Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প92 Mins Read0
    ⤷

    আমার ছেলেবেলা – ১

    ১

    আমি জন্মেছিলাম কুমিল্লায়, আমার দাদামশায়ের তৎকালীন কর্মস্থলে, বঙ্গাব্দ ১৩১৫, ১৫ অগ্রহায়ণ, খ্রিষ্টাব্দ ১৯০৮, ৩০ নভেম্বর তারিখে। পিতার নাম ভূদেবচন্দ্র বসু, মাতা বিনয়কুমারী—কন্যাবস্থায় তাঁর পদবি ছিলো সিংহ। ‘বিনয়কুমারী’ নামটি আমি কারো মুখে উচ্চারিত হতে শুনিনি, ‘মুকুল’ পত্রিকার একটি পুরোনো খণ্ডে কাঁচা হস্তাক্ষরে লেখা দেখেছিলাম—কেমন করে সেটিকে আমার মায়ের নাম বলে শনাক্ত করেছিলাম তা আমার মনে নেই। আমি বিনয়কুমারীর প্রথম ও শেষ সন্তান—আমার জন্মের পরে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই প্রসবোত্তর ধনুষ্টংকার রোগে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুই আমার নামকরণের কারণ।

    আমার জন্মের ও তাঁর মৃত্যুর সময় বিনয়কুমারীর বয়স ছিলো ষোলো—আমাদের এ-কালের হিশেবে তিনি তখনও বালিকা। তিনি ছিলেন তাঁর পিতামাতার একমাত্র সন্তান এবং ভূদেবচন্দ্র পত্নীকে হারিয়ে বছরখানেকের জন্য পরিব্রজ্যা গ্রহণ করেছিলেন। এই দুই কারণে আমি আমার মাতামহ-মাতামহীর ঘরেই মানুষ হয়েছিলাম— কার্যত তাঁরাই ছিলেন আমার পিতামাতা।

    তাঁদের নাম চিন্তাহরণ সিংহ ও স্বর্ণলতা (পৈতৃক পদবি ঘোষ)। চিন্তাহরণ ছিলেন বোধহয় এফ. এ.-পাশ বা বি. এ.-ফেল-করা মানুষ; প্রথম বয়সে স্কুলমাষ্টারি করতেন, পরে পুলিশ-বিভাগে কর্ম নেন। পুলিশে ঢোকার পর তিনি দু-একটা অনুচিত ব্যসনে মেতেছিলেন, উৎকোচগ্রহণেও তাঁর দ্বিধা ছিলো না— এ-সব কথা আমাদের পারিবারিক মহলে ঘূর্ণিত হতো মাঝে-মাঝে। আর সেই সঙ্গে এ-কথাটাও অনেকবার আমার কানে এসেছে যে তাঁর কন্যার মৃত্যুর পরে সব কদভ্যাস তিনি পরিত্যাগ করেন; আমি তাঁকে যখন দেখেছি তখন তিনি নিতান্তই গৃহপালিত জীব। নিশ্চিন্তে বলা যায় পুলিশের চাকুরে হবার মতো কোনো যোগ্যতাই তাঁর ছিলো না— অত্যন্ত ভীরু ও শঙ্কাপরায়ণ মানুষ তিনি, দেহ তেমন বলিষ্ঠ নয়; মাসের মধ্যে যেদিন তাঁকে রাত্তিরে ‘রাউণ্ড’ দেবার কাজে বেরোতে হয় সেদিন সন্ধে নামলেই তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে যায়; রাস্তায় বেরিয়ে দূর থেকেও কোনো ঊর্ধ্বতন রাজপুরুষকে দেখলে তিনি যেন অজানা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে পালাবার পথ খুঁজে পান না; কোনো কল্পিত বিপদেও অত্যন্ত অবসন্ন হয়ে পড়েন। সন্দেহ নেই, কর্তৃপক্ষও তাঁকে অযোগ্য বলেই জানতেন, কেননা তাঁর বয়স যখন প্রায় পঞ্চাশ, তখনও তিনি ক্ষুদ্র দারোগামাত্র, গরীয়ান ইন্সপেক্টর-পদে উন্নীত হতে পারেননি।

     

     

    স্বামী-স্ত্রীতে স্বভাবের মিল ছিলো না। স্বর্ণলতা ছিলেন স্বাস্থ্যবতী ও প্রবল ব্যক্তিত্বশালিনী; ঘরোয়া পার্লামেন্টের বৈঠকে তিনি যেমন তীক্ষ্ণভাষিণী হতে পারতেন, তেমনি হাস্য-পরিহাসমুখর পারিবারিক আড্ডা জমানোতেও তাঁর দক্ষতা ছিলো চারদিকের আত্মীয়বর্গকে আকর্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো ক্ষমতা তিনি ধারণ করতেন; পিতৃকুল ও শ্বশুরকুলের অনেকেই ঘুরে-ঘুরে বেড়াতে আসতেন তাঁর কাছে, আসতেন ভারমুক্ত হতে গর্ভবতীরা— অনেক নবজাতক ও নবজামাতার পরিচর্যা তাঁকে করতে দেখেছি। তিনি স্কুলে কতদূর পড়েছিলেন জানি না, কিন্তু তাঁর পোস্টমাষ্টার- পিতার গৃহে বাংলা লেখাপড়া ভালোই শিখেছিলেন মনে হয়; চিঠিপত্র বেশ গুছিয়ে লিখতেন, বাড়িতে ছিলো অনেককালের পুরোনো চামড়ায়-বাঁধাই বঙ্কিমের ভল্যুম, সন্ধেবেলা কখনো-কখনো মাসিকপত্র থেকে গল্প পড়ে শোনাতেন আমাদের— সেটা আমার খুব ভালো লাগতো, তাঁর কণ্ঠস্বর মন্দ্রিত ও উচ্চারণ স্পষ্ট ছিলো।

    ২

    চিন্তাহরণ ও স্বর্ণলতা— এঁরাই আমার বাল্যজীবনকে পরিবৃত করে রেখেছিলেন। বিশেষত আমার দাদামশায়ের সঙ্গে আমি এমন এক ধরনের স্নেহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলাম, যার বুনোনটা খুব ঘন, প্রায় কোথাও ফাঁক নেই— পিতাপুত্রের সম্বন্ধের চেয়ে অনেকটাই বড়ো তার আয়তন। কেননা তিনি ছিলেন আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু, ও প্রথম ক্রীড়াসঙ্গী— চাকুরির সময়টুকু বাদ দিয়ে তিনি আমাকেই তাঁর জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে অল্প বয়সে স্কুলে ভর্তি করেননি— সেজন্যে আমি অন্তহীনভাবে কৃতজ্ঞ; যে-রকম যত্নে আমাকে তিনি ইংরেজি শিখিয়েছিলেন তার কোনো তুলনা হয় না। শীতের ভোরে বেড়াতে বেরিয়েছি তাঁর সঙ্গে— আমার পরনে কান-ঢাকা টুপি আর আলস্টার— তিনি চলতে-চলতে জিগেস করছেন : ‘Do you see what I see?” আর আমি তাঁর চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করে বলে উঠছি, ‘A tree!’, ‘A dog!’, ‘A bullock-cart!’—এমনি সারাটা সময়। রবিবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে আমার খেলা জমে শব্দরচনা ও শব্দহরণের চৌকো এ বি সি ডি-গুলো নিয়ে- সেটাও ইংরেজি চর্চারই একটা উপায়; তিনি ইচ্ছে করে আমার কাছে হেরে গেলেন বুঝেও আমি খুশি না-হয়ে পারি না। পারিবারিক ছোটো ছোটো চিঠিপত্র তিনি আমাকে দিয়েই লেখান; আমার সাত বছরের জন্মদিন থেকে আমাকে একটি রোজনামচা লেখার কাজে লাগিয়ে দিলেন— সবই ইংরেজিতে। শুরুতে তিনি বাক্যগুলো বলে দিতেন আমাকে, বা সাহায্য করতেন : অল্পদিনের মধ্যে আমার কলম স্বাধীনভাবে সচল হয়ে উঠলো।

     

     

    আমার ইংরেজির জন্য দাদামশাই যে এত বেশি যত্ন নিয়েছিলেন, তার কারণ কি তাঁর কলোনিয়েল মনোভাব? হয়তো তা-ই— বাড়িতে দিল্লি-দরবারের মস্ত রঙিন ছবিও দেখেছি, রৌপ্যমুদ্রার উপরে অঙ্কিত মহারানীর মূর্তিটিকে মহিলারা বলতেন ‘সাক্ষাৎ ভগবতী’। তবু বলবো যে এখনকার স্বাধীন ভারতের বিত্তশালী সমাজে যে- ইঙ্গোন্মাদনার জোয়ার ডেকেছে (যেন ছেলেমেয়েরা ফিরিঙ্গি টানে এক ধরনের খিচুড়ি- ইংরেজি বলতে পারলেই শিক্ষার চূড়ান্ত হলো!), সে-রকম কিছুই আমার পরিবেশের মধ্যে ছিলো না তখন। ইংরেজি ছিলো আমাদের কাছে বইয়ের ও স্কুল-কলেজের ভাষা— জীবনের ভাষা বাংলা। আমার বাংলার জন্য চিন্তাহরণকে কোনো শ্রম করতে হয়নি, আমার শিক্ষক ছিলেন শুধু লেখকরা— যোগীন্দ্রনাথ উপেন্দ্রকিশোর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত জাদুকরগণ।

    দাদামশাই আমাকে সংস্কৃত টাও ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহে আমি ‘নরঃ নরৌ নরাঃ’ ও ‘তি তস্ অন্তি’র প্রথম সিঁড়িগুলো ভেঙেছিলাম, মুখস্থ করেছিলাম কিছু চাণক্যশ্লোক, কয়েক পৃষ্ঠা ‘হিতোপদেশ’ চর্বণ করেছিলাম। আরো দুটো সংস্কৃত কবিতা আমরা কণ্ঠস্থ ছিলো, মনে পড়ে— একটার নাম ‘মোহমুদগর, গভীর বৈরাগ্যবোধক সমিল একটি পদ্য, শঙ্করাচার্যের রচনা বলে কথিত, প্রথম লাইন ‘মূঢ় জহিহি ধনজনতৃষ্ণাম্; বিষয়টা ঠিক শিশুর পক্ষে উপযোগী না-হলেও তার শব্দঝংকার আমার ভালো লেগেছিলো। অন্যটা এর ঠিক উল্টো পিঠের ব্যাপার, ‘ধনং দেহি জনং দেহি’ ধরনের চীৎকারসর্বস্ব এক সুদীর্ঘ দুর্গাস্তোত্র; আমার মুখে আবৃত্তি শুনে দাদামশাই খুশি হয়েছিলেন; কিন্তু আমি তা থেকে কোনো আনন্দ পাইনি। এই পর্যন্ত— আমার ছেলেবেলার সংস্কৃত শিক্ষা; পরে স্কুলে-কলেজে— ব্যাকরণের প্রতি বিতৃষ্ণা নিয়েও— আমি আরো কয়েকটি পদক্ষেপ এগোতে পেরেছিলাম। একে বুড়ি- ছোঁয়ার বেশি কিছু বলা যায় না, কিন্তু এখন বুঝতে পারি ঐ স্বল্প তহবিলও আমার সাহিত্যিক জীবনে কাজে লেগেছিলো— এখনো লাগছে।

     

     

    আমার ইংরেজি শিক্ষা বিষয়ে আর-একটা কথা বলতে চাই। দাদামশাই আমাকে ব্যাকরণের বালুডাঙায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ক্লান্ত ও ক্লিষ্ট করেননি, কোনো নেসফীল্ড ছুঁয়ে দেখতেও হয়নি আমাকে; কাকে বলে জেরাণ্ড বা ইনফিনিটিভ, ক্রিয়াপদের মধ্যে কোনগুলো ট্র্যানজ়িটিভ আর কোনগুলো নয়— এ-সব তত্ত্ব অনেক বয়স পর্যন্ত আমি জানতাম না। আর তাই ঐ বিদেশী ভাষা অতি সহজে তার আনন্দের উৎসটি আমার জন্য খুলে দিয়েছিলো। আমার বয়স যখন ছয় থেকে আটের মধ্যে সেই সময়েই আমি ইংরেজি কবিতায় স্পষ্ট ও দৃষ্ট হয়েছি; ‘Break, break, break On thy cold gray stones, O sea!— এই লাইনটার অফুরন্ত অনুরণন আমি শুনতে পাই মনে-মনে, তুষার-ঝড়ে হারিয়ে-যাওয়া লুসি গ্রে-র কথা ভেবে আমার রৌদ্রতপ্ত দুপুরগুলি উদাস হয়ে ওঠে। তারপর— আমি তখন আরো একটু বড়ো হয়ে উঠেছি— শীতের সন্ধ্যায় দাদামশাই আমাকে পড়ে শোনাতেন শার্লক হোমস-এর কাহিনী-পর্যায়, শেক্সপিয়র থেকে কোনো-কোনো দৃশ্য; পোর্শিয়া ও শাইলকের সঙ্গে, রজ়ালিও আর মিরাণ্ডার সঙ্গে, ব্রুটাস কেশিয়াস মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে তাঁরই মধ্যস্থতায় আমার প্রথম পরিচয় হয়। আর এমনি করেই ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি আমার অন্তরঙ্গ করে তুলেছিলেন; তার মধ্যে কোথাও কোনো ভার বা পীড়ন আছে, তা আমাকে অনুভব করতে দেননি। আমার প্রায় মনেই পড়ে না আমি কী-ভাবে ইংরেজি পড়তে ও লিখতে শিখেছিলাম; সেজন্যে আমার স্বাভাবিক উন্মুখতা যতটা দায়ী দাদামশায়ের প্রাণবন্ত শিক্ষকতাও ততটাই। স্পষ্টত, স্কুলমাষ্টারিটাই তাঁর স্বাভাবিক বৃত্তি ছিলো, পুলিশে ঢুকে দু-দিক থেকেই ভুল করেছিলেন।

     

     

    বাড়িতে একটি গ্রামোফোন ছিলো, মনে পড়ে। শুনেছি, আমার অজ্ঞান বয়সে, যখন পর্যন্ত পড়তে শিখিনি, আমি বলামাত্র যে-কোনো রেকর্ড বের করে দিতে পারতাম— এতে বোঝা যায় ঐ চোঙ-লাগানো ধ্বনিযন্ত্রটি আমাকে কতদূর পর্যন্ত মুগ্ধ করেছিলো। সেই মুগ্ধতাবোধ আমার সাত বছর বয়স পর্যন্ত কাটেনি; আমি বাক্সের পাল্লা খুলে উঁকি দিয়ে দেখি ভিতরে কোনো মানুষ লুকিয়ে আছে কিনা; কুকুর অথবা ডানাওলা পরির ছবি বসানো চকচকে গোল শব্দপ্রসবী চাকতিগুলোকে এক অপার রহস্য বলে মনে হয় আমার। প্রায়ই শুনতাম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় আমার মনে আছে একটিমাত্র রেকর্ড— কোনো গান নয়, অসমমাত্রিক অমিত্রাক্ষর পয়ারে লেখা একটি নাটকের অংশ। তার প্রথম লাইন— ‘দ্যাখো, দ্যাখো, মধ্যম পাণ্ডব’ আর শেষ লাইন— ‘আর কৃষ্ণনাম আনিবো না মুখে!— এও আমি আজ পর্যন্ত ভুলিনি। খুব সম্ভব গিরিশচন্দ্রের কোনো নাটক, প্রধান অভিনেতা দানীবাবু*। আমার দিদিমা কলকাতায় থিয়েটার দেখেছিলেন; তাঁর মুখে অমর দত্ত কুসুমকুমারীর নাম শুনতাম; মনে-মনে ভাবতাম— না জানি সেই মানুষেরা কেমন, কত আশ্চর্য!

    [*এই লেখাটা ‘দেশ’ পত্রিকায় বেরোবার পরে দু-জন পাঠক আমাকে জানান যে রেকর্ডটা ছিলো গিরিশচন্দ্রের ‘পাণ্ডবগৌরব’ নাটকের একটি অংশ, প্রধান ভূমিকায় ছিলেন অমর দত্ত।]

     

     

    গ্রামোফোনটি একদিন বেচে দেয়া হলো— পাছে আমার পড়াশুনো বিঘ্নিত হয়। আমার মনে কোনো অভাববোধ জাগলো না, ততদিনে বই পড়াই আমার প্রধান আনন্দ হয়ে উঠেছে।

    ৩

    আমি আমার দাদামশাইকে ডাকতাম ‘দা’, দিদিমাকে ‘মা’ বলতাম। শুধু যে মুখে মা বলতাম না নয়, তাঁকে মা ছাড়া অন্য কিছু আমি ভাবিনি কখনো, ভাবতে পারিনি। অথচ আমি খুব অল্প বয়সেই জেনেছিলাম আমার ‘আসল’ মা মরে গিয়েছেন, আমার বাবার সঙ্গেও আমার দেখাসাক্ষাৎ হয়ে গিয়েছে। মা নেই, মা আছেন; আমার ‘মা’-র সঙ্গে আমার বাবার সম্পর্ক শাশুড়ি-জামাইয়ের, আমার ‘মা’-র স্বামীকে আমি ‘বাবা বলে ডাকি না—এ-সব উল্টোপাল্টা ব্যাপার নিয়ে আমি কখনো বিব্রত বোধ করিনি, আমার কাছে এই অবস্থাই ছিলো সংগত এবং স্বাভাবিক। মা নেই— এটা হলো অস্পষ্ট এক প্রবচন, যাকে বলে ‘কথার কথা’ ঠিক তা-ই; আর মা আছেন— এটা অতি নিবিড় এক সত্য, যা আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি স্নেহে যত্নে আদরে আবদারে, অসুখের সময় পরিচর্যায়। মাতৃহীন শিশুর মনোকষ্ট আমার জীবনের ত্রিসীমানায় ঢুকতে পারেনি।

     

     

    আমার দিদিমার ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে একটি ফোটোগ্রাফ ছিলো— অনেক বাসা-বদল, বাসস্থান-বদল, ও অবস্থার বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেটিকে রক্ষা করেছিলেন। ক্ষীণাঙ্গ এক যুবক, তার কাঁধে মাথা রেখেছে এক তরুণী― তরুণীটির মুখখানা গোল ছাঁদের, পিঠ-ছাপানো একঢাল চুল, কিন্তু চোখ তার বোজা, যুবকটি তাকে কোমরে জড়িয়ে ধরে আছে। মৃতা পত্নীকে নিয়ে আমার পিতা এই ছবি তুলিয়েছিলেন, তা জেনেও ছবিটির প্রতি কোনো আকর্ষণ বা আগ্রহ আমি অনুভব করিনি। আমি যখন কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা, আছি রাসবিহারী অ্যাভিনিউর ফ্ল্যাটে, তখনও সেটি চোখে পড়েছে আমার— কিন্তু শুধু চোখেই পড়েছে, আমি সত্যি কখনো ছবিটির দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম এমন আমার মনে পড়ে না। বৈধব্যপ্রাপ্ত দিদিমার ঠাকুরপুজোর কোণটিতে প্রথমে থাকতো সেটি— ততদিনে হলদে এবং ঝাপসা হয়ে গিয়েছে—এদিকে যত দিন যায় তত বেড়ে চলে আসবাব এবং বইপত্র, সন্তানেরা বড়ো হতে থাকে, কিন্তু ফ্ল্যাটের মাপজোক একই থেকে যায়, বর্তমানের চাপে অতীতকে লুকোতে হয় কোণে-ঘুপচিতে, খাটের তলায় কোনো জীর্ণ তোরঙ্গে হয়তো। খুব স্বাভাবিকভাবেই ছবিটা হারিয়ে গেলো একদিন— কবে, আমি তা লক্ষ করিনি, তা নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ অথবা অবকাশ আমার ছিলো না। কিন্তু এখন আমার ষাট-পেরোনো প্রান্তিক নির্জনতায় বসে আমার মাঝে-মাঝে মনে পড়ে ছবিটিকে, সেটি হারিয়ে গেছে বলে ঈষৎ যেন দুঃখও হয়। আমার কৌতূহল মেটাবার জন্য কেউ যখন আর বেঁচে নেই, তখনই আমার জানতে ইচ্ছে করছে সে কেমন ছিলো— আমার নানির বয়সী না-দেখা ঐ মেয়েটি; কেমন ছিলো সে দেখতে, কেমন পছন্দ-অপছন্দ ছিলো তার, বই পড়তে ভালোবাসতো কিনা, আমার মধ্যে তার কোনো-একটি অংশ কি কাজ করে যাচ্ছে? মনে হয়, আমাকে জন্ম দেবার পরিশ্রমে যে-মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিলো, তার কিছু প্রাপ্য ছিলো আমার কাছে; তা দেবার সময় এখনো হয়তো পেরিয়ে যায়নি।

     

     

    ৪

    সেকালের বাঙালিরা ছিলেন পল্লীপ্রাণ, জীবিকার দায়ে বারো মাসের মধ্যে দশ মাস তাঁরা শহরে কাটাতেন, কিন্তু মন তাঁদের পৈতৃক গ্রামে পড়ে থাকতো। কোনো মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে তাঁদের মনে প্রথম প্রশ্ন জাগে পাত্রপক্ষের আদিবাসভূমি কোথায়; কোনো ছুটির সময় কাছে আসামাত্র তাঁরা তল্পি বাঁধেন দেশে — অথবা পূর্ববাংলার ভাষায় ‘বাড়ি’ যাবার জন্য। ঘটনাচক্রে, অথবা আমার স্বভাবেরই নির্বন্ধে, আমি এই পল্লীকেন্দ্রিক অর্থে ‘দেশের টান’ কখনো অনুভব করিনি, যে-গ্রাম বা পরগনা বা জেলায় আমার পূর্বপুরুষ অনেককাল আগে ভিটে তুলেছিলেন, সেটাকেই বিশেষভাবে আমার ‘দেশ’ বলে ভাবতে ছেলেবয়সেও পারিনি আমি। তবু তথ্যের দিক থেকে হয়তো বলা দরকার যে আমার মাতৃকুল ও পিতৃকুল দুয়েরই আদিনিবাস ছিলো বিক্রমপুরে- গ্রামের নাম যথাক্রমে বহর ও মালখানগর। পরবর্তী কালে যে-কন্যাকে বিবাহ করলাম তাঁর পিতৃভূমিও বিক্রমপুরেরই অন্তর্ভূত।

    আমাদের পরিবারে স্থায়ী সদস্য ছিলো চারজন : আমি, দাদামশাই-দিদিমা, আর তাঁদের এক বৃদ্ধা বিধবা আত্মীয়া। কিন্তু আমার ছেলেবেলার অনেকটা অংশ কেটেছে এক বৃহৎ যৌথ পরিবারের মধ্যে, নানা দিক থেকে সম্পৃক্ত নানা বয়সের মামা মাসি দাদু দিদিমার সংসর্গে। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো, কিন্তু যৌথ পরিবারের ভোজননির্ভর জটলামুখর আলস্যাশ্রিত আমোদপ্রমোদে আমি যোগ দিতে পারতাম না— আমার দিন কাটতো নিরিবিলি, আপন মনে, অধিকাংশ সময় শব্দহীনভাবে ব্যাপৃত। আমি অসময়ে কিছু খেতে চাই না, অচেনা লোকের মধ্যে পড়ে গেলে আড়ষ্ট হয়ে থাকি, কোনো নিমন্ত্রণ-বাড়িতে যেতে হলে আমার মুখ শুকিয়ে যায়— এইসব কারণে বর্ষীয়সীরা আমাকে বলেন ‘বুড়ো কত্তা’, আর গুরুজনদের মধ্যে কেউ-কেউ আমাকে একাচোরা বলে নিন্দে করেন।

     

     

    একবার ঢাকায় বেড়াতে এসে আমি তাসের নেশায় খুব মেতেছিলাম— আমার বয়স তখন সাত হবে কি আট। আছি আধো-পাড়াগেঁয়ে গেণ্ডারিয়ায় একটা গাছপালা- পুকুরওলা একতলা বাড়িতে, আমার বয়সী আরো কয়েকটি ছেলেমেয়েও আছে; তাদেরই একজন আমাকে দীক্ষা দিয়েছিলো। ব্রে খেলা চলে, যে হেরে যায় তাকে গাধার আওয়াজে ডেকে উঠতে হয় : ভারি মজা। একদিন দুপুরে খাওয়ার পরেই জমিয়ে বসা হলো। আমার ভাগ্য ভালো ছিলো না সেদিন : কেবলই হেরে যাচ্ছি হাতের পর হাত; যত হারছি ততই রোখ চেপে যাচ্ছে, আর ততই অনিবার্য হয়ে উঠছে আমার হেরে যাওয়া। খেলা যখন থামলো তখন দিনের আলো নিবু-নিবু আমি ছড়ানো তাস কুড়িয়ে নিয়ে বাইরে এলাম— আমার মনে হলো আকাশ, বাতাস, গাছপালা সব মরে গিয়েছে, আমিও আর বেঁচে নেই। কাকে বলে বি-চ্ছি-রি, কাকে বলে বিস্বাদ— না-তেতো না-টক না-ঝাল না-?ি ) এমনি একটা কিছু-না-গোছের মনের অবস্থা, তা আমি সেদিন যেমন বুঝেছিলাম আমার এই দীর্ঘ জীবনে আর কখনো ঠিক তেমনভাবে বুঝিনি। উঠোনে ছিলো মস্ত একটি কালোজাম গাছ; আমি আস্তে-আস্তে তার তলায় গিয়ে দাঁড়িয়ে একটি-একটি করে সমস্ত তাস ছিঁড়ে ফেললাম, মনে-মনে বললাম— ‘জীবনে আর না। এই প্রতিজ্ঞা আমি আক্ষরিক অর্থে পালন করতে পারিনি; কৈশোরে, তরুণীদের টান কাটাতে না-পেরে, আবার জুটেছিলাম ব্রে অথবা টোয়েন্টি-নাইনের আসরে; কিন্তু সেই ঝোঁকটা অল্পেই কেটে গিয়েছিলো— তারপর থেকে তাসের সঙ্গে আমার মুখ-দেখাদেখি নেই। আমার স্মৃতির উপর কালো ছায়ার মতো ঝুলে আছে জামতলার সেই সন্ধেবেলাটা— আমি এখনো ভুলতে পারিনি— এখনো তাস ভাবতে আমার প্রায় ভয় করে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }