Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প3681 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. পার্বতীর তপস্যা ও শিবের সাক্ষাৎলাভ

    পার্বতীর তপস্যা ও শিবের সাক্ষাৎলাভ

    পিতা দক্ষের যজ্ঞসভায় সতী পতিনিন্দা শুনে সহ্য করতে পারেন নি। তিনি প্রাণত্যাগ করেন। তারপর জন্মগ্রহণ করলেন হিমালয়ের কন্যারূপে। তার নাম হল পার্বতী। তিনি পুনরায় শিবকে পতিরূপে পাবার অভিলক্ষিত হলেন। এর কারণে তিনি সখীর সঙ্গে শিবের সেবার জন্য হিমালয়ে যান। সেখানে মদন দহন দেখে তিনি ফিরে আসেন পিত্রালয়ে।

    তার এখন কিছুই ভাল লাগছে না। নিজের রূপকে ধিক্কার দিচ্ছেন। কোনো কাজেই আনন্দ পাচ্ছেন না। মুখে শুধু ‘শিব’ নাম উচ্চারণ করছেন।

    সেই সময় নারদ ঋষি তার কাছে আসেন। শিবকে পাবার একমাত্র উপায় তপস্যা, তা তিনি জানিয়ে দেন। কঠোর তপস্যা ব্যতীত তাঁকে বশীভূত করার অন্য কোনো উপায় নেই।

    পার্বতী তখন মহাদেবকে পাবার জন্য তপস্যা করবেন বলে ঠিক করেন। পিতা হিমালয়কে নিজের মুখে পতি বিষয়ক কথা বলতে তিনি লজ্জা পেলেন। তাই এই কথা বলতে তিনি দুজন সখীকে পাঠালেন পিতার কাছে।

    সখীরা হিমালয়ের কাছে গেল এবং বলল, গিরিরাজ আপনার কন্যা পার্বতী শিবকে পতিরূপে পাবার জন্য তপস্যা করবেন বলে মনস্থির করেছেন, দেবর্ষি তাকে এমন উপদেশ দিয়েছেন, অন্য কোন উপায়ে দেবাদিদেবকে লাভ করা যাবে না। তাই আপনি পার্বতীকে তপস্যা করার অনুমতি দিন।

    দুই সখীর কথা শুনলেন হিমালয়। বললেন, এতো পরম সৌভাগ্যের কথা। আমি খুব আনন্দিত হয়ে অনুমতি দিচ্ছি। তবে তার মা মেনকার অনুমতি নিলে ভাল হয়। যদি তিনিও অনুমতি দেন তাহলে আমাদের গোটা কুলই ধন্য হবে। এর চেয়ে মঙ্গলকর আর কি আছে?

    তখন দুই সখী পিতা হিমালয় রাজের অনুমতি নিল এবং তারপরে তারা পার্বতীর মায়ের কাছে গিয়ে বলল–আপনার কন্যা দেবাদিদেবকে পতিরূপে পাবার জন্য মহাদেবের তপস্যা করবেন বলে ঠিক করেছেন। এতে গিরিরাজ সম্মত হয়েছেন। এখন আপনিও যদি অনুমতি দেন তাহলে পার্বতীর মনোবাসনা পূর্ণ হবে।

    মেনকা সব শুনে দুঃখিত হলেন। কন্যা উমাকে ডেকে বললেন, তুমি পূর্বজন্মে অনেক তপস্যা করেছিলে তাই তুমি আমাদের কন্যা। পার্বতীর তপস্যা শুরু হল। তখন শিব একজন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করেন। এবং তারপরে তিনি পার্বতীর আশ্রমে যান।

    আশ্রমে অতিথিকে দেখে পার্বতী তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং ফলাদি খেতে দেন। ফুল দিয়ে অতিথির পূজা করেন। তারপর তাঁর কুশল জিজ্ঞাসা করলেন।

    তখন শিব নিজের আসল পরিচয় গোপন করলেন। পার্বতীর কাছে জানতে চাইলেন, দেবী তোমার এ আশ্রমে জল-ফলাদি সবসময় পরিপূর্ণ থাকে দেখছি। কিন্তু তুমি কেন নবীন বয়সে তপস্যা করছো? তাই তোমাকে জিজ্ঞেসা করতে চাই, তুমি তো সব বরই পেতে পারো, তাহলে এমন কী বর আছে যা পাবার জন্য তপস্যা করছো?

    লজ্জায় পার্বতী কিছু বলতে পারলেন না। তিনি হিমালয় নন্দিনী বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের জিজ্ঞাসার উত্তরে তাঁর প্রার্থিত অভিলাষ তার সখীদের দ্বারা ব্যক্ত করালেন। মহাদেবকে পাবার জন্যই এমন তপস্যা করছেন। এই গাছগুলি পার্বতী রোপণ করেছিলেন। সেগুলোই এখন ফল প্রদান করছে। কিন্তু আমার সখীর মনোবাসনার কোনো ফল দেখতে পাচ্ছি না।

    আমার সখী প্রথমে তার রূপের পসরা নিয়ে শিবের তপস্যা করেন। কিন্তু শিবকে রূপ দ্বারা বশ করা যায় না। তারপরে দেবর্ষি পরামর্শ দেন তপস্যা করার, এবং এজন্যই তিনি তপস্যা করছেন।

    সখীর মুখে সব কথা শুনলেন সেই ছদ্মবেশী মহাদেব। শুনে বললেন, এইসব কথা কি সত্য? নাকি পরিহাস? তখন পার্বতী বললেন, আমার সখী যা বলেছেন, তা সবই সত্য। আমি মনে মনে শিবকেই পতিরূপে বরণ করেছি। কোনো নারীর পক্ষে তাকে পতিরূপে পাওয়া পরম সৌভাগ্য।

    বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ পার্বতীর কথা শুনলেন। তিনি মনে মনে ভেবেছিলেন তার সঙ্গে মিত্ৰতা করবেন। কিন্তু এখন অন্যরকম মনে হচ্ছে। আমার সম্মান ও ভক্তির পাত্র হয়েছিলে তুমি। তোমার কথা শুনে সেই শ্রদ্ধা ভক্তি নষ্ট হয়ে গেল।

    এই কথা বলে বৃদ্ধ আসন ছেড়ে উঠে পড়লেন। তখন পার্বতী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার মধ্যে কি বিপরীত ভাব দেখতে পেলেন, আমাকে বলুন। তখন বৃদ্ধ তাকে সব বললেন, “তুমি তো সোনা ফেলে কাঁচের কদর করছো। চন্দন না মেখে কাদা মাখতে যাচ্ছো। হাতিকে বাদ দিয়ে বলদকে বাহন করতে চাইছ। গঙ্গার জল ফেলে দিয়ে কূপের জল পান করতে চাইছো। তুমি দেবতাদের বাদ দিয়ে দানব সহবাস চাইছো। তুমি দেবতাদের বাদ দিয়ে মহাদেবের প্রতি অনুরক্ত হয়েছে। এটা কিন্তু লোকবিরুদ্ধ কাজ করছ।”

    “হে কমলনয়না, তুমি কোথায় আর সেই শঙ্করই বা কোথায়? তোমার মুখ পূর্ণিমার চাঁদের মতো অতীব সুন্দর। আর শিব পাঁচমুখো, তোমার মাথার খোঁপা সৌন্দর্য আবর্তিত আর সেখানে শিবের মাথায় জটা। তোমার সারা গায়ে চন্দনের লেপন, কিন্তু শিব সারা গায়ে ছাই মেখে আছেন। তোমার গায়ে অলঙ্কার আর শিবের গলায় সাপ। এই দুয়ের কোন তুলনা হয়?”

    “তোমার সব আত্মীয়রা দেবতা। আর অন্যদিকে মহাদেবের পরিজন হল ভূত, পিশাচের দল। তাই বলছি তোমার সঙ্গে শিবের কোনো তুলনা হয় না। এবং মহাদেবের কোনো সম্পত্তি নেই। তিনি তো শ্মশানে ঘুরে বেড়ান আর তুমি হলে গিরিরাজের কন্যা।”

    তিনি সুন্দরী কন্যার পাত্র হবার কোন যোগ্যতা শিবের নেই। তাঁর কণ্ঠ বিষে পূর্ণ। তাকে সকলেই অনাদর করে। তাই তো তিনি বনে ঘুরে বেড়ান, তাঁর কোনো জাতের ঠিক নেই। কোন জ্ঞান বিদ্যাও তাঁর নেই। তাই তোমাকে বলছি তুমি তার সঙ্গে তোমার মনের যোগ ছিন্ন কর। অন্য কোন দেবতাকে পতিরূপে গ্রহণ করো।

    এমন ব্রাহ্মণের মুখে শিবের নিন্দা শুনে পার্বতী ক্রোধে জ্বলতে থাকলেন। তিনি বললেন, ব্রাহ্মণ আপনি শিবের বিষয়ে কিছুই জানেন না। আমার মনে হচ্ছে আপনি কোন ছদ্মবেশী ব্রাহ্মণ। যাইহোক শিবের প্রকৃত গুণ আমার কাছ থেকে শুনে নিন।

    শিব পরম মঙ্গলময়, নির্গুণ, কখনো কখনো কারণবশে সগুণ হন। তিনি তো সদাশিব। তাই সকল বিদ্যাই তাতে অধিষ্ঠান করে। তাই তিনি পরমাত্মা এবং এইজন্য তাঁর বিদ্যার প্রয়োজন হয় না। তার থেকেই প্রকৃতির উদ্ভব। তাই তার শক্তির হিসাবের প্রয়োজন কি?

    যে নিত্য শিবের আরাধনা করে তার শক্তির বিকাশ হয়। তার সেবা করে মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকে জয় করে। তাই তিনি মৃত্যুঞ্জয়। যারা পাপী হয় তারা শিবের আসল তত্ত্ব জানতে পারে না। যারা শিবের প্রকৃত তত্ত্ব না জেনে তার নিন্দা করেন তার সকল পুণ্য নষ্ট হয়ে যায়।– পার্বতী ক্ষোভের সঙ্গে এই কথাগুলি বললেন। তারপর তার সখীকে বললেন, এই শিব নিন্দুকের মুখ আমি দেখতে চাই না। শিবের যে নিন্দা করে, আর যে সেই নিন্দা শোনে তারও পাপ হয়। আমার মনে হচ্ছে এই বিপ্র আবার শিবনিন্দা করবেন। তাই চলো, আমরা অন্য কোথাও চলে যাই।

    পার্বতী তাঁর সখীদের সাথে চলে যাবার উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখনই ব্রাহ্মণ সাক্ষাৎ শিবমূর্তি ধারণ করলেন, এবং পার্বতীর হাত ধরে তাকে আটকালেন।

    এতদিন পার্বতী যে মূর্তির ধ্যান করেছেন, সেই মূর্তি তিনি চোখের সামনে দেখে লজ্জা পেলেন। তখন শিব তাকে বললেন, প্রিয়ে, তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে? আমি তোমার তপস্যায় প্রসন্ন হয়েছি। এখন বর চাও। এখন আমি তোমার প্রেমের দাস হলাম। এবার তুমি লজ্জা ত্যাগ করো। চলো আমার গৃহে নিয়ে যাই।

    তখন লজ্জাবনত পার্বতীর হয়ে তার সখীরা মনের কথা বললেন–এখন আপনার অনুমতিতে পিতৃগৃহে যাচ্ছি। কীর্তিমান পুরুষেরা যেমন বিবাহ করেন, ঠিক সেই রীতিতেই আপনি আমাকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে আসুন।

    সখীর মুখে উমার মনের কথা জানতে পেরে শিব বললেন, তাই হবে।

    এই কথা বলে শিব সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। তপস্যায় শিবের সাক্ষাৎ পেয়ে পার্বতী নিজের গৃহে তথা হিমালয়ে ফিরে গেলেন।

    পার্বতীর মনের বাসনা পূর্ণ করার জন্য মহেশ্বর নিজের বিয়ের উদ্যোগ শুরু করে দিলেন। তিনি সাতজন ঋষিকে ডাকলেন। তারা শিবের আহ্বানে কৈলাসে এলেন। সেই সপ্তর্ষির সঙ্গে অরুন্ধতীও এসেছেন।

    তারা সকলে মহেশ্বরকে প্রণাম জানালেন এবং বললেন, হে দেবাদিদেব মহেশ্বর, আমাদেরকে আপনি ডেকেছেন কেন? আপনি তো স্বয়ং পরিপূর্ণ, তবুও আমাদের সৌভাগ্য হেতু, যদি কৃপা করেন, তাহলে আমাদের আদেশ করুন।

    ঋষিদের কথা শুনে শিব খুশি হলেন। এবং বললেন–ঋষিরা সবসময় পূজ্য, আমি বর্তমানে গিরিরাজের কন্যা পার্বতীকে বিবাহ করতে চাই। তাই আপনারা ঘটকরূপে গিরিরাজের কাছে যান।

    শিবের ইচ্ছাতে সপ্তর্ষি ও অরুন্ধতী গিরিরাজের কাছে গেলেন। হিমালয় নিজের প্রাসাদ থেকে দেখলেন–যেন সাতটি সূর্য এক সঙ্গে তার গৃহের দিকে আসছেন। এমন জ্যোতিষ্মন সেই ঋষিগণ, তিনি তাঁর পত্নী মেনকাকে ডাকলেন, এবং বললেন, আমার জীবন আজ ধন্য হলো, আমরা গৃহস্থ, তাই এই অতিথিদের সেবার ব্যবস্থা কর। ব্যবস্থাতে যেন কোনরূপ ত্রুটি না হয়।

    ঋষিগণ প্রাসাদ সম্মুখে এসে হাজির হলেন। তখন গিরিরাজ সস্ত্রীক সঙ্গে এসে প্রণাম জানিয়ে তাদের প্রাসাদের ভেতরে নিয়ে গেলেন। পবিত্র স্থানে বসতে দিলেন। বললেন, হে ঋষিগণ, আজ আমার গৃহ ধন্য মনে হয়। আমার এই গৃহটি পবিত্র করতেই আপনারা এসেছেন। এখন আপনারা আদেশ করুন, আমি আপনাদের জন্য কি করতে পারি?

    মহেশ্বরকে স্মরণ করে ঋষিগণ বললেন, হে গিরিরাজ তুমি ধন্য, এবং ভাগ্যবানও বটে। শিব পরোপকারের জন্য সন্তান সৃষ্টি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আমাদের দ্বারা স্বয়ং শঙ্কর তোমার কন্যা পার্বতীকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। শিব জগৎগুরু সেই শিবের অনুগ্রহে তোমার কন্যা জগজ্জননী হবেন। সেই শিবকে তুমি কন্যা দান কর। তাহলে তোমার জন্ম সার্থক হবে।

    ঋষিদের মুখে শিবের মনোবাসনা জানতে পেরে গিরিরাজ খুশি হলেন। তিনি পার্বতীকে নানা অলংকারে শোভিতা করে তাদের সামনে আনলেন। বললেন, হে ঋষিশ্রেষ্ঠগণ, আজ আমি এই কন্যাকে ভিক্ষা দেব।

    গিরিরাজের কথা শুনে ঋষিগণ প্রসন্ন হলেন এবং তারা গিরিরাজকে, বললেন, তোমার দুয়ারে আমাদের মত ভিক্ষুক যখন উপস্থিত হয়েছে তখন তুমি নিজেই দাতা আর পার্বতীকে ভিক্ষার বস্তুরূপে কল্পনা করেছ, তাহলে এর থেকে উত্তম আর কি হতে পারে? তোমার শিখরগুলো যেমন উচ্চ তেমনি তোমার মনও খুব উঁচু।

    তারপর ঋষিগণ কন্যার প্রতি আশীষ বাণী উচ্চারণ করলেন, এবং মঙ্গল কামনা করলেন। তারপর বললেন, তুমি মহাদেবকে সুখী কর।

    মেনকা সব শুনে চোখের জল দমন করতে পারলেন না। তাই দেখে অরুন্ধতী বললেন, তুমি পরম সাধ্বী, তোমার কন্যা আপন গুণেই মহাদেবের মন হরণ করেছে।

    এই বলে তিনি হলুদ ও কুমকুম দিয়ে মেনকার চোখের জল মুছিয়ে দিলেন।

    ঋষিগণ চতুর্থ দিনে বিবাহের লগ্ন স্থির করলেন। গিরিরাজের কাছে বিদায় নিয়ে শিবের কাছে চলে এলেন। শিবের কাছে সকল কথা জানালেন। তখন শিব বললেন, আপনারাই এই বিবাহে পৌরোহিত্য করবেন। আপনারা আপনাদের শিষ্যদেরও সঙ্গে আনবেন। তারপর ঋষিগণ শিবকে প্রণাম করলেন এবং তারা তাদের আশ্রমে চলে গেলেন।

    এতক্ষণ মহেশ্বর মহাকাশীতে ছিলেন।

    তিনি নিজের বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য কৈলাস পর্বতে এলেন। নারদকে ডেকে পাঠালেন, শীঘ্র উপস্থিত হলেন দেবর্ষি। সব শুনে খুব খুশি হলেন। মহাদেব দেবর্ষিকে ভার দিলেন সবাইকে নিমন্ত্রণের জন্য। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, দেবগণ, যক্ষ, গন্ধর্ব, কিন্নর, সিদ্ধাদি কেউ যেন বাদ না পড়ে। তারপর তিনি বললেন, যারা আমার বিয়েতে আসবেন না তারা কেউ আমার আত্মীয় নন।

    নারদ খুব আনন্দিত হলেন। ত্রিভুবনের সবাইকে নিমন্ত্রণ করলেন। এরপরে ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাগণ শিবের জন্য বহু উপহার পাঠিয়ে দিলেন, অপ্সরা ও গন্ধর্বগণ এসে গীত, বাদ্য ও নৃত্য করতে শুরু করলেন। শিবকে সাজানোর কাজে নিমগ্ন হলেন।

    শিব তো সব সময় পরিপূর্ণ। তাই তার বেশভূষা স্বতঃসিদ্ধ, এইজন্য তাঁর বেশভূষার কোন প্রয়োজন ছিল না। চাঁদ হল তার মুকুট। কপালের তৃতীয় নয়নটি হল তিলক। কানের কুন্তলটি তো ছিলই। গায়ে চন্দন লেপন করলেন, তাঁর সর্প নানারকম মণিময় অলঙ্কারে পরিণত হলো। শিবের প্রভাবে প্রকৃত বস্তুগুলি কৃত্রিমরূপ ধারণ করল। এইসবের পরে তার রূপ এমন সুন্দর হল যে, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।

    শিবের অনুচরগণ নানারকম সাজসজ্জা করল ও বাদ্য বাজাতে লাগল। শিবের বিয়েতে বরযাত্রী হবার জন্য ব্রহ্মা বিষ্ণু প্রমুখ দেবতাগণ আর সকল ঋষিগণ কৈলাসে হাজির হলেন। গঙ্গা, সাগর, নদী, তাঁরাও দিব্যরূপ ধারণ করে কৈলাসে এলেন। গান্ধর্ব চারণ, সিদ্ধ, কিন্নর, যক্ষ সকলেরই আজ খুব আনন্দ, সকলেই অপূর্ব পোশাক পরে এসেছেন।

    শুভলগ্ন উপস্থিত হতেই কৈলাস থেকে সবাই হিমালয়ের উদ্দেশে রওনা দিলেন। শিব দেবতাদের আগে আগে যেতে বললেন। তখন বিভিন্ন রকমের বাদ্য-বাজনা, নানা ধরনের আতসবাজি পোড়ানো হতে লাগল। সে সত্যিই একটি অপূর্ব দৃশ্য! এমন বরযাত্রীর শোভাযাত্রা এর আগে কেউ কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।

    এদিকে গিরিরাজ হিমালয় তার সকল আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করেছেন। তাদের সাহায্য নিয়ে বিধিমতো মণ্ডপাদি তৈরি করেছেন। মণ্ডপে সাজানো হয়েছে, বিচিত্র সব তোরণ রঙবেরঙের পতাকা, কত ধরনের ফুলের মালা এবং বহু ধরনের গাছের পাতা। সেই সময় হিমালয় গৃহের শোভা সত্যিই অবর্ণনীয়।

    গিরিরাজ কন্যা উমাকে সম্প্রদানের জন্য স্নান করানো হলো, তাকে নানা অলংকারে সজ্জিত করা হলো। সব আয়োজন শেষে ভৃত্য ও গন্ধমাদন গেলেন শিবকে আনতে। শিবের প্রতীক্ষায় রইলেন। গিরিরাজ ও তার আত্মীয়স্বজনেরা।

    এমন সময়ে দেবাদিদেব তাঁর সকল বরযাত্রীদের নিয়ে গিরিরাজের ভবনের কাছে এসে পৌঁছলেন। সেই মহাশব্দ শুনে গিরিরাজ নিজেকে ধন্য মনে করলেন এবং তিনি তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে আদর ও অভ্যর্থনা জানাতে প্রাসাদের বাইরে শিবের কাছে উপস্থিত হলেন। শিবের দলবল দেখে হিমালয়বাসীরা অবাক হয়ে গেলেন। আবার গিরিরাজের দলবল দেখে দেবতারাও অবাক হলেন।

    এইভাবে গিরিদল আর শিবদলের মিলন ঘটল। বরযাত্রীর দল ক্রমশ আসছে। যখন এগিয়ে প্রায় গিরিরাজের গৃহের কাছে উপস্থিত। তখন গিরিরাজের পত্নী মেনকা নারদকে নিয়ে ছাদে দাঁড়ালেন এটা দেখার জন্য যে, তার মেয়ে উমা যাকে পাবার জন্য এতো তপস্যা করলো তিনি কত সুন্দর!

    শিব অন্তর্যামী তিনি মেনকার অভিসন্ধি জানতে পেরে তার যাতে বুদ্ধিভ্রম হয় তেমন রূপ দেখালেন।

    মেনকা সুন্দর সাজে সজ্জিত দেবতাদের দেখে ভাবলেন শিব এঁদের অধিনায়ক, তাঁকে নিশ্চয়ই আরো সুন্দর দেখতে হবে।

    এই শোভাযাত্রার সামনে সামনে চলেছেন গন্ধর্বগণ। তারা সকলে নানা অলঙ্কারে সজ্জিত। তারা নানা রকম বাহনে চড়ে আসছে। কত বাজনা বাজছে। নানা রকম নৃত্য হচ্ছে। সেই গন্ধবদের নায়ক বিশ্বাসুকে দেখে মেনকা খুব খুশি মনে তাকে শিব ভাবতে লাগলেন। তখন নারদ বললেন, ইনি দেবতাদের একজন গায়ক। দেবর্ষির কথা শুনলেন মেনকা, এবং ভাবলেন শিব নিশ্চয়ই এর থেকেও সুন্দর হবে।

    তারপর এলেন যক্ষের দল। তাদের অধিপতি কুবের। তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মেনকা তাইে শঙ্কর মনে করলেন।

    নারদ বললেন, ইনি যক্ষরাজ কুবের।

    তারপর এলেন বরুণ। যিনি রূপে সবার থেকে অধিক সুন্দর। তার দলবলও ততোটাই সুন্দর। তখন মেনকা ভাবলেন, এই শিবকে পেলে উমার জীবন সত্যিই সার্থক হবে। কিন্তু নারদের কথায় তিনি অবাক হলেন।

    তারপরে এলেন যমরাজ। বরুণের থেকেও যমের শোভা অতুলনীয়। কিন্তু তিনিও শিব নন, নারদের মুখে এই কথা শুনে মেনকা বিস্মিত হলেন।

    এরপরে ক্রমে ক্রমে দ্বিগুণ সৌন্দর্য নিয়ে এলেন ইন্দ্র, সূর্যদেব, চন্দ্রদেব, এঁদের পেছনে এলেন ব্রহ্মা। মেনকা তাঁকেই রুদ্র মনে করলেন। নারদ উত্তর দিলেন, ইনি শিব নন।

    এদের পরে এলেন বক্ষে শ্রীবৎসচিহ্ন, শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী কমললোচন লক্ষ্মীপতি বিষ্ণু, কোটি মদনের সমতুল্য তার লাবণ্য।

    তাকে দেখে মেনকা স্থির করলেন, ইনিই শিব, আমার কন্যা সত্যিই ভাগ্যবান, নারদ বললেন, ইনি নারায়ণ। মেনকা অবাক হলেন এবং বললেন, বরযাত্রীরা যদি এতো সুন্দর হয় তাহলে শিব তো অতীব সুন্দর হবে।

    নারদ বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন, শিব এদের সবার থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দর।

    তারপর মহা আনন্দে এলেন ভৃগু, আদি মুনিগণ, গঙ্গাদি তীর্থগণ। সবার মুখে মুখে বেদধ্বনি, এঁদের মধ্যে বৃহস্পতিকে দেখে মেনকা ভাবলেন, ইনিই শিব, কিন্তু নারদ বললেন, ইনি শিব নন।

    মেনকা নারদের কথা শুনলেন, এবং মনে মনে ভাবলেন যিনি বৃহস্পতির থেকেও শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ শিব কেমন হবেন?

    ঠিক সেই সময় রুদ্র এসে দাঁড়ালেন। নারদ বলে উঠলেন, ইনিই শিব। তখন নারদ অঙ্গুলি দিয়ে শিবের অনুচরদের দেখিয়ে দিলেন। এরা সব ভূত, প্রেত, পিশাচ, কারো মুখ ছিল বাঁকা, কারো আবার কদাকার। এদের বর্ণ ছিল কৃষ্ণ, এরা কেউ খোঁড়া ছিল, কেউ উ পায়ে হাঁটছে। কেউ সারাক্ষণ বাজে কথা বলছে। কেউ করতালি দিচ্ছে, কেউ নিন্দা করছে, কেউ ডমরু বাজাচ্ছে। তারা এমন ব্যবহার করছিল যাতে মেনকা এদের দেখে ভয় পান।

    এদেরকে দেখে মেনকা সত্যিই ভীত হলেন। তার মন অস্থির হয়ে পড়ল। তারপরে তিনি পাঁচমাথা, তিন চোখ, দশ হাত, ভস্মমাখা, বাঘছাল পরা, পিনাক হাতে শিবকে দেখতে পেলেন। তিনি একটি ষাঁড়ের উপর চড়ে আসছেন। তখন নারদ অঙ্গুলি নির্দেশ করে দেখিয়ে দিলেন, ইনিই শিব।

    ঝড়ে যেমন করে গাছ উপড়ে পড়ে তেমনি করে নারদের মুখে এই কথা শোনার পর মেনকা মূৰ্ছিত হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে তার জ্ঞান ফিরল এবং তিনি বললেন, তুই একি করলি? তোকে ধিক্‌ আর আমাকেও ধিক্‌! তারপরে তিনি শিব ও নারদকে তিরস্কার করলেন এবং উমাকেও নিন্দা করলেন।

    নারদকে তিনি দোষারোপ করলেন। তার কারণ নারদই উমাকে শিবকে পাবার জন্য তপস্যা করতে বলেছিলেন। আপনি উমাকে বঞ্চনা করেছেন। এতে কারোর কোন ক্ষতি হবে না। ক্ষতি হবে আমার কন্যার, আমার গৃহের মর্যাদার।

    মেনকা তখন যে ঋষিগণ শিবের জন্য উমাকে চাইতে এসেছিলেন তাঁদের অনুসন্ধানে রত হলেন। ক্রোধান্বিত হয়ে বিলাপ করতে লাগলেন, প্রত্যেকের গোঁফ দাড়ি ছিঁড়ে ফেলবো। আর সেই মুনিদের সঙ্গে যিনি এসেছিলেন, বশিষ্ঠের পত্নী অরুন্ধতী, তিনি এখন কোথায়? না, না এদের দোষ কোথায়? সব দোষের মূল তো আমার কন্যা।

    সেই তো দেবতাদের ত্যাগ করে শিবকে বেছে নিয়েছে! সোনা ছেড়ে কাঁচকে বেছে নিয়েছে, চন্দন ফেলে কাদা মাখলো, হাঁসকে ছেড়ে কাককে ধরলো, সূর্যকে বাদ দিয়ে জোনাকির আলোকে বেছে নিল। সিংহের সেবা না করে শৃগালের সেবা করল।

    হায়রে আমার কপাল, পার্বতী ধিক্‌, তোর বুদ্ধিকেও ধিক! এমন সন্তান হবার চেয়ে আমি বন্ধ্যা হলাম না কেন? পার্বতী যখন বনে তপস্যা করতে গিয়েছিল তখন তাকে বাঘ ভাল্লুকে খেয়ে নিলে ভালো হত। আজ আমি নিজেই তাকে মেরে ফেলব।

    কাঁদতে কাঁদতে মেনকা আবার অচেতন হয়ে পড়লেন। এমন সময় ব্রহ্মা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি তার কমণ্ডলুর জল ছিটিয়ে মেনকার জ্ঞান ফেরালেন। তারপর বললেন–মেনকা, তুমি শিবের যথার্থ রূপ দেখনি। তিনি স্বয়ং লোককর্তা, তিনি সকলকে পালন করেন, এবং তিনিই অন্তিমে সকলকে বিনাশ করেন।

    ব্রহ্মার কথা মেনকা বুঝতে পারলেন না। তিনি বললেন, আপনারা পার্বতীকে বিনাশ করুন, কিন্তু শিবকে কন্যাদান করতে বলবেন না। মেনকার কথা সেখানে উপস্থিত সকল দেবতারা শুনলেন এবং তারা বললেন, শিব হলেন দুঃখনাশক এবং পরম ভগবান, আজ আমাদের পরম সৌভাগ্য যে আমরা শিবের সঙ্গে তোমার কন্যা পার্বতীর মিলন দেখতে পাব।

    দেবতাদের কথা শুনেও মেনকা তার মত পরিবর্তন করলেন না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা আমাকে মেরে ফেল, আমি কিছুতেই কুরূপা শিবের হাতে আমার কন্যাকে দেবো না।

    ঠিক সেই সময়ে সপ্তর্ষিরা এলেন, তাঁরা বললেন–আমরাই ঘটকরূপে এখানে এসেছিলাম। আমরা কখনোই বিরুদ্ধ কাজ করি না। শঙ্করের দর্শন লাভই আমাদের পরম সৌভাগ্য। আমাদের শিব বরবেশে তোমার গৃহে উপস্থিত হয়েছেন, এর থেকে মঙ্গলের কিছু হয় কি?

    মেনকা তবুও নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না। বললেন, আজ আমি নিজে অস্ত্র দিয়ে পার্বতীকে মেরে ফেলবো; কিন্তু শিবের সঙ্গে বিয়ে দেবো না।

    তারপরে গিরিরাজ এলেন এবং তিনি মেনকাকে বোঝালেন। বললেন, ব্রহ্মাদি দেবতাগণ, ঋষিগণ কি আমাদের অমঙ্গল চান? সকলেই তারা আজ আমার ঘরে, তুমি শিবকে জানো না, তাকে আমি চিনি, তিনি জগতের পালক তিনি জগতের পূজনীয়। দুঃখ করো না, বিবাহের লগ্ন পেরিয়ে যাচ্ছে, বিবাহের আয়োজন করো।

    মেনকা গিরিরাজুকে বললেন, ওই মেয়ের গলায় দড়ি বেঁধে পর্বত থেকে সাগরে ফেলে দিয়ে সুখী হব, তবু শিবকে দান করব না। এই আমার শেষ কথা। আর যদি আমার কথা না শুনে শিবকে কন্যাদান কর, তাহলে আমি নিজে প্রাণত্যাগ করবো।

    এমন সময় পার্বতী সেখানে এলেন। তিনি মায়ের কথা শুনে বললেন, তোমাকে কুবুদ্ধি আশ্রয় করেছে। ওই শিবই জগতের কারণ, উনিই ঈশ্বর, উনিই আশ্রয়, উনিই পালক, উনিই দেব সনাতন। এখানে যতজন দেবতা এসেছেন তাদের সকলের প্রভু উনিই। শিবের হাতে তোমার এই কন্যাকে তুলে দিয়ে জীবন সার্থক করো। আর দুঃখ করো না।

    তুমি শিব ছাড়া যদি অন্য কোন দেবতার সঙ্গে আমার বিয়ে দাও তাহলে আমি বিবাহ করবো না। আমি কায়মনোবাক্যে সেই শিবকেই পতিরূপে বরণ করেছি। এই কথার কোন নড়চড় হবে না। এই আমি সত্যি করে বলছি।

    উমার মুখে এই কথা শুনে মেনকা ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ হলেন। দাঁতে দাঁত চেপে তিনি উমাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন।

    মেনকার কাছ থেকে পার্বতীকে নারদ ও ঋষিগণ সরিয়ে নিয়ে গেলেন। তখন মেনকা পার্বতীকে তিরস্কার করে বললেন, এই মেয়েকে নিয়ে আমি কি করি? ওকে বিষ খাইয়ে মারব। ওকে অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলব। আর তা নাহলে আমি নিজেই কূপে ঝপ দিয়ে পড়ে প্রাণত্যাগ করবো।

    তারপরে মেনকার রাগ একটু স্তিমিত হলে তিনি বললেন, আপনারা দেখুন এই মেয়ে কেমন বরের জন্য পাগল। যার মাতা পিতা নেই, কুল গোত্র নেই, রূপ ঐশ্বর্য নেই; এমনকি ঘরও নেই। বিদ্যা নেই, ধন নেই, বয়স নেই এমন পাত্রের হাতে কেউ কি তার কন্যা দান করবে?

    এমন সময় বিষ্ণু এসে মেনকাকে বললেন, তুমি পিতৃগণের মানসী কন্যা। তাতে আবার ব্রহ্মাকুলজাত হিমালয়ের পত্নী। এমন ধর্মাধারভূতা হয়ে তুমি কি করে ধর্মত্যাগ করতে চাইছো? ব্রহ্মা, আমি ও ঋষিগণ কি বিরুদ্ধ কথা বলছি? তুমি একাই কি ঠিক বলছো? আসলে তুমি শিবতত্ত্বের কিছুই জান না। এই ত্রিলোকে কেউ তার রূপ বর্ণনা করতে পারবেন না। তার কারণ তিনি অজেয়, অমর, তাঁর প্রকৃত স্বরূপ নেই।

    শ্রীহরি আরও বহু তত্ত্ব কথা শোনালেন মেনকাকে, মেনকা শান্ত হলেন।

    তারপরে নারদ শিবের কাছে অনুরোধ করলেন তাঁর মনোহর রূপ দেখানোর জন্য। তখন মহেশ্বর তার সেই রূপ মেনকাকে দেখালেন।

    মেনকা দেখলেন কোটি সূর্যের মতো সেই রুদ্রের বর্ণ, তাঁর ত্রিনয়নের শোভা অতি সুন্দর, মস্তকে কিরীট। পরিধানে বিচিত্র বসন, বদনে মধুর হাসি। আর বাহন ষাঁড়েরও শোভা অবর্ণনীয়।

    তার মাথায় ছাতা ধরেছেন স্বয়ং সূর্য, চন্দ্র চামর ব্যজন করছেন, নাচছে অষ্টসিদ্ধি, গঙ্গা যমুনাদি, তীর্থগণ চামর ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, শিবের জয়ধ্বনি করছেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্রাদি দেবতাগণ, গন্ধর্বাদিগণ গান গাইছেন, সকল অপ্সরাগণ নাচছেন।

    মহেশ্বরের এই রূপ দেখে মেনকা হতবাক হয়ে গেলেন। তারপর নিজের কন্যার প্রশংসা করতে লাগলেন। দেবতারা শিবের যেমন বর্ণনা দিয়েছিলেন তা যথার্থই ছিল। তখন তিনি লজ্জিত হলেন। তারপরে তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং সেই সঙ্গে শিবের পূজা করলেন।

    তখন হিমালয়ের ভবনে যত রমণী ছিলেন তারা সকলেই শিবকে দেখতে এলেন। সবাই তাদের কাজ ফেলে চলে এলেন শিবকে দেখবে বলে। শঙ্করের রূপ দেখে সবাই মুগ্ধ হলেন। সবাই বললেন, পার্বতী মহা ভাগ্যবতী। যিনি এমন রূপবান শিবকে পতিরূপে লাভ করেছেন। যে এই রূপ দেখবেন তার চক্ষু সার্থক হবে। তপস্যা ছাড়া এমন রূপবান শিবকে পতিরূপে লাভ করা অসম্ভব। পার্বতীর তপস্যা সার্থক হল।

    রমণীগণরা চন্দনাদি দিয়ে শিবের পূজা করলেন। এরই মধ্যে মেনকা সুন্দর সাজে সজ্জিত হলেন। আনন্দের সঙ্গে শিবের সম্মুখে গেলেন এবং বিধিমতে পূজা করলেন।

    তারপরে ব্রহ্মা ঋষিগণকে নিয়ে বিবাহের বেদীতে গেলেন। শিবকে সেই বেদীতে নিয়ে যাওয়া হল। গিরিরাজ মেনকাকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। ব্রহ্মার সঙ্গে ঋষিরা বেদমন্ত্র উচ্চারণ করলেন। তারা হর-পার্বতীর জয়গান গাইতে লাগলেন। তারপর হিমালয় শিবকে আহ্বান করে খাদ্যাদি সকল বিধিমত দান করলেন।

    তারপর সেই বেদীতে আগুন জ্বালানো হলো এবং বিবাহের কাজ সুসম্পন্ন করা হলো। মালা বদল, অগ্নি প্রদক্ষিণ সকলই করা হলো, পরে শুভ স্বস্ত্যয়ণ করা হল সেই সময় সকল দেবতারা হর-পার্বতীকে নমস্কার করলেন এবং বললেন–হে ভগবান শিব, আপনিই জগতের পিতা আর আজ থেকে পার্বতী হলেন জগতের মাতা।

    সেই সময় দেবতা, গন্ধর্ব, কিন্নর, অপ্সরাগণ পরম আনন্দে নাচ গান বাদ্য সহকারে মেতে উঠলেন। হিমালয় শিব সেনাগণকে বিধিমতে পূজা করলেন। পরে তিনি দেবতা ও ঋষিগণের সামনে এসে বললেন–আজ আমার জীবন সার্থক হল। এরপর মেনকাও এসে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন। কারণ তিনি না বুঝেই শিবনিন্দা করেছিলেন। তিনিও বললেন–আমি ধন্যা, আমার কন্যার জন্যই আমাদের কুল পবিত্র হল। যদি আমার এই কন্যা না জন্মাত, তাহলে আমার গৃহে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ সহ দেবতারা আসতেন না। ধন্যা আমার কন্যা।

    তারপরে মেনকা হাতজোড় করে বললেন–আমি যা করেছি, যা কুবাক্য বলেছি তার জন্য ক্ষমা করুন। গিরিরাজ ও তাঁর পত্নীর হাতে পূজা পেয়ে মহেশ্বর খুব খুশি হলেন এবং বললেন–হে গিরিরাজ, তুমি ধন্য, তোমার জীবন সফল হল। হে গিরিরাজ পত্নী তুমিও ধন্যা, যেহেতু তোমার গর্ভে পার্বতীরূপ রত্নের জন্ম হয়েছে।

    তারপরে দেবতা ও ঋষিগণ সকলকে আশীর্বাদ করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন।

    দেবী পার্বতী মহাদেবের সঙ্গে বৃষের পিঠে চড়ে কৈলাসের দিকে চললেন। গন্ধমাদন প্রভৃতি পর্বতগণ তাদের অনুগমন করলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }