Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প137 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – ৪

    চার

    ভুলে যায়। ভুলে যাওয়াটা বোধহয় নিয়ম।

    মিতার কেসের পর পোস্টমাস্টাররা চলে গেলেন। সরমা শুনেছেন, তিনি রীতা আর কিশোরের কাছে থাকেন। নীতা খেলাধুলো করত, বি. এস. সি. পাশ করল, রেলে চাকরি পেয়ে গেছে।

    তখন যারা ছোট ছিল, তারা বড় হয়ে গেল। মিতার স্মৃতি ঝাপসা হয়ে এল মানুষের মনে। তখনকার অনেক পরিবার টাউন ছেড়ে চলে গেল ; আবার নতুন নতুন মানুষ এসে শূন্যস্থান পূর্ণ করল।

    অনেক, অনেক নতুন বাড়ি উঠেছে। মানুষ এখন মাইনে পায় বেশি, কলেজে বা আপিসে বা ব্যাঙ্কে লোন নিয়ে বাড়িও করে ফেলে।

    করবে নাই বা কেন? মহকুমা সদর হিসেবে ভাল টাউন। চার পাঁচটা বড় বড় খেলার মাঠ আছে। তরুণ সংঘ ক্লাব থেকে ভাল ভাল ফুটবলার বেরিয়েছে। আর চিত্রাভিনেত্রী সুমনার পরিচয়ে সবসময়ে দাবী করা হয় ও এই টাউনের মেয়ে। যদিও সুমনার বাবা এ শহরে মাত্র তিন বছর কাজ করেছেন।

    এ শহরের পাশে আছে বহতা নদী। হাইওয়ে তো সর্বদা ব্যস্ত থাকে। উত্তরবঙ্গগামী কত বাস। কত বাস! হাওড়া লাইনের ট্রেন ধরা খুব সহজ এখন।

    এততেও অনন্তপুর প্রচণ্ড গুরুত্ব পায়নি।

    শহরকে প্রকৃত গুরুত্ব দিলেন যোগপ্রেমানন্দ। তিনি একজন অতিমানব, দেবতার অংশ। চেহারায় জেল্লা, বসন ভূষণ, সবই টি. ভি.—র বিজ্ঞাপনের মত। চেহারা দেখলে মনে হয় কবির বেদী কোন সন্ন্যাসী সেজেছে। অথচ ওঁর বয়স না কি একশো পঁচিশ।

    একশো বছর আগে বিকানীর থেকে পঁচিশ বছরের যে যুবক যথারীতি হিমালয় গমন করেন। তিনি একদা হরিদ্বারে চলে এলেন যোগাসনে আসীন অবস্থায়। গঙ্গাবক্ষে ভাসতে ভাসতে।

    হরিদ্বারেই বসে গিয়েছিলেন। কিন্তু অনন্তপুরের বিখ্যাত জৈন পরিবারের এক প্রৌঢ়, যিনি দিল্লীতে বিশাল ব্যবসা ফেঁদেছিলেন, ভালই ছিলেন, তাঁকে সহসা সস্ত্রীক শান্তির সন্ধানে হরিদ্বার যেতে হয়।

    কারণ তাঁর পুত্রবধূ চন্দা। চন্দাকে পুড়িয়ে মারার অপরাধে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সকলে ধরা পড়ে, অহেতুক প্রচার পায় ঘটনাটি, ঢি ঢি পড়ে যায় দিল্লীতে, এবং শ্বশুরের ব্যবসা চোট খায়।

    চন্দা জনৈক মন্ত্রীর আত্মীয়া, যে মন্ত্রী অতীব প্রভাবশালী। শ্রীযুক্ত ও শ্রীযুক্তা জৈন তীর্থে তীর্থে ঘুরতে থাকেন।

    যোগপ্রেমানন্দকে তিনিই ”আবিষ্কার” করেন। সাশ্রু নয়নে বলেন, সব লপসাইডেড গ্রোথ হয়ে যাচ্ছে প্রভু। একদিকে পশ্চিম ও উত্তর ভারত দপদপিয়ে বাড়ছে শুধু ধর্মানুগত্যের জন্যে। ওদিকে পশ্চিমবঙ্গ দেখ। গডলেস দেশ। একটা কিছু করো।

    —এর জন্য চাই ত্যাগ।

    —আমি তো আমার সর্বস্ব…

    —তোমার জনসংযোগ কি রকম?

    —হয়ে যাবে প্রভু।

    হয়ে যায়, সবই হয়ে যায় এখন, মনে যদি বিশ্বাস থাকে, বিশ্বাসে শুধু বস্তু নয়, ধর্মাচার্যের কৃপাও মেলে।

    যোগপ্রেমানন্দ এবং জৈন দম্পতি তিন মাস বাদে দিল্লীতে উপস্থিত হন। জৈন বলেন, আমার ওপর ছেড়ে দিন সব।

    সাধুমহারাজ বলেন, সব মনে রেখো।

    —রেখেছি।

    মধ্যবর্তী তিন মাস সময়ে দুজনে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। দুজনেই বুঝেছেন, এ যুগে ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে একেবারে ব্যবসায়ীর মত। প্রোমোটার চাই, টাকা খাটাবার লোক চাই, জনসংযোগ অফিসার চাই, চাই ধনী ভক্তকুল।

    দিল্লী ব্যবসা বা রাজনীতি বা ধর্মের পক্ষে উর্বর ক্ষেত্র।

    দিল্লীতে সাধু বা সাধ্বী, মহাপ্রাণ ও মহাপ্রাণা, জ্যোতিষী, গণক, ম্যাজিক দ্বারা রোগ আরোগ্য ইত্যাদি ইত্যাদির সমাজে যোগপ্রেমানন্দ যে ফিট করে গেলেন, এ শ্রীযুক্ত জৈনের অবদান। ব্যবসা নয়, দোরে দোরে ঘুষ দিতে হল না। ক্যাবিনেট ও অন্যান্য দলের মানুষরাও ভিড় করলেন। প্রেমানন্দ আশ্রমের প্রাণপুরুষ বললেন, মাটি, মাটির দখল নাও।

    বললেন, বাংলার মহিমা অস্ত গেছে। কিন্তু সূর্য তো পুব আকাশেই ওঠে। বাংলার মাটি থেকেই উদিত হবে প্রকৃত ধর্মচেতনা।

    দিল্লী থেকে পাটনা, ক্রমে তাঁর নাম ছড়াল। এখন বিদেশে তাঁর ভক্ত অনেক, অনাবাসী ভারতীয় আছে, আছে সেখানকার অধিবাসীরা।

    অখ্যাত অনন্তপুরে নদীর ওপারে এঁর বিশাল আশ্রম ও অতিথি—আবাস প্রতিষ্ঠা সুরেশ জৈনের কীর্তি। প্রেমযোগানন্দ সেখানে বছরে চারবার আসেন। তাঁর মূর্তি পূজা পায়। ক্যাসেট তাঁর কণ্ঠ শোনায়।

    সরমা দেখতে যাননি। কিন্তু প্রদীপ্তর বৌ দেখতে গিয়ে অভিভূত হয়ে ফিরে এল।

    —কি আশ্চর্য জায়গা, স্বর্গ বললেও হয়।

    —শুনেছি তো খুব দেখার মত জায়গা।

    —বই এনেছি পড়ে দেখুন।

    —ইংরিজি বই, সায়েবদের লেখা?

    —না না, এ তো প্রেমযোগ ট্রাস্টের বই।

    —বাঙালী ভক্তও অনেক?

    —অনেক। সাতদিন ধ্যানমন্দিরে ধ্যান করলে, থাকলে সাত বছর বয়স কমে যায়। কি ব্যবস্থা! হট্টগোল নেই, নোংরা নয়, আলো ঝলমল করছে, বিশাল ফুলবাগান। বসে থাকলেও শান্তি।

    বসে থাকলে শান্তি যে পাবার সে পায়।

    সরমা কেমন করে তেমন শান্তির ছোঁয়া পাবেন?

    প্রদীপ্তর বউ যে কি বলে!

    —আমার কপালে নেই দিদি।

    —কেন?

    —ও তো বিশ্বাসই করে না। বলে, বাড়িতে দুর্গোৎসব হচ্ছে, ঘরে বিগ্রহ আছেন, ও সব ফ্যাশানেবল গুরুতে আমার বিশ্বাস নেই।

    —অসীমা গিয়েছে?

    —না না, কেউ না। আমার বাবা মা গেলেন, আমিও ঘুরে এলাম।

    .

    প্রেমযোগানন্দ নিয়ে ক্ষ্যাপামি কয়েক বছর চলল। কত ধানক্ষেত বিক্রি হল, আশ্রমের জমি হয়ে গেল, তার ঠিকঠিকানা নেই।

    সরমা একদিনও যাননি।

    অসীমা বললেন, যেতে ইচ্ছে হয় সরমা?

    —না, কি হবে গিয়ে।

    রেবতী বলে গেল, দেইখা আইলাম দিদি। ও বরলোকের জায়গা। আমার মত চাষীবাসীর লিগ্যা গুরুপাড়ার মঠই ভাল।

    সরমা গেলেন না, অসীমা গেল না, কিন্তু অনন্তপুর প্রেমযোগাশ্রম নাম করতে থাকল। এপারে নয়, ওপারে একটা অন্যরকম মানুষের ভিড় হয়। বড় বড় গাড়ি আসে আর ঢুকে যায়। লাভের মধ্যে ওখানে একটা বাস স্টপ হল। অসীমা ঠোঁট উলটে বললেন, ভীমরতি ধরেছে মানুষের। যুবো যুবো ছেলে মেয়েও ভক্ত হচ্ছে।

    পার্থ কলকাতার কোনো কলেজে সুযোগ পেয়ে চলে যাচ্ছে। যাবার আগে বলে গেল, একদিকে বাংলাদেশ থেকে মৌলবী আসছে, নতুন নতুন মসজিদ উঠছে। এখানে এক ঢঙের মন্দির হল। দেখলেন, পুজোপাট, কবচমাদুলি, নতুন নতুন ঠাকুরদেবতা কি রকম বাড়ছে এখন। আশ্চর্য!

    —আশ্চর্য কেন?

    —আশ্চর্য অথবা দুঃখের বিষয়। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায়। রাজনীতির বোধচেতনা এখন উধাও। যুক্তিহীন, অন্ধ বিশ্বাস এ ভাবে বাড়বে?

    —তাই তো বাড়ছে পার্থ।

    —দুঃসময় এটা। এ দুঃসময় কি কাটবে?

    সরমা ভাবলো, দুঃসময় তো অনেককাল শুরু হয়েছে। নইলে বকুদের এমন করে আশ্রয় দেয় অনন্তবাবুরা?

    কয়েকটা বছর তো নিঃশ্বাস নেবার সময় পেয়েছিলেন, তখন কি জানেন, এরপর জীবনটা নিষ্প্রদীপ হয়ে যাবে, থেকেই যাবে অন্ধকারে?

    মিলন বি. এস—সি এত ভালভাবে পাশ করল যে, কলেজও আশা করল ও এম. এস—সি পড়বে, রিসার্চ করবে।

    মিলন সে কথা ভাবলই না!

    মিলন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি নিল।

    সরমা বললেন, এ কি করলি?

    —অত পড়ে কি হবে?

    —কলেজে পড়াতে পারতিস আরো পড়লে।

    —এমন চাকরি পেয়ে ছেড়ে দেব? তা ছাড়া, আমি দূরে যেতে চাই। অন্য কোথাও…. ফোর্থ ইয়ারে একবার শুনেছিলাম ওরা ছেড়ে দিতে পারে। শুনে আমি কলেজ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলাম।

    হ্যাঁ। মিলন ওই রকমই।

    পালিয়ে বাঁচতে চায়।

    —আমার কথা ভেবেছিস?

    —আমি, আমি যদি দাঁড়াই মা, তোমাকে নিয়ে যাব সেখানে। এখন তো মাত্র ন’শো আশি পাব। তোমাকে আমি টাকা পাঠাব মা।

    ভীষণ, ভীষণ আঘাত পান সরমা। কিন্তু মিলনের কথা তো মিথ্যে নয়। বকুর ছায়াতে সে বাঁচবে কী করে? বকু একটি এমন নাম, যার সংস্পর্শে এলেই সব নষ্ট হয়ে যায়।

    —তুমি একলা হয়ে যাবে…. কিন্তু অতসী তো আসবে, আসেও তো।

    —আমার কথা ছেড়ে দে। না… রাগ করে বলছি না মিলন!

    সরমা চেষ্টা করেই হাসেন।

    —আমার তো বড় বন্ধন এই বাড়ি… তোর বাবার স্মৃতি… এমন নয় যে কোনও জায়গা আছে গিয়ে দাঁড়াব।

    —আমি দাঁড়ালেই তোমাকে নিয়ে যাব মা!

    —আগে দাঁড়া! মাইনে তো ভালই।

    —শুনতে ভাল। আজকাল টাকার দাম কী? এক টাকায় কী কেনা যায়? টাকার কোন দাম আছে?

    —কলকাতায় চাকরি।

    —হ্যাঁ…. একটা ট্রেনিংয়ে পাঠাবে বম্বেতে, যদি মনে করে। লাইনটা ভাল। কতজন ওপরে উঠে গেছে। বহরমপুর বড় জায়গা তো, সব জানা যায়। এ টাউনে কিছুই নেই। ওখানে ক্লাব, খেলাধুলো, বইমেলা, কলেজে ডিবেট, সেমিনার, সে অন্য পরিবেশ। এত বদ্ধ জলা নয়। বাবা যে কেন এখানে…

    —সময়ে সব বদলে যায় মিলন। গ্রামে থাকবেন না বলে এখানে বাড়ি করলেন। আমাদের কাছে এটাই টাউন। টাউনের পরিবেশে ছেলেরা বড় হবে! নইলে যে জমিজায়গা ছিল!

    —বাবা ফার্মিং করতে পারতেন! চাষবাসে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করে পানজাবে সব ফার্মিং করছে!

    —আগে অত কথা কেউ জানত না। সামান্যেই খুশি থাকত। তোর বাবা তো সাবেককেলে মানুষ ছিলেন! যাকগে, যাবার আগে মন্দিরে পুজো দেব। অসীমাদের বলে আসব কালই। জামাকাপড়, সুটকেস, সব তো লাগবে।

    —তা লাগবে।

    —দেব। টাকা তুলে দেব।

    —আমার জন্যে ফিকস ডিপোজিট ভাঙবে?

    —যা হয় করব।

    —টাকা আমি তোমায় দিয়ে দেব মা!

    —বেশ তো। দিস! পার্থ… জানে….?

    —জানে, বলেছি।

    সরমা হাজার টাকা ভেঙেছিলেন। সব টাকাই তো মেচিওর করবে, বাড়বে, আবার ফিকস ডিপোজিট করবেন এভাবে রেখেছিলেন। কিছু টাকার সুদ সেভিংসে জমা পড়ে। তা থেকেই ভাঙলেন। ব্যাঙ্কের টাকায় হাত দিতে চান না সরমা, কিন্তু বাড়ি মেরামত করতে হয়। পুজোর আগে কিছু তুলতে হয়। এ ভাবেই গুনে গুনে চালান।

    মিলন ছ’শো টাকা নিয়েছিল।

    সে টাকা সে ফেরত ঠিকই দিয়ে দেয়। কিন্তু সরমাকে নিয়ে যাবে, সে কথা রাখতে পারেনি মিলন। সে জন্যে মিলনকে অনেকে স্বার্থপর বলে।

    সরমা বলেন না।

    গ্রাম থেকে অনন্তপুরে, এ টাউন ছেড়ে বহরমপুর, সে শহর ছেড়ে কলকাতা….টাউন ছাড়ার পরই ওর জীবনও অন্যরকম হয়ে গেল!

    থাক, সুখে থাকুক। ওরা নিজেদের নিয়ে ভালই থাকে। লিলিকে সরমা কাছেও পান না, আশাও করেন না। পুত্রবধূর সঙ্গে তো সম্পর্ক হয় বছরে একবার।

    পুজোর আগে মিলন মাকে দামি কাপড় দিয়ে যায়। বলে, লিলি কিনেছে মা!

    বিজয়ার পর লিলির একটা পোস্টকার্ড পান। সরমাও আশীর্বাদ জানিয়ে চিঠি দেন।

    ওরা স্বার্থপর, না স্বার্থপর নয়, সে বিচার সরমা করতেও যান না।

    নিঃস্বার্থ ও দরদী হলেই কি আসতে পারত?

    মিলনের দাদা যখন বকু?

    দেয়ালে সুধন্যর ছবিটার দিকে তাকালেন সরমা। সুধন্যর বয়স সেই আটচল্লিশেই আটকে আছে।

    সুরমার বয়স বাষট্টি হয়ে গেল।

    পঁচিশ বছরে বকু জেলে যায়। এখন ওর বয়স ঊনচল্লিশ।

    বাবার মৃত্যুকালে মিলনের পনেরো।

    আজ ওর বয়স ঊনত্রিশ।

    একা সরমার জীবনে এমন দুঃসহ ভার কেন?

    অতসীর জীবনটাও যদি পরিপূর্ণ হতে পারত, সরমার একটা যাবার জায়গা হত। সব বেচে দিয়ে যাকে যা দেবার দিয়ে টাকা নিয়ে ওর কাছেই চলে যেতেন।

    তাই যাবেন। তাই যাবেন, কোলে তুলে নেবেন ওকে। বলবেন, আমি আছি মা। আমি তোর কাছে আছি।

    যদি সুযোগ পান।

    অতসীও তো এক লক্ষ্যে এগোচ্ছিল।

    চুরাশি সালে নাইন থেকে টেনে উঠল। রেবতীকে কথা দিয়েছিলেন সরমা। ওকে নিয়ে গেলেন প্রদীপ্তর কাছে।

    —দিদি! ম্যাট্রিক পাস করলে তো সরকারি নার্সিংই পড়তে পারে।

    —সে হয় না। ও তো বর্ণহিন্দু। তপশীলী বা আদিবাসী নয়। যদি চানস না পায়? তুমি তো বলেছিলে….

    —জুনিয়ার নার্সিংই শেখাও ওকে। নার্সিংহোমে হাতেকলমে কাজ শিখুক।

    সুরমা বোঝাতে পারছিলেন না কেন তাঁর এত উদ্বেগ। সময় যে কমে আসছে। বকু যদি এসে পড়ে? তখন অতসী কি করবে?

    রেবতী একলক্ষ্যে অর্জুনের মত অতসীকে স্বাবলম্বী করতে চাইছে। অতসীকে দাঁড় করাতে হবে। সে উদ্বেগ তো সরমারও।

    প্রদীপ্ত বলল, বড় চিন্তা হচ্ছে?

    —হ্যাঁ। ওকে তো খুব তাড়াতাড়ি পায়ে দাঁড়াতে হবে!

    —ঠিক আছে, ঠিক আছে।

    অসীমা বলেছিলেন, তোর ভরসাতেই রেবতী ওকে রেখে গেছে।

    —জানি। আমি ব্যবস্থা করছি। কেষ্টনগরের কাছে একটা মিশন হাসপাতালে প্রাকটিকাল নার্সিং শিখুক। পড়বে, হাতে—কলমে কাজ করবে। তিন বছর শিখুক, আমার নার্সিংহোমে নিয়ে নেব। ওখানে ওরা খুব কড়া নজরে রাখে মেয়েদের। কাজও শেখায়। একটি মেয়েও বসে নেই আজ। আর এখানে তো…. অতসী ক্রমে হেড নার্সই হয়ে যাবে।

    —খুব ভাল হবে!

    —কেষ্টনগরে আমি জানিয়ে দেব। কলকাতায় মিশনের হেডমাস্টার। কলকাতার মিশন তো খুব চেনা আমার। কিন্তু ওকে পৌঁছে দেবে কে?

    সরমা বললেন, আমি নিয়ে যাব।

    অতসীর ছোট ট্রাঙ্ক গুছিয়ে দিলেন। ওর মা যে টাকা দিত তার অর্ধেক তো জমাতেন। টাকা দিলেন। বললেন, খিদে পায়, কিনে খাবি। সবাই মেয়ে, কোন অসুবিধে হবে না।

    —আপনে ভাল থাকবেন কিন্তু….

    —থাকব।

    —ছুটি পাইলেই চইলা আসুম।

    —সে তো আসবিই। শোন, চলেই তো যাবি! মার সঙ্গে একবার দেখা করে আসি চল। তখনি কিন্তু যেতে পারেননি! যাবার সময় হল দু’বছর বাদে।

    —চলেন। সে অহন বাড়িতে আইছে। কুলডাঙায়।

    অতসী বড় হয়ে গেছে। রেবতীর কথামতো আজও ওর সাজগোজে মন নেই। সুঠাম স্বাস্থ্য, অনেক তৈলাক্ত চুলে যান টান বেণী। জামার হাতা প্রায় কনুই অবধি, ঝুলও লম্বা। পেট বা পিঠ দেখা যায় না। হাসপাতালে তো সাদা থান, সাদা জামা, কোমরে সাদা বেলট মাথায় সাদা ক্যাপ পরে। নিজের সম্পর্কে খুব সচেতন। ওর সঙ্গে ঠাট্টা মশকরা সম্ভব নয়।

    সরমা বলেছিলেন, হাত, কান, সব ন্যাড়া করে রাখিস! আমার কাছে এলে তো পরতে পারিস।

    —ইচ্ছাই চইলা গিছে মাসিমা।

    —একটা টিপ পরলে কী সুন্দর দেখায়?

    —পুরুষ পিছে লাগবে। আপনাগো সময় চইলা গিছে। অহন মাইয়ালোকের… হাসপাতালে কত কি দেখি মাসিমা! আপনে ভাবতে পারবেন না। শুধু পয়সায় লিগ্যা স্বামী তার পরিবারে বাঘের মুখে ঠেইলা পাঠায়! একটা মাইয়ার ইজ্জত লয় তিনজন! মাইয়ারে মায়েবাপেও খেদায়। হাসপাতালে আনছিল তারে, বাঁইচা উঠল, বিষ খাইছিল। শুধু কান্দে আর কয়, বাঁচাইলেন ক্যান? আমি যামু কোথা?

    সরমা নিশ্বাস ফেলেন।

    —মায়ে ঠিক কামই করছিল।

    —তুই শুনেছিস?

    —হ, মায়েই কইছে।

    —তোর মার মতো হয় ক’জন?

    —মাইয়ারা ছুরি ছোরা ধরতে শিখলে কিছু বাচতে পারত।

    —তুই যেখানে আছিস, সে জায়গা তো ভাল?

    —খুব ভাল।

    —পরে দেখিস, বিয়েও ভাল হবে তোর।

    —কে জানে! আজকাল বিয়ের আগে টাকা হাঁকে, টাকা নাই ত বিয়া নাই।

    —যাক গে, সে সব পরের কথা।

    —হ মাসিমা। নিজের পায়ে দাড়াই, কর্তব্য তো কিছুই করি নাই। মায়ের কিছু করতে হইব না…. সে আমি জাইনা রাখছি।

    —এ কথা বললি কেন?

    —তার দেহে আছেই বা কী! মরলেও সে ওই গুরুপাড়াতেই মরব। সেখানে শ্মশানে জায়গা কিন্যা থুছে।

    —জানি। ও সব ভেবো না মা। তুমি পায়ে দাঁড়িয়েছো, কারো ভরসা করো না, এটা জানলেই মা অনেক শান্তি পাবে। একদিকে তাকিয়ে আছে কতকাল!

    —আপনে আমার কাছে মায়ের থিক্যা বেশি ছারা কম নয়। আপনারে কাছে রাখুম, স্যাবা করুম, তা হইলে বাচি। আর কিছু চাই না… ন্যান, দারাইলেন ক্যান?

    —ফল কিনে নিই… তোর মা তো দোকানের মিষ্টি খাবে না।

    —ফল বা কী খায়! একেক বছর একেক ফল গুরুর চরণে দেয়। দ্যাখেন, ভাতও দিয়া থুছে কিনা! আমি তো কই। অন্নজলটাও দিয়া দাও!

    বাসে ব্রিজ পেরোলেন, ওপারে নেমে রিকশা নেন।

    অতসী বলে, নদী পারাইতাম কবে, ভুইলা গিছি। আগে তো আছিল নৌকা।

    —কতটা দূর?

    —ধরেন এক কিলোমিটার। আগে আছিল তিন মাইল পথ! হাইটা আইতে হইত। অহন পথরে, ঘাটরে, দোকান, বাজার!

    প্যাডলার বলল, কুলডাঙায় যাইবেন কুনবারি?

    —নরসিংহ পারা।

    —অহন এহানেও জমির দাম বাড়ত্যাছে।

    —জানি, চলেন।

    সরমা আগে বোঝেননি কুলডাঙা কত বড় জায়গা। পাড়ার পর পাড়া, দোকানপাটও আছে। বেশ বড় একটা মাঠ। কোন মন্দিরের চূড়া চোখে পড়ে। অতসী অস্ফুটে বলে, এত মানুষজন আছিল না। রেবতীর বাড়ি দেখে উনি অবাক হয়ে যান। টিনের চালের পাকা বাড়ি, পাঁচিল ঘেরা।

    —বাড়ির সামনে ওই যে টিউব কল, আর মাথায় পাকা ছাওনি দেখেন, মা তার জ্যাঠার নামে দান করছে। যত ঘরবাড়ি, সকল জমি মা’গো আছিল। পাঁচ জাত বসত করাইছিল মায়ের জ্যাঠা! তাতেই নরসিংপারা নাম হইছে। শুনি পঞ্চায়েত থিক্যা নাম দিবে নরসিংহপুর।

    —এত গাছগাছালি!

    —চলেন, দ্যাখেন।

    —জোরে জোরে পাঁচিলের দরজায় ঘা দেয় অতসী।

    … দরজা খোলো মা, কারে লইয়া আসছি দ্যাখো।

    রেবতী আতিপাতি দরজা খোলে। বলে, এমুন খবরবার্তা না দিয়া… এ কী? সপন তো দেখি না। সরমা দিদি আইতে পারলা?

    —মা কি দরজায় কথা কইয়া বিদায় দিবা?

    —ল’ অতসী, বরো মুখ হইছে তোর। আসো দিদি, আসো! গোপাইলা গেল কই? আসো দিদি, ঘরে আসো।

    দরজার পর অনেকটা জমিতে ফুলবাগান। জবার গাছই কতগুলো। কলাঝাড় বেশ ঘন। অপরাজিতা লতিয়ে উঠেছে পেয়ারা গাছে।

    চওড়া বারান্দা, তারপর ঘর। চৌকি, আলমারি, টেবিল, দুটো চেয়ার।

    —দারাও, জল আইনা দেই। হাতমুখ ধোও।

    —না, মাসিমারে আমি কলপারে লইয়া যাই। বারি দেখাই।

    ঘরের পর অন্দরেও বারান্দা। বারান্দার কোলে আরেকটি ঘর। শেকল তোলা।

    —মায়ে ওই ঘরে থাকে।

    —বড় ঘরে কে থাকে?

    —এই গোপাইলা। সুবল, গোপাল, অদের বাপের লগে মায়ের জমি চাষ করে। ডাক্তার মাসির বাপ, বুড়া দাদুর বেবস্থাই চলত্যাছে। সুবল বিয়া করছে, অহন গোপাল তার ভাগ্না নিয়া ওই ঘরে থাকে। ভাগ্না পড়তেয়াছে, ওই টেবুলে পড়ে।

    স্নানের পাকা ঘর, মেঝেতে টিউবওয়েল।

    —সব ব্যবস্থা করেছে।

    —হ তা করছে। মাসিগো বারি যাইত, থাকত, চালচলনে অন্যরকম চিরকাল। গায়ে জামা, পরনে সায়া পরত, অহনও পরে। দারান, গামছা আনি। আমার তো সবই আছে এখানে। আসাই হয় না, এই যা।

    হাত মুখ ধুয়ে ঘরে আসেন ওঁরা। রেবতী বলে, রাতে তো থাকবা না দিদি?

    —কেমন করে থাকব বাড়ি ফেলে?

    —কও ক্যান, সেই টানেই তো বার বার আসি অহন। টান গিয়াও যায় না। অতসীর হাতে সর্ব—সমর্পণ কইরা ছুটি নিমু।

    —আমি এহানে থাকুম না।

    —বারি কী করবি?

    —তোমার নামে ইসকুল দিমু মাইয়াগো।

    —গোপাইলা আইছে, ডাক দেহি?

    —থাক মা, বকাবকি কইরা কাম নাই। অদের ভরসার বাস।

    —ক্যান বকুম না? হাতি খন্দেও পরে নাই, বানরের লাথ খাইব ক্যান?

    রেবতী চোখ বুজে নিজেকে স্থির করে ও সম্পূর্ণ শান্ত গলায় বলে, অরে এই টাকাটা দে। মন্টুর দোকান হইতে কাচা সন্দেশ আনব।

    —এত টাকার সন্দেশ কেন রেবতী?

    —তোমরা খাইবা, লইয়া যাইবা। গছের ফল ছারা ত দিতেও পারুম না কিছু।

    অতসী বলে, মায়ের তিনটা গাই আছিল।

    —হঃ করছিলাম সব। জিদের বশে করছিলাম। অহন কত বছর হয়, নাইরকেল বাগান বেচলাম, গাই গরু বেচলাম। বারি বাসের যুগ্য কইয়া নিলাম। হকলই অতসীর। অতসীর আঠারো হইছে, অরে নিয়া হকল ওর নামে কইরা দিমু।

    গোপাল নামে একটি আঠার—উনিশ বছরের ছেলে মিষ্টির বাক্স এনে অতসীকে দেয়। রেবতী বলে, দেখ গোপাইল্যা! আমার দিদি হয়।

    —অতসী দিদি কইছে সে কথা, পিসি।

    —ল, মাইন্য দে। এমন মাইনষের পায়ের ধূলাও আশীর্বাদ। অরে আশীর্বাদ করো দিদি! গোপাইল্যা ছাওয়াল ভাল। অদের হাতেই সব। যত্ন কইরা রাখে। এট্টা বকনা দিছি, অর্ধেক ধান দেই। ডাল কলাই যা করে অরাই নেয়। ঘর তুইলা দিছিলাম, তা তার বাপের চেষ্টায় রক্ষা পাইছে। তিন বিঘা জমি লিখ্যা দিলাম, অর দাদা বিয়া বসল। শউরের কুমন্ত্রণায় বাপরে দিয়া সেই জমি বেচাইল। তিন বিঘা পনেরো হাজার। শোনছে কেউ? অহন বিশ পচিশ হাজার বিঘার দর? ভাবলে…

    —মা। যা দিয়া দিছ, তা লইয়া ভাইব না। তয় মায়ের দুঃখ গোপাইল্যা। টাকা দিয়া তরা কাম করলি না কুনো। হকলটি রেডিও, টেপরেকর্ডার, খাওনদাওন আর সুবইলার সাইকেল কিন্যা উরাইয়া দিলি।

    —দাদার শউর হাওলাত নিল।

    —হ হ, নিধিরামের ভাই বলরামের হাওলাৎ! সে টাকা জলে গিছে। যা গোপাইল্যা, কামে যা!

    গোপাল চলে যায়। খুবই জোয়ান, বেঁটেখাটো, পরনে জয় বাংলার প্যান্ট ও গেঞ্জি। তবে মুখ চোখের ভাব সরল, বোকা বোকা।

    রেবতী নিঃশ্বাস ফেলে। বলে, অগো তরে আমিও কম করি না। অদের ভরসাতেই সব ছাইড়া রাখি। তর, এহানে হকলই বেচতে অইব। বলরাম আর কৎজন অহনে জমি কও, মাইয়া কও, গরু কও, হকল বেচনের দালালি করে। ভাইগ্য! যে নিধিরাম পাকা গরু চোর, জালিয়াতির আসামি, সেই অহনে পঞ্চায়েত সদস্য! অরা অহনে নানা কালা কারবারে লামছে। যাউক গা! আমি চোখ বুজলে অতসীরে আসতেও হইব না। ভুজঙ্গ উকিল টাউনে বইসাই বেইচা দিব।

    —ইস! তোমার নামে ইস্কুল দিব।

    —পারবি না। জবরদখল কইরা বইসা গেলে উঠাইতে পারবি না। রতনবাবুদের কাছারিবাড়ি, ময়রাজানে আমবাগান, হকলই জবরদখল হইয়া গেল না? অহন জমির ফাটকা চলত্যাছে। কাচা টাকার লোভে চাষি জমি বেইচা হাহাকার করত্যাছে। সুবইলার বাপ যা করল!

    অতসী মুচকি হেসে বলল, তার নাম কি গো মা? সে না ডাকসম্বন্ধে ভাই?

    —দূর মুখপুরি। সে নাম আমি বলতে পারি?

    —পতিতপাবন! আমার বাবার নাম, জানেন মাসি? তাতেই মা…..

    সরমা ঈষৎ হেসে বললেন, মিলনের বাবার নাম আমি তো দরকারে বলি। অবশ্য তেমন দরকার হলে….

    —মাসিমা! জিগান না মারে বাবা কি বইলা ডাকত!

    রেবতী হেসে ফেলে।

    —দুজনাই পোলাপান। আমি ক্ষীরমুরকি খাইতে বরো ভালবাসতাম। তা হে জনা আমারে অ আমার মুরকি গো! বইলা ক্ষ্যাপাইছে।

    নিশ্বাস ফেলে রেবতী—কুন—অ কষ্ট দেয় নাই। আমারে কত যত্ন করছে। অতসী হইতে কত আনন্দ করছে। ভাল লোকটাই থাকল না গো দিদি!

    অতসী বলে, থাক ও সব কথা, মা!

    —তর নামে বেবাগটি রাইখা যাই। বিয়ার লাইগা শিক্ষিৎ পোলা আইসা লাইন দিব। চাকুইরা মাইয়া, এত সম্পত্তি!

    —বিয়ার আগে কিছু খাইতে দিবা কি না ভাব।

    —যা, আমার চৈকির নিচে পিফা আছে, কলা আছে, সব গাছের! লইয়া আয় কাইটা। মাসিরে দে, নিজেও খা।

    —তোমার বাড়ি বড় সুন্দর রেবতী।

    —ক’দিন থাকলে গুরুপাড়া লইয়া যাইতাম।

    —সেখানে শ্মশানে জমি কিনেছো?

    —হ দিদি! জমি কিনছি। রান্নাশাল, পাকা দালান বারি বানাইয়া দিছি। মাইয়ারা নিত্য ভোগ রান্ধে, ঘরখান বরোসরো হইলে তাগো আরাম। আমি ছারা কারেও এমুন বারি আইসা থাকতে দেয় তারা? আমি কই, মাইয়ার সম্পত্তি, দেখভালন আমার। তা এটুক আমি করব। কয় না কিছু। আমারে মাইন্য দেয়।

    অতসী পাথরের থালায় পেঁপে, কলা, সন্দেশ নিয়ে আসে। কাঁসার রেকাবি এগিয়ে ধরে, দেন আমাদের তুইলা দেন।

    রেবতী বলে, আল্লাইদা মাইয়া!

    —মাসিমা না থাকলে অতসী পাইতা?

    —ল’, থাল হাতে ও কথা বলতে নাই।

    —রেবতী তুমি!

    —দিনে একপাকে হবিষ্য। রাতে খই, কলা, দুধ।

    —সে কী মা? রাতে না তুমি বাতাস খাইতা? ছি ছি, পাপ হইব।

    —না লো! অহন খাই। মহারাজ খুব বকছে। বলছে দেহ শুকাইয়া লাভ নাই কুনো।

    —বাঁচলাম।

    —চশমাও লইছি। পুথি পড়তে চক্ষে দেই।

    ওঁদের ফেরার সময় হয়। রেবতী বলে, আজ মিষ্টিটা লইয়া যা। টানতে কষ্ট, নয় ডাটা, লঙ্কা, লাউ, কলা দিতাম।

    —দাও না, রিকশাতেই তো যামু।

    —দেই তবে।

    মস্ত এক থলিতে সব নিয়ে আসে রেবতী। বলে, দিদির বাজার করতে লাগব না দু’দিন।

    —মা! চিঠি যেমুন দেও দিও।

    —তুইও দিস।

    ছিপছিপে, শুভ্রবসনা রেবতী দাঁড়িয়ে থাকে দরজায়, যতক্ষণ না রিকশা মোড় নেয়।

    অতসী বলে, সত্যই সুবইলা বরো বেইমানি করল। মায়ে অগো ঘর, বৎসরের ধান, কলাই, বেবাগ দেয়, আজও দিত্যাছে। অর শ্বশুরের মতলব, সে বারি আর বাগান লেখাইয়া লও। অতসী পাইব ক্যান?

    —বেচেই দিক। শত্রুতা করে সম্পত্তি রাখা যায় না।

    অতসী ঘাড় নাড়ল। বলল, আমিও মায়ের মাইয়া। সে যহন এত কষ্ট করছে, আমি তার নাম জাগাইয়া যামু। অরা কয়, মাইয়ার বিয়া হইব না। সহ্য হয় না মাসিমা, এমুন ব্যবহার… মায়ে বইলা অগো রাখছে। আমি হইলে বেবাগ তারাইতাম। ওই সুবইলার অসুখ কম করছে মা?

    ওই একটা দিন বড় ভাল কেটেছিল সরমার। ভগবান দিয়েছিল একটি সুন্দর, সমুজ্জ্বল শান্তির দিন! ভগবান আছেন? আজ সরমা ভেবে পান না কিছু।

    ওই দিনটি তাঁর শেষ পাওনা ছিল এত দীর্ঘ পথ হাঁটার পর?

    তাই হবে, তাই হবে, নইলে অতসী ফিরে যাবে দু’দিন বাদে। সরমা রান্নাবান্না সেরে ওর সঙ্গে গল্প করছেন, পার্থ কেন অসময়ে এসে দাঁড়াল?

    কেন বলল, বকু ছাড়া পেয়ে গেছে শুনলাম।

    ঘড়ির কাঁটা থেমে গিয়েছিল সরমার হৃৎপিণ্ডও বুঝি এক নিমেষ থমকে দাঁড়িয়েছিল, মুখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, গলা শুকনো।

    —ছাড়া পেয়ে গেল? কিন্তু…

    —অবনীবাবু যোগাযোগ রেখেছিল… কলকাতায় ছিল বকু… কলকাতাতেই কেসটা রি—ওপন করায়…. এসব আইনের মারপ্যাঁচ বুঝি না…. এখন শুনছি, ওর শাস্তিটাই বেআইনী হয়েছে। যথেষ্ট প্রমাণ ওর বিরুদ্ধে ছিল না, হেন তেন…

    —কিন্তু…. কেস তো পুলিশ করেছিল…

    —আপিল করিয়ে টরিয়ে …আমি এসব বুঝিও না তেমন। আপনাকে বলে গেলাম।

    —সে…. এখানে আসছে?

    —তাও জানি না। আচ্ছা চলি। মাঝে মাঝে আপনার খবর নিতাম, প্রসূতিসদনে খবর নেব। ও এলে… ওখানে আসা….

    সরমার চোখে অন্ধকার নেমেছিল। আবার, আবার তাঁর কারাবাস শুরু হবে?

    —টাউনে সে সময়ে ওর ওপর সবাই তো…

    —কয়েকটা বছর গড়িয়ে গেছে। টাউনে সে সময়ে যারা ছিল, সবাই নেই। আর রাজনীতিও তো দিন দিন নোংরা থেকে নোংরা হচ্ছে। লুম্পেন, গুণ্ডা ঢুকে পড়েছে সর্বত্র। বর্ডার জেলা, নানা রকম ক্রাইম হচ্ছে এখন…. সবই বদলে গেছে। জানি না… বুঝি না… চলি তবে। অবনীবাবুকে খুব উল্লসিত দেখলাম…. মনে হ’ল আপনিই একা জানেন না। চলি।

    সে কথাও সত্যি। মানুষ, মূল্যবোধ এক রকম থাকছে না। ডাকাতি, ধর্ষণ, কোন কেসে আসামী ধরা পড়ে না। রাজনীতিক আর সমাজবিরোধী আজ পরস্পরের সঙ্গে গাঁঠছড়ায় বাঁধা।

    সাধারণ মানুষের জীবনও নিয়ন্ত্রণ করে সমাজবিরোধীরাই।

    হতাশ মানুষ এখন দেবদৈবে ভরসা খোঁজে। কিন্তু দেবদৈবের বা কি ক্ষমতা আছে?

    গ্রাম ছেড়ে শহরে আসতে চেয়েছিলেন সুধন্য। আজ শহরের কালো ছায়া গ্রামকেও গ্রাস করেছে। সরমা, রেবতী, এদের মত মানুষেরা এ সমাজে একেবারে অপ্রয়োজনীয়।

    সরমা দেয়ালে পিঠ দিয়ে বসে পড়েছিলেন। অতসী সব শুনছিল এতক্ষণ। ও এগিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।

    তারপর বলল, চলেন, খাইয়া লই।

    —অতসী!

    —কানবেন না, কানবেন না। ইশশ …. নিজের পোলা ঘরে আইবে, মারে কানতে হয়! কানবেন না, অমঙ্গল হয় মাসিমা….

    সরমা চোখ মোছেন। কান্নাভেজা রুদ্ধপ্রায় গলায় বলেন, সবই আমার অদৃষ্ট!

    —নেন, ওঠেন।

    —চল, খাবি চল?

    —খাইয়া চইলা যাই মাসিমা? বাস পামু এখন।

    —না মা, তুমি যাবে কেন? কাল যেও ধীরে আস্তে। তোমার ক্ষতি করবে কে?

    —মায়ে বলছিল….

    —আমার মনে আছে। কাল যেও।

    —আপনারে রাইখা যাইতে আমার….

    —কাঁদে না অতসী, কাঁদে না। কাঁদলে কাঁদার শেষ নেই মা। কেঁদে জুড়োব তেমন কপাল করে আমিও আসিনি, তুইও আসিসনি।

    —আমার উপর দিয়া ত কিছুই যায় নাই। মা জানলাম না, আপনে বাচাইয়া রাখছেন এতকাল…. আপনেরে ভগবান কেন এমুন শাস্তি দিত্যাছে? আপনের কথাই ভাবলে…

    সেদিন রাতে অতসী হঠাৎ বলেছিল মাসিমা! শাস্তি ত দাদাও কম পায় নাই… দ্যাখেন হয়তো দাদায় সুবুদ্ধি হইয়া ঘরে আসব। আপনের দুশ্চিন্তা থাকব না আর! এক পোলা এত ভাল..

    সরমা নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন।

    —ঘুমো অতসী!

    অতসী তাঁর মনের কথাই বলেছে। যে ছেলে ভাল, সে তো টাকা পাঠিয়েই কর্তব্য সারে। আসতেই পারে না। আর বকু? এত বছর ধরে তো এক প্রার্থনাই জানিয়ে যান সরমা, সে যেন ভাল হয়ে যায়। যেখানে থাকুক, মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাঁচে। নরকের প্রেতের জীবন যেন ত্যাগ করে।

    এ প্রার্থনা যে করেন, তাও তো নীরবে। এ কী ভাগ্য তাঁর, এ কী নিয়তি?

    দগ্ধ, জীর্ণ জীবনে অতসী একমাত্র সান্ত্বনার প্রলেপ। মনে মনে গভীর আবেগে বলেন, তোর ভাল হক অতসী, তুই ভাল থাক। তোর মায়ের স্বপ্ন পূর্ণ হক। আমিও শান্তি পাব। চোখে দেখি না দেখি—কাছে পাই বা না পাই—ভাল আছিস জেনে শান্তি পাব।

    অতসী ঘুম ঘুম চোখে বলেছিল, কাপর ইস্ত্রি করতে দিছি, আইনা নিবেন।

    —নেব, তুই ঘুমো।

    অতসী ঘুমিয়ে পড়েছিল।

    সরমার গায়ে হাত রেখে। আপনের গায়ে হাত রাখলে বরো ভরসা পাই। ভয়ভীত চইলা যায় মাসীমা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মুখ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }