Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প170 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অনবগুন্ঠিতা – ৭

    ৭

    ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমান!

    সব চোখের উপর জ্বলজ্বলিয়ে উঠবে!

    এ এক বড় ভয়ানক প্রলোভন!

    এ প্রলোভনে আবালবৃদ্ধবনিতা ভোলে, বিজ্ঞ ভোলে, পণ্ডিত ভোলে।

    আর এ তো একটা কিশোরী মেয়ে মাত্র।

    যে নাকি তার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কোথাও দেখছে না আলোর রেখা।

    চম্পা ভিড়ের মধ্যে থেকে মাসির সঙ্গচ্যুত হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। কুড়ি মিনিটের মধ্যেই তো ফিরে আসবে, তখন বললেই হবে, ‘কোন দিকে ছিলে তোমরা, আমি খুঁজে খুঁজে—’

    তীরে নৌকো বাঁধা ছিল।

    যে নৌকোয় চড়ে ওপারে গিয়ে আপন ভাগ্যের ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমান জেনে ফেলবে চম্পা।

    তা হয়তো দেবুর সেই শয়তান বন্ধুর কথা মিথ্যাও নয়, জানতেই তো পেরেছিল সেদিন চম্পা তার ভূত ভবিষ্যৎ। শুধু জানবার জন্যে কষ্ট করে আর খেয়া পার হয়ে ফকিরের আস্তানায় যেতে হয়নি। শয়তানই সে ভাগ্যলিপি পড়ে দিয়েছিল।

    কিন্তু দেবু?

    দেবু যায়নি।

    দেবু নৌকোয় চড়েনি।

    ঠিক শেষ মুহূর্তে দেবুর বন্ধু দেবুকে বলেছিল, ‘সর্বনাশ করেছে। ফকিরের জন্যে যে একটু কর্পূর নিয়ে যেতে হয়! ওই কেবল ওঁর দক্ষিণা। আর কিছু না। ইস একদম ভুলে গেছি। … দেবু, দোহাই তোর, যা ভাই একবার ছুটে, মেলার বাজার থেকে একটু কর্পূর নিয়ে আয়।’

    কর্পূর! শুনতে তুচ্ছ, মুহূর্তে উড়ে যাবার, কিন্তু জিনিসটা ঠিক সেই পরিস্থিতিতে সহজপ্রাপ্য হয়নি, অনেকটা খোঁজাখুঁজি করে যখন নিয়ে গিয়ে হাজির হলো দেবু, দেখলো কর্পূরের মতই উপে গেছে তার বন্ধু, তার বোন!

    খেয়া নৌকোখানা যেমন ঘাটে বাঁধা ছিল তেমনিই পড়ে রয়েছে।

    ‘বোকার মত হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলাম রে চানু, তবু তখনো তার শয়তানির ওজন বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম, তবে কি হঠাৎ মা বাবা এসে পড়েছিলেন? জামিরকে কি তিরস্কার করেছিলেন এই দুর্বুদ্ধির জন্যে? চম্পাকে ধমক দিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন?

    তারপর বুঝতেই পারছিস অবস্থা?

    ভিড়ে মেয়ে হারিয়ে ফেলা উদভ্রান্ত মা বাবার সেই মূর্তির সামনে আমি বলতে পারলাম না আমার বোকামির কথা। আমি শুধু আড়ালে মাথা ঠুকতে লাগলাম। ছেলেবেলা থেকে চম্পিকে যত উৎপীড়ন করেছি, সব মনে পড়ে বুক ভেঙে যেতে লাগলো, আর তখনই বুঝতে পারলাম ওকে আর পাওয়া যাবে না। বুঝতে পারলাম জামির কত বড় শয়তান।’

    একটা মুখ্যু ছেলের মুখ্যুমিতে হারিয়ে গেল চম্পা নামের সেই ‘অসংযমী’ মেয়েটা। যে নাকি এক অনাত্মীয় পুরুষের শোবার ঘরে এসে ঢুকতে সাহস পায়—

    ‘অনেকদিন পরে জামিরকে একদিন দেখেছিলাম কলকাতায়—’ দেবু বলেছিল, ‘চেপে ধরেছিলাম তাকে ‘কোথায় চম্পি?’ বলে। অচেনার ভান করেছিল, বলেছিল, ‘কাকে কি বলছেন?’ …রাস্তায় লোক জমে গেল, ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম।’

    আর বলেছিল দেবু, ‘সে কি আর বেঁচে আছে? নিশ্চয়ই সুইসাইড করেছে। যে অভিমানী!’

    অতএব মরেই গিয়েছিল চম্পা।

    কিন্তু কত বছর যেন পরে চন্দ্রভূষণ বলে উঠলেন, ‘আমায় তুমি ঠকাতে পারবে না, গেরুয়া পরেও না।’

    তারপর, আরও কি যেন কথার পর বলেছিলেন, ‘কোথাও যেতে হবে না, আমার সঙ্গে এসো’।

    বৈষ্ণবী এবার ওই বেপরোয়া লোকটার দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলেছিল, ‘তারপর?’

    ‘তারপর আবার কি? থাকবে চিরকাল।’

    ‘ওমা তাই নাকি? বৈষ্ণবী চোখের নীচেটা আঁচল দিয়ে মুছতে মুছতে বলেছিল, ‘সত্যি? আহা! চিরকালের ভার নেবেন? গ্যারাণ্টি?’

    ‘গ্যারাণ্টি।’

    ‘আহা তবে আর রেল কোম্পানিকে ফাঁকি দিয়ে, আর দু’পয়সার ছোলাভাজা খেয়ে খেয়ে ঘুরে মরি কেন? চলুন চলুন।’

    যেন শুধু লীলাকৌতুকে চন্দ্রভূষণের সঙ্গে নেমে পড়েছিল বৈষ্ণবী। যেন শুধু মজা করবার জন্যেই, যেন ওই নামাটা সত্যি নামা নয়। হঠাৎ আবার কখন চড়ে বসবে ট্রেনে।

    কিন্তু নাম বলে না।

    বলে না, ‘চম্পা নামের একটা মেয়েকে চিনতাম।’ বলে না, ‘রাজশাহী আবার জানি না? সে কি ভোলবার জায়গা?’

    বলে, ‘রাজশাহী আবার কোথায়? চম্পাটি কে গো?’ আর বলে, ‘দেখতেই তো পাচ্ছেন অনেক ঘাটের জল খেতে হয়েছে, অনেক ‘মহাপুরুষ’ দেখতে হয়েছে, এখন বলুন কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলবেন আমাকে?’

    চন্দ্রভূষণ তার উত্তর দেননি, চন্দ্রভূষণ বলে উঠেছিলেন, ‘ফেলবো, একথা তো বলিনি, চিরকাল মাথায় করে রাখবো সেই কথাই হয়েছে।’

    ‘যাক বাবা বাঁচা গেল—’ বৈষ্ণবী বেপরোয়া হেসে উঠেছিল, ‘এতদিনে মনের মতন একটা লোক পেলাম, যে যাবজ্জীবনের ভার নিতে রাজী। কার মুখ দেখে আজ যাত্রা গো—’

    কথার ধরনই ওই।

    যেন কৌতুক করছে।

    যেন মোটেই নামবে না চন্দ্রভূষণের সঙ্গে, তামাসা করছে মাত্র।

    যেন নামেও যদি, তো সহসা কোথায় হারিয়ে যাবে আবার।

    শুধু মূঢ় চন্দ্রভূষণের ধৃষ্ট প্রস্তাবটাকে ব্যঙ্গ করতেই যেন ওর এই নেমে পড়া।

    অথচ রয়ে গেল।

    যেন আকাশের পাখী স্বেচ্ছায় খাঁচায় এসে ঢুকলো।

    কিন্তু রইলো যেন সূক্ষ্ম একটুখানি জালের ওড়নায় মুখ ঢেকে।

    চম্পাকে চেনে না, শোনেওনি কখনো তার নাম। তবে তুমি যদি সে নামে ডেকে সুখ পাও, ডাকো।

    তুমি আমায় চিনেছ?

    বেশ তো। ভাল কথা। তাতেই যদি খুশি হও তো হও।

    কিন্তু থাক না ওই পর্যন্তই। আমি তোমায় এই নতুন চিনলাম। আমার এই ওড়না আমি নাই বা খুললাম নিজে হাতে।

    তাই বলেছিল, ‘ভিখিরী, বোষ্টম, সন্নিসী, এদের কি নাম থাকে গো?’

    ‘নাম যদি থাকে না তো আমার দেওয়া নামটাই পাকা হোক।’

    ‘নাম আবার কাঁচা পাকা! কতজন তো কত নামে ডাকলো, তুমিও না হয়—হি হি হি!’

    ‘কিন্তু আমি তো তোমায় বানানো নাম দিচ্ছি না! তুমি যেখানে প্রথম ফুটেছিলে, যেখানে তোমার সেই সদ্যফোটা কুসুমজীবনের সৌরভ ছড়িয়ে আস্তে আস্তে দল মেলেছিলে, এ যে সেখানকার নাম!’ বলেছিলেন চন্দ্রভূষণ, এই ভাষায় না হোক, এই ধরনে।

    ‘ওমা তাই বুঝি! শোনো কথা! ভূতেরও আবার জন্মদিন থাকে? নতুন কথা শুনছি যে!’

    হেসে গড়িয়েছে বৈষ্ণবী।

    কতদিন কত মুহূর্তে চন্দ্রভূষণ বলেছেন, ‘চম্পা, তোমার মনে পড়ে না রাজশাহীতে সেই একদিন—’

    ও বলেছে, ‘এই দেখ, আবার তুমি কার সঙ্গে কাকে গুলোচ্ছ! বললে সেদিন, ‘নাম নেই তো একটা নাম দিই—’ তাই জানি। ভাবলাম নামটাম ছিল না কিছু, তবু একটা মিষ্টি নাম হলো। ওমা এখন আবার লোকটা বলে কী গো! তোমার কথা শুনে মনে হয় নামটা একটা সত্যি মানুষের! তার ঘর ছিল, বাড়ি ছিল, আপনজন ছিল। না না, ওসবের মধ্যে আমি নেই। আমার ভূতও নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আছে শুধু বর্তমান। যদি তাতেই খুশী থাকো, তোমারও কষ্ট লাঘব, আমারও কষ্টের লাঘব।’

    তবু আজ সহসা অসতর্কতায় বুঝি উড়ে গেল সেই ওড়না।

    পাতানো চম্পা আসল চম্পার গলায় বলে উঠলো, ‘আগে তো বেশ বুদ্ধিমান ছিলে, এমন বোকা হয়ে গেলে কেন? বুদ্ধির গোড়ায় বৌ না থাকলে—’

    চন্দ্রভূষণ বাধা দিয়ে বলেন, ‘স্বীকার করছ তা’হলে, আগে চিনতে আমাকে?’

    চম্পা হেসে ওঠে, ‘উদোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে না চাপিয়ে ছাড়বে না দেখছি। কোথায় কবে একটা পাজীর পা—ঝাড়া মেয়ে ছিল, মাঝরাত্রে পরপুরুষের ঘরে এসে ঢুকতে পেছপা হতো না, আর লক্ষ্মীছাড়ামি করে মোছলমানের ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছল, তার ত্যাগ করা খোলসে আমায় পুরে না ফেলতে পারলে বুঝি শান্তি নেই তোমার?’

    চন্দ্রভূষণ কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, ‘না শান্তি নেই। আমি স্পষ্ট হতে চাই! চম্পা, মাঝখানের এই দিনগুলো কি সত্যিই অলঙ্ঘ্য? পার হয়ে যাওয়া যায় না? মুছে ফেলা যায় না? ফিরে যাওয়া যায় না সেই দিনটায়? যেদিন তুমি—’

    ‘আমি নয়, তোমার সেই লক্ষ্মীছাড়ি চম্পা বল—’

    ‘তুমিই আমার সেই চম্পা, যে আমায় লক্ষ্মীছাড়া করেছে!’

    চম্পা আস্তে চন্দ্রভূষণের একটা হাত হাতে তুলে নেয়, বলে, ‘বেশ না হয় তাইই হলো, চম্পার সেই ছাড়া খোলসের ভিতর আবার না হয় ঢুকলাম, তারপর?’

    ‘তারপর?’ চন্দ্রভূষণ যেন অবোধের মত উচ্চারণ করেন।

    ‘হ্যাঁ, তার পরটা দেখতে হবে না? না বুঝে সুঝে ঢুকলেই হলো?’

    ‘চম্পা, তবে তারপর আবার ফিরে যাই চল সেদিনের পরের সকাল থেকে। তোমার মুখে আশা প্রত্যাশা আনন্দ, আমার মুখে দৃঢ় সংকল্প। বাড়ির সকলের মত করিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল চম্পা! সে চিঠির জবাব এল না। কিন্তু মনে হচ্ছে এতদিনে পেয়েছি জবাব।’

    চম্পা যদি তো চম্পা, বলে ওঠে, ‘শুনতে মন্দ লাগছে না। কিন্তু জবাব পাওয়ার পরটাও ভেবে রাখতে হবে তো? তারপর?’

    চন্দ্রভূষণ আহত গলায় বলেন, ‘সব সময় সব কথা হেসে উড়িয়ে দিও না। বল যদি তো বলি, তোমার আপত্তি শুনবো না আর। আমার শুধু প্রিয়া নিয়েই চলছে না, আমার বৌ চাই। যে বৌ আমার ঘরে সংসারে অধিকারের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যশাসন করতে পারবে। আমার—’

    চম্পা খুব গম্ভীর আর নিরীহ গলায় বলে, ‘আচ্ছা তোমার বয়স কত হলো বলতো? বোধহয় ঊনপঞ্চাশ, তাই না? এই বয়সেই ঊনপঞ্চাশী ধরে শুনেছি।’

    চন্দ্রভূষণ সহসা উঠে পড়েন।

    বলেন, ‘আচ্ছা, আমার কথার উত্তর পেয়েছি। চললাম দেবুকে বোলো দোকানটা তারই রইলো—’

    চন্দ্রভূষণ সেই সিঁড়িটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যে সিঁড়িটার শেষ প্রান্তটা গিয়ে ঠেকেছে রাজরাস্তায়।

    চন্দ্রভূষণ ওই সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাবেন, চন্দ্রভূষণ ওই রাজরাস্তায় পড়বেন। চন্দ্রভূষণ তারপর হয়তো ধূসর হয়ে যাবেন, মিলিয়ে যাবেন। আর কোনদিন ওই সিঁড়ির ধাপে ধাপে চন্দ্রভূষণের বলিষ্ঠ পদশব্দ শোনা যাবে না।

    চন্দ্রভূষণ আহত হয়েছেন।

    চম্পা মাত্রা ছাড়িয়েছে।

    কিন্তু চন্দ্রভূষণ যে একটা ভয়ানক অবাস্তব চিন্তার মধ্যে বাস করছেন, আঘাত করা ছাড়া গতি কি? না বলে উপায় কি, ‘আগে তো বেশ বুদ্ধিমান ছিলে!’

    না বলে উপায় কি, ‘বয়েস কত হলো, ঊনপঞ্চাশ?’

    তাই বলে ওকে কি চলে যেতে দেবে চম্পা? যেতে দেবে চম্পার জীবন থেকে? কে জানতো চম্পার জীবনপথে আবার ওর পা পড়বে! কে জানতো ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে চলে না গিয়ে ও বলে উঠবে, ‘এসো আমার সঙ্গে!’

    আশ্চর্য যে সত্যই চলে এসেছিল চম্পা। হয়তো চরম একটা ভুল করে বসেছিল সে।

    সেই ভুলটা না করলে আবার সব ঠিক হয়ে যেত।

    চন্দ্রভূষণের সাজানো ছক এলোমেলো হয়ে যেত না। জেঠামশাই হয়ে যাওয়া চন্দ্রভূষণ কলঙ্কের মালা গলায় পরতে বসতো না। উন্মনা হয়ে ক’দিন হয়তো ভাবতো, কে ও স্বীকার করল না, কিন্তু মনে হচ্ছিল ও বুঝি চম্পা। তারপর ভুলে যেত।

    উচিত কাজ সেদিন করেনি চম্পা। চম্পা চলে এসেছিল। কারণ চম্পা লোভে মরে গিয়েছিল।

    চম্পা ‘অসংযমী’ হয়েছিল। যে চম্পা রাতের অন্ধকারে একদিন ওর কাছ থেকে ছিটকে সরে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল আরো অনেক অন্ধকারের পাথারে, সেই চম্পা দিনের আলোয় আবার ওর কাছে এসে দাঁড়াবার ডাক পেয়ে লোভ সামলাতে পারেনি।

    ভেবে দেখেনি, চম্পাকে ঘিরে যে অন্ধকারের বলয়, দিনের আলোকে ‘আলো’ থাকতে দেবে না সে, ম্লান করে দেবে।

    চম্পা আবার জীবনের হাতছানিতে লুব্ধ হবে? জীবনের তেতাল্লিশটা বছর পার করে আসা চম্পা!

    কিন্তু সত্যিই কি তেতাল্লিশ?

    তিনশো বছর নয়?

    শতাব্দীর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেনি চম্পা, তার জীবনের এক এক মোড়ে?

    চন্দ্রভূষণ তাকে বৌ হতে বললেই হতে পারবে সে?

    চন্দ্রভূষণের দিকেও যুক্তি ছিল বৈকি। চন্দ্রভূষণ একদিন শুনেছিলেন উদিতার নিজের দাদার কাহিনী। ‘অনেক হাত ফেরত’ চিত্রজগতের এক অভিনেত্রীকে বিয়ে করে, সমাজে নাকি একজন মান্যগণ্য বিখ্যাত ব্যক্তি হয়ে উঠেছে উদিতার দাদা! সেই বৌদি দাদার থেকে বয়সে বেশ খানিকটা বড়, কিন্তু তাতে কি? ওটাও তো প্রগতির আর এক চিহ্ন।

    উদিতা অতএব তার দাদা বৌদির ‘হনিমুনে’র হরেক ছবি ঘরের দেয়ালে টাঙিয়ে রেখেছে আনন্দে, গৌরবে, পুলকে।

    বাড়িতে যে বেড়াতে আসবে, সে যেন দেখতে পায় উদিতার দাদা কেউকেটা নয়। যেন দেখতে পায় উদিতার পিতৃকুল কত প্রগতিশীল! তা’ দেখছে সেই চোখে।

    ভাগ্নে ভাগ্নীরা তো তদবধি উদিতাকে পরমপূজ্যি করতে শুরু করেছে।

    ‘মালিনী বসু’ তোমার নিজের বৌদি ছোটমামী? তোমাদের বাড়িতেই থাকেন? উঃ কী মজা তোমার! আচ্ছা উনি ঠিক আমাদের মত?’

    উদিতা কৃপার হাসি হাসে।

    কারণ উদিতার মর‍্যাদা বেড়ে গেছে, কৃপার হাসি হাসবার অধিকার জন্মেছে।

    উদিতার পিতৃপরিবারকে কেউ সমাজচ্যুত করেনি। উদিতার সেই আর্টিস্ট ভাইবৌ যে বাড়িতে অতিথি গেলে কখনো কখনো নিজে হাতে চা কফি পরিবেশন করে, এ শুনে মোহিত হয় লোকে, উদিতার বাবার ভাগ্যকে ধন্য ধন্য করে।

    চন্দ্রভূষণ এই শোনাটা থেকে যুক্তি—

    কিন্তু এ যুক্তি কি চন্দ্রভূষণের কাজে লাগবে?

    চম্পা কি আর্টিস্ট? তাই ওর সাতখুন মাপ হবে?

    চম্পা তো একদম রাবিশ!

    আর চন্দ্রভূষণ?

    ঊনপঞ্চাশের দরজায় এসে পৌঁছনো জেঠামশাই!

    তবে?

    কিসের সঙ্গে কিসের তুলনা?

    কিসের সূত্রে কিসের যুক্তি?

    না, চন্দ্রভূষণের যুক্তি তাঁর জীবনের কাজে লাগবে না।

    তবু চম্পা এগিয়ে আসে, সিঁড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। পথ আগলায়।

    বলে, ‘নিষ্ঠুরতায় দেখছি এখনো সমান আছো! ফেলে চলে যাচ্ছ যে? বলেছিলে না চিরদিনের মত ভার নেবে?’

    চন্দ্রভূষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বলেন, তাই নিতে চাইছি! নিতে চাইছি সম্ভ্রম দিয়ে, শ্রদ্ধা দিয়ে, সম্মান দিয়ে। কিন্তু সেটা তোমার কাছে হাস্যকর হচ্ছে—’

    চম্পার বড় বড় চোখ দুটো আরো গভীর আরো কালো দেখায়, ‘যাকে যা দেওয়া যায় না, তাকে তা’ দিতে যাওয়া তো হাস্যকরই গো! তার চেয়ে এই তো বেশ আছি, রোজ তোমায় দেখতে পাচ্ছি—’

    ‘পাচ্ছ! তবে লোকে বলছে আমি খারাপ বাড়িতে আসছি।’

    ‘সে তো বলবেই’—চম্পা হঠাৎ ওর অভ্যস্ত ভঙ্গীতে হেসে ওঠে, ‘বলবে না? লোকের চোখে যার যা রং, যার যা নাম, লোকে তাইই বলবে। তুমি বাড়ির জেঠামশাই, বৌমাদের পূজনীয় ভাসুরঠাকুর, তুমি নিত্য এসে ধরনা দেবে তোমার পেয়ারের বোষ্টুমীর কাছে, আর লোকে কিছু বলবে না? না বাপু না, নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে চালাতে চেষ্টা করা চলবে না।’

    চন্দ্রভূষণ জেদের গলায় বলেন, ‘এতে কারুর কোনো ক্ষতি হচ্ছে?’

    চম্পা আবার হেসে ওঠে। সেই হাসি।

    সত্যিকার চম্পা! রাজশাহীর চম্পা!

    বলে, ‘সাধে কি আর বলে বুদ্ধির গোড়ায় বৌ না থাকলেই পুরুষের হতবুদ্ধি দশা!: নাই বা কারুর কোনো ক্ষতি করলে, নিজের ক্ষতি করবার অধিকারও নেই তোমার। তুমি সমাজ সংসারের একটা মানুষ নও?’

    চন্দ্রভূষণ সিঁড়ির রেলিংটা ধরে আস্তে বলেন, ‘লাভ ক্ষতি বুঝি না চম্পা, জীবনের প্রারম্ভে বৌ হারিয়ে ফেলে বোকার মত সংসারের গোলকধাঁধায় ঘুরছি আর তার অভাব অনুভব করছি। হঠাৎ বিধাতা সেই হারানো বৌকে দিলেন খুঁজে—’

    ‘ওটা বিধাতার ব্যঙ্গ চানুদা!’ চম্পা আস্তে ওঁর গায়ে হাত রেখে শান্তগলায় বলে, ‘বৌ যদি তোমার ভাগ্যে থাকতো, আর বৌয়ের থাকতো সেই ভাগ্য, জীবনের প্রারম্ভে হারিয়েই বা যাবে কেন? ওটা আর এ জন্মে হলো না তোমার। আসছে জন্মের জন্যে মুলতুবী থাক।’

    চন্দ্রভূষণ ওই শান্ত মুখের দিকে তাকান।

    চন্দ্রভূষণ বলেন, ‘বিধাতার এই ব্যঙ্গের কি দরকার ছিল বল তো?’

    ‘বোধকরি ওই কাঁটার মালাটার জন্যে!’ চম্পা বলে, ‘ওটাও পাওনা থাকে কিনা! নইলে কী দরকার ছিল বল তো, তাঁর একটা ষোলো বছরের সংসারবুদ্ধিহীন মেয়েকে ভুলিয়ে নিয়ে আগুনে ফেলে দেবার?’

    চন্দ্রভূষণ বলেন, ‘বিধাতার ব্যঙ্গকে ব্যঙ্গ করা যায় না? জয়ী হওয়া যায় না তার উপর?’

    ‘হয় না, যায় না!’ চম্পা বলে, ‘আমি তো বুঝি, তোমার মন সংসারী, তোমার মন সামাজিক, তুমি সব নিয়ে পূর্ণ। শুধু অশরীরী প্রেমের সম্বল নিয়ে নতুন জীবন গড়তে বসলে শুকিয়ে যাবে তুমি, শুকিয়ে যাবে তোমার প্রেম। তুমি বুঝতে পার না সেটা, আমি পারি। আমি তো দেখতে পাই, সংসারের কাছে আঘাত পেলে কতটা ভেঙে পড় তুমি, গল্প করতে বসলে ঘুরে ওদের কথাই এসে যায় তোমার—’

    অস্বীকার করতে পারেন না চন্দ্রভূষণ।

    সংসারটা তার কাছে পরম মূল্যবান।

    জীবনের গভীরে যে শূন্যতা তাকে আরো গভীরে রেখে, ওই সংসারটাকে নিয়েই তো পূর্ণ হতে চেয়েছিলেন এতদিন! প্রথমে ছিল চম্পার ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র যন্ত্রণা, তারপর এল চম্পার প্রতি অবিচার করার যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার কোনো ওষুধ ছিল না। সংসারটাকেই সে ওষুধ বলে আঁকড়ে ধরেছিলেন।

    কিন্তু হঠাৎ দেখতে পাচ্ছেন চন্দ্রভূষণ, তিনি সংসারটাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইলেও, সংসার তাঁকে আঁকড়ে থাকতে আদৌ রাজী নয়, বরং তাঁর আঁকড়ানির বন্ধনে থাকতেও নারাজ।

    সে কি শুধু আজ চন্দ্রভূষণ হঠাৎ ‘চরিত্র খারাপ’ করেছেন বলে?

    তা’ নয়—

    বহু সন্ধ্যার গল্পের মধ্যে একথা বলেছে চম্পা, ‘নারাজ তুমি খারাপ বলে নয়, তুমি উদার বলে, তুমি মহৎ বলে, তুমি ওদের মত নও বলে।’

    ‘এ তুমি কী বলছো চম্পা?’

    বিস্ময়াহত হয়েছিলেন চন্দ্রভূষণ।

    চম্পা বলেছিল, ‘ঠিকই বলছি। তুমি যদি ওদের সঙ্গে পাই পয়সার হিসেব নিয়ে চুল চিরতে বসতে, যদি ওদের মত তোমার স্বার্থের পুঁটলিটায় কড়া করে গিঁট দিতে জানতে, যদি ওদের ওই ক্ষুদ্রতার গণ্ডির মধ্যে নেমে এসে জায়গা নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে পারতে, ওরা তোমায় সহ্য করতে পারতো। কিন্তু তা তো হয়নি, তুমি উদার হয়েছ, তুমি ওদের মর‍্যাদাকে আহত করে সমগ্র সংসারের দায়িত্ব নিয়েছ, তুমি ওদের থেকে উচ্চস্তরে বসে ওদের স্নেহ করেছ, এ ওরা কতদিন সইবে? উদারতার বোঝা সবচেয়ে বড় বোঝা, বইতে পারা বড় কঠিন। তুমি অবিরত দিয়ে চলেছ, ওরা অবিরত নিতে বাধ্য হয়েছে, এ কী সোজা শাস্তি নাকি? ওরা যদি ক্রমশঃ তোমাকে সহ্য করতে অপারগ হয়ে ওঠে, দোষ দেওয়া যায় না ওদের।’

    চন্দ্রভূষণ বলেছেন, ‘কিন্তু আমি তো ভালবেসেই করি। আমি তো অহমিকা দেখাতে যাইনি—’

    ‘তা’ বললে কি হবে? ওদের অহমিকা তো ক্ষুণ্ণ হয়ে চলেছে? দেওয়া সহজ, নেওয়া কঠিন! আমার মত বেহায়া না হলে আর—’

    হেসে কথার শেষ করেছে চম্পা।

    আবার একসময় চন্দ্রভূষণ রেগে উঠে বলেছেন, ‘তুমি ওদের জানো না, এক পয়সা খরচ করতে হলে মরে—’

    ‘জানি, জানবো না কেন?’ চম্পা হাসে, ‘তোমার যদি বৌ থাকতো, সংসার থাকতো, তুমিও তাই মরতে!’

    চন্দ্রভূষণ চোখ তুলে চেয়েছেন, বিহ্বল দৃষ্টি মেলে বলেছেন, ‘আমার বৌ ওরকম হতো না।’

    চম্পা হি হি করে হেসেছে, ‘হতো না মানে? অবিকল ওই হতো। ঘর পাওয়া বর পাওয়া মেয়ের মেজাজই আলাদা, বুঝলে? ঘরের গণ্ডির মধ্যে নিজেকে ভরে ফেললে ঘরের মাপের মত হতে হবে তো? মেয়েদের অত উদার হলে চলে না।’

    ঘুরে ফিরে প্রায়ই এ কথা হয়েছে।

    হ্যাঁ, ঘরসংসারের কথাই তো বেশী।

    ভালবাসার কথা আর কতটুকু?

    সে তো শুধু কথার টুকরোয়, কথার অলংকারে, আর দৃষ্টির ব্যঞ্জনায়।

    চম্পার কাছে এসে সুখ দুঃখের কথাই বলেন চন্দ্রভূষণ। চম্পা ধরা দেয় না, তবু মামা মামীর শেষজীবনের দুঃখময় কাহিনীর কথা বলেন, বিয়ে করা নিয়ে মার আক্ষেপের কথা বলেন, আর ইদানীং যে তাঁদের সংসারের রং হঠাৎ হঠাৎ কেমন বদলে যাচ্ছে সে কথা বলেন।

    হঠাৎ নিজেকে কেমন অপমানিত লাগে, হঠাৎ যেন অসহায় লাগে নিজেকে, অবয়বহীন একটা দুঃখ যেন ঘিরে ধরতে চায়, এসব কথা বলতে পাওয়াও পরম এক সুখ!

    কাউকে মনের কথা বলতে পাওয়া যে এত সুখ, একথা কবে জেনেছেন চন্দ্রভূষণ? কারো কাছে সহানুভূতি পাওয়ায় যে এত পরিতৃপ্তি, পরামর্শ পাওয়ায় যে এত রোমাঞ্চ, একথা কবে অনুভব করেছেন?

    এখন মনে পড়ছে, চন্দ্রভূষণই ওদের দিকে ষোলোআনা মনোযোগ দিয়েছেন, ওরা কোনোদিন চন্দ্রভূষণের দিকে মনোযোগ দেয়নি।

    চন্দ্রভূষণ বরাবর ওদের সহানুভূতি করেছেন, ওরা কোনোদিন চন্দ্রভূষণকে সহানুভূতি করেনি। চন্দ্রভূষণ ওদের পরামর্শ দিতে গেছেন, ওরা কোনো দিন চন্দ্রভূষণকে পরামর্শ দিতে আসেনি।

    ওরা ছোট?

    তাতে কি?

    ভালবাসার দাবিতে তো সব কিছু সহজ হয়ে যায়।

    চম্পা তো দিল পরামর্শ।

    বললো, ‘সবসময় বোনেদের আনায় বৌরা যদি বেজার হয়, নাই বা আনলে! তোমার যখন নিজের গিন্নী নেই, জোর কার ওপর? ইচ্ছে হলে বরং তুমি ওদের কাছে চলে যেও।’

    ‘আমি ওদের কাছে?’

    ‘হ্যাঁ, মন্দ কি? দেদার বাজারপত্র করে নিয়ে হাজির হলে একজনের বাড়ি, বললে, আজ তোর কাছে খাব, রাঁধ ভাল করে—’

    চন্দ্রভূষণ বিরক্ত হয়ে বলেছেন, ‘আমি খাবার জন্যে—?’

    ‘আহা তা’ কেন? ওদের জন্যেই। শুধু ওইভাবে বললেই শুনতে ভাল। এক বোনের বাড়িতে বা আর দুই বোনকে ডাকলে, তাতেও মজা!’

    সে পরামর্শ নিয়েছিলেন চন্দ্রভূষণ, দেখেছেন সত্যি, তাতেও মজা। বেশ নতুন স্বাদ! বাড়ির সবাই ছিল না বটে, কিন্তু তাতে যেন একটা মুক্তির স্বাদ ছিল। ইদানীং যে সবসময় মনে হচ্ছে, ওরা বোধহয় এটা অপছন্দ করছে, সেটার ভার আছে।

    এ পরামর্শ আর কেউ কোনোদিন দেয়নি।

    সেদিন তাই বারেবারে মনে হয়েছে, যদি এই আনন্দের মাঝখানে চম্পা ঘুরতো ফিরতো!

    তা’ চম্পা পরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুনেছে সব।

    ঠিক যেমন করে একটি প্রৌঢ় দম্পতি অবসর সময়ে বসে সংসারের গল্প করে, তেমনি দেখিয়েছে ওদের।

    হ্যাঁ, ঠিক তেমনিই দেখায় ওদের।

    চম্পার পরনে শুধু একটা শাদা সেমিজ আর একখানা শাদা শাড়ি, লালপাড়ের শাড়ি, চন্দ্রভূষণের বেশবাসে দোকানী মানুষের শিথিলতা।

    চন্দ্রভূষণ চৌকির উপর, চম্পা সামনে একটা টুলের উপর। বিন্দুভূষণের ছোটছেলেটার বুদ্ধিমত্তার কাহিনী বর্ণনা করতে করতেই হয়তো চন্দ্রভূষণের পুরো একটা সন্ধ্যা খরচ হয়ে যায়।

    কিন্তু সেই খরচটাকে কি বাজে খরচ মনে করেন চন্দ্রভূষণ?

    করেন না।

    চম্পার ওই সুন্দর হাসিটা তো ওতেও ক্ষণে ক্ষণে ঝলসে ওঠে, ওই বড় বড় চোখ দুটো তো ওতেও চঞ্চল হয়ে নাচে, চম্পার সুরেলা গলার মন্তব্য আর বিস্ময়ধ্বনি ওতেও তো মুহূর্তে মুহূর্তে সচকিত হয়ে ওঠে।

    ওরা যে চম্পার চেনা জন নয়, তা’ তো লেশমাত্রও বোঝা যায়না।

    তবে লোকসান কোথায়?

    চম্পার কাছে যে—কোনো কথা কয়েও যে অগাধ সুখ! কই মনে হয় না তো এ সুখ অবৈধ, এ সুখ অশুচি!

    কোনো কোনো দিন দেবু নীচ থেকে দোকান বন্ধ করে উঠে আসে হিসেবপত্র মিলোতে।

    চন্দ্রভূষণ তাকে বলেছেন, ‘দোকানটা তোর, লাভ হলে তোর, লোকসান হলে তোর—’, তবু দেবু সব দায়িত্ব নেয় না। তবু আসে হিসেব দিতে।

    চম্পা কি চম্পা বলে ধরা দেয়?

    দেয় না।

    আজই প্রথম ধরা দিল চম্পা, তুচ্ছ একটা অসতর্ক কথায় হয়তো বা ইচ্ছে করেই দিল। সূক্ষ্ম সেই জালের আবরণটুকুও ভার লাগছিল ক্রমশঃ। তাই দিল।

    দেবু এলে চম্পা বলে, ‘এই যে তোমার দেবব্রতবাবু হিসেব দিতে এলেন! দিন তবে! বুঝুন মালিকে আর ম্যানেজারে, আমি আপনার খাবারটার ব্যবস্থা করিগে।’

    হ্যাঁ দেবুকে চন্দ্রভূষণের ‘পেয়ারের বোষ্টুমী’ দেবব্রত বাবুই বলে। কোনোদিন তাকায়নি চোখাচোখি, কোনদিন খুলে ফেলেনি রহস্যের আবরণ।

    অবশ্য দেবুও ছিল দ্বিধায়। দেবুও প্রথমে চন্দ্রভূষণকে পাগল বলেছিল।

    প্রথম সেই দিনটার সব কিছু স্পষ্ট মনে আছে দেবুর। তখন সন্ধ্যা। অকালবার্দ্ধক্যে জীর্ণ, আর সারাদিন দোকান চালানোর ক্লান্ত দেহটা নিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে উপরের এই ঘরটায় উঠছিল দেবু আর ভাবছিল, আজ আর রান্নাবান্না নয়, স্রেফ চায়ের সঙ্গে দু’খানা পাঁউরুটি খেয়ে শুয়ে পড়া, ব্যস।

    হঠাৎ দেখল দোকানের সামনে একটা ট্যাক্সি এসে দাঁড়ালো।

    ফিরে তাকালো, আর সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রভূষণের ডাক শুনতে পেল, ‘দেবু!’

    আর কিছু নয়, শুধু ‘দেবু!’

    তাও যেন গলাটা কাঁপা কাঁপা।

    দেবু তাড়াতাড়ি নেমে এল আধাপথ থেকে, আর এসে থতমত খেল, গাড়ীর মধ্যে আবার বসে কে! এখানেই বা এল কেন!

    দিন দুইয়ের জন্যে বাইরে যাচ্ছে চন্দ্রভূষণ, এই সে জানে। কাউকে আনতে যাচ্ছে এমন কথা তো শোনেনি, আর আনলে বাড়িতে না এনে—

    ওঃ বোধহয় দেবুকে কিছু নির্দেশ দিতে ষ্টেশন থেকে সোজা এখানে এসেছে, ফিরে যাবে।

    দেবু তাড়াতাড়ি নেমে এসেছিল।

    বলেছিল, ‘ষ্টেশনে তোমার গাড়ী যায়নি?’

    ‘নাঃ গাড়ী আর কি করে যাবে? আমি তো নিজেই চালাই। সে যাক, দেবু তোকে আজ দোকানেই শুতে হবে।’

    দেবু মনে মনে হোঁচট খেয়েছিল।

    তবে তো যা ভাবা যাচ্ছে তা নয়?

    ব্যাপার কি?

    সবটাই যে অন্ধকার!

    চন্দ্রভূষণ তাকে আলোয় আনেন নি।

    শুধু বলেছিলেন, ‘এক কাজ কর, ঘরের চাবিটা খুলে আলোটা জ্বালাগে যা। পরে বলছি।’

    সাধারণ কথা, তুচ্ছ কথা, তবু যেন মনে হয়েছিল ভয়ঙ্কর উত্তেজিত চন্দ্রভূষণ। গলার স্বরে সেই উত্তেজনার কম্পন।

    দেবু আবার ফিরে দাঁড়িয়েছিল, আর তখনই কানে এল তার, ‘আমায় তো স্রেফ উড়িয়ে দিচ্ছ, এবার দেবুর চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে?’ গলায় সেই উত্তেজনা।

    দেবু সিঁড়িতে হোঁচট খাবে তাতে আর আশ্চর্য্য কি!

    গেরুয়াপরা, কপালে তিলক, গলায় কণ্ঠি, ওই মেয়েছেলেটার সঙ্গে দেবুর আবার কিসের যোগসূত্র?

    ঘরের চাবি খুলে আর আলো জ্বেলেও আর এক অন্ধকারের মধ্যে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল দেবু।

    তারপর ওরা উঠে এল। চন্দ্রভূষণ তাঁর সঙ্গিনীকে ঘর দেখিয়ে দিলেন, স্নানের ঘর দেখিয়ে দিলেন। তারপর দেবুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘একে কখনো কোথাও দেখেছিস দেবু?’

    দেবু তাকিয়ে দেখল, দেখল বৈষ্ণবীর মুখে রহস্যের চাপা হাসি, দেবু যেন একটা অথই জলের মধ্যে পড়লো, হারিয়ে গেল। আচ্ছন্নের মত আস্তে মাথা নাড়লো।

    চন্দ্রভূষণ বললেন, ‘আচ্ছা মনে পড়বে, আগে ওর ওই কিম্ভূত কিমাকার সাজটা বদলাক। …কই যাও, হাত মুখ ধোও গে।’

    বৈষ্ণবী নিজের পুঁটুলি থেকে একখানা গামছা বার করে নিয়ে স্নানের ঘর নামে অভিহিত পায়রার খাঁচাটুকুর মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    দেবু এবার মুখ খুললো, বললো, ‘ব্যাপার কি চানু?’

    ‘ব্যাপার?’ চন্দ্রভূষণের মুখে রহস্যের হাসি, ‘কেন তুই কিছু বুঝতে পারছিস না?’

    ‘না তো!’

    ‘দেখিসনি কখনো একে আগে?’

    ‘কি জানি, বুঝতে পারছি না তো!’

    ‘রাজশাহীর কথা একেবারে ভুলে গেছিস?’

    ‘রাজশাহী!’

    ‘হ্যাঁ রাজশাহী। রাজশাহীতে চম্পা বলে একটা মেয়ে থাকতো না? যাকে তুই—’

    দেবু হঠাৎ প্রতিবাদ করে ওঠে, ‘ও সে? না না, কি যে বলিস! অসম্ভব!’

    চন্দ্রভূষণ জেরায় নামেন, ‘কেন অসম্ভব কিসে?’

    ‘অসম্ভব বলেই অসম্ভব!’

    ‘ওটা একটা যুক্তিই নয়। অসম্ভবটা কিসে সেটা বোঝাতে হবে!’

    ‘বাঃ চম্পা এভাবে—এই সাজে—’

    ‘তা চম্পার এতদিনের জীবনযাত্রার ইতিহাস তুমি অবশ্যই জানো না। কাজেই এই ভাব অথবা এই সাজটা হতে পারে না ভাবছো কেন?’

    ‘কিন্তু চেহারা—একেবারেই তো—’

    ‘চেহারা তাই আছে! শুধু বয়সের পরিবর্তনে যা পরিবর্তন। তুমিও তখন যেমনটি দেখতে ছিলে তেমনটি নেই।’

    এ যুক্তিকে অবশ্য অস্বীকার করতে পারে না দেবু। তবু অনমনীয়তাই থাকে। বলে, ‘চম্পা অনেক ফর্সা ছিল। এ তো কালো।’

    ‘ওর ওপর দিয়ে যা ঝড়ঝাপটা বয়ে গেছে এযাবৎ, সেটা হিসেব করে রঙের হিসেব করিস।’

    ‘তা পেলে কোথায় ওকে?’

    ‘রেলগাড়িতে! দেখলাম, চিনলাম, হিড় হিড় করে টেনে আনলাম, আবার কি?’ বলে একটি আত্মপ্রসাদের হাসি হাসেন চন্দ্রভূষণ।

    ‘ও অমনি এক কথাতেই এল?’ দেবুর কণ্ঠে অসন্তোষ।

    ‘এ কথাতেই কি এল?’ চন্দ্রভূষণের কণ্ঠে সন্তোষ। ‘একশো কথা কইতে হয়েছে। তবে আমি নিশ্চিন্ত।’

    ‘আমি নিশ্চিন্ত হচ্ছি না বাবা,—’ দেবু বলে, ‘সত্যি চম্পা হলে কখনো আসতো না। এ কোন বাজে মেয়েছেলের হাতে পড়েছ তুমি!’

    ‘আঃ যা—তা কথা বলিস না দেবু!’

    দেবু আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু সেই সময় আলোচনার বিষয়বস্তু স্বয়ং রঙ্গমঞ্চে এসে আবির্ভূত হলেন।

    চন্দ্রভূষণ ইসারায় বললেন, ‘ভাল করে দেখ।’

    দেবু ইসারায় বললো, ‘দেখেছি।’

    ‘কি মনে হচ্ছে?’

    ‘বাজে ধাপ্পা! ঠকিয়েছে তোমায়!’

    ওই কথাই বলেছিল দেবু।

    ঠকাতে আসবার পরিস্থিতিটা কি, সেটা অনুধাবন করে দেখেনি। কোনদিনই না। সমানেই বলে এসেছে, ‘ঠকিয়েছে তোমায়।’

    চন্দ্রভূষণ অবিরত ওর সন্দেহভঞ্জন করতে চেষ্টা করেছেন, দেবু অবিরত সন্দেহ করেছে। তারপর চন্দ্রভূষণ বিরত থেকেছেন। বলেছেন, ‘ঠিক আছে, আমি ঠকবো, ব্যস!’

    কিন্তু দেবুরই বা দোষ কি?

    ও তো কোনোদিন খোলাচোখে তাকিয়ে বলে ওঠেনি, ‘যাই বল দেবুদা, তুমি দেখালে একখানা! এতদিন ধরে দেখেদেখেও চিনতে পারলে না?’

    সেই আত্মপ্রকাশের মধ্যেই হয়তো সমস্ত সন্দেহের নিরসন হতো। চম্পা তা করেনি। চম্পা সমানেই বলেছে, ‘দেবব্রতবাবু’, বলেছে ‘আপনি’। এখনও বলছে।

    তবু দেবুই যে ওই অপরিচিতাকে ঘাড়ে করতে বাধ্য হয়েছে, তা’তে আর সন্দেহ কি!

    দেবু দোকানে শোয়, এখানে খায়।

    চন্দ্রভূষণ অবশ্য প্রথমটা তাঁর কুড়িয়ে পাওয়া ঐশ্বর্যের জন্য ‘ভাল বাড়ী, ভাল বাড়ী’ করে অস্থির হয়েছিলেন। কিন্তু নিজেই সে আপত্তি করেছে। বলেছে, ‘কেন এই তো বেশ! ছোট মানুষ, ছোট ঘর, তা ছাড়া অন্যত্র গেলে আগলাবারও তো একটা লোক চাই। এ তবু দেবব্রতবাবু নীচের তলায় থাকছেন।…

    দেবব্রতবাবুর অসুবিধে?

    ছাড়ুন ও কথা।

    ‘ভারী একেবারে লাটসাহেব এসেছেন!’

    তাছাড়া ঘরের দখল নিলে তো আবার সেই রেঁধে খাওয়ার ভাবনা।’

    দেবুও বলেছে, ‘সত্যি কী এত তালেবর যে, দোকান ঘরের মধ্যে শুতে পারব না? পেছনে জানলা দরজা রয়েছে, উঠোনে কল চৌবাচ্চা রয়েছে। এ বরং দোকানে তালা দেওয়ার দায় থেকে বেঁচেছি।’

    বাঁচছে!

    তা সকলেই বেঁচেছে, বাঁচছে।

    দেবু বেঁচেছে রাঁধা—ভাত, কাচা—কাপড় পেয়ে। চন্দ্রভূষণ বেঁচেছেন মনের কথা কইবার লোক পেয়ে। আর আঘাটায় ঘুরে মরা চম্পা বেঁচেছে একটা বাঁধানো ঘাট পেয়ে।

    কিন্তু চম্পা নিজেকে প্রকাশ করেনি কোনদিন। নিজেকে ঘিরে পরিচয় অপরিচয়ের একটি রহস্যজাল রচনা করে এদের মধ্যেই রয়ে গেছে।

    তবু ক্রমশঃই যেন দেবুর সংশয় মোচন হচ্ছে।

    ও যখন বলে, ‘দেবব্রতবাবু, আপনার ভাত বাড়া হয়েছে—’

    তখন যেন একটা চেনা সুর ঝঙ্কার দিয়ে ওঠে।

    ও যখন বলে, ‘দেবব্রতবাবু, ধোবা আপনার কাপড় দিয়ে গেছে—’

    মনে হয় যেন ওই ‘বাবু’ শব্দটা কৌতুক আর ব্যঙ্গে মণ্ডিত হয়ে কানে এসে বিস্মৃত অতীতের একটা বন্ধ দরজা খুলে দিয়ে গেল।…

    তবু চন্দ্রভূষণ ইদানীং আর এ নিয়ে আলোচনা করেননি। যেন বাহুল্য বোধেই ত্যাগ করেছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article স্বর্গকেনা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }