Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বন্ধু – অজেয় রায়

    একটি জলবৎ রহস্য – সিদ্ধার্থ ঘোষ

    ॥ ১ ॥

    ডালহাউসির অফিসপাড়া আড়মোড়া ভেঙে পুরোপুরি চাঙ্গা হয়নি। যানবাহনের হুড়োহুড়ি শুরু হওয়ার আগে রাস্তাগুলো এখন বেজায় প্রশস্ত। পর্তুগিজ চার্চ স্ট্রিটের মোড়ে কর্পোরেশনের সিংহের মুখওলা কলের নীচে মাথা পেতে একজন নিমীলিত নেত্রে ঘাড় নাড়ছে। খবরের কাগজের বিলি-বাঁটোয়ারা সেরে মোড়ের ধারে তিনজন ফিরিঅলা সাইকেলের কেরিয়ারে তাদের পলিথিনের চাদর গুটিয়ে দড়ি বেঁধে নিচ্ছে। ফুটপাথের কিনারায় দরোয়ানরা নিজের নিজের কোম্পানির গাড়ির নম্বর লেখা কাঠের স্ট্যান্ড নির্দিষ্ট জায়গামতো দু’-একটা ইতিমধ্যেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

    ‘শরবত অ্যান্ড স্ন্যাকস’-এর ছোকরাটা হড়াত করে এক বালতি জল উপুড় করেই ঝাঁটা হাতে তাদের তাড়া করল। খালি গা, লুঙ্গিটা ভাঁজ করে হাফপ্যান্ট বানানো। ঝাঁটার ডগা থেকে জলের ফুলকি উড়ছে। কাউন্টারের সামনের অংশের ফুটপাথ অবধি পরিষ্কার করে বালতি-ঝাড়ু ভেতরের ঘরে রেখে বেরিয়ে এসেই সে দেখল তার প্রথম খরিদ্দার হাজির।

    আকাশের দিকে লোহার ঠ্যাং উঁচু করে লাল রেক্সিনের গোলাকার সিটওলা যত টুল কাউন্টারের মাথায় চড়ে বসে আছে। মন্টু তাড়াতাড়ি সেগুলো নামিয়ে নেয়। যদিও ভাল করেই জানে যে তার খরিদ্দার বসার পাত্র নয়। ওই এসপ্রেসো মেশিনের পাশে দেওয়ালে ঠেস দিয়েই রোজ-সিরাপে গোঁজা স্ট্র-এ টান লাগাবেন তিনি।

    ভদ্রলোক হাসিমুখে পাঁচ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে ধরেন। এক টাকা পঁচিশ ফেরত দিয়ে টাকাটা ড্রয়ারে রেখে দিল মন্টু। প্রতিদিন এই ভদ্রলোকের হাতে তিন টাকা বারো আনা দিয়ে দোকানের বউনি হয়। আর মন্টুর বখশিশ ওই সিকিটা। প্রতিদিন বলতে তা প্রায় মাস-দেড়েক তো নিশ্চয়। রোজ-সিরাপের গেলাসটা রেডিই ছিল। ফ্রিজ খুলে বার করে আইস-ট্রে থেকে তার মধ্যে কয়েকটা কিউব ফেলে দিল মন্টু।

    ব্রিফকেসটা কাউন্টারে রেখে ভদ্রলোক বাঁ হাতে গেলাসটা তুলে নিল। “আহ— বিউটিফুল। এমন টেস্ট যে কী করে করিস তোরা! কী রে, আমাকে একটু শিখিয়ে দে না রহস্যটা—”

    মন্টু হাসে। রোজ এই এক কথা। দ্বিতীয়বার টান দেওয়ার পর কী বলবে সেটাও তার মুখস্থ, “শুধু টেস্ট নয় রে— পয়মন্ত, বেজায় পয়া তোদের এই রোজ-সিরাপ।”

    লোকটার মাথায় ছিট আছে সে আর জানতে বাকি নেই। অফিস যাওয়ার মুখে কেউ কখনও রোজ-সিরাপ খায়? তা ছাড়া আগে তার কাছ থেকে দামটা বুঝে নিতে হবে, তারপর অন্য কথা।

    পিছন ফিরে মন্টু ফ্রিজের ভেতরের জিনিস গোছাচ্ছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত দ্বিতীয় মন্তব্যটা কানে না আসায় একবার ঘাড় ফিরিয়েই অবাক হল। গেল কোথায় লোকটা। আধ গেলাস শরবত এখনও পড়ে। এটা কিন্তু বেনিয়ম।

    মন্টু তাড়াতাড়ি ফুটপাথে নেমে এসে দেখল তার খরিদ্দার ও-ফুটে দাঁড়িয়ে বাঁ পা’টা দ’য়ের মতো উঁচু করে তার ওপরে ব্রিফকেসটা রেখে ডালা খুলেই বন্ধ করে দিল। তারপরেই হনহন করে প্রায় ছুট। তাজ্জব ব্যাপার।

    ॥ ২ ॥

    কালো মরিস মাইনটা পার্ক করে দরজায় সস্নেহে চাবি লাগালেন মুখার্জি। কুড়ি বছর ধরে এই পুরাতন ভৃত্য তাঁকে সেবা করছে। চলতে শুরু করলেই অবশ্য নিত্যনতুন অযান্ত্রিক নানা সংগীত সে শোনায়। তা হোক। আজ অবধি কোনওদিন অফিস আসার পথে বেইমানি করেনি। আর প্রতিদিন ঠিক সময়ে অফিসে আসেন, মুখার্জি এটা গর্ব করেই বলতে ভালবাসেন।

    ঘড়ির দিকে তাকালেন মুখার্জি। বাহ্‌। দশ মিনিট আগেই পৌঁছে গেছে। গড়িয়াহাট আর বালিগঞ্জ ফাঁড়ির জ্যাম-এর জন্য বরাদ্দ পঁচিশ মিনিটের অবশিষ্টাংশ। ব্যাঙ্কের কাজটা এই বেলাই সেরে ফেলা যাবে। এখন তো কাউন্টারে ভিড় নেই বললেই চলে।

    কাচের সুইংডোর ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন মুখার্জি। তার মতো কাস্টমারদের সুবিধের কথা ভেবেই এই ব্যাঙ্কের কাজের সময় ন’টা থেকে শুরু হয়। কিন্তু তাতে ব্যাবসার খুব সুবিধে হয়েছে বলা যায় কি না সন্দেহ।

    চেবুকটা বার করে পাতাটা ছিঁড়ছেন যখন, সাহা তার পাশে এসে দাঁড়াল। মুখার্জি লক্ষ করেননি।

    সাহা কাউন্টারের পাশে ঝোলানো টাকা জমা দেওয়ার হলুদ একটা রসিদ ছিঁড়ে নিয়ে মুখ নিচু করে লিখছে। টোকেন হাতে নিয়ে ক্যাশ-কাউন্টারের দিকে এগোবার সময়ে মুখার্জি প্রথম লক্ষ করলেন সাহাকে। তাঁর ভুরুটা একটু কুঁচকে গেল। এই ব্যাঙ্কেই অ্যাকাউন্ট, এটা তো জানা ছিল না। মনে পড়ে গেল, আজ সাড়ে দশটার সময় এই লোকটার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ভাবলেই মেজাজ খারাপ। কিন্তু উপায় নেই। চাকরি যখন প্রিয়-অপ্রিয় সব কাজই করতে হবে। তবে যেচে কথা বলার প্রবৃত্তি নেই মুখার্জির। বিশেষ করে সাহা যখন লক্ষ করেনি দেঁতো ভদ্রতাও মুলতুবি রইল।

    টাকা গুনে বেরোবার সময়ে মুখার্জি আড়চোখে দেখলেন, সাহার কাজ তখনও শেষ হয়নি। একটু অবাকও হলেন। সাহা যেন একবার তাকাল তার দিকে, কিন্তু বোধ হয় খেয়াল করেনি। না হলে বিনয়ের যা একটি অবতার, এক্ষুনি কোলাহল জুড়ত।

    মুখার্জি ব্যাঙ্কের গেট পার হওয়া মাত্র সাহার ঢিলে চাল উবে গেল। দ্রুত পায়ে সুইংডোর পেরিয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে মুখার্জির সঙ্গে তার দূরত্বটা মেপে নিল।

    মুখার্জি অলকা ম্যানসনের সদর দরজায় পা রাখতেই সাহাকে দেখা গেল এক দৌড়ে রাস্তা পার হতে। মুখার্জি যখন লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে বোতামে আঙুলের চাপ দিচ্ছেন, সাহা তখন তার দশ পা পেছনে সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বাঁ কবজির রিস্টওয়াচে চোখ রাখার অছিলায় মুখার্জিকে লক্ষ করছে।

    লিফটটা নীচেই ছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাল্লা ফাঁক হতে শুরু করে। সাহা একবার পেছন দিকে দৃষ্টি ছুড়েই একেবারে দুই লাফে যেন পৌঁছে গেল লিফটের দরজার কাছে। মুখার্জি লিফটে পা রাখার আগেই ঢুকে পড়েছে সাহা। তার গোমেদের আংটিপরা আঙুলটা লিফটের বাটন-প্লেটের দিকে এগিয়ে গেল। দরজা বন্ধ।

    ॥ ৩ ॥

    হাঁটার সময় সুখেন্দু সরকার বাঁ হাতের দু’আঙুলের টানে ধুতিটাকে বেজার ভঙ্গিতে উচু করে রাখে। বাড়িতে হোক কি রাস্তায়, তাকে দেখলেই মনে হয় যে, ভদ্রলোক অবিরাম প্যাচপ্যাচে জলকাদার সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত। তার ওপর এখন আবার তাকে বাঁ বগলের মধ্যে টিপে ধরে রাখতে হয়েছে। রেক্সিনের হলদে ব্যাগটা। বর্ষাকালে টিফিন-বক্সের সঙ্গে ছাতা যুক্ত হলে চেন টানা যায় না।

    দরজায় পা দিয়েই ‘দাঁড়া বাবা দাঁড়া’— বলে গতিবৃদ্ধি করেছিল সরকার। কারণ লিফটের দরজাটা তখনও বন্ধ হতে ইঞ্চি-চারেক বাকি ছিল। মুখার্জিসাহেবকে সে দূর থেকেই লক্ষ করেছে। কিন্তু বড়সাহেবকে তো আর ডাকা যায় না। লিফট দাঁড়াল না। সরকার কপালের ঘাম মুছতে মুছতে ভাবল, ললাটের লিখন মুছলেই কি আর ওঠে। গত দু’ হপ্তায় একদিনও সময়ে অফিসে পৌঁছতে পারেনি। আজ যদি বা…

    ঘড়ির দিকে তাকাল সরকার। দশটা বাজতে দুই। তারপর পেছন দিকে। আর কোনও লোকের চিহ্ন নেই। মহা মুশকিল। একে তো এই বেতো লিফট ঢিকির ঢিকি করে বারো তলা পাড়ি দিয়ে আবার নীচে নামতে দশ-বারো মিনিট পার করাবে আর, অন্যদিকে একা সরকার প্রাণ থাকতে ওই লিফটের খাঁচায় ঢুকতে রাজি নয়। কখন কোথায় হঠাৎ ফেঁসে যায়।

    গজগজ করতে করতে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায় সরকার।

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই লিফটের দরজার সামনে একে একে বিভিন্ন অফিসের কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে। শ্যামলের দিকে তাকিয়ে অলক বলে, “ব্যাপার কী! আজ যে ভোরের আলো না ফুটতেই অফিসে…”।

    ভুরু কুঁচকে শ্যামল বলে, “ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতে তো বুঝতে হে… রোজই এই এক ট্রেন ধরেই আসি। আগের ট্রেন ধরলে অফিসে ঝাড়ু দেওয়ার কাজটাও নিতে হত। হুঁঃ।”

    আরও অনেকে জুটে গেছে ইতিমধ্যে। দুটো লিফটের সামনে দুটো লাইন। বারোয়ারি অফিস বিল্ডিংয়ে গোটা-চোদ্দো সংস্থা। লিফট মাত্র দুটো। একটা জোড়-সংখ্যা আর অন্যটা বিজোড় ধরে ওঠানামা করে। সকালে তাড়ার সময় নীচের তলার লোকেরা লিফটের তোয়াক্কা করে না। কিন্তু অলক, শ্যামল, বিনয় ও তপন— এরা সকলেই মুখার্জিসাহেবের অফিসের কর্মী— সবাই উঠবে হিমালয়ের চুড়ায়। অপেক্ষা না করে উপায় কী?

    বিনয় বলল, “অবস্থাটা দ্যাখ— লিফটের মেনটেনেন্স বলে কোনও পদার্থ নেই। ইন্ডিকেটরের আলো একটাও জ্বলছে না। লিফট যে কোথায়— কতক্ষণে তিনি নামবেন তার কোনও হদিশ পাওয়াই ভার।”

    বলতে বলতেই লিফটের অবতরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেল আলোর আভা দেখে।

    তপন বলল, “সবাই জয়গুরু বলো। আজ বোধহয় লাল গোল্লা পড়বে না হাজিরা-খাতায়।”

    লিফটের দু’পাল্লা দু’দিকে ফাঁক হয়ে গেল। কিন্তু কারও আর ওঠা হল না।

    মুখার্জি পড়ে আছেন লিফটের মেঝেয়। তার ব্রিফকেস ছিটকে পড়েছে। মুহূর্তের জন্য নীরবতা। প্রথম গলা শোনা গেল সাহার, “এ কী! মুখার্জিসাহেব৷ কী কাণ্ড! আরে সবাই দাঁড়িয়ে আছেন এখনও। শিগগির হাত লাগান। তুলুন ওঁকে।”

    সাহা লিফটের সামনে অপেক্ষমাণ সারির মাঝখান থেকে আগে ছুটে এসেছে।

    কয়েকজনে মিলে মুখার্জিকে পাঁজাকোলা করে লিফটের বাইরে নিয়ে এল। তপন ব্রিফকেসটা তুলে নিয়েছে। আর শ্যামল— মুখার্জিসাহেব যেখানে পড়ে ছিলেন তার পেছন থেকে একটা বিবর্ণ নীল ফুলকাটা লেডিজ ছাতা কুড়িয়ে নিল।

    ॥ ৪ ॥

    নীচের তলায় দারোয়ানের ছোট্ট একটা ঘরে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুখার্জিকে। কিন্তু তারপর বারোতলায় নিজেদের অফিসেই নিয়ে এসেছে তারা।

    ভিজিটার্সরুমে সোফার ওপরে শুয়ে আছেন মুখার্জি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সকলে। একমাত্র শ্যামল আর সরকার ছাড়া।

    সরকারকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে শ্যামল বলল, “এই ছাতাটা তো আপনার?”

    “আরে! কী আশ্চর্য। ওটা তুমি পেলে কোথায়?” সুখেন্দু হেসে হাত বাড়ায়।… “হপ্তাখানেক আগে সেই যে হঠাৎ লোপাট হল, ফেরত পাব ভাবতেই পারিনি…”।

    শ্যামল গম্ভীর মুখে বলল, “লিফটে মুখার্জিসাহেবের পাশেই পড়ে ছিল ছাতাটা।”

    সরকারের মুখ থেকে হাসিটা মিলোতে সময় লাগল। ব্যাপারটা যেন প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। তারপরে চোখ বড় বড় করে বলল, “শ্যামল, প্লিজ, এটা ঠাট্টা করার সময় নয়।”

    শ্যামল ভুরু কুঁচকে বলল, “আমারও একই বক্তব্য। আপনি মুখার্জিসাহেবের সঙ্গে লিফটে উঠেছিলেন?”

    সরকারের প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা। সে বোঝাবার চেষ্টা করে কেন লিফটে না চড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠেছে। সত্যিই যে আজকে এই ছাতাটা আনেনি প্রমাণ করার জন্য ব্যাগ খুলে দ্বিতীয় ছাতাটা দেখায়। এমনকী, মুখার্জিসাহেবকে সে পেছন থেকে লিফটের দিকে এগোতে দেখেছিল সেটাও কবুল করে।

    শ্যামল বলে, “দেখুন সরকারদা, ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। লিফটের মধ্যে ছাতাটা দেখেই আমি চিনতে পারি এটা আপনার। সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিই। সম্ভবত আর কারও চোখেও পড়েনি ব্যাপারটা। কিন্তু আপনি যদি সত্যি কথা না বলেন, আমি কিন্তু আপনাকে বাঁচাবার জন্য…”

    আলোক ঘরে ঢোকায় শ্যামল চুপ করে যায়। অলোক জিজ্ঞেস করে, “ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়েছে?”

    “হ্যাঁ। দু’জনকে বলা হয়েছে। যে আগে আসে।” সরকারের দিকে আড়চোখে একবার তাকিয়ে অলোককে নিয়ে বেরিয়ে আসে শ্যামল।

    শ্যামল বলে, “মুখার্জিসাহেবের প্রেশার ছিল বলে তো শুনিনি।”

    অলোক বলল, “চোটটা লেগেছে মাথায়, তবে বোধহয় অল্পের ওপর দিয়ে গেছে। মাথাটা একটু কেটেছে তবে স্টিচ করার দরকার হবে না। নেবাসালফ পাউডার দিতেই রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে।”

    মুখে মুখে খবরটা ভালই ছড়িয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে যা হয়, উদ্বেগের বা আশঙ্কার চেয়ে কৌতূহলেরই ভিড় বেশি। অনেক বুঝিয়েসুজিয়ে দরজার বাইরে রাখতে হয়েছে তাদের। ঘরে এখন সাহা ছাড়া সবাই অফিসের লোক। সাহাকে অবশ্য সম্পূর্ণ বহিরাগত বলা চলে না। এ-অফিসে আগেও বার তিন-চার সে এসেছে।

    মুখার্জির চোখ থেকে কুয়াশা সরে আস্তে আস্তে কয়েকটা মুখ ফুটে উঠছে। বিনয় ভুল বলেনি, আঘাতের চেয়ে শকটাই বেশি।

    চোখের পাতা খুলতে দেখেই শ্যামল ঝুঁকে পড়ে বলল, “একটু চুপ করে শুয়ে থাকুন সার। এক্ষুনি ওঠার চেষ্টা করবেন না।”

    তখনও বিহ্বল ভাবটা মুখার্জির পুরো কাটেনি। আবার চোখ বুজে ফেললেন।

    সাহা বলল, “জ্ঞান ফিরে এসেছে ঠিকই, তবু একটা থরো মেডিক্যাল চেকিং খুব দরকার।”

    বহুকাল আগের কী একটা দুঃস্বপ্নের স্মৃতি যেন মুখার্জির আচ্ছন্ন ভাবটাকে হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে দিল। চোখ খুলে কাকে যেন খুঁজছেন।

    সাহার ওপর নজর পড়ামাত্র শেষ ঘোরটুকুও কেটে গেল। লাফিয়ে উঠলেন মুখার্জি। সাহার ওপরে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তার জামাটাকে বুকের কাছে মুঠো করে ধরলেন, “দিস ইজ দা ম্যান। হি হিট মি। আমায় খুন করতে..”

    “ছাড়ুন, ছাড়ুন— কী পাগলামি করছেন—” সাহা মুখে বীরত্বের ভান করে, কিন্তু বোঝা যায় ভয় পেয়েছে।

    সবাই মিলে একরকম জোর করেই সরিয়ে আনে মুখার্জিকে। বিনয় শান্ত করার চেষ্টা করে, “আপনি উত্তেজিত হচ্ছেন কেন। আমরা তো আছি। যা দরকার আমাদের বলুন।”

    “বলার আর আছেটা কী! এই স্কাউন্ড্রেলটা আমার গলা টিপে ধরেছিল লিফটের মধ্যে। এক্ষুনি ফোন করো তুমি পুলিশে…” দু’হাতে কপাল টিপে সোফায় হেলান দিয়ে বসেন মুখার্জি। তারপরে আবার সোজা হয়ে বসে, “আমার ব্রিফকেসটা…”

    অলোক বলে, “একটু পরে দেখলে হত না…”

    ব্যাগ খুলেই মুখার্জি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “বাহ্। তিন হাজার টাকা উধাও! চমৎকার! আজই অফিসে ঢোকার আগে তুলেছি। খোঁজ নিয়ে দেখতে পারো।”

    সবাই স্তম্ভিত হয়ে এ ওর মুখের দিকে তাকায়। সাহেবের কি সত্যিই মাথাটা বিগড়ে গেল নাকি! ব্যাঙ্কে খোঁজ নেওয়ার দরকার কী! মুখার্জিকে যখন ধরাধরি করে আনা হচ্ছিল, তখনই ওরা লক্ষ করেছে তার বুকপকেট থেকে একগোছা একশো টাকার নোট উঁকি মারছে। পড়ে যেতে পারে বলে টাকাটা তুলে বিনয়ের কাছে গচ্ছিত করেছে।

    টাকা ফেরত পেয়ে আরও ক্ষিপ্ত মুখার্জি। “হতেই পারে না। টাকাটা আমি ব্যাগেই ভরেছিলাম। এই সাহা ব্যাঙ্ক থেকেই আমার পিছু নিয়েছে। তারপর লিফটে একা পেয়েই আমাকে…”

    সাহা কাঁধ ঝাঁকিয়ে নাচারের ভঙ্গিতে বলে, “এসব কথা শুনলেও পাপ। আমার কিছু বলার নেই। আমার যা বলার, দরকার হলে পুলিশকেই বলব।”

    শ্যামল মুখার্জিসাহেবের কানের কাছে মুখ নামিয়ে বলল, “আপনার সঙ্গে কয়েকটা খুব জরুরি কথা আছে। সিক্রেট।”

    মুখার্জির নির্দেশে বাকি সবাই পাশের ঘরে চলে গেল। অল্পকথায় ছাতা এবং সুখেন্দু সরকারের ইতিবৃত্ত গুছিয়ে বলল শ্যামল।

    আরও উত্তেজিত মুখার্জি। “নিশ্চয় সাহা কোনও এক সময়ে ছাতাটা চুরি করেছিল। আজ কাজ সেরে ওটাকে লিফটের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে।”

    শ্যামল বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে কেন সাহার পক্ষে মুখার্জিকে আঘাত করা কিছুতেই সম্ভব নয়। কারণ অজ্ঞান অবস্থায় মুখার্জিকে নিয়ে লিফটটা যখন নীচে এসে নামে তখন শ্যামল, বিনয় ও অলোকের মতো সাহাও ছিল সেখানে। অথচ মিনিট কয়েক আগেই মুখার্জি উঠেছিলেন লিফটে। সেই লিফটে যদি সাহা থাকত তা হলে সে ওই লিফট নীচে নামার আগেই আবার লাইনে এসে দাঁড়াল কী করে।

    মুখার্জি সোফায় হেলান দিয়ে বসে কেবলই ঘাড় নাড়েন, “এ হতে পারে না! কিছুতেই হতে পারে না।”

    তবে শ্যামলের সঙ্গে একটা ব্যাপারে তিনি একমত। পুলিশে খবর না দেওয়াই ভাল। পুলিশ এলে সুখেন্দু সরকারের কপালে যে অশেষ দুর্ভোগ, তাতে কোনওই সন্দেহ নেই।

    ॥ ৫ ॥

    সৌমেন আচমকা হাজির না হলে হলডেন সায়েন্স ক্লাবে সেদিন যে কী ঘটত বলা মুশকিল। হয় সেনাপতি মিহির ঘটকের পতন, নয় তো তাঁর তরুণ ফৌজের দলত্যাগ। বেহালায় এরোমডেলার্সদের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় ফ্রি ফ্লাইট, কন্ট্রোল লাইনার, সি-প্লেন কি হোভারক্র্যাফট সহযোগে হাজির হওয়ার চেয়ে মিহিরদার ওই বাক্স-ঘুড়ি বানানোর গবেষণায় প্রাণমন সঁপে দেওয়ার প্রস্তাবটা ঢের বেশি রোমাঞ্চকর— এটা বিনা আপত্তিতে সবাই মেনে নেবে, ভাবাটাই অস্বাভাবিক।

    সৌমেন চাপা গলায় ফিসফিস করে মিহিরকে জানাল, “লোকটা হেভি আহত। মাথায় ব্যান্ডেজ। চোখের কোণে ঘন কালি। বলছে, তোমার ইস্কুলের বন্ধু। মুখার্জি না কী যেন নাম। তোমার বাড়ির সামনেই পায়চারি করছে। ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।”

    রণে ভঙ্গ দিয়ে সৌমেনের সঙ্গে বাড়ি ফিরে এল মিহির।

    মিহিরের বাড়িতে বসে কাহিনির বিবরণ শেষ করে মুখার্জি বললেন, “আমাকে একেবারে গাধা বানিয়ে ছেড়েছে, পাগল প্রমাণিত হয়েছি আমি।”

    সৌমেন উদগ্রীব হয়ে চেয়ারের সামনে এগিয়ে বসেছে। ক্যানভাসের ইজিচেয়ারের খোলের মধ্যে সেঁধিয়ে রয়েছে মিহির। বাঁ হাতটা ভাঁজ করে মাথার পিছনে। ডান হাতে আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। ঘাড় কাত করে নীরবে, শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে মুখার্জির দিকে।

    মুখার্জির উচ্চতা মাঝারি, দোহারা চেহারা—সবই তাঁর মাঝারি রকমের। প্রথম নজরে উল্লেখযোগ্য কিছু চোখে পড়ে না। কিন্তু কিছুক্ষণ তাঁর মুখে কথা শোনার ফাঁকেই ভদ্রলোকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর পরিচয় পেয়েছে সৌমেন। মানুষটি আত্মবিশ্বাসী। পরিস্থিতির অভিনবত্ব তাঁকে সন্দিগ্ধ করেছে কিন্তু। বিচলিত করতে পারেনি। নিজের প্রত্যয়ে অচল। সাহা যে একটি তুলনাহীন স্কাউন্ড্রেল, তাতে তাঁর কণামাত্র সন্দেহ নেই।

    কিন্তু প্রমাণ কই? আজকের এই অদ্ভুত ঘটনার ব্যাখ্যাটাই বা কী? এখানেই ঠেকে গেছেন মুখার্জি আর তখনই তাঁর মনে পড়েছে বাল্যবন্ধু মিহিরের কথা।

    সাহার অ্যালিবাই-তে কোনও ফুটো নেই সেটা স্বীকার করে নিয়েও মুখার্জি নিঃসন্দেহ যে সাহাই। কালপ্রিট।

    সৌমেন মনে মনে আর-একবার সাজিয়ে নেয় সকালের ঘটনাটা। মুখার্জিরই বিবরণ অনুসারে।

    দশটা বাজতে ঠিক কুড়িতে ব্যাঙ্কে ঢুকেছিলেন মুখার্জি। সেখানে সাহাও ছিল। তারপর ঠিক দশটায় তিনি লিফটে পা দেন। (পরে সরকার একেবারে নিশ্চিত করে বলেছে দশটা বাজতে তখন পুরো এক মিনিট বাকি)। সাহাও হুড়মুড়িয়ে লিফটে এসে ঢুকেই আচমকা একটা ঘুসি মারে মুখার্জিকে। তারপরে গলা টিপে ধরে। জ্ঞান হারাবার আগে সাহার শেষ ক’টা কথাও মনে আছে মুখার্জির, “এই দুটো আঙুল পুরো এক মিনিট চেপে ধরে রাখি যদি তা হলেই অক্কা পাবেন মুখার্জিসাহেব।”

    এই অবধি সবই ঠিক আছে। কিন্তু গুলিয়ে গেল জ্ঞান ফেরার পর। স্বাভাবিকভাবেই সময়ের হিসাব রাখতে পারেননি মুখার্জি। সাহাকে দেখেই ভেবেছিলেন অপকীর্তি সেরে ব্যাটা আবার কোনও মতলবে এসেছে।

    কিন্তু মুখার্জির অভিযোগ যে মোটেই ধোপে টেকেনি তার একটাই কারণ, শ্যামল, অলোক, বিনয়— এরা প্রত্যেকে সাক্ষী অচৈতন্য মুখার্জিকে নিয়ে লিফট যখন নেমে আসে, সাহা তখন তাদের সঙ্গেই ছিল, লাইনে দাঁড়িয়ে। এবং লিফটটা নেমে আসে যখন, তখন ঠিক দশটা বেজে পাঁচ মিনিট।

    এরপরের ব্যাপারটা সহজবোধ্য। যদি সাহা লিফটে উঠে সত্যিই মেরে থাকে মুখার্জিকে, এই ক’মিনিটের মধ্যে সে অপকর্ম সেরে ওই লিফটেই আবার নীচে নামার কয়েক মিনিট আগেই আর পাঁচজনের সঙ্গে লাইনে এসে দাঁড়াল কী করে? হ্যাঁ, প্রত্যেকে বলেছে দ্বিতীয় লিফট থেকেও নামেনি সাহা। তা হলেও না হয় বোঝা যেত মাঝপথে কাজ হাসিল করে, একটা তলা ছুটে নেমে দ্বিতীয় লিফটে চড়ে সে নেমে এসেছিল। যদিও ঠিক সেই সময়েই দ্বিতীয় লিফটটাকে ঠিক ওই জায়গাতেই পাওয়া একটা দারুণ ভাগ্যের কথা।

    মাঝপথে লিফট থামিয়ে নামার প্রশ্নের খেই ধরে দ্বিতীয় প্রশ্নটাও আসে। সিঁড়ির কথা। সাহা কি কোনওভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করে থাকতে পারে নামার সময়ে? পারে, তবে আসল সিঁড়ি নয়, ফায়ার এসকেপের সিঁড়ি। তা হলে সে পেছন দিকের গলিতে গিয়ে পৌঁছতে পারত, তারপর ছুটে এসে সদর দরজা দিয়ে ঢুকে আবার লিফটের লাইনে এসে দাঁড়ানোও সম্ভব। কিন্তু সেখানে আবার অন্য সমস্যা। অটোমেটিক লিফটের সমস্যা। সাহা কী করে নিশ্চিত হল যে, এত বড় বাড়ির অন্য কোনও ফ্লোর থেকে এর মধ্যে অন্য কেউ লিফটের বোতাম টিপে তাকে মাঝপথে কোথাও থামাবে না? তা হলে তো আর লিফটটা বারোতলা অবধি উঠে আবার পুরো নীচে নেমে আসার ফাঁকে সাহাকে তার অ্যালিবাই তৈরি করার সুযোগ দিত না। নিশ্চিত না হয়ে সাহা সে ঝুঁকি নেবে, স্বয়ং মুখার্জিও সেটা বিশ্বাস করতে পারেন না।

    তবে? বিরাট একটি জিজ্ঞাসার চিহ্ন।

    তার মধ্যে আবার বেচারা সুখেন্দু সরকারকে প্যাঁচে ফেলেছে তার ভাঙা ছাতা। মুখার্জি ভাবতেই পারেন না, সরকারের মতো নিরীহ, ভিতু সম্প্রদায়ের মানুষ কখনও এসব ব্যাপারে জড়িত হতে পারে। স্রেফ সাহার কারসাজি। কয়েক সপ্তাহ আগে মুখার্জির সঙ্গে একবার দেখা করতে এসেছিল সাহা। তখনই নিশ্চয় ওই ছাতাটা লোপাট করেছিল। সবচেয়ে বড় কথা সরকারের মতো সৎ মানুষ জীবনে খুব কম দেখেছেন মুখার্জি।

    সৌমেন বলল, “আচ্ছা, সাহার ডাবল তো থাকতে পারে? যমজ ভাই?”

    চোখ বুজেই মিহির বলল, “সেটা হলে তো সমস্যা আর থাকবেই না। তবে সাহা যদি সত্যিই স্কাউন্ড্রেল হয় তবে তার সম্ভাবনা খুব কম। যাই হোক, সেটা পুলিশ সোর্স থেকে চেক করার দায়িত্ব আমার।”

    মুখার্জি বললেন, “তার বোধহয় দরকার নেই। লিফটে উঠেই আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে সাহা যখন বাটনটি টিপেছিল আমি তার গোমেদের আংটিটা দেখেছিলাম। তা ছাড়া ওর ওই আংটি পরা আঙুলে একটা বড় আঁচিল আছে। পরিষ্কার মনে আছে।”

    সৌমেন তবু হাল ছাড়ে না, “আপনার অফিসের অন্য কোনও সহকর্মী যদি সাহার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্রের মধ্যে…”

    “ভেরি আনলাইকলি। কারণ একজন কেউ সেরকম কিছু করলেই অন্যের চোখে কি পড়ত না? ঠিকই পড়ত। বিশেষ করে আজ যে কাণ্ড ঘটেছে। তবে যদি পুরো অফিসের সব কর্মী মিলেই… একেবারেই অসম্ভব। হতেই পারে না!”

    মিহির সিগারেটটা ডোকরা অ্যাশট্রেতে টিপে দিতে দিতে বলল, “অ্যালিবাইটা যেরকম জব্বর তাতে লোকটা তোকে খুন করেও পার পেয়ে যেত বোধহয়।”

    মুখার্জি হঠাৎ হাসতে শুরু করলেন। সৌমেন অবাক হয়ে তাকায়। হাসির কারণটা তার বোধগম্য হয় না।

    মুখার্জি হাসতে হাসতেই বললেন, “আরে তুই দেখছি ঠিক সাহার কথাটাই রিপিট করলি।”

    “তার মানে?”

    “সকালের কাণ্ড মেটার পর এই তিনটে নাগাদ একটা ফোন পেয়েছিলাম। সাহা করেছিল। নাম বলেনি। তার দরকারও ছিল না। শুধু বলল, “ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করতে চাই না বলেই আজ এইটুকুর ওপর দিয়ে গেল। এতেও যদি শিক্ষা না হয় তা হলে অবশ্য আমার আর উপায় থাকবে না। এবং ঠিক এই ভাবেই পরের বার তোর লাশটা লিফটে করে…”

    তড়াক করে লাফিয়ে উঠল মিহির, “না, না! এটা হাসির কথা নয়। ব্যাপারটাকে এরপর আর হালকাভাবে নেওয়া চলে না!”

    “আপনি পুলিশে খবর দিয়েছেন?” সৌমেন জানতে চায়।

    “না। সাহা বারণ করেছে।” আবার হাসে মুখার্জি, “না, ঠিক প্রাণের ভয়ে নয়, মিহিরের পরামর্শটা তার আগে নেওয়া দরকার মনে করেছি।”

    “চুপ কর তো!” মিহির ধমক লাগায়, “সাহার মোটিভটা কী সেটাই তো শুনলাম না এ অবধি। যার জন্য তোকে এভাবে টার্গেট করেছে।”

    “ওহ্‌ হ্যাঁ, সেটাই বলা হয়নি, তাই না? আমি কোন অফিসে কী কাজ করি সেটা অবশ্য তোর মনে থাকার কথা নয়। তা জানলে আন্দাজ করতে অসুবিধে হত না। ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ফিনান্সিং অথরিটির একটা অঞ্চলের অফিসার-ইন-চার্জ আমি। আমাদেরটা টেকনিক্যাল সেল। অর্থাৎ, যারা কোনও কারখানা ইত্যাদি স্থাপন করার জন্য টাকা ধার চায়, তাদের স্কিম, প্ল্যান ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখার জন্য সবার আগে আমাদের কাছে আসে। অঞ্চলভিত্তিক ভাবে। আমি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আমার জায়গায় যিনি কাজ করতেন, মিস্টার নন্দী, তিনিই আমাকে রিটায়ার করার পর প্রথম সতর্ক করে দিয়েছিলেন। সত্যি বলতে, সাহার জন্যই চাকরির মেয়াদ ফুরোবার আগেই অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। সাহারই একটা স্কিম, অবশ্য বেনামে, স্যাংশন করার পর সেবার প্রায় আট লক্ষ টাকা জলে গিয়েছিল। তখনই আমার ধারণা হয়েছিল নন্দী অসৎ লোক নন। সেই ধারণা এবার পাকা হয়েছে। মাস ছয়েক আগে সাহা নতুন একটা স্কিম জমা দেয়। এবার নিজের নামেই। বিশাল প্রোজেক্ট। প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্ল্যান্ট বসাবে। শুধু তাই নয়, এক জাতীয় ল্যাবরেটরি থেকে সে প্রকৌশলটি পাঁচ বছরের জন্য কিনেছে, রয়ালটি দিচ্ছে। এবং একটি ছোট্ট আকারের পাইলট প্ল্যান্ট পরীক্ষামূলকভাবে এক বছর চালিয়েই প্রায় সাত লাখ টাকার ব্যাবসা করেছে। কোথাও কোনও খুঁত নেই। এই প্ল্যান স্যাংশন না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু তবু আমি দেরি করছিলাম। কোথায় যেন মনটা মানছিল না। হঠাৎই বলতে হবে একটা সন্দেহ দেখা দিল। আগেই বলেছি আমরা টেকনিক্যাল সেল। ব্যবসায়িক লেনদেনের বিশদ বিবরণ আমাদের কাছে আসে না। শুধু গ্রস হিসেবে। আমি সেই বিবরণটাই সংগ্রহ করলাম। সঙ্গে সঙ্গে সব প্রশ্নের মীমাংসা। যে ল্যাবরেটরির কাছ থেকে টেকনিকটা কিনেছে সাহা, সেই ল্যাবরেটরিই ওর বলতে গেলে একমাত্র ক্রেতা। তাদের দৌলতেই ও ওর ব্যাবসার মুনাফা দেখিয়ে আরও ধার চাইছে। বিরাট চক্রান্ত। এর মধ্যে ওই ল্যাবরেটরিরও কিছু হোমরাচোমরা জড়িয়ে আছে সন্দেহ নেই। ব্যাপারটা চরম পর্যায়ে

    পৌঁছল যেই আমি ওদের কারখানায় তৈরি মালের স্যাম্পেল চেয়ে পাঠালাম। ওরা প্রমাদ গুনল। নিশ্চয় আমি সেটা টেস্টিংয়ের জন্য অন্য কোথাও পাঠাব। আরও শুনবি?”

    “এনাফ। যথেষ্ট! এবার একটা কথা বল তো, তুই কি রোজ একই সময়ে অফিসে আসিস?”

    “একই সময় হয়তো নয়, কিন্তু দশটা বাজতে দশের আগেই প্রতিদিন পৌঁছই।”

    “তোদের বিল্ডিংয়ে কি সবই সরকারি অফিস?”

    “হ্যাঁ। তবে থার্ড, ফোর্থ আর ফিফথ ফ্লোরে গোডাউন আছে।”

    “তা হলে তুই যখন অফিসে পৌঁছাস, সব খাঁ খাঁ?

    “তা বলতে পারিস, তবে আমাদের ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন প্রায়ই দেখি আমার আগেই অফিসে আসে।”

    “তার মানে, একা তোকে লিফটে পাকড়াও করার জন্য সুযোগের প্রতীক্ষায় একজন ঘাপটি মেরে বসে ছিল।”

    ॥ ৬ ॥

    মরিস মাইনরের লাট্টগিয়ার ঠেলে মুখার্জি যখন গাড়িটাকে ব্যাক করিয়ে পার্ক করছেন, পাশ থেকে মিহির বলল, “তুই কি রোজই এই জায়গায় পার্ক করিস?”

    “বছর পাঁচেক ধরে। ওই দ্যাখ, জায়গা রিজার্ভ করা আছে। না হলে কি আর এখানে গাড়ি রাখার সুযোগ পাওয়া যায়!”

    “শোন, আমি গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াচ্ছি। তুই মিনিট তিনেক পরে নামবি। তারপর আমাদের কথা ভুলে রোজ যেরকম করিস, ঠিক সেইভাবে অফিসের দিকে এগিয়ে যাবি। অফিসের গেটে পৌঁছে, তারপর আমাদের জন্য ওয়েট করবি কেমন?”

    “ও কে।”

    পেছনের দরজা খুলে সৌমেন আর সামনের সিট থেকে মিহির নেমে পড়ল।

    মিহির বলল, “আমরা এখন কী খুঁজছি সৌমেন?”

    “একটা জায়গা। যেখান থেকে মিস্টার মুখার্জির চোখে না পড়েও তাঁর ওপর নজর রাখা যায়।”

    “ঠিক। সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার যে, প্রতিদিন মিনিট পনেরো-কুড়ি অপেক্ষা করতে হলে, সন্দেহের দৃষ্টি যাতে না পড়ে…”

    মিনিট পাঁচেকের পর্যবেক্ষণের পর মিহির ও সৌমেন নিশ্চিত হল, সেরকম জায়গা বলতে দুটো। একটা পান-সিগারেটের দোকান। দ্বিতীয়টা ‘শরবত অ্যান্ড স্ন্যাকস’।

    পানওলা তখনও দোকান খোলেনি। খয়ের রাখার কাঁসার ঘটিটায় পালিশ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। ইচ্ছে করেই এক প্যাকেট ‘ক্ল্যাসিক’ সিগারেট চাইল মিহির। বেশি দামের সিগারেটের অর্ডারটা হয়তো প্রত্যাখ্যান করবে না। মোটাসোটা দোকানদার মুখ না তুলেই যা উত্তর দিল তার বাংলা করলে মানে দাঁড়ায়, অন্ধ না হলে সবারই বোঝা উচিত যে এখনও দোকান খোলেনি।

    সৌমেন বলল, “আজ দোকান খুলতে এত দেরি যে…”

    এবার দোকানদার চোখ তুলে তাকাল। কিন্তু সত্যযুগের ভস্ম করার শক্তিটা এখন আর কাজ করছে না বুঝে বলল, “দশটার আগে কভি দুকান খুলা হয় না।”

    ওদিকে মন্টু ছটফট করছিল। আজ এত দেরি কেন? সব টুল পাতা হয়ে গেল। তবে কি সকালের চার আনা আজ বরবাদ। সৌমেন আর মিহিরকে আসতে দেখে তার কৌতূহল বাড়ল।

    সৌমেন বলল, “খাওয়াদাওয়া জুটবে কিছু? দোকান খুলেছে?”

    মন্টু বলল, “রোজ-সিরাপ আছে। ঠান্ডা।”

    “সাতসকালে রোজ-সিরাপ?”

    “আমাদের রোজ-সিরাপ খেয়েছেন কখনও? তা হলে বলতেন না। ভোরবেলার বাবু আসেননি এখনও, তা হলে…”

    বাকিটুকু সোজা। রোজ-সিরাপে স্ট্র দিয়ে টান লাগাতে লাগাতেই যা জানার জেনে নিয়েছে। ওরা।

    সৌমেন ঠাট্টা করে বলল, “দ্যাখো ভাই, তোমার ওই সকালের বাবুকে তুমি নিশ্চয় স্পেশ্যাল কিছু খাওয়াতে! আমার তো তেমন কিছু সাংঘাতিক লাগছে না।”

    মন্টু রেগে গেল, “স্পেশ্যাল মানে? ঠিক যা দিই ওঁকে তাই দিয়েছি। এমনকী, ঠান্ডা শরবতে পাঁচ টুকরো বরফ, তাও।”

    মিহির গেলাসটা সশব্দে কাউন্টারে রেখে বলল, “কী বললে? বরফ?”

    “হ্যাঁ, হ্যাঁ, বরফ— শরবত যতই ঠান্ডা হোক, তবু পাঁচ টুকরো বরফ দিতে হত। গুনে। দেখুন।”

    মিহির দেখল কথাটা সত্যি। পাঁচটা কিউব ভাসছে। একটা কিউব হাতে তুলে নাড়াচাড়া করল। তারপর দু’ টাকা টিপস দিয়ে দাম মিটিয়ে পা বাড়াল দু’জনে। পেছন ফিরে মিহির বলল, “কালই সকালে আবার আসব ভাই।”

    অলকা ম্যানসনের দরজায় মুখার্জি অপেক্ষা করছিলেন। মিহির বলল, “চল— এবার স্বয়ংক্রিয় চলমান কক্ষটিতে পদার্পণ করা যাক।”

    সৌমেন নিঃসন্দেহ যে, মিহির একটা ক্লু পেয়েছে। না হলে শুদ্ধ বাংলা বেরোত না। তা ছাড়া শরবতের দোকান থেকে বেরিয়েই মিহিরদা গুনগুন করে গান গাইতে শুরু করেছিল, “কে বিদেশী মন উদাসী বাঁশের বাঁশি হুঁহুঁ হুঁহুঁ…”

    লিফটের সামনে জনাপাঁচেক দাঁড়িয়ে। ওরাও লাইন দিল।

    মিহির বলল, “যতদূর জানি একজন লিফটম্যান থাকার কথা…”

    মুখার্জি ঠোঁট টিপে হাসল, “থাকার কথা এবং আছে, কিন্তু সবসময়ে চোখে দেখা যায় না, এই যা…”

    “বিশেষ করে সকালের দিকে, তাই তো?”

    “হ্যাঁ।”

    সৌমেন বলল, “মিহিরদা, দ্যাখো, একটাও ইন্ডিকেটর ল্যাম্প জ্বলছে না। লিফটটা যে এখন ঠিক কোথায় বোঝার কোনও উপায় নেই।”

    মুখার্জি বললেন, “একে একে নিভিছে দেউটি। কিছুদিন আগেও একটা কি দুটো আলো জ্বলত। বোধহয় সাত আর নয়। এখন সবই গেছে।”

    “রিপেয়ার মেনটেনেন্স— এসবের কি কোনও…”

    “একেবারে ঘাড় মটকে পড়লে হয় বইকী। ছোটখাটো অন্য ব্যাপার বছরে একবারের বেশি…”

    “তারই পুরো ফায়দা নিয়েছে।” মিহির যেন আপনমনে বলল।

    “তার মানে?”

    উত্তর দেওয়া হল না। লিফট এসে গেছে।

    বিভিন্নজনে বিভিন্ন সংখ্যা বসানো বোতাম টিপছে। মুখার্জি এগারো টেপা মাত্র মিহির বলল, “তিন।”

    মুখার্জি একবার ঘাড় ফিরিয়েই তিন টিপে দিলেন।

    তিন নম্বর ফ্লোরে অর্থাৎ চার তলায় নামল শুধু ওরা তিনজন। লিফটের সামনে ছোট্ট একটা করিডোর দিয়ে কয়েক পা এগোতেই একটা ধুলোয় ভরা ঘুটঘুটে অন্ধকার বারান্দায় এসে পড়ল ওরা। ডান দিকে সারি সারি ঘর। একটারও দরজা-জানলা খোলা নেই। দূরে সরু একটা সুতোর প্রান্তে বোধহয় ষাট ওয়াটের একটা বাল্‌ব টিমটিম করছে। অবশ্য বাঁ দিকে বারান্দায় একফালি আলো এসে পড়েছে।

    মুখার্জি বললেন, “ফায়ার এসকেপের সিঁড়ির চাতাল থেকেই ওই বাইরের আলোটুকু আসছে।”

    মিহির বলল, “এ তলাটা যে গোডাউন সে তো বোঝাই যাচ্ছে, এর ওপরেও কি তাই?”

    “হ্যাঁ— ফোর্থ আর ফিফথ ফ্লোরও।”

    “এ কি সব সময়েই এরকম খাঁ খাঁ করে?”

    “তা নয়। মাঝে মাঝে খুবই মালপত্তর টানাটানি শুরু হয়।”

    “কিন্তু মালপত্র নিশ্চয় লিফটে নামে না?”

    “কক্ষনও না—সবসময়ে সিঁড়ি দিয়ে।”

    মিহিরের ইচ্ছামাফিক ওরা সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ছ’তলায় উঠল।

    মিহির বলল, “মুখার্জি তুই সৌমেনকে নিয়ে তোর অফিসে যা, আমি একটু আসছি।”

    মিহির বাঁ হাতটা চোখের কাছে তুলে ভাল করে ঘড়িটা লক্ষ করেই হঠাৎ বোঁ করে ছুট লাগাল ফায়ার এসকেপের সিঁড়ির দিকে।

    মিনিট কুড়ি পরে বারোতলায় মুখার্জির ঘরে এসে ঢুকল মিহির।

    “কাল ঠিক সাড়ে ন’টায় সাহা যাতে তোর অফিসে আসে তার ব্যবস্থা কর।” বলল মিহির।

    তার কথা শুনে মনে হল যেন চিফ অব স্টাফের হুকুম, “না, না, আমি কিছু জানতে চাই না। যে-কোনও টোপ ফেল, কিছু যায়-আসে না। শুধু কাগজে-কলমে কিছু লিখে পাঠাবি না। ও কে?”

    “সেটা একটা খুব শক্ত নয়। আমি একটু নরম হয়েছি এরকম হিন্ট দিলে একবার কেন, দশবার আসবে।”

    “বেশ তা হলে কাল সকালে আমাকে আর সৌমেনকে তুলে নিস তুই। যাতে ন’টা কুড়ির মধ্যে পৌঁছতে পারি এখানে।”

    ॥ ৭ ॥

    ছোট কাঁটায় বড় কাঁটায় পাক্কা সাড়ে ন’টা। ট্যাক্সি থেকে নামল সাহা। তাকে দেখেই শরবত অ্যান্ড স্ন্যাক্সের রোজ-সিরাপের গেলাসটা ঠক করে নামিয়ে রেখে তার মধ্যে আঙুল পুরে দুটো আইস-কিউব তুলে নিয়েই দৌড় দিল মিহির।

    তার নির্দেশমতো ঠিক তিন মিনিট এই দোকানে অপেক্ষা করার পর মুখার্জি আর সৌমেন রওনা হবে অলকা ম্যানসনের লিফট ধরতে।

    সৌমেনরা লিফটের সামনে পৌঁছবার মিনিট তিনেকের মধ্যেই ঘর্মাক্ত কলেবরে মিহির এসে হাজির হল।

    “ব্যাপারটা কী?” প্রশ্ন করে সৌমেন।

    দুটো হাত উপুড় করে ধরে মিহির বলে, “বেজায় চোট লেগেছে রে। ভাল কথা, লিফট কল করার বাটনটা টিপেছিস তো?”

    “সে তো টিপেইছি। কিন্তু…”

    “একটু ধৈর্য ধর।” মিহির একটা সিগারেট ধরায়।

    দু’ মিনিটের মধ্যেই লিফটটা নেমে আসে। দরজা খুলতেই দেখা যায় সাহা লুটিয়ে পড়ে আছে লিফটের মেঝেয়।

    “আর নয়, এবার আমাদের দৌড় দিতে হবে। চল, চল।” মিহির একরকম ওদের দু’জনকে তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায়।

    মুখার্জির মরিস মাইনর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ পেরোবার পরে মিহির বলে, “ভয় নেই। সাহা মারা যায়নি। শুধু দুটি থাপ্পড় খেয়েছে। প্রথম থাপ্পড়ের পর পড়ে গেছল কিন্তু জ্ঞান হারায়নি, বললাম, যে কায়দায় মুখার্জিকে কাল তুই অ্যাটাক করেছিস, ব্রিলিয়ান্ট। অকাট্য অ্যালিবাই। সব প্রমাণ জল হয়ে গলে উবে গেছে। আর তাই ঠিক একই কায়দায় তোকে আজ খতম করা ছাড়া উপায় নেই। বলেই পকেট থেকে বরফের টুকরো দুটো বার করে ওকে দেখালাম। তারপর চুলের ঝুঁটি ধরে আরেকটি থাপ্পড়ে অজ্ঞান করে ফেলে দিলাম। লিফট ফিফথ ফ্লোরে এসে থামল। দুটো দরজার পাল্লার মধ্যে চ্যানেলে তিন টুকরো বরফ গুঁজে বেরিয়ে এসেই ছুট লাগালাম ফায়ার এসকেপের সিঁড়ি দিয়ে। তারপর তো তোমরা জানোই। আমরা তিনজনে মিলে একসঙ্গে আবিষ্কার করেছি যে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীর হাতে সাহা…”

    “বরফ। বরফ গুঁজে লিফটের পাল্লা বন্ধ হতে না দিয়ে লিফটটাকে ও তা হলে কাল ওই ফিফথ ফ্লোরেই…”

    “ফিফথ কিংবা থার্ড, সেটা বলতে পারব না। পরে তুই সাহাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারিস। আমার ধারণা আর ও কবুল করতে গাঁইগুঁই করবে না।”

    সৌমেনের মুখের দিকে তাকিয়ে মিহির বলল, “বোকার মতো করছিস কেন? এটা আর না বোঝার কী আছে? লিফটটার এক-এক তলা উঠতে আট সেকেন্ড লাগে। তার মানে একবার গ্রাউন্ড ফ্লোর ছেড়ে পুরো বারো তলা অবধি উঠে আবার নামতে লোকজন নামা-ওঠা সমেত মিনিট সাড়ে-তিন কমসে-কম লাগবেই। কাজেই থার্ড বা ফিফথ ফ্লোরে যেখানে লোক নামা-ওঠার বা দেখে ফেলার কেউ নেই— লিফটটাকে মিনিট তিনেক আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে পারলেই তো অ্যালিবাই পাকা। তার মধ্যে ফায়ার এসকেপের সিঁড়ি দিয়ে আবার নীচের তলায় লিফটের গেটের সামনে পৌঁছে যাওয়া আর এমন কী শক্ত। তবে হ্যাঁ, হিসেবে সাহা পটু, ক’টা আইস-কিউব লিফটের দু’পাল্লার ফাঁকে বসালে, দরজার চাপ সত্ত্বেও মিনিট তিনেকের আগেও গলবে না, পরেও গলবে না…

    “এবং যতক্ষণ তা না গলছে লিফটের দরজাও বন্ধ হবে না এবং লিফটও কিছুতেই সুইচ টিপে রাখা সত্ত্বেও নীচে নামবে না…”

    মিহিরের দিকে না তাকিয়েও সৌমেন হঠাৎ উপলব্ধি করল দুটো চোখ তাকে ভস্ম করছে। এমনকী, পরিষ্কার শুনতে পেল মিহিরদা মনে মনে বলছে, ‘তুই নিজে সেটা এতক্ষণে বুঝলি বলে আর কেউ বোঝেনি মনে করার কারণ নেই। চেপে যা।’

    ২৫ জানুয়ারি ১৯৮৯

    অলংকরণ: অনুপ রায়

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }