Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প422 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চিরঞ্জীব

    লোকটিকে দেখিয়া আড়াই শত বৎসর বয়স বলিয়া মনে হয় না। মনে হয়, বড়জোর ষাট-বাষট্টি। লম্বা-চওড়া গড়ন, পাকা কাশীর পেয়ারার মতো গায়ের রঙ, গোঁফ ও গালপাট্টা বেশির ভাগ পাকিয়া গিয়াছে। পৌরাণিক নাটকে পিতামহ ভীষ্মের ভূমিকায় লোকটিকে বেশ মানাইত। বৃদ্ধ বটে, কিন্তু কোথাও স্থবিরতার চিহ্ন নাই। প্রথম তাহাকে দেখিবামাত্র দুইটি কথা আমার মনে আসিয়াছিল: এক, লোকটি অনেক দূর হইতে আসিতেছে; দুই, লোকটির দেহ অত্যন্ত কঠিন স্থায়ী ধাতুতে নির্মিত। একবার দেখিয়া কেন এমন ধারণা হইয়াছিল জানি না—

    কিন্তু গোড়া হইতে এই বিচিত্র মানুষটির কথা বলি।

    পুণায় সিদ্ধিবিনায়ক গণপতির একটি প্রাচীন মন্দির আছে। পূর্বকালে মন্দিরের চারিপাশে প্রকাণ্ড দিঘি ছিল, পেশোয়ারা নৌকায় চড়িয়া দেব-দর্শনে আসিতেন। এখন দিঘি শুকাইয়া গিয়াছে, শুষ্ক খাদ পার হইয়া মন্দিরে যাইতে হয়। আমি পুণায় আসিয়া ডেরাডাণ্ডা ফেলিবার পর হইতে প্রতি চতুর্থী তিথিতে নিয়মিত গিয়া গণপতিকে প্রণাম করিয়া আসি।

    বড় জাগ্রত দেবতা।

    এবার আষাঢ় মাসের কৃষ্ণা চতুর্থী তিথিতে অপরাহ্নকালে মন্দিরে প্রণাম করিতে গিয়াছি, হঠাৎ সবেগে বৃষ্টি নামিল। ছাতা আনি নাই, পুণায় বর্ষাকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়, ছাতার দরকার হয় না। কিন্তু আজ অপ্রত্যাশিত ভাবে বজ্র বিদ্যুৎ ও বর্ষণের সমারোহ লাগিয়া গেল।

    মন্দিরে আট্‌কা পড়িলাম। মন্দির-সংলগ্ন টিনের চালার নীচে বেঞ্চিতে বসিয়া বৃষ্টি ধরণের অপেক্ষা করিতে লাগিলাম।

    চালার নীচে আরও কয়েকজন লোক আছে। অধিকাংশ স্ত্রীলোক; বেঞ্চির উপর পা তুলিয়া বসিয়া নিশ্চিন্ত মনে গল্পগুজব করিতেছে।

    একটি পুরুষ চালার এক কোণে বসিয়া ছিল, এতক্ষণ তাহাকে ভাল করিয়া লক্ষ্য করি নাই। বৃষ্টির ছাট গায়ে লাগিতেছিল বলিয়াই বোধ হয় সে উঠিয়া আসিয়া আমার পাশে বেঞ্চিতে বসিল। তাহার চেহারার বর্ণনা আগেই করিয়াছি; হাতে মোটা একটা লাঠি, পরিধানে খাটো ধুতি ও পুরা আস্তিনের মেরজাই, কাঁধে একটা মোটা কালো কম্বল; মস্তক নিরাবরণ। লোকটির কাপড়-চোপড় যদি গৈরিক রঙের হইত তাহা হইলে পরিব্রাজক সন্ন্যাসী মনে করিতাম।

    টিনের চালার উপর বৃষ্টির ঝম্‌ঝম্‌ শব্দ সমানে চলিয়াছে, ভিতরে অপরিচ্ছন্ন ময়লা আলো।

    লোকটি কয়েকবার আমার দিকে কটাক্ষপাত করিয়া হঠাৎ মোটা গলায় প্রশ্ন করিল, ‘আপনি কি বাঙালী বটে?’

    বোধ হয় আমার পাঞ্জাবি ও ধুতির কোঁচা দেখিয়া বুঝিয়াছে। বলিলাম, ‘হ্যাঁ। আপনি?’

    সে বলিল, ‘হ্যাঁ, আমিও বাঙালী। আপুনি কি পুণার বাসিন্দা বটে?’

    বলিলাম, ‘হ্যাঁ। আপনি?’

    ‘আমি পরিব্রাজক, ইতি-উতি ঘুরে বেড়াই।’ সে আমার দিকে ঝুঁকিয়া হঠাৎ প্রশ্ন করিল, ‘এখানে বিরিঞ্চি বর্মা নামে কাউকে আপুনি চিনেন নাকি?’

    ‘বিরিঞ্চি বর্মা। না, কখনো নাম শুনিনি। কে তিনি?’

    ‘দেখেন নাই? যখের মতো কালো লম্বা চেহারা, ড্যাবডেবে চোখ, একটা কান বড়, অন্য কানটা ছোট, বাঁ গালে কাটা ঘায়ের মতো লালচে একটা জড়ুল! দেখেন নাই তাকে?’

    লোকটির কথা বলিবার ভঙ্গি একটু সেকেলে ধরনের, মনে হয় বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাষা শুনিতেছি। বলিলাম, ‘না, বিরিঞ্চি বাবা— থুড়ি— বিরিঞ্চি বর্মাকে আমি দেখিনি। আপনার আত্মীয়?’

    লোকটার চক্ষু উত্তপ্ত হইয়া উঠিল— ‘আত্মীয়! সে আমার ঘোর শত্রু, সর্বদা আমার সর্বনাশ করবার চেষ্টা করছে’— তারপর সুর বদলাইয়া বলিল, ‘এটা ১৮৭৯ শকাব্দ বটে?’

    সম্প্রতি শকাব্দ লইয়া জ্যোতির্বিদ মহলে বিস্তর আলোচনা হইয়া গিয়াছে। বলিলাম, ‘হ্যাঁ, ১৮৭৯ শকাব্দ বটে। কেন বলুন দেখি?’

    সে বলিল, তাহলে নিশ্চয় তার দেখা পাব। এই বছরে সে আসে। কোথাও না কোথাও আছে, এবার দেখা হলে আর ছাড়ছি না।’

    কেমন ধোঁকা লাগিল। জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘শেষবার কত দিন আগে তাকে দেখেছেন?’

    লোকটি বলিল, ‘১৭৭৯ শকাব্দে। সিপাহী যুদ্ধের সময়।’

    কিছুক্ষণের জন্য গুম্ হইয়া গেলাম। মনের মধ্যে একটি আশঙ্কা অঙ্কুরিত হইয়া উঠিল— পাগল নয় তো? আড়চোখে তাহাকে নিরীক্ষণ করিলাম। বেশভূষা একটু অসাধারণ বটে, কিন্তু চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক। শুনিলাম সে কতকটা আপন মনেই বলিয়া চলিল— ‘তখন আমি কাশীতে। একজন সিদ্ধপুরুষকে খুঁজতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ চতুর্দিকে আগুন জ্বলে উঠল। দাবানলের মতো।— আপুনি দাবানল দেখেছেন?’

    ‘না।’

    ‘বনে আগুন লাগে। গ্রীষ্মকালে শুকনো গাছের ডালে ডালে ঘষা লেগে দপ্ করে আগুন জ্বলে ওঠে, তারপর আগুন এক গাছ থেকে লাফিয়ে অন্য গাছে যায়; সারা বন জ্বলে ওঠে। কাঁচা গাছও পুড়ে ছাই হয়ে যায়—’

    ‘মাফ করবেন, আপনার নামটি কি?’

    ‘নাম? চিরঞ্জীব সিংহ।’

    ‘নিবাস?’

    ‘আদি নিবাস রাঢ় দেশ।’

    ‘বয়স কত?’

    চিরঞ্জীব সিংহ এদিক ওদিক দৃষ্টি ফিরাইয়া অন্যমনস্কভাবে বলিল, ‘বয়স? কে জানে… অক্ষয় তৃতীয়ার দিন জন্ম… আমার জন্মদিনে একটা বট গাছ পোঁতা হয়েছিল, সেটা এখন দু’বিঘে জমির ওপর ছড়িয়ে গেছে—’

    ‘আপনার আত্মীয়স্বজন?’

    ‘কেউ নেই, সব মরে গেছে।’

    ‘যাক্। তা কাশীর কথা কি বলছিলেন?’

    ‘হ্যাঁ— কাশীর কথা।’—

    চিরঞ্জীব ক্ষণেক চিন্তা করিল— ‘কাশীতে অনেক বনেদী বেশ্যা আছে।’

    লোকটির কথা বলিবার বিচিত্র ভঙ্গি, এক কথা বলিতে বলিতে হঠাৎ অন্য কথা বলিতে আরম্ভ করে।

    বলিলাম, ‘কাশীতে বনেদী বেশ্যা থাকতে পারে, আমি জানি না। কিন্তু আপনি বলছিলেন, সিদ্ধপুরুষের খোঁজে কাশী গিয়েছিলেন, হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠল।’

    ‘হ্যাঁ— আগুন জ্বলে উঠল, লড়াইয়ের আগুন। মারামারি কাটাকাটি। কোম্পানীর লোক সিপাহীদের মারে, সিপাহীরা কোম্পানীর লোকদের মারে। দিল্লী আগ্রা কাশী গয়া মৃজাপুর, সব শহরেই রক্তারক্তি কাণ্ড। তখন জানতাম না যে বিরিঞ্চি এর মধ্যে আছে। জানলে কি আর হাতিয়ার না নিয়ে রাস্তায় বেরুতাম!’

    ‘বিরিঞ্চি লোকটা কে?’

    ‘লোকটা শয়তান, সাক্ষাৎ পাপের অবতার। যেখানে গণ্ডগোল, যেখানে ঝগড়া বিবাদ, যেখানে বেইমানি বিশ্বাসঘাতকতা, সেখানে সে আছে। মানুষের দুঃখ নিয়ে তার কারবার, মানুষের দুর্গতি নিয়ে তার ব্যবসা। মূর্তিমান শনি, মূর্তিমান রাহু।’

    চিরঞ্জীব উত্তেজিত হইয়া উঠিয়াছে দেখিলাম, ‘তারপর কাশীতে কি হল?’

    সে কিছুক্ষণ চোখ বুজিয়া রহিল, তারপর বলিল, ‘বিকালবেলা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি সামনে একদল কোম্পানীর পল্টন আসছে। সঙ্গে দুটো লালমুখো গোরা— আর বিরিঞ্চি। বিরিঞ্চির পরনে ফৌজী পোষাক।

    ‘আমাকে দেখে বিরিঞ্চি চিৎকার করে উঠল, গোরা দুটোকে খাটো গলায় কি বলল, তারপর তলোয়ার উঁচিয়ে আমার দিকে তেড়ে এল।

    ‘গোটা চার-পাঁচ সিপাহীও তার সঙ্গে হা-রে-রে-রে করে তেড়ে এল। আমার হাতে হাতিয়ার নেই, কি করি? পাশে একটা সরু গলি ছিল, ঢুকে পড়লাম।

    ‘জানতাম না যে গলিটা কানা গলি, দু’পাশে বেশ্যাদের বাড়ি। বিরিঞ্চি আর সিপাহীরা পিছনে হৈ-হৈ শব্দে ছুটে আসছে। বাড়িগুলোর দরজা জানলা পটাপট্ বন্ধ হয়ে গেল।

    ‘সবশেষে যে বাড়িটা গলির মুখ বন্ধ করে রেখেছে, তার সদর দরজার মাথার ওপর বারান্দা বেরিয়ে আছে, বাঈজী সেখানে বসে বেসাতি করে। আমার আর পালাবার রাস্তা নেই, আমি বন্ধ দরজায় পিঠ দিয়ে দাঁড়ালাম।

    ‘গলি এত সরু যে দু’জন লোকের বেশি পাশাপাশি আসতে পারে না। দেখলাম আগে আগে বিরিঞ্চি আর একজন সিপাহী ছুটে আসছে, তাদের পিছনে আরও তিন-চার জন।

    ‘একটা সুবিধা, ওরা আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে মারতে পারবে না। কিন্তু ওদের হাতে তলোয়ার, আমার হাত খালি। খালি হাতে তলোয়ারের সঙ্গে কে লড়তে পারে?

    ‘ওরা যখন প্রায় আমার নাগালের মধ্যে এসে পড়েছে, তখন ওপরের বারান্দা থেকে একটা মেয়ে সামনে ঝুঁকে চিৎকার করে বলল, ‘এই নাও তলোয়ার, বিদেশী কুত্তাগুলোকে মেরে তাড়িয়ে দাও।’

    ‘তলোয়ার লুফে নিলাম। তখন আর আমাকে মারে কে?

    ‘বিরিঞ্চি আর সিপাহীরা থম্‌কে দাঁড়িয়ে পড়ল, তারপর সাবধানে এগিয়ে আসতে লাগল। বিরিঞ্চি হিংস্র জন্তুর মতো দাঁত বার করে রইল।

    ‘লড়লাম ওদের সঙ্গে। কিন্তু আমি একা। ওরা সামনের দু’জন পিছু হটে তো আর দু’জন এগিয়ে আসে। ক্রমে আমার হাতের তলোয়ার বোঝার মতো ভারি হয়ে উঠল।

    ‘এই সময় হঠাৎ পিছনের দরজা খুলে গেল। আমি দরজায় পিঠ দিয়ে হাঁপাচ্ছিলাম, ভিতরে পড়ে গেলাম। অমনি দরজা আবার বন্ধ হয়ে গেল।

    ‘বেশ্যা মেয়েটা আমার প্রাণ বাঁচিয়ে দিল।

    ‘বিরিঞ্চি আর সিপাহীরা দরজা ভাঙবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। শেষ পর্যন্ত গালাগাল দিতে দিতে চলে গেল।’

    এই পর্যন্ত বলিয়া চিরঞ্জীব চুপ করিল।

    বৃষ্টির বেগ যেন একটু কমিয়াছে, কিন্তু অন্ধকার কমে নাই; মেঘের অন্তর পথে সূর্যাস্ত হইয়াছে।

    আমি বলিলাম, ‘তারপর?’

    চিরঞ্জীব বলিল, ‘তারপর বিরিঞ্চির আর দেখা পাইনি।’

    প্রশ্ন করিলাম, ‘আপনাকে যে তলোয়ার দিয়েছিল সে কে?’

    ‘সে ও বাড়ির বেশ্যা… তার নাম ছিল শিউ মোহিনী… চার বছর তার সঙ্গে ছিলাম। সে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছিল।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর সে মরে গেল। আমিও আবার বেরিয়ে পড়লাম।’

    কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া বলিলাম, ‘কিছু মনে করবেন না। আপনি যা বললেন তা থেকে মনে হয়, একশো বছর আগে সিপাহী যুদ্ধের সময় আপনি বেঁচে ছিলেন; এখনো দিব্যি বেঁচে আছেন। মাঝের এই একশো বছর আপনি কোথায় ছিলেন, কি করছিলেন?’

    আমার প্রশ্নের মধ্যে যে স্পষ্ট শ্লেষ ছিল তাহা সে ধরিতেই পারিল না, সহজ ভাবে বলিল, ‘নেপালে গুরুর আশ্রমে থাকতাম আর ইতি-উতি ঘুরে বেড়াতাম। কত রদ-বদল দেখলাম। মোগল গেল, লালমুখো ফিরিঙ্গি এল; এখন আবার ফিরিঙ্গি গিয়ে কালো চামড়া এসেছে। কিন্তু বিরিঞ্চিকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

    ‘বিরিঞ্চি হয়তো মরে গেছে।’

    চিরঞ্জীব মাথা নাড়িল, ‘না, সে আছে। সে না থাকলে মন্বন্তর আসবে কোথা থেকে? বুঝতে পারছেন না, সে শয়তান। একশো বছর অন্তর ভারতে মহাদুর্যোগ আসে, তখন সে মাথা তোলে। এই ভারতেই কোথাও সে পাপের বিষ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এবার আমি তৈরি আছি, এবার তাকে ছাড়ছি না।’ বলিয়া কালো মোটা লাঠিটা তুলিয়া ধরিল।

    ‘লাঠি দিয়ে বিরিঞ্চিকে ঠেঙিয়ে মারবেন?’

    ‘কেবল লাঠি নয়। এই দেখুন—’ চিরঞ্জীব লাঠির মুঠ ধরিয়া ঘুরাইল। ভিতরে লিকলিকে লম্বা তলোয়ার রহিয়াছে। গুপ্তি লাঠি।

    লোকটা সদ্য মানুষ কিংবা পাগল কিংবা গঞ্জিকা-বীর ঠিক ধরিতে পারিতেছি না। যদি গঞ্জিকা-বীর হয়, আমাকে বোকা বানাইয়া দিয়া চলিয়া যাইবে! দেখি, জেরা করিয়া যদি ফাঁদে ফেলিতে পারি।

    বলিলাম, ‘সিপাহী যুদ্ধের সময় যখন বিরিঞ্চির সঙ্গে দেখা হয়েছিল তখন তাকে দেখেই চিনেছিলেন! তার মানে, আগে থাকতেই তাকে চিনতেন!’

    সে বলিল, ‘চিনতাম বৈকি। বিরিঞ্চিকে কি আজ থেকে চিনি!’

    ‘তার আগে কবে তাকে দেখেছিলেন?’

    ‘কেন, ১৬৭৯ শকাব্দে, পলাশীর যুদ্ধের সময়। বিরিঞ্চি ছিল ক্লাইভের তেলেঙ্গি সিপাহীদের দলে। আর আমি—’

    উঠিয়া পড়িলাম।

    চিরঞ্জীবকে ফাঁদে ফেলা আমার কর্ম নয়, এই ভাবে পিছাইয়া পিছাইয়া হয়তো কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে গিয়া ঠেকিবে।

    এদিকে বৃষ্টিও থামিয়া আসিয়াছে। চলিয়া আসিবার সময় একটি শ্লেষ-বাণ নিক্ষেপ করিবার লোভ সংবরণ করিতে পারিলাম না— ‘আচ্ছা, আজ আসি। আবার ১৯৭৯ শকে দেখা হবে।’

    চিরঞ্জীবকে গঞ্জিকা-বীর বলিয়া মন হইতে সরাইয়া দিয়াছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি একটু গণ্ডগোল বাঁধিয়াছে। কিছু বুঝিতে পারিতেছি না। সত্যই কি—?

    পুণা ভারতের একটি সামরিক কেন্দ্র। এখানে যেসব রথী মহারথী আছেন, তন্মধ্যে বাঙালীর সংখ্যা খুব অল্প নয়। আমি পুণায় আসার পর তাঁহাদের কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হইয়াছে।

    চিরঞ্জীবের সহিত দেখা হইবার মাসখানেক পরে মেজর গাঙ্গুলীর বাড়িতে চায়ের জলসা ছিল। বিকালবেলা গিয়াছি। দেখিলাম ত্রিশ-চল্লিশ জন সপত্নীক অফিসার সমবেত হইয়াছেন। কয়েকজন অবাঙালীও আছেন।

    একটি লোককে দেখিয়া স্তম্ভিতবৎ দাঁড়াইয়া পড়িলাম। গৃহস্বামিনী শীলা দেবী পরিচয় করাইয়া দিলেন— ‘ইনি কর্নেল ভর্মা, কয়েকদিনের জন্যে কাশ্মীর থেকে এসেছেন।’

    যখের মতো কালো লম্বা চেহারা, ড্যাবডেবে চোখ, একটা কান ছোট একটা কান বড়, বাঁ গালে কাটা ঘায়ের মতো রক্তাভ জড়ুল। পরিধানে ফৌজী পোষাক নয়, সাধারণ বিলাতী পোষাক। বয়স আন্দাজ পঞ্চাশ।

    আমার মুখ দিয়া বাহির হইয়া গেল, ‘আপনার নাম কি বিরিঞ্চি বর্মা?’

    কর্নেল ভর্মা ঈষৎ ভ্রূ তুলিলেন, ‘হ্যাঁ। আপনি জানলেন কি করে?’

    বলিলাম, ‘চিরঞ্জীব সিংহের মুখে আপনার নাম শুনেছি।’

    কর্নেল ভর্মার মুখে দ্রুত একটা পরিবর্তন হইল; ভদ্রতার মুখোশ ছাড়িয়া দাঁতগুলা হিংস্রভাবে বাহির হইয়া আসিল, চোখ দু’টাতে গরিলার মতো নিষ্ঠুর কুটিলতা ফুটিয়া উঠিল। তিনি একবার চারিদিকে ক্ষিপ্র দৃষ্টি ফিরাইয়া চাপা কর্কশ স্বরে বলিলেন, ‘চিরঞ্জীব! কোথায় সে?’

    বলিলাম, ‘এখানে নেই, মাসখানেক আগে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সে আপনাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছিল।’

    কর্নেল ভর্মা ক্রূর মর্মভেদী দৃষ্টিতে আমার পানে চাহিয়া রহিলেন, তারপর হঠাৎ পিছু ফিরিয়া অন্যত্র প্রস্থান করিলেন।

    আমি মোহাচ্ছন্নের মতো দাঁড়াইয়া রহিলাম।

    চমক ভাঙিলে মনে হইল কর্নেল ভর্মাকে আরও দু’একটা প্রশ্ন করিলে ভাল হইত। অতিথিদের মধ্যে তাঁহাকে খুঁজিলাম, কিন্তু দেখিতে পাইলাম না।

    মেজর গাঙ্গুলী বলিলেন, ‘কর্নেল ভর্মা এইমাত্র চলে গেলেন। তাঁকে আজ রাত্রেই কাশ্মীর ফিরে যেতে হবে।’

    ১৯ বৈশাখ ১৩৬৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৌতুক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }