Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্যদ্বীপ – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প73 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্যদ্বীপ – ৮

    আট

    ট্রেতে তিন কাপ কফি, আর এক প্লেট কুকি নিয়ে ঘরে এল গীতা, ওলগীতা। ছোট ছোট কাপে চমৎকার কালো কফি, টার্কিশ কফির ধরনের। শুনেছি কফি জিনিসটা নাকি এশিয়া থেকেই টার্কি, গ্রিস, স্পেন হয়ে ইউরোপীয় সভ্যতায় ঠাঁই করে নিয়েছিল। এখন তো ব্রেজিলেই তার সব চেয়ে বোলবোলাও। কফি দেখে সকলের মেজাজ শরীফ হয়ে গেল। ‘হুয়ান? হুয়ানের কফি কই?’ পাবলো চেঁচায়, ‘গীতা!’ ‘হুয়ান তো এক্ষুনি চা খাচ্ছিল। আবার এক্ষুনি কফি কি খাবে?’ গীতার ধমক আসে বাইরে থেকে চেঁচিয়ে। একে তো এমন চেঁচামেচি অ্যাংলোস্যাক্সন সভ্যতায় মোটে মানানসই নয়। তায় এর যে দেখি বাঙালি দিদির মতন স্বাস্থ্যচিন্তা, স্নেহের শাসন! অবাক হয়ে যাই। না: এদের সংস্কৃতির ধাঁচাই আলদা। অ্যাংলোস্যাক্সন সমাজের মূল্যবোধ একেবারে অন্য। ঢের বেশি আড়ো-আড়ো ছাড়ো-ছাড়ো। নাগরিক বিচ্ছিন্নতাবোধের চিহ্ন তাতে। এটা যেন পল্লিসমাজ। লতায়-পাতায় পরিবারতুল্য একটা উষ্ণ গ্রাম্য যোগাযোগ। আবেগ ভরে প্রশ্ন করে বসি, ‘তোমাদের এখানে পারিবারিক বন্ধন খুব গভীর হয়, না?’

    ঠোঁট উলটে কোরাসে উত্তর দেয় পাবলো আর মির্না—’কোথায় গভীর? প্রচণ্ড বিচ্ছিন্নতাবোধে না ভুগলে কখনও এত অপরাধপ্রবণতা আসে?—’

    ‘তবে হ্যাঁ, সুস্থ অবস্থায় স্বভূমিতে লাতিন আমেরিকান সমাজে পারিবারিক গ্রন্থি সত্যি সুদৃঢ়—’

    ‘কিন্তু এই শহরে তো আমাদের সমাজটা সুস্থ নয়, এতে আমাদের যথার্থ প্রতিচ্ছবি পাবে না। এখানে যত গরিব, অসার্থক ব্যর্থ বাপেদেরকে ছেলেরা মোটে মানুষ বলেই মনে করে না। তারা ‘অক্ষম পুরুষ। নামকা-ওয়েস্তা-বাবা। তাদের প্রতি যুবক পুত্রদের অসীম ঘৃণা।’

    ‘কেউ কেউ বুড়ো বাবাদের তবু একটু ক্ষ্যামা-ঘেন্না করুণা-টরুণা করে, আর কারুর দেখি কেবলই রাগ, প্রচণ্ড বিদ্বেষ—বাপের ওপরে।’—’বাপের ব্যর্থতার জন্যই ছেলেরও জীবনটা নষ্ট—এমন একটা ধারণায় ভোগে এসব ছেলেরা। বেশিরভাগ ক্রাইম, ভায়োলেন্সের মূলেও ওই জন্মগত ক্ষোভ।’

    ‘আরে বাবা, বাপের ওপর চটবে কী, বাপ থাকলে তো? কোনও বাবাই থাকে না আদ্ধেক পরিবারের! মেয়েরা এ সমাজে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তার শিকার। কি মানসিক, কি অর্থনৈতিক, শান্তি বলে, স্বস্তি বলে কিছুই থাকে না তাদের । পুরুষ অভিভাবকরা স্ত্রীদের প্রায়ই শিশুসমেত পরিত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ব্ল্যাকদের মধ্যে অবশ্য এই সমস্যা বোধহয় আরও প্রবল। এই কারণেও পিতাদের ওপর দায়িত্বহীনতার জন্য কিশোর ছেলেদের প্রচণ্ড রাগ।’ মির্নার গলায় রাগ ঝলসে ওঠে—’অথচ বড় হয়ে তারাই আবার প্রেমিকাদের, শিশুদের ত্যাগ করে পালায়। সেই পিতৃপদাঙ্কই আবার অনুসরণ করে। যে কাজকে ঘৃণা করেছে, ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি করে। এদিকে আমাদের তো ধর্মে ডির্ভোসও হয় না। এখানে সবাই ধর্মভীরু ক্যাথলিক তো।’

    ‘বড় জটিল, বড় করুণ, আমাদের এই নবীন বোরিকুয়া, বোনিটা। বড় দুর্ভাগা। পাবলোকে দু:খী দেখায়।

    দু-এক মুহূর্তের স্তবদ্ধতা যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে বুকে চেপে বসে। এত কলকল করে একসঙ্গে কথা বলে এরা সবাই। হঠাৎ থামলেই মনে হয় যেন নায়াগ্রাপ্রপাত থমকে দাঁড়িয়েছে। গমগম করে ওঠে নৈ:শব্দ্য। সেই স্তব্ধতা ভাঙতেই বোধহয় হালকা সুরে কথা বলে ওঠে মির্না।

    ‘কফি যখন তুমি খাচ্ছ না, কবিতা তো শোনাও একটা? হুয়ান? তোমার লেখা একটা কবিতা পড়ো না, বোনিটার জন্যে।’

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ কবিতা পড়া হোক।’ পাবলো এক মিনিটেই আবার খোশমেজাজ। —দারুণ বলেছো মির্না। বোনিটা তোমার কোনো কবিতা আছে নাকি সঙ্গে? ওই বিশাল থলিতে?’

    ‘আমি তো লিখি বাংলায়। সেও আবার সঙ্গে নেই। বাক্সসুদ্ধু হারিয়ে গেছে লনডনে। হুয়ানই পড়ুক।’

    ‘আমিও তো লিখি স্প্যানিশে। তুমি বুঝবে না।’ হুয়ান বলে সলজ্জভাবে।

    ‘হুয়ান, একটি কবিতা শোনাও দিখি বোনিটাকে!’ পাবলো মিলিটারি সুরে হুকুম করে। ‘তোমার সেই বরিনকুয়েন’ কবিতাটা? ঠিক বুঝবে।’

    ‘একটু একটু অন্তত বুঝব, ফ্রেঞ্চ তো বুঝি, তাই।’

    ‘সঙ্গে তো নেই এখন।’

    ‘একটাও নেই।’

    ‘দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এসো না, বাড়ি থেকে? এই তো রাড়ি। যাবে, আর আসবে।’

    ‘তা চেয়ে তুমিই শোনাও না মির্না, তোমার নাটকটা? এখানেই আছে তো’ হুয়ান মির্নার দিকে চেয়ে বলে। ‘জানো মির্না দারুণ একটা নাটক লিখেছে, সেটা পাড়ার সাহিত্যসভায় পড়া হবে আটাশে। পথে-পথে পোস্টার পড়েছে। দেখতে পাওনি?’

    ‘তুমি নাটক লেখো? মির্না? আর এতক্ষণ আমাকে বলোনি?’ শ্যামলা গাল দুটো টুকটুকে হয়ে যায়—মির্না আপত্তি করে—

    ‘কই? ওই তো মাত্র একটাই লিখেছি। পুয়ের্তোরিকো আর স্ত্রী স্বাধীনতা এই দুটো কমন বিষয় নিয়ে। ওটা কিছু হয়নি। নাটকই হয়নি ওটা। কেবল পড়বার জন্যে।প্লে রিডিংয়ের জন্য।’

    ‘দাঁড়াও বোনিটা, পোস্টারটা তোমায় দেখাচ্ছি।’ পাবলো ছুটে বেরিয়ে যায়, কোথায় কে জানে, নিশ্চয় পোস্টার আনতে। আচ্ছা পাগলের পাল্লায় পড়েছি বাবা। লেকচার শুনতে-শুনতে কান-প্রাণ গেল। কফি ঠিক শেষ হয়েছে, এমন সময়ে আর একটি বাদামি রঙের ছেলে ঢুকল। কাঁধে বিরাট চামড়ার কিটব্যাগ। রুক্ষ মাথার চারপাশে সেই ফ্যাশানেবল সাঁইস্টাইল জ্যোতির্বলয়। ঠিক পাবলোর যেমন। মুখভরা ভারিক্কি দাড়িগোঁফ। মোটা কাচের ভারী ফ্রেমের চশমার তলার ঝকঝকে চোখ দুটি স্বতন্ত্র। দৃষ্টিতে সততা চেনা যায়। মুখখানি কচি, টুলটুল করছে। পরনে জিনস, আর জিনসের জ্যাকেট।

    ‘বা:। এই যে সেনগুপ্ত, এসে গেছ? এই দ্যাখো, তোমার জন্য আমরা কী সংবর্ধনা প্রস্তুত করে রেখেছি। আ পোয়েট ফ্রম ইয়োর হোমল্যান্ড।’ মির্না উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

    কিন্তু আশ্চর্য কাণ্ড—নি:শব্দেও মির্নার কথার কোনও উত্তর না দিয়ে একদৃষ্টিতে চেয়েই থাকে ছেলেটা আমার দিকে। খুবই অস্বস্তি হয়। এ কি রে বাবা? আমি কি মেরিলিন মনরো নাকি? না চার্লি চ্যাপলিন? তারপর একটি নাটকীয় সংলাপ শুনতে পাই—’অরে:, তুমি নবনীতাদি না? গুড গ্রেশাস। এখানে কী করে এলে? কে তোমাকে আনল?’

    হায় হোরেশিও, কত কিছু আছে দ্যুলোক ভূলোকে, তুমি কী জানো? এবারে উত্তর না দিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে থাকার পালা আমার। হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠি, ‘মীরাদির ছেলে? বাপি না? চুলটা কী করেছে?’ তারপরেই নাটিকা ঘনতর। আহ্লাদের চোটে লাফিয়ে উঠে জাপটেই ধরেছি ছেলেটাকে।—টুটুলকে কিছুতেই ফোনে পাচ্ছি না। ওরা সব কেমন আছে রে? জোনাকি কোথায়? তুই কদ্দিন পড়াচ্ছিস?’

    ‘ভালো। সবাই ভালো। খুব ভালো। টুটুলরা দেশে গেছে, জোনাকি এখনও পরীক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু তুমি কী করে আমার কলেজে এলে নবনীতাদি?’ বজ্র আলিঙ্গন মুক্ত হতে-হতে বাপি উত্তর দেয়,—’উ: কী ভয়ানক সারপ্রাইজ। কী আনন্দই যে হচ্ছে তোমাকে দেখে! সিক্সটিনাইনে শেষ দেখা!’

    ইতিমধ্যে পাবলো ঘরে ফিরছে, হাতে এক বান্ডিল গোটানো কাগজ। আমাদের অপরূপ মিলন দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ায়। চমৎকৃত হয়ে বলে ওঠে—’হোয়াট! আর ইউ স্টিলিং মাই লাভলি ফ্রেন্ড? সেনগুপ্ত? দিস ইজ নট ফেয়ার।’

    ‘আমরা যে অনেক পুরোনো বন্ধু, পাবলো। উই আর কাজিন্স ইন ফ্যাকট, মিটিং আফটার আ ডেকেড!’

    ‘রিয়্যালি? ইজ ইট সো? কুড ইট বি ট্রু নোবোনীটা? হোয়াট আ স্মল ওয়ার্লড ইট ইজ! ওয়েল, লাইফ ইজ ফুল অব সারপ্রাইজেস, ডিয়ার সেনগুপ্ত! বাট থ্যাংক মি ফর দ্য রি-ইউনিয়ন।’ ‘অফকোর্স পাবলো। আর নট ইউ আ মিরাক্লওয়ার্কার?’ এরপর প্রবল বাংলা ভাষায় চলল আমাদের কুশল বিনিময়। দশ বছরের জমে থাকা সব গসিপ তো দশ মিনিটে চালাচালি করে নিতে হবে! কলকাতা—দিল্লি—লন্ডন—নিউইয়র্ক—আত্মীয় বন্ধুর সমাজটা তো আর খুব ছোটও নেই! ইতিমধ্যে পাবলো আমার চোখের সামনে বিশাল এক পোস্টার মেলে ধরল। (বোধহয় বাপির দিক থেকে আমার মনটা ওর দিকে সরিয়ে নেবার অসদুদ্দেশ্যও খানিকটা কাজ করছিল তাতে!) নীল-খয়েরি-সাদা-কালোয় ছাপা হলেও পোস্টারটি শিল্প হিসেবে বিশেষ-নজরকাড়ানি নয়। ইংরাজি ও স্প্যানিশ দুই ভাষায় তাতে বড় বড় হরফে লেখা আছে!

    ‘এরিনা পুয়ের্তোরিকো জিম প্রেজেন্টস-ইন বারিনকুয়োন প্লাজা।’ তারপর সারিবন্দি কুস্তিগিরদের ফোটোগ্রাফ ছাপানো এবং গোটা চারেক ভবিষ্যৎ কুস্তি প্রদর্শনীর সময়সূচী। দ্রষ্টব্য এই, যে সবই প্রদর্শনী খেলা, ফ্রেনডলি ম্যাচ—প্রতিযোগিতা নয়। এই অমানুষিক প্রতিযোগিতার রাজ্যে, প্রতিযোগিতার যুগে, একটা খেলা হচ্ছে যেটা বন্ধুত্বমূলক। হারজিতের বাজি ধরে নয়, কমার্শিয়াল নয়—এটা মার্কিন দেশে অবিশ্বাস্য। সব খেলাতেই পয়সা। সব খেলাতেই বাজি ধরা। সব খেলাই জুয়োখেলা। কিন্তু এগুলো সবই যে ফ্রেনডলি ম্যাচ’ ইংরিজি আর ইস্পানির সংযোগে এটুকু বেশ বোঝা গেল। এরই একটি ফোটোতে খালি-গায়ে, শর্টসপরিহিত সহাস্য তরুণ কবি হুয়ান কার্লোসকে দেখা যাচ্ছে। রেসলিং চ্যাম্পিয়ন-কাম-কবি জীবনে সত্যিই এই প্রথম দেখছি। আবার শুনছি লেখাপড়াতেও ভালো! তায় আমাকে বলেছে ‘বোনিটা!’ অলরাউনডার আর কাকে বলে? আমি তো মুগ্ধ বিমোহিত। ছাত্রের মতন ছাত্তর বটে! ওটা গুটিয়ে এবারে অন্যটি খুলে দেখাল পাবলো। এটা অনেক ছোট্ট, শুধু সাদা কালোয় করা শিল্পসম্মত পোস্টার। পুরোনো ফোটোগ্রাফের ঢঙে একটি মেয়ের ছায়াকালো সিলুয়েৎ মুখ আঁকা, আর ইংরেজিতে লেখা—’দ্য লাতিনো প্লেরাইটস—দ্য মিউজিক অ্যান্ড পোয়েট্রি অফ পুয়ের্তোরিকো, ফ্রম কোলোরেস—টু—ন্যুয়র্ক’—নীচে পাঁচটি মেয়ের নাম, তিনটি ইস্পানি, দুটি অ্যাংলো স্যাকসন। নাটক পাঠ, কবিতা পাঠ, গান, একদিন গল্প পাঠও আছে পাঁচ দিনের সান্ধ্য প্রাোগ্রামে। দুটি নাটকের নাম স্প্যানিশে, তিনটির নাম ইংরিজিতে লেখা। মির্নার নামও দেখলুম আছে, স্প্যানিশ নাটকের লেখক হিসাবে। সবাই এ পোস্টার পড়বে না। বেশ বোঝা যাচ্ছে এটা শিক্ষিত দর্শকদের জন্য। আমি লোভে লোভে বলেই ফেলি—’পোস্টারগুলো আমায় দেবে? আমি পোস্টার জমাই।’ পাবলো আর বাপি সমস্বরে বলে ওঠে—’কত চাই? কটা নেবে? কমনরুমে চলো। দেয়ালভরতি শুধু পোস্টার!’ হুয়ান সবিনয়ে সতর্ক করে দেয়—’তারিখটা পার না-হলে কিন্তু ছিঁড়ো না, ছাত্ররা দেখলে গণ্ডগোল করবে। দেখেশুনে নিও।’

    পাবলো অধৈর্য প্রকৃতির শিল্পী মানুষ,

    ‘দূর দূর, অতগুলো আছে, দু-চারটের ডেট না পেরুলেই বা কী? চলো, চলো, ওপরে চলো—কিছু খাবে? দুধ, ফলের রস, সসেজ, বোলোনা, রোস্ট চিকেন, চিজ রুটি, মধু, মাখন—’

    ‘সব ফ্রি, সব ফ্রি! পয়সা লাগে না। এমন আদর্শ কলেজ জীবনে দেখেছ, নবনীতাদি?’ প্রবল উৎসাহে বাপি পাবলোর মুখের কথা শেষ ক’রে দেয়!—’ফ্রি খেয়ে-খেয়ে মোটা ভুঁড়িদার হয়ে গেলাম সবাই।’ আড়চোখে নিজের দিকে চেয়ে দেখে হাসি চাপে। কিন্তু আমার তো মনে মনে অন্যরকম ইচ্ছে—

    ‘পাবলো বলেছিল বাইরে ছোট দোকানে পুয়ের্তোরিকানদের দিশি-খাবার খাওয়াবে’—মনে করিয়ে দিতেই পাবলো হইহই করে ওঠে—’হ্যাঁ হ্যাঁ চলো তাই যাই মির্না, তুমিও চলো। মিটিংটা আজ ক্যানসেল করে দিই—পরশু শুক্রবারই হওয়া ভালো। আমরা সবাই মিলে বরং ওই ডমিনিকানদের দোকানে গিয়ে খেয়ে আসি। কী বলো?’

    ‘ডমিনিকান খাদ্য তো আর পুয়ের্তোরিকান খাদ্য হল না—’ মির্না আপত্তি করে।

    ‘যদি ডমিনিকানদের রান্নাও খুব ভালো।’

    ‘ভালো মানে? দা-রু-ণ! ডমিনিকানরা যা পাঁঠার মাংস রাঁধে না, উশশশ নবনীতাদি, একেবারে দেশের মতন! মশলাপাতি দিয়ে দিব্যি গরগরে করে—। আবার হলদে ভাত বলেও একটা জিনিস বানায়, একেবারে যেন পোলাও! বাপি বাংলায় জ্ঞান দেয়। পাবলো মনে করায়—’পরশু সবাই ফ্রি তো? চারটের সময়, এইখানে এই ঘরেই মিটিং। ডন পেদ্রোকে খবরটা দিয়ে দিতে হবে কেবল। সে তো কৈ এখনও এলই না।’ বাপি বলে—’হুয়ান, তোমার বাড়ির পাশেই থাকে না ডন পেদ্রো? পরশু আশা করি আসতে পারবে—ছাত্র প্রতিনিধি না থাকতে মিটিং করলে, নানান ঝামেলা। ইচ্ছে করলে ওরা গোলমাল বাধাতে পারবে পরে। হুয়ান—তুমি পেদ্রোকে বলবে এটা খুব জরুরি মিটিং নিশ্চয়ই যেন আসে। সিদ্ধান্তটা ছাত্র-শিক্ষক উভয় পক্ষে মিলেমিশেই নিতে হবে।’ বাপির কথার পিঠে পিঠেই দুষ্টু দুষ্টু হাসির সঙ্গে পাবলো বলে, ‘আর বোনিটাকে আমরা বলব নাকি’, ‘রেসিডেন্ট পোয়েট অন ক্যাম্পাস’ হয়ে এখানে থাকতে? এই মিটিংয়েই পাস করিয়ে নিই প্রস্তাবটা, কি বলো হুয়ান? সেও তো খুবই জরুরি সিদ্ধান্ত—’

    ‘দূর দূর! আসবেন কেন নবনীতাদি?’ বাপি বাগড়া দেয়—’উনি তো দেশেই পড়াচ্ছেন, টেনিয়র্ড পোস্ট—অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। উনি হঠাৎ ভালো চাকরিটা ছেড়ে কম মাইনেয় চলে আসবেন কেন? সমাজসেবিকা হতে?’

    ‘অ্যাঁ? তুমিও পড়াও? এতক্ষণ তো আমাদের কিছুই বলোনি? কী সর্বনেশে মেয়ে তুমি। অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডটা স্রেফ চেপে গেছ? আমরা দিব্যি চাল মারছি—এদিকে সবাই অ্যাসিস্টান্ট প্রফ কি ইনস্ট্রাকটর—একজনও কিন্তু অ্যাসোসিয়েট প্রফ নেই। তুমি কিছু বলছই না। এতক্ষণ আমি ভাবছি সরল ভারতীয় কবিকে বাগে পেয়ে জোর জ্ঞান দিচ্ছি। ছি ছি কী লজ্জা।—কী বিষয় তোমার?’

    ‘সত্যিই তো জ্ঞান দিচ্ছ। আমি কিছুই জানতুম না নিউইয়র্কের এই মিনি-পুয়ের্তোরিকোর বিষয়ে। একটা নতুন দেশ—বরিকুয়া’। ‘এখনই বা কী জানো?’ বাপি ফস করে বলে ফেলে। ‘কেবল তো কয়েকজন ছাত্র আর কয়েকজন মাস্টারকেই দেখেছ। এতে কিছুই জানা হয় না।’ ‘চলো, খেতে খেতেই জানতে পারবে।’ পাবলো বলে ‘থ্র ইওর স্টমাক—’

    বাইরের ‘হলে’ একটা গণ্ডগোল শোনা গেল এই সময়ে। হঠাৎ কয়েকটি ছেলে ব্যস্তসমস্ত হয়ে প্রায় দৌড়ে ঘরে ঢুকে গড়গড় করে স্প্যানিশে কী সব বলতে থাকে। উত্তেজিত তাদের কণ্ঠস্বর, উত্তেজিত চোখ মুখ, শরীর কাঁপছে—তাদের পেছু পেছু স্টেনোটাইপিস্ট মেয়ে দুটিও ডেস্ক ছেড়ে ছুটে এসেছে। ওদের বাক্য শেষ হতেই ঘরে একটা পরিপূর্ণ বিবর্ণ স্তব্ধতা নামল। একটাই তো মুহূর্ত। কিন্তু ভয়ংকর সেই নৈ:শব্দ্য।

    তারপর পাবলো স্প্যানিশে কথা শুরু করে ছেলেদের সঙ্গে। বাপিও। মির্নাও। গীতাও, লীনাও। সকলেই একসঙ্গে কথা বলতে থাকে। অন্য অন্য ঘর থেকেও ছুটে আসছে, রিনা, হুয়ানীতা, কার্লোসেরা সবাই—হুয়ান কার্লোস কেবল কথা বলে না। একটা চেয়ারে কেবল চুপ করে বসে পড়ে। বা: ইস্পানি ঐতিহ্য দেখছি এক্বেবারে বাঙালি ঐতিহ্যেরই সগোত্র। এরা সবাই বঙ্গসন্তান, কেন না প্রত্যেকে একসঙ্গে কথা বলে। কেউ কারুর কথা শোনে না। হুয়ান কার্লোসের কি শরীর খারাপ লাগছে? ও দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেলেছে। একটুও বুঝতে পারছি না—মনে হচ্ছে নিউইয়র্কে নেই, আমি পুয়ের্তোরিকোয় বসে আছি। ইস্পানি ঝঞ্ঝার মধ্যে।

    ‘ব্যাপার কি বাপি? কী হয়েছে?’

    ‘খুন।’

    ‘খুন! সে কি!’

    ‘চমকানোর কিছু নেই। প্রতি মাসেই ঘটছে। ছাত্র খুনের ব্যাপার এ কলেজে ডাল ভাত!

    ‘পলিটিক্যাল মার্ডার?’

    ‘না:। গ্যাং ওয়ারফেয়ার—স্ট্রিট গ্যাংদের দাঙ্গা। ”ওয়েস্ট সাইড স্টোরি” সিনেমাটা দেখেছিলে? দেখনি? দেখলে বুঝতে। মাস্তানদের দলবাজি নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা; স্প্যানিশ ঐতিহ্যের মধ্যে ‘ভেনডেটা’র ব্যাপারটা খুব জবরদস্ত আছে এখনও। ছেলেগুলো প্রায়ই মরে। মারে, মার খায়, মরে যায়। আশ্চর্য প্রতিহিংসাপরায়ণ, জেদি জাত। মেরে পার পাবে না কেউ। মরতেই হবে। নবনীতাদি, এ ব্যাপারটা চোখে না দেখলে তুমি ঠিক বিশ্বাস করতে পারবে না।—চোদ্দো থেকে বিশ-বাইশের ছেলেগুলো ফটাফট হরদম মরে যাচ্ছে। এদের প্রাণের কোনও গ্যারান্টি নেই। অল্প বয়সেই আন্ডারওয়ার্লডের ছেলে হয়ে যায় সব—শুধু তো গরিব নয়, ওয়াইলড, বুনো। ক্রিমিনাল টেনডেন্সির ছেলে এরা; মাস্তান, গুণ্ডা, ডোপ পেডলার, স্মাগলার, পিম্প, পকেটমার ছিনতাইবাজ।—আমরা এই কলেজে শুধু তো মাস্টারি করি না, প্রধানত সমাজসেবারই একটা প্রয়াস এটা। ওদের জীবনের ধারা পরিবর্তনের চেষ্টা। কিছু মূল্যবোধ গড়ে তুলে জীবনের মানে করে দেওয়ার চেষ্টা,—ওদের চরিত্র সংশোধনেরই প্রাোগ্রাম এটা আমাদের। কিন্তু এই দিন কে দিন অকারণ খুন দেখতে দেখতে আমারই বুকের ভেতরটা কেমন যেন পাষাণ হয়ে যাচ্ছে। শুকিয়ে যাচ্ছে।’—খুব আস্তে আস্তে বাপি কথা বলছে। ঘরে এখনও স্প্যানিশ ভাষার ঝড়। বাঙালির কানে ছাত্র খুন নতুন ভাষা নয়। তরুণদের রক্ত আমার শহরেও কম বইতে দেখিনি। কিন্তু সে মৃত্যুতে মহত্ব আছে—ঠিক এ জিনিস নয়। সে প্রাণত্যাগ অনর্থক নয়, বন্য পশুর দলাদলি নয়। সে মৃত্যুও মানুষের ইচ্ছার ঘোষণা করে। সে রক্ত কথা কয়। ‘বোনিটা ডিয়ার, অত্যন্ত দু:খের বিষয়, আমাকে এখুনি একটু থানায় যেতে হচ্ছে। হুয়ান, মির্না, যাবে তো? চলো, তবে আমরা যাই—বোনিটা, তোমাকে পুয়ের্তোরিকোয় ভোজ খাওয়াব বলে ডেকে এনেছিলাম—অথচ এভাবে চলে যেতে হচ্ছে এ দু:খ আমার নিজস্ব। সেন তুমিই বরং বোনিটাকে পুয়ের্তোরিকোর পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা জানাও, তুমি তো যাবে না,—যাবে কি—মর্গে?

    ‘না:।’

    ‘সেই ভালো। তুমিই বোনিটার দেখাশুনো করো, ওকে বাড়িতে পৌঁছে দিও। ওকে জোর করে পার্টি থেকে ছিনিয়ে এনেছিলুম মিনি পুয়ের্তোরিকো দেখাব বলে, সে আর হল না।’

    ‘আমি খুবই দু:খিত, বোনিটা একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। ডন পেদ্রো, আমাদের আজকের মিটিঙে যে ছাত্রটির আসার কথা ছিল, সে একটু আগে স্ট্রিটফাইটে মারা গিয়েছে। বডি আইডেনটিফাই করা, বডি খালাস করা, ওর বাড়ির লোকের সঙ্গে সহায়তা করে সৎকারের ব্যবস্থা করা—এখন অনেক কাজ আমাদের। মানে,—’

    ‘যাও যাও বেরিয়ে পড়ো তোমরা, আমার জন্য একটুও ভেব না। আমি আর বাপি ঠিক আছি। হে ভগবান!’

    ‘বোনিটার জন্য ভাবতে হবে না, সে এখন থেকে আমার দায়িত্ব, পাবলো—’ বাপি বলে, ‘তোমরা মাথা ঠান্ডা করে বেরিয়ে পড়ো।’

    মুহূর্তে ঘর ফাঁকা।

    পুরো বিল্ডিংটাই ফাঁকা।

    হঠাৎ কান্নার শব্দে তাকিয়ে দেখি টাইপরাইটারের পাশে টেবিলে মুখ নামিয়ে ফুলে ফুলে কাঁদছে গীতা। ওলগীতা। তার মাথায় হাত রেখে মার্লিনা স্তব্ধ দাঁড়িয়ে। পেটটি উঁচু হয়ে সংবাদ দিচ্ছে আসন্ন শুভদিনের।

    ‘গীতা ডন পেদ্রোকে ডেট করছিল ইদানীং। কে জানে হয়তো সেই জন্যেই মরল ছেলেটা। গীতার পুরোনো বয়ফ্রেন্ড ভয়ানক হিংসুটে। এরা কথায় কথায় একেবারে খুন করে ফেলে। রক্ত দর্শন করতে চাওয়া তো মুখের কথা।’

    ‘চলো বাপি, বেরিয়ে পড়ি। এখানে থাকতে ভালো লাগছে না।’

    ‘কেন? পড়াতে আসবে না এখানে? পাবলোর নেমন্তন্নে? ক্যাম্পাস-পোয়েট? এতেই কাবু?’

    ‘ঠাট্টা করছ?’

    ‘ঠাট্টা নয়। এ এক অদ্ভুত জগৎ নবনীতাদি। একদিন আমিই তো খুন হয়ে যাচ্ছিলুম আর একটু হলেই।’

    ‘সে কি রে? কার-সঙ্গে ডেট করতে গেছলি আবার?’

    ‘সে সব নয়। ডেট-ফেট-এর ব্যপারই নয়। চলো যেতে যেতে বলছি। কাছে-পিঠে যে-কোনও একটা দোকানেই খেয়ে নিই বরং। কেমন? সন্ধের পর এ পাড়াটা এমনিতেই নিরাপদ নয়। তায় একটু আগেই একটা খুন হয়ে গেছে।—আজ খুব টেনশন থাকবে রাস্তায়। দেরি করা উচিত হবে না। নাকি ও পাড়ায় চলেই যাব আগে? গিয়ে ডিনার খাব? ভালো একটা কোনও দোকানে, ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে একটু বসবে?’

    ‘আমার তো এখানেই ইচ্ছে। পুয়ের্তোরিকান পাড়ায় একটু হাঁটব না? খাবার দোকানগুলো কেমন একটু দেখব না? ভালো দোকানে তো ঢের খেয়েছি।’

    ‘তোমার যদি ভয় না করে তো ঠিক আছে।’

    ‘ভয়ের সত্যি কিছু আছে কি? আমরা তো কোনও গ্যাং-এই নেই। এসব যুদ্ধ বিগ্রহে বাইরের লোকের ভয় নেই, যদি না বোমা টোমা বেমক্কা ফেটে যায়।’

    ‘না: বোমার তেমন চল নেই, এ অঞ্চলের ফেবারিট হল ছুরি মারা। পিস্তল কেনারও পয়সা নেই কিনা। কিন্তু, সত্যিই তোমার ভয় করছে না? খুন হয়েছে জেনেও এ পাড়ায় খাবে? আশ্চর্য মেয়ে তো?’

    ‘আশ্চর্য হচ্ছ কেন? কলকাতায় কি খুন হয় না? সেখানেও পাড়ায় পাড়ায় খুন হচ্ছে। বরং আরও বেশিরকম বিপজ্জনক—যখন তখন বোমা ছুড়বে, যাকে তাকে এলোপাথাড়ি মেরে ফেলবে। লক্ষ্য স্থির করতে পারে না কেউ। ট্রামের ভিতরে, বাসের ভেতরে বসেও রক্ষে নেই। পুলিশের গুলি এসে লাগবে, গুণ্ডার বোমা এসে লাগবে। শত্রুরা ভিড়ের বাসে উঠে এসে ছুরি মেরে যাবে। কেউ বাধা দেবে না। তুমি জানো না বাপি, এ পাড়া তো সেই তুলনায় নন্দনকানন। কেউ ছুটে এসে ছোরা মারবে না, আমাকে। বড়জোর ব্যাগটা ছিনিয়ে নেবে। সে তো কলকাতাতেও নিচ্ছে হরদম। কিন্তু তুমি কেন খুন হয়ে যাচ্ছিলে বললে না তো?’

    ‘বলব। চলো আগে খেতে বসিগে। আশ্চর্য জাত একটা বটে এরা। কী জানি, হয়তো খাস পুয়ের্তোরিকোতে এরকম নয়। এখানে এসে এত ধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক চাপে কষ্ট পেতে পেতে এদের মনগুলো সব অষ্টাবক্র হয়ে যায়। সেই সব ট্যাড়া বাঁকা রুগ্ন মনের ছাত্রদের নিয়েই আমার কারবার। মির্না যেমন সাইকলজিস্ট, তেমনি কলেজের সাইকিয়াট্রিস্ট আছেন, অ্যাডভাইজ করেন, কেরিয়ার কাউন্সিলর আছেন,—ওদের গড়ে পিটে নতুন জীবনের সুযোগ করে দেবার চেষ্টা করি সবাই মিলে। এই জন্যেই কলেজটা এ পাড়ায় রেখে দিয়েছি আমরা—ম্যানহাটনে কেনা প্রসাদ বাড়িতে যাইনি। ”সাইটে” থাকাটা জরুরি। পাড়ায় একটা প্রভাব পড়েই শেষ পর্যন্ত।…অন্তত, তাই আমাদের আশা—একদিন প্রভাব পড়বে।’

    একটা অত্যন্ত নোংরা ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছি। সব দোকানেই ঝাঁপ পড়ে গিয়েছে। রাস্তাটাকে এমনিতেই যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দেখায়, এখন আরও দেখাচ্ছে। রাস্তার মাঝে মাঝে ছোট ছোট জোট বেঁধে দল পাকিয়ে ছেলেরা দাঁড়িয়ে। নেহাত বালক-বালিকা, টলটলায়মান শিশুও অভিভাবকবিহীন রাস্তায় খেলছে। মানুষের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা এখানে সত্যি কম। কেবল ভ্যান, টেম্পো জাতীয় মালবাহী গাড়ি। সত্যি বড্ড গরিব পাড়া। নইলে নিউইর্যক শহরে কেউ এভাবে রাস্তার মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয় চাপা না-পড়ে? হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে এমন চেহারার ৫/৬ তলা বাড়িগুলির দোরগোড়ায় দল পাকিয়ে গুলতানি করছে ফ্রিস্কুল স্ট্রিটের রিকশায় বসা খুব গরিব অ্যাংলো-মেয়েদের মতো চেহারার গেরস্ত গিন্নিরা। এরা বেশ্যা নয় বলেই মনে হয়, খুব সাদাসিধে, সাজসজ্জা নেই একদম। দারিদ্র্য, মালিন্য, রুক্ষতা ও শ্রীহীনতা সর্বশরীরে ফুটে আছে—চুলে চিরুনি পড়ে না। ক্লান্তি আর তিক্ততা যৌবনকে ছাপিয়ে উপছে উঠেছে এদের মুখে। ট্যাঁকে কচি কাঁচা। ঠিক দেশের মতন।

    মোড়ের একটা বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকান থেকে প্রচণ্ড জোরে মাইক্রোফোনে দ্রুত লয়ের স্প্যনিশ গান বাজছে। বন্ধ দোকানের দরজার সামনে দুটি বালক-বালিকা। বছর বারো-তেরোর বেশি হবে না। মেয়েটি কিন্তু পুয়ের্তোরিকান নয়। স্পষ্টতই ব্ল্যাক। মাথা থেকে গোটা পঁচিশেক কেঁচোর মতো সরু সরু লিকলিকে বিনুনি ঝুলছে—আর প্রত্যেকটার শেষে তিন-চারটে করে রঙিন পুঁতি গাঁথা! মাথাটা দেখাচ্ছে ঠিক মেড্যুসার মতো (শত নাগিনীর ফণা যেন চুল হয়ে আছে মাথায়)—কিন্তু মুখে আশ্চর্য একটা ধবধবে হাসি নিয়ে মেয়েটি আপন মনে গানের ছন্দে ছন্দে নেচে যাচ্ছে। ফরসাটে বাচ্চা ছেলেটা মাথায় মাথায় ওর সমানই হবে। ঠিক আমাদের দেশের ছেলের মতোই দেখতে। সে-ও খুব সুন্দর নাচছে নিজের মতো করে, গানের তালে তালে। দর্শক নেই, কিন্তু নাচিয়েরা মশগুল। আনন্দের প্রতিমূর্তি।

    আজই এই রাস্তায় খুন হয়ে গেছে একটু আগে। আমি দাঁড়িয়ে পড়ি।

    বাপি কনুই ধরে টানে—’চলে এসো।’

    ‘কী সুন্দর।’

    ‘কী সরল কৈশোর। নিষ্পাপ, নির্ভার।’

    ‘কে বলেছে? সরল? জানলে কী করে, যে ড্রাগ খেয়ে নেই? নাচের ধরন দেখে তো মনে হচ্ছে না ওটা ঠিক স্বাভাবিক। মেয়েটার চোখ দেখেছ?’

    সত্যিই তো। যেন শিবনেত্র হয়ে আছে! এত সুন্দর নাচ তবে মনের আনন্দে নয়, ড্রাগের ঘোরে?

    ড্রাগ পায় কোথায় অতটুকু বাচ্চা? এদের মা-বাপ নেই? ‘হাসিও না। পায় কোথায় মানে? এরা নিজেরাই হয়তো পেডলার। আর বাপ-মা? থাকা-না-থাকায় তফাত নেই। এখানে ওসব কৈশোর-ফইশোর নেই নবনীতাদি। কেবল মানি অ্যান্ড সেকস। ছোট্ট বাচ্চাও এটা শিখে যায়। চলো চলো দোকানটা এসে গেছে। এখানেই আমরা আগে লাঞ্চ করতুম। কমনরুমটা হওয়ার আগে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিতলি – নবনীতা দেবসেন
    Next Article রামধন মিত্তির লেন – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }