Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প3681 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫. তীর্থযাত্রা থেকে প্রত্যাগত কৃকলের পথিমধ্যে পিতৃবন্ধন দর্শন, পত্নীহস্তে অন্ন পাকানন্তর শ্রাদ্ধকারণে কৃকলের পিতৃমুক্তি

    তীর্থযাত্রা থেকে প্রত্যাগত কৃকলের পথিমধ্যে পিতৃবন্ধন দর্শন, পত্নীহস্তে অন্ন পাকানন্তর শ্রাদ্ধকারণে কৃকলের পিতৃমুক্তি

    ভারতবর্ষে প্রায় সকল তীর্থ দর্শন করে সঙ্গীসাথীদের নিয়ে কৃকল বাড়ি ফিরছেন, হঠাৎ পথের মাঝে এক বিরাট পুরুষকে দেখলেন, কৃকলের পিতৃ পুরুষগণকে তিনি বন্দী করে কৃকলকে বললেন–তোমার যথাযথ উত্তম পুণ্য লাভ হয়নি। তীর্থফলও তোমার নেই। এতদিন ধরে তীর্থ দর্শন করা তোমার বৃথা হল। তোমার নিজের সন্তোষলাভ হল কিন্তু উত্তম পুণ্যলাভ হল না।

    সেই বিরাট পুরুষের কথা শুনে কৃকল খুবই আশ্চর্য হয়ে বলল–কে আপনি? আমার পিতৃপুরুষগণকে আমার কোন্ দোষের জন্য বন্ধন করলেন? কেন আমার তীর্থযাত্রার ফল লাভ হবে না?

    তখন সেই বিরাট পুরুষ ধর্ম বললেন–যে নিজের পুণ্যতমা স্ত্রীকে ত্যাগ করে যায়, তার সব পুণ্যই বৃথা। যে স্ত্রী ধর্মশীলা পতিব্রতানিষ্ঠা, পুণ্যবৎসলা তাকে ত্যাগ করে যে ধর্মকর্ম করতে চেষ্টা করে, তার সব ধর্মকর্মই বৃথা হয়। সর্বসদাচারনিরতা, ধর্মসাধনা-তৎপরা পতিব্রতনিষ্ঠা এমন গুণশালী মহামতী স্ত্রী যার ঘরে, তার ঘরে মহাতেজা দেবগণ বিরাজ করেন। তার পিতৃগণ তার গৃহে অবস্থান করে সর্বদাই মঙ্গল চিন্তা করেন। তার গৃহে সমস্ত তীর্থক্ষেত্রই বিরাজমান। পুণ্যভাৰ্য্যার দ্বারাই গার্হস্থ্য-ধর্ম সিদ্ধ হয়, গার্হস্থ্য আশ্রয় করে সমস্ত জীব জীবনধারণ করে, গার্হস্থ্যর মত অন্য উত্তম আশ্রম আর হয় না। যেজন ভাৰ্য্যাহীন, তার গৃহ শ্মশানের সমান, যজ্ঞ দান তার কিছুই সিদ্ধ হয় না, সেই পুরুষের কোন ব্রতই সফল হয় না। ধর্ম সাধনের জন্য স্ত্রীর তুল্য কেউ নেই। ভাৰ্য্যা সম পুণ্য নেই, ভাৰ্য্যা মম সুখ নেই, ভাৰ্য্যা সম তীর্থ নেই।

    হে নরাধম, স্ত্রীকে ত্যাগ করে তীর্থে গেল পুণ্য সঞ্চয়ের জন্য, কিন্তু সেই তীর্থফল তোমার কোথায়? ভাৰ্যাহীন হয়ে তীর্থে যে শ্রাদ্ধ-দানাদি করেছ, তাতে কোন ফল হল না, বরং অনেক অপরাধ হয়েছে। সেই অপরাধের জন্যই তোমার পিতৃপুরুষগণকে আমি বন্ধন করেছি। তুমি স্ত্রী ব্যতীত যে শ্রাদ্ধান্ন দিয়েছ তা বৃথা হয়েছে।

    যে সুপুত্র শ্রদ্ধায় শ্রাদ্ধ দান করে, স্ত্রী শ্রাদ্ধান্ন প্রস্তুত করে, সেই শ্রাদ্ধকর্তা সুপুত্রের পিতৃগণ ঐ শ্রাদ্ধে তৃপ্তি লাভ করে। তুমি স্ত্রীকে বঞ্চিত করেছ। যেহেতু তোমার পিতৃগণ স্ত্রী ব্যতীত অন্যের প্রস্তুত অন্ন ভক্ষণ করেছে তাই এরা চোররূপে গণ্য হয়ে আবার কাছে বন্দী রয়েছে। স্ত্রী নিজের হাতে যে অন্ন পাক করে তা অমৃত সমান হয়। সেই অন্নই পিতৃগণ তৃপ্ত হয়ে ভোজন করে। স্ত্রী ব্যতীত পুরুষের ধর্ম সিদ্ধ হয় না। স্ত্রী বিনা যে ধর্ম তা বিফল।

    ধর্মের এই কথা শুনে কৃকল অতি বিনয়ের সঙ্গে বলল–হে ধর্মরাজ, আমি পত্নীকে তীর্থে না নিয়ে গিয়ে, আর তার হাতে প্রস্তুত করা শ্রাদ্ধান্ন না দিয়ে যে অপরাধ করেছি, তার থেকে কীভাবে মুক্ত হব? কেমন করে. আমার এই পিতৃপুরুষগণ উদ্ধার পাবে তা আমাকে বলুন।

    ধর্মরাজ বললেন–এখন তুমি গৃহে যাও কৃকল। তুমি গৃহে না থাকায় তোমার গৃহিণী খুবই দুঃখ ভোগ করছে। গৃহে গিয়ে সেই পতিব্রতাকে সান্ত্বনা দাও। তার হস্তে শ্রাদ্ধ দানাদি সম্পাদন করে, পুণ্যতীর্থ সমস্ত স্মরণ করে সুরোত্তম গণের অর্চনা কর। এতেই তোমার তীর্থযাত্রার ফল লাভ করবে।

    ধর্মরাজ কৃকলকে এই কথা বলে অন্তর্হিত হলেন। তারপর মহাত্মা কৃকল গৃহে এসে পতিব্রতা পত্নীকে দেখে খুব আনন্দ লাভ করল। সুকলাও গৃহাগত স্বামীকে দেখে আনন্দে তৎকালীন পুণ্য– মঙ্গলাচরণ করল।

    তারপর কৃকল এক দেবমন্দিরে পত্নীর সঙ্গে শ্রদ্ধা যুক্ত হয়ে পরম পুণ্যাবহ শ্রাদ্ধকাৰ্য্য সম্পন্ন করল।

    তখন ভগবান বিষ্ণু, ব্রহ্মা, মহেশ্বর এবং অন্যান্য দেবগণ পিতৃগণ এবং অন্যান্য দেবতাগণ আকাশমণ্ডলে সমাগত হয়ে সেই দম্পতিকে বললেন–তোমাদের মঙ্গল হোক তোমরা বর প্রার্থনা কর। আর মুনিরা সেই দম্পতির স্তব করলেন।

    কৃকল বলল–আমাদের কোন পুণ্য প্রভাবে বরদান করবার জন্য আপনারা এখানে সমাগত হয়েছেন?

    তার উত্তরে ইন্দ্র বললেন–হে কৃকল, তোমার এই পত্নী পতিব্রতা সুফলা পরম মঙ্গলময়ী, এই সত্যবলেই তুষ্ট হয়ে আমরা তোমাদের বরদান করবার জন্য এখানে এসেছি।

    তারপর ইন্দ্র সুফলাকে পরীক্ষা করবার জন্য যা যা চেষ্টা করেছেন এবং কিভাবে বিফল হয়েছেন সবকথা কৃকলের কাছে বললেন। কৃকল মহা আনন্দ লাভ করল সুফলার চরিত্র শুনে। তারপর তারা সব দেবতাকে প্রণাম জানিয়ে বলল–আপনারা যদি আমাদের প্রতি তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে যেন জন্মে জন্মে দেবতাদের প্রতি আমার ভক্তিমান থাকি। ধর্মে ও সত্যে আমাদের যেন অনুরাগ থাকে। আপনাদের প্রসাদে পিতৃপুরুষগণের সঙ্গে যেন আমরা বৈষ্ণবলোকে গমন করি।

    কৃকল এই বর প্রার্থনা করলে দেবতাগণ বললেন–তোমাদের প্রার্থিত সমস্তই লাভ হবে, এই কথা বলে সেই দম্পতির মাথায় পুস্পবৃষ্টি করে এবং তাদের স্তব করে নিজ নিজ ধামে গমন করলেন।

    মহাত্মা যযাতিকতৃক সত্যধর্মে প্রজাপালন তাঁকে স্বর্গধামে আনয়নের জন্য ইন্দ্র কর্তৃক মাতলিকে প্রেরণ এবং যযাতির অস্বীকার ও মর্ত্যধামেই স্বর্গের মতো সুখ সৃজন এবং পুনরায় কামাতিকে প্রেরণ করে যযাতিকে জরাগ্রস্তকরণ।

    নহুষের পুত্র সত্ত্বগুণান্বিত ধর্মশীল মহামতি যযাতি। যযাতির এই সব গুণের জন্য নহুষ তাকে রাজপদে অভিষিক্ত করে ইন্দ্রপদ লাভ করেন। রাজা হবার পর যযাতি সত্যধর্মে সকল প্রজাপালন করলেন। দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য্যের কন্যা দেবযাত্রী এবং দৈত্যরাজ বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠাকে বিবাহ করেন। এই দুজনের গর্ভে পাঁচজন পুত্র জন্মলাভ করে। প্রত্যেকেই পিতৃতুল্য পরাক্রমশালী। ধর্মানুসারে রাজ্য প্রতিপালনের জন্য ত্রিভুবনে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন যযাতি।

    একসময় দেবর্ষি নারদ স্বর্গধামে গিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে যযাতির সত্যধর্মের কথা বলে বললেন, তিনি বহু যজ্ঞ, বহু দান করেছেন। মহারাজ নহুষের থেকে যযাতি অধিক গুণসম্পন্ন।

    এই কথা শুনে দেবরাজ ইন্দ্র খুবই চিন্তিত হলেন। ভাবলেন–শত যজ্ঞ করে নহুষ আমার পদ লাভ করেছিলেন, শচীর বুদ্ধিবলে সে ইন্দ্রপদ থেকে ভ্রষ্ট হল। তার পুত্র যযাতিও আমার ইন্দ্রত্ব হরণ করতে পারে। কাজেই ঐ যযাতিকে যে-কোন ভাবে স্বর্গপুরে আনতে হবে।

    এই চিন্তা করে ইন্দ্র তার সারথি মাতলিকে যযাতির কাছে পাঠালেন তাকে স্বর্গে আনবার জন্য। মাতলি মর্ত্যধামে যযাতির রাজসভায় উপস্থিত হয়ে বললেন–হে রাজন, আপনি ইন্দ্রলোকে চলুন। স্বয়ং দেবরাজ আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে নিয়ে যাবার জন্য। মহাবীৰ্য্য পুরূরবা, বিচিত্তি, শিবি, মনু, ইক্ষবাকু, আপনার পিতা নহুষ, শান্তনু, ভরত, নরেশ্বর কার্তবীৰ্য প্রভৃতি নৃপতিগণ মর্ত্যে বহু যজ্ঞ সাধন করে স্বর্গে মহাসুখ ভোগ করছেন। আপনি ও অশীতি সহস্রবর্ষব্যাপী রাজত্ব করে বহু যজ্ঞে দান, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠান করেছেন। সেই পুণ্যগুণে আপনি স্বর্গে মহাসুখ ভোগ করুন। ইন্দ্রের সঙ্গে সেখানে সখ্য স্থাপন করুন। তাই আর দেরী না করে এই পাঞ্চভৌতিক দেহ পরিত্যাগ করে স্বর্গে চলুন।

    রাজা যযাতি মাতলির কথা শুনে তাকে বহুবিধ তত্ত্বকথা জিজ্ঞাসা করলেন। মাতলি পঞ্চভূতের সৃষ্টি ও লয়ে, স্বর্গ ও নরকে গতি, কর্মবিপাক, ধর্মের ফল, যমরাজকর্তৃক পীড়া প্রভৃতি বিষয়ের কথা বললেন। তারপর যযাতি বললেন–আমি শরীর ত্যাগ করব না, পার্থিব শরীর ব্যতীত আমি স্বর্গেও যাব না। বয়ঃ ক্রমের অনন্তকাল আমার অতীত হয়েছে। তবুও আমার দেহ ষোড়শ বর্ষ বয়স্কের যুবকের মত বলবীর্য রূপ সমন্বিত হয়ে শোভিত। গ্লানি, হানি, শ্রম, জরা, ব্যাধি কিছুই নেই। হে মাতলি, আমি প্রতিদিন হৃষীকেশের ধ্যান ও নামোচ্চারণ রূপ উত্তম রসায়ন পান করেছি। তাতেই আমার পাপব্যাধির নাশ হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণনামরূপ মহৌষধ এ সংসারে থাকতে মূঢ়গণ তা পান না করে পাপব্যাধি পীড়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ধ্যান, জ্ঞান, পূজা, দান ও পুণ্যের সাহায্যে আমার সাহায্যে আমার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ। গোবিন্দের প্রসাদে এইরকম দেহশুদ্ধি হয় বলেই আমি আর স্বর্গে যাব না। এই স্থানকে স্বর্গধামে পরিণত করব। আপনি স্বর্গে গিয়ে দেবরাজকে বলুন। আর কোন কথা না বলে মাতলি যযাতিকে নমস্কার করে প্রস্থান করলেন।

    তারপর মহারাজ যযাতি তার দূতদের আদেশ করলেন–হে দূতগণ, তোমরা আমার রাজ্যের সর্বত্র প্রচার কর, যাতে শ্রীহরির নাম সংকীর্তন সবাই করে। প্রজাগত যেন জড় বিষয় ত্যাগ করে অমৃতোসম ভাব, ধ্যান, পুণ্য তপ, যাগ, দান প্রভৃতির দ্বারা একমাত্র শ্রীমধুসূদনের আরাধনা করে।

    আর যে আমার আদেশ পালন করবেন না, তাকে চোরের মতন শাসন করবে।

    রাজার দূতেরা তার আদেশ সর্বত্র প্রচার করল। এই আদেশ শুনে সব প্রজারা তখন থেকে বিষ্ণুর পূজা, ধ্যান, গুণগান, মন্ত্র জপ করতে লাগল, প্রজারা বৈষ্ণবভাবে ভাবিত হয়ে জয়যুক্ত হল। এইভাবে রাজ্যশাসন করা যযাতির রাজ্যে দুর্ভিক্ষা, ব্যাধি এবং প্রজাদের অকাল মরণ হল না। প্রত্যেকের গৃহে বিষ্ণু মন্দির তুলসী কানন দেখা গেল। সকলের মুখে কৃষ্ণ, হরি, কেশব, মধুসূদন, মুকুন্দ, রাম, নরসিংহ, পদ্মনাভ, বাসুদেব, বামন, গোবিন্দ, হৃষিকেশ, শ্রীধর শ্রীপতি প্রভৃতি নাম উচ্চারিত হল। নারীরাও গৃহের কাজে ব্যস্ত থেকেও সর্বদা এই সব নাম উচ্চারণ করল।

    এইভাবে মহীতল বিষ্ণুলোক সদৃশ হল। জনগণ তখন সকলেই তরুণ শরীরে বহুবর্ষ জীবিত থাকত। সকলেই, নীরোগ, জ্ঞানবান যজ্ঞদান পরায়ণ দয়ালু, পরোপকারী হল। বিষ্ণুভক্ত ও নিত্য সর্বধর্ম পরায়ণ ছিলেন মহারাজ যযাতি। তাঁর রাজত্বকালে প্রজারা যমালয়ে যেত না। তারা সকলেই রাগ-দ্বেষ বর্জিত ছিল। যমদূতেরা সর্বত্র ভ্রমণ করেও কোন পাপীকে দেখতে পায় না। রাজা যযাতি তরুণের মতো প্রতিভাত হয়ে ক্রৌর প্রসাদে বহু কীর্তি ও যশঃ অর্জন করে পৃথিবীতে লক্ষ বৎসর রাজত্ব করলেন। ধর্মরাজের দূতেরা যযাতির রাজত্বে কোন পাপীকে না পেয়ে তারা যমালয়ে ফিরে ধর্মরাজকে যযাতির ধর্ম–ধর্মের কথা বলল। তিনি বিষ্ণুভক্ত, অতি পবিত্র, তিনি স্বর্গে পরিণত করেছেন পৃথিবীকে।

    তাই একদিন যমরাজ দেবরাজের সভায় গমন করে, দেবরাজ ইন্দ্রকে বললেন–পরম বৈষ্ণব মহাত্মা যযাতি সব মর্তবাসীকে বৈষ্ণবে পরিণত করেছেন। মর্ত্যলোকেই বৈকুণ্ঠ বিরাজ করছে। তারা কেউ পাপ করে না, মিথ্যা কথা বলে না। প্রত্যেকই কামক্রোধ বিজয়ী, দানশীল, ধর্মপরায়ণ এবং শ্রীহরির অর্চনায় রত।

    ধর্মরাজের কথা শুনে ইন্দ্র বললেন–আমি দেবর্ষি নারদের কাছে যযাতির বিষয় জানতে পেরে তাঁকে স্বর্গধামে আনার জন্য সারথি মাতলিকে পাঠাই, কিন্তু তিনি স্বর্গসুখভোগ চান না, তিনি ভূমণ্ডলকেই স্বর্গে পরিণত করেছেন। আমি তার কারণে তাই ভীত হয়ে আছি।

    ধর্মরাজ তখন বললেন–হে দেবেশ–যদি আপনি আমার হিত চান, তাহলে যে কোনভাবে যযাতিকে এখানে নিয়ে আসুন।

    ধর্মের কথা শুনে দেবরাজ ইন্দ্র চিন্তা করে কামদেব, গন্ধর্বগণকে মকরন্দ ও রতিকে আদেশ করে বললেন–যে, যেভাবেই হোক যযাতিকে স্বর্গে আনা চাই।

    দেবরাজের আদেশ পেয়ে কামাদিগণ যযাতির রাজসভায় উপস্থিত হয়ে, তাকে আশীর্বাদে অভিনন্দিত করে নাটকাভিনয়ের প্রস্তাব করল। যযাতির সম্মতি নিয়ে, বিপ্ররূপী বামন চরিত ও তার আবির্ভাব বিষয়ক অভিনয় অনুষ্ঠিত হল। জরা অপ্রতিম রূপবতী নারীর বেশ ধারণ করে সুস্বরে উত্তম সঙ্গীত পরিবেশন করল। তার সেই কন্দর্পমায়াময়গীত বিলাস, হাস্যললিত, দিব্যচরিত ও দিব্যভাবে মহারাজ মুগ্ধ হলেন।

    সেই অভিনয় দেখে রাজা যযাতি এমন মুগ্ধ হলেন যে, মল-মূত্র পরিত্যাগ করে পাদ প্রক্ষালন করেই আসনে বসলেন। সেই অবকাশে জরা তাকে ধারণ করলেন। কামদেব এইভাবে দেবরাজের হিতসাধন করলেন।

    নাটকাভিনয় শেষ হলে কামাদি সক্কলে প্রস্থান করলেন। আর ধর্মাত্মা যযাতি জরাভিভূত হয়ে অত্যন্ত কামাসক্ত হয়ে পড়লেন। বিষয়কর্মে পরান্মুখ হলেন। মহাত্মা যযাতির মৃগয়ায় গমনে কাম কন্যা দর্শনে মোহিত এবং আপন জরা পুত্র পুরুকে দান করে তার তারুণ্য গ্রহণপূর্বক কামকন্যাকে বিবাহ ও সুখভোগ শেষে পুরুকে তারুণ্যে প্রদান করে আপন জরা গ্রহণ করতঃ সর্ব প্রজাপুঞ্জের সঙ্গে স্বর্গাদিলোকে গমন।

    জরাভিভূত হয়ে মহারাজ যযাতি মৃগয়ার জন্য একদিন বনে গমন করেন। সেই সময় এক মৃগ তার কাছে আসে। স্বর্ণময়, সর্বাঙ্গসুন্দর চতুঃশঙ্গ সেই মৃগকে দেখে রাজা বধ করবার জন্য উদ্যত হলে, মৃগটি সেখান থেকে ছুটে পালাল। রাজাও তার পিছু পিছু ছুটতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর রাজা আর সেই মৃগটিকে দেখতে পেলেন না। রাজা সুশোভিত বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে একটি সুন্দর সরোবর দেখতে পেলেন। সেই সরোবর তটে এক গাছের তলায় রাজা বসলেন।

    সহসা এক নারীকণ্ঠের সুমধুর গান রাজা শুনতে পেলেন। এমন সময় দিব্যরূপা এক নারী রাজার কাছে এলে রাজা তাকে প্রশ্ন করলেন–কে তুমি? কার কামিনী? এখানে কিজন্য এসেছ? কিন্তু সেই বীণাধারিণী নারী কোন উত্তর না দিয়ে কেবল হেসে সেখান থেকে চলে গেল। রাজা তখন চিন্তা করলেন, এই নারী কে? কেন আমার কথায় কোন উত্তর না দিয়ে চলে গেল? মনে হয় যে মৃগটিকে আমি দেখেছি, সেই মৃগটি মায়াবলে নারীরূপ ধারণ করেছে। নিশ্চয় কোন দানবকুলের মায়ারূপ।

    রাজা যখন চিন্তা করছেন তখন সেই নারী আবার রাজার দিকে তাকিয়ে হেসে অন্তর্হিত হল। সেই সুমধুর গান আবার রাজার শ্রবণগোচর হলে সেই সংগীত অনুসরণ করে রাজা গিয়ে দেখলেন–জলের ওপর সহস্রদল পদ্মের ওপর বসে অতি মনোরমা এক নারী মধুরস্বরে গান গাইছেন। রাজা দেখে ভাবলেন, নিখিল চরাচরে এখন রমণীরত্ন আর নেই। এই সুন্দরী নারীর রূপ দেখে ও গান শুনে রাজার দেহ-মন কামাকুলিত হল। কামানলে দগ্ধ হয়ে রাজা ভাবতে লাগলেন কেমন করে এই কামিনী আমার ভোগ্যা হবে? এই পদ্মাননবালা যদি আমাকে আলিঙ্গন করে তবে আমার জীবন সফল হবে।

    এই চিন্তা করে সেই কামিনীকে উদ্দেশ্য করে রাজা যযাতি বললেন–কে তুমি শুভে? আমি যে রমণীকে আগে দেখেছি, সেই নারী কি তুমি? আমি চন্দ্র বংশীয় নহুষনন্দন যযাতি সপ্তদ্বীপের অধীশ্বর। হে ভদ্রে, তুমি আমার হও, আমার চিত্ত তোমাতেই আসক্ত। তোমার যা কাম্য, অবশ্যই আমি তা দেব। কামাহত হয়ে তোমার শরণ নিলাম, তুমি আমাকে পরিত্রাণ কর।

    মহারাজের এমন উক্তি শুনে সেই দিব্যনারী তার সখী বিমলাকে বলল–সমাগত রাজাকে আমার পরিচয় জানিয়ে দাও তুমি সখী।

    তখন বিশালা বলল–পুর্বকালে কামকে মহাদেব দগ্ধ করলে তার পত্নী রতিদেবী এই স্থানে রোদন করতে থাকেন। রতি প্রতি কৃপাপরবশ হয়ে তখন দেবতারা মহাদেবকে বলেন-হে মহাদেব, আপনি কামকে জীবিত করুন। না হলে রতি জীবনধারণ করতে পারবে না।

    মহাদেব বললেন–আমি কামের জীবন দান করব। কিন্তু সে কায়াবিহীন হয়ে থাকবে এবং মাধবের সখা হবে, তখন কন্দর্প জীবন লাভ করল। তারপর এই সরোবরে আগমন করল। এটি কামসরোবর। মদনদেব দগ্ধ হলে দুঃখ পীড়িতা রতির কোপ থেকে দারুণাকৃতি অনল উখিত হল। রতি সেই অনলে দগ্ধ হয়ে মোহ মূৰ্ছিত হয়ে অশ্রু মোচন করে। সেই সব অশ্রুবিন্দু থেকে জরার উৎপত্তি হয়। তা থেকে অনিষ্টকারক বিয়োগ নামে দুর্মেধা সৃষ্টি হয়। আর দুঃখ ও সন্তাপক নামে দুই ভ্রাতারও জন্ম হয়।

    হে মহারাজ, তারপর কেউ বলল, কাম এসেছে। তখন রতির কামকে দেখে অশ্রুপূর্ণ দুই চোখ থেকে আনন্দাশ্রু নির্গত হয়ে জলের মধ্যে পতিত হল। তাতে প্রীতি, খ্যাতি, লজ্জা এবং শান্তির সৃষ্টি হল। তার থেকে দুটি কন্যার জন্ম হল। তাদের নাম লীলা ও ক্রীড়া। তারপর রতির সঙ্গে যখন কামের একান্ত সংযোগ ঘটল, তখন রতির কামচক্ষু থেকে নির্গত আনন্দাশ্রু দ্বারা একটি সুন্দর পদ্মের সৃষ্টি হল। আর সেই সুপদ্ম থেকেই এই সুন্দরী ললনার জন্ম হল। এর নাম অশ্রুবিন্দুমতী। আমি বরুণের কন্যা বিশালা।

    হে রাজেন্দ্র, আমি এই সুন্দরীর জন্মবৃত্তান্ত ও আমার পরিচয় দিলাম। আমার এই সখী পতি কামনায় তপস্যা করছে।

    বিশালার কথা শুনে যযাতি বললেন–হে শুভে, তোমার কথা সমস্তই শুনলাম, এখন আমার কথা শ্রবণ কর, এই সুন্দরী রতিকন্যা আমাকে ভজন করুক। এই কন্যা যা আকাঙ্ক্ষা করবে, সবই তার প্রাপ্য হবে। যাতে ইনি আমার বশীভূত হন, হে কল্যাণী তুমি তেমন কর। রাজার কথা শুনে বিশালা বলল–আমার সখীর এক ব্রত আছে, মহারাজ, সর্বজ্ঞ, সুন্দর দেহ, বীরলক্ষণাক্রান্ত, ধর্মপরায়ণ, তেজস্বী, দাতা, ব্রাহ্মণের একান্ত প্রিয়, সুমতি এমন গুণসম্পন্ন বরকেই ইনি মনে মনে কামনা করেন।

    এই কথা শুনে মহারাজ যযাতি খুশি হয়ে বললেন–বিধাতা আমাকে তেমনই গুণসম্পন্ন করেই সৃজন করেছেন।

    রাজার কথা শুনে বিশালা বলল–হে রাজন্ আপনাকেই ত্রিজগতে পুণ্যবান বলে মনে করি। আপনার মধ্যে সমস্ত গুণ থাকলেও একটি মাত্র দোষের জন্য আমার সখী আপনাকে মনোনীত করবেন না, সেটি হল আপনার জরাগ্রস্ত দেহ। তাই তখনই আমার সখী আপনার প্রিয়া হবে, যখন আপনি জরাহীন দেহ হবেন। হে ভূপতে, আমি শুনেছি পুত্র, ভ্রাতা বা ভৃত্য, এদের কারোর ওপরে জরা সংক্রামিত করে তার তারুণ্য গ্রহণ করা যায়। অতএব আপনি পুত্রকে জরা দান করে তার তারুণ্য গ্রহণ করে সুন্দর রূপ ধারণ করে আমার সখীর কাছে আসুন।

    বিশালার মুখে এই কথা শুনে কামাসক্ত যযাতি গৃহে ফিরে আপন পুত্রগণকে ডেকে বললেন–হে পুত্রগণ, তোমরা আমার সুখানুষ্ঠান কর। আমার মন বর্তমান কামানলে দগ্ধ। তোমাদের মধ্যে যে কোনো একজন আমার জরা গ্রহণ করে আপন যৌবন আমাকে দান কর। আমি ইচ্ছামত কামিনী উপভোগ করি। যে আমার এই জরা গ্রহণ করবে, পরবর্তীকালে আমার রাজ্য সেই ভোগ করবে।

    পিতার বাক্যে যদু-আদি চারপুত্র বিভিন্ন তত্ত্বকথা বলে সেই আদেশে অসম্মত হলে কনিষ্ঠ পুত্র পুরু পিতার জরা গ্রহণ করল। আর যযাতি পুরুর তারুণ্য গ্রহণ করে নবযৌবন সম্পন্ন হলেন।

    তারপর রাজা যযাতি যুবকের মত নবকলেবর ধারণ করে কামাসক্ত হয়ে ঐ নারীর ধ্যান করতে করতে কামসরোবরে গমন করলেন। অশ্রুবিন্দুমতী সেই সরোবরেই ছিলেন। পরমানন্দে যযাতি তার সখীকে বললেন–জরা ত্যাগ করে, তরুণ দেহ ধারণ করে আমি এসেছি। তোমার সখী এখন আমার ভজনা করুক।

    বিশালা বলল–হে মহারাজ, আপনি জরা ত্যাগ করে এসেছেন, কিন্তু একটি দোষে আমার সখী আপনাকে মনোনীত করছেন না, আপনার দুই ভাৰ্য্যা বর্তমান। আপনি কিভাবে এর বশীভূত হবেন? অগ্নিতে প্রবেশ কিংবা পর্বত শিখরে থেকে পতনও ভাল, তবুও সপত্নী বিষসংযুক্ত স্বামী গ্রহণ করা উচিত নয়। আপনি গুণের সাগর হলেও আপনাকে কান্ত বলে মনে করা যায় না।

    রাজা বললেন–আমি কখনই ভাৰ্য্যান্তর সঙ্গ করব না। এই প্রতিজ্ঞা করছি আমি।

    তখন অশ্রুবিন্দুমতী বললেন–হে রাজন, এই অঙ্গীকারে আমি আপনার ভাৰ্য্যা হলাম। রাজা যযাতি এই কথা শুনে পরম আনন্দে তাকে গান্ধবর্মতে বিবাহ করলেন। তারপর তিনি সেই কামিনীর সঙ্গে বনে, উপবনে, সমুদ্রতটে বিংশতি সহস্র বৎসর সুখে বিহার করলেন।

    তারপর রাজা অশ্রুবিন্দুমতীর ইচ্ছায় পুত্র পুরুকে দিয়ে মহাযজ্ঞ সম্পাদন করলেন। এবার কামকন্যা ইন্দ্রলোক, ব্রহ্মলোক, শিবলোক আর বিষ্ণুলোক দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে মহারাজ যযাতি বললেন–প্রিয়ে, তুমি কৌতুকবশে যা অভিলাষ করেছ, আমার পক্ষে তা অসাধ্য, পুণ্য। দান, যজ্ঞ ও তপস্যা দ্বারাই এটি সাধন করা যায়। মর্তে এখন কোন ব্যক্তিকে আমি দেখিনি, যিনি মর্ত থেকে সশরীরে স্বর্গে গেছেন, তোমার অন্য কোন অভিলাষ থাকলে আমাকে বল, আমি অবশ্যই তা পূরণ করব।

    তার উত্তরে কামপুত্রী বললেন–আমি যা প্রার্থনা করেছি অন্যের কাছে তা অসাধ্য হলেও, আপনার কাছে তা অসাধ্য নয়। হে নৃপতি, তপস্যায়, যশস্বিতায়, বীর্য্যে, দানে, যজ্ঞে আপনার মতো মানুষ, এই মর্ত্যে আর একজনও নেই। আমি যা বলব তা আপনি করবেন, এই অঙ্গীকার করে আমাকে গ্রহণ করেছেন। এখন সেই অঙ্গীকার রক্ষা করছেন না কেন? এই কারণে আমি আপনাকে পরিত্যাগ করে পিতৃগৃহে যাব।

    রাজা বললেন–আমার কথিত বিষয় নিশ্চয় পালন করব, কিন্তু কেমন করে আশ্চৰ্য্য সাধন করব? আমার যা সাধ্য তা বল, আমি নিশ্চয় তা করব।

    তার উত্তরে অশ্রুবিন্দুমতী বললেন–হে নরেশ, আমি আপনার বশীভূত হয়েছি এই আশা করেই, যে আপনি সর্বলোক গমন করতে পারবেন। আপনি সকল গুণসম্পন্ন। এই আশাতেই আমি আপনাকে স্বামীরূপে বরণ করেছি। যার প্রতি বিষ্ণু প্রসন্ন আছেন, সে সর্বত্রই ভ্রমণ করতে পারে। আপনি যম ও ইন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ করে এই মর্ত্যকে ব্যাধি ও পাপহীন করেছেন। তাই আপনার মত নৃপতি এই জগতে আর নেই।

    যযাতি বললেন– হে প্রিয়ে, তোমার বাক্য সত্যি, আমার সাধ্য কিছুই নেই। শ্রীহরির কৃপায় সমস্ত সুলোকই আমার সাধ্য। আমার স্বর্গে যাওয়ার ইচ্ছা নেই একটি কারণে। স্বর্গে গেলে দেবগণ আমাকে আর মর্তে ফিরতে দেবেন না। আর আমি যদি না আসি তাহলে আমার বিরহে সমস্ত প্রজা মৃতবৎ হবে।

    কামকন্যা বললেন–আপনি আমায় ইষ্টলোক দেখিয়ে আবার মর্ত্যে আসবেন।

    তখন যযাতি চিন্তা করলেন–মানুষকে কালই কামে নিয়োগ করে কাল মানবকে দাতা, আবার কখনও যাচক করে। মন্ত্র, তপ, দান, মিত্র, কেউই কাল কবলিত মানবকে রক্ষা করতে পারে না। জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ–এই তিনটি যেখানে যখন যার দ্বারা সংঘটিত হবে, তার অন্যথা কখনও হবে না। সংসারে কর্মই সব। কর্মই পুরুষকে সুখ-দুঃখে প্রেরণ করে। স্বকৃত সুখ-দুঃখ সকলেই ভোগ করে।

    চিন্তিত রাজা যযাতিকে তখন রতিকন্যা অশ্রুবিন্দুমতী বললেন–হে রাজন, সব স্ত্রীলোক চপল হয়। কিন্তু আমি চপলতাবশে আপনাকে এভাবে পরিচালিত করছি না। আমার দেবলোক দর্শনের প্রবল ইচ্ছা। দেবদর্শন মানুষের পক্ষে দুর্লভ, কিন্তু মহাপুণ্যপদ, এতে যদি আপনার দুঃখ হয়ে থাকে, তাহলে থাক্ আর আমি বলব না। আপনাকে স্বর্গে যেতে হবে না। আমি এমন কাজ করব না যাতে আপনার দুঃখ হয়।

    তখন যযাতি বললেন–হে দেবী, আমি চিন্তা করছি যে, আমি যখন স্বর্গে যাব, তখন আমার প্রজাবৃন্দ দীন হয়ে যাবে। দুরাত্মা শামনরাজ ব্যাধির দ্বারা তাদের ত্রাস সৃষ্টি জন্মাবে। যাই হোক, তোমার সঙ্গে আমি স্বর্গে যাব।

    এই কথা বলে মহারাজ যযাতি তার জরাগ্রস্ত পুত্র পুরুকে ডেকে বললেন–হে পুত্র, তুমি এতদিন আমার জরা গ্রহণ করে অনেক কষ্ট ভোগ করেছ, আর তোমার তারুণ্য গ্রহণ করে আমি বহুকাল সুখভোগ করলাম। এখন এস, তুমি তোমার তরুণ্য গ্রহণ কর, আর আমি আমার জরা ফিরিয়ে নিই। আমার রাজ্যের অধিকারী হবে তুমি। ধর্ম অনুসারে প্রজাপালন করবে। দুষ্টের দমন ও সাধুর সেবা করবে। ত্রিজগতের পুজ্য ব্রাহ্মণদের ভক্তিভরে পালন করবে। বিচক্ষণ ব্যক্তির সঙ্গে মাঝে মাঝে নিজ কোষাগার পর্যবেক্ষণ করবে। প্রসাদ, ধন ও ভোজন দানে নিত্য নিজের সৈন্যদের সম্মানিত করবে। সব দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবে। নিজে সংযতাত্মা থাকবে। কখনও মৃগয়ায় গমন করবে না। স্ত্রীজন ও মহাবলশালী ব্যক্তিকে কখনও বিশ্বাস করবে না। যজ্ঞের দ্বারা শ্রীহরির অর্চনা করবে। প্রজাদের সুখ সুবিধার কথা সব সময় চিন্তা করবে। পরধন আর পরদারে কখনও লোভ করবে না। পূর্বপুরুষদের সব সময়ে অনুসরণ করবে। সর্বদা তুমি বেদ ও শাস্ত্র আলোচনা করবে।

    মহামতি যযাতি পুত্র পুরুকে জ্ঞানমূলক বহু উপদেশ দান করে আশীর্বাদ করে তাকে রাজসিংহাসনে বসালেন। তারপর প্রজাদের আহ্বান করে আনন্দের সঙ্গে বললেন–হে প্রজাবৃন্দ আপনারা, সুখে কাল যাপন করুন, আমি আমার পত্নীর সঙ্গে স্বর্গলোক, ব্রহ্মলোক, শিবলোক এবং সবশেষে বৈষ্ণবলোকে গমন করব।

    রাজার এই কথা শুনে প্রজারা দুঃখে ভেঙে পড়ল। তারা বলল–হে মহামতি রাজাধিরাজ আপনি যেখানে থাকবেন, আমাদেরও সঙ্গে সেখানে নিয়ে চলুন। আপনি বিনা আমাদের জীবনধারণের প্রয়োজন নেই। আপনি যেখানে সেখানেই আমাদের পরম সুখ। আমরা আপনার সঙ্গেই গমন করব। মহারাজ যযাতি প্রজাদের এমন কথা শুনে তাদের সবাইকে নিয়ে স্বর্গে গমন করলেন। ঋষিগণ, চারণগণ মহামতি যযাতির স্তব করতে লাগল। সবার সঙ্গে যযাতি যখন ইন্দ্রলোকে উপস্থিত হলেন, তখন দেবতা গন্ধর্ব ও চারণগণের সঙ্গে দেবরাজ ইন্দ্র তার সামনে এসে উপস্থিত হয়ে তাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর যযাতি ব্রহ্মলোক, রুদ্রলোক এবং বিষ্ণুলোকে গমন করলেন, সর্বত্রই তিনি পরম সম্মানিত হলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }