Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প170 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অনবগুন্ঠিতা – ৫

    ৫

    অনেক কথার বিনিময় হবার পর চন্দ্রভূষণ বলে ওঠেন, ‘আপনি’ বলে মরছি কেন, আশ্চর্য তো! শোনো আমি তোমায় চিনেছি।’

    বৈষ্ণবী হেসে উঠে বলে, ‘সেরেছে! একেবারে চি—নে—ছি! ভদ্রলোকের ভারী অহঙ্কার তো! মশাই, নিজেকে চেনেন? নিজে কে? ফস করে ঘোষণা তো করে বসলেন, চিনেছি!’

    চন্দ্রভূষণ সমীহ করলেন না।

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘এযে দেখি গেরুয়ার মলাটে একটা অপাঠ্য বই! এ স্রেফ বটতলা!’

    বৈষ্ণবী এবার চটেছিল।

    জানলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বলেছিল, ‘বাবু মশায়, এই বটতলার বইখানা পড়তে তো কেউ সাধেনি আপনাকে?’

    চন্দ্রভূষণ পুলকিত হয়েছিলেন।

    চন্দ্রভূষণ বুঝেছিলেন, এই ফোঁটা তিলক কাটা বৈষ্ণবী নেহাৎ নিরক্ষর নয়।

    তাই চন্দ্রভূষণ জায়গাটা থেকে নড়বার নাম করেননি, বরং আরো যেন গুছিয়ে বসে বলেছিলেন, ‘বলে না কেউ, তবু অপাঠ্যের দিকেই ঝোঁকা মানুষের রীতি।’

    বৈষ্ণবী জানলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তীব্র কণ্ঠে বলেছিল, ‘ওঃ তাই! তাই বাবুর এমন নেক নজর! ভাবছেন, রসের বোষ্টুমী ঘেঁসে এসে বসলেই গলে যাবে, কেমন? আর আমি ভাবছিলাম বাবুর বুঝি গেরুয়ায় ভক্তি।…..তা’ আপনার মত বাবু ভদ্দরলোকের একটা ভিখিরি বোষ্টুমীর সঙ্গে বসে গালগল্প করলে নিন্দে হবে না? কে কখন দেখে ফেলবে—’

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘আমি অত নিন্দে সুখ্যাতির ধার ধারি না।’

    ‘সে কি কথা বাবু’—প্রৌঢ়া বৈষ্ণবীর চোখে যেন তরুণীর চোখের আগুন ঝলসে ওঠে, ‘এ যে বড় তাজ্জব কথা বলছেন! লোক নিন্দের ভয়ে স্বয়ং রামচন্দ্রই সীতাকে ত্যাগ করলেন—’

    ‘রামচন্দ্র?’ চন্দ্রভূষণ জোরের সঙ্গে বলেন, ‘এ যুগে কেউ রামচন্দ্রের ওই কাজটাকে সমর্থন করে না।’

    বৈষ্ণবী কেন এই সাধারণ কথায় এত জ্বলে ওঠে? কেন এমন তীক্ষ্ন হয়ে ওঠে সে?

    কারণ বোঝা যায় না। শুধু দেখা যায়, তীক্ষ্ন গলায় বলে ওঠে, ‘ওসব হচ্ছে ছেঁদো কথা! সমাজের মন এখনও সেই ত্রেতাযুগেই অচল আছে। এখনও মেয়েমানুষকে পুরুষের সম্পত্তি ছাড়া আর কিছু ভাবা হয় না, এখনও মেয়েমানুষের মূল্য মাটির পাত্রের থেকে বেশী নয়। তার জ্ঞানে অজ্ঞানে, ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয়, একবার যদি কেউ উচ্ছিষ্ট করে দিয়ে গেল তো, দূর করে ফেলে দাও আঁস্তাকুড়ে।’

    চন্দ্রভূষণ সচকিত হলেন।

    চন্দ্রভূষণ চোখের চশমাটা একবার খুললেন আর একবার পরলেন, তারপর বলে উঠলেন, ‘অস্বীকার করে লাভ নেই। তোমায় চিনে ফেলেছি আমি। তোমার নাম চম্পা।’

    বৈষ্ণবী আকাশ থেকে পড়ল।

    বৈষ্ণবী চোখ গোল করলো।

    তারপর বললো, ‘বাবুর বোধকরি একটু নেশাভাঙের অভ্যাস আছে।’

    চন্দ্রভূষণও আশ্চর্য, তবুও চটলেন না।

    বললেন, ‘যে কথা বলেই ধাঁধাঁ লাগাতে চাও, আমি চটছি না, ধাঁধাঁয় পড়ছি না।’

    ‘সে আপনার মর্জি! ধাঁধাঁয় পড়বো না, এমন অহঙ্কারের কথা শুনতে বেশ মজাদার!’

    ‘বেশ তবে তুমি বল তোমার নামটা কি?’

    ও বলেছিল, ‘সন্ন্যাসিনীদের কি নাম বলতে আছে?’

    ‘বলতে নেই?’

    ‘না।’

    ‘গেরুয়া তো তোমার ছল।’

    ‘ছলনাই তো জীবন আমাদের।’

    ‘বেশ, আমি একটা নামকরণ করি?’

    বলেছিলেন বুড়োধাড়ী চন্দ্রভূষণ।

    বাড়িতে যাঁর তিন তিনটে ভাদ্রবৌ।

    এরা যে বলে ‘ডাকিনীর মায়া’, বলে ‘মোহিনী মন্ত্র’, ভুল বলে না।

    গেরুয়ার আবরণে মোহিনীই তো! নইলে ওই সাধারণ চোখে অমন অসাধারণ কটাক্ষ হয়? সেই কটাক্ষের সঙ্গে বলেছিল, ‘নামকরণ? অক্লেশে! একটা কেন, একশো আটটাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু যে দু’দণ্ডের পথের সাথী, তার নাম নিয়েই বা এত মাথাব্যথা কিসের?’

    ‘দু’দণ্ডের যদি না হয়?’

    বলে ফেললেন অবোধ চন্দ্রভূষণ।

    এককালে যে নাকি মেধাবী ছাত্র ছিল, ছিল বুদ্ধিমান চটপটে। কারবার করতে করতে ভোঁতা হয়ে গেছে লোকটা, তাতে আর সন্দেহ কি?

    তিলককাটা বৈষ্ণবী লহরে লহরে হেসে উঠলো। বললো, ‘বলেন কি বাবু, এ যে বড় সর্বনেশে কথা! এটাই আপনার স্বভাব নাকি?’

    চন্দ্রভূষণ আর একবার চশমা খুললেন, চশমা পরলেন। দেখলেন আরো একবার, তারপর জানলার দিকে তাকিয়ে রইলেন। ভাবতে লাগলেন…….

    ও কি শুধু আমাকে ব্যঙ্গ করতেই এমনটা করছে, না কি সত্যিই এমন হয়ে গেছে ও? এমন বাচাল, বেহায়া, আর বেপরোয়া!

    হয়তো তাই!

    দু’যুগ পার হয়ে গেছে, কত ঘাটের জল খেয়েছে, এখনো সেই কচি কুসুমটি থাকবে এ তো আশা করাই অন্যায়। কিন্তু তাই বলে, ও বদলে গেছে বলে আমি ওকে ফেলে চলে যাব? নেমে যাব নিজের মনে?

    তার মানে ইহ জীবনে আর দেখা হবে না!

    না না, সে হয় না, একবার ভুল করেছি আর করবো না। ওকে ধুলো ঝেড়ে তুলে নেব। কিন্তু ও তো স্বীকার পাচ্ছে না।

    তবে কি আমারই ভুল?

    আমি কি শুধু একটু সাদৃশ্য দেখে—

    আবার ভাবেন, অসম্ভব! ভুল হতেই পারে না। বাইরের ভাবভঙ্গী সাজ—সজ্জা যাই বদলাক, কাঠামো বদলায় না। আর বদলায় না—

    জুৎসই শব্দ খুঁজে পেলেন না চন্দ্রভূষণ, শুধু ভাবতে লাগলেন, আর বদলায় না সেই বস্তু, যার নাকি সঠিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। সেটা মুখে থাকে, না চোখে থাকে, নাকি চামড়ার নীচেয় থাকে, কে জানে! তবু সেইটাই অবিকৃত থাকে। ও চম্পা!

    ‘বাবু মশায়ের রাগ হ’ল না কি?’

    বৈষ্ণবী নিজেই সেধে ডেকেছিল।

    চন্দ্রভূষণ ফিরে তাকিয়েছিলেন।

    চন্দ্রভূষণের চোখটা লাল লাল দেখাচ্ছিল। আর মুখের চেহারায় একটা জিদের ভাব ফুটে উঠেছিল।

    বৈষ্ণবী বলেছিল, ‘আমরা মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, কাকে কি বলে বসি জ্ঞান থাকে না, অপরাধ নেবেন না। কথাটা না হয় ফেরতই নিচ্ছি।’

    ‘ফেরৎ নেওয়ার দরকার নেই। ধরে নাও ওই আমার স্বভাব। তবে আমি যা সংকল্প করি, তার নড়চড় হয় না। শুধু জীবনে সেই একবারই ভাগ্যের হাতে মার খেয়ে—দেবু আমায় পরে সব বলেছে।’

    কিন্তু এবার চন্দ্রভূষণকে সত্যিই থতমত খেতে হয়।

    বৈষ্ণবী অবোধ দুই চোখ তুলে বলে, ‘দেবু? দেবু কে? কি বলেছিল সে? আমি তো বাবু কিছু বুঝতে পারছি না?’

    ‘কিছু বুঝতে পারছো না তুমি? দেবুকে চেনো না? রাজশাহীর দেবু?’

    বৈষ্ণবী বলে উঠেছিল, ‘বাবু রঙে আছেন বলায় তো রাগ করলেন, কিন্তু এসব কি কথা বলুন? সাতজন্ম যে নামধাম জানি না, জবরদস্তি চিনতে হবে তাদের?’

    চন্দ্রভূষণ ভাবলেন, ঠিক আছে, নেমেই যাবো। পথের দেখা পথেই মিলোক, আর কথায় কাজ নেই। এই রইলাম চুপ করে।

    কিন্তু পারলেন কই?

    একটু চুপ করে থেকে বলে উঠলেন, ‘পরেছ গেরুয়া, অথচ অনর্গল মিথ্যে কথা বলে চলেছ।’

    ‘কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে তা’ কি নির্ণয় করা সোজা বাবু? কত নদী পার হয় মানুষ, কত পাহাড় ডিঙোয়, কত তাঁবু খাটায়, কোনটা যে সত্যি—জল, না স্থল, না ঘর, তা সে কি নিজেই জানে?’

    চন্দ্রভূষণ নির্নিমেষে একটু তাকিয়ে অভিভূত গলায় বলেছিলেন, ‘এ সব কথা তুমি শিখলে কোথায়?’

    ‘ওমা, এই এতখানি বয়েস হলো, দুটো কথাও শিখবো না? আমাদের ‘সখীকুঞ্জের’ গুরুগোঁসাই যে কথার সাগর গো! তাঁর আশ্রয়ে থাকতে থাকতে বোবারও বোল ফুটলো!’

    ‘তা’ বলে বোবা তুমি ছিলে না কখনো—’ যেন রেগে রেগে বলে ওঠেন চন্দ্রভূষণ, ‘কথায় চিরদিন ওস্তাদ!’

    বৈষ্ণবী এবার গালে হাত দেয়, ‘তাই বলুন, বাবু হচ্ছেন গণৎকার! এতক্ষণ বলতে হয় সে কথা!’

    চন্দ্রভূষণ এবার প্রায় চড়া গলায় বলেন, ‘না বলে পারছি না—তুমি বড় বাচাল হয়ে গেছ।’

    বৈষ্ণবী সচকিত ভঙ্গীতে বলে, ‘আস্তে বাবুমশাই, লোকে কান করছে, চোখ ফেলছে। ভাববে বাবুর সঙ্গে বুঝি আমার আগের কোনো সম্পর্ক ছিল। ‘সখীকুঞ্জে’র অষ্ট প্রহরের বোষ্টুমী, সামাজিক মান মর‍্যাদাটা তো জোরালো নয় তার?’ এক সকাল থেকে পরদিন সকাল অবধি নাম গান হয়, একশো আট নাম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই একই নাম।’

    পরিচয় পাওয়া গেল।

    নবদ্বীপের ‘সখীকুঞ্জে’র বৈষ্ণবী।

    নামগানের বিনিময়ে ভাত কাপড় জোটে।

    পুণ্যটা কুঞ্জের মালিকের, ভাড়াটে নাম—গাইয়েদের ওই ভাত কাপড়ের উপর ‘ফাউ’ লাভ হচ্ছে ‘রসনাশুদ্ধি, চিত্তশুদ্ধি’।

    আর ক্রমশঃ রীতিমত চিত্তশুদ্ধির পরিচয় দিতে পারলে ‘গেরুয়া’!

    চাইতে হবে সেটা মালিকের কাছে।

    ও নাকি চেয়েছিল।

    তবে শুদ্ধিটুদ্ধির পরিচয় দিয়ে নয়। শুধু বুদ্ধির জোরে।

    বলেছিল, ‘শাদা কাপড় বড্ড ময়লা হয়ে যায় মহারাজ, গেরুয়ায় সুবিধে। দিয়ে দিন না।’

    তাক মাফিক বলতে পারলে সব হয়, এ তো শুধু শাদার বদলে গেরুয়া!

    তা’ নাম একটা ছিল বৈকি।

    সখীকুঞ্জে অষ্টসখীর নাম হচ্ছে বাধ্যতামূলক! কাজেই সেখানে ‘বড় বিশাখা, ছোট বিশাখা, বড় বৃন্দা, ছোট বৃন্দা। ললিতার আবার মেজ সেজও আছে। এর নাম ছিল ‘ছোট ললিতা’।

    মহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন, ‘মনের ময়লা ত্যাগ করে তবেই গেরুয়া নিতে হয় ছোট ললিতা!’

    ও বলেছিল, ‘ত্যাগের চেষ্টাই তো করছি মহারাজ!’

    কিন্তু কে জানতো, ‘সখীকুঞ্জটা’ই ত্যাগ করবার চেষ্টায় ছিল ছোট ললিতা। গেরুয়াদের রেলের টিকিট লাগে না, গেরুয়াদের ইহজগতের অনেক টিকিট হাতে এসে যায়, তাই মহারাজকে ভুলিয়ে আদায় করে নিল দু’সেট গেরুয়া!

    শাড়ি, সেমিজ, চাদর।

    ব্যস, পরদিন আর ছোট ললিতাকে নামগানের আসরে দেখা গেল না!

    কি হলো?

    অসুখ?

    কিন্তু অসুখ যদি তো ওর বাসা শূন্য কেন?

    কোথায় গেল ঝাঁপি, কোথায় গেল পুঁটলি?

    কোথায় গেল রান্নার বাসন?

    উনুনটাই শুধু পড়ে আছে।

    তাও নিষ্ঠুর প্রহারে জর্জরিত।

    ছোট ললিতা যেন তার এই পরিত্যক্ত জীবনের সাক্ষী ওই উনুনটার উপরই আক্রোশ ফলিয়ে চলে গেছে।

    ছোট ললিতা মহারাজজীর বিশেষ প্রিয় শিষ্যা বলে ঈর্ষা ছিল আর সকলের, তাই বিস্ময়ের সাগরে হাবুডুবু খেতে লাগলো বড় ললিতা, মেজ ললিতা, আর বড় বিশাখা, ছোট বিশাখারা!

    কিন্তু চন্দ্রভূষণের কাছে নিজের সেই নামটা প্রকাশ করলো না ছোট ললিতা, বললো, ‘নতুন নামকরণ? অক্লেশে!’

    হয়তো ভাবলো, যতবার মনিব বদল হচ্ছে ততবারই তো নাম বদল হচ্ছে, ওতে আর ভাববার কি আছে?

    নয়তো বা ভাবলো, ও নিয়ে আপত্তিটা হাস্যকর।

    তাই বললো, ‘একশো আটেও আপত্তি নেই।’

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘আটও নয় শতও নয়, শুধু এক। ওইটাই বলবো একশোবার করে। নাম দিচ্ছি ‘চম্পা’।’

    আশ্চর্য!

    মিলিয়ে গিয়েছিল তো কোন কালে চম্পার সৌরভ, তবু ওই নামটাই ইচ্ছে হলো চন্দ্রভূষণের।

    ছোট ললিতা বললো, ‘আমাকে ‘এসো তুমি’ বলে ডাকলেই নাহয় আমি হাত ধুয়ে বসলাম, কিন্তু আপনার দশা কি? বয়েস হয়েছে, সমাজে মানসম্মান আছে, বৌ ছেলে আছে—’

    ‘বৌও নেই ছেলেও নেই!’ চন্দ্রভূষণ হেসে উঠেছিলেন, ‘ওদিকে শূন্যি!’

    ‘ওঃ বৌ বুঝি মরেছে? আর—ছেলে মেয়ে হয়নি?’

    চন্দ্রভূষণ মৃদুগম্ভীর হাস্যে বলেন, ‘বৌ মরেনি, বৌ শুধু হারিয়ে গিয়েছিল। তবে হুকুম জারি হয়েছিল যেন জপ করি ‘মরেছে মরেছে।’ অতএব মরেছে। কাজেই ছেলের প্রশ্ন নেই।’

    ‘সে জপ করা হয়েছিল?’

    ‘সে আর বলতে? আজীবন!’

    ‘যাক শুনে বাঁচলাম। থাকা হয় কোথায়?’

    ‘সেটা অবশ্যই বাড়িতে। ঠাকুদ্দার ভিটেয়।’

    ‘আছে কে আর?’

    ‘ছোট তিন ভাই, তাদের তিন বৌ, ছেলে মেয়ে।’

    ‘তিন ভাদ্রবৌ, ওরে সর্বনাশ!’ ছোট ললিতা ভয়ের ভান করে, ‘অবস্থা বড় খারাপ! কী বলবে তারা, এখন এ বয়সে মেয়েছেলে পুষলে?’

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘পোষবার জিনিস পুষতে চাইলে কেউ যদি আপত্তি করে, নাচার!’

    ‘ভাবছি—’

    ‘কী ভাবছো?’

    ‘ভাবছি বিনি খাটুনিতে নিশ্চিত অন্ন, বিনি নামগানে নিশ্চিত আশ্রয়, এটা ত্যাগ করবো? বড় বোকামি হবে না?’

    ‘হবে।’

    ‘তবে নাহয় আপনার সঙ্গেই যাই।’

    ‘যাই নয়, আসি।’

    সেই আসা!

    নবীন উৎসাহে বাসা গোছ করেন চন্দ্রভূষণ, নবীন উৎসাহে সংসার পাতার সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন, ছোট ললিতা নতুন জন্ম আর নতুন নাম পরিগ্রহ করে ঢুকে পড়ে সেই সংসারে।

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘গেরুয়া চলবে না।’

    চন্দ্রভূষণের চম্পা বললো, ‘ছাড়তে পারলেই তো বাঁচি। চওড়া লালপাড় শাড়ি পরে ঘরসংসারী কাজ করে বেড়াচ্ছি, এ সাধ জন্মাবধি।’

    হঠাৎ চন্দ্রভূষণ একটা কাজ করে বসেন। সন্ন্যাসিনীর একটা হাত চেপে ধরে বলেন, ‘শুধু ঘরসংসারী কাজ করে বেড়ানোর সাধ? ঘরসংসারের সাধ নেই?’

    সন্ন্যাসিনী হেসে উঠে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে, ‘বুদ্ধিমান বামনরা চাঁদে হাত দিতে চায় না।’

    ‘আর চাঁদ যদি ইচ্ছে করে হাতে নেমে আসতে চায়?’

    বললেন চন্দ্রভূষণ আবেগের গলায়।

    বোধকরি ভুলে গেলেন, পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি বয়েস হয়েছে তাঁর।

    গেরুয়া হেসে উঠে বলে, ‘চাঁদ এমন অবোধই বা হবে কেন?’

    ‘চম্পা!’

    চম্পার নামে নামকরণ যার, সে যেন চম্পার চোখেই তাকায়। ওরও যে অমন তাকানোর বয়েস নেই, তা ভাবে না।

    ‘চম্পা, বহুকাল আগে বৌ হারিয়ে গিয়েছিল, বৌয়ের সাধ মেটেনি, ইচ্ছে হচ্ছে সে সাধ মেটাই, সম্মান, সম্ভ্রম, অধিকার দিই তোমায়!’

    ‘সর্বনাশ! ইচ্ছে হলেই হলো? সম্মান, সম্ভ্রম, অধিকার—’

    ও সহসা হেসে উঠে বলে, ‘শব্দগুলো ভয়ানক ভারী, ঘাড়ে সইবে না। হালকা ঘাড় নিয়ে, রেলের টিকিট ফাঁকি দিয়ে দিয়ে চলা অভ্যাস হয়ে গেছে, তাই ফাঁকি দিয়ে স্বর্গলাভটাই সহজ মনে হচ্ছে।’

    চন্দ্রভূষণ কিছুক্ষণ ওই বহু অভিজ্ঞতায় পোড়—খাওয়া মাঝারি বয়সের মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলেন, ‘এত কথা শিখলে কোথায়?’

    ‘কেন, সখীকুঞ্জের আখড়ায়!’ ও হেসে ওঠে, ‘কথারই চাষ যে সেখানে! কথার সিঁড়ি গেঁথে গেঁথেই স্বর্গে ওঠা!’

    তা’ হয়তো এ একটা মস্ত উপকার করছে ‘সখীকুঞ্জে’র আখড়া। অনেক কথা শিখিয়েছে একটা ভেসে বেড়ানো পথের মেয়েকে পথ থেকে কুড়িয়ে এনে আখড়ায় পুরে ফেলে।

    কথার চাষই বটে।

    ধর্মকথা, দার্শনিক কথা, রহস্যময় কথা, আবছা ধোঁয়াটে রসের কথা, কথার শেষ নেই।

    সেই ‘কথা’র সঞ্চয় নিয়ে এসেছে ছোট ললিতা।

    কথাই তো আসল।

    কথাই তো আকর্ষণ রজ্জু।

    ওতেই প্রকাশ, ওতেই বিকাশ, ওতেই ব্যঞ্জনা।

    ব্যঞ্জনাহীন সৌন্দর্যের মূল্য কি?

    কথায়—দরিদ্র রূপসীর থেকে অনেক বাঞ্ছনীয়া ভাষায় ঐশ্বর্য্যবতী রূপহীনা।

    তাই চন্দ্রভূষণ ওই বাক্যশালিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

    চন্দ্রভূষণের মন যায় হারিয়ে।

    অনেক অনেক বছর আগে ফেলে আসা একটা দিনের চারপাশে আছড়ে মরে সে মন।

    ছোট ললিতাকে ‘চম্পা’ বলতে সাধ হলো কেন চন্দ্রভূষণের?

    এখন কি মনে হয় ‘চম্পা’ নামের সেই হারিয়ে যাওয়া মেয়েটার ওপর অবিচার করে এসেছেন চিরকাল? তাকে খোঁজা উচিত ছিল? উচিত ছিল ক্ষমা করা?

    ছোট ললিতা বলে, ‘মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে না থেকে গল্প কর দিকি! শুনি তোমার ছোট ভাইয়ের ব্যাপারটা। বদলীই হলো তাহলে?’

    চন্দ্রভূষণের মুখে একটা বেদনার ছায়া পড়ে।

    একদা যে নিজেই চন্দ্রভূষণ ভাবতেন, যেখানেই কাজ করি কলকাতায় কদাচ না, কলকাতায় থাকলেই বাড়িতে থাকতে হবে—সে কথা মনে পড়ে না বলেই ওই ছায়াটা পড়ে।

    সেই ছায়া—ছায়া মুখে বলেন চন্দ্রভূষণ, ‘হলো বৈকি! সামনের সোমবারে রওনা দেবে।’

    ‘তা’ ভালই তো—ছোট ললিতা বলে, ‘বদলী হলেই উন্নতি—’

    ‘নাঃ চম্পা, ওইখানেই মজা। ও নাকি বদলী হয়ে নীচু পোস্টে চলে যাচ্ছে ইচ্ছে করে, আর একজনের বদলে।’

    ‘কে আবার একথা বললে তোমায়?’

    ‘বললে? যে ছেলেটির বদলী রদ হলো, সে বলে গেল কৃতজ্ঞতা জানাতে। বিন্দু তখন বাড়ি ছিল না, আমাকেই বললো। বললো, ‘এমন মহানুভব! আমার বদলী হওয়ায় অসুবিধে রয়েছে বলে নিজে যেচে—’

    ‘তা সেটাই ভাবো না—’ ছোট ললিতা সহজ গলায় বলে, ‘ভাবো না আমার ভাই মহানুভব। তোমার কাছ থেকে চলে যাবার জন্যেই স্বেচ্ছায় একথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছ কেন?’

    ‘সেটাই যে সত্যি কথা,’ চন্দ্রভূষণ বলেন, ‘যখন তখন সেই কথারই আভাস পাই যে!’

    তা’ সত্যি, সেই আভাসই ঝিলিক দিয়ে ওঠে আজকাল যখন তখন। উদিতা আর চন্দ্রভূষণের তাঁবে বৌগিরি করে থাকতে রাজী নয়। আর শুধু তো চন্দ্রভূষণই নয়, শেফালী নেই? সুনন্দা নেই? মাথার উপর এতগুলো লোক নিয়ে কী সুখ জীবনে? উদিতার যেদিন শুধু বরটির সঙ্গে দুটি দামী সিটে বসে বিখ্যাত একটি বিলিতী ছবি দেখতে ইচ্ছে করে, ঠিক সেদিনই হয়তো জা—ননদ ভাগ্নে ভাগ্নী ইত্যাদি করে একটা রেজিমেন্টের সঙ্গে একটাকা চল্লিশের সিটে বসে একখানা অখাদ্য বাংলা ছবি দেখে আসতে হয়।

    কারণ, তার উদারচিত্ত আমুদে ভাসুর সকলকে নিয়ে আমোদ করে উল্লসিত হচ্ছেন।

    উদিতার যেদিন ইচ্ছে হয় নিজের ছেলে দুটিকে নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে যাবে, এবং ভাইপো—ভাইঝিদের নিয়ে আমোদ আহ্লাদ করবে, ঠিক সেইদিনই হয়তো ভাসুর বাড়ির সবকটা বাচ্চাকে নিয়ে সার্কাস দেখাতে কি স্টীমারে বেড়াতে, একজিবিশন দেখাতে, কি পিকনিক করতে বেরিয়ে পড়বেন।

    ‘ঠিক সেইদিনটা’ যে হাতগোনার ব্যাপার তা’ অবশ্য নয়, ব্যাপারটা হচ্ছে সুবিধাজনক ছুটির দিনটি তাক করেই তো সকলের আমোদ প্রমোদের চিন্তা।

    এছাড়া নিজেদের ব্যাপারেও আছে বৈকি।

    উদিতার বেশী বিশ্বাস বাপের বাড়ির ইয়ং ডাক্তারের উপর, চন্দ্রভূষণের ঘোরতর বিশ্বাস তাঁর পারিবারিক চিকিৎসক বৃদ্ধ ডাক্তারবাবুর উপর। দুজনের বিশ্বাস গড়ে ওঠার মূলে অবশ্য কারণ আছেই কিছু।

    কিন্তু কার্যক্ষেত্রে চন্দ্রভূষণের বিশ্বাসেরই জয় হয়। কারণ চন্দ্রভূষণ কারো অসুখ হতে না হতে ডাক্তারকে এনে হাজির করেন, নিজে বোঁ করে বেরিয়ে যান প্রেসকৃপশনটা হাতে নিয়ে, এবং দাঁড়িয়ে থেকে ওষুধ খাওয়ান।

    খরচ সব চন্দ্রভূষণের।

    সিন্ধুভূষণ যদি স্ত্রীর বাক্যযন্ত্রণায় অস্থির হয়ে দাদার কাছে টাকা নিয়ে এসে দাঁড়ায়, চন্দ্রভূষণ আহত গলায় বলেন, ‘তোর ছেলের অসুখ, তাই তুই ডাক্তারের ফীজ দিবি, ওষুধের দাম দিবি?’

    এরপরও আর কে বলবে ‘হ্যাঁ দেব!’

    কিন্তু উদিতা তাই বলতে চায়।

    চন্দ্রভূষণের উদারতা তার হজম হচ্ছে না আর।

    সিন্ধুভূষণ বলে, ‘কি আর করা যাবে, ওঁর নিজের ছেলেমেয়ে নেই তাই, থাকলে অবশ্যই করতেন না এত!’

    করতেন না যে অবশ্যই তার নজীর আছে। গায়ের কাছেই আছে। ইন্দুভূষণ যদি ‘পথে বেরোচ্ছেন’ হিসেবে কারো কোনো জিনিস কিনে আনবার ‘ফেরে’ পড়েন, কদাচ সে ‘ফেরে’ পড়ে থাকেন না। বাসভাড়া লাগলে সেটারও বিল কাটেন।

    সেজদা অতটা না হলেও বড়দার মত আদৌ নয়।

    অতএব ধরে নিতে হবে বড়দার নিজের ছেলেমেয়ে নেই বলেই—

    তা’ সেই ধরে নেওয়াটুকুতে আদৌ রাজী নয় উদিতা। ওর মানমর‍্যাদাজ্ঞান বড় বেশী। কাজে কাজেই সেই বস্তুটাকে বাঁচাতে বদলীর চেষ্টা করতে হচ্ছে সিন্ধুভূষণকে!

    কলকাতা ছেড়ে চলে যেতে বুক ফেটে গেলেও করতে হচ্ছে।

    ঝামেলা কি কম? ছেড়ে যেতে কত দিকে কত ব্যবস্থা! তা’ছাড়া ছেলে দুটোর স্কুল ছাড়ানোর প্রশ্ন রয়েছে।

    চন্দ্রভূষণ যখন শোনেনি বদলী হওয়াটা চেষ্টাকৃত, তখন কাতর কাতর গলায় বলেছিলেন, ‘তা’ ওরা সুদ্ধু যাবে কেন? বছরের এই মাঝামাঝি? তাছাড়া সেখানে ভাল স্কুল আছে কি না ঠিক নেই—’

    উদিতা শেফালীর মত সেকেলে বৌ নয় যে ভাসুর দেখে ঘোমটা দেবে। অতএব জবাবটা দেয় মুখোমুখিই, ‘ওদের রেখে যাব? আমরা চলে যাব, ওদের রেখে যাব? দেখবে কে?’

    উদিতা ইচ্ছে করলে লাঠি না ভেঙে সাপ মারতে পারতো। খুব নরম করে বলতে পারতো, ‘ওদের ছেড়ে থাকতে পারবো না বড়দা!’

    তাতেও কাজ হতো।

    চন্দ্রভূষণই হয়তো লজ্জিত হয়ে ভাবতেন, ‘তাইতো সত্যিই তো! আমারই একথা ভাবা উচিত ছিল।’

    কিন্তু তা’ বললো না উদিতা।

    সাপটা সে মারলো বটে, কিন্তু লাঠিটাও ভাঙলো।

    চন্দ্রভূষণ আহত হলেন।

    চন্দ্রভূষণ আহত বিস্ময়ের গলায় বললেন, ‘বাড়িতে এতগুলো লোক রয়েছে ছোটবৌমা, বুবু টুটুকে কেউ দেখবে না?’

    সিন্ধুভূষণ ওই আহত আহত মুখের দিকে তাকিয়ে মরমে মরলো। সিন্ধুভূষণ তাড়াতাড়ি ভাঙা বাসনটায় তালি দিতে বসলো, বসলো ছেঁড়া কাপড়টায় রিপু করতে।

    বলে উঠলো, ‘শোনো কেন দাদা ওসব কথা! ছেলেদের ছেড়ে থাকতে পারবে না, অথচ মান খুইয়ে বলবে না সে কথা!’

    কে জানে ভাঙা বাসন জোড়া লাগলো কি না।

    চন্দ্রভূষণ আর কিছু বললেন না।

    না প্রতিবাদ, না সমর্থন।

    উদিতা ঘরে ফিরে এলে সিন্ধু বললো, ‘কথাটা ওভাবে না বললেও পারতে!’

    উদিতা গম্ভীর গলায় বললো, ‘জানি না কী ভাবে তোমাদের দাদার চিত্তে আঘাত না দিয়ে কথা বলা যায়! তুমি তো মলম বুলিয়েছ তা’হলেই হবে।’

    তারপর বললো, ‘তোমাদের এই ‘কর্তাভজা’র বাড়িতে তিষ্ঠানো শক্ত! উনি যা খুশি করতে পারেন, যেহেতু উনি কর্তা। আর সেই হেতুই ওঁর দোষের দিক থেকে চোখ বুজে ভজতে হবে ওঁকে। জানো, ওই বেলেঘাটার ব্যাপার নিয়ে আমাদের বাড়ীতে কী নিন্দে, কী ব্যঙ্গ!’

    সিন্ধুভূষণ মাথা হেঁট করে।

    দাদার ওই বেলেঘাটার ব্যাপারটাই তাদের মাথা হেঁট করিয়েছে, বিশেষ করে বৌদের কাছে।

    যতই বৌদের বোঝাতে চেষ্টা করুক, অবিবাহিত মানুষ, ওরকম একটু—আধটু দুর্বলতা স্বাভাবিক, ওটা প্রকৃতির প্রতিশোধ, তবু বলতে মনে জোর পায় কই?

    দাদার উপরই অতএব রাগে ব্রহ্মাণ্ড জ্বলে যায়।

    সেদিন আবার জামাইবাবুর আচমকা প্রশ্নে বলা হলো কিনা ‘জানো না, ওখানে যে সংসার পেতেছি! তোমরা যে রসে হাবুডুবু খাচ্ছো, সে রসটা কেমন জানতে ইচ্ছে হলো হঠাৎ!’

    লজ্জার লেশ নেই, যেন ঠাট্টাতামাশা!

    যেন আসলে ব্যাপারটা সত্যি নয়।

    বড় জামাইবাবু ভালমানুষ, অতটা জানেন না, হ্যা হ্যা করে হাসতে লাগলেন। ভাবলেন ঠাট্টাই।

    কিন্তু ছোট জামাইবাবু তো জেনে এসেছে।

    বুড়োবয়েসে নাকি একটা বোষ্টমী নিয়ে—ছি ছি!

    লোকে যে রসে হাবুডুবু খাচ্ছে সে রসটা কেমন, এতদিন পরে জানতে ইচ্ছে হলো তোমার?

    সেদিন আবার পাড়ার গোবিন্দবাবুকে বলা হচ্ছিল, ‘বেলেঘাটায় একটা হার্ডওয়ারের দোকান দিয়েছি—’

    যেন সেটাই আসল।

    সেটা তো হলো নিত্য গতায়াতের কারণ দেখানো। জানতে তো বাকী নেই কিছু? দিয়েছেন অবিশ্যি একটা দোকান, সে তো নাম কা ওয়াস্তে। আবার সে দোকানে বসানো হয়েছে কাকে? না গেঁজেল পাজী দেবুটাকে।

    মেজদা তো মুখফোঁড়, বলেছিল সেদিন, ‘পাড়া রাজ্য ছাড়িয়ে বেলেঘাটায় দোকান! আশ্চর্য বটে! আর সে দোকানে বসাবার জন্যে আর লোকে পেলে না? দেবুদা? ছি ছি! অথচ আমার সেজ শালাটা—’

    তা’ দাদার উত্তর হলো কিনা—’মামা মামী মরে পর্যন্ত দেবুটা ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে, ওর একটা ব্যবস্থা করা তো দরকার! মামা মামীর কাছে তো আমার ঋণের শেষ নেই!’

    কেন নেই, তা’ও জানি না।

    মামা সাধ করে নিয়ে গিয়েছিলেন তাই, নইলে বাবার কি ছেলেকে মানুষ করে তোলবার ক্ষমতা ছিল না? মামার সখকে যদি ঋণ বল তো ঋণ!

    কে বলতে পারে ওই দেবুদাটাই কুপথের মন্ত্রণাদাতা কিনা! নষ্ট তো হয় মানুষ সঙ্গদোষেই। বুড়োবয়সেও যে হয়, তার নজীর আছে। আবার সেটা নতুন করে দেখালো দাদা।

    দেবুদার উপর এত কর্তব্যজ্ঞান না দেখালেও চলতো! স্বর্গ থেকে মামা মামী নিশ্চয় ওই ছেলের গুণে গালে মুখে চড়াচ্ছেন!

    ঠিক, ওইটাই দাদাকে নষ্ট করছে।

    ওই বোষ্টমী যোগাড়ের কর্ত্তাও ওই দেবু।

    সিন্ধু অনেক ভাবে।

    কিন্তু ভেবে ভেবে কূলকিনারা পায় না।

    ‘দাদা খারাপ হয়ে গেলেন—’ এটা উচ্চারণ করেও যেন বিশ্বাস হয় না। বিশ্বাস হয় না, দাদা দেবুদা’র সঙ্গে মিশছেন।

    পুরুষের যত রকম দোষ থাকা সম্ভব, তার কোনোটিতে তো ঘাটতি নেই দেবুদার।

    নেশাভাঙ, বদভ্যাস, চরিত্রহীনতা, জালজোচ্চুরি, ভিক্ষাবৃত্তি, সবেতে পটু। সেই লোকটাকে ক্ষমা করতে হবে? আগে তো ঠিক উলটো ছিল, আগে তো দাদা দেবুদাকে দেখলে জ্বলে যেত, কথা বলতো না।

    মামা যখন মারা গেলেন, দেবুদা এলো জানাতে, অর্থাৎ সাহায্য চাইতে। দাদা বললো, ‘ওর হাতের পিণ্ডি খেয়ে মামার তো স্বর্গ হবে না, হবে অনন্ত নরক, সেই নরকের পথ প্রশস্ত করবার সাহায্য করতে পারব না।’ অবিশ্যি দিল শেষ পর্যন্ত টাকা, তবে কথা বলেনি।

    আর এখন কিনা ‘ও ভেসে বেড়াচ্ছে’ বলে ওই বুড়ো বদমাশটাকে দোকান পাতিয়ে দিয়ে পুষত হবে?

    অন্য কিছু নয়, ওই।

    এখন রতনে রতন চিনলো!

    দাদা এমন হয়ে গেল!—সিন্ধুভূষণ যেন দিশেহারা হয়ে যায়।

    ভাবে, আমার শাশুড়ী যে বলেন, ‘মোহিনী মায়া’, নির্ঘাত তাই। তুকতাকেরই ব্যাপার!

    দাদার অধঃপতন বিন্দু সিন্ধুকে মরমে মেরেছে!

    সিন্ধু শেষ পর্যন্ত চলেই যাচ্ছে।

    কারণ উদিতা কিছুতেই রাজী হচ্ছে না ওই ভাসুরকে প্রণাম করতে, সমীহ করে কথা বলতে, তাঁকে সেবা যত্ন করতে।

    অতএব কলকাতা ত্যাগ।

    এতে যদি চন্দ্রভূষণ ভাবেন তাঁর পাঁজরের একখানা হাড় খসে গেল, তো বোকার মত ভাবা হবে সেটা।

    বিন্দুভূষণ অবশ্য বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না, তবে বাড়ির মধ্যেই আলাদা হতে চায়।

    শেফালীর গিন্নীপড়া আর সহ্য করতে পারছে না সুনন্দা। বয়সে সামান্য তফাত, কিন্তু মান্য দাবি করে অসামান্য। কারণ বড় ভাসুর তাকেই সংসারের কর্ত্রীর পোষ্টটা দিয়ে রেখেছেন।

    অসহ্য নয়?

    তার থেকে অনেক ভাল, ঘরের মধ্যে ‘জনতা’ জ্বেলে ভাতে ভাত রেঁধে খাওয়া।

    ঢের সুখের, ঢের স্বস্তির।

    আর সম্মানের তো বটেই।

    কিন্তু চন্দ্রভূষণের উপস্থিতিই এই সম্মানজনক পথটা নিতে দিচ্ছিল না।

    দাদা দুঃখিত হবেন!

    দাদা আহত হবেন!

    দাদা কি মনে করবেন!

    বিন্দুভূষণ তাই বলে। বলে—

    দাদার যদি মতিচ্ছন্ন ঘটেও থাকে, সন্দেহ নেই সেটা সাময়িক।

    সেটা—ওই বুড়ো বদমাইশ দেবুদাটার কেরামতি! যতই হোক দাদা পুরনোকালের বন্ধু, কবলে ফেলতে বেশী দেরি হয়নি। এখন ওই পাজীটা দাদার খরচে বদমাইশি করবে এই মতলব! তাই তুক তাক করেছে।

    তা ওরা যদি বলে একথা, তুকতাক করেছে দেবু চন্দ্রভূষণকে, তাহ’লে অন্যায় বলে না। বাস্তবিক দেবুর ওপর করুণা আসবার কোনো যুক্তি আছে কি? চন্দ্রভূষণের সমস্ত জীবনটা ভেস্তে যাওয়ার মূলে কে? দেবু নয়? দেবুই কি ধ্বংস করে দেয়নি চম্পা নামের এক টুকরো শুভ্র পবিত্রতাকে?

    দেবু যদি সেদিন শুধু একটু ‘বকুনি’ খাবার ভয়ে কাতর না হয়ে মা বাপের কাছে এসে আছড়ে পড়ে বলতো, ‘মা, জামির পাজীটা চম্পাকে ভুলিয়ে নিয়ে—’

    যদি বলতে পারতো, ‘বাবা আমায় কেটে দু’খানা করে ফেল তুমি, আমি মহামুখ্যু। শুধু তুমি চম্পাকে—’

    তা করেনি দেবু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article স্বর্গকেনা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }