Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্যদ্বীপ – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প73 Mins Read0
    ⤶

    অন্যদ্বীপ – ১০

    দশ

    কলাভাজা আর আমের রস আগেই এসেছিল, এবার চিংড়ির বিরিয়ানি হাজির হল। পরিমাণে প্রচুর। টেবিলে নানা রকমের সসের বাজার বসেছে যেন। চিনে সয়াসস, চিনে চিলিসস, মেক্সিকান টাবাস্কো সস, আমেরিকান টোমাটো কেচাপ, ইংলিশ মাস্টার্ড, ভিনিগার, নুন, মরিচ, কী নেই? পোলাওতেও প্রচুর মসলা। মাঝারি চিংড়ি মাছ ভাজায় ভরা হলুদ ভাত। তাতে লঙ্কাকুচি, পেঁয়াজকুচি, টোমাটো দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ে গেল, দক্ষিণ ফ্রান্সে কামার্গ অঞ্চলে খুব ক্যাস্টিলিয়ান রান্নার প্রভাব, সেখানে একটা বুনো ঘোড়া-ধরার র‌্যাঞ্চে গিয়ে একবার ভোজ খেয়েছিলুম—বিরাট বিরাট চ্যাপটা লোহার কড়াই এসেছিল চাকাওলা মস্ত ট্রলিতে চেপে, তাতে ছিল এমনি চিংড়িমাছ দেওয়া তেলতেলে হলুদ ভাতের রাশি, পাপরিকার লাল-সবুজ কুচি মেলানো। কিন্তু দুটোতে কত তফাত। দৃশ্যে, স্বাদে, মূল্যেও নিশ্চয়ই। সেই খাদ্যটার নাম ছিল ‘পায়েল্লা’। এও নিশ্চয় তাই।

    ‘জানো বাপি, কেম্ব্রিজে একটা ছোট্ট কন্টিনেন্টাল রেস্তোরাঁ ছিল। ছেলেবেলায় মাঝে মাঝে ওখানে লাঞ্চ করতে গিয়ে আমরা ঠিক এই পায়েল্লা পোলাওটা, আর সঙ্গে চিজ ছড়ানো ফ্রেঞ্চ আনিয়ন স্যুপ, তাতে ত্রুতোঁর কুড়মুড়ে কুচি ভাসানো, খেয়ে আসতুম। সস্তায় দারুণ সুখাদ্য! অথচ এখন কেম্ব্রিজে সেই দোকানটাই আর নেই!

    ‘ছাত্রাবস্থার এই দোকানগুলো সবই এভাবে মুছে যায়, তাই না নবনীতাদি? বেশ নিশ্চিন্ত গলায় বলে বাপি।

    এই সময় একটি বাদামি মেয়ে সঙ্গে একটি বছর দু-তিনের ছেলে আর একটি ক’মাসের শিশু নিয়ে ঢুকল। পাশের টেবিলেই এসে বসে চেঁচিয়ে কাকে যেন ডাক পাড়ল। চিনেটি এল। নির্বিকার মুখে অর্ডার নিয়ে গেল। একটু পরেই পাশের টেবিলে থরে থরে সুদৃশ্য খাবার এসে জড়ো হতে লাগল। ও বাবা, এই তো রোগা টোগা মতন মেয়েটা, এত খাবার খাবে? প্রথমে বোতলে জল ভরে সে প্র্যামে শোয়া শিশুর মুখে লাগিয়ে দিল। তারপর নিজের পাত থেকে খাদ্য তুলে তুলে পাশের শিশুকে খাওয়াতে লাগল। বার থেকে একটি বয়স্ক পুরুষ গেলাস হাতে উঠে এসে মেয়েটির টেবিলে বসে। দুজনে হাসিঠাট্টা করতে লাগল, ফাঁকে ফাঁকে মেয়ে নিজেও খাচ্ছে, ছেলেকেও খাওয়াচ্ছে। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতে গালে টোল ফেলে লাল-টিয়াপাখি-ঠোঁটে হাসল। এলো খোঁপাবাঁধা ঘাড়ের ওপরে, কালো লম্বা চুলের, পরনে বড় ঘের-ওলা কালোয় লালে ছাপা স্কর্ট, সবুজ ফুল ফুল যৌবনদর্পিত ব্লাউজ।

    ‘ভারী সুন্দরী না, ওই মেয়েটি?’

    ‘হ্যাঁ, পুয়ের্তোরিকান মেয়েরা বড় লাবণ্যময়ী। অনেকটা ”বাঙালি-বাঙালি” দেখতে হয়।’

    ‘আরে দ্যাখো, দ্যাখো, বাচ্চাটাকে কী সুন্দর নিজের পাত থেকে তুলে খাওয়াচ্ছে? ঠিক আমাদেরই মতন না? মেমসাহেবদের মতন নয়।

    ‘তাবলে আমাদের মতনও নয়।’ ওদের মেয়েদের জাতই আলাদা।

    ‘মেয়েদের আবার জাতিভেদ করো নাকি তোমরা?’

    ‘ভেদ নেই বুঝি? সব এক?’

    ‘কী জানি? থাকতেও পারে। তোমরাই বুঝবে।’

    ‘কেন পুরুষদের জাতিভেদ করো না তোমরা? বাঙালি পুরুষ আর পাঞ্জাবি পুরুষ, ফর এগজাম্পল? আফ্রিকান আর সুইড?’

    ‘তা বোধ হয় করি।’

    ‘তবে? এও তেমনি। বাপরে! যা মুশকিলে পড়েছিলুম একবার। অন্তত বাঙালি মা আর পুয়ের্তোরিকান মায়ের জাত যে কত আলাদা, তার প্রমাণ যথেষ্ট পেয়েছি জীবনে। শুনবে? কিছু মনে করবে না তো? একটু ইয়ে মতন ঘটনা কিন্তু! মানে—’

    ‘বলো বলো, শুনি। ইয়ে মতন আবার কি? আমরা তো এতদিন শুনেছি উলটোটাই—জগতের সব মায়েরা একজাত।’

    ‘ঘটনাটা বাবাকেও বলেছি। তাই তোমাকে বলতে আপত্তি নেই। তবে তুমি তো মেয়ে, যদি শক পাও?’

    ‘পেলে পাব। তুমি বলো। ওসব মেয়ে পুরুষ বাজে কথা, আমি তো অ্যাডাল্ট? এত শত ভাবনার কিছু নেই। বলবে তো একটা সত্য ঘটনাই।’

    ‘এই যে ডন পেদ্রোর শব-সংসর্গে আমি গেলুম না, এতে তুমি আমাকে খারাপ ভাবলে না?’

    ‘তা একটু ভেবেছিলুম অবিশ্যি, তারপর ভাবলুম হয়তো আমি এসে পড়ায় গেলে না সৌজন্যবশত।’

    ‘তুমি না এলেও যেতুম না। এমনিই একটি ছাত্রের ফিউনারালে গিয়ে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারপর থেকে আর যাই না। আমার কোলিগরাও জানে তাই জোর করে না।

    ঘটনার শুরু এই আজকের মতোই। গিলবের্তো এরনান্দেজ, বয়স উনিশ, সফোমর ক্লাসের ছাত্র, একদিন মরে গেল। স্ট্রিটফাইটিংয়ে। খবর পেয়ে গেলুম আন্ডারটেকারের আফিসে। একটা কিউবিকলে তার শব কফিনে রাখা আছে। ওর টার্ন আসবে। শবদেহের কিউ পড়েছে। ওয়েটিং লিস্টে আছে। ওর কিউবিকলে ঢুকে দেখি একলা একজন রূপসি মহিলা বসে আছেন কফিনের মাথার কাছে। নিবাত নিষ্কম্প। অন্যমনস্ক। চমকে উঠলুম। এত রূপ? সসংকোচে আমার পরিচয় জানাতেই মহিলা একগাল হেসে অভ্যর্থনা করলেন ‘আসুন। আসুন আমি গিলবের্তোর মা, লুডমিলা এরনান্দেজ। আমাকে মিলা বলেই ডাকবেন। আপনাকে দেখিনি বটে কিন্তু গিলবের্তোর কাছে আপনার গল্প অনেক শুনেছি।’ যেন এটা তাঁর বাড়ির বৈঠকখানা। মহিলা অত্যন্ত চার্মিং। এমন সহজ, উচ্ছলভাবে কথা বলছেন, যেন সামনে তাঁর পুত্রের মৃতদেহ নেই। কিন্তু আমি সহজ হতে পারছি না কিছুতেই। হুঁ-হুঁ করছি। গিলবের্তোর মা বললেন—’গিলবের্তো আমার শেষ ছেলে। অবশ্য শেষ সন্তান নয়। এখনও বাকি আছে ছোট মেয়ে কার্লা। সে থাকে পুয়ের্তোরিকোতে। আরও আছে অবশ্য একজন। মারিয়া। গিলবের্তোর এবছর উনিশ হয়েছিল।’

    ‘কার্লার বয়স কত?’

    ‘পনেরো। তার ঠিক ওপরে হল এদুয়ার্দো—তার সতেরো হত, থাকলে। সে গেছে গত বছরে।’ সহজ গলায় বললে গিলবের্তোর রূপবতী মা।

    ‘গেছে? কী হয়েছিল তার?’

    ‘কে জানে? গিলবের্তোর যা হয়েছিল, তাই! রাস্তায় খতম। আর যদি রোবের্তো বেঁচে থাকত, তার বয়স হত চব্বিশ, এই ডিসেম্বরে। সে গিয়েছে ভিয়েতনামে। হেসে হেসে সুন্দরী লুডমিলা বললেন—’সেই আমার প্রথম সন্তান, প্রথম পুত্রও। দেখে—শুনে আমি তো জিহ্বাহীন শ্রুতিসর্বস্ব জড়বস্তু হয়ে যাচ্ছি। উনি খুব সহজ। একি ভয়ংকর কাহিনি শুনছি? আর কে তার বক্তা? আর কী তার ভাষা? সুর? অথচ মহিলার এমন অসামান্য রূপযৌবন, এত প্রচণ্ড শোকের ধাক্কাতেও কিছুমাত্র নষ্ট হয়নি। দেখলে মনে হবে এই বড়জোর পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর বয়স। দিব্যি সহজ গলায় গল্প করছেন পুত্রসন্তানদের মৃত্যু কাহিনি। যেন কার-না-কার গল্প। ‘রোবের্তো আর গিলবের্তোর মধ্যে পাঁচ বছরের তফাত। তাদের মধ্যে আছে মারিয়া। ছোটবেলাতেই তাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম পুয়ের্তোরিকোতে। আমার মায়ের কাছে। ওখানেই ঘরসংসার করছে সে। মারিয়ার দুটি বাচ্চা। সুখী হয়েছে ও।’ এই রূপসি কন্যার আবার নাতিনাতনিও আছে? যা ব্বাবা! আমি তো থ।’—

    ‘ছোট মেয়ে র্কালা বুঝি আপনার কাছেই আছে?’

    ‘থাকত। এখন আছে স্বামীর কাছে।’

    ‘সে কী? পনেরো বললেন না? এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিলেন কী করে? বেআইনি তো। তা ছাড়া এত কম বয়সে বাচ্চা কাচ্চা হলে তো ভীষণ ঝামেলা। মহিলার সহজ স্বাভাবিকতা দেখে আমি হঠাৎ খুব সহজ স্বাভাবিক হয়ে গেছি। ভুলেই গিয়েছি যে স্থানটা ফিউনারাল হোম। কালটা পুত্রশোকের মুহূর্ত, আর পাত্রী সদ্য পুত্রহারা জননী।’

    মহিলা অদ্ভুত এক হাসি হাসলেন।

    ‘প্রেমের কি বয়স আছে? সে যে প্রেমে পড়েছিল।’

    ‘আপনি বাধা দিলেন না?’

    ‘বাধা দিয়ে কী লাভ হত? বাচ্চা হচ্ছে যখন, তখন বিয়েটা সেরে ফেলাই মঙ্গল নয় কি?’

    ‘বাচ্চা হচ্ছে!’

    ‘আমার প্রেমিকটি খুবই সৎ, দেবতুল্য বলতে হবে। কার্লার মা হবার সম্ভাবনা জানতে পেরে নিজেই চার্চে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে আমার কার্লাকে। আমাকে কিছুই বলতে হয়নি।’

    ‘কার প্রেমিক বললেন?’

    ‘আমার। আমার প্রেমিক। এখন সে অবশ্য আমার জামাই।’ গলার স্বর একটা ফাঁপা প্রতিধ্বনির মতো শোনাল। এক্ষুনি যেন একটা দীর্ঘ টানেলের মধ্য দিয়ে ট্রেন চলে গেছে। তার গুমগুম শব্দ ভেসে আছে বুকের মধ্যে। ভদ্রমহিলা হঠাৎ বিদ্যুতের মতো আমার গলা জড়িয়ে ধরে কোলে এসে বসলেন। গলার স্বরে জ্যামজেলি ঝালমিষ্টি আমের আচার মাখিয়ে বললেন,—’আচ্ছা, তুমিই বলো তো প্রফ, আমি কি সুন্দরী নই? দ্যাখো তো আমার দিকে তাকিয়ে, আমি কি যথেষ্ঠ সুন্দর নই? ভালো করে দ্যাখো তো প্রফেসর’—বলতে বলতে নিজের গা থেকে জামাটা খুলে ফেললেন—আমার হাতটা ধরে নিজের দেহে রাখলেন লুডমিলা। আমি কী যে করি? ওঁকে তো কোল থেকে ঠেলে ফেলে দিতে পারি না? সামনে শুয়ে আছে কফিনের বিছানায় মৃত গিলবের্তো। তাড়াতাড়ি বললুম,—’আপনি খুবই সুন্দর, ম্যাডাম, কিন্তু আমরা এখানে একা নই। প্লিজ গেট ড্রেসড। আই বেগ ইউ।’—’কেন? গিলবের্তোর কথা বলছ? গিলবের্তো এতে কিছু মনে করবে না। সে খুশিই হবে। প্লিজ, এসো না, আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি? প্লিজ, প্রফ, লেটস মেক লাভ? শ্যাল উই?’

    ‘আমাকে মাপ করুণ মিসেস এরনান্দেজ, এটা যে একটা পাবলিক প্লেস!’

    ‘কল মি লুডমিলা।’

    ‘ইয়েস, লুডমিলা। প্রেমের উপযুক্ত আব্রু নেই যে এখানে। প্রত্যেক কামরায় মানুষ শব আগলে জেগে রয়েছে—ধরুন কেউ যদি একটা দেশলাই চাইতে এল—কিংবা যদি টার্ন হলে আনডারটেকারই এসে পড়েন?’ কিন্তু কাকে বলছি? ইতিমধ্যে মহিলা দক্ষ হাতে আমরাই বস্ত্রহরণ শুরু করেছেন। অগত্যা আমি মরিয়া, ওঁকে ঠেলে নামিয়ে জোর করে উঠে পড়ে ফ্লাই বন্ধ করি। কাতর হয়ে বলতে থাকি’ ‘শুনুন, লুডমিলা, আমি নিশ্চয়ই যাব, কালই যাব আপনার কাছে, বাড়িতে অতি অবশ্যই যাব আমি—আপনি পরমাসুন্দরী, বিশ্বাস করুন, আপনার রূপে দৈব বিভা আছে, মানুষকে পলকহারা করে দেয়, প্লিজ, প্লিজ বিশ্বাস করুন’-ব্যাকুল হাতে আমার বোতাম আঁটছি আর আকুলস্বরে বলছি—’আপনার প্রেমিক হতে পারলে আমি কৃতার্থ বোধ করব, আমি ধন্য হয়ে যাব—এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি না—কিন্তু আজ নয়, এখানে নয়। লুডমিলা শুনুন এখানে আমি সত্যিই পারব না। আর শুনুন, যে-লোক আপনার মতো সুন্দরীকে পরিত্যাগ করে যেতে পারে সে মানুষ নয়। তার কথা ছেড়ে দিন, সে উন্মাদ পাগল, সে সুস্থ নয়।’

    লুডমিলা স্থির হয়ে আমার দিকে চেয়ে আছেন। আবার আমার হাতটা চেপে ধরলেন। আমি হঠাৎ ভয় পেয়ে বলে উঠি—’না না আজ আর নয়, রাত ঢের হল, আমি বাড়ি যাব এখন, আবার কাল আসব, এখন ছেড়ে দিন। বাড়িতে আমার বাবা মা অপেক্ষা করছেন।’

    হাত ছেড়ে দিয়ে লুডমিলা হঠাৎ উপুড় হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়লেন। প্রচণ্ড জোরে মেঝেতে মাথা ঠুকতে ঠুকতে চেঁচিয়ে কেঁদে উঠলেন—’অপেক্ষা তো আমিও করছি, এল কোথায় তারা? রোবের্তো কি ফিরল? আমার বীর রোবের্তো? এদুয়ার্দো —কি ফিরল? আমার ছোট্ট কোলের ছেলেটা? গিলবের্তো ফিরল, আমার খ্যাপা রাগি ছেলে? অপেক্ষা কি আমিও করিনি? আর কত অপেক্ষা করব? হে যীশু, হে মেরিমা, আর কত অপেক্ষা করব আমি?—বলো, বলো—বলো আমাকে—’

    কী করে যে সেই রাতটা কাটিয়েছিলুম না নবনীতাদি—ওই হিস্টিরিয়া রোগীকে ফেলেও তো চলে আসা যায় না?—সে যে কেমন রাত? আমি এর পরের কথা আর তোমাকে কিছু বলতে পারব না। তুমি লেখক, তুমি মানুষের ভিতরটা জানো, তুমি আপনি বুঝে নাও।’

    বাপি চুপ করে গেল।

    কেউ কোনও কথা না বলে খাবারের দাম চুকিয়ে বেরিয়ে এলুম। মেয়েটিও উঠে বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে আসছে, সঙ্গে বারের সেই লম্বা প্রৌঢ় লোকটিও।

    ‘প্রস্টিট্যুট।’ চাপা গলায় বাপির এই কথাটা না জানলেও চলত। রাস্তায় বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গেই কীভাবে যেন মেয়েটি পালটে গেছে।

    আকাশে সন্ধ্যা লেগেছে। ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হঠাৎ চারিদিকে তাকিয়ে, গায়ে শিরশির করে কাঁটা দিল। কেঁপে উঠছি দেখে বাপি তাড়াতাড়ি বললে, ‘আমার জ্যাকেটটা দিচ্ছি, গায়ে ঢাকা দিয়ে নাও।’

    আমি আপত্তি করি।—’শীতে নয় বাপি, শীত করছে না। গায়ে হঠাৎ, কাঁটা দিল দেখছি। কে জানে কেন?’

    এ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি? অতিকায় কোন লৌহপিঞ্জরের মধ্যে? বিপুল, দীর্ঘ লোহার থামের অরণ্য আমার চারিদিকে, মাথার ওপরে রডের দাঁড়ি টানা টানা ছাদ—পায়ের তলায় ছ’লেনের বড় রাস্তা। হেডলাইট জ্বেলে চোখ ধাঁধিয়ে দিয়ে সাঁ সাঁ করে ছুটে যাচ্ছে নৌকোর মতন গড়নের সব মার্কিন গাড়ি। দূরে চেনা যাচ্ছে ম্যানহাটানের দাম্ভিক আকাশস্পর্শী আলো। নদীর ওপারে আবছা ব্রুকলিন ব্রিজ। নদীতে অনেক স্টিমার, তাদের আলো, আশেপাশে ম্লান জীর্ণ ঘরবাড়ি, নির্জীব নিয়নবাতি আর ম্রিয়মাণ মুহ্যমান, মলিন মানুষের ক্লান্ত হাঁটাচলা। যান্ত্রিক পায়ে দুজনে স্টেশনের দিকে চলেছি। বাপি নিস্তব্ধ। আমি কিছু বলতে চাইলুম—একটা দোকানের মাথায় জ্বলছে তীব্র বেগুনি সবুজ নিওন বাতিতে ‘বারিকুয়া’—মানে পুয়ের্তোরিকো—মানে ধনের বন্দর—স্বর্ণবন্দর বারিকুয়া—’বাপি, শোনো,’ আমি বলতে শুরু করলুম। ঠিক তক্ষুনি মাথার ওপর দিয়ে বাজ পড়ার মতো শব্দ করে একটা দীর্ঘ ট্রেন ছুটে যেতে লাগল অন্তহীন কাল ধরে।—আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে তার ধ্বনিপ্রতিধ্বনি নিজের ফুসফুসের বাতাসে ডুবিয়ে দিতে চেষ্টা করে কিন্তু বলে উঠি—’যদি তোমাদের কলেজে সত্যিই চাকরি খালি থাকে—’, আমার মুখের কথাগুলো বাপির কাছে গিয়ে পৌঁছোল না। অনেকক্ষণ ধরে বাতাসের সঙ্গে প্রবল যান্ত্রিক কলহ আমার পলকা কথাগুলোকে ঘর্ষমাণ চাকার তলায় চাপা দিতে দিতে ছেৎরে-মেৎরে রক্তাক্ত করে ছিটিয়ে ফেলে দিল, সেই আধো অন্ধকারে, সেই ঝুরো বৃষ্টির সন্ধ্যায়, স্বর্ণবন্দরের সেই দ্বীপান্তরী দারিদ্র্যের নিরাকার বে-আব্রুর মধ্যে।

    প্রথম সংস্করণ—অক্টোবর ১৯৮৩

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিতলি – নবনীতা দেবসেন
    Next Article রামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }