Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপরিচিত – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶

    ১৩. রাত পোহালে

    সুজিত সারারাত্রি শিবেনদের বাড়িতে তার ঘরে চুপ করে বসেছিল। সে খালি ভাবছিল, রাত পোহালে আর এ বাড়িতে থাকা যাবে না। শিবেনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তার দুটো হাতই খানিকটা পুড়ে গেছে। সে হয়তো সকালেই ফিরবে। দীপুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল সুজিতের। তাকে সে মোটামুটি ঘটনা বলে দিয়েছে। ভুজঙ্গভূষণের খোঁজ কেউ জানে না। সারারাত্রি বাড়ি ফেরেননি। এ বাড়িতে আর থাকা যায় না।

    পরদিন বেলা আটটার সময়েই বীরেন্দ্র ফোন করলেন সুজিতকে। জানালেন, গুঁড়িয়াঁটাঁড়ের হাসপাতাল থেকে একটা রেজেস্ট্রি চিঠি রি-ডাইরেক্ট হয়ে অলিভ রোডের ঠিকানায় সুজিতের নামে এসেছে। চিঠিটায় আর্জেন্ট ছাপ মারা আছে। সুজিত যেন দেরি না করে। পিয়ন আবার একটু বাদেই ঘুরে আসছে, সুজিত এখনি চলে আসুক।

    সুজিত অলিভ রোডে গিয়ে পিয়নের কাছ থেকে চিঠিটা সংগ্রহ করল। নীচে বাইরের ঘরে, বীরেন্দ্রনারায়ণের সামনেই চিঠিটা খুলে ইংরেজি লেখা দেখে বীরেন্দ্রনারায়ণকে দেখতে দিল সে। বীরেন্দ্র চিঠিটা দেখতে দেখতে চিৎকার করে উঠলেন, কী সাংঘাতিক ব্যাপার! চিঠিটা দিচ্ছে তোমার বাবার ট্রাস্টি এবং সলিসিটর। উনি এখন খুবই অসুস্থ। প্রতাপ সিংহ গত বছর যে রকম তাদের নির্দেশ করেছিলেন, সে ভাবেই তিনি জানাচ্ছেন যে, এখন নিশ্চয়ই সুজিত সুস্থ, অতএব সে যেন তার সম্পত্তি ও অর্থের দায়িত্ব বুঝে নেয়। কলকাতার কয়েকটি বাড়ি এবং প্রায় বারো লক্ষ টাকা, ও সবই অতীন্দ্রনাথ মিত্র তাঁর একমাত্র ছেলে সুজিতনাথ মিত্রকে দিয়ে গেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।

    সুজিত অবাক হয়ে বলল, অনেকগুলো টাকা, না?

    বীরেন্দ্রনারায়ণ প্রায় বিষম খেয়ে বললেন, এবং কলকাতায় কয়েকটা বাড়ি! মানে তোমার বাবা, কী আশ্চর্য, তোমার কপালটা তো আমি দেখছি একটা ইয়ে, কী বলব। কিন্তু সে কথা যাক, তোমার যা কিছু পুরনো কাগজপত্র সব নিয়ে এখুনি মুর্শিদাবাদ চলে যাও। উনি তোমাকে সবই বুঝিয়ে দেবেন, সেখানে একদম পাগলের মতো যা-তা কথাবার্তা বলো না যেন। ভদ্রলোক না আবার মারা যান। আমি টাইম-টেবল দেখে দিচ্ছি।

    সুজিত বলল, আমি বলছিলাম, মানে আমার কাছে আর টাকা নেই, মুর্শিদাবাদ যেতে হলে কত লাগবে

    –ইমপসিবল! আরে তোমাকে আমি টাকা দিচ্ছি। পাঁচশো, হাজার, যা লাগে, তুমি এখুনি চলে যাও। আর হ্যাঁ, দাঁড়াও, তোমার মাসিমা আর দোলার সঙ্গে এক বার দেখা করে যাও। চলো আমার সঙ্গে।

    সুজিত সকলের সঙ্গেই দেখা করল। দোলা কোনও রকমে ভদ্রতাসূচক দু-একটি কথা বলে অন্য ঘরে চলে গেল। সুজিত চলে আসবার আগে, দোলার ঘরে একবার গেল। দেখল, দোলা চুপ করে বসে আছে। সুজিত বলল, আমি জানি তুমি আমার ওপর রাগ করেছ। কিন্তু আমি মিথ্যে কথা কখনও বলি না, আমার যা মনে হয়েছে, এ কদিন আমি তাই করেছি। দেখ দোলা, আমি চেয়েছি শান্তি এবং ভালবাসায় তৈরি একটা আশ্রয়। সুনীতাকে দেখে আমার এত কষ্ট হয় যে, ওকে আমি ভাল না বেসে পারি না। কিন্তু আশ্চর্য, আমি নির্বোধ বলেই বোধ হয় আমার মনে হয়, তোমার মতো একজন সুখী পবিত্র মেয়েকেও আমি ভালবাসি।

    দোলা ঘাড় তুলে তাকাল। তার চোখে তীক্ষ্ণ অনুসন্ধিৎসা। সুজিত বলল, রাগ করছ আমার ওপর, না? রাগ কোরো না। হয়তো ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারছি না। আমি আজ যাচ্ছি মুর্শিদাবাদে, তুমি সবই শুনেছ। ফিরে এসে তোমার সঙ্গে দেখা করব। যাচ্ছি এখন।

    দোলা চোখ না ফিরিয়ে তাকিয়েই রইল। একটু পরে বলল, তোমার কথা আমি সত্যি বুঝতে পারি না। আপনি আপনি আমাকে কী মনে করেন, একটু বলতে পারেন?

    –সে কথা তো প্রথম দিনই বলেছি। তোমাকে–তোমাকে আমি স্নেহ করি, ভালবাসি। তোমাকে আমি মনে করি, একটি নিষ্পাপ ফুলের মতো।

    দোলা একটু থেমে বলল, মুর্শিদাবাদ থেকে এসে দেখা করবেন, সত্যি?

    নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার এখন সত্যি ভাবনা হয়েছে, এ সব টাকা-পয়সা বাড়ি-ঘর নিয়ে কী করব। আমি এ সবের কিছুই বুঝি না।

    বীরেন্দ্রনারায়ণ ডাক দিলেন। গাড়ির সময় জানালেন। সুজিত বিদায় নিয়ে, চিঠিটা সঙ্গে করে চলে এল শিবেনদের বাড়িতে। টাকাও বীরেন্দ্রনারায়ণ দিয়ে দিয়েছিলেন। সুজিত দীপুকে এবং স্থবির সুনয়নীকে সব কথা বলল। সুনয়নী কাঁদলেন। কান্নার মধ্যে হাসির ঝিলিকও ছিল। দীপু নিজে চিঠিটা ভাল করে দেখল। সুজিত জানাল, তাকে দু-তিনদিন মুর্শিদাবাদে থাকতে হতে পারে।

    সামান্য কিছু খেয়ে মুর্শিদাবাদ যাবার জন্যে বেরুবার মুহূর্তে, রঞ্জন এল। তার দিকে তাকিয়ে সুজিতের বুকের মধ্যে কেঁপে উঠল। এক রাত্রের মধ্যেই তার চেহারা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। সুজিত কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই, রঞ্জন যেন চাপা গলায় গর্জে উঠল, সুনীতা কোথায়?

    সুজিত অবাক হয়ে বলল, সুনীতা? তা তো জানি না! কেন, সে কি তার বাড়িতে নেই?

    না। ভোরবেলা কোথায় বেরিয়ে গেছে, কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আজ বিয়ের নোটিস দিতে যাবার কথা ছিল রেজিস্ট্রি অফিসে। কাল সারারাত পাগলামি করেছে, বারে বারে তোমার নাম করেছে।

    রঞ্জনের চোখ দুটি যেন হিংস্র হয়ে উঠল। সেই চোখের দিকে তাকিয়ে সুজিতের বুকটা আবার কেঁপে উঠল। হয়তো রঞ্জন তাকেই হত্যা করতে চায়। সে বলল, কিন্তু আমি তো কিছুই জানি না সে কোথায়? এই তো বীরেন্দ্রবাবুর বাড়ি থেকে আসছি, এখন মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি।

    -মুর্শিদাবাদ কেন?

    সুজিত সব বলল তাকে। রঞ্জন অবাক হয়ে সুজিতের দিকে তাকিয়ে রইল। সুজিত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ল।

    .

    সুজিত সন্ধ্যাবেলা মুর্শিদাবাদ পৌঁছল। সলিসিটরের সঙ্গে দেখা হবার পর, প্রাথমিক কথাবার্তা, আলাপ-পরিচয় হল। সুজিতকে তিনি থাকতে বললেন। প্রকাণ্ড বাড়ি, কিন্তু লোকজন সামান্যই। জানা গেল, মহিলা কেউ নেই বাড়িতে। ঠাকুর-চাকরেরাই সব কিছু করে। সাজানো-গোছানো প্রকাণ্ড অতিথি-ভবনটাই সুজিতকে ছেড়ে দেওয়া হল।

    রাত্রি সাড়ে দশটার সময় সুজিতের ঘরে ঢুকে একজন চাকর সংবাদ দিল, এইমাত্র কলকাতা থেকে যে গাড়ি এসেছে, তাতে একজন মহিলা এসেছেন, সুজিতবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চান। সুজিত তাকে নিয়ে আসতে বলল, এবং অবাক হল, কে আসতে পারে। তার ভাবনা শেষ হতে না হতেই দরজায় এসে দাঁড়াল সুনীতা। সুজিত যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। সে আধশোয়া থেকে উঠে দাঁড়াল। সুনীতার গায়ে দামি কাপড়চোপড় সবই আছে, কিন্তু সবই অবিন্যস্ত, বিস্রস্ত। মুখে ঈষৎ হাসি থাকলেও তার চোখে ব্যাকুল ভীতি ও চঞ্চলতা।

    সুজিত বলল, তুমি?

    সুনীতা ঘরে ঢুকে বলল, হ্যাঁ। পিছন ফিরে চাকরকে বলল, এই বাবুর খাওয়া হয়ে গেছে?

    চাকর জানাল, হ্যাঁ।

    সুনীতা বলল, ঠিক আছে, তোমাকে আর কিছু করতে হবে না। আমি খেয়ে এসেছি। ইনি আমার স্বামী। তুমি যেতে পার এখন।

    আজ্ঞে আচ্ছা মা-ঠাকরুন। চাকরটি চলে গেল। সুনীতা দরজাটা বন্ধ করে ফিরে দাঁড়াল। এ বাড়িতে ইলেকট্রিক নেই, একটি সেকালের পুরনো প্রকাণ্ড দেওয়াল বাতি জ্বলছিল। সেই আলোয়, ওরা দুজনেই দুজনের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর সুজিত পায়ে পায়ে কাছে এসে দাঁড়াল, বলল, সুনীতাই তো।

    –চিনতে পারছ না?

    –পারছি! কিন্তু কী করে এলে, কেমন করে জানলে এখানকার কথা?

    দীপুর কাছ থেকে জেনেছি। জেনেই ছুটে চলে এসেছি।

    সুজিত আবার নির্বাক হয়ে গেল। সুনীতার মুখের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে একটি হাত তুলে সুনীতার কপালে গালে ছোঁয়াল। সুনীতার চোখ ফেটে জল এসে পড়ল। সে সুজিতের বুকের মাঝখানে মুখ রেখে বলে উঠল, পারলাম না, পারলাম না গো তোমাকে ছেড়ে থাকতে। তোমাকে আর একবার দেখতে এলাম।

    সুজিত দুই চোখ বুজল, স্নিগ্ধ মুখে, গভীর স্নেহে সে সুনীতার মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। বলল, এসো, বসবে এসো সুনীতা। তোমার বুক এত ধুকধুক করছে কেন?

    সুনীতা বলল, কে জানে, হয়তো রঞ্জনও আমার পিছু পিছু এসেছে। তুমি আমাকে আশ্রয় দাও, একটু লুকিয়ে রাখো তোমার কাছে।

    খানিকক্ষণ ওরা কেউ কোনও কথা বলল না। তারপর সুজিত বলল, কাল রাত্রে কেন তুমি আমার কথায় রাজি হলে না?

    সুনীতা বলল, আমি রাজি হলেও আর কিছুই আসত যেত না, সে কথা কি তুমি বুঝতে পারনি?

    কিন্তু সুনীতা, তুমি কি সত্যি বিশ্বাস কর, তুমি আমি দুজনে ঘর বেঁধে থাকতে পারি না।

    না, না, না গো। আমি যে সব বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি, তোমার এমন সরল সুন্দর জীবনটাকে আমার জন্যে আমি নষ্ট হতে দিতে পারব না।

    তবে আজ কেন এমন করে ছুটে এলে?

    –এলাম, কারণ সেই তোমাকে চিঠিতে লিখেছিলাম, তোমার কাছে এখুনি ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে, এ সেই ইচ্ছে। আমি যে তোমার চোখেই প্রথম দেখলাম, এই অভাগিনীকে তুমি ভালবেসেছ, নিজের পাথর হয়ে যাওয়া প্রাণের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তোমার প্রাণের রসে সেখানটাও ভরে উঠেছে। তাই তো বলেছিলাম, আমার নিয়তিই সেদিন রেলের সেই কামরায় আমাকে তুলে দিয়েছিল। জীবনের এই পাওনাটা যখন বুঝেছি, তখন তাকে একেবারে ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারলাম না। হয়তো এই শেষ, এই শেষবারের জন্যে, জীবনের চরম স্বাদ পেতে এসেছি সুজিত।

    –তারপর সুনীতা?

    তারপর–তারপর আমাকে আবার ফিরে যেতে হবে সেখানেই। যেতে হবে না, রঞ্জন নিজেই খুঁজে বের করবে। সে আমাকে স্বর্গ-নরক-পাতাল, যেখান থেকে হোক, খুঁজে বের করবে।

    সুজিত একটু অপেক্ষা করে বলল, সুনীতা, একটা কথা না বলে পারব না, তোমাকে রঞ্জন ভালবাসে। ওর ভালবাসায় কোনও খাদ নেই কিন্তু।

    –কিন্তু অমানুষের, পশুর ভালবাসা। আমি যে ওকে কখনও ভালবাসিনি, আমি যে ওকে কখনও সে স্থান দিতে পারি না।

    দুজনেই চুপ করে রইল খানিকক্ষণ। তারপরে সুনীতার গলা শোনা গেল, চুপিচুপি, প্রায় কান্না মাখানো গলা, কেন তোমাকে দেখতে পেলাম। তোমাকে না দেখেও এ-জীবনটা তো অনায়াসে কেটে যেতে পারত।

    –সে কথা আমারও সুনীতা! তুমি শুনেছ বোধ হয় আমি অনেক টাকা পেয়েছি, কলকাতায় কয়েকটা বাড়ি। আমি এ কদিন ধরে যে জীবনকে দেখলাম কলকাতায়, তারপরে আমার কথা শুনলে সবাই হাসবে। কিন্তু কী করব আমি এ সব নিয়ে?

    সুনীতা একটু চুপ করে থেকে বলল, দোলাকে নিয়ে সুখে সংসার করো।

    এ কথায় সুজিতের কোনও ভাবান্তর হল না। বলল, সুনীতা, দোলা খুব সুখী আর পবিত্র মেয়ে। ওকে আমি বলেছি, ওকে আমি ভালবাসি। কিন্তু সুনীতা, তফাতটা কোথায়, তা তোমাকে বোঝাতে পারছি না।

    সুনীতা সুজিতের হাত ধরে বলল, বুঝতে পারছি।

    সুজিত আবার বলল, তুমি যা বললে, হয়তো একদিন তাই হবে। কিন্তু সুনীতা, তুমি তো জান, এ চোখ চিরদিন কী দেখবার আশায় থাকবে, এ প্রাণের তার কোন সুরে বাজবে। হয়তো দোলা এ সবই বুঝবে, ও বুদ্ধিমতী মেয়ে, ভালবাসলে অনেক সময় ক্ষমাও করা যায়, ও হয়তো আমাকে ক্ষমাও করবে, তবু–তবু সুনীতা–

    সুনীতার একটি হাত সুজিতের মুখে চাপা দিল। –এ সব শুনলে, আর তোমার কাছ থেকে পালাতে পারব না গো। হয়তো তোমার সামনেই নিজেকে শেষ করে দিতে হবে।

    .

    মুর্শিদাবাদে তিন দিন রইল সুজিত। সুনীতাও রইল। কাজকর্ম মিটতে মিটতে ওরা মুর্শিদাবাদের নানান জায়গায় বেড়াল। তারপর কলকাতায় ফেরার দিন সকালবেলাই সুনীতা সুজিতকে না বলে চলে গেল। কোথায় গেল, কিছুই জানতে পারল না। সে যখন স্টেশনে এসে গাড়িতে উঠল, তার পাশে এসে রঞ্জন বসল। জানতে চাইল সুনীতা তার কাছে এসেছিল কি না। সুজিত জানাল, হ্যাঁ, সে এসেছিল কিন্তু আজ সকালবেলাই চলে গেছে। কিন্তু কোথায় গেছে, সে কথা সুজিত জানে না। ওরা দুজনেই কলকাতায় ফিরল। রঞ্জন যে সুজিতকে বিশ্বাস করেনি, ওর চোখ দেখেই বোঝা গেল। শিয়ালদহ থেকে দুজনে আলাদা হয়ে গেল। সুজিত প্রথমে শিবেনের বাড়ি গেল। দীপু আর সুনয়নীর সঙ্গে দেখা হবার পর ভুজঙ্গভূষণের সঙ্গেও দেখা হল। তিনি ওকে সত্যি ভালবেসে ফেলেছিলেন। সুজিত ওঁকে কিছু টাকা দিল। বীরেন্দ্র তাকে প্রায় হাজারখানেক টাকা দিয়েছিলেন। পরে সুজিত বীরেন্দ্রের সঙ্গে দেখা করল। তাঁর অনুরোধে দুদিন ওখানেই কাটাল এবং ইতিমধ্যে, দলিলের বলে ব্যাঙ্কের টাকা ও সম্পত্তি সবই তার নামে পরিবর্তিত হয়ে গেল। বর্তমানে চারটে বাড়ি থেকে মাসিক আয় প্রায় দু হাজার টাকা। কিন্তু ভাড়াটেরা কেউই বাড়ির মালিককে একটি ফ্ল্যাটও ছেড়ে দিতে রাজি হল না। অগত্যা সুজিতকে আপাতত একটি হোটেলেই উঠতে হল।

    কিন্তু একটা ব্যাপার সুজিত বারেবারেই লক্ষ করল, কে যেন তাকে সবসময়েই ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। হোটেলে, রাস্তায় পথ চলতে, প্রায়ই দুটি চোখ সে দেখতে পায়, এবং একদিন শিবেনদের বাড়ি থেকে দীপু, সুনয়নী এবং ভুজঙ্গভূষণের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসতেই, পাঁচিলের অন্ধকার কোণে। সহসা দুটি বলিষ্ঠ হাত তার গলা টিপে ধরল। অন্ধকারের মধ্যেও রঞ্জনকে চিনতে তার ভুল হল না। মৃত্যু আসন্ন জেনে, সুজিত একবার কেঁপে উঠল, কিন্তু পরমুহূর্তেই তার গলা ছেড়ে দিয়ে রঞ্জনের মূর্তি অদৃশ্য হয়ে গেল। সুজিতের মনে হল, কী ঘটেছে সে জানে না। তার মস্তিষ্ক শূন্য। দেওয়ালে হেলান দিয়ে সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। ভুজঙ্গভূষণ গিয়ে তাকে আবিষ্কার করে বাড়ি নিয়ে এলেন। তারপরেও সে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল এবং আস্তে আস্তে যেন বিস্মৃতির অন্ধকার থেকে ফিরে আসতে লাগল। আর সহসা কেঁপে উঠল, কারণ এ সবই তার সেই আগের বোধবুদ্ধিহীন অসুখের লক্ষণ।

    পরদিন সুজিত একটা চিঠি পেল রঞ্জনের। সে লিখেছে, গতকাল আমার সঙ্গেই তোমার অন্ধকারে দেখা হয়েছিল, হঠাৎ আমার মনে হল আমি ভুল করছি। আমার হাত যাকে খুঁজছে, সে তুমি নয়, সুনীতা। তার সঙ্গে আমার দেখা হবেই, তখন শেষ বোঝাপড়া হবে। এর কয়েক দিন পরেই সুজিত দীপুর কাছে শুনতে পেল, রঞ্জনের সঙ্গে সুনীতার দেখা হয়েছে। শীঘ্রই নাকি তাদের বিয়ে হবে। রেজেস্ট্রি অফিসে গিয়ে তারা নোটিস করে এসেছে। শুনে সুজিত অনেকটা আশ্বস্ত হল। সেই রাত্রির ঘটনার পর তার শরীর যতটা খারাপ হয়েছিল, তার থেকে ভাল বোধ হতে লাগল।

    একদিন বিকালে হঠাৎ সুনীতাকে নিয়ে রঞ্জন হোটেলে এল সুজিতের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু রঞ্জন ভাল করে কথা বলল না। সুনীতা কিন্তু খুব হাসল, অনেক বকবক করল, অনেকটা অর্থহীন প্রলাপের মতো। তারপর সুজিতকে বলে, হোটেল থেকে ভারমূথ আনিয়ে এক বোতল খেল। রঞ্জন শুধু বিদ্বিষ্ট ঈর্ষান্বিত নিষ্ঠুর চোখে সব দেখল। সুজিত রঞ্জনের সঙ্গে কথা বলবার চেষ্টা করল। রঞ্জন তেমন সাড়া দিল না। সে শুধু জানাল, সুনীতা আসতে চাইল বলেই তাকে আসতে হল। এবং একবার সুনীতা যখন। ঘরের জানালার কাছে গেল, তখন রঞ্জন ঠোঁট বাঁকিয়ে সুজিতকে বলল, তোমার চোখে ব্যথা ঝরে পড়ছে দেখছি। সুজিত বলল, হ্যাঁ, সুনীতার জন্যে আমার কষ্ট হচ্ছে। তারপরে সুনীতা লাইম জিন খেতে চাইল, রঞ্জনের অনুমতিক্রমে তাই দেওয়া হল। খাওয়ার পরে সুনীতা সোফাতে এলিয়ে পড়ল, ঘুমিয়ে পড়ল। তখন রঞ্জন জানাল, একদিন তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে সুজিত, আমি ওকে ভালবাসি কি না। আমি ওকে ভালবাসি। আমি ওকে যতখানি ভালবাসি, ঠিক ততখানিই ঘৃণা করি। এত ভাল কাউকে বাসিনি। এত ঘৃণাও কাউকে করিনি। আমি জানি না, ভালবাসার উলটো পিঠে ঘৃণা লেখা থাকে কিনা। বলেই সে সুনীতাকে টেনে তুলল, প্রায় ঘুমন্ত টেনে নিয়ে চলে গেল।

    .

    ইতিমধ্যে কালাচাঁদ এসে জুটেছে সুজিতের কাছে। রঞ্জন আর কাউকে তার কাছে রাখে না। রাখতে পারে না। কালাচাঁদ লোকটিকে অবশ্য সুজিতের খারাপ লাগে না। সমাজের নিচু এবং অন্ধকার দিকটাই তার বেশি দেখা আছে, এবং সেই জগৎটাই সে চেনে। কিন্তু অন্যান্য কাজও সে চেষ্টা করলে পারে। এখন সে সুজিতের অনেক কাজ করে দেয়। টাকা এবং সম্পত্তি হওয়া মানেই কাজ বেড়ে যাওয়া। স্বভাবতই সুজিতের এখন প্রতি দিনই নানান কাজ। কালাচাঁদই সে সব করে দেয়। কালাচাঁদের সংসারের দায়িত্বও তাই সুজিতেরই। এতে অবশ্যই বীরেন্দ্রর আপত্তি ছিল। সুজিত সে দায়িত্ব নিয়েছে। কালাচাঁদ যে একজন দুঃখী এবং নিপীড়িত, এটা সে বুঝেছে। লোকটিকে তার ভালই লাগে।

    দোলার সঙ্গে সুজিতের বিয়ের প্রস্তাবও উঠল। কিরণময়ী নিজেই সুজিতের অভিমত জানতে চাইলেন, দোলার মনোভাবের কথাও জানালেন। সুজিত জানাল, সে তার মস্তিষ্কের অসুখ সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত নয়। দোলাকে বিয়ে করতে তার আপত্তি নেই, কারণ দোলার মনের ইচ্ছা সে নিজেও জানে। কিন্তু কিছুকাল অপেক্ষা করা দরকার। অসুস্থতার সব লক্ষণগুলি সে একেবারে কাটিয়ে উঠতে চায়। সেটাই সাব্যস্ত হল। দীপু রীতিমতো যোগাযোগ রাখে সুজিতের সঙ্গে। আস্তে আস্তে সুজিতকে কেন্দ্র করে একদল লোকের ভিড় বাড়তে থাকে। তারা কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিক। এবং সকলেরই ধারণা সুজিত একটি বিচিত্র ধরনের নির্বোধ।

    মাসখানেক পরে, যখন সুনীতারঞ্জনের বিয়ের রেজেস্ট্রি আসন্ন, ঠিক এ সময়েই শোনা গেল, সুনীতা আবার অদৃশ্য হয়েছে। রঞ্জনের সেই অদৃশ্য প্রহরা আবার শুরু হল। ঘর থেকে বেরুনো সে একেবারে বন্ধ করে দিল। বীরেন্দ্র প্রস্তাব করলেন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সীমায় নামখানার বাংলোয় কয়েক দিন সবাই মিলে বেড়িয়ে এলে হয়। সুজিত সম্মতি দিল। এবং একদিন মোটরে সবাই নামখানায় চলে এল। সুজিতের মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠল সমুদ্র ও সুন্দরবনের এই সীমায় এসে।

    কিন্তু যেদিন তারা এল, সেদিন সন্ধ্যাবেলায় সুনীতা এসে উপস্থিত হল। সুজিত অবাক হয়ে তাকে ঘরে তুলে নিয়ে গেল। বীরেন্দ্র, কিরণময়ী এবং দোলা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করল। সুজিত জিজ্ঞেস করে জানল, এবারেও দীপুর কাছেই খবর নিয়ে সুনীতা এসেছে। সুনীতার চেহারা আর সেরকম নেই। চোখের কোল বসা, এবং দৃষ্টিতে উন্মাদনা। এসে সুজিতকে জড়িয়ে ধরে অজস্র কান্নায় ভেঙে পড়ল, পারছি না, পারছি না সুজিত, তোমাকে ভুলতে পারছি না, দোলার ওপর হিংসেয় মরে যাচ্ছি। এইবারটি শেষ বার, আর আসব না।

    সুজিত বলল, সুনীতা, একটু শান্ত হও, তোমাকে এরকম দেখলে আমি অস্থির হয়ে উঠি। তুমি আবার কেন পালিয়ে এলে?

    সুনীতা বলল, পারি না যে। মনকে অনেক বুঝিয়েও কিছুতেই তোমার কাছ থেকে সরে থাকতে পারছি না। কেন এমন হল সুজিত? সংসারে তো এমন কতই ঘটে, ভালবেসে সবাই কি সবাইকে পায়? আসলে কী জান সুজিত, আমি যে বিশ্বাস হারাবার পর বিশ্বাস খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্তু হাত বাড়াবার দরজা আমার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

    এই সময়ে দোলা এল। দোলাকে দেখেই সুনীতা হেসে বলে উঠল, ভয় নেই, তোমার ভাবী বরকে নিয়ে পালাব না। এতে দোলা অত্যন্ত কুপিত হল, সহসা যেন ওর ভিতর থেকে বিস্ফোরণ হল, আপনার মতো মহিলার সঙ্গে আমার কথা বলতেও রুচিতে বাধে।

    সুজিত ডাকল, দোলা!

    সুনীতা মুহূর্তে যেন হিংস্র ডাকিনী হয়ে উঠল। বলল, তাই নাকি? তোমার ভাবী বর বলেছি, তাই যথেষ্ট। আমি ইচ্ছে না করলে তা হবে না। নিয়ে যাও দেখি তুমি ডেকে ওকে এখান থেকে?

    বলে সে সুজিতের হাত ধরল। সুজিত সুনীতাকে বোঝাতে চাইল। দোলা অপলক চোখে সুজিতের দিকে তাকিয়ে রইল। সুজিত বুঝতে পারল, দোলা তাকে ডাকছে। সুনীতা তখন খিলখিল করে হাসছে। দোলা অনড়, নিশ্চল, রুদ্ধশ্বাস, আরক্ত এবং চোখ সরাল না সুজিতের চোখ থেকে। সুজিত সুনীতাকে বারবার ডাকতে লাগল, সুনীতা শোনো, শোনো।…কিন্তু সে দোলার দিকে এগিয়ে যেতে পারল না।

    দোলার চোখে জল এসে পড়ল। সে সহসা দ্রুতবেগে বাইরে চলে গেল। সুনীতা হাসতে হাসতে সুজিতের বুকের ওপর লুটিয়ে পড়ল। সুনীতার নিজের চোখ ফেটেও জল এসে পড়েছে, তা ও নিজেই বোধ হয় জানে না। তারপর সহসা হাসি থামিয়ে বলল, আমার যাবার সময় হয়েছে সুজিত, আমি যাচ্ছি। নইলে রঞ্জন ঠিক এখানে এসে পড়বে।

    ইতিমধ্যে অন্ধকার নেমে এসেছিল। সুনীতার কথা শেষ হবার আগেই, বাংলোর বাইরে মোটরের শব্দ হল, আর কাঁচের জানালায় গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়ল। পরমুহূর্তেই গাড়ির দরজা খোলা ও বন্ধের শব্দ শোনা গেল। মিনিটখানেক পরেই রঞ্জনকে দেখা গেল দরজায়। তার মুখ রক্তাভ, চোখ রক্তাভ, ঘৃণা ও হিংস্রতার এক প্রতিমূর্তি। তখনও সুনীতা সুজিতের হাত ধরে ছিল। তাড়াতাড়ি হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, চলো রঞ্জন, চলো আমরা যাই।

    রঞ্জন দরজা থেকে সরে দাঁড়াল, সুনীতা বেরিয়ে গেল। রঞ্জন তাকাল সুজিতের দিকে, এবং হঠাৎ ছুরির ফলার মতো একটু হাসি ঝলকে উঠল তার ঠোঁটে। তারপরে সেও চলে গেল। গাড়ি ছেড়ে দেবার শব্দ শোনা গেল। সুজিত অভিভূতের মতো দাঁড়িয়ে রইল। কতক্ষণ দাঁড়িয়েছিল, তার খেয়াল নেই। বীরেন্দ্র এসে ডাকতে তার সংবিৎ ফিরল, এবং রঞ্জনের সেই হাসি স্মরণ করে কেঁপে উঠল। বলল, আমি এখুনি একবার কলকাতায় যেতে চাই, আপনি একটু ব্যবস্থা করুন।

    বীরেন্দ্র প্রথমে আপত্তি করলেও, পরে রাজি হলেন। প্রায় মাঝরাতে কলকাতায় পৌঁছে সুজিত কালাচাঁদকে ডাকল। তাকে বলল, যেখান থেকে হোক, রঞ্জনকে খুঁজে বের করতেই হবে। কালাচাঁদ সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় সুজিতকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজ করল। কোথাও তাদের পাওয়া গেল না। খুঁজতে খুঁজতে ভোর হল, এবং শেষপর্যন্ত এক জায়গায় জানা গেল, সে সম্প্রতি দক্ষিণেশ্বরের দিকে একটা বাসা নিয়েছিল, সেখানে খোঁজ করলে পাওয়া যেতে পারে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, মস্ত বড় বাড়ি। গঙ্গার ধারে, পোডড়া বাড়ির মতো স্তব্ধ। মানুষ বাস করে কিনা সন্দেহ। কালাচাঁদ যখন দরজায় ঘা দিচ্ছিল, ঠিক সে সময়েই ওপরের জানালায় সুজিত রঞ্জনের মুখটা এক বার দেখতে পেল। সুজিত বলে উঠল, রঞ্জন দরজা খোলো।

    কিন্তু সাড়া পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণ পরে দরজা খুলে গেল। রঞ্জনই খুলে দিল। সুজিত দৌড়ে ভিতরে ঢুকে জিজ্ঞেস করল, ও কোথায়?

    রঞ্জন কালাচাঁদের মুখের ওপর দরজাটা বন্ধ করে, ঘরের ভিতর এগিয়ে এল। সবই অন্ধকার লাগছিল। কোনও কথা না বলে এক বার তাকিয়ে রঞ্জন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠল। সুজিত তাকে অনুসরণ করল। তারপর একটার পর একটা ঘর পার হয়ে, চতুর্থ ঘরে রঞ্জন থামল। সেই ঘরটার দরজা জানালা সব বন্ধ, গাঢ় অন্ধকার। রঞ্জন এগিয়ে গিয়ে একটা ছোট জানালা খুলে দিতেই আলো এল। সুজিত দেখল, একটা খাটে সুনীতা শায়িত। তার সর্বাঙ্গে ঢাকা। মুখখানি খোলা। সুজিত এগিয়ে গিয়ে মুখের কাছে ঝুঁকতেই দেখতে পেল, সুনীতার চোখ বোজা। ঠোঁটের কোণে উদগত রক্ত জমাট বেঁধে আছে। সুজিতের মনে হল, সে কিছু বুঝতে পারছে না। সব যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। সে রঞ্জনের দিকে ফিরে তাকাল।

    রঞ্জন এগিয়ে এসে, বুকের কাছ পর্যন্ত সুনীতার ঢাকা খুলে দিল। সুজিত দেখল সুনীতার গলায় কালশিরার দাগ। তার হঠাৎ মনে পড়ে গেল, সেই চিঠির লাইন, আমার হাত যাকে খুঁজছে, সে তুমি নয়, সুনীতা।

    রঞ্জন আবার গলা অবধি ঢাকা দিয়ে, গভীর আগ্রহে, পরম স্নেহে যেন ঝুঁকে পড়ে, রুক্ষ চুলের গোছা সুনীতার কপাল থেকে সরিয়ে দিল। তারপর বলল, আমি ওকে মেরেছি সুজিত।

    সুজিত অনেকটা ভাবলেশহীন মুখে বলল, ও! মেরে ফেলেছ?

    -হ্যাঁ। আমার প্রেম, আমার ঘৃণা, আমার ঈর্ষা, আমার সুখ, আমার যাতনা, যা বলো, আমার সবকিছুর অস্তিত্বকেই আমি বিনাশ করেছি। এখন আমি শান্তি বোধ করছি।

    সুজিত নির্বাক হয়ে রইল। সুনীতার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। রঞ্জন আবার বলল, সুজিত, ওকে মারার পর অনেক আদর করেছি। তুমি একটু করবে না? তুমি ওকে একটু আদর করো সুজিত, বেঁচে থাকতে ওর তৃষ্ণা মেটেনি, তুমি ওকে আমার সামনে একটু আদর করো। আর সময় নেই, পুলিশ আমাকে ধরতে আসবে।

    আদর করব? সুজিত অন্যমনস্কের মতো বলল, সুনীতার মুখের কাছে মুখ নামিয়ে গভীরভাবে দেখল। একবার বলল, গাড়ি ছেড়ে দেবার শেষ ঘণ্টায় তুমি এসে পৌঁছেছিলে, মনে আছে?

    সে হাসল, কিন্তু চোখের কোণ বেয়ে জল পড়ছিল। সুনীতার ঠোঁটের কোণে রক্তের কাছে তার ঠোঁট নেমে এল। ডাকল, সুনীতা! সুনীতা!

    রঞ্জন পুলিশের হেফাজতে। তার যাবজ্জীবন কারাবাসেরই সম্ভাবনা। কিন্তু সুজিতের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সে আবার আগের মতোই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনও তার কথার মধ্যে ছিটেফোঁটা চিন্তা বা সংবিৎ টের পাওয়া যায়। বীরেন্দ্র যখন জানালেন, গুঁড়িয়াঁটাঁড়ের সেই মানসিক চিকিৎসালয়ে আবার নতুন করে একজন মনোবিজ্ঞানী চিকিৎসা শুরু করেছেন, তখন সে সেখানেই যেতে চাইল। যাবার আগে সে দোলাকে বলল, আমার ওপর রাগ কোরো না। তোমাকে আমি মনে রাখতে চেষ্টা করব। মনটা–মানে–ঠিক আগের মতো হয়তো থাকবে না। তাই এ কথা বলছি।

    দোলা কেঁদেছিল, হয়তো যেতে দিতে চায়নি। সুজিত বলেছে, ওর যাওয়া দরকার। ও কলকাতার অযোগ্য। সুজিত আবার ওর নিজের জায়গায় ফিরে চলল। কালাচাঁদ ওকে পৌঁছে দিতে গেল।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলিন্দ – সমরেশ বসু
    Next Article ত্রিধারা – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }