Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অথ সাঁওতাল কথা – বুদ্ধেশ্বর টুডু

    বুদ্ধেশ্বর টুডু এক পাতা গল্প143 Mins Read0
    ⤷

    পৌরাণিক কাহিনী

    সাঁওতালদের নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই। এ পর্যন্ত সাঁওতালদের নিয়ে বহু পুঁথি রচিত হয়েছে, গ্রন্থাগারে সে সব পুঁথি সযত্নে রক্ষিত আছে। সেখানে পণ্ডিতরা নিজেদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে কৌতূহল নিবারণের চেষ্টা করেছেন। সাঁওতালদের সম্বন্ধে তাঁরা সবাই কিছু না কিছু আলোকপাত করেছেন, তাই আমি সে চেষ্টা থেকে বিরত থেকে আজ এমন কিছু বলব যেটা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি, এখনো পর্যন্ত, আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি।

    সাঁওতালরা অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁরা কোথা থেকে এল, তাদের উৎপত্তিই বা কোথায় সেটা তাদের মধ্যে প্রচলিত, মুখে মুখে চলে আসা কাহিনী থেকেই শুনব। (কাহিনীটি আমার লেখা ‘সাঁওতালি ভাষার লিপি সমস্যা এবং সেই সমস্যা সমাধানের সন্ধানে গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। আমি সেটাকে তুলে এখানে জায়গা করে দিচ্ছি।)

    ডারউইনের বিবর্তনবাদ থেকে জানা যায় যে, বিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষ বর্তমানের মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। এ্যপ নামক একপ্রকার বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি। এই বানর চার পায়ে গাছের এ ডাল থেকে সে ডালে ঘুরে বেড়াত। এঙ্গেলসের মতে কোনো কারণে গাছে খাবারের অভাব দেখা দিলে তারা মাটিতে নেমে আসে। মাটিতে নেমে তারা বুঝল যে, এখানে চার পায়ের বদলে দু পায়ে হাঁটাই সুবিধাজনক। তাই তারা দু পায়ে হাঁটা শুরু করল। ফ্রেডরিক এঙ্গেলস এটাকে কর্মী মানুষের শ্রমের ফল বলে অভিহিত করেছেন। বানর থেকে মানুষ এবং আদিম মানুষ থেকে বর্তমান যুগের মানুষ পর্যন্ত এই যে প্রক্রিয়া, একশ, দুশ নয় কয়েক হাজার বছরের ঘটনা। কার্ল মার্কস আদিম মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমানের সভ্য মানুষ পর্যন্ত যে সমাজব্যবস্থা তাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। আদিম সাম্যবাদী গোষ্ঠী সমাজ, দাস সমাজ, সামন্ততান্ত্রিক সমাজ, ধনতান্ত্রিক সমাজ এবং সাম্যবাদী সমাজ। আদিম সাম্যবাদী গোষ্ঠী সমাজে মানুষ দলবদ্ধ ভাবে বাস করত এবং যাযাবরের মত জীবন-যাপন করত। তখন শিকার এবং ফলমূল আহরণ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করত। দিনের শেষে যা সংগৃহীত হত তা সকলে সমান ভাবে ভাগ করে খেত। বিবর্তনের এই নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাঁওতালদের ক্ষেত্রেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নেই। মানুষের উৎপত্তি সম্বন্ধে সাঁওতালদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনী এই মতবাদকেই সমর্থন জানায়। তাদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনীতে আছে, সূর্য পূর্বদিক থেকে উদিত হয় এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। পূর্বদিকে অর্থাৎ যেদিক থেকে সূর্য উদিত হয় সেই দিকেই মানুষের উৎপত্তি। আদিতে পৃথিবীতে কেবল জল ছিল। বৈজ্ঞানিকরাও এই জলের কথা স্বীকার করেন, তবে তাঁদের মতে জল উষ্ণ ছিল। এই উষ্ণ জল ক্রমশ শীতল হয় এবং জলজ উদ্ভিদের জন্ম হয়। সাঁওতালদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনীতেও সেই কথাই বলা হয়েছে, যে তখন শুধু জল ছিল, স্থল বলতে কিছুই ছিল না। দেবতারা স্বর্গ থেকে তোড়ে সুতাম (সুতো) বেয়ে এখানে স্নান করতে আসতেন। একদিনের কথা। সৃষ্টিকর্তা ঠাকরজীউ স্নান করতে নেমেছেন। তিনি ঘাটে বসে গায়ের অনেকটা ময়লা ছাড়ালেন। সেই ময়লা দিয়ে দুটো পাখি বানালেন। পাখি দুটো দেখে তাঁর খুব মায়া হল তাই তিনি তাঁদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করলেন।

     

     

    বিজ্ঞানীর ব্যাখ্যা এক। অন্যদিকে লোকপুরাণের স্রষ্টা একদলের মতে ঠাকুর জীউ প্রথমে জলচর প্রাণী সৃষ্টি করলেন। (ধিরি কাটকম) পাথর কাঁকড়া, কুমীর, তিমি মাছ, রাঘব বোয়াল সলে চিংড়ি (সলে ইচাঃক), কেঁচো এবং কচ্ছপ আদি জলচর প্রাণী সৃষ্টি করলেন। এরপরে সৃষ্টিকর্তা ভাবতে লাগলেন তিনি কি তৈরি করবেন? তিনি ঠিক করলেন এইবারে তিনি মানুষ তৈরি করবেন। তাই হল। তিনি মাটির দুটো মূর্তি গড়লেন। একটা পুরুষের এবং অন্যটা মেয়ের। এই মূর্তি দুটোর মধ্যে যখন প্রাণ সঞ্চার করবেন ঠিক করছেন ঠিক সেই সময় স্বৰ্গ থেকে সিঞ বোঙ্গার (সূর্যদেব) সিঞ সাদম (ঘোড়া) জল খেতে নেমে মূর্তি দুটোকে পা দিয়ে ভেঙ্গে দিলেন। ঠাকুর জীউ বেজায় দুঃখ পেলেন। তাই তিনি ঠিক করলেন, না, তিনি আর মানুষ তৈরি করবেন না। তৈরি করবেন পাখি। বুকের ময়লা ছাড়িয়ে দুটো পাখি বানালেন এবং প্রাণ দিলেন। পাখি দুটোর নাম দিলেন হাঁস এবং হাঁসিল। নামকরণ থেকে অনেকেই পাখি দুটোকে হাঁস (পুং এবং স্ত্রী) বলে মনে করেন। আমি তাঁদের সঙ্গে একমত নই। কারণ সাঁওতালি ভাষায় হাঁসকে বলে গেডে। যদি তারা হাঁস হত তাহলে হাঁসের বদলে গেডে বলা হত। আমার মতে হাঁস এবং হাঁসিল পাখি দুটোর নাম। কারণ সাঁওতালরা যে বারো গোত্রে বিভক্ত, সেই বারোটির একটাকে বলা হয় হাঁসদাঃক। সাঁওতালি দাঃক কথার অর্থ হল জল, তাহলে হাঁস কথার অর্থ যদি হাঁস হয়, তাহলে হাঁসদাঃক মানে কি জলহাঁস? মাটিকে সাঁওতালি ভাষায় বলে হাসা, আমার মতে এই হাসা বা মাটির তৈরি বলেই তাদের নামকরণ হয় হাঁস এবং হাঁসিল। নিম্নে প্রদত্ত দং সেরেঞটা বোধহয় এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

     

     

    জমআবন ঞুইআবন রাইস্কারেবন তাঁহেনা
    নওয়া হাসা হড়ম বার সিঞ লাগিৎ।।

    অর্থাৎ, ‘খাব দাব স্ফূর্তিতে থাকব
    এই মাটির দেহ দুদিনের জন্য।’

    ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন ‘টাকা মাটি, মাটি টাকা’ আর সাঁওতালরা বলেন হাসা হড়ম। তাঁদের বিশ্বাস শরীর মাটি দিয়ে তৈরী এবং মাটিতেই মিশে যাবে। সে যাই হউক প্রাণ পেয়ে পাখি দুটো আকাশে ডানা মেলে দিয়ে মনের আনন্দে উড়তে লাগল, কিন্তু বসার জায়গা কোথাও ছিল না। তাই ঠাকুর জীউ- এর হাতে এসে বসত। এইভাবেই দিন যায়। একদিন সিঞ সাদম তেষ্টা মেটাতে স্বর্গ থেকে তোড়ে সুতাম বেয়ে মর্তে এলেন। মুখ দিয়ে জলপান করবার সময় ঘোড়ার মুখ থেকে ফেনা জলে গড়িয়ে পড়ল। সৃষ্টি কর্তা পাখি দুটোকে সেই ফেনার উপরে গিয়ে বসতে বললেন। পাখি দুটো ঠাকুর জীউ এর কথামত সেই ফেনার উপরে গিয়ে বসল এবং ফেনার সঙ্গে দমকা হাওয়ায় নৌকোর মত ভাসতে লাগল। তারা মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেল বটে কিন্তু খাবার কিছুই পেল না, তাই তারা পুনরায় ঠাকুর জীউ এর স্মরণ নিল। ঠাকুর জীউ তাঁদের কথা শুনে জলচর প্রাণীদের ডেকে পাঠলেন এবং নীচ থেকে মাটি তুলতে বললেন। প্রথমে ডাকলেন কুমীরকে। কুমীর এসে ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কেন ডেকে পাঠিয়েছেন? ঠাকুর কুমীরকে বললেন জলের নীচে মাটি আছে, সেই মাটি তুলতে হবে। সে কি পারবে? কুমীর জবাব দিল যদি তিনি আজ্ঞা করেন তবে সে পারবে? এই বলে কুমীর নীচে নেমে গেল। কিন্তু মাটি তুলতে ব্যর্থ হল। এইভাবে পরপর চিংড়ি মাছ, রাঘব বোয়াল মাছ এবং কাঁকড়াকে ডেকে পাঠালেন, এবং সবাইকে এক কথাই বললেন। কিন্তু সবাই মাটি তুলতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হল।

     

     

    সবশেষে ঠাকুর কেঁচোকে ডেকে পাঠালেন এবং মাটি তুলতে বললেন। কেঁচো রাজি হল তবে একটা শর্ত দিল। শর্তটা হল এই যে, সে মাটি তুলবে তবে কচ্ছপকে জলের উপরে স্থির হয়ে দাঁড়াতে হবে। কেঁচোর কথা শুনে ঠাকুর কচ্ছপকে ডেকে পাঠালেন। কচ্ছপ এসে ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন। ঠাকুর সব কথা খুলে বললেন। ঠাকুরের কথা শুনে কচ্ছপ জলের উপরে স্থির হয়ে দাঁড়াল। ঠাকুর কচ্ছপের চারটে পা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে দিলেন। এইবারে কেঁচো কচ্ছপের পিঠে লেজ রেখে মুখ নীচে নামাল। মুখ দিয়ে মাটি খেতে লাগল এবং লেজ দিয়ে কচ্ছপের পিঠে সেই মাটি বার করে দিতে লাগল। এইভাবে কেঁচো কচ্ছপের গোটা শরীর মাটিতে ভরিয়ে দিয়ে খাওয়া বন্ধ দিল এবং উপরে উঠে এল।

    এইবার ঠাকুর মই দিলেন। (তখনকার দিনে এবং এখনো গরু মহিষের কাঁধে জোয়াল চাপিয়ে তার সঙ্গে মই জুড়ে মাটিতে মই দিতে হয়। এ থেকে এমন মনে করা আশ্চর্যের কিছু নেই যে এই কাহিনী কৃষিকাজ শুরু হবার পরের রচনা)। ঠাকুর মই দিলেন বটে, কিন্তু মাটি সমান করতে সমর্থ হলেন না। মাটি কোথাও কোথাও উঁচু আবার কোথাও কোথাও নীচু হয়ে রইল। আর এই ভাবেই পাহাড় পর্বত এবং নদ-নদীর সৃষ্টি হল। মাটি যেখানে যেখানে উঁচু হয়ে রইল সেখানে সেখানে পাহাড়-পর্বতের, অপর দিকে আবার যেখানে নীচু ছিল সেখানে সৃষ্টি হল নদ-নদীর। সব মিলিয়ে বলা যায় স্থলভাগের বা পৃথিবীর সৃষ্টি হল। ঘোড়ার মুখের ফেনা এই স্থলভাগে এসে আটকা পড়ে গেল। ঠাকুর সেই ফেনার উপরে সিরম (এক রকম গাছ) গাছের চারা বুনলেন। সেই চারা থেকে সিরম গাছ জন্মাল। তারপর পরে পরে দুর্বা ঘাস, করম গাছ, শাল গাছ, মহুয়া গাছ এবং অন্য সব গাছের চারা বুনলেন এবং সেই চারা থেকে গাছ জন্মাল। মানুষ তখনো সৃষ্টি হয়নি।

     

     

    এই যে কাহিনী এটা নিছক কাহিনী নয়। এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সত্য লুকিয়ে আছে সেটা আমাদের খুঁজে বার করতে হবে। এখান থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হব যে, ঠাকুর মানুষ সৃষ্টি করবার আগে এই পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলতে চেয়েছেন। পৃথিবীতে যে বায়ুমণ্ডল আছে তার মধ্যে অক্সিজেন এবং কার্বনডাই অক্সাইড আছে। কার্বনডাই অক্সাইড মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তাই গাছ কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে মানুষকে সেই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে, তাই ঠাকুর মানুষ সৃষ্টির আগে গাছের চারা বুনেছেন। অতএব অস্বীকার করার উপায় নাই, সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা এ সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। এ ছাড়া গাছ আমাদের আর একটা উপকারে লাগে তা হল গাছ মাটিকে শক্ত হতে সাহায্য করে। এই কারণেই লোকে পুকুরপাড়ে এবং অন্যত্র গাছ লাগায়।

    হাঁস-হাঁসিল পাখি দুটো সেই সিরম গাছে বাসা বাঁধল এবং দুটো ডিম পাড়ল। মেয়ে পাখি সেই ডিমে তা দিতে লাগল এবং পুরুষ পাখি বাইরের কাজে ব্যস্ত রইল। Division of Labour বা শ্রম বিভাজনের অনুমান এখানে পাই। কৃষিকাজের পরবর্তী পর্যায়ে পুরুষ মানুষ ক্ষেত খামারের কাজে ব্যস্ত হয়ে রইল ফলে বাড়ির কাজ দেখাশোনা করবার একটা মানুষের প্রয়োজন দেখা দিল। এইভাবে স্ত্রীজাতির সৃষ্টি হল এবং স্ত্রী পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হল। এখানে সেই মতবাদই ব্যক্ত হয়েছে।

     

     

    কিছুদিন পরে সেই ডিম দুটো থেকে দুটো বাচ্চা জন্ম নিল। পাখির ডিম থেকে পাখির বাচ্চা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে তা হয়নি। এখানে পাখির ডিম থেকে ফুটে বেরিয়েছে দুটো মানুষ। পৃথিবীর আদি মানব-মানবী, পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহি। আমি আগেই উল্লেখ করেছি এ্যপ নামক এক প্রকার বানর মানুষে রূপান্তরিত হয়। এই কাহিনী সেই বৈজ্ঞানিক সত্যকেই তুলে ধরেছে। জানতে খুব ইচ্ছে হয় কয়েক হাজার বছর আগে সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা এই কথা জানলেন কি করে? তবে কি আর্যদের আগমনের পূর্বে ভারতবর্ষে যে উন্নত জাতি গোষ্ঠী ছিল তারাই সাঁওতাল। ঐতিহাসিকরা বলেন আর্যরা ভারতে আগমনের পূর্বে অসভ্য এবং বর্বর ছিলেন। ভারতবর্ষে এসেই তারা বাড়ি তৈরির কৃৎকৌশল আয়ত্ত করেছিলেন। আর্যরা যাদের কাছ থেকে বাড়ি তৈরির Technology শিখেছিলেন তারাই কি সাঁওতাল? এই কাহিনী সেই সন্দেহকেই ঘনীভূত করে।

    ডিম ফুটে দুটো মানুষ জন্ম নিল। একটা পুরুষের অন্যটা মেয়ে মানুষের। ঐতিহাসিক রাখালদাস ব্যানার্জী ময়ূরভঞ্জের ভঞ্জ রাজাদের খেড়িয়া বংশোদভূত বলে মনে করেন। কারণ আবিষ্কৃত শিলালিপিতে উৎকীর্ণ ভঞ্জ রাজাদের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে তাদের পূর্বপুরুষরা ডিম ফুটে বেরিয়েছিলেন। খেড়িয়াদের মধ্যে অনুরূপ কাহিনী প্রচলিত থাকায় এইরূপ সন্দেহের কারণ। ময়ূরভঞ্জের অধিবাসীদের একটা বড় অংশ হচ্ছেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ভুক্ত। আমরা জানি যে সাঁওতালদের মধ্যেও অনুরূপ কাহিনী প্রচলিত আছে। এ ছাড়াও ভঞ্জ রাজাদের সঙ্গে সাঁওতালদের আর একটা জায়গায় মিল আছে তা হল সন্তান সন্ততির নামকরণ। ভঞ্জ রাজাদের মত সাঁওতালরা তাদের সন্তান সন্তুতির নামকরণ করেন তাদের পূর্বপুরুষদের নামানুসারে। সাঁওতালদের মধ্যে অনেককেই দেখেছি শহরে নগরে এসে বিজাতীয় মেয়ে বিয়ে করে গোত্র পরিবর্তন ঘটিয়ে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে। আমি দাবী করছি না যে ভঞ্জ রাজারা সাঁওতাল সম্প্রদায়ভুক্তই, কারণ এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। তবে তারা যে সাঁওতালি মঞ্জ যার অর্থ খুব ভালোতা থেকেই ভঞ্জ হয়ে যায়নি একথা কে বলতে পারে?

     

     

    সে যাই হউক হাঁস-হাঁসিল মানুষ দুটোকে দেখে হায়! হায়! বলে কাঁদতে লাগল।

    হায়! হায়! জ্বালাপুরীরে
    হায়! হায়! নুকিন মানওয়া।।
    হায়! হায়! বুসাড় আকানকিন
    হায়! হায়! নুকিন মানওয়া।।
    হায়! হায়! তকারে দহকিন হায়!
    হায়! দুসে লাই আয়বেন।।
    হায়! হায়! মারাং ঠাকুর জীউ হায়!
    হায়! বুঁসাড় অকাননকিন।।
    হায়! হায়! নুকিন মানওয়া
    হায়! হায়! তকারে দহকিন?

     

     

    (হড় করেন মারে হাপড়ামক রেয়াঃ কাথা থেকে সংগৃহীত) তিনটে পুরী আছে। স্বর্গপুরী, মর্তপুরী আর পাতালপুরী। মর্তপুরীই জ্বালাপুরী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে জ্বালা যন্ত্রণা আছে বলেই পাখি দুটো হায়! হায়! জ্বালাপুরী বলে রোদন করতে লাগল। তাই জ্বালাপুরীকেই হায়! হায়! ধ্বনি দিয়ে ধিক্কার জানাচ্ছে। Shame, Shame ধ্বনির মত।

    (রূপান্তর লেখকের)

    হায়! হায়! মর্ত্যপুরীতে
    হায়! হায়! এই দুই মানব।।
    হায়! হায়! জন্ম নিয়েছে হায়!
    হায়! এই দুই মানব।।
    হায়! হায়! এদের কোথায় রাখি?
    হায়! হায়! যাও বলনা গিয়ে।।
    হায়! হায়! মহান ঠাকুর জীউকে
    হায়! হায়! জন্ম নিয়েছে।।
    হায়! হায়! এই দুই মানব
    হায়! হায়! এদের কোথায় রাখি?

     

     

    হায়, হায় ধ্বনি এখানে দুই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম পঙক্তিতে যদিও মর্ত্যলোককে ধিক্কার জানানো হয়েছে তবে পরবর্তী পঙতি গুলিতে কিন্তু হায়, হায় দুই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। করুণা এবং ধিক্কার। কারণ মানুষ দুটোকে দেখে হাঁস হাঁসিলের সামনে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমত, তারা কোথায় থাকবে। দ্বিতীয়ত, তারা কি খাবে? হাঁস-হাঁসিল, পাখি তারা গাছের ডালে বাসা বানিয়ে থাকবে। কিন্তু মানুষ ত সেখানে বাস করতে পারবে না। তাই সৃষ্টিকর্তা ঠাকুর জীউ এর কাছে তাদের কাতর আবেদন নিবেদন। পাখিদের কাতর আবেদনে ঠাকুর সাড়া দিলেন। পাখিদের কাছ থেকে সব কথা শুনে তিনি তাদের তুলো দিলেন এবং পরামর্শ দিলেন যা খাবে তার রস দিয়ে তুলো ভেজাবে এবং খাবারের রস দিয়ে ভেজানো সেই তুলো মানুষ দুটোর মুখে দিয়ে নিংড়াবে। তারা তাই করতে লাগল। ক্রমে ক্রমে মানব মানবী দুটো বেড়ে উঠতে লাগল। তাদের বড় হতে দেখে পাখিদের চিন্তা বেড়ে গেল, ভয় পেতে লাগল, তাই তারা পুনরায় সৃষ্টিকর্তার স্মরণ নিল। সৃষ্টিকর্তা ঠাকুর জীউ তাদের থাকার জন্য একটা জায়গা খুঁজতে বললেন। তারা পশ্চিমদিকে উড়ে গেল এবং হিহিড় পিপিড়ির খোঁজ পেল। ফিরে এসে ঠাকুর জীউকে তারা সেই কথা জানিয়ে দিল। সৃষ্টিকর্তা মানব-মানবী দুটোকে সেখানে রেখে আসতে বললেন। ঠাকুরের কথামত পাখিরা মানুষ দুটোকে পিঠে করে হিহিড়ি পিপিড়িতে পৌঁছে দিল। তারপর হাঁস এবং হাঁসিলের কি দশা হল তা জানা যায় নি।

     

     

    এইভাবে শুরু হল যাযাবরের জীবন। তাদের কথায় পূর্বদিকে তাদের উৎস ভূমি। পূর্ব থেকে পশ্চিমে হিহিড়ি পিপিড়িতে এলেন। কেউ কেউ হিহিড়িকে হিমালয় পর্বত বলেন এবং পিপিড়িকে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সমতল ভূমি বলে অভিহিত করেন। ডাবলিউ. ডাবলিউ. হান্টার ও এই মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁর মতে হিহিড়ি এবং পিপিড়ি একটাই শব্দ। প্রজাপতিকে সাঁওতালি ভাষায় পিপিড়ি বলে। হান্টার হিহিড়িকে পিপিডির প্রতিলিপি বলেই মনে করেন। এবং হিহিড়ি পিপিড়িকে প্রজাপতির বাসোপযোগী হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বলেই মনে করেন।

    পৃথিবীর আদি মানব-মানবী যারা ডিম ফুটে বেরিয়েছে তাদের নাম দেওয়া হল হাড়াম অর্থাৎ বুড়ো এবং আরো অর্থাৎ মা। কেউ কেউ বলেন পিলচু হাড়াম অর্থাৎ পিলচু বুড়ো এবং পিলচু বুডহি অর্থাৎ পিলচু বুড়ি। পিলচু কথার অর্থ অতি ছোট। তারা পূর্বে জন্মেছেন এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে এসে হিহিড়ি পিপিড়িতে বাসা বেঁধেছেন। তারা ক্রমে ক্রমে বেড়ে উঠতে লাগল কিন্তু তাদের লজ্জার বালাই ছিল না। তাই একদিন হঠাৎ লিটা গডেৎ এসে উপস্থিত হলেন এবং তাদের কাছে ঠাকুরদা বলে পরিচয় দিলেন। তিনি তাদের বনে নিয়ে গেলেন। শেকড় বাকড় সংগ্রহ করে রানু (রান কথার অর্থ ঔষধ, তার থেকেই রানু হয়েছে) বানাতে শিখিয়ে দিলেন এবং সেই রানু দিয়ে হাঁড়িয়া ধরতে বললেন। তারা শ্যামা ঘাস এবং সুমতুবুকুচ ঘাসের দানা ছাড়িয়ে ভাত রান্না করলেন এবং পাত্রে ঢেলে সেই ভাত ঠাণ্ডা করলেন তারপর তার উপর রানু গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিলেন এবং সেই রাণু ছড়ানো ভাত হাঁড়িতে ঢেলে চাপা দিলেন। পাঁচদিন পর লিটা আবার এলেন ততদিনে ভাত পচে হাঁড়িয়ায় পরিণত হয়েছে, তার গন্ধে মাতাল হবার যোগাড় হয়েছে। লিটা সেই হাঁড়িয়া প্রথমে মারাং বুরুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে নিজেদের খেতে বললেন। সাঁওতালদের মধ্যে এই রীতি এখনো পালন করা হয়। প্রথমে মারাং বুরুকে উৎসর্গ করা হয়। তারাও তাই করলেন। প্রথমে মারাং বুরুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে অবশিষ্ট হাঁড়িয়া নিজেরা খেলেন। হাঁড়িয়া খেয়ে তাদের নেশা হল। তাই তাদের মধ্যে খুনসুটি শুরু হল এবং সবশেষে খুনসুটি করতে করতে একসময় এক বিছানায় শুয়ে পড়ল। সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছা পূর্ণ হল। পরদিন সকালে লিটা এসে পিলচু হাড়াম বুডহিকে ডাকতে লাগলেন। লিটার ডাক শুনে তাদের ঘুম ভেঙ্গে গেল, কিন্তু বাইরে আসতে সাহস হল না, কারণ এখন তাদের লজ্জা পাচ্ছে। তারা সেই কথা লিটাকে জানাল। লিটার সেই কথা জানাই ছিল। তিনি তাদের তাতে কি হয়েছে বলে আশ্বস্ত করলেন এবং হাসিমুখ করে চলে গেলেন। পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহি তারপর থেকে বটগাছের পাতা দিয়ে লজ্জা ঢাকা দিলেন। কাহিনী বাস্তবের উপর ভিত্তি করে রচিত। তাই কোথাও অতিরঞ্জিত করা হয় নি। যা যা ঘটেছিল তার কথাই হুবহু উল্লেখ করা হয়েছে।

     

     

    অবশেষে তারা সন্তান সন্ততির মা বাবা হলেন। তারা সাত ছেলে এবং সমপরিমাণ মেয়ের জন্ম দিলেন। পিলচু হাড়াম ছেলেদের নিয়ে একদিকে শিকারে যায় এবং তার পত্নী পিলচু বুডহি আর এক দিকে শাকপাতা তুলতে যায়। আদিম সাম্যবাদী গোষ্ঠী সমাজে মানুষ শিকার ফলমূল আহরণ করেই জীবিকা নির্বাহ করত। এখানে সেই কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভাবেই দিন যায়। ছেলেমেয়েরাও ক্রমেই বেড়ে উঠতে লাগল। একদিন ছেলেরা সবাই খাণ্ডেরায় পর্বতে শিকারে গেল। অপরদিকে মেয়েরাও সুডুকুচ পাহাড়ে শাক তুলতে গেল। শাক তোলা হয়ে গেলে মেয়েরা সবাই নিচে বটগাছের তলায় জড়ো হল এবং বটগাছের লম্বা ঝুরিতে দুলতে দুলতে ডাহার গান গাইতে লাগল। উল্টোদিকে ছেলেরাও শিকার শেষে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিল, কিন্তু মেয়েলি কণ্ঠের সুরেলা আওয়াজে তাদের যাত্রা ভঙ্গ হল। শিকার ছেড়ে তারা সুরেলা আওয়াজের সন্ধান করতে লাগল। গাছ তলায় পৌঁছে বড়জন বড় মেয়ের সঙ্গে, পরের জন তার পরের সঙ্গে এবং এইভাবে আর সবাই নিজেদের সমকক্ষের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাচগানে জায়গাটা মুখরিত করে তুলল। নাচগানের শেষে সেই অবস্থায় বাড়ি ফিরল। এই দেখে পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহি তাদের বিয়ে দিলেন। তাদের সন্তান সন্ততি হলে পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহি তাদের গোত্রে বিভক্ত করে সমগোত্রের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করলেন।

     

     

    ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে দেওয়াব রীতি যে এককালে মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল এঙ্গেলসও তা স্বীকার করেন। তিনি বলেন ভাই বোনের মধ্যে কেবল বিয়ে নয়, বাড়িতে যখন কেউ বউ হয়ে আসত সে কেবলমাত্র এক ভাই এর বউ নয়, বাড়ির সব ভাইএর বউ বলেই পরিচিত হত। বাবার অগ্রজ অনুজদের বউকে বড় মা ছোট মা বলে ডাকা থেকেই একথা প্রমাণিত হয় বলে তার মত। কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষ যখন নিকট আত্মীয়দের সন্তান সন্ততির সঙ্গে অনাত্মীয়দের বিয়ে করা ছেলেমেয়ের মানসিক বিকাশের পার্থক্য লক্ষ করল তখন থেকেই নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ হয়। এই কাহিনীও আমাদের সেই কথাই বলে। পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহি তাদের ছেলেমেয়েকে যে সাতটি গোত্রে বিভক্ত করেছিলেন সেগুলি হল, সবার বড় (১) হাঁসদাঃক (২) মুরমু (৩) কিস্কু (৪) হেম্ভ্রম (৫) মাড্ডি (৬) সরেন এবং সর্বকনিষ্ঠ (৭) টুডু। পিলচু হাড়াম এবং পিলচু বুডহির বংশধররা হিহিড়ি পিপিড়িতে অনেক দিন কাটিয়ে খোজ কামানে চলে এলেন। খোজ কামানে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। তারা পাপ পঙ্কিলে নিমজ্জিত হল। তারা বন্য জানোয়ারে পরিণত হল। তাই দেখে ঠাকুর ভীষণ চটে গেলেন। তিনি তাদের সৎ পথে ফেরার ডাক দিলেন। কিন্তু তাঁর ডাকে কেউ সাড়া দিল না। তাই তিনি একজন আদর্শ দম্পতিকে হারাতা বুরুর (পাহাড়ের) গিরি কন্দরে আশ্রয় দিয়ে ক্রমাগত সাতদিন এক নাগাড়ে আগুন বরষে সব মানুষ এবং তাদের গৃহপালিত পশুসহ সবাইকে মেরে ফেললেন। বেঁচে গেলেন শুধু একজন আদর্শ দম্পতি যারা গিরি কন্দরে আশ্রয় নিয়েছিল। অগ্নি বর্ষণ থেমে গেলে তারা গিরি কন্দর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঘর বাঁধলেন ক্রমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। তখন তারা হারাতা ছেড়ে সাসাংবেড়ায় এসে উপস্থিত হলেন। (আমার মনে হয় কাহিনীর এই অংশ ভাই বোনের বিয়েকে চাপা দেওয়ার জন্যই সংযোজিত হয়েছে)। এতদিন তারা পাহাড়ে জঙ্গলে কাটিয়েছেন। এইবার তারা ফাঁকা মাঠে বেরিয়ে এসেছেন। এই সাসাংবেডায় এসে তারা পুনরায় গোত্রে বিভক্ত হলেন। আগের সাতটি ছাড়াও এখানে আরো পাঁচটি যুক্ত হল। গোত্রগুলি হল : (১) হাঁসদাঃক (২) মুরমু (৩) কিস্কু (৪) হেম (৫) মাড্ডি (৬) সরেণ (৭) টুডু তার সঙ্গে যে পাঁচটি যুক্ত হল (৮) বাস্কে (৯) বেশরা (১০) পাউরিয়া (১১) চঁড়ে এবং (১২) বেদেয়া। নিম্নে প্রদত্ত সাঁওতালি গানে সে কথাই উল্লেখিত হয়েছে :

    হিহিড়ি পিপিড়ি রেবন জানামলেন,
    খোজ কামানরেবন খোজলেন।।
    হারাতারেবন হারালেন,
    সাসাংবেড়াবেরন জা(ই)ত এনাহো।।

    অর্থাৎ, হিহিড়ি পিপিড়িতে জন্মেছিলাম,
    খোজকামানে এসে বিপথিক হলাম।।
    হারাতায় এসে সংখ্যার বৃদ্ধি হল,
    সাসাংবেড়ায় এসে গোত্রে বিভক্ত হলাম।।

    সাসাংবেডা ছেড়ে দিয়ে পূর্বপুরুষরা জারপি দেশে এলেন। সমতল ছেড়ে পুনরায় পাহাড় জঙ্গলে ঢুকলেন। এইভাবে ঘুরতে লাগলেন। ঘুরতে ঘুরতে তারা একসময় সাতটি নদের দেশ চাই চাম্পায় এলেন। চাই চাম্পায় বহিরাক্রমণ প্রতিহত করবার জন্য অনেকগুলি গড় বা দুর্গের পত্তন করলেন এবং কুলহির শেষ প্রান্তে দেবদেবীর প্রতিষ্ঠা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাই চাম্পাও ছাড়তে হল। চাই চাম্পা ছেড়ে তারা তোড়ে পুখরিতে উঠে এলেন। এখানে বহুদিন পর্যন্ত ছিলেন। তোড়ে পুখরি ছেড়ে শিখরভুঁই ছাড়িয়ে সাঁত দেশে এলেন। এই সাঁত এ ছিলেন বলেই এদের সাঁওতাল বলা হয়। কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। সবাই সাঁতএ ছিলেন না, কিছু লোক ছিলেন তারা এখনো আছেন। পরবর্তী কালে সাঁত ছেড়ে শিখর ভুঁইএ এলেন। শিখরভুঁইএর মহারাজের বশ্যতা স্বীকার করে নিলেন। অবশেষে সেটাও ছেড়ে দিয়ে টুণ্ডি হয়ে সাঁওতাল পরগণায় এলেন। ঘোরবার সময় কোথাও কোথাও দিকুদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও তারা জিতেছেন, আবার কোথাও পরাজিত হয়েছেন।

    কাহিনীর শেষাংশ সাঁওতাল পরগণা থেকে সংগৃহীত বলেই সাঁওতাল পরগণার কথা উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, সাঁওতাল পরগণার অধিবাসী কেবল সাঁত এবং শিখরভুঁই এর অধিবাসী নন, তারা মানভূম, বরাহভূম, সিংভূম এবং বীরভূমেরও অধিবাসী। তাই তাদেরকে কেবল সাঁত এর অধিবাসী বলে উল্লেখ করা ভুল।

    সাঁওতালরা ছিলেন কৃষিজীবী। গ্রামকেন্দ্রিক সভ্যতার ধারক এবং বাহক। তাই তাদের যাত্রা পথে যে সব জায়গার নাম উল্লেখিত হয়েছে সেগুলি সবই গ্রামের নাম এবং এই জন্যই ইতিহাসের পাতায় তাদের বিবরণ খুঁজে পাই না, কারণ প্রাচীনকালের ইতিহাসে কেবল মাত্র রাজা, রাজড়া এবং তাদের রাজ্য এবং রাজধানীর নাম লিপিবদ্ধ আছে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাউলকবি রাধারমণ গীতি সংগ্রহ
    Next Article বৃহজ্জাতকম্ – বরাহমিহির
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }