Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – কালকূট (সমরেশ বসু)

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প349 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – ৭

    ৭

    রোদ উঠেছে। রোদ তো নয়, যেন কাঁচা সোনা। শীতে অড়ষ্ট শরীরটি যেন কার দুই উয় বাহুতে ধরা পড়ল। সরে গিয়ে দাঁড়ালাম বেড়ার সামনে একলা একলা, খানিকটা রোদ ভোগের জন্য। সরু সরু তল্লা বাঁশের বেড়া। বেশ খানিকটা ফাঁক ফাঁক।

    রাতে মেলা, দিনে মেলা। মেলা দেখছি অষ্টপ্রহর জেগেই আছে। এর মধ্যেই ভেসে আসতে আরম্ভ করেছে মাইক-নিনাদ। মানুষের ভিড় দেখতে পাচ্ছি চারিদিকে। ভিড় যেন একটু বেশি বেশি লাগছে। এর মধ্যেই টাঙ্গাওয়ালার চিৎকার, গাধার ভেঁপু, লরি আর প্রাইভেট কারও দু-চারটে ছুটতে দেখা যাচ্ছে বালুচরের রাস্তায়। বালুচরে রাস্তা তৈরি হয়েছে। বালুর বুকে সাজিয়ে দিয়েছে বিচুলির মতো একরকম ঘাস। তার উপরে মাটি। কিন্তু মাথা খারাপ হয়ে যায় ভাবলে, ওই রাস্তার উপরেও ঝাড়ু, হাতে কেন ঝাড়ুদারনীদের উৎপাত। ধুলো ওড়া তো আছেই। মাটিটুকুও যে বালিতেই মিশে যাবে।

    ঘোমটা খসা একদল মেয়ে চলেছে বেড়ার পাশ দিয়ে। কেউ কেউ গান করছে গলা ছেড়ে, কেউ হাসছে খিলখিল করে। মস্ত মস্ত গাই-গোরু নিয়ে চলেছে গোয়ালা। হাঁকছে, ‘দোধ, দোধ চাহি।’ আর ‘গরম গরম দোধ’ হাঁকছে, বড় বড় হাঁড়ি কাঁধে দুধ-ওয়ালারা। মুখে গুঁজেছি টুথব্রাশ। এ সময়ে একটু চায়ের হাঁক শুনতে পাইনে?

    ‘বাবু! মেরী বাবু।’

    চমকে উঠলাম নারীকণ্ঠে! একেবারে কাছে। ব্যাকুল আর ব্যস্ত কণ্ঠ। চকিত ত্রস্ত।

    ‘বাবু, মেহেরবানি বাবু।’

    বলতে না বলতেই গায়ে এসে ঠেকল হাত। বেড়ার ফাঁক দিয়ে। ময়লা হাত, কিন্তু ফর্সা, কিছুটা তামাটে। নখে ময়লা। কিন্তু সরু সরু পুষ্ট আঙুল। মণিবন্ধে কয়েকটা রঙিন কাচের চুড়ি।

    তাকিয়ে দেখি, একটি মেয়ে। এলো চুল ঘাড়ের পাশে ছড়ানো। পাশ দিয়ে উঠেছে ছোট্ট ঘোমটা। চোখের অস্থির তারা দু’টিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। ঠোঁটের কোণে হাসি। সরু নাকে ময়লা পেতলের নাকছাবি। সকালের রৌদ্রদীপ্ত মুখে পড়েছে বাঁশের বেড়ার ছায়া। ছায়ার ঝিলিমিলি।

    জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী চাও?’

    আঙুল দিয়ে টিপুনি দিল গায়ে। আর এক হাত স্পর্শ করলো কপালে। ঠোঁটে যেন এক নতুন রোশনাই। একটি বঙ্কিম ঝিলিক চকিতে দিল দেখা। ওই হাসিকে কী নাম দেওয়া যায়, জানি নে।

    হাসি মুখে করুণ স্বরে বললো, ‘দুঠে পাইসা, মেরী বাবু।’

    পয়সা। অর্থাৎ ভিক্ষে। তাই ভালো। ভেবেছিলুম, না জানি কী ঘটতে চলেছে! ভিক্ষে চাওয়ার এ কি রীতি?ঠোঁটে হাসি, চোখে আলো। গায়ে হাত। ভিক্ষের কারুণ্য কোথায়? গলায়? সেটুকু আব্দার বললেই বা ক্ষতি কী?

    পকেটে হাত দিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম তার আপাদমস্তক। শাড়িখানি মিলের, কিন্তু পাতলা। পালতোলা নৌকো চলেছে কালো পাড়ের ঢেউ তুলে। পরেছে কুঁচিয়ে, ডানদিকে আঁচল এলিয়ে। গায়ে লাল টুকটুকে সস্তা কাপড়ের জামা। একহারা গড়ন। পুষ্ট দেহ। একটু বা বন্য।

    ভিখারিনী বটে! পকেটে হাত দিয়ে পয়সা-না-তুলতেই কানে এলো আর্ত চিৎকার, ‘ওগো। সমলাও সেই সর্বনাশী এসেছে গো, সেই হারামজাদী।’

    পরমুহূর্তেই নারীবাহিনীর কলকণ্ঠের কোরাস। ঘটনাটা কলের কাছেই। ফিরে তাকাবার আগে হাতে উঠে এলো দুয়ানি একটি। সেটি ভিখারিনীকে দিয়ে ফিরে তাকাতেই সামনে দেখি নারীবাহিনী। আমি ব্যুহমধ্যে বন্দী। আর বেড়ার বাইরে তীক্ষ্ণ নারীকণ্ঠের হাসি, যেন সমস্ত কোলাহলকে খান খান করে হারিয়ে গেল বালুচরে।

    প্রথমেই, সেই বিপুলকায়া খনপিসি ঠেলে এলো সামনে। বললো, ‘ভিক্ষে দিয়েছ বেটিকে?’

    সমস্ত ঘটনাটি ঘটল এত চকিতে যে, ঠাহর করতে পারলাম না কিছু। খনপিসির ভয়ংকর মুখের দিকে তাকিয়ে হকচকিয়ে গেলাম। চারিদিকে ক্ষুব্ধ সন্দেহান্বিত কৌতূহলী রকমারী মুখ। কোতোয়ালজীও ছুটে এসেছে।

    খনপিসি মুখখানা আরও ভয়ংকর করে জিজ্ঞেস করলো, ‘দিয়েছ কি না?’

    ভিক্ষে চেয়েছে। মন চেয়েছে দিতে। দেব না কেন? খানিকটা ঝিমুনো সুরেই বললাম, ‘হ্যাঁ দিয়েছি।’

    ‘কত?’

    ‘দু-আনা।’

    ‘দু-আ—না!’ খনপিসি চোখ কপালে তুলে খালি বললো, ‘মুখ দেখে দিয়েছ বুঝি?’ রীতিমতো ভৎসনার সুর তার গলায়।

    ‘মুখ দেখে নয়। আপাদমস্তক দেখেই দিয়েছি। কিন্তু অপরাধ?’

    একটি নারীকণ্ঠের চাপাধ্বনি, ‘মা গো! কী বলে দিলে?’

    সামনে দেখি ব্রজবালা। দিদিমা। সকলের চোখেই অবাক দৃষ্টি।

    ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হয়েছে?’

    খনপিসি ঝামটা দিয়ে উঠলো, ‘কী হয়েছে? ও হারামজাদী যে নষ্ট মেয়েমানুষ, চোর, সর্বনাশী, তা জানো না?’

    সর্বনাশী? ও। সে-ই, শুধু চোর নয়, ছেলে-চোর মেয়ে! সর্বনাশ! তা জানবো কী করে? ভুলেই গিয়েছিলাম। তাই তো, মুখে যে অনেক সর্বনাশের দ্যুতি ছিল।

    তাকিয়ে দেখি, ছি ছি! সকলের চোখে ছিঃ ছিঃ কারোর তীক্ষ্ণ খোঁচা। তবু, দেখে ভোলবার অবসর পাই নি। কোনোরকমে ভিক্ষে দিয়েছি মাত্র। কিন্তু মূঢ় বিস্ময়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কী বা উপায় আছে আমার

    জীবনে এমন বিব্রতবোধ আর কখনো করেছি কিনা, মনে পড়ে না। তাও ভিক্ষে দিয়ে। আগে জানলে পয়সা দিয়ে কে ওই মহৎ কাজটুকু করতে যেত! মহত্ত্বের অমৃতে যে এত বিষ ছিল, তা জানতাম না। জানতাম না, আমার মধ্যে গোপন ছিল এত কলঙ্ক। কালিমা তার ফুটে বেরুবে এতগুলি মহিলার তীক্ষ্ণ চোখের ধিক্কারে।

    মুখ থেকে ব্রাশ নামিয়ে, একটা কিছু বলে ব্যাপারটার ইতি টেনে দিতে গেলাম। হলো না। ততক্ষণে গুঞ্জনের গতি পরিবর্তিত হয়েছে। বলবো কাকে, শুনবে কে! আলোচনা চলছে নিজেদের মধ্যে, কার চোখে প্রথম ধরা পড়েছিল এ দুর্ঘটনা। যে যা-ই বলুক, খনপিসির চোখেই যে প্রথম ধরা পড়েছিল, সেটা প্রমাণ করে দিল তার বিপুল দেহ ও সর্বোচ্চ কন্ঠ, ‘ওমা! জল ভরব কী? তাকিয়ে দেখি, ছুঁড়ি ফিকফিক করে হাসছে আর কী বলছে

    যত বলে, ততই সকলের ধিকৃত নজর যেন একরাশ তীরের মতো এসে বেঁধে আমার সর্বাঙ্গে। যেন প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, সর্বনাশের দাগ আছে আমারও গায়ে। আমার চোখে মুখে আমার সর্বাঙ্গে। কারো কারো খ্যাতিকে অকলঙ্ক বলে। কেউ কুখ্যাত হয় কলঙ্কের ডালি মাথায় নিয়ে। এ দু’দিনের মধ্যে বড় একটা চোখে পড়িনি কারুর। আজ সকালের এ সামান্য ঘটনা আশ্রমের সকলের সামনে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাকে। বিশেষ করে বাঙালি মহলে। তার চেয়েও বেশি নারীমহলে। এমন জাদুকরী ক্ষমতা শুধু কলঙ্কেরই আছে। তাই তো। দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর করতে সময় লাগে। লেবুর ফোঁটায় ছানা কাটে চকিতে।

    ফিসফিস হলো, খিলখিল হলো। সাড়া পড়ে গেল। কে আমি, কোথাকার ছেলে। কার সঙ্গে এসেছি, থাকি কার কাছে! কেন-বা এসেছি এ-ভরা বয়সে!

    জটিল প্রশ্ন, কূট তর্ক, সন্দেহ নেই। অথচ আশ্চর্য! ভিক্ষেই দিয়েছি। সর্বনাশীর মুখখানা তো মনে পড়ে না। কানে ভাসছে শুধু তার নির্ভীক তীক্ষ্ণ হাসি।

    বলরামের হাসিতে ছিল এক বিচিত্র আনন্দ। শ্যামার হাসিতে চাপা বেদনার ছটফটানি। আর এ হাসি! যেন দুস্তর তেপান্তরের সেয়ানা পাখির ডাক। ডাকে তার আচমকা অট্টহাসি, কে হো কে হো করে ওঠে। একলা পথিক চমকে তাকায় ফিরে। নিরালা ধুধু মাঠের অদৃশ্যচারিণী ভয়ংকরী খেলায় মাতে পথিককে নিয়ে।

    ভাবি, যদি সে মেয়ে না হয়ে পুরুষ হতো! চোর হোক, না হয় যদি হত মেয়ে-চোর-ই। হত যদি তেমনি এক সর্বনেশে! তবে কি এমনি করে সবাই মিলে খাউ খাউ করে আসত আমাকে?

    ইস্! তাকানো যায় না ব্রজবালার চোখের দিকে। তার কিশোরী চোখে পরিষ্কার, ছি ছি তোমার মনে এই ছিল! আর ডেকো না আমাকে বৌঠান বলে।

    যাওয়ার আগে বলে গেল তার দিদিমা, ভিক্ষে দেওয়ার আর লোক পেলে না?

    কোতোয়ালজী হাসল একটু বাঁকা মিঠে হাসি। একটু সমবেদনার আভাস। বললো, ‘সাংঘাতিক মেয়ে মশাই। চিতা-বাঘিনীর মতো। চলে ডালে ডালে, পাতায় পাতায়। দৈনিক এমনি মেয়ে পুরুষ কত ধরা পড়ছে জানেন? পঞ্চাশ ষাট তো বটেই। একশ’ জনও হয়। মেলায় সব ওত পেতে আছে। একটু অসাবধান হয়েছেন তো, গেল।’

    তারপর একেবারে অ-সন্ন্যাসীজনোচিত হেসে বললো, ‘ভাল লোককেই পাকড়েছিল।’ বলে, একটু অর্থপূর্ণ হাসি হেসে চলে গেল। কী ভাগ্যি, প্রহ্লাদ কিংবা পাঁচুগোপাল নেই। তাহলে সমালোচনার ভাষা আর একটু সরস হত নিঃসন্দেহে।

    ধন্য সর্বনাশী। ঝুসির সর্বনাশী। তাড়াতাড়ি ফিরতে গেলাম তাঁবুর দিকে। কলের দিকে যাওয়ার দুঃসাহস আর হলো না। ফিরতে গিয়ে থামলাম।

    সামনে শুধু দু’টি অতিকায় মুগ্ধ চোখ। পথরোধ করেছে একটি মহিলা। ঘাড় হেলিয়ে রয়েছে মুখের দিকে। চোখে নজর কম। তাই, নজর চড়াতে গিয়ে ঠোঁট দু’টি বেশ খানিকটা ফাঁক হয়ে গিয়েছে। মোটা লেন্সের আড়ালে চোখ দু’টি অস্বাভাবিক বড় হয়ে উঠেছে। বলিরেখাবহুল ফর্সা মুখ। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। পাকা অংশই বেশি। পরনে থান। ফিরতে গেলাম। বললো, ‘দাঁড়াও বাবা।’

    ঘরপোড়া গোরুর চোখে সিদুরে মেঘ। দাঁড়ালাম। কী বলবে আবার! বললাম, ‘কী বলছেন।’ জবাব পেলাম না। দেখলো খানিকক্ষণ অমনি করে। তারপর কোমল গলায় বললো, ‘বেশ করেছ। এখানে এসে দেবে না তো, কোথায় দেবে? আর দিয়ে আনন্দ ভোগ করে কজনা?’

    অবাক হলাম। চকিতে মনটিও উঠলো ভরে নতুন আবেশে। চারিদিকে এত সন্দেহ ও ভর্ৎসনা, নিজের দুঃখ ও বিদ্রুপ-হাসির মধ্যে গুটিয়ে ছিল মনের পাপড়ি। তা যেন নতুন রসে হাওয়া ও রৌদ্রে মেলে দিল দল। কলঙ্কে লাগলো গৌরবের স্পর্শ। মুখ ফুটে বলতে পারলাম না কিছু।

    সে আবার বললো, ‘যে দিতে পারে না, তার চেয়ে দুঃখী এ সংসারে কে আছে বল তো বাবা।’

    বলে সে তাকালে, লেন্সের আড়ালে তার সেই বিশাল দু’টি চোখ মেলে। একটি লেন্স আবার ফাটা। দেখলাম, তার সেই চোখ দু’টি যেন জলভারে টলমল করছে। অথচ সপ্রশ্ন দৃষ্টি। সামান্য কথা, কিন্তু কী জবাব দেব, ভেবে পেলাম না।

    বোধ হয় পানদোক্তা খায়। ঠোঁট দুটিতে লাল ছোপ। গায়ের রঙটি বেশ ফর্সা। আবার হেসে বললো, ‘যে দেয়, সে-ই তো নেয়। সংসারে সবাই আসে দিতে। দিতে আর নিতে। আগে দেও পরে নেও, না-কি বল বাবা, অ্যাঁ? মা ছেলেকে দেয়। আবার ছেলের কাছ থেকে মা হাত পেতে নেয়। বসুমতীকে তুমি দেও, মা বসুমতী তোমাকে দেবে ঘর ভরে। বিদ্বানে তো বিদ্যা দেয়। দেওয়ার চেয়ে সুখ কী আছে?’

    মন ভরে উঠলো সঙ্কোচে, আত্মধিক্কারে। ভিখারিনীকে দু-আনা ভিক্ষে দিয়েছি। কিন্তু এত বড় দেওয়া, এত মস্ত দেওয়া তো দিই নি জীবনে কোনদিন। সংসারকে কিছু দেওয়া, সে তো আসল দেওয়া। সে দেওয়ার কানাকড়িটি আছে কিনা নিজের কাছে তা-ই জানি নে। দেব কি! যার আছে থলি ভরতি, সে দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি ফিরছি শূন্য থলি নিয়ে। ভরব বলে। পাব বলে। পেলেও দিতে পারে কজন? পাওয়ার গুমরে মন যে ঠুটো জগন্নাথ সেজে বসে থাকে।

    কী কথার থেকে কী! কোন্ দেওয়ার থেকে কোন্ দেওয়ার কথা। একেবারে মাটি থেকে আকাশে। সীমা থেকে অসীমে। আপনি খাটো হয়ে এলো, নুইয়ে এলো মাথা।

    সে আবার বললো, ‘দেওয়ার সুখ আছে, বড় ঘেন্নাও আছে বাবা। দিয়ে যার মাটিতে পা পড়ে না। দিয়েছি তো মাথা কিনেছি। দ্যাখো, ক-ত্তো দিয়েছি। ওই হলো ঘেন্না। আবার যার আছে, সে দিতে জানে না। দেওয়ার রীতি জানে না। সে বড় অভাগা। আমি তো এই বুঝি। তুমি কী বল বাবা, অ্যাঁ?’

    কী বলব! চোখে তার সেই মুগ্ধ সপ্রশ্ন দৃষ্টি। একটু যেন আত্মভোলা। কণ্ঠে সেই কোমলতা। সকলের আড়ালে কোথাও দাঁড়িয়েছিল সে, আমার দু-আনার দানকে গৌরবান্বিত করবে বলে। তার নাম জানি নে, ধাম জানি নে। থুথুড়ে বুড়ি হলে মনে আসে ঠাকমা দিদিমার কথা। সে তা নয়। যেন খানিকটা মায়ের মতো। কথা তার মায়ের চেয়েও বড়। তার গৌরবে ও সম্মানে যে আমি বাক্যহারা। কী বলব!

    বললাম, ‘যা বলেছেন। এর বাড়া আর কি বলব?’

    সে তাড়াতাড়ি অসঙ্কোচে আমার হাত ধরে বললো, ‘না না, অমন কথা বোল না বাবা। এখেনে এয়েছেন কত বামুন-কায়েতের মা-বোনেরা। আমার কথার বাড়া সংসারের বড় কথা। ছোট কথাটিও। আমি গয়লার বেটি, গয়লার বেধবা। ছেলে আমাকে যা-ই বলুক আমি গয়লার মা। লোকে আমাকে হিদে গয়লার মা বলে জানে।’

    মনে মনে বললাম, জানুক। যে-হিদে গয়লার-ই মা হোক সে, ‘হিদয়ে’ যার সবকিছু সঁপে দেওয়ার অমন ব্যাকুলতা, তার চেয়ে হৃদয়বতী কে আছে! ভাবি, জানি নে হিদের মা কী দিয়ে কত দিয়েছে। কিন্তু যে অমনি করে বলতে পারে, সে দিতেও পারে। তার কথার বাড়া আর কি কথা আছে!

    হাত-ধরা হয়ে রইলাম হিদের মা’র। নড়তে পারলাম না। ওদিকে বুঝতে পারছি, খনপিসি বাহিনী দেখছে এ আদিখ্যেতা। তাদের মধ্যে ঘোরতর আলোচনা চলেছে এ নিয়ে। তারপর হিদের মা বললো, ‘তোমাকে বড় ভালো লাগছে বাবা। দিও বাবা, মন চাইলে, থাকলে অমনি দিও যত খুশি।’

    বলে, আবার জিজ্ঞেস করলো, নামধাম পরিচয়। জিজ্ঞেস করলো, ‘বাপ-মা আছে?’

    বললাম, ‘বাবা নেই।’

    সে বললো, ‘আহা, আসলটিই নেই। লোকে বলে, মায়ের চেয়ে বড় কিছু নেই। কিন্তু আমি বলি, না। না বাবা? বাপ থাকলে ছেলের মাথায় ছাদ থাকে। কিন্তু মা যে, কেউ নয়, কেউ নয়।’

    বলে, একটু চুপ করে থেকে বললো, ‘তোমাকে বড় ভালো লাগছে বাবা। দু’টো মনের কথা বলি। বসবে?’

    বসব? তাই তো, কেমন যেন লজ্জা করছে। খনপিসি-বাহিনী না জানি কি ভাবছে। কিন্তু হিদের মাকে নিরাশ করতে মন চাইল না। বসলাম বালুর উপরে। বললাম, ‘বলুন।’

    সে বসলো। বললো, ‘বাবা, ঘরে জ্বালা তাই বাইরে আসি। বাইরে এসে দেখি আরও জ্বালা। অমনি ঘরে ছুটি। কোথা গেলে যে দু-দণ্ড শান্তি পাই! ঘর-বার আমার সমান হয়ে গেছে। বাবা, লোকে আমাকে বলে হিদের মা। কিন্তু হিদে আমাকে মা বলে ডাকে না।’

    বলতে বলতে হাসি ও কান্নায় বিচিত্রভাবে থরথর করে কেঁপে উঠলো তার ঠোঁট। পুরু লেন্সের আড়ালে ভেসে উঠলো বিশাল চোখ দু’টি। প্রস্তুত ছিলাম না এমন কথা শোনবার জন্য। বিস্মিত ব্যথায় চমকে উঠলো মনটা। বললাম, ‘কেন?’

    সে বললো, ‘আমি যে মায়ের মতো মা নই। আমি যে বউকাটকী, আমি যে ছেলে ভোলানী, আমি যে ঝগড়ুটে, হিংসুটে, লাগানী-ভাঙানী।’

    জানি, এর মধ্যে আমার কোনো কথা নেই। তবু না বলে পারলাম না, ‘কে বলে এসব কথা?’

    সে বললো, ‘যে বলার। যাদের বলার। নিজেও বলি। বলি, নইলে যে-হিদে আমার হাতে ছাড়া খেত না, সে একবার ডেকে কথা বলে না। তবু আমি মুখপুড়ি এখনো এ হাত পুড়িয়ে খাই। হিদে আমার লেখাপড়া শিখেছে। কলকাতার আপিসে চাকরি করে। কিন্তু ঝি বলেও দু’টো পয়সা দেয় না। কেন? আমি যে তার মা নই।

    কিছু বলতে পারলাম না। জানি নে হিদের কথা। জানি নে তাদের ঘরকন্না, কেন বা পুত্রস্নেহ থেকে বঞ্চিত হিদের মা! সব মিলিয়ে সেখানে কোন্ পরিবেশ, কতখানি অবিচার, কে জানে! তবু হিদের মা’র জন্য মনটা ভার হয়ে উঠলো।

    নিজের মনেই অভিমান উঠলো সে, ‘না-ই বা ডাকলো, না-ই বা দিল। নিজে দুধ বেচি, খাই। আমার আছ তোমরা, আমার ভাবনা কী? এই তো চলে এসেছি। কে রাখছে তার খবর, কে দেখছে? ওকে হাতে করে না খাওয়লে কী হয়েছে আমার?’

    চোখের থেকে চশমা খুলে জল মুছল সে আঁচল দিয়ে। বললো, ‘দিন রাত-ই বলি, মনে বলি। তোমাকেও বললুম, বড় ভালো লাগলো তোমাকে। আমাকে দু-চার আনা পয়সা দেবে বাবা?’

    পয়সা? নিজের কানকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারলাম না। আমার কাছে পয়সা চাইছে হিদের মা? বললাম, ‘কী বলছেন?’

    তেমনি বিশাল মুগ্ধ চোখ দু’টি তুলে বললো, ‘আমাকে দু-চার আনা পয়সা দেবে?’

    আচমকা আক্রান্ত শামুকের শুঁড়ের মতো মনটা গুটিয়ে গেল হঠাৎ। এত বলে শেষে পয়সা! জিজ্ঞেস করতে গেলাম, ‘কেন?’ কিন্তু পারলাম না। সেই উন্মুক্ত মুখ, সেই চোখ, তেমনি ঘাড় কাত করা সরল অভিব্যক্তি। ভাবান্তরের লক্ষণ নেই কোথাও। তবু সন্দেহ বিরক্তিতে সিটনো মন খাটো হয়ে গেল বড়। আমাদের ভদ্রতায়, শিক্ষায়, আলাপনে, ভাবনায়, চিন্তায়, আত্মসন্তুষ্টির যে বেড়াখানি দিয়েছি বেড় দিয়ে জীবনের চারপাশে, তার বাইরে গেলেই আমরা পেছিয়ে আসি। দল-মেলা মন আসে গুটিয়ে। আপন গণ্ডিতে আমরা উদার। বাইরে অস্বাভাবিক।

    অবকাশ নেই মন যাচাইয়ের। চিরাভ্যস্ত মন-চোখ আমার দেখলো, হিদের মা’র এই সারল্যের পেছনে যেন একটি বাঁকা হাসি রয়েছে উঁকি মেরে। এত যে দানের কথা, মিষ্টি কথা, তার পেছনে কি শুধু ওই দু’-চার আনার অধ্যবসায়! ভাবলে নিজেকেই যেন খাটো লাগে। কলঙ্কে লাগলো আমার দ্বিগুণ অপমানের স্পর্শ। হয়তো এখুনি না চেয়ে, দু-দিন বাদে চাইলে এতখানি মনে লাগত না। দু-দিন কেন, ওবেলা হলেও এতখানি মনে হত না বোধ হয়।

    মনের ভাব গোপন করে বললাম, ‘দেব। তাতে কী হয়েছে! দিচ্ছি, এখুনি দিচ্ছি।’ বলে, পকেটে হাত দিতে গেলাম। হিদের মা তাড়াতাড়ি হাত ধরে বললো, ‘দিও’খনি। তাড়া কসের? পালিয়ে তো যাচ্ছ না!’

    তা যাচ্ছি না। কিন্তু তাড়া আছে বৈকি। হিদের মা’র কাছে থেকে চলে যাওয়ার তাড়া। সে আবার বললো, ‘তোমার পকেটে ওটি কী বাবা? কলম? কী যে বলে ওটাকে? যাতে আপনি আপনি লেখা যায়?’

    কলমে তার আবার কী প্রয়োজন? বললাম, ‘হ্যাঁ, ফাউন্টেন পেন।’

    একটু বা অপ্রতিভ হেসে বললো সে, ‘হ্যাঁ, ফাউন্টেন পেন। হিদে লেখে ওই দিয়ে। তা বাবা, আমাকে একখানা চিঠি লিখে দিতে হবে। দেবে তো?’

    মন বিমুখ হয়ে উঠেছিল। তবু বললাম, ‘দেব।’

    হিদের মা তাড়াতাড়ি কোমরে-গোঁজা আঁচল খুলে বার করলো একটি কাগজ। ভাঁজ-করা, দলা-মোচড়া।

    খুলতে দেখলাম, একটি দু-আনা পোস্টেজের খাম। আঁচলে তার হাল এমনি হয়েছে, যেন কুড়িয়ে এনেছে কোথা থেকে।

    উঠে দাঁড়িয়েছিলাম চলে যাওয়ার জন্য। কৌতূহল হলো ভেবে, কাকে চিঠি দেবে হিদের মা! বললাম, ‘কাকে লিখবেন?’

    সে বললো, ‘হিদেকে। একটু জানিয়ে দিই, কেমন করে আমার হাড় জুড়োচ্ছে এখানে এসে। নইলে আমার মনে শান্তি পাব না।

    তা বটে। যাকে যত বেশি দুঃখ দিতে প্রাণ চায়, তাকেই তো দিতে হয় সুখের সংবাদ। তবে হিদের মা’র চোখ দু’টি অমন ভেসে উঠছে কেন!

    তাঁবুর দিকে এগিয়ে গেলাম। খনপিসি-বাহিনী তাকিয়ে দেখছে কটকট করে। ওই দৃষ্টিতে দাহিকা শক্তি থাকলে পুড়ে মরতাম নিঃসন্দেহে। ভাবছি, যখন তারা জানবে হিদের মাকে পয়সা দিয়েছি, তখন যদি মুখের সামনে এসে তারা হাসে, তবে আর মুখ লুকোবার জায়গা পাব না।

    হঠাৎ নজরে পড়লো ব্রজবালাকে। চোখে-মুখে তার ক্রোধ ও শঙ্কা। এত লোকের মাঝে তাকাতে পারছে না। কিন্তু ভ্রু-জোড়া উঠেছে কপালে।

    পেছনে আমার হিদের মা। তাঁবুতে এসে ব্যাগ খুলে কাগজ বার করছি। পেছন থেকে ব্রজবালা এক ঘটি জল নিয়ে এসে দাঁড়াল। মুখ ধোয়ার জল।

    জলের ঘটি নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই শঙ্কিত গলায় ফিসফিস করে বললে ব্রজবালা, ‘সেই কিপটে বুড়ি। খবোদ্দার, একটি পয়সাও দিও না।’

    বলে, ঘটি হস্তান্তরিত করে চলে গেল। হাসি, বিস্ময়, দুঃখে আমার মনের এক বিচিত্র ভাব। সত্যি, ব্রজবালাই দেখছি আমার প্রকৃত সাথী। এই কিপটে বুড়ির কথা, ওই সর্বনাশীর কথা, গতকাল তো সে আমাকে বলেছিল। আমারই মনে ছিল না।

    মুখ ধুয়ে বসলাম কাগজ নিয়ে। বললাম, ‘বলুন, কী লিখতে হবে?’

    হিদের মা খামখানি দিয়ে বললো, ‘আগে ঠিকানা লেখো। লেখো, ছিরি হিদয়রাম ঘোষ।’

    অর্থাৎ হৃদয়রাম ঘোষ। ঠিকানা লেখা হলো। আবার বললো, ‘এই আশ্রমের ঠিকানাটা চিঠিতে দেও।’

    তাই দিলুম। তারপর বললো, ‘লেখো, বাবাজীবন, হিদু বাবা—’

    বলে, চুপ করে রইলো অনেকক্ষণ। বুঝলাম, পাতা-ভরতি ইতিহাস লিখতে হবে। এখনো একটু চা জোটেনি এই দারুণ শীতের সকালে। মন ছটফট করছে বেরুবার জন্য। আটকা পড়ে গেলাম। না, নতুন আশ্রমের সন্ধান করতে হবে দেখছি।

    হিদের মা হঠাৎ বললো, ‘লিখেছ? এবার লেখো, তোর পায়ে পড়ি বাবা হিদে, নেদো, গোপাল, পারুল, সকলে মিলে কেমন আছিস, ধর্মত জানাস। ইতি তোর—’

    ব্যাস? একেবারে ইতি? সে কি! যার মুখের ‘পরে জানিয়ে দিতে হবে সুখের কথা, শেষে তারই একটু সংবাদের জন্য এত ব্যাকুলতা? বললাম, ‘আর কিছু না?’

    সে বললো, ‘আর কী আছে বাবা? আমার কথা? পথে পথে, ঘাটে ঘাটে, ঠাকুরের দোরে বলেছি। না বললেও যে শুনতে পায়, সে যখন শোনে নি, তখন চেঠিতে লিখে কী ফল পাব? লেখা অনেক হয়েছে, আর থাক। ওই লিখে দেও।

    তাই দিলাম। লিখে দিলাম। কেবল কানের মধ্যে বেজে রইলো হিদের মা’র ক্লান্ত ব্যথিত স্বর। সংসারে আছে কত সুখ দুঃখ। কত রূপে তা কত করুণ ও বিচিত্র। ঘরে বাইরে, মনের গঠনে, সংসারের কাঠামোতে রয়েছে তার জড়। কখনো তার সমূল শেষ দেখি কান্নাতে, কখনো হাসিতে। গতিবিধি তার মানুষের হৃদয় ও মনোজগতে। এর বিজ্ঞান আছে, কিন্তু সীমা নেই।

    হিদের মা ঠাকুরের দোরে দোরে বলছে। ঠাকুরের কানে না পৌঁছুক, সে বলা যদি হিদের কানেও পৌঁছুত, হিদের মা’র ঘরে থাকত অমৃতকুম্ভ। হাহাকার করে ছুটে আসত না এখানে। কিন্তু ওইখানে যে সব গণ্ডগোল। সোজা পথ তো সোজা নয়। কখন সে বাঁক নিয়ে নতুন দিকে মোড় ফিরছে, অচিন পথিক তার কী জানে!

    চিঠি লিখে দিয়ে পকেটে হাত দিলাম। বিমুখ মন খানিকটা ভিজে উঠেছিল। পকেটে দু’-আনা আছে, চার আনাও আছে। পথের কড়ি, হাত দিলেই হিসেব করতে মন যায়। জানি নে, ভিক্ষে করা হিদের মা’র অভ্যাস কিনা। তবু, একটি টাকা তুলে দিলাম তার হাতে। অস্বীকার করবো না, মনের মধ্যে কিঞ্চিৎ করুণা ও অনুগ্রহের ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু না দিলে মন তৃপ্ত হত না।

    হিদের মা চোখ তুলে বললো, ‘পুরো একটি ‘টাকা দিলে বাবা?’

    বললাম, ‘হ্যাঁ। তাতে কী হয়েছে!’

    হিদের মা আঁচলে বেঁধে বললো, ‘বেশ! সকলের কাছে তো চাই নে। যার কাছে মন চায়। বড় অল্প পুঁজি আমার। বড় ভয় করে, তাই আগে থেকেই সামলে চলি।’

    আশ্চর্য! এত সামলাসামলি হিদের মায়ের। তবু দেওয়ার কথায় পঞ্চমুখ সে। কিন্তু আর দেরি নয়। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। বাইরে আসতেই দেখি, ব্রজবাল মুখভার করে তাকিয়ে রয়েছে আকাশের দিকে। মাথায় অর্ধেক ঘোমটা। ও! হিদের মাে টাকা দিয়েছি বলে রাগ হয়েছে তার। হতেই পারে। সে যে আমার সত্যি সখী। পেছনে আমার হিদের মা। দৃপ্ত ক্রুদ্ধ চোখে তার দিকে তাকালো ব্রজবালা। আমি হাসি গোপন করে চলতে উদ্যত হলাম।

    ব্রজবালা বললো, ‘দিমা তোমাকে খেয়ে বেরুতে বলেছে।’

    ‘এখুনি?’

    ‘হ্যাঁ। আমরা আজ বেরুব।

    খুব রাগ করেছে ব্রজ! বললাম, ‘ফিরে আসি, তারপর খাব।’

    সে বললো, ‘আমরা এক্ষুনি বেরিয়ে যাব। দেরি হলে, তোমার খাবার ঢাকা দেওয়া থাকবে তাঁবুতে।’

    হেসে বললাম, ‘তথাস্তু।’ মনে মনে বুঝলাম, ব্রজর রাগ বাগ মানল না তাতে।

    এমন সময় হিদের মা চেঁচিয়ে উঠলো, ‘বউমা। অ বউমা।’

    বলতে বলতে ছুটে গেল গেটের দিকে। অমনি ব্রজ আমার কাছে ছুটে এসে বললো, ‘ওই যে সে-ই।’

    ‘সে-ই? সেই কে?’

    কোথায় ব্রজর রাগ! বয়স যাবে কোথায়! সে চোখ ঘুরিয়ে বললো, ‘সেই যে গো, সেই বউটা। সোয়ামী যার সাধু হয়ে বেরিয়ে গেছে। সেই বউ! সঙ্গে ওই লোকটা ওর দেওর।’

    ও! মনে পড়েছে। স্বামী-সন্ধানী বউ। তাকিয়ে দেখলাম। দীর্ঘাঙ্গী এক মহিলা। ফর্সা রঙ। বেশভুষায় আধুনিকা। নীল শাড়ির উপরে হাল্কা গোলাপী রঙের লেডিজ কোট। ঘোমটা ভেঙে পড়েছে ঘাড়ের কাছে। তাকিয়েছে এই দিকে। সকালের সূর্যালোকে ঝকঝক করছে কপালের ও সিঁথির সিঁদুর। পাশে একটি ভদ্রলোক, যুবক। স্বাস্থ্যবান। গায়ে অলেস্টার, চোখে আঁটা সোনালী ফ্রেমের চশমা। মুখে হাসি। হেসে যেন কী বলছে মহিলাটিকে। দাঁড়িয়েছিল হিদের মা’র জন্য। তারপর তিনজনে মিশে গেল জনারণ্যে।

    ব্রজ বললো, ‘ওদের দু’টিকে বেশ দেখায় না?’

    সত্যি দেখায়। ঠিক কথাটি দেখছি বয়স মানে না! কেন বললো ব্রজ, কে জানে। মনে মনে ভাবলাম, দেখায় হয়তো, মানায় কিনা কে জানে! মানানো যে আলাদা। কিন্তু, হিদের মা দেখছি ভারি ভাব জমিয়ে নিয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পৃথা – কালকূট (সমরেশ বসু)

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }