Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভূতেরও ভবিষ্যৎ আছে – অজেয় রায়

    চারুহাসিনীর দেওয়াল-সিন্দুক – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    চারুহাসিনীর মৃত্যুর পর মহাফাঁপরে পড়ে গেছে তাঁর তিন ছেলে। আজ পনেরোদিন হল মারা গেছেন চারুহাসিনী, তাঁর শ্রাদ্ধশান্তি পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম চোকা পর্যন্ত কোনও ঝাট ছিল না, তার পরেই দেখা দিয়েছে সমস্যাটা। চারুহাসিনীর দেওয়াল-সিন্দুকটি কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না।

    চারুহাসিনীর সিন্দুকের অন্দরমহলটি অতি মূল্যবান। তার ছেলে, বউ, নাতি-নাতনিরা তো বটেই, লতায়-পাতায় আত্মীয় থেকে শুরু করে এই মায়াপুর গ্রামের বাচ্চা-বুড়োরা পর্যন্ত জানে ওই সিন্দুকেই সর্বস্ব লুকিয়ে রাখতেন চারুহাসিনী। এই ‘সর্বস্ব’র পরিমাণ নেহাত কম নয়। জমি-বাড়ির দলিল তো আছেই, সঙ্গে সোনাদানা টাকাপয়সা কি আর নেই কিছু! চারুহাসিনীর ছেলেদের বিশ্বাস, সিন্দুক খুললে মাথাপিছু লাখ-দু’লাখ তো জুটবেই, বেশিও হতে পারে। নিজের নিজের ভাগ গুছিয়ে নিয়ে সবাইকে এবার ফিরতে হবে না নিজের জায়গায়।

    হ্যাঁ, নিজের জায়গা। মায়াপুরে বাড়ি বটে, তবে চারুহাসিনীর কোনও ছেলেই আর এখানে থাকে না। সত্যি বলতে কী, তারা বছরান্তে এ-গ্রামের ছায়াও আর মাড়ায় কি না সন্দেহ। তারা সব শহুরে মানুষ, কাজের লোক, অজগাঁয়ে পড়ে থাকা বুড়ি মাকে দেখতে আসার তাদের সময় কোথায়। বড়জোর বিজয়ার পর ছুটতে ছুটতে এল, প্রণামটি সেরে রাত পোহাতে না পোহাতে আবার যে যার মত্যে ফিরে গেল, ব্যস, মার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ। নাতি-নাতনিরাও সব শহুরে ছেলেমেয়ে, গ্রামে এসে তাদেরও একটি দিনের তরে মন টেকে না।

    এবার অবশ্য সকলকেই আসতে হয়েছে, থাকতেও হয়েছে। দায়ে পড়ে। মা’র মৃত্যু বলে কথা, এসেই চলে গেলে, পাঁচজনকে দেখিয়ে মা’র জন্য চোখের জল না ফেললে, ঘটা করে শ্রাদ্ধশান্তি না করলে লোক নিন্দে করবে না? এখন মানে মানে আখের গুছিয়ে ফিরতে পারলে সকলেরই সবদিক থেকে মঙ্গল৷

    শুধু এই সিন্দুক খোলার সমস্যাটাই এমন ফ্যাসাদে ফেলে দিল!

    দেওয়ালে গাঁথা সিন্দুকটা আছে দোতলার বড় ঘরে। মায়াপুরেরই এক নামী কর্মকার বলরামকে দিয়ে এটা বানিয়েছিলেন চারুহাসিনীর শ্বশুরমশাইয়ের বাবা। অনেককাল আগে, যখন এই বাড়ি তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে। সিন্দুকটা আকারে তেমন প্রকাণ্ড নয়। দৈর্ঘ্যে প্রস্থে কোনও দিকেই ফুট দুয়েকের বেশি হবে না, তবে জিনিস হিসেবে ভারী মজবুত। মোটা লোহার বডি, চওড়া পেতলের হাতল, তার পাশে এক ইয়া পেতলের চাকা।

    সিন্দুক খোলা-বন্ধ করার পদ্ধতিটাও ভারী বিটকেল। দশ-দশখানা চাবি আছে সিন্দুকের, প্রত্যেকটি চাবিতে আলাদা আলাদা নম্বব। শূন্য থেকে নয়। ইচ্ছে করলে দশটা চাবি দিয়েও সিন্দুক খোলা-বন্ধ করা যায়, আবার চাইলে একটা চাবি দিয়েও। অনেকটা আজকালকার কম্বিনেশন লক সিস্টেমের মতো।

    কায়দাটা আর-একটু খোলসা করা যাক। কেউ যদি শুধু এক নম্বর চাবি ব্যবহার করতে চায় তবে তাকে এক নম্বর চাবি ঢুকিয়ে চাকাটাকে একপাক ঘোরাতে হবে। পাঁচ নম্বর ব্যবহার করতে চাইলে পাচ লেখা চাবি ঢুকিয়ে চাকা ঘোরাতে হবে পাঁচবার। শূন্য নম্বর চাবির জন্য চাকা ঘুরবে দশবার…। কেউ যদি একসঙ্গে দুটো চাবি ব্যবহার করতে চায়, ধরা যাক এক আর দুই। তখন এক নম্বর চাবি আগে ঢুকিয়ে চাকা একবার ঘোরাতে হবে, তারপর দু’নম্বর চাবি ঢুকিয়ে চাকা দু’বার। যদি কেউ একসঙ্গে ন’টা চাবি ব্যবহার করতে চায়, ধরা যাক নয় আট এক দুই সাত ছয় তিন চার পাঁচ। তা হলে তাকে প্রথমে ন’নম্বর চাবি ঢুকিয়ে চাকা ন’বার ঘোরাতে হবে, তারপর আট নম্বর চাবি ঢুকিয়ে চাকা আটবার, তারপর এক নম্বর চাবি ঢুকিয়ে চাকাটাকে একবার… সেই পাঁচ পর্যন্ত। খোলার কৌশল ঠিক এর উলটো। অর্থাৎ শুরু করতে হবে পাঁচ নম্বর থেকে, চলবে সেই নয় পর্যন্ত। কেবল চাকা ঘুরবে উলটো দিকে। অর্থাৎ কীভাবে সিন্দুকটা বন্ধ করা হয়েছে সেটা জানা না থাকলে কোনওভাবেই সিন্দুক খোলা সম্ভব নয়।

    এবং এই নিয়েই যত গন্ডগোল। চারুহাসিনী ঠিক কোন কোন নম্বরের চাবি দিয়ে সিন্দুক বন্ধ করেছেন, তা কাকপক্ষীও জানে না। সারাদিন ধরে চারুহাসিনীর তিন ছেলে, ছেলের বউ, আর পাঁচ নাতি-নাতনি একটার পর একটা চাবি ঢোকাচ্ছে আর চাকা ঘোরাচ্ছে, কিন্তু সিন্দুকের দরজা অনড়। মাঝখান থেকে চাবি চাকা ঘোরাতে ঘোরাতে সকলের পিঠ কাঁধ ব্যথা হয়ে গেল। কেউ বা হট ওয়াটার ব্যাগ চাপছে কাঁধে, কেউ বা নুনের পুলটিশ দিয়ে গরম সেঁক দিচ্ছে, কেউ ঘ্যাসর ঘ্যাসর মলম ঘষে চলেছে।

    হতাশ হয়ে রাতে ছাদে মিটিং-এ বসল সবাই। নিয়মভঙ্গের দিন আজ খাওয়াদাওয়াটা বেশ জম্পেশ হয়েছিল। পুকুরে জাল কেলিয়ে ইয়া বড় বড় কাতলা মাছ ধরিয়েছিল এ-বাড়ির পুরনো কাজের লোক নীলমাধব, সেই মাছের কালিয়া, সঙ্গে মুড়িঘণ্ট, দাদখানি চালের ভাত, নিজেদের খেতের শাকসবজি, দই, মিষ্টি―এলাহি আয়োজন। এত আহারের পরেও কারও মনে সুখ নেই। বসন্তকাল, মিঠে মিঠে দখিনা বাতাস বইছে, আকাশে সুন্দর চাঁদও উঠেছে একটা, তবু কারও কিছুই ভাল লাগছে না। সকলেই শুধু এ ওর মুখের দিকে তাকায়, আর ফোঁস ফোঁস দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

    এক সময়ে আর চুপ থাকতে পারল না চারুহাসিনীর বড় ছেলে শ্যামাকান্ত। বর্ধমান স্টেশনের ধাবেই বড়সড় এক স্টেশনারি দোকান আছে তার। রমরমা ব্যাবসা। সে ভারিক্কি দোকানদারি গলায় বলে উঠল, “কী রে, আর কতক্ষণ এভাবে গুমসুম মেরে কাউন্টারে বসে থাকব, অ্যাঁ? মালপত্র কীভাবে গস্ত করা যায় তার একটা পরামর্শ দে।”

    ছোট ছেলে রমাকান্তর রেলে চাকরি। চিত্তরঞ্জনে পোস্টেড। বিরক্তিভরা স্বরে সে বলল, “আমি তো অনেকক্ষণ শানটিং করার উপায় বাতলে দিয়েছি। সিগন্যাল ডাউন হয়ে গেছে, এবার সিন্দুকটা ভেঙে ফেলো।”

    শ্যামাকান্তর বউ শ্যামলী হাঁ হাঁ করে উঠল, “যাহ, তা কী করে হয়! মাত্র ক’দিন আগে মা মারা গেছেন, এখনই সিন্দুক ভাঙলে লোকে ছি ছি করবে না?”

    মেজো ছেলে সুধাকান্ত রানিগঞ্জে এক কয়লাখনির ওভারসিয়ার। সে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খেঁকিয়ে উঠেছে, “লোকের ছি ছি করার কী আছে? খাদান আমাদের, কোদাল বেলচা আমাদের, কীভাবে কয়লা তুলব সে আমরা ঠিক করব।”

    “আহা, উত্তেজিত হচ্ছ কেন?” সুধাকান্তর স্ত্রী সুমতি স্বামীকে শান্ত করার চেষ্টা করল, “আচ্ছা, সেই বলরামের নাতিকে ডেকে আনলে হয় না? সেও তো শুনেছি তালা-চাবি বানায়। সে যদি একটা সবখোল চাবি দিয়ে লকটা খুলে দিতে পারে…!”

    রমাকান্তর বউ রমলা বলে উঠল, “তোমার দেওর সকালেই বলরামের নাতির কাছে গিয়েছিল। সে সাফ বলে দিয়েছে এই সিন্দুক খোলা তার কম্মো নয়।”

    শ্যামাকান্ত বলল, “কিন্তু সিন্দুকটা কোনও দিনই খোলা যাবে না, এ নিশ্চয়ই মা চাননি। অবশ্যই মা কাউকে না কাউকে কিছু বলে গেছেন।”

    সুমতি বলল, “আমরা তো মারা যাওয়ার আগেই এসেছি। মা’র তখনও পুরো জ্ঞান ছিল। মা’র মুখে গঙ্গাজল দিলাম, হরিনাম শোনালাম, কই মা আমাকেও তো কিছু বলে যাননি!”

    রমাকান্ত সন্দিগ্ধ চোখে মেজো বউদির দিকে তাকাল। বোধহয় কথাটা বিশ্বাস করল না। তাদের তিন ভাইয়ের পরিবারে পরিবারে এতটুকু সম্ভাব নেই, নেহাত আজ অবস্থার ফেরে পড়ে সকলে একত্র হয়েছে। সে বেশ চিমটি কাটা সুরে বলল, “হয়তো মা তোমাকে বলতে চাননি। হয়তো কাজের লোকদের বলে গেছেন।”

    শ্যামাকান্তর বড় ছেলে রাজা এবার ক্লাস টুয়েলভে উঠেছে। নাকের নীচে তার ঘন গোঁফের রেখা, গলাটাও দিব্যি হেঁড়ে হেঁড়ে। সে পাশ থেকে ফুট কাটল, “ওদের কাছে বলে যাওয়াই তো স্বাভাবিক। ওরাই তো ঠাম্মার সেবাযত্ন করত।”

    সুধাকান্তর মেয়ে টুনটুনি এখন ক্লাস নাইনে। বিনুনি দুলিয়ে বেশ টুকুর টুকুর কথা বলে। সে টুকুস মন্তব্য জড়ল, “রাজাদা ঠিকই বলেছে। নীলমাধব জ্যাঠারাই তো ঠাম্মার আপনজন ছিল।”

    বড়রা সকলেই যেন বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। এ-ও মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। শ্যামাকান্ত ভার গলায় বলল, “বেশ, তা হলে মান খুইয়ে কাজের লোকেদেরই ডাকা যাক। নীলমাধব কমলমণি মানদা, ওরাই এসে বলে দিক…”

    এক হাঁকেই তিনজন ছাদে হাজির। কমলমণির বয়স বছর ষাটেক, সে এ-বাড়িতে রান্নার কাজ করছে বহুকাল। প্রশ্ন শুনে উত্তর দেবে কী, হাউমাউ করছে, “আমি কিছু বলতে পারবুনি, আমি কিছুটি বলতে পারবুনি…”।

    মানদার বয়স বছর পঞ্চাশ। সে ছিল চারুহাসিনীর সর্বক্ষণের সঙ্গী। গিন্নিমার মৃত্যুতে ভারী ভেঙে পড়েছে সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, “মা কী একটা চিঠির কথা বলেছিলেন বটে, আমার ঠিক মনে নেই।”

    বৃদ্ধ নীলমাধবের উত্তরটাই চমকপ্রদ হল। সে বলল, “মা আমায় বলেছিলেন তোমাদের নাকি সব জানিয়ে দিয়েছেন।”

    “জানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের?” একসঙ্গে তিন ভাইয়ের গলা ঠিকরে উঠল, “বুড়ো হয়ে কি তোর ভীমরতি হয়েছে নাকি? কবে জানিয়েছেন মা?”

    চারুহাসিনীর এই তিন ছেলেকেই কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে নীলমাধব। কিন্তু তারা এখন আর একটুও মানিগণ্যি করে না। বরং পান থেকে চুন খসলেই বিশ্রীভাবে তেড়ে ওঠে। তবু নীলমাধবের তাদের ওপর রাগ নেই। সে বিনীত গলাতেই বলল, “পুজোর পর উনি নাকি তোমাদের সকলকে চিঠি দিয়েছেন। তাতেই নাকি…”

    শ্যামাকান্ত সুধাকান্তর দিকে দুরে তাকাল, সুধাকান্ত রমাকান্তর দিকে। রমাকান্ত বলে উঠল, “ফের বাজে কথা। সেই চিঠিতে তো সিন্দুকের কথা কিছু ছিল না। অন্তত আমারটাতে তো নয়ই।”

    শ্যামাকান্ত বলল, “আমার চিঠিটা তো আমি বর্ধমানে রেখে এসেছি। তোদের কারও চিঠি কি সঙ্গে আছে? একবার দেখা যায়।”

    রমাকান্তর মেয়ে বুলবুলি সুধাকান্তর ছোট ছেলে ঝান্টুর সঙ্গে খুনসুটি করছিল। সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, “ঠাম্মার চিঠি তো মা ফেলে দিয়েছিল। ওটা এখন আমার কাছে আছে। আমি ঠাম্মার সব চিঠি রেখে দিই।”

    রমা অপ্রতিভ স্বরে বলল, “যাহ, ফেলব কেন? হয়তো কাজের লোকটা ঝাঁট দিতে গিয়ে…। তোর কাছে এখন আছে চিঠিটা।”

    “আছে তো।”

    “যা, নিয়ে আয়।”

    শুধু মুখের কথা খসার অপেক্ষা, বুলবুলি নিমেষে উড়ে গেল নীচে। উড়তে উড়তেই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফিরল। হাতে এক মলিন পোস্টকার্ড।

    চাঁদের আলোয় চিঠিটা পড়ার চেষ্টা করল সবাই। পারল না। দোতলা থেকে হারিকেন আনানো হয়েছে, সেই আলোতে শেষে জোরে জোরে পড়া হল চিঠি।

    স্নেহের রমা,

    আশাকরি তুমি, বউমা এবং বুলবুলি কুশলেই আছ। বিজয়ার পর আসিয়াছিলে, এক বেলাও থাকিলে না, মনে বড় দুঃখ পাইয়াছি। যাকগে, কী আর করা, তোমরা তোমাদের সংসার লইয়াই সুখে থাকো। আমার দিন ফুরাইয়া আসিতেছে, শেষ ক’টা দিন শ্রীহরির অষ্টোত্তর শতনাম জপ করিয়াই কাটাইয়া দিব। নামজপের অপার মহিমা, ইহাতেই চিত্ত শীতল হয়। আমার মৃত্যুর পর কথাটি স্মরণে রাখিয়ো। আশীর্বাদ নিয়ো।

    ইতি— হতভাগিনী মা।

    একটুক্ষণ সকলেই চুপ। তারপর সুধাকান্ত বলে উঠল, “আশ্চর্য, মা তো এই এক চিঠি আমাকেও লিখেছিলেন।”

    শ্যামলী অফুটে বলল, “হ্যাঁ, আমাদের চিঠির ভাষাও তো ওই এক ছিল।”

    আবহাওয়া গম্ভীর হয়ে গেছে। তারই মধ্যে সুমতি বলে উঠল, “কী কাণ্ড! মা কি একটাই চিঠি লিখে ফোটোকপি করেছিলেন নাকি?”

    শ্যামাকান্ত বেজার মুখে বলল, “মা তো প্রায় সবসময়েই এই ভাষাতে চিঠি লিখতেন। এতে সিন্দুক খোলার কথা কোথায়?”

    সুধাকান্ত কটমট করে নীলমাধবের দিকে তাকাল, “কী রে, তুই আমাদের সঙ্গে ফাজলামি করছিলি নাকি?”

    নীলমাধব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। বলল, “আমাকে মা ওই কথাই বলেছিলেন, বিশ্বাস করো। বলেছিলেন, ওরা যদি সিন্দুক খোলার কথা তোলে, তা হলে আমার শেষ চিঠির কথা মনে করিয়ে দিস।

    কথা চালাচালির মধ্যে হঠাৎ রাজা এগিয়ে এল। ফস করে চিঠিটা নিয়ে নিয়েছে বাবার হাত থেকে। উলটেপালটে দেখল। শুঁকছে। শ্যামলীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “দ্যাখো তো, পেঁয়াজের গন্ধ পাও কি না!”

    শ্যামলী অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকাল তারপর চিঠিটা শুঁকতে শুঁকতে বলল, “কই, না তো!”

    “তা হলে বোধহয় গন্ধ উঠে গেছে।” বলেই মা’র হাত থেকে পোস্টকার্ডটা নিয়ে হারিকেনের মাথায় ধরল রাজা।

    রমাকান্ত হাঁ হাঁ করে উঠল, “করছিস কী? চিঠিটা পুড়ে যাবে যে!”

    রাজা বিজ্ঞের মতো হাসল, “তোমরা ক্রাইম স্টোরি পড়োনি ছোটকাকা। পেঁয়াজের রস দারুণ ইনভিজিবল ইঙ্কের কাজ করে। নির্ঘাত ওই অদৃশ্য কালি দিয়ে কিছু লিখে গেছে ঠাম্মা, গরমে ধরলেই ফুটে উঠবে।”

    নীলমাধব আমতা আমতা করে বলল, “মা? মাকে তো আমি কোনওদিন পেঁয়াজ ছুঁতেও দেখিনি।”

    “হেঁ হেঁ, এখন ম্যাজিক দ্যাখো।”

    সকলেরই চোখ জ্বলজ্বল। হা হতোস্মি, তাপে পোস্টকার্ড গাঢ় বাদামি হয়ে এল, কিন্তু লেখার দেখা নেই।

    রাজার মুখ ক্রমে শুকিয়ে এতটুকু। তাই দেখে ভারী মজা পেয়েছে বুলবুলি। হিহি হাসছে, আর বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। ছেলের অপমানে মুখ গোমড়া হয়ে গেল শ্যামলীর। ফস করে কী যেন বলল রমলাকে, সঙ্গে সঙ্গে বেঁঝে উঠেছে রমলা। মাঝখান থেকে সুমতি একটা টিপ্পনী ছুড়ে দিল, আমনই রমাকান্ত রেগে কাঁই। শ্যামাকান্ত যত তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, সে তত তেড়ে তেড়ে ওঠে। সুধাকান্তর সঙ্গেও রমাকান্তর লেগে গেল জোর, সেও খুব চেল্লাচ্ছে। তিন ভাইয়ে প্রায় লাঠালাঠি বাধার উপক্রম।

    রাতের সভা ছত্রখান হয়ে গেল।

    তিন ভাইয়ের নিজের নিজের ঘরে শুতে চলে গেছে। কিন্তু কারও চোখেই ঘুম নেই! উত্তেজনা থিতিয়ে গেছে বটে, তবে চিঠিটা এখনও বনবন করে ঘুরছে মাথায়। মা তাদের সঙ্গে কী খেলাটা খেলে গেছেন কিছুতেই কেউ ধরতে পারছে না।

    এক সময়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল সকলে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে আপনা আপনি খুলে গেছে সিন্দুক। ভেতরে থরে থরে সাজানো আছে টাকা গয়না…।

    কাকভোরে হঠাৎ বুলবুলির ঘুম ভেঙে গেল। কোত্থেকে একটা গুনগুন ধ্বনি ভেসে আসছে না? মা বাবা অঘোরে ঘুমোচ্ছে, পা টিপে টিপে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল বুলবুলি। সবে হালকা হালকা আলো ফুটেছে, যেন রাত্তিরকে একটু একটু করে মুছে দিচ্ছে আর একটা নতুন সকাল। পিক পিক পাখি ডেকে উঠছে। কী নরম, কী অপরূপ যে লাগছে চারদিক!

    বারান্দায় এসে শব্দটার উৎস খুঁজে পেল বুলবুলি। আধো আলো আধো অন্ধকার মাখা বারান্দার এক কোণে বসে কে অমন দুলে দুলে গান গাইছে? নীলমাধব জ্যাঠা না?

    বুলবুলি পা টিপে টিপে নীলমাধবের কাছে গেল। কীসব মুকুন্দ মুরারি কেশব গোবিন্দ গোপাল বাসুদেব বলে বলে গান গাইছে নীলমাধব! চোখ বন্ধ, হাত জোড় করা।

    বেশিক্ষণ ধৈর্য ধরে দাড়িয়ে থাকতে পারল না বুলবুলি। আলতো ঠেলা দিয়েছে নীলমাধবকে।

    নীলমাধব চোখ মেলে তাকাল। রমাকান্তর দশ বছরের এই ফুটফুটে মেয়েটাকে ভারী ভাল লাগে নীলমাধবের। মুখখানা যেন চারুহাসিনী বসানো। কথাবার্তা আচার-আচরণও চারুহাসিনীর কথা মনে পড়িয়ে দেয়।

    হাসি হাসি মুখে নীলমাধব বলল, “কী গো দিদি, এত ভাবে ভোরে উঠে পড়েছ যে?”

    “তোমার গান শুনেই তো ঘুম ভেঙে গেল।” বুলবুলি থেবড়ে বসল নীলমাধবের পাশে, “ওটা কী। গান গাইছিলে গো জেঠু?”

    নীলমাধবের হাসি ছড়িয়ে গেল, “দূর পাগল, গান কোথায়? ও তো আমি শ্রীহরির নাম জপ করছিলাম।”

    “শ্রীহরির নাম জপ? কই, হরি হরি তো করছিলে না?”

    “ওরে দিদি, আমি শ্রীহরির অষ্টোত্তর শতনাম জপ করছিলাম।”

    “সেটা আবার কী?”

    “ওমা, তাও জানো না? শ্রীকৃষ্ণের একশো আটটা নাম আছে। মা বলতেন রোজ ভোরে উঠে ওই একশো আটটা নাম জপ করে নিলে সারাটা দিন বড় ভাল যায়। শুনবে নামগুলো? শ্রীকৃষ্ণ, শ্যাম, কানু, মধুসূদন, মুরলীধর, দর্পহারী, যশোদাদুলাল, পুণ্ডরীকাক্ষ, কালিয়া, শৌরি, গোপীজনবল্লভ, কংসহা, অচ্যুত…”

    পুরোটা আর শোনা হয়ে উঠল না বুলবুলির। হঠাৎ মাথার ভেতর বিব বিব বাজতে শুরু করেছে― একশো আট। একশো আট। ঠাম্মার চিঠিতে অষ্টোত্তর শতনামের কথা বলা আছে না?

    নীলমাধবকে স্তম্ভিত করে দিয়ে সহসা বুলবুলি বড় ঘরের দিকে ছুটেছে। সোজা চারুহাসিনীর দেওয়াল সিন্দুকের সামনে। সার সার দশখানা চাবি হাতলে ঝুলছে। প্রথমে আট নম্বর চাবিটা নিল বুলবুলি। চাবি গলিয়ে উলটো দিকে চাকা ঘোরাল আটবার।

    শূন্য নম্বর চাবি গলিয়েছে এবার, দশবার উলটো দিকে চাকা ঘোরাল। তারপর এক নম্বর চাবি গলিয়ে একবার। কুট করে একটা শব্দ হল না? দুরু দুরু বুকে বুলবুলি হাতলটা ধরল। টান দিতেই সিন্দুক হাঁ।

    প্রবল আনন্দে বুলবুলি চিৎকার করে উঠল, “চিচিং ফাঁক। চিচিং ফাঁক। সিন্দুক খুলে গেছে।”

    মুহূর্তে গোটা বাড়ি জেগে গেল। সবাই আঁকুপাকু করে দৌড়ে এসেছে। জোড়া জোড়া বিস্ফারিত চোখ দেখছে সিন্দুকের অভ্যন্তর। ফাঁকা, বেবাক ফাঁকা। টাকা নেই, গয়না নেই, জমি বাড়ির দলিল কিছু নেই।

    না, পুরো ফাঁকা নয়। দু’ তাকের সিন্দুকের ওপর তাকে একটা কাগজ পড়ে আছে না?

    শ্যামাকান্ত কাঁপা কাঁপা হাতে কাগজটা বার করল। চারুহাসিনীর উইলের কপি।

    ভাঙা ভাঙা স্বরে উইলটা পড়তে শুরু করল শ্যামাকান্ত:

    আমি, চারুহাসিনী দেবী, সুস্থ শরীরে এবং সজ্ঞানে আমার সমস্ত অস্থাবর সম্পত্তি বর্ধমানের শান্তিনীড় বৃদ্ধাশ্রমে দান করিলাম। যেসব বৃদ্ধ বৃদ্ধার কেহ নাই, সন্তানসন্ততিরা থাকিয়াও নাই, আমার সঞ্চিত অর্থ ও গহনায় যদি তাঁহাদের সামান্যতম উপকারও হয়, আমি নিজেকে ধন্য মনে করিব। আমার যাবতীয় স্থাবর সম্পত্তি (জমি বাড়ি ইত্যাদি) আমার মৃত্যুর পর সরকারকে গ্রহণ করিতে অনুরোধ করিতেছি। আমার শেষ বাসনা, এই বসতবাটীতে যেন একটি অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আমার জমির ফসল, পুকুরের মাছ অনাথ শিশুরা নিঃশর্তে ভোগ করিতে পারে। শুধু একটিই শর্তা আমার অসহায় অবস্থায় যাহারা আমার দেখাশুনা করিয়াছে, সেই নীলমাধব কমলমণি এবং মানদাকে আজীবন অনাথ আশ্রমের কর্মচারী হিসাবে বহাল রাখিতে হইবে। আমার কোনও পুত্র কোনওভাবে এই আশ্রমের সহিত সম্পর্ক রাখিতে পারিবে না, ইহাই আমার অভিরুচি।

    তিন ভাই মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে আছে। বসন্তের মধুর সকালে তাদের চোখে নেমে এসেছে ঘন আঁধার।।

    ২৮ জুলাই ১৯৯৯

    অলংকরণ: কৃষ্ণেন্দু চাকী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }