Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এবং তারপর – অজেয় রায়

    দেবতার হাত – অনির্বাণ বসু

    ঘটনাটা ঘটেছিল আজ থেকে কয়েক বছর আগে, আকিদার গোয়েন্দাগিরির সেটাই ছিল প্রথম প্রকাশ। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতদিন পর লিখছি কেন ? প্রথমত, তখন স্কুলে পড়তাম, লেখার হাতটা তেমন তৈরি হয়নি (অবশ্য এখনও যে হয়েছে, এমন দাবি করছি না), তার চেয়েও বড় ব্যাপার হল, তখনই লিখলে এবং প্রকাশ করলে বাবাকে তাঁর কাজের জায়গায় অসুবিধেয় পড়তে হত। লিখেই প্রথমে আকিদাকে দেখিয়েছিলাম। নিজের স্টাইলে বলল, “চললেও চলতে পারে, তবে বেশি ফ্যানাস না। স্ট্রেট ব্যাটে না খেললে পাঠক পাবি না।”

    শুরুর তারিখটা ছিল ছাব্বিশে নভেম্বর, আমার বেশ মনে আছে, সেটা ছিল শুক্রবার। পরপর দু’দিন ছুটি বলে স্কুল থেকে ফেরার পরই খুশি খুশি লাগছিল। বসার ঘরে ঢুকে দেখলাম আকিদা খুব মন দিয়ে একটা বই দেখছে।

    আমাকে দেখে ডাকল। একটা ছবি দেখিয়ে বলল, “কী দেখছিস ?”

    আবার বই ? বিরক্তি চেপে এগোলাম।

    “তিনটে স্ট্রেট লাইন, একটা পয়েন্টে কাট করে চলে যাচ্ছে, আর সেগুলোকে জোড়া হয়েছে আরও ছ’টা লাইন দিয়ে।”

    “ঠিক করে দেখে বল।”

    “দাঁড়াও,… একটা ষড়ভুজের সবক’টা পয়েন্ট জোড়া হচ্ছে তিনটে স্ট্রেট লাইন দিয়ে, আর… না, না, ছ’টা ত্রিকোণ।” আমি কনফিডেন্টলি বললাম।

    “তুই সেই বোড়ে তো বোড়েই রয়ে গেলি।” এবার আকিদার গলায় বিরক্তি।

    আমার ডাকনাম জুনো। তবে মাঝেমাঝেই এই বিচ্ছিরি নামটা আকিদা ব্যবহার করে।

    “তুমিই তো বললে…”

    “ঠিক করে দ্যাখ ইডিয়ট,”— বাধা দিয়ে বলল আকিদা। হঠাৎ একটা খুব চেনা জিনিস চোখের সামনে ভেসে উঠল।

    “আরে, এটা তো একটা কিউব !” খুব অবাক হয়ে বলে উঠলাম।

    “চোখটা খুলেছে এতক্ষণে। শোন, আমার সঙ্গে থাকতে গেলে পর্যবেক্ষণ আর পারসেপশন, এই দুটো ব্যাপার নিয়ে মাজাঘষা করতে হবে তোকে। সব সময় ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ রাখবি।”

    আমি ততক্ষণে বসে গেছি বইটা নিয়ে। দারুণ ইন্টারেস্টিং তো। এত মশগুল হয়ে গিয়েছিলাম যে, বুঝতে পারিনি কখন বাবা এসেছেন ঘরে। আকিদা নিশ্চয়ই পেরেছিল, কারণ ওকে উঠে দাঁড়াতে দেখেই আমার খেয়াল হয়েছিল। ও বাবাকে খুব শ্রদ্ধা করে। বলে রাখি, বাবা ওর মামা হন। বেশ কিছুদিন হল আকিদা আমাদের সঙ্গে এখানেই আছে।

    সবে অফিস থেকে ফিরেছেন বাবা, এখনও ব্রিফকেসটা পর্যন্ত হাত থেকে নামিয়ে রাখেননি। এমনিতে বসার ঘরে এভাবে কখনও আসেন না বাবা, যখন এসেছেন, নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে।

    “জানিস আকি, আমার এক কোলিগ, নাম

    সুশান্ত সরকার, তারই এক ক্লোজ বন্ধুর বাড়িতে একটা অদ্ভুত ধরনের চুরি হয়েছে।”

    আকিদা চুপ করে অপেক্ষা করছে বাবার কথা শেষ হওয়ার জন্য।

    “সুশান্ত ক্যালকাটা ক্লাবের মেম্বার,” বাবা আবার আরম্ভ করলেন। “সেখানকারই এক বন্ধু— নাম অমিত দেববর্মন— মনে হয় তাসের পার্টনার— বলেছে, ওর বাড়িতে একটা মূর্তি চুরি হয়েছে। অমিতের বাবা নাকি শোকে একেবারে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। বৃদ্ধ মানুষ, শরীর এমনিতেই খারাপ থাকে, আরও ভেঙে পড়েছেন। পুলিশও এসেছিল, কিন্তু কিছু করতে পারেনি। ওদের জেরার চোটে নাকি ভদ্রলোকের শরীর আরও খারাপ হবার উপক্রম। সুশান্ত আমার অ্যাডভাইস চাইছিল, আমি স্রেফ বলেছি, আমার ভাগনেকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখি।” গলাটা খাঁকরে নিয়ে বললেন বাবা, “তুই একবার দেখবি নাকি ?”

    আকিদা চুপ।

    আমি দমবন্ধ করে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। সত্যিই কেসটা হাতে নেবে নাকি ? মূর্তি চুরির সমাধানে নেমে যদি সাকসেসফুল না হয়, তা হলে খুব মুশকিল হবে যে। আর… আমাকে যদি সঙ্গে না নেয় ? টেনশনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বাবা সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে একদৃষ্টে চেয়ে আছেন আকিদার দিকে। আকিদা কী যেন ভাবছে। অবশেষে মুখ খুলল।

    “তুমি যখন বলছ, তখন নিশ্চয়ই দেখব একবার।”

    সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন বাবা, “তা হলে আজই সুশান্তকে একটা ফোন করে দিই। অমিত দেববর্মনের সঙ্গে কথা বলে ও-ই একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করে রাখুক।”

    বাবা ঘরের বাইরে বেরোতেই আমার দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচাল আকিদা।

    “আমি তোমার সঙ্গে যাব,” সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম আমি। বাবা কি শুনতে পেলেন ? একবার পরদা সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আবার বেরিয়ে গেলেন দেখে আমার সন্দেহ হল। তবে আপত্তি না করলেই ঠিক আছে।

    “শোন বোড়ে, এক নম্বর কন্ডিশন হল, আমার সঙ্গে বেরেলে তুই কিন্তু বেশি কথা বলবি না। দু’নম্বর, যা করতে বলব, তার বাইরে কিছু করবি না।”

    খাবার টেবিলে বাবা জানিয়ে দিলেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্সড। পরদিন সকাল ন’টার সময় ১/২/১ বালিগঞ্জ প্লেস ইস্টে গিয়ে দেখা করতে হবে।

    রাতে ভাল করে ঘুমই হল না। পরদিন যখন ঘুম ভাঙল, তখনও সকাল হয়নি। আকিদা যা হেল্‌থ কনশাস, ঠিক মর্নিং-ওয়াকে বেরোচ্ছে। আমাকে বলল, “ঘুমিয়ে পড়, ন’টা বাজতে এখনও অনেক দেরি।”

    আমাদের বাড়ি থেকে আধঘণ্টার পথ অমিত দেববর্মনের বাড়ি। ন’টা বাজার মিনিটকয়েক আগে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম ১/২/১ বালিগঞ্জ প্লেস ইস্টে। দেখলাম আকিদা মন দিয়ে চারপাশটা দেখছে। কী দেখছে অবশ্য বুঝলাম না, আমার চোখে তেমন কিছুই পড়ল না। দুটো পুরনো বাড়ির মাঝে অনেকটা জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়িটা। তবে তফাত গড়ে দিয়েছে সামনের বাগান, অন্য বাড়ি দুটোতে এত বড় বাগান নেই। বাঁ দিকে একটা গ্যারাজ, একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। গাড়ি-বারান্দাও আছে, তার নীচে দাঁড়িয়ে আছে একটা টুকটুকে লাল মারুতি। দেখতে কিন্তু বেশ বেখাপ্পা লাগছে, অতবড় বারান্দার নীচে একটা পুঁচকে গাড়ি। হাসি পাচ্ছিল আমার। আকিদার দিকে তাকিয়ে দেখি, ও গম্ভীর মুখে ডানদিকের গেটটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বলতে ভুলে গেছি, বাড়িটার দুটো গেট, আমরা দাঁড়িয়ে আছি বাঁদিকের গেটে, ডানদিকেরটার সামনে একটা হাতে টানা রিকশা উলটে রাখা আছে। দেখে মনে হয়, ওটা কেউ ব্যবহার করে না।

    “ঘড়িটা দ্যাখ বোড়ে, ন’টা প্রায় বাজে। চল।”

    আমি এগিয়ে লোহার গেটটা ঠেললাম, খুলল না।

    “সর তো,” আকিদা একটা মৃদু চাপ দিতে ক্যাঁচ করে খুলে গেল দরজা। আমরা এগোলাম গাড়ির রাস্তার দিকে।

    আরও কাছে আসতেই ভাল করে দেখতে পেলাম। গ্যারাজে দাঁড় করানো গাড়িটা। বিরাট গাড়ি। চারটে চাকা ছাড়াও বনেটের দু’পাশে লাগানো আছে আরও দুটো। চাকায় আবার সাইকেলের চাকার মতো স্পোক লাগানো। সন্দেহ নেই, খুব পুরনো গাড়ি, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ভিনটেজ’।

    “জাগুয়ার,” চাপা গলায় বলল আকিদা।

    “কেমন করে বুঝলে ?”

    “ম্যাসকট দেখে।”

    পরে জেনেছিলাম, গাড়ির রেডিয়েটারের ঢাকনার উপর খোদাই করা স্টিলের মূর্তিটাকে বলে ম্যাসকট।

    সেমিসার্কুলার ড্রাইভওয়ে দিয়ে, লাল মারুতির পাশ কাটিয়ে, তিনটে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যখন কলিং বেল টিপছি, তখন পিঁক পিঁক করে আকিদার কোয়ার্টজ ঘড়ি জানাল যে, ন’টা বাজে। বাড়িতে ঢোকার দরজাটা কাঠের, তবে খুব একটা চকচকে নয়।

    দরজা খুললেন একজন খুব বয়স্ক দেখতে মানুষ। নভেম্বর মাসে ঠান্ডাই পড়েনি, কিন্তু তা-ও দেখলাম গলায় মাফলার জড়ানো। ইনিই কি অমিত দেববর্মন ?

    “কীসকো চাই ?”

    হিন্দি-বাংলা মেশানো অদ্ভুত প্রশ্ন। আকিদা জবাব দেওয়ার আগেই মাফলারওয়ালার পিছন থেকে শোনা গেল আর-একটা গলা।

    “আর ইউ মিস্টার ডে ?” প্রায় সাহেবদের মতো ইংরেজি উচ্চারণ। এবার দেখতে পেলাম ভদ্রলোককে। গাঢ় সবুজ পাঞ্জাবি আর সাদা পাজামা পরা, বেশ সুপুরুষ। হাতে একটা ইংরেজি পত্রিকা, পরে আকিদা বলেছিল, ওটা আমেরিকান কাগজ ‘এসকোয়ার’। চুলগুলো বেশ পাতলা, কানের পাশে সাদার ছোপ লেগে গেছে। লম্বায় প্রায় আকিদার মতোই, তবে ওর মতো স্লিম নন, বেশ ভারী চেহারা।

    আকিদা ঘাড় নাড়ায় উনি বললেন, “আই হ্যাভ টু অ্যাডমিট দ্যাট ইউ আর পাংচুয়াল। আমি অমিত দেববর্মন।”

    পরিচয়পর্ব শেষ হওয়ার পর অমিতবাবুর সঙ্গে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে আকিদা জিজ্ঞেস করল, “গ্যারাজের ভিনটেজ কারটা কি আপনার ?”

    “পাগল হলেন নাকি ? নেহাত বাবার শখের জিনিস তাই এখনও আছে, আমার হলে কবে বিদায় করে দিতাম।”

    দোতলায় উঠেই একটা ছোট ল্যান্ডিং। তার পাশেই একটা ঘর। যদিও সেটার দরজা খোলা, সামনে পুরু পরদা ঝোলানো। ঘরটার সামনে দাঁড়িয়ে অমিতবাবু হাত বাড়িয়ে বললেন, “প্লিজ, বাবা আপনাদের এক্সপেক্ট করছেন।”

    ঘরে ঢুকেই চোখ চলে যাবে দেওয়ালে। দাঁত খিঁচিয়ে থাকা নেপালি মুখোশ, সিল্কের কাপড়ের উপর সুন্দর একটা বুদ্ধের মুখ, রংবেরঙের পাথর বসানো নকশা কাটা ছোরা, ছুঁচলো মুখওয়ালা দুটো বর্শা, বহু পুরনো কলকাতার ম্যাপ— আরও নানা হিজিবিজি জিনিসে বোঝাই দেওয়ালটা। তার ঠিক নীচে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। সাদা পাঞ্জাবি- পাজামার উপর খুব দামি সিল্কের কাপড়ের রংচঙে একটা কিমোনো পরা বয়স্ক মানুষটি একটা ইংরেজি খবরের কাগজ পড়ছিলেন।

    অমিতবাবু এগিয়ে গেলেন, “ইনি মিস্টার দে। তোমাকে কিছু সাহায্য করতে পারেন— হয়তো।”

    প্রতিনমস্কার করে আকিদা আমার পরিচয়টাও দিল।

    বেশ মন দিয়ে শুনে ভদ্রলোক মুখ খুললেন। গলার আওয়াজটা বেশ খোনা। “আমি শ্যামসুন্দর দেববর্মন। তোমাকে তুমিই বলি, কেমন ?”

    “নিশ্চয়ই।”

    আমার চোখ সরছিল না বর্শা দুটো থেকে। সেটা লক্ষ করেই বোধহয় ভদ্রলোক বললেন, “১৮৫৭-র জিনিস, লখনউতে প্রথম যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল।”

    “আপনার কালেকশন ?” জিজ্ঞেস করল আকিদা।

    “হ্যাঁ, এ বাড়িতে যা-কিছু পুরনো জিনিস দেখবে, সব আমারই। এটা আমার হবি।”

    অমিতবাবু বললেন, “বাবা, তুমি কথা বলো, আমি এঁদের চায়ের ব্যবস্থাটা দেখি।”

    “ওই ছবিটা রেমব্রান্টের নয় ?” দেওয়ালে টাঙানো আঁকাটা দেখিয়ে বলল আকিদা।

    এই একটা প্রশ্নে ভদ্রলোকের চোখের চাউনিটা পালটে গেল, মনে হল ভদ্রলোক যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এক ঝটকায়।

    “ঠিক ধরেছ ভাই, রিটার্ন অব দ্য প্রডিগাল সান। ষোলোশো পঁয়ষট্টি সালে আঁকা।”

    “ওটাতে যে সইটা আছে, সেটা জাল এবং পরে ধরা পড়েছিল, জানেন তো ?” আকিদা জিজ্ঞেস করল।

    ভদ্রলোকের দৃষ্টি উদ্ভাসিত, “তাই নাকি ?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ।”

    “তোমার যে এ ব্যাপারে ইন্টারেস্ট আছে, সেটা জেনে ভাল লাগল। এনিওয়ে, যে জন্য এসেছ, সেটা বলি। দ্যাখো ভাই, আমার যে পুরনো জিনিস সংগ্রহের বাতিক আছে সেটা তো বুঝতেই পারছ, এ ছাড়াও একটা ব্যাপার আছে। আমি বিশ্বাস করি যে, এই প্রত্যেকটা জিনিসের সঙ্গে আমার উত্থান-পতন জড়িয়ে আছে।”

    আকিদা চোখের পাতা না ফেলে তাকিয়ে আছে ভদ্রলোকের দিকে।

    “আমার এই বিশ্বাস আমার একমাত্র সম্বল। আমার কালেকশনের কোনও ক্ষতি মানেই এই বিশ্বাসের মূলে আঘাত করা। তাই ব্যাপারটা আমি সহজভাবে নিতে পারছি না কিছুতেই।”

    ঘরে একটা থমথমে ভাব।

    “চুরি, অথচ চুরি নয়,” আপন মনে বললেন শ্যামসুন্দর দেববর্মন, “পুরোটা গেলেও বুঝতাম, কিন্তু এটা ঠিক বুঝতে পারছি না।”

    বেশ কষ্ট করেই নিজের ডান হাতটা তুলে দেওয়ালের একটা বিশেষ দিকে পয়েন্ট করলেন ভদ্রলোক।

    এতক্ষণ খেয়াল করিনি, যে দেওয়ালে বর্শা টাঙানো ছিল সেখানেই পারপেন্ডিকুলার অবস্থায় একটা কাঠের র‍্যাক রাখা রয়েছে। সেই তাকে অনেক মূর্তি রাখা রয়েছে। এক চান্সেই চিনতে পারলাম হাত ভাঙা ভেনাসের মূর্তিটা। ঠিক পাশেই রয়েছে আরেকটা মার্বেলের মূর্তি, এটারও হাত ভাঙা এবং দুটোর হাইট প্রায় এক, দেড়-দু’ফুট হবে।

    “ইংরেজিতে মার্কারি, ল্যাটিনে মারকিউরিয়াস। ইনি রোমানদের ব্যাবসা-বাণিজ্যের দেবতা। গ্রিক পুরাণেও এঁর কথা আছে, তবে নাম পালটে হয়ে গেছে হার্মাস। আমি নাম দিয়েছি উড়ন্ত দেবতা।” এক নিশ্বাসে বলে চলেছেন শ্যামসুন্দরবাবু, “এই মূর্তির একটা বিশেষত্ব আছে— মানে ছিল। এর যে ডান হাত, সেটা আগে ভাঙা ছিল না, এর হাতে ছিল একটা ছোট্ট পার্স। এরকম মূর্তি আর পাওয়া যায় না মি. দে, অত্যন্ত রেয়ার। বেশির ভাগ মূর্তিতে ডান হাতটা খালি থাকে। কিন্তু এটা অন্যরকম। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আমি এই মূর্তি জোগাড় করেছিলাম। ইন ফ্যাক্ট, এই বাড়িটাও কিনি মূর্তিটা কেনার পর। কিন্তু আজ এই হাত আর পার্স মনে হচ্ছে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।”

    খুব মন দিয়ে আকিদা আর আমি মূর্তিটা দেখছিলাম। মাথা ভরতি কোঁকড়া চুল, তার বেশিরভাগটাই একটা টুপি দিয়ে ঢাকা। টুপিতে দুটো পাখির পালক লাগানো, আর সেই পালকের কাজও দেখার মতো। একই পালক লাগানো রয়েছে পায়ের চটিতেও। দেখলেই মনে হয়, আকাশে উড়ছে। বাঁ হাতে একটা লাঠি, তার দু’ধারে মুখোমুখি দুটো সাপ প্যাঁচানো, সবচেয়ে উপরে আরও দুটো পাখির পালক। ডান হাতের কনুইয়ের তলা থেকে কিছু নেই।

    অমিতবাবু ঘরে ঢুকলেন চা এবং টা নিয়ে জিনিসগুলো বয়ে নিয়ে এসেছে আগে দেখা সেই মাফলারওয়ালা মানুষটি। আমার চোখে পড়ল, বয়স্ক লোকটি অদ্ভুতভাবে মূর্তিটার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর ছেড়ে।

    “ব্যাপারটা লক্ষ করলেন কবে ?” চায়ে প্রথম চুমুকটা দিয়ে জিজ্ঞেস করল আকিদা।

    “কুড়ি তারিখে। আমিই প্রথম দেখি। আগের রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। তখনও হাতটা ঠিকঠাক ছিল, আমি দেখেছি। সকালে দেখি ভেঙে গেছে।”

    “তারপর ?”

    “তারপর অমিকে বলি, কাজের লোকজনকে জিজ্ঞেস করি, তারপর পুলিশে খবর দিই। তাঁরা এসে জেরাটেরা করে জানালেন, মূর্তিটা কারও হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেছে।” বিরক্ত গলায় বললেন শ্যামসুন্দর দেববর্মন।

    “বাড়িতে আর কে কে থাকেন ?”

    এ বার উত্তর দিলেন অমিতবাবু, “আমি, বাবা ছাড়া আমার ড্রাইভার জগদীশ আর মিশ্রিলাল। ঘর ঝাড়ার জন্য আছে একটা ঠিকে লোক।”

    “এরা কি বিশ্বাসী ?”

    “দ্যাখো ভাই, আজকের দিনে কাকে যে বিশ্বাস করব, আর কাকে করব না, তা ঠিক করতেই সময় লাগে। তবে জগদীশ বছর পাঁচেক কাজ করছে, আর মিশ্রি অমিতের আট বছর বয়স থেকে। ঠিকে লোকটিও কাজ করছে বছরখানেক।”

    “ঠিক আগের দিন, উনিশ তারিখে কেউ এসেছিল নাকি আপনার কাছে ?”

    “নাহ্‌।”

    তাকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল আকিদা, আমিও পিছন পিছন হাজির হলাম। ভেনাস আর মার্কারির মূর্তি ছাড়াও রয়েছে লাফিং বুদ্ধ, আধশোয়া গণপতি আর মাইকেল এঞ্জেলোর ‘পিয়েটা’। তার পাশেই রয়েছে অদ্ভুত দেখতে একটা কাঠের মূর্তি। মুখটা বেশ হাসি হাসি, মাথায় মন্দিরের চূড়োর মতো টুপি, হাত দুটো বুকের উপর রাখা, থুতনি থেকে ঝুলছে পাকানো দাড়ি। অন্য মূর্তিগুলোর মতো এটাও একটা গোল চাকতির উপর বসানো।

    “এটি কে ?” জিজ্ঞেস করল আকিদা।

    “ওসিরিস, প্রাচীন মিশরীয়দের মতে, মৃত মানুষের দেবতা।”

    “আপনার কাজের লোক মন দিয়ে ডাস্টিং করছে না কিন্তু।”

    আমি ঝট করে ঘুরে তাকালাম আকিদার দিকে। শ্যামসুন্দরবাবু বসতে যাচ্ছিলেন চেয়ারে, ধপাস করে একটা আওয়াজ পেলাম। অমিতবাবু কাউকে উদ্দেশ না করেই, “আমি নিজের ঘরে আছি,” বলে বেরিয়ে গেলেন।

    “ওগুলো আমিই ঝাড়ি,” গলায় ঝাঁঝ এবং বিদ্রুপ মিশে রয়েছে, জবাব এল শ্যামসুন্দরের কাছ থেকে। “কাজের লোকের হাতে ছাড়ি না। অনেকদিন অবিশ্যি ঝাড়িনি, আর এ ঘটনার পর তো হাতই দিইনি।”

    “আপনার বাড়িতে খুব ধুলো হয় ?”

    “কলকাতা শহরের কোন বাড়িতে ধুলো হয় না ? এই ঘরে তো তাও ধুলো কম, শোয়ার ঘরের জন্য বেঁচে গেছে।”

    “শোয়ার ঘরটা একবার দেখা যায় ?”

    “অবশ্যই।”

    আমরা ডানদিকের ঘরটায় গিয়ে ঢুকলাম। এই ঘরে তিনটে খোলা জানলা দিয়ে প্রচুর আলো-বাতাস আসছে। দেখার তেমন কিছু আছে বলে মনে হল না আমার। পূর্বদিকের জানলার পাশে বড় খাট, তার পাশেই পড়ার টেবিল। সেখানে ডাঁই করে রাখা আছে কিছু পত্রপত্রিকা। বইয়ের আলমারি আর একটা স্টিলের আলমারি রয়েছে ঘরের অন্যদিকে।

    “অমিতবাবুর ঘরটা দেখা যাবে একবার ?”

    “কেন নয় ? যাও-না।”

    আবার মূর্তির ঘরে ঢুকে এবার বাঁদিকে গেলাম। অমিতবাবু ঘরেই ছিলেন। দু’-একটা মামুলি কথাবার্তা বলার পর নিজে থেকেই বললেন, “বাবা যাই বলুন না কেন, আমার মনে হয় এটা কমলার কীর্তি। ওরই অসাবধানতায় কোনওভাবে পড়ে গিয়ে মুর্তিটা ভেঙেছে।”

    বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে ওঁর কথা শোনার পর কথা বলল আকিদা, “আপনি কোথায় আছেন ?”

    “আমার ব্যাবসা আছে, গাড়ির ব্যাটারির। বাবা শুরু করেছিলেন, এখন আমি দেখি। তবে এই কম্পিটিশনের যুগে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাবছি ডাইভার্সিফাই করব।”

    “তাই ?”

    “আসলে কী জানেন,” একটা সোফায় আয়েশ করে বসলেন অমিতবাবু, “বাবা খুব ভেঙে পড়েছেন। এতটাই, যে বাড়িটা ছেড়ে দিতে চাইছেন। ওঁর মতে মূর্তিটা খুব পয়া, এইটা ভেঙে যাওয়ার পর বাবা খুব আপসেট হয়ে পড়েছেন।”

    “আপনার মা ?”

    “মারা গেছেন বছর দশেক আগে।”

    “অন্য কোনও ভাই-বোন ?”

    “নাঃ, আই অ্যাম দি ওনলি অফস্প্রিং।”

    অমিতবাবুর ঘরটা ওঁর বাবার মতোই। তফাত হল এই ঘরে কোনও বইয়ের আলমারি নেই, আছে একটা টিভি, আর তার পাশেই রংচঙে ছবিওয়ালা একটা তাসের বই।

    আবার মুখ খুলল আকিদা, “আপনার অফিস কোথায় ?”

    “ফোর বি, লিটল রাসেল স্ট্রিটে। আচ্ছা, আপনার কী মনে হচ্ছে বলুন তো ? কে করতে পারে কাজটা ?”

    মুচকি হাসল আকিদা, “এখনও বলার সময় হয়নি।”

    ভদ্রলোক বোধহয় এরকম একটা উত্তরের আশা একেবারেই করেননি।

    “সেদিন, মানে উনিশ তারিখ রাতে আপনি কোথায় ছিলেন, অমিতবাবু ?”

    “কোথায় আবার, বাড়িতেই ছিলাম। তবে, ফিরতে রাত হয়েছিল। একটা পার্টি ছিল ক্যালকাটা ক্লাবে। রাত হবে বলেই জগদীশকেও ছুটি দিয়েছিলাম।”

    “কিছু আনইউজুয়াল চোখে পড়েছিল আপনার ?”

    “নাঃ।”

    “মূর্তিগুলোর দিকে চোখ যায়নি নিশ্চয়ই ?”

    “না, জানব কেমন করে কেউ ভেঙে রাখবে ?”

    “সকালে কিছু চোখে পড়েনি আপনার ?”

    মাথা নেড়ে না বললেন অমিতবাবু।

    “তবে কি জানেন,” কিছুক্ষণ ভেবে বললেন অমিতবাবু, “আপনি বলাতে এখন আমার মনে হচ্ছে, সেদিন, মানে কুড়ি তারিখে কমলা বেশ দেরিতে কাজে এসেছিল। তালেগোলে সেটা আর খেয়াল হয়নি।”

    “আর ?”

    “আর… আর,” ভদ্রলোক অন্যমনস্ক হয়ে মাথা চুলকোচ্ছেন।

    কিছুক্ষণ পরে ভদ্রলোক ফাইনালি মাথা নাড়লেন, “নাঃ, নাথিং।”

    “ঠিক আছে। আজ উঠি।”

    “উঠবেন ? বেশ। আমি জগদীশকে বলছি আপনাদের ছেড়ে আসতে।”

    ব্যস্তভাবে বেরিয়ে গেলেন অমিতবাবু। ওঁর বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন আমরা নীচে নামছি, তখন দেখলাম মিশ্রিলালও দরজার কাছে চলে এসেছে। আমি গাড়ি-বারান্দায় নেমে দেখি, আকিদা নেই। কোথায় গেল ? এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি, মিশ্রিলালের সঙ্গে কথা বলছে।

    “জগদীশ” ড্রাইভারকে ডেকে বললেন অমিতবাবু, “তুমি এঁদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে এসো, আমি রোজের মতোই এগারোটায় বেরোব অফিসে।”

    ড্রাইভারটি বেশ অল্পবয়সি। কেন জানি না, দেখলে মনে হয়, কলকাতার ট্রাফিক ভালই সামলাতে পারে।

    আকিদাও চলে এল।

    “আসুন তা হলে,” গাড়ির দরজা খুলে বললেন অমিতবাবু।

    ধন্যবাদ জানিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম আমি আর আকিদা। পিছনের সিটে বসে পরপর ভাবার চেষ্টা করছিলাম আজকের ঘটনাগুলো। আকিদা ড্রাইভারের পাশে মাথা নিচু করে বসে।

    “উনিশ তারিখ রাতে তুমি কোথায় ছিলে ভাই ?” হঠাৎ জিজ্ঞেস করল আকিদা।

    “উনিশ… আমি স্যার… সেদিন তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিলাম স্যার। ছোটসাহেব নিজেই ছুটি দিয়েছিলেন আমায়।” প্রথম চমকের ভাবটা কেটে যাওয়ার পর গড়গড় করে বলে গেল জগদীশ।

    বাড়ি থেকে রাস্তায় গাড়িটা পড়তেই আকিদা জিজ্ঞেস করল, “এটা এখানে কেন ?”

    “কোনটা স্যার ?”

    উঁকি মেরে দেখলাম, নিজের পায়ের কাছে পড়ে থাকা একটা জিনিসের দিকে আঙুল দেখাচ্ছে আকিদা। দেখলে মনে হয় বেশ ভারী, অনেকটা ‘দ’-এর মতো দেখতে।

    গাড়ির স্পিড কমিয়ে বাঁদিক ঘেঁষে চলল জগদীশ। আর খুব অবাক হয়ে বলল, “তাই বলি, বড় গাড়ির হ্যান্ডেলটা গেল কোথায় ?”

    “বড় গাড়ি মানে ? জাগুয়ার ?”

    “হ্যাঁ স্যার। স্টার্টই দিতে পারিনি গত তিনদিন। মিশ্রিকে দিয়ে হ্যান্ডেল মারাতে পারিনি বলে গাড়িটা বসেই আছে।”

    “এতদিন এখানে পড়ে আছে, আর তোমার চোখে পড়েনি ?”

    “ছিল না তো, কাল অবধি ছিল না। আমি সিওর।” জগদীশ কনফিডেন্ট।

    আবার পিক আপ নিয়েছে লাল মারুতি।

    গড়িয়াহাটের জ্যামে গাড়ি আটকে পড়তেই আকিদা হঠাৎ বলল, “আমাদের এখানেই নামিয়ে দাও জগদীশ।”

    অবাক হয়ে গেলাম। আমাদের বাড়ি তো এখান থেকে বেশ দূরে। যাই হোক, পিছন পিছন আমিও নেমে পড়লাম।

    উলটো দিকে আকিদাকে হাঁটতে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম।

    “বাড়ি যাবে না ?”

    “না, ভাবব।”

    এ আবার কী ? এখন ভাবতে আবার কোথায় যাবে ? দেখলাম ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে থাকা একটা ফাঁকা ট্রামে এক লাফে উঠে পড়ল আকিদা। অগত্যা আমিও উঠলাম। ঘড়াং ঘড়াং করে ট্রামটা চলতে আরম্ভ করল রাসবিহারী ধরে।

    আমরা বাড়ি ফিরেছি দুপুরের মধ্যেই, তারপর থেকে আকিদাকে দেখে মনে হচ্ছে না কোনও টেনশনে আছে বা কিছু ভাবছে। দিব্যি খাচ্ছেদাচ্ছে, ‘দ্য গ্রেট ট্রেন রবারি’ ছবিটার সিডি চালিয়ে দেখছে। আমার কিন্তু চিন্তা হচ্ছে। দু’-একবার খোঁচা মারতে গিয়ে বকুনি খেয়ে ফিরে এসেছি। সন্ধের দিকে ইন্টারনেট খুলে বসল। পিছন থেকে উঁকি মেরে দেখলাম সাইটটা মাইথোলজির।

    সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম, “কিছু ধরতে পারলে ?”

    “মনে হচ্ছে পারছি। এই, তুই এখনও পড়তে বসিসনি ? যা, পালা শিগগির।”

    “শুধু একটা কথা বলো, এটা চুরি, না অ্যাকসিডেন্ট ?”

    “কোনওটাই নয়। জেনে-বুঝে মূর্তিটা ভাঙা হয়েছে।”

    “তাই ? তা হলে…”

    “নো মোর বকবক। যাও, পড়তে যাও।”

    রাতে শোয়ার সময় আকিদা বলল, পরদিন সকালে ব্রেকফাস্টের পর আর একবার বালিগঞ্জ প্লেসে যেতে হবে।

    আজও ঢোকার সময় দরজা খুলে দিল মিশ্রিলাল। অবাক হয়ে দেখলাম, আকিদাকে পেল্লায় একটা সেলাম ঠুকল ও।

    আকিদাকে দেখে শ্যামসুন্দরবাবু বেশ উত্তেজিত, জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু এগোলে নাকি ?”

    “বাইরে অমিতবাবুর গাড়িটা দেখলাম না, উনি নেই ?”

    আকিদার পালটা প্রশ্নে মনে হল ভদ্রলোক ঝিমিয়ে পড়লেন। নিরুৎসাহ গলায় বললেন, নাঃ, ও রবিবার এই সময় বন্ধুর বাড়ি যায়।”

    “আসলে, আপনার কালেকশনের মূর্তিগুলো আর একবার দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না।”

    “তা দ্যাখো। তবে এসবে আমার ইন্টারেস্ট কমে যাচ্ছে।” খবরের কাগজ তুলে নিলেন ভদ্রলোক।

    মৃর্তির র‍্যাকটার দিকে এগিয়ে গেল আকিদা। তারপর যেটা ঘটল, তার জন্য আদৌ তৈরি ছিলাম না আমি। একটা অস্ফুট আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখি, আকিদার মুখে যন্ত্রণার ছাপ, ওর শরীরটা বেঁকে মাটিতে পড়ছে।

    রেগুলার ওয়ার্ক আউট করা আকিদাকে কখনও অসুস্থ হতে দেখিনি। শ্যামসুন্দরবাবুর চিৎকার শুনতে পেলাম, “কী হল ? কী করে ?”

    আকিদা কোনওরকমে বলল, “জল।”

    “এসো তো আমার সঙ্গে,” বলে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন শ্যামসুন্দরবাবু। ওঁর পিছনে ছুটলাম আমিও। কাল মাঝরাতে একবার ঘুম ভেঙেছিল, তখনও কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে দেখেছি আকিদাকে। কাজের চাপ সামলাতে না পেরেই কি অসুস্থ হয়ে পড়ল ?

    “কাউকে পাওয়া যায় না এই সময়ে, কাজের লোকগুলো সব হাঁ করে টিভি সিরিয়াল দ্যাখে। বরফ বার করতে পারবে তুমি ?” রেফ্রিজারেটরের দরজা খুলে দিয়ে ভদ্রলোক নিজেই গ্লাসে জল ঢালছেন। হ্যাঁচকা টানে আইস ট্রে থেকে দুটো বরফ ভেঙে নিয়ে গ্লাস হাতে ঘরের দিকে ছুটলাম।

    কষ্ট করে উঠে বসেছে আকিদা। লক্ষ করলাম, হাঁপাচ্ছে।

    “সরি,” খুব কষ্ট করে বলল আকিদা, “আসলে আমি নিজেও ঠিক বুঝতে পারিনি…”

    ব্যস্তভাবে থামিয়ে দিলেন শ্যামসুন্দর দেববর্মন, “এতে সরি ফিল করার কী আছে ? চুপ করে বসো প্লিজ। জলটা খাও। তবে, তোমার ভাই না থাকলে মুশকিলে পড়তাম।”

    উঠে দাঁড়াল আকিদা, “আজ আর আপনাকে ডিস্টার্ব করব না, উঠি।”

    বুঝতে পারলাম, মক্কেলের বাড়ি এসে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রীতিমতো খারাপ লাগছে আকিদার।

    “এগোবে ? জগদীশও নেই যে, বলব তোমাদের একটু এগিয়ে দিতে। যাই হোক, তুমি কিন্তু এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা বন্ধ করে রেস্ট নাও ভাল করে। শরীরটা আগে।”

    “কিছু চিন্তা করবেন না, উই ক্যান ম্যানেজ।”

    “এখন কেমন লাগছে ?” ট্যাক্সিতে উঠে জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    “ফাইন। শোন বোড়ে, মামা-মাইমাকে কিছু জানাবার দরকার নেই। বুঝলি ?”

    যদিও পছন্দ হল না কথাটা, কিন্তু ঘাড় নেড়ে সায় দিলাম।

    “তুই কাল কখন স্কুল থেকে ফিরবি রে ?”

    “অ্যাঁ ?” আচমকা প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলাম। তারপরেই মনে হল, তা হলে কি মিষ্ট্রি সল্‌ভ হতে চলেছে ?

    “তিনটে !” চেঁচিয়ে উঠলাম, “আমার ক্রিকেট প্র্যাকটিস আছে, বাদ দিই কাল ?”

    “হুম,” কিছুক্ষণ ভেবে আকিদা বলল, “নাঃ, সেরেই আয়। তারপর…”

    “তারপর কী ?”

    “তারপর মূর্তি, হ্যান্ডেল, মিশ্রিলালের সেলাম সব মিলিয়ে দেব।” ট্যাক্সির জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল আকিদা। খানিক পরে বলল, “আসল রহস্য কিন্তু পালিয়ে বেড়াচ্ছে, মূর্তি চুরিটা উপসর্গমাত্র।”

    মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না।

    স্কুলে মন বসছিল না সোমবার— না পড়ায়, না ক্রিকেটে। আজ থেকেই আবার একটা এক্সট্রা প্র্যাকটিস সেশন শুরু হল।

    হুড়মুড় করে এসেও সাড়ে চারটের আগে ঢুকতে পারলাম না বাড়িতে।

    ঢুকেই ধমক।

    “লেট করিস কেন ? চটপট কর, সাড়ে পাঁচটায় বালিগঞ্জ প্লেসে পৌঁছতে হবে আমাদের।”

    তৈরি হতে আমার পনেরো মিনিট লাগল। কেন যাচ্ছি জানি না, সমাধানের কতদূর, সে সম্পর্কেও কোনও আইডিয়া নেই। আকিদার মাথা ঘুরে যাওয়ার পর থেকে আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহসও পাচ্ছি না।

    আকিদা বারবার ঘড়ি দেখছে। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে পাঁচটা বাজে, এত ঘড়ি দেখার কারণ বুঝতে পারছি না। বেশ শীত শীত করছে। আজ সন্ধে নেমেছে তাড়াতাড়ি, গরম জামা পরেও আসিনি। আজ গাড়ি-বারান্দায় লাল মারুতি আছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় দেখলাম, মিশ্রির সঙ্গে কথা বলছে আকিদা।

    শ্যামসুন্দরবাবু আমাদের দেখে ম্লান হাসলেন। আবার ঘড়ি দেখল আকিদা। পাশের ঘর থেকে আমাদের আওয়াজ পেয়ে অমিতবাবু এলেন এ ঘরে।

    “ব্যাপার কী ?”

    অমিতবাবুর গলায় ঠাট্টার সুরটা খট করে আমার কানে লাগল।

    “তা, এগোলেন নাকি কিছু ভেবেটেবে ?”

    “আজ কেমন আছ ভাই ?”

    দুটো প্রশ্ন একসঙ্গে এল। আকিদা দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটাই আগে দিল, শ্যামসুন্দরবাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাল।”

    “তারপর ?” বেশ মেজাজ নিয়েই বললেন অমিতবাবু, “ভাঙা হাতটা পেলেন নাকি ?”

    আকিদার জবাবটাও এল বুলেটের মতো, ছোট্ট করে বলল, “হ্যাঁ, এই তো, এই যে।”

    তাকিয়ে দেখলাম ওর ডান হাতে মার্কারির ভাঙা অংশ, তাতে একটা ছোট্ট পার্স।

    অমিতবাবুর অবস্থাটা যে ঠিক কেমন সেটা লিখে বোঝানো অসম্ভব। উনি প্রশ্নটা করে বেশ একটা কিস্তিমাতের ভাব নিয়ে বসতে যাচ্ছিলেন চেয়ারে, কিন্তু বসা আর হল না, দাঁড়িয়েই রইলেন। শ্যামসুন্দরবাবু উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার ছেড়ে। ঘরের মধ্যে অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য, বাবা-ছেলে দু’জনেই নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে।

    “চেনেন তো ?” আকিদার গলা থমথমে পরিবেশটাকে ভাঙার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

    হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পাওয়ার অনাবিল আনন্দ দেখতে পাচ্ছিলাম শ্যামসুন্দরবাবুর চোখে-মুখে। অমিতবাবুর মুখে অবাক হওয়ার সঙ্গে মিশে আছে বোকা বনে যাওয়ার ভাব।

    আকিদা মার্কারির মূর্তির দিকে এগিয়ে গেল। ভাঙা অংশটা দিব্যি বসে গেল মার্কারির হাতে।

    “ফেভিকল দিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন,” বলল আকিদা, “চান্স আছে লেগে যাওয়ার।”

    আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। ম্যাজিক হল নাকি ?

    ঘরের নিস্তব্ধ ভাবটা কেটে গেছে। সকলে একসঙ্গে কথা বলছেন। শ্যামসুন্দরবাবু জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি পেলে কী করে এটা ?” অমিতবাবু আস্ফালন করছেন, “হাতটা কে দিল আপনাকে ? বলুন নামটা, এখনি ধরব তাকে গিয়ে।”

    আকিদা কিছু বলার আগেই সিঁড়ি দিয়ে কারও উঠে আসার শব্দ পাওয়া গেল। যিনি উপরে উঠছেন তাঁর যে বেশ অসুবিধে হচ্ছে উঠতে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    ভদ্রলোক ঘরে ঢুকতেই বুঝলাম, আমি ঠিকই আন্দাজ করেছি। যিনি ঘরে ঢুকলেন, তিনি বিশাল ভুঁড়িওয়ালা এক অবাঙালি, তাঁর মাথাজোড়া টাক এবং মুখে বিজয়ীর হাসি।

    “দেখো আমিত, তুমনে বুলায়া ঔর হম চলে আয়ে— হা হা হা।”

    হিন্দি গানের সুরের নকল করে বেসুরো একটা গলা— যাঁকে বলা তিনি হাসা তো দূরের কথা, কথা বলার অবস্থাতেও নেই। হাঁ করে তাকিয়ে আছেন আগন্তুকের দিকে।

    বিস্ময়ের প্রথম ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠে অমিতবাবু বললেন, “তুমি এখানে ?”

    “কিউ ?” ভুঁরু উঁচিয়ে বললেন আগন্তুক, “তুমার নতুন সেক্রেটারি হামকো ফোন করকে বোলা কি তুমি আমার সাথে সাড়ে পাঁচ বাজে মিট কোরবে। ইসি লিয়ে হম আ গয়ে।”

    “আমার নতুন সেক্রেটারি !” আকাশ থেকে পড়লেন অমিতবাবু।

    “আমি বলছি,” গম্ভীর গলায় বলল আকিদা। ও এখনও মার্কারির মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে, চোখ শ্যামসুন্দরবাবুর দিকে।

    তাঁকে বলল, “আপনি কি জানেন, রমেশ কারনানির সঙ্গে প্রোমোটিং-এর ব্যবসায় নেমেছেন অমিতবাবু ?”

    “কই না তো। জানি না।”

    আকিদা কিছু বলার আগেই খুব অবাক হয়ে রমেশ কারনানি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমনে পিতাজিকো কুছ বতায়া নেহি ? তাজ্জব কী বাত।”

    “আজ সকাল দশটা নাগাদ রমেশবাবুর অফিসে গিয়েছিলাম আমি। ওনার সঙ্গে আলাদা বসে ব্যাপারটা মিটিয়ে নিতে চেয়েছিলাম আমি। তা ছাড়া মোটিভটা না জানলে অঙ্কটা কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না।”

    “মানে ? কী ভেবেছ তুমি ?” এক ধাক্কায় আপনি থেকে তুমিতে নেমে এলেন অমিতবাবু, “আমাকে অপরাধী বানাচ্ছ ? সাহস তো কম নয় তোমার ?”

    অমিতবাবুকে অগ্রাহ্য করে বলে চলল আকিদা, “গিয়ে দেখি উনি আসেননি। তবে, রমেশজি অপেক্ষা করছেন ওঁর জন্য। সুযোগটাকে কাজে লাগালাম আমি। পরিচয় দিলাম অমিতবাবুর নতুন সেক্রেটারি হিসেবে, এবং জানতে পারলাম যে…”

    “যে কী ?” শ্যামসুন্দরবাবুর গলা ব্যগ্র।

    “রমেশজি আপনিই বলুন, অমিতবাবু কী বলেছিলেন আপনাকে ?”

    “আমিত কহিয়েছিল কী যে, বাড়ি ভাঙার বেপারে উসকা লাস্ট অবস্টিকল, মানে বাধা—ইয়ানে কি উহার বাবাকে উ রাজি করিয়ে আনিয়েসে। হামি তো ফাইনাল টক করার জন্য আসিয়েছি। ফাদার কে ওয়াস্তে সহি করার কাগজ ভি আছে হমার কাছে।” গর্বের সঙ্গে শেষ করলেন রমেশ কারনানি। ঘরে সবাই চুপ।

    “বাকিটা আমি বলি। অমিতবাবুর ব্যাবসা ভাল যাচ্ছিল না কিছুদিন ধরে।”

    “ওর চিরকালই কোনও দিকে মন নেই,” আক্ষেপের সুর স্পষ্ট শ্যামসুন্দরবাবুর গলায়।

    আবার শুরু করল আকিদা, “উনি নিজেই আমাকে বলেছিলেন যে ডাইভার্সিফাই করতে চান, তবে কোন ফিল্ডে, সেটা বলেননি। এত বড় বাড়িটা ভেঙে ফ্ল্যাট বানাতে পারলে দু’পয়সা আসত ঠিকই, কিন্তু বাদ সাধলেন ওঁর বাবা। তিনি কিছুতেই এ বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না। অমিতবাবু জানতেন যে মার্কারির মূর্তির সঙ্গে বাড়িটার ভালমন্দের যোগ আছে বলে মনে করেন ওঁর বাবা। এই অ্যাকিলিস হিলেই তাই আঘাতটা করলেন। উনিশ তারিখ রাতে ক্লাব থেকে ফিরে জাগুয়ারের হ্যান্ডেল দিয়ে…”

    “টোটাল কক অ্যান্ড বুল স্টোরি। আগাগোড়া মিথ্যে। প্রমাণ করতে পারবে কিছু ?” চেঁচিয়ে উঠলেন অমিতবাবু।

    “আমাদের জন্য চা আনার নাম করে সেদিন আপনি কোথায় গিয়েছিলেন বলবেন কি ?” বরফের মতো ঠান্ডা আকিদার গলা। “বোধহয় জানতেন না যে, আমাদের উপস্থিতি আপনার কাছে এতটা পীড়াদায়ক হয়ে উঠবে, তাই না ? তাই নিজের ঘর থেকে জাগুয়ারের হ্যান্ডেলটা বার করে আর কোনও জায়গা না পেয়ে লুকিয়ে রাখলেন মারুতিতে, ভাবলেন আমার চোখে পড়বে না ? আসলে আপনার উদ্দেশ্য ছিল এক ঢিলে দুটো পাখি মারা, বাড়িটা ভাঙবেন আর গাড়িটাকে বিদায় করবেন। বেশ কয়েকদিন স্টার্ট না নিলেই গাড়িটা অকেজো হয়ে যাবে, তাই হ্যান্ডেলটা সরিয়ে রাখাই যথেষ্ট। কিন্তু…”

    “আবার মিথ্যে বলছ তুমি। তোমাকে আমি…”

    “মিশ্রিলাল,” আকিদা যে এত উঁচু গলায় কথা বলতে পারে, আমি জানতাম না। রমেশজিকেও দেখলাম আকিদার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন।

    মাফলার জড়ানো মিশ্রিলাল এসে ঢুকল ঘরে।

    “সেদিন অমিতবাবু আমাদের জন্য চা করতে বলেছিলেন তোমাকে ?” প্রশ্ন করল আকিদা।

    “নেহি সাব, ম্যায়নে খুদ বনায়া,” জবাব দিল মিশ্রিলাল।

    “আর উনিশ তারিখ রাতে তুমি কী শুনেছিলে বলবে আমাদের ?”

    “হামি কুছু তোড়বার আওয়াজ শুনেছিলাম সাব। ফির ম্যায়নে দেখা কে বহুত দের তক ছোটবাবুর রুমমে বাত্তি জ্বলছিল।”

    “কুড়ি তারিখে কমলা সময়মতো কাজে এসেছিল ?”

    “জরুর সাব।”

    “নির্দোষ কমলার ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছিলেন আপনি।” আকিদা ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রয়েছে অমিতবাবুর দিকে।

    থপ করে একটা আওয়াজ, রমেশ কারনানি বসে পড়েছেন।

    “তুমি এসো মিশ্রিলাল।” মিশ্রি আর এক দফা সেলাম ঠুকে বেরিয়ে গেল ঘর ছেড়ে।

    রমেশজির দিকে ফিরল আকিদা। নরম গলায় বলল, “আপনি কি বুঝতে পারছেন যে, এই বাড়িটা ভাঙলে মার্কেটে আপনার গুডউইল নষ্ট হবে ? আপনি কি সেটা চান ?”

    একটা কথাতেই খচমচ করে উঠে দাঁড়ালেন রমেশ কারনানি।

    “আরে নেহি, নেহি। এক মকানকে লিয়ে মার্কেটমে কৌন আপনা নাম ডুবায়গা ভাই ? আমি তোবে…”

    “হ্যাঁ, আসুন।” গৃহকর্তারা কিছু বলবার মতো অবস্থায় ছিলেন না বলে আকিদাই বিদায় দিল রমেশ কারনানিকে।

    “অমিত কোথায় রেখেছিল ওটা ?”বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে থাকার পর মুখ খুললেন শ্যামসুন্দরবাবু।

    “ইচ্ছে করলেই ওটা ফেলে দিতে পারতেন অমিতবাবু, তাতে অনেক ঝামেলা এড়ানো যেত। কিন্তু আপনার ছেলেও বিশ্বাস করেন আপনার মতো। বাড়িটার ভালমন্দের সঙ্গে মার্কারির মূর্তিটাকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন উনি নিজেও। তাই, ভাঙা হাতটা না ফেলে ওসিরিসের মূর্তির মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন ওটা। ওসিরিস সম্পর্কিত প্রবাদ বলে, মৃত মানুষের মধ্যেও প্রাণসঞ্চার করতে পারেন এই দেবতা। আমার ধারণা, এই জমিতে নতুন বাড়ি তৈরি হওয়ার পর আবার মার্কারির হাত উনি নিজেই জোড়া লাগিয়ে দিতেন। উনি জানতেন, ওসিরিসের মূর্তিটা খোলা যায়।”

    শ্যামসুন্দরবাবু যেন ঘুম থেকে উঠলেন, “আমিই বলেছিলাম। লন্ডন থেকে ওটা কেনার সময় মেমসাহেব দোকানদার আমায় দেখিয়েছিল, অমিতকে বলেছিলাম বটে, তবে আমার মনে ছিল না।”

    “মারকিউরাস কিন্তু রোমানদের চোরের দেবতা। এটা জানলে বোধহয় অমিতবাবু এতটা ঝুঁকি নিতেন না।” আকিদার কথা মোটামুটি শেষ বলে মনে হল।

    “তোমার যে এরকম অবনতি হবে, আমি ভাবিনি অমিত। ছিঃ !”

    “বিশ্বাস করো বাবা, আমার মাথার ঠিক ছিল না।”

    আমার হাতে আলতো টান মারল আকিদা, “চল, আর এখানে দাঁড়ানো ঠিক নয়।”

    “উফ ! তুমি কেমন করে ধরলে বলো তো ?”

    “বললেই বলবি ‘সিম্পল, এ তো আমিও পারতাম !”

    “বলি তো বলব, তুমি বলোই না ?”

    “মূর্তিগুলোর পাশে ধুলো পড়েছিল দেখেছিলি ? সেটার উপরে পড়া ছাপ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল কেউ মার্কারি আর ওসিরিসের মূর্তি দুটো নিয়ে নাড়াচাড়া করেছে। মূর্তিগুলো দেখার সময় ওসিরিসের মূর্তিটা তুলেছিলাম একবার। তখনই লক্ষ করেছিলাম, ওই সাইজের কাঠের মূর্তির তুলনায় ওটা বেশ ভারী।”

    “অমিতবাবুর দিকে তীরটা ঘোরালে কখন ?”

    “প্রথম সন্দেহটা হয়েছিল ট্যারট্‌সের বইটা দেখে।”

    “ট্যারট্‌স কী ?”

    “তাসের তুকতাক। ওনার ঘরে একটা বই দেখিসনি তাসের ?”

    “হ্যাঁ, ছিল তো টিভির পাশে।”

    “যার ঘরে অন্য কোনও বই নেই, তার ঘরে যদি তাসের ম্যাজিকের বই থাকে, সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। তারপর মিশ্রির সঙ্গে কথা বলেই ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হল।”

    “ভাঙা অংশটা পেলে কেমন করে ?”

    “অভিনয়টা খারাপ করি না তা হলে ? কি বলিস ?” কয়েক সেকেন্ড লাগল বুঝতে।

    “তার মানে সেদিন তুমি অসুস্থ হওনি ?”

    “আদৌ না। তোরা ঘর থেকে বেরোনো মাত্রই ওসিরিসের মূর্তির প্যাঁচ খুলে ভাঙা অংশটা পকেটে পুরে ফেলি। আসল কাজটা তো অমিতবাবুই করে রেখেছিলেন। না হলে কি আর সহজে খুলত অত পুরনো প্যাঁচ ? গতকালই গোটা ব্যাপারটা মিটে যেত বুঝলি ? আমি চেয়েছিলাম ওঁকে জেরা করেই সব কিছু বার করতে, তাই অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে রমেশ কারনানিকে পেয়ে যাওয়ায় আরও অনেকগুলো জট খুলে গেল।”

    “আচ্ছা, উনি তা হলে নিজেই তোমাকে ডেকে পাঠালেন কেন ?”

    “বাবাকে তো দেখাতে হবে যে ছেলে কিছু করছে। তা ছাড়া ফাঁপা সৌজন্যের একটা দাম আছে তো ?”

    ভেবে দেখলাম যে, সত্যিই পুরো পারসপেক্টিভ অনুসারে সাজাতে পারিনি। একটা কথা ভেবে মনটা খচখচ করছিল। দোনামনা করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম।

    “আচ্ছা, তোমাকে তো শ্যামসুন্দরবাবু কিছু দিলেনটিলেন না ?”

    “মানে ?”

    “মানে রিওয়ার্ড টিওয়ার্ড আর কী ?”

    খুব নিচু গলায় আকিদা বলল, “সব সময় মেটিরিয়াল রিওয়ার্ড দিয়ে কিছু হয় না রে। আসল ব্যাপারটা হল মনের শান্তি। বড়হ,’ তারপর বুঝবি।”

    বালিগঞ্জ প্লেস ইস্টের উপর দিয়ে যখন যাই, বেশ লাগে। পাশের দুটো বাড়ি ভেঙে মাল্টিস্টোরিড হচ্ছে। কিন্ত শ্যামসুন্দরবাবুর বাড়িটা আজও একইরকম আছে।

    ২০ এপ্রিল ২০০৩

    অলংকরণ: দেবাশিস দেব

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }