Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প3681 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. শাপগ্রস্ত দেবতা রাজা শূরসেনের পুত্রের সর্পরূপে জন্মলাভ, ভোগবতীর সঙ্গে বিবাহ। গোদাবরীতে স্নানে শাপমুক্তি

    শাপগ্রস্ত দেবতা রাজা শূরসেনের পুত্রের সর্পরূপে জন্মলাভ, ভোগবতীর সঙ্গে বিবাহ। গোদাবরীতে স্নানে শাপমুক্তি

    বহুকাল পূর্বে প্রতিষ্ঠান পুর নামে এক সমৃদ্ধশালী নগর ছিল, সেই রাজ্যের রাজা ছিলেন শূরসেন। মহা প্রতাপশালী তিনি। একটি বিষয় ছাড়া সকল দিক থেকেই সুখী তিনি। তিনি অপুত্রক। এই একটি মাত্র তার দুঃখ ছিল। তার এই বিশাল রাজ্য ভবিষ্যতে কে শাসন করবে? যৌবন গেল? কাল গেল। আর ক’দিন বা বাঁচবেন? দুশ্চিন্তায় রাজার দিন কাটতে থাকে। এমন সময় তার স্ত্রী গর্ভবতী হলেন। খবরটা শুনে রাজার মনে আর আনন্দ ধরে না। তারপর যথা সময়ে রানির একটি সন্তান জন্ম নিল। দাসী এসে রাজাকে খবর দিল কিন্তু মনে তার কোনো আনন্দ নেই। খবর শুনেই রাজা ছুটে চললেন অন্দরমহলে। গিয়ে দেখেন সবাই চুপচাপ, সকলের মুখ শুকনো। তারপর রাজা একেবারে কাছে গিয়ে দেখল–একটা ছোট সাপ। রাজা অবাক হলেন। রানির গর্ভে জন্মালো একটা সাপ!

    রাজার ছেলে হলে এমনিতে ধুমধাম পড়ে যায়। কিন্তু আজ গোটা রাজ্যে সবাই চুপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। রাজা রানি বুঝতে পারছেন না, কি করবেন এই সাপের বাচ্চাকে নিয়ে? ফেলে দেবেন, না পুষবেন? অবশেষে রাজা ঠিক করলেন রাজার ছেলে হয়ে যখন জন্মেছে, তখন থাক, ওকে বড় করে তোলা হোক। তার পর যা হবার হবে, সবই আমার অদৃষ্ট।

    সাধ্যমত পরিচর‍্যা হল তার। দিন যায় শিশু সাপ বড় হয়। অন্দরমহলের একটি অন্ধকার ঘরের মধ্যে তাকে রাখা হয়। আহারাদির কোনো ত্রুটি নাই। সেই ঘরেই খেলে বেড়ায় আপন মনে। মা বাবা মাঝে মাঝে দেখতে যায় তাকে। আর যার উপর পরিচর্যার ভার আছে সে তো যাবেই, অন্য আর কেউ তেমন তার কাছে ঘেঁসে না, যদি কামড়ে দেয়।

    দেখতে দেখতে দিন কেটে গেল। বেশ হৃষ্টপুষ্ট হল সেই সাপ, রাজবাড়ির দামী দামী খাবার খেয়ে। একদিন সৰ্পপুত্রকে দেখে ফিরে যাচ্ছেন রাজা, সহসা শুনলেন মানুষের কণ্ঠে কে যেন বলছে–বাবা, একটু দাঁড়ান, আমি রাজপুত্র এখনও আমার নামকরণটা হলনা, আর হল না আমার কোনো সংস্কারও, বাবা তুমি আমার জন্য এই সব ব্যবস্থা কর।

    কথা শুনে রাজা অবাক হয়ে যায়। এখানে এই সাপ ছাড়া আর তো কেউ নেই। তাহলে কি এই সাপই মানুষের মত কথা বলছে? তখন তিনি সাপের কাছে গিয়ে তার গায়ে হাত বুলাতে লাগলেন, আর সাপও মনের আনন্দে দুলতে লাগল।

    তারপর রাজা রাজপুরোহিতকে ডেকে এনে ক্ষত্রিয় বিধান মতে সেই সাপের সকল সংস্কার করালেন, নাম রাখলেন নাগেশ্বর।

    মানুষের কণ্ঠে সাপ যখন কথা বলতে পারে, তাহলে এই সাপ নিশ্চয় শাপভ্রষ্ট কোনও ব্যক্তি হবে। এই চিন্তা করে তার ঘরে সুন্দর খাটের উপর সুন্দর বিছানা পেতে দেবার ব্যবস্থা করলেন রাজা।

    আরো কয়েকটা বছর কেটে গেল, প্রতিদিনের মত রাজা পুত্রকে দেখতে গেলেন। একদিন দেখলেন পালঙ্কের উপর তার পুত্র বেশ সুখেই শুয়ে আছে, ফিরে আসবেন, এমনসময় আবার সেই মানুষের কণ্ঠে বলল-বাবা আমার বয়স হয়েছে, আমি এখন যুবক। কাজেই আমার বিয়ের ব্যবস্থা কর।

    নাগেশ্বরের কথা শুনে রাজা বিস্মিত, কেমন করে এই সাপের বিয়ে হবে। সাপের বিয়ে হবে সপিণীর সঙ্গে, কিন্তু উপযুক্ত সপিণী পাব কোথায়? কে না চায় পুত্রের বিয়ে দিয়ে ঘরে পুত্রবধূ আনতে? মনে মনে রাজা বুঝতে পেরেছেন, এ সাপ কোন সাধারণ সাপ নয়, কিন্তু কোন্ অদৃষ্ট বলে এমন সাপের আকৃতি, কে বলবে?

    রাজা নাগেশ্বরকে বললেন–বাবা, তোমার আমি বিয়ের ব্যবস্থা করছি, কিন্তু কোথায় পাব তোমার মেয়ে, কে তোমাকে বিয়ে করতে চাইবে?

    পিতার কথা শুনে নাগেশ্বর বলল–বাবা আপনি রাজা, আপনি ইচ্ছা করলে সবই পারেন, চেষ্টা করুন নিশ্চয় সফল হবেন।

    শূরসেন মহাচিন্তায় পড়লেন। সাপকে কি কোনও নারী বিয়ে করতে চাইবে? তখন তিনি মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। কিন্তু মন্ত্রীরা কি বলবেন? সাপের বিয়ে। কেউ কি কখনো শুনেছে?

    রাজা বললেন–যেমন করেই হোক আপনারা আমার পুত্রের জন্য একটি সুলক্ষণা কন্যা এনে দিন। মন্ত্রীরা কোন দিন নাগেশ্বরকে দেখেনি। রাজার আদেশ পালন করতেই হবে। মন্ত্রীরা একসঙ্গে পরামর্শ করতে লাগলেন। কিন্তু কুল-কিনারা কিছু খুঁজে পেলেন না। ভাবতে ভাবতে সহসা এক বৃদ্ধ মন্ত্রী বললেন–পূর্বদেশে বিজয় নামে এক রাজা আছে, তার আটজন পুত্র আর একমাত্র কন্যা। যেমন রূপ, তেমনি গুণ। আমি একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি। যদি তিনি কন্যা দিতে রাজি হন। রাজাকে মন্ত্রীরা এই বিষয় জানালে রাজা প্রচুর অলংকার উপঢৌকন দিয়ে সসৈন্যে সেই মন্ত্রীকে পাঠিয়ে দিলেন বিজয় রাজের কাছে।

    পার্ষদের সঙ্গে বিজয়রাজ বসে আছেন রাজসভায়, এমন সময় শূরসেনের মন্ত্রী সেই সব উপঢৌকন তাকে দিয়ে নিজের পরিচয় দিলেন। রাজা শুরসেনের নাম ডাক ছিল। তার নাম শোনা মাত্রই বিজয় রাজা খুব উৎসাহের সঙ্গে মন্ত্রীবরকে বসবার আসন দিলেন। এবং তার আসার কারণ জানতে চাইলেন।

    উত্তরে মন্ত্রী বললেন–আমাদের রাজার একমাত্র পুত্র নাগেশ্বর, যদি আপনার কন্যার বিয়ে দেন তার সঙ্গে, তাই রাজামশাই আমাকে পাঠিয়েছেন। রাজার পুত্র যে সাপ, সে কথা কিন্তু তারা বললেন না।

    মন্ত্রীর মুখে এই কথা শোনামাত্র বিজয়রাজ পরম আনন্দে বলেন উঠলেন–আমার পরম সৌভাগ্য যে শূরসেনের পুত্রবধূ হবে আমার কন্যা। আমার কন্যা ভাগ্যবতী বলতে হবে।

    শুভ সংবাদ নিয়ে মন্ত্রী প্রতিষ্ঠা নগরে ফিরে গিয়ে রাজাকে সব বললেন। রাজা কিন্তু চিন্তায় পড়লেন, কেমন করে পুত্রের বিয়ে দেবেন। পুত্রের কাছে গিয়ে সব বললেন রাজা, তখন নাগেশ্বর রাজাকে বিবাহের কৌশল বলে দিল। রাজা বললেন–মন্ত্রীকে। মন্ত্রী আবার চললেন, বিজয়রাজের কাছে গিয়ে বললেন–হে রাজন, আমাদের রাজকুমার নিজে এসে বিয়ে করতে পারবেন না। বিশেষ অসুবিধায় পড়েছেন।

    মন্ত্রীর কথা শুনে বিজয়রাজ বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন। এও কি সম্ভব, বর আসবে না বিয়ে করতে, তাহলে বিয়ে হবে কেমন? কোনও কারণে যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে কন্যা বরের বাড়িতে যাবে সেখানেই না হয় বিয়ে হোক।

    মন্ত্রী বললেন–না বিয়ে এখানেই হবে, রাজকুমারের তেমন ইচ্ছা। কুমার বলেছেন ক্ষত্রিয় আমরা, পাত্রী যখন স্থির, তখন কোনো কারণে পাত্র না গেলেও অস্ত্র কিংবা শস্ত্র কিংবা অলংকার যাকে হোক পাত্র হিসাবে ধরে মালা বদল করালেই হবে। হে রাজা, আপনি রাজকুমার নাশেশ্বরের কোন অস্ত্রের সঙ্গে শুভ লগ্নে আপনার কন্যার মালাবদল করুন। আমরা সমাদরে মহা ধুমধামে বধূমাতাকে নিয়ে যাব।

    অগত্যা সেই ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হলেন বিজয়রাজ। অস্ত্রের সঙ্গে মালা বদল হল তার কন্যা ভোগবতীর। নানা অলংকারে সাজিয়ে বিশাল ধুমধামের সঙ্গে শোভাযাত্রা সহকারে চতুর্দোলায় চড়িয়ে শূরসেনের রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসা হল ভোগবতাঁকে। অন্দরমহলের এক সুন্দর সজ্জিত গৃহে তাকে রাখা হল। পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হল। অনেক দাসী তার দেখা শোনায় থাকল কিন্তু যাঁর জন্য এ বাড়িতে আসা সেই স্বামী কোথায়? তাকে তো দেখা যাচ্ছে না। তিনি কি বিদেশে না মৃগয়ায় গেছেন? এক এক করে বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। রাজকুমারের দেখা নেই, এই বিষয়ে কেউ কিছু বলছে না। ভোগবতী সাহস করে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করছে না। ভোগবতী নিজের ঘরে বসে মনে মনে চিন্তা করছে।

    এদিকে নাগেশ্বর থাকে তার নিজের ঘরে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দেখা হয় না, কেউ কাউকে চেনেও না। একদিন রানিমা নাগেশ্বরের ঘরে গেল তাকে দেখতে, মাকে দেখে নাগেশ্বর বলল–তোমরা আমার বিয়ে করা বউকে ঘরে আনলে কিন্তু বউ আমার কাছে আসে না কেন?

    রানিমা জবাব দিতে পারলেন না। বউমা যাতে কষ্ট না পায় তাই তাকে সবাই মিলে যুক্তি করে ঠকিয়েছে। যখন সে জানতে পারবে তার স্বামী একটি সাপ, তখন সে বাঁচবে কেমন করে? যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে? এই ভেবেই এতদিন তাঁকে স্বামীর কথা কেউ বলেনি। কিন্তু এখন ছেলে যে বউ দেখতে চাইছে, কি করি এখন?

    রানি তখন তাঁর খাস দাসীকে ডেকে পাঠাল, তাকে ভাল করে বুঝিতে ভোগবতীর ঘরে পাঠিয়ে দিল। স্বামীর পরিচয় এমনভাবে পুত্রবধূর কাছে বলতে হবে যাতে করে সে নাগেশ্বরকে দেখামাত্র উভ্রান্ত হয়ে না পড়ে।

    সেই দাসী ভগবতীর কাছে গিয়ে নানা গল্পসল্প করার সময় বলল–এতদিন বিয়ে হয়েছে তোমার, এই প্রাসাদে একা একা থাকতে হচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে দেখা নেই, স্বামীর সঙ্গে দেখা করার জন্য মনটা ছটফট করছে, তা আমরা নিশ্চয় বুঝি, তাই এলাম তোমাকে বলতে, তুমি মহা ভাগ্যবতী মা, তোমার স্বামী একজন শাপভ্রষ্ট দেবতা, তার তুলনা হয়না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে মানুষের আকৃতি না ধরে একটি সর্গের আকৃতি ধরে জন্ম নিয়েছে। এই প্রাসাদেই থাকে রাজকুমার। যেহেতু সাপের মূর্তি তার, তাই সে সকলের সামনে বের হয়না, তুমি কি তোমার সেই স্বামীকে একবার দেখতে যাবে?

    দাসীর মুখে স্বামীর কথা শুনে স্বামীকে দেখবার জন্য ভোগবতীর প্রাণটা ব্যাকুল হয়ে উঠল। আর বলল–সৌভাগ্য না থাকলে মানুষের ভাগ্যে কি দেবতা স্বামী জোটে? আমি নিশ্চয় আমার স্বামীকে দেখতে যাব। তার পরিচর‍্যা করব।

    রানিমার কাছে দাসী এসে সব কথা বলল। দুচোখ জলে ভরে এল রানিমার। তারপর পুত্রবধূকে নিয়ে রানিমা নাগেশ্বরের ঘরে এলেন। প্রথমে সাপ দেখে একটু ভয় পেলেও দ্বিধা, সংকোচ কাটিয়ে নাগেশ্বরের দিকে এগিয়ে এল ভোগবতী। রানিমা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন। মন প্রাণ দিয়ে স্বামীর সেবা করতে লাগল ভোগবতী।

    একদিন অনেক রাত্রিতে পালঙ্কে শুয়ে আছে নাগেশ্বর ও ভোগবতী। সমগ্র রাজমহল নিশ্ৰুপ। সহসা নাগেশ্বর ভোগবতাঁকে বলল–এতদিন আমি তোমারই অপেক্ষায় এই শরীর নিয়ে আছি, ভোগবতী এখন তুমি আমাকে মুক্ত কর।

    সাপ কথা বলছে দেখে ভোগবতী অবাক হয়ে গেল–হে স্বামী, তুমি কি বলছ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    নাগেশ্বর বলল–ভোগবতী, তোমার কি মনে নেই? আমি কিন্তু পূর্ব জন্মের কথা ভুলিনি। মনে করে দেখ, তুমি আমার পূর্বজন্মে স্ত্রী ছিলে। কৈলাসে শঙ্করের কাছে থাকতাম। একদিন পার্বতীর সঙ্গে মহেশ্বর কি একটা বিষয়ে নিয়ে হেসে উঠছেন দেখে আমিও হাসি চেপে রাখতে পারিনি। তখন আমাকে হাসতে দেখে মহেশ্বর ক্রোধভরে অভিশাপ দিলেন, তুই আমার কথায় হেসেছিস, যা তুই মানুষের ঘরে সাপ হয়ে জন্মাবি।

    মহাদেবের অভিশাপ বাণী শুনে আমি বুঝলাম, গুরুজনদের গোপন কথা শুনে কি অপরাধই বা করেছি আমি। তখন আমি মহেশ্বরের চরণতলে লুটিয়ে পড়ে বললাম–প্রভু আমার বড় অন্যায় হয়েছে, তাই আপনি আমাকে শাপ দিলেন, কিন্তু দয়া করে বলুন কেমন করে আমি শাপ থেকে মুক্ত হব?

    মহেশ্বর দয়া করে বললেন–বিবাহ করার পর গোদাবরীতে স্নান করলে নরদেহ লাভ করবে। ভোগবতী এবার আমি তোমার দ্বারা শাপমুক্ত হব।

    নাগেশ্বরের কথা শুনে ভোগবতীর পূর্বজন্মের সব কথা স্মরণ হল, গোপনেই দুজন চলে গেল দণ্ডকারণ্যে, পবিত্র গোদাবরীর জল যেই না ডুব দিল নাগেশ্বর, সঙ্গে সঙ্গেই অন্যরূপ, অন্যরূপ মানবদেহ, রাজপুত্রই বটে, এক দিব্য যুবক। ভোগবতী স্নান করল সেই গোদাবরীতে। তারপর দুজনে মিলে ভক্তির সঙ্গে মহাদেবের পূজা করল। তারপর গোপনেই ফিরে এল রাজপ্রাসাদে।

    প্রভাতে উঠে ভোগবতী এক দাসীর সাহায্যে রাজা ও রানিকে ডেকে আনল। বললেন–দেখুন মা, আপনাদের পুত্র পালঙ্কের উপর শুয়ে আছে, পুত্রকে দেখে তাদের আনন্দের সীমা নেই। নাগেশ্বর পিতা মাতার চরণে প্রণাম করল। তারপর বললেন–পিতা, এবার আমাদের বিদায় দিন, আমরা ছিলাম কৈলাসবাসী, শিবের শাপে আমি সর্পরূপে জন্মগ্রহণ করেছি আপনার ঘরে, এখন শাপমুক্ত হয়েছি। কাজেই এবার বিদায় দিন, আমরা শিবলোকে ফিরে যাই।

    দুঃখের সঙ্গে রাজা শূরসেন বললেন–না বাবা, তা কেমন করে হবে? আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আর যে কদিন আমার জীবন আছে, আমি বানপ্রস্থাশ্রমে কাটাতে চাই, তুমি এই রাজ্যের ভার নাও। তুমি রাজ্য পরিচালনা কর। তারপর যখন সময় হবে পুত্রের হাতে রাজ্য দিয়ে তুমি ইচ্ছামত স্থানে যেতে পারবে।

    পিতার বাক্য লঙ্ঘন করতে পারল না নাগেশ্বর। প্রতিষ্ঠানপুরে রাজ সিংহাসনে বসে পরম আনন্দে প্রজাপালন করতে লাগলেন। আর তার শাসনে সমৃদ্ধ হল তার রাজ্য।

    দিতির ত্রিভুবন বিজয়ী সন্তান লাভের অভিলাষ, কশ্যপের উপদেশে ব্রত ও গর্ভধারণ, ইন্দ্রের দ্বারা। গর্ভচ্ছেদন এবং উনপঞ্চাশ মরুতের সৃষ্টি, দিতির পুত্র হল দেবতা–

    কশ্যপের অনেক পত্নী, তাদের মধ্যে প্রধান তিনজন, অদিতি, দিতি আর দনু। অদিতির পুত্ররা দেবতা, দিতির পুত্ররা দৈত্য আর দনুর পুত্ররা দানব। দেবতারা শান্তশিষ্ট, নম্র, বিনয়ী ধীর আর দৈত্য-দানবরা হল খল, কুটিল, অনাচারী, হিংস্র, দেবতাদের ঠিক বিপরীত। একই পিতার সন্তান হয়ে বিপরীত স্বভাব। সবসময় দেবতা আর দৈত্য-দানবের মধ্যে গণ্ডগোল লেগেই থাকত। কখনো কখনো মারামারি করতেও ছাড়ত না। অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে যুদ্ধও বাধে। মাঝে মাঝে সবার পিতা কাশ্যপ চুপ করে থাকেন, এ বিষয়ে কাউকে কোন কথাই বলেন না।

    বিদ্যা-বুদ্ধিতে দেবতারা অনেক উন্নত। দৈত্য-দানবরা মহাশক্তিধর। কিন্তু দেবতাদের বুদ্ধির জোরে দৈত্য-দানবরা শক্তিশালী হয়েও প্রায় পরাজিত হত। তাই দিতি আর দনুর মনে শান্তি নেই। অদিতির ছেলেদের সবাই সুখ্যাতি করে, শ্রদ্ধা ও সমীহ করে। সেইজন্য অদিতির মনে না জানি কত অহংকার।

    ছেলেদের সুখ্যাতি হলে সকল মায়েরই অন্তর আনন্দে ভরে ওঠে। পুত্রদের জন্য অদিতির মনে ছিল সেই আনন্দ। কিন্তু দিতি আর দনু, সেই আনন্দকেই অহংকার ভেবে নিয়ে অন্তরের মধ্যে জ্বলেপুড়ে মরতে লাগল।

    অদিতির এই অহংকার আর সুখ কিভাবে নষ্ট করা যায়, তার উঁচু মাথাটা কিভাবে মাটিতে লুটিয়ে দেওয়া যায়–গোপনে সেই চিন্তাই করতে লাগল দিতি আর দনু। এমন সময় হঠাই সেখানে এসে হাজির নারদ। বললেন–মায়েরা, তোমরা কি চিন্তা করছ আমি জানি। এসব নিয়ে কেন নিজেদের কষ্ট বাড়াচ্ছ? পুণ্যকর্ম না করলে কি মনের মত ফল পাওয়া যায়? তোমরা আমার কথা যদি বুঝতে না পার তাহলে তোমাদের স্বামীদেবতা কাশ্যপকেই জিজ্ঞাসা করলে তো তিনিই তোমাদের বলবেন, এই বলেই দেবর্ষি নারদ সেখান থেকে চলে গেলেন।

    দিতি আর দনু নারদের কথা ঠিকমতো বুঝতে পারল না। স্বামী কশ্যপকে জিজ্ঞাসাও করল না! নিজেরাই পরামর্শ করতে লাগল, দনু দিতিকে বলল–অদিতি সবসময় স্বামীর কাছে কাছেই থাকে। আর তার নানাভাবে সেবা করে। তুমি আর তাকে কাছে ঘেঁসতে দিওনা। তুমি সব সময় তার কাছে কাছে থাক আর সেবা যত্ন কর। দেখবে স্বামীর মন তোমার উপর পড়বে নিশ্চয়।

    দনুর উপদেশটা দিতির মনে ধরল, কাশ্যপকে এভাবেই পুরোপুরিভাবে নিজের আয়ত্তে এনে মনের ইচ্ছা সফল করতে হবে। চিন্তামত কাজ শুরু করে দিল দিতি। সবসময় স্বামীর সেবাতেই ব্যস্ত রইল। সে সেবার কোনো ত্রুটি নেই। এইভাবে চলল বেশ কিছু দিন। প্রজাপতি কশ্যপ সন্তুষ্ট হলেন, দিতিকে বললেন–আমার অনেক পত্নীর মধ্যে অদিতিই কেবল আমার এতদিন সেবা যত্ন করত। তোমরা আর কেউ উৎসাহ দেখাতে না, কিন্তু এখন তুমি আমার সেবা যত্ন করে আমাকে খুব প্রীত করেছ, এখন তুমি কী বর চাও বল। কি পেলে তুমি খুশি হবে?

    স্বামীর কথায় দিতি খুব খুশি। বলল–স্বামী, আমি এমন এক পুত্র চাই, যে হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। ত্রিভুবন বিজয়ী হবে। সেই পুত্রকে কেউ কোনোদিন হারাতে পারবে না।

    –তাই হবে, বললেন–কশ্যপ। কিন্তু তার জন্য তোমাকে একটি ব্রত করতে হবে।

    দিতি বলল–সে ব্রত যত কঠোর হোক না কেন, আমি তা পালন করবই। বীরশ্রেষ্ঠ পুত্র আমার চাই-ই।

    কশ্যপ বললেন–মন দিয়ে শোন তাহলে দিতি, মন থেকে সকল রকম পাপচিন্তা দূর করে বারো বছর ধরে কঠোর সংযমের মধ্যে থাকতে হবে। যদি সক্ষম হও তা পালন করতে, তাহলে অবশ্যই আমি তোমার বাসনা পূরণ করব।

    বীর প্রসবিণী হওয়ার আশায় দিতি তাই করল। বারো বছর যাবৎ কঠিন সংযমের মধ্যে থেকে কাটাল সে, ব্রত পালনে কোনরূপ ত্রুটি নাই। সন্তুষ্ট হলেন কশ্যপ। দিতির গর্ভ সঞ্চার করলেন। তারপর উপদেশ দিলেন, যতদিন গর্ভে সন্তান থাকবে, ততদিন খুব কঠোরভাবে নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। সবরকম সদাচারে থাকতে হবে। মিথ্যে কথা বলা চলবে না। কখনও এলোচুলে থাকবে না। স্বামী ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের চিন্তা করবে না। উত্তরদিকে মাথা করে শোবে না। সন্ধ্যার সময় শয়ন করবে না। বাড়ি ছাড়া কোথাও যাবে না। জোরে হাসবে না। এইরকম বহু উপদেশ দিলেন কশ্যপ। আর বললেন–যদি নিষ্ঠার সঙ্গে এই নিয়মগুলি পালন করতে পার, তাহলে নিশ্চয় সুপুত্র লাভ করবে।

    এই কথা বলে তপস্যার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কালের জন্য কশ্যপ চলে গেলেন অন্যত্র। তখন দিতি ঋষি অগস্ত্যের আশ্রমে এসে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেন স্বামীর উপদেশ। দিন যায়, গর্ভ বৃদ্ধি পায়।

    দনুর পুত্র ময়দানব মায়াবিদ্যা বলে দিতির গর্ভের ব্যাপার জেনে ফেলল। দেবরাজ ইন্দ্রের সঙ্গে তার খুবই বন্ধুত্ব। চিন্তা করলেন দিতির সন্তান যদি নির্বিঘ্নে ভূমিষ্ঠ হয় তাহলে বন্ধুর ভীষণ বিপদ হবে। তাই এই ব্যাপারে ইন্দ্রকে জানান উচিত বলে মনে করল সে। দানবদের সঙ্গে দেবতাদের সব সময় শত্রুতা, কিন্তু খুব বুদ্ধিমান ইন্দ্র কৌশল করে ময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে নিয়েছিলেন। তার কারণ ময়ের বড় ভাই নমুচি তখন দানব প্রধান। একবার সে স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করলে দেবতাদের সঙ্গে বাধে তুমুল যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে ইন্দ্র পরাজিত হয়ে প্রাণ ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে লাগলেন। তাকে পালাতে দেখে নমুচি তার পিছে ধাওয়া করল। পেছনে নমুচিকে আসতে দেখে ইন্দ্র প্রাণ বাঁচাতে ঢুকে পড়লেন সমুদ্রের ফেনার মধ্যে, তারপর নমুচি সেখানে এসে তাকে আক্রমণ করলে ইন্দ্ৰ বজ্রের আঘাতে সেখানে নমুচিকে শেষ করে দিলেন। এভাবে দাদার মৃত্যুতে ময় খুব ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করল যেমন করেই হোক এর প্রতিশোধ নেবে। তাই সে শুরু করে দিল বিষ্ণু ও অগ্নির তপস্যা। সেই সময় সে কোন প্রার্থী এলে, তাকে তার ইচ্ছামত দ্রব্য প্রদান করতে লাগল। আর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু আর অগ্নিদেব তাকে দিল নানা বিধ অস্ত্রশস্ত্র। আবার বিষ্ণু ময়কে মায়াবিদ্যা দান করলেন।

    মায়ের এই সাধনার কথা ইন্দ্র শুনেই তার একেবারে হৃদকম্পন শুরু হল। চিন্তা করলেন, কেমন করে তপস্যা নষ্ট করা যায়। ভাবতে ভাবতে একটি উপায় স্থির করে ব্রাহ্মণবেশে ময়ের কাছে গিয়ে উপস্থিত। ব্রাহ্মণকে প্রার্থীরূপে দেখে ময় জিজ্ঞাসা করল, কি পেলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। ইন্দ্র চাইলেন, একমাত্র বন্ধুত্ব। আজব এই প্রার্থনা কিন্তু উপায় তো নাই। যে যা চাইবে ময় তাকে তাই দেবে, আর না দিলে সত্য রক্ষাও হয় না। দানব হলে কি হবে, সত্যভ্রষ্ট হতে কিন্তু ময়ের খুব ভয়। তাই বন্ধুত্ব স্বীকার করল, আর জানতে চাইল পরিচয়।

    আত্মপ্রকাশ করলেন ইন্দ্র। সর্বনাশ, যাকে নিধন করার জন্য এই সাধনা, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কি আর করা যাবে। কথা যখন দিয়েছে তখন পালন করতেই হবে।

    সেই থেকে ময় হল ইন্দ্রের বন্ধু। এখন ইন্দ্রের জন্য যে কোন কাজ করতে ময় প্রস্তুত। দিতির গর্ভের সংবাদ দিল ময় ইন্দ্রকে। খবরটা শুনেই ইন্দ্র যেন মুষড়ে পড়ল। দিতির পুত্রই তাহলে স্বর্গের অধিপতি হবে।

    ময় বলল–এত মুষড়ে পড়লে চলবে না, একটু শক্ত হও আমার কথা শোন। বন্ধু, তুমি এখন কাশ্যপের আশ্রমে চলে যাও। সেখানে তোমার সম্মা দিতির সেবাযত্ন কর, যেমন নিজের মায়ের মত, তারপর সুযোগ পেলে তার গর্ভের সন্তানকে বিনষ্ট করে দাও। গর্ভের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাক। অপূর্ব যুক্তি বন্ধু ময়ের খুব প্রশংসা করেই চললেন।

    কাশ্যপের আশ্রমে দেবরাজ মনপ্রাণ দিয়ে সেবা করতে লাগলেন দিতির। আর খুঁজতে লাগলেন সুযোগ। ইন্দ্রকে এভাবে পরিচর‍্যা করতে দেখে দিতি অবাক হলেন। কিন্তু সে যে তার কোন ক্ষতি করতে পারে এটা কিন্তু কখনও ভাবতেও পারলেন না। যথারীতি কশ্যপের উপদেশ মেনে চলে দিতি, ত্রিভুবনবিজয়ী পুত্রলাভের আশায়।

    একদিন খুব ক্লান্তি এসেছে দিতির। তখন সন্ধ্যাবেলা। চোখে যেন ঘুম জড়িয়ে আসছে, শুয়েই পড়লেন বিছানায় উত্তর দিকে মাথা রেখে। আর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বামীর নিয়মের কথায় কখন যেন বিস্মৃত হলেন।

    ইন্দ্র সুযোগ পেয়ে গেলেন। কালবিলম্ব না করে ইন্দ্র প্রবেশ করলেন দিতির গর্ভের মধ্যে। সূক্ষ্ম আকারে বজ্র মারলেন শিশুর উপর। শিশুটি সাত টুকরো হয়ে গেল। আর্তনাদ করে উঠল। আমার তো এখনও জন্ম হয়নি। আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। তাহলে কেন আমাকে মারবার জন্য বজ্র প্রয়োগ করলে, তা ছাড়া আমি তো তোমার ভাই, আমাকে এভাবে অসহায় অবস্থায় যে মারলে তাতে কি তোমার সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তুমি তো সাধারণ ব্যক্তি নও, ত্রিভুবনের অধিপতি, তোমার দ্বারা এমন হীন অন্যায় কাজ করা কখনও উচিত হয়নি।

    ইন্দ্র ভাবলেন, একটা বাচ্চাকে সাত টুকরো করলাম, এখনও দেখছি সাতটি জীবন্ত ছেলে হয়ে চিৎকার করছে। মা রুত কাঁদতে থাকেন, তাকে থামাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু তারা শুনল না ইন্দ্রের কথা, ইন্দ্রও শুনলেন না তাদের কথা। আবার অস্ত্র প্রয়োগ করে এক এক টুকরোকে আবার সাতটি করে টুকরো করলেন। হয়ে গেল উনপঞ্চাশ খণ্ড কিন্তু তবুও কেউ মরল না। প্রজাপতি কশ্যপের অক্ষয় বীর্য। তাকে বিনাশ করবে কার সাধ্য আছে। সেই উনপঞ্চাশ জনই চিৎকার শুরু করে দিল।

    সেই চিৎকারে দিতির ঘুম ভেঙে গেল। বুঝতে পারল, ইন্দ্র শান্তশিষ্ট সেজে তার সেবাযত্ন করতে এসে কি সর্বনাশই না করল। তার সব আশা ব্যর্থ হয়ে গেল। অভিশাপ দিলেন ইন্দ্রকে। ইন্দ্রের অপকর্ম কাশ্যপও জানলেন। তিনিও ইন্দ্রকে অভিশাপ দিলেন। ধ্যানযোগে কশ্যপে জানতে পারলেন, ছুটে এলেন অগস্ত্যের আশ্রমে। তার পুত্র হয়ে ইন্দ্র এমন কুকাজ করল? ইন্দ্র দিতির গর্ভের মধ্যে বসেই বাইরের সব কাণ্ড শুনলেন। ভয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারলেন না। কিন্তু পিতা কশ্যপ এসে ডাক দিলেন, ইন্দ্র কোথায়, বেরিয়ে এস, অগত্যা ইন্দ্র বেরিয়ে এলেন। খুব তিরস্কার করলেন কশ্যপ। কি আর বলবেন ইন্দ্র মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।

    তারপর সবাই বসে চিন্তা করতে লাগলেন–এখন কি করা যায়। সবাই মিলে ব্রহ্মকে স্মরণ করলেন। ব্রহ্মা এসে সবকিছু অবগত হলেন। বললেন–এখন তার দ্বারা কিছু হবে না। মহাদেবের স্মরণ নেওয়া হোক। তখন সবাই মিলে স্তব স্তুতি করলেন মহাদেবকে। মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে ইন্দ্রকে শাপমুক্ত করলেন। আর দিতির গর্ভের ঊনপঞ্চাশ জন সন্তানকে মরুত নামে অভিহিত করলেন। অমরত্ব লাভ করল তারা, দেব সমাজে ঠাঁই পেল।

    দিতির মনে আশা ছিল ত্রিভুবন বিজয়ী সন্তান লাভের। তা আর হল না। তবে তার পুত্রগণ অমর হয়ে দেবতার আসনে বসতে পেল, এটাও কিছু কম নয়।

    মহামুনি দধীচির কাছে দেবতাগণ অস্ত্র সংরক্ষণ, মুনি কর্তৃক অস্ত্রের তেজ গ্রহণ ও স্বেচ্ছায় তনুত্যাগ। মুনির অস্থিতে বজ্র নির্মাণ, ঋষিপত্নী লোপামুদ্রার প্রাণত্যাগ, সুধাপানে সন্তানের জীবনধারণ, নাম পিপ্পলাদ, পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে শিবের ধ্যান। শিবের তৃতীয় নয়ন থেকে কৃত্যার আবির্ভাব, স্বর্গপুরী ধ্বংস দেবতাগণের পলায়ন। পিপ্পলাদের পিতা মাতাকে দর্শন ও উপদেশ লাভ–

    ভাগীরথী নদীর তীরে বিশেষ শান্ত পরিবেশে দধীচি মুনির আশ্রম। দৈত্য দানবেরা কোনরূপ উপদ্রব করতে পারে না। যে-কোন অতিথি আসুন না কেন মুনিবর সবাইকে সমাদর করতেন। তাই সবাই দধীচি মুনিকে খুব শ্রদ্ধা করত। পতিব্রতা লোপামুদ্রা তারই ভার্যা। স্বামীর মত তিনিও সেবা-পরায়ণা, স্বামীর সকল কাজেই হাত লাগাতেন তিনি।

    একদিন সূর্যদেব, রুদ্র অশ্বিনীকুমার, বিষ্ণু, যম, ইন্দ্র, আদি দেবতাগণ তাঁর আশ্রমে এলেন। কি সৌভাগ্য! মুনির আর আনন্দ ধরে না। কেমন করে সেবা করবেন তাদের, সেই নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন দধীচি মুনি। দেবতারাও সেই মুনিকে সমাদর করে বললেন–মুনিবর, আমাদের সেবার জন্য এত ব্যস্ত হবেন না। আমরা একটা বিশেষ প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি, সেটা মিটিয়ে এক্ষুনি চলে যাব।

    দেবতারা আজ অতিথি মুনির আশ্রমে, তাদের কোনও নিষেধ তিনি শুনলেন না। তাই যথাযোগ্য সমাদরে পাদ্য, অর্ঘ্য, আসনাদি দিয়ে তাদের পূজা করে বললেন– এবার বলুন, আপনারা কোন্ প্রয়োজনে আমার কাছে এসেছেন? আপনাদের জন্য আমি কী করতে পারি? আমার সাধ্যের মধ্যে হলে আমি নিশ্চয় তা পূরণ করব।

    দেবতারা বললেন–দানবদের সঙ্গে সবেমাত্র যুদ্ধ শেষ হল। এবারের যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। আমাদের এই যুদ্ধের পর বহু শক্তিশালী অস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু এমন কোনও নিরাপদ স্থান আমাদের নেই যেখানে নিশ্চিন্তে ওগুলি রেখে দিতে পারি। তাই এলাম আপনার কাছে। আপনার এই আশ্রমে দৈত্য দানবরা কখনও আসতে সাহস করে না। আপনি যদি এই অস্ত্রগুলি রেখে দেন, তাহলে খুব ভালো হয়। আবার প্রয়োজন হলে নিশ্চয় নিয়ে যাব।

    দেবতাদের কথায় মুনিবর সঙ্গে সঙ্গেই রাজী হলেন। তখন অস্ত্রগুলি সেখানে রেখে দেবতারা ফিরে গেলেন স্বর্গে।

    কিন্তু স্বামীর সঙ্গে একমত হতে পারলেন না লোপামুদ্রা। মুনিকে বললেন–আমার মনে হয় দেবতাদের কথায় এভাবে হঠাৎ রাজি হওয়া আপনার উচিত হয়নি। আমরা আশ্রমবাসী, আশ্রমে কেন অস্ত্র শস্ত্র থাকবে? আমাদের শত্রু কেউ নেই।

    লোপামুদ্রার কথা শুনে দধীচি মুনি বললেন–কাজটা হয়তো ঠিক হয়নি। কিন্তু দেবতাদের কথা ফেলব কেমন করে? লোপামুদ্রা বললেন–অস্ত্রগুলি যদি কোনো কারণে হারিয়ে যায় কিংবা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কি হবে? দেবতারা ফেরৎ চাইলে দেবেন কেমন করে?

    এবার দধীচি মুনির টনক নড়ল, বললেন–ঠিক বলেছ লোপামুদ্রা, কিন্তু দেবতাদের কথায় না বলব কেমন করে?

    যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন উপায় কী? যত্ন করে রেখে দেওয়া ছাড়া আর কী করা যাবে? দেখতে দেখতে তিন লক্ষ ষাট হাজার বছর কেটে গেল। দেবতারা এর মধ্যে একটিবারও এলেন না মুনির আশ্রমে। অস্ত্রগুলি ক্রমশ ক্ষয় হতে লাগল দেখে মুনি বড় সমস্যায় পড়লেন। তাই একদিন মুনি তার ভগ্নি সভস্তিনীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বসলেন। (যার ডাক নাম বক) বড় মহীয়সী নারী, তিনি থাকেন মুনিরই আশ্রমে। কী আর পরামর্শ দেবেন তিনি, কেবল উদ্বেগই বাড়ল।

    দিনে দিনে অস্ত্রগুলি প্রভাহীন আর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে দেখে সেগুলি সঠিকভাবে রক্ষার জন্য একটা উপায় স্থির করলেন মুনি নিজেই, যার ফলে দেবতারা যখন অস্ত্রগুলি চাইবে, তখন ঠিক পূর্বের মতই যেন দিতে পারেন। এবার তিনি মন্ত্রঃপুত জল দিয়ে অস্ত্রগুলি ধুয়ে ফেললেন। সেই ধৌত জলের সঙ্গে বেরিয়ে এল অস্ত্রের তীব্র তেজ। কোনো দ্বিধা না করেই দধীচি মুনি তা পান করে নিলেন। অস্ত্রগুলি তেজহীন হল। আর সেই সব তেজ জমা হয়ে রইল মুনির দেহের মধ্যে আর কোনো চিন্তা নাই মুনির।

    এই কাজের পর দেবতারা এসে হাজির দধীচির আশ্রমে। চাইলেন তাদের অস্ত্র। বললেন–অসুরেরা আবার আমাদেরকে আক্রমণ করেছে, তাই অস্ত্রগুলি নিতে এলাম।

    দধীচি মুনি দেবতাদের কথা শুনে বললেন–আপনারা এতদিন আসছেন না দেখে আমার খুব ভয় হয়েছিল, যদি দানবেরা এসে ওগুলি লুট করে নিয়ে যায়। তাই আমি ওগুলোকে অকেজো করে সব দিব্যশক্তি পান করে দেহাস্থিতে ধরে রেখেছি। আপনাদের ওই পুরনো অস্ত্রের তেজ আমি ফিরিয়ে দিতে পারব না।

    মুনির কথা শুনে দেবতারা স্তম্ভিত হলেন, এখন উপায় কী?

    মুনিবর একটু চিন্তা করে বললেন–একটা উপায় আছে। যোগবলে আমি আমার দেহ ত্যাগ করব। আপনারা আমার প্রাণহীন দেহ থেকে যেমন খুশি অস্ত্র তৈরি করে নিন।

    মুনির এমন কথা শুনে দেবতারা অবাক হলেন, একি সম্ভব? আমাদের জন্য একজন খ্যাতনামা মুনি প্রাণ বিসর্জন দেবেন?

    দেবতাদের মুখের ভাবে মুনিবর বললেন–এতে ইতস্তত করার কী আছে? আমার দেহ দিয়ে যে অস্ত্র তৈরি হবে তা দিয়ে অত্যাচারীরা বিনষ্ট হবে, সর্ব স্থানে শান্তি ফিরে আসবে। এ তো আমার পরম সৌভাগ্যের কথা। আত্মদানের এমন সুযোগ কে হাতছাড়া করতে চায়?

    মুনির কথা শুনে দেবতারা আর কী বলবেন? মৌনী হয়ে সম্মতি জানালেন। যোগাসনে বসলেন দধীচি মুনি, পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার সংযোগ ঘটিয়ে দিলেন। পড়ে রইল নিষ্প্রাণ দেহ। তাই নিয়ে চলে গেলেন দেবতারা। দিলেন বিশ্বকর্মাকে। তারপর বিশ্বকর্মা শক্তিশালী মুনির অস্থি দিয়ে তৈরি করলেন এক ভয়ংকর বজ্র। তখন অসুরাধিপতি ছিলেন বৃত্র। ইন্দ্রের দ্বারা নিক্ষিপ্ত হয়ে সেই বজ্র বৃত্রকে সংহার করল। মহামুনি দধীচির কীর্তি ত্রিভুবনে প্রচারিত হল।

    আশ্রমে বসে দধীচি মুনি যখন স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করেন, সেই সময় মুনিপত্নী লোপামুদ্রা মন্দিরে উমার অর্চনায় ব্যস্ত ছিলেন। ফিরে এসে দেখলেন স্বামীর প্রাণহীন দেহ। তারপর শুনলেন সকল কথা, শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন তিনি। মনে পড়ল তাঁর বহুপূর্বের কথা, যেদিন দেবতারা এসেছিলেন তাদের অস্ত্রশস্ত্র তার স্বামীর কাছে রাখবার জন্য, বুঝতে পেরেছিলেন তিনি, কোন বিপদ ঘটতে পারে। সত্যই হল তাই। কিন্তু আর উপায় কী আছে। স্বামী ছাড়া তিনি বাঁচবেন কেমন করে? ঠিক করলেন এ দেহ আর রাখবেন না। অগ্নিতে বিসর্জন দেবেন। কিন্তু তার গর্ভে যে মহানমুনি দধীচির সন্তান। তাকে নিয়ে যে মরা হবে না। তাই তিনি যোগবলে সঙ্গে সঙ্গেই গর্ভাশয় থেকে শিশুটিকে বের করে একটি পিপ্পল গাছের তলায় রেখে দিয়ে গঙ্গা ধরাদেবী আর আশ্রমের বৃক্ষলতাদের আহ্বান করে বললেন–এই শিশুকে রেখে যাচ্ছি তোমাদের কাছে। তোমারই এর রক্ষক হলে।

    তারপর লোপামুদ্রা অগ্নিতে প্রবেশ করে প্রাণ বিসর্জন ছিলেন। সকল আশ্রমবাসী হাহাকার করে উঠল। আশ্রমের বৃক্ষলতা, জীব-জন্তুগণও নীরবে কাঁদল। তারা যে এমন মা বাবা উভয়কেই হারাল।

    গর্ভধারিণী চলে গেলে সদ্যজাত শিশু বাঁচবে কেমন করে? ওষধি লতা-বৃক্ষাদির অধিপতি সোমদেব সুধার অধিকারীও তিনি। সবাই তো সোমদেবের কাছে গিয়ে সদ্যেজাত মাতৃহারা শিশুর প্রাণ রক্ষার জন্য আবেদন জানালেন। কোন দ্বিধা না করে সোমদেব দিয়ে দিলেন সুধা। সেই সুধা পান করে শিশু বড় হতে লাগল।

    পিপ্পলবৃক্ষই তার সজাগ দৃষ্টি রাখল শিশুটির উপর। তাই শিশুটি পিপ্পলাদ নামে পরিচিত হল। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল পিপ্পলাদ। বড় হয়ে মনে প্রশ্ন জাগল তার গাছের মা-বাবা গাছ। যে পশু, তার মা বাবা পশু। মানুষের বাবা মা তো মানুষ হবে। কিন্তু সে মানুষ হয়েও তার মা এই পিপ্পল গাছ? ছোট্ট বালক মনের তোলপাড় করা এই সমস্ত প্রশ্ন একদিন পিপ্পলকেই জিজ্ঞাসা করল পিপ্পলাদ। পিপ্পলি কোনও কথা গোপন না রেখে সব জানিয়ে দিল। শুনতে শুনতে পিপ্পলাদের চোখে জল এল। ক্রোধে রাঙা হয়ে উঠল মুখ। এত বড় অন্যায় করল দেবতারা। তাদের জন্যই প্রাণ দিতে হল পিতাকে। আর পিতার অভাবে মাও চলে গেলেন। আমি তাদের পুত্র হয়ে এই অন্যায় সহ্য করব না। প্রতিশোধ নেবই।

    পিপ্পলাদকে ক্রোধান্বিত হতে দেখে পিপ্পল তাকে সোমদেবের কাছে পাঠিয়ে দিল। পিপ্পলাদ গেল সোমদেবের কাছে। শুনল একই কথা। সোমদেব কিন্তু সাবধান করে বলল–বাবা, তুমি, দেবতাদের চেন না, মহাশক্তিশালী তারা। প্রতিশোধ নিতে হলে তোমাকেও মহাশক্তিধর হতে হবে। তুমি এখনও বালক। আগে যুদ্ধবিদ্যা আয়ত্ত কর, শক্তি লাভ কর, তারপর না হয় প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করবে।

    কথাটা যুক্তিপূর্ণ মনে হল পিপ্পলাদের। জিজ্ঞাসা করল–আপনি বলুন, কার কাছে আমি এসব বিদ্যা শিখতে পারব?

    সোমদেব বললেন–এসব বিদ্যা শিখবার জন্য তুমি মহাদেবের কাছে যাও। গোদাবরী নদীর তীরে দণ্ডকারণ্য, সেখানেই বসে তুমি শিবের আরাধনা কর। তাকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই তোমার সিদ্ধিলাভ হবে।

    সোমদেবের কথামত পিপ্পলাদ বসল গভীর ধ্যানে। সন্তুষ্ট হলেন শিব। আবির্ভূত হয়ে পিপ্পলাদকে বললেন–বৎস! পিপ্পলাদ কি তোমার প্রার্থনা?

    পিপ্পলাদ বলল–আমি চাই পিতৃহত্যার প্রতিশোধ অর্থাৎ দেবতাগণের বিনাশ।

    মহেশ্বর বললেন–বৎস। তুমি কি আমার তৃতীয় নয়ন দেখতে পাচ্ছো? যদি না পাও তাহলে আগে সেই চেষ্টা কর। তারপর অন্য কথা।

    পিপ্পলাদ আবার শুরু করল কঠোর তপস্যা। চলে গেল বহুকাল, ধীরে ধীরে তার চোখের সামনে প্রত্যক্ষ হয়ে উঠল শিবের তৃতীয় নয়ন। যা দিয়ে তিনি সমুদ্রের মধ্যে বিষকে ধ্বংস করতে পারেন। পিপ্পলাদের মনে আনন্দ আর ধরে না। এবার আমার কার্য সিদ্ধ হবে।

    কিন্তু বাধ সাধলেন পিসিমা গজস্তিনী, দধীচির ভগ্নী। বললেন–মন থেকে ঈর্ষা ত্যাগ কর। প্রত্যেকে যে যার নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করে। যার মনে ঈর্ষা থাকে তার নরকে গতি হয়। এ কথা আমার নয়, তোমার মায়ের। কাজেই দেবতাগণের প্রতি তোমার হিংসা করা তোমার উচিত নয়।

    কিন্তু কে শোনে কার কথা! মন তার তখন দেবনিধনে উন্মত্ত। দেবনিধন সংকল্পে অটল, সেই ইচ্ছাই জানাল শিবকে। শিব আর কি করবেন? তৃতীয় নয়নটি বিস্ফারিত করলেন। এক ভয়ংকর মূর্তি কৃত্যার সৃষ্টি হল। ঘোড়ার মত তার আকৃতি। জ্বলজ্বল করছে তার চোখ। লক লক করছে তার জিভ। সামনে যাকেই পাবে তাকেই যেন শেষ করে দেবে। বলল–কি করতে হবে আমাকে?

    পিপ্পলাদ বলল–যেখানে যত দেবতা আছে সকলকে বিনাশ কর। তার কথা শেষ হতে না হতেই সেই কৃত্যা বিনাশকল্পে হা হা করে এগিয়ে আসছে সেই পিপ্পলাদের দিকেই। পিপ্পলাদ তো অবাক! বলল–আমাকে কেন? আমি তো দেবতা নই। কৃত্যা বলল–দেবতার সেবায় অমৃত পান করে তুমিও দেবতা।

    নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে এনেছ। এখন উপায়? প্রাণ ভয়ে ছুটে চলল শিবের কাছে। পেছনে পেছনে ধাওয়া করে চলছে কৃত্যা। শিব কৃত্যাকে বাধা দিয়ে বললেন–পিপ্পলাদের ইচ্ছাতেই তোমার সৃষ্টি হয়েছে। তুমি পিপ্পলাদের কোনও ক্ষতি করবে না। আমার এখান থেকে তুমি এক যোজনের মধ্যে থাকবে না।

    অগত্যা কৃত্যা সেখান থেকে চলে গেল। যেখানেই যায়, সেখানেই শুরু হয়ে যায় দারুণ অগ্নিকাণ্ড, স্বর্গপুরেও ভীষণ ব্যাপার। সইতে পারল না দেবতারা। ছুটে এলেন শিবের কাছে। বললেন–হে প্রভু, আমাদের আপনি রক্ষা করুন। কৃত্যার দ্বারা স্বর্গপুরী পুড়ে এখন ছাই। আপনার বরে পিপ্পলাদ দুরন্ত হয়ে উঠেছে। আপনি ওকে একটু শান্ত করুন।

    মহাদেব বললেন–আপনারা আপাততঃ আমার কাছে এক যোজনের মধ্যে অবস্থান করুন। পিপ্পলাদকে শান্ত করা যায় কিনা দেখছি।

    শিবের কথামত দেবতারা সেইখানেই রয়ে গেলেন। শিব পিপ্পলাদকে ডেকে বললেন–শোন পিপ্পলাদ, তুমি কত বড় মহান ঋষির পুত্র, পৃথিবীর উপকারের জন্য তিনি স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ দান করেছিলেন। এমন মহান ব্যক্তির ছেলে হয়ে তোমার অন্যের উপর আক্রোশ করা উচিত হয়েছে কি? তাছাড়া দেবতাদের বিনাশ করে কি তুমি তোমার পিতা মাতাকে ফেরৎ পাবে?

    মহাদেবের কথা শুনে শান্ত হল পিপ্পলাদ। ভাবলেন–সত্যই তো দেবতাদের বিনাশ করে মা বাবাকে তো ফিরে পাব না। মন থেকে দূর করলেন ক্রোধ। আমার পিতা মাতাকে কত লোক শ্রদ্ধা করত। কত খ্যাতি তাদের। কিন্তু আমার এই পাপচোখে তাদের একটিবারও দেখতে পেলাম না। এমন হতভাগ্য আমি। পিপ্পলাদের মন কেঁদে উঠল। মনমরা হয়ে সে বসে থাকল।

    তাকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে শিব স্নেহ করে তাকে বললেন–তুমি কেন এমন করে মনমরা হয়ে বসে আছো? কি ভাবছ? আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করব।

    পিপ্পলাদ বলল–এমনই হতভাগ্য আমি মা-বাবাকে একটিবার দেখতেও পেলাম না। যদি একবার তাদের দর্শন পেতাম। যদি তারা আমাকে আশীর্বাদ করতেন, তাহলে মনে শান্তি পেতাম।

    শিব বললেন–পরের জন্য যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারেন, তাদের মৃত্যু নাই। তারা অমর, তাদের আর জড় দেহ থাকে না বটে, কিন্তু চিন্ময় দেহ ধারণ করে সদা বিরাজিত। তোমার যখন পিতা-মাতাকে দেখার এত ইচ্ছা, তাহলে দেখ আমি তোমাকে দিব্য দৃষ্টি দান করছি।

    সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে বিমান নেমে এল, সেই বিমানের মধ্যে বসে দধীচি মুনি তার ভার্য্যা লোপামুদ্রার সঙ্গে। পিপ্পলাদ চমকে উঠলেন। কে এঁরা। এঁরাই কি তার মা বাবা?

    বিমান থেকে নেমে দধীচি ও লোপামুদ্রা পিপ্পলাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন। পিপ্পলাদের আর বুঝতে বাকি রইল না। যে এঁরাই তার পিতা মাতা। লম্বা হয়ে ভূমিতে অর্থাৎ সাস্টাঙ্গে প্রণাম জানাল সে। তাদের চরণে। তারা স্নেহাশীষে ভরিয়ে দিলেন পুত্রের মন। আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠল পিপ্পলাদ।

    তারপর তারা উভয়েই পিপ্পলাদকে বললেন–শুন পুত্র, আমাদের কিছু উপদেশ। এই চরাচরে কোন কিছুই চিরকাল থাকে না। যতদিন তুমি এই ধরায় থাকবে, নিজের স্বার্থ ভুলে সকলের মঙ্গলের জন্য চিন্তা করবে। সবসময় চিন্তা করবে–এই জীবনটা তোমার একার জন্য নয়, সকলের জন্য। এখন তুমি নিজের আশ্রমে ফিরে গিয়ে বিয়ে করে সংসারী হও। এই কথা বলে মুনি দম্পতি ফিরে গেলেন সেই দিব্য বিমানে। অবাক হয়ে চেয়ে রইল পিপ্পলাদ। আর কোনও দুঃখ-ক্ষোভ নাই, ফিরে গেল আপনার আশ্রমে। পিতামাতার আদেশ যথাযথ ভাবেই পালন করে কালে এখন মহান ঋষিতে পরিণত হলেন পিপ্পলাদ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }