Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি – ভগিনী নিবেদিতা

    ভগিনী নিবেদিতা এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤷

    ০১. লণ্ডনে, ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে

    প্রথম সংস্করণের নিবেদন

    ভগিনী নিবেদিতার অমর গ্রন্থ ‘The Master as I saw Him’-এর স্বামী মাধবানন্দকৃত বঙ্গানুবাদ ‘আচার্য শ্রীবিবেকানন্দ (যেমনটি দেখিয়াছি) এই নামে উদ্বোধন-এর ১৩২২, আষাঢ় হইতে ১৩২৪, চৈত্র পর্যন্ত সংখ্যাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। নানা কারণে উহা এতদিন পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় নাই। বর্তমান গ্রন্থখানি সেই অনুবাদেরই ঈষৎ সংশোধিত পুনর্মুদ্রণ। কেবল ইহার নূতন নামকরণ হইল, ‘স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’।
    প্রকাশক

    ০০. পাশ্চাত্য পাঠক–পাঠিকাগণের প্রতি নিবেদন

    বৌদ্ধধর্মের প্রচারযুগের অবসান হইবার পর হইতে ১৮৯৩ খ্রীস্টাব্দে যেদিন স্বামী বিবেকানন্দ গৈরিকধারী সন্ন্যাসীর বেশে শিকাগো প্রদর্শনীর অন্তর্গত ধর্মমহাসভার মঞ্চে দণ্ডায়মান হন, সেদিন পর্যন্ত হিন্দুধর্ম নিজেকে প্রচারশীল ধর্ম বলিয়া ভাবে নাই। হিন্দুধর্মের শিক্ষকতা কার্যই যাহাদের নির্দিষ্ট বৃত্তি ছিল, সেই ব্রাহ্মণগণ ছিলেন নাগরিক ও গৃহস্থ এবং সেজন্য হিন্দুসমাজেরই এক অঙ্গস্বরূপ ছিলেন, ফলে সমুদ্রযাত্রার অধিকার হইতেও তাহারা বঞ্চিত ছিলেন। আর সিদ্ধপুরুষ বা অবতার পুরোহিত ও পণ্ডিতগণ অপেক্ষা যতটা উচ্চে অবস্থিত, হিন্দুধর্মের অন্তর্গত পরিব্রাজক সন্ন্যাসিগণের মধ্যে যাহারা উচ্চতম অধিকারী, প্রামাণ্য হিসাবে যদিও তাহাদের স্থান ব্রাহ্মণজাতি অপেক্ষা ঠিক ততটাই উচ্চে-তথাপি তাঁহারা স্বাধীনতার ঐ প্রকার ব্যবহারের কথা আদৌ ভাবিতে পারেন নাই। স্বামী বিবেকানন্দও নিজ বিশ্বস্ততাজ্ঞাপক কোন পরিচয়-পত্র লইয়া শিকাগোর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন নাই। যেমন তিনি ভারতের এক গ্রাম হইতে অন্য গ্রামে ভ্রমণ করিতে পারিতেন, ঠিক তেমনভাবেই তাহার মাদ্রাজের জনকয়েক অনুরাগী ও শ্রদ্ধাবান শিষ্যের আগ্রহে প্রশান্ত মহাসাগরের অপর পারে আগমন করেন। আমেরিকাবাসিগণও স্বজাতিসুলভ আতিথ্য ও সরলতাগুণে তাহাকে সমাদরে গ্রহণপূর্বক বক্তৃতা দিবার সুযোগ দেন। যেমন বৌদ্ধপ্রচারকগণের ক্ষেত্রে, তেমন তাহার ক্ষেত্রেও এক মহাপুরুষের শক্তিই তাহাকে জোর করিয়া বিদেশে প্রেরণ করে—যে মহাপুরুষের চরণপ্রান্তে বহু বৎসর বাস করিয়া তিনি তাহার জীবনের সঙ্গিস্বরূপ হইয়াছিলেন। তথাপি পাশ্চাত্যদেশে তিনি কোন বিশেষ আচার্যের কথা বলেন নাই, কোন এক সীমাবদ্ধ সম্প্রদায়ের মত ঘোষণা করেন নাই। “হিন্দুগণের ধর্ম সম্বন্ধীয় ধারণাবলী”—ইহাই ছিল তাহার শিকাগো বক্তৃতার বিষয়; এবং ইহার পরেও, যে সকল তত্ত্ব বহু অংশে বিভক্ত সনাতন হিন্দুধর্মের সাধারণ সম্পত্তি এবং বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক, কেবল সেইগুলিই তাহার বক্তৃতায় স্থান পাইত। সুতরাং ইতিহাসে এই প্রথম একজন অতি উচ্চদরের মনীষাসম্পন্ন হিন্দু, অন্য সকল বিষয় পরিহারপূর্বক হিন্দুধর্মকেই বিশ্লেষণ ও উহার বিশ্লিষ্ট-অংশগুলির সাধারণ ধর্ম আবিষ্কার করিতে যত্নপর হন।

     

     

    স্বামীজী ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দের আগস্ট মাস পর্যন্ত আমেরিকায় অবস্থান করেন এবং তারপর প্রথমবার ইউরোপে আগমন করেন। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ইংলণ্ডে উপনীত হন এবং প্রায় একমাস পরে লণ্ডনে শিক্ষা দিতে আরম্ভ করেন।

    প্রথম পরিচ্ছেদ
    লণ্ডনে, ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে

    মনে কবিলে আশ্চর্য বোধ হয়, কিন্তু নিশ্চিতই আমার সৌভাগ্য বলিতে হইবে যে, আমার গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতাবলী তাহার ১৮৯৫ ও ১৮৯৬ খ্রীস্টাব্দে ইংলণ্ড-আগমনকালে—উভয়বারই আমি শ্রবণ করিয়াছিলাম, তথাপি ১৮৯৮ খ্রীস্টাব্দের প্রথম দিকে ভারতে আসিবার পূর্বে তাহার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অতি অল্পই জানিতাম; এমনকি কিছুই জানিতাম না বলিলেও চলে। সৌভাগ্য, কেন না এই পূর্ব পরিচয় না থাকার ফলেই আমি মানসনেত্রে স্বামীজীর ব্যক্তিত্বেব যে স্বতঃ প্রকাশ ঘটিত তাহার প্রতি পদে, ভারতীয় অরণ্য, নগর ও রাজপরূপ যথার্থ পরিবেশের মধ্যেই তাহাকে দেখিতে পাই—প্রাচ্য আচার্যকে প্রাচ্য জগতের আবেষ্টনীর মধ্যেই দেখিয়া থাকি। এমনকি সুদূর লণ্ডনেও যখন আমি তাহাকে প্রথম দেখি, এখন ঐ ঘটনা স্মরণ করিয়া আমার চিত্ত যেরূপ আলোড়িত হয়, সূর্যালোকমণ্ডিত স্বদেশের বহু স্মৃতিপরম্পরা তাহার চিত্তও সেইরূপ আলোড়িত করিয়া থাকিবে। সময়টি ছিল নভেম্বর মাসের এক রবিবারের শীতল অপরাহু। স্থান ওয়েস্ট-এণ্ডের এক ড্রইংরুম। অর্ধবৃত্তাকারে উপবিষ্ট শ্রোতৃমণ্ডলীর দিকে মুখ করিয়া তিনি বসিয়াছিলেন। তাঁহার পশ্চাতে ছিল কক্ষের অগ্নি রাখিবার স্থানে প্রজ্বলিত অগ্নি। আর যখন তিনি প্রশ্নের পর প্রশ্নের উওর দিতেছিলেন, এবং মধ্যে মধ্যে উত্তরটি উদাহরণ দ্বারা ব্যাখ্যা করিতে গিয়া কোন সংস্কৃত গ্রন্থ হইতে সুব করিয়া আবৃত্তি করিতেছিলেন, তখন গোধূলি ও অন্ধকারের মিলন-সদ্ভুত সেই দৃশ্যটি নিশ্চয়ই ভারতের কোন উদ্যানে, অথবা সূর্যাস্তকালে কূপের নিকটে, কিংবা গ্রামের উপকণ্ঠে বৃক্ষতলে উপবিষ্ট সাধু এবং তাহার চারিদিকে সমবেত শ্রোতৃবৃন্দ—এইরূপ এক দৃশ্যেবই কৌতুককর রূপান্তর বলিয়া তাঁহার বোধ হইয়া থাকিবে। ইংলণ্ডে আচার্য হিসাবে স্বামীজীকে আমি আর কখনও এমন সাদাসিধা ভাবে দেখি নাই। পববর্তী কালে তিনি সর্বদাই বক্তৃতা দিতেন; অথবা প্রশ্নাদির উত্তর দিতেন। প্রশ্নগুলি সমাগত বহু সংখ্যক শ্রোতৃবৃন্দের মধ্যে কেহ কেহ নিয়মমাফিক উত্থাপন করিতেন। কেবল এই প্রথমবারেই আমরা মাত্র পনর-ষোল জন অভ্যাগত ছিলাম। আমাদের মধ্যে অনেকেই আবার ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্বামীজী আমাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলেন—তাহার পরিধানে ছিল গৈরিক পরিচ্ছদ ও কোমরবন্ধ—যেন তিনি আমাদের নিকট কোন্ এক দূর দেশের বার্তা বহন করিয়া আনিয়াছেন। মধ্যে মধ্যে তিনি এক অদ্ভুত অভ্যাস মত ‘শিব! শিব!’ বলিয়া উঠিতেছিলেন। তাহার প্রশান্ত আননে বিরাজ করিতেছিল কোমল ও মহত্ত্বব্যঞ্জক ভাবের সংমিশ্রণ—যাহা সাধারণতঃ ধ্যানপরায়ণ ব্যক্তিগণের মুখমণ্ডলে দেখা যায়। সম্ভবতঃ ঐ ভাবই র‍্যাফেল তাহার দিব্য শিশুর (Sistine Child-এর(১)) ললাটে অঙ্কিত করিয়া দেখাইয়া গিয়াছেন।

     

     

    সে অপরাহ্নের পর আজ দশ বৎসর কাটিয়া গিয়াছে, এবং সেদিনকার কথাবার্তার একটু আধটু মাত্র এখন মনে পড়িতেছে। কিন্তু সেই বিস্ময়কর প্রাচ্য সু সংযোগে যে-সকল সংস্কৃত শ্লোক তিনি আবৃত্তি করিয়া শুনাইয়াছিলেন, তাহা কখনও ভুলিবার নহে; ঐ সুরের ঝঙ্কার আমাদের গীর্জায় প্রচলিত গ্রেগরি(২)-প্রবর্তিত সুরের কথা এত মনে করাইয়া দেয়, অথচ উহা হইতে কত ভিন্ন।

    .

    তাহার নিজের সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করিলে তাহার উত্তর দিতে তিনি বেশ আগ্রহী ছিলেন, এবং একটি প্রশ্নের উত্তরে বুঝাইয়া দিলেন, তাঁহার পাশ্চাত্যে আগমনের কারণ হইল—তিনি বিশ্বাস করেন, বিভিন্ন জাতির মধ্যে, বর্তমানে যেরূপ পণ্যদ্রব্যের বিনিময় চলিতেছে, ঐরূপ পরস্পরের মধ্যে আদর্শের আদান-প্রদানেরও সময় আসিয়াছে। এই সময় হইতে বরাবর কথাবার্তা বেশ সহজভাবে চলিয়াছিল। তিনি প্রাচ্যের “সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম” রূপ অদ্বৈতবাদের ব্যাখ্যা করিতেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বিবিধ ইন্দ্রিয়জ্ঞান এক অদ্বিতীয় সত্তার বিভিন্ন বিকাশ বলিয়া বর্ণনা করিলেন, এবং গীতা হইতে শ্লোক উদ্ধৃত করিয়া তাহার ইংরেজী অনুবাদ করিয়া দিলেন—”ময়ি মিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব” –সূত্রে গ্রথিত মণিসমূহের ন্যায় এই সকল আমাতে অবস্থিত।

     

     

    তিনি আমাদের বলিলেন, খ্রীস্টধর্মের ন্যায় হিন্দুধর্মেও প্রেমই ধর্মভাবের চরম উৎকর্ষ বলিয়া স্বীকৃত হয়।

    তিনি আরও বলিলেন, হিন্দুগণ মনে করেন, শরীর ও মন এক তৃতীয় পদার্থ আত্মার দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। এই বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে, যাহার ফলে পরবর্তী শীতকালে আমি সম্পূর্ণ নূতন দৃষ্টিভঙ্গি লইয়া জগৎকে দেখিতে আরম্ভ করি।

    তিনি বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মের পার্থক্য বর্ণনা করিতেছিলেন এবং আমার মনে আছে, তিনি শান্তভাবে এই কয়টি কথা বলেন, “বৌদ্ধগণ ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানকেই সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন।” সুতরাং এই হিসাবে বৌদ্ধধর্ম ছিল আধুনিক অজ্ঞেয়বাদের (Agnosticism-এর) সম্পূর্ণ বিপরীত মতাবলম্বী। বরং ইন্দ্রিয়জ জ্ঞান মনেরই খেয়াল মাত্র, অতএব অনুমানও তাহাই, এইরূপ সন্দেহ অজ্ঞেয়বাদের মূলমন্ত্র বলিয়া অজ্ঞেয়বাদ অনেকটা হিন্দুধর্মেরই সদৃশ।

    আমার মনে আছে, তিনি বিশ্বাস (faith) শব্দটিতে আপত্তি প্রকাশ করেন এবং উহার পরিবর্তে প্রত্যক্ষানুভূতি (realisation) শব্দটি ব্যবহার করিতে বিশেষ আগ্রহান্বিত হন। সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করিতে গিয়া তিনি ভারতের একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করেন, “কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মানো ভাল, কিন্তু উহার গণ্ডির মধ্যেই মৃত্যু অতি ভয়ঙ্কর।”

     

     

    আমার মনে হয়, সম্ভবতঃ এই প্রসঙ্গেই পুনর্জন্মবাদও আলোচিত হইয়াছিল। বোধহয় তিনি কর্ম, ভক্তি ও জ্ঞান—এই তিনটিকে আত্মজ্ঞান লাভেরতিনটি উপায় বলিয়া উল্লেখ করেন। আমার বেশ মনে আছে, তিনি কিছুক্ষণ ধরিয়া মানবের অনন্ত শক্তি সম্বন্ধে বলেন এবং ঘোষণা করেন, সকল ধর্মের একমাত্র শিক্ষা এই—”ত্যাগ কর, ত্যাগ কর।”

    তিনি এই ভাবের দু-একটি কথাও বলিয়াছিলেন যে, ভারতবর্ষে উচ্চতম ধর্মের সহিত পুরোহিত ও মন্দিরাদির কোন সম্পর্ক নাই, এবং তাহার দেশের সর্বোচ্চ ধার্মিক ব্যক্তির নিকট স্বৰ্গকামনা ‘কতকটা নিম্নস্তরের’ বলিয়াই বিবেচিত হয়।

    আত্মার মুক্ত স্বভাবরূপ আদর্শ তিনি নিশ্চয় উল্লেখ করিয়া থাকিবেন। মানব-সেবাই প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনের উদ্দেশ্য বলিয়া পাশ্চাত্যে আমাদের যে ধারণা, তাহার সহিত তাহার মতের আপাতবিরোধও ঘটিয়াছিল। কারণ আমার স্পষ্ট মনে আছে যে, সেদিন অপরাহ্নে তিনি সর্বপ্রথম সোসাইটি (society) শব্দটি এমন এক অর্থে ব্যবহার করিয়াছিলেন, যাহা আমি কখনও সঠিকরূপে বুঝিতে পারিয়াছি বলিয়া মনে করি না। যতদূর মনে পড়ে, তিনি পূর্বোক্ত আদর্শটির উল্লেখ করিয়াই আমাদের দিক হইতে যে সকল প্রতিবাদ উঠিবার সম্ভাবনা তাহা অনুমান করিয়া বলেন, “আপনারা বলবেন এতে সমাজের কোন উপকার হয় না। কিন্তু এই আপত্তি স্বীকার করে নেবার পূর্বে আপনাদের প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে, সমাজের স্থায়িত্ব জিনিসটা স্বয়ং একটি উদ্দেশ্যস্বরূপ।”

     

     

    ঐ সময়ে আমি মনে করিয়াছিলাম, ‘সোসাইটি’ (সমাজ) অর্থে তিনি সমগ্র মানবজাতির উল্লেখ করিতেছেন, এবং বিচার করিয়া দেখিলে শেষ পর্যন্ত জগৎনশ্বর, অতএব জগতের উপকারের জন্য যাহা কিছু করা যায় তাহাও নশ্বর—এইরূপ মতবাদ প্রচার করিতেছেন। কিন্তু এই অর্থই কি তাহার অভিপ্রেত ছিল? তাহা হইলে মানবসেবাই যে চিবকাল তাহার জীবনব্রত ছিল, তাহার সহিত এই মরে সামঞ্জস্য হয় কিরূপে? অথবা, তিনি শুধু একটি ভাবমাত্র বর্ণনা করিতেছিলেন এবং নিজে সরিয়া দাঁড়াইয়া ঐ ভাবটিকে যতদর সম্ভব সমর্থন কবিতেছিলেন? অথবা, তাহার ‘সোসাইটি’ শব্দটি সেই অদ্ভুত প্রাচ্যদেশীয় ‘সমাজ’ শব্দের একটি ভুল অনুবাদমাত্র। প্রাচ্যে ‘সমাজ’ বলিলেই তাহার সহিত ঈশতন্ত্র শাসনের(৩) কিছু কিছু বুঝায়, এবং অন্য নানা ভাবের সঙ্গে আমাদের দেশে চার্চ বা যাজকসম্প্রদায়ের শাসন সম্বন্ধে যে ধারণা আছে তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত।

    পরিব্রাজক আচার্য হিসাবে তাহার নিজের পদমর্যাদা কি, এই প্রশ্নেরও তিনি কিছু আলোচনা করেন, এবং বলেন, ধর্মসঙঘ সম্পর্কে অথবা একজনের কথায় বলিতে গেলে, “যে ধর্মমত সম্প্রদায়ে সীমাবদ্ধ (পরিণতি লাভ করে), তাহার সম্পর্কে ভারতের তেমন আস্থা নাই।” তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস ‘সঙ’ থেকে চিরকালই নূতন উৎপাতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।”

     

     

    তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করিলেন, ঐ সময়ে পাশ্চাত্যে বহুল প্রচলিত কয়েকটি ধর্মসম্প্রদায় কাঞ্চনাসক্তিবশতঃ অচিরে বিনষ্ট হইবে। তিনি ঘোষণা করেন–মানুষ সত্য হইতেই সত্যে অগ্রসর হইয়া থাকে, মিথ্যা হইতে সত্যে নহে।

    বস্তুতঃ এই মূল সত্যটিকেই তিনি সর্বদা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হইতে প্রচার করিতেন যে, সকল ধর্মই সমভাবে সত্য, এবং আমাদের পক্ষে কোন অবতারের বিরুদ্ধ-সমালোচনা অসম্ভব, যেহেতু অবতারগণ সকলেই সেই এক অদ্বিতীয় ব্রহ্মের বিভিন্ন প্রকাশমাত্র। এই স্থলে তিনি গীতার সেই সর্বশ্রেষ্ঠ শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন–

    “যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
    অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।
    পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
    ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।”

    অর্থাৎ, যখনই ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুদয় ঘটে, তখনই আমি আপনাকে সৃষ্টি করি। সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারিগণের বিনাশ, এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

     

     

    এই ‘হিন্দু যোগী’-কে (লণ্ডনে তিনি যে নামে অভিহিত হইতেন) দেখিবার জন্য আমরা যে কয়জন আসিয়াছিলাম, তাহাদের কাহারও ধর্মে তেমন আস্থা বা বিশ্বাস ছিল না। স্বামীজীর বামপার্শ্বে বসিয়াছিলেন ইতিহাস-প্রসিদ্ধ বংশের এক বৃদ্ধা মহিলা ফ্রেডারিক ডেনিসন মরিসের(৪) শিষ্যা ও বন্ধু। অগ্রণী হইয়া তিনিই মার্জিত শিষ্টাচারের সহিত প্রশ্নাদি করিতেছিলেন। বোধ হয়, ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা কম উদারভাবাপন্না। গৃহকর্ত্রী স্বয়ং এবং অপর দুই-একজন, মনস্তত্ত্বই যে ধর্মবিশ্বাসের কেন্দ্র—এই প্রচলিত আধুনিক আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয়, সেদিন অপরাহ্নে আমাদের মধ্যে অনেককেই বাছিয়া নিমন্ত্রণ করা হইয়াছিল যেহেতু আমরা সহজে কোন ধর্মমতে আস্থা স্থাপন করিবার বিরোধী ছিলাম এবং ধর্মপ্রচার ব্যাপারে যে কিছু সত্য থাকিতে পারে, সে বিষয়ে প্রত্যয় জন্মানো ছিল কঠিন। আমার এখন মনে হয়, সেদিন সেই সাক্ষাৎকারের শেষে বক্তা সম্বন্ধে আমরা যেরূপ দম্ভ ও উদাসীনতার সহিত নিজ নিজ অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলাম, তাহার একমাত্র কৈফিয়ৎ দেওয়া যাইতে পারে এই বলিয়া যে, অবিবেচনাপ্রসূত অনুরাগ যাহাতে হৃদয় অধিকার না করে সেজন্য সর্বদা বিচারবুদ্ধিকে বাঁচাইয়া চলিবার অভ্যাস। বিদায় লইবার পূর্বে গৃহস্বামী ও গৃহকর্ত্রীর সহিত কথা কহিতে কহিতে আমরা এক এক করিয়া অভিযোগ করিলাম, “নূতনত্ব কিছুই নেই”—কেহ না কেহ এই সব বিষয়ে পূর্বেই বলিয়াছেন।

     

     

    কিন্তু আমার নিজের কথা বলিতে গেলে বলিতে হইবে যে, সেই সপ্তাহের নির্দিষ্ট কাজগুলি করিয়া যাইতে যাইতে ধীরে ধীরে আমার নিকট ইহা প্রতিভাত হইল যে, এক অপরিচিত সংস্কৃতির মধ্যে বর্ধিত, এক নূতন ধরনের চিন্তাশীল ব্যক্তি যে বার্তা বহন করিয়া আনিয়াছেন, তাহা এইরূপে উড়াইয়া দেওয়া কেবল অনুদারতার পরিচয় নহে, পরন্তু উহা অন্যায়। আমার মনে হইল, ইনি যাহা কিছু বলিয়াছেন, তাহার অনুরূপ কথা পূর্বে আমি শুনিয়া অথবা ভাবিয়া থাকিতে পারি; কিন্তু এ পর্যন্ত যাহা কিছু আমার নিকট শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট বলিয়া মনে হইয়াছে, সে সমস্ত মাত্র এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে প্রকাশ করিতে পারেন, এরূপ কোন চিন্তাশীল ব্যক্তির দর্শনলাভের সৌভাগ্য ইতিপূর্বে আমার জীবনে ঘটে নাই। সুতরাং স্বামীজীর লণ্ডনে অবস্থানকালে তাঁহার বক্তৃতা শুনিবার যে দুইটি মাত্র সুযোগ মিলিয়াছিল, আমি তাহার সদ্ব্যবহার করিয়াছিলাম।

    অতি উচ্চাঙ্গের সঙ্গীত আমাদের মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি করে, বার বার শ্রবণে তাহা বর্ধিত ও গাঢ় হয়। সেইরূপ, সেই বক্তৃতা দুইটির লিপিবদ্ধ সারাংশ এখন পড়িতে পড়িতে, তখনকার অপেক্ষা বহুগুণ বিস্ময়কর মনে হইতেছে। কারণ, তখন আমি আচার্যদেবের নিকট যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করিতাম, তাহাতে একটা বেপরোয়া ভাব ছিল, পরে তাহার জন্য আমার অনুশোচনার অন্ত ছিল না। যখন তিনি বলিতেছিলেন, “জগৎ হইল মাকড়সার জালের মতো, এবং মনগুলি সব মাকড়সা; কারণ মন এক, আবার বহু”—তখন তিনি এরূপ ভাষায় কথা বলিতেছিলেন, যাহা আমার পক্ষে দুর্বোধ্য। তাহার বক্তৃতা আমি টুকিয়া লইয়াছিলাম, ভাল লাগিয়াছিল বলিয়া, কিন্তু ঐ সম্পর্কে কোন মতামত প্রকাশ করিতে পারি নাই; মানিয়া লওয়া দূরের কথা। তাহার উপদেশাবলী আমি কি ভাবে গ্রহণ করিতাম ইহাই তাহার সঠিক বর্ণনা; এমনকি, পর বৎসরেও যখন তাহার ঐবারকার সমুদয় বক্তৃতা আমি শুনিয়াছি—কেবল তাহা কেন, বলা চলে, যেদিন আমি ভারতে পদার্পণ করি, সম্ভবতঃ সেইদিন পর্যন্ত, আমার এইরূপ মনোভাবই ছিল।

     

     

    স্বামীজীর উপদেশের মধ্যে এমন বহু বিষয় ছিল, যাহার সত্যতা শ্রবণমাত্রেই সকলের বোধগম্য হইত। যেমন, সাধারণতঃ যেভাবে সত্য বলিয়া দাবি করা হয়, কোন ধর্মই সেভাবে সত্য না হইলেও সকল ধর্মই এক হিসাবে সমভাবে সত্য—এই মতটিকে আমাদের মধ্যে অনেকেই তৎক্ষণাৎ স্বীকার করিতে বাধ্য হইলেন। যখন তিনি বলিলেন, ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে নিরাকার, কিন্তু ইন্দ্রিয়রূপ কুহেলিকার মধ্য দিয়া দেখার জন্য তিনিই সাকাররূপে প্রতিভাত হন, তখন ভাবটির সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ ও স্তম্ভিত হইলাম। যখন তিনি বলিলেন, কোন কার্যের পশ্চাতে অবস্থিত ভাবটি ঐ কার্য অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী, অথবা যখন তিনি নিরামিষ-ভোজনের প্রশংসা করিলেন, তখন আমরা ভাবিলাম, সহজেই উহা পরীক্ষা করিয়া দেখা যাইতে পারে। কিন্তু আমার নিজের কথা বলিতে গেলে তাহার সমগ্র মতবাদকেই আমি সন্দেহের চক্ষে দেখিতে লাগিলাম। জগতের কতকগুলি ধর্মমত এইরূপ যে, যদি কেহ প্রথমে ঐগুলি মানিয়া লয়, তবে পরে নিশ্চিতই তাহাকে উহাদের গণ্ডি অতিক্রম করিয়া অবশেষে পরিত্যাগ করিতে হয়। আমার মনে হইল, স্বামীজীর ধর্মমতও ঐরূপ ধর্মমতের অন্যতম। আর এইভাবে মত পরিবর্তনের ফলে কতটা যন্ত্রণা ও আত্মগ্লানি উপস্থিত হয়, তাহা ভাবিলে আর কেহ ওপথে অগ্রসর হইতে চাহে না।

     

     

    গ্রন্থের প্রারম্ভেই সকল কথা স্পষ্টভাবে বলা কঠিন। স্বামীজীর ইংলণ্ড পরিত্যাগের পূর্বেই এমন দিন আসিয়াছিল, যখন আমি তাহাকে ‘গুরুদেব’ (Master) বলিয়া সম্বোধন করিয়াছিলাম। তিনি যে বীরোচিত উপাদানে গঠিত ছিলেন তাহা আমি হৃদয়ঙ্গম করিয়াছিলাম, এবং তাহার স্বজাতিপ্রেমের নিকট আমি সম্পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করিতে চাহিয়াছিলাম। কিন্তু আমার এই আনুগত্য স্বীকার শুধু তাঁহার চরিত্রের নিকটেই। আমি দেখিতে পাইলাম যে, ধর্মোপদেষ্টারূপে জগৎকে দিবার জন্য তাহার একটি স্বতন্ত্র মতবাদ আছে বটে, কিন্তু যদি তিনি অন্য কোথাও সত্যের প্রকাশ দেখেন, তাহা হইলে মুহূর্তের জন্যও তিনি ঐ মতবাদের কোন অংশ সমর্থন করিবেন না। আর এই বিষয়টি যতদূর বুঝিতে পারিয়াছিলাম, ততদূর পর্যন্তই আমি তাঁহার শিষ্য হইয়াছিলাম। বাকি যাহা কিছু, তাহার জন্য আমি তাহার উপদেশাবলী বিশেষরূপে আলোচনা করিয়া বুঝিয়াছিলাম, তাহার প্রচারিত তত্ত্বের মধ্যে কোন অসংলগ্ন ভাব নাই; কিন্তু হাতে-কলমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাহার প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি আমি চরম সত্য বলিয়া গ্রহণ করি নাই। আর যদিও তাঁহার চরিত্র মাহাত্ম্য আমি অতীব আকৃষ্ট হইয়াছিলাম, তথাপি আমার পরিচিত যে কোন চিন্তাশীল বা প্রতিভাবান ব্যক্তির এবং তাহার মধ্যে চরিত্রবিকাশের দিক দিয়া যে বিপুল পার্থক্য আমি পরে দেখিবার সৌভাগ্যলাভ করি, ঐ সময়ে তাহা স্বপ্নেও কল্পনা করিতে পারি নাই।

     

     

    ক্লাসের অপর সকলে আমার এই সন্দেহের ভাব বিশেষরূপে অবগত ছিলেন, এবং অপেক্ষাকৃত ভাগ্যবান এক শিষ্য বহু পরে স্বামীজীর সমক্ষে এই বিষয় লইয়া আমাকে পরিহাস করিয়া বলিতেছিলেন যে, তিনি কিন্তু বরাবরই স্বামীজীর মুখে শোনা প্রত্যেকটি কথা মানিয়া লইতে সমর্থ হইয়াছেন। স্বামীজী সে সময়ে এই কথাবার্তায় কোন মনোযোগ দেন নাই বলিলেই হয়, কিন্তু পরে এক সুযোগে আমাকে একান্তে বলিয়াছিলেন, “কেহ যেন এই ভেবে দুঃখ না করে যে, তাকে বোঝাবার জন্য অপর কাউকে বিলক্ষণ কষ্ট পেতে হয়েছে। আমি দীর্ঘ ছয় বৎসর ধরে আমার গুরুদেবের সঙ্গে সংগ্রাম করেছি, ফলে পথের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি আমার নখদর্পণে।”

    এই প্রথম কথাবার্তার মধ্যে দুই-একটি বিষয় স্মৃতিপটে স্পষ্টভাবে জাগ্রত আছে। এককালে খ্রীস্টধর্ম বলিতে আমি বুঝিতাম ঈশ্বরকে জগৎপিতা জ্ঞানে উপলব্ধি করা। কিন্তু বহুকাল এই ভাবের উপাসনায় বিশ্বাস হারাইবার ফলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ছিলাম। ঐরূপ ধারণার বাস্তব সত্যতা বা অসত্যতার দিকে দৃষ্টি . রাখিয়া কেবল ধারণা বা কল্পনা হিসাবে ইহার মূল্য কি, তাহা ভাল করিয়া বুঝিয়া দেখিতে চাহিয়াছিলাম। কারণ আমি অনুমান করিয়াছিলাম, যাহারা ঐরূপ ধারণা পোষণ করেন, তাঁহাদের চরিত্রের উপর এবং সম্ভবতঃ তাহাদের সভ্যতার উপরেও উহা নিজের একটি প্রভাব বিস্তার করিবে। তুলনা করিয়া দেখিবার উপাদানের অভাববশতঃ বিষয়টি আমি বেশি দূর অনুধাবন করিতে পারি নাই। আর, আশ্চর্যের বিষয়, এমন একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাওয়া গেল, যিনি আমাদের নিকট পঁচরকম উপাসনা-প্রণালীর কথা বলিলেন, যাহাতে ঈশ্বরকে ব্যক্তিরূপে কল্পনা বা ধারণা করা হইয়া থাকে। তিনি এমন একটি ধর্মপ্রচার করিতেছিলেন যাহার প্রথম সোপান হইল ধর্মভাবগুলিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভাগ করা।

    কয়েকটি ভারতীয় ভাবের নূতনত্ব ও গাম্ভীর্যে আমি বিশেষ আকৃষ্ট হই—ঐ সকল ভাবের সহিত আমার এই প্রথম পরিচয়। বস্তুতঃ রূপকের অন্তর্গত নূতনত্ব ও চিন্তাপ্রণালীর ভিন্ন গতি যেন সম্পদ বলিয়া মনে হইয়াছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ সেই সাধুর গল্পটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। এক চোর ধরা পড়িয়াছে ভাবিয়া ভয়ে চুরিকরা বাসন-পত্ৰ ফেলিয়া পলাইতেছে, আর সাধুটি সেই সব লইয়া তাহার পশ্চাতে ছুটিতেছেন। অবশেষে তাহার পায়ের নিকট সমস্ত জিনিসগুলি রাখিয়া সজলনয়নে সাধু বলিলেন, “প্রভু, আমি জানতাম না আপনি ওখানে ছিলেন। এসব জিনিস আপনার, গ্রহণ করুন। সন্তানের অপরাধ ক্ষমা করুন।” সেই সাধুটির সম্পর্কেই আর একটি গল্প শুনিয়াছিলাম। গোখরা সাপের দংশন হইতে রাত্রিকালে যখন তিনি আরোগ্যলাভ করেন তখন এই বলিয়া উহার বর্ণনা দেন, “প্রিয়তমের নিকট থেকে দূত এসেছিল।” মরুভূমিতে মরীচিকা দর্শনে জগৎ সম্বন্ধে স্বামীজী অনুমান দ্বারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তাহার কথাও বলা যাইতে পারে। পনর দিন ধরিয়া মরীচিকা দর্শন করেন এবং সর্বক্ষণই উহা জল বলিয়া তাহার বোধ হয়। কিন্তু একদিন তৃষ্ণার্ত হইয়া জল ভাবিয়া উহা পান করিতে গিয়া বুঝিতে পারিলেন উহা মিথ্যা! ইহার পর পুনরায় পনর দিন ধরিয়া ঐ মরীচিকা দেখিতে পাইলেও বরাবরই তিনি উহাকে মিথ্যা বলিয়া জানিতেন। যে উপলব্ধির ফলে তাহার এই অপূর্ব জ্ঞানলাভ হয়, যে দর্শনের ফলে এই মরুভূমির মধ্য দিয়া যাত্রা ও জীবনযাত্রা এই উভয়ের মধ্যে তিনি একটা সাদৃশ্য আবিষ্কার করিতে সক্ষম হন, তাহা বুঝিতে পাবাই একটা যথার্থ শিক্ষা!

    কিন্তু স্বামীজীর উপদেশের মধ্যে এই দুইটি ব্যতীত আর একটি তৃতীয় জিনিস ছিল—যাহা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং সেজন্যই আমার বিস্ময় উৎপাদন করিয়াছিল। উচ্চ উচ্চ ভাবেব ব্যাখ্যাতা বহু বক্তাকে ধর্মমন্দিরের বেদী হইতেও বক্তৃতা করিতে শুনিয়াছি-স্বামীজী ঠিক তাহাদের মতো একজন বক্তা মাত্র ছিলেন না, তাহা আমি সহজেই ধরিতে পারিয়াছিলাম। ধনী ও অলস উচ্চশ্রেণীর ব্যক্তিগণের তৃপ্তির জন্য তাহাদের সামনে কাব্য ও তর্কযুক্তির সৌখীন খাদ্যদ্রব্য উপস্থাপিত করা স্বামীজীর একেবারেই অভিপ্রেত ছিল না। খ্রীস্টধর্মের একজন নগণ্য প্রচারক অথবা ‘মুক্তিফৌজের’ (Salvation Army) কোন কর্মচারী যেমন জগতের সকল নরনারীকে ভগবানের রাজ্যে প্রবেশ করিবার জন্য আহ্বান করিয়া থাকেন, অন্ততঃ তাহার নিজের দিক দিয়া চিন্তা করিলে স্বামীজী ঠিক সেইরূপ একজন ধর্মপ্রচারক হিসাবেই সকল নরনারীকে ধর্মের নামে আহ্বান করিতেছিলেন। তথাপি আমাদের মধ্যে যাহা কিছু শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট তাহারই দিকে দৃষ্টি রাখিয়া তিনি নিজের কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইয়াছিলেন। ‘পাপ একটা দুঃস্বপ্ন মাত্র’ তাঁহার এই ঘোষণার কথা বলিতেছি না। এইরূপ একটি মতবাদ কোন জটিল ধর্মতত্ত্ব-ব্যাখ্যার অঙ্গমাত্র হইতে পারে তাহা আমার জানা ছিল। ‘কেহ আমাদের জামা চুরি করিলে আলখাল্লাটিও তাহাকে দেওয়া উচিত’ এই মতবাদ আমাদের নিকট যতটা সত্য, বাস্তব জগতে পূর্বোক্ত মতটি উহার ব্যাখ্যাতার নিকট ততটাই সত্য। তাহার একটি দৃষ্টান্ত আমার নিকট অতীব বিস্ময়কর বোধ হইয়াছিল। শ্রোতৃবর্গের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন সম্রান্তবংশীয় অল্পবয়স্কা জননী। রাস্তায় তাহাদের সামনে সহসা একটি বাঘ আসিয়া পড়িলে তাহারা কিরূপ ভীত হইয়া পলায়নে তৎপর হইবেন, সেই কথা তিনি বলিতেছিলেন। হঠাৎ কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করিয়া বলিলেন, “কিন্তু মনে কর, একটি শিশু বাঘটার সামনে পড়েছে; তখন তোমরা কোথায় থাকবে বল দেখি? বাঘের মুখে—তোমাদের প্রত্যেকেই—এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।”

    সুতরাং সেই শীতকালে স্বামীজী ইংলণ্ড পরিত্যাগ করিয়া আমেরিকায় গমন করিবার পর, আমি তাহার সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়া গভীরভাবে চিন্তা করিতাম। প্রথমতঃ তাহার উদার ধর্মবিষয়ক-শিক্ষা; দ্বিতীয়তঃ তাহার ভাবগুলির মধ্যে যে যুক্তিবিচার ছিল, তাহার অপূর্ব নূতনত্ব ও গাম্ভীর্য; তৃতীয়তঃ তাহার আহ্বান ছিল মানব-প্রকৃতির মধ্যে যাহা কিছু শ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা সুন্দর তাহার প্রতি এবং কোন ক্রমেই তাহার নিকৃষ্ট ভাবগুলির প্রতি নহে।

    ————-
    ১ এই বিখ্যাত চিত্রখানির মধ্যস্থলে শিশু ঈশা ও তাহার জননী মেরীর জ্যোতির্মণ্ডিত মূর্তি, বামে সেন্ট সেন্টাসের, দক্ষিণে সেন্ট বাববাবার, এবং নিম্নে দুইটি দেব শিশুর মূর্তি অঙ্কিত আছে। বর্তমানে চিত্রটি ড্রেসডেনে।

    ২ পোপ প্রথম গ্রেগরি-ইনি খ্রীস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাদুর্ভূত হন।

    ৩ ঈশতন্ত্র শাসন (Theocracy)—যে রাজ্য সাক্ষাৎ ঈশ্বব বা তৎপ্রতিনিধি যাজকগণ কর্তৃক পরিচালিত হয়। এ মতে রাজ্যের আইনগুলি মানব কর্তৃক প্রণীত নহে, পরন্তু সাক্ষাৎ ঈশ্ববাদেশ।

    ৪ John Frederich Danison Maurice (১৮০৫-১৮৭২) বিখ্যাত ইংরেজ ধর্মতত্ত্বব্যাখ্যা অধ্যাপক ও গ্রন্থকার। নিজ প্ৰখরবুদ্ধি, চবিএল ও নিযাতিতগণের প্রতি প্রগাঢ় সহানুভূতিবশতঃ ইনি লণ্ডনের সামাজিক জীবনে ও পণ্ডিতমহলে বিশে প্রভাব বিস্তাব করিয়াছিলেন–অনুঃ

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসারদামঙ্গল – বিহারীলাল চক্রবর্তী
    Next Article বাণী চিরন্তন – সম্পাদনা : ভবেশ রায় / মিলন নাথ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }