Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৩৪ – বিদেশী গুপ্তচর – ২

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প154 Mins Read0
    ⤷

    বিদেশী গুপ্তচর – ২.১

    এক

    মার্সোরিয়ার ক্লক টাওয়ারে ব্রোঞ্জের দুটো দৈত্যের মূর্তি ঢং ঢং পিটিয়ে চলেছে প্রকাণ্ড ঘণ্টা। রাত বারোটা।

    সান জাকারিয়া ভেপোরেটি স্টেশনে ল্যাণ্ডিং স্টেজে গনডোলাটা বেঁধে রেখে দ্রুতপায়ে হাঁটছে ওরা ওস্তাদের কোয়ার্টারের দিকে। বার বার পিছু ফিরে, অন্ধকার গলিতে মোড় ঘুরেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিন্ত হয়েছে ওরা, কেউ অনুসরণ করছে না ওদের।

    পথ চলতে চলতে দাড়ি গোঁফ খসিয়ে ফেলল রানা, এখন আর দরকার নেই ওসবের। চিনে ফেলেছে ওরা ওকে। এবার যা হবে সামনা-সামনিই হোক, পুলিসের হাতে ধরা পড়ে ছদ্মবেশের কৈফিয়ৎ দিতে চায় না ও আর। কেন যেন রানার মনে হচ্ছে, ওরা এবার পুলিসের সাহায্য নেবে। মহা বিপদে ফেলে দিতে পারে ওরা যদি পুলিসের সাথে লাইন থাকে।

    দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ। টোকা দিতেই ভারি কর্কশ কণ্ঠে প্রশ্ন এল, ‘কে? কি চাই?’

    ‘আমরা, ওস্তাদ,’ বাতিস্তা বলল। ‘দরজা খুলুন।

    ‘উঁহুঁ। এই জানালার পাশে এসে দাঁড়াও। চেহারা না দেখে খুলছি না।’

    প্রমাদ গুণল রানা। আসল চেহারায় চিনবে না ওকে ওস্তাদ। তবু গিয়ে দাঁড়াল জানালার পাশে।

    ‘একটাকে চিনলাম, কিন্তু এটাকে আবার কোত্থেকে জোটালে? দেখলে মনে হয় খুনী! আমার আসল সাগরেদ কোথায়?’

    ‘আসল সাগরেদ আবার কে?’ অবাক হলো বাতিস্তা।

    ‘আরে ক্যাপ্টেন। সেই দারুণ ছেলেটা। কি নাম যেন…’

    ‘ইনিই সিনর মাসুদ রানা, ওস্তাদ। দরজা খুলুন। ছদ্মবেশ খুলে ফেলেছেন।’

    বিস্ফারিত চোখে রানাকে দেখল পাগলা ওস্তাদ।

    ‘আরে! এ দেখছি মুহূর্তে মুহূর্তে ভোল পাল্টাচ্ছে। তাজ্জব কারবার! কোন্ ইয়ারে পাস করেছ?’

    দরজা খুলে দিতেই ঘরে ঢুকে পড়ল ওরা, ছিটকিনি তুলে দেয়া হলো আবার।

    ‘কেমন আছে অনিল?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘যেমন ছিল তেমনি। তবে শিগগিরই ভাল হয়ে উঠবে। আউন্স দুয়েক ব্র্যাণ্ডি খাইয়ে দিয়েছি। আমার মনে হয় যত্নের অভাবে এই হাল হয়েছে ছেলেটার, খানিক আদর-যত্ন পেলেই ঠিক হয়ে যাবে। ডাক্তার দেখানো দরকার।’ হঠাৎ খেয়াল করল ওস্তাদ ওদের ভেজা জামা কাপড়। ‘আরে! দু’জনেই দেখছি চুপচুপে হয়ে ভিজে এসেছ। ছেড়ে ফেলো, কাপড় ছেড়ে ফেলো। পাশের ঘরে উনুনে দিলে শুকিয়ে যাবে দশ মিনিটে।

    আলমারি থেকে দুটো বেড কাভার বের করে ছুঁড়ে দিল ওস্তাদ ওদের দিকে। খপ করে একটা শূন্যে ধরে খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়াল রানা। মড়ার মত পড়ে আছে অনিল। গলা পর্যন্ত কম্বল দিয়ে ঢাকা। পাল্স্ পরীক্ষা করল রানা। আগের চেয়ে কিছুটা ভাল, কিন্তু খুবই দুর্বল। ভরসা পেল না রানা। একে নিয়ে কি করে কলকাতায় ফিরবে সে?

    কাপড় ছাড়তে শুরু করল রানা। পাশের ঘর থেকে তিনজনের জন্যে তিন কাপ গরম কফি নিয়ে এল ওস্তাদ। বাষ্প উঠছে। ওদিকে একবার চেয়েই জিভে পানি এসে গেল রানার। আর ওস্তাদের জিভে পানি এসে গেল রানার পেটা শরীরের দিকে একবার নজর বুলিয়ে।

    ‘বাহ, বড় সুন্দর ফিগার তো হে তোমার! কোন্ ইয়ারে পাস করেছ?’ ট্রেটা নামিয়ে রেখে এগিয়ে এল ওস্তাদ, রানার বাইসেপ, চেস্ট, থাই আর কাফ মাল্‌ টিপে দেখল, কয়েক পা দূরে সরে গিয়ে প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখল আপাদমস্তক, তারপর বলল, ‘এত ব্যাল্যান্সড্ ফিগার সহজে চোখে পড়ে না। তিন বছর আগে এসেছিল একটা ছাত্র, মাত্র গড়ে তুলতে শুরু করেছিলাম, এমন সময় বদলি হয়ে চলে গেল ওর বাপ মিলানোতে। এমন রাগ লেগেছিল আমার। এত করে বললাম… যাকগে, কেউ কোথাও চোট পেয়েছ? মালিশ বা ম্যাসেজ লাগবে?’

    ‘আমার লাগবে ওস্তাদ,’ বলল বাতিস্তা। ‘পিঠে।’

    ‘কফিটা খেয়ে নাও, দিচ্ছি ঠিক করে।’

    তাকের উপর থেকে একটা মলমের কৌটা পেড়ে এনে রাখল ওস্তাদ টেবিলে। রানার দিকে ফিরল।

    ‘এবার কি করবে, ক্যাপ্টেন? একে নিয়ে কি করা যায়?’ অনিলের দিকে ইঙ্গিত করল ওস্তাদ।

    ‘একে নিয়ে কলকাতায় ফিরে যেতে চাই। আগামীকাল সন্ধের আগে অ্যালিটালিয়ার কোন ফ্লাইট নেই, ভাবছি সম্ভব হলে একটা প্লেন চার্টার করব।’ কফির কাপে চুমুক দিল রানা।

    ‘যাই করো, একে নিয়ে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছতে হবে তোমাকে। সেটা সহজ হবে না। যতদূর বোঝা গেল, যেমন ভাবে পারে বাধা দেবে শয়তানগুলো। ওদের লোকজনও দেখলাম প্রচুর। আমার সব সাগরেদকে ডেকে পাঠাব কিনা ভাবছি। তিন হাজার সাগরেদ এসে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে আমি একটা ডাক দিলে ‘

    ‘তার দরকার নেই, ওস্তাদ।’ হাসল রানা। ‘আপনার পুরানো সাগরেদদের মধ্যে খুব বড়লোক কেউ আছে?’

    ‘অনেক আছে। কেন?’

    ভেজা কাপড়গুলো শুকোতে দিয়ে ফিরে এসে বসল বাতিস্তা রানার পাশে। একটা কফির কাপ তুলে নিল।

    ‘তাদের মধ্যে কারও মোটরবোট আছে?’

    ছাতের দিকে চেয়ে এক সেকেণ্ড চিন্তা করল পাগলা ওস্তাদ। তারপর বলল, ‘আছে। কেন?’

    ‘আপনি চাইলে দু’দিনের জন্যে পাওয়া যাবে বোটটা?’

    ‘আমি চাইলে ধন্য হয়ে যাবে ম্যারিয়ানো। তোমার লাগবে? বোটে করে লিডো যেতে চাইছ? চিন্তা নেই, যখন বলবে তখনই জোগাড় করে দিতে পারব মোটরবোট। কখন লাগবে তোমার?’

    ‘আগে এর অবস্থাটা ভাল করে বুঝে নেয়া দরকার,’ বলল রানা অনিলকে দেখিয়ে। ‘বিশ্বাস করা যায় এমন কোন ডাক্তার আছে আপনার চেনাজানা?’

    মাথা ঝাঁকাল ওস্তাদ। ‘আছে। ডক্টর ভিসকন্টিকে ডেকে আনা যায়। ইউনিভার্সিটির ডাক্তার। একটু বেশি বুড়ো, কিন্তু লোক ভাল। কাছেই থাকে, বেশি দূরে না, ডেকে আনা দরকার?’

    ‘ডাকলে ভাল হয়।’

    ‘ঠিক আছে, বাতিস্তার পিঠটা ঠিক করে দিয়েই ডেকে আনছি।’ মৃদু চাপড় দিল বাতিস্তার পিঠে। ‘শুয়ে পড়ো হে, ছোকরা। কি শরীর বানিয়েছ যে ব্যথা লাগে? শুয়ে পড়ো।’

    মেঝের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল বাতিস্তা। কৌটো থেকে মলম বের করে বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল ওস্তাদ ওর পিঠের উপর। হুম-হাম শব্দ হলো কিছুক্ষণ, তারপর হাফপ্যান্টের পিছনে দুই হাত মুছে নিয়ে উঠে দাঁড়াল ওস্তাদ। উঠে বসে হাত-পা ঝাড়া দিল বাতিস্তা, পিঠ বাঁকিয়ে পরীক্ষা করল ব্যথাটা আছে কিনা, তারপর হাসল।

    ‘ওস্তাদের হাতে জাদু আছে। গুণ না থাকলে কি আর এতগুলো ছেলে ওস্তাদ বলতেই একেবারে অজ্ঞান হয়ে যায়? ব্যথাটা একেবারে গায়েব।’

    ‘হয়েছে, হয়েছে। আর তেল মারতে হবে না। দরজা লাগিয়ে চুপচাপ বসে থাকো। সাবধানে থাকবে। আর, কেউ দরজায় টোকা দিলেই হুট করে খুলবে না। বুঝেছ?’

    বেরিয়ে গেল পাগলা ওস্তাদ। দরজা লাগিয়ে দিয়ে আবার একবার অনিলের পাস্ দেখল রানা। দুশ্চিন্তা ফুটে উঠল ওর চোখেমুখে। ওয়াটারপ্রুফ সিগারেট কেস থেকে সিগারেট বের করে ধরাল, বসল খাটের কিনারে। বাতিস্তা বসল একটা চেয়ারে।

    ‘সিনর চ্যাটার্জীর ওপর নির্যাতন করা হচ্ছিল ওই বাড়িতে,’ যেন কথার কথা বলছে এমনিভাবে বলল বাতিস্তা। ‘তার মানে, যা জানতে চায়, জুলির ওপর নির্যাতন করে সেটা জানতে পারেনি ওরা। কিন্তু কি জানতে চায়? কি এমন তথ্য আছে এর কাছে যেটা ওদের না পেলেই নয়? এতখানি মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন ওরা?’

    ‘এর উত্তর আমার জানা নেই, বাতিস্তা। তবে মনে হচ্ছে শিগগিরই জানতে পারব।’

    কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই চোখ মেলল অনিল। সোজা চেয়ে আছে রানার মুখের দিকে। স্থির দৃষ্টি। কেমন যেন শিরশির করে উঠল রানার শিরদাঁড়ায়। ভাবলেশহীন, প্রাণহীন, চকচকে, স্থির দৃষ্টি। মনে হচ্ছে মরা মানুষের চোখ। ঠোঁট দুটো একটু কাঁপল অনিলের, মাথাটা একপাশে ফিরল কিছুটা।

    ‘অনিল! আমি রানা। মাসুদ রানা। শুনতে পাচ্ছ? আমি মাসুদ রানা।’

    খুব ধীরে ধীরে রানার দিকে ফিরল অনিল। প্রাণহীন দৃষ্টিটা পার হয়ে গেল রানার মুখ, দেখতে পেল না রানাকে।

    ‘অনিল! তুমি এখন নিরাপদ। আর কোন ভয় নেই। গলার স্বর আর একটু চড়িয়ে দিল রানা। ‘কোন ভয় নেই। আমি রানা। চিনতে পারছ?’

    অনিলের সারা শরীর শিউরে উঠল একবার। হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠল ওর চোখ দুটো। রানার মুখের উপর নিবদ্ধ হলো ওর দৃষ্টি।

    ‘কোন চিন্তা নেই, অনিল। কোন ভয় নেই। কথা বোলো না এখন, নিশ্চিন্তে ঘুমাও। ডাক্তার আসছে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    ব্র্যাণ্ডি মিশানো দুধের বাটিটা নিয়ে এল বাতিস্তা। মাথাটা একটু উঁচু করে ধরল রানা, কয়েক চামচ দুধ খাওয়াল ওকে বাতিস্তা। চোখ বন্ধ করতেই বোঝা গেল আর খাবে না। মাথাটা বালিশের উপর নামিয়ে দিল রানা।

    রক্তশূন্য মুখটা কুঁচকে কুঁচকে উঠছে থেকে থেকে।

    উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে রানা ও বাতিস্তা ওর মুখের দিকে। মিনিট পাঁচেক পর আবার চোখ মেলল অনিল, রানাকে খুঁজে পেয়ে স্থির হলো ওর দৃষ্টিটা রানার মুখে। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছে না যেন অনিল। ওর বুকের ওপর হাত রাখল রানা আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে।

    ‘আমার সামনে জুলিকে ওরা…জুলিকে…’ গলাটা ভেঙে গেল অনিলের। যেন নালিশ জানাচ্ছে রানার কাছে। চোখ ফেটে পানি বেরিয়ে এল। টপ টপ ঝরছে বালিশের উপর।

    ‘এখন কথা বোলো না, অনিল। যা হবার হয়ে গেছে, ওসব নিয়ে ভেবো না এখন। চুপচাপ বিশ্রাম নাও।’

    আবার ঠোঁট নড়ল অনিলের। কি বলছে বোঝা গেল না। ওর মুখের কাছে কান নিয়ে গেল রানা। শুনতে পেল, ফিস ফিস করে অনিল বলছে, ‘মরে যাচ্ছি, কিন্তু…তার আগে…আগে…’

    ‘মরার কথা ভুলে যাও অনিল। ওই বাড়ি থেকে বের করে এনেছি তোমাকে আমরা। আর কোন ভয় নেই। মরবে না তুমি। তোমার মায়ের লেখা একটা চিঠি আছে আমার কাছে, একটু ভাল হয়ে উঠলেই দেব তোমাকে। এ যাত্রায় আর মরণ নেই তোমার। আমি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তোমাকে কলকাতায়।’

    ‘পারবে না।’ দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরল অনিল। ‘ওরা…ওরা ভয়ানক – শোনো, রানা…’ ক্রমে দুর্বলতর হচ্ছে অনিলের কণ্ঠস্বর। সামনে ঝুঁকে প্রায় ওর ঠোঁটের কাছে কান ঠেকাল রানা। কি বলল বোঝা গেল না, শুধু দুটো শব্দ শুনতে পেল সে, ‘ডি ফ্যাবোরি…মন্দির…’

    ‘কি বললে? অনিল, কি বললে?’

    আরও কি যেন বলবার চেষ্টা করল অনিল, কিন্তু ঠোঁট দুটো নড়ল কেবল, কোন রকম শব্দ বেরোল না গলা দিয়ে। এইটুকু পরিশ্রমেই বুজে এল চোখ, ক্লান্তি ও দুর্বলতায় জ্ঞান হারাল আবার।

    সোজা হয়ে বসল রানা।

    ‘কি যেন বলবার চেষ্টা করছিল অনিল,’ প্রায় আপন মনে বলল রানা। ‘কি বলতে চাইছিল ও? দুটো মাত্র কথা। ডি ফ্যাবোরি, আর মন্দির। কি বোঝায় এতে? ডি ফ্যাবোরি বলে একটা জায়গা আছে জানি…’

    ‘ভার্জিন মাদারের একটা মন্দিরও আছে ওখানে,’ বলল বাতিস্তা।

    ‘ঠিক বলেছ!’ উৎসাহিত হয়ে উঠল রানা। ‘কিন্তু…তাতে কি বোঝায়? কি বলতে চাইছিল ও?’

    ঠক ঠক ঠক! টোকা পড়ল দরজায়।

    ‘কে?’ উঠে গিয়ে জিজ্ঞেস করল বাতিস্তা। ‘জানালার কাছে এসে দাঁড়ান।’

    ভাল মত পরীক্ষা করে দেখে নিয়ে দরজা খুলে দিল বাতিস্তা। ওস্তাদের পিছন পিছন ঘরে ঢুকল শুকনো, খিটখিটে চেহারার প্রবীণ এক লোক। তোবড়ানো গালে বয়সের ভাঁজ।

    ‘ইনি ডক্টর ভিসকন্টি,’ বলল ওস্তাদ।

    উঠে দাঁড়াল রানা। ‘আমি মাসুদ রানা।’ হাত বাড়িয়ে হ্যাণ্ডশেক করল। ‘আমার এক বন্ধু গুরুতর অসুস্থ। একটা দলের সাথে গোলমাল বেধেছিল ওর। বিস্তারিত সবকিছু জানি না আমি, গোলমালটা রাজনৈতিকও হতে পারে। ওকে গুলি করে জখম করা হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। ব্যাপারটা গোপনীয়। কাজেই আপনার এই ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে হবে।’

    তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রানার দিকে চাইল ভিসকন্টি। ঘন ভুরু জোড়া কুঁচকানো।

    ‘আমার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়, সিনর। আপনার বন্ধু যদি জখম হয়ে থাকে, আমার কর্তব্য হচ্ছে পুলিসে জানানো। পুলিসে খবর দিতেই হবে আমাকে।’

    ‘কিন্তু আমার বন্ধু ভারতীয়। ইটালিয়ান পুলিসের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ইণ্ডিয়ান হাই কমিশনে জানানো হবে ব্যাপারটা।’

    কাঁধ ঝাঁকাল ডক্টর ভিসকন্টি।

    ‘তবু পুলিসে জানানোই আমাদের নিয়ম। তবে আপনার বন্ধু যদি ভারতীয় হন, সেক্ষেত্রে আমি চেপে যেতে পারি বিদেশী বলে। যাই হোক, রুগীকে দেখা যাক আগে।’

    এক মিনিট পরীক্ষা করেই উঠে দাঁড়াল ডাক্তার। গম্ভীর মুখে কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে দিল অনিলকে কম্বল দিয়ে।

    ‘এর অবস্থা খুবই খারাপ। এক্ষুণি হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। অ্যাকিউট নিউমোনিয়া হয়ে গেছে, তাছাড়া এক্সপোজার ও শক লেগেছে ভয়ানক। গোপনীয়তার কোন উপায় নেই।’

    ‘এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় না?’ বলল রানা। ‘খরচের জন্যে ভাববেন না। হাসপাতালে না নিয়ে যদি ওকে সুস্থ…’

    মাথা নাড়ল ডাক্তার।

    ‘মারা যাবে তাহলে। এক্ষুণি হাসপাতালে নেয়া দরকার। ওখানে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি আছে। আধ ঘণ্টার মধ্যে অক্সিজেন টেন্টে না রাখলে বাঁচানো যাবে না একে।’

    বাতিস্তার দিকে ফিরল রানা।

    ‘ঠিক আছে। তুমিও যাবে অনিলের সাথে হাসপাতালে। এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করবে না ওকে। আমি ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আসছি হাসপাতালে। কয়েকটা কাজ সেরেই আমি চলে আসব, তখন তোমার ছুটি।’

    ‘অলরাইট, সিনর।’

    একটু উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে চাইল ডাক্তার রানার দিকে। ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ভদ্রলোক এখনও বিপদমুক্ত নন। ব্যাপারটা পুলিসে জানালেই কি ভাল হত না?’

    ‘তার আগে আমি ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। একে হাসপাতালে নেয়ার কি ব্যবস্থা?’

    ‘আপনারা যদি ওকে বয়ে নিয়ে গনডোলায় তুলতে পারতেন তাহলে সবচেয়ে ভাল হত। আমি স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করতে পারি, কিন্তু এখন সময়ের অনেক দাম। যত তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেয়া যায়…’

    ‘আমি কোলে করে নিয়ে যাব ওকে। গনডোলাও রেডি, কোন অসুবিধে হবে না।’

    ‘বেশ। তাহলে রওয়ানা হওয়া যাক। আমি একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ি, এর জন্যে কেবিনের ব্যবস্থা করে ফেলি গিয়ে। আপনারা আসুন।’ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম করল ডাক্তার।

    ডাক্তারের বাহুতে একটা হাত রাখল রানা। ‘বুলেটটা ভিতরে রয়ে গেছে, না বের করে ফেলা হয়েছে?’

    ‘সেটা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে বলা যাবে।’

    ‘জখমে কি গ্যাংগ্রিনের আভাস পেলেন?’

    ‘সেই জন্যেই তো এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।’

    ‘বাঁচবে বলে মনে হয়?’

    ‘চেষ্টার তো ত্রুটি করব না। কিন্তু এখন অনেকখানি নির্ভর করে রুগীর স্ট্যামিনার ওপর। বাঁচবেই, একথা জোর দিয়ে বলা যায় না, তবে চান্স আছে।’

    ‘আপনার সাথে আমাদের কারও যাওয়ার প্রয়োজন আছে?’

    ‘না। তার দরকার নেই। আমি সব ব্যবস্থা করে রাখি গিয়ে, আপনারা আসুন।

    দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল ডাক্তার ভিসকন্টি। দরজা বন্ধ করে ফিরে এসে ওস্তাদের কাঁধে হাত রাখল রানা।

    অনিলকে কোলে তুলে নেয়ার ব্যবস্থা করছিল ওস্তাদ, চমকে চাইল রানার দিকে।

    ইশারায় পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে গেল রানা ওস্তাদ এবং বাতিস্তাকে। ফিস ফিস করে বলল, ‘ভুলটা আমারই হয়েছে। ডাক্তার ডাকা উচিত হয়নি।’

    ‘কেন?’ চোখ কপালে উঠল ওস্তাদের।

    ‘আপনি নিজে কয়েকটা ব্যাপার পরীক্ষা করে দেখে আসুন পাশের ঘর থেকে, তারপর ব্যাখ্যা দেব।

    এদিকের ঘরে এসে অনিলের পালস্ পরীক্ষা করল ওস্তাদ, কাঁধের জখমটা শুঁকে দেখল ব্যাণ্ডেজের কাছে নাক ঠেকিয়ে, বুকে কান ঠেকিয়ে শুনল শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ, ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল তার মুখের চেহারা। ফিরে এসে কটমট করে চাইল রানার দিকে।

    ‘ব্যাটা থাকতে থাকতেই কথাটা বলনি কেন? এক কিলে হারামজাদার মাথাটা ভেঙে দিতাম আমি।’

    দ্রুতহাতে কাপড় পরছে রানা ও বাতিস্তা।

    ‘শেষ মুহূর্তে সন্দেহটা হলো আমার,’ বলল রানা। ‘আমরা পুলিসে জানাব না শুনে স্বস্তির ভাব ফুটে উঠল ওর মুখে। তাই দেখেই শেষের কয়েকটা প্রশ্ন করলাম। নিজেই তো দেখলেন, গ্যাংগ্রিন-নিউমোনিয়া, সব বাজে কথা। সিলভিওর আদেশে আগাগোড়া মিথ্যে কথা বলছে ডাক্তার।

    পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রইল ওস্তাদ। কঠোর হয়ে উঠেছে মুখের চেহারা। কথা বলেই চলল রানা।

    ‘আমার যতদূর বিশ্বাস হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারব না আমরা। তার আগেই আসবে আক্রমণ। খুব সম্ভব গনডোলার ওপর আক্রমণ করবে ওরা। তবু যেতে হবে আপনাদের।’

    ‘আর অনিল?’

    ‘বাঁচতে হলে আগে মরতে হবে ওকে। আশে পাশে কোথাও ওকে দু’চারদিন রাখার মত কোন জায়গা আছে?’

    ‘আছে।’

    ‘তাহলে শুনুন মন দিয়ে। তুমিও শোনো, বাতিস্তা…’ সংক্ষেপে প্ল্যানটা বুঝিয়ে দিল রানা ওদের। একটানা তিন মিনিট কথা বলে থামল।

    ‘আর ওর চিকিৎসার কি হবে?’ প্রশ্ন করল ওস্তাদ। ‘আগামীকাল দুপুরের মধ্যে লাইন ক্লিয়ার করে দেব আমি। চিকিৎসার কোন অসুবিধে থাকবে না আর। অবশ্য আমার ধারণা, দু’দিন বিশ্রাম পেলে অনেক ভাল হয়ে যাবে ও এমনিতেই। ডক্টর ভিসকন্টির ওপর রাগ করে লাভ নেই, ওস্তাদ, ওদের সাহায্য না করে উপায় নেই ওর, প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়ে যেত তাহলে। সব ডাক্তারের একই অবস্থা। কিন্তু কাল দুপুরের পর রিপোর্ট করার লোক পাবে না ওরা ভেনিসে।

    ‘বেশ। তোমার সাথে কোথায় দেখা হচ্ছে আমাদের?’ জিজ্ঞেস করল ওস্তাদ।

    ‘আমার সাথে দেখা করবেন ডেলা টলেটা প্যালাযোতে। লাইবেরিয়া ভেচিয়ার কাছে। একশো বাহাত্তর নম্বর। ওখানেই পরবর্তী প্রোগ্রাম ঠিক করা যাবে।’

    ‘আর আক্রমণ না এলে?’ হাসল বাতিস্তা। ‘তাহলে কি বোঁচকা নিয়ে খামোকা হাসপাতালে গিয়ে হাজির হব?’

    ‘আক্রমণ আসবেই। কিন্তু সাবধান! দেখো, ধরা পড়ো না আবার। তাহলে সব কিছু গোলমাল হয়ে যাবে।’

    আর কথা না বাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে নিচু গলায় আলাপ করে বেরিয়ে পড়ল ওস্তাদ অনিল আর বাতিস্তাকে নিয়ে বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে। আগাগোড়া প্ল্যানটা মনের মধ্যে নেড়েচেড়ে দেখে সন্তুষ্ট হয়ে লাইট নিভিয়ে বেরিয়ে গেল রানা সামনের দরজা দিয়ে। চারপাশে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুলিয়ে দ্রুত পায়ে এগোল ডি ফ্যাবোরির দিকে।

    এত রাতেও ডি ফ্যাবোরি জনাকীর্ণ। মনটা দমে গেল রানার। একদল আমেরিকান ট্যুরিস্ট হাঁটছে ঢিমে তেতালা ছন্দে, হাউ বিউটিফুল, হাউ নাইস, হাউ ডিলাইটফুল বলতে বলতে। তাদের বেশ কিছুটা পিছনে হাঁটছে তিনজন বয়স্কা মহিলা একজন বয়স্ক গাইডের অনর্গল বক্তৃতা শুনতে শুনতে। তারও গজ দশেক পিছনে হাঁটছে একজোড়া নব দম্পতি- খুব সম্ভব হানিমুনে এসেছে। এত লোকের মধ্যে ভাল করে পরীক্ষা করা যাবে না দেয়াল-মন্দিরটা।

    একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল রানা। লোকজন একটু হালকা হোক।

    মন্দিরের কথাটা বলল কেন অনিল? ও কি ওখানে কোন মেসেজ লুকিয়ে রেখেছে? কিংবা কোন জিনিস? মন্দিরের সাথে ওর এই নিখোঁজ হওয়ার কি সম্পর্ক? মন্দিরের কথাটা সজ্ঞানে বলেছিল অনিল, নাকি প্রলাপ বকছিল তখন? কি আছে ওখানে?

    পিছন ফিরে চাইল রানা। নতুন কোন ট্যুরিস্ট নেই। সান মার্কোর পিছন দিকটা দেখা যাচ্ছে। মন্দিরটা রিয়াল্টো ব্রিজের কাছাকাছি, জানে রানা। সামনের লোকজন বেশ কিছুটা এগিয়ে যেতেই ধীর পায়ে চলতে শুরু করল। বেশ কিছুদূর এগিয়ে আবার থামল একটা অন্ধকার ছায়ায়। এখান থেকে দেখা যাচ্ছে মন্দিরটা। একটা ম্লান আলো জ্বলছে দেয়ালের গায়ে। আমেরিকানদের দলটা থেমে দাঁড়িয়ে মিনিট তিনেক হাউ নাইস, হাউ এনচ্যানটিং-এর পর আবার হাঁটতে থাকল সামনের দিকে। প্রবীণ দলটাও বেশি দেরি করল না। কিন্তু নব-দম্পতি প্রেমে পড়ে গেল মন্দিরটার। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে ওরা, নড়বার কোন লক্ষণই নেই।

    ‘কি অপূর্ব! তাই না?’

    ‘সত্যি!’ মেয়েটার কোমর জড়িয়ে ধরল ছেলেটা। ঠিক তোমার মত।’

    ছেলেটার চোখে চোখ রাখল মেয়েটা। বিভোর হয়ে গেল দু’জন দু’জনাতে।

    ‘দশ বছর পর একথা বলবে?’ আহ্লাদী ভঙ্গিতে ঘাড় কাৎ‍ করল মেয়েটা।

    ঝেড়ে গাল দিল রানা ওদের মনে মনে। কিন্তু তাতে এতটুকু বিচলিত হলো না ওদের মুগ্ধ বিস্ময়। আসলে দর্শনীয় বস্তু দেখতে আসেনি ওরা, আবিষ্কার করছে একে অপরকে নিবিড় ভাবে, টুকরো কথায়।

    ‘বলব, চেরি। কিন্তু তোমার কি ভাল লাগবে তখন এসব শুনতে? কাচ্চা-বাচ্চা, ক্যাও ম্যাও নিয়ে পাগল হয়ে থাকবে তুমি, আমাকে দেখলেই হয়তো খ্যাঁক করে উঠতে ইচ্ছে করবে তখন তোমার।’

    ‘যাহ্, কক্ষনো না। আমি ওরকম হব না কোনদিনই।’

    হাসল ওরা পরস্পরের দিকে চেয়ে, গাঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে চুমো খেল।

    ওদের ছেড়ে ওদের বাপ-মাকে ধরল রানা এবার। অসহিষ্ণু ভাবে একবার এ পা, একবার ও পায়ের উপর ভর দিয়ে অপেক্ষা করছে সে। বিড় বিড় করে অনর্গল খিস্তি বেরোচ্ছে ওর মুখ থেকে। খুব সম্ভব টনক নড়ল এতে ছোকরার স্বর্গীয় পিতার, কিংবা রানার কাশির শব্দ শুনতে পেল সে, শুভ বুদ্ধির উদয় হলো ওর মধ্যে। ততক্ষণে সশব্দে পা ফেলে এগোতে শুরু করেছে রানা। পিছন ফিরে রানার দিকে একবার চেয়ে মৃদু টান দিল মেয়েটার কোমরে।

    ‘চলো এগোই, চেরি। খিদেয় নাড়িভুঁড়ি জ্বলছে। সামনের কোন রেস্তোরাঁয় খেয়ে নেয়া যাক।’

    হাঁপ ছেড়ে বাঁচল রানা। চলে যাচ্ছে নব দম্পতি। দ্রুত পা ফেলে চলে এল সে মন্দিরটার কাছে।

    কিছুই মাথায় ঢুকল না রানার। দেয়ালের গায়ে ছোট একটা গর্ত। মোটা শিকের গরাদ দিয়ে ভিতরটা সুরক্ষিত। ভিতরে ভার্জিন মেরির ছোট্ট একটা মূর্তি। মূর্তির সামনে ফুলদানীতে প্লাস্টিকের আর্টিফিশিয়াল ফুল সাজানো। পাশেই জ্বলছে একটা প্রদীপ।

    ছোট্ট মন্দিরটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল রানা। কিন্তু অনিলের সাথে মন্দিরের কিভাবে কি সম্পর্কে থাকতে পারে মাথায় এল না ওর। হতাশ হলো যারপর নাই।

    ফিরে যাচ্ছিল রানা, দু’পা এগিয়ে থেমে দাঁড়াল ভুরু কুঁচকে। কিছু নিশ্চয়ই আছে। এমন ভাবে কথাটা বলেছিল অনিল যেন মৃত্যুর আগে শেষ মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই কিছু একটা নজর এড়িয়ে যাচ্ছে ওর। অনিলের মন্দিরের কথা উচ্চারণ অর্থহীন হতেই পারে না। আবার দেয়ালের ফোকরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল রানা। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চাইল সে প্রত্যেকটা জিনিসের দিকে। তারপর গরাদের ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে দিল ডান হাতটা। কনুই পর্যন্ত ঢুকে আটকে গেল হাত। বহুকষ্টে ঠেলেঠুলে আরও কিছুদূর ঢুকাল সে হাত, তারপর ফুলদানীটা কাত করল এদিকে।

    ফুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না রানা সেখানে। তবু কাছে টেনে আনল সে ফুলদানীটা। যদি কিছু লুকিয়ে রাখা হয়ে থাকে এখানে, তাহলে সেটা এই ফুলদানীর মধ্যেই থাকবে।

    ফুলগুলো বের করে পাথরের মেঝেতে নামিয়ে রাখল রানা। তারপর হাত ঢোকাল ফুলদানীর সরু গর্তের ভিতর। কি যেন ঠেকল হাতে। কিছু একটা জিনিস গুঁজে রাখা আছে নিচের দিকের সরু ফোকরে। দুই আঙুলে ধরে সাবধানে বের করে আনল রানা জিনিসটা। ছোট্ট একটা প্যাকেট। নীল প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া।

    ফুলগুলো আবার যথাস্থানে রাখতে গিয়েও নিজের অজান্তেই পিছন ফিরে চাইল রানা।

    দ্রুতপায়ে আসছে দু’জন লোক। একজনের পরনে সাদা স্যুট, সাদা হ্যাট। ওডি!

    সরু গরাদের ফাঁক দিয়ে হাতটা টেনে বের করতে গিয়ে ছড়ে গেল খানিকটা, কিন্তু ব্যস্ততার জন্যে টেরও পেল না রানা। সরে এল দেয়ালের ফোকরের কাছ থেকে।

    দৌড়াতে শুরু করেছে ওড্ডি। ওর সাথের লোকটাকেও চিনতে পারল রানা। হয় পপিনি, নয় ওর দলের বাকি দু’জনের একজন। গালে একটা গভীর ক্ষতচিহ্ন। ওডির পিছনে পিছনে দৌড়াতে শুরু করল সেও।

    ঝট করে ঘুরেই ছুটতে শুরু করল রানা। পঞ্চাশ গজ দৌড়ে প্রথম ডানদিকের গলিটায় মোড় নিল সে। বিশ গজ পরেই গ্র্যাণ্ড ক্যানাল। ক্যানালের তীর ঘেঁষে চলে গেছে চওড়া একটা রাস্তা। গলি মুখে এসে দৌড়ের গতি কমিয়ে দিল রানা। বড় রাস্তায় পড়েই দেখতে পেল কয়েক গজ দূরে ধীর পায়ে হাঁটছে বেশ বড়সড় একটা ট্যুরিস্টের দল। নিশ্চিন্তে ঢুকে পড়ল সেই দলে।

    আলগোছে বুক পকেটে রেখে দিল রানা প্যাকেটটা। তারপর এঁকে বেঁকে ঢুকে গেল দলের ঠিক মাঝখানটায়। এই মুহূর্তে ওকে আক্রমণ করা সম্ভব নয় ওড্ডির পক্ষে, জানে রানা, কিন্তু সহজে পিছন ছাড়বে বলেও মনে হয় না। নিশ্চয়ই ওরাও ঢুকে পড়েছে এই ট্যুরিস্টের ভিড়ে।

    ঘাড় ফিরিয়ে পিছন দিকে চাইল রানা।

    ঠিক পাঁচ ফুট পিছনে রয়েছে ওড্ডি। চোখে চোখে চাইল দু’জন। মধুর একটা হাসি ফুটে উঠল রানার ঠোঁটে। মাথা ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কি খবর? কেমন আছেন? ভালো তো?’

    ভুরু কুঁচকে কটমট করে চেয়ে রইল ওড্ডি রানার চোখের দিকে। ধ্বক ধ্বক করে জ্বলছে ওর চোখ প্রতিহিংসায়। কোন উত্তর দিল না।

    ভিড়ের নিরাপত্তায় গা ভাসিয়ে দিল রানা। ধীর পায়ে হেঁটে চলেছে প্যালাযো ডেলা টলেটার দিকে। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করল রানা। একবার বাসায় পৌঁছতে পারলে ওকে বাগে পাওয়া সহজ হবে না এদের পক্ষে। বেশ কিছুদূর হেঁটে আবার পিছু ফিরে চাইল সে।

    আছে। ধৈর্যের সাথে ওকে অনুসরণ করে চলেছে। দূরত্ব কমাবার চেষ্টা করছে না।

    সান মার্কো পিয়াযার দিকে চলেছে পুরো দলটা। বাসার কাছাকাছি এসেই দ্রুততর করল রানা চলার গতি। সেই সাথে বাঁয়ে কাটতে শুরু করল। ঠেলে ধাক্কিয়ে বামে কাটছে, আর অনবরত ক্ষমা চাইছে সে। হঠাৎ ভিড় থেকে বেরিয়ে পড়ল রানা, বেরিয়েই পেয়ে গেল ওর বাসায় ঢোকার সিঁড়ি। দ্রুতপায়ে উঠে গেল সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে। দরজাটা খুলেই এক পা রাখল হলরূমে।

    পিছন ফিরে চাইল রানা।

    থামল না ওড্ডি বা তার সাথী। ওর দিকে চাইল না একবারও। এগিয়ে যাচ্ছে ভিড়ের চাপে সামনের দিকে। এত সহজে হাল ছেড়ে দিতে দেখে একটু অবাক হলো রানা, কিন্তু বুঝতে পারল, এত লোকজনের মধ্যে করবার তেমন কিছু নেইও আসলে ওদের।

    দরজাটা বন্ধ করে দিল রানা। প্রকাণ্ড একটা হাঁপ ছেড়ে এগোল ওর শোবার ঘরের দিকে।

    দুই সেকেণ্ডের স্বস্তি। তিন পা এগিয়েই থমকে দাঁড়াল রানা। ওর ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে আলো দেখা যাচ্ছে। আলো কিসের?

    খুব দ্রুত হালকা পা ফেলে একটা টেবিলের ধারে চলে এল রানা। পকেট থেকে নীল প্যাকেটটা বেরিয়ে এসেছে ওর হাতে। টপ করে প্যাকেটটা ছেড়ে দিল সে একটা সূক্ষ্ম কারুকাজ করা তামার ফুলদানীর মধ্যে। দ্রুতপায়ে ফিরে এল ঘরের মাঝখানে।

    ঠিক এমনি সময়ে খুলে গেল ওর শোবার ঘরের দরজা। চৌকাঠের উপর দাঁড়িয়ে সিলভিও পিয়েত্রো।

    ‘স্বাগতম, সিনর মাসুদ রানা!’ অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন করল সিলভিও রানাকে। মুখে মিষ্টি হাসি। ‘এই অনধিকার প্রবেশের জন্যে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার সাথে জরুরী কথা আছে আমার।

    হাসিমুখে এগোল রানা। ‘না, না। এর জন্যে ক্ষমা চাওয়ার কিচ্ছু নেই। আপনাকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্যে আমারই বরং ক্ষমা চাওয়া উচিত। খুব বেশি দেরি করে ফেলিনি তো?’

    সোফার উপর বসে আছে লুইসা পিয়েত্রো। দরজার দুপাশে দাঁড়িয়ে গীয়ান আর লাল চুলো সেই লোকটা। দু’জনের হাতে দুটো নাক বোঁচা রিভলভার। রানার দিকে ধরা।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৬৩-৬৪ – গ্রাস
    Next Article মাসুদ রানা ০৩৩ – বিদেশী গুপ্তচর – ১

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }