Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প96 Mins Read0
    ⤷

    ০১. দুপুরে অনু একা থাকতে পারে না

    দুপুরে অনু একা থাকতে পারে না, ভেবে পায় না কি করবে, কোথায় যাবে।

    ঘরের সবগুলো দেয়ালের চেহারা ও হাবভাব আগেই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো; থমকানো এবং শাদা ভয়ের ছাপ মারা এমন সব অনড় আয়না যাতে কখনো কারো প্রতিবিম্ব ধরা পড়ে না। বাঞ্ছারামপুরের থানে মোড়া রানিফুফুর কথা মনে হয়; এক ফুৎকারে নিভে যাওয়া নির্বিকার মোমবাতি, ঘুমের ঘোরে খিলখিল করে হাসে।

    গরম হাওয়ার হলকা চোখে ছোবল মারে বলে এই সময় জানালায় দাঁড়াতেও অনুর তেমন ভালো লাগে না। ঝিমিয়ে পড়া ওলবড়ি গাছ, ঝলসানো কাক, ঘুঘু ও অন্যান্য পাখির ডাক, তপ্ত হাহা হাওয়া, সব কিছু গনগনে উনুনে পোড়া রুটির মতো চিমসে গন্ধে ভরিয়ে রাখে। লামাদের বাগানে বাতাবি লেবুর ঝোপের পাশে আচ্ছন্ন ছায়ায় পাড়া বেপাড়ার দস্যুরা পাঁচিল ডিঙিয়ে এই সময় ব্রিং খেলে, জানালায় দাঁড়ালেই সব দেখা যায়।

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে ব্রিং খেলা।

    খুচরো খুচরো ঝগড়া, আলগা মারপিট, এইসব শুরু হয় এক এক সময়। কলরব শুনে লামাদের বাছুর-প্রমাণ এ্যালসেশিয়ান গেস্টাপো তুমুল আক্রোশে হুড়োহুড়ি-লম্ফঝম্প শুরু করে কখনো। দিনের পর দিন। সবকিছু প্রায় ধরাবাধা নিয়মে নির্বিবাদে চলতে থাকে।

    দেখা যায় লামাদের বাগানের জলেশ্বর মালী আর মালীবৌকে। বাগানের দক্ষিণ কোণে তাদের বাঁশের একচালা ঘর। জানালায় দাঁড়ালে সময় সময় অনেক বিচিত্র ঘটনা চোখে পড়ে। সাধারণত ভরা হাঁ-হাঁ নির্জন দুপুরে আলগা বুকপিঠে জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে দুজন। কোনো কোনোদিন মালীবৌয়ের বুকে মুখ গুঁজে নিসাড় টান হয়ে পড়ে থাকে জলেশ্বর মালী। মালীবৌয়ের বুক শাদা ধবধবে। অনেকক্ষণ ধরে ঘুমোয়, যতোক্ষণ পর্যন্ত বেলা পড়ে না আসে——হাতে পাওয়ার মতো গাছের নিচে পাউডার-পাফ কোমল সূর্য ঝুলতে থাকে। অনুর কি কোথায় সব মনে হয়; ওদের ঘরের মেঝে খুব ঠাণ্ডা, গাল পেতে শশায়া যায়, অগোচরে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়া যায়।

    জানালার আকর্ষণ উত্তরোত্তর তীব্র থেকে তীব্রতর হয়, প্রবল প্রলোভন এড়াতে না পেরে সেখানে দাঁড়ায় সে; রৌদ্র পরাক্রান্ত এক শত্রু, ঝনঝনে পিতলের থালা।

    ছাদ আরো প্রসারিত।

    অনেক বাড়ির অনেক খোলা জানালা—কোথাও নির্লজ্জ কোথাও গুমোট, বুড়ো বটগাছের ডালে লটকানো দুচারটে রঙ-বেরঙের লেজওলা ব্যাঙাচি ঘুড়ি, বরফকলের ঢেউটিনের ছাউনি, কৃষ্ণমূর্তি দানবের মতো পানির ট্যাঙ্ক, ছাদের ওপরে এইসব। ভাঙা মন্দিরের অনুজ্জ্বল চুড়া, মহল্লা সর্দার কাফুল মিয়ার চাঁদ-তারা-নিশান মার্কা বাড়ির ছাদের পেঁপেগাছ, চিলের চেরা চেরা দাগ-লাগা মালীবৌয়ের বুকের মতো নিস্তব্ধ গোল আকাশ, ছাদের উপরে এইসব।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    PDF
    বুক শেল্ফ
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা কমিকস

    ভালো লাগে ছাদে যেতে, কিন্তু গরমে এমন তেতে থাকে যে পা রাখতে ভয় হয়, পাছে ফোস্কা পড়ে; গালানো লোহা হড়হড় করে ঢেলে রাখে কেউ ছাদে।

    সবচেয়ে বড় কথা ছাদে যাওয়া বারণ।

    তার অনেক কিছুই ইচ্ছাধীন নয়, আমাদের বাগানে যেতে পারে না বারণ।

    রঙ-বেরঙের বহু মার্বেল আছে বহুদিন আগেকার; কিন্তু সে ব্রিং খেলা জানে না। নিজের কাছেই সে বয়েস পার হয়ে গিয়েছে। বয়েমে সাজানো আছে মার্বেলগুলো। অদ্ভুতভাবে আলো ঠিকরে পড়ে কখনো কখনো। আর আছে এ্যাকোয়ারিয়ামে আমাজান সোর্ডের চারপাশে ছড়ানো, সিলভার ডলার এ্যানজেল আর লিওপার্ড কোরিডোরাসের খেলার সামগ্রী।

    বারণ—যেন দশমাথাওলা এক রাবণ। লামাদের বাগান—যেখানে আম, গোলাপজাম, পেয়ারা, আমলকী, কাবাবচিনি, ফলসা বা ছোটো বড় হরেক জাতের গাছের সমারোহ, সে যেতে চায় পাখির সন্ধানে। এয়ারগান দিয়ে চড়ুই মেরেছে একসময়, চড়ুই এবং দোয়েল, তুলোর্টাপারি; এখন একটা এয়ারগান বগলদাবা করে ঘোরাঘুরি নেহাতই হাস্যকর। নিজে বুঝতে পারে, খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে সে, বদলে যাচ্ছে সবকিছু।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    ই-বই ডাউনলোড
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য

    পাখির শিস ভালো লাগে—নিস্তব্ধ দুপুরে।

    রৌদ্রের ঝনঝনে থালা ছুঁড়ে ফেলে নির্মল ছায়া বিধৌত পাখির রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে, মড়ার মাথার মতো নিস্তব্ধ দুপুরে।

    ঐসব হাঘরে ইতরদের সঙ্গে তোর অনেক তফাৎ,—একাধিকবার তার মা এইসব বলেছে, তোর সবকিছু সাজে না। ভালো না লাগলে রেকর্ড বাজিয়ে শুনবি। ছবি আঁকা আছে, গল্পের বই পড়া আছে, ঘরে বসে যা ইচ্ছে করতে পারিস, কেবল টো-টো করে ঘোরা চলবে না।

    এক সময় সারাদিন মেকানো নিয়ে পড়ে থাকতো সে; মেকানোর পর ডাকটিকিটের অ্যালবাম। ডাকটিকিটের পর এলো বই পড়ার নেশা। তারপর ছবি আঁকা। আফ্রিকার জঙ্গলে, অভিশপ্ত মমি, মিশমীদের কবচ, ছিন্নমস্তার মন্দির খুবই প্রিয় বই ছিলো এই কিছুদিন আগেও। এখন ভালো লাগে আম আঁটির ভেঁপু। বালিশ ভিজে যায়।

    বই আসা প্রায় বন্ধ; মধ্যে থেকে রাশি রাশি কমিকের বই জমে পাহাড় হয়েছে। এসব অনুর কাছে খয়েরি তেলাপোকার মতো চকলেট আর চটচটে চিউইংগামের মতোই বেজায় ফালতু মনে হয়। বরং রোডস্ দ্বীপের পিতলের মূর্তির কথা পড়তে ভালো লাগে, জানতে ইচ্ছে করে আলেকজান্দ্রিয়ার নিঃশব্দ আলোকস্তম্ভের কথা, কুফুর পিরামিড কিংবা স্ফিংস-এর বৃত্তান্ত।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    বই পড়ুন
    বাংলা গল্প
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

    ছবি কি সবসময় আঁকা যায়, না আঁকতে ইচ্ছে করে, না ভালো লাগে।

    গান ভালো লাগে। বেশি ভালো লাগে বাজনা। বহুদিন থেকেই রেকর্ড কেনা বন্ধ। ছমাসের ভেতর নতুন কোনো রেকর্ড আসে নি বাড়িতে, না গানের না বাজনার। চাঁদের পাহাড় কিংবা আম আঁটির ভেঁপুর মতো কোনো বই তো দূরের কথা, কিছুই আসে নি।

    কি যে করা যায়—কাতরতা অঙ্কুরিত হয়। দুপুর আর কাটতেই চায়। কি অবসাদ। কি অসহায়। ঘরের ভেতরে একা একা নিজেকে নিয়তই বন্দী মনে হয়।

    ঘুমিয়ে দুপুরবেলা ওড়ানো সম্ভব হলে সমস্যা ছিলো না, কিন্তু ঐ সময় ঘুমোবার কথা ভাবতেও পারে না। খাটের পুরু তোশকে তুলোর গরমে ছাদের শিকারী রৌদ্র ঘাপটি মেরে থাকে। জলেশ্বর মালীর মতো, মালীবৌয়ের মতো খুব ঠাণ্ডা মেঝেয় হাত-পা ছড়িয়ে সটান পড়ে থাকতে ইচ্ছে করে। ফরাশ পাতা মেঝের উপরেও শোবার উপায় নেই, মা ক্ষেপে উঠবে। অনেক কিছুই তার সহ্য হয় না, ধাতে পোষায় না। বইয়ের রঙিন মলাটে কালি পড়ে গেলে ক্ষেপে ওঠে, নাকে হাত চেপে না হাঁচিলে ক্ষেপে ওঠে, রঙের বাক্স কালি-কলম-দোয়াত এলোমেলো ছড়িয়ে রাখলে ক্ষেপে ওঠে, অনেক কিছুই মার কাছে অসহ্য। বাঞ্ছারামপুরে বেড়াতে গিয়ে গ্রামের ছেলেদের পাল্লায় পড়ে পুকুরে কলমিলতার ফুল তুলতে গিয়েছিলো সে, তাতেও চটে গিয়েছিলো মা; রাগের চোটে বেড়ানো বাতিল করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ফিরে এসেছিলো ঢাকায়।

    আরও দেখুন
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    PDF
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    Books
    বাংলা ভাষা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা কমিকস

     

    এইভাবে দীর্ঘ অসতর্ক মুহূর্তে নিজের অগোচরে তার ভেতরের যাবতীয় বোবা ইচ্ছেগুলো ধীরে ধীরে ফ্রিজের ঠাণ্ডা বোতলের মতো যখন ঘেমে ওঠে, এবং খাঁখাঁ দুপুরের হাঘরে ছেলেদের মতো ধুলোবালি মাখা হাওয়ার গরগরে শরীর জানালা টপকে এইসব ভিজে ইচ্ছের ওপর নাক ঘষে পরক্ষণেই আবার উধাও হয়ে যায়, তখন অকারণেই সমস্ত আকুলতার ভেতরে মাকে পাবার অদম্য আগ্রহ চিলের আর্তনাদের থরে-বিথরে পালকের মতো ভেসে। বেড়ায়।

    গুমরে উঠতে থাকে অনু,—মা কোনো এক মরা নদী। ইচ্ছেরা সব জলেশ্বর মালী। ইচ্ছেরা সব এক একটা চন্দনের পুরানো কৌটো।

    এই ধরনের কৌটো মার ট্রাঙ্কে আছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে মা। প্রপিতামহদের আমলে তাদের কেউ গোলকুণ্ডার হীরা রাখতো সেটায়। দাদু রাখতো তার অব্যবহৃত একটি পাথরের চোখ। মা রেখেছে বিষ; যতোদূর মনে পড়ে একদিন চুপি চুপি তাই-ই যেন বলেছিলো।

    মস্ত এক বাড়ির খোলের ভেতর আমি,—অনুর এক একবার খুব আচ্ছন্নভাবে মনে হয়, বেদম জ্বরের ঘোরে গ্লাস উপুড় করে তৃষ্ণা মেটানোর পর যেমন ভেতরটা হাঁসফাঁস করে, এও তেমন। সব মিলিয়ে আঠারো কি উনিশটা ঘর, পুরোনো আমলের দোতলা, খড়খড়ির বড়। জানালা, মোটা মোটা কড়ি-বরগা, উঁচু ছাদ। এমন উঁচু ছাদ যে মনে হয়। ওর ওপর আর আকাশ নেই।

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ই-বই
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    পিডিএফ
    বইয়ের
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক

     

    কোনো উদ্ৰবও নেই। অতিরিক্ত কোনো শব্দ নেই। নিজের পায়ের শব্দ নিজেকেই ভয় দেখায়; গলা দিয়ে বের হতে না পারা একটা বিশ্রী ঢেকুরের মতো এই মস্ত বাড়িটার বুকের কাছে সে আটকে গিয়েছে। কখনো দরবেশ আলি কিংবা অন্য কেউ হামানদিস্তায় কিছু কুটলে বাড়িটা খুশি হয়, দেয়ালের চেহারা থেকে খুশির এই মেজাজ সহজেই আবিষ্কার করতে পারে সে। এক সময় মা তার সব অভাবই পূর্ণ করতো, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই চিন্তাটাই ক্যাকটাসের কাটার মতো তাকে খুঁড়তে থাকে। সোডা ফাউন্টেন, কখনো বইয়ের দোকান, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে কখননা, কখনো ডিজনির ছবি—এক সময় এইসব ছিলো। কখনো যাদুঘরে, কখনো কার্জন হলের বিচিত্রানুষ্ঠানে, মা এক সময় যথেষ্ট সঙ্গ দিয়েছে তাকে। কোথাও যাওয়া না হলে খুব মনোযোগ দিয়ে তার ছবি আঁকা দেখতো, উৎসাহ দিতো কিংবা আগডুম-বাগডুম সব গল্প শোনাতো পুরোনো আমলের; বুড়ো-হাবড়াদের মুখ থেকে শোনা সেসব। তা না হলে দুজনে মিলে এ্যাকোয়ারিয়ামের পানি বদল করা-ধরাবাঁধা এই কাজটা ছিলোই।

    এখন ফিল্টার, এয়ার পাম্প, হিটার সবকিছু এসে সেসবের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। মা বলে-ঝক্কি মিটেছে, সাফ করাটা একটা বদখত ঝামেলা। যে-কোনো কাজ একনাগাড়ে করতে গেলেই পানসে হয়ে যায়। তার কোনো মজা থাকে না–

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা কবিতা
    বইয়ের
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    গ্রন্থাগার সেবা
    গ্রন্থাগার
    বইয়ের
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ভাষা

    কথাটা মিথ্যে নয়। কিন্তু আগের মতো মেথিলিন ব্লুতে মাছগুলোকে নিয়মিত চোবানো হয় না, কি বিশ্রী ঘেয়ো চেহারা এখন মাছগুলোর, এ যেন মরে যাওয়া সব উৎসাহের এক মর্মান্তিক রূপ। সোর্ডটেল আর ব্ল্যাকলি বাচ্চা পাড়ছে আর গপাগপ গিলছে, এ্যাঞ্জেল ফিশ মরে যাচ্ছে একের পর

    এক। সবকিছু ফেলে মা-ই একসময় ফাইটারের ডিম দেওয়া দেখতে ভালোবাসতো একনাগাড়ে সারাদিন ঠায় বসে। ঝক্কি চুকেছে, এখন সেসবের কোনো বালাই নেই।

    সবচেয়ে আগ্রহী ছিলো মার মুখ থেকে গল্প শুনতে। শৈশবে কোনো এক সময় দার্জিলিং-এ ছিলো, সেইসব ইতিবৃত্ত এবং আব্বার প্রসঙ্গ।

    আব্বার প্রসঙ্গই সাধারণত বেশি থাকতো।

    অনু আব্বাকে সহ্য করতে পারে না। শয়তান মনে করে। ঘৃণা করে। যে সময় তিনি ঘরে থাকেন সে ইচ্ছে করে গা বাঁচিয়ে সন্তর্পণে বিড়ালের মতো পা টিপে টিপে নিজেকে আড়াল করে রাখে। প্রথমে ছিলো ভয়। এখন ভয় থেকে ঘৃণা। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যরশ্মি, কমলালেবু আলুবোখারা আর স্কোয়শ ফলের গল্প তার মনে যে আনন্দলোক নির্মাণ করতো তা আবার হারিয়ে যেতো আব্বার প্রসঙ্গ উঠলে। প্রতিনিয়ত মনে হয়েছে মায়ের গলায় কানে দার্জিলিং-এর গোল্ডস্টোনের যে দুল আর পেনডেন্ট দিনরাত ঝকমক ঝকমক জ্বলে তার অন্তরালে আত্মগোপন করে আছে বিধাতার মতো গম্ভীর নিষ্ঠুর হিংসাপরায়ণ কোনো আব্বার রাক্ষুসে অন্ধকার, যার কোনো প্রকাশ নেই, চাকচিক্য নেই, ভয়ঙ্কর গোপন জঘন্য কোপন তার স্বভাব। আর কোনো ভুবন নেই মা ছাড়া। আব্বাকে এড়িয়ে, পাতার আড়ালে পাখির মতো নিজেকে ঢেকে রেখে সে তার আলোর ভুবনে এইভাবে পরিত্রাণ পেতে চায়।

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    গ্রন্থাগার
    PDF
    বইয়ের
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা বই
    বুক শেল্ফ
    অনলাইন বুক

    সমবয়েসী ছেলেদের সঙ্গে তার অনেক তফাৎ—অনুর নিজেরই এই রকম ধারণা। নিজের ভেতরে পাথর কেটে কেটে সে নির্জন রাস্তা করে নিয়েছে, ধুলোয় মোড়া সে রাস্তা, ধূম্রজালে ঘেরা, ঘোড়ার পায়ের শব্দ সেখানে বিভীষিকা, এই রাস্তা ধরে নিরাময়ের কল্পলোকে পৌঁছুতে চায়।

    মা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ভাবতে শিখিয়েছে। এখন জানা হয়ে গিয়েছে—ভাবনার ভেতরে কতো রকমেই না মানুষ নিজেকে পায়। ভাবনার ভেতরে নিজেকে সব রকমে যথেচ্ছ পাওয়া যায়। ভয়ঙ্কর যে শত্রু, টলানো যায় তাকেও এবং অতি সহজে। মাকে সবচেয়ে বড় বন্ধু ভেবে তার আনন্দ।

    আব্বা অনেক দূরের মানুষ, সুদূর হিমালয়ের ওপার থেকে উড়ে এসে বাড়ির প্রাঙ্গণের ঘোড়ানিম গাছে ভয়ঙ্কর ইচ্ছে নিয়ে জ্বলন্ত বাদুড় ঝুলে থাকলে যেমন মনে হবে। কালো সুটে মোড়া আব্বাকে তার অতিকায় বাদুড় মনে হয়। রাত্রিবেলায় ঘরে ফিরে যখন আলোর তলায় দাঁড়িয়ে চামড়ায় বাঁধানো আইনের বইগুলো টেবিলের ওপর রাখতে থাকেন, যখন জ্বলতে থাকে চশমার পুরু কাচ, তখন দূর থেকে তা দেখে রীতিমতো সে শিউরে ওঠে। তার মনে হয় এই সময় সামনে পড়লে বিদঘুটে অতিকায় বাদুড়টি জ্বলন্ত চোখ আর কালো ডানা নিয়ে অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে মার ওপর নিষ্ঠুর উল্লাসে।

    আরও দেখুন
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বইয়ের
    Books
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা গল্প
    অনলাইন বুক

    হয়তো খুশির ভান করে—অনুর এই রকমই মনে হয় সাধারণত টাইয়ের ফাঁস আলগা করতে করতে মাকে ডেকে বললেন, একটা শক্ত খুনের আসামীকে বেকসুর খালাস করিয়ে এলুম!

    ভালো–

    এইটুকু বলে চলে এসেছে মা। মা কতো বীতশ্রদ্ধ ওই ছোট্ট একটুখানি ভালো ছুঁড়ে দিয়ে চলে আসা থেকে পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে সে। পরদিন দুপুরে—যখন কেউ কোথাও নেই, কার্নিশে শুধু একটা কাক, কালো পাথরের ভাঙা যিশুখৃস্টের মূর্তির গায়ে ফর্শা টিকটিকি, তখন মা ফিশফিশ করে বলেছে খুনিদের সর্দার। চোর ডাকাত ঠ্যাঙাড়ে গুণ্ডারা তোর আব্বার জোরেই টিকে আছে, কতো টাকা নিয়ে আসে তুই তো আর তা জানিস না। সব লুটতরাজ করা টাকা, মানুষ খুন করা টাকা–

    পুলিশে ধরে না কেন?

    চুপ, তুলবি না ওকথা। আমরা কেউই রেহাই পাবো না, না আমি, না তুই। জেলে পুরবে সবাইকে যদি জানাজানি হয়। ঘানি টানাবে, আঁতা ঘুরিয়ে পাথর ভাঙাবে। এই নোংরা ডাস্টবিন থেকে পালিয়ে যেতে হবে আমাদের। একদিন না একদিন পুলিশে ধরবেই!

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বিনামূল্যে বই
    PDF
    গ্রন্থাগার সেবা
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ভাষার বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার

    বাড়ি থেকে পালানো কতো আনন্দের, অনু বারবার রোমাঞ্চিত হয়েছে। বনে-পাহাড়ে, পদ্মার নির্জন কোনো কলাগাছ ঘেরা চরে, জেলেদের ছোট্টো কোনো গ্রামে—যার চারপাশে কেবল থৈথৈ পানি—পালালে এইসব জায়গাতেই যাবে। তা না হলে এমন কোথাও যেখানে সকলে চিৎকার করে কথা বলে, ঘাসের বিছানায় ঘুমায়, যেখানে আঠারো কিংবা উনিশটা রাক্ষুসে হাঁ-র মতো ঘর নেই, বিশাল উঁচু ছাদ নেই, যেখানে বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম, হু হু হু হু বাতাস বয়ে যায়। মা যদি চিৎকার করে বলে অ-নু-বে-শি-দূ-র-যে ও-না-আ-আ-আ তাহলে সে চিৎকার শাঁ-শাঁ আকাশের দিকে ছুটে যাবে, ধরবে বিদ্যুৎ, তারপর সেই বিদ্যুৎকে চাবুকের মতো হাতে নিয়ে সপাং সপাং মারবে আর পোষ-মানা লোমশ সিংহের মতো বনরাজিঘেরা গ্রাম কেশর নেড়ে নেড়ে খেলা দেখাবে, থেকে থেকে উঠবে গর্জন–

    এমনও হয়েছে, সন্দেহ-সঙ্কুল কণ্ঠে মাকে বলেছে,—সে রকম আব্বাকে তো মনে হয় না, মনে হয় কতো ভালো, কি ঠাণ্ডা! লামার আব্বার মতো হাম্বিতম্বি করে ধুম-ধাড়াক্কা মার লাগান না। তোমার সঙ্গে যে ঝগড়া করে তা-ও না!

    মা উত্তর দিয়েছে-ঐখানেই তো যতো গণ্ডগোল! কেন ডিটেকটিভ বইগুলোয় পড়িস নি, খুনি-ডাকাত ফন্দিবাজ লম্পটগুলো কি চমৎকার ছদ্মবেশ ধরে সাধারণ মানুষের চোখে বেমালুম ধুলো দিয়ে বেড়ায়, ও হচ্ছে সেই জাতের মানুষ। ভালোমানুষিটা হচ্ছে খোলস, ওটা ওপর ওপর। যে কোনো সময় গলা টিপে মারতে পারে, যে-কোনো সময় বিষ দিতে পারে, সবকিছুই ওর পক্ষে সম্ভব। এখানে থাকলে এমনি করে মরে যাবো, কাকপক্ষীও জানবে না, কেউ কাঁদবে না

    আরও দেখুন
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা ই-বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বই পড়ুন
    বইয়ের
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা উপন্যাস

    নতুন করে আবার সবকিছু ভাবতে হয়।

    তোকে আমি কিছুতেই মরতে দেবো না বলতে থাকে মা, অনু চুপচাপ শুনে যায়—তুই জানিস না কি সাঘাতিক তোদের বংশের মানুষরা। তোর দাদা ছিলো ঠ্যাঙাড়েদের সর্দার। চরের মানুষ। কথায় কথায় মানুষ খুন। নিত্য-রোজ গায়ে রক্ত মেখে ঘরে ফিরতো, আর সারা। গায়ে সেই রক্ত নিয়ে মাটির সানকিতে ভাত খেতো। এক চাচাকে তোর সেই দাদী বুকের ওপর চেপে বসে ভোতা কাস্তে দিয়ে পুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জবাই করেছিলো, সে কী চিকার! ঘড়ঘড় করে রক্ত তুলতে তুলতে সকলের চোখের সামনে মরে পড়ে রইলো, ভয়ে কেউ ছুঁলো না পর্যন্ত, গোর দেওয়া তো দূরের কথা। শেষে, দুদিন পর যখন পচে দুর্গন্ধ হয়ে গিয়েছে লাশ তখন শেয়ালে টেনে নিয়ে গিয়েছে একদিকে। পরদিন টেনেহিঁচড়ে খেয়েছে শকুনেও।

    আতঙ্কিত অনু আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মা অভয় দিয়ে বলেছে, সেই জন্যেই তো ইংরেজি শিখছি, তোকে নিয়ে আমি কোথাও চলে যাবো, চাকরি করবো। তোর ধুরন্ধর আব্বা টের পাবে না।

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    Library
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

    স্বস্তি পেয়েছে শুনে। একথায় ভয় কেটে গিয়েছে।

    মার মুখে সে একথাও শুনেছে—ঐ যে স্যার যিনি আমাকে রোজ পড়াতে আসেন, উনি কিন্তু আমাদের খুব বিশ্বস্ত বন্ধু। সব জানেন উনি। আমি সব বলেছি ওঁকে। খুব ভালো লোক, উনি সাধ্যমতো আমাদের সাহায্য করবেন। তোকেও খুব ভালোবাসেন।

    অনু ভয়ে ভয়ে বলেছে, আর যদি সব ফাঁস করে দেন?

    দূর পাগল–মার মুখে আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা দেখতে পেয়েছে সে উনিই তো আমাদের ভরসারে বোকা ছেলে। ইশ, উনি না হলে যে কি হতো অনু, ভাগ্যিস পরিচয় হয়েছিলো! চিন্তায় চিন্তায় বোধ হয় পাগলই হয়ে যেতাম।

    মায়ের স্যারকে খুব ভালো লাগে। কি সুন্দর মানুষটি, অনু চমকৃত হয়েছে। তার স্কুলের গিলবার্ট প্রামাণিকের (ক্যাচূচিরিয়াস্স্যার) মতো মাথায় একরাশ অবাধ্য ঝাঁকড়া চুল, হাসি হাসি মুখ, চশমা পরেন না। উনি থাকতে অকারণে ও ঘরে যেতে বারণ আছে, যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটে লেখাপড়ার। ভালোমতো ইংরেজি রপ্ত করতে চায় মা। ইংরেজি না জানলে চাকরি জোটানো কোনোমতেই সম্ভব নয়। চাকরির চিন্তা দারুণ নেশার মতো পেয়ে বসেছে মাকে—অনু জানে। বাঁচতে হবে তাদের। পালাতে হবে। মাত্র একদিনই দেখতে পেয়ে হাতের ইশারায় কাছে ডেকেছিলেন, সেই প্রথমদিকে, প্রায় বছরখানেক আগে।

    খুব ভালোভাবে আপাদমস্তক খুঁটি জহুরির মতো নিরিখ করে আনন্দিত হয়ে বলেছিলেন, স্ট্রেঞ্জ! এ যে একেবারে বালক হেরম্ব, আই মিন র‍্যাব। ঠিক তেমনি খাড়া খাড়া ঠাসা চুল, গভীর চোখ, শাণিত দৃষ্টি, যেন জ্যোতি ঠিকরে বেরুচ্ছে, আই ওয়ান্ডার! চুলে বিদ্রোহ, চোখে বিদ্রোহ, চিবুকে বিদ্রোহ, ঠোঁটে বিদ্রোহ

    তাকে একপাশে টেনে নিয়ে মা সগর্বে বলেছিলে, ছেলেটি কার দেখতে হবে তো।

    পরে আবার জানতে চাইলো হেরম্ব না র‍্যাবর পরিচয়। স্যার উৎসাহিত হয়ে বলেছিলেন, র‍্যাশ্যার একজন রিনাউন্ড পোয়েট, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ির স্টাইলের প্রবর্তকও বটে। স্তালিনের আমলে ফিল্মের নোংরা গান লেখার অপরাধে খামোকা গুম করে দেওয়া হয় বেচারাকে!

    খুবই প্রানোচ্ছল মায়ের স্যার। ভালো লেগেছিলো। প্রাণের ভেতর থেকে কথা বলেন ভদ্রলোক। যেমন উজ্জ্বল তেমনি চঞ্চল, অসম্ভব হাসতে পারেন।

    কিন্তু এই ভয়ঙ্কর দুপুরে কি করবে। তার ইস্কুল সেই সকালে। তারপর বারোটার মধ্যে ছুটি। মা স্যারের কাছে ইংরেজি শিখছে একতলার কোণের ঘরে, কাজ শেষ করে ঘাড়ের নিচে লাল গামছা রেখে দরবেশ আলি অকাতরে ঘুমিয়ে, পচার মা গেঁটে বাতলা পা জোড়া রৌদ্রে ছড়িয়ে গালে পান ভরে বারকোশে জলপাই আর আমের আচারের বয়েম সাজিয়ে হুস হুস শব্দে কাক তাড়াচ্ছে, এই দুপুরে কি এমন করার আছে! টুকরো টুকরো দুর্বল ইচ্ছেগুলোকে মাছির মতো তাড়ানো ছাড়া আর কিছু করণীয় নেই, মনে হয় অনুর।

    মা যেন কী—

    ভাবতে গিয়ে কালো অস্থিরতা তোলপাড় করে। আজকাল খোঁজ নিতে একবারও ওপরে আসে না, দুপুর হলেই তার সঙ্গে যেন নিদারুণ শত্রুতার এক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

    শিখছে তো শিখছেই। মার কোনো ক্লান্তি নেই। কতো দূরে সরে গিয়েছে মা। আজকাল প্রয়োজনের বেশি প্রায় কথাই বলে না, দিনের পর দিন অসম্ভব গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে, দ্রুত বদলে যাচ্ছে, অনু শঙ্কিত।

    আগে তুচ্ছ ভুল-ত্রুটি নিয়ে পচার মাকে নিছক কম গালমন্দ করে নি, দরবেশ আলিও তো বটেই, আজকাল ওদের দিকে ফিরেই তাকায় না, তুলকালাম তো দূরের কথা; দিনের পর দিন সব অভিযোগ ফুরিয়ে যাচ্ছে।

    অনু শিউরে ওঠে। বুকের মাঝখানে কাচের নীল পিরিচ ভেঙে খান-খান হয়ে যায়। মার যাবতীয় সুন্দর অভিলাষগুলো নির্দয় পাথরে পরিণত; এই বাড়ি ছেড়ে, শয়তানের এই থাবা থেকে আর কোনোদিন নিরাপদে পালানো যাবে না। ভয় হয়। তবু এতো ভালোবাসে সে মাকে যে প্রতি মুহূর্তেই উৎকর্ণ হয়ে প্রতীক্ষা করে, রাত্রিবেলা মাঝে মাঝে নির্বোধ শিশুর মতো বিছানা হাতড়ে কি যেন খোজে। তার কেবল ভয়, চিরকালের মতো এক দুয়ে অন্ধকারে একে একে সব মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। মায়ের সব ইচ্ছেগুলো যদি নির্দয় পাথর হয়ে গিয়েও থাকে তবু মনে মনে অনু সেই পাথরটা কেটে টেবিলের ওপরে সাজানো ভাঙা যিশুখৃস্টের মূর্তির চেয়ে অনেক সুন্দর তার রূপ দিতে চেষ্টা করে।

    লামাদের বাগানে অনেকক্ষণ ধরে হরিয়াল ডাকছিলো। দুম করে বন্দুকের আওয়াজ ফাটলো এক সময়। ঘেউ ঘেউ করে হুঙ্কার ছাড়লো গরগরে গেস্টাপো। অনু এসে দাঁড়ালো জানালায়, বাগানের ঘাসের পাটিতে তার ছোট্ট একটুখানি শরীর নিয়ে পড়ে আছে প্রাণহীন হরিয়ালটি। ক্যাঙ্গারুর মতো জোড়া পায়ে লাফিয়ে লামার মামা সেটা তুলে নিয়ে শূন্যে ছুঁড়ে দিলো, তারপর ক্রিকেটের বলের মতো দুহাতে লুফে নিয়ে চিৎকার করে উঠলো, হাউজদ্যাট!

    লাইটপোস্টের মাথায় কাকের বাসায় আগুন ধরেছে। ওপর থেকে আগুনের ফুলকি ঝরছে ফুলঝুরির মতো।

    ময়লা ছেলেরা হৈহৈ করছে।

    বাইরে গগনে এক মস্ত আকাশ।

    বাইরে ধু-ধু রৌদ্রের মাঝখানে গোল গোল চারকোণা নরম বাগান।

    সেইসব গোল চারকোণা নরম বাগানে ছোটবড় অনেক গাছ। ফিকে সবুজ, ঘন সবুজ, নীলচে সবুজ, ধূসর সবুজ সেইসব গাছ অসংখ্য হাত বাড়িয়ে ধরে রেখেছে আকাশ সমুদ্র আর সুবিস্তীর্ণ স্তেপস কিংবা কিরঘিজ প্রান্তরের ছবি, সে রোমাঞ্চিত হয়। সেইসব গাছের পায়ের কাছে পোষ-মানা আদুরে হাতির মতো কান নাড়ছে অঢেল ছায়া। সবুজ উষ্ণীষ জড়ানো সেইসব সাঙ্কেতিক গাছের অসংখ্য বাহুতে বসে নাম-না-জানা সুনীল পাখিরা দিনরাত আকুল সুরে গেয়ে চলেছে।

    এইসব বিদীর্ণ দুপুরের মাঝখানে, ধু-ধু রৌদ্রের মাঝখানে, গোল চারকোণা বাগানের চেয়ে, গাছের পাতার চেয়ে, সমুদ্রের চেয়ে, পাখির

    গানের চেয়ে, সুন্দর আর ঠাণ্ডা একটি মেঝে পরম নিভৃতে কোথাও আরামে চোখ বুজে অচৈতন্যপ্ৰায় পড়ে আছে জলেশ্বর মালীর মতো। অনুর মনে হলো, জলেশ্বর মালী কতো সুখী!

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালো বরফ – মাহমুদুল হক
    Next Article ন হন্যতে – মৈত্রেয়ী দেবী

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }