Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প69 Mins Read0
    ⤷

    ১. প্রাজ্ঞ কুয়ো

    ১. প্রাজ্ঞ কুয়ো

    জায়গাটা নির্জন। ডালপালা মেলে কিছু গাছ বসবাস করে। যেমন একটা বুড়ো অশথ। ঋতুতে ঋতুতে যার ছোকরা সাজবার, টেরি ঘোরাবার সাধ যায়। ডুমুর গাছটা উঠে ছিল প্রথম পাঁচিল ফাটিয়ে। আরও তুবড়ে গেছে পাঁচিল, কিন্তু তার ইট বেয়ে বেয়ে ডুমুর পেয়ে গেছে তার পায়ের তলার মাটি। বড় বড় খসখসে পাতাগুলো বুড়ো হয়ে গেলে ঝুপঝাপ করে নীচেই পড়ে। বৃষ্টিতে ভিজে, পোকা পতং এর সঙ্গে মিলেমিশে রোমশ মাটি তৈরি করতে থাকে, তার ওপরই ডুমুরের বাড় বাড়ন্ত। বনতুলসীর একখানা ঝোপ রে রে করে চার দিকে ছড়িয়ে পড়ে একখানা থেকে দশখানা হয়ে গেছে। কোথায় তার শুরু, কোথায় শেষ বোঝা দায়। তুলসী মঞ্জরীর সোঁদা সোঁদা বুনো গন্ধে ভারী হয়ে থাকে হাওয়া। এরই মধ্যে আছে দাগড়া দাগড়া শিরকাটা পাতার এক আদ্যিকালের গুলঞ্চ। ক্বচিৎ কখনও ফুল ধরে। তাতেই তার গুমোরে মাটিতে পা পড়ে না। এবড়ো খেবড়ো মাটি আঁকড়ে থাকে শিয়ালকাঁটা, পাথরকুচি, দুব্বো ঘাস।

    সে এখানেই ছিল। জ্যামিতিক বিন্দুর যেমন দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেধ নেই তবু সে আছে, তারও তেমন জল নেই, পাড় নেই, ব্যবহার নেই তবু সে ছিল। যে যেখানে থাকে তার কিছু কাজ, কিছু দায়ও থাকে। অশথটা ঝিলিমিলি আলোছায়া দেয়, নতুন ফাগুনে পাতায় পাতায় শ্যামকাঞ্চন বাহার দেয়, শুঁয়োপোকা লাগলে লোকে দুদ্দাড় করে ছুটে এসে গোছা গোছা ডুমুর পাতা নিয়ে যায়, শুঁয়োলাগা গায়ে ঘষলেই শুঁয়োগুলো উঠে আসবে, এমনই তার গুণ। ডুমুরও পেড়ে নিয়ে যায় লোকে, রেঁধে খাবে। তুলসীর পাতা নেয় মুঠো মুঠো, সর্দি কাশিতে কাজে লাগে, তুলসী নির্বিকারে দিয়ে যায়, ভারী একটা আত্মপ্রসাদ তার। গৌরব। অফলা গুলঞ্চটার অবধি আঁকাবাঁকা ডালে কেমন অনৈসর্গিক চিত্ররূপের বাহার! কোনও এক বছরে প্রচুর হলুদগর্ভের ফুল সে ফুটিয়েছিল, ভবিষ্যতেও ফোটাবে বলে হৃষ্ট হয়ে আছে। শুধু তারই প্রশ্ন প্রখর রোদের টান ওঠা গ্রীষ্মের আকাশের দিকে চেয়ে।

    রোদ বলে— আমি খুঁড়িনি হে, আমায় শাপান্ত কোরো না।|

    আকাশ বলে— রোদে জলে আমার বুক বারো মাস ভেসে যায়, সে কি আমার দোষ? তার উৎপত্তি প্রকরণ আমি কি কিছু জানি?

    গ্রীষ্ম বলে— দিনে আসি রাতে যাই, কারও কথায় আমার কাজ নাই।

    কত গভীর করেই না খুঁড়েছিল। খুঁড়তে খুঁড়তে পাতালে পৌঁছে গিয়েছিল, বাসুকি নাগের রাজ্যে। নাগ গর্জন করে বলেন— জল নেই, খুঁড়ো না, ফিরে যাও।

    — কিন্তু এ তো নিয়মের বাইরে নয় নাগ। পাতালপ্রদেশে জল থাকে, মাটির আঁশ আঁট কাঁকরের বড় ছোট নানান স্তর পেরিয়ে জলের ধারা চুঁইয়ে চুঁইয়ে সে তোমার রাজ্যেই স্বচ্ছ অমল সলিল হয়ে জমা হয়।

    — হত, হচ্ছে না। পাতাল রাজ্যে হাহাকার। আশে জল পাশে জল, জল আমাদের রসাতল, তো সেই অতলান্তিকে টান পড়েছে হে। ফেরত যাও।

    তবু খন্তারা ফেরে না। তখন ক্ষ্যামা ঘেন্নায় বাসুকি এক আঁজলা জল দিয়েছিলেন। সেই এক অঞ্জলি এখনও তার হৃৎ প্রদেশে জমা আছে। সযত্নে রেখেছে। বর্ষাবাদলে একটু বাড়ে, গ্রীষ্মে উবে যায়। পড়ে থাকে যোগ বিয়োগের শেষে নিট ফল সেই আদি এক অঞ্জলি জল। তাতে পাতা ঝরে, পাতা পচে, ঘন সবুজ কালচে মতো শ্যাওলাদাম, তলায় ভিজে মাটিতে থকথকে গোড়ালি ডোবা কাদা। তাতে উই চিংড়ি, জলমাকড়, ব্যাং ব্যাঙাচির ফরফরানি, পাঁকাল কালো শ্যাওলাগহন বুক আর মুখ, যা হৃদয় তাই-ই তার নয়ন, তাইই শ্রবণ, এমন এক এ পাঁচ পঞ্চেন্দ্রিয় নিয়ে সে প্রশ্ন উঁচিয়ে জেগে থাকে গোল নীল রুটির মতো দৃশ্যমান আকাশটুকুর দিকে মুখ করে।

    বেড়াল লাফিয়ে নামে শব্দহীন পায়ে। পার হয়ে যায় সা নির্জন, মনুষ্য সংসারের পাঁচিলে আলসেয় ঘোরাফেরাই তার স্বাস্থ্য বজায় রাখে। নেড়ি কুকুর তুরতুর করে দৌড়ে যায় শুকনো পাতায় খড়খড় শব্দ তুলে। তুলসীঝোপের পাশটাতে তার আঁতুর, কুঁই কুঁই করতে করতে সেখানেই সে ঝুলিভর্তি বাচ্চার জন্ম দেয়। কামড়াকামড়ি, মারামারি, রঙ্গভঙ্গ গড়াগড়ি, সে বেড়াল বলো, কুকুর বলো, ইঁদুর ফড়িং সব বাবাজির জীবলীলা অবাধে চলতে থাকে এই ভূমির ওপর। এই সব ইতর জীবনের চলাচল, শব্দবর্ণগন্ধ — সবই সে টের পায়। কিন্তু তার কাছে কিছু চেয়ে কেউ আসে না। অশথ, ডুমুর, তুলসীদের কাছে প্রাণীর প্রার্থনা আছে, তার কাছে নেই কোনও প্রত্যাশা, কোনও প্রার্থনা। এবং এ তার এক রহস্যময় অহেতুক ভয়ও বটে। যদি গহ্বর দেখে কেউ তেষ্টা নিয়ে আসে? যদি বলে, জল দাও। স্নায়ুতন্ত্র দিয়ে ভয়ের শিহরন বয়ে যায়, লজ্জার। শিহরন বেয়ে বেয়ে মাকড়সারা উঠতে থাকে লম্বা সরু শনের ফেঁসোর মতো ঠ্যাং এ, ইঁদুর হেঁটে যায় ছাতা হাতে সার্কাস মেয়ের মতো, ব্যাঙ লাফিয়ে লাফিয়ে পার হতে থাকে গিঁটের পর গিঁট। এবং গভীর রাতে কটু গন্ধে ভরে যায় তার চার পাশ। অন্ধকারে অগ্নিমুখ জ্বলে নেভে, জ্বলে নেভে। অজ্ঞান অন্ধ তিমিরে গা মিশিয়ে নেশা করে রোগা রোগা, হনু জাগা, চোয়াল সর্বস্ব গেঞ্জি লুঙ্গি। শিঁটকে যায় সে। কুকুর বেড়াল আদি যতেক প্রাণী তো মলমূত্র ত্যাগ করছেই, মানুষও বাদ যাচ্ছে না। জল বাতাস আলো রোদ শুষে নিচ্ছে যা পারছে, বাকিটুকু মাটির দায়। বর্ষাকালে আরও সবুজ, আরও সরস হয়ে উঠবে। কিন্তু এই কটু গন্ধের তরল বাষ্পীয় নেশা দ্রব্য মাটি নেয় না। বায়ু প্রত্যাখ্যান করে। তাই দশগুণ হয়ে সে ঝাঁঝ পাক খেতে থাকে তার বদ্ধ বাতাসে। সে হাঁপিয়ে ওঠে, ককিয়ে ওঠে। কেননা, সে এক নিষ্ক্রিয়, নিষ্কর্মা কুয়ো, যে কোনও দিন জল দিতে পারেনি বলে তার পাড় আধ বাঁধাই রেখে লোকে চলে গেছে।

    জায়গাটা কিন্তু বনজঙ্গল নয়। গ্রামগঞ্জও নয়। খুঁজতে জানলে শহর বাজারের আনাচে কানাচে কিছু কিছু এমন পোড়ো জমি পাওয়া যায়। আশে বাড়ি, পাশে বাড়ি, একতলা, দোতলা, ফ্ল্যাটগুচ্ছ, বড় বাড়ি, ছোট বাড়ি, টালিচাল, খোলা চাল, গা ঘেঁষাঘেঁষি ঘোঁট এক, দলা পাকিয়ে রয়েছে একেবারে অপরিকল্পিত। বাড়িগুলোর পেছন বাগে পকেটে আধগোঁজা রুমালের মতো এলোমেলো পড়ে থাকে ক্ষেত্রফলের হিসেবের বাইরের কোনাচে, আঁকা বাঁকা জমি। হিসেব করে যার মালিকানা শেষমেশ সাব্যস্ত হল, ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে একটু পাঁচিল দিল কি না দিল, কোণে কোণে থাম গেঁথে রাখল। তার পর জমি প্রকৃতি ও প্রাকৃত জনের খপ্পরে। কে জানে হয়তো জমির জমিদার সব দরকারের মূল দরকার জল বুঝে সর্বাগ্রে কুয়োটাই খুঁড়তে গিয়েছিল। জল না পেয়ে আর দালানটা তোলেনি। কালে কালে লোকে ভুলে যাক জলহীনতার কথা, তখন ভাল দামে বেচবে।

    এরাও কিন্তু কংক্রিট জঙ্গলের এক ধরনের ফুসফুস যন্ত্রই। তাই গুল্টু, প্যান্তা, মাকু, গনারা গুলতানি করতে এখানেই আসে। নেশার আসর, জুয়োর আসর। কিছু পাতি লাভার এবড়ো খেবড়ো পাঁচিলের ধার বুঝে তোয়ালে পেতে বসে, ফুসফুস গুজগুজ, গোলাপায়রার মতো ঠোঁটে ঠোঁট বুকে বুক ধুকপুক কিছুক্ষণ তাক বুঝে। তার পর সরে যায়। পোড়ো। যতই পোকা পাখি, জন্তু জানোয়ার, নেশাড়ে, লাভাড়ু আসুক মোটের ওপর পোড়ো জমিতে একখানা পোড়ো পাতি কুয়ো, যার এক আঁজলার বেশি মুরোদ নেই।

    জলজ্যান্ত হয়ে থাকার যখন উপায় নেই তখন তার গরজ কী? সে ঝিমিয়ে থাকে। চার পাশে যা ঘটছে ঘটুক। বেড়ালে বিয়োক, কুকুরে পেচ্ছাপ করুক, মানুষে ফুঁকুক, তার এ দিকে ও দিকে যে সব বাড়ির খিড়কি, সেখান থেকেও কি কলহবিবাদ, তুলকালাম ভেসে আসে না? পুরুষ গলায়, মেয়ে গলায়, বুড়ো গলায়? করুক করুক, যার যা ইচ্ছে করুক গে, মরুক গে যাক। তার বুকে তো আকাশটুকুও ছায়া ফেলে না। শুকনো, পাতি, বাপে তাড়ানো, মায়ে খ্যাদানো নিমুরুদে কুয়ো একখানা! বিশ্ব সংসারের কোথায় কী ঘটছে না ঘটছে, তাতে তার কী এলো গেলো? তাই যখন নিশুত রাতে কোথাও একটা আর্তনাদের মুখ চেপে ধরল কেউ, সে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বুঝল ঠিকই, একটা অসৈরন কিছু ঘটছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কিছু পরেই ধুপধাপ। বাঁদরের না মানুষের পায়ের শব্দ ঠাহর হয় না। গুমসোনি গোঙানি। তার ভাঙা পাড়ের কাছে দুর্গন্ধ শয়তানি জটলা একটা, তীক্ষ্ণ শিশুগলার চিৎকার, তার পরেই বদ্ধ বাতাস তোলপাড় করে। কাদা কাজল বাসুকিদত্ত সেই এক আঁজলা জলে ধুপ করে কিছু একটা পড়ল। খুব দামি জিনিস সে বুঝল। শিশু একটি। কান্না অচিরেই থেমে যায়। সে কাঁটা হয়ে ছিল, কিন্তু বুঝে যায় একেবারে কোলটিতে পড়েছে সে হাঁটু গেড়ে, কাদায় পুঁতে গেছে তলাটা। পড়ে আর ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, নেতিয়ে গেছে বাবুটা। এমন অদ্ভুত ঘটন তার জীবনে আর কখনও ঘটেনি।

    একটা গলা বলল— যাঃ, নিশ্চিন্ত।

    আকাশ উধাও। তিন চারটে মুণ্ডু ঝুঁকে পড়েছে। ভাল হয়েছে স্বচ্ছ সলিল নেই। সে ক্ষেত্রে শয়তানি বিম্ব ধরতে হত তাকে চার চারটে। হাত ঝেড়ে ঝুড়ে সব চলে গেল ভারী ভারী পায়ে।

    সকালবেলায় থানা পুলিশ ছয়লাপ। লোক ভেঙে পড়েছে বাইলেনের সরু পরিসরে ৫/১ নম্বরের উঠোনে, রোয়াকে। কার্তিক সামন্ত মশাইয়ের নাতিকে মাঝরাতে তুলে নিয়ে গেছে জনা কয়েক মরদ। পাঁচিল টপকে ঢুকেছিল। উঠোন, দাওয়া, ঘর ঘরালি তাদের বিলকুল চেনা, তা নয়তো কোণের ঘরে দাদুর কাছে ছোট্ট নাতি ঘুমোচ্ছে, সে ঘরের দরজা বন্ধ করলেই কাঁদে, এ সব কথা তারা জানবে কী করে? ঠাকুমার কাছে নাতি শোয়। কিন্তু দু’আড়াই বছরের বাচি দাদুর কাছে, একটু আলাদা রকম না? অন্ধকারে তাঁর পাঁজরের কাছে খোঁচা লেগেছিল। চাঁদ আড়াল করে মানুষের মুণ্ডু — কে? কে? — দরজা দিয়ে ততক্ষণে চম্পট দিচ্ছে কেউ কেউ। শিশুটির মুখে হাত চাপা। একটা ঝিম ধরানো মিষ্টি গন্ধ তাঁর নাকে ঠেসে ধরছে কেউ। তাঁর জ্ঞান লোপ হয়। তবু তাঁর মনে আছে তাঁর চিৎকারে ছেলে বউয়ের ঘরের দরজা খুলেছিল। এখন শুনছেন ঘরের ভেতর তারা রক্তমুখী লাশ হয়ে আছে। মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন বৃদ্ধ।

    ভোরের আলো ফোটার পরে সদর খোলা পেয়ে গোয়ালা দেখে ঘরে ঘরে শেকল তোলা। সেই গিয়ে পাড়ার লোক ডেকে আনে। কিছু খোয়া যায়নি। সামন্তর বালিশের নীচে সিন্দুকের চাবি, লকারের চাবি সব যেমন কে তেমন। খালি ছেলে বউ খুন। একমাত্র নাতিটি গায়েব।

    পুলিশ ছবি তোলে। মাপজোক নেয়। আর তার পরেই হামলে পড়ে বুভুক্ষু খবুরে লোকেরা। কেউ ছেপে বের করবে, কেউ চলচ্ছবি তুলে বয়ান দেবে। টেলিভিশন, খবরের কাগজ উপুড় হয়ে পড়েছে ডেডবডিগুলোর ওপর। বেবাক বৃদ্ধটির ওপর। সে ভদ্রলোকের ঘোর কাটছে না। মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ শব্দ হচ্ছে যেন। হঠাৎ তিনি ডুকরে ওঠেন, কী যে বলতে চান ভাল বোঝা যায় না। সেই বোবা আর্তনাদের টিকা টিপ্পনী বার হতে থাকে নানান রকম।

    — বুড়োটাকে বাঁচিয়ে রাখলি কেন বাবা। যা চাইতিস তাই না হয় দিয়ে দিতুম রে মেধো! জোয়ান ছেলে বউ আমার…দুধের ছেলেটা…কথা হারিয়ে গেল বৃদ্ধর। ‘মেধো’ অংশটুকু পড়ে ফেলল পুলিশ এবং অনেকেই। কে এই মেধো? এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দিল জনতা। মেধোরা চার মস্তান, এ তল্লাটের সন্ত্রাস। তোলাবাজি প্রধান কাজ, ড্রাগ বিক্রি দ্বিতীয়। শাসানি হুমকি ইদানীং বেড়েছে। এইটুকু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সবাই।

    বিলাপের শেষের অংশটুকু যার কানে ইয়ার প্লাগের মতো আটকে ছিল, সে শশাঙ্ক। পদবী নিষ্প্রয়োজন। ছ’ ফুটের সামান্য বেশি লম্বা, ছত্রিশ ইঞ্চি বুকের হিলহিলে ফ্যাকাশে ফর্সা অনতিযুবক এক। খ্যাতনামা কাগজের রিপোর্টার। দু দু’বার পুরস্কার পেয়েছে। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমে তার দক্ষতা বিস্ময়কর। কিন্তু তার নিয়ন্তাদের নিশ্চয় কিছু অসুবিধে ছিল। তাই বেশ দীর্ঘ সময় তাকে রাজনৈতিক রিপোর্টিং এ চালান করা হয়েছিল। তার যোগ্যতার লোক তো তাইই যায়। গণনেতারা বাইরে গেলে সার্ক সম্মেলন কী ইউ এন এর কনফারেন্স, ইউনাইটেড স্টেটসে বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক কী পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি প্রয়াস…। শশাঙ্কর কাছ থেকে টেবিলাতিরিক্ত অন্দরের খবর পাওয়া যেত। নেতাদের চোখ মুখের ভাষা পড়তে যথেষ্ট কেরামতি দেখিয়েছে সে। কিন্তু ইদানীং সে এ ব্যাপারে তার চিফের কাছে অব্যাহতি চেয়েছিল। তার ক্যালির লোক আবার ফিরে এসেছে রহস্যময় খুন জখম, অপহরণ ইত্যাদির আসরে।

    তাকে বলা হয়েছিল— আগেরটা অনেক আরামের এবং নিরাপদও, যদি না প্লেন হাইজ্যাক হয় বা মন্ত্রী মহাশয়দের লোপাট করতে গাড়ি বোমা টোমা ব্যবহার হয়। সম্মান বেশি তো বটেই। শশাঙ্ক জানে, কিন্তু আর করবে না। পুলিশের কুকুরের মতো অকুস্থল শুঁকে শুঁকে অপরাধের নাড়িভুঁড়ি টেনে বার করাতেই যেন তার কেমন একটা অসুস্থ উৎসাহ।

    শশাঙ্ক দাঁড়িয়েছিল শেষ প্রান্তে। লম্বা বলে তার কিছু বাড়তি সুবিধে আছেই। ‘দুধের ছেলেটা’ শুনতে পেয়েই তার খবরের নাক কান সক্রিয় হয়ে গেল। দুটি খুন, একটি শিশু উধাও— গুরুত্বের দিক দিয়ে কোনটা প্রায়রিটি পাবে? শশাঙ্কর ব্রেন বলল— খুন যারা হয়েছে তাদের তো হয়েই গেছে। কিন্তু শিশুটি কোথায় গেল? খুনের গন্ধে গুড়ে মাছির মতো আটকে পড়া কাগুজে লোক ও পাড়াপড়শির ভিড় থেকে আলগা হয়ে সে খোঁজ করতে লাগল দুধের শিশুটি কে?

    উত্তর জোগাড় হল এই রকম— সামন্তরা ব্যবসায়ী পরিবার। কাপড়ের দোকান, বড় মনোহারী দোকান, আটা চাক্কি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেটসের দোকান, রেশন দোকান ইত্যাদি অনেক কিছু আছে এদের। ছোট গণেশ মারা গেছেন। তাঁর ছেলেপুলেরা ৫ /২ এ থাকে। কার্তিক সামন্তর ছেলে কানাই সামন্তকে তার স্ত্রী সহ খুন করে গেছে কেউ। তাদেরই ছেলে আড়াই বছরের চিনচিন। খুব মিষ্টি বাচ্চা, দু পরিবার তো বটেই, সবাইই তাকে খুব ভালবাসে। একটু চিনে চিনে দেখতে। পাড়াতে অবাধে খেলে বেড়ায়। কে তাকে নেবে? কেনই বা?

    কে, কেনর থেকে কোথায় টাই শশাঙ্ককে বেশি ভাবাতে লাগল। যারা তার মা বাবাকে খুন করেছে তারা তাকেও খুন করেনি কেন এটা একটা বড় প্রশ্ন। কিন্তু তাদের হাতে তো সে খুব নিরাপদও নয়।

    এই সময়ে ইলেকট্রিক শকের মতো কিছু একটা তার মগজে ধাক্কা মারল। সে আস্তে আস্তে একেবারে বাইরে বেরিয়ে এল। কোথা থেকে একটা সংকেত আসছে, তার অ্যানটেনা সেটা ঠিকঠাক ধরতে পারছে না। তার এ রকম হয়। তার লাইনে এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়টা খুব জরুরি। একটা থিয়োরি গড়ছে ভাঙছে। শিশু গায়েব। বৃদ্ধ বেঁচে, যুবক যুবতী খুন। খুন, অ্যাবডাকশন দুই-ই। সে ভীষণ চঞ্চল বোধ করছে। শিশুটির খোঁজ চাই। মুক্তিপণের জন্য যদি সে অপহৃত হত, তা হলে তার মা বাবা খুন হল কেন?

    রোদ চড় চড় করে বাড়ছে। পুলিশ বডি নিয়ে চলে গেছে। কার্তিক সামন্তকে তাঁর ছোট ভাইয়ের বাড়ির লোকেরা হাত ধরে ও বাড়ি নিয়ে গেল। এ বাড়ি পুলিশ সিল করে দিচ্ছে। পাহারা বসছে। দুটো নাগাদ পুলিশ কুকুর মিলখা আর বেটি এসে গেল। চরকি ঘুরছে অ্যালসেশিয়ান দুটো। ভারী কাঁধ ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বাঘের মতো চেহারার মিলখা মাটি শুঁকছে, এগিয়ে যাচ্ছে। পেছনে পেছনে বেটি। পুলিশ জনতাকে ঠেকিয়ে রাখছে। কিন্তু ধার দিয়ে দিয়ে তারা এগোচ্ছেই। সোজা সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে মিলখা আরও এগিয়ে যায়। তরুণী বেটি যেন একটু দ্বিধাগ্রস্ত। সে কি ডান দিকে ফিরতে চায়? মিলখার প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে বেটি যেন পরাজিত। শশাঙ্ক ডান দিকে বেঁকে গেল। গলি একটা। ইটপাতা। দু’পাশে মফস্‌সলি চেহারার বাড়ি সব। গলিটা গিয়ে পড়েছে পেছনের সড়কে। সড়কের ওধারেও ছাড়া ছাড়া বাড়ি, মাঝে ডোবা কচুরিপানায় আটক। ঘোরাঘুরি করে অ্যানটেনা ব্যর্থ হওয়ায় চিন্তিত মুখে সে অফিসে ফিরে গেল, রিপোর্ট তৈরি করে দিল। তার পর বাড়ি ফিরে গেল। একেবারেই আনমনা।

    তখনও চার দিকে ঘষাকাঁচ অন্ধকার। কুয়ো তার তরঙ্গ পাঠাচ্ছিল প্রাণপণ। তরঙ্গগুলো কুয়োর গোলাকৃতি মুখ পর্যন্ত ঝটিতি উঠে এসে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছিল চার দিকে। রাতের কুকুর তার চার পাশ ঘিরে ডেকে ডেকে ফিরে গেছে। রাতপাখি তীব্র গলাচেরা ডাক ডেকেছে, অশথ ডুমুর গুলঞ্চ তুলসী স্তব্ধ কাঁটা হয়ে ছিল সারা রাত। এখন ভোর কুয়াশায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমশ। ইমপ্রেশনিস্ট ছবির মতো। শশাঙ্ক এসে ঢুকল, হাতে জোরালো টর্চ।

    সারা রাত সে ঘুমোতে পারেনি। মগজের মধ্যে সূক্ষ্ম একটা তার পিড়িং পিড়িং করে কেঁপে গেছে। শিউরে শিউরে উঠেছে রগের কাছটা। ভোররাত্তিরে বিছানা ছেড়ে চটপট তৈরি হয়ে ট্যাক্সি নিয়ে সে চলে এসেছে। এই তো দুই বাড়ি ৫ /১, ৫ /২। সামনে বাইলেন এসে পড়েছে বড় রাস্তায়, রাস্তা ধরে চলে যাও দক্ষিণমুখো। এইখানে ডাইনের বাঁক, ঘোরো। পৌঁছও এসে ইটপাতা রাস্তায়। এটা গিয়ে পৌঁছেছে বড় রাস্তার সমান্তরাল একটা খিড়কির রাস্তায়। বদ্ধ ডোবা, জলাশয়, কাঁচাবাড়ি, পাকাবাড়ি। দু’তিন বাড়ির মাঝে গোঁজা আধভাঙা পাঁচিলে ঘেরা পোড়ো জমিটা সে পেয়ে যায়। রগ লাফাচ্ছে এখন। পাঁচ-ছটা এলোমেলো গাছ। তুলসীর গন্ধে ঝিম ধরে আছে। নেড়িকুত্তার বিষ্ঠা, আধলা ইট আর দুব্বো ঘাসের ঠাস বুনোট জালে ঠোক্কর খেতে খেতে সে কুয়োর পাড় অবধি পৌঁছয়, এবং তার পরেই সেই গহ্বরের ভেতর থেকে পাক খেতে খেতে উঠে আসে কান্না। খুব ক্ষীণ। মানব শিশুর নাও হতে পারে। কুয়ো তাকে প্রবল টানে টেনে ধরে। শশাঙ্ক কিনার থেকে মুখ বাড়িয়ে টর্চের আলো ফেলে। জোরালো আলো অন্ধকার ফুঁড়ে ছুটে যায়। একটি ছোট্ট মাথা, নগ্ন পেট ও দুটি ছোট ছোট হাত। খুব আবছা তবু চেনা জিনিস। মনুষ্য শাবক। ঝট করে হাতে উঠে আসে সেলফোন। পুলিশ এবং দমকল। কাদামাখা পোকায় কাটা, ইঁদুরে খাওয়া, মৃতপ্রায় শিশুটি হাসপাতালে চলে যায় দ্রুত।

    কেন সে জলহীন, কেন তার গর্ভে দশ বারো আঙুল মসমসে শ্যাওলার গদি, সাটিনের মতো পাঁক। কেন তালপুকুরে ঘটি ডোবে না জল — সমস্ত বুঝে স্তব্ধ থাকে সে। পার্থিব নিয়মকানুনের ছকখানায় যে সব কিছুরই একটা উদ্দেশ্য বিধেয় আছে, এমনকী তার আপাত অর্থহীন অস্তিত্বেরও একটা মানে একটা নির্দিষ্ট কাজ ছিল, এই কথাটা হৃদয়জাত করে রোমহর্ষ হয় তার এবং সেই ভূখণ্ডে সাক্ষ্য প্রমাণাদি সংগ্রহের জন্য অতঃপর যে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়, তার মধ্যেও সে শান্ত, ধীর স্থির, যাকে বলে স্থিতপ্রজ্ঞ থাকে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছোটোগল্প – বাণী বসু
    Next Article কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }