Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প308 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – ১৫

    ১৫

    রুদ্র ইচ্ছে করেই স্টেশনে ঢোকেনি, আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনটায় এমনিই এর আগে খুব বেশি আসেনি ও। অমিতের হাতে আসার সময় চাবিটা দিয়ে এসেছে, আপাতত অফিশিয়াল ডিউটি থেকে ওর ছুটি। কিন্তু ওর ভেতরটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছিল। ভেতরে ভেতরে ওর মনটা বৈপরীত্যে মোড়া দু-ভাগে ভাগ হয়ে গেছে এখন। একদিকে বাবা-মা-র সঙ্গে এতদিন পর দেখা হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে নাহুম খানের বলা কথাগুলো, অফিসের টেনশন। ভদ্রলোক ঠিকই অনুমান করেছিলেন, পুরোনো মর্টগেজ থাকা দলিলের ফটোকপিতে যে বাড়ি তৈরির জন্য লোন নেওয়া হয়েছিল, সেটার ঠিকানা পাওয়া গেছে। নাহুম খান আর ওই পাঞ্জাবি অফিসার সেখানেই যাওয়ার আগে ওকে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেলেন ওই খুনের জায়গায়।

    ওদিকে একদিন কেটে গেল, অফিসের চিঠির কোনো উত্তরও লেখা হল না।

    ওর হঠাৎ মেজাজটা খিঁচড়ে গেল। ভালোভাবে জীবন কাটানোর জন্য চাকরি করা, কিন্তু সেই চাকরিই যখন জীবনের কাছের মানুষগুলোর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর তারপর সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে কোনো দোষে অভিযুক্ত করে মানসিক স্থায়িত্বটাকে তছনছ করে দেয়, তার চেয়ে দুঃখের আর কিছুই হতে পারে না।

    তাও বাবা-মা ওর কাছে আসছেন, হঠাৎ কোনো প্রয়োজন হলে ও নিজেও কলকাতা যেতে পারবে, কিন্তু প্রিয়ম?

    ফোনটা বের করে আবার কিছুক্ষণ চেষ্টা করল, কিন্তু প্রিয়মের ফোন সেই নট রিচেবল। রাগে ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হল ওর। মেসেজের পর মেসেজ করে যাচ্ছে সকাল থেকে, একটাও ডেলিভার্ড হচ্ছে না।

    চোখটা হঠাৎ ছলছল করে উঠল রুদ্রর। কতদিন হয়ে গেল প্রিয়মকে দেখেনি! বিয়ের পরে তো বটেই বিয়ের আগেও কখনো এতদিন দু-জন দু-জনকে ছেড়ে থাকেনি। আগে অফিসে সামান্য কোনো সমস্যায় পড়লেই প্রিয়মকে না বলা পর্যন্ত ওর পেটের ভাত যেন হজম হত না, আর এখন এত বড়ো বিপদেও প্রিয়ম টেনশন করবে ভেবে ও কিছুই বলে উঠতে পারেনি।

    ইউরোপ থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরে ওর যখন হঠাৎ আগ্রায় ট্রান্সফার অর্ডার এল, কিচ্ছু ভালো লাগত না। একদম প্রথমদিককার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল ওর। প্রথম কিছুদিনের জন্য ব্যাঙ্কের গেস্টহাউসে উঠেছিল। অফিসের সময়টুকু বাদে বাকি সময়টা একটা ভালো ফ্ল্যাট খুঁজতে হত। তারপর সন্ধের পর দালালদের সঙ্গে সেইসব আস্তানা দেখতে যেতে হত। একটা রান্নার লোক ঠিক করা, গ্যাসের লাইন, জলের লাইন, সবজির বাজারে গিয়ে দেখে দেখে বাজার করা, এইসব হাজারো ঝামেলা নিয়ে একা জীবন শুরু করতে করতে অসহ্য লাগত ওর!

    কতবার একা ঘরে রাগের বশে ওর পুরোনো অভ্যেসমতো জলের গ্লাস ছুড়ে ফেলেছে মাটিতে, রাতের বেলা অফিস থেকে ফিরে সকালে রাঁধুনির করে যাওয়া ঠান্ডা খাবার উলটে দিয়েছে টেবিলে। কিন্তু কাকে রাগ দেখাবে এখানে? কে আছে ওর মাথা ঠান্ডা করার জন্য, মান ভাঙানোর জন্য? রাগ করে না খেয়ে ঘুমিয়েছে, জল ভরতি মেঝে থই থই করেছে সারাদিন, পড়ে থাকা খাবারে মাছি ভনভন করেছে। তারপর একসময় বাধ্য হয়ে নিজেই পরিষ্কার করেছে।

    মাঝে মাঝে মনে হত একছুটে সব ছেড়েছুড়ে চলে যায়। এসব কোনোদিনও ও করেছে? ওদের কলকাতার ফ্ল্যাটের যাবতীয় দেখভাল প্রিয়মই করত, কাজের লোকদের চালনা থেকে শুরু করে রুদ্রকে সামলানোও। আর এখন? তার চেয়েও বড়ো কথা, আর ক-টা দিনই বাঁচবে? এই সেদিনই একটা আর্টিকলে পড়ছিল পৃথিবীর মানুষের গড় আয়ু এখন একাত্তর বছর। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বড়োজোর আর চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর বাঁচবে ও। আগে জীবনের অতগুলো বছর কাটল বাবাকে ছাড়া, আর এখন সব পেয়েও আবার ও একা।

    তবে একদিক থেকে দেখতে গেলে এই নির্বাসিত জীবন রুদ্রকে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখাচ্ছে। আগের থেকে এখন অনেক ম্যাচিয়োর্ড হয়েছে ও। আগে যেমন তুচ্ছ কারণে অকারণে প্রিয়মের সঙ্গে ঝগড়া করত ও, এখন রুদ্র সারাক্ষণ অনুভব করে, জীবনে যে ক-টা দিন ভালোভাবে সুস্থভাবে একসঙ্গে থাকা যায়, সেটা কখনো নষ্ট করতে নেই। এই যে এখন রুদ্র আর প্রিয়মের মধ্যে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান, রুদ্র যখন রাতে আটটার সময় অফিস থেকে ফেরে, তখন প্রিয়মের ওখানে সবে দুপুর আড়াইটে। প্রিয়ম ব্যস্ত গলায় কিছুক্ষণ কথা বলেই রেখে দেয়, অফিসের কাজের মাঝে। ওদিকে রুদ্ররও তখন অবসন্ন দেহে মনে হয় একটু বিশ্রাম নিয়ে নেয়।

    দু-জনের একটু সময় করে কথা বলার জন্য এখন কত প্ল্যান করতে হয়। অথচ আগে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন সে-সুযোগ পাওয়া যেত, তখন কত সামান্য কারণে ঝগড়া, তর্কবিতর্ক করে হেলায় সময়গুলো হেলায় নষ্ট করেছে রুদ্র।

    তাই এখন ও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে, আবার যখন ওরা দু-জনেই কলকাতার বাড়িতে ফিরবে, আবার যখন ওদের ছোট্ট সুন্দর ফ্ল্যাটটায় ওরা একসঙ্গে থাকবে, কখনো শুধু শুধু আর ঝগড়া করবে না।

    হেলান দিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে কোথায় চলে গিয়েছিল রুদ্র, হুঁশ ফিরল ফোনের আওয়াজে, স্ক্রিনে বাবার ছবি দেখে তড়িঘড়ি রিসিভ করল ও, এরা এত দেরি কেন করছে, কখন তো বলল নেমে গেছে!

    সুরঞ্জনের সহাস্য কণ্ঠস্বর শোনা গেল ওপাশে, ‘কী রে, কোথায় তুই?’

    রুদ্র ফোন কানে একটু এগিয়ে গেল স্টেশনের গেটের দিকে, ‘আমি তো গেটের বাইরেই। তোমরা কোথায় বলো তো? কখন ট্রেন ঢুকে গেছে, আর তোমরা এখনও বেরোতে পারলে না?’

    রুদ্রর পাশ থেকে সুরঞ্জন বলে উঠলেন, ‘কী করব বল, মেয়ে এক বছর বাইরে থেকে যদি নিজের বাপ-মাকে চিনতে না পারে, পাশ দিয়ে হেঁটে হনহন করে এগিয়ে যায়, তবে আর বেরিয়ে লাভ কী! ভাবছি ফিরতি ট্রেন ধরে কলকাতা ফিরে যাই!’

    সুরঞ্জনের ছদ্ম দুঃখের গলা শুনে রুদ্র চমকে বাঁ-দিকে তাকিয়ে দেখল, সুরঞ্জন আর পূরবী কখন এদিকে চলে এসেছেন ও খেয়ালই করেনি।

    আনন্দে ওর বুকটা নেচে উঠল, খুশিতে চিকচিক করে উঠল চোখ, এগিয়ে গিয়ে ও জড়িয়ে ধরল বাবাকে।

    অনেক দিন বাদে সন্তানকে দেখলে সব বাবামায়েরই মন স্নেহে দ্রবীভূত হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হল। সুরঞ্জন মেয়েকে ভালো করে দেখলেন, পূরবী বলতে থাকলেন ‘ল্যাপটপে ঠিকই দেখেছিলাম, রোগা হয়ে গেছিস অনেক। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিস না!’

    রুদ্র অল্প হেসে সামনের একটা ট্যাক্সি ডাকল, ওদের লাগেজগুলো গাড়ির পেছনের ডিকিতে তুলতে তুলতে বলল, ‘সে তো হবই! রান্নার যা ছিরি! তুমি এসে গেছ, এবার ক-দিন একটু ভালমন্দ খেতে পাব! চলো ওঠো।’

    পূরবী বললেন, ‘অফিস ছুটি নিয়েছিস তো?’

    রুদ্র কিছু বলতে গিয়েও বলল না। যদিও ও ঠিক করেছে পুরো ব্যাপারটা বাবা মাকে খুলে বলবে। দু-জনেই সরকারি চাকরি করতেন, এই ধরনের চিঠির উত্তর কীভাবে দেওয়া উচিত, সে-ব্যাপারে ভালো গাইড করতে পারবেন, তবু এখনই ও খোলসা করল না কিছু।

    স্টেশন থেকে বেরিয়ে মল রোড দিয়ে সোজা এগিয়ে গাড়ি মহাত্মা গান্ধী রোডে পড়তেই সুরঞ্জনের মনটা স্মৃতিমেদুরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। স্নাতকোত্তর সময়ে তো বটেই, পরেও আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় কাজের সূত্রে কতবার এসেছেন এই ঐতিহাসিক শহরে! কাজের সূত্রে এলে এই জায়গাতেই একটা হোটেলে উঠতেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে আসা সহযাত্রীদের কথা মনে করতে করতে সুরঞ্জন যেন তাঁর কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে যাচ্ছিলেন। মুখের মধ্যে অজান্তেই নানারকম হাসি খেলা করছিল।

    রুদ্র সামনে বসলেও মা-মেয়ের কথা চলছিল নিরন্তর। পূরবী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইছিলেন কী খেয়ে অফিস বেরোয় রুদ্র, রান্নার লোকটা কেমন, দরজা ঠিকমতো বন্ধ করে শোয় কি না রাতে এইসব। এসব প্রশ্ন এর আগে ফোনে অন্তত দু-শোবার করা হয়ে গেছে, তবু আরও একবার একই উত্তর শুনে পূরবী শান্তি পান, কোনো বিচ্যুতি শুনলে একইরকম উষ্মা প্রকাশ করেন। এরই ফাঁকে বেশ রসিয়ে রসিয়ে ট্রেনে দেখা হওয়া সুরঞ্জনের পুরোনো বন্ধুর কীর্তিকলাপ বলতেও ভুললেন না।

    তার মধ্যেই পূরবী সুরঞ্জনের মুখের অভিব্যক্তি লক্ষ করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হল তোমার, নিজের মনেই হাসছ কেন?’

    সুরঞ্জন এবার সত্যিই হেসে ফেললেন, ‘বড্ড নস্টালজিক হয়ে পড়ছি। কত বার তো আসিনি আগে আগ্রায়! সেই দিল্লিতে পড়ার সময় থেকে। কত কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে।’

    রুদ্র এবার একটু হাসল, ‘লোকে গোয়ায় গেলে শুনেছি এইসব হয় আর তুমি কিনা এই ঘিঞ্জি শহরে এসে নস্টালজিক হয়ে পড়ছ! কেসটা কী বাবা? যতদূর জানি মায়ের সঙ্গে তোমার রিলেশন তো তোমার জে এন ইউ-তে যাওয়ার আগে থেকেই ছিল? তবে?’ তারপর পেছনে ফিরে মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল, ‘কী বুঝছ মা?’

    পূরবী হাত নেড়ে কপট রাগের ভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আর কী বুঝব বল! তখন তো আর তোদের মতো হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক এসব ছিল না যে সারাক্ষণ খোঁজ রাখতে পারব কোথায় যাচ্ছে, কী করছে। আমি সরলমনে বিশ্বাস করতাম।’

    সুরঞ্জন রসিকতাটা ধরতে না পেরে একটু বিব্রত হয়ে বললেন, ‘ধুৎ! আমি কি ওইসব মিন করেছি নাকি! তোরাও পারিস বটে।’ তারপর একটু থেমে যোগ করলেন, ‘ওই যে ট্রেনে দেখা হল, আমার ওই বন্ধুর সঙ্গেই প্রথমবার এসেছিলাম। তারপরও অনেকবার এসেছি। সেসবই মনে পড়ছে আর কি!’

    রুদ্র এবার একটু কৌতূহলী হয়ে বলল, ‘তোমার তো প্রথম থেকেই স্পেশালাইজেশন ছিল বৌদ্ধ কালচারের ওপরে। আগ্রা কেন আসতে হত তোমায়? এটা তো মুঘল আর্কিটেকচারের শহর!’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘মাস্টার্স করার সময় শুধু স্পেশালাইজেশন নয়, অন্য সাবজেক্টগুলোও থাকে। আর অফিসেও অনেকরকম ফিল্ডের কাজ থাকত।’ তারপর সোজা হয়ে বসে ভ্রূ কুঁচকে বললেন, ‘এটা তোকে কে বলল যে আগ্রা শুধু মুঘল শহর? এটা খুব ভুল কথা। আগ্রা শহরের নাম মহাভারতেও মেনশন করা আছে এটা জানিস কি?’

    রুদ্র এবার বেশ অবাক হয়ে বলল, ‘মহাভারতে? আমি তো জানতাম ওই ইব্রাহিম লোদি প্রথম দিল্লি থেকে আগ্রায় রাজধানী ট্রান্সফার করে আগ্রা শহর তৈরি করেছিল, সেটা তো সুলতানেট পিরিয়ড, মানে মুঘলদের ঠিক আগেই।’

    সুরঞ্জন মেয়ের এমন অজ্ঞতায় বেশ বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ছোটো থেকে এত ইতিহাস বই পড়তিস, আর কী সব বলছিস! দিল্লি থেকে আগ্রায় রাজধানী নিয়ে এসেছিল সিকন্দর লোদি, ইব্রাহিম লোদির বাবা। আর সে তো অনেক পরের ব্যাপার!’ গাড়ির বাইরে দিয়ে হুস করে বেরিয়ে যাওয়া একটা ভাঙাচোরা স্থাপত্য দেখতে দেখতে সুরঞ্জন বললেন, ‘মহাভারতে আগ্রার নাম লেখা আছে অগ্রেবন, যার মানে হল অরণ্যের সীমারেখা। আর লোদির যে ব্যাপারটা বলছিস, ও তো শুধুমাত্র ওর ক্যাপিটাল দিল্লি থেকে এখানে ট্রান্সফার করেছিল, সেটা সম্ভবত ১৫০৬ সাল হবে। তারও প্রায় ত্রিশ বছর আগে এই শহর তৈরি করেছিলেন বাদল সিং নামে এক হিন্দু রাজা। তাঁর তৈরি বাদলফোর্ট তো এখনও আছে, একদিন নিয়ে যাব তোকে। লোদি সেই রাজার কাছ থেকে এই শহরটা দখল করে।’

    রুদ্র বলল, ‘ওহ! আর তারপর সুলতানেট পিরিয়ড শেষ হবার পর মুঘল সাম্রাজ্য শুরু হতেই এটা ওদেরও ক্যাপিটাল হয়ে গেল, তাই তো!’

    সুরঞ্জন অঘোরেশের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মুঘল ইতিহাসে যেন আরও ডুবেছিলেন, মাথা নেড়ে বললেন, ‘সব মুঘল সম্রাটের আমলে নয়। সম্রাট আকবর, জাহাঙ্গির আর শাজাহান এটাকে রাজধানী রেখেছিলেন। তখন এই শহরের নাম ছিল আকবরাবাদ। মাঝে শাজাহান তাঁর শাসনকালের শেষের দিকে রাজধানী দিল্লিতে শাহজাহানাবাদে ট্রান্সফার করলেও পরে ঔরঙ্গজেব আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এখানেই। পরে অবশ্য ঔরঙ্গজেবই আবার সাউথের ঔরঙ্গাবাদে সরিয়ে নিয়ে যান রাজধানী।’

    ‘হ্যাঁ রে, প্রিয়মের সঙ্গে কথা হয়েছে আজ?’ পূরবী মাঝে বলে উঠলেন।

    ‘না, সকাল থেকে ফোনে ওকে পাচ্ছি না কেন জানি না!’ রুদ্র আরও একবার চেষ্টা করতে উদ্যত হল।

    মা যে একটু বিরক্ত হচ্ছেন তা পেছনে না তাকিয়েও রুদ্র বিলক্ষণ বুঝতে পারছিল। এতদিন বাদে দেখা হয়ে ইতিহাসের কথা শুনতে প্রথমে রুদ্র ভেবেছিল ওর নিজেরও ভালো লাগবে না, কিন্তু শুনতে শুনতে ও যেন ওর ছোটোবেলায় ফিরে যাচ্ছিল, যখন বাবা ওকে দেশ-বিদেশের ইতিহাস, কতরকম রুদ্ধশ্বাস ঘটনা গল্পের মতো করে শোনাতেন। এক মুহূর্তের জন্য ও যেন নিজের জীবনের এই তীব্র সংকটটা ভুলে গেল।

    মনটা হঠাৎ করে ওর দারুণ ভালো হয়ে উঠল।

    ধুর, যা হবে দেখা যাবে, আপাতত এই সান্নিধ্যটা ও প্রাণপণে উপভোগ করুক! আর দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই ও প্রিয়মের অফিসে ফোন করবে।

    ও বলল, ‘জানো বাবা, তাজমহল নিয়ে এখানে এখন বেশ গণ্ডগোল চলছে।’

    সুরঞ্জন হালকাভাবে বললেন, ‘এ আর নতুন কী! তাজমহল নিয়ে বিতর্ক, ঝামেলা, এসব তো বরাবরই চলছে। জানিস লর্ড বেন্টিঙ্ক যখন ভারতের বড়োলাট ছিলেন তখন তাজমহলকে নিলামে চড়িয়েছিলেন? পুরো তাজমহলকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে পাথরগুলো বেচে ইংরেজ সরকারের আয় বাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। প্রায় করেই ফেলেছিলেন, একটুর জন্য রক্ষা পেয়েছিল সেদিন।’

    ‘অ্যাঁ? তাজমহল ভেঙে পাথর বিক্রি?’ রুদ্র অবাক, ‘কোন বেন্টিঙ্ক? যিনি সতীদাহ প্রথা বন্ধ করেছিলেন?’

    ‘ইয়েস!’ সুরঞ্জন মিটিমিটি হাসলেন, ‘বেন্টিঙ্ক সমাজসংস্কারমূলক কাজ অনেক করেছিলেন বলে আমাদের কাছে খুব ভালো, কিন্তু ওই একটা মানুষের জন্যই শুধু তাজমহল নয়, তখনকার সবকটা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ধ্বংস হতে বসেছিল।’

    ছোটোবেলায় রুদ্রকে এভাবেই বাবা গল্পচ্ছলে ইতিহাসের অজানা কাহিনিগুলো শোনাতেন, রুদ্র বলল, ‘বলো বলো, পুরো ঘটনাটা শুনি একটু।’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘তখন উচ্চবিত্ত ব্রিটিশ পরিবারের লোকেরা ভারতে ঘুরতে আসত। তারা দিল্লি, আগ্রায় অজস্র মুঘল স্থাপত্য দেখত, আর নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সময় স্মৃতিচিহ্ন বাবদ এগুলোর দামি পাথর খুঁড়ে সঙ্গে নিয়ে যেত। ফতেপুর সিক্রিতে গেলে দেখবি, শিসমহলের ভেতরের পুরোটাই খোবলানো, সব পাথর নিয়ে গিয়েছিল ইংরেজরা। তাজমহলে অনেক ধরনের মূল্যবান পাথর লাগানো ছিল। রাজস্থানের মাকরানা থেকে আনা বিখ্যাত সাদা মার্বল, পাঞ্জাবের জাস্পার পাথর, চীন থেকে আনা জেড আর ক্রিস্টাল পাথর, তিব্বতের নীলকান্তমণি, আফগানিস্তানের লাপিস লাজুলি, আরবের কার্নেলিয়ান পাথর, আরও কতরকম পাথর যে ব্যবহার করা হয়েছিল তার ইয়ত্তা নেই। ওইসময়ে রাজকোষের খুব শোচনীয় অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। তাই বেন্টিঙ্ক ভাবলেন তাজমহলকে ভেঙে ওইসব পাথরগুলো তিনি বিক্রি করে রাজকোষ ভরতি করে তুলবেন। তার আগে অবশ্য একবার অলরেডি তাজমহলকে মথুরার লক্ষ্মীচাঁদ নামে এক শেঠকে বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল, তাও মাত্র দেড়লক্ষ টাকায়। কিন্তু লক্ষ্মীচাঁদ যখন তাজমহল দখল করতে এলেন, স্থানীয় লোকেদের প্রচণ্ড বিক্ষোভে আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

    ‘বেন্টিঙ্ক তাই ওসব রিস্কই নিলেন না। সব আটঘাট বেঁধে তিনি কলকাতার একটা কাগজে বড়ো করে তাজমহল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে দিলেন। অনেক লোক সেই নিলামে বিড করল, যখন নিলাম একদম শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তখন হঠাৎ জাহাজে করে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে জরুরি অর্ডার এল নিলাম বন্ধ করার জন্য। শোনা যায় ব্রিটিশ আর্মিরই কোনো সৈন্য বেন্টিঙ্কের ওই কাণ্ডকারখানার কথা বিলেতে রিপোর্ট করে দিয়েছিল। কে সেই সৈন্য তা জানা যায়নি, তবে সে ওই কাজটা না করলে,’ সুরঞ্জন থামলেন, ‘তাজমহল আজ আর কেউ দেখতে পেত না।’

    ‘কী সাংঘাতিক!’ রুদ্র মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিল, ‘জানতামই না এটা!’

    ‘আর শুধু বেন্টিঙ্ককেই-বা দোষ দেব কেন।’ সুরঞ্জন বললেন, ‘লর্ড হেস্টিংসও অনেক দামি পাথর খুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তাজমহল থেকে। লর্ড কার্জনও অনেক পাথরকে নিলামে চড়িয়েছিলেন। সেই নিলামের কপি আজও আমাদের আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হেড অফিসে রাখা আছে।’

    গল্পে গল্পে প্রায় মিনিট দশেক পরে ওঁদের গাড়িটা যখন রুদ্রর অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছোল, তখন বেশ চড়া রোদ উঠে গেছে, ঘড়ির কাঁটা যদিও এগারোটা ছোঁয়নি এখনও।

    এতদিন হয়ে গেল রুদ্র এখানে এসেছে, তবু, এখানকার জলবায়ুর সঙ্গে ও পুরোপুরি মিশ খাওয়াতে পারেনি, অফিস যাওয়ার সময় প্রায়ই তাড়াহুড়োতে মুখ-চোখ-গলা স্কার্ফে জড়িয়ে বেরোতে ভুলে যায়, আর কিছুক্ষণ স্কুটি চালানোর পরেই ওর যেন মনে হয় মুখ, গলা, হাতের অনাবৃত অংশগুলো পুরো জ্বলছে লু-র মতো এক গনগনে হাওয়ায়। শীতকালেও প্রায় একই অবস্থা।

    কমপ্লেক্সের আশপাশ দেখে সুরঞ্জন আর পূরবী, দু-জনেরই বেশ পছন্দ হল। বেশ বড়ো এরিয়া নিয়ে তৈরি, ভেতরে মন্দির, কমিউনিটি হল থেকে শুরু করে একটা জিমও রয়েছে। বর্গক্ষেত্রের চার কোণের মতো চারটে কোনায় আকাশছোঁয়া চারটে ফ্ল্যাট, প্রতিটাই বারোতলা করে, মাঝের জায়গাটায় বাচ্চাদের ছোটো একটা খেলার মাঠ।

    তবে রুদ্রর অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে বাইরের আর ভেতরের মধ্যে কোনো মিল পাওয়া গেল না। চারদিক ছত্রাকার, অগোছালো, গোটা ফ্ল্যাটটার যেখানে সেখানে জামাকাপড়ের স্তূপ।

    দেখেশুনে পূরবী সেই আগের ডায়ালগ শুরু করলেন, ‘ভাবলাম একা থাকতে শুরু করেছিস, একটু অন্তত নিজেরটা করতে শিখবি, একইরকম রয়েছিস? কী করে পারিস এরকম নোংরার মধ্যে থাকতে?’

    রুদ্র মায়ের গজগজানিকে বিশেষ পাত্তা দিল না, একটু অস্থিরভাবে বলল, ‘তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাও তো, আমি কফি বানাচ্ছি, রতন ভাই এক্ষুনি এসে পড়বে, ও আলুর পরোটাটা হেব্বি বানায়!’

    পূরবী আর কিছু না বলে বিরক্তির একটা ভঙ্গি করলেন। তিনি নিজেও সারাজীবন কলেজে পড়িয়েছেন, সঙ্গে সংসারও করেছেন, ঘরের রান্না বাইরের লোককে দিয়ে করানো তাঁর ঘোরতর অপছন্দ। অন্য কিছুর জন্য নয়, ওদের হাতে তেলমশলার কোনো ঠিক থাকে না। দিনের পর দিন ওই তেল ঝাল মশলা খেলে পেটের আর কিছু থাকবে না। পরিচ্ছন্নতাও একটা ফ্যাক্টর। রুদ্রকে তিনি প্রথমেই বলেছিলেন তেমন হলে মশলা বাটা, কুটনো কুটে দেওয়ার জন্য লোক রাখুক, কিন্তু রান্নাটা অন্তত নিজেই করুক, তাতে শরীরটা ভালো থাকবে। প্রিয়মের মা-ও সেটাই বলেছিলেন। এই তো প্রিয়ম কী সুন্দর নিজে রান্না করে খায়।

    কিন্তু রুদ্র শোনে তো নি-ই, উলটে একটা ছেলেকে রেখেছে। একা থাকে, তার মধ্যে একটা ছেলেকে রান্নার জন্য রাখার কোনো মানে হয়? কিন্তু রুদ্র পাত্তাই দেয়নি, ঠোঁট উলটে জানিয়েছিল ছেলেটা খুব ভালো, আর এতই প্যাংলা, ফুঁ দিলে উড়ে যাবে। আর এখানে নাকি রান্নার লোক তেমন পাওয়া যায় না, একে অনেক কষ্টে পেয়েছে।

    পূরবী মনে মনে ঠিক করলেন, যে ক-টা দিন এখানে আছেন, ওই রতনবেটাকে রান্নার খুন্তিও ধরতে দেবেন না, বড়োজোর সবজিগুলো কেটেকুটে দিতে বলবেন। আর কম তেল মশলা দিয়ে ভালো করে রান্নাটাও শিখিয়ে দিয়ে যাবেন। সুরঞ্জনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন ফোন নিয়ে কী করছেন সুরঞ্জন। পূরবী বললেন, ‘কী করছ? তোমার জামা বের করে দিচ্ছি, গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নাও।’

    সুরঞ্জন অন্যমনস্কভাবে বললেন, ‘হুঁ, যাচ্ছি। অঘোরেশ বার বার ফোন করছে জানো, কিন্তু ধরার আগেই কেটে দিচ্ছে। প্রায় পাঁচ-ছ-বার করল। আর এখন আমি রিং ব্যাক করছি, ধরছে না।’

    পূরবী এবার বেশ রেগে গেলেন, ‘কোথায় এতদিন বাদে মেয়ের কাছে এলে, ফ্ল্যাটটা ঘুরে ঘুরে দেখবে, গল্প করবে, তা নয়, সেই পাগলাটে লোকটাকে নিয়ে পড়ে আছ?’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘আরে তা নয়, কোনো দরকারও তো হতে পারে। দেখলে না, যাওয়ার আগে বলে গেল আমাকে খুব ইম্পর্ট্যান্ট কী বলার আছে ওর?’

    রুদ্র কফি নিয়ে আসতে পূরবী কাপে কফি ঢালতে ঢালতে বললেন, ‘থামো তো! তোমার সঙ্গে এতকাল কোনো যোগাযোগই ছিল না, আর এখন এত জরুরি দরকার হয়ে গেল? যতসব ছিটগ্রস্ত কার্যকলাপ। আচ্ছা, তোমাদের লাইনের কি কোনো লোকই পুরোপুরি সুস্থ নয়? মানে ইতিহাস নিয়ে থাকতে থাকতে তারা সবাই অপ্রকৃতিস্থ টাইপ হয়ে গেছে?’

    সুরঞ্জন এবার বেশ বিব্রতভাবে তাকালেন, একটু সন্দিগ্ধ গলায় বললেন, ‘মানে? সবাই মানে তুমি কাকে মিন করছ?’

    পূরবী মোটেই দমলেন না, ‘তুমি নিজেই সেদিন বললে একই গাইডের আন্ডারে তোমার সঙ্গে পিএইচ ডি করেছিল একটা মেয়ে, পাগল হয়ে গেছে। তোমার ওই স্কটিশের স্যারেরও শেষের দিকে একটু মাথার গণ্ডগোল দেখা দিয়েছিল, আর তোমার এই বন্ধুটির তো তুলনাই নেই!’ পূরবী কফির মাগ হাতে রুদ্রর দিকে ঘুরলেন, ‘এমন জোরে জোরে গান গাইছে যে হেসে মরি, জানিস! আর দাড়ির মধ্যে উকুন ঘুরছে! ইস!’

    সুরঞ্জন এবার প্রতিবাদ করলেন, ‘যাহ! নোংরা ছিল মানছি, কিন্তু দাড়িতে উকুন ছিল না মোটেও!’

    পূরবী চোখ পাকিয়ে বললেন, ‘আলবাত ছিল। আমি তো ওর একদম উলটোদিকে বসেছিলাম, আমি স্পষ্ট দেখেছি। তুমি পাশে বসে কী করে দেখবে। বরং আমি শিয়োর, তোমার মাথায় ওর থেকে উকুন চলে এসেছে গোটাকতক। যেরকম জাপটে ধরেছিল তোমায়!’

    সুরঞ্জন এবার বেশ ঘাবড়ে গেলেন, তিনি পরিষ্কার পরিপাটি মানুষ, মাথায় উকুন রয়েছে, এটা কল্পনা করতেই তাঁর গা ঘিনঘিন করে উঠল। রুদ্রর দিকে অসহায়ভাবে চাইলেন তিনি, ‘কী হবে রে? উকুন সত্যিই চলে এসেছে? যে ক-টা চুল আছে সে-কটাও তো উঠে যাবে তাহলে! তার ওপর চুলকোবে, ডিম পাড়বে, বাচ্চা হবে, সে তো একেবারে বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড! উকুন কী করে তাড়াতে হয়, বল না!’

    রুদ্রর খুব মজা লাগছিল, তার মধ্যেও ও খেয়াল করল, ভুটানের সেই নির্বাসন থেকে বাবা ফিরে আসার পর মা আর আগের মতো গম্ভীর নেই, অনেক প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছেন। কথায় কথায় মজা করেন, বাবার পেছনে লাগেন। অন্তত এই মাকে বাবা ফিরে আসার আগে পর্যন্ত ও চিনত না। মা ছিলেন একটু রাশভারী প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু এখন যেন ঠিক তার বিপরীত!

    জীবনের ওই ক-টা অভিশপ্ত বছরের একা কাটানো সময়গুলো সুদে-আসলে পূরবী এখন পুষিয়ে নিতে চান হয়তো!

    চোখটা ফেরাতেই ও জানলা দিয়ে বাইরের ল্যাম্পপোস্টে সকালের সেই পোস্টারগুলো একদম কাছ থেকে দেখতে পেয়ে গেল। হলদেটে হ্যান্ডবিল কাগজের ওপর ধ্যাবড়া কালো কালিতে ছাপা কয়েকটা অদ্ভুত বাক্য। এগিয়ে গিয়ে জুম করে মোবাইলে ছবিটা তুলে নিয়েই রুদ্র দেখল, বাবা তখনও ওর দিকে কাতর দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন।

    ও অভয় দিল, ‘তুমি চিন্তা কোরো না, বাবা। আমি দেখে নেব। মা যেরকম ঘন দাড়ির জঙ্গল বলল, মনে হয় না ওরা ওইটুকু সময়ের মধ্যে সেই অরণ্য ভেদ করে অতটা পথ উড়ে তোমার চুল পর্যন্ত পৌঁছোতে পেরেছে। তবু যদি এক আধটা কলম্বাস উকুন থেকে থাকে, চাপ নিয়ো না, আমি ওষুধ কিনে আনছি, ভালো করে লাগিয়ে দেব মাথায়।’ তারপর ও হঠাৎ বলে উঠল, ‘আচ্ছা বাবা, তুমি ড নিজামুদ্দিন বেগ বলে কাউকে চেনো?’

    সুরঞ্জন একটু ভ্রূ কুঁচকে বললেন, ‘ঠিক মনে করতে পারছি না। কে বল তো?’

    রুদ্র বলল, ‘আগ্রার এক কলেজের প্রফেসর। এক মাস ধরে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওঁকে, এখানকার সব কাগজেই বেরিয়েছিল খবরটা। একা লোক, প্রথমে কেউ বুঝতেও পারেনি, তাই ভাবলাম, তুমি চেনো কি না!’

    সুরঞ্জন একটু অবাক হয়ে বললেন, ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে? ভদ্রলোক সুস্থ তো?’

    পূরবী মুখ টিপে চোখের ইশারা করলেন রুদ্রর দিকে চেয়ে, ভাবখানা এমন, দেখ আমি বলেছিলাম ইতিহাসের লোক মানেই পাগল টাইপ!

    সুরঞ্জন সেটা ধরতে পেরে সঙ্গেসঙ্গে বললেন, ‘না না, আমি বলতে চাইছি, ভদ্রলোকের শরীর-টরীর ঠিক ছিল তো? বয়সের ভারে কোথাও পড়ে গিয়ে চোট-টোট লাগে যদি!’

    রুদ্র মাথা নাড়ল, ‘অসুস্থ বলে তো তেমন কিছু লেখেনি। আর বয়সও খুব বেশি নয়, পঞ্চান্ন না কত। সম্প্রতি কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তারপরই এই ব্যাপার। কী যে সব দিনকাল পড়েছে! তোমাকে পরে সব ডিটেইলে বলছি।’

    এরপর রুদ্রর রান্নার ছেলেটা এসে পড়তে আড্ডা ভেঙে গেল। পূরবী ফ্রেশ হয়ে নিয়ে ছেলেটার সঙ্গে রান্নাঘরে গিয়ে লেগে পড়লেন তদারকিতে। রুদ্র যতই ওর রান্নার দরজা সার্টিফিকেট দিক, পূরবী ভালো করে হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে খুঁটিনাটি শেখাতে লাগলেন তাকে।

    সুরঞ্জন আরও দু-একবার চেষ্টা করলেন অঘোরেশের ফোনে, কিন্তু পেলেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }