Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤷

    সেই উ সেন – ১.১

    এক

    প্যারিস। হোটেল হিলটন।

    আগস্ট মাসের বাইশ তারিখ। পশ্চিম দিগন্তরেখার কাছাকাছি নেমে ইতস্তত করছে প্রকাণ্ড সূর্যটা। সাতটা বেজে চল্লিশ মিনিট।

    লম্বা কালো ঝকঝকে একটা সিটন ডি-এস নাইনটিন গ্যারেজ থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে এল। থামল রিসেপশন হলের দরজার সামনে। তরতর করে সিঁড়ির ধাপ ক’টা টপকে নেমে এল একজন পোর্টার। গাড়ির দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কেতা দুরস্ত ভঙ্গিতে একটু ঝুঁকল সে, হাতল ধরে খুলল দরজাটা। গাড়ি থেকে নামছে রানা এজেন্সীর প্যারিস শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী এক্স মিলিটারি-ম্যান আঁদ্রে পল।

    চেহারা আর ব্যক্তিত্বের অদ্ভুত একটা সমন্বয় ঘটেছে আঁদ্রে পলের মধ্যে। ছয় ফুটের কাছাকাছি লম্বা হলেও, ঠিক ততটা লম্বা বলে মনে হয় না তাকে। ব্যাকব্রাশ করা চুল সমতল মাথায় এমনভাবে সেঁটে আছে, জমাট আলকাতরার একটা স্তর বলে মনে হয়। অস্বাভাবিক চওড়া শরীর তার। ক্লিনশেভ, বিখ্যাত হিটলারী গোঁফ। কান দুটো প্রায় সেঁটে আছে খুলির সাথে। সাদা ট্রপিক্যাল স্যুট পরে আছে সে। গাড়ি থেকে নেমে পোর্টারের স্যালুটের উত্তরে স্মিত হাসল সে। ঘন ভুরু জোড়ার ভিতরে চোখের মণি দুটো সারাক্ষণ চঞ্চলভাবে কি যেন খুঁজে ফিরছে। পাঁচ সেকেন্ডে চারদিক দেখা হয়ে গেল তার।

    ‘পিরো,’ পোর্টারের নাম ধরে সম্বোধন করল আঁদ্রে পল, ‘গাড়ির কাছ থেকে নোড়ো না।’

    ‘ঠিক আছে, ক্যাপটেন!’ সসম্ভ্রমে বলল পোর্টার। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেবার আগের দিন পর্যন্ত ক্যাপটেন আঁদ্রে পলের অধীনে চাকরি করেছে সে। আর সব সহকর্মীর মত তারও বিশ্বাস, ফ্রেঞ্চ সেনাবাহিনীতে আঁদ্রে পলের মত দুঃসাহসী, মেধাবী আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ক্যাপটেন তখনও ছিল না, আজও নেই, ভবিষ্যতেও হবে না।

    সিঁড়ির ধাপ টপকে উঠে যাচ্ছে পল। তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল পোর্টার পিরোর। একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপটেন। উনিশশো তেষট্টিতে জেনারেল দ্য গলের প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুলি খেয়েছিল পল। স্রেফ তার একার অসমসাহসিকতার ফলে সিক্রেট আর্মি অরগানাইজেশনের নিখুঁত অ্যামবুশ ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্টের প্রাণ রক্ষার জন্যে পদক পেয়েছিল পল, কিন্তু শারীরিক ত্রুটিজনিত কারণে চাকরিটা হারাতে হয়েছে তাকে। সব কথা মনে পড়ে গেল পোর্টার পিরোর। দুঃখ হয়।

    ঠিক সেই সময় এলিভেটরে চড়ে ষোলো তলায় উঠছে আদ্রে পল। দুঃখ নেই, গর্বে প্রসন্ন হয়ে আসছে তার মন। এক মহানুভব বঙ্গ সন্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় অভিভূত হয়ে আছে সে। চাকরিচ্যুত হয়ে বোকা বনে গিয়েছিল সে। তার আজন্মের সাধ, রোমাঞ্চকর কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাবে, সেই সাথে দেশের সেবা করবে। সেজন্যেই সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছিল সে। ধাপে ধাপে উঠেও যাচ্ছিল ক্রমশ, এমন সময় অকস্মাৎ বজ্রপাতের মত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো তাকে।

    উদ্ভ্রান্ত আঁদ্রে পল পাগলের মত রাস্তায় ঘোরে, ঘরে ফিরে চুপিচুপি কাঁদে। এভাবেই কেটে গেল কয়েকটা বছর। তারপর নৈরাশ্যে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণায় এমনকি আত্মহত্যার কথাও একদিন সে ভাবল। এমন সময় অপ্রত্যাশিতভাবে এল একটি চিঠি। রানা এজেন্সীর হেডকোয়ার্টার ঢাকা থেকে। চিঠির শেষে এজেন্সীর চীফ স্বয়ং মাসুদ রানার নিজ হাতের স্বাক্ষর।

    বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল আঁদ্রে পল। রানা এজেন্সীর নাম আগেই শোনা ছিল তার, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটার কর্মদক্ষতা সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিল না। চিঠি পড়ে চোখ কপালে উঠল। পরিষ্কার বুঝল, তার জন্ম-তারিখ থেকে শুরু করে জীবনের উল্লেখযোগ্য সমস্ত ঘটনার কথা রানা এজেন্সীর ফাইলে সযত্নে টোকা আছে। শুধু তাই নয়, তার মনের আশা, স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সে নিজে যতটা না জানে, তার চেয়ে যেন বেশি জানে রানা এজেন্সী। চিঠির শেষ অংশটা পড়ে আনন্দে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল সে। নতুন করে শুধু দেশের নয়, গোটা পৃথিবীর সেবা করার, রোমাঞ্চকর জীবন বেছে নেবার প্রস্তাব ছিল সেই অংশে, ছিল রানা এজেন্সীতে যোগ দেবার সাদর আমন্ত্রণ। কালবিলম্ব না করে চিঠিটার উত্তর লিখেছিল আঁদ্রে পল। মশিয়ে মাসুদ রানাকে সকৃতজ্ঞ চিত্তে লিখেছিল, ‘আপনি আমাকে নবজন্ম দান করেছেন, আপনার ‘এই মহানুভবতা চিরকাল মনে রাখব আমি। নিজেকে রানা এজেন্সীর একজন কর্মী ভাবতে পেরে আমি গর্বিত। আপনি আমার অসংখ্য ধন্যবাদ গ্রহণ করুন।’

    এলিভেটর থেকে বেরিয়ে এল আঁদ্রে পল। নিঃশব্দ পায়ে খানিকটা এগিয়ে করিডরের তেমাথায় দাঁড়াল। দ্রুত চোখ বুলিয়ে দেখে নিল চারদিক। ফাঁকা করিডর। আবার এগোল সে। অদ্ভুত একটা সতর্কতার ভাব ফুটে আছে তার চোখেমুখে, হাঁটার ভঙ্গিতে। একশো বত্রিশ নম্বর স্যুইটের সামনে থামল সে। রিস্টওয়াচ দেখার সময় আড়চোখে করিডরের দুটো দিক দেখে নিল আরেকবার। তারপর মাথা তুলে দরজায় নক করল পর পর দু’বার, একটু থেমে আবার পরপর তিনবার।

    ‘কাম ইন,’ স্যুইটের ভিতর থেকে ভরাট কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

    সিটিংরুমের দক্ষিণ দেয়ালে লম্বা জানালা, মখমলের পর্দা সরানো রয়েছে। জুতো, প্যান্ট আর শার্ট পরে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাসুদ রানা। বাঁ হাতে সরু লম্বা একটা গ্লাস। পাইপ ধরা ডান হাতটা বুকের কাছে। জানালা দিয়ে দূরে, বহুদূরে চলে গেছে ওর দৃষ্টি। পাশেই একটা স্টেরিও থ্রী-ইন-ওয়ানে বোনি এম-এর গান বাজছে, ‘নো উওম্যান, নো ক্রাই।

    পায়ের শব্দে বহুদূর থেকে ফিরে এল রানা। ঘুরে দাঁড়াল। দেখল, মেঝেতে রাখা সুটকেস দুটোর পাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে পল। মৃদু হাসল ও। এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল একটা টেবিলের সামনে।

    ড্রয়ার থেকে পিস্তল ভরা হোলস্টারটা বের করে বাঁ কাঁধে ঝুলিয়ে নিল রানা। পিস্তলটা খুব দ্রুত কয়েকবার হোলস্টার থেকে বের করে লক্ষ্য স্থির করল বাতির সুইচে। সন্তুষ্ট হলো হাতটা পিস্তলের বাঁটে ঠিক জায়গা মতই পড়ছে দেখে। তারপর রোজকার অভ্যাস মত স্লাইডটা আটবার টেনে একে একে আটটা বুলেট বের করে পরীক্ষা করল সে ইজেক্টার স্প্রিংটা ঠিকমত কাজ করছে কিনা। ম্যাগাজিন রিলিজটা টিপতেই সড়াৎ করে বেরিয়ে এল খালি ম্যাগাজিন। আবার স্লাইড টেনে চেম্বারে একটা বুলেট ঢুকিয়ে আস্তে হ্যামারটা টেনে দিল রানা। ঠিক ফায়ারিং পজিশনে এনে রাখে ও সব সময় তার বিপদসঙ্কুল রোমাঞ্চকর জীবনের একমাত্র বিশ্বস্ত বন্ধু এই পয়েন্ট থ্রী-টু ক্যালিবারের ডাবল অ্যাকশন অটোমেটিক ওয়ালথার পি. পি. কে পিস্তলটা।

    ম্যাগাজিনে সাতটা বুলেট ভরে যথাস্থানে ঢুকিয়ে দিল রানা। ক্যাচের সাথে আটকে একটা ক্লিক শব্দ হতেই সন্তুষ্টচিত্তে আবার শোল্ডার হোলস্টারে ভরে রাখল সে তার খুদে সাথীকে। এবার চারকোল গ্রে রঙের কোট গায়ে চাপাতেই কমপ্লিট হয়ে গেল স্যুট, সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ল হোলস্টারটা। মুখ তুলে তাকাল সে পলের দিকে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রানার রুটিন-প্র্যাকটিস লক্ষ করছে সে। কোন কথা না বলে সুটকেস দুটো তুলে নিল দু’হাতে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথাভর্তি ঘন চুল ব্রাশ করে নিল রানা। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘লেটস গো।’

    করিডর থেকে এলিভেটর পর্যন্ত রানার পাশে থাকল পল। ভাবভঙ্গিতে কোন রকম চাঞ্চল্য নেই, কিন্তু চারদিকটা তীক্ষ্ণ চোখে দেখে নিচ্ছে সে। এলিভেটরের দরজা খুলে গেল। ভেতরটায় চোখ বুলিয়ে নিয়ে একটু সরে করিডরের দিকে মুখ করে দাঁড়াল সে। রানা চড়ল এলিভেটরে। এবার দু’পা পিছিয়ে পলও ঢুকল ভিতরে।

    গ্রাউন্ড ফ্লোরে থামল এলিভেটর। দরজা খুলে গেল। চট করে নেমে দ্রুত এদিক ওদিক দেখে নিল পল। তারপর একপাশে একটু সরে গিয়ে পথ করে দিল রানাকে। এদিক ওদিক না তাকিয়ে সোজা রিসেপশন কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রানা। পিছনে ছায়ার মত চলেছে পল

    কাউন্টারে স্যুইটের চাবি জমা দিল রানা, ট্রাভেলার্স চেক ভাঙিয়ে বিল মেটাল। রিসেপশনিস্ট মেয়েটা পরিচিত, তাই শুধু পেশাদারী ভদ্রতার খাতিরে নয়, আন্তরিকতার সাথে ব্যক্তিগত দু’একটা কুশল প্রশ্ন করল। এই ফাঁকে নিভে যাওয়া পাইপে অগ্নিসংযোগ করল রানা। ‘রোম থেকে?’ মেয়েটার প্রশ্নের উত্তরে বলল ঠিক নেই তারপর কোথায় যাব। চরকির মত ঘুরে বেড়ানোই তো আমার কাজ তিনদিন আগে এখান থেকে ফোন করে এয়ার ফ্রান্সের রোম ফ্লাইটের টিকেট বুক করেছে রানার জন্যে পল। আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল পলের, ভাবল রানা। ঘুরে দাঁড়াল ও। দরজার দিকে এগোল। নিজের ভুলটা ধরতে পেরে পল মন খারাপ করে ফেলেছে, মুখ দেখে বুঝতে পারল ও। মৃদু হেসে বলল, ‘যা হবার হয়েছে, ও নিয়ে ভেব না। তবে, আরও সাবধান হতে হবে আমাদের।’

    দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল পল। পোর্টার পিরোকে যেখানে রেখে গিয়েছিল, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে সে। নিঃশব্দে হাত নেড়ে তাকে সরে যেতে বলল, পল। চোখে শ্যেনের দৃষ্টি, চারপাশের সবকিছু দেখে নিচ্ছে। গাড়ির পাশে থামল সে। ব্যাক সীটের দরজা খুলে ধরল।

    পাইপ টানতে টানতে গাড়ির পাশে এসে দাঁড়াল রানা। হোটেলের মস্ত কংক্রিটের উঠানে ছায়া নেমে এসেছে। সাদা দেয়ালের শেষ মাথায়, প্রায় একশো ফিট উপরে, হলুদ রঙের পোঁচের মত দেখা যাচ্ছে বেলা শেষের রোদ। গাড়িতে উঠে বসল রানা। প্যারিসবাসীদের দিনটা আজ বড়ই কষ্টে কেটেছে, ভাবল ও। এত গরম অনেকদিন নাকি পড়েনি।

    ড্রাইভিং সীটে উঠে বসেছে পল। স্টার্ট দিয়ে ছেড়ে দিল ও লম্বা কালো ডি-এস নাইনটিন স্টিন। সাতটা বেজে পঞ্চাশ মিনিট এখন।

    এভিনিউ দ্য ম্যারিগ্নি-এ পড়ল গাড়ি। পথের দু’পাশে সারিসারি নারকেল গাছ। সমতল, পরিষ্কার প্রশস্ত রাস্তা। ফুটপাথ নেই, তাই পথচারী বিশেষ চোখে পড়ছে না। সামনে অসংখ্য গাড়ি। ভিউমিররে তাকাল পল। পিছনেও তাই। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে সামনে তাকাল আবার।

    নারকেল গাছের আড়াল থেকে কালো ডি-এস নাইনটিন সিট্রনকে দেখতে পেয়েই শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে গেল হোন্ডা ফাইভ হানড্রেড স্পোর্টস মডেল মোটর সাইকেলে বসা লোকটার। দ্রুত রিস্টওয়াচ দেখল সে। আপন মনে মাথা নাড়ল লোকটা, ঠিক সময়ই রওনা হয়েছে মাসুদ রানা। ঝট্ করে তাকাল আবার। মাত্র বিশ গজ সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে স্ট্রিন। দশ সেকেন্ড অপেক্ষা করল সে। তারপর স্টার্ট দিল মোটর সাইকেলে। সাদা ক্র্যাশ হেলমেটটা নেড়েচেড়ে ঠিকমত বসিয়ে নিল মাথায়। সরু পথটা দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে উঠে এল রাস্তায়। অনুসরণ করতে শুরু করল কালো সিট্রনকে।

    আজ শনিবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে শহর ছেড়ে প্যারিসবাসীরা পালাচ্ছে সৈকতের দিকে, অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা পরিবেশের লোভে। রাস্তায় যানবাহনের এত ভিড় সেজন্যেই। সন্দেহের উদ্রেক না করে স্ট্রিনকে অনুসরণ করতে কোন অসুবিধেই হচ্ছে না মোটর সাইক্লিস্টের।

    গাড়ির স্পীড বাড়াল পল। পন্ট আলেকজান্ডার থ্রী-র দিকে তীর বেগে ছুটছে এখন। ব্রিজ পেরিয়ে এভিনিউ জেনারেল গ্যালিনি, তারপর চওড়া বুলেভার্ড দ্য ইনভ্যালিডে পড়ল ট্রিন। এই পর্যন্ত অনুসরণ করেই মোটর সাইক্লিস্টের যা জানার দরকার ছিল জানা হয়ে গেল। বুলেভার্ড দ্য ইনভ্যালিড আর রু দ্য ভারেনেস-এর মুখে পৌঁছে মোটর সাইকেলের স্পীড কমিয়ে আনল সে। ফুটপাথ ঘেঁষে দাঁড় করাল দু’চাকার শক্তিশালী গাড়িটাকে। লাফ দিয়ে নেমেই হন হন করে হেঁটে এগিয়ে গেল একটা কাফের দিকে।

    কাফেতে ঢুকে সোজা পিছন দিকে চলে গেল লোকটা। টেলিফোন বুদটা এদিকেই। স্থানীয় একটা নাম্বারে ডায়াল করছে সে এখন।

    .

    মিউডন। শহর থেকে কয়েক মাইল দূরে জায়গাটা। একটা কাফেতে বসে মস্ত ভুঁড়িতে হাত বুলাচ্ছে প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি। লক্ষণটা ভাল নয়, কাফের বয়-বেয়ারা, ম্যানেজার, এমন কি কিছু খদ্দেরদেরও জানা আছে ব্যাপারটা। কুমতলব থাকলে, অথবা সাংঘাতিক কোন ব্যাপারে উদ্বিগ্ন বোধ করলে, বা কারও উপর প্রচণ্ড রাগ হলেই শুধুমাত্র ভুঁড়িতে হাত বুলায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি। নিয়মিত খদ্দেররা তাই কেটে পড়েছে, আর বয়-বেয়ারারা পারতপক্ষে এদিকে বড় একটা ঘেঁষছে না।

    মাঝে মধ্যে বিয়ারের গ্লাসটা তুলে চুমুক দিচ্ছে জাঁ থেরি। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে না, শুধু কান দুটো সজাগ হয়ে আছে তার। ফোনের বেল বেজে উঠতেই লাফ দিয়ে চেয়ার ছাড়ল সে।

    ক্র্যাডল থেকে রিসিভার তুলল বারম্যান। কানে ঠেকিয়ে এক মুহূর্ত শুনল, তারপর লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে ডাকার জন্যে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাতে গিয়েই অপ্রতিভ হলো সে। জাঁ থেরি এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে কাউন্টারের সামনে। প্রায় ছোঁ মেরে কেড়ে নিল সে রিসিভারটা। সেটা কানে না ঠেকিয়ে কটমট করে তাকিয়ে থাকল বারম্যানের দিকে। তাড়াতাড়ি বারের অপর প্রান্তে চলে গিয়ে টেলিভিশন সেটটা অ্যাডজাস্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল বারম্যান।

    মাত্র কয়েক সেকেন্ড অপরপ্রান্তের বক্তব্য শুনল লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি। বলল, ‘বেশ ভাল, ধন্যবাদ।’ রিসিভার নামিয়ে রাখল সে। বিয়ারের বিল আগেই পরিশোধ করেছে। সোজা হেঁটে বেরিয়ে এল কাফের বাইরে।

    পেভমেন্টে পৌঁছে থামল জাঁ থেরি। বগলের তলা থেকে ভাঁজ করা একটা খবরের কাগজ বের করল। এবং অত্যন্ত সাবধানে দু’বার ভাঁজ খুলল সেটার।

    রাস্তার অপর পারে ছোট্ট একটা একতলা বাড়ি। জানালার বাইরে মুখ বের করে লেফটেন্যান্ট কর্নেলের কাগজের ভাঁজ খোলাটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখল একটা মেয়ে। সড়াৎ করে মাথাটা ভিতরে ঢুকিয়ে নিয়ে জানালার পর্দা ফেলে দিল সে। ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকাল অপেক্ষারত বারোজন ডানপিটে চেহারার লোকের দিকে। ‘রুট নাম্বার টু ধরে এয়ারপোর্টে যাচ্ছে মাসুদ রানা,’ এক নিঃশ্বাসে বলল মেয়েটা।

    বারোজনের মধ্যে পাঁচজনের বয়স অল্প, আঠারো থেকে তেইশের মধ্যে। খুন- খারাবিতে এরা এখনও নতুন হলেও, সাহসের দিক থেকে একেকজন বয়স্কদের কয়েকগুণ। চেয়ারে বসে ছটফট করছিল এতক্ষণ, মেয়েটার কথা শেষ হতেই লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল একসাথে পাঁচজন।M

    বাকি সাতজন অপেক্ষাকৃত বয়স্ক। এরা কেউ ওদের মত নার্ভাস হয়ে পড়েনি। এই ষড়যন্ত্রকে সাফল্যমণ্ডিত করার দায়িত্বে সিনিয়রদের মধ্যে রয়েছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ খেরির পরই, সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড, লেফটেন্যান্ট (প্রাক্তন) ডে লা পেত্রো। লোকটা বেঁটে। গোটা মাথা জুড়ে টাক।

    কামরার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর লোক জর্জ আঁতিন। বয়স পঁয়ত্রিশ। কাঁধ দুটো মস্ত, চারকোনা চোয়াল। ইউনিয়ন কর্সের একটা স্তম্ভ বলে মনে করা হয় তাকে। ডান চোখের মণিটা অপেক্ষাকৃত ছোট বলে আদর করে তাকে ট্যারা বলে ডাকা হয়।

    কামরা থেকে হুড়মুড় করে বেরিয়ে খিড়কী দরজার দিকে ছুটছে বারোজনের দলটা। দরজার কাছ থেকে সামান্য দূরে ছয়টা গাড়ি অপেক্ষা করছে ওদের জন্যে। এর প্রত্যেকটি হয় চুরি, নয়তো বেনামে ভাড়া করা। ছুটে গিয়ে ওরা সবাই টপাটপ উঠে পড়ল গাড়িগুলোতে।

    সাতটা বেজে পঞ্চান্ন মিনিট।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি নিজেই তিনটে দিন কঠোর পরিশ্রম করে প্ল্যানটাকে সাজিয়েছে। তার প্রথম কাজ ছিল অ্যামবুশের জায়গা নির্বাচন। সেটা খুব সহজেই বেছে নেয়া গেল। তারপরই শুরু হলো কঠিন ঝামেলার কাজগুলো। কোন্ অ্যাঙ্গেলে গুলিবর্ষণ করতে হবে এ প্রশ্নের উত্তর নিহিত চলমান গাড়ির দূরত্ব আর গতির উপর। গাড়িটা কত দূরে থাকবে তাও মোটামুটি নিখুঁতভাবে আন্দাজ করা গেল। কিন্তু গতি কি হবে তা জানতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে ওদেরকে। রানাকে ছেড়ে ওর শিষ্য আঁদ্রে পল সম্পর্কে সম্ভাব্য তথ্য যোগাড় করতে হয়েছে জাঁ থেরিকেশ অবশ্য পরিশ্রমটা একেবারে বৃথা যায়নি। আঁদ্রের একটা বৈশিষ্ট্যের কথা জানতে পেরে লাভবানই হয়েছে সে। ফাঁকা রাস্তায় ঘণ্টায় ষাট মাইলের কমে গাড়ি চালায় না আঁদ্রে পল। গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ষাট মাইল ধরেই প্রয়োজনীয় হিসেব করা হয়েছে। তার পরের সমস্যা, গাড়িটাকে থামানো। এই কাজে ফায়ার পাওয়ারের ডিগ্রী কি হবে তাও হিসেব করে বের করে নিয়েছে জাঁ থেরি। কোন কাজে খুঁত রাখা তার স্বভাবে নেই, সেজন্যেই এত বড় দায়িত্বটা চাপানো হয়েছে তারই কাঁধে।

    অ্যামবুশের জায়গা হিসেবে এভিনিউ দ্য লা লিবারেশনকে বেছে নিয়েছে সে। দীর্ঘ সরল রেখার মত সোজা রাস্তাটা। এই রাস্তাটাই এগিয়ে গিয়ে মিলিত হয়েছে শহরতলি পেটি-ক্লামার্টের প্রধান ক্রস-রোডগুলোর সাথে।

    প্ল্যানটা সাজিয়েছে সে এই ভাবে:

    লক্ষ্যভেদে অব্যর্থ রাইফেলধারী কিছু লোক সহ প্রথম দলটি গুলি বর্ষণ শুরু করবে গাড়ির উপর, গাড়িটা ক্রস-রোডগুলোর দুশো গজ এদিকে থাকতেই। রাস্তার ধারে প্রকাণ্ড একটা বেডফোর্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকবে, দলটা সেটার পিছনে গা ঢাকা দিয়ে গুলিবর্ষণের ইঙ্গিতের জন্যে অপেক্ষা করবে। প্রত্যেককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অগ্রসরমান গাড়ির দিকে খুব নিচু অ্যাঙ্গেলে গুলি ছুঁড়তে হবে।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল জা থৈরির ক্যালকুলেশন অনুযায়ী বেডফোর্ড ভ্যানের পাশে সিট্রন পৌঁছবার আগেই একশো পঞ্চাশটা বুলেট গাড়ির ভিতর দিয়ে বেরিয়ে যাবে। মাসুদ রানা স্ট্রিনের ফ্রন্ট সীটে বা ব্যাক সীটে যেখানেই বসুক, কিছু আসে যায় না, কম করেও ডজনখানেক বুলেট আহত করবে তাকে। তাছাড়া, সিট্রন তো দাঁড়িয়ে পড়বেই।

    সাবধানতা অবলম্বনে জাঁ থেরির জুড়ি ত্রিভুবনে নেই। এত কিছুর পরও খানিক দূরের একটা সাইড রোডে অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে সে দ্বিতীয় দলটাকে। কয়েকশো দুর্লঙ্ঘ্য বাধা টপকে স্ট্রিন যদি ছুটে পালাবার চেষ্টা করে সফল হয়, তখন এই দ্বিতীয় দলটা গলিমুখ থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে এসে পথরোধ করবে সিট্রনের, গাড়ি দিয়ে গাড়ি ঠেকাবে। গাড়িতে আরেকজন থাকবে, তার কাজ ক্লোজ রেঞ্জ থেকে রানাকে আহত করা। অবশ্য, তার কোন দরকার হবে না, জানে সে। প্রথম অ্যামবুশ থেকে রেহাই পাবার কোন আশা স্ট্রিনের নেই।

    মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই গোটা প্ল্যানটা সফল হবে, সাথে সাথে আহত রানাকে নিয়ে ছুটে যাবে সবাই পিছন দিকের একটা সাইড রোডে। সেখানে ওদেরকে বুকে তুলে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেবার জন্যে অপেক্ষা করছে তিনটে গাড়ি। লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরিকে নিয়ে দুটো দলের সর্বমোট জনসংখ্যা তেরোয় দাঁড়াল। সিগন্যাল দেয়ার গুরু দায়িত্বটা নিজের হাতে রেখেছে জাঁ থেরি।

    আটটা বেজে পাঁচ মিনিট। যার যার পজিশনে পৌঁছে গেছে গ্রুপ দুটো। প্ৰথম গ্রুপটার কাছ থেকে একশো গজ পিছিয়ে একটা বাসস্ট্যান্ডের পাশে হাতে খবরের কাগজ নিয়ে অলস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে জাঁ থেরি।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল খবরের কাগজ নেড়ে সিগন্যাল দেবে প্রথম কমান্ডো লীডার সার্জেন্ট (প্রাক্তন) বেনেকে। বেডফোর্ড ভ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে। রাইফেলধারীদেরকে সে-ই গুলি বর্ষণের অর্ডার দেবে। তার পায়ের কাছে ঘাসের উপর এক সারিতে শুয়ে আছে তারা।

    দ্বিতীয় কমান্ডো দলে মাত্র দু’জন রয়েছে। সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ডেলা পেত্রো এবং বৃষস্কন্ধ জর্জ আঁতিন। দু’জনই দুশো লোকের সমান। যদি প্রয়োজন হয় নিজেদের গাড়িটাকে চালিয়ে সিট্রনের সামনে চলে যাবে তারা। গাড়িটা চালাবে ডেলা পেত্রো। পাশে সাব-মেশিনগান হাতে তৈরি থাকবে জর্জ আঁতিন।

    .

    মধ্য প্যারিস পিছনে ফেলে শহরতলি পেটি-ক্লামার্টের প্রায় যানবাহনহীন রাস্তায় উঠে এসে গাড়ির স্পীড আরও বাড়িয়ে দিল আঁদ্রে পল। ঘণ্টায় এখন প্রায় ষাট মাইল স্পীড।

    ঠিক আটটা বেজে সতেরো মিনিটে পেটি-ক্লামার্টের একটা রাস্তা, এভিনিউ দ্য লা ডিভিশন লেক্লার্কে স্টিন প্রবেশ করল সত্তর মাইল স্পীডে

    ওদিকে এক মাইল সামনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি নিজের মস্ত একটা ভুল বুঝতে পেরে মনে মনে হায় হায় করছে। অ্যামবুশের সময় নির্ধারণ করার জন্যে হাতের কাছে পাওয়া একটা পঞ্জিকার সাহায্য নিয়েছে সে। তাতে পরিষ্কার লেখা আছে আগস্ট মাসের বাইশ তারিখে সন্ধ্যা নামে আটটা পঁয়ত্রিশে। মাসুদ রানার ফ্লাইট আটটা চল্লিশে, এটা জানা থাকায় সিগন্যাল দেবার জন্যে লাইটার বা টর্চ ব্যবহার করার কথা ভাবেনি সে, কেননা ফ্লাইট ধরার জন্যে এই রাস্তা দিয়ে রানা যখন যাবে তখন দিনের আলো থাকার কথা।

    কিন্তু নেই। আটটা দশেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

    ভুলটা কোথায় হয়েছে বুঝতে পারছে জাঁ থেরি। হাতের কাছে যে পঞ্জিকাটি ছিল, সেটা এ-বছরের নয়, সম্ভবত গত বছরের।

    ভুল যা হবার হয়ে গেছে, এখন তা আর শোধরাবার নয়। আটটা বেজে আঠারো মিনিটের সময় জাঁ থেরি দুটো হেডলাইট দেখতে পেল। এভিনিউ দ্য লা লিবারেশন ধরে সত্তর মাইল বেগে তার দিকে ছুটে আসছে। আবছাভাবে গাড়িটাকে কালো স্ট্রিন বলে মনে হলো তার। যেন বিদ্যুতের ধাক্কা খেয়ে কেঁপে উঠল সে, উন্মত্তের মত হাতের কাগজটা নেড়ে সিগন্যাল দিল। শরীরের কাঁপুনিটা থামছে না তার। সার্জেন্ট বেনেকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে না সে, তার মানে সার্জেন্ট বেনেও তাকে দেখতে পাচ্ছে না। আশঙ্কায় ধড়াস ধড়াস করে বুকের ভিতর লাফাচ্ছে হৃৎপিন্টা

    একশো গজ দূরে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রাগে ফুলছে সার্জেন্ট বেনে। গলাটাকে লম্বা করে দিয়ে দূরের বাসস্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়ানো জাঁ থেরির অস্পষ্ট মূর্তিটাকে আরও ভালভাবে লক্ষ করতে চেষ্টা করছে সে। কিন্তু সন্ধ্যার ঘন ছায়ায় কিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। ‘কর্নেল কি সিগন্যাল দিলেন, নাকি চোখের ভুল?’ কাউকে নয়, আপন মনে প্রশ্নটা করল সে। প্রস্তুতির কোন সুযোগ পেল না বেচারা, হঠাৎ করেই দেখল দুটো হেডলাইট তীরবেগে বাসস্ট্যান্ডের পাশ ঘেঁষে ছুটে আসছে। হকচকিয়ে গিয়ে আরও দু’তিন সেকেন্ড দেরি করে ফেলল সার্জেন্ট বেনে, তারপর চিৎকার করে উঠল, ‘ফায়ার!’

    স্ট্রিন তখন একবারে সামনে চলে এসেছে, গুলিবর্ষণ শুরু হলো। নব্বই ডিগ্ৰী কোণ থেকে সত্তর মাইল বেগে ধাবমান একটা গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি করছে ওরা। এক্ষেত্রে লক্ষ্য ভেদ করা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করল ওরা। বারোটা বুলেট আঘাত করল ট্রিনকে। প্রায় সবগুলোই পিছন থেকে ছুটে এসে লাগল গাড়ির গায়ে। দুটো টায়ার ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। ভিতরে সেলফ-সিলিং টিউব থাকলেও আচমকা প্রেশার কমে যাওয়ায় ধাবমান গাড়িটা কাত হয়ে গেল একদিকে, সেই সাথে সামনের চাকা পিছলাতে শুরু করেছে। এই চরম সঙ্কটে মাথা ঠাণ্ডা রেখে অদ্ভুত নৈপুণ্য দেখান আঁদ্রে পল। আশ্চর্য মনোবল লোকটার, থামল না, দক্ষ হাতে চালিয়ে নিয়ে চলল টালমাটাল গাড়িটাকে।

    কর্সিকানদের একজন যখন স্ট্রিনের টায়ার ফুটো করছে, বাকিরা তখন পলায়নপর গাড়ির পিছনের জানালায় গুলি ছুঁড়ছে। কয়েকটা বুলেট গাড়িটার ধাতব আচ্ছাদন ফুটো করে ঢুকল ভিতরে। একটা বুলেট জানালার কাঁচ চুরমার করে দিয়ে ঢুকে পড়ল, বেরিয়ে গেল সিলিং ফুটো করে, সিকি ইঞ্চির জন্যে ছুঁতে পারেনি রানার নাকের চকচকে ডগাটা।

    প্রথম গুলির শব্দ শুনেই পিছন দিকে মুহূর্তের জন্যে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠেছিল আঁদ্রে পল, ‘গেট ডাউন!’

    ‘যা ভেবেছিলাম!’ বিদ্যুৎবেগে শোল্ডার হোলস্টার থেকে অটোমেটিক পিস্তলটা বের করে পিছন দিকে তাকিয়েছিল রানা। এমনি সময়ে বিন্‌ন্‌ শব্দে বাতাস কেটে নাকের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেল একটা বুলেট।

    ফাস্ট-মোশন ছায়াছবির মত ঘটে যাচ্ছে সব। রানাকে সাবধান করে দিয়েই শোল্ডার হোলস্টার থেকে রিভলভার বের করে ফেলেছে পল। একহাতে ধরা স্টিয়ারিং হুইলটা পোষ মানছে না কোনমতে, অবিরাম গা ঝাড়া দিচ্ছে। বাঁ দিকে বিপজ্জনক ভাবে পিছলাতে শুরু করল গাড়িটা, যে কোন মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে। খুবই ধীরে যেদিকে স্কিড করছে সেই দিকে হুইল ঘুরাল খানিকটা, সেই সাথে আস্তে করে চাপ বাড়াচ্ছে অ্যাকসিলারেটর পেডালের উপর। আরও কিছুটা পিছলে বাঁ পাশে সরল স্ট্রিন, তারপর সামলে নিল যেন অনেকটা অলৌকিক ক্ষমতা বলে। রিভলভারটা কোলের উপর ফেলে দু’হাত দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল ধরল পল বাঁক ঘুরেই আবার তুফানের মত ছুটতে শুরু করল গাড়ি। সামনে ইন্টার-সেকশন। সাইড রোড এভিনিউ দ্য বয়-র পাশ ঘেঁষে যাবে পল। ইউনিয়ন কর্সের দ্বিতীয় কমান্ডো দল ওখানে অপেক্ষা করছে।

    এভিনিউ দ্য বয়।

    গলি মুখে স্টার্ট দেয়া গাড়িতে বসে আছে ডেলা পেত্রো এবং জর্জ আঁতিন। বিদ্যুৎবেগে স্টিনকে ছুটে আসতে দেখে হকচকিয়ে গেল ওরা। কথা ছিল গলিমুখ থেকে বেরিয়ে স্ট্রিনের পথ রোধ করবে, কিন্তু তা করতে গেলে ধাক্কা খেয়ে চিঁড়ে চ্যাপটা হয়ে যাবে ওদের গাড়ি। হাতে সাব-মেশিনগান নিয়ে সীট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে আঁতিন, জানালা দিয়ে কোমর পর্যন্ত গাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছে সে।

    চোখের পলকে কাছে চলে এসেছে স্ট্রিন। সাব-মেশিনগানের নল ঘুরিয়ে গুলি করছে সে। সাঁ করে বেরিয়ে গেল ট্রিন, একটা বুলেটও স্পর্শ করতে পারল না গাড়িটাকে।

    বাঁক নিয়ে তুমুল গতিতে একটানা ছুটে যাচ্ছে স্ট্রিন। ভিউমিররে একবারের বেশি তাকাল না আঁদ্রে পল। একটা বোতাম টিপে ওয়্যারলেস সেটটা অন করল সে। রানা এজেন্সীকে ঘটনাটার কথা জানিয়ে ছোট্ট একটা নির্দেশ দিল। তারপর অফ করল সেটটা।

    গাড়ির ভিতর জমাট নিস্তব্ধতা। ব্যাক সীটে হেলান দিয়ে বসে আছে রানা। থমথম করছে মুখের চেহারা। ঠোঁট জোড়া চেপে আছে পরস্পরের সাথে। হাতে এখন পিস্তলের জায়গায় টোবাকো পাইপ। কিন্তু আগুন ধরাবার কথা ভুলে বসে আছে।

    কম কথার মানুষ আঁদ্রে পল চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে। ঠাণ্ডা মেজাজের লোক সে, কিন্তু এখন চেহারা দেখে মনে হচ্ছে চাপা আক্রোশে ছটফট করছে তার ভিতরটা।

    সোজা এয়ারপোর্ট টারম্যাকের এক ধারে গিয়ে থামল স্ট্রিন। সাথে সাথে চারদিক থেকে দশ পনেরো জন স্বাস্থ্যবান, সুবেশ, তীক্ষ্ণ চেহারার লোক দ্রুত এগিয়ে এসে ঘিরে ফেলল গাড়িটাকে। এরা সবাই রানা এজেন্সীর প্যারিস শাখার কর্মী।

    দরজা খুলে যেতে গাড়ি থেকে নামতে উদ্যত হলো রানা। চেহারায় সেই থমথমে ভাব কোথায় উধাও হয়ে গেছে। মৃদু হাসি ওর মুখে। নামার সময় কোলের উপর জমে থাকা একগাদা কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ল টারম্যাকে।

    ‘মাসুদ ভাই আপনি….

    একসাথে অনেক প্রশ্ন, অনেক জিজ্ঞাসা চারদিক থেকে উচ্চকিত হয়ে উঠল। হাত তুলল রানা। অমনি চুপ হয়ে গেল সবাই। পরমুহূর্তে বিস্ময়ে হতভম্ব করে দিল সবাইকে রানা। এইমাত্র যে ভয়ঙ্কর ঘটনাটা ঘটে গেল সে বিষয়ে নয়, সামনে যাকে দেখছে তাকেই ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে একে একে সবার কুশল জেনে নিচ্ছে ও।

    বিস্ময়ের ভাবটা কাটিয়ে উঠতে কয়েক মুহূর্ত সময় লাগল ওদের। তারপর সবাই প্রতিবাদের সুরে মুখ খুলল। কিন্তু রানা কথা বলতে যাচ্ছে দেখে নিজেরাই আবার চুপ করে গেল!

    ‘হ্যাঁ,’ বলল রানা, ‘এইবার নিয়ে পাঁচবার হলো। এবার এর একটা বিহিত না করলেই নয়, এ ব্যাপারে তোমাদের সাথে আমি একমত।’ তারপর মুচকি হেসে একটু রসিকতা করল; ‘যাই বলো, সোজাসুজি গুলি ছুঁড়তে পারে না ওরা।’ রিস্টওয়াচ দেখল রানা। ব্যস্ত ভাবে বলল, ‘পরে সব জানতে পারবে। ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে।

    কথা শেষ করে এগোল রানা। সরে গিয়ে পথ করে দিল ওরা। কিন্তু দাঁড়িয়ে রইল না কেউ। রানাকে ঘিরে রেখে কাস্টমস-এর শেডের দিকে এগোচ্ছে সবাই। রানার পাশেই রয়েছে আঁদ্রে পল। তার কাঁধে একটা হাত রাখল রানা। বলল, ‘ধন্যবাদ, পল, আজ তোমার জায়গায় আর কেউ গাড়ি চালালে কি হত বলা যায় না।’

    অদম্য আবেগে শরীরটা শিরশিরিয়ে উঠল আঁদ্রে পলের। মশিয়ে রানার কাছে ধরা পড়ে যাবার ভয়ে মাথা নিচু করে ফেলল সে। চোখে তার পানি এসে গেছে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }