Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্য ম্যান হু লাফস – ভিক্টর হুগো

    ভিক্টর হুগো এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤷

    দ্য ম্যান হু লাফস – ১

    ১

    কোনো পোষা নেকড়ের নাম কি হোমো হতে পারে? নাহ্, কী করে তা সম্ভব! হোমো মানে তো মানুষ। অথচ একজন লোক তার পোষা নেকড়ের নাম সত্যি সত্যি হোমো রেখেছে। শুধু কি তা-ই? সে নিজের নাম রেখেছে উসাস। কী আশ্চর্য, তাই না? উর্সাস মানে যে ভালুক, এ তো সবারই জানা। অথচ এই নামেই সে পরিচিত হতে চায়। এই লোককে পাগল ছাড়া আর কী বলা যায়?

    তবে উসাসকে যদি পাগলই বলা হয়, তাহলে সেই সঙ্গে এ কথাও স্বীকার করতে হবে যে, তার পাগলামির ভেতর আশ্চর্য একটা শৃঙ্খলা আছে, আছে দায়িত্ববোধ এবং খানিকটা যেন বিদঘুটে রসবোধও, যা চারপাশের সমস্ত কিছুর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে প্রকৃতির ভেতর অসংগতি আর বিকৃতিই খুঁজে পায়।

    উর্সাস একটা গাড়ির মালিক। হোমোকেই সেটা টানতে হয়। মাঝেমধ্যে অবশ্য উসাস ও হোমো জোয়ালে কাঁধ লাগিয়ে একসঙ্গেও টানে। সেটাকে ঠিক গাড়ি না বলে বাড়ি বললেই বেশি মানায়—চার চাকার ওপর বসানো, এই যা। উর্সাসের যা কিছু নিজের, সব ওই গাড়ির ভেতরই পাওয়া যাবে। তার হাঁড়িকুড়ি, তৈজসপত্র? আছে। নিজের খাবার? আছে। নেকড়ের খাবার? আছে। তার বিছানাপত্র, জামা-জুতা, কোদাল-শাবল-দা? আছে, সবই আছে। প্রতিটি জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় সযত্নে সাজিয়ে রাখা, কাজের সময় হাত বাড়ালেই যাতে পাওয়া যায়। আবার একই সঙ্গে লক্ষ রাখা হয়েছে ওঠা-বসা বা চলাফেরার জায়গা যাতে দখল না করে ওগুলো। গাড়ির ভেতর মাঝখানটা ফাঁকা। ঝড়-বৃষ্টির দিনে সেখানে আরাম করে বসে সে, সময় হলে স্টোভ জ্বেলে রান্নাবান্না করে খাওয়াদাওয়া সারে, কখনো-বা ইচ্ছে হলে কালের আঁচড়ে হলুদ হয়ে যাওয়া জীর্ণ পুঁথি বের করে পড়ায় মন দেয়। রাত হলে ওখানেই বিছানা পাতে। পেছনের দরজা আর দুপাশের জানালা বন্ধ করে দিলে ভেতরের মানুষটা ঝড়-বৃষ্টির অত্যাচার থেকে তো বাঁচেই, ছোটখাটো সিঁধেল চোরের হাত থেকেও নিরাপদ থাকে।

    চোর? উর্সাসের গাড়িতে চোর কেন আসবে? টাকার লোভে? কিন্তু কোথায় টাকা? উর্সাসের কাছে যে মেলা টাকা নেই, এ তো কারও না জানার কথা নয়। তবে তাকে অভাবী লোকও বলা চলে না। নতুন কোনো গ্রামে এলেই টাটকা রুটি কেনা চাই তার। আরও কিনবে ভেড়ার মাংসল একটা ঠ্যাং। চলতি মৌসুমের রসাল ফল, তা-ও দু-একটা না কিনলে তার চলে না।

    হোমোর খুব যত্ন নেয় উসাস। হোমো যাতে ভালো-মন্দ খাবার বেশি পরিমাণে পায়, সেদিকে তার বিশেষ খেয়াল থাকে। হোমোর জন্য আলাদা করা থাকে বড় বড় মাংসের টুকরো, সেগুলো রামে ভিজিয়ে খাওয়ানো হয় তাকে। তা ছাড়া নিজের খাদ্য থেকেও একটা ভাগ হোমোকে দেয় উসাস। গাড়ি যখন চলছে, পথের ধারে হয়তো দেখা গেল খরগোশের নধর একটা বাচ্চা, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে হোমোকে ছেড়ে দেবে উসাস-শিকার ধরে খাওয়ার জন্য।

    আরও দেখুন
    সাহিত্য পত্রিকা
    বিনামূল্যে বই
    PDF
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা সাহিত্য
    ই-বুক রিডার
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা ভাষা
    বাংলা লাইব্রেরী

    রাতে হোমো শোয় কোথায়? আকাশে যখন মেঘ থাকে না, আবহাওয়া যখন না-গরম না-ঠান্ডা, ফ্রান্সের বাতাস যখন ফুলের সৌরভে সুবাসিত, হোমো তখন গাড়ির গা ঘেঁষেই আরাম করে শুয়ে রাত কাটিয়ে দেয়। কিন্তু ঝিরঝির করে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি শুধু পড়লে হয়, গাড়ির ভেতর থেকে জোর গলায় তাগাদা দেবে উসাস, ‘তলায় যা রে, হোমো! জলদি তলায় যা!’

    গাড়িটা বেশ উঁচু করেই বানানো। চাকাগুলোকে এড়িয়ে হামাগুড়ি দিয়ে গাড়ির নিচে সেঁধিয়ে যায় হোমো। মনে মনে কৃতজ্ঞতাবোধ করে, আর আরাম-আয়েশের দিকে কত খেয়াল রাখে মনিব! বৃষ্টি যদি বাড়ে, কিংবা যদি শুরু হয়ে যায় ঝড়, কাঠের মজবুত ঝাঁপ নামিয়ে দেয় উসাস। গাড়ির নিচে চারপাশ ঢাকা পড়ে গেল, নিশ্ছিদ্র নিরাপদ হয়ে গেল হোমোর ঘর।

    প্রশ্ন উঠতে পারে, খরচপাতি তো একেবারে কম নয়, উসাস এত টাকা পায় কোথা থেকে? আয়ের ভালো একটা উৎস আছে তার। সে আসলে যাযাবর চিকিৎসক, রোগী দেখে ওষুধ দেয়। সব দেশেই কিছু লোক থাকে, যারা রোগ হলেও কষ্ট করে ডাক্তারের কাছে যাবে না। এরাই উসাসের রোগী। উর্সাস তো যাযাবর, গাড়ি নিয়ে গোটা দেশ চষে বেড়াচ্ছে। রোগীরা তাকে নাগালের মধ্যে পেয়ে ভারি খুশি হয়। গাড়ির ভেতর সারি সারি র‍্যাক আছে, সেসব র‍্যাকে বিচিত্র আকারের ওষুধের বোতল আর পাত্র ঠাসা। সব ওষুধই উর্সাসের নিজের হাতে তৈরি। চলার পথে মাঠের ধারে বা বনের মাঝে হঠাৎ গাড়ি থামানো অনেক দিনের পুরোনো অভ্যাস উসাসের। নিচে নেমে কোনো গাছের পাতা ছিঁড়ছে, ছুরি দিয়ে কোনো গাছের ছাল তুলছে। ফল থেকে মূল সব জিনিসই তার ওষুধ বানাতে কাজে লাগে।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বইয়ের
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বই
    বাংলা ভাষা
    অনলাইন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

    উর্সাস ওষুধ তৈরি করতে বসে রাতের বেলা। উপাদান সারা দিন ধরে সংগ্রহ করা গাছের পাতা, শিকড়, ছাল ও ফুল। এসব সে ছাঁচে, বাটে, নিংড়ায়, জ্বাল দেয়, ফাটে। তারপর এটার সঙ্গে ওটা মেশায়। মানুষের পেটে যাবে, রোগও সারতে হবে, কাজেই গভীর মনোযোগের সঙ্গে কাজ করে উর্সাস, কোনো রকম ভুল হয়ে গেলে নিজেকে সে ক্ষমা করবে না।

    রাতে ওষুধ বানিয়ে দিনে গ্রামে গ্রামে নগদ দামে বিক্রি করে উসাস। গিন্নিদের কাছেই তার ওষুধ বেশি বিক্রি হয়। তবে বেতো বুড়োরাও কম কেনে না। দু-তিন মাস পরপর প্রতিটি গ্রামে ফিরে আসে উসাসের গাড়ি, তখন সেখানে ওষুধ কেনার জন্য রীতিমতো ভিড় জমে যায়।

    সন্দেহ নেই, তার ওষুধের চাহিদা আছে। তবে খদ্দেরের ভিড় দেখে তার আয় আন্দাজ করতে যাওয়াটা বোকামি হবে। কারণ হলো, তার রোগীরা সবাই খুব গরিব। গরিব মানে, একেবারেই গরিব। যার খুব দরাজ দিল, সে হয়তো এক বোতল ওষুধের দাম দিল এক ফ্রাংক। এই এক ফ্রাংকে ওষুধ ও বোতল দুটোই উসাস দিতে পারে না, রোগীর কাছ থেকে বোতলটা তাই ফেরত চেয়ে নিতে হয় তার।

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা কমিকস
    বই
    Books
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা কবিতা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

    আয়ের উৎস হিসেবে এটা উল্লেখ করার মতো কিছু নয়। খাওয়াদাওয়াটা চলছে, গাড়ির মেরামতি খরচটাও উঠে যায়। তবে সঞ্চয় হিসেবে কিছুই থাকে না। তাহলে চোরকে এত ভয় পায় কেন উসাস?

    ভয় যে সে পায়, সেটা তার আচরণ দেখেই বোঝা যায়। উসাস ভুলেও কখনো গাড়ি ফেলে রেখে কোথাও যায় না। গাড়ির জানালায় লোহার মোটা শিক আছে, তাই রাতে কবাটগুলো খুলে রাখে। দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে হুড়কো এঁটে দেয়। এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক উসাস। ঘুমানোর আগে প্রতি রাতে ভালো করে দেখে নেয় জানালার কোনো শিক নড়বড় করছে কি না বা দরজাটা ভালোভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না। বিছানার পাশে লোহার একটা শাবল নিয়ে শোয় সে। বোঝাই যায়, চোর এলে ওই শাবল দিয়েই তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানানো হবে।

    সন্দেহ নেই, শাবল হাতে রুখে দাঁড়ালে বেশ শক্তিশালী চোরকেও অনায়াসে হটিয়ে দিতে পারবে উসাস। সে যে পথে চলাচল করে, আশপাশের সব চোরই সেটা জানে।

    উর্সাসের বয়স কম নয়। তবে কত, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। মাথার কাঁচা-পাকা জট পাকানো ঝাঁকড়া চুল আর চওড়া দাড়ি কপাল ও গালের সমস্ত রেখাকে পুরোপুরি আড়াল করে রেখেছে, ফলে মুখ দেখে বয়স আন্দাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তার নামের অর্থ ভালুক, ভালুকের সঙ্গে মিল রেখে তার চেহারাও লোমশ। যেমন লোমশ, তেমনি মোটাসোটা ও ভারী। সে যখন হাঁটে, থপথপ করে আওয়াজ হয়। পুরোপুরি সোজা হতে পারে না সে, একটু কুঁজো হয়ে থাকে—গাড়ির ভেতর মাথা নত করে হাঁটাচলা করতে করতে ঘাড়টা স্বাভাবিকভাবেই খানিকটা নুয়ে পড়েছে।

    আরও দেখুন
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    অনলাইন বুক
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    বই পড়ুন
    গ্রন্থাগার সেবা

    তো কথা হলো, বয়স পঞ্চাশ হোক বা পঁচাত্তর, উসাসকে দেখলেই বোঝা যায়, তার শরীরে এখনো প্রচুর শক্তি আছে। তা ছাড়া শাবলটাও খুব ভারী আর ধারালো। কাজেই চোরের দল সাবধানে থাকে, সাহস করে বড় একটা তার দিকে ঘেঁষে না। অথচ তা সত্ত্বেও সারাক্ষণ সতর্ক অবস্থায় তৈরি থাকে উসাস। ভাবটা যেন, তার এই স্থায়ী ঠিকানা কাঠের তৈরি গাড়ির কোনো গোপন খুপরির ভেতর প্রচুর নগদ টাকা বা সোনা-রুপা সযত্নে লুকিয়ে রেখেছে।

    আজ প্রায় বিশ বছর হতে চলল এই এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করছে উসাস। এই কয় বছরে বহুবারই গাড়িটার খোলনলচে বদলাতে হয়েছে তাকে। বদলানোর সময় প্রতিবারই আগের চেয়ে পুরু নতুন কাঠ দেওয়া হয়েছে, জানালায় গরাদ বসানো হয়েছে আগের চেয়ে মোটা দেখে। দুবার পাল্টাতে হয়েছে হোমোকেও; তবে না, বিক্রি করেনি বা রাস্তায় ছেড়ে আসেনি। বয়স বেড়ে অকর্মণ্য হতে যাচ্ছে, এরই মধ্যে হঠাৎ অজ্ঞাত কোনো রোগে মারা গেছে এর আগের একজোড়া হোমো। প্রিয় পোষা নেকড়ে দুটো মারা যাওয়ায় শোকে খুবই কাতর হয়ে পড়েছিল উর্সাস। নিজের হাতে মাটি খুঁড়ে তাদের কবর দিয়েছে সে। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছে এই বলে যে, কোনো প্রাণীই তো চিরকাল বেঁচে থাকে না, বেঁচে থাকে শুধু তার সেবা আর ভালো কাজের স্মৃতি। তারপর, শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য, ৩ নম্বর হোমোকে মনের মতো করে গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    বাংলা কবিতা
    গ্রন্থাগার
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ই-বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

    .

    ফ্রান্সের বনভূমি গ্রীষ্ম ও বসন্তে নতুন করে সেজেগুজে অপরূপ হয়ে ওঠে। শহরবাসী তখন দল বেঁধে বেড়াতে আসে বনে। সারা দিন জঙ্গলের ভেতর ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। ঝরনার ধারে বসে সবাই মিলে লাঞ্চ খায়; কারণে-অকারণে হাসাহাসি করে। তবে সবাই নয়। এই যেমন শিল্পীরা। তারা বনে ঢোকার পর একা হয়ে যায়, খুঁজে নেয় নিভৃত একটা কোণ, তারপর ফুলশোভিত বৃক্ষের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করে ক্যানভাসের ওপর

    এল-আর্ডেন গোটা ফ্রান্সে বিখ্যাত বাগিচা। প্রকৃতি যেন বিশেষ যত্নে সাজিয়েছে উদ্যানটিকে। সুবিন্যস্ত তরুবীথির সুদীর্ঘ সারি দেখতে বড়ই ভালো লাগে। চারদিকে, গাছে গাছে, ফুলের যেন মেলা বসে যায়। প্রতিটি সেডার আর পাইনগাছকে জড়িয়ে রেখেছে পুষ্পলতা। পাতার ফাঁকে ফাঁকে বন বিহঙ্গের শ্রুতিমধুর কলরব। বাগানের কোথাও এতটুকু জলা নেই। মাটিতে স্যাঁতসেঁতে ভাব নেই। অন্ধকার এখানে ঢুকতে পারে না। খুঁজলেও একটা কাঁটা গাছ পাওয়া যাবে না। যেদিকেই তাকাও, একটানা সৌন্দর্যই শুধু চোখে পড়বে।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা কমিকস
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    তো বসন্তকালে এল-আর্ডেনে ভ্রমণবিলাসী লোকজনের খুব ভিড় লেগে যায়। এত লোক, তাদের চিত্তবিনোদনের আয়োজন তো হওয়া দরকার, তাই না? সে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বিভিন্ন পেশাদার শ্রেণির মানুষ। তারা সবার আগে এসে বাগানে তাঁবু ফেলে। বনভোজনে যারা আসে তাদের জাদু, ভেলকি, দড়ির নাচ, পোষা জানোয়ারের খেলা ইত্যাদি দেখিয়ে দুই পয়সা আয় করে। বাগিচার ভেতর খানিক পরপর ছোটখাটো ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানেই ওদের তাঁবু পড়ে। ঢং ঢং, টুংটাং বাজনা বাজিয়ে নিজেদের উপস্থিতি ঘোষণা করে ওরা। গাছপালা দেখে আর পাখির গান শুনে সবাই যখন একঘেয়েমির শিকার, তখন দু-একজন করে এই সব তাঁবুতে ঢুকে পড়ে।

    দর্শক কম কি বেশি, তা নিয়ে ওরা মাথা ঘামায় না। দুজন দর্শক পেলেও খেলা দেখাবে। যেকোনো খেলাই হোক, দেখাতে বেশি সময় লাগে না। সময়সীমা মাত্র দশ মিনিট। যে এল, দেখিয়ে দাও তাকে, দাঁড় করিয়ে রাখার কোনো দরকার নেই। খেলা দেখে যে যার পথে চলে যাক, তুমি নতুন দর্শকের জন্য অপেক্ষা করো। খেলা যদি রশির হয়, সেটা আরও শক্ত করে বাঁধো। তোমার পেশা যদি হয় নাচ দেখানো, ঘুঙুরটা এই ফাঁকে বদলে নাও। আর যদি খেলা দেখানোর জন্য বাঘের বাচ্চাটাচ্চা এনে থাকো, পানিটানি খেতে চায় কি না দেখে নাও।

    আরও দেখুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বইয়ের
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা কমিকস
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    ই-বই ডাউনলোড
    সাহিত্য পত্রিকা
    বইয়ের

    সেদিন এই আর্ডেন বাগিচায় গাড়ি নিয়ে ঢুকেছে উসাসও। বনের ভেতর গাড়ি চালানোর কথা নয়, তাই রাস্তাও নেই। রাস্তা না থাক, ঢুকে পড়েছে উর্সাস। সে আসলে আমেন্তিয়া গ্রামে যাবে। বনটাকে ঘুরে গেলে তিন দিনের পথ আর ভেতর দিয়ে গেলে এক বেলার। উর্সাসের তাড়াও আছে, কালই তার আমেন্তিয়ায় পৌঁছানো চাই। সেখানে এমন একজন রোগী আছে, হাঁটুতে উর্সাসের বাতের তেল মালিশ না করলে এক দিনও তার চলে না।

    বাগিচায় উসাস ঢুকল দুপুরের দিকে। ঢুকেই থতমত খেয়ে গেল সে। চারদিকে গিজগিজ করছে লোকজন। শিশুরা ছোটাছুটি করে খেলছে। এখানে-সেখানে ঘাসের ওপর বসে মধ্যাহ্নভোজন সারছে কয়েকটা দল। এই ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালালে যদি কেউ আপত্তি করে? না, উসাস কোনো ঝামেলার মধ্যে যাবে না, তার চেয়ে এক কোণে গাড়ি থামিয়ে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সেই সঙ্গে খানিকটা বিশ্রাম নেওয়া হয়ে যাবে তার। সন্ধ্যার দিকে খালি হয়ে যাবে উদ্যান, বনটুকু পার হওয়ার সেটাই নিরাপদ সময়।

    ফাঁকা মাঠে গাড়ি থামাল উসাস। হোমোকে ছেড়ে দিল, যদি কোনো শিকার পায় ধরে খাক। চুপ করে বসে থাকা স্বভাব নয় উর্সাসের, গাড়ির ভেতর ওষুধ তৈরি করতে বসল সে। এটা জ্বাল দিল, ওটা বাটল, পানি মেশাল, ছাঁকল, বোতল থেকে বোতলে ঢালাঢালি করল। দেখতে দেখতে গাড়ির চারপাশে লোকজনের ভিড় জমে গেল। সবার চোখে কৌতূহল। দেখে খুব মজা পাচ্ছে।

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা কমিকস
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ই-বুক রিডার
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ই-বই
    PDF
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স

    বাগিচায় যারা এসেছে, তারা বেশির ভাগই টগবগে তরুণ-তরুণী। বাত বা মাথাঘোরার ব্যারাম এদের না থাকারই কথা। থাকলেও বন্ধুবান্ধবের সামনে তা কেউ স্বীকার করবে না। উসাস ধরেই নিয়েছে, এরা তার ওষুধের ক্রেতা নয়। তবু সময় তো কাটাতে হবে। তা ছাড়া গাড়ির ভেতর বসে তাকে কাজ করতে দেখলে লোকজন জানতে পারবে সে ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করে, তাতে তার প্রচারও হবে। সে একজন ব্যবসায়ী, বিজ্ঞাপনের গুরুত্ব বোঝে। এখানে বসে ওষুধ তৈরি করলে তা বেশ ভালো বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজে দেবে।

    ফাঁকা মাঠের এক কোণে একটা তাঁবু পড়েছে। কোমল টুংটাং বাজনা নয়, চারদিক কাঁপানো ঢাক পিটিয়ে প্রচার চালাচ্ছে তাঁবুর মালিক। তাঁবুর ভেতর থেকে একদল দর্শককে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। ছোট্ট দল, মাত্র পাঁচ কি ছয়জন লোক। অবশ্য এই বাগিচার কোনো আসরেই এর চেয়ে বেশি লোক হয় না।

    যারা বেরিয়ে এল, তাদের চোখে-মুখে বিস্ময়ের ছাপ। তাঁবুর ভেতর যেন অষ্টম আশ্চর্য দেখেছে তারা। আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রত্যেকেই কোনো-না-

    আরও দেখুন
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    সেবা প্রকাশনীর বই
    অনলাইন বুক
    বইয়ের
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বইয়ের
    অনলাইন বই

    কোনো মন্তব্য করছে।

    কেউ বলছে, ‘অদ্ভুত!’

    একজন বলল, ‘অবিশ্বাস্য!’

    তৃতীয় লোকটা বলল, ‘আজব!’

    যারা উর্সাসের ওষুধ তৈরি দেখছিল, তাদের মধ্য থেকে একজন জানতে চাইল, ‘দাঁড়াও, বাপু, কী আজব দেখে এলে বলে যাও!’

    ‘একটা ছেলে,’ উত্তর দিল একজন। ‘খালি হাসছে। হাসছে তো হাসছেই। কোনো থামাথামি নেই। এমন আজব কাণ্ড বাপের কালেও দেখিনি।

    ‘সে কি এমনিতেমনি হাসি?’ আরেকজন বলল। ‘সারাক্ষণ বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে আছে। এমন দু’কান বিস্তৃত হাসি, কোনো রকম বিরতি ছাড়াই, আর কেউ হেসেছে কি না আমার জানা নেই। শুধু কি তা-ই? হাসির ফাঁকে ফাঁকে একটা কথাও মুখ থেকে বেরোচ্ছে না। একেবারে খাঁটি নির্বাক হাসি যাকে বলে। এ যে সম্ভব, না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে বলে মনে হয় না…’

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্য
    সাহিত্য পত্রিকা
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা ইসলামিক বই
    পিডিএফ
    Books
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    ই-বুক রিডার

    যারা দেখেনি তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, ‘কেন সম্ভব নয়? নির্বাক হাসি এমন আর কী শক্ত? এই দেখো, আমিও পারি…’

    লোকটা হাসতে শুরু করল। দাঁতগুলো বেরিয়ে পড়ল, কপাল উঠল কুঁচকে, নাকও শিঙের মতো খাড়া হলো, কিন্তু উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তার হাসি জনপ্রিয় হলো না। প্রশংসা তো দূরের কথা, সবাই দুয়ো দুয়ো করতে লাগল। তাদের একজন লোকটাকে বলল, ‘কই, দু’কান পর্যন্ত লম্বা হচ্ছে কই? না হে, তোমার এই হাসি সেই হাসি নয়। তুমি বরং তাঁবুতে গিয়ে ভালো করে একবার দেখে এসো। আগে দেখো, তারপর চেষ্টা করো। অনুকরণ করা কি এতই সহজ?’

    এই পরামর্শ অনেকেরই মনে ধরল। একজোট হয়ে বেশ কয়েকজন তাঁবুর দিকে এগোল, সব মিলিয়ে দশ-বারো জন তো হবেই। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছে, পরের মুখে ঝাল খেয়ে মজা নেই, ঘটনাটা আসলে কী, তা নিজের চোখে দেখাই যুক্তির কথা। চলো যাই, হাসির অফুরন্ত উৎস দেখে আসি। দেখার পর বলা যাবে, এর মধ্যে সত্যি কোনো কৃতিত্ব আছে কি না।

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    Library
    বাংলা সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা কমিকস
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ই-বই

    উর্সাস আশা করল, তাঁবু থেকে বেরিয়ে আসা লোকগুলো এবার তাকে ঘিরে দাঁড়াবে, কৌতূহল নিয়ে দেখবে কীভাবে সে ওষুধ তৈরি করে। কে জানে, কিছু বিক্রি-বাট্টাও হতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো উৎসাহই দেখা গেল না। দল বেঁধে বাগিচার আরেক দিকে চলে যাচ্ছে তারা। এখনো বিস্ময়বোধক শব্দগুলো আওড়াচ্ছে।

    ‘অদ্ভুত!’

    ‘আশ্চর্য!’

    ‘আজব!’

    ‘কি জানি ভাই, এ কীভাবে সম্ভব! সত্যি, দুনিয়ায় কত কী যে আছে, আমরা তার কটারই বা খবর রাখি, বলো?’

    একদল ঢুকল তাঁবুর ভেতর, আরেক দল গাছপালার আড়ালে হারিয়ে গেল। উর্সাসের গাড়ির আশপাশ ফাঁকা হয়ে গেছে, একজনও নেই। মানুষই যখন নেই, প্রচারও বন্ধ করে দিতে হয়। হাত-পা গুটিয়ে নিশ্চল মূর্তির মতো বসে আছে উসাস, মাঠের শেষ মাথায় ফেলা তাঁবুটার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে। হাতে এখনো খল, তবে সেটায় এখন আর কিছু বাটছে না। একা ঘুরতে ঘুরতে বেশ অনেকটা দূরে চলে গেছে হোমো, ডাক দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনার কথাও ভাবছে না উসাস। হোমোর গতিবিধির ওপর সাধারণত অত্যন্ত কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখে সে, অথচ আজ তাকে এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন মনে হলো।

    বিরতিহীন আকর্ণবিস্তৃত হাসি একদল লোক দেখে এসেছে, এইমাত্র যারা বনের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। ওই একই হাসি আরও একদল দেখছে, মাত্র খানিক আগে একটা করে ফ্রাংক নগদ খসিয়ে তাঁবুর ভেতর ঢুকল যারা। সে হাসির সংজ্ঞা কী? অদ্ভুত, আশ্চর্য, আজব! কেন? না, নির্বাক হাসি। কে হাসছে? একটা ছেলে। অদ্ভুত, আশ্চর্য বা আজব, যা-ই বলা হোক, সে হাসি কি খ্যাক খ্যাক হাসি? না খিলখিল? না। খিক খিক? না, তা-ও নয়। অথচ হাসিটা হাসতে বত্রিশ পাটি দাঁত বেরিয়ে পড়ছে তার। সে হাসি এতই চওড়া যে, ঠোঁটের দুটো কোণ কান ছুঁয়ে ফেলছে। আজব অবশ্যই, তাতে কোনো সন্দেহ নেই! এরকম নির্বাক চওড়া হাসি দু-চার সেকেন্ডও ধরে রাখা খুব কঠিন, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই ছেলে একবারও না থেমে হাসছে তো হাসছেই, হেসেই চলেছে! পাঁচ মিনিট পেরোচ্ছে, দশ মিনিট পেরোচ্ছে, তার হাসি থামছে না, এতটুকু ম্লান হচ্ছে না। এভাবে কেউ অনির্দিষ্টকাল হাসতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা সত্যি কঠিন।

    না, সত্যি কেউ বিশ্বাস করবে না, যদি একটা রহস্য তার জানা না থাকে। সে রহস্য বা গূঢ়তত্ত্ব ওই লোকগুলো জানে না, এটা পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছে। ওই ওরা, এইমাত্র যারা বনের আড়ালে হারিয়ে গেল।

    কিন্তু উসাসের রহস্যটা জানা আছে। সে জন্যই ব্যাপারটা তার কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে না। সে বরং বিশ্বাস করছে, এ সম্ভব। তবে নিজের চোখে একবার দেখা দরকার না! সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হতো। সন্দেহটা দূর হতো। সত্যি কথাই তো, পরের মুখে ঝাল খেয়ে মজা নেই। কিন্তু নিজের চোখে দেখার উপায়টা কই? গাড়ি ফেলে উসাস কীভাবে যায়! পরিচিত এলাকায়ও এরকম ভুল কখনো করে না সে। আর এ তো জঙ্গল। চারপাশে লোকজন আছে ঠিকই, কিন্তু উসাস তাদের কাউকে চেনে না। চেনা লোকদেরই বিশ্বাস করা যায় না, এদের সে বিশ্বাস করবে কোন বুদ্ধিতে? বনভোজনে আসা সব লোকই ভদ্রবেশী, কিন্তু ভদ্রবেশী যারা সমাজে চলাফেরা করে তাদের মধ্যে প্রকৃত ভদ্রলোক কজন খুঁজে পাওয়া যাবে? সে জানে, ভদ্রবেশীদের মধ্য থেকে প্রকৃত ভদ্রলোক খুঁজতে গেলে চোর বাছতে গা উজাড়ের মতো অবস্থা হবে। এ ব্যাপারে উর্সাসের মতো অভিজ্ঞতা কার আছে?

    না, কৌতূহল মেটানোর কোনো উপায়ই নেই। গাড়ি ফেলে কোথাও তার যাওয়া চলে না। বলা যায় না, হয়তো আশপাশের ঝোপের ভেতরই সুযোগের অপেক্ষায় লুকিয়ে বসে আছে কোনো তস্কর, গাড়ি ছেড়ে সে চলে গেলেই ছুটে এসে হানা দেবে তার গোপন ভান্ডারে। এ-ও অসম্ভব নয় যে, সেই সুদূর লোকালয় থেকেই গাড়ির পিছু পিছু এসেছে ঘাগু কোনো চোর।

    সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল উসাস, গাড়ি ফেলে যাবে না সে। হাসির ভেলকি দেখার জন্য যতই ছটফট করুক মন, ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। আশ্চর্য ছেলেটা হাসছে হাসুক। উসাস নিজেকে বঞ্চিত করবে। আবার সে কাজে মন দিল। লতা-পাতা, শিকড়, ফুল, মূল ইত্যাদি বাটছে। সময় কীভাবে বয়ে গেল বলতে পারবে না, একসময় বনভূমির মাথা থেকে নিচের দিকে ঢলে পড়ল সূর্য। ধীরে ধীরে কমে এল আলো। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। অন্ধকার নামছে বাগিচায়। এখানে আর থাকা চলে না। গাড়ি ছাড়ার জন্য তৈরি হলো উসাস।

    ভ্রমণবিলাসী লোকজন একে একে লোকালয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাঁবুর ভেতর আলো জ্বলতে দেখল উসাস। তার মানে, তাঁবুর মালিক সম্ভবত এই উদ্যানেই আজ রাত কাটাবে। সন্দেহ নেই, আজ তার ভালোই রোজগার হয়েছে। খেলা দেখিয়ে দু’পয়সা আয় করার জন্য এই জায়গা আদর্শ। কাজেই সে ভাবছে, এখানে আরও দু-একদিন খেলা দেখাবে। জানা কথা, আবার কাল সকাল থেকে ভ্রমণবিলাসীরা ভিড় জমাবে এখানে।

    রওনা হলো উর্সাস। হোমো গাড়ি টানছে। সারি সারি গাছের ফাঁক গলে জোছনা এসে পড়েছে নিচে। চাঁদের উজ্জ্বল সেই আলোয় বাগিচার সাদাটে মাটি ঝকঝক করছে। উর্সাসের কোনো তাড়া নেই, আস্তে-ধীরে গাড়ি চালালেও সকাল হওয়ার আগেই আমেন্তিয়ায় পৌঁছে যাবে ওরা। শুধু শুধু হোমোকে তাড়া লাগানোর কী দরকার?

    হোমোর জন্য মনটা সহানুভূতিতে ছেয়ে গেল। গাড়ি থেকে নেমে হোমোর পাশে চলে এল উসাস, দুজন একসঙ্গে হাঁটছে। কিছু না, এ স্রেফ হোমোকে সঙ্গ দেওয়া। বাতাসে গাছের ডালপালা দুলছে। বেশ গরম বাতাস। এরকম আবহাওয়ায় সান্ধ্যভ্রমণ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তা ছাড়া ঘণ্টা দুয়েক এভাবে হাঁটলে উর্সাসের পায়ের বাতটাও বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না।

    উর্সাস হাঁটছে আর মাঝেমধ্যে ঘাড় ফিরিয়ে তাঁবুটার দিকে তাকাচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় এখন আর তাঁবুটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না, দেখা যাচ্ছে শুধু তাঁবুর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা আলোর আভা। এভাবে বারবার তাকানোর অন্য কোনো কারণ নেই—ওই তাঁবুর ভেতর তারই মতো দু- চারজন মানুষ আছে, এই অনুভূতিই মনটাকে ওদিকে আকৃষ্ট করছে। চারপাশে কয়েক মাইল বিস্তৃত বনভূমি। ভ্রমণবিলাসীরা সবাই চলে গেছে। সরকারি দু-চারজন বনরক্ষী হয়তো আছে, কিন্তু তাদেরও কোনো নড়াচড়া বা সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিশাল বনে, অন্ধকার রাতে, মানুষ বলতে শুধু উসাস আর তাঁবুর ভেতরের লোকগুলো। ওদের সে চোখে দেখেনি ঠিকই, তবু একটা আকর্ষণ, একটা নাড়ির টান, একধরনের একাত্মতা অনুভব করছে বৈকি! মানুষ যেহেতু, পরস্পরের প্রতি এই টান বা মায়া থাকতে বাধ্য।

    কিন্তু এ কী! চমকে উঠল উসাস। অনেকক্ষণ পর পেছন ফিরে তাকিয়েছে সে, আর তাকাতেই একটা রোমহর্ষ দৃশ্য দেখতে পেল। কী সর্বনাশ! আগুন লাগল কীভাবে?

    তাঁবুটা দাউ দাউ করে জ্বলছে। সব মিলিয়ে তিন-চারজন মানুষই ছিল ভেতরে, সবাই চিৎকার করছে। কোনো রকম ইতস্তত বা দ্বিধা নয়, গাড়ি ফেলে ছুটল উসাস। মানুষ বিপদে পড়েছে, কাজেই সাহায্য করতে যেতে হবে। তাই যাচ্ছে উসাস। বিপদগ্রস্ত মানুষকে দেখেও না দেখার ভান করে নির্লিপ্ত থাকতে পারে যারা, বহু বছর সাধনা করেও নিজেকে তাদের স্তরে নামিয়ে আনতে পারেনি উসাস। ‘হোমো, এই জায়গা ছেড়ে নড়বি না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক,’ দ্রুত এই একটামাত্র নির্দেশ দিয়েই ছুটল সে। ঝোপের ভেতর লুকিয়ে বসে থাকা চোর তার গাড়ি লুট করবে, এই ভয়টাকে উসাস পাত্তাই দিল না।

    কিন্তু সাহায্য করার সুযোগ পাওয়া গেল না। উসাস তাঁবুর কাছে পৌঁছানোর আগেই সর্বনাশ যা ঘটার ঘটে গেল। পাঁচ মিনিটও লাগেনি, পুড়ে ছাই হয়ে গেল গোটা তাঁবু। ওদের আর সাহায্য দরকার নেই, কাজেই ছুটে গিয়ে লাভ কী! তিন-চারজন লোক ওরা, আগুনে কেউ জখম হয়নি। এখন যা করার, নিজেরাই তা করতে পারবে ওরা।

    ধীরে ধীরে ফিরে এল উসাস। তার জন্য একটা চমক অপেক্ষা করছিল। ফিরেই সে দেখল, হোমো গাড়ি নিয়ে আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তার পাশে একটা মানুষকেও দেখা যাচ্ছে। পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে, উর্সাসের পায়ের আওয়াজ পেয়ে ঘুরল।

    লোকটা ঘুরতেই তার মুখ দেখে থমকে গেল উসাস। লোকটার সারা মুখে ছড়িয়ে রয়েছে সেই হাসি। বিরতিহীন একটানা হাসি। ঠোঁটের দুই প্রান্ত দুই কান ছুঁয়েছে। বেরিয়ে পড়েছে বত্রিশ পাটি দাঁত।

    কোনো কারণ ছাড়াই উসাসের বুক ধড়াস ধড়াস করতে লাগল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বপ্নবাসবদত্তা – ভাস
    Next Article টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    Related Articles

    ভিক্টর হুগো

    লে মিজারেবল – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    ভিক্টর হুগো

    টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }