Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহাসাগরে মহাদুর্যোগ – অজেয় রায়

    আজব গোয়েন্দার দেশে – আবুল বাশার

    আবিরমামার মুখে ভূতের গল্প শোনা আমাদের চিরকেলে অভ্যেস। মামা মুখ বদলাবার জন্য আজ একটি নতুন প্রস্তাব দিলেন। চুনোর মুখের দিকে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ অদ্ভুতভাবে চেয়ে থেকে বললেন, “গোয়েন্দাগিরির চমৎকার গল্প বইয়ে পড়েছিস বিস্তর, কিন্তু চুনো, ম্যাজিক দেখিয়ে আততায়ী বা চোর ধরার গল্প তোদের জানা নেই। তাও ফের পি. সি. সরকারের ম্যাজিক নয়, সেটি হচ্ছে, যাকে বলে, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’।”

    ব্ল্যাক ম্যাজিক? ইংরেজিতে একটা নতুন লজ শুনলাম এমন বলব না, তবে কথাটার আবছা মানে মনে নিয়ে মামার গল্প শোনা ঠিক নয়। মামাই বললেন, “পি. সি. সরকারের ম্যাজিক অনেকটাই বিজ্ঞানভিত্তিক, অলৌকিক কিছু নয়, তাতে কোনও অতিপ্রাকৃত ঘটনা থাকে না। একজন আধুনিক জাদুকর, তুকতাকে বিশ্বাস করেন না। মন্ত্র মানেন না। বাণমারা, তুক করা, আত্মার কারসাজি, ভূতপ্রেত কোনও কিছুই মডার্ন ম্যাজিকে আসে না। এমনকী ‘ভোজবাজি’ কথাটা আমরা ব্যবহার করি, কোনও কিছুকে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করার জন্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক মানুষ মন্ত্রতন্ত্র মানে, অলৌকিক ঘটনার দিকে তাদের ভয়ানক টান। ‘সম্মোহন’ শব্দটা নিশ্চয় শুনেছিস চুনো!”

    আমাদের বোন কিরণ বলল, “আচ্ছা মামা, নজরবন্দি কাকে বলে?”

    মামা নিঃশব্দে মিঠে হেসে বললেন, “সেটাই তো সম্মোহন রে! সাদা বাংলায় একটা কথা আছে ‘গুণ করা’। গুণ মানে জাদু। এটাই ব্ল্যাক ম্যাজিক। ইংরেজিতে Magus বলে একটা শব্দ আছে। প্রাচীন পার্শি পুরুতকে বলা হত মেইগ্যাস। Magus বলতে একজন জাদুকর জ্ঞানী ব্যক্তিকে বোঝাত, এই শব্দটা থেকেই Magi এবং তা থেকে Magian এবং শেষে Magician শব্দ এসেছে। সম্মোহন সংক্রান্ত বিদ্যাই আসলে কালো জাদু। একজন অগ্নি উপাসক পুরোহিতের জ্ঞানের বৈশিষ্ট্যই ছিল অলৌকিকত্ব এবং তিনি সম্মোহন বিদ্যাবলে মানুষকে অভিভূত করতে পারতেন। এই পুরুতরা ছিলেন স্বপ্নবিদ, এঁরা মানুষের স্বপ্নের নানারকম ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। এঁদের সম্বন্ধে বিশদ কিছু আর বলছিনে, পরে একদিন বলা যাবে। আজ আমি একজন বেঙ্গলি মেইগ্যাসের গোয়েন্দাগিরির একটা অকাট্য গল্প শোনাতে চাই।” বলে একটুখানি দম নেওয়ার জন্য থামলেন আবিরমামা।

    মামা এবার রুপোর বুড়ো আঙুল প্রমাণ কৌটো থেকে আঙুলের চিমটি করে খানিকটা নস্য নাসিকার ছিদ্রে গুঁজে সাদা ধবধবে রুমালে নাকের ডগা রগড়ে মুছে সিধে হয়ে বসবেন। তাঁর চোখের ডিমে হালকা অশ্রু চিকচিক করে উঠবে। অতঃপর তিনি গল্পটা পাড়বেন, সব গল্পই মামার অভিজ্ঞতার গল্প। সংসারে যা ঘটেনি, মামা তা বলেন না।

    মামা বললেন, “বেঙ্গলি মেইগ্যাস বলতে বাংলার এই জাদুকর-গোয়েন্দা ছিল পেশায় খেয়াদার পাটনি। ভৈরবের যে ত্রিমোহনী ঘাট, সেই ঘাটে খুঁটোবাধা একখানা ডিঙি ছিল গুণীলালের সম্বল। চরের জমি থেকে পাকা ধান আঁটি বেঁধে ওই ডিঙি করে পারে। নিয়ে যেত গেরস্তরা, তা ছাড়া মানুষ-ছাগল-মুরগি সব ওই ডিঙি করেই পারাপার হত। গুণীর খেয়াল চড়লে পয়সা দিতে হত না, দিতে হত ষান্মাসিক পাঁজা।

    “পাঁজা কী মামা?” প্রশ্ন করলাম।

    মামা রুমালে নাকের ডগা রগড়ে পকেটে রুমাল ঢোকাতে ঢোকাতে বললেন, “কথাটা হচ্ছে পাঞ্জা। হাতের পাঞ্জা যাকে বলে, এখানে ধরতে হবে মুঠোয় করে যতটা ধরা যায়, তাই হচ্ছে পাঞ্জা বা পাঁজা। মুঠোয় যতটা সামগ্রী উঠল, ধান-গম- ছোলা-পাট তাই দিয়ে দাও গুণীলালকে। আসলে একমুঠো না দশ-বিশ মুঠো, সেটাই ধর্তব্য। ধান-পাটের সময় ধান-পাট, রবিখন্দের সময় ছোলা-গম— ছ’মাস অন্তর। মানুষ গুণীকে সাধ্যমতো দেবে, মুঠোভরে দেবে। তাই বলে, গুণীকে ভিক্ষে দিচ্ছ ভেবো না, সে তোমার ফসল পার করেছে, তোমাকে খেয়া দিয়েছে। তুমি তার ডিঙি করে ফসলের মাঠে গেছ, হাটে গেছ, মকদ্দমা করতে শহরে যাবে, ত্রিমোহনী পার হয়ে গঞ্জের সদরে বাস ধরবে, তার আগে ঘাটপারে যাবে, গুণীই তোমার পাটনি। দশ হাতা পাট, পাঁচসেরি হেটোর ভরতি ধান তুমি অন্তত দেবে, চৈতালি ফসলও দেবে হেটো মেপে।”

    “হেটো কী মামা?”

    “তা-ও জানো না! বেতের বোনা এক ধরনের পাত্র।”

    “ও, আচ্ছা।”

    “সবাই তো আর পাঁজা দেওয়ার ক্ষ্যামতা রাখে না। যারা দেবে না, তারা কি ঘাট পারে যাবে না? যাবে। তারা হল ফ্রি-সার্ভিসের প্যাসেঞ্জার। গুণীর হিসেব ছিল, সে সকলের কাছে পাঁজা চাইত না।” বলতে বলতে মামা আবার একদণ্ড চুপ করলেন।

    আবিরমামা তারপর হঠাৎ বললেন, “গুণীর পেশা সম্বন্ধে, না, একে বলে উপজীবিকা, সে সম্বন্ধে সাত কাহন বলা যায়। এই মানুষটাই ছিল আমার ছেলেবেলার গ্রাম্য গোয়েন্দা, থানার দারোগা যা পারত না, গুণী সেই রহস্য ভেদ করতে পারত। খেয়া পারে যায় না, এমন মানুষ গ্রামে নেই। সবারই নাড়িনক্ষত্র জানত গুণী। তা ছাড়া সে ছিল স্বপ্নবিদ। শতডিহার পড়তি জমিদার অম্বরপ্রসাদ ওরফে মধুবাবু পর্যন্ত তার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাইতেন। একবার মধু মজুমদার তাঁর বালাখানায় গুণীকে ডেকে পাঠালেন।”

    এতক্ষণে বুঝলাম, গল্প শুরু হয়ে গেছে। মামা বললেন, “মধুবাবু গুণীকে ডেকে কোনও ভূমিকা না করেই বললেন, শোন গুণীলাল, আমার মনে হচ্ছে, তোকে একটিবার বাটি চালান করতে হবে বাবা। চোর লেগেছে। আমার হরিণ-ঘর থেকে শিং চুরি যাচ্ছে। বাঘের চামড়া পর্যন্ত চোট হয়েছে। স্বপ্ন দেখলাম, আমি মরে গেছি। মরে গিয়েও নিস্তার নেই, মরে গিয়েও আমার দৃষ্টি বেঁচে রইল, দেখলাম, গুপ্তঘরের দেওয়াল থেকে পয়জন টেস্টিং ডিশ কে একজন পেড়ে নামাচ্ছে। পি টি ডিশ চলে গেলে ডোরা বাঁচবে কী করে? তুই দয়া করে পারশি বাটি চালিয়ে দে গুণী। আমি তোকে এই এত পাঁজা দেব, উপরি পাবি।”

    “বাটি চালান কী জিনিস? পি টি ডিশ?” চুনোর কান বিস্ময়ে খাড়া হয়ে উঠেছে।

    চুনোর কানের দিকে চেয়ে মামা বললেন, “দাঁড়া সব বলছি। আগে মধু মজুমদারের কথা শুনে গুণী কী ডায়ালগ দিলে, বলে রাখি। বললে, বাটি চালিয়ে অর্থ-সামগ্রী নিতে পারব না বাবু। গুরুর মানা আছে। মন্ত্রসিদ্ধি করে বাটি হাঁকে, মাগনা তো চলে না, ধাক্কা দিয়ে চালানো পাপ, বাটি চলে বশীকরণে, মন্ত্রে। ওই যে গাছের শিকড়, ওই হচ্ছে ড্রাইভার। আপনি বুঝবেন বাবু, খাবারে বিষ পড়লে ডিশ ফেটে যায়, বাটির পেটে শিকড় রাখলে বাটি মাটির ওপর দিয়ে চলতে শুরু করে। একে বলে আজ্ঞে দ্রব্যগুণ।”

    চুনো বোধহয় বাটি চালানের ম্যাজিক খানিকটা অনুধাবনের চেষ্টা করছিল। সে কল্পনা করছিল, একটি অদ্ভুত ধরনের দুধ-কাঁসার বাটি মাটির ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর পাঁচ আঙুলে ভর দিয়ে একটি হাত। গুণীর হাত। বাটির পেটে কীসের একটা শিকড়।

    মামা বললেন, “গল্পটা এবার আমি গুণীর হাতে ছেড়ে দেব। সে যেমন করে পারবে চালাবে।

    “অম্বরপ্রসাদের কাছে পৌঁছতে অনেক ঘর এবং সরু বারান্দা পার হয়ে আসতে হয়। ঘরের ভেতরে ঘর, ঘরের এক মস্ত গোলকধাঁধা। ডাকাত পড়লে, তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারে না। প্রাসাদটা যেন একটা দুর্গ। মেয়েরাই ডাকাতদের আড়াল থেকে অতর্কিতে বঁটিকাটা করতে পারে। ফলে জমিদার বাড়িতে ডাকাত পড়ার ঘটনা নেই। কিন্তু হরিণ-ঘর থেকে বাঘ-হরিণের চামড়া এবং হরিণের প্রশাখাময় শিং চুরি গেল কী করে! হরিণ-ঘরটা কোথায়?

    “গুণী বলল, ‘আপনি স্বপ্নে মারা গেলেন বাবু। আপনার দৃষ্টি মরল না। হরিণ-ঘরের দেওয়াল থেকে পি টি ডিশ পেড়ে নামানো হচ্ছে, দেখতে পেলেন! তা হলে চলুন, হরিণ-ঘরে গিয়ে দেখি ক’টা জিনিস চোট হয়েছে।’

    “‘আমি কি তা হলে বাঁচব না গুণীলাল?’ ককিয়ে জানতে চাইলেন মধুবাবু।

    “‘কেন বাঁচবেন না বাবু! স্বপ্নের মধ্যে মরতে পারলে আয়ু বৃদ্ধি। তবে স্বপ্নে মৃতাবস্থায় দৃষ্টি সজাগ থাকলে অঘটন ঘটে, লাশ যা দেখে তার অনেক কিছুই ফলে যায়। আপনি ডিশ নামাতে দেখেছেন, ডিশ তা হলে নেমে গেছে।’

    “গুণীলাল এক দফা কথা শেষ করেই ভয়ংকর কুকুর ডোরার মুখের দিকে বাঁকা তেরছা দৃষ্টিতে চেয়ে একটা ঢোক গিলল। বুকের ভেতরটা তার গুড়গুড় করে উঠল।

    “গুণীলাল বুঝতে পারছিল বাবুর খাটের বিছানায় পড়ে থাকা লম্বা ত্যানার মতো ডোরা আসলে ত্যানা নয়, খাড়া হয়ে উঠে দাঁড়ালে পিলে চমকে যাবে। বাঘের মতো ঘ্রাউ করে গা মোচড়ায়, চোখ দু’টো ধকধক করে জ্বলছে।

    “ঘরের দরজায় ঝুলছে ভারী পরদা। জানলা-কপাট বন্ধ। কোথা থেকে ক্ষীণ রেখার আলো এসে মেঝেয় পড়ে দিনের বেলাতেও ঘরের অন্ধকারকে ধাঁধিয়ে তুলেছে। এই আঁধারে এসে দাঁড়ালে গা কেমন ছমছম করতে থাকে। মেঝেয় চোখ পড়ল গুণীলালের। সে বেশ অবাক হয়ে দেখল, একখানা ডিশ দু’ভাগ হয়ে ভেঙে পড়ে রয়েছে, সেখানে খাবার ছড়ানো। গুণী বুঝতে পারল, ডিশের খাবারে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

    “মধুবাবু বললেন, ‘ডোরা ঘাড় নামিয়ে খেতে যাবে, এমন সময় ফট করে ফেটে গেল।’

    “গুণী গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল, ‘খেতে কে দেয়?’

    “লবঙ্গ। প্রায় এক যুগ আমার সংসারে আছে। খুবই করিৎকর্মা। ভারী বিশ্বাসী মেয়ে। ডোরা ওর হাতে ছাড়া খায় না। আমার নির্দেশ আছে, লবঙ্গ ছাড়া কেউ যেন ডোরার খাবার বেড়ে না দেয়। বাড়ির বউদের পর্যন্ত এক্তিয়ার নেই। কোনও পুরুষ ওকে খেতে দেবে না। এক টুকরো বিস্কুট অবধি না।’

    “‘লবঙ্গই খেতে দিয়েছিল?’

    “‘হ্যাঁ। কাজের মেয়ে লবঙ্গ। বারো বৎসর আমার হেঁসেল ঠেলছে। আমার সৎভাই বিষ্টু মজুমদার, যাকে লোকে হাবিলদার বলে জানে, সন্ন্যেসি গোছের মানুষ, পুব পাড়ার ডিহিতে থাকে, ওইই তো এই লবঙ্গকে জোগাড় করে এনেছিল। কথা হচ্ছে, লবঙ্গ বিষ মেশাবে, প্রত্যয় হয় না গুণীলাল।’

    “‘আপনি তা হলে কাকে সন্দেহ করছেন?’ গুণীলালের প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে খাটে হেলান দিয়ে বসে রইলেম মধু মজুমদার। তারপর ডোরার গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘সন্দেহ কাকে করব? ডিশ ফেটে গেল দেখে লবঙ্গ ভয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল। বেলা গড়িয়ে গেছে, এখনও বেচারি খায়নি, মুখ শুকনো করে বসে আছে। ডোরাকে ভালও তো বাসে। বউগুলি তো রীতিমতো স্তম্ভিত। কে কী করল বুঝেই পাচ্ছি না। তবে সন্দেহ নেই, ডোরাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত। শুরু হয়ে গেছে। ও মরলে, আমিও মরব। চল তোকে হরিণ-ঘরটা দেখিয়ে নিয়ে আসি।’ বলে খাট থেকে গা তুলে উঠে দাঁড়ালেন অম্বরপ্রসাদ।

    “প্ৰসাদ জমিদার উঠে দাঁড়াতেই ডোরাও খাটের ওপর উঠে দাঁড়াল, গা ঝাড়া দিল। গা ভরতি বড় বড় সোনালি লোম, এত লোমশ কুকুর গুণী কোনও কালেই কোথাও দেখেনি। দেখেই মনে হয় স্বপ্নের কুকুর, যেন কোনও ম্যাজিকগুণে জন্ম নিয়েছে।

    “কিন্তু পরদার তলায় মিলিটারি বুটপরা দু’খানি পা দেখে আঁতকে উঠল গুণীলাল। ‘ও কে?’ বলে অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠল। তখনই পরদা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এল হাবিলদার। তাগড়াই চেহারা। বাড়ি থেকে পালিয়ে মিলিটারিতে যোগ দিয়েছিল। ফিরে এসে আধা-সন্ন্যেসি হয়ে গেছে। মধুবাবুর কাছে পড়তি জমিদারির অংশ দাবি করেনি, বিষয়-সম্পত্তি সম্বন্ধে উদাসীন। একলা থাকে, বিয়েথা করেনি। এই মানুষটা এখনও গ্রামের পথে একাকী প্যারেড করে বেড়ায়, প্রতিটি ধাপ এত নিখুঁত মাপের যে, চোখে না দেখেও পথ দিয়ে যথাস্থানে চলে যেতে পারে। হাবিলদার আসলে ইদানীং তান্ধ। শোনা যায়, যুদ্ধে গিয়েই নাকি চোখে চোট পেয়েছিল। ধীরে ধীরে চোখের আলো নিভে গেছে। বছর দুই আগেও নাকি ঝাপসা দেখত। লেফ্‌ট-রাইট করতে করতেই ঘরের গোলকধাঁধা পেরিয়ে এই অবধি চলে এল আজ। তাজ্জব মানুষ। সন্ন্যেসিই নয়, আধা পাগলও বটে।

    “ঘরের ভেতরে ঢুকে এসে হাবিলদার বলল, ‘লবঙ্গকে কি আমি নিয়ে যাব দাদা? বিষ দিক না দিক, কোনও মানুষই যখন সন্দেহের উর্ধ্বে নয়, তখন ওকেও এখানে রাখা ঠিক হবে না। আমিই ওকে কাজ দিয়েছিলাম, আমি না দিলে, তুমি নিতে না। অতএব লবঙ্গ চলে যাক।’ বলে অন্ধ মানুষটা চোখ পিটপিট করল বারকতক।

    “মধুবাবু দৃঢ়স্বরে বললেন, ‘আমি তো ওকে কোনও সন্দেহ করিনি বিষ্টু, তুই কেন খামোকা গরম হচ্ছিস।’

    “‘না, এটা আমার প্রেস্টিজ খানিকটা, কারণ আমিই ওকে দিয়েছিলাম। দ্যাখো, আমাদের জমিদারি প্রায় ফৌত হয়ে গেছে, কিন্তু ঠাটবাট তো যায়নি। গণ্ডা গণ্ডা কাজের লোক, ঝি, কে কী সরিয়ে নিয়ে পালাবে বলা যাচ্ছে না। আমি চাইব, লবঙ্গ বিশ্বাসী, সে বিশ্বাস রেখে চলে যাক। কী বল, গুণীলাল?’

    “গুণীলাল বুঝল, সে যে মধুবাবুর কাছে এসেছে, তা কিন্তু গোপন নেই। মধুবাবু বললেন, ‘তোর প্রেস্টিজ আবার খুব ঠুনকো বিষ্টু। তুই লবঙ্গকে দিয়েছিস তো কী হয়েছে! আমি ওকে অবিশ্বাস করিনি। কেন করব, ওই তো ভোরার আপন।’

    “হাবিলদার এবার কিছুটা নরম হয়ে বলল, ‘আমার মনে হচ্ছে, লবঙ্গকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে এখান থেকে ‘আউট’ করতে পারলে কারও হয়তো সুবিধে হয়।’

    “‘ঠিক বলেছিস বিষ্টু। আমারও তাইই মনে হয়েছে।’

    “‘আচ্ছা দাদা, স্কুলের ডোনেশনের ব্যাপারে কী ভাবলে। দ্যাখো, এটাও কিন্তু প্রেস্টিজ। আমি পাগল-সন্ন্যেসি-হাবিলদার যাইই হই, লোকে স্কুলের জন্য চাঁদা চাইলে… যাকগে, আমিও কিন্তু জমিদার, আমি তোমার ভাই। আমার মর্যাদা গেলে, তোমারও থাকবে না। আমি আমার ভাগ থেকে ডোনেট করব। কখনও তোমার কাছে কিছুই চাইনি।’

    “‘বেশ, বেশ। দেব তো বলেছি।’

    “‘কবে!’

    “‘আগে বাটি চলুক, তারপর।’

    “‘ওহ, চোর ধরবে! দেখো গুণী, ভুল লোকের পায়ে যদি বাটি লাগাও, আমি তা হলে তোমাকে ছাড়ব না। বন্দুক হাতে করে সিধে চলে যাব। তোমাকে ডিঙির ওপর গিয়ে গুলি করে আসব। আমি সব দেখতে পাই, পা, আমি পা দিয়ে দেখি।’ বলে বুটের প্যারেড করে শব্দ তুলে হাবিলদার চলে গেল।

    “‘পাগল।’ বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অম্বরপ্রসাদ।

    “তা দেখে গুণী বলল, ‘হাবিলদার কিন্তু পাগল নয় বাবু। ওর ভাগ ওকে হিসেব করে দিয়ে দেন। খুব গরম, গুমোর আছে। চলুন, হরিণ-ঘরটা দেখি।’

    “হরিণ-ঘরে এসে দেখা গেল, দেওয়ালের দু’টি স্থান ফাঁকা ডিশ নেই। একখানা ডিশ ফেটে গেছে, দু’খানা চুরি হয়েছে। শিং এবং ছালও কিছু চোট হয়েছে।’

    “‘ডোরা আমার বডিগার্ড গুণী। ওর কাছে আমার সিন্দুকের চাবি আছে!’ বলে দরজার দিকে চাইলেন মধুবাবু। মনে হল, পরদার ওপারে কীসের একটা ছায়া সরে চলে যাচ্ছে। ঘর ছেড়ে দ্রুত বাইরে ছুটে এল গুণীলাল। দেখা গেল, ছোটবউ একটা ঝাড়ন হাতে চলে যাচ্ছে, তার সম্মুখে কেউ হয়তো ছিল।

    “গুণীলাল ভয় পাচ্ছিল। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছিল, এই প্রাসাদে চোর ঢুকেছে। ডোরাকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চলেছে। ডোরার কাছে চাবি আছে, কিন্তু কীভাবে সেটা আছে, কোথায় আছে, ভেবে পাচ্ছিল না জাদুকর।

    “দিনসাতেকের মধ্যেই পি টি ডিশ সমস্ত চোট হয়ে গেল। একদিন ঘোর সন্ধ্যার মুখে অন্ধ হাবিলদারকে কারা মুখোশ পরে বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে গ্রামের পথ দিয়ে হাঁটিয়ে কোথায় নিয়ে গেল। প্রাসাদে ডাক পড়ল গুণীলাল পাটনির। সে এসে পৌঁছতেই মধুবাবু বললেন, ‘সর্বনাশ হয়েছে গুণী। তুই শিগগির বাটি চালিয়ে দে বাবা। ডোরার পায়ে লোমের তলায় ডোর দিয়ে বাঁধা সাংকেতিক চাবি ছিনতাই হয়েছে। ক’দিন আমিই ওকে খেতে দিয়েছি। পি টি ডিশ নেই। এ ঘরে কে কখন ঢুকল বুঝতে পারছি না। ডাকাতরা বিষ্টুকে সাবাড় করে দিত, কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচেছে। কী হবে গুণীলাল?’

    “পাটনি শান্ত গলায় বলল, ‘আপনি একবার লবঙ্গকে ডাকুন।’

    “লবঙ্গ এল।

    “গুণী বলল, ‘বউদের ডাকুন।’

    “বউরা এল। ভাইরা এল। কাজের লোকরা সব এল। হাবিলদার পর্যন্ত এল।

    “পাটনি হাবিলদারকে প্রশ্ন করল, ‘কারা ওরা?’

    “‘কারা?’

    “‘ওই যে আপনাকে বন্দুক উচিয়ে নিয়ে গেল।’

    “‘কী করে বলব? চোখে তো দেখি না।’

    “‘কোনও প্রশ্ন করেননি?’

    “‘হ্যাঁ, তারা বলেছে, সরিষাপুরের ডাকাত।

    “‘বেশ। আপনার কাছে কী চাইল?’

    “‘চাবি। কিন্তু আমি কোথায় পাব বল! মনে হচ্ছে, এ-বাড়িতে ডাকাত পড়বে। দাদা, তুমি আজই লবঙ্গকে বিদায় করো।’

    “হঠাৎ গুণী বলে উঠল, ‘কাল ভোরে বাটি চালান হবে। গাঁয়ে ঢেঁড়া দিন জমিদারবাবু। আমার মনে হচ্ছে চাবিটা পাওয়া যাবে।’

    “কথা শেষ করেই পা বাড়ায় গুণীলাল। প্রাসাদের বাইরে বেরিয়ে বালাখানায় দাড়িয়ে হঠাৎ সে পুনশ্চ উক্তি করে, ‘লবঙ্গকে বিদায় করবেন না বাবু। ওকে একবার ফের ভাকুন তো!’

    “‘কথা বলবে?’ মধুবাবু জানতে চান।

    “গুণী বলল, ‘একটা কথা বলে যাই। আচ্ছা বাবু, চাবিটা দেখতে কেমন?’

    “অম্বরপ্রসাদ বললেন, ‘গোল চাকতি মতন। সরু আর শক্ত লাল আংটা বাঁধা। চাকতির গায়ে সংখ্যা আর সংকেত লেখা আছে। যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে সংখ্যা-সংকেত মিলিয়ে সিন্দুকের তালা ঘোরাতে হবে।’

    “‘থাক, আর বলতে হবে না। আচ্ছা, ডোরাকে চান করাত কে? আপনি? স্নানের সময় চাকতি ডোরার সোনালি লোমের ভেতর থেকে ডোর খুলে বার করা হত? ভোরাকে খাওয়ানোর সময় গায়ে হাত বুলিয়ে দিত কে? আপনি?’

    “‘না, লবঙ্গই দিত।’

    “‘লবঙ্গকে ডাকুন।’

    “লবঙ্গ ভিড় ঠেলে সম্মুখে এল। তাকে দেখেই গুণী বলে উঠল, ‘তুমি এক সন আগে আমার ডিভি করে পার হয়েছ লবঙ্গ। তারপর এই সাতদিন আগেও একদিন সরিষাপুর গেলে? যাওনি?’

    “‘মধুবকুল গেলাম। মায়ের কাছে একবেলার জন্যে।’

    “‘সরিষাপুরে কে আছে তোমার?’

    “‘আমি মধুরকুলের মেয়ে।’

    “‘তুমি কিন্তু সরিষাপুরে গিয়েছিলে। যাওনি? ঠিক আছে, কাল তোমার সঙ্গে কথা হবে, তুমি তা হলে লবঙ্গ নও?’

    “‘সে কী গুণীলাল। আমিই আমি নই। তোমার কি মাথা খারাপ হল গুণীলাল! তুমি মানুষকে এতদূর অপদস্থ করতে পারলে। হায়, মানুষকে মানুষ গণ্যি করে না। তুমিই কিনা বাটি চালিয়ে মানুষ ধরবে। দেখুন হাবিলদারবাবু, কী বলে লোকটা! হায় হায় রে! আমি কোথায় যাব, কী করব।’ বলে ডুকরে কেঁদে উঠল লবঙ্গ। ছাতা হাতে গুণীকে মারবার জন্য তেড়ে এল বিষ্টু মজুমদার। মধুবাবু তাকে বাধা দিয়ে বললেন, ‘বিষ্টু, ঘটনা সন্দেহজনক। কথা বার করবার জন্য সত্যমিথ্যা জেরা করে মানুষ। গুণী বললেই লবঙ্গ কিন্তু দারুচিনি হয় না। তুমি সংযত হও, ছাতা নামাও!’ দাদার ধমকে বিষ্টু নিরস্ত হল।

    “পরের দিনই হাটে ঢোলশহরত হল। সমস্ত দিগরের মানুষ জেনে গেল, শতডিহার ফৌত জমিদার মধুবাবুর বালাখানায় বাটি চালিয়ে চোর ধরা হবে। চাই কি ডাকাতও ধরা পড়তে পারে।

    “তল্লাটের মানুষ ভেঙে পড়ল গুণীলালের বাটি চালান দেখতে। গুণীলাল কেবলই ভাবছিল অন্ধ মানুষ হাবিলদার ওরফে বিষ্টুবাবু কী করে তার মাথায় ছাতার বাঁট তুলে মারতে গেল? বিষ্টু মজুমদার কি দেখতে পায়? এ প্রশ্ন গুণী করেনি। মনে মনে ভেবেছে।

    “বালাখানা লোকে লোকারণ্য, বালাখানা উপচে জনস্রোত পথ পর্যন্ত সার বেঁধে দাঁড়িয়ে— গুণী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার কাঁধের থলেতে পারশি বাটি রয়েছে। রয়েছে বাটি চালানের শিকড়।

    “শিকড় রাখা হল বাটির পেটে। আঙুল দিয়ে বাটির ওপর ভর দিল গুণিলাল। এবার বাটি এগোবে। থানা থেকে দারোগাও তাঁর দলবল নিয়ে এসে মানুষের স্রোত ঠেকিয়ে রেখে গুণীর কাজের সুবিধে করে দিচ্ছেন। এই বাটি মাটির ওপর দিয়ে ঘষে ঘষে এগিয়ে যাবে। অপরাধীর পায়ের কাছে এসে থামবে।

    “বাটি চলতে শুরু করল। ডোরা এগোচ্ছে গুণীর পিছু পিছু। যেন সে-ও চোর ধরতে বার হয়েছে। যেন সে বুঝতে পারছে, তার লোমের তলে লুকনো চাবিটা গাপ হয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা। হয়েছে। সে মরলে, মধুবাবুও আর বাঁচবেন না।

    “ডোরা এক সময় গুণীর কানের কাছে মুখ ঠেলে এনে বলল, তুমি কী করে বুঝলে লবঙ্গ আসলে লবঙ্গ নয়, অন্য কেউ? আমি তো গন্ধ শুঁকে ধরেছি। বলো তো, লবঙ্গর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেচারিকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিই, বলি, তুমি কে গো?’

    “গুণী বলল, ‘দাঁড়া ভোরা। গন্ধ শুঁকে ধরলেই তো হবে না, অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে। আগে বাটিটা লবঙ্গর পায়ে গিয়ে পৌঁছক। লোকে দেখুক, কীসে থেকে কী হচ্ছে!’

    “সত্যি সত্যিই লবঙ্গর পায়ের কাছে এসে বাটিটা থেমে গেল। লবঙ্গ ভো ভয়ে কাঠ হয়ে দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠল। আজ কিন্তু বিষ্টু মজুমদার অন্ধেরই মতন চুপ করে রইলেন।

    “গুণী বলল, ‘আমি গুণীলাল পাটনি, খেয়া দিই ত্রিমোহনী ঘাটে। তুমি কি ঘাট পারে যাও?’

    “‘না’ বলে উঠল লবঙ্গ।

    “‘আচ্ছা বেশ। তুমি কে?’ প্রশ্ন করল গুণী।

    “উত্তর এল, ‘লবঙ্গ।’

    “‘তোমার চোখ ক’খানা?’

    “‘দু’খানা। দুইটা চোখ। তুমি কি কানা নাকি?’

    “বেশ। কান দুটি?”

    “‘হ্যাঁ। নিশ্চয়।’

    “‘সবাই দুইটা-দুইটা? হাত দু’খানা? জবাব দাও।’

    “‘কী দিব? আমি কি দুর্গা? আমি লবঙ্গ। দুইটাই হাত, দুশখানা পাব কোথা?’

    “‘পা?’

    “‘তা-ও দুইখানা। সবাই দেখছে।’

    “‘পিত্যেক হাতে কয়টা আঙুল?’

    “‘পাঁচ।’

    “‘পায়ে, ডান পায়ে কয়টা আঙুল?’

    “‘পাঁচ। তুমি মশকরা করছ গুণীলাল!’

    “‘না। বাঁ পাখানা দেখাও। কয়টা আঙুল? শাড়ির তলা থেকে বার করো পা।’

    “হঠাৎ ধমক দিয়ে উঠল গুণীলাল, ‘পা দেখাও। বার করো। দেখি কয়টা আঙুল। খেয়াপারে এই পা আমি দেখেছি। তুমি লবঙ্গ নও। এই দেখুন, বড়বাবু। আসুন, বাঁ পায়ে ছয়টা আঙুল। এ লবঙ্গ নয়। এর নাম দারুচিনি। লবঙ্গ-দারুচিনি দুই বোন। যমজ। অবিকল এক দেখতে। পার্থক্য শুধু আঙুলে।’

    “থানার বড়বাবু ছুটে এসে বাঁ পা বাড়িয়ে ধরা দারুর আঙুল দেখলেন। বাস্তবিক ছ’টা আঙুলই বটে। মধুবাবুও দেখলেন এবং শিউরে উঠলেন।

    “জমিদারবাড়ির বধূরা আঙুল দেখে হতবাক। গুণীলাল বলল, ‘এক সন আগে, এই দারুই ঘাট-পারে যাওয়ার সময় বলেছিল, তার পায়ে ছ’টা আঙুল। কারণ নৌকায় ওঠার সময় আমি সেই পা দেখে ফেলি। দারু বলেছিল, তার এক বোন মধুরকুলে থাকে। তার পাঁচটাই আঙুল। আমি থাকি সরিষাপুরে। পায়ে তফাত, গায়ে মুখে এক। সাতদিন আগে লবঙ্গ জমিদারি ছেড়েছে। নৌকায় উঠে বসলে, আমি তার বাঁ পায়ে লক্ষ করি, পাঁচটাই আঙুল। সকালে গেল লবঙ্গ, বিকেলে এল দারু। আচ্ছা, আপনি কি এ ঘটনা জানতেন বিষ্টুবাবু!’ বলেই বাটির দিকে চাইল গুণীলাল। বাটি নড়ে উঠল।

    “বাটি নড়ে উঠে চলতে শুরু করল। দ্রুত বেগে ধেয়ে এসে হাবিলদারের পায়ের কাছে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    “‘চাবিটা আপনার কাছেই আছে হাবিলদারবাবু। দিয়ে দেন। দারু আপনাকে সংকেত-চাবি দিয়েছে। সিন্দুকের আশরফি মোহর আপনি আত্মসাৎ করতে চান।’

    “‘না। চাবি আমার কাছে নেই গুণী। ডাকাতরা নিয়ে গেছে।’

    “‘চাবি আপনার কাছে ছিল?’

    “চুপ করে রইল বিষ্টু মজুমদার। মধুবাবু এগিয়ে এলেন, ‘শেযে তুই ডাকাতি করলি বিছু? চাইলে কি আমি দিতাম না?’

    “‘না, তুমি কিছুই দিতে না দাদা। আমি বাধ্য হয়ে দারুকে লাগিয়েছিলাম। কিন্তু চাবি আমার কাছে নেই। সরিষাপুরের ডাকাতরা নিয়ে গেছে। চল দেখাচ্ছি, কোথায় ঠেলে নিয়ে গিয়ে চাবি কাড়ল। ধাপ গুনে যাব। আসুন ওসি সাহেব, ডাকাতদের আস্তানা দেখবেন।’

    “হঠাৎ গুণী প্রশ্ন করল, “আচ্ছা বিষ্টুবাবু। দারুকে আপনি সরিয়ে দেওয়ার জন্য এত পেড়াপিড়ি করছিলেন কেন?’

    “‘কেন করব না। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। চোবের ওপর বাটপাড়ি হয়েছে। আমাকে চড় মেরে চাবি কেড়ে নিয়েছে দারুর লোকেরা। কী ভুলই না করেছি দাদা। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমি অত্যন্ত নীচ, লোভী।’ বলে অন্ধ বিষ্টু মধুর পায়ে পড়ল।

    “অন্ধ হাবিলদার চলেছে ডাকাতদের আস্তানা দেখতে। ধাপ গুনে তার কাজ। পুবে এত ধাপ, দক্ষিণে এত ধাপ, পশ্চিমে এত এবং উত্তরে এত। এভাবে পৌঁছনো গেল পুরনো জমিদারির বাগানে। ধাপ গুনে একটি মস্ত কোটরঅলা কাঁঠাল গাছের সম্মুখে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল বিষ্টু।

    “বিষ্টু বলল, ‘এখানে খুঁজে দেখুন। এখানেই কোথাও পি টি ডিশ হয়তো লুকনো আছে। ডাকাতরা আমাকে মেরে চাবি কেড়ে নিল।’

    “কোটরে কী আছে! পুলিশ সেখানে উঠে পি টি ডিশ পেড়ে নামিয়ে আনল। চাবি সেখানে নেই।

    “জনস্রোত বাগান অবধি এসেছিল। একজন পুলিশ দারুকে বাগান পর্যন্ত পাকড়ে টেনে এনেছিল।

    “গুণীলাল দারুকে বারবার জেরা করতে লাগল— ‘বল, কোথায় চাবি?’ দারু মড়াকান্না কাঁদতে লাগল, কিছুই বলতে পারল না। কেবলই একটা কথা তার মুখ দিয়ে বার হচ্ছিল, ‘লবঙ্গ আমাকে বলেছিল, ডোরাকে খেতে দিয়ে বারবার গায়ে হাত বুলিয়ে দিবি, নইলে বেচারি খেতে চাইবে না। লবঙ্গর দোষ নেই দারোগাবাবু। হাত বুলাতে গিয়ে চাবিটা হাতে ঠেকল গুণীলাল। না হলে পাপ হয় না।”

    “মধু মজুমদার চরম আশ্চর্য হয়েছেন। বললেন, ‘এই ডিশ তুইই সরিয়ে রেখে কাজ ফতে করলি দারু? কে জানত, লবঙ্গ-দারুচিনি দুই বোন, যমজ। আঙুলের তফাত। দে দারু, চাবি দে।’

    “কোথা থেকে দেবে দারুচিনি। বাগান থেকে ফিরে যাচ্ছিল জনস্রোত এবং পুলিশ। হঠাৎ পেছনে দেখা গেল, ডোরা বিষ্টুর ওপর মারাত্মক তেজে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বিষ্টুর জামাকাপড় ছিন্নভিন্ন করে দিল। আঁচড়ে দিল নখ দিয়ে, দাঁত দিয়ে চিবিয়ে দিল। দেখতে দেখতে অর্ধনগ্ন বিষ্টুর কোমরে ডোরে বাঁধা লাল আংটার সাংকেতিক চাবি চোখে পড়ে গেল। হাবিলদার পালাচ্ছিল, তার পালানোর ভঙ্গি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, লোকটা অন্ধ নয়।

    “মধুবাবুর পায়ে তখনও ধরে পড়ে আছে দারু। ডুকরাতে ডুকরাতে বলে চলেছে, ‘লবঙ্গের কোনও দোষ নাই বাবু! ওকে তাড়িয়ে দিয়ো না, ভালবেসেও মানুষ কুকুরের গায়ে হাত বোলায় জমিদারবাবু। লবঙ্গ কিছু জানে না গুণী!’ গুণী বলল, ‘বাটির শেকড়েও সে-কথা লেখা আছে দারুচিনি।”

    ৭ এপ্রিল ১৯৯৯

    অলংকরণ: সুব্রত চৌধুরী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }