Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – কালকূট (সমরেশ বসু)

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প349 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – ১০

    ১০

    পাঁচিল-ঘেরা বাড়িটির উঠোনের কাছে এসে দেখি, লোকের ভিড়। বেশি নয়। অনেক নারী পুরুষ বসে বসে গল্প জুড়েছে। বোধ হয় বিশ্রাম নিচ্ছে। সামনে দেখি, মন্দিরে যার পট রয়েছে, দেখে মনে হলো গুরু নানক। পাশের সেবাইতও শুভ্র বেশধারী শিখ সম্ভবত। দেখলাম, চরণামৃত বিতরণ হচ্ছে।

    উঠানের মাঝখানে, ছাদ থেকে নামার মতো একটি সিঁড়ি-মুখের দরজার ভেতর দিয়ে পিলপিল করে অদৃশ্য হচ্ছে মেয়েপুরুষের দল। সামনে গিয়ে উঁকি দিলাম। কিছু দেখবার উপায় নেই। মানুষের ঠেলায় যেন ওই অন্ধ সুড়ঙ্গ গলে গলে পড়ছে। সিঁড়ি-মুখের কাছটিতে ভিড়ও হয়েছে বেশ।

    একটা ব্যাপারে অবাক হলাম। একটি অবাঙালি, রীতিমতো দশাসই চেহারার ভদ্রলোক সিঁড়ি-মুখের কাছে একবার এগুচ্ছেন আর পেছুচ্ছেন। তাঁর হাত ধরে, একেবারে বিপরীত রূপ কাঠিসার একটি মহিলাও আগেপাছে করছেন। এই সিঁড়ির মুখে ভিড়ের মধ্যে তাই নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে হাসির

    জিজ্ঞেস করলাম একজনকে, ‘কী হয়েছে ভাই?’

    শুনলাম, ওই বাবুজী এই সুড়ঙ্গে অবতরণে ভয় পাচ্ছেন। যদি দম আটকে মরে যান, কিম্বা মাটি ধসে চাপা-ই পড়েন।

    ভালো। কী দরকার নামবার! কিন্তু ওই তো মুশকিল। শুনলাম ভদ্রলোক বলছেন, ‘ভগবান আমার উপর বিরূপ, আমার কী উপায় হবে?’ আর অতবড় মানুষটাকে ‘ডরপুক’ অর্থাৎ ভীতু বলে একচিলতে মহিলাটি মুখঝামটা দিচ্ছেন।

    সাধ আছে, সাহস নেই। কিন্তু ভগবানের যা চরিত্র, তিনি যে নিচের অবতরণিকাকে আরোহণী করে নেবেন, তেমন সম্ভাবনা কম। সুড়ঙ্গের মুখটি যেরকম সরু ও অন্ধকার, সে যে হঠাৎ আলোয় মুখব্যাদান করে বিকৃত হয়ে উঠবে তাও বোধ হয় না। অতএব, ওই চলতে থাকুক।

    নেমে গেলাম ভিড়ের মধ্যে মিশে। সিঁড়ির মধ্যপথে গিয়ে মনে হলো, ভালো করি নি নেমে। মাঘ মাসের এই দারুণ শীতে ঘাম ছুটল শরীরে। নিজে চলছি নে। আমি একজনের পিঠে লেপটে আছি। আমার পিঠে আর একজন। যেন দলা পাকানো মানুষের একটা পিণ্ড। নারী পুরুষের বাছ-বিচার নেই। পেছনের চাপ আর-একটু বাড়লেই শেষ। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যদি মরিও, তবুও মাটিতে পড়বো না। এমনি দাঁড়িয়ে মরে থাকবো।

    চাপে পড়ে দ্রুত নিশ্বাসে কার গলার ঘড়ঘড় শব্দ উঠেছে। কে যেন ফোঁপাচ্ছে আঁতকে ওঠা চাপা গলায়। মনে হলো, ভালো করিনি। এ যে সত্যি-ই কূপ। পাতালপুরী। ফিরব, সে আশা দুরাশা। লৌহ-দরজা ভাঙা যায়, এই মানুষ-পিণ্ডের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। দেখছি উপরের লোকটির আতঙ্ক অলীক নয়।

    হঠাৎ একটু ঠাণ্ডা হাওয়া লাগলো গায়ে। কোত্থেকে এল? বাঁদিক থেকে একটি আলোর রেখা এসে পড়েছে ভিতরে। যেন দুর্ভেদ্য অন্ধকারে এসে পড়েছে সার্চ লাইটের আলো। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিনে স্থির হয়ে। ডান দিকে তাকিয়ে মনে হলো, কোনো এক অন্ধ পাতালপুরী থেকে মানুষ-জলের হোসপাইপ খুলে দিয়েছে কেউ। কিছু দেখতে পাচ্ছি নে। শুধু একটু বুঝছি, দূরে একটা আবর্তিত বন্যা ওদিক থেকে ছুটে এসে এগিয়ে চলেছে ওই সার্চ লাইটের দিকে। এই এক বন্যা। আমার পেছন থেকেও আসছে সিঁড়ি দিয়ে নামা জলপ্রপাতের ধারা-বন্যা। কোন্ দিকে যাই বন্যার মধ্যে! ছিন্ন বস্ত্র, ধূলি-মলিন কম্বল, ত্রিশূল, চিমটা, মতিবাঈ থেকে জর্জেট শাড়ির খসখস, স্বর্ণালঙ্কারের ঝিকিমিকি ঠিনিঠিনি, রঙিন উত্তরীয়, ধুতি ও কোট-প্যান্টের পরিপাটি, সবই ছিল। ছিল না শুধু স্বাভাবিক রূপ। তিক্ত ওষুধ গেলার মতো এক দুরূহ কাজে নেমে এসেছে সবাই। পেটে গেলেই নিরাময়। এখানকার কাজ শেষ করে একবার বেরুতে পারলেই স্বর্গের চাবিকাঠি আপনি এসে জুটবে পকেটে।

    দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। যেদিকে হোক চলা ভালো। দাঁড়িয়ে থাকলেই পেষাই। এখানে কী আছে, তাই তো জানি নে। শুধু শুনছি হনুমানজী আছেন। ডান দিকের মোড় নিয়ে, জিজ্ঞেস করলাম একজনকে, ‘এখানে হনুমানজী আছেন?’

    সে বললো, ‘জী বাবু!’কিন্তু কী আশ্চর্য, লোকটি ওর মধ্যেই আরম্ভ করলো, ‘হনুমানজীকে একবার এখানে লুকিয়ে থাকতে বলার আর দরকার ছিল না। কেন-না, রামায়ণের অনেক পরে নিশ্চয়ই সমুদ্রগুপ্তের কূপ তৈরি হয়েছিল। হনুমানের লুকিয়ে থাকার কোনো ইতিহাস তাতে থাকতে পারে না।’

    কিন্তু ভয়াবহ ভিড়ের মধ্যেও লোকটার খৈনিটেপা মুখে রামায়ণের বিচিত্র বুলি ঝাড়বার বাসনা দেখে অবাক হতে হয়।

    জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি এগুচ্ছ না কেন?’

    সে হেসে বললো, ‘মরতে?’ তারপর পকেট থেকে পয়সা বার করে ডান দিকে একটি জায়গা লক্ষ করে ছুঁড়ে দিল। দেখে বুঝলাম, ওইখানেই আছেন তিনি। ওইখানেই ঘূর্ণিজলের আবর্তের মতো নরনারীর রঙ-বেরঙ-এর মাথা পাক খেয়ে উঠছে।

    এগিয়ে গেলাম। অস্বীকার করবো না, পুণ্যার্থী নরনারী আমার তুলনায় ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষু। এগিয়ে গিয়ে অন্ধকার দেখলাম। মনে হলো, আমার ওভারকোটের বোতামগুলি পড়পড় করে ছিঁড়ে বেরিয়ে গেল। অসহ্য চাপে, মনে হলো কোটটা খুলে পড়েছে, টেনে নিচ্ছে কেউ গা থেকে। ঠোঁটের কোণে চোখের জলের মতো নোনতা ঘামের নির্ঝর এসে পড়ছে।

    তারপর টিমটিমে প্রদীপ, তৈলসিক্ত চত্বর, সিঁদুর, ক্ষয়িষ্ণু পাথরের মূর্তি, পাণ্ডা ও পয়সা, সমস্তটা মিলিয়ে মনে হলো, একটা বিচিত্র ছায়ার খেলা।

    বেরিয়ে এলাম তন্মুহুর্তেই। কার একটা হাত এসে পড়লো গলায়। পড়ুক। লক্ষ এখন সার্চ লাইট। যেন, মুমূর্ষর জীবনে এখনো আছে জীবনের সাড়, ওই আলোকরেখা।

    কার একটা হাত এসে পড়েছে কোমরের কাছে। ওভারকোটের বোতাম তবে খুলেই গিয়েছে। কিন্তু, কিন্তু একি? হাতটা যেন কাশফুলের মোলায়েম সুড়সুড়ির মতো পেটে বুকে হাতড়ে ফিরছে। তারপরেই আটকে পড়া বিছের মতো স্পর্শটি পিছলে নেমে এলো কোমরের নিচে। পরমুহূর্তে আবার বুকে। অন্ধ নাকি? ভিড়ের চাপাচাপি ও ঠাসাঠাসি। একরাশ রুক্ষ চুলের গোছা ঢেকে দিল আমার চোখের দৃষ্টি।

    কিন্তু, বুকে হাত? আমার যে সব ওই বুকে। আমার ছুটে আসা, আমার হৃদি-কুম্ভ-সায়রে ডুব দেওয়া, আমার অমৃতকুম্ভ যে ছোট্ট একটি চামড়ার ব্যাগে ভরা। এখানে মনের চেয়ে কাজ দ্রুত।

    কোনো বস্তু নয়, বুকের স্পর্শটি চেপে ধরলাম হাত দিয়ে। একটি হাত। নরম নয়, শক্ত কিন্তু ছোট। হ্যাঁচকা দিচ্ছে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। চকিতে চুলের গোছা সরে গেল চোখের কাছ থেকে। অস্ফুট আর্তস্বর। কালো ওভারকোটের তলায় একটি মুখ। একজোড়া চোখে চকিত আলোর মায়াদীপ্তি। সেই চোখে একই মুহূর্তে শঙ্কা ও ক্রোধ, হাসি ও ভিক্ষা মনে হলো, ছিন্ন ময়লা কাপড় জড়ানো ধুলো-মাখা একদল মেয়ে-বাহিনীর ব্যুহ আমাকে ঘিরে ঠেলে নিয়ে চলেছে। হাত ছাড়িনি। চেঁচাব কিনা ভাবছি।

    দাবি ও অনুরোধের যুগপৎ চাপা আর্তস্বরে শুনলাম, ‘ছোড় দো, ছোড় না!’

    স্বর আমার কানের কাছে। সেই ভয়ংকর টানাটানা চোখ আমার মুখের কাছে। চোখ নামিয়ে তাকালাম। পালতোলা নৌকা-আঁচল শাড়ি। লাল জামা। আর এই অসহ্য ভিড়ের মধ্যে ঠিক সেই মুহূর্তেই অনুভব করলাম, এক অব্যক্ত ভাষাহীন নরম ও বিচিত্র স্পর্শ আমার বুকে।

    সর্বনাশী! খনপিসির সর্বনাশী, ঝুসির ভয়ংকরী, ব্রজবালার আতঙ্ক ছেলেচোর। নিরালা মাঠের সেয়ানা পাখি।

    ছেলেচোর কোথায়! ও যে আসল প্রাণচোর। সর্বস্ব-চোর। আমার হৃৎপিণ্ডের খোঁজ করছিল মৃত্যুর মতো সর্বনাশী স্পর্শে।

    চকিতে কটাক্ষ বিলোল হলো। ঘন হলো স্পর্শ। এই ভয়ংকর পরিবেশে এক বিচিত্ৰ জড়ানো ও সানুনাসিক কণ্ঠ আমার সর্বাঙ্গ আচ্ছন্ন করে দিল, ‘ছোড় দো মেরী বাবু, ছোড় জী।’

    যে মুহূর্তে টের পেয়েছি, সে মেয়ে, সেই মুহূর্তেই শিথিল হয়েছে হাতের মুঠো। আমি ভদ্রলোক, আমার আত্মাভিমান আছে। ভদ্রলোক এবং পুরুষ, মনের কানায় কানায় আমার আছে সভ্যতার সংস্কার। আমার অর্থের প্রতি যার লোভ, তার প্রতি আছে ঘৃণা ও ক্রোধ। তবু মাঝারি ঘরের বাঙলার ছেলে, স্পর্শকাতরতা আমাদের পায়ের তলা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত। বয়সের তারুণ্য ও উদারতা বাস্তব মানে না নিয়ত। সেখানে বিচিত্র রঙে রঙমহল। তা ছাড়া নারী। নারী নামে ধিক্কার দিচ্ছি নে। নিজের মনকে ফাঁকি দেব কোথায়! হাত আপনি শিথিল হলো। আমার ঘর্মাক্ত মুঠো। সর্বনাশী ছিটকে গেল মুহূর্তে। আমি আশ্রমের দিকে এগিয়ে গেলাম।

    আশ্রমে আলোর ছড়াছড়ি খুব। মঞ্জুটিও রীতিমতো সুসজ্জিত। আঙিনায় চোট ছোট গাছের সারি দিয়ে আঁকা হয়েছে ভারতবর্ষ।

    ঢুকতে গিয়ে বাধা। জুতো রেখে যেতে হবে। কার কাছে? সে ভাবনা নেই। তার জন্য লোক আছে। জুতো দিন, নম্বরমারা কার্ড নিয়ে যান। কার্ডটি ফিরিয়ে দিলেই জুতো। সেই ভালো।

    মঞ্চে গান হচ্ছে। সুরটি ভজনের অনুরূপ। যারা গান করছেন তারাও রীতিমতো সুবেশ তরুণ। কিন্তু ভাষা দুর্বোধ্য। শ্রোতার চেয়ে বেশি শ্রোত্রী। যদি পাপ না হয় তবে বলি, এখানে রূপের বড় ছড়াছড়ি। রূপে ও পোশাকে দশ দিক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আশ্রম-প্রাঙ্গণের। তার উপরে তীব্র আলোয় রূপের বাড়াবাড়িও হয়েছে। আশ্রমের সুদীর্ঘ ঘেরাওয়ের মধ্যে বহু ঘর। কল্পবাসীদের নিঃসন্দেহে। কিন্তু কল্পবাসিনীরা যেন বড় বেশি চুমকি বাহার ও হীরে-জহরতের আলোয় পথ দেখে চলেছেন।

    মুখে ছিল সিগারেট। একটা বিরক্ত ও গম্ভীর কণ্ঠ ঝঙ্কার দিয়ে উঠলো কানের কাছে, ‘বাঙালিবাবু?’

    কণ্ঠস্বরে কিছু টান ও বিসর্গযুক্ত ইতি। পাঞ্জাবীদের মতো খানিকটা। ফিরে দেখি, মস্ত বড় পুরুষ, গৌরমূর্তি, গৈরিক বেশ। মাথায় চুলের রাশি, নাকে কাপড়। সারা মুখে অত্যন্ত বিরক্তি।

    ফিরতে বললো, ‘ফেক দিজিয়ে সিগারেট। মহারাজলোগ্ হরবখত যানা আনা করছেন, তাঁদের নাকে বাস লাগলে আপনার নরকবাস হবে।’

    চমকে প্রথমে সিগারেট নেভালাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন, শিখদের আশ্রম?’

    সিগারেট নেভাতে দেখে সে একটু বোধ হয় খুশি হল। বললো, ‘না। তবু এ আশ্রমের মহারাজ ওটা পছন্দ করেন না। তাছাড়া শিখভক্ত এখানে সব সময় আসে। আপনারা হরটাইম সিগারেট পিনেসে কৈসে চলেগা! আপলোগ কিসীকো ধরম নেহি মান্তা।’

    আপলোগ মানে কৌন লোগ? বাঙালি কি? তেমনই যেন খোঁচাটি। কার ধর্মে সে বাধা দিয়েছে? জিজ্ঞেস করলাম, ‘উও ক্যায়সে, মহারাজ?’

    প্রশ্ন শুনে একটু বিব্রত হলো সে। হঠাৎ সে বললো, ‘ওইসা শুনতা হ্যায় বাবুজী। কোলকত্তা কভি নহি দেখা। মগর, উনলোগ বড়ি জাদা সিগ্রেট পিতেঁ হ্যায়।’

    প্রতিবাদ নিরর্থক। পালটা অভিযোগ অনেক তোলা যায়। তুলব কার কাছে? যাক। দেখে যাই। সাধু নিজে ধূমবিরোধী। তাই বিরক্ত। কথার দরকার ছিল না, বললেই নিভিয়ে তার মনস্তুষ্টি করতে পারতাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা কোন্ আশ্রম, মহারাজ?’

    বললো, ‘সাধুবেলা আশ্রম।’ বলে, নিজেই চমৎকৃত হয়ে ফিরে আবার বললো, ‘হিন্দুকো সবসে বড়িয়া আশ্রম বাবুজী। পাকিস্তানের এলাকায় পড়ে এখন বেনারসে আশ্রয় নিয়েছে। লাখ লাখ টাকা আশ্রমের সম্পত্তি। শ’ শ’ আদমি আগে খেত সাধুবেলা আশ্রমে।

    লাখ টাকার ঔজ্জ্বল্য আছে সন্দেহ নেই। নেই মিষ্টি ও উদার হাসির স্নিগ্ধতা। জুতো নিয়ে বেরুতে গিয়ে গেটের কাছে চোখ পড়লো, রিডিংরুম। মনটা প্রফুল্ল হলো। টেবিলের উপর অনেক পত্র-পত্রিকা। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক। রাজনীতি, সিনেমা ও সাহিত্য সবই আছে। ইংরেজি, হিন্দি উর্দু, তামিল, মারাঠী, ওড়িয়া সবই আছে। অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেও পেলাম না বাংলা কাগজের একটি টুকরো। কেন, বুঝলাম না। যাকে নইলে চলবে না, শুধু সে-ই নেই?

    বেরুবার মুখে একজন বাড়িয়ে দিল খাতা ও কলম। দর্শকের স্বাক্ষর। আপত্তি কী? অনেক প্রদেশের বিচিত্র অক্ষরমালার মধ্যে বাঙলায় লিখে দিলাম নিজের নামটি। নিচে লিখলাম, বাঙলাদেশ।

    এ আমার প্রতিবাদ নয়। নয় মনের বিরূপতা। অনেকের মাঝে এ শোভার আধার বাঙলা ভাষা, এ লেখনে শুধু সেই তুষ্টি। রূপের মাঝে অপরূপকে দিলাম বসিয়ে।

    বেরিয়ে এসে সোজা পাড়ি পশ্চিমোত্তর কোণে, যেখানে আলোর সারি ও লোকের ভিড়। কিছুটা আসতেই এক বিরাট বাহিনী। নেতৃত্ব করছে পাঁচুগোপাল। পাঁচ-বদ্যি। চোখ বটে তার! দেখেই হুঙ্কার দিল, ‘আই য্যা! চাঁদ, কোথায় ছিলে সারাদিন, অ্যাঁ?’

    শোনো এবার বাঙলা কথা। হকচকিয়ে বললাম, ‘কোথায় চললেন?’ সে কথার জবাব না দিয়ে সে বললো, ‘খুড়ি, এই যে তোমার ছিরিমান। হাঁকপাক করছিলে, কোথায় গেল। এবার জিজ্ঞেস করো।’

    তাই তো। তাকিয়ে দেখি, আশ্রমের সমস্ত বাঙালি সবলা ও অবলা যে আজ বেরিয়ে পড়েছে আশ্রম খালি করে! কম করে জনা পনেরো তো বটেই। তার মধ্যে কী অপরূপ! পাঁচ-বদ্যির গা ঘেঁষেই খনপিসি। শুনেছিলাম, দুই শক্তি একত্রিত হলে বিস্ফোরণ অনিবার্য। কি চাপা জ্যোৎস্নালোকে দেখলাম, শাল-জড়ানো শীতে কাঁপা খনপিসির মুখখানি বেশ প্রশান্ত। খালি বললো, ‘সেই ছেলেটা না?’

    আর একজন বললো, ‘হ্যাঁ।’

    দিদিমা বললো, ‘খেয়েছ কিছু সারাদিনে?’

    মিথ্যে বলতে হলো। বললাম, ‘হ্যাঁ, খেয়েছি।’

    পাঁচুগোপাল বললো, ‘তবে খাওয়া মুখখানি অমন শুকু-শুকু দেখাচ্ছে কেন?’

    বললাম, ‘অনেক ঘুরেছি কিনা।’

    প্রায় ভেংচে উঠলো পাঁচুগোপাল, ‘থাক, আর পাক দিতে হবে না। পড়েছ বোধ হয় কোনো মায়াবীর পাল্লায়? খবোদ্দার, মরবে। চাঁদপানা মুখ দেখবে আর জানটি নেবে, এর নাম কুম্ভমেলা, বোয়েচ? হ্যাঁ।’

    না বুঝে উপায়? তার কথার প্রতিবাদ করছি নে আর।

    খনপিসি বললো, ‘নেও, চল বাপু। গায়ের মধ্যে কাঁপুনি দিচ্ছে। কাল আবার পুন্নিমে! আজই এত শীত, কাল না জানি কী হবে!

    পাঁচুগোপাল বললো, ‘চল চল।’

    হুকুমটা আমাকেই করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় ঘুরলেন?

    চাপা গলায় বললো, ‘নরকে। ঘোরার কি শালা মাথামুণ্ডু আছে?’ গলা ছেড়ে বললো, ‘রামকৃষ্ণ আশ্রম গেলুম, আনন্দময়ী দর্শন করলুম।’

    চলতে চলতেই কানে এলো, দিদিমা বলছে, ‘খায়নি তার আমি কী করব, ঘরে-বাইরে কি আমি এই করতেই আছি যে একজনকে না একজনকে চিরকাল ডেকে ডেকে খাওয়াতে হবে? তুই ধরে বেঁধে খাওয়ালেই পারতিস?’

    পাশ ফিরতেই চোখে পড়লো ব্রজবালার মুখ। জ্যোৎস্নালোকে দেখলাম। তার অভিমানক্ষুব্ধ দৃষ্টি। চোখে চোখ পড়তেই ঘোমটা টেনে আড়াল করলো মুখ।

    কিশোরী হলেও হৃদয় যে তার রাঙা। মনে মনে বলি, সই বৌঠান আমার বোন! দিন যাচ্ছে, শেষ হয়ে আসছে দেখাদেখির পালা। ঘর থেকে এসেছে দূরে। তবু ঘরের হৃদয়, মন আর চোখ ফিরছে সঙ্গে সঙ্গে, পথে পথে। কে এক পথের মানুষ আত্মীয়তা পাতায়। তাকে ঘিরে রাগ হাসি। তার না-খাওয়ার জন্য অভিমান। নিষ্ঠুর ও তিক্ত জীবনে বুঝি এই লোকগুলিই জীইয়ে রেখেছে আমাদের মানবিকতা!

    সারা রাত ঘুম হলো না। শীত তো ছিলই। তার উপরে সারা রাত ধরে লোকের চলাফেরা কথাবার্তার বিরাম নেই। কাল পূর্ণিমার স্নান আছে সঙ্গমে। স্নানার্থীদের আগমন হচ্ছে। কিন্তু সে কি সারা রাত ধরে? শুধু তাই নয়। জানি নে কিসের এত গান। তাঁবু-কোটরের শীতেই আমরা আধখানা। আর বাইরে স্নানার্থীদের শীত-কাঁপা মিলিত গলায় গানের শেষ নেই। বুঝতে পারছি, সব দলে দলে আসছে। শুনেছি, সঙ্গমে ভিড় হবে সাংঘাতিক। তাই রাত থাকতেই সবাই ভিড় করেছে এসে আশেপাশে। স্নানের সময় বাঁধা আছে পাঁজি পুঁথিতে। ঠিক সময়টিতে ডুব দিতে না পারলেই ফসকা গেরো। বুঝতে পারছি, দিদিমারও ঘুম নেই চোখে। মাঝে মাঝে তন্দ্রা আবার ভেঙে যাচ্ছে। ঠাকুরের নাম নিয়ে জেগে থাকার প্রয়াস শোনা যাচ্ছে ভাঙা গলায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পৃথা – কালকূট (সমরেশ বসু)

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }