Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প284 Mins Read0
    ⤷

    উপক্রমণিকা

    দেশ-বিদেশের অনেক কৃতবিদ্য মহানুভব ব্যক্তি, সাধারণের নিকট যশস্বী হইবার মানসে—বিদ্যোৎসাহী, দেশহিতৈষী, অবলাবন্ধু, দয়াময়, আজন্ম-বিশুদ্ধচরিত, পূজ্যপাদ জ্যেষ্ঠাগ্রজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জীবনচরিত লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন শুনিয়া, স্বল্পমতি আমিও, ঐ সকল যশস্বী লেখকগণের ন্যায় জীবনচরিত লিখিতে প্রবৃত্ত হইলাম। এবিষয়ে আমি নিশ্চয়ই সাধারণের নিকট উপহাসাষ্প‌দ হইব। অথবা পাঠকবর্গ আমাকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের তৃতীয় সহোদর বলিয়া জানিতে পারিলে, অবজ্ঞা না করিতেও পারেন। আমি বাল্যকাল হইতেই অগ্রজ মহাশয়ের নিতান্ত অনুগত ছিলাম। তাঁহার জন্মভূমির কীর্ত্তিস্তম্ভম্বরূপ বীরসিংহবিদ্যালয়, বালিকাবিদ্যালয়, রাখালস্কুল, দাতব্য-চিকিৎসালয় ও বৃত্তিভোগী নিরুপায় দরিদ্রলোকদিগের মাসহরা বিলি, বিধবাবিবাহাদি কার্য্যসমূহ, এবং সন ১২৭২।৭৩ সালের বিষম দুর্ভিক্ষসময়ে প্রত্যহ সহস্ৰাধিক দরিদ্র লোকের প্রাণরক্ষাদি কার্য্য‌ আমার তত্ত্বাবধানে ছিল। আমি বাল্যকাল হইতে পিতামহী, মাতামহী ও জননীদেবীর প্রমুখাৎ তাঁহার বাল্যকালের যে সকল আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি বিশিষ্টরূপ অবগত হইয়াছি, অদ্যাপি সেই সকল কথা আমার স্মৃতিপথে জাজ্জ্বল্যমান রহিয়াছে। অগ্রজ মহাশয় কাশীধামে বৃদ্ধ পিতৃদেবের শেষাবস্থায় তাঁহার শুশ্রষ্যাদি কার্য্যে প্রায় ৬/৭ বৎসর আমায় নিযুক্ত রাখিয়াছিলেন। তথায় পিতৃদেবের প্রমুখাৎ এবং আমি যৎকালে সংস্কৃত-কলেজে অধ্যয়ন করি, তৎকালে কলেজের ব্যাকরণের অধ্যাপক পূজ্যপাদ গঙ্গাধর তর্কবাগীশ, সাহিত্যা ধ্যাপক জয়গোপাল তর্কালঙ্কার, অলঙ্কারের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশ, বেদান্তের অধ্যাপক শম্ভুচন্দ্র বাচস্পতি, দর্শনের অধ্যাপক নিমচাঁদ শিরোমণি ও জয়নারায়ণ তর্কপঞ্চানন মহাশয়গণের প্রমুখাৎ দাদার বাল্যকালের পাঠ্যাবস্থার যে সকল বৃত্তান্ত শ্রবণ করিয়াছি, তাহা আমার হৃদয়পটে অঙ্কিত রহিয়াছে। এজন্য আশা করি, পাঠকবর্গ আমার লিখিবার রীতি-নীতি বিষয়ে যে সকল দোষ অবলোকন করিবেন, তাহা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অনুগত ভৃত্য ও সহোদর বলিয়া, আমার সেই সকল দোষ ক্ষমা করিতে পারেন, এই সাহসে প্রোৎসাহিত হইয়া এই দুস্তর কার্য্যে প্রবৃত্ত হইলাম।

    হুগলি-জেলার অন্তঃপাতী তারকেশ্বরের পশ্চিম ও জাহানাবাদ মহকুমার পূর্ব্বে‌, প্রায় ৪ ক্রোশ অন্তরস্থিত বনমালিপুর গ্রামে ঁভুবনেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় বাস করিতেন। তিনি সঙ্গতিপন্ন ও সংস্কৃতশাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তাঁহার পাঁচ পুত্র, সকলেই সংস্কৃতভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। তৃতীয় পুত্রের নাম রামজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রামজয়, ঘাঁটাল মহকুমার অন্তঃপাতী বীরসিংহগ্রামবাসী বিখ্যাত পণ্ডিত উমাপতি তর্কসিদ্ধান্তের দুর্গানাম্নী‌ কনিষ্ঠা কন্যার পাণিগ্রহণ করেন। কালক্রমে রামজয়ের দুইটী পুত্র, ও চারিটী কন্যা জন্মিয়াছিল। পুত্রদ্বয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠের নাম ঠাকুরদাস, কনিষ্ঠের নাম কালিদাস। কন্যা চারিটির নাম মঙ্গলা, কমলা, গোবিন্দময়ী ও অন্নপূর্ণা। ভুবনেশ্বর, বাৰ্দ্ধক্যনিবন্ধন মানবলীলা সম্বরণ করিলে পর, তাঁহার পুত্রগণের বিষয়-বিভাগ-উপলক্ষে পরস্পর বিষম মনান্তর ঘটে। রামজয়, ধার্ম্মিক ও উদারস্বভাব ছিলেন। তিনি অকিঞ্চিৎকর বিষয়ের জন্য, প্রাণসম সোদরবর্গের সহিত বিরোধ করা অতি গর্হি‌ত কর্ম্ম বিবেচনা করিয়া, দুইটী পুত্র ও চারিটী কন্যা রাখিয়া, কাহাকেও কোন কথা প্রকাশ না করিয়া, সন্ন্যাসীর বেশে তীর্থ-পর্য্য‌টনে প্রস্থান করেন। কিছু দিন পরে, তাঁহার পত্নী দুর্গাদেবীর বনমালিপুরে অবস্থিতি করা নিতান্ত অসহ্য‌ হইয়া উঠিল; সুতরাং পুত্রদ্বয় ও কন্যা-চতুষ্টয়কে লইয়া, পিতৃভবন বীরসিংহায় আগমন করিলেন। তাঁহার পিতা উমাপতি তর্কসিদ্ধান্ত, সমাদরপূর্বক নিরাশ্রর দুহিতা ও তাঁহার সন্ততিগণকে স্বীয় সদনে রাখিলেন। তৎকালে তাঁহার জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র ঠাকুরদাসের বয়ঃক্রম দশ বৎসর ও কনিষ্ঠ কালিদাসের বয়ঃক্রম সাত বৎসর। তর্কসিদ্ধান্ত, উভয় দৌহিত্রের লেখাপড়া শিক্ষার নিমিত্ত বীরসিংহনিবাসী গ্রহাচার্য্য পণ্ডিত কেনারাম বাচস্পতিকে নিযুক্ত করিলেন। আচার্য্য মহাশয় তৎকালে এপ্রদেশের মধ্যে জ্যোতিষ-শাস্ত্রে অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। তিনি স্বল্প দিবসের মধ্যে ভ্রাতৃদ্বয়কে বাঙ্গালী ভাষা, শুভঙ্করী অঙ্ক ও জমিদারী সেরেস্তার কাগজ শিক্ষা দিয়া, পরে সংক্ষিপ্তসার ব্যাকরণ অধ্যয়ন করাইতে প্রবৃত্ত হইলেন। উমাপতি তর্কসিদ্ধান্ত নিতান্ত অথর্ব্ব হইলে, সাংসারিক কার্য্যের ভার পুত্র রামসুন্দর ভট্টাচার্য্য‌ের হস্তে অর্পণ করেন। উক্ত রামসুন্দর ভট্টাচার্য্যের পত্নীর সহিত দুৰ্গাদেবীর মনান্তর ও বাচসা হইতে লাগিল। রামসুন্দর অত্যন্ত স্ত্রৈণ ছিলেন। একদিবস তিনি ও তাঁহার স্ত্রী, দুৰ্গাদেবীকে বলেন যে, তোমার দুইটী পুত্র ও চারিটী কন্যাকে অতঃপর আমরা প্রতিপালন করিতে পারিব না, তুমি পথ দেখ। স্পষ্টাক্ষরে ইহা বলায়, দুৰ্গাদেবী নিতান্ত নিরুপায় হইয়া, কিছুই স্থির করিতে না পারিয়া, পরিশেষে বৃদ্ধ পিতা তর্কসিদ্ধান্তকে সবিশেষ অবগত করিলেন। তিনি বুলিলেন, আমি সকলই বিশেষরূপ অবগত আছি। অতঃপর উহাদের সহিত তোমার একত্র সদ্ভাবে বাস করা চলিবে না। পৃথক্‌ স্থানে বাস করা নিতান্ত আবশ্যক। দুৰ্গাদেবী তাহাতে সম্মত হইলেন। পরদিন তর্কসিদ্ধান্ত গ্রামস্থ ভদ্রলোকদিগকে আহ্বা‌ন করিয়া বলিলেন যে, রামসুন্দরের ও বধূমাতার সহিত দুর্গার এক গৃহে বাস করা দুষ্কর, অতএব আমি স্বতন্ত্র স্থানে ইহার গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া দিব স্থির করিয়াছি। তাহাতে গ্রামস্থ লোকগণও সম্মত হইলেন। অনন্তর বার্ষিক ৯।৴০ টাকা জমায় কিঞ্চিৎ ভূমি লইয়া, তাহাতে গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া দেন; পরে জমিদারকে বলিয়া ও অনুরোধ করিয়া, নাখরাজ করিয়া দিবার স্থির করেন। ইতিমধ্যে তর্কসিদ্ধান্ত ইহজগৎ পরিত্যাগ করিয়া লোকান্তরিত হন। সুতরাং ঐ নূতন বাস্তু আর নাখরাজ হইল না। ঐ বাস্তুর বার্ষিক কর জমিদারকে দিতে হইল। দুৰ্গাদেবীর সংসার-নির্ব্বা‌হের উপায়ান্তর ছিল না। তৎকালে বিলাতি সুতার আমদানি হয় নাই; এ প্রদেশের নিরুপায় অনেক স্ত্রীলোকই সুতা প্রস্তুত করিয়া, তাহা বিক্রয় করিয়া কষ্ট্যেস্থষ্টে সংসারযাত্রা নির্ব্বা‌হ করিত। আত্মীয়বর্গের উপদেশানুসারে দুর্গাদেবীও অগত্যা একটি চরকা ক্রয় করিয়া সুতা কাটতেন; কখন কখন আস্‌নাসূতাও কাটিতেন। সুতা বিক্রয় করিয়া যাহা কিছু উপাৰ্জ্জ‌ন হইত, তাহাতেই কষ্টে সংসারযাত্রা নির্ব্বা‌হ করিতেন। এক্ষণে ঠাকুরদাসের বয়ঃক্রম চতুর্দ্দ‌শ বৎসর অতীতপ্রায়; পড়াশুনা অধিক দিন করিলে সংসার চলা দুষ্কর। আত্মীয়বর্গ এই উপদেশ দেন যে, সংস্কৃত অধ্যয়ন বন্ধ করিয়া, যাহাতে শীঘ্র উপাৰ্জন করিতে সক্ষম হন, এরূপ বিদ্যাশিক্ষা করা অত্যাবশ্যক।

    এদিকে রামজয়, তীর্থ স্থানে থাকিয়া স্বপ্ন দেখেন যে, তুমি পরিবারবর্গকে কষ্ট দিয়া তীর্থক্ষেত্রে ভ্রমণ করিতেছ, ইহাতে তোমার অধর্ম্ম হইতেছে। একারণ পাঁচ বৎসরের পর দেশে আগমনপূর্ব্ব‌ক বনমালিপুরে আসিয়া দেখেন যে, সহোদরেরা পৃথক হইয়াছেন, এবং শুনিলেন যে, তাহার পত্নী বীরসিংহায় পিত্রালয়ে অবস্থিতি করিতেছেন; সুতরাং রামজয়, পরিবারবর্গকে আনয়ন করিবার জন্য বীরসিংহায় গমন করিলেন। গৈরিক বসন পরিধান করিয়া, হিন্দুস্থানী সন্ন্যাসীর বেশে শ্বশুরবাটীতে সমুপস্থিত হইলেন। প্রথমতঃ কাহাকেও আত্মপরিচয় না দিয়া, গ্রামের মধ্যে ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতে লাগিলেন। তাঁহার কনিষ্ঠা কন্যা অন্নপূর্ণা দেবী, পিতাকে চিনিতে পারিয়া, বাবা বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিয়া উঠিলেন। তখন রামজয় আত্মপরিচয় দেন। কয়েক দিবস বীরসিংহায় অবস্থিতি করিয়া, পরিবারগণকে বনমালিপুরে লইয়া যাইবার উদেযাগ করিলেন। কিন্তু তাঁহার পত্নী বনমালিপুরে যাইতে সম্মত হইলেন না। যেহেতু তাহার ভ্রাতৃবর্গ অসদ্ব্যবহার করিয়াছেন; এতাবৎ কালের মধ্যে তাঁহাদের কোন সংবাদ লয়েন নাই; সুতরাং রামজয় অগত্যা বীরসিংহায় পরিবারগণকে রাখিতে বাধ্য হইলেন।

    রামজয় অতি বুদ্ধিমান, বলশালী ও সাহসী পুরুষ ছিলেন। লৌহযষ্টি হস্তে লইয়া সর্বত্র ভ্রমণ করিতেন, কাহাকেও ভয় করিতেন না। এক সময় বীরসিংহ হইতে মেদিনীপুর যাইতেছেন, পথিমধ্যে এক ভল্লু‌ক দেখিতে পাইলেন। ভল্লুক দেখিয়া ভয় না পাইয়া, এক বৃক্ষের অন্তরালে দণ্ডায়মান হইলে, ভল্লু‌ক তাঁহাকে আক্রমণ করিবার জন্য বৃক্ষের চতুর্দিকে তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ঘূর্ণ্যমান হওয়ায়, তিনিও অগ্রে অগ্রে ঘুরিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ভল্লুক দুই হস্ত প্রসারণপূর্ব্ব‌ক বৃক্ষটী আঁকড়াইয়া, তাহাকে ধরিবার চেষ্টা করিল; ঐ সময় রামজয়, বৃক্ষের অপর পার্শ্ব হইতে ভালুকের দুই হস্ত ধরিয়া বৃক্ষে ঘর্ষণ করিতে আরম্ভ করিলেন। তাহাতে ভল্লু‌ক মৃতপ্রায় হইলে ছাড়িয়া দিলেন। ভল্লু‌ককে মৃতকল্প ভূপতিত দেখিয়া, প্রস্থান করিতে উদ্যত হইলেন এমন সময় ভল্লু‌ক উঠিয়া দ্রুতবেগে দৌড়িয়া গিয়া, রামজয়ের পৃষ্ঠে নখাঘাত করিল; তখন পৃষ্ঠে শোণিতধারা বিনিৰ্গত দেখিয়া, ক্রোধাভরে লৌহদণ্ডপ্রহারে ভল্লু‌কের প্রাণবিনাশ করিলেন। ভল্লুকের পাঁচটী নখাঘাতের ক্ষতে প্রায় মাসাধিক কষ্ট পাইয়া পরে আরোগ্যলাভ করেন।

    বীরসিংহায় বাস্তু-বাটীর ভূস্বামী, রামজয়কে নিষ্কর ব্রহ্মোত্তর করিয়া দিবেন মানস করিয়াছিলেন; কিন্তু রামজয় দান গ্রহণ করিতে সম্মত হন নাই। গ্রামের অনেকেই নাখরাজ করিবার জন্য তাঁহাকে অনেক উপদেশ দিয়াছিলেন, কিন্তু কাহারও অনুরোধ রক্ষা করেন নাই। তদবধি বাস্তুভূমির ৯|৴০ টাকা কর আদায় হইয়া আসিতেছে। রামজয়ের মনোগত ভাব এই যে, নিষ্করে বাস করিলে, ভুস্বামী পুণ্যের অংশ গ্রহণ করিতে পরিবেন এবং তিনি আজন্মকাল মনে মনে অহঙ্কার করিতে পরিবেন যে, আমি উহাকে চিরকালের জন্য বাসস্থান দান করিয়াছি; একারণ নিষ্করে বাস করিতে সম্মত হইলেন না।

    ঠাকুরদাসের বাঙ্গালা, শ্যাখতি ও জমিদারী কাগজ শিক্ষা হইয়াছে দেখিয়া, রামজয়, ঠাকুরদাসকে সমভিব্যাহাৱে লইয়া কলিকাতা যাত্রা করিলেন। তথায় বাগবাজারস্থ সঙ্গতিপন্ন জ্ঞাতি সভারাম বাচস্পতির ভবনে উপস্থিত হইলে, বাচস্পতি মহাশয় ঠাকুরদাসকে ব্যাকরণ শিক্ষা দিবার ব্যবস্থা করিলেন; কিন্তু রামজয় আশু অর্থকরী ইংরাজী-বিদ্যা শিক্ষার জন্য তাঁহাকে অনুরোধ করিলেন; যেহেতু তিনি পৈতৃক সম্পত্তি ভ্রাতৃবৰ্গকে প্রদান করিয়াছিলেন, তাঁহার কিছুমাত্র সম্পত্তি ছিল না। একারণ, যাহাতে পুত্রটী শীঘ্র উপায়ক্ষম হইতে পারে, এরূপ বিদ্যাশিক্ষার উপদেশ প্রদান করিলেন। তৎকালে কলিকাতায় কোনও ইংরাজী বিদ্যালয় ছিল না। বাচস্পতি মহাশয়, ইংরাজী শিক্ষা দিবার জন্য একজন দালালকে অনুরোধ করিলেন; দালাল, বাচস্পতি মহাশয়ের অনুরোধের বশবর্ত্তী হইয়া স্বয়ং শিক্ষা না দিয়া, ইংরাজীভাষায় সুশিক্ষিত জাহাজের সীপ্‌সরকার, জনৈক কায়স্থকে শিক্ষা দিবার জন্য অনুরোধ করেন। সীপ্‌সরকার, প্রাতে ও সন্ধ্যার পর রীতিমত ইংরাজী-ভাষা শিক্ষা দিতে প্রবৃত্ত হইলেন। অল্পদিনের মধ্যেই ঠাকুরদাস এক প্রকার কাজের লোক হইলেন; তাহা দেখিয়া রামজয়, ঠাকুরদাসকে বলিলেন যে, ঈশ্বর তোমার ভাল করিবেন, আমি ঈশ্বরের আরাধনাভিলাষে পুনর্ব্বার তীর্থপর্য্যটনে যাত্রা করিতেছি। ইহাতে ঠাকুরদাস অত্যন্ত দুঃখিত হইলেন; তিনি এ সংবাদ বাটীতে লিখিলেন। কিছু দিন পরে শিক্ষক, ঠাকুরদাসকে অতি শীর্ণকায় দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি দিন দিন শীর্ণ হইতেছ কেন?” তাহাতে তিনি উত্তর করিলেন, “মহাশয়! দিবা দুই প্রহরের সময় ভোজন করি, রাত্রিতে ভোজন হয় না।” ইহার কারণ জিজ্ঞাসায় ঠাকুরদাস বলিলেন, “সন্ধ্যার অব্যবহিত পরেই বাচস্পতি মহাশয়ের ভবনে লোকের ভোজনের ব্যবস্থা শেষ হইয়া যায়। আমি রাত্রি দশটার পর আপনার বাটী হইতে তথায় যাই, সুতরাং আমার ভোজন হয় না। একারণ অনাহারে ক্রমশঃ দুর্বল হইতেছি।” তাহাতে শিক্ষক বলিলেন, “তুমি যদি পাক করিতে পার, তাহা হইলে আমার বাসায় অবস্থিতি কর।” তাহাতে ঠাকুরদাস সম্মত হইয়া, দয়ালু শিক্ষকের বাসায় অবস্থিতি করিয়া ইংরাজী শিখিতে লাগিলেন। মধ্যে মধ্যে এক এক দিন শিক্ষকের কার্য্যবাহুল্যপ্রযুক্ত বাসায় আসিতে অধিক রাত্রি হইত। ঠাকুরদাস ক্ষুধায় কাতর হইতেন। হাতে পয়সা একটীও নাই যে, ক্ষুধা পাইলে এক পয়সার জলপান খান; তাঁহার পুজির মধ্যে এক পিতলের থাল ও এক পিতলের জলপাত্র ছিল। মনে মনে স্থির করিলেন, ইহা বিক্রয় করিলে কিছু পয়সা হইবে; সময়ে সময়ে ক্ষুধা পাইলে, এক এক পয়সার জলপান ক্রয় করিয়া খাইলেও দিনপাত হইবে। এই স্থির করিয়া যোড়া-সাঁকোর নূতন বাজারে এক কাঁসারীর দোকানে ঐ থালা ও জলপাত্র বিক্রয় করিতে যান। কাঁসারী, থালা ও ঘটি ওজন করিয়া ১।০ মূল্য স্থির করেন; কিন্তু অপরিচিত ব্যক্তির নিকট পুরাতন দ্রব্য ক্রয় করিতে ভয় করিয়া বলিল যে, ইতিপূর্ব্বে‌ এক বৃক্তির নিকট পুরাতন দ্রব্য ক্রয় করিয়া, আমরা বিষম বিপদে পড়িয়াছিলাম; তদবধি সকল দোকানদার প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে, অপরিচিত লোকের নিকট কখনও পুরাতন দ্রব্য ক্রয় করিব না। ইহা শুনিয়া ঠাকুরদাস হতাশ হইয়া থালা ও ঘটি লইয়া বাসায় ফিরিয়া আসিলেন। মধ্যে মধ্যে এক এক দিন শিক্ষক সীপ্‌সরকারের বাটী আসিতে অধিক রাত্রি হইত, ঠাকুরদাস ক্ষুধায় কাতর হইতেন। একদিন শিক্ষক প্রাতঃকাল হইতে কার্য্যের বাহুল্য‌প্রযুক্ত বাসায় সমাগত না হওয়ায়, ঠাকুরদাস ক্ষুধায় ব্যাকুল হইয়া, সন্নিহিত এক বৃদ্ধার মুড়ীর দোকানের সম্মুখে কিয়ৎক্ষণ দণ্ডায়মান থাকিয়া বলিলেন, “একটুকু জল দিতে পার, আমার তৃষ্ণা পাইয়াছে।” তাহাতে বৃদ্ধ পিতলের রেকবে মুড়কী দিয়া পানীয় জল দিল; উহা খাইতে খাইতে ঠাকুরদাসের চক্ষে জল আসিল, তাহাতে বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করিল, “বাবা ঠাকুর, তুমি কাঁদ কেন?” তাহাতে তিনি উত্তর করিলেন, “মা! আজ সমস্ত দিন আমার ভোজন হয় নাই।” বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করিল, “কেন হয় নাই?” তিনি বলিলেন, “প্রাতঃকাল হইতে সরকার মহাশয় বাসায় আগমন করেন নাই।” ইহা শুনিয়া দয়াময়ী বৃদ্ধা, দধি ও মুড়কী মুড়ি দিয়া ফলাহার করাইল এবং বলিল, যেদিন তোমার ভোজন না হইবে, সেই দিন। এখানে আসিয়া ফলাহার করিবে। একদিন সরকার অধিক রাত্রিতে বাটী আসিয়া শুনিলেন যে, ঠাকুরদাসের সমস্ত দিবসের মধ্যে পাকাদি কার্য্য হয় নাই, ইহাতে অত্যন্ত দুঃখিত হইলেন এবং বলিলেন, “তোমার যাহা শিক্ষা হইয়াছে তাহাতে কার্যক্ষম হইয়াছ, অতঃপর আর তোমার এরূপ ক্লেশ-স্বীকারের প্রয়োজন নাই। অদ্য এক্ষণে আহারাদি সমাধা কর, কল্য প্রাতেই তোমার সম্বন্ধে যাহা কিছু বক্তব্য থাকে, তাহা বাচস্পতি মহাশয়কে বলিব।” পরদিন প্রাতে বাচস্পতি মহাশয়ের বাটী যাইয়া তাঁহাকে বলিলেন যে, “আপনার জ্ঞাতি ঠাকুরদাস কর্ম্মক্ষম হইয়াছেন, বাঙ্গালায় ও ইংরাজীতে হিসাব করিবার ভালরূপ ক্ষমতা হইয়াছে; আপনি কাহাকেও বলিয়া ইহাকে কর্ম্মে নিযুক্ত করিয়া দিন। ইহার চরিত্রও উত্তম।” বাড়িসাগ্রামে বাচস্পতির এক সন্ত্রান্ত কুটুম্ব ছিলেন। তিনি এক নাবালক পুত্র ও স্ত্রী রাখিয়া পরলোকগমন করেন। অন্য কেহ অভিভাবক না থাকায়, একজন কার্য্যদক্ষ বিশ্বাসী লোক রাখা আবশ্যক হইয়াছিল।

    বাচস্পতি মহাশয়, ঠাকুরদাসকে বলিলেন, “তোমাকে অন্ততঃ এক বৎসরের জন্য তথায় অবস্থিতি করিয়া বিষয় রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে।” ঠাকুরদাস অগত্যা স্বীকার পাইয়া বড়িসায় কিছু দিন থাকিয়া, নাবালকের বিশিষ্টরূপ আদায় ও বন্দোবস্ত করিলেন। তজ্জন্য বাচস্পতি, ঠাকুরদাসের সাংসারিক ব্যয়-নির্ব্ব‌াহার্থে রীতিমত টাকা পাঠাইয়া দিতে কাতর হন নাই। ঠাকুরদাসের জননী মাসে মাসে কিছু পাইতে লাগিলেন; তাহাতে কষ্টের অনেক লাঘব হইয়াছিল। এক বৎসর কাল বড়িসায় অবস্থিতি করিয়া, বাচস্পতি মহাশয়কে বলেন যে, “মহাশয়, অনেক কষ্টে ইংরাজী শিক্ষা করিয়াছি। আপনি আমাকে ইংরাজীর হিসাবের কার্য্য নির্ব্ব‌াহ করিবার জন্য কাহাকেও অনুরোধ করিয়া নিযুক্ত করিয়া দিন।” বাচস্পতি মহাশয়, ঠাকুরদাসের কর্ম্মের শৃঙ্খলা ও সৌজন্য দর্শনে সন্তুষ্ট ছিলেন, একারণ বড়বাজার দোয়েহাটা-নিবাসী পরম দয়ালু ভাগবতসিংহের বাটীতে কার্য্যে নিযুক্ত করিয়া দিলেন। ভাগবতবাবু পরম ধার্ম্মিক ও দয়ালু ছিলেন; তাঁহার আফিসে ঠাকুরদাসকে দুই টাকা বেতনে নিযুক্ত করিলেন, এবং বাটীতে বাসা দিয়া খোরাক পোষাক দিতেন। ঠাকুরদাস ঐ ২৲ দুই টাকা জননীর সাংসারিক ক্লেশ নিবারণের জন্য বাটীতে পাঠাইয়া দিতেন। এইরূপ মাসে মাসে দুই টাকা পাইয়া দুৰ্গাদেবীর সাংসারিক ব্যয়নির্ব্বা‌হের সুবিধা হইল। ভাগবতবাবু, ঠাকুরদাসের কার্য্যদক্ষতা অবলোকন করিয়া, ক্রমশঃ রীতিমত বেতন বৃদ্ধি করিয়া দিতে লাগিলেন। ইহার কিছু দিন পরে ভাগবতবাবু বলেন, “ঠাকুরদাস, তোমার কনিষ্ঠ ভ্রাত কালিদাসকে আনাইয়া কাছে রাখিয়া ইংরাজী শিক্ষা দিলে, তাহাকেও আফিসে নিযুক্ত করা তইবে। দুই সহোদরে কর্ম্ম করিলে সংসারের কষ্ট নিবারণ হইবে।” একারণ, কালিদাসকে আনাইয়া ভাগবতবাবু বাটীতে রাখিলেন। ইহার কিছুদিন পরে ভাগবতসিংহ কালগ্রাসে নিপতিত হইলে, তাহার পুত্র জগদ্দুর্লভ সিংহ ও তৎপরিবারবর্গ ঠাকুরদাসকে পূর্ব্বাপেক্ষা ভাল বাসিতে লাগিলেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা কর্ম্মে পারগ হইলে, কিছুদিন ঠাকুরদাস কাশীজোড়া ও মণ্ডলঘাটে অবস্থিতি করিয়া, রেশমের ব্যবসায়ে প্রবৃত্ত হন; তৎপরে দেশে অবস্থিতি করিয়া কাঁসার বাসনের ব্যবসা করেন। এইরূপ নানা প্রকার ব্যবসা দ্বারা সাংসারিক কষ্ট নিবারণ ও কিছু সঞ্চয় করিলেন। এদিকে কলিকাতায় তাহার ভ্রাতা তাহার কর্ম্মে থাকিয়া নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটান; এজন্য জগদ্দুর্লভ সিংহ বলেন, তোমার ভ্রাতার দ্বারা আমার কার্য্যের বিস্তর ক্ষতি হইতেছে; অতএব তুমি নিজে আসিয়া কার্য্য কর। বিশেষতঃ পিতা মৃত্যুকালে তোমাকে বিশ্বাস করিয়া আমার বাটীর ও আফিসের সকল ভার দিয়াছেন। একারণ, ঠাকুরদাস ব্যবসা পরিত্যাগ করিয়া, পুনর্ব্বা‌র সিংহমহাশয়ের বাটীতে বিষয়কর্ম্মে নিযুক্ত হইলেন। ১৭৩৫ শকে খানাকুল কৃষ্ণনগরের পশ্চিম পাতুলগ্রামনিবাসী পঞ্চানন বিদ্যাবাগীশের দৌহিত্রী ও রামকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের দুহিতা ভগবতী দেবীর সহিত ঠাকুরদাসের পাণিগ্রহণ-বিধি সমাধা হইল।

    রামকান্ত চট্টোপাধ্যায় জাহানাবাদ মহকুমার পশ্চিম গোঘাট গ্রামে বাস করিতেন। ইনি সংস্কৃত-ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। বাটীতেই তাঁহার চতুষ্পা‌ঠী ছিল। ছাত্রগণকে অন্ন দিয়া শিক্ষা দিতেন। তন্ত্রশাস্ত্রে ইঁহার অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছিল। তিনি রামজীবনপুরের অতি সন্নিহিত করঞ্জী গ্রামে মাতামহাশ্র‌য়ে অবস্থিতি করিয়া, প্রায় প্রতি অমাবস্যার রাত্রিতে শব-সাধন করিয়া সিদ্ধপুরুষ হন; শেষাবস্থায় কাহারও সহিত কথা কহিতেন না, মধ্যে মধ্যে “মঞ্জুর” এই শব্দটি বলিতেন। পাতুল গ্রামের পঞ্চানন বিদ্যাবাগীশ অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। ইঁহার বাটীতে টোল ছিল; বিদ্যাবাগীশ প্রত্যহ অতিথি ও অভ্যাগত লোক সমূহকে ভোজন করাইতেন। দেশের সকল লোকেই বিদ্যাবাগীশকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করিত। ইহার চারিটী পুত্র ছিল। জ্যেষ্ঠ রাধামোহন বিদ্যাভূষণ, মধ্যম রামধন তর্কবাগীশ, তৃতীয় গুরুপ্রসাদ শিরোমণি, কনিষ্ঠ বিশ্বেশ্বর তর্কালঙ্কার। সকলেই গুণবান্ ও দয়ালু ছিলেন। বিদ্যাবাগীশের দুই কন্যা ছিল। জ্যেষ্ঠা গঙ্গামণি দেবী, দ্বিতীয়া তারাসুন্দরী দেবী। জ্যেষ্ঠা গঙ্গামণির গর্ভে দুই কন্যা জন্মে। জ্যেষ্ঠার নাম লক্ষ্মীমণি দেবী, কনিষ্ঠার নাম ভগবতী দেবী। রামকান্ত প্রায় প্রতি রাত্রিতে শ্মশানে বসিয়া জপ করিতেন ও সংসারের সকল বিষয়ে ঔদাস্যাবলম্বন করিয়াছিলেন। জামাতা রামকান্ত শব-সাধন করিয়া মৌনাবম্বন করিয়াছেন, এই সংবাদ শ্রবণ করিয়া, তাহার শ্বশুর উক্ত পাতুলগ্রামনিবাসী বিদ্যাবাগীশ মহাশয়, করঞ্জীগ্রাম হইতে জামাতা রামকান্ত, কন্যা গঙ্গামণি ও তাহার দুইটী কন্যাকে পাতুলগ্রামে আনয়ন করেন। পঞ্চানন বিদ্যাবাগীশ ও রাধামোহন বিদ্যাভূষণ প্রভৃতি ইহাদিগকে আন্তরিক স্নেহ করিতেন; তাহাদেরই যত্নে বীরসিংহনিবাসী ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহিত ভগবতীদেবীর বিবাহকার্য্য সম্পন্ন হইয়াছিল। ইতিপূর্ব্বে‌ রামজয়, (পুত্র ঠাকুরদাস লেখাপড়া ভালরূপ শিখিয়াছেন, বিষয়কর্ম্মে‌ লিপ্ত হইয়া পরিবারবর্গের কষ্ট নিবারণ ও ভরণপোষণাদি কার্য্য নির্ব্বা‌হ করিতে পারিবেন দেখিয়া) জন্মের মত ঈশ্বরারাধনায় তীর্থক্ষেত্রপর্য্য‌টনে প্রস্থান করেন। এই সুদীর্ঘকালের মধ্যে তাঁহার পরিবারগণের কোন সংবাদ পান নাই। রামজয় একদিবস (কেদার পাহাড়ে) নিশীথসময়ে স্বপ্ন দেখেন যে, রামজয়! তুমি বৃথা কেন ভ্রমণ করিতেছ? স্বদেশে যাও, তোমার বংশে এক সুপুত্র জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তিনি তোমার বংশের তিলক হইবেন। তিনি সাক্ষাৎ দয়ার সাগর ও অদ্বিতীয় পণ্ডিত হইয়া, নিরন্তর বিদ্যাদান ও নিরুপায় লোকদিগের ভরণপোষণাদির ব্যয়নির্ব্বা‌হ দ্বারা তোমার বংশের অনন্তকালস্থায়িনী কীর্ত্তি স্থাপন করিবেন। রামজয়, পাহাড়ের মধ্যে নিশীথসময়ে এরূপ অসম্ভব স্বপ্ন-দর্শন করিয়া চিন্তা করিতে লাগিলেন যে, আমি বহুদিন অতীত হইল সংসারাশ্রমে জলাঞ্জলি দিয়া, নিভৃত স্থানে ঈশ্বরারাধনায় মনপ্রাণ সমর্পণ করিয়া কালাতিপাত করিতেছি। এক্ষণে তাহারা কি করিতেছে ও কে আছে না আছে, তাহাও জানি না। এবম্বিধ চিন্তায় নিমগ্ন হইয়া পুনর্ব্বা‌র নিদ্রাভিভূত হইলে, কে যেন বলিয়া দিল, তুমি পরিবারগণের নিকট প্রস্থান কর, আর বিলম্ব করিও না; তোমার প্রতি ঈশ্বর সদয় হইয়াছেন। নিদ্রাভঙ্গ হইলে, নানা প্রকার ভাবিয়া চিন্তিয়া, রামজয় স্বদেশাভিমুখে যাত্রা করিলেন। অনবরত ৬ মাস পদব্রজে গমন করিয়া, বীরসিংহায় সমুপস্থিত হইয়া শুনিলেন, তাঁহার পুত্র ঠাকুরদাস কলিকাতায় বিষয়কর্ম্মে নিযুক্ত থাকিয়া সংসার প্রতিপালন করিতেছেন। জ্যেষ্ঠপুত্র ঠাকুরদাসের ও কনিষ্ঠ কালিদাসের বিবাহ কার্য্য সম্পন্ন হইয়াছে এবং জ্যেষ্ঠপুত্র ঠাকুরদাসের পত্নী গর্ভবতী হইয়া অবধি উন্মাদগ্রস্তা হইয়াছেন। অনন্তর রামজয় দেশে আগমন করিয়াছেন, এ সংবাদ কলিকাতায় পুত্রদ্বয়কে লেখা হইল। সংবাদ-প্রাপ্তিমাত্রেই বহুকালের পর পিতৃসন্দর্শনার্থে ঠাকুরদাস ও কালিদাস কলিকাতা হইতে বীরসিংহায় আগমন করিলেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার
    Next Article সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }