Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আরণ্য – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প12 Mins Read0

    ১-২. চিকরাসি স্বগতোক্তি করল

    আরণ্য – উপন্যাস – বুদ্ধদেব গুহ

    তারা কোথায় গেল বল তো? পেছনে নেই তো?

    চিকরাসি স্বগতোক্তি করল, বম্বে রোডে গাড়ি চালাতে চালাতে, সামনে তাকিয়ে।

    পেছনে থাকতেই পারে না। ওরা কত আগে বেরিয়েছে।

    জারুল বলল।

    সবে সন্ধে নামছে। ওদের গাড়িটা বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে কলকাতার চক্কর এড়িয়ে এসে বম্বে রোড ধরে প্রায় কোলাঘাটের কাছাকাছি চলে এসেছে।

    চিকরাসির গাড়ি চালাচ্ছে চিকরাসিই। সামনে বাঁদিকে বসে আছে গামহার। পেছনে জারুল। জারুল চিকরাসির বান্ধবী। আজকালকার বান্ধবী। তুই-তোকারি করে একে অন্যকে। বিয়ে এখনও হয়নি। তবে যে-কোনো সময়েই হতে পারে। ওরা আজকালকার ছেলে-মেয়ে বলেই আবার কোনোদিনও নাও হতে পারে। চিকরাসির স্টিভেডর বাবা নেপাল ব্যানার্জি প্রতি মাসে গাড়ি পাল্টাতেন। পুরনো দিনের রাজা মহারাজাদের যেমন আস্তাবল আর পিলখানা থাকত তেমনই ব্যানার্জির গাড়ির গ্যারাজ ছিল দেখবার মতো। দশ-বারোখানা নতুন গাড়ি এবং পাঁচ-ছটি অ্যান্টিক গাড়িও থাকত। ‘The Statesman’ এর Vintage Rally-তে প্রথম দিন থেকে যোগ দিতেন নেপাল ব্যানার্জি। নেপাল ব্যানার্জির ছেলে চিকু ব্যানার্জি বাবার ব্যবসাতে যায়নি। সে সফটওয়্যারের ব্যবসা করে। ইনফরমেশান টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেছে। সে তার বাবার মতো প্রতি মাসে গাড়ি পাল্টায় না কিন্তু প্রতি মাসে বান্ধবী পাল্টায়। তবে বান্ধবীরা পিলখানা অথবা গ্যারাজে থাকে না বলেই তাদের তার বাবার গাড়িগুলোর মতো একইসঙ্গে দেখা যায় না এক জায়গাতে পাশাপাশি।

    চিকরাসি ওরফে চিকু ব্যানার্জি কলকাতার নামকরা প্লে-বয়। প্লে-বয় যদিও কিন্তু চল্লিশেই তার গভীরতা, ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধি অনেক পরিণত বয়স্ক মানুষের থেকেও বেশি। এটা অন্য অনেকেরই মতো গামহার ঘোষ-এরও মত।

    গামহার, বয়সে চিকরাসির চেয়ে অনেকই বড়। ওরা যদিও গামহারকে দাদা বলে, সে বয়সের দাবীতে ওদের কাকাও হতে পারত সহজেই। গামহার আর্টিস্ট। জলরঙ তার মাধ্যম। অ্যাকোয়ার কাজও করে। আজকাল জল ছেড়ে অ্যাক্রিলিক-এ গেছে। স্বভাবে বোহেমিয়ান। এতোদিন তার আঁকা ছবি, ছবির বাণিজ্যিক জগতে কল্কে পায়নি। ক্রিকেটারদেরই মতো, অ্যাড মডেলদেরই মতো, এখন চিত্রকরদের বাজারও খুবই ভাল। প্রৌঢ়ত্বের শেষে পৌঁছে গামহার অর্থ এবং স্বীকৃতি দুই-ই পেয়েছে। তবে তাতে সে অভিভূত বা উত্তেজিত হয়নি। জাগতিক অসাফল্য এতো বছর তাকে যেমন পীড়িত করেনি, সাম্প্রতিক অতীত থেকে অর্থ ও যশের এই চকিত উৎসারও তাকে আদৌ বিচলিত বা উত্তেজিত করেনি। যেমনটি ছিল, তেমনটিই আছে। ব্যর্থতা ও সাফল্য একই পর্দাতে তার মনে বেজেছে, সে প্রকৃত আর্টিস্ট বলেই। কবিতা লিখলে বা ছবি আঁকলে বা গান গাইলেই শুধু সে কারণেই সৃষ্টিশীল শিল্পীসত্তা কোনো মানুষের মধ্যে বর্তে যায় না। তার লক্ষণ আলাদা।

    বিয়ে একটা করেছিল গামহার অতি অল্পবয়সে। বিয়ের মানে না জেনেই। সে নিজেও ঠিক করেনি পাত্রী। তার বিধবা মা-এর একজন সঙ্গী ও খেলার পুতুলের প্রয়োজন ছিল বলে তিনিই পছন্দ করে এনেছিলেন লালিকে। গামহার-এর মানসিকতা ও রুচির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। থাকবার মধ্যে তার সুস্পষ্ট লক্ষণ-যুক্ত একটি নারী-শরীর ছিল। ক্যাটক্যাটে লাল রঙ পছন্দ করত। রবীন্দ্রসঙ্গীত পছন্দ করত না। এবং একসঙ্গে চারটে হাঁসের ডিমের ওমলেট খেতো। গামহারকে পৌনঃপুনিকভাবে সাহেবদের মতো আদর করতে উপদেশ দিতো বলে বিয়ের দেড় মাস পরই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। নৈকট্য তেমন কখনও যেমন হয়নি, বিচ্ছেদটা তাই আদৌ বুঝতে পারেনি গামহার।

    গামহার ঘোষ অত্যন্তই সূক্ষ্ম রুচির শিল্পী মানুষ। তার সূক্ষ্মতাটা লোক-দেখানো নয়। শুধু অন্য সূক্ষ্ম মানুষই তার সূক্ষ্মতাটা বুঝতে পারত। নিজেকে অন্যের কাছে জাহির করবার বা নিজেকে বোঝানোর কোনো তাগিদও তার ছিল না কোনোদিনও। তার নিজের নিজস্ব একটা পৃথিবী ছিল। সেখানে সে একা-একাই সুখী ছিল নিরন্তর। এবং এখনও আছে। এই অতি-সূক্ষ্ম রুচির কারণেই অনেক ভুল-রুচি পুরুষ তাকে মেয়েলি বলে এসেছে। তার চেহারাটা একটু নরম-সরম। তার জাগতিক সাফল্যর অভিঘাত তার উপর পড়েনি যে, তার আরও একটা কারণ এই যে, নিজের নাম-যশ-অর্থের জন্যে কখনও কাঠ-খড় পোড়ায়নি। যারা তা পোড়ায়, তাদের সে তার শিল্পীসুলভ মানসিকতাতে ঘেন্না করে। সে ঘেন্নাটা প্রকাশ করার নয় বলেই সেই ঘেন্নাটা তার অভ্যন্তরে সঞ্চিত হয়। সঞ্চিত হতে হতে তা পুঞ্জীভূত হয়ে গেছে। কোনোরকম ঘেন্না প্রকাশ করাতেই সব ভদ্রলোকেরই জন্মগত অনীহা, তাই সেই ঘেন্নার প্রকাশ ঘটেনি। কোষবৃদ্ধি-হওয়া পুরুষের মতো অন্যের চোখের আড়ালে এই ঘৃণার ভার স্ফীত-অণ্ডকোষের মতোই বয়ে বেড়িয়েছে গামহার। এবং বয়ে বেড়াচ্ছে।

    বছর তিনেক হলো, বলতে গেলে হঠাৎই একজন ফরাসিনীর চোখে পড়াতে গামহার ঘোষের ছবির কদর হয়েছে সারা পৃথিবীতে এবং ক্রমশ আরও হচ্ছে। এই বিলম্বিত সাফল্যে তেমন আনন্দিত বা আলোড়িত হতে পারেনি গামহার। যে-মানুষের সৃষ্টি দেশের মানুষের চোখেই পড়ল না গত তিরিশ বছর, সেই মানুষই এখন পাদপ্রদীপের আলোর সামনে চলে এলো শুধুমাত্র একজন বিদেশিনী সমালোচকের প্রশংসাতে, এটা মনে করেই গামহার-এর লজ্জা হয়। এই লজ্জা নিজের কারণে যতটা না হয় তার চেয়ে অনেকই বেশি হয় দেশের মানুষদেরই কারণে। লজ্জার কারণটা বুঝিয়ে বলতে পারে না সকলকে। বোঝর বোধহয় প্রয়োজনও তেমন বোধ করে না।

    কী ভাবছ গামহারদা। চুপচাপ কেন?

    জারুল বলল।

    ভাবছি, জুনিপারকে নিয়ে এলে বেশ হতো। জঙ্গল না দেখলে তো ভারতবর্ষকে দেখা হয় না। কলকাতা, দিল্লী, বম্বে, ব্যাঙ্গালোরে আর যাই হোক আসল ভারতবর্ষ তো নেই।

    তা ঠিক। তা, নিয়ে এলেই পারতে। ও গাড়িতে তো অনেকই জায়গা ছিল।

    ও যে পরশুই চলে গেল মনট্রিয়ালে। আবার আসবে পুজোর পরে, প্যারিস হয়ে।

    ঠিক আছে। তখন একবার জঙ্গলে নিয়ে চলো। শীতে ওঁর কষ্টও কম হবে।

    কষ্ট কিসের? এখনকার গাড়ি তো সবই এয়ারকন্ডিশানড। এপ্রিলই হোক, কী মে।

    তা বটে। তবে জঙ্গল তো আর এয়ারকন্ডিশানড নয়। তাছাড়া মে মাসে পাগল আর চোরাশিকারী ছাড়া কেউই জঙ্গলে যায় না।

    জারুল বলল, এই এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেও গরম কম পাবে না গামহারদা। জঙ্গলের গরমটা অনেকটা প্রেমে পড়ার মতো। হঠাৎ, কখন যে ব্যাপারটা ঘটে যায়, বোঝা পর্যন্ত যায় না! গভীরে ঢুকে যাওয়ার পরে, অবশ্য গরম কম লাগে, তবে রাতে তো খুবই প্লেজেন্ট। কম্বল গায়ে দিয়ে শুতে হবে। মার্চ মাসেই ভীষণ গরম পড়ে যায় ওড়িশাতে।

    দেখি! নাম শুনেছি এতো সিমলিপালের। কেমন জায়গা দেখা যাবে। তোমাদেরই কল্যাণে।

    জারুল বলল, তুমি আর কোন কোন জঙ্গল দেখেছ গামহারদা?

    আমি? না, না। কোনো জঙ্গলই প্রায় দেখিনি। মামাবাড়ি ছিল কেষ্টনগরের নেদেরপাড়াতে। ছেলেবেলাতে সে-পাড়ার সব বাড়িতেই প্রায় বড় বড় বাগান ছিল। আম জাম-কাঁঠালের। জঙ্গল বলতে ওই। আর খুব ছেলেবেলাতে একবার গেছিলাম হাজারিবাগে। সেখানে খুবই জঙ্গল ছিল। আবছা আবছা মনে আছে। বড়মামার সঙ্গে গেছিলাম মামার এক বন্ধুর বাড়িতে। ওঁরা ওখানকারই বাসিন্দা। মামা খুবই ভীতু মানুষ ছিলেন। বাঘ দেখার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না কিন্তু কলকাতা থেকে এসেছি শুনে বাঘই আমাদের দেখবার জন্য রামগড়ের ঘাটের পথের মাঝে বসেছিল। সবে সন্ধে হয়েছে তখন। বাঘ দেখে তো বড়মামা তার বন্ধুকে আলোয়ান সমেত এমনই জড়িয়ে ধরেন যে, গাড়ি প্রায় খাদে চলে যায় আর কী। আর আমার মা নাকি বাঘ দেখে গাড়ির মধ্যে অজ্ঞানই হয়ে গেছিলেন। কথায়ই বলে, নরানাং মাতুলক্রমঃ। যার বড়মামা এতো ভীতু তার ভাগ্নে সাহসী হয় কী করে বল?

    চিকরাসি আর জারুল হেসে ফেলল গামহার-এর সরল স্বীকারোক্তিতে।

    ওরা দু’জনে হাসতেই পারে। জঙ্গলের পোকা ওরা দু’জনেই। জারুল জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বন্যপ্রাণী ও পাখির ছবি তোলে। পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে একটি কাগজও করার ইচ্ছা আছে। কানহার জঙ্গলেই গত শীতের আগের শীতে ওদের দুজনের আলাপ হয়। তারপরই ঘনিষ্ঠতা। তারপর থেকে চিকরাসি আর জারুল জঙ্গলে গেলে একই সঙ্গে যায় দুজনে। কলকাতাতেও প্রায় প্রতি উইক-এন্ডেই দেখা-সাক্ষাৎ হয়। চিকু ব্যানার্জির এই বান্ধবী প্রায় বছর দুই টিকে যে গেল, এনিয়ে কলকাতার হাই সোসাইটিতে গুজ-গুজ ফুসফুস-এর শেষ নেই।

    জারুল তার ভোলা ওয়াইল্ডলাইফ-এর ছবি বিক্রি করে দেশি-বিদেশি নানা পত্র পত্রিকায়। আজকাল ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফি রীতিমতো একটি লাভজনক পেশা হয়ে গেছে। বন ও বন্যপ্রাণী নিয়ে লেখালেখি তো প্রফেসন হয়েছেই। পেশা হয়ে উঠছে বলেই ভালবাসা কমছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর পয়সার জন্য অরণ্যকে ভালবাসেননি।

    ক্যালকাটা সুইমিং ক্লাবে শুক্রবার রাতে ক্যান্ডল-লাইট ডিনার খায়, তাজ-এর কফিশপে টুকটাক, ওবেরয়ের নতুন থাই-রেস্তোরাঁতে শনিবার রাতে ডিনার। পয়সা রোজগারটা ওদের কাছে কোনো সমস্যাই নয়, পয়সা কীভাবে খরচ করবে সেইটাই সমস্যা। যত টেনশান, তা নিয়েই।

    গামহার ঘোষের যৌবন চলে গেছে বলেই যৌবনের দাম সে বোঝে। বোঝে যে যৌবন, দাঁত অথবা জন্মদাত্রী মায়েরই মতো। থাকতে, কম মানুষই কদর করে তার, প্রকৃত দাম বোঝে।

    নিজের যৌবন চলে গেছে অবশ্যই। তবে সেটা শরীরেরই যৌবন। মনে মনে গামহার ঘোষ অনেক যুবকের চেয়েও অনেকই বেশি যুবক। এবং সে কারণেই সে প্রায়ই ভুলে যায় যে, সে যুবক নয়। ফলে, নানারকম বিপদ-আপদ-এরও সম্মুখীন হতে হয়। ছোট বড়। শারীরিক এবং মানসিক।

    ঐ তো ঝাঁঝিরা।

    জারুল, গামহারকে চমকে দিয়ে পেছন থেকে বলে উঠল।

    চিকরাসিদের গাড়ি ততক্ষণে কোলাঘাটের ব্রিজ পেরিয়ে ওপারে নামছে।

    হারিত আর ঝাঁঝি ওদের মারুতি এস্টিম গাড়ি থেকে নেমে, গাড়িটা পথের বাঁদিকে দাঁড় করিয়ে গাড়িতে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছিল চিকরাসিদের জন্যে। সাদা গাড়ি।

    চিকরাসি ঘাড় নিচু করে গামহার-এর কাঁধের পাশ দিয়ে হারিতকে বলল, কি? তোমরা কতক্ষণ?

    মিনিট পনেরো।

    এগিয়ে গেলে না কেন?

    বাঃ। একটা রাঁদেভু পয়েন্ট ঠিক না করে এগিয়ে যাওয়া কি ঠিক হতো? বলো, কোথায় দাঁড়াব?

    চলো, সোজা গ্রীনফিল্ডস-এ গিয়ে দেখা হবে। খড়গপুরের গোলাই-এর পরে।

    ওখানে যাবে? শুনেছি জায়গাটা খারাপ হয়ে গেছে। মালিকে মালিকে কেস চলছে।

    সে কি! সর্দারজীরাও বাঙালি হয়ে গেল কবে থেকে?

    আরে এতোদিন এখানে আছে, জল-হাওয়া তো লেগেছে।

    তা ঠিক।

    চলোই, না দেখা যাক। শুনেছি একটা নতুন হোটেলও হয়েছে গ্রীনফিল্ডস-এর আগে। পথের বাঁদিকে।

    কোথায় যাবো তাহলে? ঠিক করে বলল।

    না। গ্রীনফিল্ডস-এই চলো। আ নোন ডেভিল ইজ বেটার দ্যান অ্যান আননোন, ওয়ান। ওখানেই খেয়ে-দেয়ে রাতটা কাটিয়ে ভোরে এক কাপ করে চা খেয়ে বেরিয়ে পড়ব। তাহলে চাহালাতে দশটা নাগাদ পৌঁছে যাব।

    ঠিক আছে। তাহলে এসো তোমরা।

    আমরা এগোই। বলে, ওরা এগিয়ে গেলো।

    চিকরাসি স্টিয়ারিংয়ে গিয়ে বসলো।

    .

    ০২.

    হারিত আর ঝাঁঝির সঙ্গে গামহার-এর একবারই আলাপ হয়েছে চিকরাসির বাড়ির এক পার্টিতে। প্রথম দর্শনেই এই ঝাঁঝি মেয়েটিকে ভারী ভাল লেগেছিল গামহার ঘোষের। এই ভাল লাগাটার মধ্যে এক বিশেষত্ব আছে। এই ভাললাগার রকমটা সকলের বোঝার নয়। হোসেইন-এর যেমন মাধুরী দীক্ষিতকে ভাল লাগে, হিমতোষ-এর কাজলকে, গামহার-এর তেমনই ভাল লেগেছে ঝাঁঝিকে। একজন সাহিত্যিক যেমন কোনো নারীকে ভাল লাগলে তাকে তার উপন্যাসের নায়িকা করেন, নাম-ধাম, গায়ের রঙ, সামাজিক প্রতিবেশ বদলে দিয়ে। একজন শিল্পী কিন্তু তা করেন না। হয়ত পারেন না। তার ভাললাগার নারীকে রক্তমাংস ধার দেন তিনি তুলি আর রঙ দিয়ে, তার কামনা আর কল্পনা দিয়ে। কারোকে ভাললাগার ঝুঁকিটা তাই একজন শিল্পীর, একজন সাহিত্যিকের কোনো নারীকে ভাললাগা বা ভালবাসার ঝুঁকির চেয়ে অনেকই বেশি। সাহিত্যিক নিজেকে আড়াল করতে পারেন, ক্যামোফ্লেজ করতে পারেন কিন্তু শিল্পী সহজেই ধরা পড়ে যান। সেকারণেই হয়ত একজন শিল্পীর ভালবাসা নারীরা সহজে বুঝতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেই ভালবাসার প্রতিদানও দেন। সাহিত্যিক তাঁর নিজের সৃষ্টির জালে নিজেই ঢাকা পড়ে যান। তার ভাললাগা বা ভালবাসা তাঁর ভাললাগার নারীর কাছে অনেক সময়ে পৌঁছয়ই না পর্যন্ত। সে-নারীর বই-টই পড়ার অভ্যেস না থাকলে বা সেই নারী বুদ্ধিহীন বা কম বুদ্ধিমতী হলে তো পৌঁছয় নাই-ই।

    লম্বা, কালো, ছিপছিপে, ভারী সুন্দর করে সাজাতে জানে নিজেকে ঝাঁঝি। সাধারণে সুন্দরী বলতে যা বোঝন তা সে আদৌ নয়। ফিগারটি সুন্দর। ব্যক্তিত্বময়ী। মুখটি যে খুব একটা সুন্দর তাও নয়। বরং সাধারণ। এই সাধারণের মধ্যেই অসাধারণত্ব খুঁজে পায় সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক অথবা শিল্পীর চোখ। তারা যে তাদের কলম এবং তুলি দিয়ে ভিখারিণীকে রানীতে পর্যবসিত করতে পারেন মুহূর্তে সে-কথা তাদের নিজেদের মতো আরও কেউই জানেন না। জানেন না বলেই, তাদের এই ঐশী ক্ষমতাতে তারা ন্যায্যত গর্ববোধ করেন। বাস্তবকে তুচ্ছ করার ক্ষমতা, নস্যাৎ করার ক্ষমতা, একমাত্র বিধাতার আছে আর আছে সাহিত্যিক ও শিল্পীদের। তাই তো তারা দ্বিতীয় বিধাতা। গামহার আসলে সঠিক বুঝতে পারে না ব্যাপারটা ঠিক কি? ঝাঁঝিকে দেখলেই তার মধ্যে ঝাঁঝিকে শারীরিকভাবে পাবার আকাঙ্ক্ষা জাগে। গামহার যে এখনও এতখানি যুবক আছে তা ঝাঁঝিকে যতবারই দেখে ততবারই বুঝতে পারে। কোনো পুরুষ অথবা কোনো নারীই যে-কোনো নারী বা পুরুষকে দেখে শারীরিক আকর্ষণ বোধ করেন না। এই ব্যাপারটা আগে থাকতে বোঝা পর্যন্ত যায় না। যখন বোঝা যায়, তখন শরীরে বৈদ্যুতিক শক লাগে।

    নিজের ভাবনার জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে গামহার একটু কেশে, গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে বলল, একটু চা খেলে হতো না চিকু?

    এয়ারকন্ডিশনড গাড়িতে গামহার-এর গলা ধরে যায়। গামহার-এর আবার সায়নাসাইটিস আছে। এয়ারকন্ডিশানার থেকে যে ধুলো বেরোয়, তা থেকে অনেক সময়ে ন্যাজাল অ্যালার্জিও হয়। চিকরাসির গাড়ি রীতিমতো ফ্রিজের মতো ঠাণ্ডা।

    চিকরাসি বলল, তুমি যা বলবে দাদা। অলওয়েজ অ্যাট ইয়োর সার্ভিস।

    বলেই, বলল, চলো। সামনে ডানদিকে একটা ভাল ধাবা আছে। সেখানে খাব।

    শুধু চাই-ই তো?

    হ্যাঁ। আবার কি?

    লেড়ো বিস্কুট পাওয়া যাবে না?

    জারুল বলল।

    ওর কথাতে হেসে উঠল চিকরাসি আর গামহার।

    একটু পরেই গাড়ি থামাল চিকরাসি।

    আমার কিন্তু কম দুধ কম চিনি।

    গামহার বলল।

    আমার শুধুই পাতলা লিকার। দুধ-চিনি ছাড়া।

    জারুল বলল।

    আমার বেশি দুধ বেশি চিনি।

    চিকরাসি দরজার কাছে এসে-দাঁড়ানো ধাবার ছেলেটিকে বুঝিয়ে দিল তিনরকম চায়ের কথা।

    জারুল বলল, লেড়ো বিস্কিট হ্যায় ভাই?

    কী বিস্কিট বইলতেচেন মা?

    লেড়ো।

    নাই। ব্রিটানিয়া আচে।

    দু-স্‌স্‌। শুধু চা-ই দাও।

    চিকরাসি হেসে উঠল।

    বলল, ঠিক আছে। জঙ্গলে তোমাকে লেডো বিস্কিট খাওয়াব।

    কী করে?

    বাঃ। চপ-এর ক্র্যাম-এর জন্য আনিনি বুঝি সঙ্গে? চিকু ব্যানার্জির বন্দোবস্তে কিছুমাত্র খুঁত-খামতি পাবে না। বুঝেছো ম্যাম।

    সেই জন্যেই তো তোমার উপরে এমনই নিশ্চিন্তে বডি ফেলে দিই।

    হাসতে হাসতে বলল জারুল।

    চা খেতে খেতে গামহার ভাবছিল, ঝাঁঝি নামটাও খুব সুন্দর। একবার ওদের পাড়ার লেবুদার সঙ্গে মল্লিকপুরের বিলে তালের ডোঙা করে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকো উল্টে দম বন্ধ হয়ে মারা যেতে বসেছিল ও। সেই জলজ গন্ধের হালকা ও গাঢ় উজ্জ্বল সবুজ ও হলুদরঙা গোছ গোছ মসৃণ ঝাঁঝির কথা গামহার কখনও ভুলবে না। সেই ঝাঁঝিজনিত বিপদে ও মারাত্মকভাবে জড়িয়ে গেছিল। তাই ঝাঁঝি শব্দর উচ্চারণেই ও বিপদের গন্ধ পায় নাকে। সত্যি ঝাঁঝি নয়, মানবী ঝাঁঝিকে দেখলেও সেইরকম অনুভূতিই হয়। মৃত্যুর গন্ধ আসে নাকে।

    প্রথমবার যখন দেখা হয়, তখন সেই রাতে চিকরাসির বাড়ির পার্টিতে সামান্যক্ষণ-দেখা ঝাঁঝিকে ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। তারপরেও বার তিনেক দেখা হয়েছে। যতই দেখেছে ততই সেই মল্লিকপুরের বিলের ঝাঁঝিরই মতো ঝাঁঝিতে জড়াচ্ছে গামহার, বুঝতে পারে।

    একে অন্যকে সঠিকভাবে বোঝাবুঝির জন্যে প্রকৃতিই সবচেয়ে ভাল জায়গা বোধহয়। মনে হয়। গামহার ঘোষ প্রকৃতি নিয়ে এ-পর্যন্ত তেমন কিছু আঁকেইনি। চিকরাসিই বলতে গেলে জোর করেই ওকে নিয়ে চলেছে এবারে। বলেছে, বসন্তর বনই না দেখে তুমি এতো বছর ছবি আঁকলে কী করে গামহারদা তা তো আমি বুঝেই উঠতে পারি না। ন্যাংটো মেয়ে এঁকে এঁকে কি আর্টিস্ট হওয়া যায় সত্যিকারের! তোমাদের ঐসব আর্ট কলেজের শিক্ষা পদ্ধতিটাই ভুল। আর্টিস্টের মতো আর্টিস্ট তৈরি করতে হলে তাদের প্রথমেই সব সেরা আর্টিস্টের স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া উচিত।

    সেটা কোথায়? কার স্টুডিও?

    অন্যমনস্ক গামহার জিজ্ঞেস করেছিল।

    জারুল বলল, সত্যি তুমি গামাদা! সেটা প্রকৃতি। ঈশ্বরবাবুর স্টুডিও। সেখানেই তো নিয়ে যাচ্ছি তোমায় আমরা। একবার গেলে, বারবার যেতে হবে, হিমালয়েরই মত টানবে বন-জঙ্গল তোমাকে। যে-কোনো পর্বতারোহী আর ট্রেকারদের জিজ্ঞেস করে দেখো তুমি, তারা তোমাকে বলবে সেই টান-এর কথা। যারা জানে, তারাই জানে।

    গামহার বলল, ডাকো ছেলেটাকে। পয়সাটা দিই। তারপর যাওয়া যাক।

    তুমি পয়সা দেবে কি? তুমি আমাদের গেস্ট। তোমার সঙ্গে যে পার্স আছে সেকথাটাই ভুলে যাও। তুমি বরং পরে আমাদের একবার বেড়াতে নিয়ে যেও, তখন আমরা আমাদের পার্স বাড়িতে রেখে আসব। এ যাত্রা তোমার পার্স-এ তুমি হাতই ছোঁয়াতে পারবে না।

    যা বলো তোমরা। পড়েছি যবনের হাতে খানা খেতে হবে সাথে।

    সুন্দরী মাত্রই বিপজ্জনক। কে যে কার চোখে সুন্দরী, কার জন্যে কে বিপজ্জনক তা ঈশ্বরই জানেন। একে ঝাঁঝি-জনিত বিপদের কথা ভেবেই আতঙ্কিত গামহার ঘোষ তার উপর আবার Mummy of All Mummies-প্রকৃতি। এক অজানা, নিরাবয়ব, অপ্রত্যক্ষ ঝাঁঝি টু দ্যা পাওয়ার এন-এর ভয়ে গামহার-এর মন জঙ্গলে পৌঁছবার অনেক আগে থেকেই ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article৪. এখন শেষবিকেল
    Next Article ৩-৪. ন্যাশনাল হাইওয়ে

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }