Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক ও রোমাঞ্চ সমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    অসম্পূর্ণ বই এক পাতা গল্প585 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুকুর-বাংলো – অজেয় রায়

    এত সহজে এবং বিনা ভাড়ায় এমন চমৎকার বাড়িটা পাওয়া যাবে, কানাইবাবু তা ভাবতে পারেননি।

    কানাইবাবুর স্ত্রী অনেক দিন টাইফয়েডে ভুগলেন। সেরে ওঠার পর ডাক্তার বললেন, ‘একটু চেঞ্জ দরকার।’ কানাইবাবুর এক উকিল বন্ধু জানালেন, ‘আমার এক মক্কেলের একটা বাড়ি আছে ঘাটশিলায়। খালি পড়ে থাকে। ঠিকানা দিচ্ছি, দেখা করো। আমিও ফোনে বলে দেব। বোধহয় পেয়ে যাবে। ঘাটশিলা জায়গাটা বিউটিফুল। আমি গেছি একবার। ফাল্গুন মাস। এখনও গরম পড়েনি। ভালো চেঞ্জ হবে।’

    বন্ধুর মক্কেল গোবিন্দগোপাল ঘোষ তাঁর ঘাটশিলার বাড়িটা এককথায় দিতে রাজি হয়ে গেলেন। বললেন, ‘ওটা তো খালিই পড়ে আছে। আমরা কেবল বছরে একবার যাই পুজোর সময়। গিয়ে যদ্দিন ইচ্ছে থাকুন। ভাড়া? ও কথা থাক। আপনি মিস্টার রায়ের বন্ধু। আপনারা গেলে উপকারই হবে। একটু সাফসুফ হয়ে যাবে বাড়িটা। ও বাড়ির কেয়ারটেকার মালিটা অবশ্য এখন দেশে গেছে। ও না থাকলেও ক্ষতি নেই। ভরত আছে। সব ব্যবস্থা করে দেবে।’

    কানাইবাবু দু—দিনের ছুটি নিয়ে একা চলে গেলেন ঘাটশিলায়। প্রথমে ভরতকে খুঁজে বের করলেন। ভরত সাইকেল—রিকশা চালায়। ওর রিকশায় চেপে চললেন বাড়ি দেখতে।

    বাড়িটা খাসা। শহরের একদম সীমানায়। পাহাড়ি নদী সুবর্ণরেখা হাঁটা পথে আধ মাইলও হবে না। সাদা রঙের দোতলা বাড়ি। নীচে ও ওপরে অনেকগুলো শোবার ঘর। বুক—সমান উঁচু পাঁচিল ঘেরা বিঘাখানেক কমপাউন্ড। ভিতরে আম, লিচু ইত্যাদির বড়ো বড়ো গাছ। কিছু ফুল ও বাহারি পাতার গাছও রয়েছে। কমপাউন্ডের একধারে ছোটো আউট—হাউস। এখন তালা—বন্ধ। ওখানে সিধু মালি থাকে।

    কানাইবাবু চাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। তালা খুলে দোতলার ঘরগুলোয় একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। খাট আছে। খাতে গদি পাতা। সুইচ টিপে দেখলেন আলো জ্বলছে। রান্নাঘর, বাথরুম ফার্স্ট ক্লাস। দক্ষিণ—পুব খোলা বারান্দা। আর কী চাই? হাতে সময় কম। চটপট সব দেখে নিয়ে তিনি স্টেশনে ফিরলেন।

    শুধু মনে একটু খুঁতখুঁতুনি। বাড়িটা বড্ড বেশি ফাঁকায়। তা যাকগে। ঘোষবাবু তো ফ্যামিলি নিয়ে এসে কাটিয়ে যান।

    ভরত লোকটি বেশ। বছর—পঞ্চাশ বয়স। ওই দেশি লোক। তবে দিব্যি বাংলা বলে। শান্ত প্রকৃতির। এই বাড়ির মালি সিধু সম্পর্কে তার ভাই হয়।

    রাতের ট্রেনে কলকাতায় ফিরলেন কানাইবাবু।

    এক সপ্তাহ বাদে অফিসে দশ দিন ছুটি নিয়ে স্ত্রী, দশ বছরের ছেলে বাবলু এবং ছোকরা কাজের লোক ঘেঁটুকে নিয়ে কানাইবাবু কলকাতা ছেড়ে রওনা দিলেন।

    ঘাটশিলায় পৌঁছলেন দুপুরে। সিধু তখনও ফেরেনি। তবে ভরত হাজির ছিল। কানাইবাবুরা দোতলায় থাকবেন। ভরত ওপরতলার ঘর—বারান্দা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলল। জল তুলে দিল কুয়ো থেকে। লোকটি সত্যি কাজের। মুখে সর্বদা একটু হাসি লেগে আছে।

    বিকেলে ভরতের রিকশা চেপে কানাইবাবু বাজারে গেলেন। এক স্টেশনারি দোকানে ঢুকলেন কেনাকাটা করতে। দোকানের মালিক বাঙালি। কানাইবাবুকে দেখে বুঝলেন চেঞ্জার। জিনিস দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘উঠেছেন কোথায়?’

    ‘হ্যাপি লজ। এক্কেবারে শেষে। সাদা দোতলা বাড়ি।’

    ‘ও, কুকুর—বাংলো। কদ্দিন থাকবেন?’

    ‘অ্যাঁ, কুকুর—বাংলা!’ কানাইবাবু দোকানির মুখের পানে হাঁ করে চেয়ে থাকেন। হ্যাপি লজ—এমন সুন্দর নাম থাকতে এই বিশ্রী নামটা কেন?

    দোকানদার কানাইবাবুর মনে ভাব বুঝলেন। বললেন, ‘ওই হল। আমরা কুকুর—বাংলোই বলি।’

    ‘কেন?’

    ‘ওটা ছিল হ্যারিস সাহেবের বাড়ি। সাহেবের একগাদা কুকুর ছিল। তাই বাড়িটার ওই নাম চালু হয়ে গেছে।’

    ‘হ্যারিস সাহেব এখন কোথায়?’ কানাইবাবুর কৌতূহল হয়।

    ‘সাহেব মারা গেছে। মাথা খারাপ হয়ে গিছল। তারপরই মেমসাহেব বাড়ি বেচে দিয়ে চলে গেল। ঘোষবাবু কিনলেন। এই তো বছর পাঁচেক হল।’

    ‘মাথা খারাপ হল কেন?’

    ‘কে জানে। বয়েসে একটু মাথার গন্ডগোল হচ্ছিল। হঠাৎ একদিন সকালে খেপে গিয়ে এলোপাতাড়ি বন্দুক ছুঁড়তে শুরু করল। নিজের একটা কুকুরকে গুলি করে মারল। কয়েকটা পাখি মারল। মেমসাহেবকে তাড়া করেছিল। মেম তো ঘরে দোর দিয়ে প্রাণ বাঁচাল। সব্বাই সামনে থেকে পালাল। তারপর গুলি ফুরিয়ে গেলে লোকে গিয়ে সাহেবকে ধরে ফেলল। তখন ঘোর উন্মাদ। রাঁচির পাগলা—গারদে পাঠানো হয়েছিল। ছ—মাসও বাঁচেনি।’

    ‘সাহেব করতেন কী?’

    ‘কাঠের ব্যবসা। ওই যে আপনার রিকশাওলা ভরত, ও তো কাজ করত হ্যারিস সাহেবের কাছে। ওখানেই থাকত।’

    পথে বেরিয়ে কানাইবাবু ভরতকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি হ্যারিস সাহেবের কাছে ছিলে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘ও বাড়ি ছাড়লে কেন? ঘোষবাবু ছাড়িয়ে দিলেন?’

    ‘না বাবু। উনি রাখতে চেয়েছিলেন। আমিই রইলাম না। ওখানে থাকতে আর মন হল না। দশ বচ্ছর ছিলাম। সিধুকে আমিই এনে দিইচি ওই বাড়িতে।’

    কানাইবাবুদের দারুণ লাগছে। এখানে দিগন্ত—ছোঁয়া রুক্ষ মাঠ—প্রান্তরে ছোটো—বড়ো পাথরের চাঁই। তারই মাঝে—মাঝে টুকরো—টুকরো খেত। কাছেই ফুলডুংরি পাহাড় পরিষ্কার দেখা যায়। দূরে আরও পাহাড়ের ঢেউ। বাড়ির সামনের রাস্তাটা ডান ধারে কিছু দূরে শাল—বনের গা ঘেঁষে এগিয়ে গেছে।

    ভরত প্রতিদিন এসে খোঁজখবর নিয়ে যায়। বাবলু ছটফটে দুরন্ত ছেলে। কেবল চায় মাঠে—ঘাটে ঘুরি। বাবলুর মা বেশি হাঁটতে পারেন না। কানাইবাবু স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির কাছাকাছি হাঁটেন। বাবলু ঘেঁটুকে সঙ্গী করে চারপাশে বেড়িয়ে বেড়ায়। এখানে গাড়ি—ঘোড়ার ভয় নেই। তবে বাবলুকে বারণ করা হয়েছে সুবর্ণরেখা নদীতে যেন না নামে বা শালবনে না ঢোকে।

    রাতে কিন্তু বেশ গা ছমছম করে। কানাইবাবুরা শহুরে লোক। এখানে সন্ধে হলেই চারধারে নিঝুম হয়ে আসে। এই বাড়ির ডান দিকে , পিছনে ও সামনে রাস্তার ওপারে খোলা মাঠ। বাঁ পাশে খানিক তফাতে—তফাতে পর—পর দুটো বাড়ি। আবার অনেকটা খোলা জমি। পাশের বাড়ি দুটো এখন ফাঁকা। এগুলোয় কালেভদ্রে লোক আসে বেড়াতে। কানাইবাবুর সামনের রাস্তায় আলো নেই। কাছাকাছি বাড়িতে আলোর চিহ্ন দেখা যায় না। আকাশের অজস্র তারা আর একফালি চাঁদ মিলে যা সামান্য আলো দেয়। সূর্য ডুবলেই শীত—শীত করে। সন্ধের পর সামনের রাস্তা দিয়ে দু—চারটি মাত্র লোক চলে। তবে এই নির্জনতা খানিকটা সয়ে এল ক্রমে।

    একদিন বাবলু বলল, ‘জানো বাবা, ভরতের একটা কুকুর আছে। এই এত্ত বড়ো। বিরাট। কালো রঙের।’

    ‘দিশি কুকুর?’

    ‘না, বিলিতি। আমার সাথে খুব ভাব হয়ে গেছে। ওর নাম কালু।’

    ভরতের বাসা মাইলখানেক দূরে। বাবলু গিয়েছিল সেখানে। বাবলু বেজায় কুকুর—ভক্ত। কানাইবাবুও কুকুর ভালোবাসেন। কিন্তু বাবলুর মা কুকুর দেখতে পারেন না। তাই তাদের কুকুর পোষা হয় না। বাবলু অন্য বাড়ির কুকুর আদর করে সাধ মেটায়।

    ‘বাবা, তোমায় কালুকে দেখাব একদিন। ভরতকে বলব নিয়ে আসতে।’ বাবলু উৎফুল্ল হয়ে জানাল।

    সেইদিনই বিকেলে। কানাইবাবু তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াচ্ছেন বাড়ির সুমুখে। ভরতকে হেঁটে আসতে দেখা গেল। তার সঙ্গে চেনে বাঁধা এক প্রকাণ্ড কালো কুকুর। পিছনে—পিছনে আসছে বাবলু আর ঘেঁটু। বাবলু চেঁচাল, ‘বাবা, কালুকে এনেছি।’

    সত্যি কুকুর বটে। যেন একখানা বাঘ। মাটি শুঁকতে—শুঁকতে এগুচ্ছে। ওর গায়ে কী প্রচণ্ড জোর, বোঝা যায়। কারণ ভরতের মতো জোয়ান লোক দু—হাতে ওর চেন টেনে রাখতে পারছে না। মাঝে—মাঝে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কানাইবাবুর হাত—কুড়ি দূরে এসে থামল ভরত। এক ধমক দিয়ে থামাল কুকুরটাকে। কুকুর জ্বলজ্বলে স্থির চোখে দেখতে লাগল কানাইবাবুদের।

    ‘কালু’—বলে ডাক দিয়ে, বাবার কাছে বাহাদুরি দেখাতে বাবলু ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল কুকুরটার গলা।

    বাবলুর মা অমনি আঁতকে উঠে বলতে লাগলেন, ‘ছেড়ে দে বাবলু। কামড়ে দেবে। এই বাবলু, ছেড়ে দে বলছি!’

    বাবলু কালুর গায়ে হাত বুলোতে বুলোতে বলল, ‘ধ্যাত!’

    কালু চুপ করে দাঁড়িয়ে আধবোজা চোখে বাবলুর কোমল হাতের আদর খেতে লাগল আর আড়—চোখে লক্ষ করতে লাগল তার মাকে।

    কালুকে দেখে কানাইবাবু মুগ্ধ। কিন্তু স্ত্রী নার্ভাস হয়ে পড়ছেন দেখে বললেন, ‘থাক বাবলু, কুকুরের গায়ে হাত দিও না। যাও এখন ঘরে যাও। মায়ের সঙ্গে যাও।’

    বাবলু ও তার মা বাসায় ফিরে চলল।

    কানাইবাবু আর—একটু কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলেন কালুকে। হাউন্ড জাতের কুকুর। কুচকুচে কালো লোম। শুধু চারটে থাবায় সাদা সাদা ছোপ। বাঃ!

    ‘এ—কুকুর তুমি কোথায় পেলে?’ কানাইবাবু অবাক।

    ভরত বলল, ‘সাহেবের ছিল। মেমসাহেব চলে যাবার সময় সব কুকুর দিয়ে দিলেন। বিক্রি করে দিলেন। এটাকে আমি চেয়ে নিইচি। তখন দু—মাসের বাচ্চা।’

    কানাইবাবু বারবার কালুর তারিফ জানিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

    এরপর বাবলু প্রায়ই মায়ের আড়ালে বাবার কাছে কালুর গল্প করত। ও নাকি মস্ত বীর। একবার হায়নার মুখ থেকে ভরতের ছাগল উদ্ধার করেছে। রবারের বল ছুঁড়ে দিলে ও তীর বেগে ছুটে গিয়ে বলটা ধরে ফেলে। তবে কালুকে এ—বাড়ি আনতে আর সে ভরসা পায়নি। মা যা ভিতু। কালুর খোঁজে সেই যেত ভরতের বাসায়।

    আট দিন কেটেছে।

    সকালে বেরিয়েছিলেন কানাইবাবু। বেলা দশটা নাগাদ বাড়ি ফিরে দেখেন একজন লোক নীচের তলায় দাঁড়িয়ে আছে।—’কে?’

    অচেনা লোক। ষণ্ডা চেহারা। চোখের চাউনিটা কেমন চোরা—চোরা। লোকটা বলল, ‘বাবু, গামছা নেবেন? ভালো গামছা আছে।’

    কানাইবাবু দেখলেন মাটিতে একটা ছোটো পুঁটুলি। ‘নাঃ।’ তিনি জবাব দিলেন।

    লোকটা নড়ল না। এদিক—সেদিন তাকাতে—তাকাতে বলল, ‘কাজের লোক রাখবেন বাবু? সব মেহনতি কাজ করে দেব। মাহিনা যা খুশি দেবেন।’

    ‘না। আমার লোক আছে।’

    ‘ওই ছোকরা কুয়াসে জল তুলতে পারে?’ ঘেঁটুকে দেখিয়ে বলল লোকটা।

    ‘জল একজন তুলে দিয়ে যায়।’

    ‘ও’—লোকটা এবার মোট তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    দুপুরে একবার দোতলার বারান্দায় এসে কানাইবাবু দেখেন সকালের সেই গামছাওলা কিছু দূরে একটা বটগাছের নীতে বসে। তার সঙ্গে আর—একটা লোক। এই দিকেই চেয়ে রয়েছে।

    এই খাঁ—খাঁ রোদে ওরা করছে কী? কানাইবাবু তাকানো মাত্র লোক দুটো মুখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর উঠে ধীরেসুস্থে চলে গেল। কানাইবাবুর মনটা খচখচ করে। হাবভাব ভালো নয় লোকগুলোর।

    সেই রাতে ঘুম আসছিল না কানাইবাবুর। পাশে বাবলু ও বাবলুর মা অঘোরে ঘুমোচ্ছে। কানাইবাবুর মনে জমছে নানান চিন্তা। রাত বারোটা বাজল। কানাইবাবু বিছানা ছেড়ে উঠে ডান দিকের জানলায় গিয়ে দাঁড়ালেন। পর্দাটা একটু সরিয়ে তাকালেন বাইরে।

    বাইরে ফিকে চাঁদের আলোয় গাছপালা, প্রান্তরের উঁচু—নীচু অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। খানিক দূরে মাঠের মধ্যে একটা বড়ো পাথরের ঢিবি। তার পাশে কী জানি নড়ল? সন্দিগ্ধ মনটা ধক করে ওঠে। কানাইবাবু পর্দাটা টেনে দিয়ে অল্প ফাঁক রেখে তাই দিয়ে খর চোখে চেয়ে রইলেন পাথরটার দিকে।

    হুঁ, কেউ বসে আছে পাথরের আড়ালে—আঁধারে। একটা। দুটো। তিনটে মাথা। দুটো লাল আলোর বিন্দু। ও বিড়ির আগুন। কানাইবাবুর হৃৎপিণ্ডের গতি ভীষণ বেড়ে যায়। নিরীহ ভালো লোক কেউ এই রাত—দুপুরে ওখানে বসে থাকবে কেন লুকিয়ে? কী মতলব ওদের?

    তিনটে ছায়া—মূর্তি খাড়া হল। কানাইবাবুর বাড়ির পাঁচিলের কাছে এগিয়ে এল।

    কানাইবাবুর মনে ঝড় বইছে। এই বাড়ির অনেক দরজা জানলা পুরোনো। মোটেই পোক্ত নয়। অনায়াসে খোলা যায় বা ভেঙে ফেলা যায়। যদি ওরা চোর—ডাকাত হয়? ঢোকে বাড়িতে। ওরা তিনজন, কানাইবাবু একা। এখান থেকে চেঁচালে কারও সাহায্য পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। এর পরের বাড়িটায় একজন মালি থাকে। কিন্তু সে লোকটা সন্ধে থেকে অঘোরে ঘুমোয়। তার কানে ডাক পৌঁছবে কি?

    হেঁকে বলব নাকি—কে? হয়তো ভয় পেয়ে পালাবে লোকগুলো। কিন্তু একটা মুশকিল আছে। বাবলুর মা চমকে জেগে উঠবে। তার হার্ট খারাপ। ভয় পেলে চমকালে বিপদ হতে পারে।

    ওদের জাগিয়ে তুলে ব্যাপারটা বলি। কিন্তু তাতেও যে ভয় পাবে ভীষণ।

    লোকগুলো পাঁচিলের ধারে আরও ঘেঁষে এল। একজন চড়ে বসল পাঁচিলের ওপর।

    কানাইবাবু আর থাকতে পারলেন না। ঘরের আলোটা জ্বেলে দিই। বাবলুরা জেগে উঠবে। অস্বাভাবিক কিছু সন্দেহ করে ভয় পাবে। উপায় নেই। বাড়ির লোক জেগে গেছে দেখলে যদি ওরা পালায়, এই ভরসা।

    দেয়ালের গায়ে সুইচের দিকে এক পা বাড়িয়েই থমকে গেলেন কানাইবাবু। কানে এল কোনো কুকুরের গভীর চাপা গর্জন। সঙ্গে সঙ্গে—’বাপরে’ বলে ভীত চিৎকার।

    কানাইবাবু চট করে ফের জানলায় দাঁড়ালেন। আবছা জ্যোৎস্নায় দেখলেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। মাঠ দিয়ে তিনটে লোক ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে আর তাদের পিছনে লাফাতে—লাফাতে ছুটে চলেছে এক প্রকাণ্ড মিশকালো জীব। কী ওটা? নিশ্চয়ই কুকুর। ও ডাক কুকুরের। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তারা বাড়ির পেছন দিকে মিলিয়ে গেল। কানাইবাবু থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।

    বোধহয় আরও মিনিট দু—তিন বাদে দূরে শোনা গেল আবার সেইরকম কুকুরের ডাক। মানুষের গলার একবার আর্তনাদ। তারপরই তীক্ষ্ন শিসের মতো একটা আওয়াজ। এরপর সব চুপ। শুধু একটানা ঝিঁঝিঁর ডাক।

    প্রায় ঘণ্টাখানেক জানলার কাছে কাঠের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন কানাইবাবু। কিন্তু আর অস্বাভাবিক কিছু কানে এল না, দেখতেও পেলেন না।

    তিনি বিছানায় গিয়ে শুলেন। ঘুম আসে না। দপদপ করছে মাথা। যেন বিশ্বাস হচ্ছে না ব্যাপারটা। অতিরিক্ত উত্তেজনার ক্লান্তিতেই শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।

    ‘বাবা ওঠো, মাছ আনতে যাবে না?’

    বাবলুর ডাকে কানাইবাবুর ঘুম ভাঙে।

    প্রায়ই ভোরে কানাইবাবু সুবর্ণরেখার তীরে যান টাটকা মাছ কিনতে। জেলেরা তখন নদীতে মাছ ধরে। আজ মাছ আনার কথা। চটপট তৈরি হয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন। পথে যেতে যেতে হঠাৎ মনে পড়ল গত রাতের ঘটনা। এমন সুন্দর সকালে ঘটনাটা যেন মনে হল দুঃস্বপ্ন। অবাস্তব।

    নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক জায়গায় তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন। চওড়া নদী, এখন অবশ্য জল কম। কানাইবাবুর পায়ের কাছ থেকে খাড়া পাড় নেমেছে। তলায় ধারের দিকে জল নেই। ছোটো—বড়ো পাথর ছড়ানো। সেখানে কয়েকজন ছেলে জটলা করছে। তাদের সামনে মাটিতে পড়ে আছে একটি মানুষের দেহ। এমন ভেঙে—চুরে দ হয়ে আছে শরীরটা, মনে হয় যেন প্রাণ নেই। ঘাড়টা ওপাশে ঘোরানো। তাই কানাইবাবু তার মুখ দেখতে পাচ্ছিলেন না। পাথরের গায়ে শুকনো রক্তের দাগ। জেলেরা নিজেদের ভিতর উত্তেজিত ভাবে কথা বলছে।

    কানাইবাবুর বুকে ধুকপুকুনি। তিনি না পারলেন নীচে নেমে গিয়ে ভালো করে দেখতে, না পারলেন চলে যেতে। ওইখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন ঠায়। মিনিটপাঁচেক বাদে সেখানে সাইকেল চড়ে হাজির হল একজন পুলিশ ইনস্পেক্টর এবং দু—জন কনস্টেবল। পুলিশের লোকেরা নেমে গেল নীচে। একজন সেপাই দেহটাকে উলটে দিলেন। কানাইবাবু চমকে উঠলেন। এ যে সেই গামছাওলা। লোকটা মরে গেছে নির্ঘাত। কপাল ও মুখের খানিকটা একেবারে থেঁতলে গেছে। চোখ—দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে।

    ইনস্পেক্টর জেলেদের প্রশ্ন করতে লাগলেন। ওপর থেকে বিশেষ কিছু বুঝতে পারলেন না কানাইবাবু। আরও লোক আসছে চারদিক থেকে। মৃতদেহ ঘিরে ভিড় বাড়ছে। ভরতকে আসতে দেখা গেল। তার হাতে দড়ির আংটায় ঝোলানো একটি পিতলের ঘটি। ভরত রোজ ভোরে কানাইবাবুকে তার গোরুর দুধ দিয়ে যায়। ভরতও নদীর ধার বেয়ে নেমে ভিড়ে ঢুকল।

    একটু পরে কানাইবাবু সাহস করে নীচে নামলেন। ভরতের কনুইয়ে টোকা দিলেন। ভরত ফিরে বলল, ‘ও বাবু, আপনি? চলুন। দুধ দিতে দেরি হয়ে গেল। ভরতের পিছনে পিছনে কানাইবাবু ফের উঠে এলেন ওপরে।

    ‘কী হয়েছে? লোকটা কে? কানাইবাবু জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘দাগি ডাকাত। এখানকার লোক নয়। বাইরের। টাটানগরে একটা ডাকাতির কেসে পুলিশ খুঁজছিল ওকে। দারোগাবাবু বলছিলেন।’

    ‘ও মরল কী ভাবে?’

    ‘ওপর থেকে পড়ে। মাথায় চোট লেগেছে।’

    ‘জানো ভরত, ওই লোকটা কাল আমার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়েছিল। আরও দুটো লোক ছিল সঙ্গে।’

    ‘সে কী!’

    ‘হ্যাঁ। তোমার কালু আমাদের বাঁচিয়েছে।’

    ‘কালু!’

    ‘হুঁ। সকালে ওই লোকটাই একবার আমার বাড়িতে ঢুকেছিল। তারপর—’ কানাইবাবু সকাল থেকে রাত অবধি সমস্ত ঘটনা সংক্ষেপে বলে গেলেন। শেষে বললেন, ‘নিশ্চয়ই কালুর তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে লোকটা গড়িয়ে নদীর ভেতর পড়ে গেছে।’

    ভরত একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘না বাবু, ও কালু নয়।’

    ‘আলবত কালু। আমি নিজের চোখে দেখেছি। এমন কুকুর আর কার আছে এখানে?’

    আবার মাথা নাড়ে ভরত। বলে, ‘বাবু কাল রাতে কালু আমার ঘরে আটক ছিল। একবারও বেরয়নি। আমি বুঝেছি বাবু, ও কালু নয়, টাইগার।’

    ‘টাইগার। টাইগার কে?’

    ‘কালুর বাপ। সাহেবের সব চেয়ে পেয়ারের কুকুর ছিল। সাহেব পাগল হয়ে গুলি করে মেরে দিলেন টাইগারকে। আর ওই যে বলছেন শিস। অমনি সিটি দিয়ে সাহেব টাইগারকে ডাক দিতেন।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুড়ঙ্গ রহস্য – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    অসম্পূর্ণ বই

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    জালালগীতিকা সমগ্ৰ – যতীন সরকার সম্পাদিত

    January 8, 2026
    অসম্পূর্ণ বই

    সরস গল্পসমগ্র – অজেয় রায় (অসম্পূর্ণ)

    January 8, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }