Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এই শুভ্র এই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤷

    ০১. ঘুম ভাঙার পর ঘড়ি

    পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই ঘুম ভাঙার পর ঘড়ি দেখতে চায়। কখন ঘুম ভাঙল এটা জানা যেন খুবই জরুরি। যারা কাজের মানুষ তারা যেমন ঘড়ি দেখে অকাজের মানুষরাও দেখে।

    শুভ্র সম্ভবত এই দুই দলের কোনোটাতেই পড়ে না। তার ঘরে কোনো দেয়ালঘড়ি নেই। রাতে ঘুমুতে যাবার সময় হাতঘড়িটাও সে বালিশের নিচে রাখে। না। অথচ ঘুম ভাঙার পর তারই সবচে বেশি সময় জানতে ইচ্ছা করে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ঘড়ি না দেখে সময় আন্দাজ করার নানান কায়দাকানুন তার আছে। জানালা দিয়ে আসা রোদ যদি খাটের বা দিকের পায়াতে ঝলমল করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখনো আটটা বাজে নি। আটটার পর খাটের বা পায়ে কোনো রোদ থাকে না।

    সিলিং-এর মাঝামাঝি জায়গায় চারকোণা (ম্যাচ বাক্সের সাইজ) রোদ থাকে সকাল সাতটা পর্যন্ত। সিলিং-এ রোদ না থাকলে বুঝতে হবে সাতটার বেশি বাজে। চারকোণা এই রোদ কোন ফাঁক দিয়ে আসে শুভ্ৰ এখনো বের করতে পারে নি। এই ব্যবস্থা অবশ্যি গরমকালের। শীতের দিনে সকাল নটা পর্যন্ত ঘরে কোনো রোদই আসে না।

    শুভ্রর বয়স যখন দশ এগারো তখন সময় জানার তার খুব একটা ভালো ব্যবস্থা ছিল। ঠিক সাতটায় তার জানালার পাশে একটা কাক এসে বসত। ঘাড় বঁকিয়ে রাগী রাগী চোখে শুভ্রর দিকে তাকাত। কা কা করে দুবার ডেকেই ঝিম মেরে যেত।

    কাকটার সঙ্গে শুভ্রর এক সময় বন্ধুত্বের মতো হয়ে যায়। সে দিব্যি ঘরে চুকত। নাশতা খাবার সময় সে শুভ্রর হাত থেকে পাউরুটি খেত। শুভ্ৰ কাকটার একটা নামও দিয়েছিল— কিংকর।

    শুভ্রর বাবা মোতাহার হোসেন বলেছিলেন, কিংকর আবার কেমন নাম? তুই এর নাম দে Old faithful. কাটায় কাটায় সাতটার সময় সে যখন আসে তার এই নামই হওয়া উচিত।

    মোতাহার হোসেন সাহেব কাকটার সময়ানুবর্তিতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। কিংকর সত্যি সত্যি সকাল সাতটায় আসে কি-না তা দেখার জন্যে তিনি অনেকবার সাতটা বাজার আগে ঘড়ি হাতে ছেলের ঘরে বসেছেন। এবং প্রতিবারই মুগ্ধ গলায় বলেছেন— ভেরি ইন্টারেস্টিং, কাকটা তো ঘড়ি দেখেই আসে! কোনো একজন পক্ষী বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করতে

    হবে।

    শুভ্রর মা কাকের ব্যাপারটা একেবারেই পছন্দ করেন নি। অলুক্ষ্মণে পাখি রোজ ছেলের ঘরে এসে ঢুকবে কেন? কোনো কাক কখনোই মানুয্যের কাছে আসে না। এটা কাক না, অন্য কিছু।

    মোতাহার হোসেন বললেন, অন্য কিছু মানে কী?

    কাকের বেশ ধরে অন্য কিছু আসছে। খারাপ জিনিস। কাকটা আসা শুরু করার পর থেকে শুভ্ৰ কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে লক্ষ করছ না?

    মোতাহার হোসেন বললেন, আমি তো কিছু লক্ষ করছি না।

    কী আশ্চর্য! শুভ্রর চোখের নিচে কালি পড়েছে, তুমি দেখছ না? এই বদকাক যেন না আসে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

    শেষপর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা করা হয় নি। কাকটা প্ৰায় এক বৎসর রোজ এসে হঠাৎ একদিন আসা বন্ধ করল।

    এখন শুভ্রর বয়স চব্বিশ। প্রায় বার-তের বছর আগের ব্যাপার, অথচ শুভ্রর মনে হয়- তার বয়স বাড়ে নি। সময় আটকে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কিংকর এসে জানালায় বসে গম্ভীর গলায় দুবার কা কা করেই চুপ করে যাবে। এই কাকটা মাত্র দুবার ডাকে, তারপর আর ডাকে না।

     

    শুভ্রর ঘুম ভেঙেছে অনেক আগেই। সে বিছানায় শুয়ে আছে। সময় কত হয়েছে সে ধরতে পারছে না। আষাঢ় মাস। সূর্য মেঘে ঢাকা পড়ে আছে। খাটের নকশা করা পায়াতে আলো এসে পড়ে নি। সময়টা জানার জন্যে সে নিজের ভেতর এক ধরনের অস্থিরতা বোধ করছে। যেন তাকে আজ কোনো কাজে যেতে হবে। খুবই জরুরি কোনো কাজ। অথচ তার কোনো কােজ নেই। শুভ্র দিনের প্রথম চায়ের জন্যে অপেক্ষা শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সকিনা নামের এই বাড়ির কাজের মেয়েটা চা নিয়ে আসবে। শুভ্রর ঘুম ভাঙলেই এই মেয়ে কীভাবে যেন টের পায়। চায়ের কাপ হাতে জানালার বাইরে এসে ক্ষীণ গলায় বলে— ভাইজান, চা এনেছি। শুভ্ৰ যে জেগেছে মেয়েটা টের পায় কী করে? কোনো একদিন জিজ্ঞেস করতে হবে। সেই কোনো একদিন যে আজই হতে হবে তা-না।

    ভাইজান, চা এনেছি।

    শুভ্ৰ কিছু বলল না। বিছানায় উঠে বসল। সকিনা ঘরে ঢুকল। শুভ্রকে বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলতে হলো না। তার ঘরের দরজা সবসময় খোলা থাকে।

    চায়ের কাপ হাতে দিয়েই সকিনা চলে যায় না, কাপে চুমুক না দেয়া পর্যন্ত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। শুভ্রর ধারণা চায়ের কাপে চুমুক দিতে সে যদি পনের মিনিট দেরি করে তাহলে এই মেয়েটা পনের মিনিট মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। কোনো একদিন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সে দশ পনেরো মিনিট বসে থাকবে। দেখার জন্যে মেয়েটা সত্যি দাঁড়িয়ে থাকে কি-না। আজই যে করতে হবে তার কোনো মানে নেই। Some other day.

    শুভ্ৰ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বিছানা থেকে নামল। এখন তার কাজ কম্পিউটার চালু করে কয়েক লাইন লেখা। এই অভ্যাস আগে ছিল না, নতুন হয়েছে। মানুষ যে-কোনো অভ্যাসে দ্রুত অভ্যস্থ হয়ে যায়।

    শুভ্র কী-বোর্ডে অতি দ্রুত হাত চালাচ্ছে। স্ক্রিনে লেখা উঠছে, এই সঙ্গে একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে। সাউন্ডবক্স থেকে পিয়ানো বাজানোর মতো শব্দ হচ্ছে। এটা শুভ্রর নতুন কর্মকাণ্ড। সে একটা সফটওয়্যার তৈরি করেছে। প্রতিটি অক্ষরের জন্যে পিয়ানোর একটা রিডের শব্দ। ব্যাপারটা এরকম যেন শব্দ শুনে সে বলে দিতে পারে কী লেখা হচ্ছে।

    সে লিখছে—

    আজ আকাশ মেঘলা। কয়েক দিন থেকেই আকাশ মেঘলা যাচ্ছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। আজ হবে কি-না কে জানে। রাতে আমি একটা মজার স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে আমি একটা ক্লাসরুমে বক্তৃতা দিচ্ছি। আমার হাতে চক। পেছনে বিশাল ব্লাকবোর্ড। ব্লাকবোর্ডের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত জটিল একটা সমীকরণ লেখা। কী সমীকরণ তা এখন মনে পড়ছে। না। তবে আমার ধারণা টাইম ডিপেনডেন্ট শ্রোডিঞ্জার ইকোয়েশন। স্বপ্নটা মজার এই জন্যে যে ক্লাসে কোনো ছাত্র নেই। প্রতিটি চেয়ার খালি। অথচ আমি বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছি। স্বপ্নটা আরেকটা কারণে মজার, সেটা হচ্ছে স্বপ্ন ছিল রঙিন।

    বইপত্রে পড়েছি স্বপ্ন সাদাকালো। অথচ আমার বেশিরভাগ স্বপ্নই রঙিন। কাল রাতের স্বপ্ন যে রঙিন ছিল এতে আমার মনে কোনোরকম সন্দেহ নেই। আমার স্পষ্ট মনে আছে ক্লাসরুমের চেয়ারগুলি ছিল হলুদ রঙের। আমার গায়ে একটা সুয়েটার ছিল। সুয়েটারের রঙ লাল। আমার স্বপ্নগুলি রঙিন কেন এই বিষয়ে একজন স্বপ্নবিশারদের সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভালো হতো। স্বপ্ন বিষয়ে আমার খুব কৌতূহল আছে।

    জন্মান্ধরা স্বপ্ন দেখে কি দেখে না। এই নিয়ে আমি খুব ভাবতাম। তারপর নিজেই ভেবে ভেবে বের করলাম তাদের স্বপ্ন দেখার কোনো কারণ নেই। দৃশ্যমান জগতের কোনো স্মৃতি তাদের নেই। স্বপ্ন তারা কীভাবে দেখবে? অনেক পরে বইপত্র পড়ে জেনেছি। আমি যা ভেবেছি তাই ঠিক। জন্মান্ধরাও স্বপ্ন দেখে, তবে সেই স্বপ্ন শব্দের স্বপ্ন। তাদের স্বপ্লে কখনো ছবি থাকে না, থাকে শব্দ।

    এই পর্যন্ত লিখে শুভ্র থামল। যুক্তাক্ষরে পিয়ানোর যে শব্দ আসছে তা কানে লাগছে। সফটওয়্যারে কিছু পরিবর্তন করতে হবে। যুক্তাক্ষর যাই হোক একটা মাত্র নোট বাজবে। এই নোটটির যুক্তাক্ষর ছাড়া অন্য ব্যবহার থাকবে না।

    শুভ্র আবার লিখতে শুরু করল—

    স্বপ্ন ব্যাপারটা আমি খুব ভালোমতো জানতে চাই। কারণ আমি অতি দ্রুত অন্ধ হয়ে যাচ্ছি। তখন আমার জগৎ হবে শুধুই শব্দময়। দৃশ্যমান জগৎ তখন দেখা দেবে স্বপ্নে। আমি যেহেতু জন্মান্ধ না, আমি অবশ্যই স্বপ্ন দেখব। আমার এখন উচিত চমৎকার সব দৃশ্য দেখে দেখে সেইসব স্মৃতি মাথায় ঢুকিয়ে রাখা।

    আমার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। অপটিক নাৰ্ভ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো ডাক্তারই সেটা বন্ধ করতে পারছেন না।

    আমার বাবা অতি ক্ষমতাধর মানুষদের একজন। তিনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেন নি। চেষ্টায় কাজ হচ্ছে না। আমার শেষ চিকিৎসা করলেন একজন জার্মান ডাক্তার। তার নাম বার্নড ব্রোসার্ড। তিনি জার্মান ভাষায় যা বললেন তার বঙ্গানুবাদ হচ্ছে— যুবক, আমি দুঃখিত। আমরা অগ্রসরমান বিপদ রোধ করতে পারছি না। ঘটনা ঘটবেই।

    আমি বললাম, কখন ঘটবে? ভদ্ৰলোক বললেন, সেটা বলতে পারছি না। সেটা কালও ৩৫৩ পারে; আবার এক বছর, পাঁচ বছর, দশ বছরও লাগতে পারে।

    আমি বললাম, বাহ ইন্টারেস্টিং তো!

    ডাক্তার সাহেব বললেন, ইন্টারেস্টিং কোন অর্থে?

    আমি বললাম, প্রতিদিন ঘুম ভাঙার সময় আমি প্রবল এক উত্তেজনা অনুভব করব। চোখ মেলার পর কী হবে? আমি কি দেখতে পাব? না-কি দেখতে পাব না? আমার জন্যে প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থে ইন্টারেস্টিং।

    শুভ্র কম্পিউটার ছেড়ে চেয়ারে এসে বসল। ঘরের আলো আরো কমে এসেছে। মনে হয় আকাশ ভর্তি হয়ে গেছে। কালো মেঘে। আষাঢ় মাসের এই আকাশটা দেখে রাখা উচিত। স্বপ্ন দেখার সময় কাজে লাগবে। সমস্যা হচ্ছে ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছা করছে না। অন্য আরেকদিন দেখা যাবে। Some other day.

     

    জাহানারা অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। শুভ্র এরকম করছে কেন? কেমন কুজো হয়ে চেয়ারে বসে আছে। তার হাতে বই। বই পড়তে পড়তে অদ্ভুত ভঙ্গিতে মাথা দোলাচ্ছে। মাদ্রাসার তালেবুল এলেমরা কোরান শরীফ পড়ার সময় এইভাবে মাথা দোলায়। শুভ্ৰ নিশ্চয় কোরান শরীফ পড়ছে না।

    জাহানারার ইচ্ছা করছে ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন— এই তুই এরকম করছিস কেন? তিনি অনেক কষ্টে ইচ্ছাটা চাপা দিলেন। গতকাল রাতে শোবার সময় জাহানারা ঠিক করেছেন। আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা তিনি ছেলের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। মাতা-পুত্রের অভিমান জাতীয় কোনো ব্যাপার না। জাহানারা ছোট্ট একটা পরীক্ষা করছেন। তিনি দেখতে চান তার কথা বলা বন্ধ করে দেয়াটা শুভ্র ধরতে পারছে কি-না। ধরতে অবশ্যই পারবে, কিন্তু কত ঘণ্টা পরে পারবে সেটাই জাহানারার পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে মাত্র সাড়ে এগারো ঘণ্টা পার হয়েছে। এখনো শুভ্ৰ কিছু বুঝতে পারছে না।

    জাহানারা আরো কিছুক্ষণ শুভ্রর ঘরের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। শুভ্র তাকে দেখতে পাচ্ছে না, কারণ সে বসেছে জানালার দিকে পিঠ দিয়ে। বসার ভঙ্গি কুৎসিত। প্রাইমারি স্কুলের বুড়ো হেডমাস্টার সাহেবদের মতো চেয়ারে পা তুলে বসেছে। তার গায়ের পাঞ্জাবিটা কুচকানো। তার মানে রাতে যে পাঞ্জাবি পরা ছিল এখনো সেই বাসি পাঞ্জাবি গায়ে আছে। কোনো মানো হয়? আজও সে শেভ করতে ভুলে গেছে। তিনি স্পষ্ট দেখেছেন গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। জাহানারা চিন্তিত ভঙ্গিতে দক্ষিণের বারান্দার দিকে রওনা হলেন।

    দক্ষিণের চিক দিয়ে ঢাকা বড় বারান্দাটা শুভ্রর বাব। মোতাহার হোসেনের পত্রিকা পড়ার জায়গা। এখানে বড় একটা বেতের ইজিচেয়ার আছে। প্রতিদিন ভোরবেলায় ইজিচেয়ারের বা-দিকের হাতলে চারটি খবরের কাগজ রাখা হয়। ডান-দিকের হাতলের পাশের ছোট্ট টেবিলে থাকে মাঝারি আকৃতির একটা টিপট ভর্তি চা, এক প্যাকেট সিগারেট এবং লাইটার। খবরের কাগজ পড়তে পড়তে তিনি পর পর কয়েক কাপ চা খান। চায়ের সঙ্গে সিগারেট। সারাদিনে তিনি চা সিগারেট কোনোটাই খান না। শুধু রাতে ঘুমুতে যাবার আগে আগে ইজিচেয়ারে এসে বসেন। দিনের শেষ সিগারেট এবং শেষ চা খেয়ে ঘুমুতে যান। শুভ্ৰ এই জায়গাটার নাম দিয়েছে- ধোয়াঘর।

    মোতাহার হোসেন বেঁটেখাটো শুকনা ধরনের মানুষ। তার চেহারাটা রাগী রাগী হলেও কারো উপর কখনো রাগ করেছেন বলে শোনা যায় না। ব্যাংকে এই ভদ্রলোকের নগদ অর্থ আছে পাঁচশ এগারো কোটি টাকা। আমেরিকার চেস ম্যানহাটন ব্যাংকেও তার প্রচুর অর্থ জমা আছে। সঠিক হিসাব তার নিজের কাছেও নেই। অতি বিত্তবানদের নানান বদনেশা এবং বদখেয়াল থাকে। এই ভদ্রলোকের সেইসব কিছু নেই। তিনি তার সমস্ত শক্তি, মেধা এবং কল্পনা অর্থ উপার্জনেই ব্যয় করছেন। ইলেকশানের সময় তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ দুদলকেই এক কোটি টাকা চাঁদা দেন। দুই দলই তাকে নমিনেশন নেওয়ার জন্যে বুলবুলি করে। তিনি দুদলকেই বলেন- আরে ভাই, আমি শুটকি মাছের ব্যবসায়ী। আমি ইলেকশন কী করব! মোতাহার হোসেনের অনেক ধরনের ব্যবসা থাকলেও শুটকি মাছের কোনো ব্যবসা নেই। তারপরেও এই কথা কেন বলেন তিনিই জানেন।

    জাহানারা যখন স্বামীর পাশে এসে দাঁড়ালেন তখন মোতাহার হোসেনের হাতে তৃতীয় চায়ের কাপ। তিন নম্বর সিগারেট সবে ধরিয়েছেন। তিনি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, Hello young lady!

    জাহানারা বললেন, রাখ তোমার young lady! শুভ্র কী করছে জানো?

    মোতাহার হোসেন বললেন, ভয়ঙ্কর কিছু কি করেছে?

    মাথা দোলাতে দোলাতে বই পড়ছে।

    খুব বেশি কি দোলাচ্ছে?

    জাহানারা বললেন, তুমি ঠাট্টার গলায় কথা বলছি কেন? তোমার ঠাট্টার এই ভঙ্গি আমার একেবারেই পছন্দ না।

    মোতাহার হোসেন বললেন, অতি তুচ্ছ বিষয়ে তুমি যে টেনশান কর সেটা দেখলে ঠাট্টা ছাড়া অন্য কিছু আমার মাথায় আসে না।

    একটা জোয়ান ছেলে পেণ্ডুলামের মতো মাথা দোলাতে দোলাতে বই পড়ছে, এটা তুচ্ছ বিষয়?

    অবশ্যই তুচ্ছ বিষয়। সে যদি পা উপরে দিয়ে মাথা নিচে রেখে শীর্ষসনের ভঙ্গিতে বই পড়ত তাহলে সামান্য টেনশান করা যেত।

    সামান্য?

    হ্যাঁ সামান্য। শুভ্রর বয়সী ছেলেদের হঠাৎ হঠাৎ উদ্ভট কিছু করতে ইচ্ছা করে। সেটাই স্বাভাবিক।

    তুমি তো শুভ্রর বয়সী এক সময় ছিলে। তুমি উদ্ভট কিছু করেছ?

    মোতাহার হোসেন আগ্রহ নিয়ে বললেন, অবশ্যই করেছি। শুনতে চাও? সম্পূর্ণ ন্যাংটো হয়ে আমরা তিন বন্ধু বটগাছে বসে ছিলাম। বটগাছটা ছিল ডিসট্রিক্ট বোর্ড সড়কের পাশে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল…।

    জাহানারা বিরক্ত গলায় বললেন, প্লিজ, আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না। তুমি ছেলের ঘরে যাও, ঘটনা কী জেনে আস।

    টেনশানটা যেহেতু তোমার, তুমি যাও।

    আমি যাব না। তুমি যাবে। সব কিছু জেনে আসবে। কী বই পড়ছে, মাথা দোলাতে দোলাতে কেন পড়ছে। তার ঘটনা। কী?

    এই দুটা পয়েন্ট জানলেই হবে?

    আরেকটা পয়েন্ট আছে। শুভ্র দাড়ি শেভ করে নি। আমি পুরোপুরি দেখতে পারি নি, কিন্তু মনে হচ্ছে করে নি। কারণটা কী? জিজ্ঞেস করে জানবে।

    আমি কারণ বলে দিচ্ছি। শুভ্রর বয়েসী ছেলেরা চেহারা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসে। হুট করে দাড়ি রেখে ফেলা, গোঁফ রেখে ফেলা, মাথা কামিয়ে ন্যাড়া হওয়া কমন ব্যাপার।

    শুভ্ৰ কমন ছেলে না। অন্য দশজন ছেলে যা করবে তা সে করবে না। আমি নিশ্চিত ও কিছু মানসিক সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

    এত নিশ্চিত হচ্ছে কীভাবে?

    তার মধ্যে কোনো টেনশান দেখছ? কোনো টেনশন নেই। এই যে আমি তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি সে বুঝতেও পারছে না।

    মোতাহার হোসেন অবাক হয়ে বললেন, তুমি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছ?

    জাহানারা বললেন, হ্যাঁ।

    কারণটা কী?

    আমি দেখতে চাচ্ছি। শুভ্র ব্যাপারটা বুঝতে পারে কি-না। আমার অভাব অনুভব করে কি-না। তোমার সঙ্গে এত বকবক করতে পারব না। তোমাকে যা করতে বলছি দয়া করে করে।

    ঠিক আছে। আরেক কাপ চা খেয়ে নেই। চা-টা ভালো হয়েছে।

    পরে এসে চা খাও। চা পালিয়ে যাচ্ছে না।

    তোমার ছেলেও পালিয়ে যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে সে মাথা দোলাতেই থাকবে।

    প্লিজ, শুভ্রকে নিয়ে রসিকতা করবে না।

    মোতাহার হোসেন কাপে চা ঢাললেন। সিগারেট ধরালেন। জাহানারার উদ্বিগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। জাহানারা অন্যদিকে তাকিয়েছিলেন বলে এই হাসি দেখতে পেলেন না। জাহানারা বললেন, তুমি আবার সিগারেট ধরিয়েছ?

    সিগারেট-চা হাতে নিয়েই যাচ্ছি।

    অবশ্যই না। তুমি আমার ছেলের ঘরে সিগারেট নিয়ে ঢুকবে না। Passive smoking অনেক বেশি ক্ষতি করে। সিগারেট শেষ করে যাও।

    মোতাহার হোসেন সিগারেটে একটা টান দিয়ে চায়ের কাপে ফেলে দিলেন। কাপের পাশেই অ্যাসট্রে আছে। অ্যাসট্রেতে ফেললেন না। কাজটা করলেন স্ত্রীকে বিরক্ত করার জন্যে। স্ত্রীকে বিরক্ত করতে তার ভালো লাগে। কিন্তু আজ জাহানারা ব্যাপারটা লক্ষ্য করল না। তার মাথায় অন্য কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে।

     

    শুভ্রর ঘরে ঢুকে মোতাহার হোসেন বললেন, Hello young man!

    শুভ্র বাবার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, Hello old man and the Sea!

    মোতাহার হোসেন বললেন, তোর কাছে তিনটা বিষয় জানতে এসেছি। ঝটপট জবাব দে। নাম্বার ওয়ান— কী বই পড়ছিস?

    ম্যাজিকের একটা বই পড়ছি— Amazing Magic Book। অনেক ম্যাজিক শিখে ফেলেছি।

    খুবই ভালো। একদিন ম্যাজিক দেখব। পয়েন্ট নাম্বার টু- ম্যাজিকের বই মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়ছিস কেন?

    মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়ছি না-কি?

    Yes my son. তোর মার কাছে শুনলাম, তুই মোটামুটি পেণ্ডুলাম হয়ে গেছিস।

    ও আচ্ছা, বুঝতে পারছি। বইটা পড়ার সময় মাথার ভেতর একটা গান বাজছিল। মনে হয়। গানের তালে তালে মাথা নাড়ছিলাম।

    কী গান?

    কিং স্টোন ট্রায়োর গান–Where have all the flowers gone.

    পয়েন্ট নাম্বার থ্রি- দাড়ি শেভ করছিস না কেন?

    শুভ্ৰ হাসল। মোতাহার হোসেন বললেন, দাড়ি রাখবি ঠিক করেছিস? আমার ধারণা দাড়িতে তোকে ইন্টারেস্টিং লাগবে। আরেকটু বড় না হলে অবশ্য বোঝা যাবে না। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমি কিছুদিন দাড়ি রেখেছিলাম। তখন আমার নাম হয়ে গেল ছাগল মোতাহার। শুধু থুতনিতে কিছু, এই জন্যেই ছাগল মোতাহার নাম।

    শুভ্র বলল, তুমি দাঁড়িয়ে আছ কেন? বসো।

    মোতাহার হোসেন বসতে বসতে বললেন, দেখি কী ম্যাজিক শিখেছিস। একটা ম্যাজিক দেখা।

    আমি শুধু কৌশলগুলো শিখছি, দেখাতে পারব না। জিনিসপত্র নেই।

    জিনিসপত্র ছাড়া ম্যাজিক হয় না?

    শুভ্র বলল, একটা ম্যাজিক অবশ্য জিনিসপত্র ছাড়াই পারব। তোমাকে একটু বাইরে যেতে হবে।

    মোতাহার হোসেন বললেন, বাইরে যেতে পারব না। আমি বরং চোখ বন্ধ করে থাকি, তুই গুছিয়ে নে।

    তিনি চোখ বন্ধ করলেন। ছেলের সামনে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে তার ভালো লাগছে। শুভ্র তেমন কোনো ম্যাজিক দেখাতে পারবে বলে তার মনে হচ্ছে না। তারপরও তিনি ঠিক করলেন শুভ্ৰ যাই দেখাক তিনি বিস্ময়ে অভিভূত হবার ভান করবেন। যদিও বিস্মিত হবার ভান করাটা বেশ কঠিন হবে বলেই তার ধারণা। সবচে সহজ হলো রেগে যাবার ভান করা। ভুরু কুঁচকে এক দৃষ্টিতে শুধু তাকানো।

    বাবা, চোখ খোল।

    মোতাহার হোসেন চোখ মেললেন। শুভ্র বলল, দেখ এই কাগজটায় দশটা ফুলের নাম লিখেছি। এখান থেকে যে-কোনো একটা ফুলের নাম বলো।

    মোতাহার হোসেন বললেন, টগর।

    শুভ্র বলল, তুমি যে টগর ফুলের নাম বলবে এটা আমি জানতাম। বলতে পার এক ধরনের মাইন্ড রিডিং। টেলিপ্যাথি। তোমার সামনে যে মগটা আছে সেটা তুলে দেখ, মগের নিচে একটা কাগজে আমি টগর লিখে রেখেছি।

    মোতাহার হোসেন মগ তুলে দেখলেন সত্যি সত্যি লেখা টগর। তিনি ছেলের দিকে তাকালেন। শুভ্ৰ মিটি মিটি হাসছে। তিনি বিড় বিড় করে বললেন, ভেরি স্ট্রেঞ্জ! কীভাবে করলি?

    শুভ্র বলল, সেটা তোমাকে আমি বলব না।

    বলবি না কেন?

    শুভ্র বলল, এই ম্যাজিকের কৌশলটা এতই সহজ যে বললেই তোমার বিস্ময় পুরো নষ্ট হয়ে যাবে। তুমি যে একটু আগে বিস্মিত হচ্ছিলে সেটা ভেবেই বিরক্ত হবে। তোমাকে দেখে বুঝতে পারছি তুমি খুবই অবাক হয়েছ। এই অবাক ব্যাপারটা আমি নষ্ট করতে চাই না।

    তোর ফুলের ম্যাজিকটা কি ইচ্ছা করলে আমি শিখতে পারব?

    অবশ্যই পারবে। তবে আমি শেখাব না।

    শুভ্র বাবার দিকে তাকিয়ে হাসছে। তার চোখ ঝিলমিল করছে।

    মোতাহার হোসেনের ছেলেমানুষী করতে ইচ্ছা হচ্ছে। প্লিজ বাবা, আমাকে শিখিয়ে দে জাতীয় কথা বলতে মন চাইছে। ছেলের সঙ্গে কিছু ছেলেমানুষী নিশ্চয়ই করা যায়।

    শুভ্র বলল, আজ তুমি অফিসে যাবে না?

    মোতাহার হোসেন বললেন, এখনো বুঝতে পারছি না। মনে হয় যাব না।

    সারাদিন কী করবে?

    তাও ঠিক করি নি। কোনো কাজ না করাটা সবচে কঠিন কাজ। মনে হচ্ছে কঠিন কাজটাই করতে হবে।

    মোতাহার হোসেন উঠে দাঁড়ালেন। তার হাতে শুভ্রর লেখা টগর কাগজটার চিরকুট। এই চিরকুট তিনি কেন সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন নিজেও জানেন না। তিনি অফিসে যাবেন না- এই কথাটা শুভ্রকে কেন বললেন তাও বুঝতে পারছেন না। তার শরীর মোটামুটি সুস্থ আছে অথচ তিনি অফিসে যান নি এমন ঘটনা কখনো ঘটে নি।

    শুভ্র বলল, টগর নামটা যে রবীন্দ্রনাথের খুব অপছন্দের নাম এটা কি তুমি জানো?

    মোতাহার হোসেন বললেন, না।

    একদিন কী হয়েছে শোন। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে আছেন। তার সামনে দিয়ে কিছু সাঁওতাল মেয়ে যাচ্ছে, তাদের খোঁপায় টগর ফুল গোজা। রবীন্দ্রনাথ বললেন, বাহ কী সুন্দর ফুল! ফুলটার নাম কী?

    তারা বলল, টগর। তখন রবীন্দ্রনাথ বললেন, এত সুন্দর ফুলের এমন বাজে নাম? আমি ফুলটার নাম পাল্টে দিলাম। এখন থেকে ফুলের নাম মহাশ্বেতা। ঘটনাটা ইন্টারেস্টিং না? একজন মানুষের কত ক্ষমতা। ইচ্ছা হলো তো ফুলের নাম পাল্টে দিল। টগর হয়ে গেল মহাশ্বেতা।

    মোতাহার হোসেন বললেন, ঘটনাটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।

    বিশ্বাস হচ্ছে না কেন? রবীন্দ্রনাথ টগর ফুল চিনবেন না এটা হতে পারে না। তাছাড়া টগর নামটা মহাশ্বেতার চেয়েও সুন্দর।

    শুভ্র বলল, বাবা, আমি কিন্তু এই ঘটনা বইয়ে পড়েছি। এমন একজন মানুষের লেখা বই যিনি রবীন্দ্রনাথের খুব ঘনিষ্ঠ।

    ছাপার অক্ষরে লেখা সব কথাই যে সত্যি তোকে কে বলল? যে মানুষ মুখে মিথ্যা বলে, সে হাতেও মিথ্যা লিখতে পারে। পারে না? মুখে মিথ্যা বলার চেয়ে বইয়ে মিথ্যা লেখা বরং সহজ।

    শুভ্র কিছু বলল না। মোতাহার হোসেনের মনে হলো শুভ্ৰ সামান্য মন খারাপ করছে। মন খারাপ করার মতো কোনো কথা তিনি বলেন নি। তার যদি মন খারাপ হয়েও থাকে সে তা প্রকাশ করবে কেন? মানুষের মধ্যে শম্বুক প্রকৃতি আছে। শামুক যেমন কোনো ঝামেলা দেখলে খোলসের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়, মানুষও সে-রকম নিজের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করতে পারে। শুধু শুভ্ৰ পারে না। তার কোনো খোলস নেই। এই সমস্যা সে নিশ্চয়ই জন্মসূত্রে নিয়ে আসে নি। তারা ছেলেকে ঠিকমতো বড় করতে পারেন নি।

     

    মোতাহার হোসেন তার চা খাবার জায়গায় এসে বসলেন। তার হাতে টগর লেখা চিরকুট। চট করে তার মাথায় ম্যাজিকের রহস্যটা পরিষ্কার হয়ে গেল। শুভ্র দশটা ফুলের নাম লিখে এই ধরনের চিরকুট দশটা জায়গায় সাজিয়ে রেখেছে। যদি টগর না বলে গোলাপ বলতেন তাহলে হয়তো গোলাপ লেখা চিরকুটটা একটা বইয়ের নিচ থেকে বের হতো। মূল ব্যাপার হলো কোন ফুলের চিরকুট কোথায় লুকানো সেটা মনে রাখা।

    এই তুমি এতক্ষণ কী করলে?

    জাহানারা খুবই বিরক্ত হয়ে মোতাহার হোসেনের দিকে এগুলেন। ঝাঁঝালো গলায় বললেন, তিনটা প্রশ্ন করতে গিয়ে দিন পার করে দিলে? শুভ্র কী বলেছে? সে মাথা দুলিয়ে বই পড়ছিল কেন?

    মোতাহার হোসেন বললেন, তার মাথার ভেতর গান বাজছিল। গানের তালে তালে সে মাথা নাড়ছিল।

    জাহানারা আতঙ্কিত গলায় বললেন, মাথার ভেতর গান বাজছিল মানে কী? এটা আবার কোন ধরনের অসুখ?

    মোতাহার হোসেন বললেন, এটা কোনো অসুখ না। সবার মাথার ভেতরই গান বাজে। তোমারও বাজে।

    না, আমার মাথার ভেতর কোনো গান ফান বাজে না; আর বাজলেও আমি এইভাবে মাথা ঝাকাই না। শুভ্র কী বই পড়ছিল?

    ম্যাজিকের বই।

    এই বয়সে সে ম্যাজিকের বই পড়বে কেন? এইসব বই সিক্স সেভেনে পড়বে। এতক্ষণ তোমরা কী করলে?

    শুভ্র আমাকে একটা ম্যাজিক দেখাল। এই জন্যেই দেরি হলো। ফুলের একটা ম্যাজিক।

    কী ম্যাজিক?

    সে দশটা ফুলের একটা লিষ্ট করে আমাকে বলল, যে কোনো একটা ফুলের কথা মনে মনে ভাবতে। আমি টগর ফুলের কথা ভাবলাম। সে তার ট্যালিপ্যাথিক ক্ষমতা দিয়ে বলে দিল। ইন্টারেস্টিং ম্যাজিক।

    জাহানারার খুবই খারাপ লাগছে। ছেলে তার বাবাকে ম্যাজিক পর্যন্ত দেখিয়ে ফেলেছে। অথচ তার সঙ্গে যে কথা বন্ধ এটা পর্যন্ত তার মনে নেই। যেন এই বাড়িতে জাহানারা নামের কোনো মহিলা বাস করেন না।

    শেভ করা বন্ধ করেছে কেন- এটা জিজ্ঞেস করেছ?

    জিজ্ঞেস করেছি, উত্তর দেয় নি। তবে আমি যা ধারণা করেছি তাই।

    তোমার ধারণার কথা তো আমি শুনতে চাচ্ছি না। ওর ধারণাটা জানতে চাচ্ছি। তুমি আবার শুভ্রর কাছে যাও। ভালোমতো জেনে আস।

    মোতাহার হোসেন বললেন, তুমি তোমার ঘরে যাও। দুটা দশ মিলিগ্রামের রিলক্সিন ট্যাবলেট খেয়ে, দরজা-জানালা বন্ধ করে এসি ছেড়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে থাক। আমি নিশ্চিত তোমার প্রেসার বেড়েছে। নাক ঘামছে। গাল লাল। তোমার কথাবার্তাও জড়িয়ে যাচ্ছে।

    তুমি শুভ্রর কাছে যাবে না?

    না। তুচ্ছ জিনিস নিয়ে আমি মাতামাতি করি না।

    তুমি কী নিয়ে মাতামাতি কর?

    মোতাহার হোসেন স্ত্রীর দিকে তাকালেন। চোখ নামালেন না। তার এই দৃষ্টির সঙ্গে জাহানারা পরিচিত। তিনি শোবার ঘরের দিকে রওনা হলেন। এই সময় শুভ্র তার ঘর থেকে বের হয়ে এলো। তার মুখ হাসি হাসি। ভারী চশমার ভেতর দিয়েও তার সুন্দর চোখ দেখা যাচ্ছে। শুভ্র এগিয়ে আসছে তার দিকেই। জাহানারা থমকে দাঁড়ালেন। এতক্ষণে ছেলের মনে পড়েছে মার সঙ্গে কথা হচ্ছে না। তাও ভালো। জাহানারা ঠিক করে ফেললেন, ছেলের সঙ্গে প্রথম বাক্যটা কী বলবেন। ঠিন গলায় বলবেন, শুভ্র বাবা, বাথরুমে যাও। ক্লিন শেভ হয়ে বের হয়ে আস। সন্ন্যাসী সাজ আমার পছন্দ না।

    কী আশ্চর্য, শুভ্র তাকে কিছু না বলে তার বাবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    মোতাহার হোসেন ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, Hello young man!

    শুভ্র বলল, Hello old man and the sea!

    তুই আমার সামনে বসে। দশটা ফলের নাম বল। তোকে আমি মজার একটা ট্যালিপ্যাথিক খেলা দেখাব।

     

    জাহানারা নিজের ঘরে ঢুকলেন। দুটা রিল্যাক্সিনের জায়গায় চারটা রিল্যাক্সিন খেলেন। সকিনাকে ডেকে বললেন, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে পর্দা টেনে দিতে। সকিনা তার কাজের মেয়ে। সকিনার একমাত্র ডিউটি হচ্ছে তার সেবাযত্ন করা। সকিনার বয়স অল্প। চেহারা সুন্দর। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় বলেই বোধহয় ভাষা সুন্দর। অন্য বুয়াদের মতো আইছি খাইছি বলে না, এসেছি খেয়েছি বলে।

    সকিনা বলল, মা, আপনের শরীর খারাপ?

    তিনি বললে, শরীর ঠিক আছে।

    সকিনা বলল, মাথায় তেল দিয়ে দেব?

    দাও। তার আগে এসি ছাড়। ম্যাক্সিমাম কুলে দাও। হাতের কাছে একটা চাদর রাখ। ঘর ঠাণ্ডা হয়ে গেলে আমার গায়ে চাঁদর দেবে। আমি যদি ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে কেউ যেন আমার ঘুম না ভাঙায়। শুধু শুভ্র এসে ডাকলে ঘুম ভাঙাবে।

    ঠিক আছে মা।

    আমি দুপুরে খাব না। খাবারের সময় ডাকবে না। শুভ্ৰ যদি খেতে বসে আমাকে ডাকে তাহলে ঘুম থেকে তুলবে।

    ঠিক আছে মা।

    সকিনা চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। জাহানারা আরাম পাচ্ছেন। এই মেয়েটা চুলে বিলি করার ব্যাপারটা জানে। সে গুছিয়ে কথা বলতে ও জানে। আম্মা না বলে সে বলে মা। মা শুনতে ভালো লাগে।

    সকিনা!

    জি মা!

    শুভ্রর মতো সুন্দর ছেলে কি তুমি তোমার জীবনে দেখেছ?

    জি-না।

    আমাকে খুশি করার জন্যে কোনো কথা বলবে না। খুশি করানো কথা আমার পছন্দ না। সত্যিটা বলে।

    ভাইজানের মতো সুন্দর ছেলে আমি দেখি নি মা।

    জাহানারা ঘুম ঘুম চোখে বললেন, স্কুলে ছেলেরা শুভ্রকে ডাকত লালটু। স্কুলের ছেলেরা পাজি হয় তো, এই জন্যে পাজি পাজি নাম দেয়। কলেজে তাকে সবাই ডাকত প্রিন্স। ইউনিভার্সিটিতে তার কী নাম হয়েছে জানো?

    জানি মা। আপনি একবার বলেছেন- রাজকুমার।

    কী সুন্দর নাম তাই না? মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছা করে তাকে শুভ্ৰ না ডেকে রাজকুমার ডাকি।

    ডাকলেই পারেন।

    রাজকুমার অনেক বড় নাম। ডাকনাম হতে হয় তিন অক্ষরের মধ্যে।

    এইসব নিয়মকানুন তো মা আমি জানি না।

    জাহানারা পাশ ফিরলেন। ঘুমে তার চোখ জড়িয়ে আসছে। ঘুম এখনো আসে নি, এর মধ্যেই তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। স্বপ্নে শুভ্র এসে ঢুকেছে। তার ঘরে। তার মুখভর্তি দাড়ি গোঁফ। মাথার চুলও বাউলদের মতো লম্বা। চুল দাড়ির রঙ কালো না, খয়েরি। শুভ্র বলল, মা, আমাকে কেমন দেখাচ্ছে বলো তো। তিনি বললেন, তোকে হনুমানের মতো দেখাচ্ছে। শুভ্র বলল, হনুমানের কি দাড়ি আছে? তিনি বললেন, আছে কি-না তা জানি না। তোকে যে হনুমানের মতো দেখাচ্ছে এটা জানি। শুভ্র বলল, মা, আমি যদি তোমার পাশে শুয়ে থাকি তাহলে কি কোনো সমস্যা আছে? তিনি বললেন, অবশ্যই সমস্যা আছে। মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে আমি কোনো হনুমানকে আমার পাশে শুতে দেব না। তুই দাড়ি গোঁফ কামিয়ে আয়, তারপর বিবেচনা করব। শুভ্র নিষেধ সত্ত্বেও মার পাশে শুয়ে পড়ল। তিনি বললেন, বাবা, আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দে তো।

    শুভ্ৰ মার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার আঙুলগুলি বরফের মতো ঠাণ্ড। কী যে আরাম লাগছে। জাহানারা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন।

     

    জাহানারার ঘুম ভাঙল সন্ধ্যায়। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন তার বিছানার পাশে শুভ্র বসে আছে। তার চোখ ঘুম ঘুম। যেন সে এতক্ষণ সত্যি সত্যি তার পাশেই শুয়েছিল। শুভ্র বলল, মা, তোমার কি শরীরটা খারাপ?

    তিনি বললেন, না।

    দরজা-জানালা বন্ধ করে শুয়ে আছ, মাইগ্রেনের ব্যথা না তো?

    জাহানারা পাশ ফিরতে ফিরতে বললেন, মাইগ্রেনের ব্যথা হলে তুই কী করবি?

    শুভ্র বলল, মন্ত্র পড়ে ব্যথা কমাব। উইচক্রাফটের বই থেকে মন্ত্র শিখেছি। পড়ব মন্ত্রটা?

    জাহানারা মুগ্ধ চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। দিনের শেযবেলায় সব মানুষকেই সুন্দর লাগে, সেখানে শুভ্ৰকে দেবদূতের মতো লাগবে সেটাই তো স্বাভাবিক। শুধু সে যদি কালো রঙের একটা হাফ শার্ট পরত! কালো রঙে শুভ্রর গায়ের আসল রঙ ফুটে বের হতো।

    শুভ্র বলল, চুপ করে আছ কেন মা? মন্ত্র পড়ব?

    জাহানারা ছেলের কোলে হাত রাখতে রাখতে আদুরে গলায় বললেন, পড় দেখি তোর মন্ত্র।

    শুভ্র বলল, এই মন্ত্রের জন্যে আগরবাতি জ্বালাতে হবে।

    জাহানারা বললেন, আগরবাতি এখন কোথায় পাবি?

    শুভ্ৰ হাসিমুখে বলল, আগরবাতি আমি সঙ্গে করে এনেছি।

    জাহানারা ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেললেন। তার মন বলছে এই ছেলেকে তিনি পুঝতে পারেন না। এতক্ষণ ভাবছিলেন শুভ্ৰ মাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে মান খারাপ করেছে। মন্ত্র পড়ে মার মাথার ব্যথা সারাতে চাচ্ছে। এখন তার কাছে মনে হচ্ছে শুভ্রর কাছে পুরো ব্যাপারটাই খেলা। সে এক ধরনের মজা করবে বলে কাউকে দিয়ে আগরবাতি আনিয়েছে। আগরবাতি জ্বালাবার জন্যে পকেটে করে নিশ্চয়ই দিয়াশলাইও এনেছে।

    শুভ্ৰ উঠে দাঁড়াল। দুটা আগরবাতির স্টিক জ্বালাল। মায়ের কপালে হাত রেখে ভারী গম্ভীর গলায় বলল,

    Change this incense strong and fast
    To send out the magic I shall cast.
    Burn so quickly and burn so bright,
    This magic incense I will light.

    জাহানারার কেমন যেন লাগছে। সারা শরীরে শান্তি শান্তি ভাব। শুভ্র মন্ত্রটা সুন্দর করে পড়েছে তো।

    শুভ্র বলল, মা, মাথাব্যথা চলে গেছে না?

    জাহানারা বললেন, চলে গেছে।

    শুভ্র বলল, এরপর যদি কখনো মাথাব্যথা হয় দরজা-জানালা বন্ধ করবে না। আমাকে ডাকবে, মন্ত্র পড়ে মাথাব্যথা সারিয়ে দেব।

    জাহানারা বললেন, আচ্ছা। খবর দেব।

    শুভ্ৰ উঠে যাবার ভঙ্গি করতেই জাহানারা ছেলের হাত ধরে ফেললেন। আদুরে গলায় বললেন, সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত তুই এখানে বসে থাকিবি। নড়তে পারবি না।

    শুভ্র বলল, আচ্ছা।

    জাহানারা বললেন, তুই তো প্রায়ই তোর বাবার সঙ্গে গুটুর গুটুর করে গল্প করিস। আমার সঙ্গে কর।

    শুভ্ৰ হাসতে হাসতে বলল, কোন বিষয়ে গল্প শুনতে চাও মা?

    জাহানার বললেন, যে-কোনো। বিষয়ে। শুধু তোর বাবার সঙ্গে যে-সব গল্প করিস সে-সব না। ফিজিক্সের কচকচানি না।

    স্বপ্নের গল্প বলব?

    স্বপ্নের আবার কী গল্প?

    শুভ্র বলল, নিজেকে নিয়ে আমি যে-সব স্বপ্ন দেখি।

    জাহানারা আগ্রহ নিয়ে বললেন, নিজেকে নিয়ে তুই কী স্বপ্ন দেখিস?

    শুভ্র বলল, নিজেকে নিয়ে মানুষ একেক বয়সে একেক রকম স্বপ্ন দেখে— এখন আমি যে স্বপ্ন দেখি তা হলো সমুদ্রে একটা ছোট্ট দ্বীপ। গাছপালায় ঢাকা। একদিকে ঘন জঙ্গল। সমুদ্রে যে দিকে সূর্য ড়ুবে দ্বীপের সেই দিকটায় বেলাভূমি। রবিনসন ক্রুশোর মতো আমি সেই দ্বীপে একা থাকি।

    একা থাকিস?

    হ্যাঁ একা। আমার একটা ছোট্ট ঘর আছে। ঘর ভর্তি শুধু বই। যখন ইচ্ছা হয় বই পড়ি। যখন ইচ্ছা হয় সমুদ্রে পা ড়ুবিয়ে পাথরের উপর বসে থাকি। যখন ইচ্ছা হয় জঙ্গলে হাঁটতে যাই।

    জাহানারা বললেন, রান্নাবান্না কে করে?

    রান্নাবান্নার কথাটা ভাবি নি মা। স্বপ্নের মধ্যে রান্নাবান্না, বাথরুম জাতীয় ব্যাপার আনতে নেই। এইসব হচ্ছে রিয়েলিটি। ড্রিমের সঙ্গে রিয়েলিটি মেশাতে নেই।

    একা একা তোর সেই দ্বীপে কতক্ষণ ভালো লাগবে?

    শুভ্র বলল, বাস্তবে হয়তো ভালো লাগবে না, কিন্তু স্বপ্নে ভালো লাগবে।

    জাহানারা বললেন, তুই যেমন অদ্ভুত, তোর স্বপ্নগুলিও অদ্ভুত।

    শুভ্র বলল, প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তাদের স্বপ্নও আলাদা। আমার স্বপ্নের সঙ্গে তোমার স্বপ্ন কখনো মিলবে না। তোমার স্বপ্ন কী মা বলো তো।

    জাহানারা বললেন, আমার কোনো স্বপ্ন নেই।

    শুভ্র বলল, অবশ্যই তোমার স্বপ্ন আছে। মনে করে কোনো একদিন আমাকে বলবে।

    আমার স্বপ্ন জেনে তুই কী করবি?

    জাহানারা সঙ্গে সঙ্গেই তার নিজের স্বপ্ন কী ভাবার চেষ্টা করলেন। কোনো কিছুই মাথায় আসছে না। তাহলে কি তার কোনো স্বপ্ন নেই? তিনি একজন স্বপ্নহীন মানুষ?

     

    মোতাহার হোসেন রাতে একবাটি সুপ এবং একটা কলা খান। থাই ক্লিয়ার সুপ চায়নিজ রেস্টুরেন্ট থেকে আসে। তাদের সঙ্গে মাসকাবারি ব্যবস্থা আছে। ডিনার তিনি শেষ করেন। ঠিক সাড়ে নটায়। ডিনারের পর আধা ঘণ্টা ছাদে হাঁটেন। দশটায় এসে বসেন ধোয়াঘরে। চিনি দুধ বিহীন এক কাপ লিকার চা এবং দিনের শেষ সিগারেটটা খান। এই সময়টা তিনি একা থাকতে ভালোবাসেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই দেখা যায় জাহানারা এসে পাশে বসেন। সাংসারিক কথাবার্তা শুরু করেন। মোতাহার হোসেন খুবই বিরক্ত হন, কিন্তু কিছু বলেন না। এই ঘটনা যখন ঘটে তখন মোতাহার হোসেন ভাবেন— থাক, আজ বাদ থাক। আবার যখন এরকম ঘটনা ঘটবে তিনি বলবেন। আবারো ঘটে, কিন্তু বলা হয় না।

    মোতাহার হোসেন সিগারেট ধরিয়ে প্রথম টান দেবার সঙ্গে সঙ্গেই জাহানারা এসে সামনে বসলেন। গম্ভীর গলায় বললেন, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।

    কথাটা দিনে বললে কেমন হয়?

    কথাটা আমাকে এখনি বলতে হবে।

    মোতাহার হোসেন চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বললেন, বলো কী কথা?

    জাহানারা বললেন, তুমি আমাকে একটা দ্বীপ কিনে দেবে?

    মোতাহার হোসেন চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে বসতে বললেন, কী কিনে দেব?

    জাহানারা বললেন, দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরে ইনি মিনি অনেক দ্বীপ আছে। এরকম একটা কিনে দেবে।

    মোতাহার হোসেন বললেন, দ্বীপ দিয়ে কী করবে?

    জাহানারা বললেন, আমি কী করব সেটা আমার ব্যাপার। তোমাকে কিনে দিতে বলেছি তুমি দেবে।

    মোতাহার হোসেন বিরক্ত গলায় বললেন, তুমি এমনভাবে কথা বলছি যেন দ্বীপ কেনা শাড়ি-গয়না কেনার মতো ব্যাপার।

    তোমার কাছে তাই।

    মোতাহার হোসেন হাতের সিগারেট ফেলে দিলেন। দিনের শেষ সিগারেট আরাম করে টানতে হয়। তিনি ঠিক করলেন জাহানারা চলে যাবার প আরেকটা সিগারেট ধরাবেন।

    জাহানারা বললেন, হ্যাঁ না তুমি তো কিছুই বলছ না?

    মোতাহার হোসেন ক্লান্ত গলায় বললেন, আজ আমার শরীরটা ভালো না। অফিসে প্রেসার মাপিয়েছি। ডাক্তার বলেছে প্রেসার হাই। এখন আবার মাথা ধরেছে। দ্বীপ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পরে কথা বলি?

    দ্বীপ নিয়ে কথা বলতে না চাইলে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে বলি?

    আচ্ছা বলো।

    শুভ্ৰকে বিয়ে দিলে কেমন হয় বলো তো। সুন্দর একটা মেয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে ঘুরঘুর করবে। শুভ্রর বয়স চব্বিশ হয়েছে, বিয়ে তো এখন দেয়া যায়। যায় না?

    হ্যাঁ যায়।

    জাহানারা আগ্রহ নিয়ে বললেন, মনে কর ওরা দুজন ঘনিষ্ঠ হয়ে গল্প করছে, আমি হঠাৎ উপস্থিত হলাম। লজা পেয়ে ওরা দুজন দুদিকে সরে গেল। ইন্টারেস্টিং না?

    মোতাহার হোসেন বললেন, তুমি যখন বলছি তখন নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টিং। আমার কাছে অবশ্যি মনে হচ্ছে না।

    দ্বীপে ওদের দুজনকে রেখে আমরা জাহাজ নিয়ে চলে এলাম। দ্বীপে কোনো জনমানব নেই, শুধু ওরা দুজন।

    মোতাহার হোসেন বললেন, আবার দ্বীপ? তোমার অন্য প্রসঙ্গে কথা বলার কথা।

    জাহানারা উঠে দাঁড়ালেন। তার এখন স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগছে না। শুভ্ৰর ঘরে বাতি জ্বলছে। জাহানারার মনে হলো ছেলের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করলে কেমন হয়? বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড কীভাবে সৃষ্টি হলো। বিগ ব্যাঙ্গ, স্পেস-টাইম, ব্লাক হোল সংক্রান্ত হাবিজাবি। শুভ্র এমনভাবে গল্প করে যেন সে চোখের সামনে ব্লাক হোল দেখতে পাচ্ছে। সায়েন্সের হাবিজাবি গল্পের মাঝখানে বিয়ের প্রসঙ্গ তোলা যেতে পারে। কী ধরনের মেয়ে শুভ্রর পছন্দ সেটা জানা দরকার।

    শুভ্র কম্পিউটারের সামনে বসে আছে। জাহানারা যে ঘরে ঢুকেছেন, শুভ্র বুঝতে পারছে না। তার সমস্ত মনোযোগ কম্পিউটারের পর্দার দিকে। হালকা সবুজ রঙের আলো শুভ্রর মুখে পড়েছে। তাকে দেখতে অদ্ভুত লাগছে। জাহানারা ছেলের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ালেন।

    এই শুভ্ৰ!

    শুভ্ৰ মার দিকে তাকিয়ে হাসল। জাহানারা সবসময় লক্ষ করেছেন— শুভ্ৰকে ডাকলে সে প্রথম যে কাজটা করে তা হলো ঠোঁট টিপে হাসে। শুধু তার সঙ্গেই হাসে, না। সবার সঙ্গে হাসে— এটা তিনি জানেন না।

    কম্পিউটারটা বন্ধ করবি?

    শুভ্র সঙ্গে সঙ্গে অফ বাটন টিপে দিল। শুভ্রর মুখের উপর থেকে হালকা সবুজ আলোটা চলে গেছে। এখন জাহানারার মনে হলো কম্পিউটারটা অন থাকলেই ভালো হতো।

    শুভ্র বলল, মা বোস।

    জাহানারা বসতে বসতে বললেন, শুভ্ৰ, তুই বিয়ে করবি?

    শুভ্র সঙ্গে সঙ্গে বলল, হ্যাঁ করব।

    জাহানারার মনে হলো অন্য যে-কোনো ছেলে হলে এই প্রশ্নের উত্তরে লজ্জা পেত। জবাব দিত না। শুভ্ৰ অন্যদের মতো না।

    জাহানারা আদুরে গলায় বললেন, তোর কীরকম মেয়ে পছন্দ?

    শুভ্র বলল, লিসনার-টাইপ মেয়ে।

    জাহানারা বললেন, লিসনার-টাইপ মানে কী?

    শুভ্র বলল, কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা খুব মন দিয়ে কথা শুনে। এদের বলে লিসনার। ওদের সঙ্গে গল্প করে খুব আরাম।

    জাহানারা বললেন, আমি কি লিসনার?

    শুভ্র বলল, না, তুমি লিসনার না।

    আমার সঙ্গে গল্প করে আরাম নেই?

    না।

    তোর বাবা কি লিসনার?

    উঁহু। বাবা খুব মন দিয়ে কথা শুনেন। এরকম ভাবি করেন। কিন্তু আসলে শুনেন না। তিনি তখন অন্য কিছু ভাবেন।

    জাহানারা বললেন, এই বাড়িতে লিসনার-টাইপ কেউ আছে?

    শুভ্র বলল, সকিনা মেয়েটা লিসনার।

    জাহানারা হতভম্ব হয়ে বললেন, একটা কাজের মেয়ে হয়ে গেল লিসনার? তাকে তো কথা শুনতেই হবে। সে তো মুখের উপর হড়বড় করে কথা বলবে না।

    শুভ্ৰ হাসতে হাসতে বলল, তুমি রেগে যাচ্ছ কেন মা?

    জাহানারা বললেন, তোর উল্টাপাল্টা কথা শুনে রাগ লাগছে। আমাকে রাগানোর জন্যে তুই কথাগুলি ইচ্ছা করে বলিস কি-না কে জানে। আমি লক্ষ করেছি। তোর সবসময় একটা চেষ্টা থাকে। আমাকে রাগিয়ে দেবার।

    শুভ্ৰ হাসছে। জাহানারা জানেন ছেলের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে তার রাগ পড়ে যাবে। তিনি অন্যদিকে তাকালেন। ছেলে হাসুক তার মতো। হাসি দেখার দরকার নেই। জাহানারা উঠে দাঁড়ালেন। দরজার দিকে রওনা হলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন। ছেলে তাকে রাগ করে চলে যেতে দেবে না। ডেকে আবার চেয়ারে বসাবে। শুভ্র তা করল না। সে আবারো কম্পিউটার চালু করল। জাহানারা হঠাৎ মনে এত কষ্ট পেলেন যে চোখে পানি এসে গেল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকজন মায়াবতী – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article ভয়ংকর ভুতুড়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }