Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প170 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অনবগুন্ঠিতা – ৪

    ৪

    এখন এক একসময় ভাবেন চন্দ্রভূষণ, আশ্চর্য, ইন্দুর ওই বড় মেয়েটার নাকি পনেরো বছর বয়স। এযুগে বুদ্ধির এত বাড়, শিক্ষার এত বাড়, কিন্তু মনটা কি করে থাকে অপরিণত?

    চম্পার ষোলো বছর বয়েস ছিল তখন।

    মামী চেষ্টা করেছিল, ওকে ‘বালিকা’ ভাবতে। চেষ্টা করেছিল, ওর মনে চেতনা না জাগাতে। তাই মামী ওকে—’কি হয়েছে, ছেলেমানুষ তো’—বলে জামিরের কাছে পড়তে দিচ্ছিল। কিন্তু যে জাগাবার সেই জাগায়। কে জানে একালেও হয়তো একই হয়। শুধু শাড়ী পরে না বলে ধরা পড়ে না।

    ওই জামিরটাও ছিল একটা দুশ্চিন্তা! দেবু ওকে দেবতা দেখে, মামী নিজের ছেলের মত, চম্পাও যদি ওইরকম কোনো নতুন চক্ষে দেখে?

    কথাটা ভেবে লজ্জিত হলো চন্দ্রভূষণ। ভাবলো, এ আমি কী পাপ করছি! সেই ছোট্ট থেকে চম্পা আমাকে—

    ভাবলো, কেবলমাত্র তুচ্ছ একটু চক্ষুলজ্জায় জীবন নষ্ট করা যায় না। দু’ দুটো জীবন! তবু চিঠি লিখতে দ্বিধা হয়, লজ্জা আসে, ভয় করে।

    চন্দ্রভূষণের আমলে যে ভাবে ভাবা সম্ভব, যে পদ্ধতিতে চলা সম্ভব, তাই করলো চন্দ্রভূষণ এবং শেষ পর্যন্ত সম্মতি আদায় করলো।

    জেঠামশাই বললেন, ‘বেশ, তবে অপর কেউ সেই মেয়েকে ‘দত্তক’ নেওয়ার মত করে আগে গোত্রান্তর করুক, তারপর—’

    এই মর্মে চিঠি লিখলেন চন্দ্রভূষণের মা তাঁর ভাইকে।

    সে চিঠির উত্তর এলো না।

    তবে হয়তো পৌঁছয়নি চিঠি ডাকের গোলমালে, তাই এবার ভাজকে দিলেন, সে চিঠিরও একই ফলাফল।

    দু’ দুখানা চিঠি পৌঁছবে না? আর যে দুখানাতেই নাকি জীবন—মরণ সমস্যা!

    চন্দ্রভূষণ অপেক্ষা করতে করতে অধীর হয়ে উঠে একটা মিথ্যাভাষণ দিল।

    বললো, ‘একটা চাকরির ইনটারভিউ দিতে কুচবিহার যাচ্ছি। ফিরতে দু’চার দিন দেরি হতে পারে।’

    দেরি কেন?

    ‘আহা যাচ্ছিই যখন, একটু বেড়াব না?’ চন্দ্রভূষণকে কেউ ষ্টেশনে তুলে দিয়ে আসবে এমন আশঙ্কা নেই। চন্দ্রভূষণ অতএব ‘কুচবিহার’ শব্দটাকে সরিয়ে ফেলে অন্যত্র যাবার ব্যবস্থা করলো।

    অবশ্যই রাজাশাহী।

    কিন্তু সেখানে গিয়ে কোন স্মৃতির সুরভি সঞ্চয় করে এনেছিল চন্দ্রভূষণ?

    নিতান্ত প্রিয়জনের মৃত্যুসংবাদই কি এমন মর্মান্তিক?

    আশ্চর্য!

    আশ্চর্য!

    জগতে তা’হলে বিশ্বাস করবার কিছু নেই? কোথাও কিছু?

    ‘কই আর,’ দেবু মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘বিশ্বাস’ কথাটাই উঠে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। নইলে চম্পা এই কাজ করে? বাবার মুখে চুনকালি! শীগ্গিরই রিটায়ার করছেন বাবা! অসময়েই করছেন।’

    চন্দ্রভূষণ ওর গলার কলার চেপে ধরে ভীষণ স্বরে বলে, ‘না, বিশ্বাস করি না আমি! যাচ্ছি মামীর কাছে—’

    ‘এই খবরদার! মার সামনে তার নাম আনিসনি। এমন করে মানুষ করলো মা, আর ও কিনা শেষটায় একটা মোছলমানের ছেলের সঙ্গে—’

    ‘তাকে তুমিই বাড়ির মধ্যে এনেছিলে— ‘ক্রুদ্ধ চন্দ্রভূষণ ওর জামার কলারটা আর একবার চেপে ধরে—’সেই পাজী শয়তানটাকে তুমি প্রশ্রয় দিয়ে অন্দরে ঢুকিয়েছিলে! একশোবার সাবধান করে দিইনি আমি? মনে পড়ছে সে কথা? বল বল কী হলো শেষ অবধি?’

    দেবু এ অপমান সহ্য করে।

    কারণ দেবুর মধ্যে রয়েছে এই অভিযোগের অপরাধবোধ। তাই দেবু তার সমবয়সী পিসতুতো ভাইয়ের জামার কলার চেপে ধরতে পারে না। পারে না চীৎকার করে প্রতিবাদ তুলতে।

    দেবু আমতা আমতা করে বলে, ‘শেষ আর কি! জন্মাষ্টমীর মেলা দেখতে গিয়েছিল আমাদের সঙ্গে, তারপর ভিড়ের মধ্যে থেকে দলছাড়া হয়ে হাওয়া!’

    ‘দলছাড়া হয়ে হাওয়া? তার মানে হারিয়ে গেছে? তবে যে বললি শুয়োর, মোছলমানের ছেলের সঙ্গে—’

    ‘আরে বাবা গলা ছাড়, বলছি সব। আছে প্রমাণ। সেই সন্ধ্যে থেকে জামিরটাকেও পাওয়া যাচ্ছে না—’

    ‘তার মানেই তাই? দুটো আলাদা আলাদা ঘটনা হতে পারে না?’

    দেবু মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘ভেবে আনন্দ পেতে চাইলে হতে পারে। তবে আরো অকাট্য প্রমাণ আছে। ইদানীং জামিরটার সঙ্গে ফুসফুস গুজগুজের ঘটাটা যা বেড়েছিল—’

    ‘চুপ!’

    দেবু থতমত খায়।

    দেবু মিনমিনে গলায় বলে, ‘বাঃ আমার কি দোষ?’

    দেবু মিনমিনে গলায় কথা বলছে!

    দেবুর মুখের রেখায় অধঃপতনের ছাপ। তার মানে দেবু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    দেবুর বাবার একটা ভাগ্নে ভেড়ার গোয়ালে থাকলে মানুষ হবে না বলে ভাগ্নেটাকে নিজের কাছে এনে ফেলেছিলেন না দেবুর বাবা?

    দেবুর বারণ শোনেনি চন্দ্রভূষণ।

    মামীর সঙ্গে দেখা করেছিল। চম্পার নাম মুখে এনেছিল।

    মামী যখন শুকনো মুখে বলেছিলেন, ‘থাকবে তো দু’দিন?’ ‘থাকবো, থাকতে হবে—’ চন্দ্রভূষণ হঠাৎ অনেকটা সাহস সঞ্চয় করে স্পষ্ট গলায় বলেছিল, ‘চম্পাকে খোঁজার দরকার তো—’

    মামী গম্ভীর গলায় বলেছিলেন, ‘না, আর দরকার নেই। ধরে নাও সে মরে গেছে। হ্যাঁ, সেই কথাই ভাবছি আমি। তোমাকেও ভাবতে হবে মরে গেছে চম্পা।’

    চন্দ্রভূষণের সঙ্গে সেই শেষ কথা মামীর।

    মামী আর দাঁড়াননি। থাকতেও বলেননি, খেতেও বলেননি।

    চন্দ্রভূষণ ওই পাথর হয়ে যাওয়া মানুষটার ধাতব কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত শব্দটা উচ্চারণ করে, ‘মরে গেছে, মরে গেছে, ধরে নাও মরে গেছে।’

    তার মানে দেবুর কথাই ঠিক।

    ঠিক না হলে মামী আছড়ে পড়তো, কেঁদে বলতো, ‘তাই কর বাবা চানু, খুঁজে বার কর তাকে।’

    মামী তা বলেনি।

    মামী জানে আসলে কী হয়েছে।

    আর সেই জানার পর মামী ধরে নিয়েছে ‘চম্পা’ মরে গেছে।

    মামার রান্নাঘরের পিছনের সেই বাগানটায় এসে দাঁড়াল চন্দ্রভূষণ। নেহাৎ শশা কুমড়োর বাগান। তবু এ এক পরমতীর্থ ছিল তাদের কাছে। তার আর চম্পার। একদা এইখানেই তো সহসা উদঘাটিত হয়ে পড়েছিল তাদের দু’জনের হৃদয়রহস্য!

    চন্দ্রভূষণ ভেবেছিল, সেই জায়গাটায়, যেখানে সেদিন চম্পা বসে বসে গাছের গোড়া খুঁড়ছিল, সেখানটা কুপিয়ে খুঁড়ে পদদলিত করে চলে যাবে জন্মের শোধ, কিন্তু এসে দাঁড়াতেই আর এক হৃদয়রহস্যে সহসা তার আত্মমর‍্যাদাজ্ঞানহীন চোখ দুটো থেকে একটা তপ্ত বাষ্পোচ্ছ্বাস তরল হয়ে গড়িয়ে পড়ল।

    কিন্তু এ জল কি দুঃখের?

    না দাহের?

    দাহ, বড় তীব্র দাহ!

    জ্বলে যাচ্ছে ভিতরটা!

    এতটুকু একটা মেয়ে এতখানি অপমান করে গেল তাকে? এতটা প্রবঞ্চনা?

    এ যে যতটা অবিশ্বাস্য, ততটা নিষ্ঠুর!

    সেই জামিরটা—ইতর ছোটলোক, নীচ পাজী জামিরটা কি না চম্পাকে—আর চম্পা কি না তাকে—

    তার মানে চতুর মেয়েটা চন্দ্রভূষণের সঙ্গে ভালবাসার ভান করে এসেছে এতদিন। আর ওই জামিরটার সঙ্গে করেছে ষড়যন্ত্র। অথচ মূর্খ চন্দ্রভূষণ সেই ভানটাকেই পরম সত্য ভেবে হাস্যাস্পদ হয়েছে বসে বসে!

    তাই। হাস্যাস্পদই।

    এখনও হয়তো জামিরের সঙ্গে বসে চন্দ্রভূষণের বোকামি নিয়ে কত হাসাহাসি করছে ছলনাময়ী মেয়েটা, ‘চম্পা’ নামের সুন্দর একটি খোলস এঁটে যে এই বাগানে, এই বাড়ীতে, ঘুরে বেড়াতো!

    আশ্চর্য, কিছুতেই যেন মিলানো যাচ্ছে না চম্পার সঙ্গে একটা কুলত্যাগিনী মতলববাজ মেয়েকে।

    অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়ালো চন্দ্রভূষণ, অনেকগুলো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে লাগলো, অবশেষে দিশেহারা হলো।

    অবিশ্বাসিনীই যদি, তবে সেই শেষ রাত্রের ঘটনাটা কি?

    মামা যা বলেছেন তাই?

    শুধু অসংযম?

    না কি একজনকে কবলিত করতে পারল না বলে আর একজনকে গিয়ে ধরলো?

    তবু—সমস্ত বিরুদ্ধ চিন্তা আর তীব্র বিদ্বেষ ছাপিয়ে মনের সামনে ভেসে ভেসে ওঠে—ছাত থেকে নেমে আসা সেই হতাশ হতাশ মুখ, বাগান থেকে ফিরে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেই অভিমানাহত মুখ।

    ভান এত গভীর হয়?

    তবে কি এই ভয়ঙ্কর পরিণামের জন্য দায়ী চন্দ্রভূষণ নিজেই? চন্দ্রভূষণের অবহেলার ফলেই অভিমানের ঝোঁকে এমন একটা ভয়ানক কাজ করে বসলো সে?

    কিংবা সবটাই দেবুর বুদ্ধিহীন মস্তিষ্কের কল্পনা? আসলে ও গোলমালের সুযোগে কোথাও গিয়ে আত্মহত্যা করেছে!

    অনেকগুলো জলের ফোঁটা চোখের কোলে এসে ভীড় করে, ঝরে পড় পড় হয়, কষ্টে তাদের শুকিয়ে ফেলে চন্দ্রভূষণ।

    ভাবে, মিথ্যে আশা করছি, জামিরের সঙ্গে মেশামিশি তো স্বচক্ষেই দেখেছি আমি। জামিরের কাছে নইলে অঙ্ক শেখা হয় না, জামিরের লেখা পদ্য মুখস্থ করতে ইচ্ছে হয়!

    খুব একটা আকর্ষণ ছাড়া এসব হয় নাকি?

    চম্পা, চম্পা, ছি ছি, তুমি এই!

    আমার কথা দূরে যাক, তোমার মাসীমা—মেসোমশাইয়ের কথাটাও ভাবলে না একবার? ভেবে দেখলে না, কী ভাবে মুখ পোড়ালে তুমি তাঁদের!

    সেই মামীমা, দেবীর মত মেয়ে, কী দশা করেছো তুমি তাঁর, দেখে গেলে বুঝতে।

    কী অদ্ভুতভাবে বদলে গেছেন তিনি!

    আমি এসেছি, বুঝলে চম্পা, আমি এসেছি, অথচ আমাকে খেতে বললেন না তিনি, বললেন না ‘আয় বোস।’

    বললেন না, ‘চানু ভাল আছিস তো?’

    মামার সঙ্গে সুদ্ধু কথা বলছেন না।

    খাওয়া দাওয়াও নাকি প্রায় বন্ধ।

    মামা আমাকে কাছে ডেকে বৈঠকখানা ঘরে বসিয়েছিলেন।

    বলেছিলেন, ‘তোর মামীর ব্যবহারে কিছু মনে করিস না বাবা! সেই দুর্ঘটনার পর থেকে—কেমন একরকম হয়ে গেছে তোর মামী। শকটা খুব বেশী লেগেছে।’

    মামার মুখের রেখায় রেখায় চিন্তা আর বার্ধক্যের ছাপ।

    এই ক’টা দিনে মামা এত বুড়ো হয়ে গেলেন!

    চন্দ্রভূষণ হতাশ কঠিন অভিযোগ করে, ‘এরকম একটা কিছু হবে এ আমি বুঝেছিলাম। যখনই ওই পাজীটাকে বাড়ির মধ্যে এনে আদর করতে দেখেছি, তখনই—’

    মামা গম্ভীর ভারী গলায় থামিয়ে দেন ওকে। বলেন, ‘ওকথা আমি মানি না চানু! চম্পা যদি ভাল মেয়ে হতো, সৎ মেয়ে হতো, জামিরের কী সাধ্য ছিল তাকে—আসলে ওর মধ্যেই ছিল অসংযম, তাই—’

    মামা কথা শেষ করেন না, পায়চারি করতে থাকেন।

    আর চন্দ্রভূষণের চোখের সামনে থেকে যেন একটা পর্দা সরে যায়।

    ঠিক!

    ঠিকই তো!

    ওর মধ্যেই ছিল অসংযম।

    নইলে জামিরের কী সাধ্য ছিল—

    চম্পার অসংযমের কথা এবার মনে পড়লো চন্দ্রভূষণের।

    ওর মধ্যে অসংযম না থাকলে সেই রাত্রে চন্দ্রভূষণের ঘরে আসে ও?

    এবার সমাজনীতির ছাঁচের মধ্যে থেকে চম্পাকে দেখলো চন্দ্রভূষণ! দেখলো নির্লজ্জ অসংযম!

    বাংলাদেশের রক্ষণশীল ঘরের একটা অনূঢ়া যুবতী মেয়ের রাত্রে একজন অনাত্মীয় পুরুষের ঘরে আসবার সাহস হয় কোথা থেকে?

    আর কোথা থেকে? নির্লজ্জ বাসনার বেপরোয়া অসংযম থেকে। তার মানে প্রলুব্ধ করতে এসেছিল চন্দ্রভূষণকে। ঈশ্বর রক্ষা করেছেন চন্দ্রভূষণকে! হ্যাঁ, মামার গলা দিয়ে ঈশ্বর কথা বলেছিলেন সেদিন!’

    যদি ঈশ্বর সদয় না হতেন, যদি তখন মামা না ডাক দিতেন, কী ঘটে যেত কে জানে! কী না ঘটে যেতে পারতো!

    নিশ্চয় জামিরটার সঙ্গেও করতে গেছে তেমনি ছলাকলা, আর ওই শয়তানের বংশধর সেই সুযোগটা গ্রহণ করেছে!

    কী ঘৃণা, কী ঘৃণা!

    কী লজ্জা, কী লজ্জা!

    মন মোহমুক্ত হয়ে গেল।

    বিষাক্ত বাষ্পের তীব্র স্পর্শে মিলিয়ে গেল সদ্যোন্মেষিত চম্পার সৌরভ।

    বিয়ে না করার ইতিহাস এই।

    একটা ষোলো বছরের মেয়ে আর একটা একুশ বছরের ছেলের ইতিহাসও এইখানেই শেষ।

    তবু আর কোনোদিন বিয়েতে রাজী করানো গেল না চন্দ্রভূষণকে।

    চন্দ্রভূষণের মা মাথা খুঁড়লেন, বাপ জেঠা ধিক্কার দিলেন, ঠাকুমা পিসি বাক্যযন্ত্রণা দিলেন, ছোট বোনেরা মিনতি করলো, দিদি জবরদস্তি করতে চেষ্টা করলো, বন্ধুরা বোঝাতে এলো।

    চন্দ্রভূষণ টললো না।

    চন্দ্রভূষণ বললো, ‘বেশ তো আছি বাবা, সুখে থাকতে ভূতের কিল খাই কেন?’

    হাসিখুশী চন্দ্রভূষণ, কৌতুকপ্রিয় চন্দ্রভূষণ, তার স্বভাবের পরিবর্তন হতে দিল না, যা রইলো তার মনের গভীরেই রইলো। সে ওদের সকলের সঙ্গে লড়লো কৌতুকের হাতিয়ার নিয়ে।

    হয়তো বা সেই হাতিয়ারটাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার মানুষের। ঝকমকে মজবুত! সব আক্রমণ ঠেকাতে পারে।

    ঠাকুমাকে বললো, ‘এই বুড়োবয়সে তোমার একটা খিদমদগার তো দরকার ঠাকুমা, কেনা চাকরটাকে অন্য মনিবের কাছে বিলিয়ে দিতে চাইছ কেন?’

    ঠাকুমা বললেন, ‘চাকরে দরকার নেই আমার।’

    চন্দ্রভূষণ বললো, ‘ওরে বাবা, তোমারই বেশী দরকার!’

    পিসিমাকে বললো, ‘তোমার ‘শেষরক্ষা’র ভার আমি নেব ঠিক করেছিলাম পিসিমা, সেটা তা’হলে করতে দেবে না?’

    পিসি রেগে বলেন, ‘কেন, বিয়ে করলে আর কেউ মা পিসিকে দেখে না?’

    ‘প্রাণ থেকে দেখে না, চক্ষুলজ্জায় দেখে। সে দেখা কি দেখা?’

    বোনেদের বললো, ‘ভবিষ্যৎকালে বাপের বাড়ি বলে একটা জায়গা তোদের থাকে, এটা বুঝি চাস না?’

    ওরা বললো, ‘কেন, বিয়ে করেই দরজা বন্ধ করে দেবে?’

    চন্দ্রভূষণ বললো, ‘আমি দেব কেন, যে দেবার সে দেবে। জানিস না—ভাইয়ের ভাত, ভাজের হাত!’

    মাকে বললো, ‘একটা ছেলে তোমার নিজস্ব থাক না মা!’

    মা বললেন, ‘এ মতি তো আগে ছিল না তোর। বিয়ের জন্যে তো ক্ষেপেছিলি, লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়েছিলি—’

    ‘দুর্মতি হয়েছিল। ভগবান রক্ষা করলেন।’

    বাপকে চন্দ্রভূষণ কিছু বললো না, তিনিই বললেন, ‘হ্যাঁ, ভীষ্মদেব শুকদেব শুনতে ভাল, নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেই হলো।’

    সরাসরি বলেননি, তবু মোড় ঘুরে কথাটা চন্দ্রভূষণের কানে এসে পৌঁছলো বৈকি! চন্দ্রভূষণ ব্যঙ্গের হাসি হাসলো। বোধকরি ভাবলো, ‘আচ্ছা দেখো!’

    কিন্তু দেখাতে কি পেরেছে চন্দ্রভূষণ?

    ঊর্ধ্বলোক থেকে যদি এই মর্তলোক পর্যন্ত দৃষ্টি পৌঁছয়, চন্দ্রভূষণের সেদিনের অভিভাবকরা দেখতে পাচ্ছেন না, তাঁদের শুকদেব ছেলে যৌবনটা সব পার করে ফেলে প্রায় প্রৌঢ়ত্বের দরজায় পা দিয়ে চরিত্র খারাপ করে বসেছে?

    লজ্জার বালাই না রেখে নিত্য যাচ্ছে সেই প্রেয়সীর কাছে এবং সেই যাওয়ার মধ্যে যেন প্রেমে বিভোর নবযুবকের ভঙ্গী।

    উদিতা বলে, ‘বটঠাকুর যখন বেলেঘাটায় যাবার জন্যে বেরোন, মুখের ভাবটা কি রকম দেখায় জানো? ঠিক যেন নতুন বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে কোনো ইয়ং ছেলে! দেখি তো ওপরের বারান্দা থেকে?’

    সুনন্দা হেসে গড়ায়, ‘যা বলেছিস, যেন টগবগ করতে করতে চলেছেন!’

    ওটাই যে চন্দ্রভূষণের ভঙ্গী, তিনি যখন বাড়ির সব ছোট ছেলে মেয়ে কটাকে কুড়িয়ে নিয়ে বেড়াতে বেরোন, তখন যে ওই ভঙ্গীতেই যান, যখন মনিব্যাগের পেট ভরতি করে নিয়ে বাজার করতে বেরোন, ভঙ্গীটা যে অবিকল ওই, তা’ মনে থাকে না ওদের।

    হেসে হেসে ভাসুরের অভিসার যাত্রার নকল করে।

    শেফালী অবশ্য হাসে না।

    মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘একদিন তো এমন সুবিধে হয় না যে, পিছু নিয়ে গিয়ে দেখে আসি, সেটি কেমন মাল! যার জন্যে মানুষ বুড়োবয়সে জাত খোওয়াতে পারে, ঘৃণা লজ্জা মান সব খোওয়াতে পারে!’

    কিন্তু সত্যিই যদি যেত শেফালী, তা’হলে যে আরও মুখ বাঁকাতো, তাতে আর সন্দেহ কি! বলতো, ‘এই জন্যে এই! ছি ছি!’

    না, বুড়োর মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন রূপ যৌবন নেই চন্দ্রভূষণের নায়িকার।

    স্রেফ সাধারণ! সাধারণ, মাঝারি!

    রং গড়ন মুখশ্রী, এমন কি বয়েসটা পর্যন্ত সবই মাঝারি। খুঁজে পেতে দেখলে হয়তো দেখা যাবে চোখ দুটো একটু বড়, হয়তো হাসলে দেখা যাবে হাসিটা একটু মিষ্টি।

    তার বেশী নয়।

    তা’ সেটা আর এমন কি দুর্লভ?

    তা’ তো নয়, ওটা উপলক্ষ মাত্র।

    মূল কারণ প্রকৃতির প্রতিশোধ!

    তুচ্ছ একটা ঝোঁকের মাশুল দিতে জীবনকে রেখে এসেছেন বঞ্চিত করে, এখন তার খেসারত দিচ্ছেন।

    এটাই কারণ।

    বঞ্চিত বাসনাই তো ডেকে আনে যত বিকার বিকৃতি!

    এসব কথা শেফালীও বলে তার বরের কাছে। কারণ শেফালী অনেক বই পড়ে। পড়ে পড়ে অনেক শিখেছে সে।

    তা’ বলে হয়তো খুব ভুলও নয়।

    চিত্তের বিকার না হলে চন্দ্রভূষণ ওই খারাপ মেয়েমানুষটাকে ডাকেন ‘চম্পা’ বলে?

    অর্থাৎ চিরদিনের ডাকার পিপাসা মেটান!

    সে আপত্তি করেছে, অবাক হয়েছে, কারণ জানতে চেয়েছে, অবশেষে হাল ছেড়েছে।

    কিন্তু শুধু প্রথমা প্রিয়ার নাম ধরে ডেকে আর কি হবে? প্রথম বয়সের ব্যাকুল আবেগ কোথায় পাবেন? চন্দ্রভূষণের ভাদ্রবৌরা যতই তাঁর অভিসার যাত্রার উন্মাদনার নকল করুক, অর্থহীন প্রেমের কাকলী, অথবা নীরব গভীর হৃদয়গুঞ্জনের ভূমিকা অভিনীত হয় না এখানে।

    ছোট্ট একটা দোতলা বাড়ি, নীচতলায় দোকান, পাশ দিয়ে উঠে গেছে সিঁড়ি। একটা বাচ্চা চাকর বসে থাকে সেখানে, সসম্ভ্রমে পথ ছেড়ে দেয়। চন্দ্রভূষণও উঠে যান সেই সিঁড়ি দিয়ে।

    উঠে আসেন স্বচ্ছন্দ পদক্ষেপে। নিজের ঘরবাড়ির মত জুতোটা খোলেন সিঁড়ির ধারের র‍্যাকে, আর ঠিক এই সময় চন্দ্রভূষণের কলঙ্কনায়িকা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে হাস্যবদনে।

    কিছু বলে না, শুধু এসে দাঁড়ায়, শুধু হাসে। আর তখনই মনে হয় হাসিটা খুব সুন্দর তো! এখনো, এই বয়সে আছেও সুন্দর!

    চন্দ্রভূষণ বলেন, ‘চম্পা!’

    ও বলে, ‘আজ্ঞে বলুন।’

    ‘বলছি না কিছু, শুধু বলছি এত পা টিপে টিপে আসি, তবু টের পাও কি করে বল তো?’

    কে জানে কি নাম তার, নতুন নামকরণ হয়েছে যার চম্পা, সে হেসে বলে, ‘কি করে টের পাই নিজেই জানি না। কিন্তু পা টিপে টিপে আসবার হেতু?’

    ‘তোমায় ঠকাবার ইচ্ছে!’

    ‘ইচ্ছেটা সফল করতে পারছো না?’

    ‘কোনো দিন না।’

    চন্দ্রভূষণ কথায় জোর দেন। যেন কোনো একদিনও ওকে ঠকাতে না পেরে নিতান্ত ক্ষুব্ধ।

    ওর যখন নাম জানা নেই, আর ওকে যখন ‘মহিলা’টিও বলতে বাধছে, তখন নাহয় ওকে চন্দ্রভূষণের দেওয়া নামটাতেই ডাকা হোক! বলা হোক চম্পা!

    চম্পা এই ক্ষোভ দেখে হেসে উঠে বলে, ‘বেশ একদিন ঠকবো।’

    ‘দূর, বলে কয়ে ঠকায় আবার মজা আছে নাকি?’

    ‘তবে আর হলো না। টের আমি পাবোই।’

    ‘সত্যি আশ্চর্য!’

    ‘আশ্চর্য পরে হয়ো, চলো বসবে চলো। তোমার প্রত্যাশায় চায়ের জল তিনবার গরম হলো, তিনবার ঠাণ্ডা হলো।’

    ‘খাওনি তো একবারও? খেলে পারতে!’

    ‘থাক খুব ভদ্রতা হয়েছে।’

    ‘দেখ, এটা কিন্তু খুব অন্যায় তোমার,’ চন্দ্রভূষণ ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলেন, ‘রোজ বলি তুমি ঠিক সময়ে একবার চাটা খেয়ে নেবে। পরে বরং—আমার কি সবদিন ঠিক ঘড়ির কাঁটায় আসা হয়? তাছাড়া বৌমাদের পাল্লায় পড়ে আমাকে তো খেতেই হয় একবার চা! এটা বাড়তি!’

    ‘বাড়তিটাই মিষ্টি—’ নকল চম্পা মিষ্টি হেসে বলে, ‘যেমন মাইনের থেকে এলাউয়েন্স, টাকার থেকে সুদ, ন্যায্যের থেকে ঘুষ!’

    কথা বেশ বলতে পারে মেয়েটা।

    আর পারবে নাই বা কেন? কথাই তো ওদের জীবিকা!

    চন্দ্রভূষণ যে ঘরটায় এসে ঢোকেন, সেটাই শোবার এবং বসবার ঘর, কারণ সেটাই একমাত্র ভাল ঘর। পাশের ছোট ঘরটায় ভাঁড়ার থাকে, আর নাকি চম্পার পুজোর ঠাকুর থাকে।

    ঠাকুর রাখাটাও নাকি এদের একটা পদ্ধতি। চম্পাই বলেছিল সে কথা, ‘ঠাকুরঘর একটা দরকার বৈকি, ঠাকুর না থাকলে চলবে কেন? ওটা আমাদের চাইই চাই। পাপের ভরা নামাবার ঠাঁই!’

    ভেজানো দরজার ওপারের ওই ঘরটায় চন্দ্রভূষণকে কোনোদিন উঁকি মারতে দেয়নি চন্দ্রভূষণের চম্পা। চন্দ্রভূষণ একদিন তো প্রায় জোরই করেছিলেন, ‘দেখি না তোমার ঠাকুর—’

    চম্পা মৃদু হেসে দরজায় হাত রেখেছিল, ‘পাগল! গুরু আর ইষ্ট—ও কি কারুর সামনে প্রকাশ করতে আছে?’

    ‘আমিও তা’হলে ‘যে কেউ’য়ের দলে?’

    অভিমানে মুখ ভারী হয়ে গিয়েছিল চন্দ্রভূষণের।

    হ্যাঁ, এমন অদ্ভুত ধৃষ্টতাই করে বসেন চন্দ্রভূষণ। অথচ এইতো ক’দিনের দেখাশোনা! হঠাৎ একদিন রেলগাড়িতে দেখে ভাল লেগে গেল, ভার নিয়ে বসলেন তার। এনে প্রতিষ্ঠিত করলেন এই বাড়িটিতে। নীচতলার ওই হার্ডওয়ারের দোকানটাও বসিয়েছেন চন্দ্রভূষণই। তাতে আর একজনকে পোষা হতো। ইদানীং আবার ইলেকট্রিকের সরঞ্জামও রাখছেন কিছু কিছু, ওই দোকানের আয়েই যাতে চলে যায় মেয়েলোকটার। যাতে না আর অন্নচিন্তায় উঞ্ছবৃত্তি করে বেড়াতে হয়।

    শুভদৃষ্টি বড় সর্বনেশে জিনিস, তা’ নইলে, চলন্ত রেলগাড়ির কামরায় সেই ‘দেখা’র ফল কিনা এই!

    হয়তো ওই মানুষটাও উঞ্ছবৃত্তি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই বলেছিল, ‘কেউ যদি এমন ভার নেয়, তো বেঁচে যাই বর্তে যাই! লোক ঠকাতে সাধু সেজে বেড়াতে বেড়াতে কাহিল হয়ে গেছি।’

    তা’ কথাটা সত্যি।

    রেলগাড়িতে ওর পরনে ছিল গেরুয়া।

    ও বলেছিল, ‘গেরুয়া ধারণে ট্রেনের টিকিট লাগে না, সেকথা জানা নেই আপনার? আশ্চর্য তো! আমাদের ভারতবর্ষের এতবড় একটা খবর, রেল কোম্পানির এমন একটা বদান্যতা, জানা ছিল না?’

    সত্যিই হয়তো জানা ছিল না চন্দ্রভূষণের, অথবা জেনেও না জানার ভান করছিলেন। তবে সেবারের সেই যাত্রাটা যে চন্দ্রভূষণের নিতান্ত অযাত্রা হয়েছিল তা’তে আর সন্দেহ কি!

    চন্দ্রভূষণ অবশ্য কবিত্ব করে বলেন, ‘ওটাই আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ যাত্রা!’

    কবিত্বটবিত্ব একটু বোঝে মেয়েমানুষটা, তাই না এত শখ চন্দ্রভূষণের।

    কিন্তু কবিত্ব বাদ দিলে, অযাত্রা ছাড়া আর কি?

    গিয়েছিলেন চন্দ্রভূষণ ব্যবসার সম্প্রসারণ উদ্দেশ্যে, ফেরার সময় ওই ঘটনা। ওই অতি সাধারণ চেহারার এক গেরুয়াধারিণী, গেরুয়াটা যার ভেক মাত্র, তাকে দেখে মন কেন বলে উঠলো, ‘এই তো সেই! একেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি জীবনভোর!’

    তাই এক মুহূর্তে বলে উঠলেন, ‘এসো আমার সঙ্গে’—

    ‘এসো আমার সঙ্গে—’

    তার মানে, নিয়ে এসো কলঙ্ক, নিয়ে এসো লজ্জা, নিয়ে এসো অখ্যাতি! আর নিয়ে এসো নেশার সুখ! এসেছে সেই সব।

    তবে?

    অযাত্রা ছাড়া আর কি?

    অথবা সুযাত্রা!

    যে কাজে গিয়েছিলেন সে কাজে বেশ সাফল্য হ’ল দেখে মনটা বেশ ভাল ছিল, সেকেণ্ড ক্লাশ একটা কামরায় চড়ে আসছেন, হঠাৎ চোখে পড়ল সিটের একেবারে শেষ প্রান্তে জানলার ধারে এক গেরুয়াধারিণী বৈষ্ণবী। নাকে তিলক কাটা, গলায় কণ্ঠি, হাতে এক গেরুয়ার পুঁটুলি।

    ও কে?

    ও কখন উঠল?

    আগে থেকে উঠে বসেছিল, না চন্দ্রভূষণের চোখ এড়িয়ে চোখের সামনে দিয়ে—

    চন্দ্রভূষণের মনে হ’ল এই বৈষ্ণবী যেন তাঁর চির চেনা।

    পূর্বজন্ম মানবেন চন্দ্রভূষণ? ভাববেন কোন এক অতীত জন্মে ও চন্দ্রভূষণের নিকট—আত্মীয় ছিল? তা নইলে কেন এমন হচ্ছে? কেন মনে হচ্ছে এগিয়ে এগিয়ে ওর কাছে গিয়ে বসি?

    চন্দ্রভূষণ একটা সভ্য—ভব্য শিক্ষিত ভদ্রলোক। চন্দ্রভূষণের চলন—বলন, সাজ—সজ্জা, সবকিছু মার্জিত পরিচ্ছন্ন, অথচ চন্দ্রভূষণ একটা ভেক নেওয়া বৈষ্ণবীকে দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন, এর চাইতে আশ্চর্য ঘটনা আর কি আছে?

    অনেকক্ষণ চেষ্টা করলেন নিজেকে নিবৃত্ত করতে, শেষ অবধি চেষ্টা পরাজিত হ’ল। সুযোগও এল, বোষ্টমীর সামনে বসা লোকটা উঠে গেল। চন্দ্রভূষণ লোক—লজ্জার মাথা খেয়ে নিজের জায়গা থেকে উঠে এসে সেই খালি সিটটায় বসলেন।

    আর লোকলজ্জাই বা কি?

    রেলগাড়ীতে সর্বক্ষণই তো এ ঘটনা ঘটছে। যারা মাল মোটের ভারে বিব্রত, তারা হয়তো একবার পেয়ে যাওয়া জায়গাটি ছাড়ে না। কিন্তু যারা ঝাড়া হাত পা, তারা তো করছেই এখান ওখান। জানালার ধারটি পেলে তো কথাই নেই।

    অতএব লোকলজ্জারও প্রশ্ন নেই।

    তা’ তারপর যদি কথাই শুরু করে থাকেন, তাতেই বা কে তাকাচ্ছে? ‘গেরুয়ার প্রতি মোহ বহু লোকেরই থাকে, চেনা হওয়াও বিচিত্র নয়। কাজেই কেউ চোখ ফেলল না চন্দ্রভূষণের উপর।

    চন্দ্রভূষণ নিরঙ্কুশ প্রশ্ন করলেন, ‘কে আপনি?’

    ও প্রথমে বলেছিল, ‘কী সর্বনাশ, এ যে জবর প্রশ্ন! ‘আমি কে’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই তো কোটি বছর পার করে ফেলল মানুষ, তবু পাচ্ছে না উত্তর। আর আমি চট করে উত্তর দিয়ে বসবো?’

    ‘বাজে কথা রাখুন,’ চন্দ্রভূষণ প্রায় ধমকে উঠেছিলেন, ‘বলুন আপনি কে?’

    বৈষ্ণবী তখন বলেছিল, ‘তা’ সেকথা যদি আমার জানাও থাকে, আপনাকে বলতে যাব কেন?’

    তারপর কথার পিঠে কথা চড়তে তাকে। আশ্চর্য যে, বৈষ্ণবী রাগ করে ওঠে না। হয়তো—বৈষ্ণবী বলেই করে না। আর চন্দ্রভূষণও ক্লান্ত হন না। চন্দ্রভূষণই কথার জনক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article স্বর্গকেনা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }