Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভূতুড়ে গুদাম – অজেয় রায়

    পোড়োবাড়ির রহস্য – নলিনী দাশ

    সেদিন যা সাংঘাতিক ভয় পেয়েছিলাম, মনে পড়লে এখনও বুক ঢিপঢিপ করে, হাত-পা হিম হয়ে আসে। ভূতের সন্ধানে হানাবাড়িতে ঢুকে শেষে গুন্ডার কবলে পড়ব, এমন আশঙ্কা করিনি, কিন্তু তাই-ই ঘটল। প্রাণ নিয়ে যে অক্ষত ফিরতে পেরেছিলাম, সেটাই যথেষ্ট। আমরা তিনটি স্কুলের মেয়ে, আমাদের সঙ্গে আছে কেবল এক-একটা লাঠি আর একটামাত্র ছুরি। গুন্ডাদের কাছে নিশ্চয় বন্দুক, পিস্তল, ছোরা, বোমা—আরও কত কিছুই আছে! কী করি, এখন কী যে করি? পালাবার পথ বন্ধ দেখে আমরা পা টিপে টিপে ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠলাম, বটগাছের ঝুঁকে পড়া ডাল-পাতার আড়ালে মার্টিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লাম। সংখ্যার ওরা ক’জন ছিল জানি না, পায়ের শব্দ আর কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছিল অন্তত তিনজন। একজন বিশ্রী ফ্যাঁসফেসে গলায় কী বলছিল, আর একজন সরু গলায় ক্যানক্যান করে যেন কৈফিয়ত দিচ্ছিল। তৃতীয়জনের প্রচণ্ড রাগী হেঁড়ে গলা। কিন্তু একজনেরও কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পাইনি।

    এর পরেই ওদের সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পায়ের শব্দ শুনলাম। কী হবে! নন্দা নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করল আর অরু বরফের মতো ঠান্ডা হাতে আমার হাত চেপে ধরল। আমারও প্রাণ ওষ্ঠাগত, গলা শুকিয়ে গেছে! নন্দা ফিসফিসিয়ে বলল, “আমাদের খুন করলেও কেউ টের পাবে না।”

    অরু মুখে সাহস দেখিয়ে কানে কানে বলল, “গায়ের জোরে তো ওদের সঙ্গে পারব না, বুদ্ধির জোরে পালাতে হবে।”

    রুদ্ধশ্বাস আতঙ্কে অপেক্ষা করতে লাগলাম, এই বুঝি ওরা হানা দেয়। কিন্তু আশ্চর্য, ওরা ছাদ পর্যন্ত এল না। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার শব্দ শুনলাম, কিছু খুটখাট শব্দ পেলাম, তারপর সব চুপচাপ! কিছুক্ষণ পরে মনে হল যেন নীচে নেমে যাওয়ার শব্দ পেলাম। আবার কিছুক্ষণ সাড়াশব্দ নেই। নন্দা কাঁপা গলায় বলল, “ওরা মানুষ তো? এটা কি সত্যিই হানাবাড়ি? ওদের পায়ের শব্দ, কথা বলার আওয়াজ শোনা যায় কিন্তু চোখে দেখা যায় না।”

    অরু আর আমি অবশ্য ভুতে বিশ্বাস করি না, আমাদের মনে হয়েছিল ওরা গুন্ডা, তাই ভয় পেয়েছিলাম।

    এই গল্পটা ঠিকভাবে বুঝতে হলে আমাদের পরিচয় জানা দরকার। আমরা তিন বন্ধু, নন্দা, অরু আর আমি (মিতু)— সুনন্দা, অরুন্ধতী আর মিতালি— ছেলেবেলা থেকে দক্ষিণ কলকাতার এক নামী স্কুলে একসঙ্গে পড়ি। আমরা অ্যাডভেঞ্চারের গল্প পড়তে খুব ভালবাসি, কিন্তু একসঙ্গে কোনও অ্যাডভেঞ্চার করবার সুযোগ আগে পাইনি, কারণ আমরা থাকতাম নিউ আলিপুরে, নন্দারা পার্ক সার্কাসে আর অরুরা দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠে, এই পাড়ায়। সম্প্রতি নন্দার আর আমার বাবা এই পাড়ায় পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাট কিনেছেন, গতকাল আমরা এখানে চলে এসেছি। এর মধ্যেই অরুদের বাড়ি যাওয়া-আসা হয়ে গেছে, আর একসঙ্গে বেড়াবার অনেক প্ল্যান করে ফেলা হয়েছে। আগামীকাল, রবিবার সকালে অরু পাড়ার সব ইন্টারেস্টিং জিনিস চিনিয়ে দেবে বলেছে।

    এর মধ্যে অরুদের বাড়ি থেকে ফেরার পথে এই বিপত্তি। সন্ধ্যায় হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে আমাদের কেমন যেন দিকভ্রম হল। আচমকা একটা লোক আমাদের পথ আটকে ভাঙা গলায় চিৎকার করে বলল, “যাস না, যাস না বলছি! বিপদে পড়বি, সাংঘাতিক বিপদ!”

    নন্দা বেজায় ভিতু। মৃদু আর্তনাদ করে আমাকে জড়িয়ে ধরল। কানে কানে বলল, “এগিয়ে কাজ নেই, চল, অরুদের বাড়িই ফিরে যাই।”

    আমিও প্রথমে একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, বাড়ির কাছে এসে ফিরে যাওয়াটা বোকার মতো কাজ হবে। বুড়োকে বললাম, “কোথাও যাচ্ছি না, বাড়ি ফিরছি।” একটু যেন ঠান্ডা হয়ে বুড়ো বলল, “বেশ, বেশ, তাড়াতাড়ি বাড়ি যা!”

    ব্যাপারটা কী? পাগল নাকি? তাড়াতাড়ি এখান থেকে সরে পড়াই ভাল। পাগলে কী করে-না-করে বিশ্বাস নেই! ঠিক তখনই আলো এসে গেল, লোকটাকে ভাল করে দেখে নিলাম, কাঁচাপাকা ঝাঁকড়া চুল, লাল-কালো চকরাবকরা চাদর গায়ে।

    রবিবার সকালেই অরুর সঙ্গে বেরোলাম। আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটা নতুন আর বেশ চওড়া। দু’ ধারের বাড়িগুলোও প্রায় সবই নতুন। পশ্চিমে একটু এগোলেই অনেক দোকানপাট, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এইসব। পুবে গিয়ে রাস্তাটা সরু হয়ে গেছে, ওটা পুরনো পাড়া, ওখানেই অরুদের বাড়ি। আমাদের বাড়ির কাছ দিয়ে দক্ষিণে একটা কাঁচা রাস্তা গেছে, তার ধারে অনেক খালি জমি, গাছপালা আর ডোবা-পুকুর আছে। মোড়ের মাথায় একটা মস্ত ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছ, তার তলায় বেশ আড্ডা জমেছে দেখলাম, একটা লোক বসে তোলা-উনুনে চা করছিল। ক’টা ইটের ওপর ফেলা একটা নারকোল গাছের গুঁড়িতে বসে দু’-চারটি লোক চা খাচ্ছিল। সেই বুড়োকে আবার দেখলাম, আবার সে ভাঙা গলায় বলে উঠল, “যাস না, সাংঘাতিক বিপদে পড়বি।”

    দিনের আলোয় নন্দা ভয় পেল না। অরু ফিসফিস করে বলল, “কমবয়সি মেয়ে দেখলেই লোকটা তাদের সাবধান করে দেয়।” ‘বুড়ো’ বলেছি বটে, কিন্তু লোকটির বয়স বোঝার কোনও উপায় নেই। চল্লিশ-পঞ্চাশ বা ষাট-সত্তর যা হোক হতে পারে। রোগা শুঁটকো চেহারা, কাঁচাপাকা এলোমেলো চুল, মুখে কয়েকদিনের না কামানো দাড়ি-গোঁফ। আজ তার গায়ে ছিল একটা খুব ময়লা সবুজ চাদর।

    আমরা তেঁতুলতলা ছাড়িয়ে আরও দক্ষিণে চললাম। ডানদিকে গাছপালা আর বাঁদিকে পেলাম কিছুটা ফাঁকা জমি। তারপর বাঁয়ে একটা মজা পুকুর আর ডানদিকে পাঁচিল-ঘেরা একটা পোড়োবাড়ি। আরও দূরে ডানদিকে পাঁচিল-ঘেরা আমবাগান আর বাঁয়ে অনেকটা খালি জমি। দূরে অনেক নতুন বাড়ি উঠছে দেখলাম। বেশিদিন এসব জমি আর ফাঁকা থাকবে না।

    পোড়োবাড়ির চারধারে ঘন জঙ্গল দেখে আমরা অবাক। অরু বলল যে বাড়িটা কার কেউ জানে না, সবাই বলে যে ওটা হানাবাড়ি। নন্দা ভয় পেয়ে বলল, “তা হলে এখানে আবার দাঁড়ালি কেন? ভূতপ্রেত থাক বা না থাক, ওই বাড়িতে নিশ্চয় দেদার সাপ আছে। পা চালিয়ে সামনে এগোই চল।”

    অরুর অনেকদিনের শখ যে, ওই হানাবাড়িতে ঢুকে দেখবে কী আছে। আমি বললাম, “অ্যাডভেঞ্চার করতে হলে তো এখানেই এবং আজকেই শুরু করা যায়।”

    নন্দা বলল, “যাস না রে। ও-বাড়িতে নিশ্চয় কোনও রহস্য আছে, আমি মাঝরাতে ওখানে আলো জ্বলতে দেখেছি।”

    আমরা তার কথা হেসেই উড়িয়ে দিলাম, “গুল মারিস না, তুই মাঝরাতে হানাবাড়িতে গিয়েছিলি বললেই বিশ্বাস করব?”

    নন্দা বেগে বলল, “যেতে হবে কেন? আমাদের বাড়ির দক্ষিণের বারান্দা থেকে তো এখানটা স্পষ্ট দেখা যায়।”

    আমাদেরও ততক্ষণে রোখ চেপে গেছে। নন্দাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে তিনজনে হানাবাড়ির ভাঙা পাঁচিলের ফোকর দিয়ে ঢুকলাম। তারপরে কিন্তু এক পা এগোনোও কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। বড় বড় গাছ বেয়ে মোটা লতা উঠেছে আর তলায় এত ঝোপঝাড় যে, পা ফেলার জায়গা নেই। নন্দা একটা ছুরি দিয়ে ডালপালা কাটতে লাগল, আর আমরা দু’জন চার হাতে সেগুলো সরিয়ে এক পা এক পা করে এগোতে লাগলাম। মনে হল বাড়িটায় কেবল পাশাপাশি দুটো ছোট ঘর, একটা বটগাছ বাড়ির গা ঘেঁষে উঠেছে, ঝুরি নামিয়ে বাঁদিকের ঘরটা প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে। আমরা ডানদিকের ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। তালাচাবি দূরে থাক, একটা দরজাতেও খিল বা ছিটকিনি লাগানো ছিল না। একটা খাটিয়ায় ময়লা বিছানা পাতা রয়েছে দেখলাম। দড়িতে ঝুলছে দু’-চারটে ময়লা জামাকাপড়; কোণে রাখা আছে একটা জলের কুঁজো আর খানদুই বাসন। আরে? দড়িতে টাঙানো ওই লাল-কালো চক্করবক্কর চাদরটা গতকাল তেঁতুলতলার বুড়োর গায়ে দেখেছিলাম না? এটা কি তা হলে বুড়োরই আস্তানা? খাটের তলায় একটা পুরনো কিন্তু দামি ব্রিফকেস দেখলাম— এ-ঘরে যেন সেটা নিতান্তই বেমানান। ঘরে আর কিছুই নেই। বুড়ো এ ঘরে ঢোকে কোন পথ দিয়ে? আমাদের তো ঝোপজঙ্গল কেটে বহু কষ্টে ঢুকতে হল।

    হঠাৎ পাশের ঘরে একাধিক লোকের পায়ের শব্দ শুনে আমরা ঘরের পেছন দিয়ে বেরোলাম। ও বাবা! পায়ের শব্দও যে সেদিকেই আসছে। তাড়াতাড়ি ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠলাম। বুঝলাম যে পায়ের শব্দও ভাঙা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠছে। কী হবে?

    এরপরের ঘটনার কথা তো আগেই বলে নিয়েছি। পায়ের শব্দ সিঁড়ি দিয়ে উঠল। কিছুক্ষণ থামল, তারপর আবার নেমে চলে গেল। রুদ্ধশ্বাসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমরাও নামলাম। ধারেকাছে কাউকে দেখতে না পেয়ে বাইরে বেরোলাম। ঝোপজঙ্গল আগেই অনেক কেটেছিলাম, তাই এখন বেরোতে কোনও অসুবিধে হল না। তারপর পা চালিয়ে ছুটলাম ঊর্ধ্বশ্বাসে।

    তেঁতুলতলায় বেশ মেলা জমেছে দেখলাম। তিন-চারটে চোঙাপ্যান্ট আর গুরু পাঞ্জাবি পরা ছেলে চায়ের খুরি হাতে বিস্তর রাজা-উজির মারছিল। দুটি লোক একপাশে বসে বাজারদর আলোচনা করছিল। বুড়ো চুপ করে বসে ছিল, কিন্তু আমাদের দেখেই বলে উঠল, “ওরে তোরা চলে যা, ভয়ানক বিপদে পড়বি!”

    আমরা বললাম, “বাড়ি ফিরছি।” খুশি হয়ে বুড়ো বলল, “তাড়াতাড়ি যা।”

    ইতিমধ্যে দুটি ষণ্ডা লোক এসে চা চাইল, তাদের গলার স্বর শুনে আমরা বেজায় চমকে গেলাম— একজনের ফ্যাঁসফেসে গলা, অন্যটির বিশ্রী সরু ক্যানকেনে। এরাই না কিছুক্ষণ আগে হানাবাড়িতে কথা বলছিল? ফ্যাঁসফেসের মুখে পাঁচ-সাতদিনের না-কামানো দাড়ি-গোঁফ, ঝাঁকড়া চুল আর থ্যাবড়া নাক। ক্যানকেনের মাথাজোড়া টাক আর খাঁড়ার মতো নাক, তা আবার ডগাটা একদিকে বাঁকা। ওরা চা খেতে-না-খেতে আর একটি দারুণ লম্বা-চওড়া লোক এল, তার হেঁড়ে গলার আওয়াজ শুনেই আমাদের মনে হল যে, এই তবে তৃতীয় ব্যক্তি। এরা পোড়োবাড়িতে গিয়েছিল কী মতলবে? কোথা দিয়েই বা ঢুকেছিল? সিঁড়ি দিয়ে উঠল, অথচ ছাদে গেল না কেন? তবে কি ওই সিঁড়িটাই ওদের যত গোপন ফন্দি আঁটার জায়গা?

    একদিনের অভিজ্ঞতার ফলেই আমরা বুঝে গেছি যে, হানাবাড়ি হোক বা না হোক, ওই পোড়োবাড়িতে নিশ্চয় রীতিমতো রহস্য আছে! কার বাড়ি ওটা, খোঁজ নিতে হবে। প্রথমেই এ-বিষয়ে অরুর ছোট বউদিকে জিজ্ঞেস করতে হবে। ছোট বউদি আমাদের চেয়ে বেশি বড় না। তাঁরও গোয়েন্দা-গল্প পড়ার নেশা। অ্যাডভেঞ্চার করার শখ। আমাদের সঙ্গে তাই খুব ভাব। অরুদের সঙ্গেই থাকেন ছোড়দা-ছোটবউদি। খুব মিশুক দু’জনেই, পাড়ার সব খবর ওঁদের নখদর্পণে। তা ছাড়া ছোড়দার একটা নিজস্ব গাড়ি আছে। মাঝে মাঝে ছোটবউদি আমাদের তিনজনকে নিয়ে বেড়াতে বা সিনেমা দেখতে যান। ছোড়দা আর ছোটবউদিকে আমরা সব খবরই বললাম। বুড়োর কথা, চা-ওলা, চোঙাপ্যান্ট ছোকরারা আর গুন্ডা তিনটি, সবার বিষয়ে খুলে বললাম। নন্দা ভারী চমৎকার মানুষের প্রতিকৃতি আঁকতে পারে। সে কাগজ-পেনসিল নিয়ে খসখস করে সেই বুড়োর আর গুন্ডা তিনটির এমন চমৎকার ছবি এঁকে ফেলল যে, তার কাছে ফোটোগ্রাফ হার মানে।

    ছোটবউদিও সমস্ত ব্যাপারটায় উৎসাহিত হয়ে পড়েছিলেন। ছোড়দা খবর নিয়ে জানালেন যে, পোড়োবাড়ির আসল মালিক কে সেটা কেউ জানে না, কিন্তু বাড়ির ট্যাক্স নাকি নিয়মিত জমা পড়ে। পাগলাবুড়ো যে সারাদিন ওই তেঁতুলতলায় বসে থাকে, এটা সবাই জানে, কিন্তু তার বাসার খবর কেউ জানে না। গুন্ডাদের নামধামও কারও জানা নেই, যদিও তাদের দেখেছে অনেকেই। আমরা যে বুড়োর বাসা দেখে এসেছি সেটা কেবল চুপিচুপি ছোটবউদিকে বললাম।

    আমাদের কৌতূহল ক্রমেই বেড়ে চলছিল। পরের রবিবার খুব সকাল সকাল আবার পোড়াবাড়িতে গেলাম। বুড়োর ঘর তো আগের দিন দেখেছিলাম, তাই এবার ঘর পেরিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বেরোলাম। দক্ষিণে একটা ছোট্ট ঘর, আর উত্তরে ছাদে ওঠার সিঁড়ি, মাঝে পেছনের দরজা, তার একটা পাল্লা ভাঙা। বাইরে অনেক ঝোপ-জঙ্গল, কিন্তু তার মধ্য দিয়ে একটা যাতায়াতের পথ তৈরি করা হয়েছে। ভাঙা পাঁচিলের গায়েও বিশাল ফোকর। নিশ্চয় বুড়ো নিজে আর গুন্ডাগুলো ওই পথেই যাতায়াত করে। ওদের পরস্পরের মধ্যে কোনও যোগ আছে কি?

    যদিও জানি যে, বিনা অনুমতিতে পরের জিনিস দেখা উচিত নয়। কিন্তু বুড়ো বেচারা পাগল। কী আছে তার, নিজেই জানে না সম্ভবত, তাই আমরা আবার বুড়োর ঘরে ঢুকলাম আর দ্বিধা কাটিয়ে খাটের তলা থেকে ব্রিফকেস বের করে খুলে ফেললাম। আমরা কী দেখতে পাব আশা করেছিলাম জানি না, কিন্তু খুলে দেখলাম যে তার ভেতরে রয়েছে কেবল কিছু কাগজপত্র, পুরনো চিঠি, খবরের কাগজের কাটিং এইসব। সবই পুরনো, হলদে হয়ে যাওয়া। কৌতূহলী হয়ে চিঠিগুলো পড়লাম। একটা নামকরা বইয়ের দোকান থেকে কমলাকান্ত বসুকে বলছে যে, তাঁর প্রাপ্য সব টাকা চুকিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু তারা অনুরোধ করছে যে, তিনি যেন আবার তাঁর কাজে ফিরে আসেন। খবরের কাগজের সম্পাদকও কমলাকান্ত বসুকেই চিঠি লিখেছেন, চুক্তি অনুসারে তিনবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু একটারও উত্তর আসেনি, মণিমালার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞাপনের কপিও দেখলাম। ‘মণিমালা’ নামে ছোট্ট একটি মেয়ের বর্ণনা আর ফোটো দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ কোনও খবর পেলে যেন কমলাকান্ত বসুকে জানান। ওই বুড়োই কি তা হলে কমলাকান্ত বসু? নিজের মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল বলেই কি সব মেয়েকে সাবধান করে দেয়! খুব মায়া লাগছিল বুড়োর জন্য।

    হঠাৎ ঘরের বাইরে কথাবার্তা আর পায়ের শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি ঘর ছেড়ে একেবারে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। আগেই অবশ্য বইয়ের দোকানের আর খবরের কাগজের নাম-ঠিকানা লিখে নিয়েছিলাম, অনেক কাটিংয়ের মধ্যে থেকে একটা কাটিংও নিয়েছিলাম।

    তেঁতুলতলায় গিয়ে প্রতিদিনের মতোই ভিড় দেখলাম। নিজেরা এগিয়ে বুড়োকে মৃদুস্বরে বললাম, “আমরা এবার বাড়ি যাচ্ছি।”

    বুড়ো নিশ্চিন্তমনে হেসে বলল, “বেশ, বেশ, খুব ভাল কথা।”

    হঠাৎ একটি ছোকরা এগিয়ে এসে ধমকের সুরে বলল, “পাগল মানুষের পেছনে লেগেছেন কেন?”

    আমরাও তেমনই তেড়ে উত্তর দিলাম, “বিরক্ত করব কেন? আলাপ করছি। এতে তাঁর উপকারই হবে।”

    ততক্ষণে গুন্ডাগুলোও এসে গেছে। বুড়োর দু’ পাশে গিয়ে বসে তারা কী যেন বলল আর বুড়ো ঘনঘন মাথা নাড়তে লাগল।

    আমাদের অনুসন্ধানের পরিধি এবার আরও বাড়াতে হল। বুড়োর ব্যাপারে অরুর ছোটবউদি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। সব কথা শুনে তিনি গাড়ি করে আমাদের নিয়ে প্রথমেই সেই বইয়ের দোকানে গেলেন। দোকানের কর্মচারীরা কেউই কমলাকান্ত বসুর বিষয়ে কিছু বলতে পারলেন না। অবশেষে এক বৃদ্ধ কর্মচারী জানালেন যে, কুড়ি বাইশ বছর আগে এক কমলাকান্ত এই দোকানে কাজ করতেন বটে, কিন্তু তাঁর পদবি বসু ছিল কি না তা মনে নেই। একটা কিছু পারিবারিক বিপদের পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এখন তিনি কোথায় আছেন, তা কারও জানা নেই।

    খবরের কাগজের অফিসেও একই ধরনের কথা শুনলাম, কুড়ি-বাইশ বছর আগে কমলাকান্ত বসু মণিমালা নামে একটি ছোট্ট মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন, কিন্তু তার কোনও উত্তর আসেনি। কমলাকান্ত খুব ভেঙে পড়েছিলেন। তারপর কী হল? তারপরের কোনও কথা কারও জানা নেই। একটা বাড়তি খবর পাওয়া গেল খবরের কাগজের অফিসে, ছোট্ট মণিমালা তাদের বাড়ির নিকট আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলায় গিয়েছিল। এক শোচনীয় নৌকোডুবিতে তারা অনেকে ভেসে গিয়েছিল। আর সকলকেই জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু মণিমালার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুড়োর জন্য সমবেদনায় আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল। পরদিন তেঁতুলতলায় গিয়ে চুপিচুপি বুড়োকে বললাম, “কমলাকান্তবাবু ভাল আছেন? মণিমালার কোনও খোঁজ পেলেন?”

    কেমন যেন চমকে উঠল বুড়ো। বলল, “মণি কোথায়? মণি-মা তোমাদের সঙ্গে ফিরে এসেছে? বেঁচে থাকো মা, ভাল থাকো!”

    হঠাৎ চা-ওলা কেমন যেন তেড়েমেড়ে বলল, “রোজ রোজ তোমরা বুড়োমানুষকে বিরক্ত করো কেন বলো তো?”

    বললাম, “বিরক্ত করি না মোটেই। ভালভাবে কথা বলতে বলতে ওঁর অবস্থার উন্নতি হবে মনে হয়।”

    এতক্ষণ গুন্ডাগুলো একটু দূরে দাঁড়িয়ে বুড়োকে দেখছিল। এবার তারা দু’জন এসে বুড়োর দু’ পাশে বসল, তাকে প্রায় টেনে তুলে কোথায় যেন নিয়ে চলে গেল।

    চাওলা গায়ে পড়ে আমাদের বলল, “বেচারি পাগল মানুষ। ওই দয়ালু লোক দুটি ওকে দু’বেলা হোটেলে নিয়ে না খাওয়ালে এতদিনে হয়তো না খেয়ে মরেই যেত।”

    আমরা মনে মনে বললাম যে, নিশ্চয় এর মধ্যে ওদের খুব বড় স্বার্থ জড়িয়ে আছে। ওরকম গুন্ডা প্যাটার্নের লোক কি শুধু দয়া করে কারও উপকার করতে পারে? বিশ্বাস হয় না।

    এর মধ্যে অরুর ছোড়দা খবর আনলেন যে, ওই পোড়োবাড়ির মালিকের নাম কমলাকান্ত বসু। তাঁর নামেই নিয়মিত ট্যাক্স জমা পড়ে। রহস্য আরও জটিল হল। পাগলাবুড়োই যে কমলাকান্ত বসু তাতে আর এখন সন্দেহ নেই, কিন্তু তাঁর পক্ষে বাড়ির ট্যাক্স জমা দেওয়া কি সম্ভব? তা হলে কে জমা দেয় ওই ট্যাক্স?

    ইতিমধ্যে একটা ভয়ানক ব্যাপার ঘটে সবকিছু ভুলিয়ে দিল। পাগলাবুড়ো আর পোড়াবাড়ির রহস্য চাপা পড়ে গেল। শনিবার বেলা দুটোয় আমাদের পাড়ার ব্যাঙ্কে একটা সাংঘাতিক ডাকাতি হয়ে গেল। স্কুল থেকে ফিরে সকলের মুখেই কেবল সেই কথাই শুনতে লাগলাম। একটা পুরনো কালো অ্যামবাসাড়ার গাড়ি চড়ে কয়েকটি লোক আচমকা ব্যাঙ্কে ঢুকে পড়েছিল। তাদের হাতে পিস্তল, মুখ ঢাকা কালো কাপড়ে। সবাইকে ভয় দেখিয়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকা লুট করে তারা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পালিয়েছিল, আর যাওয়ার আগে কয়েকটা বোমা ফাটিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করেছিল। কেউ কিছু ভাল করে বুঝবার আগেই তারা হাওয়া। কাজ শেষ।

    অরুদের বাড়ি যেতেই ছোটবউদি চুপিচুপি তাঁর ঘরে ডেকে নিয়ে আমাদের বললেন যে, তিনি স্বচক্ষে ডাকাতদের পালাতে দেখেছেন। ডাকাতি করার পর কালো গাড়িটা তাঁদের বাড়ির সামনে দিয়ে পালাবার সময়ে একটা ঠেলা এসে পড়ায় ওরা বাধ্য হয়ে বাড়ির সামনে গাড়ির গতিবেগ কমিয়েছিল, তখন ছোটবউদি সামনের ঘরের জানলা থেকে স্পষ্ট ডাকাতদের মুখ দেখতে পেরেছিলেন। আমাদের কাছে বর্ণনা শুনে আর নন্দার আঁকা ছবি দেখে তাঁর গুন্ডাদের চিনতে বাকি ছিল না। অমন নাক কি আর কারও থাকতে পারে? ডাকাতরা আর কেউ নয়, তেঁতুলতলার সেই গুন্ডাগুলো!

    বউদির কথা শুনে আমরা দারুণ উত্তেজিত, “এখনই পুলিশে খবর দেওয়া দরকার।” কিন্তু ছোটবউদি বললেন, “লোকগুলোর নাম-ধাম কিছুই তো আমরা জানি না, পুলিশকে কী বলব?” কথাটা আমাদের মেনে নিতে হল। কয়েকজন লোক, গুন্ডার মতো দেখতে, মাঝে মাঝে তেঁতুলতলায় আসে, এইটুকু বললেই তো আর পুলিশ ওদের পাত্তা পাবেন না। আরও নির্ভরযোগ্য সূত্র পেতে হবে।

    আমি বললাম, “এখন হয়তো ওরা কিছুদিন তেঁতুলতলায় আসবে না।”

    অরু বলল, “পোড়োবাড়িতে নিশ্চয় ওদের একটা ঘাঁটি আছে, না হলে ঘনঘন সেখানে যায় কেন? সেখানেই তদন্ত করতে হবে।”

    পরদিন সকালেই আবার সেই পোড়োবাড়িতে গেলাম। বুড়োর ঘরে কী আছে না আছে সেসব তো আগেই দেখেছি। দক্ষিণের ঘরটায় ঢুকতে সাহস করলাম না, ছাদ ফুটো করে বটের ঝুরি এমনভাবে নেমেছে যে, ভয় হয় কখন বুঝি ভেঙেই পড়বে। পেছনের দিকে গেলাম। আগেই দেখেছি যে, দক্ষিণে একটা ছোট্ট ঘর আছে আর উত্তরে ছাদের সিঁড়ি। ছোট্ট ঘরে উঁকি মারলাম, একেবারে ফাঁকা। সিঁড়ির ধাপগুলো ভাঙা ভাঙা। দেওয়ালে তক্তা লাগানো। ছাদ পর্যন্ত উঠে আবার নেমে এলাম। হঠাৎ অরু চিৎকার করে উঠল, “কী বোকা রে আমরা, কী বোকা! ছোট্ট ঘরটা এত নিচু, অথচ বাড়ির ছাদ আগাগোড়া সমান। তা হলে মাঝের ফাঁকটা গেল কোথায়?”

    ততক্ষণে আমরাও ব্যাপারটা অনুমান করতে পেরেছি। ছোট্ট ঘরের ওপরে নিশ্চয় একটা চোরাকুঠরি আছে। আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠে দক্ষিণের কাঠের দেওয়ালটা ভাল করে লক্ষ করলাম, কিন্তু কোনও সূত্র খুঁজে পেলাম না। কোনও ছিটকিনি বা কড়া দেখলাম না। নিশ্চয় কোনও গোপন ব্যবস্থা আছে। সেটাই খুঁজে বের করতে হবে।

    হঠাৎ সিঁড়ির মুখে পায়ের শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ালাম। গুন্ডাদের বদলে দেখলাম তেঁতুলতলার সেই ছোকরা দুটি। আমাদের দেখে তারা তেড়ে এল প্রায়, “এখানে কী করছেন আপনারা? জানেন না এটা ভূতের বাড়ি? তা ছাড়া দেদার সাপখোপও আছে।”

    আমরা তেমনই তেড়ে ধমক লাগালাম, “আপনারাই বা এখানে কী করছেন?”

    গুন্ডাদের না দেখে আমাদের সাহস বেড়ে গিয়েছিল। ওদের শুনিয়ে শুনিয়ে অরু বলল, “কান দিস না ওদের কথায়। বেশি চালাকি করতে এলে লাঠিপেটা করব।”

    হাতের লাঠিগুলো ঠকঠকিয়ে আমরা বেরিয়ে গেলাম। ছোকরারা আর কিছু বলতে সাহস করল না। ওরা পোড়োবাড়িতে এসেছিল কেন কে জানে? সত্যিই কি ওরা গুন্ডাদের দলের লোক?

    তেঁতুলতলায় বেশ ভিড় ছিল। যদিও সেখানে গুন্ডাদের অথবা সেই ছোকরাদের দেখলাম না। দুপুরে আমাদের লেটার বক্সে একটা হাতচিঠি পেলাম, খামের ওপর কাঁচা হাতে আমাদের তিনজনের ডাকনাম লেখা আর ভেতরে সেই কাঁচা হাতেই লেখা, “সাবধান করে দিচ্ছি, এখনই যদি অনধিকার চর্চা বন্ধ না করো, তা হলে প্রাণের মায়া ছেড়ে দাও!”

    ওরা নিশ্চয় আমাদের ভয় দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু তার বদলে আমরা উল্লসিত হয়ে উঠলাম। চিঠিটা যে গুন্ডাদলের কারও লেখা সে-বিষয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল না। মনে হল, যেন এতদিনে আমরা প্রমাণ পেলাম যে পোডড়াবাড়িটা ওদের কুকীর্তির ঘাঁটি। গুন্ডারা এবং চোঙাপ্যান্ট ছোকরারা সবাই এর মধ্যে জড়িত। ছোটবউদি ওদের দেখেও ফেলেছেন।

    এতদিন আমরা সমস্ত কথা নিজেদের মধ্যে গোপন রেখেছিলাম। বাবা-মাকে পর্যন্ত কোনও কথাই বলিনি। এখন মনে হল যে, বাবার সাহায্য ছাড়া পুলিশ হয়তো কেবলমাত্র আমাদের কথাকে গুরুত্ব দেবেন না। অবশ্য বাবাও সব কথা বিশ্বাস করবেন কি না সে-বিষয়ে আমাদের কিছুটা সন্দেহ ছিল। কাজে দেখা গেল যে, আমাদের মুখে সব কথা শুনে বাবাও আমাদের মতো উৎসাহিত হয়ে পড়লেন। মা অবশ্য আমাদের কিছুটা বকলেন, ওরকম ঝুঁকি নিয়ে বারবার পোড়োবাড়িতে যাওয়ার জন্য, গুন্ডাদের আড্ডায় তদন্ত করতে যাওয়ার জন্য।

    বাবা উত্তেজিত হয়ে লালবাজারে ফোন করলেন, পুলিশের আর গোয়েন্দা বিভাগের বড় কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। বিশেষ জোর দিয়ে বললেন যে, ওরা নিশ্চয় ব্যাঙ্ক লুটের টাকা তাড়াতাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, সুতরাং অবিলম্বে ওদের ধরা দরকার। আমরা আশা করেছিলাম যে, এমন দারুণ একটা খবর পাওয়ার পরেই দলে দলে গোয়েন্দা আর পুলিশ এসে গুন্ডাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করবেন আর সমস্ত চোরাই মাল উদ্ধার করবেন। কিন্তু সেরকম নাটকীয় কিছু ঘটল না। মনে হল যেন বাবা সঙ্গে থাকা সত্বেও ওঁরা আমাদের কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না। পুলিশের বড় কর্তাদের সে কী জেরা! তাঁরা বোধহয় ধরেই নিয়েছেন যে, অতিরিক্ত গোয়েন্দাকাহিনি পড়ার ফলে আমরা এসব কল্পনা করেছি।

    আমরা বললাম, “চলুন আমাদের সঙ্গে, তেঁতুলতলার সেই পাগলাবুড়ো আর চা-ওলা থেকে শুরু করে গুদল আর চোঙাপ্যান্ট পরা ছোকরা, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেব।” নন্দা চটপট গুন্ডাদের ছবি এঁকে ফেলল, পাগলাবুড়ো, চা-ওলা আর ছোকরা দুটো, কারও ছবি আঁকতে বাকি রাখল। পোড়োবাড়িটার ছবিও এঁকে দিল। এতক্ষণে পুলিশ অফিসারদের কিছুটা বিশ্বাস জন্মেছে মনে হল। তাঁদের নির্দেশে দুই গোয়েন্দা তেঁতুলতলায় গিয়ে পাগলাবুড়োর সঙ্গে একটু কথা বললেন, চা-ওলার কাছে চা কিনে খেলেন। নন্দার আঁকা ছবির সঙ্গে চা-ওলা আর বুড়োর চেহারা হুবহু মিলছে দেখে ওঁরা ভরসা করলেন যে, গুন্ডাদের আর ছোকরাদেরও এইভাবেই চিনে ফেলতে পারবেন।

    তারপর আবার সব চুপচাপ, সাড়াশব্দ নেই। আমাদের এতদিনের পরিশ্রমকে কি তা হলে ওঁরা কোনও গুরুত্বই দিলেন না? ভারী দুঃখিত হলাম।

    পরে বুঝেছিলাম যে, পুলিশ ঠিক কাজই করেছিলেন। ভান করলেন যেন ওঁরা চলে গেলেন, তদন্ত চুকে গেল। কিন্তু কয়েকজন গোয়েন্দাকে গোপনে পোড়োবাড়ির আশেপাশে মোতায়েন রাখলেন। অস্ত্রধারী পুলিশ রইলেন কিছুটা দূরে, ডেকে পাঠালেই আসবেন। সত্যি সত্যিই চোরাই মাল সরিয়ে ফেলার চেষ্টায় গুন্ডারা রাতদুপুরে পোড়াবাড়িতে এসেছিল, গোপন সংকেতের সাহায্যে চোরাকুঠুরি খুলেছিল। ঠিক তখনই গোয়েন্দাদের ইঙ্গিত পেয়ে পুলিশবাহিনী এসে ওদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন। সেই তিনটি গুন্ডা আর চোঙাপ্যান্ট ছোকরা দুটি, সবাই একসঙ্গে জালে পড়েছিল। ওদের মধ্যে দুটি গুন্ডা নাকি সাংঘাতিক কুখ্যাত, বহুদিন চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের ধরতে পারেননি। পোড়োবাড়ির সেই গোপন কুঠরিতে ব্যাঙ্ক লুটের পুরো টাকা পাওয়া তো গেলই, আরও অনেক চোরাই জিনিস পাওয়া গেল— সেসব কোনওদিন উদ্ধার হবে না ভেবে পুলিশ হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। গুন্ডারা সবই স্বীকার করল। বুড়োর বন্ধু সেজে তারা তাকে রোজ হোটেলে খাওয়াত আর তার বাড়ির দলিলটা হাতিয়ে তারই নামে ট্যাক্স জমা দিত।

    বুড়োর প্রতি আমাদের বিশেষ মমতা জন্মেছিল। গুন্ডারা গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় সে-বেচারা একেবারে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। অরুর ছোড়দা আর ছোটবউদি তখন তাকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে এসে সব ভার নিয়েছিলেন। নিজেদের একটা ঘরে রেখেছিলেন, ভালভাবে খাওয়াপরার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা কমলদা বলে ডাকতাম, এসে নানা গল্প শুনতাম, বিশেষ করে মণিমালার ছেলেবেলার গল্প। ক্রমে সে স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল, স্মৃতিশক্তি ফিরে পাচ্ছিল, কথাবার্তা বলছিল।

    ব্যাঙ্ক ডাকাত ধরা পড়ার খবর সব কাগজে বেরিয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কৃতিত্বের কথাও ফলাও করে ছাপা হয়েছিল। কমলাকান্ত বসু আর মণিমালার কথাও অনেক পত্রিকায় বেরিয়েছিল।

    এইখানেই সমস্ত ব্যাপারটার পরিসমাপ্তি ঘটতে পারত, কিন্তু এর পরেও এমন একটা কিছু ঘটল যাতে আমরা যেমন চমৎকৃত, তেমনই উল্লসিত হয়ে পড়লাম। হঠাৎ ডায়মন্ডহারবার থেকে বড়মামা এলেন, সঙ্গে মামি, ছেলেমেয়েরা আর তাঁদের বাড়ি থাকেন এমন এক মহিলা যাঁকে আমরা মণিদি বলতাম। কাগজে ডাকাত ধরার খবর পড়ে কলকাতায় এসেছেন বললেন মামা, প্রথমেই আমাদের অভিনন্দন জানালেন। তারপরেই তিনি কমলাকান্ত বসুর সঙ্গে আলাপ করতে চাইলেন। এখন তো কমলদার কথাবার্তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, দু’জনে আলাপ-পরিচয় হল। অবাক হয়ে মামার কাছে শুনলাম যে, মণিদি তাঁদের কোনও আত্মীয়া নয়। কুড়ি-বাইশ বছর আগে কাকদ্বীপের কাছে একটি ছোট্ট মেয়েকে গঙ্গার তীরে কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল। দাদুর কাছে মেয়েটিকে আনা হয়েছিল। দাদু নানাভাবে কথাবার্তা বলতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মেয়েটি নিজের নামটুকু ছাড়া ঠিকানা বা পরিচয় কিছুই বলতে পারেনি। অনেক খোঁজ করেও তার বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তখন সে দাদুর কাছেই থেকে গেছিল। এখন মামার মনে হচ্ছে যে, এই মহিলাই কমলাকান্ত বসুর মেয়ে মণিমালা নয় তো? হয়তো সে নৌকাডুবির পরে কাকদ্বীপের কাছে ভেসে এসেও আশ্চর্যভাবে বেঁচে গিয়েছিল। সেই ছোট্ট মণি পুরো নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনি, কিন্তু বয়স আর সময় হিসেব করে মনে হয় যে, সেটা সম্ভব। কমলদা এত বছর পরেও মণিদিকে দেখে নিজের মেয়ে বলে চিনে নিলেন। বাঁ গালের একটা মস্ত বড় গোল তিল আর বাঁ কাঁধের পেছনে লম্বাটে একটা লাল জড়ুল দেখে প্রায় বাইশ বছর পরেও নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে সঠিক শনাক্ত করতে পারলেন।

    তারপর? তারপর সে যে কী আনন্দ, সব কথা বর্ণনা করার মতন ভাষা আমার নেই। আমাদের বারবার মনে হচ্ছিল যে, ব্যাঙ্কের চুরি যাওয়া তিন লক্ষ টাকা উদ্ধারের চেয়ে অনেক মূল্যবান, এত বছর পরে কমলদার হারানো মণি আবার ফিরে পাওয়া।

    ২৪ জুন ১৯৯২

    অলংকরণ: দেবাশিস দেব

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }