Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প308 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – ১৯

    ১৯

    সুরঞ্জন এক মুহূর্তের জন্য খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন বিনা অনুমতিতে ম্যানুস্ক্রিপ্টটায় হাত দেওয়ার জন্য। অঘোরেশ এমনিই একটু অন্যরকম, দুম করে রেগে যায়, এই ব্যাপারে ওর প্রতিক্রিয়া কী হবে সেটা আন্দাজ না করেই সুরঞ্জন বলে ফেললেন, ‘কী রে, এত দেরি হল কফি আনতে? তোর কালেকশন দেখছিলাম আর কি, ঘুরে ঘুরে!’

    কিন্তু অঘোরেশ কিছু মনে করলেন না, কফির একটা কাপ সুরঞ্জনের দিকে বাড়ালেন, অন্যটা রুদ্রর হাতে দিলেন, তারপর খসখসে গলায় বললেন, ‘বেশ করেছিস। তোর সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করব বলেই তো ডেকেছি।’ তারপর একটু থেমে একটা চিনির ডিব্বা এগিয়ে ধরলেন, ‘চিনির কৌটোটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাই দেরি হল।’

    সুরঞ্জন কিছু বললেন না। একবার ভাবলেন জিজ্ঞেস করবেন অঘোরেশের স্ত্রী কি ভেতরেই আছেন? খুব অসুস্থ না হলে একবার আলাপ করতেন। কিন্তু না, কথাটা গিয়ে ফেললেন। চুপচাপ কফির কাপটা হাতে নিয়ে স্তূপাকৃতি বইয়ের পাশে কার্পেটে বসে পড়লেন।

    হঠাৎ করেই ঘরের মধ্যে যেন অস্বাভাবিক একটা নৈঃশব্দ্য বিরাজ করছে।

    রুদ্র চুপচাপ লক্ষ করছিল। অঘোরেশ লোকটা ওরা আসার পর থেকে একবারের জন্যও রুদ্রর সঙ্গে কথা বলেননি, এমনকী রুদ্রর দিকে তাকাননি। মনে হচ্ছে সুরঞ্জন একাই যেন রয়েছেন ঘরে। ও-ও কিছু না বলে কফির কাপটা মাটিতে নামিয়ে রাখল।

    অঘোরেশই মুখ খুললেন, পাণ্ডুলিপিটার দিকে ইশারা করে বললেন, ‘ওটা দেখলি?’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘হ্যাঁ।’ চিনিসর্বস্ব কালো কফিতে চুমুক দিয়ে তাঁর মুখ বিস্বাদ হয়ে উঠল। নির্ঘাত অঘোরেশ নিজেই কফিটা বানিয়েছে!

    অঘোরেশ পাণ্ডুলিপিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘আবদুল হামিদ লহরীর লেখা শাজাহানের বায়োগ্রাফি বাদশাহনামা।’

    সুরঞ্জন কিছু না বলে চেয়ে রইলেন অঘোরেশের দিকে।

    অঘোরেশ বলে চললেন, ‘তোকে পুরো ব্যাপারটা খুলেই বলি। তুই তো আমাকে বহুদিন ধরেই চিনিস। মোনোটোনাস জীবন আমার একদম পছন্দ নয়। ইউনিভার্সিটিতে পড়াতাম ঠিকই, কিন্তু সবসময় নতুন কোনো কিছু জানার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। বেশ কিছু বছর যাবৎ আমি এমন একটা জিনিস নিয়ে কাজ করছি যেটা জানলে তুই আশ্চর্য হয়ে যাবি।’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘সেদিন তো বললি, শাজাহানের সময়ের পিনাল কোড, ল। এসব নিয়ে তো?’

    অঘোরেশ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন, ‘ধুর! ওটা তো ওপর ওপর লোককে বলেছি। আসল টপিকটা এখনই কাউকে জানাতে চাই না। তবে আমার কাজ কয়েকদিনের মধ্যেই সারা পৃথিবী জানবে, তখন প্রতিটা ইতিহাস বই আবার নতুন করে লিখতে হবে।’

    রুদ্র হঠাৎ বলে ফেলল, ‘ড নিজামুদ্দিন বেগও তো এই নিয়েই গবেষণা করছিলেন। আপনি তাঁকে চিনতেন?’

    অঘোরেশ যেন থমকে গেলেন, গভীরভাবে তাকালেন রুদ্রর দিকে, ‘তুমি কী করে চিনলে ওঁকে?’

    রুদ্র চোখে চোখ রেখে বলল, ‘উনি নিরুদ্দেশ, গোটা আগ্রা জানে। এখনও ওঁর বাড়িতে হামলা হয়ে চলেছে।’

    অঘোরেশ জোরে জোরে মাথা নাড়লেন দু-দিকে, ‘না, আমি চিনি না। ওই নামে আমি কাউকেই চিনি না!’ তারপর সুরঞ্জনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুই নিশ্চয়ই জানিস, শাজাহান তাঁর ঠাকুরদা আকবরের খুব প্রিয়পাত্র ছিলেন। ঠাকুরদার জীবনী আকবরনামার মতোই শাজাহানও চেয়েছিলেন তাঁরও একটা সম্পূর্ণ জীবনী লেখা থাকুক। তিনি মুঘল দরবারে রাজত্ব করেছিলেন প্রায় ত্রিশ বছর। প্রথমে মহম্মদ আমিন কাজভিনি বলে একজন তাঁর জীবনী লিখতে শুরু করেন, তারপর মোট দুটো খণ্ডে কাজটা সম্পূর্ণ করেন আবদুল হামিদ লহরী। লহরী সায়েবকে শাজাহান নিজের সভায় একটা গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়েছিলেন।’

    সুরঞ্জনের এই তথ্যগুলো জানা এবং অদ্ভুত কাকতালীয়ভাবে আজ সকালে রুদ্রর সঙ্গে গল্পও করেছিলেন এই নিয়ে। বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে তাঁর স্পেশালাইজেশন থাকলেও মাস্টার্সে মধ্যযুগের ইতিহাসও তাঁর সাবজেক্ট ছিল। তিনি সংক্ষেপে বললেন, ‘জানি।’

    রুদ্র দু-জনের কথোপকথন শুনছিল, শুনতে শুনতেই ও জানলার পাশটায় গেল একবার, এবারেও পাল্লা না খুলে ফাঁক করল, না, কেউ নেই। ফাঁকটা বন্ধ করতে যেতেই ওর চোখে পড়ল দূরে চায়ের গুমটিটা, সেখানে একভাবে বসে রয়েছে লোকটা, তাকিয়ে আছে এইদিকেই।

    রুদ্র চিন্তিতভাবে ঘরের ভেতরে তাকাল, অঘোরেশ উজ্জ্বল মুখে সুরঞ্জনকে বলছিলেন, ‘আচ্ছা একটা কথা বল, শাজাহানের নিজের সভাসদের লেখা এই বায়োগ্রাফিতে আমরা যদি এমন কোনো ইনফরমেশন বা ঘটনা পাই, যেটা শাজাহানের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে না, সেটা তো তাহলে সত্যি হবেই, তাই না? মানে, এই বায়োগ্রাফিটা নিশ্চয়ই বাদশা নিজে ভেরিফাই করে তারপর গ্রিন সিগনাল দিয়েছিলেন জনসমক্ষে আনার, তারপরেও এমন ঘটনা লেখা রয়েছে মানে সেটা সত্যিই ঘটেছিল, ঠিক কি না?’

    সুরঞ্জন ওপরনীচে মাথা নাড়লেন। অঘোরেশ ঠিকই বলছেন। স্তাবকের লেখা বায়োগ্রাফিতে থাকা ভালো ঘটনাগুলো মিথ্যে না হলেও বহুমাত্রায় অতিরঞ্জিত থাকে, কিন্তু খারাপ কিছু লেখা থাকলে সেটা সত্যি হতে বাধ্য।

    অঘোরেশ বললেন, ‘গুড!’ এবার পাণ্ডুলিপিটার একটা পৃষ্ঠা খুলে এগিয়ে দিলেন সুরঞ্জনের দিকে, ‘এটা ৪০৩ নম্বর পৃষ্ঠা। একুশ নম্বর লাইন থেকে জোরে জোরে পড়।’

    সুরঞ্জনের ভ্রূ কুঁচকে গেল। ফার্সি-আরবি মেশানো ন্যাস্টালিক ক্যালিগ্রাফি তিনি পড়বেন কী করে! অঘোরেশের মধ্যযুগীয় ইতিহাসের ওপরেই পড়াশুনো, কিন্তু সুরঞ্জনের তো তা নয়! অতি উত্তেজনায় মনে হয় অঘোরেশের মাথা কাজ করছে না, ‘আমি কী করে পড়ব। তোর সাবজেক্ট। আমি পড়তে জানি নাকি! তুই পড়, আমি শুনি।’

    অঘোরেশ সঙ্গেসঙ্গে ফেরত নিয়ে এলেন, ‘ও হ্যাঁ তাই তো! ঠিক আছে, আমি পড়ছি। উর্দুর মতোই, ডান দিক থেকে শুরু করে বাঁ-দিকে পড়তে হয়। শুধু পুরোনো ফার্সির প্রভাব আছে এতে। যাই হোক, আমি হিন্দিতে ট্রান্সলেট করে পড়ছি, তুই শোন।’

    সুরঞ্জন একটু উশখুশ করে রুদ্রর দিকে তাকালেন, কিন্তু রুদ্র তাঁকে ইশারায় ধৈর্য ধরতে বলল।

    সুরঞ্জন মনে মনে বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন। আরও দেরি হলে পূরবী চিন্তা করবেন। কিন্তু, অঘোরেশের আসল দরকারটা তো এখনও বোঝা যাচ্ছে না! তিনি ঠিক করলেন আর কুড়ি মিনিটের মধ্যে তাঁকে উঠতেই হবে।

    অঘোরেশ থেমে থেমে হিন্দিতে ট্রান্সলেট করে পড়তে শুরু করলেন, ‘শুক্রবার, ১৫ জুমাদিল আওয়াল, পরলোকগতা রানি মুমতাজ-উল-জামানির সেই পবিত্র মরদেহ, যা বুরহানপুরে অস্থায়ীভাবে কবরস্থ করা হয়েছিল, তা রাজধানী আকবরাবাদে আনা হল। সঙ্গে এলেন যুবরাজ শাহ সুজা বাহাদুর, ওয়াজির খাঁ এবং রানির খাস দাসী সতিউন্নেশা খানম।

    ‘সম্রাট আদেশ দিলেন যে, প্রত্যহ দীন-দুঃখী ও পির-ফকিরদের মধ্যে জাকাত বিতরণ করা হোক। শহরের দক্ষিণে, যেখানে সবুজ তৃণগুল্মে আচ্ছাদিত বিশাল উদ্যান, যার মধ্যবর্তী স্থানে সেই বিশাল সাদা ইমারত, যা পূর্বে রাজা মানসিংহের সম্পত্তি ছিল এবং যার বর্তমান মালিক তাঁর পৌত্র রাজা জয়সিংহ, সেই প্রাসাদেই জন্নতবাসী রানিকে কবরস্থ করা হবে স্থির করা হল। যদিও রাজা জয়সিংহ তাঁর পূর্বপুরুষের সেই সম্পত্তিকে অতিশয় মূল্যবান মনে করতেন, তথাপি সম্রাট শাজাহানকে তা বিনামূল্যে ছেড়ে দিতে রাজি হলেন। কিন্তু ধর্মীয় নিয়মাবলি ও মৃতার প্রতি মর্যাদার কথা চিন্তা করে সতর্ক সম্রাট সেই প্রাসাদ বিনামূল্যে অধিগ্রহণ করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না বিবেচনা করে শরিফাবাদ নামক স্থানে রাজা জয়সিংহকে পুনর্বাসন দিলেন। কাজেই সেই বিশাল প্রাসাদের বদলে জয়সিংহকে সরকারি জমি দান করা হল। শবদেহ আগ্রায় পৌঁছোবার পর, সেই শোভন শবদেহকে সেখানে চিরবিশ্রামে শায়িত করা হল। আকাশচুম্বী সেই সমাধিক্ষেত্রে উপস্থিত রাজধানীর উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা সরকারি নির্দেশে, সেই পুণ্যবতী রমণীর মরদেহকে সাধারণের দৃষ্টির আড়াল করল এবং সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ, শীর্ষদেশে জয়সিংহের গম্বুজ শোভিত বিশাল প্রাসাদ রানি মুমতাজ-উল-জামানির এক অসাধারণ স্মৃতিসৌধে পরিণত হল। সমগ্র কাজের জন্য ৪০ লক্ষ অর্থ ব্যয় করা হল।’

    অঘোরেশ এই পর্যন্ত পড়ে থামলেন, বললেন, ‘জুমাদিল আওয়াল হল ইসলামিক ক্যালেন্ডারের পঞ্চম মাস। প্রথম মাস মহরম দিয়ে শুরু করে বারোটা মাসে শেষ হত ওই ক্যালেন্ডার। মুমতাজ-উল-জামানি হলেন শাজাহানের স্ত্রী মুমতাজ। আসল নাম অবশ্য ছিল আরজুমান্দ বানু। আর ওই যে বলছে রানির মরদেহ আকবরাবাদে আনা হল, ওটা হল আগ্রারই তখনকার নাম। আর জাকাত মানে তো বুঝতেই পারছিস দানখয়রাত করা।’

    সুরঞ্জন চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন, অঘোরেশ থামতে একটু কনফিউজড হয়ে বললেন, ‘মানে, এতে লেখা রয়েছে শাজাহানের স্ত্রী মুমতাজকে রাজা মান সিং-এর এক প্রাসাদকে স্মৃতিসৌধে পরিণত করে কবরস্থ করা হল?’

    অঘোরেশের চোখ জ্বলজ্বল করছিল, নিজের ঊরুর ওপর হাত চাপড়ে বললেন, ‘ইয়েস!’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘কিন্তু, তা কী করে হয়! শাজাহান তো তাজমহল বানিয়েছিলেন মুমতাজের স্মৃতিসৌধ হিসেবে! তুই ঠিক পড়ছিস তো? এরকম তো কোনো প্রাসাদের কথা শুনিনি।’

    অঘোরেশ চট করে উঠে দাঁড়ালেন, তাঁর ফর্সা মুখ টকটকে লাল রং ধারণ করেছে, চোখগুলো যেন জ্বলছে, চিৎকার করে বললেন, ‘তোদের মতো লোকেদের জন্য ইতিহাস কোনোদিনও সত্যি কথা বলে উঠতে পারল না। তোদের চোখ থেকেও নেই, তোরা অন্ধ!’

    সুরঞ্জন কড়া গলায় বললেন, ‘কী বলতে চাইছিস ঠিক করে বলবি কি? না হলে আমি এবার উঠি, দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার!’

    অঘোরেশ অমনি কাছে এসে সুরঞ্জনের হাত চেপে ধরলেন, ‘লিটল বুদ্ধা, খোদ শাজাহানের সরকারি বায়োগ্রাফিতে লেখা আছে যে তাজমহল শাজাহান বানাননি, রাজা মানসিংহের একটা প্রাসাদ, যাতে শিবমন্দির ছিল, সেটাকেই রেনোভেট করে তাজমহল নাম দিয়েছিলেন। আর ইতিহাসে এই কথাটা পুরো চেপে যাওয়া হয়েছে। আমি অনেক প্রমাণ পেয়েছি।’

    সুরঞ্জনকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অঘোরেশ আরও জোরে হাত ঝাঁকালেন, ‘আর শোন, আমি শুধু প্রমাণ পেয়েই ছেড়ে দিচ্ছি না। সারা পৃথিবীর সামনে আমি সত্যিটা তুলে ধরব। সেরকমভাবেই আমরা এগোচ্ছি।’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘এই একটামাত্র কথার পরিপ্রেক্ষিতে এটা কী করে প্রমাণ হচ্ছে? শোন, দেড়-দু-হাজার বছর হলে একরকম ছিল, এই তো চার-পাঁচশো বছর আগেকার কথা, এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, শাজাহানের সময়কার আরও অনেক এভিডেন্স আছে, সেগুলো দেখলেই তো পাওয়া যাবে। সব কি চেপে যাওয়া যায় নাকি! তাজমহল বানাতে কুড়ি বছর সময় লেগেছিল, অত হাজার হাজার লেবার, তাদের পারিশ্রমিক, ম্যানেজমেন্ট, সব কিছুরই নিশ্চয়ই হিসাব…।’

    অঘোরেশ মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন, ‘হ্যাঁ, সব কিছুই চেপে যাওয়া হয়েছে। কত লেবার ছিল সে-ব্যাপারে কোনো জায়গাতেই সেরকম ক্লিয়ারলি কিচ্ছু বলা নেই। কোথাও বলা হয়েছে কুড়ি হাজার, কোথাও চল্লিশ হাজার, কোথাও আবার তারও বেশি। এরকম আর একটা ইম্পর্ট্যান্ট জিনিসের তো হিসাবের খাতাতে পরিষ্কার হিসেব থাকা উচিত, তাই না! শাজাহানের যথেষ্ট ভালো ভালো সব অ্যাকাউন্টেন্ট ছিল। আর তা ছাড়া শাজাহানের ত্রিশ বছরের শাসনকালে বাদশাহনামা ছাড়াও আরও অনেক বই লেখা হয়েছে। ইজায়েত খাঁ লিখেছিলেন শাজাহাননামা, বখতিয়ার খাঁ-র মিরাত-ই-আলম, মুফাজ্জাল খাঁ-র তারিখ-ই-মুফাজ্জালি, এত বড়ো একটা জিনিস তৈরি হচ্ছে কুড়ি বছর ধরে, সে-ব্যাপারে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই কেন?’

    সুরঞ্জন থতোমতো খেয়ে রুদ্রর দিকে তাকালেন।

    এতক্ষণ বাদে রুদ্র মুখ খুলল, ‘একজন মাত্র সভাসদ, তাঁর লেখা একটা অনুচ্ছেদ থেকেই আপনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে তাজমহল শিবমন্দির ছিল? তাহলে তাজমহলের গায়ে কোরানের বাণী খোদাই করা আছে কেন? এত বড়ো বড়ো ইতিহাসবিদ, তাঁরা কি সব ভুল লিখেছেন?’

    অঘোরেশ এবার রুদ্রর দিকে তাকালেন। চোখের দৃষ্টি একবার জ্বলেই আবার নিভে গেল, বললেন, ‘দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, স্বাধীনতার পর থেকে ইতিহাসের যে ক-টা প্রামাণ্য বই লেখা হয়েছে, সেগুলো সবই একপেশে, পক্ষপাতদোষে দুষ্ট। সত্যি কথা ক-টা লেখা হয়েছে? নেতাজির পেছনে কেমনভাবে চক্রান্ত করা হয়েছিল, লেখা আছে কোথাও? শয়ে শয়ে রাজপুত প্রাসাদকে কীভাবে মুসলমানরা নিজেদের হারেমে, নিজেদের মসজিদে পরিণত করেছিল, কোথাও বলা আছে? তোমরা সব এখনকার ছেলেমেয়েরা তো সেই ইতিহাসই পড়ছ! তাই, তোমরা সত্যিটা হজম করতে পারছ না।’ তিনি একটা লম্বা শ্বাস নিলেন, ‘যাই হোক, তুমি আরও জানতে চাইছ বলে বলছি, শোনো তাহলে। শাজাহান যখন দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধ করছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন স্ত্রী মুমতাজ, সেখানেই ১৬৩১ সালে তিনি চোদ্দো নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। বুরহানপুরে তাঁকে অস্থায়ী কবর দেওয়া হয়। এদিকে পরের বছরই লহরী সাহেব লিখছেন, তাঁর কবর তুলে নিয়ে এসে সমাধিস্থ করা হয় তাজমহলে। তাজমহল তৈরি করতে লেগেছিল নাকি প্রায় একুশ বছর, ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ সাল অবধি, তাহলে মাঝের কুড়িটা বছর বুরহানপুর থেকে তুলে নিয়ে মুমতাজের কবরকে কি খোলা মাঠে রাখা হয়েছিল? আর যে প্রাসাদ সবে তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে, তাতে মাত্র একবছর বাদেই কেন মুমতাজের কবর নিয়ে চলে আসা হবে যদি না শাজাহান একটা রেডিমেড প্রাসাদ আগে থেকেই পেয়ে থাকেন?’

    সুরঞ্জন বললেন, ‘এগুলো তো অনুমান!’

    ‘অনুমান? কী করে অনুমান হচ্ছে? আচ্ছা, তাহলে আরও শোন।’ অঘোরেশ সামনে থেকে ধূলিধূসরিত একটা বই তুলে নিলেন, ‘শাজাহানের সময়ে ১৬৪১ সালে টাভার্নিয়ার নামে একজন ফ্রেঞ্চ অলংকার ব্যবসায়ী ভারতে আসেন। তিনি প্রায় পঁচিশ বছর সুরাট, আগ্রা এইসব জায়গায় ছিলেন। টাভার্নিয়ার লিখে গেছেন ভারতে আসার পরই তিনি শাজাহান পত্নীর বিখ্যাত সমাধিটি দেখতে যান।’ অঘোরেশ বইয়ের একটা পাতা খুলে সামনে এগিয়ে দিলেন, ‘তিনি লিখে গেছেন, জায়গাটা ছিল তাসি মকানের মাঝখানে, তাসি মকান তখন আগ্রার বিখ্যাত তুলোবিক্রির বাজার, পুরো বাজারটায় বেচাকেনার জন্য ছোটো ছোটো দোকান ছিল, আর পুরো তাজমহলের বাইরেই তখন ইট দিয়ে বিশাল পাঁচিল তুলে দেওয়া হয়েছিল, ফলে তিনি ভেতরে গিয়ে কিছু দেখতে পাননি, কিন্তু ভারা বাঁধার কাজে নাকি সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছিল।’

    ‘তো?’ রুদ্র বলল, ‘এ থেকে কী প্রমাণ হচ্ছে?’

    ‘প্রমাণ হচ্ছে এটাই যে, তাজমহল বহুমূল্য পাথর দিয়ে তৈরি, সেখানে এতরকমের খরচের মধ্যে ভারা বাঁধার খরচ সবচেয়ে বেশি এমন উদ্ভট কথা টাভার্নিয়ার বলবেন কেন? তার কারণ, শাজাহান শুধু হিন্দু প্রাসাদটির চারপাশে ভারা বেঁধে কোরানের বাণী উৎকীর্ণ করিয়েছিলেন আর কবরটা বানিয়েছিলেন। তা ছাড়া তাজমহলের তিন পাশে সার দিয়ে যে ছোটো ছোটো ঘর রয়েছে, সেটাই সেই তাসি মকান, হিন্দু রাজার আমলের তুলো বিক্রির বাজার।’

    ‘তাজমহলের পাশের ছোটো ছোটো ঘরগুলো তো যে শ্রমিকরা বানিয়েছিল, তাদের থাকার ঘর ছিল!’ রুদ্র বিমূঢ়ভাবে বলে উঠল, ‘মানে, গাইডরা তো তাই বলে!’

    ‘গাইডরা তো সব জেনে উলটে দিয়েছে, না! কোন কবরখানার চারপাশে শ্রমিকদের থাকার জায়গা করা আছে, একটু বলবে? দুনিয়ার কোথাও দেখেছ যে কোনো বিখ্যাত স্থাপত্যের চারপাশে শ্রমিকদের থাকার জায়গা? শ্রমিকদের কথা কে ভাবে?’

    রুদ্র একটু ইতস্তত করে বলে উঠল, ‘মিশরের দানবীয় পিরামিডগুলো যখন তৈরি হয়েছিল, তখন কিন্তু তার আশেপাশেই সব শ্রমিক আবাসন তৈরি হয়েছিল।’

    ‘সেগুলো এত সুন্দর নয়।’ অঘোরেশ বললেন, ‘ইতিহাসবিদ কিন নিজে লিখে গিয়েছেন যে তাজমহলের শ্রমিকদের খুব কম অর্থের বিনিময়ে প্রচণ্ড খাটানো হত। আর তাজমহলের দু-পাশে দুটো যমজ প্রাসাদ, একটা মসজিদ, অন্যটা নাকি অতিথিশালা। কবরের পাশে অতিথিশালাই-বা কোথায় থাকে? তাজমহলের ডান পাশের মেহমানখানাটা আসলে সেই হিন্দু প্রাসাদের অতিথিভবন ছিল। আরও অনেক অনেক প্রমাণ আছে এর স্বপক্ষে।’

    সুরঞ্জন নির্বাক। একটু কিন্তু কিন্তু করে বললেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই কেমন জোর করে সাজানো মনে হচ্ছে!’

    অঘোরেশ চোখ সরু করে কেটে কেটে বললেন, ‘তুইও দেখছি ব্রিজেশ মাথুরের মতো কথা বলছিস! তোরা আসলে সেট করে রাখা গতানুগতিক কাঠামোর বাইরে কিছু ভাবতে পারিস না!’

    রুদ্র চমকে উঠল। ব্রিজেশ মাথুর ভারতের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ। বাবার কাছে ওঁর নাম অনেকবার শুনেছে। দেশে-বিদেশে অসংখ্য সমাবেশে সমাদৃত হয়েছেন উনি।

    কিন্তু রুদ্রর চমকে ওঠা সেইজন্য নয়। এই ব্রিজেশ মাথুরই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই প্রফেসর নিজামুদ্দিন বেগের কলামকে ‘বিকৃত কল্পনা’ বলে হেয় করেছিলেন, কাগজে পড়েছিল ও।

    তার মানে অঘোরেশ ভাট আর নিজামুদ্দিন বেগের মধ্যে যোগাযোগ আছে এটা ধরে নেওয়া যায় কি?

    রুদ্র শুনতে শুনতে ক্রমাগত ফোনে চেষ্টা করে যাচ্ছিল নাহুম খানকে।

    ভদ্রলোক গেলেন কোথায়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }