Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ময়নার বোন

    উপন্যাস ছোটগল্প সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প17 Mins Read0

    ময়নার বোন

    ময়না আর বুধনি খুন হওয়ার পরে কেটে গেছে দেড় মাস। এই জোড়া খুনের কোনও কিনারাও হয়নি, কেউ ধরাও পড়েনি। কে খুন করেছে তা সবাই জানে, পুলিশও জানে নিশ্চয়ই, কিন্তু পুলিশের খাতায় খুনের উল্লেখই নেই। লেখা আছে, অজ্ঞাত কারণে মৃত্যু।

    দুজন মানুষ, বিশেষত দুটি যুবতী মেয়ে খুন হলে পুলিশ কত রকম তদন্ত করে, কুকুর আনে, ডিটেকটিভরা গোপন অনুসন্ধানে লেগে যায়, এ সব থাকে গল্পের বইতে। কিংবা শহরে ও রকম হয় বোধহয়। গ্রামের গরিব ঘরের দুটি মেয়ে কেন মরল, কীভাবে মরল, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। দু-চারদিন পর সবাই ভুলে যায়।

    অসুখে ভুগে মৃত্যু হলে তবু বাড়ির লোকেরা কয়েকদিন কাঁদে। কিন্তু খুন-টুনের ব্যাপার হলে বাড়ির লোকরা জোরে শোক প্রকাশ করতেও ভয় পায়। কেন না, খুনীরা তখনও নজর রাখে সে বাড়ির ওপর।

    শুধু মিলন সমিতির লোকজনেরাই সে মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। সে সমিতির পরিচালক জীবনদা থানায় ঘোরাঘুরি করেছেন কয়েকবার, এস ডি ও-র কাছেও সুবিচার চেয়েছেন।

    এস ডি ও কিংবা থানার দারোগা কেউই খারাপ ব্যবহার করেন না জীবনদার সঙ্গে। খাতির করে বসতে বলেন, চা খাওয়াতে চান। এস ডি ও ভদ্রলোকের ব্যবহার খুব সুহৃদয়, তিনি বলেন, এর মধ্যে ফাউল প্লে আছে বুঝতেই পারছি। কিন্তু থানার রিপোর্ট না পেলে আমি কিছু করতে পারি না। এস ডি পি ও সাহেবকে খোঁজ নিতে বলেছি।

    থানার দারোগার নাম সুকোমল নন্দী। নিশ্চয়ই বাবা-মা অনেক আশা করে এই নাম রেখেছিলেন। এরকম নিষ্ঠুর মানুষ কদাচিৎ দেখা যায়। ব্যবহারে অবশ্য তা বোঝার উপায়টি নেই। নিজে চায়ের কাপ নিয়ে এসে রাখেন জীবনদার সামনে, টেবিলের ওপর।

    সুকোমল নন্দীর একটাই কথা, খুনের প্রমাণ কোথায় বলুন!

    ময়না আর বুধনির বাড়ি ছিল প্রায় পাশাপাশি। মাঝখানে শুধু কয়েকটা খেজুর গাছ। ময়না বিয়ের দু-বছরের মধ্যেই বিধবা, বুধনির বিয়েই হয়নি। ওরা দুজনেই তাঁত বোনা শিখছিল মিলন সমিতিতে।

    একদিন ভোরবেলা দেখা গেল, একটা জলার ধারে পড়ে আছে ওদের মৃতদেহ। দীনু নামে একজন জেলে সেই সাতসকালে মাছ ধরতে গিয়ে ওদের দেখতে পায়। কারুর শরীরেই কোনও গুলির দাগ বা ছোরাছুরির ক্ষত নেই।

    দারোগা বললেন, আত্মহত্যা, বুঝলেন স্যার, আত্মহত্যা ছাড়া আর কী হবে বলুন!

    জীবনদা বললেন, আত্মহত্যা? দুজনে একসঙ্গে? আমাদের সমিতিতে আসতো, বেশ ভালোই কাজ শিখেছিল, সকলের সঙ্গে হেসে কথা বলত, খামোখা হঠাৎ আত্মহত্যা করতে যাবে কেন বলুন?

    দারোগা বললেন, মানুষ কেন যে আত্মহত্যা করে, তা অনেক ক্ষেত্রেই জানা যায় না। হয়তো ওদের প্রেমঘটিত কোনও ব্যাপার ছিল।

    প্রেম শব্দটা শুনে জীবনদা ভুরু কুঁচকে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। ময়না আর বুধনির জীবনে প্রেমের । মতন শৌখিন ব্যাপার একেবারেই অবাস্তব। দুজনেরই তেমন রূপ বা স্বাস্থ্য ছিল না।

    জীবনদা বললেন, আত্মহত্যা, শেষরাতে একটা জলার ধারে এসে আত্মহত্যা করবে কেন? এর কোনও যুক্তি আছে।

    একগাল হেসে দারোগা বললেন, এই দেখুন, আবার যুক্তির কথা বলছেন। মেয়েরা কখন কী করে, কেন করে, তা বোঝা শিবের বাপেরও অসাধ্য। ওরা কেন বিছানায় শুয়ে আত্মহত্যা করেনি, কেন গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলেনি কিংবা গায়ে আগুন দেয়নি তা বোঝার আর কোনও উপায়ই নেই। হয়তো ওদের বাড়ির লোকদের ঝামেলায় ফেলতে চায়নি। সারা শরীরে কোনও ইনজুরি নেই, কী করে খুনের কেস বলব বলুন!

    —ইনজুরি না থাকলেও খুন হতে পারে না? গলা টিপে মারতে পারে।

    —গলায় সেরকম কোনও দাগ ছিল না। রিপোর্টে কিছু লেখা নেই।

    —যিনি রিপোর্ট লিখেছেন, তিনি না দেখতে পারেন। কিংবা দেখলেও ইচ্ছে করে না লিখতে।

    —আমি নিজে গেসলাম ইনস্পেকশানে। গলায় কোনও হাতের ছাপ দেখিনি।

    —আরও অনেক রকমভাবে খুন করা যেতে পারে। বিষ খাইয়ে, মুখে বালিশ চাপা দিয়ে…। পোস্ট মর্টেমেরও কোনও ব্যবস্থা হল না।

    —এটা কি মশাই বিলেত-আমেরিকা পেয়েছেন?

    দারোগাবাবু বোঝালেন যে, গ্রামদেশে সে রকম ব্যবস্থাই নেই। ডেডবডি রাখার জন্য মর্গ নেই। প্রচণ্ড গরমে বডি পরদিনই পচতে শুরু করেছিল। পোস্ট মর্টেমের জন্য জেলা শহর কিংবা কলকাতায় পাঠাতে হয়। পুরো বডি না পাঠিয়ে ভিসেরা নামে একটা প্রত্যঙ্গ পাঠালেও চলে। শহর থেকে তার রিপোর্ট আসতে কত বছর লাগবে তার ঠিক নেই। অনেক সময় রিপোর্ট আসেই না। ডোমদের বলা হয়েছিল, তারা ভিসেরার ব্যাপারটা বুঝতেই পারেনি, দুটো বডিই পুড়িয়ে দিয়েছে।

    জীবনদা উত্তেজিতভাবে বললেন, এসব আপনি যাই-ই বলুন বড়বাবু, আপনিও জানেন, আমিও জানি, মেয়ে দুটো খুন হয়েছে!

    দারোগাবাবু হাতের পেন্সিল দিয়ে টেবিলে টক-টক শব্দ করতে-করতে শান্ত গলায় বললেন, আপনি জানতে পারেন, কিন্তু আমি জানি না। খুনের মোটিভ কী? দুটো অবলা মেয়েছেলে, গায়ে গয়নাগাঁটিও ছিল না, তাদের কেন খুন করা হবে বলুন। কার দায় পড়েছে!

    জীবনদা বললেন, তার কারণ আমাদের সমিতিতে যোগ দেওয়ার আগে ওরা দুজনে মদ বিক্রি করত। জেলেপাড়ায় চুল্লুর ঠেকে বসত!

    দারোগাবাবু ভুরু তুলে সবিস্ময়ে বললেন, তাই নাকি?

    জীবনদা বললেন, আপনি এটা জানতেন না। এখানে চুন্নুর ঠেক যেন দিন-দিন বাড়ছে, তা জানেন আশা করি?

    —তা জানি। আমরা মাঝে-মাঝেই রেড করি। ব্যাটাদের ধাওয়া করে দূর করে দিই।

    —না, ওদের দূর করে দ্যান না। এক জায়গা থেকে সরে অন্য জায়গায় বসতে বলেন। ওদের কারবার ঠিকই চলছে।

    —এ তো হল অন্য কথা। আগে বলুন, মেয়ে দুটো চুলু বিক্রি করত বলেই খুন হল কেন? আমি তো এর মানে বুঝতে পারছি না। তাও একজন নয়, দুজনে এক সঙ্গে।

    —এর মানে খুবই সোজা। চুল্লু বিক্রি করলে ওরা খুন হত না। আরও তো কত মেয়ে চুল্ল বেচে। শুধু এই দুজন চুন্নুর ঠেক ছেড়ে দিয়ে যোগ দিয়েছিল আমাদের সমিতিতে। ওই নোংরা কাজের মধ্যে জড়িত না থেকে ওরা সৎ হতে চেয়েছিল। তাঁতের শাড়ি বোনা শিখে নিজেরা উপার্জন করতে পারত।

    —তা বেশ তো। আপনাদের সমিতির ওপর যাতে কখনও হামলা না হয়, আমরা সেদিকে নজর রাখি।

    —সে কথা হচ্ছে না। আমাদের সমিতির ওপর হামলা করার সাহস কারুর নেই। যাতে চুন্নুর ঠেক ছেড়ে আর কোনও মেয়ে আমাদের সমিতিতে আসতে না চায়, সৎপথে ফিরে যেতে না চায়, তাই ওই দুটি মেয়েকে খুন করে অন্যদের ভয় দেখানো হল।

    —এসব, দাদা আপনি গপ্পো বানাচ্ছেন। প্রথমত খুনেরই কোনও প্রমাণ নেই।

    —সে প্রমাণ আপনারাই লোপ করেছেন। কারা খুন করেছে, তাও আপনি ভালো জানেন!

    —বটে! আপনিই বলে দিন না।

    —যারা চুল্লুর ব্যাবসা চালায়। কার্তিক আর দুলাল যাদের পাণ্ডা! দুলালের সঙ্গে আপনার খুবই দহরম মহরম আছে শুনেছি।

    —শুনেছেন? বেশ করেছেন। এ বার আমার নামে রিপোর্ট করুন ওপরওয়ালার কাছে। লিখুন যে, আমি ঘুষ খাই! লিখুন, লিখুন, ভালো করে লিখুন! তবে, একটা কথা আপনাকে বলে দিই দাদা। আপনি কার্তিক আর দুলালের নাম করলেন, ওদের আড়ালে কে-কে আছেন, তা কি জানেন? জানেন, চুল্লুর ব্যাবসা মানে কত কোটি টাকার ব্যাবসা? এসব জানার চেষ্টা করুন।

    ২

    মিলন সমিতিতে যোগ দিয়ে ময়না আর বুধনি তাঁতের কাজ শিখে কিছু হাত খরচ পেতে শুরু করেছিল। চুন্নুর ঠেকের রোজগারের চেয়ে তা কিছু কম হলেও এই উপার্জনে তার আনন্দ ছিল বেশি। চুন্নুর ঠেকে বসবার সময় তাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হত, নেশার ঝোঁকে কেউ কেউ তার হাত ধরে টানত। মিলন সমিতিতে চমকার হাসি খুশি পরিবেশ, কাজের সঙ্গে-সঙ্গে গান গাওয়া হত।

    এই উপার্জনের টাকায় ময়না তার ভাই-বোনের জন্য নতুন জামা কিনে দিয়েছে। কখনও কিনে আনত পাটালি গুড়, ফুলকপি। চাল-ডাল কিনেও সংসারের সাহায্য করত, একবার শখ করে। বেশি দাম দিয়ে কিনে এনেছিল মুগের ডাল। এর আগে, এ-বাড়িতে কখনও মুগের ডাল রান্না হয়নি।

    ময়নারা চার ভাই বোন, তার মধ্যে বড় দাদা আসানসোলে কিছু একটা কাজ নিয়ে চলে গেছে, এ-বাড়ির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখে না। অন্য ভাই-বোন দুটি ছোটো। মা নেই। নিজস্ব জমি জিরেও নেই, বাবা অন্যের জমিতে মজুরি করে। ময়নার মৃত্যুতে শোক করার চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হল অভাব নিয়ে। ময়নার উপার্জনটুকু বন্ধ হয়ে গেল, সেই অভাবটা ভরাট হবে কী করে?

    বুধনিদের সংসারে অনেক লোক, তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে এগারোজন, সেই জন্য এক জনের চলে যাওয়াটা বেশি টের পাওয়া যায় না। কিন্তু ময়নার অভাবে তাদের বাড়িটা যেন ফাঁকা হয়ে গেছে।

    ময়নার পরের বোনের নাম সতী, সবে মাত্র সে সতেরোয় পা দিয়েছে। সতী ইস্কুলে পাঁচ ক্লাস । পর্যন্ত পড়েছে, তারপর পড়া ছেড়ে দিতে হয়েছে, কারণ বড়ো ইস্কুল অনেকটা দূরে, হেঁটে যাওয়া যায় না। বাসে কিংবা ভ্যান গাড়িতে চেপে ইস্কুলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সে এখন বাড়িতে বসেই বড়ি দেয়, ঘুটে দেয়, তার উপার্জন যৎসামান্য।

    জীবনদা মাঝে-মাঝে আসেন এ-বাড়িতে। একটা সাইকেল নিয়ে তিনি গ্রামে-গ্রামে ঘুরে বেড়ান, ভয় ওর কিছু নেই। আশ্চর্য ব্যাপার, আজ পর্যন্ত কেউ তাঁর গায়ে হাত তুলতে সাহস পায়নি। রাজনীতির ছেলেরাও তাঁকে সমীহ করে। কারণ, তিনি কোনও দলেই নেই। মিলন সমিতি তাঁর ধ্যানজ্ঞান, এই সমিতির এমনই সুনাম হয়েছে যে খবরের কাগজের লোকেরা প্রায়ই সেই সমিতির কাজকর্ম দেখতে আসে।

    জীবনদার ইচ্ছে, সতীকে তিনি তাঁদের সমিতির কাজে লাগিয়ে দেবেন। সে-ও সেখানে নানারকম হাতের কাজ শিখে স্বাধীনভাবে উপার্জন করতে পারবে। শেখার সময়ও সে পাবে হাত খরচ।

    সতীর বাবা তাতে কিছুতেই রাজি নয়। আবার এই বিপদের ঝুঁকি নেওয়া যায়? ময়নাকে যারা মেরেছে, তাদের কোনও শাস্তিই হল না। এরপর তারা যদি সতীকেও মারে?

    জীবনদা বললেন, ওইসব গুন্ডা-বদমাশদের কাছে হার স্বীকার করতে নেই। তাতে ওরা আরও বেড়ে যায়। আমাদের সমিতির লোক সতীকে নিয়ে যাবে আবার বাড়ি পৌঁছে দেবে। ভয়ের কিছু নেই।

    ময়নার বাবার নাম ফটিক। তার চেহারাটা বড়, কিন্তু বুকে হাঁপানির রোগ আছে। শীতকালেও সে গায়ে কোনও জামা রাখতে পারে না। মেজাজটা সবসময় খিটখিটে হয়ে থাকে।

    সে বলল, আমারে মাপ করেন দাদা। আপনি ভালো কাজ করতেছেন তা জানি। কিন্তু ওসব আমাদের সহ্য হবে না। যেমন করে পারি, এ-মেয়েরে আমি বিয়ে দিয়ে পার করে দেব!

    জীবনদা ধমক দিয়ে বললেন, মেয়ে কি কুকুর-বেড়াল নাকি যে পার করে দেবে? সতীকে বরং ডাকো, জিগ্যেস করে দেখি, ও কী চায়। ও যদি রাজি থাকে—

    সতী মেয়েটি আরও অল্প বয়েস থেকেই চুপচাপ স্বভাবের। তার কোনও চাহিদা নেই, দাবি নেই। এতদিন ভেঁড়াখোঁড়া ফ্রক পরে থাকত, এখন শরীর বাড়ন্ত হয়েছে, শাড়ি না পরলে চলে না। মিলন সমিতি থেকে টাকা পেয়ে ময়না শখ করে নিজের জন্যেও একটা শাড়ি কিনেছিল, খুন। হওয়ার রাতে ভাগ্যিস সে শাড়িটা তার পরনে ছিল না। এখন সতী সেই শাড়ি পরে বাইরের লোকের সামনে বেরোয়।

    পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত পড়ার ফলে এখন সে যে-কোনও ছাপা অক্ষর দেখলেই পড়তে চায়। ঠোঙার কাগজ পর্যন্ত। বাড়িতে কোনও বই নেই, পঞ্চাননতলায় সপ্তাহে দু-দিন হাট বসে, সেই হাট ভেঙে গেলে অনেক ছেড়া খবরের কাগজ পড়ে থাকে, সতী সেগুলো কুড়িয়ে আনে।

    জীবনদার প্রশ্ন শুনে সে উত্তর দিতে চায় না। অনেকবার পীড়াপীড়ির পর বলে, জানি না!

    জীবনদা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। এই ন্যাকামির জন্যই মেয়েরা কিছু করতে পারে না। একটা। সতেরো বছরের মেয়ে নিজের ভালো মন্দ বুঝবে না? পয়সা কড়ির এত টানাটানি, বিক্রি করার মতন জমিও নেই, তা হলে এ-মেয়ের বিয়ে হবে কী করে?

    সেদিনের মতন জীবনদা চলে গেলেন। তার পরের দিনই, বৃষ্টি পড়ছে টিপটিপ করে, পিছল হয়ে গেছে উঠোন, মাটি খুঁড়ে উঠে আসছে কেঁচো, তারই মধ্যে ভিজতে ভিজতে হাজির হল এক আগন্তুক।

    লোকটির পরনে পাজামা আর ছাই রঙা শার্ট। তার গলায় একটা রুমাল বাঁধা। গলায় কেন রুমাল বাঁধে কেউ-কেউ? রুমাল তো পোশাক নয়, এখন শীতকালও নয় যে মাফলারের মতন কাজ করবে। তবু কিছু লোক গলায় রুমাল বাঁধে বোধহয় শুধু এটুকুই বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যে সে বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী।

    দাওয়ায় বসে বিড়ি টানছিল ফটিক, সে জিগ্যেস করল, কে?

    লোকটি নিজের পরিচয় না দিয়ে বলল, আমায় দুলালদা পাঠিয়েছে।

    বৃষ্টির দিনে ফটিকের হাঁপানি বাড়ে, তাতে আরও মেজাজ খারাপ হয়। বৃষ্টির জন্য মাঠের কাজও বন্ধ।

    সে বলল, কোথাকার দুলাল?

    লোকটি সেই দুলালেরও পরিচয় না দিয়ে বলল, আমি কালকেপুর থেকে আসছি। আপনার মেয়ে হঠাৎ মারা গেছে শুনেছি? সে কিছুদিন দুলালদার বিজনেসে কাজ করেছে। তা দরুণ কিছু টাকা পাওনা আছে। সামনের হপ্তায় পেয়ে যাবেন। আর আপনার আর একখানা মেয়ে আছে, তাকে। দুলালদা কাজ দেবে বলেছে। আমার সঙ্গে যদি যায়—

    টাকা পাওয়ার কথা শুনে প্রথমে একটু উৎসাহিত হলেও পরের কথাটায় চমকে উঠল।

    —আমার মেয়ে তোমার সঙ্গে যাবে? কোথায় যাবে?

    —ওই যে বললুম, দুলালদা তাকে কাজ দেবে বলেছে। শুধু-শুধু বাড়িতে বসে থাকবে কেন?

    –কাজ দেবে? চুন্নুর ঠেকে বসবে? রাত বিরেতে বাইরে থাকবে? না যাবে না। যাবে না, যাবে না, যাবে না! আমার টাকার দরকার নেই। আমার মেয়ে বাড়িতে বসে থাকবে, তাতে তার কী?

    ফটিক নিজে খুব চুল্লুর নেশা করত একসময়। রোজগারের বেশিরভাগ অংশই বাড়িতে আনতে পারত না।

    ময়নার মৃত্যুর পর সে আর চুলু ছোঁয়নি। তার মনে হয়, ওই চুলুর মধ্যে মিশে আছে তার মেয়ের রক্ত।

    লোকটি বলল, ওখানে না। দুলালদা নিজের বাড়িতে কাজ দেবে।

    কোথা থেকে দারুণ সাহস পেয়ে গেল ফটিক তা কে জানে। সে হঠাৎ চেঁচিয়ে বলল, নিকাল। আমার বাড়ি সে নিকাল। আমার মেয়ে কারুর বাড়িতে কাজ করতে যাবে না। ওকে আমি মিলন সমিতিতে পাঠাব। হ্যাঁ, পাঠাবোই তো!

    গলায় রুমাল-বাঁধা লোকটি একটুও উত্তেজিত না হয়ে, আরও কাছে এগিয়ে এসে বলল, শুধুমুধু চ্যাঁচাচ্ছেন কেন? দুলালদা আপনাদের ভালোর জন্যই বলেছে। আপনার মেয়ে কাজ করলে টাকা পাবে। আপনি পাঠাতে না চান, পাঠাবেন না! তবে আর একটা কথা জেনে রাখুন, ওই

    মিলন সমিতি-ফমিতি টিকবে না। উঠে যাবে! একটা কথা শুনুন, মেয়েটা আমার সঙ্গে চলুক, ওখানে গিয়ে দেখুক, কাজটা তার পছন্দ কি না। পছন্দ না হলে ফিরে আসবে! দুলালদা ওকে নিয়ে যেতে বলেছে।

    ফটিক কিছুতেই পাঠাতে রাজি নয়। সে আরও চ্যাঁচামেচি শুরু করল।

    এর মধ্যে বেরিয়ে এল সতী। আর হাতে একটা পুঁটুলি। পরনে ময়নার সেই শাড়ি।

    সে মৃদু গলায় বলল, বাবা, আমি যাব। আমি কাজ করব।

    স্তম্ভিত ফটিক প্রথমে কোনও কথা বলতে পারল না। তারপর সে মেয়ের হাত ধরে আটকাবার চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না ধরে রাখতে।

    সতী চলে গেল।

    ৩

    দুলালের বাড়ি একটা নয়। সে তিন জায়গায় থাকে। সে যখন যেখানে যায়, সতীকেও সঙ্গে যেতে হয়। প্রত্যেকটা বাড়িতেই বেশ কিছু নারী-পুরুষ থাকে, সকলেই কী সব কাজে ব্যস্ত, তা সতী ঠিক বোঝে না।

    তবে, একটা ব্যাপার সে বোঝে, এই সব নারী-পুরুষরা তার গ্রামের চেনাশুনো মানুষদের মতন নয়। এদের খাওয়া দাওয়ার সময়ের ঠিক নেই, ঘুমোবার সময়ের ঠিক নেই। কখনও খাওয়া হয়। রাত দুপুরে, সারারাতে কেউ বিছানায় যায় না। আবার দিনের বেলা ঘুমোয়। এরা কেউ কারুর স্বামী বা স্ত্রী নয়, অথচ সেরকমই ব্যবহার করে মাঝে-মাঝে।

    দুলাল প্রথম থেকেই পছন্দ করেছে সতীকে। সে বলে দিয়েছে, তুই সব সময় আমার সঙ্গে থাকবি। অন্য কেউ গায়ে হাত দিতে এলে আমাকে বলে দিবি, তার হাত ভেঙে দেব!

    দুলালের কাছে সতী তার কুমারীত্ব বিসর্জন দিল বিনা আপত্তিতে। সে যেন বুঝে গেছে, এটাই তাঁর বেচে থাকার একমাত্র উপায়। মিলন সমিতিতে যোগ দিলে এরা তাকে ছাড়ত না। তারও অবস্থা হত দিদির মতন।

    চুন্নুর ঠেকে অবশ্য তাকে বসতে হয়নি এখনও।

    মাসের পর মাস কেটে গেল, সতী আর নিজের বাড়িতেও যায়নি একবারও। একজনের হাত দিয়ে মাঝে-মাঝে কিছু টাকা পাঠায়। তার বাবাও এখন সব বুঝেছে, টাকা নিতে আপত্তি করে না।

    এর মধ্যে একদিন একটা ঘটনা ঘটল।

    দুলালের প্রধান জুড়ি কার্তিককে দেখা যায় মাঝে-মাঝে। দু-জনে অনেক রাত জেগে নানারকম শলাপরামর্শ করে। সেইসঙ্গে মদ্যপানও চলে। এরা নিজেরা অবশ্য চুল্লু খায় না।

    দুলাল অনেক মদ খেয়েও তেমন বেচাল হয় না। কিন্তু কার্তিক যেন মাতাল হতেই ভালোবাসে। মাতাল হয়ে সে হল্লা করে, নাচে, মেয়েদের ধরে টানাটানি করে।

    ওদের মদ্যপানের সময় সতীকে পাশে বসতে হয়। সে টুকটাক খাবার এনে দেয়। গেলাসে মদ ঢেলে কতখানি জল মেশাতে হয়, তাও সে শিখে গেছে।

    সে রাতে প্রচুর মদ খাওয়ার পর, কার্তিককে থেকে যেতে বলা হলেও সে শুনল না, জরুরি কাজের নাম করে চলে গেল। তার জিপ গাড়ি আছে, নিজেই চালায়। কোনওদিন অ্যাকসিডেন্ট করেনি। সে রাতেও কার্তিকের জিপ ঠিকই চলছিল, হঠাৎ তার বমি পেয়ে গেল। একটা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে রাস্তা। বমি পাচ্ছে কিন্তু বমি বেরুচ্ছে না, প্রবলভাবে ওয়াক-ওয়াক শব্দ করতে-করতে সে গাড়ি থামাতে বাধ্য হল। নীচে নামতে গিয়ে সে পড়ে গেল ধপাস করে। দু-এক মিনিট ছটফটিয়েই একেবারে স্থির।

    পরদিন কী করে যেন রটে গেল, কার্তিককে মাঝ রাত্তিরে জঙ্গলের মধ্যে ভূতে মেরে ফেলেছে। এর আগে কত বেশি মদ খেয়েছে সে। এমনভাবে কেন মরতে যাবে?

    পূর্ণিমা নামের একটি মেয়ে চুপিচুপি সতীকে বলল, বেশ হয়েছে, ঠিক হয়েছে। ওই কার্তিক হারামজাদাটাকে মেরেছে ময়না আর বুধনির ভূত। ওদের তো কার্তিকটাই গলা টিপেছিল।

    পূর্ণিমা তিনটে চুল্লুর ঠেক চালায়। নিজেও খুব নেশা করে, সে নাকি দুলালের ডানহাত। কিন্তু সে মনে-মনে এদের এত ঘেন্না করে তা সতী কল্পনাও করেনি।

    কার্তিকের মৃত্যুসংবাদ শুনে খুব ভয় পেয়ে গেল দুলাল। তিনদিন সে বেরুলোই না ঘর থেকে। সত্যি কার্তিককে ভূতে মেরেছে? ময়না-বুধনির ভূত এসে প্রতিহিংসা নিচ্ছে? কার্তিক ওদের গলা টিপে ধরেছিল আর দুলাল একটা বালিশ চাপা দিয়েছিল ওদের মুখে।

    তিনদিন পর একটু ঠিক হলেও সন্ধের পর আর একা কোথাও যায় না দুলাল। বেরুলেও তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। সতীকে নিয়ে ঘরে খিল দেয়। মনে-মনে তার ধারণা হয়েছে, সতী কাছে থাকলে ময়না এদিকে এগোবে না।

    আরও কয়েক মাস পরে সতী একদিন বমি করল। সে মদ খায় না। এ অন্যরকম বমি।

    পূর্ণিমা বলল, এই রে! পেট বাধিয়েছিস! খসাতে গিয়ে মরে না যাস দেখিস!

    সতীর খুব মরার ভয়। সে বেঁচে থাকতে চায়, যে-কোনও উপায়ে।

    পূর্ণিমার কাছ থেকেই সে জানল, এখানে বাচ্চাকাচ্চা কেউ পছন্দ করে না, তাতে অনেক ঝামেলা। এক ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পেট খসাবার ব্যবস্থা করা আছে, তবে পান্তু নামে একটি মেয়ে এই করতে গিয়ে মারা গিয়েছিল।

    আর যদি সতী তার সন্তানকে নষ্ট করতে না চায়? সে বাপের বাড়ি ফিরে যাবে।

    পূর্ণিমা বলল, পাগল নাকি? এখানে একবার ঢুকলে আর বেরুনো যায় না, জানিস না? দ্যাখ না, দুলাল তোকে বড়জোর আর বছরখানেক পেয়ার করবে, তারপর তোকে পাঠিয়ে দেবে অন্য একটা ডেরায়।

    সতী তার পায়ে ধরে অনুরোধ করল, এখুনি যেন পূর্ণিমা তার গর্ভের অবস্থা অন্য কারুকে না বলে।

    এক রাত্তিরে সতী খুব নরমভাবে দুলালকে জিগ্যেস করল, তোমার বাবা হতে ইচ্ছে করে না? নিজের ছেলে কিংবা মেয়েকে কোলে বসিয়ে আদর করতে ইচ্ছে করে না?

    সতীর থুতনি ধরে দুলাল বলল, তোর বুঝি বউ হওয়ার খুব শখ হয়েছে? ল্যাংড়াকে বিয়ে করবি তো বল, ব্যবস্থা করি। আমি ওসব ঝুট ঝামেলার মধ্যে নেই।

    দুলালের মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল সতী।

    তার কয়েকদিন পরেই সে চুপিচুপি পালাল দুলালের ডেরা থেকে। কোথায় যাবে সে? বাড়িতে ফিরলে দুলালের লোকজন ঠিক আবার ধরে আনবে?

    মাঝ রাত্তিরে জানলায় টকটক শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল জীবনদার। জানলা খুলে দেখলেন, ছায়ার মতন দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। সঙ্গে আর কোনও লোক নেই।

    সতীকে তিনি একবার মাত্র দেখেছেন, তাই চিনতে পারলেন না।

    সতী বলল, আমি ময়নার বোন।

    জীবনদার খুব রাগ এসে গেলেও অনেকটা সামলে নিয়ে বললেন, সেই এলি এখানে। এত দেরি করে? আমি যখন আনতে গিয়েছিলাম, তখন মুখ দিয়ে একটা কথা বেরোয়নি।

    সতী বলল, আমি এখানে বেশিদিনের জন্য থাকতে আসিনি। আজকের রাতটা। তারপর আপনি আমায় থানায় পৌঁছে দেবেন?

    জীবনটা বললেন, থানায়? থানায় গিয়ে কী হবে?

    যে-সতী এমনিতে কথাই বলতে চায় না, সে এখন স্পষ্ট করে বলল, থানায় দুলালের নামে নালিশ করব। আমার পেটে দুলালের সন্তান। আমার দিদিকে ওরা খুন করেছে, তা প্রমাণ করা যায়নি, কিন্তু আমার এ-অবস্থার জন্য ও শাস্তি পাবে না? আইন আছে তো!

    জীবনদা বললেন, ভেতরে এসে এখন শুয়ে থাক। পরে ওসব কথা হবে, তোর পেটে যে দুলালের সন্তান তার প্রমাণ হবে কী করে?

    সতী বলল, রক্ত পরীক্ষাতেই বোঝা যাবে। আর একটা কী আছে না, ডি এন এ।

    জীবনদা বললেন, কী বললি? কী বললি? তুই এসব জানলি কী করে?

    সতী বলল, আমি তো খবরের কাগজ পড়ি। মুখস্ত করে রেখেছি। এখন তো সহজেই জানা যায়।

    পরের দিন সতীকে রেখে দেওয়া হল পাহারা দিয়ে।

    এর মধ্যে জীবনদা যোগাযোগ করলেন তাঁর এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে। প্রতুল দাস নামে এক উকিলকেও ডাকা হল। তারপর সদলবলে গেলেন থানায়।

    দারোগাবাবু এ বার আর কথার মারপ্যাঁচে জিততে পারলেন না।

    কোনও মেয়েকে গর্ভবতী করে তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়াটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত থেকে একরকম নির্দেশ দেওয়া আছে কঠোরভাবে। সমস্ত ঘটনাটা ফলাও করে ছাপা হবে কলকাতার একটা বড় কাগজে। পরের দিনই উকিলবাবুটি আবেদন করবেন আদালতে।

    দারোগাবাবু একটু সময়ের জন্য উঠে গেলেন। তাঁর অফিসের ওপরওয়ালা আর অফিসের বাইরের ওপরওয়ালাদের সঙ্গে কী কথা হল কে জানে। ফিরে এসে অন্য মূর্তি ধরলেন।

    জীবনদাকে বললেন, আপনি তো ঠিক কথাই বলেছেন। ডি এন এ টেস্টে যদি প্রমাণ হয়, তা । হলে ওই শুয়োরের বাচ্চা দুলালকে দশ বছর জেল খাটাব। আপনারা এফ আই আর দিন। আমি ওকে পিছ মোড়া করে বেঁধে আনব। বেগড়বাই করলে মেরে হাড় গোড় ভেঙে দেব!

    দুলাল নিজেই এসে ধরা দিল। সে দেখল এই সময়ে তার পাশে কেউ নেই। যাদের নামে সে ত্রাসের রাজত্ব চালায়, তারাও তাকে ত্যাগ করেছে।

    শেষপর্যন্ত আর আদালতে যেতে হল না। তাকে প্রস্তাব দেওয়া হল, সে জেল খাটতে চায় না, সতীকে বিয়ে করতে রাজি আছে। জেলের গরাদের বদলে বিয়ের ফাঁসটাই বেছে নিল সে। থানার কম্পাউন্ডেই রীতিমতন মন্ত্র পড়ে বিয়ে হয়ে গেল দুজনের। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সমিতির দুজন সদস্যাও সেখানে উপস্থিত।

    দুলালকে বলে দেওয়া হল, তার ওপর সবসময় নজর রাখা হবে। এরপর যদি সে তার স্ত্রীকে অবহেলা বা অত্যাচার করে, তাহলে আবার টেনে আনা হবে থানায়।

    নববধূর সাজে সতী চলে গেলে দুলালের জিপ গাড়িতে।

    ডেরায় এসে নিজের ঘরে বসে বোতলে দু-চুমুক দিয়ে খানিকটা ধাতস্থ হল সে। তারপর সতীকে বলল, তোর পেটে-পেটে এত ছিল?

    সতী বলল, আমার পেটে তোমার বাচ্চা, সে-ই আমাকে এই বুদ্ধি দিয়েছে।

    একটু থেমে সে শান্ত গলায় বলল, কার্তিককে আমি খুন করেছি। তার মদে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। তোমাকেও আমি একদিন ওইভাবে মারতাম, কিন্তু এর মধ্যে আমার পেটে সন্তান। এসে গেল যে! আমার সন্তানের বাবাকে আমি মারব কী করে?

    দুলাল চেঁচিয়ে হঠাৎ কান্না মেশানো গলায় চেঁচিয়ে বলে উঠল, তোর দিদিকে আমি মারতে চাইনি, বিশ্বাস কর, একটা ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দিতাম, কিন্তু ওই হারামজাদা কেতোটাই…তুই বিশ্বাস কর!

    সতী বলল, বিশ্বাস করলাম। এই দ্যাখো, আমার পেটে তোমার সন্তান সব শুনছে। ও নড়ছে, হাত দিয়ে দ্যাখো–

    দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে অনেকে। তাদের মধ্যে থেকে পূর্ণিমা জোরে বলে উঠল, কি গো, বিয়ে হল, ফুলশয্যা হবে না? এই যে ফুল এনেছি, বিছানায় ছড়িয়ে দে সতী!

    জানলা দিয়ে কেউ এক গুচ্ছ ফুল ছুড়ে দিল খাটের ওপর।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোমচোর
    Next Article যমজ কাহিনি

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী ছোটগল্প

    আসল বেনারসী ল্যাংড়া

    April 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }