Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤷

    একটু জীবনের বর্ণনা

    খাটে শোয়ানো মাকে কাঁধে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেটের কাছে দাঁড় করানো ম্যাটাডোরে তোলবার সময় রমিত একঝলক মেয়েটাকে দেখতে পেল। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের মতোই মুখটা তার থমথমে হলেও চোখ দেখে কাঁদেনি বোঝা গেল।

    বুবাই বলল, ‘ডেথ সার্টিফিকেটটা নিয়েছিস তো?’

    রমিত বলল, ‘মামার কাছে আছে।’

    ‘কই মামা? ওটাকে কয়েক কপি জেরক্স করে নিতে হবে’, বলে বুবাই মামাকে খুঁজতে চলে গেল।

    রমিত ম্যাটাডোরে উঠতেই জামাইবাবু বললেন, ‘মা-র মাথার কাছটায় বসে হাতটা ছুঁয়ে থাক।’

    আজকে সবাই কেমন যেন রমিতকে একটা বিশেষ খাতির করছে। মা মারা গেলে মানুষ কি হিরো হয়ে যায়? অটোগ্রাফ চায়? সকালের প্রথম দিকটায় সবার কাছ থেকে এমন একটা এক্সট্রা কেয়ার বেশ অস্বস্তি লাগছিল রমিতের। এখন অনেকটা সয়ে গেছে। বুকের ভেতর দু:খের গুমগুম শব্দটার ফাঁকে-ফোঁকরে পরিজনদের এই আলাদা নজরটায় একটা অদ্ভুত নরম নরম ভালো লাগছে। তিরিশ বছর বয়সেও যে ছেলে পাঁচ-ছ’টা টিউশনি ছাড়া কোনও চাকরি-বাকরি জোটাতে পারে না, তার যে অন্য কারও কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করতে নেই, রমিত সেটা জানে। করেও না। দুটো সেলসম্যানের চাকরি করেছিল কিছুদিন। প্রথমটা ছিল নাইলনের ঝাঁটা আর ফিনাইল বিক্রি। মাসিক বারোশো। এক মাস ধরে ডোর-টু-ডোর পাবলিকের খিস্তি শোনার পর মজুরিটা খুব কম মনে হতে ছেড়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয়টা আঠেরোশো। ওয়াটার পিউরিফায়ার। শৌচাগার নি:সৃত জলও মিনারেল ওয়াটার বানিয়ে দেওয়ার গ্যারান্টিযুক্ত। জ্যৈষ্ঠ মাসে পাঁচ দিন দুপুরবেলা কলকাতা চাটবার পর পঞ্চাশ দিন জন্ডিস আঁকড়ে শুয়েছিল। আর যায়নি।

    ‘হ্যাঁ রে, কাকু কেমন আছেন?’ দীপু জিগ্যেস করল।

    ‘আছে। দিদি আর ছোটকাকু রয়েছে কাছে।’

    বাবা যে ঠিক কেমন আছে সেটা বোঝার ক্ষমতা একমাত্র ডাক্তারেরই রয়েছে। গত বছর ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন তুলে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ স্ট্রোক হয়ে পড়ে গিয়ে প্যারালাইসিস। কথা বলার শক্তিটা পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গেছে। বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে শুধু তাকিয়ে থাকতে পারে। দৃষ্টিটাও কেমন যেন অসার, শূন্য। বাবা বুঝছে হয়তো সবই। শুধু প্রকাশের ক্ষমতা নেই। মানুষ কি ভেতরে ভেতরে চোখের জল ফেলে কাঁদতে পারে? পারলে ভালো হয়। অন্তত বাবার মতো মানুষের।…আবার মেয়েটা। ম্যাটাডোরে মাকে ছুঁয়ে থেকে দেখতে পেল রমিত। মেয়েটা একবার রমিতের দিকে তাকাল। তারপর অদূরে দাঁড়ানো নীল রঙের মারুতি ভ্যানটায় উঠে বসল। তার মানে শ্মশানে যাবে। আশ্চর্য, কথাটা ভেবে ভালো লাগছে কেন রমিতের? গাড়িটা বড়কাকুর। তা হলে কাকুর কেউ হবে কি? মুখটা আগে কখনও দেখেছে কি না একবার মনে করবার চেষ্টা করলও। না, মনে পড়ছে না। ধু-স-স এখন এইসব…। তবে বড়কাকুর কেউ নাও হতে পারে। এই সময় তো সবাই সবার খুব আপন হয়ে যায়। ওই যে জামাইবাবু, সকাল ন’টা থেকে এন্তার ভলান্টারি সার্ভিস দিয়ে চলেছেন, নইলে অন্য সময় এইরকম ফ্রিতে নিজের বউকে ভালোবাসেন কি না সন্দেহ। বড়লোক ঘরে বিয়ে হয়ে দিদিও এই বছর দুয়েকের মধ্যে কেমন যেন কাগজের ফুল হয়ে উঠেছে। রূপে অমর কিন্তু গন্ধ নেই। একটা হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি আর ব্লাউজ পরে এসেছে। কেন এসেছে? শোকের বাড়িতে এরকম হালকা রং মানায় বলে! এসব কথা এখন মাথায় আনতে ভালো লাগছে না। মা-র মুখে একটা মাছি বসেছে। হাত দিয়ে উড়িয়ে দিল রমিত। কটকটে রোদ্দুরটাও সটান মা-র মুখের ওপর। একটা ছাতা চাইবে কি না ভাবল ও। গাড়ি স্টার্ট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরা চটপট উঠে পড়ল। পরপর দুটো গাড়ি চলতে শুরু করল। মা বোধহয় কনভয় মানে জানত না। জানলে ভালো লাগত। খাটের পাশে গোঁজা একগোছা ধূপ জ্বলছে। ধোঁয়ায় চোখ-মুখ জ্বালা করছে। রমিত মারুতির দিকে তাকাল। মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে না। মেয়েটা কি দেখছে রমিতকে?…

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    PDF
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বই পড়ুন
    বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    গ্রন্থাগার

     

    ‘যাহ, কাকিমার পায়ের ছাপটা নেওয়া হল না তো,’ অয়ন বলল।

    রমিত সামান্য ভুরু কুঁচকে বলল, ‘উঁহু, এসবের দরকার নেই।’

    জামাইবাবু ল্যাজ জুড়লেন, ‘না-না ওসব আজকাল আর কেউ করে না।’ আরও বোধহয় কিছু বলতে যাচ্ছিলেন তখনই ওঁর বুকপকেটের মোবাইলটা বেজে উঠল। ওটাকে কানে তুলে—’হ্যালো…হুঁ…সাতটায়…ওকে’ বলে রেখে দিলেন।

    রমিত বুঝল জামাইবাবু সাতটার আগে কাট মারবেন। নিশ্চয়ই অফিসের মিটিং আছে। একজিকিউটিভ বলে কথা! নিজের এক্সপায়ারি ডেটের পরেও মিটিং অ্যাটেন্ড করতে পারে লোকটা। কথাটা ভেবেই ওর মুখটা মনে পড়ল। দুর, এসব কী হাবিজাবি ভাবছে ও! সুজয় খই ছিটোচ্ছে। খইয়ের মধ্যে খুচরো পয়সা মেশানো। একটু আগে বাড়ির পিছনে কয়েকটা বাচ্চা দৌড়োচ্ছিল। পয়সাগুলো তুলছিল। বেশিক্ষণ দমে কুলোয়নি, গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারে কখনও? রাস্তার ধারে একটা টিভির দোকানের সামনে একগাদা লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে। গাড়িটা ট্র্যাফিক সিগনাল না পেয়ে দোকানটার পাশে দাঁড়াতেই হঠাৎ ‘আ-আ-উ-উ-ট’ বলে ভয়ংকর চিৎকার করে গাড়ির সামনেই ছেলে-বুড়োগুলো আনন্দে নাচতে শুরু করল। ওহ হো আজকে তো ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান ডে ছিল। নিশ্চয়ই অস্ট্রেলিয়ার কেউ আউট হয়েছে। রাস্তার রাস্তায় ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাগ। পনেরোই অগাস্টেও এত ঝোলে না। বন্ধুরা সবাই ম্যাটাডোর থেকেই যতটা সম্ভব ঘাড় নীচু করে দোকানের টিভিটার দিকে একবার তাকাতে চেষ্টা করল কে আউট হয়েছে জানার জন্যে।

     

    আরও দেখুন
    ওয়াটার
    জল
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা কৌতুক বই
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লেখকের বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    সত্যিই বন্ধুগুলোকে খেলা দেখা ছেড়ে রমিতের সঙ্গে একপ্রকার বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে। খেলার দিনে মানুষের মারা যাওয়াটা যথেষ্ট অন্যায়ের।

    নিমতলার গলিতে গাড়ি দুটো ঢুকতেই এতটা রাস্তার পরিবেশ যেন ঝুপ করে পালটে গেল। এই জায়গাটা ভারি অদ্ভুত! মানুষগুলো বোধহয় আজীবন দু-বেলা মৃত্যু দেখতে দেখতে হেদিয়ে গেছে। আর মনে দাগ কাটে না। ওদের গাড়ি দুটো শ্মশানের সামনে এসে দাঁড়ানোর পরেও আশেপাশের মানুষগুলো নির্বিকার। একবার ফিরেও তাকাল না। দিব্যি খালি গায়ে বসে মাটিতে গামছা পেতে তাস খেলছে। হ্যা হ্যা করে হাসছে। কালো কালো বাচ্চাগুলো হইহই করে ছুটোছুটি করছে। জামাইবাবু তাড়া লাগলেন, ‘বুবাই তুমি আমার সঙ্গে কাগজগুলো নিয়ে অফিসে এসো। আর তোমরা বডি নামাও।’

    বডি! গত পরশু দিনও জামাইবাবু মাকে ‘মা কেমন আছেন?’ জিগ্যেস করেছিলেন। ম্যাটাডোর থেকে লাফ দিয়ে নামার সময়ে জামাইবাবু একটু হড়কে গেলেন। পায়ে লেগেছে বোধহয়। চোখ-মুখ কুঁচকে অল্প খোঁড়াতে খোঁড়াতে বুবাইয়ের সঙ্গে অফিসের দিকে গেলেন। ওরা সবাই মাকে গাড়ি থেকে নামনোর সময় রমিত একবার আড়চোখে মারুতির দিকে তাকাল। মাসি, বড়কাকু, কাকিমা গাড়ি থেকে নামলেন। মেয়েটা…আসেনি। তবে যে…নাহ ওই তো নামছে। মাকে অফিসঘরটার সামনে রাখা হল। জামাইবাবু ততক্ষণে নিজের কাজ শেষ করে ফেলেছেন। উনি রমিতের কাছে এসে বললেন, ‘এদিককার কাজ সব কমপ্টি বুঝলি। এখন বাকি রইল কাজের জন্য চাল-কলা ওইসব আর তোর ধড়া।’ বলে উনি সুজয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সুজয় তুমি পুরুতের কাছ থেকে কী কী লাগবে জেনে নিয়ে ওগুলো কিনে ফেলো। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। অনেক টাইম আছে, চুল্লিতে একটা বডি রয়েছে এখন। ওটার পর আমাদের। এই টাকাটা রাখো’, বলে উনি দুটো একশোর নোট বার করে দিলেন। সুজয় টাকাটা নিয়ে অয়ন আর দীপুকে নিয়ে চলে গেল।

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    পিডিএফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা অডিওবুক

     

    জামাইবাবুও পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করে ‘তুই এখানে থাক আমি আসছি একটু’ বলে চলে গেলেন। রমিতেরও সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু মা-র মাছে কেউ নেই। এই সময় বড়কাকুরা এলেন। সঙ্গে মেয়েটা।

    ‘কী রে একা দাঁড়িয়ে আছিস? ওরা সব কোথায়?’ মাসি জিগ্যেস করলেন।

    ‘ওই জিনিসপত্রগুলো কিনতে গেল।’

    মেয়েটা রমিতের থেকে মাত্র ফুট চারেক দূরে দাঁড়িয়ে। এতক্ষণে মেয়েটাকে কাছ থেকে ভালো করে দেখতে পেল ও। মাঝারি হাইট, ছিপছিপে চেহারা, একটা হলুদ রঙের সালোয়ার পরেছে। সাদা ওড়না। গায়ের রংটা বেশ ফরসা, চুলটা লালচে, মনে হয় হেনা করা। গরমে মুখটা লাল হয়ে উঠেছে। সত্যি আজকে গরমটাও পড়েছে সাংঘাতিক।…কিন্তু মুখের গড়নটা যেন…ধুসস, আসলে আজকে সারাদিন ধরে মা-র মুখটা মনে আসছে বলে বোধহয় সবাইকে…। সত্যি, সামনে শুয়ে থাকা চোখে তুলসীপাতা নাকে তুলো গোঁজা মা-র ফ্যাকাশে মুখটা ভুলে থাকতে চাইছে রমিত। সেই ছোট্টবেলার নরম নরম মা…বুকের ভেতরটায় ঝং করে শব্দ হল। নাহ, এখন ওসব ভাববে না ও। কান্না-টান্না পেয়ে গেলে বিচ্ছিরি ব্যাপার। মেয়েটা মাঝেমধ্যে ওর দিকে তাকিয়ে পরক্ষণেই চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। কেন? কে ও? এখন জিগ্যেস করে জানার উপায়ও নেই। অথচ কাকু, মাসি ওরা যেন টেরই পাচ্ছেন না মেয়েটা ওঁদের সঙ্গে রয়েছে। আদৌ আছে তো সত্যি সত্যি?…ধ্যার, ভুলভাল ভাবতে শুরু করেছে ও। একটু ঘুরে আসতে হবে।

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    গল্প, কবিতা
    ই-বই পড়ুন
    নতুন বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    অনলাইন বুকস্টোর
    বইয়ের তালিকা

     

    ‘কাকু তোমরা একটু মা-র কাছে থাকো। আমি আসছি এখুনি’ বলে মেয়েটার দিকে একবার তাকিয়ে রমিত আস্তে আস্তে চুল্লির ঘরটার দিকে গেল। কেমন শিরশিরে শান্ত ঘরটা। একটা অদ্ভুত ওম ছড়িয়ে রয়েছে। ওখান থেকে সরে এল রমিত। গঙ্গার ঘাটের সিঁড়ির প্রথম ধাপটার এক কোণে দুজন মাঝবয়সি লোক বসে দার্শনিক কথা আলোচনা করছেন, ‘বুঝলে হে কেন যে মানুষ শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে আসে! সংসারে প্রতিটি মানুষই তো আজীবন ধরে শুধু পোড়ে। আবার যে কেন নতুনভাবে আয়োজন করে…।’ যে ভদ্রলোক শুনছেন সম্ভবত তাঁরই বাবা কিংবা মা এখন চুল্লির ভিতরে রয়েছেন। ভদ্রলোক বেশ স্বাভাবিকভাবেই অল্প অল্প মাথা নেড়ে সায় দিয়ে যাচ্ছেন। চোখে-মুখে তেমন কোনও শোকের ছাপ নেই। এই বয়সে বাপ-মা মারা গেলে তেমন দু:খ কেন লাগে না কে জানে! ভদ্রলোকের মাথা জোড়া টাক। ঘাটকাজে আর নতুন করে নেড়া হতে হবে না। রমিত গঙ্গার দিকে তাকাল। এখন গঙ্গাটা কেমন ম্যাড়ম্যাড়ে, শান্ত, গরিব বৃদ্ধদের বাইফোকাল চশমার মতো ঘোলাটে। ভালো লাগছে না। মা-র কাছে ফিরে এল ও।

    জামাইবাবু আর বন্ধুরা এসে গেছে। এর মধ্যে আর একটা শরীরও এসেছে। এও মহিলা। দুটো শরীর পাশাপাশি রাখা। প্রায় একইরকম লাগছে দুজনকে। ওদের একটা মেয়ে একঘেয়ে সুরে কেঁদে চলেছে। চোখে জল নেই। ফুরিয়ে গেছে বোধহয়।

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লেখকের বই

     

    জামাইবাবু বললেন, ‘খাটটাকে ধরো, এবার আমাদের নম্বর।’ ‘আমাদের নম্বর’ কথাটা বিচ্ছিরি শোনাল। জামাইবাবু নিজেই এবার খাটের এক প্রান্ত ধরে কাঁধে নিলেন। কাকু-কাকিমার সামনে ওঁর ব্যস্ত ভাবটা যেন একটু বেশি বলে মনে হল। সবাই মিলে খাট তোলার সময় বুকের ভেতরটা আবার অসম্ভব থমথমে হয়ে উঠল রমিতের। মা চলে যাবে! একেবারে! মৃত এই শরীরটাকে ও আর জীবনে কক্ষনো দেখার ভীষণ ইচ্ছে হলেও দেখতে পাবে না। মাকে চুল্লির ঘরটার সামনে এনে ফুলমালাগুলো তুলে বাখারির মাচায় শোয়ানো হল। মাচার গাঁটগুলো উঁচু-নীচু ছুঁচলো। পুরুতমশাই রমিতকে পাশে বসালেন, তারপর আচমন করিয়ে মাটির খুরিতে খানিকটা কালো তিল, চাল আর কাঁঠালি কলা দিয়ে বললেন, ‘এটাকে মাখো ভালো করে।’

    রমিত আর মাকে সবাই গোল করে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। হাতটা অল্প অল্প কাঁপছে রমিতের। মেয়েটা রমিতের প্রায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে।

    ‘নাও এবার এটাকে ছোট পিণ্ড বানাও। আর একটা পিণ্ড হাতে নিয়ে আমার সঙ্গে মন্ত্র বলতে বলতে ডান হাতের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝখান দিয়ে এমনি করে…।’

     

    আরও দেখুন
    ওয়াটার
    জল
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাইশে শ্রাবণ
    বই পড়ুন
    লেখকের বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বুক শেল্ফ
    নতুন বই

     

    পুরুতমশাইয়ের কথা আর কানে আসছে না রমিতের। মা চলে যাবে। সম্পূর্ণ চলে যাবে! একটুও থাকবে না! কাছের বলে আর কেউ…। এতক্ষণ পাঁজরের ভেতর আটকে থাকা কালবৈশাখী প্রচণ্ডভাবে আছড়ে পড়ছে রমিতের গোটা শরীরে। সমস্ত শিরা-উপশিরা-তন্তু যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে…গুঁড়িয়ে যাচ্ছে মাথা…হাড়…পাঁজর, তবু আশ্চর্য, জল আসছে না চোখে! সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ চোখ। তখনই এক ফোঁটা জল রমিতের ডান হাতের ওপর পড়ল। জল! তবে কি…মেয়েটা কাঁদছে! কাঁদুক, আপ্রাণ কাঁদুক। পিছনে তাকাল না রমিত, যদি মেয়েটা না কাঁদে?…যদি অন্য কোনও জল হয়?…তাহলে…।

    তা না হলেও মা-র গলার ওপর চাল-তিল-কলার পিণ্ড, তা না হলেও মা-র হাতে-পায়ে-মুখে জবজবে ঘি। তারপরেও মা-র গায়ে একটুকরো সাদা থান, মা-কোমর থেকে লাল সুতোর বাঁধা মাদুলি খুলে নেওয়া। তারপরেও পাটকাঠির মুখে আগুন নিয়ে মাকে প্রদক্ষিণ করতে করতে মা-র মুখের দিকে একবার তাকাল রমিত। কী ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মুখটা! চেনা যাচ্ছে না। মানুষ মারা যাওয়ার পরেও অত অসহায় হয়ে ওঠে! আগুনটা মা-র মুখে ছোঁয়ানোর সময় চোখ দুটোকে প্রচণ্ডভাবে বন্ধ করে ফেলল রমিত। তারপর…আর নয়, লোহার চাকাগাড়ি করে মা গড়গড় করে চলে গেল হাঁ-করা আগুনমুখের দিকে। রমিত শেষ একবার, একবার শেষ তাকিয়েই চোখ সরিয়ে নিল। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মা-র থানটায় আগুন ধরে গেছে। বন্ধ হয়ে গেল দরজা। কী প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগছে। পা দুটো থিরথির করে কাঁপছে। জামাইবাবু, বন্ধুরা সবাই রমিতকে ধরে বাইরে নিয়ে এল। গঙ্গার ঘাটের সামনে এসে জামাইবাবু বললেন, ‘এখানে বোস। শরীর খারাপ করছে? চা খাবি?’

     

    আরও দেখুন
    ওয়াটার
    জল
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    ডিকশনারি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ

     

    রমিত বলল, ‘আমি ঠিক আছি। এখন কিছু খাব না। বরং বন্ধুদের কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। ওরা সেই সকাল থেকে না খেয়ে রয়েছে।’

    সুজয় আর অয়ন সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘আমাদের জন্য ভাবতে হবে না তোকে।’

    জামাইবাবু ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘না, না, সেই সকাল থেকে খাটছ তোমরা। ছি-ছি, আমারও খেয়াল নেই। ভেরি সরি। এখানে ভালো রেস্টুরেন্ট কোথায় আছে জানো কেউ?’

    দীপু বলল, ‘আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না। আমরা কিছু খাব না এখন। আর তো ঘণ্টাখানেকের ব্যাপার।’

    কিন্তু ভয়ংকর লজ্জিত জামাইবাবু আরও পীড়াপীড়ি শুরু করাতে বুবাই বলল, ‘ঠিক আছে, বরং একটু চা খাওয়া যাক।’

    রমিতের কানের সামনে ‘আর তো ঘন্টাখানেকের ব্যাপার’ কথাটা ভনভন করছে। ছাপ্পান্ন বছরের জীবনটা মাত্র ঘণ্টাখানেকের ব্যাপার!

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    Library
    PDF বই
    বাংলা বই
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ই-বুক রিডার

     

    অয়ন বলল, ‘তোরা যা, আমি রমিতের কাছে থাকছি।’

    রমিত বলল, ‘যা না, কিছু হবে না, আমি ঠিক আছি।’

    ‘বেশি দূরে যাস না কিন্তু কোথাও এখন’ বলে জামাইবাবু ওদের চা খাওয়াতে নিয়ে গেলেন। অদূরে কাকু-কাকিমা, মাসি বসে মা-র জীবনের সব খুচরো ঘটনা নিয়ে গল্প করছেন। সবক’টা গল্পেই মা-র মাহাত্ম্য মেশানো। বেশ হালকা মেজাজ এখন ওদের। গঙ্গাতেও সেই ন্যাতানো ঝিমোনো ভাবটা কেটে গিয়ে ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ আগে ঘাটে বসে থাকা সেই বয়স্ক দুজনকে দেখতে পেল না রমিত। ওই দার্শনিক কথার ভদ্রলোক এখন থাকলে কি বন্ধুকে বলতেন, ‘বুঝলে হে, মানুষের মৃত্যু শোক তৈরি করে না। পরিবেশ শোক তৈরি করে।’ আসলে মৃত্যুতে শোক পাওয়া একটা ভদ্রতা, একটা সামাজিকতা। যার দায় শেষ হলে মানুষ…শুধু মানুষ কেন সবাই স্বস্তি পায়।…কিন্তু মেয়েটা? তাই তো, মা চুল্লিতে চলে চলে যাওয়ার পর আর দেখা যাচ্ছে না কেন মেয়েটাকে? এতক্ষণে মনে পড়ল রমিতের। কোথায় গেল? আশ্চর্য! তবে কি…নাহ ওই তো, ঘাটের সিঁড়ির একেবার ওপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রমিতকে দেখছে। গঙ্গার হাওয়ায় হলুদ সালোয়ারটা ওর শরীরটাকে আরও জড়িয়ে ধরেছে। চোখ সরিয়ে নিল রমিত। এখন এসব ভালো লাগছে না। তবু একবার যদি মেয়েটা ওর কাছে আসত। যদি দুটো-একটা অতি সাধারণ সান্ত্বনার কথা…দুর! ভাববে না মেয়েটাকে। বরং বিচ্ছিরি হয়ে থাকা মনটাকে অন্য কিছু ভাবানো যেতে পারে।…উঁহু কোনও ভাবনাই জমাট বাঁধছে না। বাধ্য হয়ে আবার ঘাড় ফেরাল রমিত। যাহ, আবার নেই।

     

    আরও দেখুন
    ওয়াটার
    জল
    লেখকের বই
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য
    ডিজিটাল বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বই ডাউনলোড
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিকশনারি

     

    জামাইবাবু, বন্ধুরা চা খেয়ে চলে এসেছে। কাকুদের জন্যও এনেছে। বুবাই একটা ভাঁড় নিয়ে রমিতের কাছে এসে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘খেয়ে নে চা-টা। ভালো লাগবে। বিস্কুট খাবি?’ রমিত মাথা নাড়িয়ে না বলে ভাঁড়টা নিল। ঠান্ডা হয়ে এসেছে।

    দু-চুমুকে শেষ ভাঁড়টা গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলতে গিয়েও ফেলল না। পাশের বটগাছটার নীচে তাকাল ও। সেখানেও চুল ওঠা রং ধোওয়া শনিঠাকুর দাঁড়িয়ে আছে। ভাঁড়টাকে নিজের পাশে রেখে দিল। বুবাই ঘড়ি দেখে বলল, ‘আর বেশিক্ষণ নেই। সময় হয়ে এসেছে। তুই বোস আমি একটু খবরটা নিয়ে আসছি।’ বুবাই উঠে গেল।

    আরও বেশ কিছুক্ষণ সময়। তারপর জামাইবাবু ডাকলেন, ‘রমিত চলে আয়। হয়ে গেছে।’

    রমিত উঠে এল। গরম চুল্লির গা ঘেঁষে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে মাটির কলসিতে করে লাল টকটকে নাভিকুণ্ডর ওপর জল ঢালার সময় বুকের ভেতরটা ভসস করে উঠল রমিতের। সবাই একে একে জল দিল। তারপর পিছনে না তাকিয়ে কলসি ভেঙে দিয়ে গঙ্গামাটি চাপানো মালসার ওপর মা-র ‘অস্থি’ নিয়ে উঠে এল রমিত। এই সেই ‘অস্থি’ অর্থাৎ নাভিকুণ্ড। জীবনের যোগসূত্রটা কি এতই শক্ত যে ছ-হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসও তাকে পোড়াতে পারে না? তাহলে গোটা মানুষটা কেন থেকে যেতে পারে না আজীবন?

     

    আরও দেখুন
    ওয়াটার
    জল
    বইয়ের তালিকা
    বইয়ের
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    PDF বই
    PDF

     

    গঙ্গায় মালসাটা ভাসিয়ে দেওয়ার সময় রমিতের মনে হল আরও কত অযুত-নিযুত ‘অস্তি’ রাখা আছে এই গঙ্গার নীচে। মা-র সঙ্গে তাদের পরিচয় হবে। হয়তো ওদের সঙ্গে শুরু হবে মা-র নতুন জলজীবন। সেখানে সম্পর্কের কোনও নাম নেই। শুধু পরিচিতি।

    ‘আর নামিস না। তিনটে ডুব দিয়ে উঠে আয়’, কাকিমা বললেন। রমিতের ডুব দেওয়ার অভ্যাস নেই। ডুব দিতে গিয়ে বারে বারে জল ওকে ঠেলে ওপরে তুলে দিচ্ছিল। নাক আঙুল দিয়ে চেপে কোনওমতে তিনটে ডুব দিয়ে আস্তে আস্তে উঠে এল ও। ভিজে সাদা ধুতির ভেতরে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আড়চোখে দেখে নিয়ে কোমরে বাঁধা গামছাটা ভালো করে জড়িয়ে নিলে রমিত। জামাইবাবু প্যাকেট থেকে থান বার করতে করতে বললেন, ‘গামছাটা দিয়ে মাথাটা ভালো করে মুছে নে। নইলে অবেলায় চান করেছিস, ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।’

    রমিত বলল, ‘কাপড়টা পরে নিয়ে মুছছি।’

    কাছা দিয়ে কাপড় পরার কায়দাটা খুব কঠিন। শেষে কাকুই পরিয়ে দিলেন। রমিত এই ফাঁকে চারদিক দেখে নিল। সবাই আছে মেয়েটা নেই। ভালো হয়েছে এখন নেই। না হলে অস্বস্তিতে পড়তে হত। ওদের সামনে দুটো বাচ্চা ছেলেমেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রমিত ভিজে ধুতিটা ছাড়তেই ‘কাকু কাপড়টা নেব?’ বলে বাচ্চা দুটো হাত বাড়াল। জামাইবাবু ধমক লাগালেন। কাকু বললেন, ‘যাক গে নিক, ফেলেই তো দিতে হবে।’

     

    আরও দেখুন
    জল
    ওয়াটার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    পিডিএফ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    ওরা দুজনে কাপড় নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে ছুট। ধড়া নেওয়া হয়ে যাওয়ার পর জামাইবাবু ঘড়ি দেখে বললেন, ‘এবারে সব যাওয়া যাক তাহলে।’

    রমিতের এই গ্রীষ্মের বিকেলেও বেশ শীত শীত করছে। মাথাটা ভালো করে মোছা হয়নি। কপালে সামনের চুল থেকে টুপটুপ করে জল ঝরছে। ম্যাটাডোরে ওঠার সময় গাড়িটা কেমন খালি খালি লাগল। সবাই আছে শুধু মাঝখানে রাখা সেই খাটটা নেই। রমিত কাকুদের মারুতির দিকে তাকাল। মেয়েটা উঠেছে নিশ্চয়ই। হাওয়া লেগে মাথাটা টিপটিপ করে ব্যথা করছে।

    জামাইবাবু বললেন, ‘বাড়ি গিয়ে রাত্তিরে মা-র একটা ভালো দেখে সিঙ্গল ফাটো বার করে রাখবি। কালকেই বাঁধাতে দিয়ে দেব।’

    ফ্ল্যাটে ফেরার পর কাটারি ছুঁয়ে নিমপাতা দাঁতে কেটে আর একটা করে রসগোল্লা খেয়ে বন্ধুরা বাড়ি চলে গেল। ঘর ভরতি ফ্ল্যাটের লোকজন। রমিত প্রথমেই বাবার ঘরে ঢুকল। বাবা একইভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। বাবার মুখের কাছে ঝুঁকে তাকাল রমিত। ভাবলেশহীন চোখ দুটোর কোণে কোনও জল জমে রয়েছে কি না দেখল ও। তারপর নিজের ঘরে গেল।

    দুই

    রাত্তির প্রায় সাড়ে এগারোটা। সারা দিনের ধকলের পর সবাই শুয়ে পড়েছে। আজকে কোনও ঘরে টিউব নেভেনি। আলো জ্বালিয়েই শুয়েছে সবাই। কেন! ভয়েতে? শ্মশানের পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণের সময় ‘প্রেত’ শব্দটা বার কয়েক উচ্চারণ করেছিলেন। কানে হুল ফোটাচ্ছিল শব্দটা। ছোট থাকলে রমিত ঠিক বলে দিত—’আমার মা প্রেত নয়।’… কিন্তু বাড়ি ফিরে মেয়েটাকে আর একবারও দেখা গেল না কেন? কাকিমা বা মাসিকেও জিগ্যেস করার উপায় নেই। জিগ্যেস করলেই হয়তো বলবে ‘সত্যিই তোর এই সময়ও মেয়ের খোঁজ!’ অথচ ওরা নিজেরাও একবার মেয়েটার কথা বলল না। কেন?—ধ্যাত্তেরি, হাবিজাবি চিন্তায় ঘুম আসছে না। ওহ হো, মা-র ছবিটাই তো বার করা হয়নি। কাল সকালে বাঁধাতে দেওয়া হবে। অ্যালবাম বাবার ঘরের আলমারিতে। রমিত বাবার ঘরে গেল। শিশুর মতো ঘুমোচ্ছে মানুষটা। রমিত আলমারি খুলে অ্যালবামটা বার করে মেঝের ওপর বসল। বেশিরভাগই দিদির বিয়ের ছবি। মা-র কোনও সিঙ্গল ছবি নেই। সবই গ্রুপের মধ্যে। আর কয়েকটা নৈনিতাল বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল যেবার, তখন তোলা। সেখান থেকে একটা মাত্র মা-র একার ফটো পাওয়া গেল। কিন্তু সস্তার ক্যামেরায় তোলা ছবিতে মা-র মুখটা খুব ছোট। মৃত মানুষের শুধু মুখটুকু প্রয়োজন। যেটা মনে আসে। মনে থাকে। শরীরের আর দরকার নেই।

    আচ্ছা আর একটা অনেক পুরোনো অ্যালবাম ছিল না? কোথায় সেটা? আলমারির ভেতর মা-র শাড়ি, বাবার ধুতি-পাঞ্জাবি ঘেঁটেঘুঁটেও পেল না রমিত। শেষে কী মনে করে লকার খুলে দেখতে পাওয়া গেল ওটাকে, লকারে অ্যালবাম, কত দামি!

    অ্যালবামটা মোটকা, কালো রঙের। কেমন একটা পুরোনো পুরোনো গন্ধ মেশানো। শেষ এটাকে কবে দেখেছে মনে পড়ল না রমিতের। অনেক ছোটবেলায় দেখে থাকবে হয়তো। পাতা ওলটাতে শুরু করলও। সবই ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। ঠিক হোয়াইট আর নেই। ফিকে হলুদ হয়ে গেছে। পাতায় পাতায় বাবা-মা-র বিয়ের ছবি। অনেক অচেনা মুখও দেখতে পেল ও। হনিমুনে পুরী যাওয়ার ছবিগুলো পাতা উলটে দেখতে দেখতে একটা পাতার বাঁ-দিকের পৃষ্ঠায় একটা ফটো দেখে যেন মগজে হঠাৎ চাবুক খেয়ে ভীষণভাবে চমকে উঠল ও। এ কে! এ যে…এ যে সেই মেয়ে যাকে আজ সারাদিন ধরে রমিত দেখে এসেছে। সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা। হয়তো বাবাই তুলেছিল। সমুদ্রের হাওয়ায় সালোয়ারটা শরীরটাকে আরও জাপটে ধরে বুক আর…। ঠিক সেই মেয়েটা যখন গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে রমিতকে দেখছিল তেমনিভাবে। হাত-পা কাঁপছে রমিতের। ও আস্তে আস্তে কালো পাতা থেকে ফটোটাকে খুলে আনল। ছবিটার গা ছোঁওয়া মাত্র হাতটা কেমন শিরশির করে উঠল রমিতের। ফটোর পিছনে কী যেন লেখা। পড়ল রমিত। ‘আমার মিষ্টি সোনা তপু’। বাবার হাতে লেখা। নীচে লেখা ‘ইস, মিষ্টি সোনা, না ছাই’। মা-র হাতের লেখাটা কোনওদিনই ভালো ছিল না। মিষ্টি বানানটাও ভুল লিখেছে। বাবার দিকে তাকাল রমিত। এই সেই লোক। ফ্যানের হাওয়ায় সাদা চুলগুলো উড়ছে। চোখের পাশে চামড়ার ভাঁজ। ঠোঁটের কোণে লালা জমে উঠেছে ঘুমের মধ্যে। এই সেই বিছানা, হয়তো এমনই কোনও রাত্রে মা আর বাবা বিছানায় শুয়ে এই ছবি নিয়ে খেলতে খেলতে লিখেছিল। ফটোটাকে অ্যালবামে আটকাতে গিয়ে পরের পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় তাকাল রমিত। ওর নিজের খুব ছোটবেলার ছবি। চোখে মোটা কাজল, মাথায় ঝুঁটি বাঁধা, হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে হেঁটে এগিয়ে আসছে। মা-র আর ওর ছবি দুটো মুখোমুখি। অ্যালবামটা বন্ধ করতে করতে রমিত দেখতে পেল মা নয় সেই মেয়েটা রমিতের বাড়ানো হাত দুটোর মাঝখানে চলে আসছে।

    দেশ

    জুন-২০০৩

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }