Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤷

    তিল থেকে তাল – ১

    ১

    ছোটলাইনের ট্রেনটা ঢিকিয়ে গড়িয়ে চলেছে, ভোরবেলায় কাক-কোকিল ডাকার মুখে বীরপুর জংশন থেকে বড় লাইনের ট্রেনের ঝড়তি-পড়তি যাত্রীদের কুড়িয়ে সদর শহর বীরপুর থেকে বের হয় ট্রেনটা এই লাইনের শেষ ইস্টিশান লাউগঞ্জের দিকে। প্রায় তিরিশ মাইলের যাত্রাপথ, আর পথে দু-দশটা ইস্টিশান আছে, আর কারণ-অকারণে রাঢ়ের ধু-ধু মাঠের বুকে একটা টিনের চালার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

    কিছু যাত্রী—আনাজপত্রওয়ালা ফড়ে—কিছু গ্রাম থেকে আসা আণ্ডা-বাচ্চা নিয়ে জবুথবু বুড়োবুড়ি ওঠে। চেকার গিরিশবাবুর শ্যেনদৃষ্টি তাদের উপর নিবদ্ধ থাকে।

    এই মাঝ মাঠের ইস্টিশানগুলোকে ওদের ভাষায় বলা হয় হল্ট। এদের টিকিট কাটে খোঁজ নিয়ে গিরিশচন্দ্র, অবশ্য পয়সাটাই নেয়-তেমন যাত্রী দেখলে টিকিট দেয়, নাহলে দেয় না।

    এ নিয়ে গিরিশবাবুর বদনামও আছে। এই লাইনে ওই ঘুণধরা বুড়ো গিরিশ পুরনো লোক।

    টিং টিং-এ প্যান্ট পরে, মাথায় টিকিতে একটা শুকনো ফুল বাঁধা। কালো কোট দীর্ঘদিনের ব্যবহার রোদে-জলে ঘামে-বিবর্ণ হয়ে নিজস্ব একটা বর্ণ আর গন্ধ নিয়ে গিরিশবাবুর শ্রীঅঙ্গে বিরাজ করছে।

    গিরিশবাবু বলে—কোম্পানি মাইনে দেয় কত বাবা? আর বাজার? সে তো লাফিয়ে উঠছে— —তাহলে বলো সমতা রেখে চলতে গেলে কি করণীয় হে যশোদা?

    ….গার্ড যশোদা আর চেকার গিরিশ দু’জনের অবশ্য কিছু বখরার ব্যাপার আছে। ড্রাইভার যদুপতি গজগজ করে।—

    ভাগ না দিলে হল্ট ইস্টিশানে দাঁড়াইয়ে আবার সিটি বাজাই গাড়ি ছেড়ে দিব হে! প্যাসেঞ্জার উঠল না উঠল আমার কাঁচকলাটি হে মামু!

    গিরিশ চেকারকে এই লাইনে সবাই এই মামা নামেই ডাকে। কোন্ সুবাদে যে ওই ডাক তা কেউ জানে না। গিরিশ তাতেই চটে কাঠ। তবু যদুপতিকে চটাতে সাহস নেই তার। লোকটা কাঠগোঁয়ার আর তেমনি মাতাল!

    লাউগঞ্জ পৌঁছে দিনের বেলাতেই মদ গিলবে ওই মতিয়ার ঝুপড়িতে বসে আর খোঁজখবর করলে ইঞ্জিনের কয়লার গাদায়—না হয় জলের ট্যাঙ্কের নীচে দু-একটা চোলাইয়ের দড়িবাঁধা বোতলও বের হবে।

    যদুপতিকে দুটো টাকা দিয়ে গিরিশ বলে—নে বাবা।

    যদুপতি টাকা দুটো তেলকালি-মাখা প্যান্টের পকেটে গুঁজে নারকেল পাতা বাঁধা স্টিম হুইসেলটায় টান দিতে আধমরা ইঞ্জিনটা ক্ষীণ আর্তনাদ করে কঁকিয়ে ওঠে।

    গিরিশ বলে—এরপর করজোড়া হল্টে বিয়ের বরযাত্রী উঠবে, লগনসার বাজার, একটু টাইম রেখো যদু।

    …যদুপতি গজরায়—বিয়ের বরযাত্রী, ভাগ দিতে হবে মামা, নাহলে বরকে ফেলেই বরযাত্রী নে চলে যাব—বুঝবা মজা।

    গড়িয়ে গড়িয়ে মাঠ—রাঢ় অঞ্চলের তাবৎ যাত্রী কুড়িয়ে ফার্স্ট লোকাল যখন ইন্‌ করছে লাউগঞ্জ ইস্টিশানে তখন বেলা হয়ে গেছে।

    সামনে নদী, খরার সময় বালিখাতে ঝিরঝিরে জল বয়, নদীর ধারে অর্জুন, বাঁশবন—শুকনো অশ্বত্থগাছের ছায়ারেখা উঁচু পগারে সারবন্দি তালগাছ-এর প্রহরা। লাল ডাঙার ওদিকে লাউগঞ্জ ইস্টিশানের সিগন্যালটা কেঁপে কেঁপে ঘাড় কাত করে নামছে, অর্থাৎ ফার্স্ট লোক্যালকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে।

    পয়েন্টের মুখে এসে যদুপতি ইঞ্জিন থেকে আধখানা দেহ বের করে সামনে মতিয়াকে দেখে হাত নাড়ে।

    —আগিয়া মতিয়া।

    মতিয়ার টানটান গতর, টানা চোখ—ডাগর পুরুষ দেহ। আর ওর অনাবৃত নিটোল মাংসল হাত দুটো ‘যদুলালের মনে গোলাবি আমেজ আনে’ ওদিকে বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে পয়েন্টম্যান বুধুয়া।

    দাঁড়াবার সাধ্য তার নেই, টলমল করছে। সকালেই সে মতিয়ার চোলাই-এর নতুন পরখ করেছে বোধহয়। রোজই করে।

    আসলে লাউগঞ্জ বীরপুর লাইট রেলওয়ের খাতায় বুধুয়ার নামটাই লেখা আছে পয়েন্টম্যান হিসেবে।

    কিন্তু সজ্ঞান অবস্থায় বুধুয়াকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। সেবার ফার্স্ট লোক্যাল-এর পয়েন্ট দিয়ে ট্রেনখানাকে বীরপুরের দিকে না পাঠিয়ে সোজা গুপি মিত্তিরের ধানকলের সাইডিং-এ দিয়ে দিয়েছিল আর গদাধর ড্রাইভারও চোখ-বুজে সেই ট্রেনখানাকে সিধে নিয়ে গিয়ে ধানকলের পেছনের বাফারেই ভিড়িয়ে দিয়েছিল আর কি?

    মহা কেলেঙ্কারি!

    কোনরকমে ইস্টিশান মাস্টার ভজগোবিন্দবাবুই বাঁচিয়ে দিয়েছিল ওদের। অবশ্য তারপর থেকে গদাইকে দিয়েছে ওই সান্টিং ইঞ্জিন চালাতে এখানে আর বুধুয়ার চাকরিটা রয়ে গেছে ওই মতিয়ার জন্যই।

    এখানের গ্রামসভার মাতব্বর-ধানকল মালিক গুপি মিত্তির মতিয়াকে একটু নেক-নজরে দেখে। তাই মতিয়ার স্বামী বুধুয়াকে সেবারের মতো মাফ করা হলো। তবে এখন মতিয়াই পয়েন্ট দেয় বেশির ভাগ সময়। …ইঞ্জিনটার স্পিড কমিয়েছে যদুপতি। মতিয়া এসে উঠেছে ইঞ্জিনে। যদুপতি বলে—এবার তোকে ইঞ্জিন চালানোও শিখিয়ে দেব মতিয়া। মতিয়া গা-গতর নেড়ে বলে—গদাই ভি বোলে। ছোড় উ গাড়ি চালানোর বাত। বহুত ঝামেলা—আগুন কা সাথ লড়াই।

    যদুপতি লুব্ধ-দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলে—তা সত্যি। ইঞ্জিনের তাতে তোর সোনার অঙ্গ পুড়ে কালি হয়ে যাবেক মাইরি।

    মতিয়া হাসে—তাই নাকি রে! খুব যে ভাবনা তোর?

    যদুপতি বলে—হবে না! তু কত সোন্দর মাইরি।

    —হ্যাঁ!

    মতিয়া খিলখিল করে হাসছে, হাসছে নয় যেন যদুপতির সামনে ইঞ্জিনের বয়লারের মুখটা কেউ খুলেছে—আর ঝলকাচ্ছে আগুনের ফুলকি-উত্তাপ। এ আগুন ওর সারামনে জ্বালা ধরায়।

    ট্রেনটা এসে লাউগঞ্জ প্ল্যাটফর্মে থামল।

    ভজগোবিন্দ দেখছে মোতিয়াকে, ইঞ্জিন থেকে নামছে সে।

    .

    ভজগোবিন্দ চট্টরাজ লাউগঞ্জ ইস্টিশানের স্টেশনমাস্টার, সহকারী মদনবাবু ওদিকে আপ লোকালের বুকিং নিয়ে ব্যস্ত।

    রাঢ়-এর বিস্তীর্ণ এলাকার একমাত্র যাতায়াতের পথ এই রেলগাড়ি। মাঝে কয়েকটা নদী, বিল পড়ে। কুয়ে ময়ূরাক্ষী দ্বারকা—অজয়-এর বাড়তি জল ঠেলেঠুলে এই অঞ্চলের চারিদিকে ঢুকে পড়ে। নিকাশি ব্যবস্থা তেমন নেই, ফলে অনেক জলা-বিল গড়ে উঠেছে, আর আছে মাঠগড়ানি জলের প্রবহমান ছোট-বড় কাঁদর।

    ফলে সদর শহর বীরপুরের সঙ্গে যাতায়াতের পাকা রাস্তা তেমন কিছু নেই। একটা খোয়া-ঢালা সড়কের মতো আছে, কিন্তু নদীনালা বিলের জন্য সে রাস্তা পাকা হয়নি। গাড়িও চলে না।

    যদিও প্রতিবার ভোটের সময় এ নিয়ে অনেক আসর গরম করা লেকচার হয়, শোভাযাত্রাও বের হয়, আবার ভোট ফুরিয়ে গেলেই সব ঠাণ্ডা। ফলে এই ছোট লাইনই এ অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের পথ। লাউগঞ্জের চারিপাশে বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে আসে বজরাবন্দি তরি-তরকারি, দুধ-ছানা আর এদিকের মাঠে হয় প্রচুর ধান-গম। সে-সবও ওয়াগনবন্দি হয়ে চালান যায়, মালপত্রও আসে ট্রেনে এ এলাকার অন্য সবকিছুই। ফলে লাউগঞ্জ ইস্টিশানের নামডাক আছে।

    ভজগোবিন্দ তাড়া দেয়—ওহে যদুপতি, আধঘন্টা লেট হয়েছে, এদিকের লোকাল ছাড়ব এখুনি।

    মালপত্র উঠছে, গার্ড যশোদা গুনছে বাজরা, ছানার টিনগুলো, সেই হিসেবে বুকিং ছাড়াও বাড়তি হিসাব একটা থাকে মালবাবুদের, মহাজনদের কাছ থেকে সেটা আদায় হয় অলিখিত নিয়মেই। আর সেই টাকাটার হারাহারি ভাগ পায় গার্ডসাহেবও।

    গিরিশ দেখে মাত্র।

    তার আমদানি ওই রোডসাইড থেকে।

    যশোদাবাবু বলে—ছাড়ছি ভজগোবিন্দবাবু, মালপত্র গুনতি করে নিই আগে।

    গাড়ি ছাড়বার সময় পার হয়ে গেছে। যাত্রীদের অনেকেই তাড়া দেয়। ও মাস্টারমশাই।

    ভজগোবিন্দ খুঁজছে বুধুয়া, পোর্টার রতনকে। টাক ঘামছে তার।

    চিৎকার করে—ওহে মদন। মাল বুকিং বন্ধ করো। বলে দাও পরের গাড়িতে মাল যাবে। এখন নো এস্পেস। গাড়ি ছাড়তে হবে।

    মালপত্র আর বুকিং-এর বাকি নেই।

    বুধুয়া রতনকে দেখা যাচ্ছে না। ড্রাইভার যদুপতিও নেই। তাই ওদের খুঁজছে সে। যাত্রীদের সামনে ওইসব হাঁক-ডাক করে কোনোরকম কোর্ট বজায় রাখে মাত্র।

    স্টেশনের শেডের একপাশে রতিকান্তের চায়ের স্টল। রেল কোম্পানির কাছে লাইসেন্স নিয়েই স্টল করেছে সে। লাউগঞ্জের অনেকেই আসে চা-খেতে খবরের কাগজ পড়তে। সেটা অবশ্য বৈকালের দিকে।

    এখন যাত্রীদের ভিড়ই বেশি—ফড়ে-মহাজনরাও চা-বিস্কুট সিঙাড়া রসগোল্লা খায়। ট্রেনের দেরি হলেই রতিকান্তের লাভ, তবু খদ্দের কিছু পাবে। সে আর দোকানের ছেলেটা বদন এন্তার চা-সিঙাড়া বেচে চলছে।

    এ ট্রেন চলে গেলে দু’তিন ঘন্টা মাছি উড়বে, বিক্রিও হবে না, দুপুরের দিকে কে আর চা খাবে। ফলে রতিকান্ত খুশি।

    ভজগোবিন্দ চরকির মতো এদিক ওদিকে ঘুরছে। বটতলা-কৃষ্ণচূড়া-আমগাছের নীচে, কোথাও ড্রাইভার যদুপতির পাত্তা নেই।

    চায়ের দোকানের বদনই সুধায়!—কাকে গোরুখোঁজা করে খুঁজছ গো মাস্টারবাবু?

    —যদুপতিকে দেখেছিস? কোথায় যে যায়? ভজগোবিন্দ বলে।

    বদনা খবরটা দেয়।

    —ওদের দেখলাম উদিকে, প্যাজি আর আলুর চপ দে এলাম, ওই বটতলায় রইছে গো।

    —তাই নাকি! উঃ হাড়মাস জ্বালিয়ে দিলে!

    ভজগোবিন্দ দৌড়ালো ওই বুধুয়ার আস্তানার দিকে।

    রতিকান্ত দেখেছে ব্যাপারটা। বদনই যদুপতির সন্ধান দিয়েছে ভজগোবিন্দবাবুকে। এবার হাতে-নাতে ধরে টেনে এনে যদুপতিকে ইঞ্জিনে তুলে গাড়ি ছাড়বে। তারও বিক্রি বন্ধ। এখনও গণ্ডা দশেক সিঙাড়া আছে—চপও রয়েছে কিছু। সব পড়ে পড়ে বাসি হবে। গাড়ি চলে না গেলে আর কিছু সময় পেত, সেগুলো উঠে যেত। কিন্তু বদনার জন্যই তা হলো না।

    গর্জে ওঠে রতিকান্ত—অ্যাই বদনা, তোকে দালালি করতে কে বলেছে রে? যে যেখানে থাকে থাকুক—তোর কী? মারব এক থাপ্পড়!

    থাপ্পড়ের ভয়ে বদনা একটু ঘাবড়ে গিয়ে চিঁচিঁ করে।

    –শুধুলে—

    —থাম! ধমকে ওঠে রতিকান্ত। বলে—যা বাকি সিঙাড়া কনসেশন করে ঝেড়ে দে গে। চার আনায় তিনটের দর।

    ইস্টিশানের আশপাশে বেশ কিছুটা জায়গা ফাঁকাই পড়ে আছে। ঝোপঝাড়—আগাছার জঙ্গল। এদিকে ভজগোবিন্দ আর ছোটবাবুর কোয়ার্টার, আর ওপাশে ওই গাছগাছালির ধারে বুধন পয়েন্টম্যান যতীন—শান্টিং ড্রাইভার গদাধর, ফায়ারম্যান মটরের এক ধারের বাসা। তবু বুধন ওই একটা ঘর নিয়েই খুশি হয়নি। আশপাশের জায়গায় কয়েকটা ঝুপড়ি তুলেছে, গোরু বাছুর আছে—আর নাকি অন্য কারবারও তার আছে।

    সামনে একটা বটগাছের নীচেটায় বুধুয়ার বউ মতিয়া সাফসুতরো করে নিকিয়ে রাখে।

    ওখানেই বসেছে, এদের সাময়িক আড্ডা। ড্রাইভার যদুপতি—বুধয়া—যতীনও আছে, সামনে শালপাতায় আলুর চপ-সিঙাড়া মুড়ি আর বোতলের সঙ্গে গেলাসটাও ওদের হাতে হাতে ঘুরছে। মতিয়া গোরুদুটোকে খড়-জাব দিতে ব্যস্ত। মাঝে মাঝে ধমকায় বুধুয়াকে।

    —আউর গিলবি না, অ্যাই? ডিউটি দিতে হবে না অ্যাঁ!

    বুধুয়া তখন মৌজ হয়ে গল্প জুড়েছে।

    হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে ভজগোবিন্দকে আসতে দেখে তাকাল বুধুয়া। ভজগোবিন্দকে দেখে যতীন হাতের বোতলটা পিছন দিকে রাখবার চেষ্টা করে বলে ওঠে—মাস্টারবাবু!

    ভজগোবিন্দ চটে ওঠে। বেশ কড়াস্বরেই বলে।

    —অ্যাই যদুপতি, ওদিকে গাড়ি আর কত লেট করবে?

    চলো—

    যদুপতি বলে—যাচ্ছি বড়বাবু! ইঞ্জিনে জল-কয়লা না দিলে গাড়ি চলে না। প্যাটে কিছু না পড়লে দেহটাও চলবে কেনে বলুন?

    ভজগোবিন্দ এতবড় যুক্তিপূর্ণ কৈফিয়তে খুশি হতে পারে না। বলে সে,

    —মদ গিলে গাড়ি চালাবে, শেষকালে কি হতে কি হবে! আর তোদেরও বলি বুধুয়া, চাকরি করবি না এই সব বাঁদরামি করবি? অ্যাই—চল—গাড়ি ছাড়তে হবে!

    যদুপতি কোনো রকমে উঠে দাঁড়াল। বাকি দ্রব্যটা বোতলের মুখে ছিপিটা এঁটে রাখতে হবে, শালপাতা থেকে এক খাবলা আলুর-চপ নিয়ে চিবোতে চিবোতে চললো যদুপতি!

    বুধুয়া হাঁক পাড়ে—এ মতিয়া, যা পয়েন্টটা দিয়ে ফেলাগি নেড়ে শ্লো টেরেনটাকে হঠা বাবা! গদাই এদিকে দুটো ওয়াগন ঝড়ঝড়ে শান্টিং ইঞ্জিনটার পিছনে জুড়ে সাইডিং-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, চিৎকার করে সে-আবে মটরা। দ্যাখ পানি সব পড়ে গেল ট্যাঙ্কি থেকে!

    মটরার ওপাশে ইঞ্জিনের একটা খোপরে দড়ি, রকমারি নাটবল্টু, এঁটেল মাটির তাল মজুত থাকে।

    মটরা গর্জে ওঠে—বীরপুরের কারখানায় নে গিয়ে সেরে আনো ইঞ্জিন গদাই দা। ঐ শ্লা ফুটো ইঞ্জিনে কাজ হয়?

    গদাই বলে—এই মা লক্ষ্মী রে। ক্যামন পক্কিরাজের বাচ্চার মতো চলছে। যা তালি মার বাপু।

    মটরা এঁটেল মাটি খানিকটা নিয়ে নেমে গিয়ে ট্যাঙ্কের গায়ে থাবড়ে বসিয়ে ফুটো বন্ধ করতে থাকে। ওপাশের লাইন দিয়ে তখন যদুপতি দু’নম্বর আপ নিয়ে বের হচ্ছে।

    ঘন্টাচারেক এখন লাউগঞ্জ ইস্টিশনটা ঝিমিয়ে থাকবে। শেডটা খালি প্রায়। ওদিকে নড়বড়ে বেঞ্চে বসে রতিকান্ত সকালের বিক্রিবাটার পয়সা-কড়ি গুনছে। বদন শেষ আঁচে কড়াই-এ ভাত চাপিয়েছে।

    ভিড় কেটে যেতে ইস্টিশানের আশপাশের কুকুরগুলো এবার প্ল্যাটফর্ম শেড-এর এদিক ওদিকে খাবারের টুকরো-টাকরার সন্ধান সেরে ল্যাজে মাথায় এক হয়ে বিশ্রামের আয়োজন করছে।

    স্তব্ধতা নেমেছে ইস্টিশানে।

    ভজগোবিন্দবাবুও এবার সকালের সংগৃহীত কপি-মুলো-বেগুনের ভাগ নিয়ে বাসায় পাঠিয়ে নিজে চলেছে বাসার দিকে একটু ভয়ে ভয়েই।

    বাসার কাছে গিয়েই থমকে দাঁড়াল। চাপা-হাঁক ডাকটা ক্রমশ যেন সোচ্চার হয়ে ওঠে।

    —বিমলি! চা হলো তোর?

    ভজগোবিন্দ বাড়ি থেকে বের হয় সকালে, সূর্য ওঠারও আগে।

    ফার্স্ট লোকাল ছাড়তে হয় তখন। তার আগেই ওই শীতে ঠাণ্ডায় চান করতে হয়! পুজো- আচ্চা সেরে যখন বের হয় তখনও সূর্য ওঠেনি।

    চান ইস্টিশানেই সারতে হয় তাকে।

    বাড়ি ঢুকতে নেত্যকালী স্বামীর দিকে তাকাল। এখানে কাজ করে বিমলি, নেত্যকালীর বাপের বাড়ির থেকে আনা বিমলিও বেশ সযুত আর নেত্যকালীর মতোই তেজিয়ান!

    নেত্য বলে ওঠে—বলি এতক্ষণে ফেরার সময় হলো? কি এত চাকরি করো ওখানে?

    ভজগোবিন্দ তাকাল স্ত্রীর দিকে।

    ব্যস হলেও নেত্যকালীর ছেলে হয়নি, দেবা আর দেবী। আর ইস্টিশানের দৌলতে বিনা পয়সায় দুধ-ছানা-মাছ-তরিতরকারি সবই জোটে। ফলে খাওয়ার গুণে শরীরটাও সতেজ। আর হাতে অফুরন্ত সময়।

    শহরের মেয়ে—বাপেরও নাম ডাক আছে এ দিগরে। লাউগঞ্জের কারবারি লোক, গঞ্জের ব্যবসাদাররাও ওই নেত্যকালীর পিতৃদেব কুলদা গোস্বামীকে চেনে। বারের নামী মোক্তার। তেমনি দফরফ! অর্থও বেশ রোজকার করেন।

    ফলে তস্য একমাত্র কন্যাকে লেখাপড়াও কিছু শিখিয়েছিলেন। এখন নেত্যকালী তাই এখানে বাসা বেধেও বসে সেই।

    লাউগঞ্জের নারীসমিতি গড়ে তুলেছে। স্কুলের দু’চারজন শিক্ষিকা—হেড মিসট্রেস সুলতা দেবী, দারোগার স্ত্রী লতিকা, সাবরেজিস্টার গিন্নি আরও অনেকেই এর সভ্য, দলবেঁধে এরা নারীকল্যাণ সমিতির মিটিংও করেন গার্লস স্কুলের ওদিকে সুলতা ঘোষ-এর বাসায়।

    নেত্যকালী চা-জলখাবার খেয়ে এবার বেরোবার আয়োজন করছে। আজ সমিতির জরুরি মিটিং আছে। বাসিনী জানে দিদিমণির এরপর কি দরকার। পানের বাটা এনে পান সেজে তিনশো ছ’নম্বর বাহারি পাতার জর্দা দিয়ে চাদরটা এনে হাতে দিতে নেত্য বলে—রান্না কর।

    ভজগোবিন্দ একপাশে চোরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এ বাড়িতে জোরে কথা বলার উপায় তার নেই। নেত্যকালী বলে ওকে।

    —খেয়ে নিয়ো, আমার দেরি হবে। নারী কল্যাণ সমিতির মিটিং সেরে তবে ফিরব।

    ভজগোবিন্দ ঘাড় নাড়ে।

    জানে ওকে বাধা দেবার সাধ্য ভজগোবিন্দের নেই। তবু ওই নারীকল্যাণ সমিতি নিয়ে সেদিন ইস্টিশানে দু’চারটে কথা শুনেছিল। দক্ষিণপাড়ার কোন্ এক গরিবের বউকে হাসপাতালের ডাক্তার দেখতে চাননি, মহিলা সমিতির মাতব্বর এই নেত্যকালীও অন্য মেয়েদের সঙ্গে গিয়ে ডাক্তারবাবুর বাড়ি-চড়াও হয়ে তাকে বিনা ভিজিটে রোগী দেখতে যেতে বাধ্য করেছিল।

    কথাটা স্বয়ং মিত্তির মশায়ই বলেছিল।

    গুপি মিত্র এইখানের বড় ধানকলের মালিক। বড় ব্যবসাদার। আড়তও আছে। এখানের সিমেন্ট লোহার স্টকিস্ট। চাল-ডাল আলুর আড়ত, গুপি মিত্তির এখানের মাতব্বর!

    সেই গুপি মিত্তিরই বলেছিল—এসব ঠিক নয় মাস্টার। শুনলাম তোমার গিন্নিও ছিলেন ওই মহিলাদের দলে!

    ভজগোবিন্দ শান্ত-নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। এখানে চাকরি করতে হয় তাকে। তাই গুপি মিত্তিরের মতো দুদে লোককে চটাতে সাহস নেই তার। গ্রামের কেউ কোনো কথা বলুক তাদের নিয়ে এও চায় না সে। তাই মহিলা সমিতি নিয়ে আজও স্ত্রীকে মাতামাতি করতে দেখে বলে ভজগোবিন্দ,

    —ওসব রুক্ষু ঝামেলায় কেন যাও?

    নেত্যকালী স্বামীর দিকে তাকাল। দুদে মোক্তারের একমাত্র কন্যা সে, সেই মোক্তারি চালেই জেরা করে।

    —সে কৈফিয়ত তোমাকে দিতে হবে?

    ভজগোবিন্দ একটু থতমত খায়, তবু বলে সে,

    —নানা কথা ওঠে। ওই গুপি মিত্তির মশাই বলছিল সেদিন ছিদাম ডাক্তারকে সমিতির ওরা অপমান করে ভালো কাজ করেনি। তুমিও ছিলে ওদের দলে।

    নেত্যকালী কঠিন চাহনিতে তাকাল স্বামীর দিকে। গুপি মিত্তিরকেও চেনে নেত্যকালী। আজ স্বামীর মুখে তার কথা শুনে বলে—

    গুপি মিত্তিরের কথায় মহিলা সমিতি চলে না। আমরা যা ভালো বুঝেছি, করেছি। সাধ্য থাকে তার প্রতিবাদ করুক। ওই হুঁকোমুখো মিনসের মুখে নুড়ো জ্বেলে দেবো! আমি আসছি—

    নেত্যকালী চাদরটা গায়ে জড়িয়ে বেশ বীরদর্পেই বের হয়ে গেল। ভজগোবিন্দ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। বিমলার ডাকে চমক ভাঙে তার—চা খাবেন তো? –

    ভজগোবিন্দের স্ত্রীর সামনে একেবারের বেশি চা খাবার অধিকার নেই। ওতে নাকি অম্বল হয়। ভজগোবিন্দ স্ত্রীকে চলে যেতে দেখে বলে,

    —চা দিবি? দে—তারপর রান্নাবান্না কর। দুপুরের গাড়ি ছাড়তে হবে খেয়ে-দেয়ে গিয়ে।

    .

    গুপি মিত্তির সামান্য অবস্থা থেকে লাউগঞ্জের মাটিতে ধাপে ধাপে গেড়ে বসেছে নিজের চেষ্টায় আর বুদ্ধির তেজে! এখন তার ভিত এখানের মাটিতে বেশ মজবুত হয়েই বসে গেছে। ধানকল চালু ব্যাবসা—আড়ত, কিন্তু বাড়িতে তার শান্তি নেই।

    এই নিয়ে তার তৃতীয় সংসার। প্রথম পক্ষের একমাত্র সন্তান রতনই তার বর্তমান বংশধর। প্রথমা পক্ষ তাকে রেখেই মারা যায় তখনও গুপি মিত্তিরের অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। টুকটাক কারবার-পত্র করে, তারপর ও বিয়ে করেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষও গত হবার পর, সবে বছর কয়েক আগে গুপি মিত্তির গরিবের ঘর থেকে কুসুমকে এনেছিল।

    রতন ক্রমশ বড় হয়েছে—গুপিরও বরাত ফিরেছে। কিন্তু গুপির নজর বদলায় নি।

    রতন পড়াশোনায় ভালো। গুপি মিত্তির তাকিয়েছিল ম্যাট্রিক পাশ করার পরই তাকে কারবারে বসাতে। কিন্তু রতন তখন থেকেই জেদি। সে বাবার মতে মত দিতে পারেনি! নিজের জলপানির টাকাতেই সদরের কলেজে পড়ে বি-এ পাশ করেছে। বাবার কাছে তবু হাত পাতেনি—বরং টিউশানি করেই হাতখরচা চালিয়েছে, আর তাকে সাহায্য করেছিল এখানের বর্তমান হেডমিস্ট্রেস সুলতা দিদি! সুলতা তখন ওখানেই থাকত কোন স্কুলে!

    রতন পাশ করে ফেরার পরও গুপি মিত্তির বলে—কাজ কারবার দেখাশোনা কর। চাকরি- বাকরিতে কি হবে?

    গুপি মিত্তির এর আগেই চাল-ধান সিমেন্টের কালোবাজারি নিয়ে দু’একবার ধরা পড়েছে। বর্ডার এলাকায় চাল পাচার করার ব্যাপারে সেবার জেল হতে হতে বেঁচে গেছে বেশ কিছু টাকা গোপনে খরচ করে।

    বাবার ব্যবসা সম্বন্ধে রতনের একটা ধারণাও ছিল। আর সেটা বেশ ভালো নয় মোটেই। কেমন আঁধারে ঢাকা—রহস্যাবৃত। ইদানীং দেখেছে রতন ধান কলের পচা-ভাঙানো ধান—বাতিল চাল—খুঁদও কোন অদৃশ্য পথে ওই নিতাই ঘোষ পাচার করছে।

    পয়েন্টম্যান বুধুয়া আর তার ডাঁটো বউ মতিয়াকেও দেখা যায় এখানে, না হয় ধান কলে আর সেই ধান খুঁদ দিয়ে তৈরি হচ্ছে গোপনে চোলাই মদ ওই স্টেশনের ধারের জঙ্গলে কোন্ কালের পড়ো বাড়িতে।

    এসবের সঙ্গে তার বাবার যেন অদৃশ্য কোনো যোগসূত্র আছে বলেই মনে হয় রতনের।

    রতন ভেবেছে এই কথাগুলো।

    ইদানীং এখানের স্কুলেই সে কাজ নিয়েছে। ইংরাজি পড়ায়। গার্লস সেকশনেও সুলতাদি ওকে ক্লাস নিতে বলেছে। সেখানেও শিক্ষিকার অভাব। রতন বাবার এই অন্ধকারের ব্যবসা থেকে ওই শিক্ষাদানের কাজেই বেশি আনন্দ পায়।

    আজ তাই বাবার কথাতে সায় দিতে পারে না সে।

    কুসুম ঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়াল।

    গুপিনাথ বলে স্ত্রীকে—তোমার ছেলেকে জবাবটা দিতে বলো নতুন বউ।

    কুসুম এ বাড়িতে নতুন এসেই বুঝেছে রতনের দিকে ওর বাবার যতটুকু নজর দেওয়া, স্নেহ করা দরকার কিছুই করেননি। হয়তো রতনের মনে তাই একটা অভিমানই রয়ে গেছে। আর কিছুটা নীরব বিক্ষোভ।

    কুসুম এ বিষয়ে নিজেকেই অপরাধী মনে করে। হয়তো তার এ বাড়িতে আসাটায় মন থেকে রতনের সায় নেই।

    কিন্তু রতনকে চিনেছে কুসুম। এ ব্যাপারে তার কোনো অভিযোগই নেই। রতন বাবার কথায় বলে,

    —এ ব্যাপারে নতুন মাকে টানা কেন? আমি তো বলেছি আপনার ব্যবসাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই।

    গুপি অবাক হয়—সেকি! ধানকল তোমার নামেই করে দিয়েছি।

    রতন শোনায়—ওসব আপনি করেছেন, আপনিই দেখবেন। আমাকে এসবে টানবেন না। আমি লেখাপড়া শিখেছি, লেখাপড়ার কাজেই থাকব। ফুঁসে ওঠে গুপি মিত্তির।

    —মাস্টারি করবে! তা এটা কেন করবে বলো? ওই হরেন ঘোষের ভাগনিটাও শুনি ওই স্কুলে যাতায়াত করে। আর স্কুলের মাস্টারনির দল ওই মহিলা সমিতির তুমি নাকি পান্ডা, বলি ওইসব না করে—ব্যবসাপত্র দ্যাখো। আমার সিধে কথা। যাও, কাল থেকেই ধানকলের গদিতে বসতে হবে।

    রতন জবাব দিল না বেশ মুখভার করেই চলে গেল।

    গুপিনাথ গর্জে ওঠে—সব আমি জানি; এবার বিহিত করছি।

    কুসুম চুপ করেই ছিল।

    স্বামীর এই তর্জন-গর্জন সে এসে থেকেই দেখছে। লোকটা অল্পতেই চটে ওঠে, বোধহয় ফালতু পয়সা সহজে হাতে এসে গেছে তাই মেজাজটা সহজেই গরম হয়ে ওঠে টাকার গরমে।

    কুসুম বলে—যা করার বুঝে-শুনে করো। ছেলে বড় হয়েছে জ্ঞানবুদ্ধি হয়েছে।

    গুপি ফুঁসে ওঠে—ছাই হয়েছে। ঘাড়ে বদবুদ্ধি চেপেছে, আর ওই মহিলা সমিতির পেত্নিরা ঘাড়ে-ভর করেছে ওর।

    কুসুম বলে—তবু যা করবে তাতে যেন লোকে না বলে সত্মা-ই এসব করিয়েছে। বদনামের কপাল আমার। বলছিলাম বরং ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে-থা দিয়ে দাও—গরিবের ঘরের মেয়ে হোক তবু ক্ষতি নাই।

    গুপি গর্জায়—আগে ঘাড় থেকে পেত্নি নামাই, তারপর দেখছি ওটাকে। …দরজার কাছে কার শুকনো অকারণ কাশির শব্দ শুনে কুসুম মাথায় ঘোমটা তুলে দিয়ে ওদিকের অন্দরমহলে চলে গেল। গুপি মিত্তির চোখ তুলে তাকাতে ওদিকে নিতাইকে দেখে বলে—আয়।

    নিতাই-এর চেহারাটা জীর্ণ পাকধরা। গায়ের রং কালোই আর রোদে পুড়ে সেটা তামাটে হয়ে গেছে, চোখ-দুটো উঁচু কপালের নীচের খোঁদলে যেন গচ্ছিত হয়ে গেছে, চোখের কোলে কালি—নাকটা খাঁড়ার ডগের মতো ঠেলে বের হয়ে আসে।

    নিতাই ঘোষ গুপিনাথের বাহন, ওর কারবারের অনেক গুহ্যতত্ত্ব নিতাই-এর জানা, কারণ নিতাই-এর হাতেই সেগুলোর লেনদেন হয়।

    ওদিকে জেলার সীমান্ত, ছোট্ট নদী পার হলেই অন্য জেলা। সেখানে চালের দাম অনেক বেশি। পুলিশের চেকপোস্ট আছে দুদিকেই। কিন্তু গুপিনাথ-এর চালের ট্রাকগুলোর শ’ শ বস্তা চাল কোন অদৃশ্য পথে ঠিক ওপারে চলে যায়। কাল রাতেও গেছে দু’ট্রাক মাল।

    নিতাই এসে টাকাটা দিতে গুপি মিত্তির একটু খুশি হয়ে পঞ্চাশ টাকার একখানা নোট নিতাইকে দিয়ে এবার নতুন কাজের কথা পাড়ে।

    গুপি মিত্তির বলে—ওই হরেন ঘোষকে ডেকে আন নিতাই

    নিতাই একটু অবাক হয়।

    হরেন ঘোষ-এর অবস্থাও অদ্যভক্ষ ধনুর্গুণঃ। আজ খেতে কাল নেই। পোষ্য অনেক, আর বিশেষ করে হরেনের ভাগনি বকুলকে মনে পড়ে নিতাই-এর। ব্যাপারটা ঠিক মেলাতে পারে না সে।

    তাই শুধোয় সে-হরেনকে কেন?

    গুপিনাথ এতক্ষণ ধরে মনে মনে গজরাচ্ছিল। দু’একদিন দেখেছে রতনকে মহিলা সমিতির আপিস থেকে ওই হরেনের ভাগনি বকুলের সঙ্গে বের হতে। দু’জনে খুব হাসিখুশি থাকে।

    গুপি মিত্তির ভেবেছিল ব্যাপারটা এমন কিছুই নয়, কিন্তু এখন রতনকে ওখানে মাস্টারি নিয়ে তার মুখের উপর জবাব দিতে দেখে বুঝেছে বকুলের সঙ্গেও কিছু ব্যাপার ঘটছে, তারই তেজে রতনও বিগড়ে যাচ্ছে।

    নিতাই-এর কথায় গুপি মিত্তির বলে।

    —ওর ভাগনি কী করে? ওই বকুল না ফকুল।

    নিতাই-এর চোখ-কান চারিদিকে খোলা থাকে আধুনিক কালের র‍্যাডার যন্ত্রের মতো লাউগঞ্জের যেখানে কোন ঘটনা-ঘটুক তার গোচরে আসবেই।

    এটাও এসেছে। তবু নিতাই বলে।

    ….কেন কর্তাবাবু, বকুল তো ভালো মেয়ে। লেখাপড়ায় ফার্স্ট হয়েছে বরাবর। ভালো ভাবে পাশ করেছে। শুনছি বড় দিদিমণি ওকে গার্লস স্কুলে মাস্টারি দিচ্ছে।

    গুপির খবরটা মনঃপূত হয় না। চাকরি পেলে বকুল আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তার জন্যই ওকে এখান থেকে বিদায় করবে সে; গুপি মনে মনে কথাটা ভেবেছে পথও করেছে। এবার নিতাই-এর কথায় গুপি বেশ কড়া মেজাজে বলে ওঠে—ভালো তো সবাই, যত্তোসব নচ্ছার ইতর! তুই হরেনকে ডেকে আন এখুনি।

    নিতাই বেরোতে যাবে, হঠাৎ গুপির খেয়াল হয় রাগের বশে এতক্ষণ অন্য কথাই বলেছে। ফালতু কথা। কাজের কথাটা মনে পড়েছে এবার। তাই বলে গুপিনাথ-শোন, যাবার পথে একবার ওই বধুয়া মতিয়াকে তাগাদা দিয়ে দু’দিনের মাল বিক্রির টাকাটা নিয়ে আসবি। নাহলে ছুঁড়িটা ভয়ানক ঠ্যাটা—পুরো টাকা গায়েব করে দেবে। যা।

    নিতাইকে পাঠিয়ে গুপি মিত্তির এবার পাশে পড়ে থাকা তালপাতার পাখাটা নিয়ে হাওয়া করতে থাকে। ইদানীং লাউগঞ্জে বিজলি বাতি এসেছে। ধানকলেও আছে। বাজারে দত্তদের বাড়িতে, জমিদার হরিহরের বাড়িতেও গেছে বিজলি। গুপি মিত্তির ওসব বিলাসিতার ধার ধারে না। বাজে খরচা করে বিজলি নেবার কথাও ভাবেনি। তালপাতার পাখাই ভালো।

    .

    বকুলের কাছে এ জীবনের বোঝাটা মাঝে মাঝে দুঃসহ হয়ে ওঠে। ছেলেবেলাতেই বাবা মারা যায়, দূরের কোন অজপল্লিগ্রামে সে ছিল তখন। জমি জায়গা যা ছিল তা নামমাত্র। তাতে ক’মাসের খোরাক হতো বাকিটুকু তার বাবাকে এখান-ওখান থেকে জুটিয়ে আনতে হতো অনেক ফন্দিফিকির করে। বাবা মারা যাবার পর সে পথও বন্ধ হয়ে যেতে বকুলের মা ছোট্ট বকুলকে নিয়ে তাই এই হরেন ঘোষের আশ্রয়ে এসে হাজির হয়।

    মা মারা গেছে বকুল এখনও পড়ে আছে এখানেই।

    তবু ভালো ছাত্রী, সুলতাদি ওকে স্কুলে ফ্রি পড়ার ব্যবস্থা করেছিল, মায় বইপত্রও দিয়েছে। বকুল ফার্স্ট ডিভিশান-এ পাশ করেছে।

    আর তাই যেন মামির জ্বালাটা আরও বেশি।

    হরেন ঘোষ হাঁপানির রুগী, এককালে যা ছিল বসে খেয়েছে সব, এখন জীবনের বোঝা বইতে হাঁপিয়ে উঠে ফুঁ-ফুঁ করে শ্বাস টানছে, আর হরেন গিন্নির তর্জন-গর্জনও তত বেড়েছে।

    সকালবেলায় বকুল একগাদা এঁটো বাসন নিয়ে বসেছে; বাড়িতে ঝিয়ের পাট নেই। আগে ওই এঁটো মাজা—ঘর ঝাঁট দেওয়া রান্না করা এসব করত বকুলের মা, এখন উত্তরাধিকার সূত্রে ওসব বকুলকেই করতে হয়।

    মামিমা গর্জে ওঠে খ্যানখ্যানে গলায়—বলি ওই তো দু’খানা বাসন তাও মাজতে বেলা হয়ে গেল, এরপর উনুনে আঁচ পড়বে, রান্না হবে কখন? ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে চাট্টি ভাতে ভাতও দিবি না? তা দিবি কেন? শত্রুর কি সাধে বলে?

    বকুল কড়াইটা মাজতে মাজতে বলে—কাঠের উনুনে বড্ড বেশি পুড়েছে মামিমা। হয়ে যাবে এক্ষুনি।

    মামিমা মুখনাড়া দেয়—কাঠের উনুন ছাড়া কয়লা কে জোগাবে? তোর বাবা? বড় বড় বাত আছে। নাও, হাত চালিয়ে করো; উনুনে-আঁচ দিয়ে দে বাইরে কোথায় যাবি না ওই সব হুজুকে।

    দুধ দিতে এসেছে গোয়ালা, মামা বলে—হাত-ধুয়ে দুধটা নে।

    বকুল দুধ নিতে গিয়েই গোল বাধায়। হাতটা পিছল হয়েছিল, হাত পিছলে দুধের পাত্রটা পড়ে যেতেই মামিমা লাফ দিয়ে এসে এবার ওর গালেই কসে চড় দেয়।

    —হাত পায়ের বশ নেই? পিণ্ডি গিলিস কেবল? দূর করতে পারো না এই আপদকে।

    হরেন ঘোষ জানে না কি করবে, তার গলায় বেঁধেছে। ওই একা বকুলই নয়, নিজের মেয়েও বেশ বড় হয়ছে। বিয়ে-থাও দিতে পারছে না। বিয়ে নয় এবার দিন চালাবার ভাবনাটাই বড় হয়ে উঠেছে তার কাছে।

    তবু হরেন বলে—চুপ করো না।

    গিন্নি মুখ ঝামটা দেয়—দূর করব এবার ওটাকে।

    বকুলের চোখ ফেটে জল নামে। কিন্তু কাঁদবার উপায়ও তার নেই। মামা এখনই অনখ বাধাবে। তাই গুম হয়ে বাসন মাজতে থাকে সে।

    হঠাৎ বাইরে নিতাই-এর ডাক শুনে তাকাল হরেন।

    হরেন ঘোষ একটু অবাক হয়—মিত্তির মশাই ডাকছেন; কি ব্যাপার হে নিতাই! বসো।

    নিতাইকে খাতির করে বসায় হরেন ঘোষ।

    নিতাই বলে—কি করে বলব বলো ঘোষমশায়, হুকুম হলো ডেকে আন। এলাম তবে মনে হলো খবর ভালোই, নাহলে এত চটজলদি ডাকবে কেন তোমায়?

    হরেন ঘোষ ওই গুপি মিত্তিরকে সমীহ করে চলে। এর মধ্যে কয়েকশো টাকা ঋণও নিয়েছে জমি কিছু বন্ধক রেখে

    তবে টাকার তাগিদা দেয় না মিত্তির। হুট করে মামলা করেই থাবা বসায় লোকের জমিতে। টাকার জন্য ডাকে নি তা বোঝে হরেন।

    গিন্নিও এসেছে।

    হরেন ঘোষ ঘরের মধ্যে ধুতি বদলে আলনা থেকে পাঞ্জাবিটা গলিয়ে বের হবে, হেঁপো রুগী, তাই ধুসো চাদরটাও জড়িয়ে নিল, যাতে ঠাণ্ডা-ফাণ্ডা না লাগে। গিন্নির কথায় বলে।

    —কেন ডাকছে তা তো বুঝছি না, যাই ঘুরে আসি একবার।

    .

    গুপি মিত্তির জানত হরেন ঘোষের টিকি বাঁধা আছে তার কাছে। শুধু হরেন ঘোষেরই নয়, এ গ্রামের অনেকেরই টিকি বাঁধা রয়েছে তার হাতে। আর তার কথা শুনতেই হবে হরেন ঘোষকে। গুপি মিত্তির আগে থেকেই ভেবে রেখেছে।

    হরেন ঘোষ আসতে গুপি প্রথমে কথাটা না পেড়ে কুশল সংবাদই নেয়, –এসো হরেন। শরীর ভালো আছে তো?

    হরেন ঘোষও চতুর ব্যক্তি, বর্তমানে ফেরে পড়ে কাবু হয়ে আছে।

    তবু মানুষ চেনে সে। গুপি মিত্তির তাকে এসব কথা শুধোতে সেও অবাক হয়েছে। তবু জানায়।

    —আর শরীরের কী দোষ বলুন মিত্তিরমশায়, অভাব-অনটন তো লেগেই আছে। তারপর ঘাড়ে দু’দুটো মেয়ে—বিয়ে-থাও দিতে পারছি না।

    গুপি মিত্তির এবার তাক্ বুঝে বলে।

    বিয়ে দাও না কেন ভাগনির—ভালো পাত্র আছে। দোজবরে অবিশ্যি—তোমারও চেনা-জানা। বকতোড়ের শশী নায়েব

    হরেন ঘোষ কথাটা শুনে একটু ঘাবড়ে যায়—শশী নায়েব। বয়েস যে অনেক বেশি মিত্তির মশাই।

    গুপি শোনায়—তোমার ভাগনিও কচি-খুকি নয় হে। আর তোমার এই অবস্থা! শশী দেবে-থোবে ভালো। ধরো নগদ দেবে হাজার পাঁচেক। গহনাপত্র দেবে। ওতেই তোমার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দাও। বাস!

    আর শশীও তোমাকে বিপদে-আপদে সাহায্য না করে থাকতে পারবে? হরেন ঘোষ কথাটা এবার তলিয়ে ভাবছে। ভাববার কথাই।

    এখানে বকুলের বিয়েটা দিতে পারলে সুরাহা হবে তার সংসারের। আর গুপি মিত্তিরও খুশি হবে।

    অবশ্য শশীর বয়সও অনেক। তাই ইতিউতি করে জানায় হরেন—কোনো গোলমাল হবে না তো?

    গুপি মিত্তির অভয় দেয়—আমি থাকতে ওসব কিছুই হবে না হরেন। তবে কথাটা একটু গোপনে রেখো। আর ওই বকুলকে ক’দিন বাইরে একটু কম বেরোতে দাও, হাজার হোক বিয়ের কনে।

    —কবে নাগাদ বিয়ে হবে? আয়োজনপত্র আছে, হরেন প্রশ্ন করে।

    গুপি মিত্তির মনে মনে খুশি হয়েছে। এত সহজে হরেন রাজি হয়ে যাবে ওই অজপাড়া গ্রামে-ঘাটের মড়ার সঙ্গে বকুলের বিয়ে দিতে তা ভাবেনি।

    শশী নায়েবও রাজিই আছে। পাত্রী খুঁজছে সে ব্যাকুল ভাবে।

    গুপি বলে—যত শীঘ্রি শুভকাজ সারা যায় তার ব্যবস্থা করছি।

    তাহলে ওই কথাই রইল।

    তবু সাবধান করে গুপি।

    —একটু গোপনে কাজটা সারতে হবে। বুঝলে?

    .

    নেত্যকালী মহিলা সমিতির ঘরে এসেই বকুলকে দেখতে না পেয়ে শুধোয়— মেয়েটা আসেনি সুলতাদি?

    সুলতা জানে বকুলের জন্য নেত্যকালী টিফিন কৌটায় করে সন্দেশ না হয় পিঠে-পায়েস যা ভালোমন্দ করে নিয়ে আসে। আজও কিছু এনেছে বোধহয়।

    নেত্যকালীর ছেলেমেয়ে নেই হয়তো তাই মেয়েটাকে একটু বেশি ভালোবাসে। সুলতাদি ওদিকে মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে একটা সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যাপারে আলোচনা করছিল রতনের সঙ্গে।

    রতন মহিলা সমিতির কিছু বাইরের কাজকর্ম করে দেয়, সেই সুবাদেই বকুলের সঙ্গে পরিচয়। আর এক গ্রামেই তারা মানুষ, চেনে জানে অরা দু’জনকে। ক’দিন বকুল আসেনি এখানে।

    সুলতাদি বলে—ক’দিন আসেনি। শরীর খারাপ কিনা কে জানে?

    নেত্যকালী বলে ওঠে,

    —তা হতে পারে, ওর মামিটা এক নম্বর পিশাচ। রোগ-জ্বালি হলে ডাক্তার বদ্যিও দেখাবে না। মেয়েটার খবর নেওয়া দরকার।

    সুলতা, মালতী এখানের দারোগা গিন্নিও সায় দেয়। রতন বকুলের খবরটা জানে না। নেত্যকালীকে এ সম্বন্ধে আগ্রহ নিতে দেখে একটু খুশি হয় মনে মনে। নেত্যকালী-সুলতাদি আর মালতী বের হয়ে গেল বকুলের মামার বাড়ির দিকে।

    রতনও কথাটা ভেবেছে। বাবার ওই ধানকলের আড়তে বসতে সে পারবে না। অন্ধকারের কাজগুলোকে সে ঘৃণাই করে সারা মন দিয়ে। তার তাকিয়ে শিক্ষকতাই করবে সে। আর দরকার হয় স্কুল বোর্ডিঙে উঠে আসবে।

    গ্রামের বাইরে বেশ কিছুটা এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে স্কুলবাড়ি, আম বাগানের দিকে বিস্তীর্ণ দিঘির ধারে বোর্ডিংটা। পড়াশোনা করার মতো মনোরম পরিবেশই রয়েছে এখানে। মাস্টারি করতে করতে প্রাইভেটে এম-এ টা দেবে।

    কি যে স্বপ্ন দেখছে রতন একজনকে ঘিরে। সে বকুল। শান্ত-সহজ একটি মেয়ে। শ্যামবর্ণ চেহারায় একটা নমনীয়তা ফুটে ওঠে। জানে রতন মামার ওখানে কি কষ্টে থাকে বকুল। পরনের শাড়িটাও বিবর্ণ—সুলতাদিই ভাবছেন ওকে মাস্টারির কাজ দেবার কথা।

    রতনের মনের অতলে ওই শান্ত মেয়েটি কি মধুর স্বপ্নরেশ আনে।

    স্কুলের ঘন্টা বাজছে ছেলেদের কলরব শোনা যায়। স্কুলের দিকে এগিয়ে যায় রতন!

    .

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন-অরণ্য – শংকর
    Next Article পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }