা থেকে ট্রেনে দুর্গাপুর, তারপর শেয়ারের ট্যাক্সিতে বাঁকুড়া। সেইভাবেই ফেরার কথা ছিল, কিন্তু এবারে রিনি তার সঙ্গে এসেছে।

    অফিসের কাজে স্ত্রী-কে সঙ্গে নিয়ে বেরুলে দু-একদিনের ছুটি করিয়ে নেওয়া যায়। মুকুটমণিপুর বাংলোতে দু-এক রাত কাটাতেও প্রতুল রাজি ছিল। কিন্তু রিনির শখ অন্যরকম, সে প্রাচীন মন্দির দেখবে। বেশ তো, বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত মন্দিরগুলো দেখে আসা যাক, রিনি তাতেও রাজি নয়। ছাত্রী বয়েসে সে একটা বড় দলের সঙ্গে এদিককার সব বিখ্যাত জায়গাগুলো দেখে গেছে। সে। সব জায়গায় সে আর যেতে চায় না। সে একটা নিজস্ব তালিকা টুকে এনেছে।

    তার প্রথম নাম বহুলাড়া। আর একটি দুর্বোধ্য শব্দ। কাজের জন্য অন্তত দশ-বারোবার প্রতুলকে আসতে হয়েছে বাঁকুড়ায়, কক্ষনো সে ওই নাম শোনেনি। এবারে এসে বাঁকুড়ায় কয়েকজনকে জিগ্যেস করা হল বহুলাড়ার কথা, তারা মুখ শোঁকাকি করে।

    —কী আছে বহুলাড়ায়?

    —জৈন আমলের বিখ্যাত প্রাচীন মন্দির। প্রায় হাজার-হাজার পুরোনো। পশ্চিম বাংলায় এত পুরোনো মন্দির আর কটা আছে?

    —এত বিখ্যাত মন্দির অথচ কেউ নাম শুনলে চিনতে পারে না?

    রিনি মাথা ঝাঁকিয়ে বলেছিল, লোকাল লোকেরা বেশির ভাগ সময়েই এইসব জিনিসের কোনও খবর রাখে না। কোনও ইন্টারেস্ট নেই তো! দূর থেকেই মানুষ এইসব দেখতে আসে। চলো, ওন্দায় গেলে ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে।

    বাস থেকে নামা হল বাজারের সামনে। খুব ছোট বাজার নয়, লোকজনের ব্যস্ততা আছে বেশ, বাঁধাকপি, লাউ, বেগুনগুলো যথেষ্ট স্বাস্থ্যবান। একজন সাইকেল-আরোহীকে মন্দিরটির কথা জিগ্যেস করতেই সে বলল, চলে যান এই সামনের রাস্তা ধরে, একেবারে সোজা।

    রাস্তাটি কিন্তু একেবারে সোজা নয়। বাজার পেরিয়ে, জনপদের মধ্যে দিয়ে গেছে ঘুরে-ঘুরে। খানিক পরেই অবশ্য গ্রাম ছাড়িয়ে রাঙা মাটির পথ। সামনে লেভেল ক্রসিং।

    রিনির তথ্য অনুযায়ী বড় রাস্তা থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র চার মাইল। মাত্র? গ্রামের দিকে চার মাইল যে কতখানি লম্বা সে সম্পর্কে রিনির কোনও ধারণা আছে? যাই হোক, শীতের মনোরম দুপুর, প্রতুলের হাঁটতে আপত্তি নেই।

    লেভেল ক্রসিং-এর সামনে একটু দাঁড়াতে হয়। প্রতুলের সন্দেহ বাতিক, সে একটি তেল চুকচুকে চুলওয়ালা, পা-জামার ওপর সবুজ গেঞ্জিপরা কিশোরকে মিষ্টি করে জিগ্যেস করল, হ্যাঁ ভাই, বহুলাড়া মন্দিরটা এই দিকেই তো?

    ছেলেটি চোখ কুঁচকে জিগ্যেস করে, কী?

    যদিও কথা বলছে প্রতুলের সঙ্গে কিন্তু ছেলেটি তাকিয়ে আছে রিনির দিকে। সে প্রতুলের কথা বুঝতে পারে না, সে জানে না। ইতিমধ্যে ট্রেন এসে যায়।

    লাইন পেরিয়ে ওপারে আসার পর রিনি বলল, ও বাচ্চা ছেলে, ওরা পুরোনো মন্দিরের কথা জানবে কী করে?

    প্রতুল বলল, খুব বাচ্চা নয়, বয়ঃসন্ধি হয়ে গেছে, তোমার দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিল…

    এবারে দেখা গেল একটি সাইকেল রিকশা। একজন মাত্র যাত্রী। রিকশাওয়ালাকে জিগ্যেস করতেই সে বলল, মন্দির তো? এই টানা রাস্তা, সামনে একখানা গাঁ পাবেন।

    —কত দূর?

    —তা একটুখানি দূর আছে!

    রিকশাওয়ালাকে অনায়াসে বলা যেতে পারে যে তোমার সওয়ারি নামিয়ে ফিরে এসো। তারপর যাত্রা সুখকর হবে, রিকশাওয়ালাই হবে গাইড।

    কিন্তু রিনির সে রকম কোনও অভিপ্রায় আছে কি না বোঝা গেল না। সে প্রতুলকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেছে।

    বাঁ-কাঁধ থেকে ক্যামেরাটা ডান কাঁধে ঝোলাল প্রতুল। বাঁ-পকেটে সিগারেট ধরিয়ে সে জিগ্যেস করল, মন্দিরটা কত উঁচু, দূর থেকে দেখা যাবে? রিনি বলল, বেশ উঁচুই তো হওয়ার কথা। পশ্চিম বাংলায় এত বড় প্রাচীন মন্দির খুব বেশি নেই।

    সামনের মাঠ চিরে চলে গেছে রাস্তা। অনেক দূরে গাছপালা-ঘেরা গ্রাম, তার মাথা ছাড়িয়ে কোনও কিছুই আকাশের দিকে ওঠেনি। এই শীতেও আকাশ মেঘলা, এদিককার পৃথিবী এখন ছায়াময়।

    প্রতুল বলল, এই মাঠের মধ্যে কেন অত বড় মন্দির বানাবে? মন্দির তো মানুষের জন্য, তাই না?

    —এক সময় নিশ্চয়ই এখানটা সমৃদ্ধ জায়গা ছিল, হয়তো কোনও রাজধানী ছিল!

    —সেসব লোপাট হয়ে গেল, শুধু মন্দিরটা বেঁচে রইল? ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না, হয়তো গিয়ে দেখব একখানা মাত্র ভাঙা দেয়াল।

    —মোটেই না, আমি পুরো মন্দিরের ডেসক্রিপশান পড়েছি।

    —কিন্তু, আমিও যেন কোথায় পড়েছি যে একসময় এই পুরো জায়গাটাই ছিল গভীর জঙ্গল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটো ব্যাটেলিয়ান একশো কুড়ি মাইল হেঁটেও তাদের তাঁবু খাটাবার জন্য ফাঁকা জায়গা খুঁজে পায়নি।

    রিনির চটিতে কাঁকর ঢুকেছে। সে নীচু হয়ে তার ফর্সা পা থেকে লাল রঙের চটিটা খুলল। সে ইতিহাসের ছাত্রী ছিল, ইতিহাস তার সম্পত্তি।

    রিনি মুখ তুলে চোখে কৌতুক ঝলসে বলল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, সে তো মাত্র শ দুয়েক বছর আগেকার কথা। দেড়-দুহাজার বছর আগেও এখানে সভ্যতার বিস্তার ঘটেছিল, এখানে। ছোটখাটো স্বাধীন রাজ্য ছিল…রাজা সিংহবর্মা আর চন্দ্রবর্মার নাম শুনেছ? শশাঙ্করও আগে এঁরা ছিলেন বাঙালি রাজা। চন্দ্রবর্মাকে হারিয়েই সমুদ্রগুপ্ত রাঢ় বঙ্গের দিকে এগিয়েছিলেন।

    ইতিহাস যেন একটা ফুটবল, কাছাকাছি পেলে সবাই একবার লাথি কষাতে চায়।

    প্রতুল অবজ্ঞার সুরে বলল, বাঙালি রাজাই হোক আর বিদেশি রাজাই হোক সবই তো ছিল ডেসপট। আর মন্দির মানেই কলোসাল ওয়েস্টেজ অফ মানি! আগেকার দিনের রাজারা গরিব লোকদের শোষণ করা টাকায় বড়-বড় মন্দির বানিয়ে নিজেদের নামে ঢাক পেটাত! এই ধাধধাড়া গোবিন্দপুরে মন্দির না বানিয়ে একটা ভালো রাস্তা বানাতে পারেনি?

    রিনি বলল, এককালে এখানে বিখ্যাত রাস্তা ছিল, তাম্রলিপ্ত থেকে পাটলিপুত্র, সেই রাস্তা গিয়েছিল বহুলাড়ার ওপর দিয়ে…

    —তা রাজাদের যুগ শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে রাস্তাটাও কি হাপিস হয়ে গেল? রাজারা নিজেদের বানানো রাস্তা কি স্বর্গে নিয়ে গেছে?

    রাস্তাটা সত্যি বেশ খারাপ। বড়-বড় খানাখন্দের ওপর সদ্য কিছু খোয়া ফেলা হয়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টি নেই, তবু কোনও-কোনও জায়গায় জমে আছে কাদা। রিনি শাড়ি উঁচু করে তুলে পা ফেলছে খঞ্জনা পাখির মতন।

    মনে হচ্ছে যে ঘণ্টাখানেক হাঁটা হয়ে গেছে, তবু পথের শেষ নেই। তবে এখন মাঠ ছাড়িয়ে চোখে পড়ে জনবসতি। দূরে একটা লম্বাটে, সাদা রঙের একতলা বাড়ি, সম্ভবত স্কুল। কিন্তু মন্দির। কোথায়?

    আকাশের অবস্থা দেখলে মনে হয় বিকেল শেষ হওয়ার আগেই অন্ধকার নেমে আসবে।

    প্রতুল বলল, কালাপাহাড় নামে একটা লোক এদিককার সব হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল না? তোমার ওই মন্দিরেরও নিশ্চয়ই সেই দশাই হয়েছিল।

    রিনি বলল, তোমাকে অনেকবার বলেছি, বহুলাড়ার মন্দিরটা হিন্দুদের নয়, জৈনদের।

    প্রতুল একটু থতমত খেয়ে গেল। কালাপাহাড় শুধু হিন্দু মন্দির ভেঙে জৈন্য-বৌদ্ধদের মন্দিরগুলো রেয়াত করেছিল কি না সে সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা নেই। কিন্তু অন্য একটা কথা তার মনে পড়ে যায়। সে জিগ্যেস করল, তুমি বোধগয়ার মন্দিরে গেছ?

    রিনি মুখ ফিরিয়ে কিছুটা অবাক হয়ে বলল, না, কেন?

    —বোধগয়ার বিখ্যাত মন্দির, বৌদ্ধদের মন্দির, যেখানে গৌতম বুদ্ধ একসময় গাছতলায় বসে তপস্যা করেছিলেন, সেই মন্দিরের সামনের দিকে শিবঠাকুরের পুজো হয়।

    —হ্যাঁ, তাকে কী?

    —অনেক বৌদ্ধ আর জৈন মন্দির হিন্দুরা পরে দখল করে নিয়েছে। তোমরা হিন্দুরাও অন্য ধর্মের ওপর কম অত্যাচার করোনি!

    তোমরা হিন্দুরা এটা জোর দিয়ে বলার কারণ হল প্রতুল কনফার্মড নাস্তিক এবং সেকথা সে প্রায়ই জোরে জানান দিতে চায়।

    এর উত্তরে রিনি শুধু বলল, আমরা সামনের বছর ওই দিকটায় বেড়াতে যাব, অ্যাঁ?

    কাছাকাছি দুটি লোককে দেখে প্রতুল জিগ্যেস করল, এদিকে একটি মন্দির আছে?

    সে না শুনবে আশা করেছিল, কিন্তু লোকদুটি আগ্রহের সঙ্গে বলল, হ্যাঁ আছে, ওই তো ইস্কুলটা ছাড়িয়ে ডান পাশে…।

    পাঁচ মিনিট হেঁটে সেই মন্দিরের সামনে পৌঁছে রিনির মুখে একই সঙ্গে রাগ, দুঃখ, বিরক্তি, ক্ষোভ, অবিশ্বাস ইত্যাদি অনেক কিছুর ছায়া মিশে গেল। না, না, না, এ মন্দির নয়, এটা হতেই পারে না! এটার জন্য কেউ কষ্ট করে এতদূর হেঁটে আসে না।

    প্রতুল মিটিমিটি হাসছে।

    একটা অতি সাধারণ শিবমন্দির, পনেরো-কুড়ি বছরের বেশি পুরোনো নয়, বাইরের দেয়ালটা সদ্য গেরুয়া রং করা, ভেতরের দেয়ালে অনেকগুলি ক্যালেন্ডারের ছবি। শিবলিঙ্গটি মনে হয় স্লেট পাথরের তৈরি, নাকে আসে পচা দই-এর গন্ধ।

    একজন বলল, এই শিবঠাকুর নাকি খুব জাগ্রত

    রিনি জোর দিয়ে কান্না-কান্না গলায় বলতে লাগল, এটা নয়! বহুলাড়ার প্রাচীন মন্দির। জৈনদের মন্দির!

    দু-তিনজন জিগ্যেস করল, কোন জায়গা বলছেন?

    —বহুলাড়া! বহুলাড়া!

    ওরা কেউ রিনির কথা বুঝতে পারছে না। এ ওর দিকে চোখ নাচাচ্ছে।

    প্রতুল এবার এগিয়ে এল রিনিকে সাহায্য করবার জন্য। সে সবিস্তারে বোঝাল, তারা দেখতে এসেছে এমন একটা মন্দির যার কথা ইতিহাস বইতে লেখা থাকে। সেটা ভাঙাচুরো হলেও ক্ষতি নেই–।

    ওরা নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ পরামর্শ করে তারপর জানাল যে সেরকম একটা মন্দির আছে বটে। প্রতুলদের রাস্তা ভুল হয়েছে। একটু আগের ডান দিকের রাস্তা ধরে যেতে হবে, একটা গ্রাম পেরিয়ে খানিকটা দূরে!

    একজন বলল, কিন্তু সে মন্দিরে তো এখন পুজো হয় না!

    রিনি ঝাঁঝের সঙ্গে বলল, না হোকগে, আমরা কি পুজো দিতে এসেছি নাকি?

    খানিকটা ফেরাপথে গিয়ে ওরা ডানদিকের রাস্তা ধরল। সামনেই একটা গ্রাম।

    রিনি জিগ্যেস করল, এত কাছে থাকে, তবু ওরা বহুলাড়া মন্দিরের নাম শোনেনি?

    —ওরা তোমার কথা বুঝতে পারেনি। তুমি বইতে নাম পড়েছ বহুলাড়া, আর ওরা বলছিল বেউল্যাড়া না কী যেন! আমাদের উচ্চারণ আলাদা।

    একটু থেমে প্রতুল বলল, আমাদের অনেক কিছুই তো ওদের চেয়ে আলাদা!

    রিনি বলল, কী বিচ্ছিরি একটা মন্দির বানিয়েছে, দেখলেই গা কিটকিট করে। আগেকার দিনের মানুষদের রুচি ছিল, সৌন্দর্যবোধ ছিল, তাই কত সুন্দর-সুন্দর মন্দির বানাত!

    সামনেই একটা গরুর গাড়ি গাড্ডায় পড়েছে। একজন বুড়ো গাড়োয়ান আর তার খুদে অ্যাসিস্টেন্ট প্রাণপণ ঠেলাঠেলি করেও তুলতে পারছে না।

    প্রতুল ক্যামেরাটা খুলল। তারপর মনোযোগ দিয়ে দেখে বলল, এই রে, দুটো মোটে ফিলম আছে। আর একটা রোল ফেলে এসেছি!

    রিনি বলল, তুমি কী যে কর! এত কষ্ট করে যাচ্চি, তুমি মন্দিরের ছবি তুলবে না?

    প্রতুল শাটারে হাত দিয়ে বলল, তুমি পুরোনো মন্দির দেখতে যাচ্ছ তো, ওই গরুর গাড়িটাও অন্তত দু-তিন হাজার বছরের পুরোনো তো হবেই। গৌতম বুদ্ধের সময়ও এই রকমই গরুর গাড়ি চলত! এই রকমই কাদায় পড়ত।

    ছবিটা তোলার পর সে এগিয়ে গেল গরুর গাড়িটা ঠেলে তোলার জন্য হাত লাগাতে। কিন্তু ঠিক। তখনই চাকাটা উঠে এল ওপরে। টাল সামলাতে না পেরে প্রতুল একটা হোঁচট খেল এবং বাঁ পা টা একটু মুচকে গেল। পরোপকারের তো অভ্যেস নেই।

    মেয়েরা অদ্ভুত-অদ্ভুত সময়ে হাসতে পারে। এই দৃশ্যে রিনির এতখানি হাসি পাওয়ার কোনও মানে হয়!

    কিছুই হয়নি এরকম একটা ভাব করে প্রতুল আর একটা সিগারেট ধরাল।

    বৃদ্ধ গাড়োয়ানটি জিগ্যেস করল, আপনারা কোথা থেকে আসছেন?

    প্রতুল বলল, কলকাতা থেকে। ভাঙা, পুরোনো মন্দিরটা আর কত দূরে?

    বৃদ্ধ ওদের দুজনের দিকে আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে জিগ্যেস করল, বেশি দূরে নয়, রাতে থাকবেন কোথায়?

    —কেন, এখানেই কোথাও থাকার জায়গা পাওয়া যাবে না? আপনার বড়িতে?

    বৃদ্ধটি রহস্যময় ভাবে হাসল।

    —আপনার বাড়ি কোথায়? এই গ্রামে?

    —নাঃ!

    গরুর গাড়িটিতে কিছু থালাবাসন, হাঁড়ি-কুড়ি, একটা টিনের বাক্স, দু-একটা বস্তা, একটা ভাঙা সাইকেল, একটা কানভাঙা মাটির কলসি রয়েছে, যেন কাদের গোটা সংসার। কেউ যেন এক জায়গার বাড়ি ভেঙে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে।

    বৃদ্ধটির হাসির ধরন-ধারণ দেখে প্রতুল আর কোনও প্রশ্ন করতে সাহস পেল না।

    কয়েকটি বাচ্চা ছেলেমেয়ে ওদের পেছন-পেছন আসছে। রাস্তার ধারে পুকুরে গা ধুতে-ধুতে স্ত্রীলোকরা অবাকভাবে চাইছে ওদের দিকে। দুটো কুকুর ঘেউঘেউ করে উঠল।

    রিনি এখন হাঁটছে প্রতুলের খুব কাছ ঘেঁষে। বাচ্চাদের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে, রীতিমতন পনেরো-কুড়িজনের একটা দল। সব খালি গা, কারু বা শুধুইজের পরা। যে-বয়েসে বালিকাদের বুক ঢাকতে হয় সেই বয়েসি বালিকারা বুকের ওপর আড়াআড়ি রেখেছে দু-হাত।

    প্রতুলের পায়ে যন্ত্রণা হচ্ছে, তবু যথাসাধ্য স্বাভাবিকভাবে চলবার চেষ্টা করছে সে। রাস্তা কি ফুরোবে না?

    বাচ্চারা কিছু বলছেনা, শুধু হাঁ করে দেখছে ওদের। রাস্তার ধারের বাড়িগুলো থেকে বয়স্ক লোকেরা উঁকি মারছে। শিশুরা এসে যোগ দিচ্ছে মিছিলে।

    এতগুলো চোখের দৃষ্টিতে অস্বস্তি লাগেই। তাছাড়া, এরা সবাই মিলে পয়সা চাইবে না তো?

    একটা কালো কুচকুচে সাত-আট বছরের সম্পূর্ণ উলঙ্গ ছেলে একেবারে ছুটে এল ওদের কাছাকাছি।

    প্রতুল জিগ্যেস করল, এই তোর নাম কী রে?

    ছেলেটি কোনও উত্তর না দিয়ে নাকের সিকি খুঁটে নিয়ে টপ করে মুখে পুরে দিল।

    রিনি দুঃখিতভাবে মুখ ফিরিয়ে নিলে বলল, এ!

    প্রতুল বলল, এখানে স্বাধীন রাজ্য ছিল, এত বড় মন্দির, কাছাকাছি নিশ্চয়ই মন্ত্রী-সেনাপতিদের বাড়ি ছিল। এই ছেলেটা হয়তো সেই রকমই কারু বংশধর।

    কাছাকাছি একটা বাড়ি থেকে একঘেয়ে একটা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। একটু আগে ছাড়িয়ে আসা একটি কিশোরী মেয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল, ধর্মরাজের ঘোড়া, বাঁ-পাটি লটর পটর ডান পাটি খোঁড়া!

    প্রতুল হেসে বলল, আমাকেই বলছে নাকি?

    রিনি উত্তর দিল না। সে তার মনটাকে এই পরিবেশ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

    মস্ত বড় একটা কাঠের বোঝা নিয়ে আস্তে-আস্তে হেঁটে যাচ্ছে এক বুড়ি। কত বয়েস হবে এই বুড়ির, মুখের চামড়া দেখলে মনে হয় শ-খানেক বছরের কম নয়। কাছাকাছি জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ কুড়িয়ে এনেছে মনে হয়, অত বড় একটা বোঝা প্রতুল নিজেই বইতে পারবে কি না সন্দেহ।

    এইরকম এক বৃদ্ধাকেও যখন এত পরিশ্রম করতে হয় তখন ওর সংসারের অবস্থাটা কীরকম তা অনুমান করতে বেশি কল্পনাশক্তির দরকার হয় না।

    বুড়িটি মাঝে-মাঝে থেমে আকাশের দিকে চাইছে। মেঘলা আকাশে ওর কীসের কৌতূহল? রিনি আর প্রতুল ওর পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল, বুড়িটি একবার ভ্রূক্ষেপও করল না!

    এক-একটা কুকুর যেমন অচেনা মানুষের সঙ্গ নেয়, ন্যাংটো বাচ্চাটা সেই রকম ওদের কাছ ছাড়ছে না। ছেলেটার পেটটা তার মাথার চেয়েও অনেক বড়। রিনি এমনিতে বাচ্চাদের ভালোবাসে কিন্তু ছেলেটার দিকে একবারও তাকাচ্ছেনা।

    এবার একটা বাঁক ঘুরেই চোখে পড়ল মন্দির। বড় একটা আমগাছে ঢাকা পড়ে ছিল। সত্যিই বেশ বড় মন্দির, তার গায়ে প্রাচীনত্বের গাম্ভীর্য ও কারুকাজ। বেশ একটা ইতিহাস-ইতিহাস ছাপ আছে। সামনে প্রশস্ত চত্বর। পুরাতত্ব বিভাগের একটি নোটিশও টাঙানো আছে। কে জানে, ওই নোটিশটি টাঙিয়ে যাওয়ার পর পুরাতত্ত্ব বিভাগের এই মন্দিরটার কথা মনে আছে কি না!

    রিনির চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সে উচ্ছ্বসিতভাবে বলে উঠল, দ্যাখো বলেছিলুম না! কী ম্যাজেস্টিক!

    প্রতুল উলটো দিকে ফিরে দেখল একটা নিরানন্দ নিঝুম গ্রাম, আর কতগুলো মলিন ছেলেমেয়ে। ইতিহাস এই মন্দিরটাকে টিকিয়ে রেখেছে আর কাছাকাছি মানুষগুলোকে ক্রমশই ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে।

    আজকের বর্তমানও তো একদিন ইতিহাস হবে, তখন এখানে এসে মানুষ কী দেখবে?

    ন্যাংটো বাচ্চাটা চোখ গোল-গোল করে তাকিয়ে আছে রিনির দিকে।

    প্রতুল জিগ্যেস করল, এই, কী দেখছিস রে? এখানে আর আমাদের মতন কেউ আসে না?

    ছেলেটি বলল—হ্যাঁ। আগের বছর এসেছিল একজন সাহেব আর মেম।

    প্রতুল ক্যামেরা তুলে বলল, তুই এই মেমসাহেবের পাশে দাঁড়া, তোর ছবি তুলি।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleফিরে আসা
    Next Article বাবা

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী ছোটগল্প

    আসল বেনারসী ল্যাংড়া

    April 5, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    অসাধারণ | Ashadharon

    April 3, 2025
    ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুয়াড়ির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }