Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপরিচিত – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. সুজিত একলা ঘরে

    সুজিত একলা ঘরে অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তখনও রঞ্জনের কথাগুলিই তার মাথার মধ্যে পাক খাচ্ছিল। এক সময়ে তার খেয়াল হল, সকাল থেকে এক বারও সুনয়নীকে দেখা হয়নি। সে বাড়ির ভিতরে গেল, আস্তে আস্তে সুনয়নীর ঘরের দরজায় গিয়ে, থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। দেখল, ভুজঙ্গভূষণ সুনয়নীর দুটি অসাড় হাত নিজের বুকের উপর তুলে নিয়ে, সুনয়নীর মুখের সামনে ঝুঁকে আছেন। বলছেন,নয়ন, আমার গল্পগুলো তা হলে তুমিই শুনো, কেমন? তুমি তো আমাকে বিশ্বাস কর, অ্যাঁ? চিরকালই করে এসেছ। ওরা বড় সত্যি-মিথ্যের যাচাই করে, কিন্তু আমরা তা করব না। আমরা ইচ্ছে করলে কোনও সময় রাজা-রানি হব, কোনও সময় খুঁটেকুড়ানির মেয়ে-জামাই হব, কী বলো?…বাঃ, লক্ষ্মী সোনা আমার!…ওকী ওকী, আবার রাগ কেন নয়ন? মদ খেতে যাব না? আচ্ছা যাব না। ঘরে নিয়ে এসে তোমার সামনে বসে খাব, কেমন? লক্ষ্মী-লক্ষী আমার! আবার চোখে জল কেন? আঃ, ছি নয়ন, অমন করে কাঁদিস না, দেখিস একদিন সব দুর্ভাগ্য কেটে যাবে।

    সুজিত চুম্বনের শব্দ পেল। দরজার পাশ থেকে সে আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে সরে এল। মুখে তার হাসি, কিন্তু চোখ দুটি কখন ভিজে উঠেছে, টের পায়নি। সে শুধু উচ্চারণ করল, ভালবাসা, ভালবাসা।…

    সুজিত আবার বাইরের ঘরে এল, এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে বারান্দা দিয়ে ঘুরে নিজের ঘরে গিয়ে, বিছানায় এলিয়ে পড়ল। তার ক্লান্তি বোধ হচ্ছে।

    একটু বোধ হয় তন্দ্রা মতোই এসে পড়েছিল। কলিং বেল বেজে ওঠার শব্দ সে পেয়েছিল। মনে মনে ভেবেছে, এর মধ্যেই আবার শিবেন বোধ হয় ফিরে এল। কিন্তু সে মুখ তোলেনি, চোখ খোলেনি, একভাবেই পড়েছিল। একটু পরেই তার ঘরের দরজার সামনে পায়ের শব্দ পেয়ে, মুখ ফিরিয়ে তাকাল, এবং তাকিয়েই তার হৃদস্পন্দন যেন সহসা স্তব্ধ হয়ে গেল। শরীর নিশ্চল মৃতবৎ মনে হল। প্রথমে মনে হল, সে স্বপ্ন দেখছে, এখনও সে নিদ্রিত। নইলে, তার সামনেই সুনীতাকে সে দেখছে কেমন করে? সুনীতার চোখের সঙ্গে তার চোখের দৃষ্টি এমন স্থির অপলক ভাবে মিলছে কেমন করে? দরজার সামনে যেন এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নেরই দ্যুতি, যৌবনের এক দুঃসহ বিজলি ঝলক স্থির নিশ্চল। রক্তাম্বরী, বিম্বেষ্ঠা, বক্ষে ও সর্বাঙ্গে নিটুট স্বাস্থ্য এক নিপুণ শিল্প হয়ে উঠেছে। যে শিল্পের মধ্যে একটা ঔদ্ধত্য, বক্ষের জীবনকলি দিয়ে বিশ্বসংসারকে বিদ্ধ যাতনায় চকিত করছে। কিন্তু চোখ, সেই চোখ, যার মধ্যে অসহায় বিভ্রান্তি মাথা কুটছে।

    সুজিত আস্তে আস্তে উঠে বসল। বসতেই, বারান্দার জানালা দিয়ে তার লক্ষ পড়ল, দীপু দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার সে সুনীতার দিকে ফিরে তাকাল। এবার চোখে পড়ল সুনীতার হাতে সুনীতারই মুখের সেই স্কেচ। সুনীতাও এক বার স্কেচটা দেখল, আবার চোখ তুলে তাকাল এবং সহসা তার দুই চোখ ঈষৎ ছোট হয়ে এল, নাসারন্ধ্র কিঞ্চিৎ স্ফীত হল, এবং একটি বিচিত্র আলো যেন বিচ্ছুরিত হল চোখ থেকে। সুজিত উঠে দাঁড়াল। সুনীতা ঘরের মধ্যে দু পা এগিয়ে এল। বলল, চিনতে অসুবিধে হচ্ছে না তো?

    সুজিত প্রায় অস্ফুটে উচ্চারণ করল, সুনীতা!

    সুনীতা ঈষৎ ঘাড় বাঁকাল। বলল, মনে আছে দেখছি।

    সুজিত সঙ্গে সঙ্গেই বলল, ভুলে যাব মনে করেছিলেন?

    সুনীতা বলল, অসম্ভব কী! আমিই বরং আপনাকে একেবারে ভুলতে পারছিলাম না। আমি তারই জবাব নিতে এসেছি আজ।

    সুজিত বলল, কীসের জবাব?

    –সে দিন যা বলেছিলেন, যে কথা আমাকে আর কেউ কখনও বলেনি।

    সুজিত যেন হঠাৎ সংবিৎ ফিরে পেল। বলল, বসুন আপনি। মানে… কোথায় যে বসতে দিই, এ ঘরে আবার চেয়ার-টেয়ার সে রকম কিছু

    সুনীতা খাটের ওপর বসে পড়ল। বলল, দেখলেন, কোথায় বসা যায়।

    সুজিত হাসল। বলল, ওতে বসতে আপনার অসুবিধে হবে না?

    সুনীতা খাটের ধারে রেলিং-এ হেলান দিয়ে ভাল করে বসে বলল, তবে সুবিধে করেই বসলাম। বলে হেসে উঠল। আবার বলল, কিন্তু অমন করে অত কী দেখছেন বলুন তো?

    সুজিত বলল, দেখছি, মনে হচ্ছে, যেন আপনাকে অনেক দিন থেকে চিনি।

    সুনীতা কয়েক মুহূর্ত সুজিতের দিকে তাকিয়ে, হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠল। চোখের পাতা নামাল, বলল, সত্যি?

    সুজিত বলল, সত্যি। কিন্তু আপনি যেন তাতে কিছু মনে করবেন না। আমার এরকম হঠাৎ হঠাৎ এক-এক জনকে দেখলে মনে হয়।

    সুনীতা জিজ্ঞেস করল, কেন মনে হয়?

    –আমি তা বুঝতে পারি না।

    দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিল ওরা। এবং সহসা যেন কেউ-ই কারুর ওপর থেকে চোখ সরাতে পারল না। সুনীতা সহসা যেন একটু আরক্ত হল। ওর চোখের পাতা নত হল। বলল, আমি আপনাকে অনেক খুঁজেছিলাম সেদিন।

    –শুনেছি।

    সুনীতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কার কাছে?

    –প্রিয়নাথ দাশ আর

    প্রিয়নাথ দাশ? ও আজ সকালে যখন এসেছিল?

    –হ্যাঁ। কার কাছে শুনলেন?

    –কেন, দীপুর মুখে। দীপু যে আজ সকালেই আমার কাছে ছুটে গেল এই পোর্ট্রেট নিয়ে।

    সুনীতা হাতে তুলে স্কেচটা দেখাল। আবার ওরা কয়েক মুহূর্ত পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল। সুনীতার চোখে যেন চকিত আলোর বহু বিচিত্রের লীলা চলেছে, অথচ স্থির। সুজিতের চোখ স্নিগ্ধ উজ্জ্বল, যেন এক গভীর বিস্ময়ে, সুদুরে নিবদ্ধ এবং প্রশান্ত। সুজিত বলল, দীপু আজ সকালে ওটা আপনার কাছে নিয়ে গেছল?

    জবাব এল দরজার বাইরে থেকে, হ্যাঁ।

    সুজিত ফিরে তাকিয়ে দেখল, দীপু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে, চৌকাঠ খুঁটছে। বলল, আপনি তো আবার মিছে কথা বলতে পারেন না, ভাবছেন দীপুটা মিথ্যেবাদী। কিন্তু আমি যদি তখন বলতাম, ওটা আমার কাছে রয়েছে, তা হলে ওরা ঠিক নিয়ে নিত।

    সুনীতা বলে উঠল, তুই ঠিক করেছিস দীপু।

    সুজিত দীপুর দিক থেকে সুনীতার প্রতি ফিরল। দীপু বলল, আপনারা কথা বলুন সুনীতাদি, আমি একবার মাকে দেখে আসছি।

    দীপু চলে গেল। সুনীতা জিজ্ঞেস করল, আপনি বুঝি মিথ্যে কথা বলতে পারেন না?

    সুজিত ঘাড় নেড়ে বলল, না, আমার বুক ধড়ফড় করে।

    সুনীতা খিলখিল করে হেসে উঠল। তারপরে হঠাৎ থেমে বলল, সত্যি?

    সুজিত বলল, সত্যি না বললে যে আবার সেই মিথ্যেই বলা হবে।

    সুনীতা আবার হেসে উঠল। হাসি থামলে সুজিতের দিকে চোখ তুলে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁ, তখন প্রিয়নাথ দাশ আর কার কথা যেন বলতে যাচ্ছিলেন?

    রঞ্জন।

    রঞ্জন? রঞ্জনও এসেছিল আজ?

    সুনীতার চোখে-মুখে উত্তেজনার রক্তাভা লাগল। সুজিত বলল, হ্যাঁ, রঞ্জন এসেছিল।

    -কী বলল?

    –শিবেনকে বলতে এসেছিল, সে যেন আপনাকে বিয়ে করার চেষ্টা না করে। মুহূর্তেই সুনীতার চেহারা যেন সম্পূর্ণ বদলে গেল। ট্রেনে দেখা সেই তীব্র উত্তেজনা, তীক্ষ্ণ বিদ্রুপে, দুঃসহ ঘৃণায় যেন দপদপিয়ে উঠল। এবং পরমুহূর্তেই হাসিতে ফেটে পড়ল। সে হাসি অনেকক্ষণ ধরে বাজতে লাগল। সুজিতের মনে হল, এ হাসি স্বাভাবিক নয়, যেন হিস্টিরিয়ার অভিব্যক্তি। তার ইচ্ছা হল সুনীতাকে জোর করে ধরে ঝাঁকানি দিয়ে থামিয়ে দেয়। শান্ত হতে বলে। সে যেন স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছে, এ হাসির মধ্যে কোথাও এক বিন্দু সুখ নেই, আনন্দ নেই, একটা দুঃসহ ঘৃণা ও ব্যথা ঝরে পড়ছে। এ হাসি হাসতে সুনীতার কষ্ট হচ্ছে, অথচ এ হাসি আপনা থেকেই ওর ভিতর থেকে বিষের মতো উপচে পড়ছে। কিন্তু কিছু বলতে পারছে না সুজিত। একটি মেয়ের প্রাণান্তকর কষ্ট যেন তাকে অসহায় হয়ে দেখতে হচ্ছে।

    আস্তে আস্তে হাসির বেগ কিঞ্চিৎ প্রশমিত হলে, সুনীতা বলল, আপনি তো তা হলে আমার বিষয় সবই শুনেছেন।

    সুজিত বলল, তা কিছু কিছু শুনেছি

    জবাব শুনে সুনীতা আবার শার্সিভাঙা ঝনঝন শব্দে হেসে উঠল। তারপরে হঠাৎ থামল, যেন কেউ ওর গলা টিপে হাসি থামিয়ে দিল। বলল, কিছু কিছু মানে কী! আমার কী পরিচয়, আমাকে লোকে কী চোখে দ্যাখে, আমি কী চরিত্রের মেয়ে, সবই শুনেছেন আশা করি।

    সুজিত বলল, মোটামুটি।

    সুনীতা এক মুহূর্ত তাকিয়ে, সহসা ঈষৎ চোখ কোঁচকাল, ঠোঁটের কোণে বক্রতা দেখা দিল। বলল, মোটামুটি মানে, এই ধরুন আমি এক জন মস্ত বড়লোকের

    সুজিত তাড়াতাড়ি বলে উঠল, আপনি প্রিয়নাথ দাশের আশ্রিতা।

    –আশ্রিতা? ঠোঁট বেঁকিয়ে বলেই, সুনীতা আবার হেসে উঠল। বলল, খারাপ কথাকেও ভদ্র ভাষায় আপনি বলতে পারেন দেখছি।

    সুজিত বলল, আমি যা সত্যি বলে জানি, তাই বললাম।

    সুনীতা উচ্চারণ করল, যা সত্যি বলে জানেনা…সুজিতের দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে আবার বলল, আর আমি যে নষ্ট ভ্রষ্ট পুরুষদের সঙ্গে হোটেলে ক্যাবারেয় ঘুরে বেড়াই, সে খবর জানেন না?

    সুজিত বলল, শুনেছি, আপনি যা যা বললেন, সবই শুনেছি। কিছু কিছু কথা তো সেদিন আমি ট্রেনেই শুনেছিলাম, কিন্তু, তার মধ্যে আপনাকে চিনতে আমি ভুল করিনি।

    সুনীতা আত্মগতভাবে নিচু স্বরে উচ্চারণ করল, আমাকে চিনতে।…

    সহসা যেন সুনীতা চমকে উঠে বলল, হ্যাঁ, আপনি কেন আমাকে সেদিন ও কথা বলেছিলেন? আমার মধ্যে আপনি কোথায় খুঁজে পেলেন একজন অসহায় আর দুঃখীকে, আমাকে বলুন।

    সুজিত বলল, আমি তা ব্যাখ্যা করতে পারি না, কিন্তু আমি যেন তাই দেখেছিলাম, এবং এখনও তাই দেখছি।

    সুজিতের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে নিল সুনীতা। সুজিত আবার বলল, সত্যি বলতে কী জানেন, এ যেন অনেকটা নিজেকেই দেখার মতো।

    সুনীতা মুখ ফিরিয়ে তাকাল। বলল, নিজেকে দেখার মতো?

    সুজিত অনেকটা অবুঝ শিশুর মতো ঘাড় নাড়ল। এবং দুজনেই পরস্পরের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল।

    সুনীতা বিস্ময়-বিমূঢ় নিচু স্বরে বলল, আমি আপনার কথা যেন ঠিক বুঝতে পারছি না। বোঝবার মনটা যেন আমার ক্ষয়ে গেছে মনে হয়।…

    তারপর গলার স্বর একটু তুলে বলল, সেদিন ট্রেন থেকে নেমে তারপর আপনাকে অনেক খুঁজেছি, আমি যেন কেমন হয়ে গেছলাম আপনার কথা শুনে। কারণ আমি নিজেও জানি না। আমি অসহায় দুঃখী, আপনার কথা শোনার পর থেকেই ভয়ংকর অস্বস্তি হচ্ছিল, আর বারেবারেই মনে হতে লাগল, লোকটা কে? কে, কে? এমনকী, এ কথাও মনে হয়েছিল, সারাটা রাত্রিই গাড়িতে ভুল দেখেছি, আসলে আমি আর প্রিয়নাথ দাশ ছাড়া কোনও লোক ছিল না। মনে হয়েছিল, সমস্তটাই একটা ভৌতিক ব্যাপার। আমার কাছে যারাই এর মধ্যে এসেছে, তাদেরই বলেছি, সেই লোকটিকে আমার ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে, ভীষণ। কিন্তু সে লোকটা বোধ হয় আসলে লোক নয়, একটা বাতাসের বুকে ছায়া।…তারপরে আজ যখন দীপু এই স্কেচটা নিয়ে গেল আমার কাছে, বুকটা ধক করে উঠল। ও বলল, সুজিতদা এঁকেছে, মন থেকে। কে সুজিতদা? হঠাৎ যেন মনটা বলল, সে-ই কি? সেই লোক, যাকে আমি শেষ মুহূর্তে আয়নায় দেখেছিলাম? তৎক্ষণাৎ ওর সঙ্গে ছুটে চলে এসেছি।

    সুজিতের মুখে ওর সরল হাসিটি শিশুর মতো ফুটে উঠল। বলল, হ্যাঁ, আমি সে-ই!

    সুনীতা স্কেচ-এর দিকে একবার দেখে বলল, কিন্তু একি সত্যি মন থেকেই আঁকা? শুধু স্মৃতি থেকে?

    সুজিত বলল, তা ছাড়া আর তো কোনও উপায় ছিল না।

    –কিন্তু কী করে সম্ভব? কী করে, আমার জানতে ইচ্ছে করছে।

    সুজিত এক মুহূর্ত অন্যমনস্ক হল। তারপরে হেসে বলল, আপনি যেমন আমাকে খুঁজছিলেন, বোধ হয় আমিও তেমনি মনে মনে আপনাকে খুঁজছিলাম।

    খুঁজছিলেন?

    –হ্যাঁ, আর খুঁজে পেয়েছিলাম, কাগজের ওপরেই তা দেখতে পাচ্ছেন।

    সুজিত যেন খুশিতে হেসে উঠল। সুনীতা জিজ্ঞেস করল, কেন খুঁজছিলেন?

    সুজিত বলল, বুঝতে পারছিলাম না। মনটা কী রকম হচ্ছিল। আমি অনেক কিছুই বুঝতে পারি না, জানেন।

    –কেন?

    সুজিত তার অপরিণত মস্তিষ্ক, চিকিৎসা, বর্তমান অবস্থা, এবং অতীতের দুই-একটি কথা, সংক্ষিপ্তে সবই বলল।

    সুনীতা যেন গভীর অভিনিবেশে সমস্ত কথা শুনল। তারপরে বলল, ও, আপনি পিতৃমাতৃহীন?

    সুজিত বলল, হ্যাঁ, কিন্তু পরম ভাগ্য, আমি ভাল লোকের আশ্রয় একটা পেয়েছিলাম।

    এমন সময়ে কলিং বেল-এর শব্দ পাওয়া গেল। সুজিত বলে উঠল, শিবেনবাবু এলেন বোধ হয়।

    সঙ্গে সঙ্গে সুনীতারও যেন সহসা পরিবর্তন হল। বলল, হ্যাঁ। শিবেনকে আপনার কেমন মনে হয়?

    সুজিত বলল, এত চট করে কি বলা যায়।

    –ওরা আজ কী বলাবলি করছিল?

    –আপনার বিয়ের কথা। প্রিয়নাথবাবু আর বীরেন্দ্রবাবুর বোধ হয় ইচ্ছা, শিবেনের সঙ্গেই আপনার বিয়ে হয়।

    সুনীতার ঠোঁট বেঁকে উঠল। জিজ্ঞেস করল, কিন্তু রঞ্জনের সঙ্গে আপনার আলাপ হল কেমন করে?

    দরজা খুলতে গিয়েই ওকে আমি চিনতে পারলাম, তাই ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও আপনাকে ভালবাসে নাকি?

    সুনীতা নির্বাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল সুজিতের দিকে। সুজিত আবার বলল, রঞ্জন বলল, সে তা জানে না, মোটের ওপর আপনাকে ওর চাই।

    সুনীতা খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই অস্বাভাবিক, বিদ্রূপ আর ঘৃণা-মিশ্রিত তীব্র তীক্ষ্ণ হাসি।

    সুজিত বলে উঠল, কিন্তু আপনি বুঝি আটাশে মার্চ আপনার কথা দেবেন বলে জানিয়েছেন?

    সুনীতা উচ্ছ্বসিত হাসির মধ্যেই বলল, সে কথাও জানেন? সেদিন আপনিও আসবেন, আপনাকে আমি নিমন্ত্রণ করছি।

    –কিন্তু আটাশে মার্চেই কেন?

    বাঃ, সেদিন যে একটা শুভদিন, হিন্দু মতে সেদিন যে পাকা দেখার দিন। পাঁজি দেখেন না?

    বলতে বলতেই সুনীতা হাসির বেগে চৌচির হল এবং উঠে দাঁড়াল। বলল, হতে পারি খারাপ মেয়ে, ওরা আমাকে ছাড়বে না যখন, একটা দিন-ক্ষণ তো দেখতেই হবে।

    সুজিত বলল, খারাপ আপনাকে কে বলেছে?

    সুনীতার হাসি থামল। বলল, সবাই। যারা আমাকে চায়, তারা খারাপ জেনেই তো আমার চারপাশে ভিড় করেছে। একমাত্র তো আপনাকেই দেখলাম, যে আমাকে, আমাকে অন্যরকম দেখেছে।

    বলে আবার একটু হাসল সুনীতা। এবং দুপা দরজার দিকে এগুতে গিয়ে সুজিতের সামনেই দাঁড়াল।

    সুজিত বলল, একটা কথা বলব?

    -বলুন।

    –আপনার দরকার একটু শান্তি, একটু ভালবাসা।

    –ভালবাসা?

    সুনীতা পুনর্বার অজস্র হাসিতে ফেটে পড়ল, বলল, এই সমাজে, এই যুগে, আর আমার মতো একটা রূপসী আর বেওয়ারিশ মেয়ে, সমাজে যার দুর্নামে কান পাতা যায় না, তাকে আপনি শান্তি আর ভালবাসার কথা

    সেই হিস্টিরিয়াব্যাধির মতোই হাসতে হাসতে প্রায় সুজিতের শরীরের কাছে এলিয়ে পড়ল সুনীতা। আবার বলল, এই সমাজে যে মেয়েদের ভাল আশ্রয় আছে, তাদেরই বা কজনের জীবনে ওই বস্তু দুটো আছে? আপনি এই যুগের কিছুই জানেন না, ছেলে হয়েও এ যুগের পুরুষদের আপনি মোটেই চেনেন না।

    সুজিতের হাসির মধ্যে একটি করুণ ব্যথা ফুটে উঠল। বলল, তা হয়তো হবে। যুগের কথা আমি জানি না। আপনি আসার আগে, আমি এমন একটা আশ্চর্য অপরূপ দৃশ্য দেখেছি, মনে হল তার সঙ্গে যেন যুগের কোনও সম্পর্ক নেই, যেন সকল যুগের উর্ধ্বে। দেখে আমার মনটা কেমন করছিল, আনন্দে আরআর–ঠিক কী বলব, আমার যেন মনে হয় সত্যিকারের আনন্দের মধ্যে একটা ব্যথাও আছে, ব্যথার আনন্দ, সেইরকম, একটা সুখের ব্যথায়, আমি যেন কী রকম হয়ে গেছলাম, তাই অমনি করে বুক চেপে পড়ে ছিলাম।

    সুনীতা জিজ্ঞেস করল, কী সেই দৃশ্য?

    সুজিত বলল, আমি দেখলাম, যাঁদের বয়স হয়ে গেছে, যৌবন আর নেই, এরকম এক দম্পতিকে। স্বামী প্রায় বৃদ্ধ, স্ত্রীও তাই; তার ওপরে স্ত্রী সম্পূর্ণ রুগ্ন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, শুধু চোখের ভিতর দিয়েই কথা বলতে পারেন। আমি দেখলাম, সেই স্ত্রীকে বুকের কাছে ধরে স্বামীটি কী গভীর স্নেহে তাঁকে আদর করছেন, চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছেন, তুই বলে সম্বোধন করছেন, নিজের দুর্ব্যবহারের জন্যে ক্ষমা চাইছেন, আর স্ত্রীকে চুমো খাচ্ছে। আমি দেখলাম, স্বামীটির চোখে জল, স্ত্রীর চোখেও, কিন্তু গভীর বিশ্বাস ও শান্তিতে, দু জনের চোখেই আশ্চর্য মিষ্টি হাসি।

    সুনীতা সহসা রুদ্ধ গলায় বলে উঠল, আমাকে গল্প বলছেন?

    না, গল্প নয় সুনীতা, আমি দেখলাম, অসহ্য দুর্ভোগের মধ্যেও অবিশ্বাস্য সুন্দর ঘটনা।

    সুনীতা চকিতে এক বার সুজিতের চোখের দিকে তাকাল, তারপর যেন রুদ্ধশ্বাস ব্যাকুলতায় ছটফট করে উঠল। ফিসফিস স্বরে উচ্চারণ করল, কিন্তু এ গল্প গল্পই শুধু। এ আমি শুনে কী করব, কী করব! সুজিত, এ সব নেই, এ সব নেই। তুমি ভয়ংকর সরল বলে এ সব বিশ্বাস করেছ। তুমি আলাদা মানুষ।

    সুনীতা থামল, মুখ তুলল, ঘন সান্নিধ্যে ওরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে দেখল। পরমুহূর্তেই সুনীতা সহসা এগিয়ে দরজার বাইরে চলে গেল। থমকে দাঁড়াল এক বার। মুখ ফিরিয়ে তাকাল। স্কেচটা ওর হাতেই ছিল। নিচু স্বরেই বলল, সুজিত, তুমি কোথা থেকে এলে বুঝতে পারছি না। তুমি যা বলছ, সে সব বোঝবার মন বোধ হয় আমার নষ্ট হয়ে গেছে।

    বলতে বলতেই একটি চকিত যন্ত্রণার ছায়া পড়ল ওর মুখে। বলল, আশা করি, আবার তোমাকে দেখতে পাব। যাচ্ছি।

    বলে সুনীতা যেন ছুটে চলে গেল। সুজিত তাড়াতাড়ি ওকে অনুসরণ করল। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নেমেও ওকে আর ধরতে পারল না। ও ততক্ষণে গিয়ে ওর গাড়িতে বসেছে। বসা মাত্রই ড্রাইভার গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে দিল। সুজিত দরজায় দাঁড়িয়ে পড়ল। গাড়িটা বেঁকে বেরিয়ে যাবার মুহূর্তেই সুনীতার একটা হাত উঠল তারপর অদৃশ্য হয়ে গেল।

    সুজিত কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে, বিষণ্ণভাবে হাসল। দরজা বন্ধ করে নত মস্তকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। শেষ ধাপে উঠে চমকে তাকিয়ে দেখল, সামনেই দীপু দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার দৃষ্টিতে বিরক্তি ও বিদ্রুপের আভাস। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ানোর মধ্যেও একটা দুর্বিনীতের ভঙ্গি। কিন্তু সে হঠাৎ কোনও কথা বলল না।

    সুজিত বলল, তোমার দাদা এসেছেন?

    না। স্পষ্ট গম্ভীর জবাব দিল সে।

    তবে কলিং বেল বাজাচ্ছিল কে?

    একইভাবে জবাব দিল দীপু, পিয়ন এসেছিল।

    –ও! কিন্তু তুমি আমার দিকে ওরকম করে দেখছ কেন? কী হয়েছে?

    -কিছু না। বলেই কপালের চুল সরাবার জন্যে মাথাটা একবার ঝাঁকাল। সুজিত নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। দীপু হঠাৎ বলে উঠল, আপনারও তা হলে সুনীতাদিকে ভাল লেগেছে?

    সুজিত ফিরে বলল, মানে?

    –মানে জানি না। বলে সে বাড়ির ভিতরে চলে গেল হনহন করে।

    সুজিত এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে, হেসে উঠে বলল, পাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলিন্দ – সমরেশ বসু
    Next Article ত্রিধারা – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }