Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    সৌরভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤷

    ব্রহ্মপদার্থ – ১

    (১)

    মুহূর্মুহূ ঘণ্টাধ্বনি ভেসে আসছে মন্দির প্রাঙ্গন থেকে। একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এই ঘণ্টাধ্বনি জানান দিচ্ছে যে সময় এগিয়ে এসেছে। পাহারা আরও কড়া হওয়া চাই।

    শহরে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরবাসী অন্ধকারে বসে অপেক্ষা করছে। সকলের কানে পৌঁছে যাচ্ছে ঘণ্টাধ্বনি। ছোটো শহর, তাই শব্দ পৌঁছোতে কোনো বাধা পাচ্ছে না। শহরের যান চলাচল আজ ব্যহত। বেশ রাত হয়েছে। ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে আজ আর কেউই রাস্তায় নামবে না। আর তাছাড়া দৈবদুর্বিপাকে পড়ার ভয়ও আছে সকলের মনে।

    মন্দিরের বাইরের সমস্ত অংশ সিআরপিএফ দখল নিয়ে ফেলেছে। একটা পিঁপড়েও জওয়ানদের অনুমতি ছাড়া মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রশাসন এই বিশেষ দিনটিতে কোনো প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করে না। তাই আজ সকলেই তটস্থ। ক্রমাগত টহলদারি চলছে।

    মন্দিরের পুরোহিত আর পাণ্ডারা গর্ভগৃহের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রধান কারিগর এখন কার্যালয় কক্ষে প্রবেশ

    করেছেন। তাঁর আসার জন্যই সকলে অপেক্ষা করছেন। গর্ভগৃহে এখন কেউ নেই। বিগ্রহ সেখানে একা।

    মন্দিরের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তিনি এবার কার্যালয় কক্ষের দিকে রওনা দিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন মহারাজ রয়েছেন। কার্যালয় কক্ষে যাবার পথে ওঁরা পূর্ণ দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করলেন সোনাকুয়া অঞ্চল। উত্তরদিকের প্রবেশপথ থেকে হস্তীদ্বারের কাছে এই সোনাকুয়া অবস্থিত। স্নানযাত্রার দিন এই কুয়া ব্যবহার করা হয়। পাহারা অটুট আছে এই অঞ্চলে। মন্দিরের দক্ষিণদিকে রয়েছে কল্পবট। মন্দিরের দক্ষিণদিকে রয়েছে এই বট। সেখানেও পাহারা নিশ্ছিদ্র।

    বাইশপাহাচ অর্থাৎ বাইরের ও ভেতরের প্রাচীর পর্যন্ত যে বাইশটি সিঁড়ির ধাপ রয়েছে তার প্রতি ধাপে একজন সি আর পি এফ জওয়ান দাঁড়িয়ে আছে। ওইদিক দিয়ে কারও আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। মহারাজ ওইদিকে একবার দূর থেকে দৃকপাত করে এগিয়ে গেলেন। মুক্তিমণ্ডপের ষোলো স্তম্ভ পেরিয়ে এগিয়ে গেলেন মুখশালার দিকে। এদিকে প্রধান মন্দিরের থেকে সরলরেখায় এসে পাশে রয়েছে একটি সভাঘর। এর চারটি দ্বার রয়েছে। কালঘাট দ্বার থেকে পথ গিয়েছে মন্দিরের গর্ভগৃহের দিকে। দক্ষিণদ্বার মন্দিরের বাইরে যাবার পথ। উত্তরদ্বার দিয়ে এলে পৌঁছোনো যাবে রত্নভাণ্ডারে। এই সমস্ত স্থানে পর্যাপ্ত পান্ডা বিদ্যমান।

    প্রধান মহারাজ আশ্বস্ত হলেন। নাটমন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলেন। গর্ভগৃহের সামনে এটি একটি সুপ্রশস্ত গৃহ, লম্বায় একুশ মিটার চওড়ায় সতেরো মিটার। সেখানে রয়েছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মূর্তি। তিনি সেখান থেকে বিগ্রহ দর্শন করছেন। সেখান থেকে পাশ কাটিয়ে ভোগ মন্দিরের দিকে এগোলেন সবাই। সেখানেই এক অস্থায়ী কার্যালয় বানানো হয়েছে এই বিশেষ দিনের জন্য।

    কক্ষের বাইরে এসে প্রধান মহারাজ বাকিদের বাইরে অপেক্ষা করার ইঙ্গিত দিলেন। নিজে প্রবেশ করলেন কার্যালয়ে। ভেতরে গিয়ে দেখলেন প্রধান কারিগর একটি বেতের চেয়ারে বসে আছেন। মুখ তাঁর গম্ভীর। প্রধান মহারাজ জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে? আপনাকে এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন?”

    প্রধান মহারাজ যে ঘরে এসেছেন তা প্রধান কারিগর দেখেননি। তাই সশব্দে নড়েচড়ে বসলেন, “কে…কে?” তারপর প্রধান মহারাজজি-কে দেখে ধাতস্থ হলেন। বললেন, “ও, আপনি?”

    প্রধান মহারাজজি বললেন, “আর নাহলে কে ঢুকবে বলুন? আজ তো একটা পিঁপড়েকেও বোধহয় অনুমতিপত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু আপনার হয়েছেটা কী?”

    এই প্রশ্নে প্রধান কারিগরকে বিহ্বল দেখায়। তিনি মুখে বলেন, “এবার বিশেষ। আর তো বিগ্রহের এত কাছে আসা হবে না। এত বছরের কত স্মৃতি যে মাথায় ভেসে বেড়াচ্ছে! কোন্টা ছেড়ে কোন্টা বলি! মহারাজ ইন্দ্রদুম্নের পরিবারের অংশ হিসেবে সেই কোন্ ছোটোবেলা থেকে এই দিনটা দেখে চলেছি। কতবার যে বিগ্রহ পরিবর্তনের দিন এল আর গেল। কালে কালে আমি নিজেও দু-বার বিগ্রহ তৈরি করে ফেললাম দারুব্রহ্ম দিয়ে। আজকেও যখন বিগ্রহ তৈরি শেষ করে দারুব্রহ্মের টুকরোগুলো সরিয়ে রাখছিলাম, মনে হচ্ছিল এই বিচ্ছেদ যেন অনাদি অনন্তকালের জন্য হচ্ছে। কবে বুড়ো হয়ে গেলাম বুঝতেই পারলাম না, জগন্নাথ এখনও সেই আমার ছোটোবেলার মতো উজ্জ্বল শতামবর্ণে চিরনবীন হয়ে আছেন। জয় জগন্নাথ।”

    প্রধান কারিগর দুই হাত জোড় করে জগন্নাথের উদ্দেশে প্রণাম করলেন। প্রধান মহারাজজি বুঝতে পারলেন যে তিনি বিহ্বল হয়ে আছেন। স্মিত হেসে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, “আবেগ, দাদা আপনাকে এখন আবেগ দিয়েছেন। এই আবেগ যাত্রার আনন্দ নিন। আর সেই সঙ্গে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা বাকি আছে সেই কাজের জন্য তৈরি হয়ে পড়ুন। এই নিন।”

    প্রধান কারিগর দেখলেন মহারাজজি তাঁর দিকে এক জোড়া দস্তানা এগিয়ে দিচ্ছেন। তিনি যখন আবেগী হয়ে কথা বলছিলেন তখন প্রধান মহারাজজি মোমের আলো সম্বল করে বিশেষভাবে রক্ষিত বাক্স থেকে এই দস্তানা বের করছিলেন। প্রধান কারিগর বৃদ্ধ হয়েছেন, এখন আর আগের মতো সবদিকে লক্ষ রাখতে পারেন না। দস্তানা জোড়া হাতে নিয়ে বললেন, “দেখুন তো মহারাজজি, এই দস্তানার জন্যই এতক্ষণ বসেছিলাম। অথচ আপনি আসার পর দস্তানা চেয়ে নেওয়ার কথা মনেই ছিল না।”

    প্রধান মহারাজ স্মিত হাসলেন। হাত দিয়ে কার্যালয়ের বাইরে বেরোবার ইঙ্গিত করলেন। কারিগর উঠে দাঁড়ালেন। বেরিয়ে এলেন কক্ষ থেকে। বাইরে এসে দেখলেন মন্দিরের বহু পাণ্ডা, মহারাজ কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। সমস্ত মন্দির প্রাঙ্গনে জ্বলছে মোম। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মোমশোভিত এই মন্দির প্রাঙ্গন। ঠিক যেন জোনাকিরা আগুনরঙে রাঙিয়ে দিয়ে গেছে সমস্ত শ্রীক্ষেত্র। অল্প অল্প বাতাস বইছে। তাতে মোমবাতির শিখাগুলো ঈষৎ কৌণিকভাবে কাঁপছে। কিন্তু নিভে যাচ্ছে না।

    প্রধান কারিগর তাঁর কাঁধে হাতের ছোঁয়া পেলেন। ফিরে দেখলেন প্রধান মহারাজজি এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    “চলুন। আপনি সামনে চলুন আমরা পেছনে আপনাকে অনুসরণ করছি।” কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে পান্ডা ও মহারাজ সকলে মিলে দুই ভাগে ভাগ হয়ে দু-টি সমান্তরাল শ্রেণি তৈরি করল। মাঝখান দিয়ে যে পথ রচিত হল, তা ধরে এগিয়ে গেলেন প্রধান কারিগর, তাঁর পেছনে প্রধান মহারাজ। যাবার পথে ধীরে ধীরে নিজের দু-হাতে দুটো দস্তানা পরে নিলেন কারিগর। এবারেই সেই ব্রাহ্ম মুহূর্ত উপস্থিত। এই ত্রিভুবনে একমাত্র তিনিই আবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে চলেছেন। অতিদুর্লভ পদার্থটির স্পর্শ পাবার জন্য বিধাতা আবার তাঁকেই চয়ন করেছেন। হয়তো শেষবারের মতো, তবুও এই স্পর্শ তিনি আজীবন বয়ে নিয়ে চলবেন।

    ধীরে ধীরে সকলে এসে উপস্থিত হল প্রধান মন্দিরের সামনে। তারপরেই গর্ভগৃহ শুরু। প্রধান মহারাজজি এগিয়ে এলেন কারিগরের কাছে, “এবার আপনার এগিয়ে যাবার পালা। আমরা বাইরে অপেক্ষা করব।”

    প্রধান কারিগর মাথা নাড়লেন। তারপর বললেন, “আমি ভেতরে গিয়ে একবার শঙ্খ ফুৎকার দেব। পরের কিছু মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত মোমবাতি আপনারা নিভিয়ে ফেলবেন। নইলে বিপদ হতে পারে।”

    প্রধান মহারাজ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। তারপর হাত পাতলেন। পাশ থেকে একজন পাণ্ডা একটা থালা নিয়ে এগিয়ে এলেন। থালার উপরে লাল মখমলের উপর একটি কালো কাপড় ও তুলো রাখা ছিল। প্রধান মহারাজ সেগুলো দুই হাতে তুলে নিলেন। তারপর প্রধান কারিগরের মাথায় পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কারিগরের দুই চোখে প্রথমে তুলো দিলেন। তারপর কালো কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলেন তাঁর চোখ। মুখে জিগ্যেস করলেন, “কিছু দেখা যাচ্ছে না তো?”

    প্রধান কারিগর সবাইকে অবাক করে উল্লাসে ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, “সব দেখতে পাচ্ছি মহারাজজি। মনের চোখ দিয়ে সব দেখতে পাচ্ছি। ওই দৃষ্টিতেই এবার বাকি কার্য সমাপন করব।”

    প্রথমে একটু অবাক হলেও পূর্ণাঙ্গ উত্তর শেষে মহারাজজির মুখেও হাসি ফুটল। বাকিরাও আমোদ পেলেন। প্রধান মহারাজজি চিৎকার করে বলে উঠলেন, “জয় জগন্নাথ।”

    আকাশ-পাতাল বিদীর্ণ করে সকলে সমবেত কণ্ঠে জয়ধ্বনি দিয়ে উঠল,

    “জয় জগন্নাথ।”

    “জয় জগন্নাথ।”

    “জয় জগন্নাথ।”

    শহরের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল এই জয়ধ্বনি। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারলেন মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। বয়স্করা নিজ নিজ ঘরে জগন্নাথের মূর্তির সামনে গিয়ে নতমস্তকে দাঁড়িয়ে ভগবানের নাম সংকীর্তন করতে লাগলেন।

    জয়ধ্বনির মাঝে চোখে কাপড় দিয়ে গর্ভগৃহের দিকে এগিয়ে গেলেন প্রধান কারিগর। শ্রীবিগ্রহ কত পা দূরে অবস্থিত সে মাপ তিনি বিলক্ষণ জানেন। বাইরে থেকে সকলে দেখল প্রধান কারিগর অন্ধকারে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছেন। মাপ মতো পা ফেলে ঠিক শ্রীবিগ্রহের সামনে গিয়ে উপস্থিত হলেন তিনি।

    এখন আর গর্ভগৃহে কেউ নেই। শুধু প্রধান কারিগর আর শ্রীবিগ্রহ। বাঁ-দিকে শ্রীবলদেব, মাঝে সুভদ্রা দেবী এবং তাঁর ডানদিকে শ্রীজগন্নাথদেব। নতুন মূর্তিগুলো ইতিমধ্যে যথাস্থানে বসিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এখন শুধু প্রাণ প্রতিষ্ঠার পালা। কঠিনতম কাজ, অথচ কী মধুর এই উপলব্ধি!

    আজ নবকলেবরের দিন। জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীকে বিগত কিছুদিন ধরে দিন রাত পরিশ্রম করে সুন্দর করে তৈরি করেছেন তিনি। দারু খোদাই করে নতুন শ্রীবিগ্রহ তৈরি করা হয়ে গেছে। পুরোনো বিগ্রহগুলো পাশেই রাখা আছে এখনও। আজকের পর পুরোনো বিগ্রহগুলোর স্থান হবে মন্দিরের পশ্চিমভাগে বাইরের ও ভেতরের প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে, কোইলা বৈকুণ্ঠে। বছরের পর বছর পুরোনো বিগ্রহগুলো এই কোইলা বৈকুণ্ঠেই মাটিতে প্রোথিত করার প্রথা চলে আসছে। আজকেও তাই হবে।

    প্রধান কারিগর নতুন শ্রীবিগ্রহের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। চর্মচক্ষে অন্ধকার দেখছেন তিনি। কিন্তু মানসচক্ষে তিনি দেখছেন একটা প্রস্ফুটিত আলোক বলয়। সেই বলয়ের ঠিক মাঝখান থেকে উদয় হচ্ছেন জগন্নাথদেব, সুভদ্রা ও বলদেব। ধীরে ধীরে দেবতারা এগিয়ে আসছেন তাঁর দিকে। এই দৃশ্য কল্পনা করে তাঁর চোখ ভিজে উঠল। কালো কাপড় চোখের জল শুষে নিল নিমেষে। শুধু চোখের কোণায় একটু চটচটে ঠান্ডা হাওয়ার ধাক্কা খেলেন তিনি। এক লহমার ভগ্নাংশে এসেই অনুভূতিও বিলুপ্ত হল।

    আর দেরি করা উচিৎ হবে না। তিনি তিন কদম বাঁ-দিকে সরে এসে ঘণ্টাধ্বনি করলেন। আর এই ঘণ্টাধ্বনি শোনা মাত্র বাইরে সকলে তৎপর হয়ে উঠল। মন্দির প্রাঙ্গনে লাগানো সমস্ত মোমবাতির আলো নেভাতে শুরু করল সকলে। একটি মোমবাতিও জ্বালিয়ে রাখা চলবে না। বিশেষ হাত চালিত যন্ত্রের মাধ্যমে মন্দিরের উপরের দিকে লাগানো মোমবাতির আলোও নিভিয়ে দিতে সবাই তৎপর হল।

    বাইরে যখন এসব চলছে তখন গর্ভগৃহে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন প্রধান কারিগর। এমতাবস্থায় কিছুসময় কাটল। তারপর তিনি ডানদিকে ঘুরলেন। নির্দিষ্ট ব্যবধানে পা ফেলে পনেরো পা এগোলেন। হাত বাড়াতেই পুরোনো বিগ্রহের গায়ে হাত ঠেকল তাঁর। ইনি বলদেব। আরও সাত পা ডানদিকে ঘুরতেই শ্রী জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ পেলেন তিনি। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বসে পড়লেন গর্ভগৃহের মেঝেতে। ঠিক এখানেই হিসেব মতো থাকার কথা হাতুড়ি আর বাটালি। মেঝেতে বসে বাঁ-দিকে খুঁজতেই কারিগর খুঁজে পেলেন নিজের হাতুড়ি-বাটালি। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। ওখানেই রাখা পাটাতনের কয়েক ধাপ উপরে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর জগন্নাথদেবের বুকের বাঁ-দিকে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগলেন। জগন্নাথদেবের হৃদয় প্রকোষ্ঠ খুঁজে পেতে কষ্ট হল না। গোল মতো প্রকোষ্ঠ শক্তভাবে জোড়া দেওয়া হয়েছে দারুব্রহ্মের কাঠামো দিয়ে। কারিগর সেই জায়গায় বাটালি বসিয়ে হাতুড়ির এক ঘা দিতেই সেই বজ্র আঁটুনি অনেকটাই ঢিলে হয়ে এল। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গর্ভগৃহে ফুটে উঠল এক সূচিসূক্ষ্ম নীল আলো। জগন্নাথদেবের

    বুকের বাঁ-দিকের প্রকোষ্ঠ থেকে এই আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। কারিগর আবার আঘাত করলেন। জোড়া অংশ আরও ঢিলে হল, আলোর প্রকাশ আরও তীব্র হল। কারিগর যত দ্রুত জোড়া অংশটি ভেদ করতে লাগলেন প্রকোষ্ঠ ততই উন্মুক্ত হতে থাকল, আর গর্ভগৃহ ততই নীল আলোয় উদ্ভাসিত হতে থাকল।

    একসময় দারু ব্রহ্মের গোলাকার তাপ্পি খুলে গেল। কারিগর হাতুড়ির এই শেষ আঘাতের পর কেঁপে উঠলেন। সম্পূর্ণ গর্ভগৃহ অদ্ভুত এক আলোয় ভাসমান। অন্ধকার থেকে উৎসারিত আলো।

    প্রধান কারিগর কাঁপা কাঁপা হাতে হাতুড়ি বাটালি নামিয়ে রাখলেন। তারপর দস্তানা পরা হাত ঢুকিয়ে দিলেন জগন্নাথ দেবের হৃদয় প্রকোষ্ঠে। বেশ কিছুটা গভীরে হাত দেওয়ার পর বস্তুটি তাঁর আঙুলে ঠেকল। কারিগর সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাত বের করে আনলেন। বস্তুটি রয়ে গেল জগন্নাথদেবের বুকের ভেতরেই। কারিগর নিজের নার্ভ ধরে রাখতে পারছেন না। নিজেকে প্রবোধ দেবার চেষ্টা করলেন তিনি। বার দুয়েক অন্ধকারের এদিকে-ওদিকে হাঁটলেন। এই অবস্থাতেও মাথা কাজ করছে তাঁর। গুনে গুনে পা ফেলে পায়চারি করলেন যাতে বিগ্রহের কাছে সঠিক জায়গায় ফিরতে অসুবিধে না হয়। নিজেকে বোঝালেন যে এই কাজ সেই বাল্যকাল থেকে দেখে এসেছেন তিনি, তার পক্ষে এই কাজ করা এতটাও দুরূহ নয়। জগন্নাথের হৃদয়ে হাত দেওয়ার ফলস্বরূপ নিজের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে তাঁর। কর্ণপটহের মাধ্যমে সেই শব্দ এসে সম্পূর্ণ অন্তঃকরণে ধ্বনিত হচ্ছে তাঁর।

    ধীরে ধীরে নিজেকে সংযত করলেন তিনি। আবার এগিয়ে গেলেন পুরোনো বিগ্রহের দিকে। এবার যথাসম্ভব মনোযোগ দিয়ে হাত ঢোকালেন জগন্নাথদেবের হৃদয় প্রকোষ্ঠে। হাত গভীরে প্রবেশ করাতেই আবার হাতে ঠেকল বস্তুটি, যা থেকে নীল রশ্মি ক্রমাগত দ্যুতি ছড়াচ্ছে। প্রধান কারিগর খুব সাবধানে বস্তুটিকে বের করে আনলেন। তিনি বস্তুটিকে দু-হাতে ধরে আছেন। দস্তানার ভেতরে তাঁর আঙুলগুলো অনুভব করছে এক অদ্ভুত শক্তি। বস্তুটি মুহুর্মুহু কাঁপছে। সংকোচিত হচ্ছে আবার যেন প্রসারিত হচ্ছে।

    সম্পূর্ণ গর্ভগৃহ এখন আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। নীল আলো যেন স্বর্গ থেকে নেমে এসে ধুইয়ে দিচ্ছে এই ধরা। আর ঠিক এই সময়েই গর্ভগৃহের বাইরের অংশ ঢাকা পড়েছে নিশ্চিদ্র অন্ধকারে। একটি আলোর উৎসেও এখন প্রাণ নেই। অথচ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পান্ডা আর মহারাজ দেখতে পাচ্ছেন রুদ্ধ গর্ভগৃহ থেকে একটি অদ্ভুত নীল আলোক রশ্মি ঠিকরে বেরোচ্ছে।

    প্রধান মহারাজ এই দৃশ্য দেখা মাত্র দুই হাত উপর তুলে উল্লাসে ফেটে পড়লেন, “জয় জগন্নাথ।” সঙ্গে সঙ্গে রোল উঠল। “জয় জগন্নাথ। জয় জগন্নাথ।”

    বাইরে অপেক্ষারত একদল পাণ্ডা খোল-করতাল বাজাতে শুরু করলেন। মুহূর্তের মধ্যে যেন উৎসব শুরু হয়ে গেল। একদল মহারাজ ঘণ্টাধ্বনি করতে লাগলেন। শহরে সেই শব্দ পৌঁছোতে দেরি হল না। সকলে মিলে একত্রে জয়ধ্বনি করতে লাগলেন, “জয় জগন্নাথ-জয় বলদেব-জয় সুভদ্রা।”

    এসবের মধ্যেই পা মেপে মেপে প্রধান কারিগর এগোতে লাগলেন নতুন শ্রীবিগ্রহের দিকে। নতুন শ্রীবিগ্রহের সামনে লোহার শক্ত মই লাগানো রয়েছে। প্রধান কারিগর এগিয়ে গেলেন সেই মইয়ের দিকে।

    কথিত আছে কলিযুগে দেব ও রাক্ষস একই দেহে অবস্থান করে। প্রধান কারিগরের মনের অদম্য কৌতূহল রাক্ষসরূপে আক্রমণ করল। সমস্ত অবচেতন জুড়ে তাঁর মনে হতে লাগল এই তো শেষ। আর তো সুযোগ আসবে না। আজ সারাদিন তিনি যে কারণে বিহ্বল ছিলেন ঠিক সেই কারণেই এখন তাঁর মনে দূরভিসন্ধিমূলক বিচার আসতে লাগল। তার মনে হল এই বস্তুটি এখনই তাঁর দর্শন করা প্রয়োজন। এই পৃথিবীর কেউ কখনও এই বস্তু দেখেনি। বলা হয় এই বস্তুতেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শক্তি। এই বস্তুকে ঘিরেই পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছে কত শত কিংবদন্তি।

    আজ সেই বস্তুটি শেষবারের মতো তাঁর হাতে। আর তো কখনও এই সুযোগ আসবে না। আজ বরং এই বস্তু দর্শনে জীবন ধন্য হোক। তাতে যদি চোখ ঝলসে যায় তো যাক।

    এসব ভাবতে ভাবতেই প্রধান কারিগরের মুখে ফুটে উঠল এক পৈশাচিক হাসি। এ হাসি লোভের, এ হাসি ক্রুরতার, এ হাসি পাপের। প্রধান কারিগরের হাতে তখন কাঁপছে সেই বস্তুটি। বারবার সংকোচিত প্রসারিত হচ্ছে। উৎপন্ন হচ্ছে শক্তি।

    প্রধান কারিগর বস্তুটিকে এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে নিজের চোখের উপর রাখা কাপড়টি ধরল। এক হ্যাঁচকা টান দিলেই খুলে যাবে পর্দা। দেখা যাবে সমস্ত দৃশ্য। কেউ জানতেও পারবে না।

    নিজের মাথার পেছনে রাখা গিঁটটিতে হাত দিলেন প্রধান কারিগর। আর তখনই বাইরে প্রধান মহারাজজি জয়ধ্বনি দিলেন, “জয় শ্রী কৃষ্ণ।”

    শহর জুড়ে যেন এই জয়ধ্বনি ফিরে এল। গমগম করে উঠল আকাশ বাতাস। পাতাল অবধি পৌঁছে গেল শ্রী কৃষ্ণের নামের ধ্বনি।

    প্রধান কারিগরের সংবিৎ ফিরল। একই দেহের মধ্যে রাক্ষসভাবের উপর দেবভাবের বিস্তার শুরু হল। কারিগরের মাথা ঝুঁকে গেল। তিনি এ কী অনর্থ করতে চলেছিলেন!

    আর কালবিলম্ব না করে তিনি মই ধরে উঠে পড়লেন। ডানদিকে হাসিমুখে বিরাজমান শ্রী জগন্নাথ দেব। তাঁর হৃদয় প্রকোষ্ঠে বস্তুটিকে স্থাপন করা হল। গর্ভগৃহের ভেতর থেকে ঘণ্টাধ্বনি করলেন প্রধান কারিগর। বাইরে প্রধান মহারাজ এই ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন। শঙ্খধ্বনি শুরু হল। মহারাজ আর পাণ্ডারা নৃত্য করতে থাকলেন।

    নবকলেবর শুরু হল। কিংবদন্তি অনুযায়ী শ্রী কৃষ্ণের হৃদয় যা এখনও নষ্ট হয়ে যায়নি, তা প্রতি বারো বছর অন্তর নতুন জগন্নাথদেবের বিগ্রহে

    প্রোথিত হল। কালের পর কাল এই প্রথা চলে আসছে। শ্রী কৃষ্ণের হৃদয় এই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী যন্ত্র, যা এখনও রক্ষিত আছে জগন্নাথের মূর্তির ভেতরে। এটাই সেই ব্রহ্মপদার্থ যার মধ্যে লুকিয়ে আছে অসীম শক্তি।

    প্রধান কারিগর জগন্নাথদেবের হৃদয় প্রকোষ্ঠ দারুব্রহ্মের গোলাকার চাকতি দিয়ে বন্ধ করলেন। আগামী বারো বছর এই শ্রীবিগ্রহই পূজিত হবে জগন্নাথ পুরী ধামে। জয় জগন্নাথ।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী
    Next Article এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }