Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভূতুড়ে বাড়ির রহস্য – অজেয় রায়

    নীলকান্তমণি উধাও – হীরেন চট্টোপাধ্যায়

    যাব বলে লাফাচ্ছিলাম দিনসাতেক আগে থেকেই, সকালে বাবা যখন মা আর আমাকে পৌঁছে দিয়ে অফিস চলে গেলেন, আনন্দে তখনও টগবগ করে ফুটছি আমি। কিন্তু দুপুরের এই ছোট ব্যাপারটাই কেমন যেন খিঁচড়ে দিয়ে গেল মনটা। সন্ধের জমজমাট অনুষ্ঠানের কথা ভেবেও মন ঠান্ডা করতে পারছিলাম না।

    ব্যাপারটাকে অবশ্য ছোট্টই বলতে হবে, অন্তত আমার মনখারাপ হওয়ার মতো ব্যাপার সেটা মোটেই নয়। সকালে আসার সঙ্গে সঙ্গে বড়মামা আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন, “আরে, এসো, এসো, আমার চ্যাম্পিয়ান ভাগনে।” তারপর আমায় ভেতরের ঘরে নিয়ে গিয়ে দারুণ একটা পেন আর ক্যালকুলেটর দিয়ে বলেছেন, “এই নে, তোর চ্যাম্পিয়ান হওয়ার পুরস্কার।”

    একটা ক্যালকুলেটরের শখ আমার অনেক দিন থেকে। বাবাকে বলতে পারিনি খানিকটা ভয়েই, বলবেন, “এখন থেকেই তোর ক্যালকুলেটর দরকার?” বলতেই পারেন, কারণ খুব ভাল ছেলে যাকে বলে, তা তো আর আমি নই। গাদাগুচ্ছের সাবজেক্ট পড়তেই যে আমার ভাল লাগে না মোটে, ক্লাসে ফার্স্ট হয়ে আর আমি উঠব কী করে! আমার ভাল লাগে অঙ্ক। এটা আমার বরাবরই বেশ প্রিয়। আমাদের ফার্স্ট বয় অরিত্র এই ক্লাস নাইন পর্যন্ত একবারও অঙ্কে আমার সমান নম্বর পায়নি। সাররা সকলেই জেনে গেছেন, একটা নম্বর কম পেলেই খাতা নিয়ে আমি সোজা চলে যাব হেডসারের কাছে।

    এটা অবশ্য ঠিকই যে, ক্লাস নাইনের অঙ্ক করতে ক্যালকুলেটর লাগে না, কিন্তু আমি তো শুধু আমার ক্লাসের অঙ্কই করি না, উঁচু ক্লাসের অঙ্ক করতেও তো আমার ভাল লাগে। আর অঙ্কের আসল মজাটাই তো হল— সেটা কেমন করে করতে হবে তা বের করা— ঘাড়-মুখ গুঁজে বড় বড় গুণ ভাগ করতে কি আর ভাল লাগে। অবশ্য বড়মামা যে আমায় চ্যাম্পিয়ান বললেন, সেটা একটা অন্য ব্যাপার। মাসখানেক আগে জুনিয়ার কুইজ কনটেস্টে আমি চ্যাম্পিয়ান হয়েছি। অন্যসব স্টেটের বাঘা বাঘা ছেলে ছিল বেশ কিছু, তাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হওয়াটা খুব একেবারে মুখের কথা ছিল না। বেশ একটা রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম, মাইকে যখন নামটা অ্যানাউন্স করছিল।

    বড়মামিমা অবশ্য অতসব বোঝেন না, তাড়াতাড়ি এক প্লেট ছানার জিলিপি নিয়ে এসে বলেছিলেন, “খেয়ে ফেল দেখি এগুলো। অর্ডার দিয়ে কিছু ভাজিয়ে রেখেছি তুই আসবি বলে।” না, না, তার মানেই যে আমি ভিআইপি গোছের কিছু হয়ে গিয়েছি, সেসব কিছু নয়। ছেলেবেলায় আমি তো মামার বাড়িতে এসেই থাকতাম বেশিরভাগ সময়, গরমের ছুটিফুটি হলে তো আর কথাই নেই। আর বড়মামিমাও আমায় খুব ভালবাসেন, তাই এসব জানেন আর কী!

    মামার বাড়ি আসতে এখনও আমার খুব ভাল লাগে, তার ওপর এইরকম একটা অনুষ্ঠান হলে তো আর কথাই নেই। না, অনুষ্ঠানটার ওপর যে আমার খুব একটা লোভ ছিল তা নয়, আসল আকর্ষণ হচ্ছে ওই নীলকান্তমণিটা। বড়মামা একজন জহুরি। কোনও একটা ভাল মণি পেলেই বাড়ি নিয়ে আসতেন, বড়মামিমাকে দেখাতেন। ছেলেবেলায় নানারকম মণিমুক্তো দেখেছি আমি মামার বাড়িতে। একরকম ঝুটো মুক্তো আমার খুব ভাল লাগত। তার নামটাও ছিল ভারী মজার, মিকিমতো মুক্তো। ওই নামের এক জাপানি ভদ্রলোক নাকি ওই মুক্তো তৈরি করার রহস্যটা বের করেছেন। এই নীলকান্তমণি পাওয়ার পর বড়মামা মাকে একটা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, “একটা দুর্লভ নীলকান্তমণি পেয়েছি। জ্যোতিষী আমাকে অনেকদিন থেকে এই মণি ব্যবহার করতে বলছে, ভাবছি এটা রেখেই দেব। তবে, ব্যবহার করতে হলে আগে শোধন করতে হয়। তাই আগামী শনিবার গুরুদেবকে খবর দিয়েছি আসবার জন্য। সত্যনারায়ণ হবে, আমার রত্নও শোধন হবে। তোরা সকালবেলাতেই সব চলে আয়।”

    ভেবেছিলাম অনেকেই আসবে, খুব মজা হবে। তা কিন্তু হয়নি। বাবা তো অফিসের কাজে ধানবাদ চলেই গেলেন আমাদের পোঁছে দিয়ে। মায়েরা তিন ভাই-বোন। ছোটমামা কাজ করেন অম্বরনাথে, রাইফেল ফ্যাক্টরিতে। জানিয়েছেন, এখন ছুটিছাটা পাওয়া একেবারে অসম্ভব। বড়মামার মেয়ে তুলিদির বিয়ে হয়েছে কাছেই, আসানসোলো—তারও নাকি বাড়িতে কার অসুখ। আসার মধ্যে এসেছেন গুরুদেব আর নালুমামা। নালুমামা বোধহয় আমার নিজের মামা নন, কিংবা হতে পারে কিছু ঘুরিয়েটুরিয়ে। কিন্তু নালুমামাকে আমি দেখছি এ-বাড়িতে, জ্ঞান হওয়া অবধি। দোকানেই বসতোটসতেন বেশি। ভুলুদা, মানে নালুমামার ছেলে বাজারটাজার করে দিত আর ভুলুদার মা রান্নাবান্নায় সাহায্য করতেন। গত বছরই কী একটা গন্ডগোল হয়েছিল যেন। তারপরই নালুমামারা উঠে গিয়েছিলেন কাছেই, একটা অন্য বাড়িতে।

    নালুমামাদের অবস্থা ভাল নয়, সেটা আমি বেশ বুঝতে পারি। বাইরে বেরোবার সময়ও নালুমামার জামাকাপড় আমি কোনওদিন ফর্সা দেখিনি। তার ওপর আবার বাবার মতো ওই নস্যি নেওয়ার অভ্যেস। পকেট থেকে কালচিটে একটা রুমাল যখন বের করেন, অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসার জোগাড়। তবে মানুষটাকে কিন্তু বেশ ভালই লাগে আমার। রুমালে পয়সা লুকিয়ে অদৃশ্য করা, দড়ি কেটে জোড়া দেওয়া—এইসব টুকটাক ম্যাজিক যে আমায় কত দেখিয়েছেন, তার শেষ নেই।

    না, নালুমামাকে নিয়ে কিছু হয়নি দুপুরবেলা, হয়েছিল ছোট্টুদাকে নিয়ে। আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড় হলেও ছোট্টুদা তুলিদির চেয়ে ছোট। ছেলেবেলা থেকেই এমন গোঁয়ার আর একরোখা যে, এ-বাড়িতে এলে পারতপক্ষে ওকে এড়িয়েই চলতাম আমি।

    সত্যি বলতে কী, ছোট্টুদাকে আমি দু’চোখে দেখতে পারি না। বড়মামাও তাই। লেখাপড়ায় ছোট্টুদা অষ্টরম্ভা। বারকয়েক মাধ্যমিক পরীক্ষায় হোঁচট খেয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। তারপর কী করছেটরছে আমি জানি না, কিন্তু আজ যেমন করে বড়মামার সঙ্গে কথা বলছিল, সে তো সাংঘাতিক! বড়মামাকেও অত রাগতে আমি কখনও দেখিনি, চিৎকার করে বলেছিলেন, “পারব না! তোর পেছনে টাকা খরচ করা মানে ভস্মে ঘি ঢালা! পঁচিশ হাজার টাকা কি মুখের কথা নাকি?”

    ছোট্টুদা থামেনি, বলেছিল, “বন্ধুর বাবারা সবাই দিয়েছেন। না দিলে বিজনেসটা হবে কী করে শুনি!”

    “ব্যাবসা করবি তুই!” বড়মামা সেইরকম গলা চড়িয়েই বলেছিলেন, “তোকে আমি চিনি না? টাকাগুলো সব নয়ছয় করে ফেলবি!”

    “তা হোক!” ছোট্টুদার কী সাহস, সমানে তর্ক করে বলেছিল, “টাকাটা তোমাকে দিতেই হবে, নইলে আমি মুখ দেখাতে পারব না!”

    “ও-মুখ আর দেখাতে হবে না,”—বড়মামা রাগে গজগজ করছিলেন, “সরে যা তুই আমার সামনে থেকে।”

    “ঠিক আছে, দেখব তুমি দাও কি না-দাও,” ছোট্টুদা ফোঁস ফোঁস করতে করতে সরে গিয়েছিল সামনে থেকে।

    তা গিয়েছিল, কিন্তু ঘটনাটা আমি ভুলতে পারছিলাম না বিকেলেও। গন্ডগোল মিটতে আপনমনে চলে আসার সময় আর-এক কাণ্ড। ফিসফিস গলার আওয়াজ শুনে দেখি গুরুদেবের শাগরেদ বিষ্টুচরণ কী যেন বলছে গুরুদেবকে।

    ওর নাম যে বিষ্টুচরণ, সেটা সকালে আসার পরই টের পেয়েছি আমি। গুরুদেবের ওই বিশাল দশাসই চেহারা, পেল্লায় ভুঁড়ি, ভাটার মতো গোল গোল লাল চোখ, আর ইয়া ঝাঁকড়া চুল! তার পাশে বিষ্টুচরণ যেন চামচিকে। গুরুদেব মাঝে মাঝেই হাঁক ছাড়ছেন, “বিষ্টুচরণ!” আর বিষ্টু অমনই ধনুকের মতো বেঁকে দাড়াচ্ছে সামনে, বুক-পিঠ একেবারে এক হয়ে যাচ্ছে তখন।

    আমি অবশ্য দাঁড়াইনি, কিন্তু যেতে যেতে যেটুকু কথা কানে এসেছিল, তাতেই আমার লোকটার ওপর রাগ ধরে যাচ্ছিল। বিষ্টুচরণ বলছিল, “কত দাম হবে জানেন মণিটার? রাজার ঐশ্বয্যি—একবার যদি কোনওরকমে…”

    ছি ছি ছি, এই কিনা গুরুদেবের চেলা! কথাটা আমি বলিনি বড়মামাকে, কিন্তু মনটন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল আমার।

    অনুষ্ঠানটা যখন শুরু হল তখন অবশ্য আর মনখারাপ লাগাটাগা ছিল না। পুজোর ব্যাপারটা তো ভাল বটেই, গুরুদেবের শোধন করবার কায়দাকানুনও খুব ভাল লাগছিল। অনুষ্ঠান শেষ হলে প্রসাদ খেয়ে আমরা সব জড়ো হয়েছিলাম বড়মামার বৈঠকখানায়। গুরুদেব জাঁকিয়ে বসে ছিলেন ডিভানে তাকিয়া ঠেস দিয়ে, পায়ের কাছে বিষ্টুচরণ। ওদিকের সোফায় আমি, মা আর বড়মামিমা। আর একটা সোফায় ভুলুদা আর ভুলুদার মা। ছোট্টুদা টিভি আর টেলিফোনের মাঝখানে আপেল-মোড়ায়। সেন্টারটেবিলে মুখোমুখি বড়মামা আর নালুমামা।

    ঘটনাটা ঘটে গেল বড়মামা নীলকান্তমণির সুন্দর ছোট্ট বাক্সটা টেবিলে রাখবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে।

    হঠাৎ বাড়ির আলোগুলো সব নিভে গেল।

    বড়মামা বললেন, “দেখেছ কাণ্ড। লোডশেডিং হওয়ার আর সময় পেলে না।”

    আমিই হঠাৎ লক্ষ করেছি পাশের বাড়ির আলো এসে পড়েছে রাস্তার ওপর। সে-কথা বলবার আগেই বড়মামা ফিসফিস করে বলেছেন, “আরে, লোডশেডিং তো নয়, এই বাড়িতেই তো গেছে দেখছি!” তারপরই গলা চড়িয়ে বলেছেন, “রামু, টর্চ নিয়ে ফিউজটা একবার দ্যাখ তো!”

    রামুদা এ-বাড়িতে কাজ করছে বহুদিন। শুনেছি তুলিদিরও জন্মের আগে থেকে। ইলেকট্রিকের কাজকর্ম একটু-আধটু জানে রামুদা, টুকটাক কিছু করতে হলে বাইরে যাওয়ার দরকার হয় না। বড়মামার কথা শেষ হওয়ার পরেই ওদিকে লণ্ঠনের আলো দেখা গেছে। মেন সুইচের ফিউজ খুলে ঠিক করতে বোধহয় একটা মিনিটও সময় লাগেনি। কিন্তু যা হওয়ার, সেটা তার মধ্যেই হয়ে গেছে।

    অদ্ভুত! অবিশ্বাস্য! অকল্পনীয়!

    যে যেমন ছিল ঠিক তেমনই আছে, টিভির পাশে ছোট্টুদা, এদিকে আমরা, ওদিকে ভুলুদা-রা। টেবিলের ওপর নালুমামার নস্যির কৌটোটা পর্যন্ত ঠিক তেমনই রাখা রয়েছে, একটু আগে যেমনটি ছিল। কেবল আসল জিনিসটা লোপাট। নীলকান্তমণি। শূন্য বাক্সটার ডালা ওপরদিকে তোলা রয়েছে শুধু।

    নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। দু’চোখ কচলে ভাল করে তাকালাম। না, কোনও ভুল নেই, নীলকান্তমণি উধাও হয়েছে।

    বড়মামার দিকে চাইলাম। ভুরু কুঁচকে গেছে, মুখচোখ থমথম করছে। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে যেন নিজের মনেই বললেন, “আশ্চর্য! এরকম যে হবে,” তারপর গুরুদেবের দিকে চেয়ে বললেন, “কেন এমন হল গুরুদেব?”

    “বুঝতে পারছি না বাবা,” গুরুদেব বিষণ্ণ মুখে বললেন, “অনুষ্ঠানে তো কোনও ত্রুটি হয়নি! তবু যে কেন এরকম অমঙ্গল ঘটে গেল!”

    “না, না, একে অমঙ্গল বলবেন না!” বড়মামার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছিল।

    “কথাটা খুব লজ্জার হলেও সত্যি যে, এখানে আমার একেবারে নিজের লোকেরাই আছে, আর তাদের মধ্যেই কেউ নিয়েছে মণিটা। তবে এটাও ঠিক যে, সেটা এখনও এই ঘরের বাইরে যায়নি। যে-ই লোভে পড়ে করে থাক, আমি চাই বাইরের লোক জানাজানি হওয়ার আগে যেন সেটা ফেরত দেয়। এতে আমি কিছুই মনে করব না, কিন্তু যদি তা না হয়, তবে কেলেঙ্কারি অনেকদূর গড়াবে।”

    কথা শেষ করে বড়মামা সকলের দিকে একবার করে তাকালেন। ঘরে তখন একটা ছূঁচ পড়লে শব্দ শোনা যায়। মিনিটখানেক সময়কেই মনে হচ্ছিল যেন পুরো এক ঘণ্টা। ছোটুদা বিরক্ত মুখে একবার টিভির গায়ে হাত বোলাল। নালুমামা হতাশ একটা ভঙ্গি করে ঘাড় নাড়লেন। বিষ্টুচরণ একবার এর মুখ একবার ওর মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে। শেষপর্যন্ত হাতজোড় করে গুরুদেবের পায়ের কাছে বসে পড়ল।

    “এভাবে তা হলে ব্যাপারটা মিটিয়ে নেওয়া গেল না। ঠিক আছে,” বড়মামা উঠে ফোনের দিকে এগিয়ে গেলেন, “বাধ্য হয়েই পুলিশকে জানাতে হচ্ছে ব্যাপারটা। ওরাই এসে সার্চ করবে। এজন্য পরে কেউ আমাকে দোষ দিয়ো না।”

    “সে কী কথা।” বড়মামিমা বললেন, “পুলিশ এসে আমাদের সার্চ করবে?”

    “উপায় কী! মেয়ে-পুলিশও আনতে বলছি।”

    বড়মামিমা রাগ রাগ মুখ করে চুপ করে গেলেন। বড়মামা ফোনে লোকাল থানার সঙ্গে কথাবার্তা বলে জায়গায় ফিরে এসে বললেন, “ওরা এখনই এসে পড়বে, তবে আসার আগে ঘর থেকে কাউকে বেরোতে বারণ করল।”

    “তার মানে?” ছোট্টুদা সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়েছে, “আর মিনিট পনেরো পরে বন্ধুদের সঙ্গে আমাকে দেখা করতে হবে। এখানে বসে থাকলে চলবে?”

    “নির্দেশটা তো আমার নয়, পুলিশ অফিসারের।”

    “তাই বলে তুমি কি জোর করে আটকাবে নাকি?”

    “তা আটকাব না, তবে পুলিশ যদি মণিটা খুঁজে না পায়, তা হলে কিন্তু—”

    “তা হলে? কী হবে তা হলে? তার মানে, তুমি আমাকেও সন্দেহ কর!” ছোট্টুদারাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, “বেশ তো, আমায় সার্চ করে নাও।”

    ‘সার্চ করা আমার কাজ নয়”—বড়মামা বললেন, “সেজন্য পুলিশ আছে।”

    “তাই বলে আমায় এখানে চুপ করে বসে থাকতে হবে। বুঝতে পেরেছি—দুপুরে যা বললাম, তুমি তার শোধ তুলছ। ঠিক আছে—”

    উসখুস করছিলেন গুরুদেবও, বললেন, “আমাকেও তো এবার উঠতে হয় বাবা, আহ্নিকে বসতে হবে।”

    “আজকের মতো একটু দেরি করুন গুরুদেব, পুলিশ না এলে…”

    “বলো কী! আমাকেও তা হলে তুমি, জয় কালী!”

    বড়মামিমা জিভ কেটে কী বলতে যাচ্ছিলেন, থামিয়ে দিয়ে বড়মামা বললেন, “আমাকে ভুল বুঝবেন না গুরুদেব। এ-ঘরে যারা আছে তাদের কাউকেই আমি সন্দেহ করতে পারি না, সবাই আমার আপনজন। কিন্তু সন্দেহ যদি করতেই হয় তবে তার জন্য বাছাবাছি করাটা কি ঠিক হবে?”

    “উত্তম, আমি পরেই যাব। পাপ যদি লাগে সে তোমাকেই লাগবে।”

    আমার খুব জলতেষ্টা পাচ্ছিল। কী জানি কেন, হয়তো সিন্নিটা একটু বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। দরজার ওপাশে রামুদাকে দেখতে পেয়ে ইশারায় একটু জল দিতে বললাম।

    নালুমামা একটু হাই তুলে নস্যির কৌটোটা অন্যমনস্কভাবে টেনে নিলেন। আস্তে আস্তে ঢাকা খুলে বললেন, “মরেছে! আমার নেশার জিনিসটা ফুরিয়ে গেছে যে! বাইরে তো আবার যাওয়া চলবে না!”

    প্রশ্নটা ঠিক কাকে করা হল, বোঝা গেল না, তবে কথা শেষ করে নালুমামা এবার বড়মামার দিকে চেয়ে বললেন, “রামুকে দিয়ে আনানো চলবে তো?”

    “ওরকম করে বলছ কেন!” বড়মামার গলায় বিষাদের সুর, “ব্যাপারটা বড় লজ্জার নলিনাক্ষ, এ নিয়ে ঠাট্টা কোরো না। রামুকে বলো, এনে দেবে।”

    রামুদা জল নিয়ে এসেছিল। পকেট থেকে একটা আধুলি বের করে কৌটোটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে নালুমামা বললেন, “চট করে একটু নস্যি এনে দে তো বাবা। কতক্ষণ বসে থাকতে হবে, সে তো জানি না!”

    নস্যির কৌটো নিয়ে রামুদা সবে দরজা পর্যন্ত গেছে, মাথার মধ্যে একটা সম্ভাবনা কেমন যেন বিদ্যুতের মতো খেলে গেল আমার। দু’-এক সেকেন্ডের দ্বিধা, তারপরই গ্লাসটা নামিয়ে রেখে আমি উঠে দাঁড়িয়েছি, বলেছি, “দাঁড়াও রামুদা, যেয়ো না।”

    রামুদা থমকে দাঁড়িয়েছে। নালুমামা অবাক হয়ে বললেন, “মানে? রামু যাবে না কেন? ও তো আর এই ঘরে ছিল না।”

    “না, কিন্তু নস্যির কৌটোটা তো ছিল।”

    নালুমামার মুখটা কি একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেল! হলেও, সঙ্গে সঙ্গে সামলে নিয়ে বললেন, “বাবা, এ যে দেখছি বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়। নে বাবা, রামু, কৌটোটা খুলে ভাল করে পরীক্ষা করে নে। মণিটনি যদি থাকে।”

    “খোকন।” বড়মামা একটা হালকা ধমক দিলেন আমাকে, “ওসব কথা বলছিস কেন?”

    “কেন বলছি, কৌটোটা হাতে নিলেই তুমি বুঝতে পারবে।”

    “মানে?”

    “রামুদা।” অকস্মাৎ তীব্র চিৎকার করে উঠেছি আমি, কারণ, ও তখন সুযোগ বুঝে কৌটো নিয়ে দরজার বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। চিৎকার শুনে থতমত খেয়ে ফিরে দাঁড়াল। আমি সেইভাবেই বললাম, “কৌটোটা তুমি বড়মামার হাতে দাও।”

    রামুদার মুখ কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রক্তহীন হয়ে গেল। পায়ে পায়ে এগিয়ে আসছিল, বড়মামার কাছাকাছি এসেই তাঁর পায়ের ওপর সটান আছড়ে পড়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, “বাবু, আপনার পায়ে পড়ি বাবু, এবারকার মতো আমারে মাপ করি দ্যান বাবু—”

    এরকম কিছু যে হবে, বড়মামা নিজেও তা ভাবতে পারেননি বোধহয়। কোনওরকমে পা সরিয়ে নিয়ে বললেন, “কী হয়েছে কী, সেটা বলবি তো!”

    “অভাবে স্বভাব নষ্ট বাবু। মেয়েটার জোর অসুখ, দেশ থেকে চিঠি পেইছি—ডাক্তার নাকি বলছে অপরেশন করতি হবে। দু’হাজার টাকা খরচ। মাথাখারাপ হয়ে গেল বাবু, অত টাকা তো আর আপনারে বললি আপনি দেবেন না। নালুবাবু কথাটা জানতি চাইলেন। বললাম। তা বললেন, আমারে একটা ছোট্ট কাজ করে দে—দেবোনে দু’হাজার ট্যাকা। লোভ সামলাতে পারলাম না বাবু। তাই—”

    “তা তুমি মেন সুইচ বন্ধ করে নালুমামাকে হাত সাফাইয়ের সুযোগ দিলে?” আমি বললাম, “আর এখন যাচ্ছিলে সেটা সরিয়ে রাখতে। তাই না?”

    “দাঁড়া, দাঁড়া,” বড়মামা তাড়াতাড়ি কৌটোর ঢাকনি খুলে সেটা টেবিলের ওপর উপুড় করলেন। একরাশ নস্যির মধ্য থেকে ঠক করে মণিটা পড়ল টেবিলে। সঙ্গে সঙ্গে রুমাল দিয়ে মুছে সেটা হাতের তালুতে রাখলেন বড়মামা।

    আঃ। নীলকান্তমণি তো নীলকান্তমণি, নীল আভায় ঘর একেবারে ঝকঝক করছে।

    বড়মামা সাবধানে সেটা বাক্সে ভরতে ভরতে বললেন, “কিন্তু এতসব ব্যাপার তুই বুঝলি কেমন করে?”

    “আগে কিছুই বুঝিনি বড়মামা,” আমি বললাম, “নস্যি আনার কথা শুনেই হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল নালুমামা তো সকালে কৌটো ভরতি করে নস্যি আনিয়েছেন রামুদাকে দিয়ে—আমি দেখেছি। বাবা তো খুব নস্যি নেন, কিন্তু যেদিন আনি সেদিন তো ফুরোয় না, অন্তত দু’দিন চলে। মনে হল, ওর মধ্যেই নেই তো মণিটা। সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেক কথা খেলে গেল মাথায়। হাত-সাফাইয়ের খেলা নালুমামা খুব ভাল জানেন। আলোটা ঠিক ওই সময়েই বা নিভল কেন! ফিউজ কেটে গেছে? এত তাড়াতাড়ি কি ফিউজ পালটানো সম্ভব। এ-ঘরে আমরা সবাই বসে রয়েছি, গুরুদেবও রয়েছেন, ফিউজ পালটাবার আগে রামুদা একটা আলো তো অন্তত দিয়ে যাবে এই ঘরে! সমস্ত মিলিয়ে এ যোগসাজশের ব্যাপারটা এমন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আমি..”

    বড়মামা মুগ্ধ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন দেখে লজ্জায় আমি কথা শেষ করতে পারলাম না। বড়মামা মণির বাক্সটার গায়ে আর-একবার হাত বুলিয়ে বললেন, “নাঃ, চালটা নলিনাক্ষ ভালই চেলেছিল! নস্যির কৌটোটা টেবিল থেকে তোলেনি পর্যন্ত পাছে সন্দেহ হয়। অথচ তোর চোখকে ফাঁকি দিতে পারল না রে খোকন! জিতা রহো ভাগনে, আসল চ্যাম্পিয়ান তুই এবারই হলি। ক্যালকুলেটরে আর কুলোবে না, এবার তোক একটা…”

    খেয়াল করিনি, নালুমামা উঠে দাঁড়িয়েছেন। দরজার বাইরে বেরিয়ে পড়েছেন দেখেই বড়মামা চিৎকার করে উঠেছেন।

    আমরা সকলেই উঠে পড়েছিলাম। কিন্তু…

    কিন্তু তার আর দরকার ছিল না। বাইরের দরজায় ঠিক তখনই একটা জিপ এসে দাড়াবার শব্দ পাওয়া গেছে।

    ২৩ ডিসেম্বর ১৯৯২

    অলংকরণ : কৃষ্ণেন্দু চাকী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }