Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দময়ন্তী সমগ্র ১ – মনোজ সেন

    মনোজ সেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤷

    সরল অঙ্কের ব্যাপার

    সোফার ওপর চিন্তিত মুখে দময়ন্তী বসে ছিল। প্রায় সাড়ে আটটা বাজে, এখনও সমরেশের পাত্তা নেই। আজ প্রায় তিন বছর হল বিয়ে হয়েছে ওদের, কিন্তু খবর-টবর না দিয়ে এত দেরি সমরেশ কখনো করে না। একটি বিদেশি ফার্মের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সমরেশ দত্তগুপ্ত, রোজ সাড়ে ছ-টার মধ্যে বাড়ি ফেরে। চিন্তাগ্রস্ত মুখে টেলিফোন ডাইরেক্টরিটা খুলল দময়ন্তী। কাকে ফোন করা যায়? ফার্মের কোন সহকর্মীকে? এমন সময় দরজায় বেল বাজল।

    দরজা খুলে দেখা গেল সামনেই মূর্তিমান আকর্ণবিস্তৃত হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই দীর্ঘাকৃতি, সুপুরুষ ও প্রচণ্ড ফুর্তিবাজ মানুষটির প্রতি দময়ন্তী কোনোদিনই বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না। কিছুক্ষণ রাগত চোখে তাকিয়ে থেকে তারপর হেসে ফেলল। জিজ্ঞেস করল, ‘এত দেরি হল যে? অফিসে কাজ পড়ে গিয়েছিল বুঝি?’

    ব্যাগটা ধপ করে সোফার ওপর পেলে সমরেশ বলল, ‘আরে, না, না, অফিসের কাজ নয়। একটা ভয়ানক ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছিলাম— যাকে বলে রোমহর্ষক ঘটনা।’ বলে একটা খালি সোফার ওপর লম্বা হল।

    দময়ন্তী ব্যাগটা তুলে নিয়ে বলল, ‘রোমহর্ষক ঘটনা আবার কী? কালকের চ্যারিটি ম্যাচের টিকিট পেয়েছ বুঝি? ওই করেই তো মাথাটি খেলে নিজের। অফিসের কাজে মন নেই, কোথায় মোহনবাগান, কোথায় মহামেডান স্পোর্টিং এই করে বেড়াচ্ছ।’

    হাত নেড়ে সমরেশ বলল, ‘দাঁড়াও, দাঁড়াও, লেকচার পরে দিয়ো। আগে চা-টা কিছু আনো দিকি। তারপর বলছি। চ্যারিটি ম্যাচ নয়, তার চেয়ে অনেক সাংঘাতিক ব্যাপার, খুনোখুনি যাকে বলে।’

    রান্নাঘরের ভেতর থেকে দময়ন্তী বলল, ‘খুনোখুনি! কে কাকে খুন করল আবার?’

    সমরেশ বলল, ‘সব বলছি। হাত মুখটা ধুয়ে নিই আগে। পাড়ায় থাকো, অথচ কোনো খবরই রাখো না। কবে তোমার পাশে খুন হয়ে পড়ে থাকব, জানতেও পারবে না।’

    দময়ন্তী বাথরুমে তোয়ালে রেখে এল। বলল, ‘থাক, খুব হয়েছে। তুমি যখন ঘুমোও, তখন তো বাড়িতে ডাকাত পড়লেও হুঁশ থাকে না।’

    .

    খাওয়ার টেবিলে বসে সমরেশ বলল, ‘শোনো এবার। ওই তেত্রিশ নম্বরে এক মাড়োয়ারি ভদ্রলোক থাকেন, জানো? নাম বোধ হয়, সুখলাল চামারিয়া বা ওই ধরনের কিছু। আরে, ওই যে লনওয়ালা একতলা বাড়িটা!’

    দময়ন্তী বলল, ‘জানি। সুখলাল চামারিয়া নয়, মোতিলাল জাজোড়িয়া। কিন্তু তার সঙ্গে রোমহর্ষক ঘটনা আর তোমার দেরি হওয়ার সম্পর্কটা কোথায়?’

    একগাল হাসল সমরেশ, ‘হুঁ, হুঁ, ওইখানেই তো সম্পর্ক। সেই ভদ্রলোক আজ দুপুর দুটো থেকে চারটের মধ্যে খুন হয়েছেন— তাঁর বৈঠকখানা ঘরে। জানো সেকথা?’

    আঁতকে উঠল দময়ন্তী। বলল, ‘সে কী! খুন হয়েছেন কী গো? কে খুন করলে? তাঁকে তো এই কালকেও দেখলুম, রিকশা করে কোথায় যেন যাচ্ছেন।’

    সমরেশ বলল, ‘সে তো কাল। আজ আর তাঁকে দেখতে পাবে না। এতক্ষণে বোধ হয় পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে।’

    ‘আহা, বেচারি!’ দময়ন্তী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘কোনোদিন আলাপ হয়নি। অথচ মনে হচ্ছে, যেন পরিচিতই ছিলেন। কিন্তু, তোমার দেরি হল কেন? সেখানে কি গোয়েন্দাগিরি করছিলে নাকি?’

    ‘আরে, না, না গোয়েন্দাগিরি-ফিরি নয়।’ সমরেশ বলল, ‘অনেক লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিল, তাই আমিও দাঁড়িয়ে গেলুম। উঁকিঝুঁকি মারছিলুম, যদি কিছু দেখতে-টেখতে পাই।’

    ‘কিছু দেখলে?’

    ‘হ্যাঁ, দেখলুম। শুনলুমও অনেক।’

    ‘কী করে দেখলে? সে-বাড়ির সামনে তো বেশ খানিকটা কম্পাউন্ড। তোমায় ঢুকতে দিল পুলিশ?’

    ‘দেবে না মানে?’ সমরেশ বুক ফুলিয়ে বলল, ‘শুধু ঢুকতে দিল? আদর করে ডেকে নিয়ে গেল।’

    ‘বাজে কথা বোলো না।’ হাসল দময়ন্তী, ‘কেন? তোমাকে দেখে কি ওদের ব্যোমকেশ বক্সী বলে মনে হয়েছিল?’

    ‘না, ঠিক তা নয়। মানে, ব্যাপারটা হচ্ছে, আমি তো অফিস থেকে ফিরছিলুম। তেত্রিশ নম্বরের সামনে ভিড় দেখে দাঁড়িয়ে গেলুম। কে একজন বললে, ভেতরে নাকি কে খুন হয়েছে। শুনে কৌতূহল আরও বাড়ল। কম্পাউন্ডের সামনে তো লোহার শিকের দেওয়াল, কাজেই বাড়িটা সবই দেখা যায়। দেখি, বারান্দায় আমাদের শিবেনচন্দ্র দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছেন।’

    দময়ন্তী জিজ্ঞেস করল, ‘শিবেন, মানে শিবেন সেন? তোমার সেই সিআইডি বন্ধু?’

    সমরেশ বলল, ‘হ্যাঁ, সেই শ্রীমান। দেখে হাঁক মারলুম একটা। বেটা শুনতে পেয়েই এগিয়ে এল। ভিড়ের মধ্যে আমাকে দেখে একগাল হেসে এমনভাবে ”আয় আয়” বলে সম্বর্ধনা করল যেন নিজেরই বাড়ি। অবিশ্যি অনেক বছর বাদে দেখা, কাজেই আনন্দ হওয়া স্বাভাবিক। তারপর একথা-সেকথা বলতে বলতে একেবারে ভেতরে নিয়ে গেল আমাকে। আমি অবশ্য বলেছিলুম, তোদের ইনভেস্টিগেশনে অসুবিধে হবে না তো? ও বলল, ইনভেস্টিগেশন যা হবার হয়ে গেছে। এখন ফটো তোলা, মাপজোক এইসব হচ্ছে। তুই আয়, কোনো অসুবিধে হবে না।’

    দময়ন্তী জিজ্ঞেস করল, ‘কী দেখলে ভেতরে ঢুকে?’

    ‘দেখলুম সে এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার! ভদ্রলোক বসবার ঘরের মেঝেয় মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন। বোধ হয় পালিয়ে খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই খুনি তাঁর মাথায় মেরেছে ডান্ডা! মাথার পেছনটা রক্তে মাখামাখি, ঘরের মেঝেয়, খাবার ঘরের দরজায়, দেওয়ালে রক্ত আর রক্ত! দেখেই আমার কেমন গা ঘুলোতে লাগল, তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে এলুম।’

    ‘তারপর?’ দময়ন্তী আগ্রহব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।

    ‘বাইরেও বিশ্রী দৃশ্য! ও বাড়ির দারোয়ান সূর্যকান্ত সিং না কী যেন নাম— যে বেটার ভয়ে একটা মাছি পর্যন্ত ও বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পেত না, সে তার বিশাল কুম্ভকর্ণ মার্কা শরীর দুলিয়ে ভেউ ভেউ করে কাঁদছে। তার বন্দুকটাও আবার পুলিশে নিয়ে গেছে। তবে তার কান্নাটা মনিবের শোকে, না তার সর্বক্ষণের সঙ্গী বন্দুকটার শোকে, ঠিক বুঝতে পারলুম না।’

    ‘আর মোতিলালবাবুর যে একটা ভাইপো থাকত?’

    ‘একটা নয়, দুটো। তাদের একটা অজ্ঞান, তার মাথায় সবাই জল-টল দিচ্ছে; আর অন্যটাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে— সে পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে আছে।’

    দময়ন্তী বলল, ‘কিন্তু আমি তো জানতুম ওঁর একটাই ভাইপো। একদম বখাটে। রংচঙে জামাকাপড় পরে আর মেয়ে দেখলেই শিস দেয়।’

    সমরেশ মিটমিট করে দময়ন্তীর দিকে তাকাল। বলল, ‘তোমাকে দেখেও দিয়েছিল নাকি? কিন্তু অপদার্থ পুলিশ তো সে বেটাচ্ছেলেকে অ্যারেস্ট করেনি, করেছে তার দাদাটাকে।’

    ‘দাদাটাকে কিন্তু কোনোদিন আমি দেখিনি। পাড়ায় ওরাই একমাত্র মাড়োয়ারি— নজরে পড়া উচিত ছিল।’

    সমরেশ বলল, ‘না পড়াই স্বাভাবিক। কারণ উনি আগে এখানে ছিলেন না। বোম্বে থেকে মাসখানেক হল এসেছেন। এসেই বুড়োকে খতম করেছেন!’

    দময়ন্তী বলল, ‘কিন্তু ওদের চাকরটা… রাজু? সে কোথায় ছিল?’

    ‘রাজু নাকি কাল রাত্রে ছুটি নিয়ে দেশে গেছে। বলে গেছে একমাস পরে ফিরবে। পুলিশ অবশ্য তারও খোঁজ করছে। তাদের সন্দেহ, খুনের সঙ্গে সে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলেও, খুনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তার অনেক খবর জানার সম্ভাবনা আছে। যাক, পুরো গল্পটা তো শোনো। ভারি ইন্টারেস্টিং!’

    গলা ঝেড়ে সমরেশ শুরু করল, ‘আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে এক বর্ষণমুখর রহস্যময় নিশীথে এই কাহিনির গোড়াপত্তন। কেমন, বেশ রোমহর্ষক রোমহর্ষক শোনাচ্ছে, না?’

    ‘ইয়ার্কি থামাবে? ভালো করে বলো।’ ঝংকার দিল দময়ন্তী।

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, শোনো। দশ বছর আগে— অর্থাৎ যখন তুমি রীতিমতো ফ্রক পরে ঘুরে বেড়াও, তখন এই ভদ্রলোক তেত্রিশ নম্বরের বাড়িটি কিনে বসবাস শুরু করেন এ পাড়ায়। ভদ্রলোক অবিবাহিত, না বিপত্নীক— কেউ জানে না। তবে এসেছিলেন একা, সঙ্গে একটি বছর চোদ্দোর ভাইপোকে নিয়ে। তাঁর নিজের বয়স তখন প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। নাদুসনুদুস ভালোমানুষ গোছের চেহারা। নাকের নীচে একটা প্রজাপতি-গোঁফ ছিল। তিনি কীসের ব্যাবসা করতেন, কেউ তখন তা জানত না; কারণ অত্যন্ত অমিশুক ছিলেন। এই দশ বছরে পাড়ায় প্রায় কারোর সঙ্গেই কোনো বাক্যালাপ করেননি। ভোরবেলা বেরিয়ে যেতেন, সন্ধের পরে ফিরতেন। বাড়িতে থাকত তাঁর ভাইপো, চাকর রাজু আর আর সেই ভীমভবানী দারোয়ান। কালেভদ্রে দু-একজন লোক ছাড়া কেউ আসত না তাঁর বাড়িতে। রাজু বাজার করত, ঘরদোর পরিষ্কার করত, রান্নাবান্না করত, সামনের লন নিড়োত, বাগানে জল দিত আর মনিবের ভ্রাতুষ্পুত্রটিকে স্কুলে দিয়ে আসত, নিয়ে আসত। মোট কথা, রাজুই ছিল বাড়ির সকল কাজের কাজি। ভদ্রলোকের বোধ হয় ফুলের শখ ছিল। কারণ সামনের লনের চারদিকে সুন্দর বাগান করা হয়েছিল, তাতে নানা রকমের মৌসুমি ফুল লাগানো থাকত। কিন্তু ভদ্রলোককে কোনোদিন বাগান পরিচর্যায় দেখা যায়নি, যা করবার রাজুই করত। সে নানা রকমের ফুল লাগাত আর ভারি যত্ন-আত্তি করত।’

    ‘হ্যাঁ, আর সেইসব ফুলের একটারও নাম তুমি আজ পর্যন্ত শিখে উঠতে পারলে না!’ দময়ন্তী গঞ্জনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল।

    ‘যাকগে, যাকগে, তার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার বিন্দুমাত্র যোগ নেই। তারপর শোনোই তো, গত দশ বছর যাবৎ ওই পরিবারটি প্রায় একইরকমভাবে জীবনযাপন করে আসছিল। পাড়ার কারোর সঙ্গে যোগাযোগ তো ছিলই না, এমনকী ওই শ্যামলালবাবুর সঙ্গে…’

    ‘শ্যামলাল আবার কে?’

    ‘আহা, ওই যে— যে ভদ্রলোক খুন হলেন।’

    ‘তিনি তো মোতিলাল!’

    ‘আরে ওই হল। সেই মোতিলালবাবুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের বাকি লোকজনেরও যে বিশেষ যোগাযোগ ছিল তা মনে হয় না। তবে তাঁর চাকর, দারোয়ান এবং ভাইপোটি যে তাঁকে দুর্দান্ত ভয় বা ভক্তি করত, সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই। মোট কথা, তাঁরা এতদিন প্রায় নিঃশব্দে ওই তেত্রিশ নম্বরে জীবন কাটিয়েছেন। ভাইপোটি বখে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বাড়িতে কোনোদিন উচ্চবাচ্য করত না সে। এতদিন এইভাবেই চলছিল। তারপর হঠাৎ মাসখানেক আগে বোম্বে থেকে দু-নম্বর ভাইপো খুড়োর ব্যাবসায় যোগ দিতে ধূমকেতুর মতো এসে উপস্থিত হল। আর ধূমকেতু উঠলে যে কী হয়, তা তো জানোই।

    ‘এই ভাইপো বাবাজীবনের আগমনের কয়েকদিন পরেই আশপাশের বাড়ির লোকেরা তেত্রিশ নম্বরে একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করল। যা এর আগে কখনো হয়নি, তাই ঘটতে আরম্ভ করল। বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যেতে লাগল। এমনকী সেই চেঁচামেচি গভীর রাত্রি পর্যন্ত মাঝে মাঝে শোনা গেল। কী নিয়ে চেঁচামেচি, সেটা না বোঝা গেলেও তাতে অংশগ্রহণকারীরা যে খুবই উত্তেজিত থাকত, সে-ব্যাপারে সকলেই একমত ছিলেন। এরপর একদিন রাজুর চাকরি গেল।

    ‘পঁয়ত্রিশ নম্বরে থাকেন রাখাল সান্যাল— তাঁকে তুমি চেনো। রাখালদার স্ত্রী মীরা বউদি একদিন সকাল বেলা দরজা খুলে দেখেন, তাঁদের রোয়াকে রাজু শুয়ে, পাশে কয়েকটা বাক্স-প্যাঁটরা। ব্যাপার কী? জিজ্ঞাসাবাদ করাতে রাজু জানাল যে তার চাকরি গেছে। তারপর গজর গজর করতে করতে সে আরও জানাল যে তার চাকরি যাওয়ার মূলে ওই দু-নম্বর ভাইপো এবং তার সঙ্গে চালাকির ফল সে পাবে; কারণ সে সব ফাঁস করে দেবে। মীরা বউদি ফাঁস করার কথা শুনে একটু ইয়ে হয়ে পড়েন, যাকে বলে কৌতূহলাক্রান্ত। কিন্তু অধিক প্রশ্নবাণ ছোড়ার আগেই এক নম্বর ভাইপোকে আসতে দেখা যায় এবং তার রাজুদাদাকে বগলদাবা করে বাড়ি ফিরে যায়। এই ভাইপোর কথায় জানা যায় যে কর্তাই নাকি রাজুকে ডেকে পাঠিয়েছেন।

    ‘আর একটা পরিবর্তন দেখা গেল রামলাল… ইয়ে মোতিলালবাবুর ব্যবহারে। ভদ্রলোক বাতের রুগি ছিলেন। মাঝে মাঝে বাতের ব্যথা উঠলে অফিসে বা তাঁর কর্মস্থলে যেতেন না। বসবার ঘরে, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত খুন হলেন, সেই ঘরে জানলার পাশে চেয়ার টেনে বসে রাস্তার লোক চলাচল দেখতেন। ওই অবস্থায় বসে থাকতে তাঁকে অনেকেই দেখেছে। ইদানীং অফিসে যাওয়া তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। প্রায়ই তাঁকে বসবার ঘরের জানলার সামনে বসে থাকতে দেখা যেত। সম্ভবত বাতের ব্যথাটা খুব ঘন ঘন উঠছিল আজকাল।

    ‘তারপর শেষের সেদিন অর্থাৎ আজকের ঘটনা।

    ‘মোতিলাল আজকেও অফিসে যাননি। সারাদিন বাড়িতেই থাকবেন বলেছিলেন। সকাল বেলা ন-টার মধ্যেই দুই ভাইপো বেরিয়ে যায়— বড়োজন ব্যাবসায় আর ছোটোজন কলেজে। দেড়টা নাগাদ বড়োজন ফিরে আসে। দারোয়ান তাকে দেখে। আড়াইটে নাগাদ সে আবার বেরিয়ে যায়। তার বেশ কিছুক্ষণ পরে দারোয়ান মাত্র পাঁচ মিনটকে লিয়ে বড়ো বাথরুম করতে যায় গেট বন্ধ করে। ফিরে এসে সে দেখে, দুটো মেয়ে-কুলি ”খুন হো গিয়া, খুন হো গিয়া” বলে পরিত্রাহি চিৎকার করছে। তারা ফুল চুরি করবার উদ্দেশ্যে গেট খুলে লনে ঢুকেছিল। তখন সে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে জানলার মধ্যে দিয়ে দেখে যে কর্তা ঘরের মধ্যে রক্তগঙ্গায় শুয়ে আছেন। সে তখন দৌড়ে তেত্রিশের উলটো দিকে যে নতুন বাড়িটা উঠছে, তার কনট্রাক্টরকে খবর দেয়। তিনি পুলিশে ফোন করেন। এই হল মোটামুটি ঘটনা।’

    দময়ন্তী স্থির দৃষ্টিতে সমরেশের দিকে চেয়ে গল্পটা শুনছিল। প্রথমদিকে চাবিটা নিয়ে অল্প অল্প ঠুন ঠুন করছিল, শেষের দিকে তাও বন্ধ হয়ে গেছিল। সমরেশ থামতেই জিজ্ঞেস করল, ‘এই বয়ানটা নিশ্চয়ই দারোয়ানটার সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করছে? আর পুলিশও সেটা বেদবাক্য বলে মেনে নিয়েছে?’

    সমরেশ বলল, ‘সাক্ষ্যটা দারোয়ানের ঠিকই, তবে তা বেদবাক্য কি না বলতে পারব না। শিবেনকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে পারি। তবে সাক্ষ্যটা যে মোটামুটি ঠিক, তার কতকগুলো প্রমাণ আছে। যেমন ধরো, দু-নম্বর ভাইপোর ঘরে একটা রক্তমাখা তোয়ালে পাওয়া গেছে।’

    দময়ন্তী সশব্দে হেসে উঠল, ‘সেই অবধারিত রক্তমাখা তোয়ালে? আর একটা হাইপোডার্মিক সিরিঞ্জ পাওয়া যায়নি?’

    বিষম খেল সমরেশ, ‘হ্যাঁ, তাও পাওয়া গেছে। তবে…’

    ‘তবে সেটা আনকোরা নতুন— অব্যবহৃত মনে হচ্ছে, এই তো?’ দময়ন্তী যোগ করে দিল।

    সমরেশ হাঁ করে তার স্ত্রী মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। বলল, ‘ঠিক তাই। আশ্চর্য, শিবেনও আমায় তাই বলছিল। হয়তো কেউ দোষটা এই শ্রীমানের ঘাড়ে চাপাবার চেষ্টা করছে। কারণ রক্তমাখা তোয়ালে ঘরের মধ্যে রেখে যাবে— লুকিয়ে বা অন্য কোনোভাবে, এহেন বোকামি আজকাল আর কোনো খুনি করে না। কিন্তু, খুন যদি এই শ্রীমান করে না থাকে, তাহলে করার সম্ভাবনা হয় দারোয়ান আর নয়তো দারোয়ানের যোগসাজশে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির। কিন্তু সেই সম্ভাবনা দুটো খুব জোর করে খাড়া করা যাচ্ছে না। কারণ আজ সকাল থেকেই দুটি লোক তেত্রিশ নম্বরের গেটের দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রেখেছিল এবং তাদের সাক্ষ্য আর দারোয়ানের সাক্ষ্য মোটামুটি মিলে গেছে। এমনকী দু-নম্বর ভাইপোর আসার সময়টা পর্যন্ত। কোনো তৃতীয় ব্যক্তি আজ সে-বাড়িতে ঢোকেওনি, বেরোয়ওনি।’

    দময়ন্তী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই দুটি লোক আবার কারা! তারা নজরই-বা রাখতে গেছিল কেন?’

    ‘বুঝলে না? এরা ওই দুটো মেয়ে-মজুর, যারা প্রথমে লাশ আবিষ্কার করে, আজ ওদের ভগবান জানেন কীসের নাকি পরব। তাই দুটো ফুল লিবে বলে সারাদিন তক্কে তক্কে ছিল। দারোয়ান একটু উঠলেই চট করে গিয়ে কাজটা সারবে। দারোয়ান উঠে ভেতরে গেলে, সামনের বাড়ি থেকে রাস্তা পার হয়ে এসে, একটু এদিক-ওদিক দেখে, জানলা দিয়ে কেউ দেখছে কি না ইনস্পেক্ট করে, গেট খুলে ভেতরে খানিকটা গিয়ে তবে তারা খোলা জানলার ভেতর দিয়ে মৃত ভদ্রলোকের শরীরটা দেখতে পায়। এতে খুব বেশি করে ধরলেও পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগবার কথা নয়। শিবেন বলছে, দারোয়ানটার পক্ষে এত কম সময়ের মধ্যে চট করে খুনখারাপি করা অত্যন্ত কঠিন— প্রায় অসম্ভব বলা চলে। যদিও পাক্কা গোরিলার মতো চেহারা তার, তবু সে মাঝে মাঝে খুন করে আগেই হাত মকশো করে রেখেছিল— এমন কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

    দময়ন্তী শূন্য দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ সামনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল। বলল, ‘হয়তো আপাতদৃষ্টিতে দারোয়ানর সাক্ষ্য ঠিক, কিন্তু কোথায় যেন একটা গণ্ডগোল আছে, জানো, কেমন একটা খটকা লাগছে।’

    হাসল সমরেশ। বলল, ‘গণ্ডগোল তো আছে বটেই। সমস্ত বাড়িটাতেই তো গণ্ডগোল। কর্তার ঘরে কার্পেটের তলায় মেঝের মধ্যে লুকোনো সিন্দুকে রাশি রাশি টাকা। দু-নম্বর ভাইপোর ঘরেও যা কাগজপত্র পাওয়া গেছে, তাতে চোরাই মাল কেনাবেচার এক বিরাট চক্রের সন্ধান মিলেছে, যার অন্যতম চক্রধর ছিলেন খুড়ো আর দু-নম্বর ভাইপো। রাজু যে ফাঁস করবার কথা বলেছিল, তা সম্ভবত এই ব্যাপার। যা হোক, এক নম্বর ভাইপোর ঘরে ইকনমিক্সের বইয়ের মলাটের ভেতর সন্ধান মিলেছে ভয়ংকর ভয়ংকর সব পর্নোগ্রাফির, যার এক লাইন পড়লে বা একটা ছবি দেখলে তুমি নির্ঘাত ভিরমি যেতে। আমি যে আমি, যাকে তুমি জগতের অশ্লীলতম মানুষ বলে মনে কর, সেই আমারও ছবি দেখে হাত-পা ছেড়ে গিয়েছিল প্রায়। আর দারোয়ানের ঘরেও পাওয়া গেছে অনুরূপ বই আর কয়েক বাক্স কনট্রাসেপটিভ! দেখেশুনে আমার বারংবার দাঁতকপাটি লাগবার জো।’

    ‘বাজে কথা বোলো না। যা অসম্ভব অসভ্য তুমি! তোমার লাগবে দাঁতকপাটি!’ দময়ন্তী সমরেশের দিকে একটা দুর্দান্ত কপট ক্রোধের কুটিল কটাক্ষ হানল।

    সমরেশ খানিকক্ষণ মুগ্ধ বিহ্বল চোখে গৃহিণীর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গলা-টলা ঝেড়ে বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, সত্যিই তাই! আর কী ছাপা বাঁধাই সেসব বইয়ের। সুইডেনের মাল, ঝলমল করছে। কোত্থেকে যে ওই হারামজাদা এসব বই জোগাড় করেছিল, ভগবান জানেন। যা হোক, দারোয়ানকে যদি তুমি খুনি হিসেবে বাদ দাও, তৃতীয় ব্যক্তিও যদি কেউ না থাকে, তাহলে সমস্ত সন্দেহ স্বাভাবিকভাবেই গিয়ে ওই ধূমকেতু বাবাজীবনের ওপরেই পড়ে। যাকে বলে, বাই মেথড অব এলিমিনেশন। তা ছাড়া, তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকবেই-বা কোত্থেকে? জানলার সামনে তো সর্বক্ষণই মোতিলাল সমাসীন। তাঁর চোখ এড়িয়ে একটা ফালতু লোক আসে কী প্রকারে?’

    দময়ন্তী সমরেশের কথা বলার ঢংটাকে নকল করে বলল, ‘তাই তো, কী প্রকারে? আচ্ছা, আজ ওদের রান্নাবান্না করল কে?’

    ‘রান্না? ও, হ্যাঁ, জানি। রান্না কেউ করেনি। হোটেল থেকে নাস্তা এসেছিল।’

    ‘চা বা কফি?’

    ‘তার পাট নেই ও বাড়িতে। কেবল মোতিলালের অভ্যেস ছিল খাওয়ার। দুটো আড়াইটে নাগাদ স্বহস্তে বানাতেন। আজও মৃত্যুর আগে শেষ শরবত বানিয়ে খেয়েছিলেন এবং গেলাস ধুয়ে-টুয়ে রেখেছিলেন।’

    দময়ন্তীর চোখ দুটো উত্তেজনায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। জিজ্ঞেস করল, ‘ওঁর কি ডায়াবেটিস ছিল?’

    ‘ডায়াবেটিস?’ সমরেশ অবাক। বলল, ‘কই, জানি না তো! কেন, সে-খবরে সুবিধে হবে কীসের?’

    ‘হবে, হবে।’ উত্তেজনায় দময়ন্তীর গলা কাঁপা কাঁপা শোনাল। ‘শিগগির ফোন করো মোতিলালের বাড়িতে। শিবেনবাবু থাকলে জিজ্ঞেস করো যে, মোতিলালের ডায়াবেটিস ছিল কি না। না থাকলে, চিনির কৌটোয় কতটা চিনি আছে। আর যে অস্ত্র মাথায় মারা হয়েছে, সেটা লম্বা এবং ধারালো কি না।’

    ‘ডায়াবেটিস আর লম্বা ধারালো অস্ত্র এবং চিনি? এ যে রীতিমতো রহস্যোপন্যাস বলে মনে হচ্ছে!’ সমরেশ বিড়বিড় করতে করতে উঠে টেলিফোন ডাইরেক্টরিটা খুলল।

    তারপর নিম্নলিখিত বাক্যালাপ হল টেলিফোনের মাধ্যমে।

    ‘হ্যালো কে, শিবেন? শোন, আমার বউ এই মোতিলাল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কয়েকটা কথা জানতে চায়। কেন? রহস্যো উৎঘাটন জন্যে, আবার কেন? অলরেডি বেশ খানিকটা করেও ফেলেছে। এই যেমন ধরে ফেলেছে যে, রামেশ্বরের ঘরে হাইপোডার্মিক সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে! সেটা আবার আনকোরা নতুন, তাও ধরে ফেলেছে। প্রায় হোমিয়োপ্যাথিক ডাক্তারের মতো। হাঃ, হাঃ, হাঃ! বউয়ের বুদ্ধি থাকবে না মানে? বুদ্ধি না থাকলে চার বছর প্রেম করে বিয়ে করি? হাঃ, হাঃ, হাঃ! প্রশ্নগুলো? হ্যাঁ। এক নম্বর— মোতিলালের ডায়াবেটিস ছিল কি না। দুই নম্বর— যদি না থাকে, তাহলে চিনির কৌটোয় কতটা চিনি আছে? আর তিন নম্বর, যে অস্ত্র দিয়ে মাথায় মেরেছে, সেটা লম্বা মতন এবং ধারালো কি না। ব্যস। আচ্ছা, ধরে রইলুম।’

    কিছুক্ষণ বাদে শোনা গেল, ‘ছিল না? চিনিও নেই? আচ্ছা, আচ্ছা, বলছি।’ টেলিফোনের মাউথপিসটা হাত দিয়ে ঢেকে সমরেশ ডাকল দময়ন্তীকে, ‘শুনছ? শিবেন বলছে, চিনির কৌটো খালি আর যদিও অটোপসি না করলে ভালো বোঝা যাবে না, তবু ডাক্তারবাবুর মতে অস্ত্রটা তোমার বর্ণনা মতোই। এখন?’

    দময়ন্তী একটু চিন্তা করে বলল, ‘শিবেনবাবুকে বলো তো, খাওয়ার ঘরের জানলাগুলোর বাইরের জমিটা একটু খুঁজে দেখতে, হয়তো একটু চিনি পাওয়া যেতে পারে। তবে খুব সম্ভব পাবেন না, কারণ জানলার ঠিক নীচে দিয়েই একটা ড্রেন গেছে।’

    সমরেশ সেই কথাই বলল টেলিফোনে। তারপর আবার দময়ন্তীর দিকে ফিরে বলল, ‘আর অস্ত্রটা?’

    ‘সেটা ঘরের মধ্যেই আছে, খুঁজে দেখতে বলো।’ বলে দময়ন্তী রান্নাঘরের মধ্যে অদৃশ্য হল।

    .

    খাওয়া-দাওয়ার পর সমরেশ একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, ‘দ্যুৎ! রহস্যটা যে রহস্যই রয়ে গেল। ডায়াবেটিসেই মোলো নাকি মোতিলালচন্দ্র? আর অস্ত্রটা ঘরের মধ্যেই আছে? কেউ দেখতে পেল না, আর তুমি এখানে বসেই দেখতে পেলে?’

    দময়ন্তী হেসে উঠল। বলল, ‘পাব না কেন? তুমিই তো বললে যে, বসবার ঘরের সব জানলা খোলা ছিল।’

    সমরেশ ঠোঁট থেকে সিগারেট নামিয়ে কটমট করে তাকাল। বলল, ‘আমার সঙ্গে হেঁয়ালি? জানলা খোলা তেত্রিশ নম্বরে আর পঁচাত্তর নম্বর অর্কিড রোডে বসে উনি ঘরের মধ্যে অস্ত্র দেখলেন! চালাকি পায়া হ্যায়?’

    এমন সময় সিঁড়িতে দুম দুম করে পদশব্দ শোনা গেল। দময়ন্তী বলল, ‘শিবেনবাবু আসছেন। যাও, দরজাটা খোলো গিয়ে। এক্ষুনি সব ফয়সালা হয়ে যাবে।’ বলে রান্নাঘরের ভেতর চলে গেল।

    দরজা খুলে সমরেশ বলল, ‘পুলিশ হলেই কি এমন বিটকেল জুতোর আওয়াজ করতে হয়? আয়, বোস।’

    শিবেন বলল, ‘এত রাতে বিরক্ত করলুম বোধ হয়? কিন্তু… যাক, ডাক তোর বউকে। শুয়ে পড়েছেন নাকি?’

    দময়ন্তী ঘরের মধ্যে এসে দাঁড়াল। হেসে নমস্কার করে বলল, ‘না, না, শুইনি। মোটে তো রাত এগারোটা। বহুদিন বাদে দেখলুম আপনাকে, আছেন কেমন? রমলা কেমন আছে?’

    শিবেন প্রতিনমস্কার করল। বলল, ‘ভালোই আছে। আমি কিন্তু টেলিফোনে সমরেশের কথাবার্তা শুনে ভারি আশ্চর্য হয়েছি। তাই এলুম, একটু আপনার সঙ্গে পরামর্শ করতে। সমরেশ আপনাকে কী বলেছে জানি না, কিন্তু আপনি কী বুঝেছেন বলুন তো?’

    দময়ন্তী মৃদু হেসে একটু চুপ করে থেকে খুব শান্ত গলায় বলল, ‘আমি বোধ হয় পুরো ব্যাপারটাই বুঝতে পেরেছি, যদিও সেটা সম্পূর্ণ আমার নিজের ধারণা। যাক, চিনি পেয়েছেন? কিছু ছিল সেই চিনিতে?’

    শিবেন বলল, ‘হ্যাঁ, পাওয়া গেছে। জানলার নীচে ক্রোটনের পাতার ফাঁকে খানিকটা, বাকিটা ভেসে গেছে ড্রেনে। আপনার কি বিশ্বাস, এই চিনিতে বিষ পাওয়া যাবে? আর যদিই-বা পাওয়া যায়, তাহলেই-বা প্রমাণ হবে কী? খুনি আগে বিষ দিয়েছে, পরে মাথায় ডান্ডা মেরেছে। এ ছাড়া অন্য কিছু?’

    দময়ন্তী বলল, ‘আগে আপনি বসুন দেখি, তারপর বলছি। প্রমাণ হবে সন্দেহাতীতভাবে যে, রামেশ্বর খুন করেনি, করেছে অন্য কেউ। গোড়ায় এটা আমার শুধু সন্দেহই হচ্ছিল।’

    মৃদু অবিশ্বাসের হাসি হেসে শিবেন জিজ্ঞেস করল, ‘কীভাবে প্রমাণ হবে?’

    ‘বলছি। প্রথমত, রামেশ্বরের ঘরের তোয়ালেটা স্পষ্টতই নির্দেশ করে যে, তাকে কেউ ফাঁসাবার চেষ্টা করছে। সে কখনোই এত নির্বোধ হতে পারে না যে নিজের বিছানার তলায় নিজেই নিজের মৃত্যুবাণ পুলিশের আবিষ্কারের জন্যে রেখে যাবে। অর্থাৎ অন্য কেউ ওইটি তার ঘরে রেখে এসেছে, সে হত্যাকারী স্বয়ং হতে পারে অথবা তার কোনো শাগরেদ।

    ‘দ্বিতীয়ত, বিষ দেওয়া হোক বা না হোক, মাথায় ডান্ডা মারাটাই একটা অসম্ভব ব্যাপার।’

    শিবেন গলার মধ্যে শব্দ করে হাসল; দময়ন্তী কিন্তু থামল না। বলে চলল, ‘অসম্ভব— তার কারণ আছে। সমরেশের বর্ণনা অনুযায়ী মোতিলালের বসবার ঘরের জানলা সব খোলা, সামনেই একটা বাড়ি উঠছে— যেখানে অনেক মজুর কাজ করছে। এ অবস্থায় দিনে-দুপুরে খুনি এসে মোতিলালের মাথায় ডান্ডা মারল, এটা অবাস্তব কল্পনা। কোনো মানুষের নার্ভ এত শক্ত হয় না— হতে পারে না। তা ছাড়া ভদ্রলোককে পাওয়া গেছে খাওয়ার ঘর আর বসার ঘরের মাঝে দরজার সামনে। ধরে নেওয়া হয়েছে যে ভদ্রলোক খাওয়ার ঘরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তখনই তিনি পড়ে যান। এই ব্যাপারটা একেবারে নিঃশব্দে ঘটল কীভাবে বলতে পারেন? একটা চিৎকার পর্যন্ত করলেন না ভদ্রলোক, কেন?’

    শিবেনকে এবার একটু চিন্তিত দেখা গেল। বলল, ‘কিন্তু মাথা যে ফাটানো দেখা গেছে! কোনো লম্বা লাঠির মতো অস্ত্র দিয়ে মারা হয়েছিল। তা ছাড়া, আপনি বলছেন অস্ত্রটা ঘরের মধ্যেই আছে?’

    দময়ন্তী বলল, ‘হ্যাঁ, বলেছি; এবং এখনও বলছি। একটা জিনিস ধরেই নিচ্ছেন কেন যে অস্ত্র দিয়ে মাথায় মারলেই তবে মাথা ফাটে? মাথা দিয়ে অস্ত্রে মারলেও তো মাথা ফাটতে পারে?’

    সমরেশ আর শিবেন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘অর্থাৎ?’

    ‘অর্থাৎ বসবার ঘর আর খাওয়ার ঘরের মধ্যের দরজার চৌকাঠ। ভদ্রলোক খাওয়ার ঘর থেকে শরবত খেয়ে বসবার ঘরে ঢুকে কয়েক পা যেতেই ধড়াস করে উলটে পড়ে গেলেন। মাথাটা ঠুকে গেল চৌকাঠে, ফেটে গেল। ঘটনাটা ঘটতে এক পলক সময় লাগল। ঘরের ভেতর মোটামুটি অন্ধকার, বাইরে আলো। কেউ মেঝেতে পড়ে থাকলে খুব ভালো করে লক্ষ না করলে বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। হত্যাকারীর শাগরেদ পরে নিজের সুবিধেমতো ঘরে ঢুকে পা ধরে টেনে মৃতদেহ একটু সরিয়ে দেয়, যাতে বোঝা না যায় যে মাথাটা চৌকাঠে ঠুকে গেছল। তারপর রক্ত দেখে রামেশ্বরকে ফাঁসানোর সমস্ত পথ পরিষ্কার রাখতে, খানিকটা তোয়ালেতে মুছে, রেখে আসে রামেশ্বরের ঘরে। হত্যাকারী এবং তার শাগরেদদের প্ল্যানে এ অংশটা একেবারেই ছিল না বলে আমার অনুমান। তারা এই অংশটার সুযোগ নিতে গিয়েই নিজেদের এক্সপোজড করে ফেলল।

    ‘তা ছাড়া এ অংশটা যে অরিজিন্যাল প্ল্যানের মধ্যে ছিল না, তার প্রমাণ রামেশ্বরের ঘরে হাইপোডার্মিক সিরিঞ্জ। অটোপসির ফলে মোতিলালের শরীরে যে বিষ পাওয়া যাবে, সেটা তারা জানত। তাই সিরিঞ্জ রেখে পুলিশের দ্বিতীয় দফা সন্দেহ রামেশ্বরের ওপর ফেলবার চেষ্টা করা হয়েছিল।’

    সমরেশ প্রশ্ন করল, ‘দ্বিতীয় দফা কেন?’

    ‘হত্যার টাইমিংটা লক্ষ করো। ওরা জানত যে রামেশ্বর দুপুর বেলা আসে খুড়োর সঙ্গে ব্যাবসা সংক্রান্ত কথাবার্তা বলতে, আর সে চলে গেলেই খুড়ো শরবত বানিয়ে খেয়ে থাকেন। তাই এমন ব্যবস্থা হল যে প্রথম দফা সন্দেহ একমাত্র রামেশ্বরের ওপরেই গিয়ে পড়ে। প্ল্যানটা মোটামুটি ভালোই ছিল, কিন্তু একটু ওপরচালাকি করতে গিয়ে সব ভেস্তে গেল।’

    শিবেন এতক্ষণ গভীর ভ্রূকুটি করে নিজের দুই বুড়ো আঙুলের দিকে তাকিয়ে দময়ন্তীর কথা শুনছিল। এবার মুখ তুলে বলল, ‘আপনার কথামতো চৌকাঠে মাথা ঠুকেই যদি মাথা ফেটে থাকে, তবে তো চৌকাঠে চুল এবং রক্ত লেগে থাকবে। তেমন তো কিছু পেলাম না আমরা।’

    দময়ন্তী বলল, ‘পাননি তার কারণ সেই চুল আর রক্ত তোয়ালে দিয়ে মুছে রামেশ্বরের ঘরে রেখে আসা হয়েছিল। কাল সকালে ল্যাবরেটরি টেস্টে সেটা পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

    শিবেন বলল, ‘তাহলে দারোয়ানটাই…’

    দময়ন্তী সজোরে মাথা নেড়ে বলল, ‘না, দারোয়ানটা হত্যাকারী হতেই পারে না; সে শাগরেদ। সে যখন মৃতদেহের পা ধরে টেনে সরিয়েছে, তখন হত্যাকারী তার ত্রিসীমানাতেও ছিল না। তা ছাড়া সে হঠাৎ রান্নাঘরে ঢুকে চিনির কৌটো নিয়ে ”ঘটর ঘটর” করলে মোতিলালের সন্দেহ হতে পারত। আর স্পষ্টত, চিনিতে বিষ মেশানো হয়েছে ঘটনার সামান্য কিছু আগে। বেশি আগে মেশালে অন্য কোনো অঘটন ঘটতে পারত, হত্যাকারী খামোখা সে-রিস্ক নেবে বলে মনে হয় না।’

    শিবেন অধৈর্য কণ্ঠে বলল, ‘তাহলে আর কে? রামেশ্বর ছাড়া আর কাউকে তো পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোটিভ আছে— টাকা হাতানো এবং ব্যাবসাটা নিজের কুক্ষিগত করা। সুযোগ আছে— প্রবেশ, প্রস্থান এবং চিনিতে বিষ মেশানো সবার অলক্ষ্যেই করা যেতে পারে।’

    দময়ন্তী বলল, ‘দেখুন, এটা একটা অঙ্কের ব্যাপার। একটা নেগেটিভ আর একাধিক পজিটিভের ফলে একটা নেগেটিভই হয়। যখন স্পষ্টতই কেউ রামেশ্বরকে ফাঁসাতে চাইছে, তখন হাজার স্বপক্ষে যুক্তি থাকলেও রামেশ্বর হত্যাকারী হতে পারে না। অন্য কেউ এর পেছনে আছে।’

    সমরেশ হাত নেড়ে বলল, ‘ম্যাথামেটিক্স ঝাড়ছ যে বড়ো? তুমি না হিস্ট্রিতে এমএ?’

    শিবেন সেকথায় কান না দিয়ে বলল, ‘তাহলে তো বলতে হয়, সামনের বাড়ির মজুরগুলো মিথ্যে কথা বলছে। কারণ তারা অন্য কাউকেই দেখেনি।’

    দময়ন্তী বলল, ‘দেখেছে ঠিকই, লক্ষ করেনি।’

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে, সোফার হাতলে একটা প্রচণ্ড ঘুসি মেরে লাফিয়ে উঠল শিবেন। বলল, ‘বুঝেছি— রাজু! সেই হচ্ছে দি ইনভিজিবল ম্যান। মজুরগুলো হতভাগা। তাদের যতই বলি অন্য কেউ ঢুকেছে কি না, তারা ভেবে বসে আছে, সে নিশ্চয়ই কালো সুট, কালো টুপি, কালো চশমা পরা হিন্দি ফিলমের হত্যাকারী ক্যারেক্টার। রাজুকে তারা লক্ষই করেনি। সে যে ছুটিতে আছে, তাও বোধ হয় তারা জানে না, জানলেও সন্দেহ করত না। রাজু মোতিলালের সামনে দিয়েই ঢুকেছে, হয়তো দু-চারটে কথাবার্তাও বলেছে, তারপর সোজা নিজের ঘরে গেছে। বোধ হয় দু-নম্বর যতক্ষণ ছিল, সে সেখানেই ঘাপটি মেরে ছিল। সে বেরিয়ে গেলে, খাওয়ার ঘরে ঢুকে কৌটোয় বিষ মিশিয়ে মোতিলালের সামনে দিয়েই বেরিয়ে গেছে। তার সর্বত্র অবাধ গতি, মোতিলালের সন্দেহ হয়নি। হয়তো তাকে দেখে খুশিই হয়েছিলেন। আর ওই দারোয়ান বেটা শাগরেদ। চমৎকার, চমৎকার! আর নাটের গুরু…’

    দময়ন্তী বলল, ‘এক নম্বর ভাইপো।’

    সমরেশ বলল, ‘মোটিভটা একটু খোলসা করে বলো।’

    শিবেন বলল, ‘বুঝলি না? স্বর্ণডিম্ব-প্রসবকারী হংসকে যে মোটিভের বশবর্তী হয়ে মারা হয়েছিল, এও প্রায় তাই। এবারেও শেষরক্ষা হল না। মোতিলাল সারাদিন চোরাইমাল কেনাবেচা করে অজস্র কালোটাকা রোজগার করেন আর তাঁর ভাইপো সেই টাকা সরিয়ে চাকর আর দারোয়ানের সাহায্যে নরকের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে। রামেশ্বর এসে খুড়োর ব্যাবসায় যোগ দিয়ে বাড়ির এই চোরাকারবারটিকেও হৃদয়ঙ্গম করে ফেলে এবং সেটা খুড়োর কর্ণগোচর করে। তাই রাতবিরেতে এত চেঁচামেচি এবং খুড়োর গৃহে অবস্থান।’

    ‘এমন মধুর জীবনযাপনে বাধা আসতেই খুড়োকে সরানোর দরকার হয়ে পড়ল এবং সেইসঙ্গে রামেশ্বরকে ফাঁসানোর? এক ঢিলে দুই পাখি? বাপরে বাপ, কী পগেয়া ছেলে!’ সমরেশ বলল।

    ‘পগেয়া বলে পগেয়া!’ শিবেন বলল, ‘কী চমৎকার প্ল্যানটাই না ফেঁদেছিল! যে টাকা বাড়িতে মজুত ছিল, তা তিনজনের তিন জন্মের পক্ষে যথেষ্ট ছিল। কেবল শ্রীমানরা বোঝেনি যে রামেশ্বরের ব্যাগের কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হওয়ায়, আমরা অত খুঁটিয়ে সার্চ করব এবং লুকোনো টাকা সব বেরিয়ে পড়বে। ছোটো শ্রীমানের অজ্ঞান হওয়া এবং দারোয়ানের অত কান্নার কারণ এবার বোঝা যাচ্ছে। আচ্ছা বউদি, রাজুর ওপর আপনার সন্দেহ হল কী করে?’

    দময়ন্তী বলল, ‘সেটা অবশ্য আমি সংসার করি তাই সন্দেহ করেছিলাম। আপনাদের— পুরুষমানুষদের পক্ষে ধরা একটু কঠিন ছিল। ব্যাপার হল, রাজু যখন এক মাসের ছুটিতে গেল, তখন কোনো বদলি লোক দিয়ে গেল না কেন? বিশেষত, যেখানে রান্না করার বা ঘরদোর পরিষ্কার করার জন্য দ্বিতীয় কোনো লোক নেই। মোতিলালকে সে কী বুঝিয়েছিল জানি না, তবে ব্যাপারটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ও কী, উঠছেন কেন? কফি খাবেন না? জল চড়িয়ে দিলুম যে!’

    শিবেন স্মিতমুখে বলল, ‘না, না, অনেক ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ! আমি এক্ষুনি যাই। ফাঁদ পাততে হবে। ও বেটা নির্ঘাত ধারে-কাছেই আছে এবং বাকি দু-জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। আচ্ছা, চলি। নমস্কার।’

    দরজা বন্ধ করে এসে সমরেশ খানিকক্ষণ হাস্যোজ্জ্বল চোখে দময়ন্তীর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর দু-হাতে ওর মুখটা ধরে বলল, ‘ইস, কী কুক্ষণেই ওই হতচ্ছাড়া ভাইপো তোমার পেছনে সিটি মেরেছিল গো!’

    লাজুক গলায় দময়ন্তী বলল, ‘যাও, অসভ্যতা কোরো না!’

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন
    Next Article ৫x৫ = পঁচিশ – মনোজ সেন

    Related Articles

    মনোজ সেন

    এবং কালরাত্রি – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    কালসন্ধ্যা – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    ৫x৫ = পঁচিশ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }