Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প222 Mins Read0
    ⤷

    পারিবারিক : পিতা – ১

    পিতা

    ১

    সনকা যে চলে যাচ্ছেন, বিশ্বনাথ তা বুঝেছিলেন বলেই ওঁর পাশ ছাড়েন নি। এই সেদিন বিয়ের ষাট বছর পূর্ণ হল। মেয়ে জামাই, ছেলে বউ, নাতি নাতনি, বাড়ি ভরে উঠেছিল। মেজছেলে কলকাতার কেটারিংকে খবর দেয়। ফলে ভ্যানে খাবার এসেছিল।

    সেদিন কত আলো, ক্যাসেটে সানাই, পোলারয়েডে বিশ্বনাথ ও সনকার কত ছবি তোলা হল। ওয়াশিংটন থেকে বড় ছেলে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিল, ছোট মেয়ে বন থেকে।

    সনকাকে দিয়ে গান ওরা গাওয়াবেই। সনকা গাইবেন না। শেষে বিশ্বনাথ বলেছিলেন, ওঁর গান শুনবে? আমি শোনাতে পারি।

    সনকা পঁচাত্তর বছর বয়সেও কি লজ্জা পাচ্ছিলেন। পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদূর, গলায় ফুলের মালা।

    —না, ও গান তুমি শোনাবে না।

    —আজ শোনানো যায়।

    —তবে শুধু গান।

    —গানই তো।

    বড় মেয়ে বলেছিল, ব্যাপারটা কি?

    —শোনোই না।

    বিশ্বনাথ একটি শস্তার টেপরেকর্ডার আনলেন। বললেন, কিনে ফেললাম। ছয়শো নিল, বেশ জিনিস!

    বড় মেয়ে বলে, এই দেখ! বাড়িতে তো কয়েকটা পড়েই আছে। কতবার ভাবি দিয়ে যাব একটা…

    জামাই বলে, এগুলো তেমন…

    বিশ্বনাথ বলেন, আমার কাজ চলে যায়।

    —এ যে অনেক ক্যাসেট।

    সনকা বলেন, ওঁর কথা বলো কেন। ওঁর কথা, আমার কথা, সব টেপ করছেন।

    —বাঃ করব না। দু’জনে কে আগে যাই, কে পরে, গলাটা শুনতে পাব।

    —ক্যাসেট কোথায় কেনো?

    —সব দিলীপ। ও আমাদের ডান হাত।

    —দিলীপ কে?

    —ওই যে মীরা… কাজ করে… ওরই বর। তোমার মায়ের মেয়ে আর জামাই। গান শোনো।

    —এই, সবাই চুপ! দিম্মার গান শোনো।

    —বুমবা চুপ। তাম্মার গান শোনো।

    সনকা আঁচলে মুখ ঢাকেন। ও কি গান?

    কাঁপা কাঁপা গলায় গান, অথচ বেসুরো নয়। তাল লয়ের বালাই নেই। দমটা বারবার নেয়া হয়েছে।

    —তুমি যে গিয়াছ বকুল বিছানো পথে…

    গান শেষ হতে বিশ্বনাথ সপ্রংশস চোখে তাকান।

    —কেমন, ভালো না?

    —খুব ভালো।

    —ওঁর খুব গানের কান ছিল। যা শুনতেন, তাই তুলে নিতেন। একটা ভক্তিগীতি শোনো।

    সনকা বলেন, রাখো তো! তোমার নাতি নাতনিরা তো ইংরিজি আর হিন্দী গান ছাড়া কিছু চেনে না। ওদের ভাল লাগবে কেন? বেবিকে কীর্তন শিখিয়েছিলাম…

    বড় মেয়ে বলে, মা, কীর্তন কি রাখা সম্ভব? সংসারের কীর্তন যা!

    —কি জানি মা! ছেলেও বড়, মেয়েও বড়, বাড়িভর্তি কাজের লোক। গান গাওয়া যায় না?

    জামাই বলে, হ্যাঁ, একটা গানই আপনার মেয়ে গাইতে জানে, টাকা ফুরিয়েছে, টাকা দাও।

    ছোট ছেলের ছেলেটি সবচেয়ে ছোট। বছর ছয়েকের। ও বলে, তাম্মা, তোমার সিংগিং আমার লাভলি লেগেছে।

    বউ বলে, এই বুবাই! বাংলায় বলতে পার না?

    সনকা বলেন, ওতেই হবে।

    সারাদিন আনন্দ করে ওরা সন্ধ্যায় চলে গিয়েছিল। তখনো বাড়িতে অনেক পোলাও, অনেক মাছের ফ্রাই, অনেক মাংস, দই, মিষ্টি।

    মীরা আর মীরার মা বাড়ি পরিষ্কার করেছিল। সনকা বলেছিলেন, সব তোরা নিয়ে যা রে।

    —রাখব না?

    —একটু দই মিষ্টি। আর ওঁর জন্যে দু’খানা ফ্রাই। আজই অনিয়ম হল। কাল খেলে…

    দিলীপ সলজ্জ হেসে বলেছিল, দিদমা, আমি একটা জিনিস এনেছি।

    —কি রে?

    —ফ্লাক্স। আপনারটা ভেঙে গেছে।

    —ও বাবা, কত দাম নিল? বেশ জিনিস হয়েছে। কাজের জিনিস।

    মীরা বলেছিল, দাদুর তো পঁচাশি হলো। পনেরো বছর বাদে দাদুর শতবার্ষিকী করবে।

    আনন্দের দিন, উৎসবের দিন।

    রাতে সনকা বা বিশ্বনাথ কিছু খাননি। রাতে উপোস, একটু লেবুর শরবত। মীরা সারাদিন থাকে, মীরার মা রাতে থাকে কিছুকাল ধরেই বিশ্বনাথ ভাবছেন, বাগানের কোণে ওদের দু’খানা ঘর তুলে দেবেন। ইঁটের ঘর, খোলার চাল। ওরাও বাঁচে, উনিও বেঁচে যান।

    রাতে সনকা বলেছিলেন, বাড়িটা কি খালি হয়ে গেল? সবাই এলে যে কি ভরে ওঠে।

    বিশ্বনাথ বলেছিলেন, হেসেই বলেছিলেন, সেই মনে করেই তো সোদপুরে ভালো পাড়ায় এ বাড়ি করা।

    দুই মেয়ে, তিন ছেলে। ভিত পাঁচতলার। বাড়িটি দোতলা। নিচে চারটে ঘর, ওপরে দুটো ঘর, সবটা শেষ করেন নি।

    বড় ছেলে বলেছিল, সব ভিতে ঢালছ?

    —তোমরা পাঁচজন, পাঁচটা ফ্লোর করে নিও।

    —দূর! কে থাকবে সোদপুরে? আসব যাব, তা নিচু তলাটাই যথেষ্ট।

    —কেউ থাকবে না তোমরা?

    —কে থাকবে?

    —রিটায়ার করার পরেও নয়?

    —বাবা! তখন বড়জোর কলকাতায় ফ্ল্যাট কিনবে, থাকবে। সোদপুরে কে থাকবে?

    —সকলে থাকবে বলে…

    —না বাবা, ওটা প্র্যাকটিকাল নয়।

    —আমি ভেবেছিলাম…

    —ভেবো না। গোবরডাঙ্গায় তোমার বাবা বাড়ি করেছিলেন তুমি কলকাতায় সরকারি বাড়িতে থেকে চাকরি করলে, সে বাড়ি বেহাত হয়ে গেল।

    —আমারই বোন, ভাগ্নে, অনাথ সব…

    —তুমি যদি কলকাতায় বাড়ি করতে…

    —একটু মাটি, একটু বাগান…

    —বেশ তো, তোমরা থাকো না।

    সনকা বলেছিলেন, বড়খোকা, তোমাকে ইঞ্জিনীয়ারিং, মেজখোকাকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ছোটখোকাকে সি এ পড়িয়ে, মেয়েদের বিয়ে দিয়ে… বড় কাজ যেমন করেছেন, তেমন কলকাতা বাড়ি করার সংগতি তো ছিল না। সেজন্যেই…

    —বেশ তো। তোমরা থাকো।

    বিশ্বনাথ সনকাকে বলেছিলেন, আমরাই থাকব যখন, তখন আর বাড়াব কেন?

    ওপরে দুটি ঘরের সঙ্গে রান্নাঘর ও বাথরুম করেন। বিশ বছর আগে ভাড়া দেবার কথা ভাবেননি। সঞ্চয় বা কত। বছর দশেক আগে এক ডাক্তারকে ভাড়া দিয়েছেন। পেনশানের টাকা, ভাড়ার দুশো টাকা মিলিয়ে চলে যায়।

    বড় ছেলে, বউ, ছেলে দীর্ঘকাল ওয়াশিংটনে। বাড়ি কিনেছে। ফেরে কি না সন্দেহ।

    মাঝে মাঝে আসে। কয়েক বছরে একবার। গতবার তো ছেলেকেও আনেনি। ছেলে ভারতে আসতে চায় না। এখানে কোনো লাইফ নেই। গরিব, নোংরা দেশ।

    বড় বউ এসেই জল ফোটাতে হুকুম দিল।

    আমাদের টিউবওয়েলের জল তো ভালো।

    —না বাবা, আমি পারব না।

    সেবারই সনকা জানলেন, ওরা সানি পার্কে ফ্ল্যাট কিনেছে। বড়খোকা বলল, কিনেই ফেললাম বাবা। যদি কখনো আসি, থাকা যাবে।

    বড় ছেলে সানি পার্কে ফ্ল্যাট কিনেছে। মেজ ছেলে নিজেই আমদানি—রপ্তানির ব্যবসা করছে। তার ফ্ল্যাট আলিপুরে। ছোট ছেলে সৌভাগ্যবান। ”ডলফিন” নামক বহুতল বাড়িটি ওর শ্বশুরের। ওর বউ দুটো ফ্ল্যাট পেয়েছে। গুরুসদয় দত্ত রোডের প্রায় ওপরই। ছোট ছেলে নিজেই সি এ ফার্ম করেছে।

    বড় জামাই কন্ট্রাক্টর। লান্সডাউন ও লোয়ার সার্কুলারের মোড়ের কাছে সে বাড়ি কিনেছে। ছোট জামাই বন—এ থাকে, চাকরি করে। ওখানেই বাড়ি কিনেছে।

    ওরা অকৃতজ্ঞ নয়। বাবা—মাকে নিয়মিত টাকা পাঠায়। বড় ছেলে সেবারে ফ্রিজ কিনে দিল। মেজ কিনে দিল টেলিভিশন।

    সবাই ওঁদের সুখী দম্পতি বলে।

    সবাই চলে যাবার পর সনকা বললেন, এটা কেমন হলো?

    ও টেপ তুমি—আমি শুনব।

    —বাজাব?

    —আজকে থাক।

    —কাল তুমি কি বলেছ শোনো।

    —কি বলেছি?

    —শোনো।

    …পনেরো বছরে বিয়ে হয়েছিল। শ্বশুর দেখতে এসেই কথা দিয়ে গেলেন। বললেন, গোবরডাঙ্গার বাড়ি আলো হয়ে উঠবে আমার। তা…দাদা তো বলছে, সনুর বরকে দেখেছি, ইয়া বড় গোঁফ, মুশকো জোয়ান, কালো রং।

    আমার মন তো খুব খারাপ। গোঁফ আমি দেখতে পারি না। বিয়ের দিন ছাঁদনাতলায় আমি যেন চাইতে পারছি না। শেষে শুভদৃষ্টির সময়ে দাদা বলছে, দেখে নে। গোঁফ দেখবি না?

    ও মা! কোথায় গোঁফ, কোথায় কি? দেখি দিব্যি রং, দিব্যি চেহারা।

    গোবরডাঙ্গার কথা বলি। ওখানে গিন্নি ছিলেন আমার বড় ননদ। মেয়ে নিয়ে বিধবা হয়ে থেকেই বাপের কাছে। ওখানে তখন অত ফুল মেলে না। দিদি কোথা থেকে যে অত ফুল এনেছিলেন। আমার এক খুড়শাশুড়ী ফুলের গয়না গড়েছিলেন। ফুলশয্যের দিনই পুকুরে নাইতে গিয়ে কানের দুল জলে পড়ে গেল।

    আমি তো ঘাটে বসেই কাঁদছি। ও মা? ওই খুড়শাশুড়ী ঠিক তুলে আনলেন। বউভাতের পরদিন আমার শ্বশুর পুকুরের মামলায় জেতেন। তাতে সবাই বলল, লক্ষ্মী বউ। বউ ঘরে এল, মামলায় জিতলে।

    উনি কলকাতায় চাকরি করতেন, শনিবার বাড়ি আসতেন। শনিবার খুব ঘর—বার করতাম। দিদি বলতেন, চুল বেঁধে কাপড় ছেড়ে বসে থাকো। আমার ভাই এসে কি এমন চেহারা দেখবে?

    দিদি ওঁর চেয়ে আট বছরের বড়। প্রথমে ভেবেছিলেন, সংসারের গিন্নিত্ব আমি কেড়ে নেব। আমি কিন্তু তা করি নি। উনি যেন শাশুড়ী। আমি যেন বউ। এইরকম মান্য করতাম।

    বিশ্বনাথ ক্যাসেট বন্ধ করেন।

    —দিদিকে তোমার খুব মনে পড়ে?

    —খুব।

    —কি কপাল তাই দেখ!

    —হ্যাঁ, তীর্থে যাব, একবার তীর্থ করব, সময় তো হলো সেই মেয়ের বিয়ের পর।

    —তুমি বললে, কি বললে মনে আছে?

    —কি বললাম?

    —বললে, দেখ। বাবা খুব ধরেছেন এবার পুজোয় আমাকে পাটিহার দেবেন। এই সবে ভাগ্নীর বিয়ে হলো, খরচ—খরচা গেল, এবারে থাকুক।

    —আমি বললাম, বাবাকে বলো।

    শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলার সময় ছিল শোবার আগে পায়ে বাতের তেল মাখানোর সময়টুকু।

    সনকার এখনো মনে পড়ে, তেল মাখাচ্ছেন আর আস্তে আস্তে বলছেন, এবার আমি পাটিহার নেব না।

    —কেন মা?

    —পাড়ার সবাই যাচ্ছেন। দিদি ওঁদের সঙ্গে যান, প্রয়াগ গয়া, কাশী ঘুরে আসুন।

    —সে যেতে চায়?

    —হ্যাঁ বাবা। কোনদিন তো বেরোতে পারেন নি। আমি এখন সব পারি। নুটুরও বিয়ে হয়েছে…

    —সঙ্গী কারা?

    —ও বাড়ির দুই খুড়িমা, জ্যেঠাইমার ছেলে প্রভাস, আরো কয়েকজন।

    —সত্যি! ওদের মা—ও গেল, ও যেন এসংসারের হাল ধরবে বলেই বিধবা হলো। সেই থেকে…

    —শ্বশুরবাড়ির কিছুই পাননি…

    —কিচ্ছু না। ভাসুরটা অমানুষ।

    —দিদি যাবেন তাহলে?

    —আমি ”না” বলতে পারি?

    ষাট বছর বিবাহবার্ষিকীর রাতটি বড় মধুর হয়ে উঠেছিল। খাওয়ার হাঙ্গামা নেই। দু’জনে কত গল্প, কত গল্প। বিশ্বনাথ কি জানেন যে ওই শেষ অমন করে গল্প করা, কথা বলা?

    ননদ কোনদিন কোথাও যাননি। তীর্থে যাবেন শুনে সে কি উৎসাহ। ট্রাঙ্ক কেনা হলো, নতুন বিছানা, অম্বলের ওষুধ, কাশির কবিরাজী বড়ি, সাবান, তেল, গামছা, পায়ে কাপড়ের চটি, সে এক সংসার।

    শুধু বলেন, কত খরচ হচ্ছে।

    যাবার দিন সনকাকে জড়িয়ে কত কাঁদলেন। তোমার জন্যেই যাওয়াই হলো।

    শ্বশুর টিকিটের ওপর একশো টাকা দিলেন, বিশ্বনাথ দিলেন দু’শো।

    তখন ওতেই অনেক হ’ত।

    যাবেন, থাকবেন ভারত সেবাশ্রমে, ভোলাগিরি আশ্রমে। কোন অসুবিধে হবার কথা নয়। চিঠি লিখতেন পথ থেকে তা কি দেখছেন সে সব কথা খানিক। বেশি চিন্তা বাড়ি নিয়ে।

    গরু কে বাঁধছে, মনো রান্নার জোগাড় দিচ্ছে কি না, সনকার কত কষ্ট হচ্ছে, এই সব।

    তিন মাসের আগে ফেরার কথা নয়। দু’মাসও কাটেনি, খবর নিয়ে এল প্রভাস।

    —সর্বনাশ হয়ে গেছে গো বউদিদি, কাকাকে বা কি বলব, বিশুদাকে বা কি বলব।

    —কি হয়েছে অ প্রভাস।

    —দিদি নেই গো কাকা! কাশীতে যেয়ে ঠিক তিনদিনের জ্বর, মাথায় রক্ত উঠে গেল। মণিকর্ণিকায় তাঁকে রেখে এলাম গো কাকা।

    —অন্যেরা কোথায়?

    —আমরা সবাই ফিরে এসেছি।

    তারপর যেন দুঃস্বপ্ন সব। নুটুকে এনে প্রায়শ্চিত্ত করিয়ে মায়ের কাজ করানো, শ্বশুর সেই আঘাতেই বিছানা নিলেন। সনকার ওপর সমস্ত। বড় খোকা তখন ছোট, তবে এ—বাড়ি ও—বাড়ির পাঁচজন খুব সাহায্য করেন।

    নুটুর কপালও মায়েরই মতো। বিয়ের সাত বছর না পুরতে সেও থান পরে ছেলেমেয়ে নিয়ে মামাবাড়িতেই ফিরে এল। অলক্ষুণে, অমঙ্গুলে বউয়ের ওখানে জায়গা হলো না। ওর বরকে ধরেছিল ম্যালিগনান্ট ম্যালেরিয়াতে।

    শ্বশুর মারা যেতে তবে সনকা কলকাতায় আসেন। সরকারী কোয়ার্টার, সব সাজানো—গোছানো। রেলের কোয়ার্টার তখন ভালই হ’ত।

    নুটু গোবরডাঙ্গাতেই থেকে যায়। ওর ছেলে বড় খোকার চেয়ে সামান্য ছোট। বিশ্বনাথই তাকে রেলে ঢুকিয়ে দেন। যুদ্ধের সময় রেলের চাকরি। সে খুব গুছিয়ে নিয়েছে। গোববডাঙ্গার বাড়ি ও মামার কাছে কিনে নিতে চেয়েছিল। বিশ্বনাথ বলেন, কিনবি কেন? ও তোরা আছিস, তোরাই থাকবি। তবে বেচিস না।

    —মনে আছে। বড় খোকা বলেছিল, গোবরডাঙ্গার বাড়ি বেদখল হয়ে গেল?

    —বলুক গে।

    —আমাদের তো কোন অসুবিধে হয়নি।

    —কিচ্ছু না।

    —নটু, তোমার চেয়ে…?

    —বছর তিনেকের ছোট।

    —বাবা, কত বয়স হলো সব।

    নটুর তো নাতি কেন, পুতিও হয়েছে।

    —বেশ শক্ত আছি।

    —হ্যাঁ। গোবরডাঙ্গা তো এখন বড় জায়গা।

    —আমার পঁচাশি, তোমার পঁচাত্তর।

    —বেশ কেটে তো গেল।

    —ছেলে—মেয়েরা বোঝে না।

    —না, ওদের জীবনযাত্রা, ধরন—ধারণ…

    —যখনকার যা।

    —নাও ঘুমোও এখন।

    —দু’জনেই শক্ত আছি এখনো।

    —তা আছি।

    —পরের শতাব্দীটা দেখে যাব?

    —দেখলেই বা কি, না দেখলেই বা কি। সত্যি ষাটটা বছর কাটল?

    —ছেলে—মেয়েদের বিয়ে দেখ না। বড় খোকার আটচল্লিশ। মেজ খোকার বেয়াল্লিশ, ছোট খোকার চল্লিশ, বেবির ছত্রিশ, ডলির চৌত্রিশ।

    —বিয়ে সব করলে বটে ছেলেরা… কারো ছেলেই দাঁড়ায় নি।

    —মেয়েদের বিয়েটা দিতে পেরেছিলাম তবু।

    —ছোট খোকার কথা ভাবলে কষ্ট হয়।

    —কেন?

    —বিয়ে হলো, বিয়ে ভাঙ্গল, আবার বিয়ে…

    —এ সব তো এখন হচ্ছেই।

    —প্রিয়া আবার বিয়ে করেছে।

    —তোমার ছেলেও তো করেছে।

    —বিয়ে করে ছেলেটাকে শুদ্ধু বোম্বে নিয়ে গেল। আমরা আর দেখতে পাব না।

    —যা গেছে তা গেছে সনু। ভেবো না। আমাদের খুবই সৌভাগ্য যে, ওদের সঙ্গে থাকতে হয় না। ওদের কথা ভাবতে হয় না…

    —ওরাই বা কতটা ভাবে?

    —এই দেখ! যখনি আসে, দেখে আমরা দু’জনে দু’জনকে নিয়ে ভালো আছি। ভাববে কেন?

    কলকাতা গেলে যেন হাঁপিয়ে উঠি। বাবা, ওদের জীবনে যা ছুটোছুটি।

    —আর আমাদের এখানে?

    —সব অন্যরকম।

    বাড়ির বয়স তিরিশ। সাত কাঠার মতো বাগান। তাতে ইউক্যালিপটাস, বোগনাভিলিয়া, দেবদারু, সুপুরি, কিছু ফুল।

    আসল বাড়িটা আড়াই কাঠার ওপর। বাগানের শখ সনকারই বেশি। রবিবার, রবিবার ভরত আসে, বাগান সাফ করে।

    বিশ্বনাথের শখ ক্যাকটাসের। একটি বারান্দায় উনি নানা জাতের ক্যাকটাস লাগিয়েছেন।

    মীরার মা বলে, তোমরা যেমন! তরকারি লাগালে কেমন হ’ত?

    মীরা বলে, চোরে খেত।

    বিশ্বনাথ বলেন, আজ ঘুমোও, কেমন?

    —হ্যাঁ।

    —তোমাকে যা দেখাচ্ছিল আজ!

    —দূর, এই বয়সে…

    —আমি তো সেই পনেরো বছরের সনকাকেই দেখলাম। তাই দেখি।

    সে তোমার চোখ খারাপ হয়েছে।

    —ছানি কাটালাম, দিব্যি দেখছি এখন…

    সনকা ঘুমিয়ে পড়েন। বিশ্বনাথও। দু’জনের পক্ষেই দিনটি ছিল নিয়মছাড়া উত্তেজনার।

    এমনিতে তো রুটিন—বাঁধা জীবন। সনকার প্রেসারের ধাত, বিশ্বনাথের সর্দি লাগে সহজে।

    সময় ধরে মেপে যান, মেপে বেড়ান, বাগানে বসেন মোড়া পেতে, গল্প করেন, রেডিও শোনেন।

    দূরদর্শনে সিনেমা, সংবাদ, তাও দেখেন।

    অভ্যাসের বাইরে গেলেই অসুবিধে হয়।

    পরদিন সকালে ওপর থেকে ডাক্তার দম্পতি নেমে আসে।

    দু’জনেই ডাক্তার, নিঃসন্তান। চেম্বার বাজারের কাছে।

    তুহিন আর বিদিশা দু’জনেই বলে, কাল খুব মিস করলাম আমরা। কলকাতা থেকে ফিরতে এত দেরী হলো।

    —কালই কলকাতা গেলে?

    —বিদিশার মা না খাইয়ে ছাড়লেন না।

    বিদিশা হেসে ফেলল, এই। এঁদের সামনে মিথ্যেকথা? ন মাসিমা, কাল আমরা হঠাৎ একটা সিনেমা দেখে…বাইরে খেয়ে…

    বিশ্বনাথ বললেন, বেশ করেছ!

    —এখন চলি, কেমন?

    ওরা চলে যায়। ওদের দু’জনকে বিশ্বনাথ ও সনকার বেশ লাগে। ছাত্র—জীবনের প্রেম। কিন্তু তুহিন বোনদের বিয়ে দিল, বিদিশা ভাইকে পড়িয়ে মানুষ করল, কর্তব্য কাজ সেরে তবে বিয়ে করল।

    বয়স দু’জনেরই চল্লিশ মতো হবে। দেখলে মনে হয় না। ওরা থাকা একটা ভরসা।

    বিশ্বনাথ তো জানতেনই না যে, কত তাড়াতাড়ি ওদের দরকার পড়বে।

    বিবাহবার্ষিকীর পর সাতদিনও কাটে নি। বিশ্বনাথ ডেকেছিলেন, তুহিন! তুহিন!

    তখন রাত এগোরোটা হবে।

    —মেসোমশাই না?

    —চলো চলো।

    —কি হলো মেসোমশাই?

    —তোমার মাসিমা… তোমার মাসিমা…

    তুহিন দৌড়ে নেমেছিল, বিদিশাও।

    —সরে যান মেসোমশাই।

    —কি হয়েছে?

    —দেখতে দিন।

    ব্লাড প্রেসার দেখে তুহিন, সনকার চোখ দেখে টেনে বিদিশাকে কি বলে। বিদিশা দৌড়ে ওপরে যায়, নেমে এসে ইঞ্জেকশান দেয়।

    বিশ্বনাথ বলেন, সেদিন থেকেই শরীরটা…আজও রাতে কিছু খায়নি…শুয়েই ছিল… হঠাৎ মাথা গেল, বুক গেল বলতে বলতে ওই যে বমি করল, ব্যাস, সাড়া নেই।

    —বড়ো মতো অ্যাটাক হয়ে গেল।

    —করোনারি, তুহিন?

    —আপনি মাসিমার কাছে বসুন। বিদিশা! আরেকটা ইনঞ্জেকশান দাও। আমি ডক্টর অধিকারীকে ডেকে আনি…হাসপাতালে নিতে পারলে…

    তুহিন স্কুটারে বেরিয়ে যায়।

    বিশ্বনাথ পাশে বসেন। সনকার হাত ধরেন। ডক্টর অধিকারীকে নিয়েই আসে তুহিন। ওঁর নার্সিংহোম থেকে অক্সিজেন ওই আনে।

    ডক্টর অধিকারী, সম্ভবত শুনেই ওষুধ, ইঞ্জেকশান সবই এনেছিলেন।

    বিদিশা সনকার মুখটা মোছায়। অধিকারী নাড়ী দেখেন।

    বিশ্বনাথ নিস্পন্দ, পাথর। অক্সিজেন যখন এসে পৌঁছায়, তার আগেই সনকা চলে যান।

    ডক্টর অধিকারী উঠে দাঁড়ান।

    —বিশ্বনাথবাবু!

    বিশ্বনাথ হাত তোলেন। কথা বলতে নিষেধ করেন। বলেন

    —করোনারি?

    —হ্যাঁ বিশ্বনাথবাবু।

    —কলকাতা…হলে কি…

    —এমন হঠাৎ, এমন সিভিয়ার অ্যাটাক… কলকাতা না হলেও আমার নার্সিংহোমে তো সব ব্যবস্থাই আছে…অ্যাম্বুলেন্সও।

    —সনকা সময় দিল না।

    —না মেসোমশাই।

    বিদিশা ওঁর হাত ধরে। তুহিনকে বলে, তুমি মীরার মাকে ডাকো। ও তো ওদিকের ঘরে দোর বন্ধ করে অজ্ঞান হয়ে ঘুমোচ্ছে।

    বিশ্বনাথ সনকার হাত ধরে চেয়ে থাকেন, চেয়েই থাকেন।

    বিদিশা ডক্টর অধিকারীকে বলে, আমি জানি কোন খাতায় লেখা আছে। আপনার নার্সিংহোম থেকেই ওঁর ছেলেদের ফোন করি, কেমন?

    —নিশ্চয়।

    বিশ্বনাথের সামনেই সব ঘটে, কিন্তু কিছুই ওঁর মাথায় ঢোকে না।

    কোন এক সময়ে তুহিন ওঁকে তুলে নিয়ে যায়। ঘরে মীরা, দিলীপ, মীরার মা, পাশের বাড়ির নন্দীবাবু ও তার স্ত্রী (সনকা বলতেন নন্দী—ভৃঙ্গী), আরো কত লোক, কত।

    বিশ্বনাথ যেন বুঝতে পারেন না ওরা কেন এখানে, উনি কেন বাইরের ঘরে।

    কিছুক্ষণ বাদে বিদিশাই ওঁকে হাত ধরে নিয়ে যায়। এখন মশারি নেই। বিছানা খুব পরিষ্কার, পরনে ঢাকাই শাড়ি, চুল আঁচড়ানো, বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে রাখা।

    মীরাকে ধমকে—ধামকে সামলে রাখা গিয়েছিল। এখন ও ডুকরে কেঁদে ওঠে, ওর মা—ও। বিশ্বনাথ দেখেন ওঁর বালিশ চেয়ারে রাখা।

    বিদিশা ওদের বলে, এই, এ ঘরে নয়। এ ঘরে নয়।

    বিশ্বনাথ বলেন, বিদিশা! আমার বালিশটা দাও মা!

    বালিশ নিয়ে সনকার পাশে শুয়ে পড়েন উনি। সনকার মাথায় হাত রাখেন, বুলতে থাকেন।

    তুহিন আস্তে বলে, আপনার প্রেসারটা দেখব।

    —কোন দরকার নেই তুহিন।

    —দেখব মেসোমশাই।

    —দেখ।

    তারপর বলেন, প্রেসার ঠিক আছে তুহিন। না, আমাকে কামপোজ দিতে হবে না। ওঁর প্রেসারও তো তুমি পরশুই দেখেছ। তোমরাই তো বরাবর…

    হাত বুলিয়ে চলেন, বুলিয়ে চলেন। বলেন, আজই বলছিল, দত্তবাবুর কথা। স্ত্রী মারা গেলে এই বয়সে…স্বামী বড় অসহায়…আর দেখ!

    সকালে গাড়ির পর গাড়ি আসে। ছেলেরা, বউরা জামাই, মেয়ে, বৈবাহিকরা, ফুল।

    মেজ খোকা বলে কলকাতায় থাকলে…

    তুহিন ওর হাত ধরে নিয়ে যায় অন্য ঘরে। বেবি বলে, বাবা, ওঠো। আমি বসছি। ছোট ছেলে বলে, বাবাকে ও ঘরে শুইয়ে দে বেবি।

    সকলেই খুব সংযত থাকে, খুব। মেজ খোকা বলে, কোন চেঁচামেচি নয়। বাবা আছেন মনে রেখো।

    তারপর বলে, কি ব্যবস্থা হবে?

    তুহিন একটু হেসে বলে, কলকাতা তো নয় যে কাচের গাড়ি পাবেন।

    —ওঃ! সেই প্রিমিটিভ ব্যবস্থা।

    বেবি বলে, কলকাতায় নেয়া যায় না?

    বিশ্বনাথ মাথা নাড়েন, এখানেই, কলকাতায় নয়। এ—বাড়ি থেকেই।

    নন্দীবাবু বলেন, বড় ছেলে তো বিদেশে। কনিষ্ঠকেই মুখাগ্নি করতে হবে।

    —আমি! কি করতে হবে?

    —মুখাগ্নি…শ্রাদ্ধ…

    —যত প্রিমিটিভ রাইটস…

    ছোট বউ শিপ্রা বলে, বাবা—মা যা বিশ্বাস করেন সে রকমভাবেই করতে হবে।

    মেজ বউ মালিনী বলে, আমি একটু চায়ের ব্যবস্থা করি। ওঃ এখনো ভাবা যাচ্ছে না।

    বিশ্বনাথ বলেন, তোমাদের ছেলেমেয়েরা?

    বেবি তাড়াতাড়ি বলে, ওদের আমরা ইচ্ছে করেই আনিনি বাবা। মানে মৃত্যু তো ওরা দেখেনি…ওদের মনে একটা…

    —প্রচণ্ড আঘাত লাগবে?

    —হ্যাঁ বাবা।

    মীরার মা বলে, সে কি গো। দিদমা হ’ত, ঠাম্মা হ’ত, আর দেখতে পাবে না, তা তাদের আনলে না?

    মেজ খোকার শাশুড়ী গেরস্ত মহিলা। তিনি বলেন, বেয়ান যে চলে গেলেন, তা তো সত্যিকথা মা! তোমার বাবা সইতে পারছেন, তোমরা সইতে পারছ, ওদেরি কি এমন ঘা লাগত?

    বেবি ধারালো হেসে বলে, আপনার মেয়েও তো ছেলেকে রেখে এসেছে মাসিমা!

    —কি জানি!

    শিপ্রার মা খুবই সুসভ্য, নাইলন শোভিতা, খুব কেতাদুরস্ত। তিনি মিহি গলায় বলেন, বাচ্চাদের এ সবে একটা ট্রমা…

    এ সময়ে পাড়ার ছেলেরা মঞ্চে ঢুকে যায়। বেবির স্বামী দীপক ওদের বলে, ভাই। তোমরাই সব…

    —হ্যাঁ হ্যাঁ। আমাদের দিদমা, আমরা নিয়ে যাব।

    —আমিও যাব।

    দেখা যায় দীপক এসব কাজে বিশেষ অভিজ্ঞ। সেই ছেলেদের বলে জুতো চটি ছাড়ো।

    —খালি পায়ে যাব?

    —হাওয়াই কিনে নাও। কাঁধও দিতে হবে।

    জনৈক যুবক বলে, ওঁরা পারবেন না। ছুঁয়ে চললেই হবে। কষ্ট হবে বটে। তা মা তো রোজ মরছেন না।

    তুহিন বলে, আঃ, নীপু।

    —থামো তো তুহিনদা!

    শিপ্রা বলে, ওরা তো ঠিকই বলছে। মার জন্যে একদিন…

    দিলীপ! গাড়িতে ফুলগুলো আছে।

    ছোট খোকা বলে, ছোট ছেলেকেই করতে হবে?

    —আছ যখন, করবে নাই বা কেন?

    বিশ্বনাথ বলেন, তুহিন, দেরী না করাই ভালো।—ওঁর মনে হয় সনকার সামনে ওরা এ সব কি বলছে?

    শিপ্রা আস্তে বলে, কখন বেরোনো হবে?

    তুহিন বলে, দশটা বাজল, এবারে বোধ হয়…

    বিশ্বনাথ ছেলেদের, মেয়েকে যেন নতুন চোখে দেখতে পান।

    নীপু অভিজ্ঞ চোখে সনকাকে দেখে।

    তুহিনকে বলে, আর দেরি করলে…

    বেবি বলে, কি হবে?

    —রস কাটবে।

    —মানে?

    তুহিন ইংরেজিতে বোঝাতে চেষ্টা করে।

    নীপু বলে, দাদু! যদি যান, গাড়িতে যাবেন।

    মীরা বলে, দাদু! এই চা আর বিস্কুট খাও তো! কখন ফিরবে, শরীর এলে পড়বে।

    দীপক বেবিকে বলে, তোমরা বাড়ি ধুয়েমুছে রেখো। নিমপাতা, মটরডাল, লোহা, আগুনের ব্যবস্থা…কিছু মিষ্টি…

    দিলীপ বলে, আমাকে দিন।

    দীপক দিলীপকে সব বোঝায়। বস্তুত অনেক লোক, অনেক কথা। বিশ্বনাথ আবার এসে সনকার পাশে বসেন। মাথায় হাত রাখেন।

    সনকা দেখতে পাচ্ছেন না ওঁর ছেলেমেয়েরা এখন কত রকম কথা বলে নিজেদের আন্তরিকতা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। কারণ, পাড়ার লোকজনের কিছু মন্তব্য (যা বিদ্বেষপ্রসূত নয়, এমন পরিস্থিতিতে খুবই স্বাভাবিক)।

    —এই বয়সে কেউ বুড়া বাপ—মারে দূরে রাখে?

    —দুইটা ছেলে কলকাতায়, কারো জল পাইল না।

    —এই যা উৎসবের সময়ে এল নইলে কোথায় আর…

    —আজ অবশ্য এসেছে!

    —কারেও তো তেমুন কানতে দেখি না।

    —বিশ্ববাবু যেন পাথর!

    —এইরকমই হয়।

    এ সব কথাবার্তাই ছেলে—মেয়েদের কানে গেছে। সেজন্যে ওরাও বলতে থাকে।

    —কতবার নিয়ে যেতে চেয়েছি!

    —বাড়ি বলে মা’র সে কি টান ছিল…

    —কলকাতায় থাকলে অন্তত চিকিৎসাটা হ’ত।

    —তা বলতে পার না মেজদা। তুহিন আর বিদিশা এতটুকু ত্রুটি রাখতে দেয়নি।

    মেজ খোকার শ্বশুরও প্রবীণ, গৃহস্থ স্বভাবের ও অভিজ্ঞ। তিনি মাথা নাড়েন।

    —এ রকম অ্যাটাক, মাসিভ হেমারেজ…আমার বড় বউমা তো আমাদের সকলের সামনেই …পাঁচ—সাত মিনিটের মধ্যে…কিছু করতে পারলাম কি? দেখ! এ সময়ে কোন কথা শুনো না, বোল না। যে যা বলছেন খোলা মনে গ্রহণ করো। এখনকার যা কাজ…

    পাড়ার ছেলেরা একটু থতমত খাচ্ছিল। বাড়ির কোন লোক ভার নিয়ে নেতৃত্ব না দিলে তারাই কি সব করবে?

    দীপক সে নেতৃত্বটা দেয়। দিলীপকে বলে, তুমি তো জানো সবই। বাড়ির দিকটা দেখ।

    মীরার মা বলে, সে আমি আর মীরা সামলে নেব…ও দাদুর সঙ্গে যাক।

    দীপক বলে, ওঁকে আগেই পাঠিয়ে দেব।

    মালিনীর মাকে বলে, মাসিমা! আপনি এদিকটা একটু দেখুন।

    —এরা কি হবিষ্যি করবে?

    —ছেলেরা? কি জানি!

    বেবি এ সময়ে খুব গোঁড়া হয়ে যায়। ও বলে, করা তো উচিত। সবাই করে।

    দীপক ঈষৎ হাসে। ও বলে, সবাই সব করে না বেবি।

    তোমরা তো আবার অন্য জগতের লোক।

    শিপ্রা মৃদুস্বরে বলে, এখন ওসব কথা থাক দীপকদা। দেখা যাবে পরে।

    —নতুন ধুতি…উত্তরীয়…কিনে তো নিই।

    মালিনীর মা বলেন, করলে তো নিয়ম অনেক…

    শিপ্রা দরজায় হেলান দিয়ে সনকাকে দেখে। মহিলাকে ও খুব কম চিনত।

    মালিনীও ওর পাশে দাঁড়ায়।

    —কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে, তাই না?

    শিপ্রা বলে হ্যাঁ।…ওঁরা তো খুব সুখী ছিলেন।

    —খুব।

    —খুব সুখী হতে কি কি লাগে, কি কি লাগে না, তাই ভাবছিলাম। বোধহয়…

    —কি?

    —দু’জনে দু’জনকে ভালোবাসা, মন বুঝে চলা, সম্মান করা, এতেই বোধহয় সুখ, শান্তি।

    মালিনীর এ কথায় কোথায় আঘাত লাগে, কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, ও বলে, বোঝে না…সবাই বোঝে না…

    শিপ্রা ওর মাথায় হাত রাখে, ওঠো।

    —মা আর বাবা যাদের এরকম…

    —মালিনী!

    মীরার মা বলে, কাঁদতে দাও ছোট বৌদি। এমন শাশুড়ী, পুণ্যবান মানুষ কাকে বলে…

    ও কেঁদে ফেলে, কষ্ট পেল না…কষ্ট দিল না… রাতে আমি ঘরে জল রাখলাম…বলল, দরজা—জানালা বন্ধ করে দেখে নিও মীরার মা! কি কালঘুম গো! মা চলে গেল, জানতে পারি নি।

    সব ব্যবস্থা হয়ে যায়। বিশ্বনাথের সঙ্গে তুহিন আর বিদিশাও গাড়িতে ওঠে। বৈবাহিকরা যে যার গাড়িতে ওঠেন। ওঁরা শ্মশান ঘুরে চলে যাবেন।

    সনকাকে বের করা হয়। বিশ্বনাথ হঠাৎ বলেন মুখে রোদ লাগছে।

    বিদিশা বলে, হেলান দিন মেসোমশাই।

    —ছেলেরা হেঁটে যাচ্ছে?

    —হ্যাঁ হ্যাঁ। আপনি ভাববেন না।

    তখনো কাঁদেন না বিশ্বনাথ, তখনো ভাঙ্গেন না।

    সব হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে সনকার ঘরের দরজার বাজু ধরে একবার বিশ্বনাথ হা—হা করে কেঁদে ওঠেন।

    —আমাকে কার হাতে রেখে গেলে সনকা?

    দীপক, তুহিন ও দিলীপ ওঁকে শুইয়ে দেয় পাশের ঘরে। তুহিন বলে, এবার একটু দুধ খাবেন, একটা কামপোজ, আমি একটু দেখব তার আগে।

    —না তুহিন, না।

    —মেসোমশাই, এখন তো আপনার অনেক কাজ বাকি…

    —কি কাজ?

    —অনেক। দেখি একটু হাতটা।

    দীপক বলে, দেবেন কামপোজ?

    —হ্যাঁ। কাল থেকে…

    —আপনারাও তো…

    —হ্যাঁ, এখন স্নান করব, বিশ্রাম নেব।

    ওপরে গিয়ে বিদিশা বলে, ওঁকে কি রেখে যাবে?

    —সেটা আমাদের চিন্তার বিষয় নয়।

    —না। তা তো বটেই। জানো…

    —কি?

    —ওঁদের মতো সুখী দম্পতি দেখি নি।

    —না।

    —মাসিমা সেদিনের ধকলটা নিতে পারেন নি।

    —হয়তো।

    বিদিশা ঈষৎ হেসে বলে, মৃত্যুর একটা সামাজিক দিকও আছে। এবারে দেখো।

    এরপর কিছুই আর বিশ্বনাথের হাতে থাকে না। বেবি সাড়ম্বরে চতুর্থী করে কলকাতায়, স্বগৃহে।

    ওয়াশিংটন থেকে টেলিগ্রাম আসে, গ্রেট শক। রাইট ডিটেল’স।

    —দীপ, রঞ্জা, জোজো।

    বন থেকে টেলিগ্রাম আসে, মে হার সোল রেস্ট ইন পীস। —ডলি, নীলাভ, নীনা।

    মালিনী ও শিপ্রা আজ এ—কাল ও থেকে যায়। ছেলেরা আসে রোজই বিকেলে। ওরা নাকি সব রিচুয়াল খুব ফেইথফুলি করছে।

    আত্মীয়—স্বজনের নাম—ঠিকানা লেখা খাতা সনকারই ছিল। তাই দেখে দেখে চিঠি পাঠানো হয়। বিপিনানন্দ (স্থানীয় নেতা), দীপক চার্জে। অতএব নেতাজী হল ভাড়া নিয়ে সাড়ম্বরে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়। জ্ঞাতিভোজন, নিয়মভঙ্গ, কিছুতেই ত্রুটি থাকে না। দুই ছেলে ঢেলে খরচ করে এবং দীপক কীর্তন পার্টি, গীতা পাঠক সব এনে ফেলে।

    এ সবে বিশ্বনাথ বহিরাগত, বহিরাগত। তিনি শিপ্রাকে বলেন, তোমাদের মা ছিলেন ঘরের মানুষ। এত বড় পাবলিক অনুষ্ঠান…

    মালিনী হঠাৎ বলে করুক না বাবা। কোনদিন কিছু করেছে, না করতে হয়েছে?

    —কাগজে কাগজে ছবি…খবর…

    নুটুর ছেলে গোবিন্দ, সেও এসেছে। নুটু আসতে পারেনি, তার আথ্রাইটিস।

    গোবিন্দ বলে, দাদু! ওদের তো স্টেটাস আছে একটা। সে জন্যেই…

    বিশ্বনাথ বোঝেন, ওর কথাই ঠিক। ছেলেরা মা’র জীবিত কালে যথেষ্ট আসতে পারে নি, আসত না। এখন শহরবাসীকে দেখিয়েও দিচ্ছে।

    মীরার মা খুব অভিভূত।

    —এমন যজ্ঞি, আমাদের জনে জনে এমন দামী কাপড়… না, দেখলাম বটে। শুনলাম বড়দাদাও নাকি টাকা দিয়েছে তার কলকাতার ব্যাঙ্ক থেকে।

    বিশ্বনাথ মাথা নাড়েন। তিনি জানেন না। দেয়ালজোড়া সনকার ছবিটিকেও বড্ড বেশি বড়ো মনে হয়। ওঁর ছোট নাতি, ছোট খোকার ছেলে বুবাই ওঁকে বলে যায়, দাদু! তোমার এই ভিলেজের বাড়িটা আমার খুব ভালো লাগছে।

    —এটা ভিলেজ?

    —নিশ্চয়।

    —কেন?

    —কত গাছ…ঘাস আছে…মীরাদি আমাকে কাঠবেড়ালি দেখিয়েছে…ভিলেজই তো। এটা কি কলকাতা?

    বিশ্বনাথ মাথা নাড়েন। শিশু যা শোনে তাই বলে। শিখছেন উনি, শিখছেন ক্রমে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমুখ – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মুখ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }