Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ খেলা – অজেয় রায়

    কাগজে সব খবর ছাপা হয় না। বিশ্বসংসারে যা ঘটে রোজ, তার কতটুকুই বা ছাপা হয়। এ-খবরটাও ছাপা হয়নি। অবশ্য আমরা ছাপানোর চেষ্টাও করিনি। না করার দুটো কারণ ছিল। আগে আগে দু’-চারবার কাগজঅলাদের অনেক বলে-কয়ে হাতে-পায়ে ধরেও কোনওদিন আমাদের খবর ছাপাতে পারিনি। ওরা আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করেছে, মজা করেছে। বলেছে, আপনারা ব. গো, গ, স, নয়, আপনারা হলেন বোগাস। কাজেই আমরা আর ও-পথ মাড়াই না। কে যাবে অপমান সইতে কাগজঅলাদের কাছে। বঙ্গীয় গোয়েন্দা গল্পলেখক সমিতিকে যারা বোগাস বলে, তারা অভদ্র ছাড়া আর কী।

    এবারে আরও একটা কারণ ছিল, যার জন্যে কারও কাছে আমাদের যাবার উপায় ছিল না। আমরা ঠিক করেছিলাম এবার আমরা যা করব— একেবারে গোপনে করব, শুধু গোপনেও নয়, এমনভাবে করব যাতে কাকপক্ষীও না জানতে পারে। আমরা তাই এবারের সভার নাম দিয়েছিলাম, গোয়েন্দা-লেখক গুপ্তসভা। কার্যকরী সমিতির সভা আর কী। সভা বড় করার ইচ্ছে আমাদের ছিল না। মাত্র দশ-বারোজনের সভা। সত্যি বলতে কী এটা একরকম প্রস্তুতি-সভা। মোটামুটি সব ঠিক হয়ে গেলে বেশ বড় করে এক সারা ভারত গোয়েন্দা-লেখক-সভা করার ইচ্ছে ছিল।

    কালীকরালী বিশ্বাস, যিনি ‘আলেয়া’ ছদ্মনামে চল্লিশ-পঞ্চাশটা রহস্য কাহিনি লিখেছেন, তিনি অতি সজ্জন লোক। এবং ধনী লোক। বই লিখে ধনী নয়, পৈতৃক ধনে ধনী। করালীবাবু প্রস্তাব করেছিলেন, পাণ্ডবেশ্বরের কাছে তাঁদের একটা ভাঙা কুঠি আছে। কোলিয়ারি উঠে যাবার পর ওই কুঠি ভূতের বাড়ি হয়ে পড়ে আছে, জায়গাটা বেশ গা-ছমছম-করা, কাছাকাছি কোনও গাঁ-গ্রাম নেই, গোয়েন্দা গুপ্তসভার উপযুক্ত জায়গা হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজি হয়ে গেলাম। থাকা, খাওয়া, অণ্ডাল থেকে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করালীবাবুই করবেন বললেন। আমরা হব তাঁর অতিথি।

    গুপ্তসভায় যোগ দিতে গিয়ে দেখি, আমাদের বারোজনের মধ্যে তিনজন আসতে পারেননি। একজন ম্যালেরিয়া জ্বরে পড়েছেন, একজন বাতে কাবু। আর দুলাল দত্ত মিনিবাসের গুঁতো খেয়ে হাত ভেঙেছে। দুলাল বেশ বলিয়ে-কইয়ে ছেলে। কম বয়েস, গোটাদশেক মাত্র বই লিখেছে, তাতেই তার নামডাক হয়েছে যথেষ্ট। সে নাকি ফরাসি কায়দায় গোয়েন্দা-গল্প লেখে।

    তা আমরা ন’জনে পাণ্ডবেশ্বরে জমায়েত হলাম গুপ্তসভা করতে। কুঠি-বাড়ি দেখে চোখ-মন ভরে গেল। বেশ পুরনো বাড়ি। ভাঙাচোরা। দেওয়ালে ফাটল। মাথার ছাদ ভেঙে পড়ো পড়ো। ইঁদুর, গিরগিটি, ছুঁচো, আরশোলার অভাব নেই। ভাঙা দরজা-জানলা। সাপখোপও হয়তো আছে। তবে ডিসেম্বর মাসের কড়া শীত বলে আর গর্ত ছেড়ে বেরোচ্ছে না।

    কুঠির চারদিক আগাছায় ভরা। দু’-চারটে বড়সড় গাছ ছাড়া বাকি সবই আগাছা। কুলঝোপ, বনতুলসী, আকন্দ, কাঁটাগাছ, নয়নতারা।

    বাড়ি যেমনই হোক, কালীবাবু লোকলশকর লাগিয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা মন্দ করেননি। টাকা ফেললে কী না হয়। বাঘের দুধও জুটে যায়।

    রাত্রে আমাদের গুপ্তসভার অধিবেশন বসল। চমৎকার ব্যবস্থা। বসার জায়গা বলতে ভাঙা চেয়ার, তে-পায়া টুল, মচকানো বেঞ্চি। প্যাকিং বাক্স। একটা হেলে-পড়া গোল টেবিলও ছিল। আলো বলতে লণ্ঠন। লণ্ঠনের কাচ ছিল নীল রং করা। ফলে আলোর চেয়ে অন্ধকারটাই বেশি জমছিল। আর আমরা মাথা থেকে পা পর্যন্ত, যে যা পেরেছি, গরম পোশাকে মুড়ে বসে পড়েছি। চা, সিগারেট, চুরুট, যার যা ইচ্ছে নাও আর খাও।

    করালীবাবুকে সভাপতি করে আমাদের সভা যখন মাঝপথে, বেশ জমে উঠেছে আলোচনা, তখন কে একজন ভারী গলায় বারকয়েক কেশে উঠল। আমরা কান করলাম না। আমাদের মধ্যেই কেউ হবে। যা শীত আর ঠান্ডা, হাঁচি-কাশি তো হবেই।

    প্রতুল মুখুজ্যেকে লোকে বলে বাঙালি গোয়েন্দা-লেখকদের রাজা। গোয়েন্দা সম্রাট। ওঁর বইয়ের সংখ্যা বিরাশি। উনি বলছিলেন, আমাদের উচিত একটা গিল্ড করা। বিদেশে এ-রকম অনেক গিল্ড, অ্যাসোসিয়েশান আছে গোয়েন্দা লেখকদের। গিল্ড না থাকলে আমরা নিজেদের স্বার্থ আর বাঁচাতে পারব না। লোকে আমাদের ছোট নজরে দেখবে। সাহিত্যিক, সমালোচক, মায় পাবলিশাররাও সম্মান দেবে না। আমরা কোনওদিন মেডেল বা পুরস্কার পাব না।

    প্রতুল মুখুজ্যের কথা শেষ হতে আমরা সবাই যখন হাততালি দিচ্ছি, তখন হঠাৎ আবার সেই কাশির শব্দ। এবার ভারিক্কি কাশি। তারপর কার যেন বিশ্রী গলা শুনলাম, “স্টপ ইট। যত্ত সব ফেকলুর দল।”

    কে? কে কথা বলল? ফেকলুর দল মানে?

    আমরা সবাই মুখ ঘুরিয়ে লোকটাকে দেখার চেষ্টা করলাম। অন্ধকারে ঠাওর করা যায় না।

    প্রতুল মুখুজ্যে কড়া গলায় বললেন, “কে কথা বলল?”

    “আমি।” গলা তো নয়, যেন ইঞ্জিনের ভোঁ।

    “কে আপনি?”

    “পাঁচকড়ি পালিত।”

    পাঁচকড়ি পালিত! আমরা অবাক। এমন নাম তো আমাদের কারও নয়। কে পাঁচকড়ি পালিত? জীবনেও এমন নাম শুনিনি। পাঁচকড়ি নামে এক বিখ্যাত গোয়েন্দা-লেখক ছিলেন এককালে। কিন্তু তিনি তো স্বর্গে। পাঁচকড়ি?

    করালীবাবু বললেন, “পাঁচকড়ি পালিত বলে কেউ এখানে নেই। তুমি কে? ঠিক করে বলো।”

    অট্টহাসি না হলেও একটা হাসি শোনা গেল। তারপর দেখি, প্রায় দরজার কাছ থেকে একটা লোক উঠে দাঁড়াল। অন্ধকারে ছাই দেখাই যায় না ভাল করে, তবু মনে হল লোকটা বেজায় মোটা, বেঁটে। একেবারে পিপের মতন। কালো কম্বলে আপাদমস্তক ঢেকে রাখলে যেমন দেখায় মানুষকে, ভূতের মতন, সেইরকম দেখাচ্ছিল। বোধহয় কালো কম্বল কেটে প্যান্ট-কোট বানিয়েছে, কিংবা ভুট কম্বলের অলেস্টার চাপিয়ে এসেছে। গলায় মাফলার। মাথায় টুপি।

    “হিয়ার আই অ্যাম, পাঁচু পালিত। পি. পি.”

    খগেনবাবু বললেন, “তুমি পি, পি. হও, আর হিপি হও, তুমি এখানে কেন? কে তোমায় ঢুকতে দিয়েছে? এটা আমাদের গুপ্তসভা। সিক্রেট মিটিং। তুমি এলে কেমন করে! আশ্চর্য!”

    পাঁচু পালিত রগড়ের গলায় বলল, “আমি কেমন করে ঢুকলাম সেটা তোমাদের মাথায় ঢুকলে তোমরা তো মানুষ হতে। তোমরা গাধা।”

    আমরা গাধা। লোকটা বলে কী। আমাদের এখানে প্রতুল মুখুজ্যে, রজনী সারখেল, খগেন পুরকায়স্থর মতন বিখ্যাত গোয়েন্দা-লেখকরা রয়েছেন, রয়েছেন করালীবাবু, এঁরা শুধু সুপরিচিত লেখক নন, বয়স্ক ব্যক্তি, এঁদের গাধা বলছে লোকটা। কী আস্পর্ধা।

    জগদীশ বসাকের গলা পেলাম। রেগে গিয়েছে। চিৎকার করে বলল, “তুমি কে হে, অসভ্য বাঁদর ইতর কোথাকার? হু আর ইউ? এখানে কেমন করে ঢুকেছ? তোমায় কে আসতে দিয়েছে? আর-একটা যদি কথা বলো, মেরে ফ্ল্যাট করে দেব। যাও, বেরিয়ে যাও। না গেলে, ঘাড় ধরে বার করে দেব।”

    জগদীশের হুংকার শুনে মনে হল, পাঁচু পালিতকে সে হয়তো সত্যিই মারধর করবে। জগদীশ সেটা করতে পারে। রগচটা লোক। বয়েসও বছর চল্লিশ। এক সময় বক্সিংয়ে মেডেল পেয়েছে মুঠো মুঠো।

    ভেবেছিলাম পাঁচু পালিত ভয় পাবে। কিন্তু হায় হরি, ভয় কোথায়, লোকটা বরং আরও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলল, “ঘাড় ধরবে কে? জগদীশ বসাক নাকি? এসো, ধরো ঘাড়। তারপর দেখো তোমার কী অবস্থা হয়। কান ধরে দু’ গালে দুটি থাপ্পড় মেরে থানায় ভরে দেব।”

    থানা! থানায় ভরে দেবে? ব্যাপারটা কী? পাঁচু পালিত থানায় ভরে দেবার ভয় দেখাচ্ছে। তা ছাড়া ও জগদীশের নাম জানল কেমন করে?

    জগদীশ প্রায় উঠে পড়তে যাচ্ছিল, করালীবাবু তাকে বসিয়ে দিয়ে বললেন পাঁচুকে, “এ বাড়ি আমার। আমি এখানে বন্ধুদের নিয়ে বসে মিটিং করছি। তুমি কার হুকুমে এখানে এসেছ? কেন এসেছ? আমরাই তো তোমাকেই থানায় দিতে পারি। তুমি কে?”

    পাঁচু তাচ্ছিল্যের গলায় বলল, “আমায় থানা চেনাবেন না, করালীবাবু। আমার নাম পাঁচকড়ি পালিত, ওরফে পাঁচু পালিত, ওরফে পি, পি., ওরফে পাজির পাঝাড়া, ওরফে পাষণ্ড পীড়ন, ওরফে পুলিশ…”

    “পুলিশ।” আমরা যেন আঁতকে উঠলাম।

    পাঁচু পালিত উপহাসের গলায় বলল, “আজ্ঞে হ্যাঁ, তা বলতে পারেন। দেখেছেন পুলিশ?”

    প্রতুল মুখুজ্যে হঠাৎ নরম হয়ে বললেন, “পুলিশ। দেখব না! কত রকম পুলিশ দেখলাম। থানা-পুলিশ, ট্রাফিক-পুলিশ, রেল-পুলিশ, জল-পুলিশ। আমাদের তো ভাই পুলিশ নিয়েই কারবার।”

    পালিত, মানে পি. পি. একটা সিগারেট ধরাল। ওর কাছেই ছিল বোধহয়। বলল, “লাশ-পুলিশ নিশ্চয় দেখেননি।” পালিত এবার আর তুমিটুমি বলল না। সম্মান দেখিয়েই কথা বলল।

    লাশ শুনে আমরা থ। সে আবার কী?

    প্রতুল মুখুজ্যে হকচকিয়ে গিয়ে বললেন, “সেটা কী ভাই?”

    পাঁচু পালিত শোঁ শোঁ করে সিগারেট টানতে লাগল। গন্ধটা বিড়ির মতন। বারকয়েক কাশল। তারপর বলল, “লাশ-পুলিশ হল সেই পুলিশ, যারা লাশ উদ্ধার করে।”

    “মানে?” করালীবাবুর গলা উঠল না ভাল করে।

    পালিত বলল, “মানে আজ একটা লাশ পড়ার কথা।”

    “লাশ। কোথায়?”

    “এ বাড়িতে।”

    “এ বাড়িতে?” আমরা চমকে উঠে বললাম।

    “আজ্ঞে হ্যাঁ, এ বাড়িতে। এখানে। এই ঘরে।”

    আমরা শিউরে উঠলাম। এ বাড়িতে, এখানে লাশ। লোকটা বলে কী।

    করালীবাবু বললেন, “কে বলল লাশ পড়বে?”

    “আমি বলছি,” পাঁচু যেন ধমক মারল। তারপর হঠাৎ বলল, “আপনারা এই ভুতুড়ে বাড়িতে কেন এসেছেন, মশাই?”

    “সভা করতে।”

    “সভা করার আর জায়গা ছিল না।”

    “থাকবে না কেন? …তবে কী জানেন পাঁচুবাবু, আমরা হলাম গোয়েন্দা বইয়ের লেখক। বাঙালি লেখক। আমরা একটু অন্যভাবে সভাটা করব ভেবেছিলাম। রোমাঞ্চকরভাবে, নতুন ভাবে।”

    পাঁচু বলল, “আপনারা যে কী, আমি জানি। আপনাদের খবরাখবর অল্পবিস্তর জেনে নিয়েছি। আপনারাই শুধু জানেন না, কাল আপনারা এখানে আসার পর থেকে আপনাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।”

    খবরটা সত্যিই আমাদের জানা ছিল না। চমক লাগল। কে বা কারা যে আমাদের ওপর নজর রাখছে, তাও বুঝলাম না। নজর রাখার লোক কোথায়? আমরা ছাড়া আছে তো মাত্র তিনটি লোক, রাখাল, ভোলা আর পন্টু। তিনজনই কাজের লোক। রান্নাবান্না-জল তোলা, বিছানা পাতা, ফাইফরমাশ খাটা— সবই তারা করছে। পন্টুটা আবার ছোঁড়া গোছের। এরা সকলেই করালীবাবুর লোক। তা হলে নজরটা রাখবে কে? সিকি মাইলের মধ্যে কোনও জনবসতি নেই। শুধু মাঠ আর ঝোপঝাড়।

    প্রতুল মুখুজ্যে বিনীতভাবে বললেন, “আমাদের ওপর চোখ রেখেছেন মানে? আমরা কি ক্রিমিন্যাল?”

    পাঁচু বলল, “আপনারা ক্রিমিন্যাল নন তার প্রমাণ কী? এত জায়গা থাকতে এখানে এভাবে আপনারা আসবেন কেন সভা করতে?”

    করালীবাবু বললেন, “এ তো বড় অন্যায় কথা পাঁচুবাবু। আমরা আমাদের খুশিমতন জায়গায় সভা করতে পারব না? বিশেষ করে এই বাড়ি যখন আমার।”

    পাঁচু বলল, “আপনারা এমন বাড়িতে আসবেন কেন, যে বাড়িতে একটা লাশ পাওয়া যাবে।”

    “লাশের কথা আমরা জানতাম না, বিশ্বাস। করুন।”

    পাঁচু সিগারেটটা ফেলে দিল। নিবিয়ে দিল। বলল, “ও-কথা আমার কাছে বলে লাভ নেই। কোর্টে বলবেন।”

    “কোর্ট?” খগেনবাবু আঁতকে উঠে বললেন, “এর মধ্যে আবার কোর্টকাছারি আসে কেন? সভা করতে এসে ফ্যাসাদে পড়ে গেলুম যে!”

    আমাদের মধ্যে বটকৃষ্ণ সেন খুবই ঠান্ডা মাথার মানুষ। বটকৃষ্ণ একসময় আইন পড়তে ঢুকেছিলেন। ছেড়ে দিয়ে এক সওদাগরি অফিসে কাজ করতে ঢোকেন। কুড়ি বছর বয়েস থেকে গোয়েন্দা গল্প লিখছেন। এ-যাবৎ পঞ্চাশটা বই লিখেছেন। তাঁর বইপত্র তেমন বিকোয় না। তবে তিনি লেখেন ভাল।

    বটকৃষ্ণ এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। এবার বললেন, “আমাদের সন্দেহ করার কারণ?”

    পাঁচু বলল, “কারণটা সহজ। আপনারা আমায় কারণ জিজ্ঞেস করবেন না। এখন বলুন, লাশটা কার হবে, বা হতে পারে?”

    এ তো মহা মুশকিল হল। যে-লাশ আমরা দেখলাম না, কোনও সম্পর্ক নেই যে লাশের সঙ্গে, সেই লাশের লোকটা কে তা আমাদের বলতে হবে? পাঁচু কি পাগল? না, আমাদের সঙ্গে অকারণ ফাজলামি করছে?

    বটকৃষ্ণ বলল, “এটা কেমন কথা হল পাঁচুবাবু? লাশ কি আমরা দেখেছি, না জানি?”

    পাঁচু বলল, “মশাই, লাশ দেখে তাকে চেনা সহজ। আপনার লাশ যদি পড়ে থাকে, আমরা সবাই চিনতে পারব। কিন্তু বাজে কথা থাক। রাশি রাশি গোয়েন্দা বই লিখেছেন, আর একটা লাশের বেলায় সবাই ন্যাকা সাজতে চাইছেন।”

    “এ তত বড় জ্বালা হল করালীবাবু? এ আপনি আমাদের কোথায় নিয়ে এলেন?” প্রতুল মুখুজ্যে বললেন।

    করালীবাবু বিরক্তবোধ করছিলেন। বললেন, “পাঁচুবাবু, আপনার মাথায় ঘিলু আছে?”

    “কেন?”

    “ঘিলু থাকলে এসব কথা বলতেন না।”

    পাঁচু বলল, “আপনাদের মাথায় যতটা ঘিলু আছে, আমার মাথায় তার চেয়ে বেশি বই কম নেই। তবে কী জানেন করালীবাবু, আপনাদের মাথার ঘিলু ভেজাল। তাতে কোনও কাজ হয় না।”

    “কী বলতে চান আপনি?”

    পাঁচু রঙ্গ করে বলল, “ডোন্ট মাইন্ড করালীবাবু। আপনারা যারা এখানে এসেছেন, তাঁরা এক-একটি গবেট।”

    “হোয়াট?”

    “রাগ করবেন না।…ওই যে আপনাদের গোয়েন্দা সম্রাট কিং… মানে প্রতুল মুখুজ্যে। উনি পাঁচ ধামা বই লিখেছেন। উনি নাকি লাশের পর লাশ ফেলেন, গায়েব করেন। কিন্তু আমি বাজি ফেলে বলতে পারি, উনি জীবনে একটা লাশও দেখেননি। কী মশাই, ঠিক কি না। সত্যি কথা বলবেন। মিথ্যে বললে আপনাকে থানায় ভরব।”

    প্রতুল মুখুজ্যে বললেন, “রাস্তা দিয়ে মড়া বয়ে নিয়ে যেতে দেখেছি, লাশ দেখিনি। পাড়ায় কেউ মারা গেলে দেখেছি।”

    “ওগুলো লাশ নয়, মৃতদেহ। সোজা বাংলায় মড়া। লাশের গ্ল্যামার আছে, মড়ার নেই। যাকগে, খগেনবাবু, আপনি কি লাশ, রিভলভার, পিস্তল, ছোরা দেখেছেন?”

    খগেনবাবু বললেন, “ছোরা দেখেছি। আর পিস্তল না দেখলেও কলকাতার সার্জেন্টদের কোমরে বাঁধা চামড়ার খাপ দেখেছি পিস্তলের।”

    পাঁচু হেসে উঠল। তারপর ধরল, জগদীশকে। টিপ্পনী কেটে বলল, “এই যে জগদীশ বসাক। তুমি চাঁদ, ‘বিষ’-এক্সপার্ট। তোমার ওই ছেলেভুলোনো বইগুলোতে ফটাফট বিষ খাইয়ে লোক মার। তুমি বিষ দেখেছ? আর্সেনিক কাকে বলে জানো? কভি-ভি দেখা হ্যায়? পটাসিয়াম সায়োনাইড-এর গন্ধ শুঁকেছো কখনও? সাপের বিষ কতরকম হয় জানো? কোন কোন সাপের বিষ থাকে বলতে পারো? …তুমি তো সারা জীবনে বাতের মালিশ ছাড়া কিছু দেখোনি। কী জানো হে তুমি বিষের?”

    জগদীশ একেবারে চুপ। কথা বলতে পারল না।

    তারপর আমার পালা। পাঁচু আমায় যেন খোঁচা মেরে বলল, “ওহে অখিলবন্ধু, তুমি তো একটা চোর। তুমি যা বই লেখো সব চুরি। কলকাতার রাস্তা থেকে চার-ছ’ আনা দিয়ে ছেঁড়া-ফাটা ময়লা বই কেনো, আর সেইসব মেরে মেরে তোমার বই লেখো। তোমার ওই বইটা আমি পাতা উলটে দেখেছি। কী যেন নাম বইটার, ‘তুফান এক্সপ্রেসে খুন।’ অখাদ্য বই, অখাদ্য লেখা। চুরি বিদ্যে জানতে হয়, তুমি তাও জানো না। তোমার আবার বারো আনা খুন গলায় ফাঁস লাগিয়ে। ওরে গাধা, নাইলন রোপ গলায় ফাঁস লাগিয়ে টানলেই মানুষ মরে না। কার গলা, কেমন গলা দেখতে হবে। একটা দেড়মনি মানুষের গর্দানে ফাঁস লাগাতে হলে কত মোটা, কী স্ট্রেংথ রোপ চাই, বলতে পারো? জানো, এর জন্যে অঙ্ক জানা দরকার। গর্দানের বেড় আর দড়ির স্ট্রেংথ হিসেব করতে হবে। তুমি অঙ্কেতে অক্কা। কেন বুজরুকি করতে চাও হে?”

    আমি একেবারে হতভম্ব। ভাগ্যিস সব অন্ধকারের মতন হয়ে আছে, নয়তো আমায় দেখে থেকে অন্যরা হাসত।

    অবশ্য আমার দশা আর অন্যদের দশায় তফাত কী? পাঁচু পালিত কাউকেই ছাড়ছে না। এক-একজনকে ধরছে আর কচুকাটা করছে। খগেনবাবু, বটকৃষ্ণ, করালীবাবু কাউকেই রেহাই দিল না সে। মণি সমাদ্দারকে পথে বসালে। ধীরাজ, গৌতমকে নাকানিচোবানি খাওয়ালে। মানে, আমাদের সক্কলকে একেবারে যেন গাঁটরি বেধে আছাড় মারল।

    আর ঠিক এই সময় আচমকা শুনি অ্যালার্ম বাজছে। মানে, অ্যালার্ম ঘড়ির ক্রিরিরিং ক্রিরিরিং আওয়াজ। আমরা একেবারে থ। অ্যালার্ম ঘড়ি বাজল কেমন করে? আমাদের সঙ্গে কেন, এ বাড়িতে কোথাও অ্যালার্ম ঘড়ি নেই। ব্যাপারটা কী?

    ঘরের মধ্যে অ্যালার্ম ঘড়ি বাজছে তো বাজছেই। শেষে যখন থামল, তখন গম্ভীর গলায় পাঁচু পালিত বলল, “সময় হয়ে গেছে। আর তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যে লাশ পড়বে। বি রেডি।”

    কী সর্বনাশ, তা হলে কি ওই ঘড়িটায় টাইম বোমা ফিট করা আছে? আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। গলা শুকিয়ে কাঠ।

    অন্যদেরও একই অবস্থা।

    পালাবার জন্যে উঠেই পড়েছিলাম, হঠাৎ একটা আওয়াজ হল। গুলির আওয়াজের মতন। আলোর চিড়িক মারল একটু। তারপর কী যেন পড়ে গেল মেঝেতে শব্দ করে। নীল কাচের লণ্ঠন ভেঙে চুরমার। টেবিলটাও উলটে গিয়েছে। ঘর অন্ধকার। ঘুটঘুট করছে।

    কার লাশ পড়ল? আমার যে নয়, আমি বুঝতে পারছিলাম। হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। গলা দিয়ে শব্দ ফুটছে না। নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে এসেছে।

    ঘরে কোনও সাড়াশব্দ নেই। শুধু একটা বারুদ বারুদ গন্ধ বেরোচ্ছিল।

    অনেকক্ষণ পরে করালীবাবুর গলা পেলাম, “হায় ভগবান।”

    করালীবাবু তা হলে বেঁচে আছেন। আমি সাড়া দিলাম, “করালীবাবু।”

    “অখিলবন্ধু। তুমি আছ। কে গেল তা হলে?”

    প্রতুল মুখুজ্যের গলা পাওয়া গেল। বললেন, “আমি আছি।”

    একে একে সবাই সাড়া দিতে লাগল। দেখলাম, আমরা সবাই বেঁচে আছি। তা হলে লাশটা কার পড়ল? কেই বা গুলি চালাল। পাঁচুর কোনও সাড়াশব্দ নেই কেন?

    জগদীশ পকেট থেকে দেশলাই বার করে জ্বালল। দেখি, বিরাট একটা লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। পাঁচু পালিতেরই।

    কী সর্বনাশ!

    করালীবাবু ‘আলো আনো, আলো আনো’ বলে চেঁচাতে লাগলেন। আমরা তখন ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে। পাঁচু পালিতকে খুন করার দায় যে আমাদের বর্তাবে। হায় ঈশ্বর।

    রাখাল আর ভোলা আলো নিয়ে ছুটে এল।

    হ্যাঁ, পাঁচু পালিতই মেঝেতে পড়ে আছে। তার ওভারকোটের বোতাম খোলা। একটা অ্যালার্ম ঘড়ি তার বুকের কাছে ঝুলছে। দড়ি দিয়ে বেঁধে গলায় ঝুলিয়েছিল। ডান হাতে একটা পিস্তল।

    আশ্চর্য, কোথাও কোনও রক্তের দাগ নেই। কপালে না, গলায় না, মাথায় নয়।

    তা হলে?

    করালীবাবু ভয়ে ভয়ে বসে পড়ে পাঁচুর নাড়ি দেখতে লাগলেন, বললেন, “ব্যাটা বেঁচে আছে।”

    জগদীশ পাকা গোয়েন্দার মতন পকেট থেকে রুমাল বার করে পাঁচুর পিস্তলটা হাত থেকে টেনে নিল। দেখল ভাল করে। তারপর বলল, “করালীদা, এটা থিয়েটার-যাত্রার পিস্তল। দেখুন। টোটা লাগিয়ে ঘোড়া টেপে।”

    আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়লাম পিস্তল দেখতে।

    আর তখন পাঁচু তার বাঁ হাত তুলে মুঠোয় রাখা কাগজটা এগিয়ে দিল।

    আমিই নিলাম কাগজটা। দেখলাম। লেখা আছে, ‘মফসসলের এক গোয়েন্দা-লেখকের কেরামতি দেখালাম। পি, পি.।’

    ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭

    ছবি: দেবাশিস দেব

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }