Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিসর্জন (কাব্য-নাটক) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প17 Mins Read0
    ⤷

    বিসর্জন – ১

    প্রথম অঙ্ক

    প্রথম দৃশ্য

    মন্দির

    গুণবতী

    গুণবতী। মার কাছে কী করেছি দোষ! ভিখারি যে
    সন্তান বিক্রয় করে উদরের দায়ে,
    তারে দাও শিশু–পাপিষ্ঠা যে লোকলাজে
    সন্তানেরে বধ করে, তার গর্ভে দাও
    পাঠাইয়া অসহায় জীব। আমি হেথা
    সোনার পালঙ্কে মহারানী, শত শত
    দাস দাসী সৈন্য প্রজা ল’য়ে, বসে আছি
    তপ্ত বক্ষে শুধু এক শিশুর পরশ
    লালসিয়া, আপনার প্রাণের ভিতরে
    আরেকটি প্রাণাধিক প্রাণ করিবারে
    অনুভব–এই বক্ষ, এই বাহু দুটি,
    এই কোল, এই দৃষ্টি দিয়ে, বিরচিতে
    নিবিড় জীবন্ত নীড়, শুধু একটুকু
    প্রাণকণিকার তরে। হেরিবে আমারে
    একটি নূতন আঁখি প্রথম আলোকে,
    ফুটিবে আমারি কোলে কথাহীন মুখে
    অকারণ আনন্দের প্রথম হাসিটি!
    কুমারজননী মাতঃ, কোন্‌ পাপে মোরে
    করিলি বঞ্চিত মাতৃস্বর্গ হতে?

    রঘুপতির প্রবেশ

                                         প্রভু,
    চিরদিন মা’র পূজা করি। জেনে শুনে
    কিছু তো করি নি দোষ। পুণ্যের শরীর
    মোর স্বামী মহাদেবসম–তবে কোন্‌
    দোষ দেখে আমারে করিল মহামায়া
    নিঃসন্তানশ্মশানচারিণী?

    রঘুপতি।                                      মা’র খেলা
    কে বুঝিতে পারে বলো? পাষাণতনয়া
    ইচ্ছাময়ী, সুখ দুঃখ তাঁরি ইচ্ছা, ধৈর্য
    ধরো। এবার তোমার নামে মা’র পূজা
    হবে। প্রসন্ন হইবে শ্যামা।
    গুণবতী।                                      এ বৎসর
    পূজার বলির পশু আমি নিজে দিব।
    করিনু মানত, মা যদি সন্তান দেন
    বর্ষে বর্ষে দিব তাঁরে এক-শো মহিষ,
    তিন শত ছাগ।
    রঘুপতি।                         পূজার সময় হল।

    [ উভয়ের প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্য অপর্ণা ও জয়সিংহের প্রবেশ

    জয়সিংহ। কী আদেশ মহারাজ?
    গোবিন্দমাণিক্য।                ক্ষুদ্র ছাগশিশু
    দরিদ্র এ বালিকার স্নেহের পুত্তলি,
    তারে নাকি কেড়ে আনিয়াছ মা’র কাছে
    বলি দিতে? এ দান কি নেবেন জননী
    প্রসন্ন দক্ষিণ হস্তে?
    জয়সিংহ।                         কেমনে জানিব,
    মহারাজ, কোথা হতে অনুচরগণ
    আনে পশু দেবীর পূজার তরে।–হাঁ গা,
    কেন তুমি কাঁদিতেছ? আপনি নিয়েছে
    যারে বিশ্বমাতা, তার তরে ক্রন্দন কি
    শোভা পায়?
    অপর্ণা।               কে তোমার বিশ্বমাতা! মোর
    শিশু চিনিবে না তারে। মা-হারা শাবক
    জানে না সে আপন মায়েরে। আমি যদি
    বেলা করে আসি, খায় না সে তৃণদল,
    ডেকে ডেকে চায় পথপানে–কোলে করে
    নিয়ে তারে, ভিক্ষা-অন্ন কয় জনে ভাগ
    করে খাই। আমি তার মাতা।
    জয়সিংহ।                               মহারাজ,
    আপনার প্রাণ-অংশ দিয়ে, যদি তারে
    বাঁচাইতে পারিতাম, দিতাম বাঁচায়ে।
    মা তাহারে নিয়েছেন–আমি তারে আর
    ফিরাব কেমনে?
    অপর্ণা।                         মা তাহারে নিয়েছেন?
    মিছে কথা! রাক্ষসী নিয়েছে তারে!
    জয়সিংহ।                                         ছি ছি,
    ও কথা এনো না মুখে।
    অপর্ণা।                                   মা, তুমি নিয়েছ
    কেড়ে দরিদ্রের ধন! রাজা যদি চুরি
    করে, শুনিয়াছি নাকি, আছে জগতের
    রাজা–তুমি যদি চুরি করো, কে তোমার
    করিবে বিচার! মহারাজ, বলো তুমি–
    গোবিন্দমাণিক্য।      বৎসে, আমি বাক্যহীন–এত ব্যথা কেন,
    এত রক্ত কেন, কে বলিয়া দিবে মোরে?
    অপর্ণা।    এই-যে সোপান বেয়ে রক্তচিহ্ন দেখি
    এ কি তারি রক্ত? ওরে বাছনি আমার!
    মরি মরি, মোরে ডেকে কেঁদেছিল কত,
    চেয়েছিল চারি দিকে ব্যাকুল নয়নে,
    কম্পিত কাতর বক্ষে, মোর প্রাণ কেন
    যেথা ছিল সেথা হতে ছুটিয়া এল না?

    প্রতিমার প্রতি

    জয়সিংহ। আজন্ম পূজিনু তোরে, তবু তোর মায়া
    বুঝিতে পারি নে। করুণায় কাঁদে প্রাণ
    মানবের, দয়া নাই বিশ্বজননীর!

    জয়সিংহের প্রতি

    অপর্ণা। তুমি তো নিষ্ঠুর নহ–আঁখি-প্রান্তে তব
    অশ্রু ঝরে মোর দুখে। তবে এস তুমি,
    এ মন্দির ছেড়ে এস। তবে ক্ষম মোরে,
    মিথ্যা আমি অপরাধী করেছি তোমায়।

    প্রতিমার প্রতি

    জয়সিংহ। তোমার মন্দিরে এ কী নূতন সংগীত
    ধ্বনিয়া উঠিল আজি, হে গিরিনন্দিনী,
    করুণাকাতর কণ্ঠস্বরে! ভক্তহৃদি
    অপরূপ বেদনায় উঠিল ব্যাকুলি।
    হে শোভনে, কোথা যাব এ মন্দির ছেড়ে?
    কোথায় আশ্রয় আছে?

    জনান্তিক হইতে

    গোবিন্দমাণিক্য।                  যেথা আছে প্রেম।

    [ প্রস্থান

    জয়সিংহ।              কোথা আছে প্রেম!
    অয়ি ভদ্রে, এস তুমি
    আমার কুটিরে। অতিথিরে দেবীরূপে
    আজিকে করিব পূজা করিয়াছি পণ।

    [ জয়সিংহ ও অপর্ণার প্রস্থান

    দ্বিতীয় দৃশ্য

    রাজসভা

    রাজা রঘুপতি ও নক্ষত্ররায়ের প্রবেশ

    সভাসদ্‌গণ উঠিয়া

    সকলে। জয় হোক মহারাজ!
    রঘুপতি।                        রাজার ভাণ্ডারে
    এসেছি বলির পশু সংগ্রহ করিতে।
    গোবিন্দমাণিক্য।         মন্দিরেতে জীববলি এ বৎসর হতে
    হইল নিষেধ।
    নয়নরায়।                                বলি নিষেধ!
    মন্ত্রী।                                                 নিষেধ!
    নক্ষত্ররায়।                তাই তো! বলি নিষেধ!
    রঘুপতি।                                            এ কি স্বপ্নে শুনি?
    গোবিন্দমাণিক্য।          স্বপ্ন নহে প্রভু! এতদিন স্বপ্নে ছিনু,
    আজ জাগরণ। বালিকার মূর্তি ধ’রে
    স্বয়ং জননী মোরে বলে গিয়েছেন,
    জীবরক্ত সহে না তাঁহার।
    রঘুপতি।                                               এতদিন
    সহিল কী করে? সহস্র বৎসর ধ’রে
    রক্ত করেছেন পান, আজি এ অরুচি!
    গোবিন্দমাণিক্য।          করেন নি পান। মুখ ফিরাতেন দেবী
    করিতে শোণিতপাত তোমরা যখন।
    রঘুপতি।               মহারাজ, কী করিছ ভালো করে ভেবে
    দেখো। শাস্ত্রবিধি তোমার অধীন নহে।
    গোবিন্দমাণিক্য।          সকল শাস্ত্রের বড়ো দেবীর আদেশ।
    রঘুপতি।               একে ভ্রান্তি, তাহে অহংকার! অজ্ঞ নর,
    তুমি শুধু শুনিয়াছ দেবীর আদেশ,
    আমি শুনি নাই?
    নক্ষত্ররায়।                                   তাই তো, কী বলো মন্ত্রী,–
    এ বড়ো আশ্চর্য! ঠাকুর শোনেন নাই?
    গোবিন্দমাণিক্য।          দেবী-আজ্ঞা নিত্যকাল ধ্বনিছে জগতে।
    সেই তো বধিরতম যেজন সে বাণী
    শুনেও শুনে না।
    রঘুপতি।                                  পাষণ্ড, নাস্তিক তুমি!
    গোবিন্দমাণিক্য।          ঠাকুর, সময় নষ্ট হয়। যাও এবে
    মন্দিরের কাজে। প্রচার করিয়া দিয়ো
    পথে যেতে যেতে, আমার ত্রিপুররাজ্যে
    যে করিবে জীবহত্যা জীবজননীর
    পূজাচ্ছলে, তারে দিব নির্বাসন-দণ্ড।
    রঘুপতি।              এই কি হইল স্থির?
    গোবিন্দমাণিক্য।                                  স্থির এই।
    উঠিয়া
    রঘুপতি।                                                       তবে
    উচ্ছন্ন! উচ্ছন্ন যাও!

    ছুটিয়া আসিয়া

    চাঁদপাল।              হাঁ হাঁ! থামো! থামো!
    গোবিন্দমাণিক্য।         বোসো চাঁদপাল। ঠাকুর, বলিয়া যাও।
    মনোব্যথা লঘু করে যাও নিজ কাজে।
    রঘুপতি।              তুমি কি ভেবেছ মনে ত্রিপুর-ঈশ্বরী
    ত্রিপুরার প্রজা? প্রচারিবে তাঁর ‘পরে
    তোমার নিয়ম? হরণ করিবে তাঁর
    বলি? হেন সাধ্য নাই তব। আমি আছি
    মায়ের সেবক।

    [ প্রস্থান

    নয়নরায়।                                  ক্ষমা করো অধীনের
    স্পর্ধা মহারাজ। কোন্‌ অধিকারে, প্রভু,
    জননীর বলি–
    চাঁদপাল।                               শান্ত হও সেনাপতি।
    মন্ত্রী।                  মহারাজ, একেবারে করেছ কি স্থির?
    আজ্ঞা আর ফিরিবে না?
    গোবিন্দমাণিক্য।                                     আর নহে মন্ত্রী,
    বিলম্ব উচিত নহে বিনাশ করিতে
    পাপ।
    মন্ত্রী।                 পাপের কি এত পরমায়ু হবে?
    কত শত বর্ষ ধরে যে প্রাচীন প্রথা
    দেবতাচরণতলে বৃদ্ধ হয়ে এল,
    সে কি পাপ হতে পারে?

    রাজার নিরুত্তরে চিন্তা

    নক্ষত্ররায়।                                             তাই তো হে মন্ত্রী,
    সে কি পাপ হতে পারে?
    মন্ত্রী।                                              পিতামহগণ
    এসেছে পালন করে যত্নে ভক্তিভরে
    সনাতন রীতি। তাঁহাদের অপমান
    তার অপমানে।

    রাজার চিন্তা

    নক্ষত্ররায়।                                 ভেবে দেখো মহারাজ,
    যুগে যুগে যে পেয়েছে শতসহস্রের
    ভক্তির সম্মতি, তাহারে করিতে নাশ
    তোমার কী আছে অধিকার।

    সনিশ্বাসে

    গোবিন্দমাণিক্য।                                             থাক্‌ তর্ক!
    যাও মন্ত্রী, আদেশ প্রচার করো গিয়ে–
    আজ হতে বন্ধ বলিদান।

    [ প্রস্থান

    মন্ত্রী।                  একি হল!
    নক্ষত্ররায়।               তাই তো হে মন্ত্রী, এ কী হল! শুনেছিনু
    মগের মন্দিরে বলি নেই, অবশেষে
    মগেতে হিন্দুতে ভেদ রহিল না কিছু।
    কী বল হে চাঁদপাল, তুমি কেন চুপ?
    চাঁদপাল।              ভীরু আমি ক্ষুদ্র প্রাণী, বুদ্ধি কিছু কম,
    না বুঝে পালন করি রাজার আদেশ।

    তৃতীয় দৃশ্য

    মন্দির

    জয়সিংহ

    জয়সিংহ।              মা গো, শুধু তুই আর আমি! এ মন্দিরে
    সারাদিন আর কেহ নাই–সারা দীর্ঘ
    দিন! মাঝে মাঝে কে আমারে ডাকে যেন।
    তোর কাছে থেকে তবু একা মনে হয়!

    নেপথ্যে গান

    আমি          একলা চলেছি এ ভবে,
    আমায়       পথের সন্ধান কে কবে?
    জয়সিংহ।              মা গো, এ কী মায়া! দেবতারে প্রাণ দেয়
    মানবের প্রাণ! এইমাত্র ছিলে তুমি
    নির্বাক্‌ নিশ্চল–উঠিলে জীবন্ত হয়ে
    সন্তানের কণ্ঠস্বরে সজাগ জননী!
    গান গাহিতে গাহিতে অপর্ণার প্রবেশ
    আমি          একলা চলেছি এ ভবে,
    আমায়       পথের সন্ধান কে কবে?
    ভয় নেই, ভয় নেই,          যাও আপন মনেই
    যেমন          একলা মধুপ ধেয়ে যায়
    কেবল  ফুলের সৌরভে।
    জয়সিংহ।              কেবলি একেলা! দক্ষিণ বাতাস যদি
    বন্ধ হয়ে যায়, ফুলের সৌরভ যদি
    নাহি আসে, দশ দিক জেগে ওঠে যদি
    দশটি সন্দেহ-সম, তখন কোথায়
    সুখ, কোথা পথ? জান কি একেলা কারে
    বলে?
    অপর্ণা।                       জানি। যবে বসে আছি ভরা মনে–
    দিতে চাই, নিতে কেহ নাই!
    জয়সিংহ।                                                সৃজনের
    আগে দেবতা যেমন একা! তাই বটে!
    তাই বটে! মনে হয় এ জীবন বড়ো
    বেশি আছে–যত বড়ো তত শূন্য, তত
    আবশ্যকহীন।
    অপর্ণা।                                জয়সিংহ, তুমি বুঝি
    একা! তাই দেখিয়াছি, কাঙাল যে জনতাহারো কাঙাল তুমি। যে তোমার সব
    নিতে পারে, তারে তুমি খুঁজিতেছ যেন।
    ভ্রমিতেছ দীনদুঃখী সকলের দ্বারে।
    এতদিন ভিক্ষা মেগে ফিরিতেছি–কত
    লোক দেখি, কত মুখপানে চাই, লোকে
    ভাবে শুধু বুঝি ভিক্ষাতরে–দূর হতে
    দেয় তাই মুষ্টিভিক্ষা ক্ষুদ্র দয়াভরে।
    এত দয়া পাই নে কোথাও–যাহা পেয়ে
    আপনার দৈন্য আর মনে নাহি পড়ে।
    জয়সিংহ।              যথার্থ যে দাতা, আপনি নামিয়া আসে
    দানরূপে দরিদ্রের পানে, ভূমিতলে।
    যেমন আকাশ হতে বৃষ্টিরূপে মেঘ
    নেমে আসে মরুভূমে–দেবী নেমে আসে
    মানবী হইয়া, যারে ভালোবাসি তার
    মুখে। দরিদ্র ও দাতা, দেবতা মানব
    সমান হইয়া যায়।–
    ওই আসিছেন
    মোর গুরুদেব।
    অপর্ণা।                                 আমি তবে সরে যাই
    অন্তরালে। ব্রাহ্মণেরে বড়ো ভয় করি।
    কী কঠিন তীব্র দৃষ্টি! কঠিন ললাট
    পাষাণসোপান যেন দেবীমন্দিরের।

    [ প্রস্থান

    জয়সিংহ।              কঠিন? কঠিন বটে। বিধাতার মতো।
    কঠিনতা নিখিলের অটল নির্ভর।

    রঘুপতির প্রবেশ

    পা ধুইবার জল প্রভৃতি অগ্রসর করিয়া

    জয়সিংহ।              গুরুদেব!
    রঘুপতি।                         যাও, যাও!
    জয়সিংহ।                                       আনিয়াছি জল।
    রঘুপতি।               থাক্‌, রেখে দাও জল।
    জয়সিংহ।                                         বসন।
    রঘুপতি।                                               কে চাহে
    বসন!
    জয়সিংহ।                     অপরাধ করেছি কি?
    রঘুপতি।                                             আবার!
    কে নিয়েছে অপরাধ তব?–
    ঘোর কলি
    এসেছে ঘনায়ে। বাহুবল রাহুসম
    ব্রহ্মতেজ গ্রাসিবারে চায়–সিংহাসন
    তোলে শির যজ্ঞবেদী-‘পরে। হায় হায়,
    কলির দেবতা, তোমরাও চাটুকর
    সভাসদ্‌সম, নতশিরে রাজ-আজ্ঞা
    বহিতেছ? চতুর্ভুজা, চারি হস্ত আছ
    জোড় করি! বৈকুণ্ঠ কি আবার নিয়েছে
    কেড়ে দৈত্যগণ? গিয়েছে দেবতা যত
    রসাতলে? শুধু, দানবে মানবে মিলে
    বিশ্বের রাজত্ব দর্পে করিতেছে ভোগ?
    দেবতা না যদি থাকে, ব্রাহ্মণ রয়েছে।
    ব্রাহ্মণের রোষযজ্ঞে দণ্ড সিংহাসন
    হবিকাষ্ঠ হবে।
    জয়সিংহের নিকট গিয়া সস্নেহে
    বৎস, আজ করিয়াছি
    রুক্ষ আচরণ তোমা-‘পরে, চিত্ত বড়ো
    ক্ষুব্ধ মোর।
    জয়সিংহ।                           কী হয়েছে প্রভু!
    রঘুপতি।                                               কী হয়েছে!
    শুধাও অপমানিত ত্রিপুরেশ্বরীরে।
    এই মুখে কেমনে বলিব কী হয়েছে!
    জয়সিংহ।              কে করেছে অপমান?
    রঘুপতি।                                       গোবিন্দমাণিক্য।
    জয়সিংহ।              গোবিন্দমাণিক্য! প্রভু, কারে অপমান?
    রঘুপতি।              কারে! তুমি, আমি, সর্বশাস্ত্র, সর্বদেশ,
    সর্বকাল, সর্বদেশকাল-অধিষ্ঠাত্রী
    মহাকালী, সকলেরে করে অপমান
    ক্ষুদ্র সিংহাসনে বসি। মা’র পূজা-বলি
    নিষেধিল স্পর্ধাভরে।
    জয়সিংহ।                                        গোবিন্দমাণিক্য!
    রঘুপতি।              হাঁ গো, হাঁ, তোমার রাজা গোবিন্দমাণিক্য!
    তোমার সকল-শ্রেষ্ঠ–তোমার প্রাণের
    অধীশ্বর! অকৃতজ্ঞ! পালন করিনু
    এত যত্নে স্নেহে তোরে শিশুকাল হতে
    আমা-চেয়ে প্রিয়তর আজ তোর কাছে
    গোবিন্দমাণিক্য?
    জয়সিংহ।                                 প্রভু, পিতৃকোলে বসি
    আকাশে বাড়ায় হাত ক্ষুদ্র মুগ্ধ শিশু
    পূর্ণচন্দ্র-পানে–দেব, তুমি পিতা মোর,
    পূর্ণশশী মহারাজ গোবিন্দমাণিক্য।
    কিন্তু এ কী বকিতেছি! কী কথা শুনিনু!
    মায়ের পূজার বলি নিষেধ করেছে
    রাজা? এ আদেশ কে মানিবে?
    রঘুপতি।                                                  না মানিলে
    নির্বাসন।
    জয়সিংহ।                          মাতৃপূজাহীন রাজ্য হতে
    নির্বাসন দণ্ড নহে। এ প্রাণ থাকিতে
    অসম্পূর্ণ নাহি রবে জননীর পূজা।

    চতুর্থ দৃশ্য

    অন্তঃপুর

    গুণবতী ও পরিচারিকা

    গুণবতী।               কী বলিস? মন্দিরের দুয়ার হইতে
    রানীর পূজার বলি ফিরায়ে দিয়াছে?
    এক দেহে কত মুণ্ড আছে তার? কে সে
    দুরদৃষ্ট?
    পরিচারিকা।                         বলিতে সাহস নাহি মানি–
    গুণবতী।               বলিতে সাহস নাহি? এ কথা বলিলি
    কী সাহসে? আমা-চেয়ে কারে তোর ভয়?
    পরিচারিকা।               ক্ষমা করো।
    গুণবতী।                             কাল সন্ধেবেলা ছিনু রানী;
    কাল সন্ধেবেলা বন্দীগণ করে গেছে
    স্তব, বিপ্রগণ করে গেছে আশীর্বাদ,
    ভৃত্যগণ করজোড়ে আজ্ঞা লয়ে গেছে–
    একরাত্রে উলটিল সকল নিয়ম?
    দেবী পাইল না পূজা, রানীর মহিমা
    অবনত? ত্রিপুরা কি স্বপ্নরাজ্য ছিল?
    ত্বরা করে ডেকে আন্‌ ব্রাহ্মণ-ঠাকুরে।

    [ পরিচারিকার প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্যের প্রবেশ

    গুণবতী।               মহারাজ, শুনিতেছ? মার দ্বার হতে
    আমার পূজার বলি ফিরায়ে দিয়েছে।
    গোবিন্দমাণিক্য।         জানি তাহা।
    গুণবতী।                              জান তুমি? নিষেধ কর নি
    তবু? জ্ঞাতসারে মহিষীর অপমান?
    গোবিন্দমাণিক্য।         তারে ক্ষমা করো প্রিয়ে!
    গুণবতী।                                            দয়ার শরীর
    তব, কিন্তু মহারাজ, এ তো দয়া নয়–
    এ শুধু কাপুরুষতা! দয়ায় দুর্বল
    তুমি, নিজ হাতে দণ্ড দিতে নাহি পারো
    যদি, আমি দণ্ড দিব। বলো মোরে কে সে
    অপরাধী।
    গোবিন্দমাণিক্য।                     দেবী, আমি। অপরাধ আর
    কিছু নহে, তোমারে দিয়েছি ব্যথা এই
    অপরাধ।
    গুণবতী।                         কী বলিছ মহারাজ!
    গোবিন্দমাণিক্য।                                          আজ
    হতে, দেবতার নামে জীবরক্তপাত
    আমার ত্রিপুররাজ্যে হয়েছে নিষেধ।
    গুণবতী।               কাহার নিষেধ?
    গোবিন্দমাণিক্য।                           জননীর।
    গুণবতী।                                           কে শুনেছে?
    গোবিন্দমাণিক্য।         আমি।
    গুণবতী।                      তুমি? মহারাজ, শুনে হাসি আসে।
    রাজদ্বারে এসেছেন ভুবন-ঈশ্বরী
    জানাইতে আবেদন!
    গোবিন্দমাণিক্য।                                হেসো না মহিষী!
    জননী আপনি এসে সন্তানের প্রাণে
    বেদনা জানায়েছেন, আবেদন নহে।
    গুণবতী।               কথা রেখে দাও মহারাজ! মন্দিরের
    বাহিরে তোমার রাজ্য। যেথা তব আজ্ঞা
    নাহি চলে, সেথা আজ্ঞা নাহি দিয়ো।
    গোবিন্দমাণিক্য।                                                   মা’র
    আজ্ঞা, মোর আজ্ঞা নহে।
    গুণবতী।                                            কেমনে জানিলে?
    গোবিন্দমাণিক্য।         ক্ষীণ দীপালোকে গৃহকোণে থেকে যায়
    অন্ধকার; সব পারে, আপনার ছায়া
    কিছুতে ঘুচাতে নারে দীপ। মানবের
    বুদ্ধি দীপসম, যত আলো করে দান
    তত রেখে দেয় সংশয়ের ছায়া। স্বর্গ
    হতে নামে যবে জ্ঞান, নিমেষে সংশয়
    টুটে। আমার হৃদয়ে সংশয় কিছুই
    নাই।
    গুণবতী।                     শুনিয়াছি, আপনার পাপপুণ্য
    আপনার কাছে। তুমি থাকো আপনার
    অসংশয় নিয়ে–আমারে দুয়ার ছাড়ো,
    আমার পূজার বলি আমি নিয়ে যাই
    আমার মায়ের কাছে।
    গোবিন্দমাণিক্য।                                  দেবী, জননীর
    আজ্ঞা পারি না লঙ্ঘিতে।
    গুণবতী।                                            আমিও পারি না।
    মা’র কাছে আছি প্রতিশ্রুত। সেইমত
    যথাশাস্ত্র যথাবিধি পূজিব তাঁহারে।
    যাও, তুমি যাও!
    গোবিন্দমাণিক্য।                             যে আদেশ মহারানী!

    [ প্রস্থান

    রঘুপতির প্রবেশ

    গুণবতী।               ঠাকুর, আমার পূজা ফিরায়ে দিয়েছে
    মাতৃদ্বার হতে!
    রঘুপতি।                                 মহারানী, মা’র পূজা
    ফিরে গেছে, নহে সে তোমার। উঞ্ছবৃত্ত
    দরিদ্রের ভিক্ষালব্ধ পূজা, রাজেন্দ্রাণী,
    তোমার পূজার চেয়ে ন্যূন নহে। কিন্তু,
    এই বড়ো সর্বনাশ, মা’র পূজা ফিরে
    গেছে। এই বড়ো সর্বনাশ, রাজদর্প
    ক্রমে স্ফীত হয়ে, করিতেছে অতিক্রম
    পৃথিবীর রাজত্বের সীমা–বসিয়াছে
    দেবতার দ্বার রোধ করি, জননীর
    ভক্তদের প্রতি দুই আঁখি রাঙাইয়া।
    গুণবতী।              কী হবে ঠাকুর!
    রঘুপতি।                                 জানেন তো মহামায়া।
    এই শুধু জানি –যে সিংহাসনের ছায়া
    পড়েছে মায়ের দ্বারে, ফুৎকারে ফাটিবে
    সেই দম্ভমঞ্চখানি জলবিম্বসম।
    যুগে যুগে রাজপিতাপিতামহ মিলে
    ঊর্ধ্ব-পানে তুলিয়াছে যে রাজমহিমা
    অভ্রভেদী ক’রে, মুহূর্তে হইয়া যাবে
    ধূলিসাৎ, বজ্রদীর্ণ, দগ্ধ, ঝঞ্ঝাহত।
    গুণবতী।               রক্ষা করো, রক্ষা করো প্রভু!
    রঘুপতি।              হা হা! আমি
    রক্ষা করিব তোমারে! যে প্রবল রাজা
    স্বর্গে মর্তে প্রচারিছে আপন শাসন
    তুমি তাঁরি রানী! দেব-ব্রাহ্মণের যিনি–
    ধিক্‌, ধিক্‌ শতবার! ধিক্‌ লক্ষবার!
    কলির ব্রাহ্মণে ধিক্‌। ব্রহ্মশাপ কোথা!
    ব্যর্থ ব্রহ্মতেজ শুধু বক্ষে আপনার
    আহত বৃশ্চিক-সম আপনি দংশিছে!
    মিথ্যা ব্রহ্ম-আড়ম্বর!

    পৈতা ছিঁড়িতে উদ্যত

    গুণবতী।                                         কী কর! কী কর
    দেব! রাখো, রাখো, দয়া করো নির্দোষীরে!
    রঘুপতি।              ফিরায়ে দে ব্রাহ্মণের অধিকার।
    গুণবতী।                                                   দিব।
    যাও প্রভু, পূজা করো মন্দিরেতে গিয়ে,
    হবে নাকো পূজার ব্যাঘাত।
    রঘুপতি।                                               যে আদেশ
    রাজ-অধীশ্বরী! দেবতা কৃতার্থ হল
    তোমারি আদেশ বলে, ফিরে পেল পুন
    ব্রাহ্মণ আপন তেজ! ধন্য তোমরাই,
    যতদিন নাহি জাগে কল্কি-অবতার!

    [ প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্যের পুনঃপ্রবেশ

    গোবিন্দমাণিক্য।         অপ্রসন্ন প্রেয়সীর মুখ, বিশ্বমাঝে
    সব আলো সব সুখ লুপ্ত করে রাখে।
    উন্মনা-উৎসুক-চিত্তে ফিরে ফিরে আসি।
    গুণবতী।              যাও, যাও। এস না এ গৃহে। অভিশাপ
    আনিয়ো না হেথা।
    গোবিন্দমাণিক্য।                              প্রিয়তমে, প্রেমে করে
    অভিশাপ নাশ, দয়া করে অকল্যাণ
    দূর। সতীর হৃদয় হতে প্রেম গেলে
    পতিগৃহে লাগে অভিশাপ।–যাই তবে
    দেবী!
    গুণবতী।                      যাও! ফিরে আর দেখায়ো না মুখ।
    গোবিন্দমাণিক্য।         স্মরণ করিবে যবে, আবার আসিব।

    [ প্রস্থানোন্মুখ

    পায়ে পড়িয়া

    গুণবতী।              ক্ষমা করো, ক্ষমা করো নাথ! এতই কি
    হয়েছ নিষ্ঠুর, রমণীর অভিমান
    ঠেলে চলে যাবে? জান না কি প্রিয়তম,
    ব্যর্থ প্রেম দেখা দেয় রোষের ধরিয়া
    ছদ্মবেশ? ভালো, আপনার অভিমানে
    আপনি করিনু অপমান ক্ষমা করো!
    গোবিন্দমাণিক্য।         প্রিয়তমে, তোমা-‘পরে টুটিলে বিশ্বাস
    সেই দণ্ডে টুটিত জীবনবন্ধ। জানি
    প্রিয়ে, মেঘ ক্ষণিকের, চিরদিবসের
    সূর্য।
    গুণবতী।                     মেঘ ক্ষণিকের এ মেঘ কাটিয়া
    যাবে, বিধির উদ্যত বজ্র ফিরে যাবে,
    চিরদিবসের সূর্য উঠিবে আবার
    চিরদিবসের প্রথা জাগায়ে জগতে,
    অভয় পাইবে সর্বলোক–ভুলে যাবে
    দু দণ্ডের দুঃস্বপন। সেই আজ্ঞা করো।
    ব্রাহ্মণ ফিরিয়া পাক নিজ অধিকার,
    দেবী নিজ পূজা, রাজদণ্ড ফিরে যাক
    নিজ অপ্রমত্ত মর্ত-অধিকার-মাঝে।
    গোবিন্দমাণিক্য।         ধর্মহানি ব্রাহ্মণের নহে অধিকার।
    অসহায় জীবরক্ত নহে জননীর
    পূজা। দেবতার আজ্ঞা পালন করিতে
    রাজা বিপ্র সকলেরই আছে অধিকার।
    গুণবতী।               ভিক্ষা, ভিক্ষা চাই! একান্ত মিনতি করি
    চরণে তোমার প্রভু! চিরাগত প্রথা
    চিরপ্রবাহিত মুক্ত সমীরণ-সম,
    নহে তা রাজার ধন–তাও জোড়করে
    সমস্ত প্রজার নামে ভিক্ষা মাগিতেছে
    মহিষী তোমার। প্রেমের দোহাই মানো
    প্রিয়তম! বিধাতাও করিবেন ক্ষমা
    প্রেম-আকর্ষণ-বশে কর্তব্যের ত্রুটি।
    গোবিন্দমাণিক্য।          এই কি উচিত মহারানী? নীচ স্বার্থ,
    নিষ্ঠুর ক্ষমতাদর্প, অন্ধ অজ্ঞানতা,
    চির রক্তপানে স্ফীত হিংস্র বৃদ্ধ প্রথা–
    সহস্র শত্রুর সাথে একা যুদ্ধ করি;
    শ্রান্তদেহে আসি গৃহে নারীচিত্ত হতে
    অমৃত করিতে পান; সেথাও কি নাই
    দয়াসুধা? গৃহমাঝে পুণ্যপ্রেম বহে,
    তারো সাথে মিশিয়াছে রক্তধারা? এত
    রক্তস্রোত কোন্‌ দৈত্য দিয়েছে খুলিয়া–
    ভক্তিতে প্রেমেতে রক্ত মাখামাখি হয়,
    ক্রূর হিংসা দয়াময়ী রমণীর প্রাণে
    দিয়ে যায় শোণিতের ছাপ! এ শোণিতে
    তবু করিব না রোধ?

    মুখ ঢাকিয়া

    গুণবতী।                                        যাও, যাও তুমি!
    গোবিন্দমাণিক্য।          হায় মহারানী, কর্তব্য কঠিন হয়
    তোমরা ফিরালে মুখ।

    [ প্রস্থান

    কাঁদিয়া উঠিয়া

    গুণবতী।                                           ওরে অভাগিনী,
    এতদিন এ কী ভ্রান্তি পুষেছিলি মনে!
    ছিল না সংশয়মাত্র, ব্যর্থ হবে আজ
    এত অনুরোধ, এত অনুনয়, এত
    অভিমান। ধিক্‌, কী সোহাগে পুত্রহীনা
    পতিরে জানায় অভিমান! ছাই হোক
    অভিমান তোর! ছাই এ কপাল! চাই
    মহিষীগরব! আর নহে প্রেমখেলা,
    সোহাগক্রন্দন। বুঝিয়াছি আপনার
    স্থান–হয় ধূলিতলে নতশির, নয়
    ঊর্ধ্বফণা ভুজঙ্গিনী আপনার তেজে।

    পঞ্চম দৃশ্য

    মন্দির

    একদল লোকের প্রবেশ

    নেপাল।

    কোথায় হে, তোমাদের তিন-শো পাঁঠা, এক-শো-এক মোষ। একটা টিকটিকির ছেঁড়া নেজটুকু পর্যন্ত দেখবার জো নেই। বাজনাবাদ্যি গেল কোথায়, সব যে হাঁ-হাঁ করছে। খরচপত্র করে পুজো দেখতে এলুম, আচ্ছা শাস্তি হয়েছে!

    গণেশ।

    দেখ্‌, মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে অমন করে বলিস নে। মা পাঁঠা পায় নি, এবার জেগে উঠে তোদের এক-একটাকে ধরে ধরে মুখে পুরবে।

    হারু।

    কেন! গেল বছরে বাছারা সব ছিলে কোথায়? আর, সেই ও-বছর, যখন ব্রত সাঙ্গ করে রানীমা পুজো দিয়েছিল, তখন কি তোদের পায়ে কাঁটা ফুটেছিল? তখন একবার দেখে যেতে পার নি? রক্তে যে গোমতী রাঙা হয়ে গিয়েছিল। আর অলুক্ষুনে বেটারা এসেছিস, আর মায়ের খোরাক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। তোদের এক-একটাকে ধরে মা’র কাছে নিবেদন করে দিলে মনের খেদ মেটে।

    কানু।

    আর ভাই, মিছে রাগ করিস। আমাদের কি আর বলবার মুখ আছে! তা হলে কি আর দাঁড়িয়ে ওর কথা শুনি!

    হারু।

    তা যা বলিস ভাই, অপ্পেতেই আমার রাগ হয় সে কথা সত্যি। সেদিন ও ব্যক্তি শালা পর্যন্ত উঠেছিল, তার বেশি যদি একটা কথা বলত, কিম্বা আমার গায়ে হাত দিত, মাইরি বলছি, তা হলে আমি–

    নেপাল।

    তা, চল্‌-না দেখি, কার হাড়ে কত শক্তি আছে।

    হারু।

    তা, আয়-না, জানিস? এখানকার দফাদার আমার মামাতো ভাই হয়!

    নেপাল।

    তা, নিয়ে আয় তোর মামাকে সুদ্ধ নিয়ে আয়, তোর দফাদারের দফা নিকেশ করে দিই।

    হারু।

    তোমরা সকলেই শুনলে!

    গণেশ ও কানু।

    আর দূর কর্‌ ভাই, ঘরে চল্‌। আজ আর কিছুতে গা লাগছে না। এখন তোদের তামাশা তুলে রাখ্‌।

    হারু।

    এ কি তামাশা হল? আমার মামাকে নিয়ে তামাশা! আমাদের দফাদারের আপনার বাবাকে নিয়ে–

    গণেশ ও কানু।

    আর রেখে দে! তোর আপনার বাবা নিয়ে তুই আপনি মর্‌।

    [ সকলের প্রস্থান

    রঘুপতি নয়নরায় ও জয়সিংহের প্রবেশ

    রঘুপতি।              মা’র ‘পরে ভক্তি নাই তব?
    নয়নরায়।                                                 হেন কথা
    কার সাধ্য বলে? ভক্তবংশে জন্ম মোর।
    রঘুপতি।              সাধু, সাধু! তবে তুমি মায়ের সেবক,
    আমাদেরই লোক।
    নয়নরায়।                                      প্রভু, মাতৃভক্ত যাঁরা
    আমি তাঁহাদেরই দাস।
    রঘুপতি।                                        সাধু! ভক্তি তব
    হউক অক্ষয়। ভক্তি তব বাহুমাঝে
    করুক সঞ্চার অতি দুর্জয় শকতি।
    ভক্তি তব তরবারি করুক শাণিত,
    বজ্রসম দিক তাহে তেজ। ভক্তি তব
    হৃদয়েতে করুক বসতি, পদমান
    সকলের উচ্চে।
    নয়নরায়।                                  ব্রাহ্মণের আশীর্বাদ
    ব্যর্থ হইবে না।
    রঘুপতি।                                শুন তবে সেনাপতি,
    তোমার সকল বল করো একত্রিত
    মা’র কাজে। নাশ করো মাতৃবিদ্রোহীরে।
    নয়নরায়।                যে আদেশ প্রভু! কে আছে মায়ের শত্রু?
    রঘুপতি।              গোবিন্দমাণিক্য।
    নয়নরায়।                                  আমাদের মহারাজ!
    রঘুপতি।              লয়ে তব সৈন্যদল, অক্রমণ করো
    তারে।
    নয়নরায়।                         ধিক্‌ পাপ-পরামর্শ! প্রভু, এ কি
    পরীক্ষা আমারে?
    রঘুপতি।                                   পরীক্ষাই বটে। কার
    ভৃত্য তুমি। এবার পরীক্ষা হবে তার।
    ছাড়ো চিন্তা, ছাড়ো দ্বিধা, কাল নাহি আর–
    ত্রিপুরেশ্বরীর আজ্ঞা হতেছে ধ্বনিত
    প্রলয়ের শৃঙ্গসম–ছিন্ন হয়ে গেছে
    আজি সকল বন্ধন।
    নয়নরায়।                                      নাই চিন্তা, নাই
    কোনো দ্বিধা। যে পদে রেখেছে দেবী, আমি
    তাহে রয়েছি অটল।
    রঘুপতি।                                      সাধু!
    নয়নরায়।                                               এত আমি
    নরাধম জননীর সেবকের মাঝে
    মোর ‘পরে হেন আজ্ঞা! আমি হব
    বিশ্বাসঘাতক! আপনি দাঁড়ায়ে আছে
    বিশ্বমাতা হৃদয়ের বিশ্বাসের ‘পরে,
    সেই তাঁর অটল আসন–আপনি তা
    ভাঙিতে বলিবে দেবী আপনার মুখে?
    তাহা হলে আজ যাবে রাজা, কাল দেবী–
    মনুষ্যত্ব ভেঙে পড়ে যাবে জীর্ণভিত্তি
    অট্টালিকা-সম।
    জয়সিংহ।                                ধন্য, সেনাপতি ধন্য!
    রঘুপতি।              ধন্য বটে তুমি। কিন্তু এ কী ভ্রান্তি তব!
    যে রাজা বিশ্বাসঘাতী জননীর কাছে,
    তার সাথে বিশ্বাসের বন্ধন কোথায়?
    নয়নরায়।                কী হইবে মিছে তর্কে? বুদ্ধির বিপাকে
    চাহি না পড়িতে। আমি জানি এক পথ
    আছে–সেই পথ বিশ্বাসের পথ। সেই
    সিধে পথ বেয়ে চিরদিন চলে যাবে
    অবোধ অধম ভৃত্য এ নয়নরায়।

    [ প্রস্থান

    জয়সিংহ।               চিন্তা কেন দেব? এমনি বিশ্বাসবলে
    মোরাও করিব কাজ। কারে ভয় প্রভু!
    সৈন্যবলে কোন্‌ কাজ! অস্ত্র কোন্‌ ছার!
    যার ‘পরে রয়েছে যে ভার, বল তার
    আছে সে কাজের। করিবই মা’র পূজা
    যদি সত্য মায়ের সেবক হই মোরা।
    চলো প্রভু, বাজাই মায়ের ডঙ্কা, ডেকে
    আনি পুরবাসীগণে, মন্দিরের দ্বার
    খুলে দিই!–ওরে, আয় তোরা, আয়, আয়,
    অভয়ার পূজা হবে–নির্ভয়ে আয় রে
    তোরা মায়ের সন্তান! আয় পুরবাসী!

    [ জয়সিংহ ও রঘুপতির প্রস্থান

    পুরবাসীগণের প্রবেশ

    অক্রূর।       ওরে, আয় রে আয়!
    সকলে।      জয় মা!
    হারু।     আয় রে, মায়ের সামনে বাহু তুলে নৃত্য করি।

    গান

    উলঙ্গিনী          নাচে রণরঙ্গে।
    আমরা       নৃত্য করি সঙ্গে।
    দশ দিক       আঁধার ক’রে মাতিল দিক্‌বসনা,
    জ্বলে          বহ্নিশিখা রাঙা-রসনা,
    দেখে          মরিবারে ধাইছে পতঙ্গে।
    কালো কেশ          উড়িল আকাশে,
    রবি সোম          লুকালো তরাসে।
    রাঙা          রক্তধারা ঝরে কালো অঙ্গে,
    ত্রিভুবন কাঁপে ভুরুভঙ্গে।
    সকলে।

    জয় মা!

    গণেশ।

    আর ভয় নেই!

    কানু।

    ওরে, সেই দক্ষিণদ’র মানুষগুলো এখন গেল কোথায়?

    গণেশ।

    মায়ের ঐশ্বর্য বেটাদের সইল না। তারা ভেগেছে।

    হারু।

    কেবল মায়ের ঐশ্বর্য নয়, আমি তাদের এমনি শাসিয়ে দিয়েছি, তারা আর এমুখো হবে না। বুঝলে অক্রূরদা, আমার মামাতো ভাই দফাদারের নাম করবা-মাত্র তাদের মুখ চুন হয়ে গেল।

    অক্রূর।

    আমাদের নিতাই সেদিন তাদের খুব কড়া দুটো কথা শুনিয়ে দিয়েছিল। ওই যার সেই ছুঁচ-পারা মুখ সেই বেটা তেড়ে উত্তর দিতে এসেছিল; আমাদের নিতাই বললে, “ওরে, তোরা দক্ষিণদেশে থাকিস, তোরা উত্তরের কী জানিস? উত্তর দিতে এসেছিস, উত্তরের জানিস কী?” শুনে আমরা হেসে কে কার গায়ে পড়ি।

    গণেশ।

    ইদিকে ঐ ভালোমানুষটি, কিন্তু নিতাইয়ের সঙ্গে কথায় আঁটবার জো নেই।

    হারু।

    নিতাই আমার পিসে হয়।

    কানু।

    শোনো একবার কথা শোনো। নিতাই আবার তোর পিসে হল কবে?

    হারু।

    তোমরা আমার সকল কথাই ধরতে আরম্ভ করেছ। আচ্ছা, পিসে নয় তো পিসে নয়। তাতে তোমার সুখটা কী হল? আমার হল না বলে কি তোমারই পিসে হল?

    রঘুপতি ও জয়সিংহের প্রবেশ

    রঘুপতি।

    শুনলুম সৈন্য আসছে। জয়সিংহ অস্ত্র নিয়ে তুমি এইখানে দাঁড়াও। তোরা আয়, তোরা এইখানে দাঁড়া! মন্দিরের দ্বার আগলাতে হবে। আমি তোদের অস্ত্র এনে দিচ্ছি।

    গণেশ।

    অস্ত্র কেন ঠাকুর?

    রঘুপতি।

    মায়ের পুজো বন্ধ করবার জন্য রাজার সৈন্য আসছে।

    হারু।

    সৈন্য আসছে! প্রভু, তবে আমরা প্রণাম হই।

    কানু।

    আমরা ক’জনা, সৈন্য এলে কী করতে পারব?

    হারু।

    করতে সবই পারি–কিন্তু সৈন্য এলে এখেনে জায়গা হবে কোথায়? লড়াই তো পরের কথা, এখানে দাঁড়াব কোন্‌খানে?

    অক্রূর।

    তোর কথা রেখে দে। দেখছিস নে প্রভু রাগে কাঁপছেন? তা ঠাকুর, অনুমতি করেন তো আমাদের দলবল সমস্ত ডেকে নিয়ে আসি।

    হারু।

    সেই ভালো। অমনি আমার মামাতো ভাইকে ডেকে আনি। কিন্তু, আর একটুও বিলম্ব করা উচিত নয়।

    [ সকলের প্রস্থানোদ্যম

    সরোষে

    রঘুপতি।

    দাঁড়া তোরা!

    করজোড়ে

    জয়সিংহ।               যেতে দাও প্রভু–প্রাণভয়ে ভীত এরা
    বুদ্ধিহীন, আগে হতে রয়েছে মরিয়া।
    আমি আছি মায়ের সৈনিক। এক দেহে
    সহস্র সৈন্যের বল। অস্ত্র থাক্‌ পড়ে।
    ভীরুদের যেতে দাও।

    স্বগত

    রঘুপতি।                                        সে-কাল গিয়েছে।
    অস্ত্র চাই, অস্ত্র চাই–শুধু ভক্তি নয়।

    প্রকাশ্যে

    জয়সিংহ।               সৈন্য নহে প্রভু, আসিছে রানীর পূজা।

    রানীর অনুচর ও পুরবাসীগণের প্রবেশ

    সকলে।      ওরে, ভয় নেই–সৈন্য কোথায়? মা’র পূজা আসছে।
    হারু।     আমরা আছি খবর পেয়েছে, সৈন্যেরা শীঘ্র এ দিকে আসছে না।
    কানু।      ঠাকুর, রানীমা, পুজো পাঠিয়েছেন।
    রঘুপতি।       জয়সিংহ, শীঘ্র পূজার আয়োজন করো।

    [ জয়সিংহের প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্য।         চলে যাও হেথা হতে–নিয়ে যাও বলি।
    রঘুপতি, শোন নাই আদেশ আমার?
    রঘুপতি।              শুনি নাই।
    গোবিন্দমাণিক্য।                       তবে তুমি এ রাজ্যের নহ।
    রঘুপতি।              নহি আমি। আমি আছি যেথা, সেথা এলে
    রাজদণ্ড খসে যায় রাজহস্ত হতে,
    মুকুট ধুলায় পড়ে লুটে। কে আছিস,
    আন্‌ মার পূজা।

    বাদ্যোদ্যম

    গোবিন্দমাণিক্য।                               চুপ কর্‌!

    অনুচরের প্রতি

                                                         কোথা আছে
    সেনাপতি, ডেকে আন্‌! হায় রঘুপতি,
    অবশেষে সৈন্য দিয়ে ঘিরিতে হইল
    ধর্ম! লজ্জা হয় ডাকিতে সৈনিকদল,
    বাহুবল দুর্বলতা করায় স্মরণ।

    রঘুপতি।              অবিশ্বাসী, সত্যই কি হয়েছে ধারণা
    কলিযুগে ব্রহ্মতেজ গেছে–তাই এত
    দুঃসাহস? যায় নাই। যে দীপ্ত অনল
    জ্বলিছে অন্তরে, সে তোমার সিংহাসনে
    নিশ্চয় লাগিবে। নতুবা এ মনানলে
    ছাই করে পুড়াইব সব শাস্ত্র, সব
    ব্রহ্মগর্ব, সমস্ত তেত্রিশ কোটি মিথ্যা।
    আজ নহে মহারাজ, রাজ-অধিরাজ,
    এই দিন মনে কোরো আর-এক দিন।

    নয়নরায় ও চাঁদপালের প্রবেশ

    নয়নের প্রতি

    গোবিন্দমাণিক্য।         সৈন্য হয়ে থাকো হেথা নিষেধ করিতে
    জীববলি।
    নয়নরায়।                           ক্ষমা করো অধম কিংকরে।
    অক্ষম রাজার ভৃত্য দেবতামন্দিরে।
    যতদূর যেতে পারে রাজার প্রতাপ
    মোরা ছায়া সঙ্গে যাই।
    চাঁদপাল।                                        থামো সেনাপতি,
    দীপশিখা থাকে এক ঠাঁই, দীপালোক
    যায় বহুদূরে। রাজ-ইচ্ছা যেথা যাবে
    সেথা যাব মোরা।
    গোবিন্দমাণিক্য।                             সেনাপতি, মোর আজ্ঞা
    তোমার বিচারাধীন নহে। ধর্মাধর্ম
    লাভক্ষতি রহিল আমার, কার্য শুধু
    তব হাতে।
    নয়নরায়।                             এ কথা হৃদয় নাহি মানে।
    মহারাজ, ভৃত্য বটে, তবুও মানুষ
    আমি। আছে বুদ্ধি, আছে ধর্ম, আছ প্রভু,
    আছেন দেবতা।
    গোবিন্দমাণিক্য।                            তবে ফেলো অস্ত্র তব।
    চাঁদপাল, তুমি হলে সেনাপতি, দুই
    পদ রহিল তোমার। সাবধানে সৈন্য
    লয়ে মন্দির করিব রক্ষা।
    চাঁদপাল।                                          যে আদেশ
    মহারাজ!
    গোবিন্দমাণিক্য।                     নয়ন, তোমার অস্ত্র দাও
    চাঁদপালে।
    নয়নরায়।                            চাঁদপালে? কেন মহারাজ!
    এ অস্ত্র তোমার পূর্ব রাজপিতামহ
    দিয়েছেন আমাদের পিতামহে। ফিরে
    নিতে চাও যদি, তুমি লও। স্বর্গে আছ
    তোমরা হে পিতৃপিতামহ। সাক্ষী থাকো
    এতদিন যে রাজবিশ্বাস পালিয়াছ
    বহু যত্নে, সাগ্নিকের পুণ্য অগ্নি-সম,
    যার ধন তারি হাতে ফিরে দিনু আজ
    কলঙ্কবিহীন।
    চাঁদপাল।                             কথা আছে ভাই!
    নয়নরায়।                                                   ধিক্‌!
    চুপ করো! মহারাজ, বিদায় হলেম।

    [ প্রণামপূর্বক প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্য।          ক্ষুদ্র স্নেহ নাই রাজকাজে। দেবতার
    কার্যভার তুচ্ছ মানবের ‘পরে, হায়
    কী কঠিন!
    রঘুপতি।                           এমনি করিয়া ব্রহ্মশাপ
    ফলে, বিশ্বাসী হৃদয় ক্রমে দূরে যায়,
    ভেঙে যায় দাঁড়াবার স্থান।

    জয়সিংহের প্রবেশ

    জয়সিংহ।                                              আয়োজন
    হয়েছে পূজার। প্রস্তুত রয়েছে বলি।
    গোবিন্দমাণিক্য।         বলি কার তরে?
    জয়সিংহ।                                 মহারাজ, তুমি হেথা!
    তবে শোনো নিবেদন–একান্ত মিনতি
    যুগল চরণতলে, প্রভু, ফিরে লও
    তব গর্বিত আদেশ। মানব হইয়া
    দাঁড়ায়ো না দেবীরে আচ্ছন্ন করি–
    রঘুপতি।                                                    ধিক্‌!
    জয়সিংহ, ওঠো, ওঠো! চরণে পতিত
    কার কাছে? আমি যার গুরু, এ সংসারে
    এই পদতলে তার একমাত্র স্থান।
    মূঢ়, ফিরে দেখ্‌–গুরুর চরণ ধরে
    ক্ষমা ভিক্ষা কর্‌। রাজার আদেশ নিয়ে
    করিব দেবীর পূজা, করালকালিকা,
    এত কি হয়েছে তোর অধঃপাত! থাক্‌
    পূজা, থাক্‌ বলি–দেখিব রাজার দর্প
    কতদিন থাকে। চলে এস জয়সিংহ!

    [ রঘুপতি ও জয়সিংহের প্রস্থান

    গোবিন্দমাণিক্য।         এ সংসারে বিনয় কোথায়? মহাদেবী,
    যারা করে বিচরণ তব পদতলে
    তারাও শেখে নি হায় কত ক্ষুদ্র তারা!
    হরণ করিয়া লয়ে তোমার মহিমা
    আপনার দেহে বহে, এত অহংকার!

    [ প্রস্থান

    ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজা ও রানী (কাব্য-নাটক) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article অনুবাদ কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }