Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প280 Mins Read0
    ⤷

    অনুবাদের পরিপ্রেক্ষিত: ফিরে দেখা রথীন্দ্রনাথ

    ‘আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না’, লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁকে জানা কি আমাদেরই ফুরাবে? কবির জীবন উন্মোচনে অন্যতম সহায়ক হতে পারে On the edges of time নামক স্মৃতিকথা। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের শেষভাগে বইটি রচনা করেন। আমি এটি আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ নামে অনুবাদ করেছি। কিন্তু কেন এ অনুবাদ করা? প্রধান কারণ, মূল বইটির দুষ্প্রাপ্যতা। সেই ১৯৫৮ সালে অরিয়েন্ট লংম্যানস প্রাইভেট লি. নামক প্রকাশনী এর প্রথম সংস্করণ বের করেছিল। পরবর্তী সংস্করণ বের হয় রথীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে, ১৯৮৬ সালে। সেটিও দুষ্প্রাপ্য। এর মধ্যে ইন্টারনেটে খোঁজ করলাম। দেখলাম, বই বিক্রয়ের বিখ্যাত অনলাইন কোম্পানিটি সেটি বিক্রি করছে। তবে যা দাম লিখে রেখেছে তাতে আমাদের দেশের পাঠকদের নয় মণ ঘিও জোগাড় হবে না, রাধাও নাচবে না।

    এ না হয় গেলো মূল বইটির গল্প। আগে কি এর কোনো অনুবাদ বের হয়নি? হয়েছে, এবং রথীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর পিতৃস্মৃতি নাম দিয়ে সেটি প্রকাশিতও হয়েছে। ভাষান্তরের কাজটি শুরু করেছিলেন রথীন্দ্রনাথই, কিন্তু কিছুদূর এগোনোর পর তিনি মারা যান। তখন শ্রী ক্ষিতীশ রায় নামক একজন অনুবাদক অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করেন। পিতৃস্মৃতির ১ থেকে ৭৬ এবং ৭৯ থেকে ১০২ পৃষ্ঠার শেষ অনুচ্ছেদের পূর্ব পর্যন্ত রথীন্দ্রনাথের নিজের অনুবাদ। বাকি প্রায় ১৩৫ পৃষ্ঠা, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি অনুবাদ ক্ষিতীশবাবুর। সে বইটিও এখন দুষ্প্রাপ্য। জীবনের প্রায় ৫০ বছর কবির সঙ্গে ছায়ার মত লেগে থাকা তাঁর প্রিয় পুত্রের লেখা স্মৃতিকথা এমন অবহেলার শিকার কী করে হল, সেটা ভেবে দেখবার বিষয়। এ আলোচনার শেষদিকে যখন রথীন্দ্রনাথের জীবনীর ওপর সামান্য আলোকপাত করব, সেখানে পাঠক হয়ত এর কিছু ইঙ্গিত পাবেন। তবে আমাদের আপাত উদ্দেশ্য বাজারে বইটির শূন্যতা কাটানো, আর পুত্রের জবানিতে রবীন্দ্রনাথকে আরেকবার পাঠকদের সামনে হাজির করা।

    ২.

    মূল On the edges of time বইয়ে এমন কিছু তথ্য/ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যা এর অনুবাদ পিতৃস্মৃতিতে উল্লেখ নেই। যেমন দ্বারকানাথ ঠাকুর কেন দ্বিতীয়বার বিলেত গিয়েছিলেন? প্রচলিত মত হল কিছুটা নিজ সংসারের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়েই তার বিলেত যাত্রা। প্রধানত বিনোদনমূলক সফর। এ বইয়ে কিন্তু বলা হয়েছে ভিন্ন কথা। দ্বারকানাথ নাকি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন বাংলা, বিহার আর উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভের জন্য মহারানীর সঙ্গে দেখা করতে। পিতৃস্মৃতিতে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। এবং লক্ষণীয়, তথ্যটি অন্যত্রও সুলভ নয়।

    আমাদের জানা যে, ঠাকুরবাড়ির লোকদের পিরালি ব্রাহ্মণ হয়ে ওঠার পেছনে একটা বিশেষ ইতিহাস আছে। On the edges of time গ্রন্থে রথীন্দ্রনাথ ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু পিতৃস্মৃতি এ ব্যাপারে বিস্ময়কর রকমের নীরব। যারা অন্য কোনো সূত্র থেকে পিরালি ব্রাহ্মণত্ব সম্পর্কে জানবেন না, পিতৃস্মৃতি গ্রন্থটি তাদেরকে এ বিষয়ে কোনোরূপ সহায়তা করবে না। এ ব্যাপারে বরং On the edges of time-এর নতুন অনুবাদের আশ্রয় নেয়া ভালো।

    রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু সম্বন্ধেও On the edges of time গ্রন্থে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর নতুন তথ্যের অবতারণা করেছেন। তাঁর মতে, বলেন্দ্র ছিলেন হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনার প্রথম দিককার বলি, ‘one of the first victims in Bengal of Hindu-Moslem Communal tension’,-CRITI একটি উৎসব থেকে ফেরার সময় তাঁদের গাড়িতে ভিন্নধর্মী লোকেরা হামলা করলে বলেন্দ্রনাথ তাঁর মাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান, তখন তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। অবশ্যি বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো জীবনীকার এরকম তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন মর্মে আমাদের জানা নেই। বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা নিজেও এরকম কথা বলেননি। বলেছেন পীড়ার কথা। পীড়ার কথা পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি লেখাতেও। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃস্মৃতিতে বলেন্দ্রনাথের মৃত্যু প্রসঙ্গে দাঙ্গার ব্যাপারটি উল্লেখ করেননি, কেবল বলেছেন ‘অল্প বয়সেই তার মৃত্যু হয়’। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দেননি।

    On the edges of time-এর শেষভাগে ঠাকুরপরিবারের বংশলতিকা দেয়া আছে, যেটি পিতৃস্মৃতি গ্রন্থে অনুপস্থিত। ওপারবাংলায় যেখানে রবীন্দ্রনাথের ওপর প্রচুর বইপত্র পাওয়া যায়, সেখানে এ ধরনের ঘাটতিগুলো অন্য কোনো সূত্র থেকে সহজেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব, যা বাংলাদেশে এখনও কষ্টসাধ্য।

    পাঠক বোধকরি ইতোমধ্যেই অনুমান করতে শুরু করেছেন On the edges of time গ্রন্থটি পিতৃস্মৃতি নামে অনূদিত হওয়ার পরও আমরা কেন পুনরায় এর অনুবাদে হাত দিলাম। মূল বইয়ের পাশাপাশি অনুবাদ মেলাতে গিয়ে দেখেছি রথীন্দ্রোত্তর অনুবাদক ক্ষিতীশবাবু কোথাও কোথাও এমন নমনীয় অনুবাদ করেছেন যে এর চেয়ে অনুচ্ছেদটি ছেড়ে দেয়া ভালো হতো। মহাত্মা গান্ধীর কৃচ্ছ সাধনার জীবন রবীন্দ্রনাথের পছন্দের ছিল না। বইয়ের শেষদিকে দেশের সামনে গরিবি আদর্শ তুলে ধরাকে রথীন্দ্রনাথ খড়গহস্তে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ক্ষিতীশবাবু যে কোমল স্বরে তাঁর অনুবাদ করেছেন, তা থেকে পাঠক রথীন্দ্রনাথের মূল মনোভাব নাও বুঝতে পারেন।

    রবীন্দ্রনাথকে ইংরেজি অনুবাদে কারা উৎসাহিত করেছিলেন? অন্তত এ একটি ক্ষেত্রে ক্ষিতীশবাবুর অনুবাদের স্বাধীনতার কারণে রথীন্দ্রনাথকে অন্যের নিকট ছোট হতে হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে রথীন্দ্রনাথের লেখার নিম্নরূপ অনুবাদ করেছেন-

    আমার মনে হয় এ কাজে তার উৎসাহের মূলে ছিলেন র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড। কয়েকমাস আগে তিনি যখন আশ্রমে এসেছিলেন, অজিত কুমার চক্রবর্তী তাঁকে বাবার লেখার কিছু কিছু ইংরেজি অনুবাদ দেখান। অনুবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছিল মডার্ন রিভিউ পত্রিকায়, আনন্দকুমারস্বামী ও জগদীশচন্দ্র বসুর আগ্রহাতিশয্যে। কয়েকটি অনুবাদ ম্যাকডোনাল্ডের ভালো লেগেছিল, সে কথা তিনি বাবাকে বলেওছিলেন।

    তাঁর এ অনুবাদের সূত্র ধরে প্রশান্তকুমার পাল রথীন্দ্রনাথের স্মৃতিশক্তিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। রবিজীবনীর ষষ্ঠ খণ্ডে (দ্বিতীয় মুদ্রণ ১৪১১, পৃষ্ঠা ২৮২) তিনি লিখেছেন—

    এখানে রথীন্দ্রনাথের স্মৃতি তাঁকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করেছিল। ম্যাকডোনাল্ড Nov. 1909 [অগ্র, ১৩১৬]-এর শেষদিকে কলকাতায় এসেছিলেন— রবীন্দ্রনাথের গানের ইংরেজি অনুবাদ শুনে লিখিতভাবে তার প্রশংসা করেছিলেন, সেকথা আমরা পূর্বেই বলেছি, কিন্তু সেবার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার দেখা হয়নি।

    লক্ষণীয় ব্যাপার হল, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ডের দেখা হয়েছিল- এমন দাবি কিন্তু রথীন্দ্রনাথও করেননি। On the edges of time গ্রন্থের কোথাও তিনি বলেননি যে, রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাতে ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ইংরেজি অনুবাদের প্রশংসা করেছিলেন। এ বিষয়ে মূল লেখাটি নিম্নরূপ :

    The immediate incentive, if I remember right, came from encouraging remarks made by Ramsay MacDonald, to whom, during his visit to Shantiniketan a few months earlier, translations of a few writings that had appeared in the Modern Review were shown by Ajit Kumar Chakravarti—then а teacher at Shantiniketan. Previous to this Ananda K. Coomaraswamy and Jagdish Chandra Bose had also encouraged father to have his works translated into English.

    অর্থাৎ শান্তিনিকেতনের তৎকালীন শিক্ষক অজিত কুমার চক্রবর্তী মডার্ন রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি লেখার ইংরেজি অনুবাদ র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডকে দেখালে তিনি প্রশংসা করেছিলেন। আর এর আগে রবীন্দ্রনাথকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলেন আনন্দ কে. কুমারস্বামী ও জগদীশচন্দ্র বসু। ক্ষিতীশবাবু লিখেছেন যে কয়েকটি অনুবাদের ভালো লাগার কথা ম্যাকডোনাল্ড রবীন্দ্রনাথকে বলেছিলেন। সম্ভবত তাঁর অনুবাদের সূত্র ধরেই রথীন্দ্রনাথের স্মৃতির বিভ্রান্তির বিষয়ে প্রশান্তকুমার পালের সে পর্যবেক্ষণ।

    ম্যাকডোনাল্ড কর্তৃক রবীন্দ্রনাথের লেখার ইংরেজি অনুবাদের বিষয়ে স্মৃতি রথীন্দ্রনাথকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত না করলেও, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে কবির প্যারিসে সাক্ষাতের সময় সম্পর্কে স্মৃতি কিন্তু রথীন্দ্রনাথ এবং অনুবাদক দুজনকেই ফাঁকি দিয়েছিল। On the edges of time গ্রন্থে রথীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “Another very interesting person we met in Paris, not in 1920 but four years later।” আর ক্ষিতীশবাবু বাংলা করেছেন, “অবশ্য এই সাক্ষাৎকার ১৯২০ সালে হয়নি, হয়েছিল আরও ছ-বছর পরে।” এ ক্ষেত্রে দুজনের কারও হিসেবই প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে যায় না। কারণ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আর্জেন্টিনায় দেখা হয়েছিল ১৯২৪ সালে, আর প্যারিসে ১৯৩০ সালে। রথীন্দ্রনাথ ওকাম্পোর সঙ্গে প্যারিসে দেখা হবার প্রসঙ্গই আলোচনা করেছেন। On the edges of time-এর ভূমিকায় রথীন্দ্রনাথ নিজেও বলেছেন যে গ্রন্থটিতে তথ্যগত দিকে অতটা মনোযোগ দেয়া হয়নি, অথবা কালক্রমও অনুসরণ করা হয়নি। এর অনুবাদ পিতৃস্মৃতিকে নির্ভুল করার প্রয়াস পেলে ভালো হতো, কিন্তু এ গ্রন্থটিও যে ত্রুটিমুক্ত নয়, অন্য একটি প্রসঙ্গে পিতৃস্মৃতির শেষে প্রদত্ত সংশোধনীতে (পুনর্মুদ্রণ অগ্রহায়ণ ১৩৮৭) এর চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া, ক্ষিতীশবাবুর অনুবাদে মূল বইয়ের বেশ কিছু অনুচ্ছেদ বাদ পড়েছে, সেগুলোর কথা আর নাই-বা বললাম।

    ৩.

    রবীন্দ্রনাথের সন্তান হওয়াটা রথীন্দ্রনাথের জন্য সৌভাগ্যের, না দুর্ভাগ্যের? এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া কঠিন। সন্দেহ নেই, উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি অনেক সুবিধা ভোগ করেছেন, আবার এ কথাও সত্য যে তাঁকে ৭৩ বছরের জীবনের প্রায় ৫৩ বছর জগৎবিখ্যাত পিতার বিশাল ব্যক্তিত্বের চাপ বহন করতে হয়েছে। পিতার ছাত্রজীবন সুখের ছিল না, সে কারণে পুত্রকেও তিনি প্রথাগত কোনো বিদ্যালয়ে পাঠাননি। তবে বাড়িতে শিক্ষাদানে কার্পণ্য করেননি। শিলাইদহে কয়েকজন শিক্ষক রেখেছেন। ইংরেজির ভিত্তি যেন পাকা হয় সেজন্যে লরেন্স নামক একজন ইংরেজকেও নিযুক্ত করেছেন। বাংলা পড়াতেন কবি নিজেই। শান্তিনিকেতনে পড়ার সময়ও ব্যবস্থা করেছেন অতিরিক্ত পাঠদানের। এর বাইরে পালি, জার্মান ও সংস্কৃত ভাষা শেখানোর প্রয়াস পেয়েছেন, উদ্যোগ নিয়েছেন কুস্তি আর জুজুৎসু শেখাতে। ছেলের সাহিত্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য সহায়তা নিয়েছেন মোহিতচন্দ্র সেন আর সতীশচন্দ্র রায়ের। এতসব দেখে মনে হয় তিনি রথীন্দ্রনাথকে বহুবিদ্যাবিশারদ করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। কিন্তু পুত্রের ভবিষ্যৎ পেশা কী হতে পারে, সে সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের সামনে কোনো নিশ্চিত ছবি ছিল কি? নাকি এ ক্ষেত্রেও ঠাকুরবাড়ির সেই প্রবাদতুল্য বাক্য—Babu often changes his mind, সমভাবে প্রযোজ্য?

    ১৯০৩ সালে শ্রীশচন্দ্রকে লেখা একটি পত্রে রবীন্দ্রনাথ পুত্রকে উচ্চশিক্ষার্থে জাপান পাঠানোর চিন্তা করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘এন্ট্রান্স পাস করিয়েই রথীকে আমি জাপানে mining অথবা আর কোনো practical বিষয় শিখতে পাঠাব।’ রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছে ছিল পুত্র ঐ সকল বিষয়ে শান্তিনিকেতনে শিক্ষাদান করবে। আমরা দেখেছি যে এর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ছেলেকে তিনি জাপান নয়, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন কৃষিবিষয়ে উচ্চশিক্ষার্থে। পিতার আদেশ শিরোধার্য করে রথীন্দ্রনাথ জাহাজে চেপে বসেছেন। কিন্তু আমরা যেন সে যগের পরিপ্রেক্ষিত মনে রাখি। কৃষিবিদ্যা যে একটা পেশা হতে পারে—সে সম্বন্ধে তখন বঙ্গদেশে কারও সেরকম ধারণাই ছিল না, বিশেষত বড়ঘরের ছেলেরা তখন আইসিএস বা নিদেনপক্ষে ব্যারিস্টার হবার জন্য বিলেতে পড়তে যেত। এ প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, জীবনব্যাপী নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অভ্যস্ত রবীন্দ্রনাথের কাছে এ সিদ্ধান্ত যতটা সহজ ছিল, রথীন্দ্রনাথের ততটা আগ্রহ ছিল কি?

    রথীন্দ্রনাথ ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে, ইলিনয়ে এবং জার্মানির গোটিঙেনে গবেষণা শুরু করেছেন, কিন্তু শেষ করেননি। গবেষণা শেষ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ তাগিদ দিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলে না। বরং প্রথম দুবারের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গী হতে গিয়ে গবেষণা শেষ করতে পারেননি। ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রতিমা দেবী সহযোগে ইংল্যান্ডে গিয়ে রথীন্দ্রনাথ অধ্যাপক উইলিয়াম বেটসনের অধীনে গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যুক্তরাষ্ট্রে যাবার সিদ্ধান্ত নিলে তাতে ছেদ পড়ে। পুত্র ও পুত্রবধূকে তাঁর সঙ্গে যেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রথীন্দ্রনাথ তাঁর পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় ইলিনয়ে পিএইচডির কাজ শুরু করেন। এ সময় রবীন্দ্রনাথ এক চিঠিতে জগদানন্দ রায়কে জানান যে, তাঁর ইচ্ছা রথীন্দ্রনাথ আরও তিন বছর এখানে কাটান, পরে আরও দুবছর ক্যামব্রিজে গবেষণা করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজেই সে ইচ্ছায় বাদ সাধেন, ইংল্যান্ডে ফেরার সময় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন। এ সিদ্ধান্তে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা সম্পর্কে জানা যায় রোটেনস্টাইনকে লেখা ১৯১২ সালের ১৬ নভেম্বরের এক চিঠিতে:

    I have almost persuaded Rathi to wind up his affairs here and accompany me to England by end of March or beginning of April.

    রথীন্দ্রনাথ ১৯০৯ সালের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে গেলেন, দেশে ফিরলেন ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে। পিতা তাঁকে জমিদারির কাজ বুঝিয়ে দিলেন। এর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ১৯১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রথীন্দ্রনাথকে বিয়ের পিঁড়িতে বসালেন। পাত্রী ঠাকুরবাড়িরই আত্মীয়, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরদের ভাগ্নি প্রতিমা দেবী। তিনি বিধবা, এটি তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে। মৃণালিনী দেবী প্রতিমা দেবীকে পুত্রবধূ করতে চেয়েছিলেন, নানা কারণে সেটি হয়নি। কন্যাপক্ষ তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দেয়, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বামী সাঁতার শিখতে গিয়ে গঙ্গায় ডুবে মারা যায়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে, পরলোকগত স্ত্রীর ইচ্ছা পূর্ণ করতেই রবীন্দ্রনাথ প্রতিমা দেবী বিধবা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ‘বিধবা হওয়া সত্ত্বেও’ কথাটি বলতে হচ্ছে, কেননা, ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ বিধবা বিবাহের অনুকূলে ছিল না। এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের মনোভাব সুস্পষ্ট নয়। তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা বা সমর্থন কোনোটিই করেননি। তবে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিধবা বিয়ের ঘোর বিরোধী ছিলেন—একথা স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে বলেন্দ্রনাথের স্ত্রীর ঘটনা পাঠকদের মনে পড়তে পারে। বলেন্দ্রনাথের অকালমৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সাহানা দেবীর বাপের বাড়ির লোকজন তাঁকে পুনরায় বিয়ে দেবার উদ্যোগ নিলে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথকে পাঠিয়ে তাঁকে পিত্রালয় থেকে ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে আসেন। তাঁর পুনর্বিবাহের চেষ্টার সেখানেই ইতি ঘটে। রথীন্দ্রনাথের বিয়ে নিয়েও গোড়ার দিকে রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতার আশঙ্কা করেছিলেন, কিন্তু তা আমলে নেননি। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর মধ্যে মারা গিয়েছেন, পরিবারে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা তখন প্রায় কর্তা পর্যায়ের। হয়ত সে কারণে নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা তাঁর জন্য সহজ হয়েছিল।

    প্রতিমা দেবীকে পুত্রবধূ করে ঘরে আনার পেছনে মৃণালিনী দেবীর ইচ্ছা পূরণ একটি কারণ হতে পারে। সেটি হবারই সমধিক সম্ভাবনা। কিন্তু আরও একটি বিষয় আমাদের কৌতূহল উদ্রেক করে। মৃণালিনী দেবী মারা যাবার বছরখানেকের মধ্যে স্বর্ণলতা নামের এক অপরূপা বিধবার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল। শোনা যায় যে এ বিয়েতে রবীন্দ্রনাথেরও সম্মতি ছিল। তবে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তখনও বেঁচে। তাঁর বিরোধিতায় বিষয়টি আর এগোয়নি। এ জন্য রবীন্দ্রনাথের কোনো ক্ষোভ ছিল কি না বা এর সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের পাত্রী নির্বাচনের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, ইতিহাস এ বিষয়ে নীরব।

    যে কারণেই রবীন্দ্রনাথ প্রতিমা দেবীকে পুত্রবধূ হিসেবে নির্বাচন করে থাকুন না কেন, এ বিষয়ে ছেলের মনোভাব কী ছিল এ-ও আমাদের জানা নেই। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তথা রথীন্দ্রনাথ ও প্রতিমা দেবীর বিয়ের প্রথম ৩০ বছরের মধ্যে বড় ধরনের কোনো দাম্পত্য কলহের কথা শোনা যায়নি, একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য যে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্ত্রীর প্রেমে কখনও যাকে বলে হাবুডুবু খাননি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শিথিল হতে থাকে। প্রতিমা দেবী সবসময়ই রথীন্দ্রনাথের প্রতি অনুগত ছিলেন, তবে রথীন্দ্রনাথ তা ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। দুজনের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ না হলেও এক পর্যায়ে রথীন্দ্রনাথ দেরাদুনে চলে যান, যেখানে তাঁর সময় কাটে বান্ধবী, তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে। মনে হয় ভিতরে ভিতরে কোনো রক্তক্ষরণ থাকলেও রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি পুত্র ও পুত্রবধূর দাম্পত্য বন্ধন অটুট রাখতে সহায়তা করেছিল। রথীন্দ্রনাথের বোনদের সংসার সুখের হয়নি, পিতা হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে সে বেদনা বইতে হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন ছেলের সংসারে না হয়, কবি সে সম্পর্কে সজাগ এবং সচেষ্ট ছিলেন। ১৯১০ সালের মে মাসের ২ তারিখ, অর্থাৎ রথীন্দ্রনাথের বিয়ের মাত্র ৪ মাসের মধ্যে পুত্রকে লেখা এক চিঠিতে প্রতিমাকে ‘কেবল গৃহিণী এবং ভোগের সঙ্গিনী’ হিসেবে না দেখে তাঁর ‘চিত্তকে জাগিয়ে তোলার’ জন্য কবি উপদেশ দেন। লিখেন:

    তাকে মানুষ হিসেবে সমগ্রভাবে তোকে দেখতে হবে-কেবল গৃহিণী এবং ভোগের সঙ্গিনীভাবে নয়। ওর মধ্যে যে বিশেষ শক্তি আছে তার কোনোটা যদি অনাদরে নষ্ট হয় তাহলে ওর সমস্ত প্রকৃতিতে তার আঘাত লাগবে—এই কথা স্মরণ করে কেবলমাত্র নিজের রুচি, ইচ্ছা ও প্রয়োজনের দিক থেকে প্রতিমাকে দেখলে হবে না—ওর নিজের দিক থেকে ওকে সম্পূর্ণ করে তুলতে হবে, এই ভার তোরই উপর।

    অন্যদিকে ১৯১৪ সালে তিনি প্রতিমা দেবীকে লিখেছেন:

    তোমাদের পরস্পরের জীবন যাতে সম্পূর্ণ এক হয়ে ওঠে সেদিকে বিশেষ চেষ্টা রেখো। মানুষের হৃদয়ের যথার্থ পবিত্র মিলন, সে কোনোদিন শেষ হয় না –প্রতিদিন তার নিত্য নতুন সাধনা। ঈশ্বর তোমাদের চিত্তে সেই পবিত্র সাধনাকে সজীব করে জাগ্রত করে রেখে দিন, এই আমি কামনা করি।

    রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় প্রতিমা দেবী তাঁর সেবায় নিযুক্ত থাকতেন। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর তাঁর সেবায় ইচ্ছুক ব্যক্তির কমতি ছিল না, বরং আধিক্যই ছিল। কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের অধিকারী রবীন্দ্রনাথ সবার সেবা নিতে পারতেন না। প্রতিমা দেবী তাঁর রুচি ও মন-মানসিকতা বুঝতেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর সেবায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। রথীন্দ্রনাথকে লেখা এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “বৌমাকে বলিস তিনি যেন আমাকে তাঁর একটা অসুস্থ শিশুর মত দেখেন।” পুত্রবধূ একাধারে রবীন্দ্রনাথের সেবক ও অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু এ ‘অসুস্থ শিশু’কে সময় দিতে গিয়ে তিনি নিজের স্বামীকে তাঁর প্রাপ্য সময় থেকে বঞ্চিত করেননি তো? এ বিষয়ে নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন:

    নিজে অহরহ অসুস্থ থেকেও প্রতিমা তাঁর ‘বাবামশায়’-এর যত্নে কোনও কার্পণ্য করেননি। রবীন্দ্রনাথের ক্রমবর্ধমান পরিচিতি ও তাঁর বিপুল কর্মযজ্ঞ প্রতিমাকে নিরন্তর ব্যস্ত করে রেখেছিল। রথীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের আলোকচিত্রগুলো দেখলেও মনে হয়, আনন্দের মুহূর্তেও আশ্চর্য এক বিষণ্ণতায় আবৃত যেন রথীন্দ্রনাথ। অপার এক নিঃসঙ্গতায় যেন চির উদাসী তিনি। যেখানেই আলোকচিত্রে প্রতিমা- রথীন্দ্র আর রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন, প্রতিমাই যেন বাবামশায়ের অধিক ঘনিষ্ঠ সেখানে।

    তিনি আরও লিখেছেন:

    রবীন্দ্রনাথের নিরন্তর সেবা করে প্রতিমা রথীন্দ্রের জন্যে কতটা সময় দিতে পেরেছিলেন তার সঠিক ধারণা করা যায় না। মনে হয় রথীন্দ্রনাথ এ বিষয়ে ভিতরে ভিতরে ক্রমশ অভিমানী হয়ে উঠেছিলেন।

    পিতার মৃত্যুর পর এ ‘অভিমানী’ পুত্রের সামনে আর কোনো মহীরুহ থাকল না। প্রথমবারের মত তিনি বিশ্বকবির পুত্রের খোলস থেকে বেরিয়ে রথীন্দ্রনাথ হয়ে উঠলেন।

    ৪.

    ১৯২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশান্তকুমার মহলানবিশকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন:

    এখানে এসে অবধি আমার মনটা অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে আছে। তার প্রধান কারণ এখানে আমাদের কর্মের মধ্যে রথী প্রভৃতির সম্বন্ধে ভারি একটা বিরুদ্ধতা জমে উঠেছে। সেটা বড় জঞ্জাল। রথীরা নিজেদের যে পরিমাণে দিয়েছে ও করেছে তার সমস্ত হিসাব এরা এদের মনের কালি দিয়ে লুপ্ত করে দিল—ছোট ছোট খুঁৎ স্খলন নিয়ে কেবলি জব্দ করার জন্যে উৎসুক হয়ে রয়েছে।

    মৃত্যুর পনের বছর আগে রবীন্দ্রনাথকে যা ব্যথিত করেছিল, শান্তিনিকেতনে সেই রথীন্দ্রবিরোধিতা কখনোই হ্রাস পায়নি। পুত্রস্নেহে অন্ধ হয়ে রথীন্দ্রনাথের ন্যায্য-অন্যায্য সকল কর্মকাণ্ড সমর্থন করেছেন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের দিকেও এরকম অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে। বাবু-বৃত্তান্ত নামক সমর সেনের স্মৃতিকথায় দেখতে পাই:

    শ্রীনিকেতনের কোনো ব্যাপার নিয়ে শুনেছি বাবার সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের মতভেদ হওয়াতে রবীন্দ্রনাথ পুত্রের পক্ষ নেন, ফলে বাবা বিশেষ সম্পর্ক রাখেননি। শুনতাম বিশ্বভারতীর আর একটা নাম বিশ্ব-বা-রথী।

    অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯৪০ সালে আইসিএস চাকরি ছেড়ে দিয়ে শান্তিনিকেতনে বাস করার কথা চিন্তা করেছিলেন। চাকরি ছাড়ার আগে তিনি সপরিবারে শান্তিনিকেতনে থাকতে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, ওখানে থাকতে ভালো লাগলে চাকরি ছেড়ে দেবেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি নয়, শান্তিনিকেতন ছেড়েছেন। ছেলের পড়াশুনার সমস্যা আর অন্য একটি কারণে তিনি সেখানে থাকেননি। অন্য কারণটি সম্পর্কে তাঁর স্মৃতিকথা যুক্তবঙ্গের স্মৃতিতে লিখেছেন :

    চাকরিতে ফিরে যাবার অন্য কারণও ছিল। আমি আঁচ করতে পেরেছিলুম যে সামাজিক সম্পর্ক যতই মধুর হোক না কেন, রথীন্দ্রনাথের মর্জিনির্ভর হয়ে আমি কাজ করতে পারতুম না। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের মর্জিও ছিল জমিদারি মর্জি। যাকে পছন্দ করতেন না সে তুচ্ছ কারণে বিদায় হতো।

    ইন্দিরা গান্ধী শান্তিনিকেতনের ছাত্রী ছিলেন ১৯৩৪-৩৫ সালের দিকে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করেছেন:

    …there was not much ‘political’ politics at Santiniketan. There were some local politics or jealousies…

    এই স্থানীয় রাজনীতি-ই বলি আর হিংসা-ই বলি, রথীন্দ্রনাথ ভয়ংকরভাবে এর শিকার হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর শান্তিনিকেতনে প্রায় একঘরে হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

    রথীন্দ্রনাথের জগৎ থেকে একদিকে চারপাশের লোকজন ধীরে ধীরে সরে গেছেন, অন্যদিকে তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছেন মীরা চট্টোপাধ্যায় নামের এক বিবাহিতা নারী[১]। স্বামী নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। আগে থেকে কিছু জানাশোনা থাকলেও রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরই নির্মলচন্দ্র ও মীরার সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের সম্পর্ক গাঢ় হয়। ১৯৫১ সালে রথীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হলে তাঁরা প্রায়ই তাঁর নিকট যেতেন। সম্পর্ক এতটা ঘনিষ্ঠতায় গড়ায় যে তা নিয়ে চারদিকে কানাকানি শুরু হয়। বিশেষ করে একবার মীরা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে হাজারিবাগে বেড়াতে গেলে শান্তিনিকেতনে তীব্র সমালোচনা হয়। বেড়াতে যাবার খবরটি Blitz নামক একটি পত্রিকায় কটাক্ষ করে ছাপা হয়, যদিও এতে রথীন্দ্রনাথের নাম প্রকাশ করা হয়নি। চারদিকের রসালো আলোচনা সম্পর্কে রথীন্দ্রনাথ জানতেন, কিন্তু মীরা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হয়ত তিনি এমন কিছু পেয়েছিলেন যে সেসবকে পাত্তা দেননি। মীরাকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন:

    এই অবস্থায় তুমি এলে। যা চাচ্ছিলুম, যার অভাবে মন অসাড় হয়ে গিয়েছিল তোমার মধ্যে তা দেখতে পেয়ে অন্তরাত্মা উল্লসিত হয়ে উঠল। একটুও দ্বিধা বোধ হয়নি, তোমাকে চিরবাঞ্ছিত বলে চিনতে একদিনও দেরি হয়নি, তোমাকে আপনার বলে তখুনি বরণ করে নিলুম।

    আমি তৃপ্ত হলুম, নিঃসঙ্গ জীবনে সঙ্গী পেলুম, নিজেকে ধন্য বোধ করলুম। বাইরের জগৎ অদৃশ্য হয়ে গেল—তোমার মধ্যেই আমার সমস্ত জগৎ পেয়ে গেলুম।

    মীরা চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে রথীন্দ্রনাথ ‘সমস্ত জগৎ’ পেলেন বটে, তবে হারালেন শান্তিনিকেতনকে, অথবা উল্টোভাবে বললে, শান্তিনিকেতন হারালো তার প্রতিষ্ঠাতার পুত্রকে, বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্যকে।

    [১. এ আলোচনায় রবীন্দ্রনাথের কন্যা মীরাকে আমরা মীরা দেবী হিসেবে উল্লেখ করেছি।]

    ৫.

    জন্মেছিলেন বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প, বাণিজ্য, ধর্ম ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে প্রোজ্জ্বল বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে। প্রপিতামহ দ্বারকানাথ, আর পিতামহ দেবেন্দ্রনাথ স্ব-নামে ভাস্বর। আরও বেশি স্বনামধন্য পিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রথীন্দ্রনাথের নিজের গুণও কম ছিল না। তিনি ছিলেন আধুনিক কৃষিবিদ্যা, প্রকৃতিবিদ্যা আর উদ্যান-স্থাপত্যবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ। দীর্ঘকাল শান্তিনিকেতনের কর্মসচিব ছিলেন, পরে হয়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। প্ৰাণতত্ত্ব আর অভিব্যক্তি নামের বই লিখেছেন, ২ খণ্ডে অনুবাদ করেছেন অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত। হাতের কাজে ছিলেন চমৎকার—কাঠের কাজ জানতেন, চামড়ার কাজ জানতেন। পারতেন এস্রাজ বাজাতে আর সুস্বাদু রান্না করতে। ছবি আঁকতে পারতেন ভালো, জওহরলাল নেহেরু দিল্লিতে তাঁর ছবির একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন। প্রসাধনী ও পারফিউম বানাতে জানতেন, সেগুলোর কিছু বাজারজাতও করেছিলেন। এমন একজন মানুষ কখনও পাদপ্রদীপের আলোয় আসেননি, নীরবে-নিভৃতে নিজের কর্তব্য পালন করে গেছেন। জওহরলাল তাঁকে রাষ্ট্রদূত করে বিদেশে পাঠাতে চেয়েছিলেন, বিশ্বভারতীর কথা ভেবে তিনি রাজি হননি। রবীন্দ্রনাথ পুত্রের ত্যাগকে স্মরণীয় করে রেখেছেন রথীন্দ্রনাথের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে লেখা ‘কল্যাণীয় রথীন্দ্রনাথ’ নামক একটি কবিতায়—

    সেদিনের ভোজের পাত্রে রাখনি ভোগের আয়োজন,
    অন্যের প্রশ্রয় হতে আপনারে করেছ বঞ্চিত….
    তপস্যার ফল তব প্রতিদিন ছিলে সমর্পিতে
    আমারি খ্যাতিতে। …
    কর্মের যেখানে উচ্চদাম
    সেখানে কর্মীর নাম
    নেপথ্যেই থাকে একপাশে।
    মানবের ইতিহাসে।

    রথীন্দ্রনাথের পালিতা কন্যা নন্দিনী (পুপে) জানাচ্ছেন, তাঁর পিতার সমস্ত জীবন কেটেছে পিতামহের সেবায়। তাঁর বিষয়ে প্রায় সমস্ত স্মৃতিকথায় এ বিষয়ের সাক্ষ্য মেলে। যারা দীর্ঘকাল ধরে দেখেছেন তাদের তো বটেই, স্বল্পকালীন অভিজ্ঞতায় বিদেশিদের নজরেও তা পড়েছে। কালিদাস নাগের নিকট এক চিঠিতে রোমাঁ রোল্যা লিখেছেন:

    মনে হল রবীন্দ্রনাথের ছেলে খুবই পিতৃভক্ত, আড়ালে আড়ালে থাকতে চায়, একটু বেশি রকমেরই যেন। মানুষটি শান্ত, দুঃখই হয় তাঁকে বাবার ছায়ায় হারিয়ে যেতে দেখে।

    এই ‘বাবার ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া’ মানুষটির নিজেরও কি এ কারণে দুঃখবোধ ছিল? নইলে শান্তিনিকেতন ছেড়ে দেরাদুনে চলে যাবার কারণ হিসেবে তিনি লিখেছিলেন ‘I am going into seclusion because I want to discover myself…’? কেন তিনি ত্যাগ করেছিলেন শান্তিনিকেতনের সঙ্গে সেখানকার পোশাক-আশাকও? শান্তিনিকেতনে তিনি রবীন্দ্রনাথের মতই জোব্বা পরতেন, কিন্তু দেরাদুনে পরতেন প্যান্ট-শার্ট। শেষ জীবনটি কি তাহলে একেবারেই নিজের মত করে কাটাতে চেয়েছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব মেলে না।

    বড় ঘরে জন্ম নেয়া এ মানুষটি লাজুক ছিলেন, ছিলেন কর্মী, তবে বিলাসিতা পছন্দ করতেন। বোধহয় বেহিসেবিও ছিলেন কিছুটা। যদিও রবীন্দ্রনাথ ঠিক উল্টো চেয়েছিলেন। মৃণালিনী দেবীকে তিনি লিখেছেন,

    রথীকে আমি উচ্চতর জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে চাই—সুতরাং নিয়ম সংযম এবং কৃচ্ছ্র সাধন করতেই হবে…

    কিন্তু পুত্রের উপনয়নে ধুমধাম আর খরচের বাহার থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে রথীন্দ্রনাথের লালন-পালনে কৃচ্ছ্র সাধন হয়নি। রবীন্দ্রনাথ নিজেও সেটা জানতেন। রথীন্দ্রনাথের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়েছিলেন সন্তোষচন্দ্র। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর ঠিক আগে রবীন্দ্রনাথ তাকে নিজের পুত্র সম্পর্কে বলেছিলেন,

    সন্তোষ, তোমরা দূরদেশে যাচ্ছ। —রথী ছেলেবেলা থেকে আনন্দ আহ্লাদের মধ্যেই প্রধানত মানুষ হয়ে এসেছে, আজও দুঃখকে ও জানে না, ওর জন্য আমার ভাবনা আছে। আজও ও স্রোতের মধ্যে গা ভাসিয়ে দেয়।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে রথীন্দ্রনাথ গাড়ি কিনেছিলেন, পরে আবার নতুন গাড়ি কিনেছেন, সেটি নিয়ে শান্তিনিকেতনে সমালোচনা হয়েছে। শান্তিনিকেতনের বাড়ি উদয়নকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যে নিন্দুকেরা একে ‘রাজপ্রাসাদ’ নাম দিয়েছিল। পরে দেরাদুনে যে বাড়ি নির্মাণ করেন, সেটির সাজসজ্জাও আরামদায়ক করার চেষ্টা করেছেন। মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর রবীন্দ্রনাথ: গৃহে ও বিশ্বে নামক গ্রন্থের ‘কুটিরবাসী’ প্রবন্ধে লিখেছেন: ‘রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই একখানা ঘরের ‘উদয়নগৃহ’ রথীবাবুর হাতে ক্রমেই ইন্দ্রপুরী হয়ে উঠল।’ ‘রূপদর্শী জনের নয়ন নন্দন’ এ প্রাসাদোপম গৃহে রবীন্দ্রনাথ অবশ্য থাকতে চাইতেন না। নানাজনের স্মৃতিকথা থেকে আরও জানা যায় যে রথীন্দ্রনাথ বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে তাসের আড্ডা জমাতে ভালোবাসতেন। কবির এটা অপছন্দের ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে পিতার আপত্তি পুত্রকে দমাতে পারেনি।

    রবীন্দ্রনাথ: গৃহে ও বিশ্বে-র ‘গৃহী রবীন্দ্রনাথ’ নামক প্রবন্ধের ‘সংসারী রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে হেমলতা দেবী’ অংশে দেখা যায় ছেলেকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ মর্মযাতনায় ভুগতেন। হেমলতা দেবী আলাপচারিতায় জানাচ্ছেন যে তিনি নাকি রথীন্দ্রনাথের বিষয়ে প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন:

    নিজের ছেলেমেয়ে মানুষ করতে পারলুম না, ব্রহ্মাচর্যাশ্রম করে কী হবে? লোকে আমার কাছে ছেলে দেবে কেন? কী শিক্ষা দেব আমি? নিজের ছেলেকে যে শেখাতে পারল না, সে অন্যকে কী শেখাবে?

    হেমলতা দেবী রবীন্দ্রনাথেরও কিছু দুর্বলতা দেখতে পেয়েছেন। ছেলের প্রতি কবির স্নেহাধিক্য দেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে রবীন্দ্রনাথ কেন ছেলের সব সহ্য করতেন? তাঁর মতে, তিনি ছেলের হাতে সব তুলে দিয়ে বসে না থাকলে রথীন্দ্রনাথের এত ‘বাড় হত না’। এত ক্ষমতা এত সম্পত্তি হাতে যাওয়াটা কবিপুত্রের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে হেমলতা দেবীর বিশ্বাস। তিনি আরও জানাচ্ছেন যে রথীন্দ্রনাথের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে শান্তিনিকেতনে যে ঘটা করে উৎসব পালন করা হয়, এটার কোনো দরকার ছিল না মনে করে রবীন্দ্রনাথ এতে যেতে চাননি। পরে অবশ্য পিতার মনের কাছে কবি হার মেনেছেন, সে উৎসবে যোগ দিয়েছেন এবং ‘কল্যাণীয় রথীন্দ্রনাথ’ নামের দীর্ঘ কবিতাও লিখেছেন।

    বাইরের সমাজে রথীন্দ্রনাথের ইমেজ কী ছিল, ‘কল্যাণীয় রথীন্দ্রনাথ’ কবিতা প্রকাশের চেষ্টা থেকেও তা আঁচ করা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ এটি পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী পত্রিকায়। কবির অনেক সমালোচক থাকলেও প্রবাসী সম্পাদক রামানন্দবাবু তাঁর ভক্ত ছিলেন। তাঁর যেকোনো লেখাই তিনি ছাপিয়েছেন। হেমলতা দেবীর ভাষায় তাঁর একলাইন লেখা পেলেও ‘মাথায় করে রাখতেন’। সেই রামানন্দবাবু এ লেখা ছাপাতে রাজি হননি। ঘনিষ্ঠদের বলেছেন যে কবিকে এত বড় ভুল তিনি করতে দেবেন না। রথীন্দ্রনাথ ত্যাগী নন, ত্যাগ কাকে বলে তিনি জানেন না।

    শান্তিনিকেতনের কর্মপরিবেশে রথীন্দ্রনাথ ধীরে ধীরে একা হয়ে যাচ্ছিলেন। স্ত্রী প্রতিমা দেবী, বেঁচে থাকা একমাত্র বোন মীরা দেবী কিংবা ঠাকুর পরিবারের অন্য কেউ সে শূন্যতা পূরণ করতে পারেননি। মীরা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ভাইয়ের ওপর মীরা দেবী কিছুটা বিরক্তও ছিলেন। রথীন্দ্রনাথের মতে, মীরা দেবীর জামাতা কৃষ্ণা কৃপালনিও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধগোষ্ঠী ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাঁর বিষয়ে অসন্তুষ্ট করে তোলে, এমনকি কান ভারি করে জওহরলাল নেহেরুরও। নানাবিধ কারণে রথীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এবং শেষ পর্যন্ত শান্তিনিকেতন ছেড়ে দেরাদুনে চলে যান। জীবনের শেষ বছরগুলো সেখানেই কাটান। যুক্তরাষ্ট্রের Mayce Seymour কে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ লেখা রথীন্দ্রনাথের একটি চিঠিতে পুরো বিষয়টির একটি চিত্র পাওয়া যায়:

    …It is a sad story. I had myself sought for recognizing Santiniketan in a charter as a Statutory University from the Government for Visva Bharati. But I began to repent as soon as it was obtained. The character of the institution began to change but what was worse the mentality of the staff. Power politics crept in in all its ugliness. The first to suffer was myself the head of those who wanted a change felt thwarted. So I had to go… disheartened as I was by the attitude and behavior of my life-long friends and even members of my family.

    পরিবেশ কতটা বিষিয়ে উঠলে তিনি শান্তিনিকেতন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন? আমরা দুটি বিষয়ের দিকে আলোকপাত করব। এক. একটি মামলা। অচ্যুতানন্দ ঘোষ নামীয় বিশ্বভারতীর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিশ্বভারতীর দশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে মামলা হয়। এর সঙ্গে রথীন্দ্রনাথও জড়িত আছেন মর্মে প্রচার পায়। তাঁকে কয়েকবার আদালতে হাজিরা দিতে হয়। রথীন্দ্রনাথের যৌবনে কাছাকাছি ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। পতিসরের চাষিদের কল্যাণে নোবেল পুরস্কারের টাকায় স্থাপিত ব্যাংক থেকে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে অর্থ তুলেছিলেন রথীন্দ্রনাথ এবং তাঁর ভগ্নিপতি নগেন্দ্রনাথ, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এরকম পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু তাই বলে বিশ্বভারতীর টাকা আত্মসাৎ করবেন রথীন্দ্রনাথ? এ অভিযোগ অবিশ্বাস্য। বরং অন্য যে ভাষ্যটি প্রচলিত আছে, সেটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। অচ্যুতবাবুকে রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, তাঁকে তিনি একটি ফাঁকা চেক স্বাক্ষর করে দেন, সেটি ব্যবহার করে অচ্যুতানন্দ অর্থ আত্মসাৎ করেন, আর চেকে স্বাক্ষর থাকার কারণে রথীন্দ্রনাথ নিজেও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যান। দুই. বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষের মনোভাব। রথীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী থেকে পদত্যাগ করেন ১৯৫৩ সালে। এর পর তিনি দেরাদুন চলে যান। কিন্তু দূরদেশে থাকলেও তাঁর প্রতি বিরুদ্ধগোষ্ঠীর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১৯৬১ সালে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্রশতবার্ষিকীতে তাঁরা অবহেলার চূড়ান্ত করেছেন। রথীন্দ্রনাথ উপাচার্যের পদ ছেড়েছিলেন বটে, তবে তখনও তিনি ‘বিশ্বভারতী সোসাইটি’র সম্পাদক, বিশ্বভারতী সংসদের সদস্য এবং রবীন্দ্রভারতীর পরিচালক। কিন্তু রবীন্দ্রশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পরামর্শমণ্ডলীতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এ বিষয়ে কোনো পরামর্শও নেয়া হয়নি। অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন বিলম্বে। উপেক্ষিত, অপমানিত, ক্ষুব্ধ রথীন্দ্রনাথ শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। আর কোনো যোগ্যতা না থাকুক, রবীন্দ্রনাথের জীবিত পুত্র হিসেবেও তো শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে রথীন্দ্রনাথের একটা আলাদা জায়গা থাকার কথা। সে প্রাপ্য সম্মান থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

    এমনি একটি পরিবেশে, শান্তিনিকেতন থেকে দূরে, দেরাদুনে, আত্মীয়- পরিজনহীন নির্জনে রথীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন On the edges of time. বইটিতে যদি ছোটখাটো অসঙ্গতি থেকেও থাকে, আমরা যেন মনে রাখি যে বিশ্বভারতী বা শান্তিনিকেতনের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে সেগুলো ঠিক করার মত অবস্থায় তিনি ছিলেন না। বইটি প্রকাশের বছর তিনেকের মধ্যে, ১৯৬১ সালে তিনি মারা যান। বইটি বের হলে এর একটি বাংলা সংস্করণ করার জন্য অনেকে রথীন্দ্রনাথকে অনুরোধ করেন। তিনি কাজটি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করার আগেই মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষিতীশচন্দ্র রায় অনুবাদের কাজটি শেষ করেন। পিতৃস্মৃতি নাম নিয়ে বইটি প্রকাশিত হয়, যেকথা আমরা শুরুতেই বলেছি। এর কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ, সেজন্যে আমাদের অনুবাদে গ্রন্থটির নাম আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ রেখেছি। এছাড়া বইয়ের ছবির ক্ষেত্রে অনুবাদকের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়েছি। মূল বইয়ের ২১টি ছবির মধ্যে ১৭টি ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়েকটি ছবির ক্ষেত্রে আরও ভালো ছবি থাকায় সেগুলোর পরিবর্তে বিকল্প ছবি যোগ করা হয়েছে। যেমন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের যে আবক্ষ ছবিটি মূল বইয়ে দেয়া আছে, তা ইংল্যান্ডের স্টুডিওতে তোলা একটি ছবির অংশবিশেষ। অনুবাদে ইংল্যান্ডে তোলা মূল ছবিটিই ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে মূল বইয়ের শেষে সংযোজনী আকারে রবি ঠাকুরের যে বংশপরিচয় দেয়া আছে, তাতে কেবল প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ও তাঁর উত্তরসূরিদের তালিকা আছে। এর পরিবর্তে দ্বারকানাথ ঠাকুরেরও কয়েক পুরুষ পূর্ব থেকে বংশতালিকা ব্যবহার করা হয়েছে। বইটিতে উল্লেখকৃত বিভিন্ন ব্যক্তি বা ঘটনাকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে মূল বইয়ে ছিল না এমন আরও ৩৫টি ছবি বা চিত্র যোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকদের কথা মনে রেখে ‘খুড়তুতো’ বা ‘পিসতুতো’ ভাই-এর পরিবর্তে চাচাত বা ফুফাত ভাই ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসরণ করা হয়েছে বাংলা একাডেমির বানান রীতি।

    অনুবাদ করতে গিয়ে আমার স্ত্রী শাওলী মাহবুব ও কন্যা শ্রেয়সী শাওলী কবিরকে তাঁদের প্রাপ্য সময় ও সাহচর্য থেকে বঞ্চিত করেছি। উৎসাহ পেয়েছি শ্রদ্ধেয় লেখক ড. মাহবুব সাদিক এবং ড. সফিউদ্দিন আহমদের। মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন ইউএনডিপিতে দেখা হওয়া প্রাজ্ঞজন জনাব আফতাব আহমদ। তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ অ্যাডর্ন পাবলিকেশন-এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে, বিশেষ করে স্বত্ত্বাধিকারী সৈয়দ জাকির হোসাইনকে, বইটি প্রকাশে আগ্রহের জন্য। অনুবাদ করতে আমি দীর্ঘ সময় লাগিয়েছি, মাঝে মাঝে নিজে ধৈর্যচ্যুত হয়েছি, কিন্তু তাঁরা হননি। তাঁদের আন্তরিক তাড়া না থাকলে অনুবাদ সম্পন্ন করতে হয়ত আরও সময় লাগত।

    আমার বাড়ি থেকে মাত্র দুমাইল দূরে এক খ্যাতিমান মানবের পৈতৃক ভিটে। তাঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু আমি তাঁর সৃষ্টির একজন ভক্ত ছিলাম ছাত্রজীবন থেকেই। তিনি শিল্পী শাহাবুদ্দিন। তাঁকে এ অনুবাদ উৎসর্গ করলাম বিনম্র শ্রদ্ধায়।

    কবির চান্দ
    মে ২০১৫
    ঢাকা

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }