Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মতি নন্দীর গল্পসংগ্রহ

    মতি নন্দী এক পাতা গল্প470 Mins Read0
    ⤷

    জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ

    বিয়ের পর ঘরের অকুলান এবং ডেইলি প্যাসেঞ্জারির ধকল, এই দুই ঝকমারি সামলাতে, বিশ্বনাথ কলকাতার উত্তরে বাসা পেয়ে গোবরডাঙার পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে উঠে এসেছে। সে চাকরি করে বিরাট এক হোটেলে। প্রায় সাড়ে সাতশো কর্মচারির ছুটির হিসাব রাখা তার কাজ। বউ পূর্ণিমা, সাত মাসের পুত্র বুবুন আর বাসু নামে বছর বারোর একটি কাজের মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। হাজার টাকা সেলামি দিয়ে দেড়শো টাকা ভাড়ায় দেড়খানি ঘর, ছোট্ট রান্নাঘর আর সরু একটি দালান নিয়ে তার সংসার। টানাটানি নেই আবার সচ্ছলও নয়, যেমন পূর্ণিমা সাদামাটা নয় আবার সুন্দরীও নয়।

    বিশ্বনাথ জন্মরুগ্ন। শরীর কমজোরি হওয়ায় ছোটো থেকেই সে ভীরু প্রকৃতির। পূর্ণিমা কিছুটা বিপরীত। সে চটপটে, পরিশ্রমী এবং কিঞ্চিৎ রাগী। কলকাতায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস পদ্ধতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে তার অসুবিধা হয়নি শুধু জলের ব্যাপারটা বাদে। সে অস্বাচ্ছন্দ্যে পড়ে সকাল বেলাটায়।

    এই বাড়ির তিনটি পরিবারের জন্য উঠোনে এজমালি একটি জলের কল। স্নানের ঘরেও একটি কল আছে চৌবাচ্চার উপরে। পূর্ণিমাদের মুখোমুখি উঠোনের ওধারে একটি ঘরে থাকে স্যাকরা কানাই দত্ত, তার দ্বিতীয় পক্ষের বউ সুপ্রিয়া এবং দুই পক্ষের মোট তিনটি ছেলে মেয়ে। বাড়িওয়ালা রূপেন পাল কাঠের ব্যবসায়ী। তার সংসারে স্ত্রী, এমএ পাঠরতা কন্যা আর নিমাই নামে একটি চাকর মাত্র। জনা বারো প্রাণী নির্ভর করে একটি কলের উপর। প্রতিদিন দু-বেলা কে আগে কলের নীচে কলসি বা বালতি বসাবে, এই নিয়ে তিন পরিবারের লোকেদের মধ্যে মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো জলধরার প্রতিযোগিতা চলে। মছলন্দপুরের বাপের বাড়িতে টিউবওয়েল, পাতকুয়া এবং পুকুর পূর্ণিমাকে যথেচ্ছ জল খরচ করার অভ্যাস তৈরি করে দেওয়ায় এখন চার বালতি জলের সঙ্গে সে কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে না। স্বামীকে সে প্রায়ই অনুযোগ করে, বাড়িওলাকে বলো আর একটা কল বসাতে, এভাবে রোজ পারা যায় না। উঠোন ধুতে দু-বালতি জল ঢেলেছি অমনি ওপর থেকে মাসিমার চিৎকার, চৌবাচ্চা খালি করে দিয়ো না গো। চান করছি আর তখন দরজার কাছে এসে সুপ্রিয়া বলবে, উনি চান করবেন, একটু জল রেখো। বাড়িওলাকে এবার বলো আর একটা কল বসাক।

    বললেই কি কল বসানো যায়। কলকাতার জলের অবস্থাটা আগে বোঝো। কল দিয়ে বেরোবার জন্য জলটা কোথায়? জল দেবে কর্পোরেশন, বাড়িওলা তো নয়।।

    বিশ্বনাথ সর্বদাই বিরোধ বিসংবাদ এড়িয়ে চলতে চায়, সে জানে চিৎকার ঝগড়া হাতাহাতি করে সামান্য কিছু আদায় করা গেলেও মানসিক উৎপীড়নে অশান্তিতে ভুগতে হবে। পূর্ণিমাকে সে বোঝায়, সব কিছু কি আর করে দেওয়া যায়, মানিয়ে নিয়ে চলতে হয়, কিছুটা ছেড়ে দিয়ে অ্যাডজাস্ট করতে হয়। যখন যেরকম অবস্থা পড়ে তখন তেমনভাবে চলা।

    মানিয়ে চলারই তো চেষ্টা করি। যখন কেরোসিন পাওয়া যাচ্ছিল না, মাসিমা বোতল হাতে এলেন তখন কি আমি আধ বোতল দিইনি? হঠাৎ যেদিন দুধের ধর্মঘট হল, মিন্টু এসে বলল বাবা চা খেতে পাচ্ছে না একটুখানি দেবে কাকিমা? বুবুনের বেবিফুড থেকে তো দু-চামচ দিলুম। মানিয়ে চলতে একা আমি চাইলেই তো হবে না। লোডশেডিং হলে হারিকেনটা রান্নাঘরের দরজার বাইরে রেখে কাজ করি, তাতে আমার অসুবিধে হলেও কিছুটা আলো তো সদরে পড়ে। এসব কেন করি, মানিয়ে চলার জন্যই তো।

    অন্যে আমার জন্য কী করল বা না করল তাই নিয়ে মন খারাপ করে লাভ কী, তোমার কর্তব্য তুমি করে যাও।

    সংসার চালাতে গেলে অত ভালোমানুষ হলে চলে না।

    বিশ্বনাথ তখন ট্রানজিস্টারের চাবি ঘোরাল ছায়াছবির গান শোনার জন্য।

    কয়েক দিন পর সকালে খবরের কাগজ পড়ার মধ্যেই বিশ্বনাথ এক বার রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে উঁচুস্বরে বলল, পলতায় জলের পাইপ বদলানো হবে, বুধবার বিকেল থেকে বারো ঘণ্টা জল আসবে না, জল ধরে রেখো।

    কথাটা পূর্ণিমার কানে পৌঁছোল কিন্তু গভীরে নয়। দু-দিন পরে বুধবার এল। প্রতিদিনের মতোই সে সংসারের জন্য জল তুলল। শুধু বিকেল আর রাতে জল বন্ধ, বৃহস্পতিবার সকালেই পাওয়া যাবে এই নিশ্চিন্তিতে সে বাড়তি জল ধরেনি। কিন্তু বিশ্বনাথের নজরে পড়ল কানাই দত্তর বউ আর বড়োমেয়ে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি, ডেকচি, গামলা করে চৌবাচ্চা থেকে জল নিয়ে গেল প্রায় চোরের মতো। এভাবে জল নেওয়ার কোনো কথা নয়। এখনও বাড়ির কারুরই স্নান হয়নি। ঠিক তখনই দোতলা থেকে নিমাইও দুটো ঢাউস প্লাস্টিকের বালতি হাতে নামল।

    বিশ্বনাথ রান্নায় ব্যস্ত, পূর্ণিমাকে বলল, জল ধরে রেখেছ তো?

    খাবার জল দু-বালতি রেখেছি, হবে না ওতে? কাল সকাল পর্যন্ত তো। রাস্তার টিউবয়েল থেকে দরকার হলে বাসু এনে দেবে।

    সেটা তো কতদিন ধরে খারাপ হয়ে রয়েছে, ওদিকে চৌবাচ্চা খালি করে ওরা জল নিয়ে গেল।

    তাহলে চটপট তুমি কলঘরে ঢুকে পড়ো, চানটা করে নাও। দেখলে তো কেমন স্বার্থপরের মতো নিজেরা চৌবাচ্চার সব জল নিল? যেন ওরা ছাড়া এ বাড়িতে আর কেউ নেই।

    বুধবার বিকেলে কলে জল এল না। চৌবাচ্চা শুকনো। রাতে সকড়ি বাসন জলে ভিজিয়ে রাখা পূর্ণিমার অভ্যাস। তুলে রাখা দু-বালতি জলের একটি থেকে অর্ধেক খরচ হয়ে গেছে। তাই থেকে দু-গ্লাস জলে গামছা ভিজিয়ে গা মুছল। ভ্যাপসা গরমের জন্য বিশ্বনাথ পাখার নীচে মেঝেয় শোয়। ন্যাতা ভিজিয়ে মেঝে মুছতেও এক গ্লাস খরচ হল। প্রতিদিনের মতো দাঁত ব্রাশ করার জন্য বিশ্বনাথের দু-গ্লাস জল দরকার হল। বালতিটায় তারপর আর কিছু রইল না।

    আর এক বালতি তো রইল।

    পূর্ণিমার নিশ্চিন্ত মুখে বিশ্বনাথ অনিশ্চিত চাহনি রেখে বলল, কিন্তু সকালে যদি জল না আসে?

    পরদিন সকালে জল এল না।

    পূর্ণিমার হতভম্ব অবস্থাটা কেটে যেতেই কথার খেলাপ করার জন্য কর্পোরেশনের উপর রেগে উঠল। সংসারের নিত্যকর্মগুলো শুরু করতে গিয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে গেল। এক বালতি জল কোন কর্মে লাগবে।

    বিশ্বনাথ একটা বালতি নিয়ে কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেল। আধ ঘণ্টা পর আধ বালতি জল নিয়ে ফিরল।

    কী লাইন আর কী ঝগড়া রে বাবা!

    কোথায় গেছলে?

    এই পিছনে বাজার যাবার পথে যে-বস্তিটা। ওরা নিতে দিচ্ছিল না, অনেক বলে-কয়ে আধ বালতি নিতে দিল।

    চান তো হবে না, তুমি বরং এটা নিয়ে পায়খানায় যাও।

    আর তুমি, বাসু?

    সে যাহোক করে হয়ে যাবে, তোমাকে তো এখন বেরোতে হবে।

    তাহলে থাক, আমি হোটেলেই সব সেরে নেব। ওখানে নিজেদের জলের ব্যবস্থা আছে।

    বাজার থেকে কলাপাতা এনো।

    বুবুনকে কোলে নিয়ে বাসু শুনছিল, বলল, বউদি চাপাকল থেকে জল আনব?

    রাস্তার ওই নোংরা জল, ম্যাগা!

    গঙ্গার জল তো, কত লোক নিচ্ছে।

    নিক গে, বিকেলেই জল এসে যাবে।

    বিকেলে জল এল না। কলের নীচে বালতি রেখে পূর্ণিমা দুপুর থেকে অপেক্ষা করেছে, সেঁকুর তুলে সর্দি ঝাড়ার মতো শব্দ কখনো বেরিয়ে আসে।

    বালতি পেতে কোনো লাভ নেই গো৷ উঠোনের ওধার থেকে সুপ্রিয়া বলল, এরকম আগেও তো হয়েছে, এক বেলা বলে চার বেলা, একদিন বলে তিন দিন। এবার কতদিন চলবে তার কি ঠিক আছে। আমি বাবা কাল সকালটা দেখব, এল তো ভালোই নইলে শিবপুরে দিদির বাড়ি চলে যাব।

    পূর্ণিমা শুনেই গেল। কলকাতার ত্রিশ-চল্লিশ মাইলের মধ্যে তার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। এখন তার শরীরে টোকো গন্ধ। জষ্টি মাসের গরম, বাতাসও বইছে না। এক-তলার ঘরে দরদর ঘামের সঙ্গে ধুলো মিশে চামড়ার উপর কাদার পরত ফেলেছে। সারাদেহে চিটচিটে অস্বস্তি। পায়খানায় যেতে পারেনি, তলপেটে একটা গুমোট ক্রমান্বয়ে চাপ দিচ্ছে।

    বুবুনের জন্য দুধ তৈরি করতে হবে কিন্তু জল রয়েছে বড়জোর এক গ্লাস। তেষ্টায় পূর্ণিমার ছাতি ফেটে যাবার মতো অবস্থা অথচ জলটুকু সে খেতে পারছে না, বুবুনের বেবিফুড গুলতে দরকার। সুপ্রিয়ার কাছে এক গ্লাস চাইতেই সে পরিষ্কার বলে দিল, না ভাই, জল এখন চাওয়াচাওয়ি কোরো না। দুপুরে মিনুর বাবা মারামারি করে টিউকল থেকে এক বালতি এনে দিয়েছে…আমাদেরও তো দরকার লাগবে।

    গেলাস নিয়ে সে দোতলায় গেছল। মাসিমা বিষগ্ন কণ্ঠে বললে, পোড়া কপাল, দুপুর থেকে গলা ভেজাবার মতো জলও নেই। নিমাই একটা ভারীকে ধরেছিল এক টিন জলের জন্য, ব্যাটা বলে দিল দিতে পারব না। তিন গুণ চার গুণ দাম দিয়ে দোকানদাররা যে নিচ্ছে!

    পূর্ণিমা মুখ কালো করে নীচে নেমে এসে দেখল বাসু চাপাকল থেকে বালতি ভরে জল এনে পায়খানার দিকে যাচ্ছে। তাকে দেখেই কুঁকড়ে গেল। তারপর করুণ স্বরে বলল, বউদি আমি আর পারছি না।

    দুর্বল স্বরে পূর্ণিমা বলল, সবটা খরচ করিসনি, আমার লাগবে।

    সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ ফিরল বেশ উদবেগ নিয়েই। শুনছি জল নাকি অনেক দিন পাওয়া যাবে না। পাইপ না ভালভ কী যেন বদলাতে গিয়ে সব ভেঙে পড়েছে, আবার নতুন করে বসাতে হবে।

    পূর্ণিমা ফ্যালফ্যাল করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে। সে আবার বলল, হোটেলে নোটিশ দিয়েছে এমপ্লয়িরা চান করতে পারবে না। আমি অবশ্য একটা খালি রুমে ঢুকে ম্যানেজ করে নিয়েছি।।

    বাসু বলল, আমাদের এক ফোঁটা জলও নেই। বউদি খাবার জন্য এক গ্লাস জল চাইতে গেছল, নীচে ওপরে কেউ দিল না, আমি পাশের বাড়ি থেকে দু-গ্লাস জল আনলুম, ওরা লোক খুব ভালো!

    বিশ্বনাথ ঈষৎ অপ্রতিভ হয়ে সে কী! বলে এক ঝটকায় দুটো প্লাস্টিকের বালতি তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল এবং মিনিট পনেরো পর ফিরে এল খালি বালতি নিয়েই।

    চলো তো আমার সঙ্গে, ওরা নিতে দেবে না। মেয়েছেলে দেখলে হয়তো ছেড়ে দেবে…বেশি দূর তো নয়, বস্তিতে ঢুকে সোজা কুড়ি-পঁচিশ পা এগোলেই টিউবওয়েলটা।

    গলির তিনটি বাঁক ঘুরেই ডান দিকে পড়ে কয়েকটা টালি। টিন আর খোলার চালের দোকান ঘর, উলটোদিকে ডালখোলা। মুদি আর তেলেভাজা দোকানের মাঝে বট গাছের ধার দিয়ে সাত-আট হাত চওড়া কাঁচা রাস্তা বস্তির মধ্যে ঢুকে গেছে। সবে সন্ধে হয়েছে, রাস্তাটার মুখে এবং ভিতরে কর্পোরেশনের আলো জ্বলছে।

    তৃতীয় বাঁকের আগে বিশ্বনাথ দাঁড়িয়ে পড়ল। সন্তর্পণে কোণের বাড়ি ঘেঁষে উঁকি দিল। দুটো বাচ্চা ছেলে, একজনের হাতে পেট্রোলের টিন, আর খয়েরি লুঙ্গিপরা খালি গা শীর্ণ চেহারার একটি লোক আঙুল তুলে চলে যেতে বলছে। ধমকের তর্জন দূর থেকে বিশ্বনাথ শুনতে পেল। এই লোকটিই তাকে ঢুকতে দেয়নি বস্তিতে। বলেছিল, অনেক হুজ্জত ঝামেলা করে এই কল আদায় করেছি, তখন তো আপনারা সাপোর্ট দিতে আসেননি…জলফল হবে না, অন্য জায়গায় দেখুন। কয়েক জন স্ত্রীলোক তখন দাঁড়িয়েছিল। একজন বলে ওঠে, তিন তলা বাড়িতে থাকার সুখ এবার পিছন দিয়ে বেরুবে।

    বাচ্চা দুটো গুটিগুটি ফিরে আসছে। লোকটা লুঙ্গি টেনে তুলে মুদি দোকানের গায়ে ধাপটায় পা ঝুলিয়ে বসল।

    কী বলল রে তোদের?

    বিশ্বনাথের দিকে এক বার মাত্র তাকিয়ে যেতে যেতেই একজন জবাব দিল, কিনে খেতে বলল।

    বিশ্বনাথ ইতস্তত করে পূর্ণিমাকে বলল, তুমি একাই যাও, পারবে তো দু-হাতে দুটো বয়ে আনতে?

    পারা না পারা নয়, পারতেই হবে।

    পূর্ণিমা বালতি নিয়ে এগোল। তার চলনের মধ্যে গোঁ ফুটে উঠেছে। মুদির দোকান পেরিয়ে বস্তিতে ঢুকতে যাচ্ছে তখন লোকটি চেঁচিয়ে উঠল, এই যে যাচ্ছেন কোথায় বালতি হাতে? …জল? হবে না।

    না শোনার ভান করে পূর্ণিমা এগিয়ে যাচ্ছিল। লোকটা ধাপ থেকে লাফিয়ে নেমে প্রায় ছুটেই তার সামনে পথ জুড়ে দাঁড়াল। শুনতে পাননি, কালা নাকি?

    একটু জল নেব।

    অন্য জায়গায় যান, এখানে হবে না।

    বড্ড দরকার, বাচ্চার খাবার জলটুকুও বাড়িতে নেই। পূর্ণিমার স্বরে অকৃত্রিম কাকুতি। ফুটে উঠল।

    বলে তো দিয়েছি, অন্য জায়গায় যান, কলকাতায় আরও অনেক টিউকল আছে।

    খাবার মতো জল অন্তত নিতে দিন।

    খাবার, জলপটি দেবার, ছোঁচাবার কোনো জলই এখানে মিলবে না।

    পূর্ণিমা গলা নামিয়ে মৃদুস্বরে বলল, পয়সা দেব, এক-এক বালতি কত করে নেবেন বলুন?

    লোকটার পাশে বস্তিরই আরও দুটি মাঝবয়সি লোক ও একটি কিশোরী দাঁড়িয়ে। কিশোরীটি হঠাৎ বলল, পয়সার গরম দেখাচ্ছেন?

    সঙ্গে সঙ্গে লোকটা গলা চড়িয়ে বলে উঠল, আমরা বস্তিতে থাকি বলে কি ভেবেছেন পয়সা দিয়ে কিনে নেবেন?

    কৌতূহলে পথচারী দু-তিন জন থমকে গেল। বস্তির ভেতর থেকে কয়েক জন এগিয়ে এল, দোকান থেকে মুখ ঝুঁকে পড়ল।

    কেনাকেনির কথা তো বলিনি, একটু জল চাই শুধু।

    আপনি পয়সার কথা বলেননি, মিথ্যুক। ভদ্দরলোকের মেয়ে যদি হন তো বলুন পয়সার কথা বলেননি?

    বলেছি, কিন্তু সে তো জল কিনব বলে!

    একই কথা।

    আমাদের বাড়ির কাছেরটা ভেঙে পড়ে আছে আজ বারো-চোদ্দো দিন, আর কোথায়…

    তাই বলে এখানে পয়সার ফুটুনি মারতে আসা? জল কেনার শখ হয়েছে, তিন-তলা বাড়িতে ফ্যানের হাওয়া খেয়ে জল তুলতে এসেছেন…যান যান জলফল হবে না।

    কেন হবে না?

    পূর্ণিমা হঠাৎ কোণঠাসা বেড়ালের মতো কুঁজো হয়ে বালতি দুটো ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে তীক্ষস্বরে বলল, কেন জল পাব না, কলটা কি আপনাদের পৈতৃক সম্পত্তি, মগের মুল্লুক নাকি? আমি জল নেবই।।

    সামনের দু-তিন জনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সে বস্তির মধ্যে যাবার জন্য হনহনিয়ে এগোতেই কিশোরীটি ছুটে গিয়ে পিছন থেকে তার আঁচল টেনে ধরল। শরীরের উপর থেকে শাড়িটা খুলে কোমরে টান পড়তেই পূর্ণিমা ঘুরে বালতি দিয়ে মেয়েটির বাহুতে আঘাত করল।

    ওরে মেজদি, ওরে শেফালি শিগগিরি আয়, আমাকে মারছে রে।

    মেয়েটি তারস্বরে চিৎকার করে উঠতেই দু-পাশ থেকে পাঁচ-ছটি স্ত্রীলোক ছুটে এল। নারী পুরুষের একটা ভিড় পূর্ণিমাকে ঘিরে। তার মধ্য থেকে এক বিবাহিতা তরুণী বিশ্রী একটা গালি দিয়ে পূর্ণিমার গালে চড় মারল।

    হারামির বাচ্চা মারপিট করতে এসেছিস, দাঁড়া তোর বাপের নাম ভোলাচ্ছি।

    একটি অল্পবয়সি মেয়ে পূর্ণিমার চুল টেনে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বলল, হাত ভেঙে দোব, কোতায় খাপ খুলতে এসেচ জান? চোক উপড়ে লোব।

    হাত থেকে বালতি দুটো কে ছিনিয়ে নিয়েছে। অপ্রত্যাশিত অকল্পনীয় ঘটনায় পূর্ণিমা বিহ্বল চোখে এধার-ওধার তাকিয়ে ভিড় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতেই তিন চারটে মেয়ে তাকে আটকে রেখে টানতে শুরু করল। ব্লাউজ ভেঁড়ার শব্দ হল। তার ঘাড়ে নখ বসিয়ে মাংস খুবলে তুলতে চাইল একজন। হাঁটু দিয়ে একজন তার তলপেটে আঘাত করল। অন্ধের মতো দু-হাত ছুড়তে ছুড়তে পূর্ণিমা চিৎকার করে উঠল, ছোটোলোক, ছোটোলোকের দল। …আমায় যেতে দাও, যেতে দাও।

    পুরুষ কন্ঠে কে বলল, চোপা কত! হাতটা ভেঙে দে-না।

    আর একজন বলল, ন্যাংটো করে দে মাগিকে, পয়সার গরম তাহলে কমবে।

    ঠেলাঠেলির মধ্যে কেউ তার শাড়ি ধরে টেনেছে। পূর্ণিমা দুই মুঠোয় শাড়ি ধরে আর্তনাদ করে উঠল, খুলো না, পায়ে পড়ি তোমাদের খুলো না।

    টান টান, খুলে দে।

    দুটি মেয়ে হ্যাঁচকা টান দিতেই পূর্ণিমা মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল। শাড়িটা শক্ত করে সে ধরে রেখেছে। সেইভাবেই হাত দশেক তাকে ওরা টেনে নিয়ে গেল। তখন সে হাউহাউ করে ওঠে, আমার শাড়ি নিয়ো না, ওগগা খুলে নিয়ো না।

    একটি স্থূলকায় বিধবা পূর্ণিমার দুই মুঠির উপর দাঁড়াতেই শাড়িটা তার দখল থেকে বেরিয়ে গেল। মাটিতে মুখ চেপে সে ফোঁপাতে শুরু করল। মিনিট তিনেকের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গেল, সেই সময় ভিড়ের ফাঁক দিয়ে বিশ্বনাথ উঁকি দিল আর পূর্ণিমাকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠল।

    একী একী, অ্যাাঁ একী!

    উত্তেজনায় ঠকঠক করে সে কাঁপছে, আর কোনো কথা তার মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে না। শুধু শায়াটা হাঁটুর কাছ থেকে নীচে নামিয়ে দেওয়া ছাড়া তার শরীর আর কোনো আবেগ বা

    প্রতিবাদ প্রকাশ করতে পারল না।

    বিশ্বনাথ এতক্ষণ সেই রাস্তার বাঁকেই অপেক্ষা করছিল। পূর্ণিমা সঙ্গে সঙ্গে ফিরে না আসায় সে ধরে নেয় দুটো বালতি ভরার জন্যই সময় লাগছে। স্বস্তি বোধ হতেই সে সিগারেট কিনল সামনের দোকান থেকে। দড়ির আগুন সিগারেটে যখন লাগাচ্ছে তখন কানে এল—বস্তিতে একটা মেয়েলোক জল নিতে এসেছে তাকে ধরে সবাই যা ঝাড় দিচ্ছে-না–শোনামাত্র সে ছুটে গেছে।

    শাড়িটা দিন।

    বিশ্বনাথ ভিড়ের মুখের দিকে তাকাল। শাড়ির জন্য কেউ ব্যস্ততা দেখাল না। বালতি দুটোরও হদিস নেই। ভিড় ক্রমশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

    শাড়িটা ফিরিয়ে দিন।

    বিশ্বনাথ প্রার্থনার মতো দু-হাত মুঠো করে মেয়েদের দিকে তাকাল।

    শাড়ি না হলে ও যাবে কী করে?

    কেন শায়া তো রয়েছে।

    বিভ্রান্ত চোখে বিশ্বনাথ তাকিয়ে রইল মাটিতে উবুড় হয়ে থাকা তার স্ত্রীর দেহের দিকে। নিজের শার্টটা খুলে পূর্ণিমার পিঠের উপর রেখে বলল, চলো বাড়ি যাই।

    পূর্ণিমার ঘাড় আর গাল থেকে রক্ত ঝরছে। ফালা দেওয়া ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে চামড়ায় রক্তের ছড় দেখা যাচ্ছে। চোখের জল আর মাটিতে মুখ লেপা। বিশ্বনাথ রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে দিল। তখনও সে ঠকঠক করে কাঁপছে।

    ওরা বাড়ি ফিরে এল। শার্ট আর শায়াপরা পূর্ণিমাকে রাস্তার দু-ধারের কৌতূহলী চোখ দেখছিল, কিন্তু তাই নিয়ে বিব্রত বা লজ্জিত হবার মতো বোধক্ষমতা তাদের ছিল না। অপমান, রাগ, দুঃখ কিছুর দ্বারাই ওরা পীড়িত হয়নি। অনুভবহীন, শব্দহীন শূন্যতার মধ্য দিয়ে দুজনে ফিরে এল।

    সেই রাত্রেই কলে জল এল। বালতি বসাবার জন্য যখন হুড়োহুড়ি চলছে পূর্ণিমা তখন বিছানায় কাঁপছে জ্বরের তাড়সে।

    দিন দশেক পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে বিশ্বনাথ দেখল রান্নাঘরের প্রায় সিকিভাগ জুড়ে রয়েছে দুটো জালা, যার মধ্যে একটা মানুষ উবু হয়ে থাকতে পারে।

    দুপুরে বাজারে গিয়ে কিনে আনলুম। তিরিশ টাকা পড়ল, এক টাকা মুটে। এবার জল জমাব।

    জলের ক্রাইসিস কি ঘন ঘন হয় যে চাল বা কেরোসিনের মতো জমিয়ে রাখবে।

    যদি দু-বছর, চার বছর, দশ বছর পরও হয় তবুও… রাগটা যন্ত্রণার চাপে পূর্ণিমার গলায় আটকে গেল। বিশ্বনাথ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।

    পূর্ণিমা প্রতিদিন এক বালতি করে জল দুটি জালায় ঢালতে লাগল। সকালের প্রথম বালতির এবং বিকালের প্রথম বালতির জল। এজন্য সংসারে ব্যবহারের জন্য জলের পরিমাণ তাকে কমাতে হল। চায়ের জন্য বাসু একদিন দু-বাটি জল জালা থেকে নেওয়ায় চড় খেল। দিনে তিন চার বার সে সরা তুলে দেখে কতটা ভরল।

    একদিন জালা দুটি ভরে গেল। পূর্ণিমা দুটি ছোটো ছোটো জালা কিনে বড়ো দুটির মুখের উপর বসিয়ে দিল।

    এতে ক-দিন চলবে? একদিন বিশ্বনাথ জিজ্ঞাসা করল।

    পূর্ণিমা মনে মনে হিসেব করে বলল, দু-সপ্তাহ চলবে শুধু খাওয়া আর রান্নার জন্য, তবে নির্ভর করছে কীভাবে খরচ করবে। বাসনমাজা, কাচাকাচি, ঘরমোছা চলবে না।

    তোমার টার্গেট কত?

    আমার টার্গেট নেই।

    অবশেষে ছোটো জালা দুটোও ভরে গেল। রান্নাঘরে আর জায়গা নেই। দালানটা অরক্ষিত। শোবার ঘরে রাখা যায় কি না, পূর্ণিমা তাই নিয়ে কয়েক দিন চিন্তা করল। একদিন সে বিশ্বনাথের কাছে জানতে চাইল, বড়ো বড়ো ঘিয়ের টিন কোথায় পাওয়া যায়?

    কেন জল রাখবে বলে? টিনে মরচে পড়ে তো ফুটো হয়ে যাবে।

    ছাদে কয়েকটা ইট পড়েছিল। কয়েকটা আঁচলের আড়াল দিয়ে নামিয়ে এনে পূর্ণিমা শোবার খাটটাকে উঁচু করল। এরপর মাটির কলসি কিনে জল ভরে খাটের নীচে রাখতে লাগল।

    শুধু জল আর জল রাখার পাত্র ছাড়া পূর্ণিমার আর কিছু কথা বলার নেই। বাড়ির বাইরে গেলে ছটফট করে ফেরার জন্য। তার ভয় জালা বা কলসি যদি কেউ ভেঙে ফেলে। খড়ি দিয়ে ওগুলোর গায়ে কেনার তারিখ লিখে রেখেছে। কোনটি থেকে প্রথম খরচ করবে, তারপর কোনটি, তারপর কোনটি, মনে মনে সে পাত্রগুলিকে সাজিয়ে ফেলেছে। কোন কাজের জন্য কোনটি থেকে জল খরচ করবে তাও সে ঠিক করে রেখেছে। দু-তিনটি পাত্রের তলা থেকে জল চুইয়েছিল। দোকান থেকে পুডিং এনে লাগিয়েছে। কী এক ঘোরের মধ্যে তার দিন এবং রাত কেটে যায় এই জল নিয়ে। এক-এক সময় সে বিড়বিড় করে হিসেব করে। বাসুকে বলে, চানটানের কথাই ওঠে না। হাতধােয়া আর কুলকুচোর জন্য এক বাটি তার মানে তিন জনের জন্য তিন বাটি, দু-বেলায় ছ-বাটি। বুবুনের কাঁথা প্রথম দু-তিন দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে…গন্ধ হবে তো কী আর করা যাবে। বাজারের আনাজ ধােয়ার জন্য এক গামলা…হবে না রে?

    এখন সে সকালে খবরের কাগজের জন্য অপেক্ষা করে। বিশ্বনাথের হাতে দেবার আগে খুঁটিয়ে দেখে, জল সরবরাহ বন্ধের খবরের জন্য।

    বাড়ির সকলে জেনে গেছে তার জল-জমানোর ব্যাপারটা। উপরের মাসিমা একদিন এসে তার জলভান্ডার দেখে গেল।

    তাকগুলো খালি কেন? বোতলে ভরে ভরে রেখে দাও। ঠাট্টা করেই কথাগুলো বলা, কিন্তু পূর্ণিমার কানে সেটা বিচক্ষণ পরামর্শ মনে হল। শিশি-বোতলওলার দোকান থেকে সে দশটি বোতল কিনে জল ভরে তাকে রাখল।

    সুপ্রিয়া মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যায়। একদিন বলল, তুমি তো বাপু ছোটোখাটো টালার ট্যাঙ্ক করে ফেলেছ। এবার জল বন্ধ হলে তোমার কাছেই হাত পাতব, দেবে তো? অবশ্য পয়সা দিয়েই নোব।।

    পয়সা শব্দটা পূর্ণিমার মাথায় ভারী হাতুড়ির মতো পড়ল এবং অবশ করে দিল। সারা দিন সে কথা বলল না, থালায় ভাত ফেলে রেখে উঠে পড়ল। অকারণে বার বার তার কান্না পেল।

    আশপাশের বাড়িতেও জেনে গেছে। কিছুদিন হাসাহাসি করে তারা ভুলে গেল। প্রতিদিনই কল থেকে জল বেরিয়ে আসছে, পূর্ণিমা তাই দেখে দেখে এখন বিরক্ত। বিশ্বনাথকে বলল, জল কি আর বন্ধ হবে না?

    তোমার তাই নিয়ে ভাবনা করার কী? তিন-চার মাসের তো স্টক হয়েই গেছে।

    স্তিমিত ক্লান্ত কণ্ঠে সে বলল, কাজে না লাগলে জমানোর কোনো মানেই হয় না।

    এই কথার দু-দিন পরেই ভোরে কাগজ দেখতে দেখতে পূর্ণিমা চিৎকার করে উঠল, হয়েছে হয়েছে, ওগো, শুনছ, ওরে বাসু…সোমবার সকালে জল আসবে না।

    কাগজ হাতে সে ছুটে উঠোনে এল। সুপ্রিয়া কলে মুখ ধুচ্ছে। পূর্ণিমা চেঁচিয়ে প্রায় সারা বাড়িকে শুনিয়ে বলল, সোমবার সকালে জল আসবে না গো।।

    অদ্ভুত এক সুখ পূর্ণিমাকে গ্রাস করেছে। তিন দিন পর সোমবার। তিনটে দিন সে তীব্রভাবে অপেক্ষা করল। তার ঘর ভরে আছে জলে, সে নিজেও ভরে যাচ্ছে কানায় কানায়। এতদিন ধরে ধিকিধিকি যে দুঃখ তাকে পোড়াচ্ছে এইবার তা নিভবে। উদাসীন চোখে সে দেখল অন্যান্যদের ব্যস্ততা, ক্ষোভ, উৎকণ্ঠা, ভাবনা। অলসভাবে সংসারের কাজ করে গেল এবং মাঝে মাঝেই উজ্জ্বল হয়ে মৃদু হাসিতে তার মুখ ভরে যাচ্ছিল। বহুদিন ধরে সে অপেক্ষা করেছে এই দিনটির জন্য।

    জল তুলে রাখবে না বউদি?

    দরকার নেই।

    সোমবার সকাল থেকে কলকাতায় কলের জল নেই। বড়ো জালা থেকে পূর্ণিমা সংসারের জন্য জল ব্যবহার শুরু করল। স্নান বন্ধ, কলাপাতায় খাওয়া। বাসু চাপাকলের জলও আনল। অস্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে কিন্তু যেন বিরাট নিরুদবিগ্নতাকে আরও উপভোগ্য করার জন্য। বার বার সে জলের পাত্রগুলোর গায়ে হাত বোলাল, বার বার তাকিয়ে দেখল। এইবার সে তৈরি হয়ে রয়েছে।

    দুপুর থেকে সে উৎকণ্ঠার সঙ্গে তাকিয়ে রইল কলের দিকে। জল আসার সময় পেরিয়ে যেতে সে সুখবোধ করল। জল আসেনি। যেন তার মুখ চেয়েই মসৃণভাবে প্রহর গড়িয়ে চলেছে।

    এক বেলার জন্য বলেছিল, কথার কোনো দাম নেই গো, কত বেলা যে লেগে যাবে জল আসতে তার কি ঠিক আছে?

    সুপ্রিয়া সন্ধ্যায় সময় সদরে ধুনো দিতে এসে বিমর্ষ কণ্ঠে পূর্ণিমাকে বলল, তোমার আর কী, ঘরে টালার ট্যাঙ্ক নিয়ে দিব্যি তো কাটিয়ে যাবে।

    রাত্রে সে বিশ্বনাথকে বলল, তোমার কী মনে হয়, এবার কত দিন চলবে?

    বিশ্বনাথ দু-চার দিনের বেশি নয় বলায় পূর্ণিমা ক্ষুব্ধ হল। পাশ ফিরতে ফিরতে সে শুধু বলল, দেখা যাক।

    মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভাঙার পর আধা জাগরণ, আধা অচেতন অবস্থায় পূর্ণিমা ক্ষীণভাবে একটানা একটা শব্দ শুনতে পেল। শব্দটা বেড়ে উঠতে উঠতে তার মাথার মধ্যে ঝম ঝম কড়া নাড়ার মতো আওয়াজ করে উঠল। ধড়মড়িয়ে সে উঠে বসল।

    কলে জল এসে গেছে।

    বাব্বাঃ বাঁচালে…ধরেই রেখেছিলুম এবারও ভোগাবে!

    তবু কিছুটা কথা রেখেছে…ওরে নিমাই বালতিটা নিয়ে এবার নাম বাবা।

    পূর্ণিমা পাথরের মতো বিছানায় বসে রইল। ঘরের বাইরের পৃথিবীটা প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু তার নিজের জগৎ চুরমার হয়ে ভেঙে ভেঙে পড়েছে।

    ঘরের দরজা খুলে সে বাইরে এল। ভরা বালতি হাতে নিমাই দোতলার সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছে, সুপ্রিয়া উবু হয়ে উনুন সাজাচ্ছে, কলে বালতি পেতে মিনু ঘাড় হেঁটে করে দাঁড়িয়ে, দোতলা থেকে বাড়িওয়ালার জিবছোলার শব্দ আসছে। পূর্ণিমার মনে হল তার অভ্যস্ত এই দৃশ্য থেকে সে ছিটকে বেরিয়ে গেছে। এখন যেন সে ছেড়া ব্লাউজের উপর শার্ট আর শায়া পরে সারা মুখে মাটিলেপা অবস্থায় অনুভবহীন শূন্যতার মধ্যে। এইভাবেই কি তাকে দিনযাপন করতে হবে?

    পূর্ণিমা দ্রুত সরে এল। ওরা তাকে দেখতে পায়নি। রান্নাঘরে ঢুকে সন্তর্পণে দরজা বন্ধ করে খিল তুলে দিল। বাটনবাটার নোড়া দিয়ে ঠুকে ঠুকে জালার তলায় ঘা দিতেই ফুটো থেকে ছিটকে জল বেরিয়ে তার পা ভিজিয়ে দিল।

    ঘরের নর্দমার মুখে জলের ঘূর্ণি আর বক বক শব্দটা তাকে অসম্ভব অবাক করে দিল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড
    Next Article কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    Related Articles

    মতি নন্দী

    অপরাজিত আনন্দ – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    ক্রিকেটের রাজাধিরাজ ডন ব্র্যাডম্যান – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ২য় খণ্ড

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }