Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প3681 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বামন পুরাণ ২১-৩০

    দেবীর পুনরাবির্ভাবের কথা নারদ পুলস্ত্যর কাছে জানতে চাইলেন। দেবী মাহাত্ম্য সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে চাইলেন। পুলস্ত্য তখন বলতে শুরু করলেন। জগতের কল্যাণ কামনায় মহাসুর শুম্ভকে বধ করার জন্য পুনরায় দেবী দুর্গার আবির্ভাব হল।

    শিব হিমালয় কন্যা উমাকে বিবাহ করেন। পরে তার কোষ থেকে যিনি উৎপত্তি হন তিনি কৌশিকী নামে পরিচিত হন। কৌশিকী বিন্ধ্যাচলে আশ্রয় নেন আবির্ভূত হবার পর। সেখানে শুম্ভ ও নিশুম্ভকে তিনি বধ করেন। এরা দুজনেই ছিল মহা অসুর।

    নারদ তখন বললেন–যে দক্ষকন্যা সতী দেহত্যাগ করার পর হিমালয় কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। পার্বতী কোষ থেকে কিভাবে উৎপন্ন হয়ে কৌশিকী নামে পরিচিত হন। কিভাবে তিনি শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেন। তাদের এইসব কাহিনি জানতে চাইলেন।

    নারদ দেবীর মাহাত্ম শুনেছেন। এবার দেবীর উৎপত্তির কাহিনি শুনতে চাইলেন।

    পুলস্ত্য বলতে শুরু করলেন, তিনি পার্বতীর জন্ম কাহিনি বলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। প্রথমে তিনি কার্তিকের জন্ম কাহিনি বলবেন। দক্ষ দুহিতার দেহ ত্যাগের পর কঠোর ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করেন রুদ্রদেব। কোনো আশ্রমেই প্রবেশ করতে লাগলেন। দৈত্যদের দর্পচূর্ণ হয়েছিল এই সকল দেব সেনানায়কের হাতে, এই দেবসেনাপতি শিবের অনুগামী হয়ে দেবতাদের সেনাপত্য ত্যাগ করলেন। দেবতারা তখন দানব রাজা নিশুম্ভর কাছে পরাজিত হলেন। সমস্ত দেবতাগণ মিলিত হয়ে চক্রপাণি গদাধর বিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করার জন্য শ্বেতদ্বীপে গেলেন। এই দ্বীপে তিনি বিরাজ করতেন মহা হংস রূপে। তাঁরই শরণাপন্ন হলেন দেবতারা।

    সব দেবতাদের তার কাছে আসতে দেখে তিনি মৃদু হেসে মেঘ গম্ভীর কণ্ঠে জানতে চাইলেন, দেবতাগণ, কেন আপনারা সদলবলে আমার কাছে এসেছেন? দুরাত্মা নিশুম্ভ কি যুদ্ধে আপনাদের পরাজিত করেছে। পুনরায় তিনি বললেন–যদি বাস্তবে তাই হয় তবে আমি যা বলব তাই তোমরা কোরো। এতে তোমরা অবশ্যই জয়লাভ করবে।

    পুণ্যবান কুরুক্ষেত্রে গিয়ে পৃথুদক তীর্থে পিতৃ-পুরুষদের অর্চনা করো। শিব পুত্রের হাতে শত্রুর পরাজয় ঘটাতে হলে মহাতিথি উপলক্ষে পুণ্য দিনে যা বললাম তা করো।

    বাসুদেবের কথা শুনে সমবেত দেবতাগণ জানতে চাইলেন কুরুক্ষেত্র কোথায় এবং সেই পৃথুদক তীর্থের সমবেত দেবতাগণ উৎপত্তি বৃত্তান্ত কি রূপ?

    সেই পবিত্র মহাতীর্থে যে দিন পিতৃপুরুষদের ভক্তিভরে জলাঞ্জলি দিয়ে অর্চনা করতে হয় সেই পবিত্র নির্দিষ্ট তিথি সম্পর্কে আমাদের অবগত করুন।

    এরপর বিষ্ণু কুরুক্ষেত্রের উৎপত্তির কথা এবং মহা তিথির স্বরূপ বলতে লাগলেন।

    সত্যযুগের প্রারম্ভে চন্দ্রবংশে এক মহাবলশালী রাজা ছিলেন। তার সম্বরণ নামে এক পুত্র জন্মায় রাজা বাল্যকালেই পুত্রকে নিজরাজ্যে অভিষিক্ত করেন।

    রাজা সম্বরণ বাল্যকাল থেকেই ধর্ম পরায়ণ ও বিষ্ণুর ভক্ত ছিলেন। সম্বরণের পুরোহিত ছিলেন বরুণ পুত্র বশিষ্ঠ। শাস্ত্রজ্ঞানী বশিষ্ঠ বেদসহ সমস্ত ধর্ম শাস্ত্রে পরিদর্শী ছিলেন।

    রাজ্যের ভার পুরোহিত বশিষ্ঠের হাতে দিয়ে রাজা সম্বর মৃগয়া করতে গেলেন। কোনো একদিন শাস্ত্রপাঠ বন্ধ ছিল বলে বৈভ্রাজ নামে এক বনে ঘোড়ায় চেপে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে সম্বরণ মনের ভুলে হাজির হলেন। সেখানে উপনীত হয়ে তিনি বড়ই কৌতূহলী হয়ে উঠলেন।

    সকল ঋতুর ফুলে এই অরণ্য পরিপূর্ণ। তিনি সেই অরণ্যের নানা স্থানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন ফুলের গন্ধ নিতে নিতে। এই বনে এখানে সেখানে কত যে সাদা, লাল, পদ্ম, শালুক ফুটে আছে তার ইয়ত্তা নেই। সেখানে খেলা করছে বহু অপ্সরা।

    সম্বরণ সবচেয়ে সুন্দরী এক কন্যাকে দেখে কামাতুর ও কাতর হয়ে পড়লেন। কন্যাটিরও সেই একই অবস্থা হল। এমনকি রাজা মোহগ্রস্ত হয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। তখন তার চোখে মুখে জল দিয়ে গন্ধর্বরা তার প্রাণ ফিরিয়ে আনলেন। ওই কন্যাটিকে তার সখীরা পিতৃগৃহে নিয়ে গিয়ে নানা মিষ্ট কথা বলে আশ্বস্ত করল। রাজা রাজধানীতে ফিরে গেলেন।

    এর কিছুদিন পর রাজা সুমেরু পর্বতে গিয়ে হাজির হলেন। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে সূর্য নন্দিনী তপতাঁকে দেখা মাত্র রাজা আহার নিদ্রা ত্যাগ করলেন। সর্বজ্ঞ বশিষ্ঠ সে সবই বুঝতে পারলেন।

    তিনি বুঝলেন রাজা তপতাঁকে দেখে কামাতুরা হয়ে পড়েছেন। তখন তিনি মহাযোগ বলে আকাশে উঠে সূর্য মণ্ডলে প্রবেশ করে সূর্যের সাথে দেখা করলেন।

    দুজনের সাক্ষাতের সাথে সাথে বশিষ্ঠ ও সূর্য পরস্পরকে প্রণাম করলেন। বশিষ্ঠের মাথার উজ্জ্বল জটাজাল দ্বিতীয় একটি সূর্যের মতো শোভা ধারণ করল।

    সূর্যদেব তাঁকে ভক্তিভরে অর্চনা করে তাঁর আসার কারণ জানতে চাইলেন। বশিষ্ঠ জানালেন, রাজা সম্বরণের জন্য তার কন্যা তপতাঁকে তিনি চান। তাঁকে দান করতে অনুরোধ করলেন।

    দিবাকর নির্দ্বিধায় তপতাঁকে বশিষ্ঠের হাতে তুলে দিলেন। বশিষ্ঠ তাকে নিয়ে পবিত্র আশ্রমে ফিরে এলেন। বশিষ্ঠের আশ্রমে এসে তপতী জানায়, একসময় সখীদের সাথে খেলা করার সময় এক অপূর্ব সুন্দর রাজাকে তিনি দেখেছিলেন। যার রূপ কান্তি এখনও তার নজরে লেগে আছে। সে তার প্রতি অনুরক্ত। তাঁর পা দুটো সুন্দর। তাতে চক্র, অসি ও গদার চিহ্ন আছে। তার দুই জঙ্ সুশোভন।

    দুই উরু হাতির শুড়ের মতো মনোরম, কোমর সিংহীর মতো সরু। শরীরের মধ্যভাগ রেখাঙ্কিত ও ক্ষীণ, ঘাড় শঙ্খের মতো। দু বাহু সুদৃঢ়, পদ্মকোরকের মতো কঠিন ও সুদীর্ঘ, মাথা দাতার মতো।

    মাথার চুল কোঁকড়ানো, দু কাঁধ সমান সুন্দর, নাক সুশোভন, হাতের আঙুলগুলো সুদীর্ঘ ও সুদৃঢ় গাঁটযুক্ত এবং দাঁতগুলো সাদা।

    তার দেহের ছয়টি স্থান উন্নত। তিনটি স্থান গভীর ও তিনটি স্থান প্রলম্বিত। তিনি উদার ও ধৈর্যশীল। তার দেহের সাতটি স্থান লাল, চারটি স্থান কালো, তিনটি স্থান নীচু, দুটি স্থানে সাদা এবং চারটি স্থান সুন্দর গন্ধযুক্ত।

    আমি তাঁকেই পূর্বে পতিরূপে বরণ করে নিয়েছি। সুতরাং এই গুণবান গৌরবশালী পুরুষের হাতে আমাকে সমর্পণ করুন মুনিবর। সে অনুরোধ করল তাকে যেন অন্য কোনো ব্যক্তির হাতে সমর্পণ না করা হয়।

    সূর্য তনয়ার কথার বশিষ্ঠ রাজি হলেন। পরে সম্বরণের যে তপতীর প্রতি প্রেমাসক্ত ধ্যান যোগে তা বুঝতে পেরে তপতাঁকে বললেন, যে রাজাকে তুমি বররূপে গ্রহণ করেছ, দেখো, সেই গুণবান রাজা আমার আশ্রমে আসছে।

    একথা বলার সাথে সাথে রাজা সম্বরণ বশিষ্ঠের আশ্রমে হাজির হলেন। রাজা বশিষ্টকে প্রণাম করে তাঁর পাশে উপবিষ্ট তপতাঁকে দেখে অরণ্য মধ্যে দৃশ্যমান সেই রমণী বলে মনে করলেন।

    কিন্তু পরে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতে জানতে পারলেন ইনি সূর্য কন্যা তপতী। তিনি রাজার জন্যই তপতাঁকে সূর্যের কাছ থেকে চেয়ে এনেছেন। তাই সূর্যদেব তাকে কন্যা দান করে তিনি তপতাঁকে আশ্রমে নিয়ে আসেন।

    সুতরাং এক্ষুণি তার তপতীর পানি গ্রহণ করা উচিত। এরপর তপতাঁকে রাজা সন্তুষ্ট চিত্তে বিবাহ করলেন। তপতীও ইন্দ্র সহ শচীর মতো রাজপ্রাসাদে মহাসুখে দিন কাটাতে লাগলেন ইন্দ্র সদৃশ স্বামী পেয়ে।

    ২২

    কালক্রমে তপতীর গর্ভে রাজা সম্বরণের রাজলক্ষণযুক্ত এক পুত্র জন্মগ্রহণ করল। তার জাত ক্রিয়াদি যথাসময়ে সম্পন্ন হল। ধীরে ধীরে এই পুত্র বেড়ে উঠল। এই চুড়াকরণ প্রভৃতি সংস্কারগুলো শেষ করলেন বশিষ্টদেব স্বয়ং। পুত্রের নির্দিষ্ট ব্ৰতবন্দন করা হলে ন’বছর বয়সে গভীর অভিজ্ঞতা লাভ করলেন রাজপুত্র। বেদসহ নানা শাস্ত্র ও নানা ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞাত হলেন।

    দশ বছর বয়সেই তিনি সুযোগ্য রাজার মতো সর্বতোমুখী প্রতিভা ও জ্ঞানের আধার হয়ে উঠলেন। তিনি কুরু নামে প্রসিদ্ধ হলেন।

    ষোলো বছর বয়স হলে সম্বরণ সদবংশে তার বিবাহ স্থির করলেন। সুদাম রাজার রূপবতী কন্যা সৌদামিনীর সঙ্গে রাজকুমার কুরুর বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয়।

    যথাসময়ে সুদাম রাজকন্যা দান করেন। কুরু রাজকুমারীকে পত্নীরূপে গ্রহণ করে পরম সুখে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে লাগলেন। ইন্দ্র ও শচীর মতো তাঁদের পরস্পরের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসা গম্ভীর হয়ে উঠল।

    রাজা সম্বরণ তাঁকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করলেন। সবদিক দিয়ে পুত্র রাজ্য ভার বহনে উপযুক্ত হয়েছে মনে করে সম্বরণ বনবাস নিলেন। কুরু সযত্নে প্রজাপালন করতে লাগলেন। নিজের হাতে তিনি রাজ্যের প্রধান প্রধান কাজের ভার তুলে নিলেন। ভূমিজরিপ, কৃষিকাজে, পশুপালন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি নিজেই দেখাশুনা করতে লাগলেন।

    দৈহিক বলের মতো বুদ্ধিবল অসাধারণ ছিল কুরু রাজের। জগতে একটা চিরস্থায়ী কীর্তি রেখে যাবার কথা তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন। তাঁকে এর জন্য দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হবে, যতদিন না কোনো কীর্তি প্রতিষ্ঠিত করছেন।

    সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন রাজা কীর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। একসময় নানা স্থান ভ্রমণ করতে করতে দ্বৈতবনে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি পুণ্যবতী সুদর্শনা জননী দেবী সরস্বতীর দেখা পেলেন। একটি হ্রদ খনন করে সন্তুষ্ট চিত্তে সেই হ্রদের জলে স্নান করলেন।

    এরপর তিনি হাজির হলেন উত্তর ব্রহ্মবেদিতে। এই ব্ৰহ্মবেদি সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মস্থান। পঞ্চক তীর্থ উত্তর ব্রহ্মাবেদি নামে পরিচিত। পাঁচ যোজন এর আয়তন।

    দেবতারা তখন বিষ্ণুকে বললেন–আপনি সমস্ত পঞ্চককে ব্রহ্মার উত্তরবেদি বললেন। এখন ব্রহ্মার অন্য বেদির কথা বলুন। জগৎপতি ব্রহ্মার পাঁচটি বেদির কথা বিষ্ণু উল্লেখ করলেন।

    সব কটিই প্রসিদ্ধ ধর্মস্থান। লোকনাথ শম্ভু উভয়ের কাছেই কাম্য এইসব বেদি। এগুলোর মধ্যে প্রয়াগধাম মধ্যবেদি, গয়াশির পূর্ববেদি, বিরজা ক্ষেত্র দক্ষিণ বেদি এবং পুষ্করতীর্থে পশ্চিম বেদি, সব বেদিতেই স্নান করলে অনন্তফল লাভ করা যায়।

    তিনটি দেব জলাশয় আছে পুষ্কর বেদিতে। বিষ্ণু–বললেন, আগেই তিনি সমস্ত পঞ্চকের কথা তিনি বলেছেন। রাজর্ষি মনে মনে চিন্তা করলেন এই বেদিকেই তিনি মহা ফলদায়ী করে তুলবেন এবং যথেষ্ট রূপে কর্ষণ করে একে কাম্য বস্তুর আধার করে তুলবেন। তিনি একথা স্থির করে রথ থেকে নেমে পড়লেন এবং অতুলনীয় এক কীর্তি স্থাপনের জন্য সচেষ্ট হলেন।

    সোনার লাঙল তৈরি করে যমরাজের বাহন মহিষ এবং শিবের বাহন ষাঁড়কে যোজনা করে রাজা নিজে সেই স্থান কর্ষণ করতে লাগলেন।

    ইন্দ্র তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কি কাজ আরম্ভ করেছেন? রাজা জানালেন, আমি এই স্থান কর্ষণ করে তাতে সত্য, দয়া, ক্ষমা, শৌচ, দান যোগ ও ব্রহ্মচর্য এই আটটি বিষয় স্থাপন করব।

    ইন্দ্র জানতে চাইলেন–আপনি কোথা থেকে কর্ষণের বীজ জোগাড় করছেন? রাজাকে উপহাস করার জন্যই যেন তিনি এমন প্রশ্ন করে সেখান থেকে সহসা চলে গেলেন। রাজা তখনও সে জায়গা কর্ষণ করে যেতে লাগলেন। চারিদিকে প্রায় সাত ক্রোশের মতো জায়গা রাজা কর্ষণ করে ফেললেন।

    এরপর বিষ্ণু সেখানে গিয়ে রাজাকে বললেন–এ আপনি কি করছেন? রাজা তার প্রশ্নের উত্তরে আটটি মহাধর্ম কর্ষণের কথা বললেন।

    বিষ্ণুও জানতে চাইলেন–এই কর্ষণ করার বীজ আপনি কোথা থেকে পেলেন? রাজা জানালেন– তাঁর শরীরের মধ্যেই বীজ রয়েছে। তখন বিষ্ণু বললেন–আপনি বীজ দিন, আমি বীজ বপন করি। আর আপনি কর্ষণ করুন।

    নৃপতি তখন তার দক্ষিণ বাহু বিষ্ণুর দিকে বাড়িয়ে দিলে চক্রের দ্বারা বিষ্ণু তাঁর বাহু টুকরো টুকরো করে দিলেন। রাজার তখন একটি বাহু রইল। কিন্তু সেই হাতও বাড়িয়ে দিলে বিষ্ণু তাও ছিন্ন করে দিলেন।

    রাজা অন্য বর না চেয়ে বললেন, তিনি যতদূর অবধি কর্ষণ করেছেন তার সমস্ত স্পর্শই যেন ধর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়। এখানে মরলে মানুষ যেন মোক্ষ লাভ করে এবং স্নান, দান, জপ, হোম, উপবাস প্রভৃতি শুভ কিংবা অশুভ কর্মের অনুষ্ঠান করলে যেন তা অক্ষয় হয়ে থাকে।

    এই স্থান শ্রেষ্ঠ ধর্মক্ষেত্রে পরিণত হোক। এখানে যেন অনন্ত পুণ্যফল লাভ করা যায়। এই ক্ষেত্র যেন তার নামে প্রসিদ্ধ হয়। মহাদেব ও অন্য দেবতাদের সাথে তিনি যেন এখানে নিত্য বিরাজ করেন। রাজার প্রার্থনায় বিষ্ণু রাজি হলেন এবং ইহকালে তিনি আবার দিব্য দেহ ধারণ করলেন এবং মৃত্যুর পর বিষ্ণুর শরীরে লীন হয়ে গেলেন। তাঁর কীর্তি অনন্তকাল বিরাজ করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এবং তিনি এখানে যাজক হবেন ও শত শত যজ্ঞানুষ্ঠান করবেন।

    পুলস্ত্য নারদকে জানালেন ভগবান বিষ্ণু রাজাকে এই কথা বলে ইন্দ্র নামে যক্ষ, বাসুকি নাগ, বিদ্যধর শঙ্কবার্ন, রাক্ষসরাজ, সুবেশ, রাজা অজাবান এবং দুই দেবতা মহাদেব ও অগ্নি এদের সকলকে এই ক্ষেত্র রক্ষার ভার দিলেন।

    সেই থেকে এরাই রক্ষা করছেন সবসময় কুরু জঙ্গল।

    এছাড়া এসব রক্ষকদের তাই হাজার ধনুর্ধারী মহা শক্তিশালী অনুচর আছে। তারা সবসময় এই ধর্ম ক্ষেত্রের পবিত্রতা রক্ষা করে চলেছে। পাপীদের সেখানে প্রবেশ বা স্নান করতে তারা দেয় না। বহু পুণ্য পুণ্যজনক পৃথুদকতীর্থ এই ক্ষেত্রের মধ্যভাগে বিরাজমান। পূর্বদিকে বয়ে চলেছে এক পবিত্র নদী। এটি জলে পরিপূর্ণ। এখানে স্নান করলে পুণ্য লাভ হয় ও সমস্ত পাপ দূর হয়।

    প্রাচীনকালে ব্রহ্মা অন্যান্য জীবের সাথে এই নদীও সৃষ্টি করে। অতি প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবী, জল, আগুন, বাতাস, আকাশ, প্রভৃতির মতো এই পৃথুদকতীর্থ বিরাজমান।

    এ থেকেই ব্রহ্ম সময় নদী, হ্রদ, সরোবর সৃষ্টি করেছেন। এই নদীর জলে দেবতারা বিচরণ করে থাকেন।

    পুরাণজ্ঞ মুনিবর লোমহর্ষণ একসময় সরস্বতী ও দৃষন্বতী নদীর মধ্যবর্তী কুরুজঙ্গলক্ষেত্রে অবস্থান করেছিলেন।

    ব্রাহ্মণরা সে সময় তাঁর কাছে গিয়ে বললেন–এই কুরুক্ষেত্রের তীর্থ, সরোবর ও বামনের আয়তন ও উৎপত্তি বৃত্তান্ত এবং দেবতাদের মাহাত্ম্য আমাদের বলুন। ব্রাহ্মণদের প্রণাম করে লোমহর্ষণ বললেন–পরমেশ্বর ব্রহ্মা, লক্ষ্মীসহ বিষ্ণুকে এবং রুদ্রদেবকে প্রণাম জানিয়ে অন্যতম তীর্থক্ষেত্র ব্রহ্মসরোবর সম্পর্কে বিস্তারপূর্বক বলবেন।

    পুরাকালে ব্রহ্ম স্বয়ং এই ব্রহ্মা সরোবরের বিস্তৃতি সম্পর্কে বলে গেছেন। দেববর বিশ্বেশ্বর থেকে হস্তিনাপুর ও কাণ্যকুজের যতদূর পর্যন্ত জলস্রোত আছে সে পর্যন্তই ব্রহ্মদোয়িনী সরস্বতী সরোবরের আবির্ভাব। দেববর বিশ্বেশ্বর কাছ থেকে জানা যায় এই সরোবর চারিদিক অর্ধ যোজন পর্যন্ত বিস্তৃত। কুরুক্ষেত্রে এই সরোবর পথেই দেব ও ঋষিরা আসেন।

    স্বর্গলাভের জন্য কেউ কেউ মুক্তি কামনায় এই সরোবরের জল পান করেন। পূর্বে যোগাবলম্বী ব্রহ্মা সৃষ্টি কামনায় এবং বিষ্ণু হরিরূপে সৃষ্টিকে রক্ষা করার মানসে এই সরোবরে অবস্থান করেছিলেন।

    এই সরোবরে প্রবেশ করে রুদ্র স্থাণু হয়ে যান। ব্রহ্মার এটি আদি দেবী, এরপর রাম হ্রদ বিখ্যাত। এসব স্থান কুরুক্ষেত্র নামে প্রসিদ্ধ হল। কুরু রাজার দ্বারা কর্ষিত হয়ে রন্তক ও আরন্তুকের মধ্যবর্তী স্থান। এবং সামন্ত পঞ্চক ও রামহ্রদের মধ্যবর্তী স্থানই কুরুক্ষেত্রের সামন্ত পঞ্চম এবং এটিই ব্রহ্মার উত্তর বেদি নামে বিখ্যাত।

    ২৩

    নারদ এরপর বামনদেবের উৎপত্তি, মাহাত্ম্য এবং বলিরাজকে কিভাবে দমন করে বামনদেব ইন্দ্রকে তিনি রাজ্য স্বর্গ দান করেছিলেন তা শুনতে চাইলেন।

    লোমহর্ষণ বললেন–আমি ঋষিগণের কৌতূহল দূর করবার জন্য বামনদেবের উৎপত্তি, প্রভাব, কুরুজঙ্গল অবস্থান এবং দৈত্যদের বংশ বৃত্তান্ত সবিস্তারে বর্ণনা করছি।

    দৈত্য বংশেই বলির উৎপত্তি হয়। তাঁর আদি পুরুষ হলেন হিরণ্যকশিপু। তাঁর পুত্র প্রহাদের পুত্র বিরোচন এবং বিরোচনের পুত্র বলি। তার ন্যায়পূর্ণ শাসনকালে দৈত্যদের অধিকার সর্বত্র অক্ষুণ্ণ ছিল।

    হিরণ্যশিপু নিহত হবার পরেও সমস্ত স্থান থেকে দেবতাদের বিতাড়িত করে ত্রিভুবনে দৈত্য রাজত্ব বিস্তৃত হয়েছিল। ত্রিলোকের সর্বত্র ঋষিগণ যাগযজ্ঞ করতে লাগলেন।

    সর্বত্রই যুদ্ধে জয় করতে লাগলেন জয় ও শম্বর নামক দুই দানব সেনাপতি। ধর্ম কর্মের অবাধ অনুষ্ঠান হতে লাগল। দৈত্যদের নির্দিষ্ট পথে আকাশচারী সূর্যও চলতে লাগলেন। সমস্ত দিক সুরক্ষিত হল প্রহাদ, শম্বর ও ময়ের তত্ত্বাবধানে।

    অন্তরীক্ষপথও দৈত্যরা রক্ষণ করতে লাগল। বেদবিহিত বিবিধ যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান হতে লাগল।

    কোনো পাপের অস্তিত্ব রইল না। সকলে সৎপথে চলতে লাগল। কোথাও অধর্মের কোনো চিহ্ন রইল না। সর্বত্র ধর্মভাব পুরোমাত্রায় বিরাজ করল। রাজারা সকলে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠলেন ও প্রজাপালন করতে লাগলেন। সকলেই নিজ নিজ পেশা ও ধর্ম মেনে চলতে লাগলেন।

    এমন অবস্থায় সকলে মিলে বলিকে দৈত্যরাজ রূপে অভিষিক্ত করলেন। পদ্মাসনা দেবী লক্ষ্মী পদ্ম হাতে তার শরীরে প্রবেশ করতে উদ্যত হলেন। বলি ইন্দ্রকে পরাজিত করেছেন, তাই দেবী তার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।

    বলির এই অদ্ভুত পরাক্রম দেখে দেবী বললেন–এরূপ অসাধারণ কাজ করা তোমার পক্ষে অসম্ভব নয়। কারণ তুমি হিরণ্যকশিপুরের বংশ জাত। তুমি প্রপিতামহের নাম উজ্জ্বল করেছ। একমাত্র তুমিই এই ত্রিভুবনের রাজা হবার যোগ্য।

    তারপর লক্ষ্মী দেবী বলির দেহে প্রবেশ করলেন। লক্ষ্মীর প্রবেশের সাথে সব দেবই বলির প্রতি তুষ্ট হলেন। তখন স্ত্রী, কীর্তি, দ্যুতি, প্রভা, ধৃতি, ক্ষমা, শক্তি, ঋদ্ধি, শ্রুতি, বিদ্যা, স্মৃতি, শান্তি, পুষ্টি, ক্রিয়া প্রভৃতি সমস্তই একে একে দৈত্য রাজকে আশ্রয় করলেন। নৃত্যগীত নিপুণ স্বর্গের অপ্সরারা তখন বলিরাজের করায়ত্ত হল। ব্রহ্মবাদী বলি রাজা হয়ে এইরূপে অতুল ঐশ্বর্য লাভ করলেন।

    ২৪

    ঋষিরা জানতে চাইলেন–দৈত্যদের কাছে পরাজিত হয়ে তখন দেবতারা কি করছিলেন? তারা কেমন লোমহর্ষণ-এর কাছে যজ্ঞকারী ছিলেন এবং বিষ্ণু কিভাবে বামন রূপ ধারণ করলেন, সেই সকল কাহিনি আমাদের সবিস্তারে বলুন। লোমহর্ষণ কাহিনি বলতে শুরু করলেন।

    ইন্দ্র যখন দেখলেন যে সমগ্র ত্রিভুবন বলির বশীভূত হয়েছে, দেবতাদের নিজেদের বলতে আর কিছু নেই, তখন ইন্দ্র সুমেরু পর্বতে মাতা অদিতির কাছে গেলেন। সেখানে গিয়ে দানবদের হাতে দেবতাদের পরাজয়ের কথা মাতাকে বললেন।

    তখন অদিতি বললেন–একমাত্র নারায়ণই বলিরাজকে বধ করতে পারবেন। যদি তোমরা সকল দেবতা মিলে তাকে বধ করতে না পারো, তাকে নারায়ণ ভিন্ন কেউ বধ করতে পারবে না।

    অতএব দৈত্যরাজ্যের বিনাশের স্বরূপ তোমাদের ব্রহ্মবাদী পিতা কাশ্যপ জানেন। তখন কশ্যপের কাছে দেবতারা সকলে মিলে গেলেন।

    সেখানে গিয়ে দেবতাগণ তপোনিধি কশ্যপকে দেখতে পেলেন। ব্রহ্মতেজে দীপ্যমান এই দেবগুরু। তিনি নিজ তেজে সূর্য ও অগ্নির মতো দীপ্যমান। তাঁর পরনে আছে হরিণের চামড়া ও বল্কল আর তাঁর পাশ আছে দণ্ড। নিজেই নিজের তেজে তিনি জ্বলজ্বল করছেন। তার সামনে থেকে যজ্ঞীয় ঘিয়ের গন্ধ আসছে। তাকে মূর্তিমান অগ্নির মতো লাগছে। তিনি বেদপাঠে মগ্ন আছেন।

    এই চরাচরে সকলের গুরু ও প্রভু তিনি। সর্বলোকের স্রষ্টা, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজাপতি ও আত্মভাবের বিশেষত্ব তৃতীয় প্রজাপতি রূপে বিরাজিত এই কাশ্যপকে প্রণাম করে দেবতারা তাকে বললেন–দেবতারা দৈত্যরাজা বলিকে যুদ্ধে পরাজিত করতে পারছেন না, অতএব দেবতাদের মঙ্গলকারী কোনো উপায় বলে দিন।

    এরপর কাশ্যপ তাঁদের ব্রহ্মলোকে যাবার নির্দেশ দিলেন। বললেন, ব্রহ্মা তোমাদের উপায় বলবেন।

    ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলে বলিকে জয় করা যাবে। তখন ইন্দ্রসহ দেবতারা সকলে মিলে কশ্যপের আশ্রম থেকে ব্রহ্মার কাছে রওনা হলেন। তাঁরা মুহূর্ত মধ্যে দ্রুতগামী বিমানে চেপে ব্রহ্মার কাছে উপস্থিত হলেন।

    সকলে সমুৎসুক্য হয়ে উঠলেন ব্রহ্মার সাথে দেখা করার জন্য, ক্রমে সকলে এগিয়ে গেলেন ব্রহ্মার সুবিস্তীর্ণ সভার দিকে। সেখানে গিয়ে এক অপূর্ব সভা দেখতে পেলেন।

    এই সভায় ভ্রমরের মতো মধুর স্বরে সামবেদ পড়ছেন ঋষিরা, প্রধান প্রধান বিজ্ঞান বেদপাঠের নিয়ম অনুযায়ী ঋক্‌মন্ত্র উচ্চারণ করছে কোথাও যাগযজ্ঞ নিপুণ ব্রাহ্মণদের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, কোথাও ব্রাহ্মণেরা সংযমী হয়ে কঠোর ব্রত পালন করছেন। আবার কোথাও ব্রাহ্মণরা জপ, হোম, প্রভৃতি ধর্মানুষ্ঠানে নিযুক্ত আছেন।

    এই সভার মাঝে পিতামহ সমাসীন। অপূর্ব শোভায় তিনি সমুজ্জ্বল। যাবতীয় বেদ ও বিদ্যার প্রভাবে তাঁর উপাসনায় তৎপর প্রজাপতিরা, দক্ষ, প্রচেতা, পুলহ, মরীচি, ভৃগু, অত্রি, বশিষ্ঠ, গৌতম, নারদ, বিবিধ বিদ্যা অন্তরীক্ষ বায়ু, তেজ, জল, পৃথিবী, শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ প্রভৃতি সমস্ত বিকার, মহৎ কারণ সাঙ্গোপাঙ্গ চারবেদ, তপস্যা, শ্রুত, সঙ্কল্প এবং প্রাণ এছাড়া আরও বহু বিশিষ্ট পদার্থ ভগবান ব্রহ্মার উপাসনা করছেন।

    সেখানে নিত্য বিরাজ করছেন ধর্ম, অর্থ, কাম, ক্রোধ, হর্ষ, শুক্র, বৃহস্পতি, বুধ, শনি ও রাহু, প্রভৃতি গ্রহ, মরুদগণ বিশ্বকর্মা, অষ্টবসু, সূর্য, চন্দ্র, দিন, রাত্রি, পক্ষ, মাস, ছয় ঋতু প্রভৃতি।

    মহর্ষি কাশ্যপ ও দেবরাজ অন্যান্য দেবতাদের সাথে ব্রহ্মর্ষিদের দ্বারা পরিবৃত অপূর্ব তেজোময় সেই ব্ৰহ্ম সভায় প্রবেশ করলেন। তারা পরমাত্মা ব্রহ্মার চরণ স্পর্শ করে যাবতীয় পাপতাপ থেকে নিষ্কৃতি পেলেন। ব্রহ্মা তখন সকলকে আসতে দেখে তাদের ব্রহ্মলোকে আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।

    ২৫

    তিনি আগেই দেবতাদের আগমনের কারণ ভালোভাবে চিন্তা করে রেখেছেন। তিনি বললেন–আপনাদের মনস্কামনা পূর্ণ হবে। আমি বলিকে পরাজিত করতে সাহায্য করব। আমি কেবল দেব পুত্রদের পরাজিত করেছি তা নয় সমগ্র ত্রিভুবনেরও কল্যাণ সাধন করবো। যিনি সর্বলোকের প্রভু, যে সনাতন পুরুষকে জ্ঞানীরা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আদিদেব বলে থাকেন, সেই মহাত্মার প্রকৃত স্বরূপ কি তো কেউ জানে না, কিন্তু কি বেদ, কি বিশ্ব চরাচর কোনো কিছুই সেই পুরুষোত্তমের অজানা নয়। দেবতাদের কিভাবে সেই মহাপুরুষের অনুগ্রহে সদগতি হবে তা বলবেন।

    ভগবান বিশ্বস্রষ্টা বিরাজ করছেন উত্তর দিক্‌বর্তী ক্ষীর সাগরের উত্তর তীরে সেখানে যোগ ব্রত অবলম্বন করে যদি কঠোর তপস্যা করা যায় তাহলে দেবাদিদেবের মুখ থেকে মঙ্গলদায়ক স্বর্গীয় কিছু অমোঘ বাণী শোনা যাবে।

    মেঘের মতো গম্ভীর এই বাণীর ধ্বনি। এই বাণী শুনলে সমস্ত পাপ দূর হয়, এই বাণী ব্ৰহ্মবাদীদের কাছে পরম সত্য স্বরূপ। এই মহাত্মার বাক্য ব্যর্থ হবে না।

    দেবতাদের যোগ ব্রত তপোেশ্চর‍্যা শেষ হবার পর তিনি তাদের বলবেন, তিনি কশ্যপকে বরদান করবেন।

    তখন অদিতি ও কশ্যপ ভগবানের পায়ে মাথা ছুঁইয়ে বর প্রার্থনা করবেন–হে ভগবান আপনি অনুগ্রহ করে, আমাদের পুত্র হয়ে জন্ম গ্রহণ করুন। এই প্রার্থনায় ভগবান রাজি হলেন। কশ্যপ ও অদিতির সাথে অন্য দেবতারাও প্রার্থনা করলেন। ভগবানও ‘তথাস্তু’ বলে সম্মত হয়ে থাকেন। অতএব তারা বর লাভ করে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন।

    ব্রহ্মার কাছ থেকে উপদেশ পেয়ে তারা আশ্বস্ত হয়ে ব্রহ্মাকে নত মস্তকে প্রণাম করে শ্বেতদ্বীপের দিকে যাত্রা করলেন। দেবতারা শীঘ্রই ক্ষীরোদ সাগরে পৌঁছে গেলেন। সত্যবাদী ব্রহ্মা যেমন বলে দিয়েছিলেন, সেই মত দেবতারা কত যে সাগর, পাহাড়, বন ও নদী অতিক্রম করলেন তার ইয়ত্তা নেই।

    অবশেষে তাঁরা পৃথিবীর শেষ সীমায় গিয়ে উপস্থিত হলেন। দেবতারা সেখানে দেখলেন ঘোর অন্ধকার–একটিও প্রাণী নেই। সেখানে কেবল অন্ধকারের আধিপত্য। সেখানে সূর্য ওঠে না।

    কোনোরকম সীমারেখাও নেই। এরপর মহাত্মা কশ্যপ সহ দেবতারা অতি কষ্টে সেই পরম ধামে গিয়ে হাজির হলেন।

    তখন সেই সুরপতি দেব নারায়ণকে সন্তুষ্ট করার জন্য কশ্যপ যথা নিয়মে ব্রহ্মচর্য, মৌন বীরাসন প্রভৃতি ব্রত পালন করে দিব্য সহস্র বর্ষ পর্যন্ত তপশ্চর্যায় মগ্ন রইলেন।

    ক্রমান্বয়ে দেবতারাও যোগ ব্ৰত অবলম্বন করে তপস্যা করতে লাগলেন। নারায়ণকে সন্তুষ্ট করার জন্য কশ্যপও তার চরণ বন্দনা করতে লাগলেন।

    ২৬

    এরপর কশ্যপ ভগবান নারায়ণকে অভিবাদন করে বললেন–হে একশৃঙ্গ, কৃপাসিন্ধু, বৃষাকপি সুরশ্রেষ্ঠ, কপিল, বিষ্কসেন, পদ্মনাভ তোমাকে নমস্কার করি। হে সূর্য প্রভু, সমুদ্রশায়ী, অজ, সহস্ৰশিরা, মহাপুরুষ, পুরুষোত্তম, সহস্রবাহু, সহস্ৰমূর্তি, সহস্রমুখ, শাস্ত্র জ্ঞানীদের কাছে তুমিই বিশ্বরূপে প্রকাশিত। তুমি পুষ্পহাস, চরম, যজ্ঞক্রিয়ায় তুমি শতধার, সহস্র ধার রূপে পরিচিত।

    তুমি স্বর্গ, তুমি শাতরিশ্বা, তুমি ধর্ম ও দেবতা, হোতা, হন্তা, মন্তা ও নৈতা, ঋক মন্ত্রে তুমি পূজিত হও। তুমি সুমেধা। তুমি গতি, মতি, দাতা মোক্ষ ও যোগ–সমস্ত তুমি, তুমি স্রষ্টা, তুমি বিশ্বের রক্ষাকর্তা।

    তুমি পবিত্র, হে বিশ্বম্ভর, দিবস্পতি, বাচস্পতি এবং বর প্রার্থীদের বরদান ফলে। তোমার উদ্দেশ্যে, চার চার, দুই, দুই, পাঁচ ও পুনরায় দুই দ্বারা হোম করা হয়। তোমাকে নমস্কার করি হোত্ৰাত্মা।

    লোমহর্ষণ এরপর বললেন, ভগবান নারায়ণ দ্বিজশ্রেষ্ঠ কশ্যপের স্তব শুনে তুষ্ট হয়ে মেঘ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন–তোমাদের মঙ্গল হোক, আমি তোমাদের বর দেব।

    কশ্যপ তখন বললেন–আপনি যদি বর দিতে চান তবে দেবরাজ ইন্দ্রের ভাই হয়ে জন্মগ্রহণ করে আমাদের আনন্দ দান করুন।

    আপনি অদিতির গর্ভে জন্মগ্রহণ করুন। অদিতিও পুত্র কামনায় তার কাছে বর চাইলেন। ভগবান বিষ্ণু যেন সমস্ত দেব সমাজের মঙ্গলের জন্য ত্রাতা, ভৰ্য্যা দাতা ও রক্ষিতা হোন।

    এরপর দেবতাদের অভয় দিয়ে বিষ্ণু বললেন–যারা তোমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করবে, তারা মুহূর্ত মাত্রও আমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না। আমি পরমেষ্টী কার্য দ্বারা অসুরদের বধ করে দেবতাদের যজ্ঞীয় হবি প্রভৃতি দ্রব্য এবং যজ্ঞের অগ্রভাগ ভোজী ও পিতৃপুরুষদের খাদ্যদ্রব্য দান করব। অতএব তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে যাও।

    বিষ্ণু একথা বলার পর দেবতারা সানন্দে তার পূজা করলেন। এরপর কশ্যপসহ অদিতি ও অন্যান্য দেবতারা ভগবানকে নমস্কার করে পূর্বদিকে আশ্রমে এসে হাজির হলেন, কশ্যপের আশ্রম ছিল কুরুক্ষেত্রের সুবিশাল অরণ্যের মধ্যে।

    দেবতারা সেখানে গিয়ে অদিতিকে তপস্যা করতে অনুরোধ করলেন। অযুত বৎসর ধরে সেই স্থানে অদিতি ঘোরতর তপস্যা করলেন। অদিতির নামে সেই অরণ্য বিখ্যাত হয়ে উঠল।

    ভগবান বিষ্ণুকে সন্তুষ্ট করার জন্য অদিতি মৌন ব্রত পালন করে ও বাতাসা খেয়ে তপস্যা করতে লাগলেন। দৈত্যদের অত্যাচারে ঋষিদের ভীত ও বিতাড়িত হতে দেখে এরূপ চিন্তা করতে করতে দুঃখভরা মন দিয়ে হরিকে প্রণাম করতে লাগলেন।

    তারপর নতমস্তকে তপস্বিনী অদিতি ওই দেব দৈত্যরূপী ভক্ত বৎসল ভগবান বিষ্ণুকে উদ্দেশ্য করে বললেন–আমি নমস্কার করি। তাকে আমরা বারে বারে নমস্কার করি যিনি পদ্মমালাধারী, পরম মঙ্গলময় আদিদেব।

    আমরা সেই পদ্মলোচন ও পদ্মনাভকে প্রণাম করি। প্রণাম করি যিনি স্বয়ম্ভ শ্রীপতি ও জিতেন্দ্রিয়কে। আমরা প্রণাম করি পদ্ম, চক্র ও কনক বসনধারীকে। যিনি আত্মজ্ঞান সম্পন্ন, যোগীদের চিন্তনীয়, যোগরত, গুণতীত ও ব্রহ্মরূপী, সমগ্র জগৎ যার মধ্যে বিরাজিত অথচ জগতের কেউ তাকে দেখতে পায় না।

    আবার জগতের কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত না করলেও লোকে অন্তরে যার অস্তিত্ব অনুভব করে, জ্যোতির বহির্ভূত বলে যাঁকে চোখে দেখা যায় না, আবার জ্যোতির পরবর্তী রূপ বলে যিনি দৃশ্যমান, এই নিখিল জগৎ যাঁর প্রভাবে পরিচালিত, যিনি সমগ্র জগতের একমাত্র পরিচালক, যিনি আদি প্রজাপতি ও সকলের একমাত্র পতি, সেই বিশুদ্ধ মূর্তি পরম পুরুষ বিষ্ণুকে যিনি যজ্ঞপুরুষ রূপে যজ্ঞে বিরাজ করেন এবং যজ্ঞের মাধ্যমে যাঁর উপাসনা হয় এবং এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যাঁর জয়গান গায়।

    যিনি একমাত্র গতি, যাঁর থেকে চরাচর বিশ্বের উৎপত্তি, যিনি সূর্য রূপে বিরাজ করেন, অসুর রূপী মূর্তিমান রাতের অন্ধকার বিনাশ করেন। যিনি সকলের ঈশ্বর, যাঁর সম্পর্কে স্তব কোনোমতেই অতিরঞ্জিত বা অসত্য হবার নয়, সেই জন্ম-মৃত্যু হীন নির্মম চরাচর বিশ্বের নিয়ামক ভগবান বিষ্ণুকে নমস্কার করি।

    হে ভগবান, তোমার স্তব ভক্তিভরে করার ফলে সকল মনোস্কামনা পূর্ণ হোক।

    লোমহর্ষণ বললেন, অদিতির স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বাসুদেব যিনি কাউকে দেখা দেন না তিনি অদিতিকে দেখা দিয়ে বললেন–এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমার আশীর্বাদে তোমার মনের বাসনা পূর্ণ হবে। তুমি নিশ্চয় জানো যে ভক্ত তপস্যা বলে আমার দেখা পায় তার সাধনা কখনো বিফলে যায় না। তাই মনোমতো বর চাও।

    যে ব্যক্তি এই বনে বাস করে তিন রাত্রি ব্রত পালন করে তার সব কামনা পূর্ণ হয়।

    সুতরাং এই বনে বসবাসকারীর যে অভিষ্ট সিদ্ধি হবেই এতে আর না হওয়ার অবকাশ কোথায়। যে এই বনে বাস করে পাঁচজন, তিনজন অথবা দুজন ব্রাহ্মণকে খাওয়ায় তার স্বর্গলাভ ঘটে থাকে।

    অদিতি ভগবান বিষ্ণুকে বললেন–আমার পুত্র যেন এই ত্রিভুবনের অধিপতি হয়। যদি আপনি আমার ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তাহলে যে অসুররা ইন্দ্রের রাজ্য কেড়ে নিয়ে ইন্দ্রকে যজ্ঞভাগ থেকে বঞ্চিত করছে তারা যেন নিহত হয়। আমার পুত্র যেন এ সব আবার ফিরে পায়।

    পুত্রের রাজ্য হারানোর জন্য আমার দুঃখ নেই, কিন্তু রাজ্যহারা হয়ে শরণাগতকে রক্ষা করার মহৎ কর্তব্য থেকে তার যে বিচ্যুতি ঘটেছে এটাই আমার কাছে বিশেষ দুঃখদায়ক।

    ভগবান অদিতিকে বললেন–আমি তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি। আমি তোমার গর্ভে কশ্যপের ঔরস হিসাবে আবির্ভূত হব। তুমি নিশ্চিন্ত হও এবং বিষ্ণু সকল দেবশত্রুদের বিধ্বস্ত করবে।

    এরপর দেবদেব কেশবকে অদিতি নমস্কার করে বলেন যে, তোমার থেকে বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে, তুমিই এই বিশ্বের সর্বময় ও ঈশ্বর এই চরাচর সমস্ত জগৎ তোমাতেই প্রতিষ্ঠিত। তখন অদিতি জানালেন, তিনি তাকে গর্ভে ধারণ করবেন।

    ভগবান তখন বললেন–যে তিনি নিজেই নিজের ভার বহন করবেন অদিতিকে ধারণ করে। অদিতির কষ্ট হবার মতো কোনো কাজ তিনি করবেন না। তোমার মঙ্গল হোক এই বলে ভগবান চলে গেলেন।

    তখন সমুদ্র আলোড়িত হয়ে উঠল, সুবিশাল পাহাড়গুলো কেঁপে উঠল, সমগ্র পৃথিবী বিচলিত হয়ে পড়ল কারণ ভগবান বিষ্ণু অদিতির গর্ভে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে গর্ভবতী করে তুললেন। এরপর অদিতির পায়ের ভারে সমগ্র পৃথিবী যেন বসে যেতে লাগল। পরম পুরুষের কথাই সত্য হল। বিষ্ণু অদিতির গর্ভে আবির্ভূত হবার সাথে সাথে দৈত্যদের তেজ কমে গেল।

    ২৭

    লোমহর্ষণ বললেন, পিতামহ প্রহ্লাদকে বলি জিজ্ঞেস করলেন–কোন্ কোন্ দৈত্যরা অগ্নিদগ্ধের মতো অথবা ব্রহ্মশাপ গ্রস্তের মতো নিস্তেজ হয়ে পড়লেন? এদেরকে বিনাশ করতে দেবতারা কোনো কারসাজি করছে কিনা, না কি তাদেরই কোনো দুরভিসন্ধি আছে?

    লোমহর্ষণ বলে যেতে লাগলেন। পৌত্র বলির প্রশ্ন শুনে প্রহ্লাদ কিছুকাল চিন্তা করে বললেন–দেখো ধরিত্রী কিরকম বিচলিত হয়ে পড়েছে? পাহাড়গুলো সব কেঁপে উঠছে এবং দৈত্যগুলো সব নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। আর আকাশ পথে আগের মতো সূর্যোদয়ে গ্রহরা যাতায়াত করে না।

    এসব দেখে মনে হচ্ছে দেবতারা আগের শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে হাল্কা করে দেখা উচিত হবে না। অবিলম্বে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে এর জন্য যা যা করা উচিত তা কর।

    ভগবান হরিকে মনে মনে ভক্তি ভরে স্মরণ করে প্রহ্লাদ দৈত্যরাজ বলিকে এইসকল কথা বললেন। ভগবান জনার্দন কোথায়, কিভাবে বিরাজ করছেন তা তিনি ধ্যানযোগে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলেন।

    জনার্দন যে অদিতির গর্ভে বিরাজ করছেন, প্রহ্লাদ তা অন্তদৃষ্টিতে দেখতে পেলেন। তার অন্তরে বসু, রুদ্র, অশ্বিনী, রাক্ষস, বলি, জম্ভ, কুজম্ভ, নরক, বাম ও অন্যান্য অসুর, আত্মা, আকাশ, মানুষ, পাখি, সরীসৃপ, ব্রহ্মা ও মহেশ্বর সমস্ত, মুনি ও ঋষি ও প্রজাপতি সকলকেই তিনি বিরাজ করতে দেখলেন এইসব দৃশ্যাবলী দেখে তিনি চমৎকৃত হলেন।

    কিছু পরে তিনি প্রকৃতিস্থ হয়ে পৌত্র বলিকে জানালেন–দৈত্যদের হঠাৎ-ই তাদের নিস্তেজ হওয়ার কারণ আমি জানতে পেরেছি।

    যিনি আদি জগত, যাঁর থেকে জগত উৎপত্তি, যার আদি ও জন্ম নেই, যিনি সকলের শ্রেষ্ঠ এবং যিনি সপ্তলোকের গুরুরও গুরু, সেই জগন্নাথ জগতের সুস্থ অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য অদিতির গর্ভে অবতীর্ণ হয়েছেন।

    তার স্বরূপ কেউ জানতে পারে না। রুদ্র, ব্রহ্মা, দেবাত্মারা যাকে পরমাত্মা বলে থাকেন, যিনি মানুষকে নানা সমস্যাকে থেকে মুক্ত করেন, যিনি ধরিত্রীকে ধারণ করে আছেন, সেই মহাত্মা বিষ্ণু পূর্ণরূপে অদিতির গর্ভে অবতীর্ণ হয়েছেন।

    প্রহ্লাদের কথা শুনে বলি জানতে চাইল–দৈত্যদের তেজ হরণকারী এই হরি কে? বলি বলল– বিষ্ণুর চেয়ে বেশি বলশালী শত শত দৈত্য দৈত্যকুলে আছে। এইসব মহাবলশালী ও বীর্যবান দানবরা হলেন শিবি, শম্ভু, জম্ভ, কুজম্ভ, বিচিত্তি, হয়গ্রীব, অশ্বশিরা, ভঙ্গাকর, মহানুনু, বাতাপি, প্রবল, দুর্জয় ও কুকুবাক্ষ। এদের মধ্যে কোনো একজনের সমান শক্তিও জনার্দনের নই।

    লোমহর্ষণ বললেন, বলিকে এইরূপে হরির নিন্দা করতে শুনে, পৌত্র বলির প্রতি প্রহ্লাদ রুষ্ট হলেন। বললেন–তোমার মতো বিবেকহীন ব্যক্তি যাদের রাজা, সেই দৈত্য ও দানবরা শীঘ্রই ধ্বংস হবে।

    তুমি যেসব দৈত্য ও দানবদের কথা বললে তারা ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবতারা, তুমি, আমি, পাহাড়, নদী, গাছ, বন–এই ত্রিভুবন যার এক একটি অংশ থেকে উৎপন্ন, যিনি সবারই পরম পূজণীয়, কেউ তার সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারে না।

    একমাত্র তুমি সেই সর্বনিয়ন্তা ভগবান সম্পর্কে এরূপ বললে।

    তোমার মৃত্যু আসন্ন। গুরুজনদের উপদেশ তুমি শুনছে না। এবং বিবেক বুদ্ধি সব হারিয়ে ফেলছো। তোমার অধম পিতার জন্ম হয়েছে আমার ঘরে তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আর তোমার মতো দেবদেবের অবজ্ঞাকারী ব্যক্তি সেই পিতার পুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে।

    শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অচলা ভক্তি দেখালে এই পার্থিব দুঃখ যাতনা থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়, কথা সবাই জানে।

    মহাত্মা কৃষ্ণের চেয়ে আমার দেহও যে আমার কাছে প্রিয় নয় এ কথা সবাই জানে, দৈত্যপতি তুমিও জানো।

    আমার প্রাণের থেকে প্রিয় হরি একথা জেনেও তুমি হরির নিন্দা করছ। আমার কথা তুমি একটুও ভাবলে না।

    যে বিরোচন তোমার গুরু, তার গুরু আমি আর নিখিল জগতের গুরু আমার হরি। তুমি এই পরম গুরু কৃষ্ণের নিন্দা করলে। তোমার ঐশ্বর্য নাশ হবে।

    আমাকে তুমি একটুও সম্মান দিলে না, আমি তোমার পিতার পূজণীয় এবং আমার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পূজণীয় জনার্দন।

    জগৎ গুরুর তুমি নিন্দা করলে আমাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে। তোমাকে আমি অভিশাপ দিলাম, ভগবানের প্রতি তোমার নিন্দা আমার কাছে শিরচ্ছেদের চেয়েও গুরুতর।

    অতএব তুমি রাজ্য হারিয়ে পতিত হবে। তোমাকে যেন শীঘ্রই রাজ্য ভ্রষ্ট হতে দেখি। কারণ আমি শ্রীহরি ছাড়া আর কাকেও ওই সংসার সাগরে পরিত্রাতা বলে মানি না।

    ২৮

    পিতামহ প্রহ্লাদের এই অভিশাপের কথা শুনে তাকে প্রসন্ন করার চেষ্টা করলেন বলি। বলি বললেন– আমি মোহগ্রস্ত। আমার প্রতি আপনি রাগ করবেন না। আপনি প্রসন্ন হোন।

    মোহাবশে আমার বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। আমাকে অভিশাপ দিয়ে আপনি ঠিকই করেছেন। আপনার শাপে আমার রাজ্য ও কীর্তি ধ্বংস হবে। কারণ আমি পাপাত্মা ও দুরাচার। আমার দুবির্নীত ব্যবহারে আপনি আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

    আমার পক্ষে মোটেই কঠিন নয় এই ত্রিভুবনের আধিপত্য বা অন্য কোনো প্রিয় বস্তু লাভ করা। কিন্তু আপনার মতো গুরুজন অতি দুর্লভ সংসারে।

    অতএব আপনি সন্তুষ্ট হোন, ক্রুদ্ধ হবেন না আমার প্রতি। আমি দিনরাত পরিতপ্ত হচ্ছি আপনার কোপানলে দগ্ধ হয়ে।

    ‘তোমার বিবেক বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছিল’–দারুণ ক্রোধের বশবর্তী হয়ে প্রহ্লাদ বলিকে বললেন। আমি তোমাকে শাপ দিয়েছি। মোহের বশে হরিকে সম্যক জেনেও আমি কাকেও শাপ দিতে পারি না।

    তবে আমার দেওয়া শাপের কখনোই অন্যথা হবে না। তবে তুমি দুঃখ কোরো না। এজন্য দেবদেব বিষ্ণুই তোমাকে রক্ষা করবেন। তার প্রতি তুমি ভক্তিমান হও।

    আমি তোমাকে উপদেশ দিতে পারি যাতে তোমার মঙ্গল হয় সে ব্যাপারে। আমার কাছে শাপগ্রস্ত হয়েও তুমি যদি ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হও, তাহলে তোমার মঙ্গল হবে।

    লোমহর্ষণ বললেন, অদিতির গর্ভে হরি দিন দিন বেড়ে উঠতে লাগলেন। অদিতির গর্ভে অবতীর্ণ হয়ে ভগবান গোবিন্দ দশ মাস পরে বামনাকারে ভূমিষ্ঠ হলেন।

    দেবাধিপতি জগন্নাথ ভূমিষ্ঠ হলে মনোরম বাতাস বইতে শুরু করল। অদিতি খুশি হলেন, সকলে ধর্মানুষ্ঠানে মন দিলেন, আকাশ মেঘমুক্ত হল।

    সকলের মনে খুশির ভাব বিরাজ করতে লাগল। লোকের মনে উদ্বেগের লেশমাত্র রইল না। তিনি জন্মানোর সাথে সাথেই পিতামহ ব্রহ্মা তার জাত কর্মাদি আচরণগুলো শেষ করে স্তব করতে আরম্ভ করলেন।

    ব্রহ্মা বললেন–তোমার জয় হোক। হে অধীশ, হে অজেয় অনন্ত সর্বগুরু জয়যুক্ত হও তুমি। কথায় প্রকাশ করা যায় না তোমার স্বরূপ।

    তুমি সর্বজ্ঞ জ্ঞানরূপী, তুমি পরমার্থ স্বরূপ। হে সর্বান্তযামী, জগকর্তা, জগদীশ তুমি। জন্ম, মৃত্যু তোমার হাতেই সব। তুমি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও অতিন্দ্রিয়। তোমার ধ্যানে সর্বদা মগ্ন থাকে মুক্তিকামী যোগীরা। তুমি কেবলমাত্র একটি দাঁত দিয়ে এই বসুধা উদ্ধার করেছিলে। তুমি বধ করেছিলে হিরণ্যকশিপুর বক্ষ বিদীর্ণ করে। তোমার ক্ষয় নেই, তোমার রূপের শেষ নেই।

    তুমি চিরন্তন, তুমি অক্ষয়, অমর। তুমি এই জগতে ধর্ম স্থাপন করেছো। তোমার স্বরূপ কি তা ভালোভাবে জানে না ইন্দ্র প্রভৃতি দেবতারা, সনৎ প্রভৃতি ঋষি যোগীরাও।

    তোমার গুঢ় রহস্য একমাত্র সেই উদ্ধার করতে পারে যে তোমার আরাধনা করে। সে ভিন্ন অন্য কারো এই রহস্য জানার অধিকার নেই।

    তোমার জয় হোক হে বিশাল নেত্র। তুমি প্রকৃতি ও আকৃতি স্বরূপ। তুমি এই বিশ্বের সর্বদা মঙ্গল বিধান করো।

    লোমবর্ষণ বললেন, এভাবে হৃষীকেশের স্তব করতে লাগলেন ব্রহ্মা। আপনি, পূর্বে কশ্যপ ও ইন্দ্র প্রভৃতি দেবতাদের সাথে আমার স্তব করেছিলেন। বামনদেব অল্প হেসে ভাবগম্ভীর বাক্যে বললেন। তখন আমি ইন্দ্রকে এই ত্রিলোক ব্যাপী রাজ্যদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। পরে অদিতি স্তব করলে তাকেও আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইন্দ্রকে নিষ্কন্টক রাজ্যদান করার। এখন সেই সময় উপস্থিত। আমি সেই ব্যবস্থা করবো যাতে ইন্দ্র জগতের অধিপতি হতে পারে। আমি এই কথা আপনাদের কাছে দিলাম–এমন বললেন–বামন দেব।

    এরপর ব্রহ্মা হৃষীকেশকে মৃগচর্ম দান করলেন। যজ্ঞোপবীত দিলেন তাকে ভগবান বৃহস্পতি। এরূপে ব্রহ্মপুত্র মরীচি দিলেন পলাশদণ্ড, বশিষ্ঠ কমণ্ডলু, অঙ্গিরা কুশখণ্ড, পুলহ আসন এবং পুলস্ত্য গেরুয়া বসন দান করলেন।

    দেবতারা তখন নানা শাস্ত্র পাঠ করে বামনদেবের উপাসনা করতে লাগলেন। সেই সর্বদেবময় বামন জটা, দণ্ড, ছত্র ও কমণ্ডুল ধারণ করে বলিরাজের যজ্ঞস্থলে যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।

    বসুন্ধরা তাঁর ভার সহ্য করতে না পেরে বিদীর্ণ হল।

    এরপর বামনদেব মধুর গতিতে যেতে লাগলেন, তথাপি ধরিত্রী বিচলিত হতে লাগল। তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চললেন স্বয়ং বৃহস্পতি। বামনদেব এই স্বীয়গতি অবলম্বন করলেন জগতের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার জন্য।

    তখন মহানাগ অনন্ত রসাতল থেকে বেরিয়ে এসে দেবদেব চক্রপানিকে সাহায্য করতে লাগলেন। এজন্য এ ঘটনা জগতে অতি বিখ্যাত, সর্পভয় দূর হয়ে যায় বামনদেবের দর্শনে।

    ২৯

    লোমহর্ষণ বললেন, বলি যখন দেখল ধরিত্রী বিচলিত হয়ে উঠেছে, পাহাড়, পর্বত কঁপছে, বনজঙ্গল আন্দোলিত হচ্ছে, তখন সে কৃতাঞ্জলি হয়ে গুরু শুক্রাচার্যকে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করল–কেন ধরিত্রী এরূপ বিচলিত? কেন অগ্নি অসুরদের দেওয়া যজ্ঞভাগ গ্রহণ করছে না?

    বলির প্রশ্ন শুনে মহামতি শুক্রাচার্য চিন্তা করে বললেন–তিনি নিশ্চয় তোমার যজ্ঞানুষ্ঠানে আসবেন। তার পদসঞ্চারে এই ধরিত্রী বিচলিত হয়ে উঠেছে। পাহাড় পর্বত কেঁপে উঠছে, সমুদ্র আলোড়িত হচ্ছে। ধরিত্রী দেবী বামনদেবের ভার বহনে অক্ষম।

    অথচ এই বামন দেবই ধারণ করে আছেন দেব, অসুর, গন্ধর্ব, যক্ষ, রাক্ষস, নাগ, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ যাবতীয় প্রাণী সহ সকলকে।

    ভগবান বিষ্ণু বামন রূপে ধরণীতে আবির্ভূত হয়েছেন বলে দেবতারা তাদের নিজ নিজ যজ্ঞভাগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু গার্হপত্য, রাজকীয় ও দাক্ষিণ্য– এই তিন প্রকার অগ্নি এখনও পর্যন্ত তা গ্রহণ করছেন না।

    শুক্রাচার্যের কথা শুনে দৈত্যরাজ বলি পুলকিত চিত্তে বললেন–আমি ধন্য, আমি পুণ্যবান। যেহেতু স্বয়ং যজ্ঞপতি আমার যজ্ঞভূমিতে আসবেন সুতরাং আমার চেয়ে পুণ্যবান ব্যক্তি আর কে আছে? কাজেই এখন কি করতে হবে আপনি আমায় বলে দিন।

    শুক্রাচার্য বলিকে বললেন–বৈদিক প্রমাণাসুরে দেবতারাই যজ্ঞভোগ ভোজী, কিন্তু তুমি এখন দানবদেরই যজ্ঞভাগ ভোজী করেছ।

    এই স্বত্বগুণাবলম্বী ভগবান স্থিতি ও পালন কর্তা। তিনি নিজেই সৃষ্টি করে আবার নিজেই সব গ্রাস করেন।

    তুমি দেবতাদের বঞ্চিত করেছ। কিন্তু এটা সুনিশ্চিত যে, বিষ্ণু সর্বদাই স্থিতি স্থাপনে প্রস্তুত।

    সুতরাং তুমি এসব চিন্তা করে যা ভালো বুঝবে তাই করবে। তুমি স্বল্পতম বস্তুও বামন দেবকে দান করবে বলে প্রতিজ্ঞা কোরো না। কেবল াঁকে তুষ্ট করো মিষ্টি কথায়, তাতেই কাজ হবে।

    বিষ্ণু স্বভাবতই সকল ব্যাপারে সফলতা লাভ করে থাকেন। তবুও তিনি আবির্ভূত হয়েছেন দেবতাদের প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য।

    সুতরাং দেবতাদের কার্য উদ্ধারের জন্য তিনি যখনই কোনো প্রার্থনা করবেন, তুমি তখনই তাকে স্পষ্টভাবে বলবে, আপনার প্রার্থনা পূরণে আমি অসমর্থ। বলি বললেন–আমি এমন কথা কেমন করে বলব, যখন কোনো সাধারণ ব্যক্তিও কিছু চাইলেও আমি না বলতে পারি না।

    সেখানে জগৎ বিধাতা সুরপতিকে আমি কি ভাবে একথা বলবে।

    যে প্রভুকে লাভ করতে কঠোর সাধনায় নানা ব্রত উপবাস পালন করতে হয়, সেই সাক্ষাৎ গোবিন্দ যদি ‘দেহি’ বলে হাজির হন তাহলে তার চেয়ে গৌরবের আর কি, হতে পারে। তিনি যদি ‘দেহি’ বলে কিছু চাইবেন, যাঁকে তুষ্ট করার জন্য নানারকম যাগযজ্ঞ করা হয়, ভগবান স্বয়ং তা গ্রহণ করবেন যা আমি দান করব, এর চেয়ে বেশি পুণ্যজনক আর কি?

    তার কাছে প্রার্থী হয়ে আসবেন ঈশ্বর স্বয়ং, বলি তাঁকে কেমন করে ‘নাই’ বলে প্রত্যাখ্যান করবেন। ‘নাই’ একথা কখনও বলতে পারবে না, তার চেয়ে বরং আমি প্রাণ ত্যাগ করবো। এই যজ্ঞের যজ্ঞেশ্বর জনার্দন যদি তার কাছে, কোনো কিছু চান, তাহলে নিশ্চয় তার অভিষ্ট সিদ্ধ হবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ হলেই দান করা পুণ্যজনক। তার রাজ্যে কেউ অসুখী নয়।

    কোনো দরিদ্র বা আতুর ব্যক্তি নেই, কেউই উদ্বিগ্ন বা অপ্রসন্ন নয়, সবাই হৃষ্ট, পুষ্ট, তৃপ্ত ও তুষ্ট, তিনি আমার কথা বলবেন না। কারণ তিনি সর্বদাই সুখী।

    এই সুখই দানবীজের বিশিষ্ট ফল। তিনি মনে করেন যা তিনি পুরো মাত্রায় পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সব বীজের সেরা দানবীজ যদি জনার্দন রূপ বিশিষ্ট ক্ষেত্রে পড়ে। তাহলে সকল ফল তিনি লাভ করবে, নিশ্চয়, কোনো বিশেষত্ব আছে তার এই দানের ব্যাপারে তাই তুষ্ট হয়েছেন দেবতারা। শতগুণ বেশি সুখকর দান উপভোগের চেয়েও।

    তিনি হরির আরাধনা করেছেন যজ্ঞানুষ্ঠানে। তাই নিশ্চয় তিনি আসছেন তার উপকারের জন্য সন্তুষ্ট হয়ে। অথবা তিনি তাদের বঞ্চিত করেন তাদের প্রাপ্য যজ্ঞভাগ থেকে।

    সুতরাং গোবিন্দকে কিছু দান করেনে। তিনি তাকে বাধা দেবেন না জগদীশ।

    লোমহর্ষণ বলতে লাগলেন, বলি যখন শুক্রাচার্যকে এসব বলছেন, তখন বৃহস্পতি ও অন্য দেবতাদের সঙ্গে বামনদেব বলির যজ্ঞ স্থলে উপস্থিত হলেন। বলি পুরোহিত শুক্রাচার্যকে ডেকে বললেন–যখন ভগবান হরি নিজে তার কুটিরে এসে উপস্থিত হয়েছেন, তখন তাকে মনমতো কোনো বস্তু প্রার্থনা করতে দিন।

    এই জনার্দন অন্তর্যামী ও সর্বদেহময়, ইনি মায়াবশে বামন রূপ ধারণ করেছেন।

    তাকে যজ্ঞস্থলে প্রবেশ করতে দেখে অন্য অসুররা তার তেজের প্রভাবে নিষ্প্রভ হয়ে পড়লেন। এই মহাযজ্ঞে সমবেত মুনিরা কাঁপতে লাগলেন।

    বামনদেবকে দেখে নিজ নিজ জন্ম সার্থক মনে করলেন বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, গর্গ ও অন্যান্য মুনি ঋষিরা ও দৈত্যপতিগণ। সবার অন্তরে এক ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা উৎপন্ন হল। কেউ কোনো কথা বলতে পারলেন না তাকে। সকলেই তাকে পূজা করতে লাগলেন দেবজ্ঞানে।

    বামন রূপী দেবদেব বিষ্ণু বলির সেই যজ্ঞ, যজমান, ঋত্বিক ও অগ্নি সবারই যথাযোগ্য স্তব করলেন। সেই যজ্ঞানুষ্ঠানের প্রধান পুরোহিত অন্যান্য সদস্য ও যজ্ঞীয় দ্রব্য সম্ভারের তিনি যথেষ্ট প্রশংসা করলেন।

    ব্রাহ্মণ ও সব সদস্যরা বামনদেবকে একবাক্যে ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন। পুলকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল বলিরাজের অন্তর। তিনি ভক্তিভরে গোবিন্দের পূজা করে তাকে বললেন–সোনা-দানা, বস্ত্র, অলঙ্কার, গরু-মহিষ, স্ত্রী সমগ্র পৃথিবী অথবা আপনার যা খুশি প্রার্থনা করুন, আমি আপনাকে তা দান করবো। যজ্ঞের অগ্নি রক্ষার জন্য আমার সমগ্র বস্তু আপনি আপনার বলে মনে করবেন।

    ‘তিন পা জায়গা চাই’–বামনরূপী ভগবান দৈত্যপতির কাছে বললেন। সামান্য হেসে বললেন, যাঁরা সোনাদানা মূল্যবান রত্নরাজি চান, তাদের আপনি তা দান করুন।

    বলি তখন বিষ্ণুকে বললেন–মাত্র তিন পা জায়গাতে আপনার কি হবে? আপনি শত শত হাজার হাজার পা জায়গা চান।

    বামন বললেন–আমার মনস্কামনা পূর্ণ হবে এই তিন পা জায়গা পেলেই। তাদের আপনি অভিষ্ট বস্তু দান করুন যারা অন্য সকল প্রার্থী।

    এরপর বলি তিন পা মাত্র জায়গা দান করলেন মহাত্মা বামনের প্রার্থনা অনুযায়ী। করতলে উৎসর্গ জল পড়ার সাথে সাথেই বামন বিরাট আকার ধারণ করলেন, তাঁর সর্বদেবময় রূপ প্রকাশ করলেন।

    সকলের সামনে সবাই দেখলেন যে চন্দ্র ও সূর্য তার দুই চোখ, স্বর্গে তার মাথা, পৃথিবীতে তাঁর পা, পিশাচগণ পায়ের আঙুল এবং গুহ্যকগণ হাতের আঙুল, তার দুই জানু ও জঙ্ঘাতে যথাক্রমে বিদ্যাধর ও সাধ্যগণ বিরাজ করছেন।

    তার অঙ্গ সমূহে দেবতা ও অপ্সরাগণ আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর কেশরাশি সূর্যের কিরণজাল, তারকারাজি তাঁর রোমকূপ এবং রোমসমূহে মহর্ষিদের বসবাস, ঈশাণ, বায়ু, নৈঋত ও অগ্নিকোণ এগুলো তার বাহু, অশ্বিনীকুমারদ্বয় তাঁর কান, সত্য তাঁর বাণী, দেবী সরস্বতী তার জিভ, দেবমাতা অদিতি তার ঘাড়, বিদ্যাসমূহ তার বলিরাশি, ত্বষ্টা ও পূজা তার দুই ভুরু, সন্ধি সমূহে মরুম, বুকে রুদ্রগণ, পেটে গন্ধর্ব ও মরুদগণ বিরাজ করছেন, লক্ষ্মী, মেধা, ধৃতি, কান্তি ও সমস্ত বিদ্যা হন তার কোমর। এই বামনদেব সর্ব জ্যোতির্ময়। তিনি সর্বদেবের অধিদেবতা। তখন তাঁর এক অপূর্ব তেজ প্রকাশিত হল।

    মহাবলশালী বলি অবাক হয়ে গেলেন বিষ্ণুর এই অপূর্ব দেবময় রূপ দেখে। যজ্ঞস্থলে উপস্থিত সকলের অবস্থা হল আগুন দেখলে পতঙ্গের যেমন অবস্থা হয় তেমন। চিকুর দাঁত দিয়ে বামন দেবের পায়ের আঙুল কামড়ে ধরল মহাদৈত্য। তার ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে বামনদেব তাকে আহত করলেন।

    এইভাবে তিনি সমস্ত ধরণী দখল করে নিলেন। অসুরদের হাত ও পায়ের আঘাতে দলিত মথিত করে দিয়ে এক বিশাল শরীর ধারণ করে নিলেন।

    এরপর তিনি পৃথিবী, অন্তরীক্ষ এমন কি আরো উৰ্দ্ধদেশে পরিক্রমা করতে লাগলেন।

    সমগ্র ত্রিলোকের আধিপত্য ইন্দ্রকে দান করলেন। বিপুল পরাক্রমশালী বিষ্ণু অসুরদের পরাজিত করলেন। তারপর ভগবান বিষ্ণু বলিকে বসুধাতলের নীচে সুতল নামে পাতাল দান করলেন।

    তোমার দেওয়া উৎসর্গ জল আমি করতলে গ্রহণ করেছি, তাই স্বল্পকাল পর্যন্ত তোমার আয়ু হবে এবং তোমার স্বাস্থ্যসুখ কখনো নষ্ট হবে না।

    তিনি বলিকে বললেন–তুমি যখন ইন্দ্র হয়ে বিরাজ করবে, যখন বৈবস্বত মন্বন্তর শেষ হয়ে সাধনিক মন্বন্তর উপস্থিত হবে।

    আমি ইন্দ্রকে এখন তোমার অধিকৃত সমস্ত ভুবন দান করলাম। চারটি যুগের ব্যাপ্তি একাত্তর বছরের বেশি। এই সময়ের মধ্যে যারা ইন্দ্রের বিরুদ্ধাচরণ করবে তাদের আমি এভাবে নিগৃহীত করবো।

    পূর্বে ইন্দ্র ভক্তি ভরে আমার আরাধনা করেছিল। তাই আমি তার প্রতি এরূপ অনুগ্রহ করলাম। সুতল নামক পাতাল প্রদেশ গ্রহণ করে সেখানে গিয়ে বলিকে বাস করতে বললেন।

    সুর ও অসুরদের বাস এই পাতাল পুরীতে। শত শত অট্টালিকায় পরিব্যপ্ত এই স্থান। সুন্দর পদ্মফুল ফুটে আছে সর্বদা সেখানকার সরোবরে। স্বচ্ছ ও পবিত্র জলে পরিপূর্ণ নদী সমূহ। তুমি সেখানে চন্দন, মালা ও সোনার অলঙ্কারে বিভূষিত হয়ে নাচে-গানে, সুখে কাল কাটাও। নানা সুখ সম্ভোগে কাল কাটাবে তুমি আমার আদেশে। কিন্তু যখনই তুমি দেবতা ও ব্রাহ্মণদের সাথে বিরোধে লিপ্ত হবে, তখন এক ভয়ঙ্কর পুরুষ দড়ি জাতীয় পাশ নামক অস্ত্র দিয়ে তোমায় বেঁধে ফেলবে।

    এরপর বলি জানতে চাইলেন–ওই স্থানে তাঁর ভোজ্য ও ভোগ্য সামগ্রী কি হবে? আমি যেন সর্বদা আপ্লুত হয়ে বামনদেবকে স্মরণ করতে পারি। ভগবান তখন বললেন–সদা দান, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণহীন শ্রাদ্ধ এবং অশ্রদ্ধাকৃত হোম এসব তোমায় ফলদান করবে।

    ফলদায়ক হবে দক্ষিণাহীন যজ্ঞ, অবৈধ ক্রিয়া, ব্রতবিহীন অধ্যয়ন, জলহীন পূজা কুশবাস ও ঘি ছাড়া হোম। অসুরদের কোনো ভাগ থাকবে না যদি কেউ এখানে এসে কোনো সৎ কাজ করে।

    এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মহা পুণ্যজনক জ্যেষ্ঠাশ্রমে কিংবা এই বিষ্ণুপদ হ্রদে কোনো মহাত্মার যদি শ্রাদ্ধ বা ব্রত পালন জাতীয় সৎকার করেন, তবে সেসব যে অক্ষয় হয়ে যাবে।

    জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে যদি কেউ উপোস করে দ্বাদশীতে বামনদেবকে দর্শন করে বিষ্ণুপদ হ্রদে স্নান ও যথাশক্তি দান করে, তাহলে তার স্বর্গলাভ হয়ে থাকে।

    লোমহর্ষণ বললেন, শ্রীহরি বলিকে এরূপ বর ও ইন্দ্রকে সমগ্র ত্রিলোক ব্যাপী রাজ্য দান করে সেই বিশ্বব্যাপী বিশাল শরীরেই অন্তর্ধান করলেন।

    তখন ইন্দ্র আবার সসম্মানে সমগ্র ত্রিভুবনের অধিপতি হয়ে বিরাজ করতে লাগলেন।

    ভগবান বিষ্ণুর এই মাহাত্মকথা আমি তোমাদের বললাম। তার সমস্ত পাপ দূর হয় যে ব্যক্তি বামনদেবের কীর্তি মাহাত্ম ভক্তি ভরে শোনে। যারা বলি ও প্রহ্লাদের এই কাহিনি, বলি ও ইন্দ্রের মন্ত্রণা ব্যাপার এবং বলি ও বিষ্ণুর কথোপকথন স্মরণ করবে, তারা কখনো মোহগ্রস্ত হবে না এবং কোনোরূপ আদি ব্যাধি বা তার তাপ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।

    এসব কথা শুনলে রাজ্য ভ্রষ্ট ব্যক্তি রাজ্য ফিরে পাবে, ইষ্টলাভ হবে বিরহী ব্যক্তিদের, ব্রহ্মজ্ঞ হবেন ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় পৃথিবী জয় করতে পারবেন। বৈশ্য ধন সমৃদ্ধি লাভ করবেন এবং সুখ সৌভাগ্য লাভ করবেন বামন দেবের মাহাত্ম্য কাহিনি শ্রবণ করলে। কাউকে কোনোরূপ পাপ স্পর্শ করতে পারবে না।

    ৩০

    ঋষিগণের মতে নদী সমূহের মধ্যে সরস্বতী একটি প্রাচীন নদী। কুরুক্ষেত্রের মাঝামাঝি ক্ষেত্র দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী। এরপর সকলে লোমহর্ষণের কাছে জানতে চাইলেন, কি করে এই নদীর উৎপত্তি, কেমন করে ব্রহ্মা সরোবরে এসে এই নদী দৃশ্য ও অদৃশ্য গতিতে পশ্চিমদিকে বয়ে চলেছে, কিভাবে নদীর উভয়তীরে নানা তীর্থক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে।

    লোমহর্ষণ বললেন, এই নদী আবির্ভূত হয়ে পাকুড় গাছ থেকে। এর মাহাত্ম্য কাহিনি বেশি আর বলবার নেই। সব পাপ ক্ষয় হয়ে যায় এই নদীকে স্মরণ করা মাত্রেই।

    এরূপ শোনা যায় যে, এই পবিত্র মহানদী হাজার হাজার পর্বতমালা প্লাবিত করে দিয়ে দ্বৈত বনে এসে প্রবেশ করে। মহামুনি মার্কণ্ডেয় এই নদীর স্তব করতে আরম্ভ করেন। তিনি পাকুড় গাছে এই নদীকে বিরাজ করতে দেখে ছিলেন।

    এই পবিত্র সরস্বতী নদীকে মহাঋষি মার্কণ্ডেয় বললেন–তুমি সকলের মাতা, বেদের অরণি এবং জগতের মঙ্গলবিধাত্রী, সাগরে যেমন জল থাকে, যা কিছু সৎ ও শুভ এবং মোক্ষলাভের সহায়ক, তা সবই তোমাতে প্রতিষ্ঠিত।

    পরব্রহ্ম অবিনশ্বর এবং বিশ্বনশ্বর, কিন্তু এই ব্রহ্ম ও জগৎ উভয়ই তোমাতে অধিষ্ঠিত। যাতে সকল চরাচার প্রতিষ্ঠিত, সেই তিন মাত্রার ওঁকার এই অক্ষরের মধ্যে দৃশ্য ও অদৃশ্য সমস্তই বিরাজ করছে।

    এখানে প্রতিষ্ঠিত আছে তিন লোক, তিন বেদ, তিন ধাতু, তিন অবস্থা, আমি যদি আট সিদ্ধি, পিতৃগণ এই সমস্তই।

    তোমার রূপ হল এই তিন মাত্রার কথা। ব্রহ্ম যা আদি ও সনাতন আবার ভিন্ন ভিন্ন। সোম সংস্থ, হরি সংস্থ, পাবকসংস্থ ও সনাতন, শুধু তোমার নাম উচ্চারণ করেই ব্রহ্মবাদিগণ এসব সাধনা করে থাকেন। তার স্বরূপ নির্দেশ করা অসম্ভব যে অর্ধমাত্রাস্থিত অপর এক পরম রূপ আছে।

    বিকার নেই ঐ দিব্য রূপের এবং তা প্রকাশ করতে পারে না কোনো ব্যক্তি। তা উচ্চারণ করা যায় জিহ্বা, ওষ্ঠ বা তালু প্রভৃতির সাহায্যেও, ওই অর্ধ মাত্রাস্থিত রূপই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবাত্মক এবং তাই সাক্ষাৎ চন্দ্র-সূর্যের জ্যোতি স্বরূপ।

    এই রূপই বিশ্বাধার, বিশ্বরূপ বিশ্বাত্মা মহেশ্বর, সংখ্যা সিদ্ধান্ত, বেদ-বেদান্ত প্রভৃতি বহু শাস্ত্রে তোমার ওই রূপই বর্ণনা করা আছে। এর আদি, মধ্য ও অন্ত নেই।

    সর্বদা তিনি বিরাজিত সৎ ও অসঞ্জপে। বিভিন্ন ভাব পরম্পরায় এটি এক হয়েও অনেক বিভক্ত। এর কোনো নাম নেই, ইহা আবার ষড়গুণাঙ্ক ও বিবিধ আখ্যা যুক্ত এবং ত্রিগুণাশ্রিত, তত্ত্বগুণের আধার তোমার ওই রূপ, প্রকাশক ও জনক তোমার এই রূপ নানা শক্তির, সারা জগৎ জুড়ে বিরাজ করছ, তুমি এই রূপেই।

    এইরূপে সারা জগৎ জুড়ে বিরাজ করছ যা অদ্বৈত রূপে অবস্থিত। ব্রহ্মকেও ব্যপ্ত করে বিরাজকারী তুমি। হে দেবী! তুমি সেসবের প্রকাশক, যেসব পদার্থ নিত্য ও বিনাশশালী, অথবা যে সমস্ত পদার্থ স্থূল, সূক্ষ ও নশ্বর, অথবা যেসব পদার্থ ভূতলে। তুমিই সে সবের প্রকাশক, যা অমূর্ত বা মূর্ত, যা কিছু ভৌতিক কর্ম অথবা যা কিছু দেবতাদের মধ্যে বা অন্যত্র প্রতিষ্ঠিত, তা সবই তোমার মূর্তি, স্বর ও ব্যঞ্জনে সমৃদ্ধ।

    মার্কণ্ডেয় মহামুনি মহাত্মা, তিনি স্তব করলে বিষ্ণুর জিহ্বারূপী দেবী সরস্বতী তাঁকে বললেন–যে, তিনি মহামুনিকে সেখানে নিয়ে যাবেন যেখানে শ্রীহরি থাকেন।

    প্রথমে ব্ৰহ্ম সরোবরে, তারপর পবিত্র নাগহ্রদ ও তারপর কুরুক্ষেত্রে যাবার কথা বললেন–মার্কণ্ডেয়। সেই কুরুক্ষেত্রে পবিত্র জলরাশি নিয়ে নদীকে প্রবাহিত হতে বললেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }