Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আকাশের নিচে মানুষ – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আকাশের নিচে মানুষ – ২

    দুই

    হাইওয়েটা যেখানে গিয়ে বাক নিয়ে ডাইনে ঘুরেছে, সেখান থেকে খানিকটা গেলে একটা ধুলোবোঝাই মেটে রাস্তা পড়ে। এত ধুলো যে পায়ের গোছ অব্দি ডুবে যায়। রাস্তাটা বড় সড়কের গা থেকে বেরিয়ে বা দিকে চলে গেছে। এই রাস্তায় প্রথমে পড়ে রঘুনাথ সিংয়ের খামার বাড়ি। ঢেউ-টিনের চাল আর দশ ইঞ্চি ইটের দেওয়াল দেওয়া পঁচিশ-তিরিশটা বিরাট মাপের লম্বা লম্বা টানা ঘর পর পর দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই টের পাওয়া যায়, এই ঘরগুলো নানারকম শস্যে বা ফসলের বীজে সারা বছর বোঝাই হয়ে থাকে। আগের বছরের ধান, গেঁহু, জনার, মকাই, ভিল, মুগ, মসুর, তিসি, সর্ষে, মাড়োয়া ইত্যাদি বিক্রি হয়ে যাবার পর নতুন বছরের ফসল তুলে গোলাঘরগুলো ভর্তি করে রাখা হয়।

    ঘরগুলোর সামনের দিকে পনের-কুড়ি বিঘে জায়গা নিকিয়ে পরিষ্কার তকতকে করে রাখা হয়েছে। ওখানে ফসল শুকিয়ে ঝাড়াই বাছাই করা হয়। তারপর গোলায় তোলার পালা।

    তকতকে জায়গাটার এক ধারে অনেকগুলো টিনের চালা। ঐ চালাগুলোর তলায় রঘুনাথ সিংয়ের শ-খানেক লাঙল-টানা বয়েল আর শ-খানেক গাড়ি-টানা মোষ থাকে। এতগুলো পশুর তদারকির জন্য রয়েছে বিশ-পঁচিশটা লোক। পশুগুলোকে দানাপানি দেওয়া, চান করানো, বোখার হলে দশ মাইল দূরের শহর থেকে ভিটিনারি (ভেটারিনারি) ডাগদর ডেকে এনে দাওয়াই কি সুই ফোটানো—যাবতীয় কাজই তাদের করতে হয়। এ বাবদে রঘুনাথ সিংয়ের কাছ থেকে পেটের খোরাকি আর সারা বছরের জন্য খানতিনেক করে মোটা সুতোর জামাকাপড় ছাড়া আর কিছুই পায় না ওরা। ধর্মাদের মতো ওরাও পুরুষানুক্রমে বেগার দিয়ে চলেছে।

    গরু-মোষের চালাগুলোর গায়ে হাল-লাঙল আর গাড়ি রাখার জায়গা। ওখানে উঁচু উঁচু চালা বানানো হয়েছে।

    খামারবাড়ির গায়ে কতকগুলো নীচু নীচু মাটির ঘর! ঘরগুলো এখন খালি পড়ে আছে। চাষের কাজের জন্য বছরে মাস তিনেকের জন্য যে মরসুমী ফুরণের কিষাণদের নিয়ে আসা হয়, এ-বছর তার এখনও আসেনি। ওরা এলে ওই ঘরগুলোতে থাকে।

    ধর্মারা খামারবাড়িতে এসে দেখল অন্য দিনের মতো একেবারে সামনের ঘরটার দাওয়ায় পুরু গদির ওপর বসে আছে হিমগিরি নন্দন ঝা। রঘুনাথ সিংয়ের এই খামারটার পুরো দায়িত্ব তার ওপর। আর এই বারান্দাটা হলো তার সেরেস্তা। মর্যাদা বাড়াবার জন্য সে নিজে আংরেজি করে বলে কানটোল রুম (কনট্রোল রুম)। সকাল ছ’টা থেকে রাতের সিকি ভাগ পর্যন্ত এখানে বসে বসেই কিষাণ খাটানো, জমি চষার সময় হাল-বয়েল দেওয়া, সন্ধোয় তাদের খোরাকি মেপে দেওয়া, ফসল রোয়ার দিনে কিষাণদের ভাগে ভাগে বীজ বেঁটে দেওয়া থেকে কোন গোলায় কী জাতের ফসল থাকবে তার হেফাজত করা পর্যন্ত সব দিকে হিমগিরিনন্দনের কড়া নজর। এমনিতে আর সব মানুষের মতো তার এক জোড়াই চোখ। কিন্তু আদতে হিমগিরির চোখ হলো হাজার খানেক। দুটো ছাড়া বাকী সবই অদৃশ্য। তার চোখে ধুলো ছিটিয়ে কারো ফাঁকি দেবার উপায় নেই।

    .

    এই মুহূর্তে গদিতে বসে ধীর চালে অনবরত পা নাচিয়ে চলেছে হিমগিরি। এই পা নাচানোটা তার অনেককালের আদত। তার সামনে রয়েছে একটা উঁচু কাঠের ডেস্ক।

    লোকটার বয়েস বাহান্ন-তিপান্ন।গোলগাল চেহারা ভারী ঘুমন্ত  নাক, মোটা ভুরুর তলায় ঢুলু-ঢুলু চোখ। বাইরে থেকে ঢুলু-ঢুলু দেখলে কী হবে, এমন সজাগ তীক্ষ্ণ চোখ ভূ-ভারতে কারো নেই। মাথার কাঁচা-পাকা চুল প্রায় চামড়া ঘেঁষে ছাঁটা, পেছন দিকে এক গোছা লম্বা টিকির মাথায় ফুল বাঁধা। কপালে চন্দনের ছাপে দেবনাগরী হরফে লেখা ‘জয় রাম, জয় রাম, জয় কিষুণ, জয় কিষুণ।’ পরনে মোটা সুতোর পাড়হীন ধুতি আর কুর্তা।

    মৈথিলী ব্রাহ্মণ এই লোকটার চামড়া খুবই মিহি, মসৃণ আর তেলতেলে। গারুদিয়া তালুকের মানুষেরা বলে, ‘ওর গা বেয়ে মাখন’ গড়িয়ে পড়ে। লোকেরা আরো বলে, ‘এই ঝা লোকটা হলো লাকড়া (নেকড়ে)। বড়ে সরকার রঘুনাথ সিং-এর অনেকগুলো পোষা জন্তু রয়েছে। তাদের মধ্যে একটা লাকড়া, একটা সিয়ার (শিয়াল)। একজন হিমগিরিনন্দন ঝা, আরেকজন মুনশী আজীবচাঁদ।’

    পা নাচাতে নাচাতে ধর্মাদের দিকে তাকাল হিমগিরি। বলল,  ‘এখনও তো সূরুয পুরা ডোবে নি, এর ভেতরেই কাম হয়ে গেল! হারামজাদাগুলো বহোত ফাঁকি দিচ্ছিস।’ লোকটার গলার স্বর যেমন সরু তেমনি চড়া, কানের পর্দায় ছুঁচের মতো বিঁধে যায়। ঐ রকম মোটা ভারী তেল চুকচুকে শরীরের ভেতর থেকে কী করে যে এমন স্বর বেরোয় সেটাই একটা আশ্চর্যের ব্যাপার।

    .

    ধর্মারা কেউ কিছু বলল না। জ্যৈষ্ঠ মাসের জ্বলন্ত আকাশের তলায় সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত জমি চষার পরও বছরের পর বছর, আবহমান কাল ভরা ফাঁকি দেবার কথাই শুনে আসছে। কিন্তু হিমগিরিনন্দনের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই।

    হিমগিরি ফের বলল, ‘আজ যা করার করেছিস, কাল সূরুয ডোবার আগে জমিন থেকে হাল-বয়েল তুলে ফেললে খোরাকি কাটা যাবে। কানমে বাতঠো ঘুষল হো (কানে কথাটা ঢুকল)?

    সবাই ঘাড় কাত করে জানালো—ঘুষেছে।

    ‘যা, আভি হাল ঔর বয়েলিয়া জমা কর—’ বলেই ডেস্কের তলা থেকে পেটমোটা একটা দুধের বোতল বার করে গলায় উপুড় করে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বগ বগ করে শব্দ উঠতে লাগল।

    ধর্মারা জানে ঐ ডেস্কের তলায় দশ বারোটা দুধের বোতল সাজানো আছে। খাঁটি মোষের দুধ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খানিকক্ষণ পর পর দুধ খেয়ে যায় হিমগিরি। একেবারে বেড়ালের ধাত। বোতল বোতল স্নেহজাতীয় বস্তু গলা দিয়ে শরীরে ঢোকার ফলেই তার চামড়া এত মিহি, এত মোলায়েম আর জেল্লাদার।

    বোতল শেষ করে একটা পেতলের ডিব্বা বার করে এক খিলি পান মুখে পুরল হিমগিরি। যতবার দুধ ততবার পান।

    হিমগিরি যখন পান চিবুচ্ছে তখন ধর্মারা ওধারের বয়েল আর মোফ রাখার চালায় গিয়ে পশুগুলোকে জমা দিয়ে পাশের চালায় হাল-লাঙল রেখে এল। গরু মোষ এবং লাঙল-টাঙল বুঝে নেবার জন্য চালাগুলোতে অন্য লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। একটু এদিক ওদিক হলে তারা চেঁচিয়ে হিমগিরিকে জানিয়ে দেবে।

    ধর্মা আর দেরি করল না। কোয়েলের খাতে সেই সাবুই ঘাসের জঙ্গলে কুশী দাঁড়িয়ে আছে। সে তার বয়েল দুটো আর লাঙল নিয়ে ওধারের চালাগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।

    সামনের চালাটায় বাজেপোড়া তালগাছের মতো চেহারার আধ-বুড়ো রামধনিয়া ক্ষুদে ক্ষুদে গোল চোখে এদিকে তাকিয়ে আছে। লোকটার হাত-পায়ের শিরাগুলো দড়ির মতো জট পাকানো। অস্বাভাবিক ঢ্যাঙা আর আখাম্বা সে। সকালে এর কাছ থেকেই হাল-বয়েল নিয়ে গিয়েছিল ধর্মা। এগিয়ে গিয়ে সে বলে, ‘এ লে, তুহারকা বয়েলিয়া আউর—’

    রামধনিয়া লাঙলটা নিয়ে চালার একধারে খাড়া করে রাখে তারপর তীক্ষ্ণ চোখে বয়েল দুটোকে দেখতে থাকে। একটা বয়েলের আগাপাশতলা দেখা হয়ে যাবার পর একটা ছোকরাকে ডেকে পশুটাকে রাতের খাদ্য কিছু জাবনা দিতে বলে। তারপর দ্বিতীয় পশুটাকে লক্ষ্য করতে করতে আচমকা সেটার নাকে লম্বা কাটা দাগ দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে শ্লেষ্মা-জড়ানো চেরা গলায় চেঁচায়, ‘বয়েলিয়াকা নাক পর ক্যায়সা চোট হুয়া রে?

    কেমন করে বয়েলটার নাকে চোট লাগল, ধর্মা জানে না। খুব সম্ভব লাঙল টানার সময় জমির কাঁটাগাছ খেতে গিয়ে বা শক্ত শেকড়-টেকড়ে লেগে কেটে থাকবে। কিন্তু সকালে সম্পুর্ণ সুস্থ অক্ষত একটি জন্তু দিয়ে সন্ধ্যেয় চোটলাগা অবস্থায় তাকে সহজে ফেরত নিতে চাইবে না রামধনিয়া। তাদের মতোই অচ্ছুৎ এই লোকটা এবং পেটভাতার ক্রীতদাস। তবু পুরুষানুক্রমে বড়ে সরকারের নৌকরগিরি করে করে তার আদতটাই খারাপ হয়ে গেছে। রঘুনাথ সিংয়ের জমিজমা, অচেতন এবং জীবন্ত তাবত সম্পত্তি সে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করে। সবই অভ্যাস। রক্তের মধ্যে প্রবাহিত বহু জমানার প্রাচীন সংস্কার।

    এখনই রামধনিয়া বয়েলের নাকের আঁচড় নিয়ে গলার স্বর সাত পর্দা চড়িয়ে চিৎকার জুড়ে দেবে। সঙ্গে সঙ্গে হিমগিরিনন্দন চেঁচামেচির কারণটা জেনে যাবে। তার ফলাফল কী হতে পারে ভাবতেই গল গল করে ঘামতে শুরু করল ধর্মা। কাঁপা ভীত গলায় সে বলে, ‘মালুম নায় রামধনিয়া ভাই—’

    রামজীকা অসীম কিরপা, রামধনিয়া আজ কেন যেন চেঁচায় না। শুধু বলে, ‘বহোত হোঁশিয়ার রহনা ধম্মা! মনে রাখিস তোর চাইতে এই জানবরের দাম অনেক বেশি। তুই মরলে কুছু হবে না। মগর এই বয়েলটার কুছু হলে বড়ে সরকারের পান শো (পাঁচশ), হাজার রুপাইয়া বরবাদ।’

    ধর্মা মাথা নাড়ে, মনে রাখবে। তারপর রামজীর পায়ে মনে মনে দশবার মাথা ঠেকিয়ে ভাবে, একটা ফাঁড়া কাটল। সে আর দাঁড়ায় না, রামধনিয়ার কাছ থেকে সরে আসে। ওদিকে বয়েলটা রামধনিয়ার হাত থেকে সেই ছোকরার জিম্মায় চলে যায় এবং জন্তুটা তার রাতের বরাদ্দ কুচনো খড়, খোল এবং ভেলিগুড়ের মিশ্রিত মণ্ড পেয়ে যায়।

    ধর্মার পর অন্য সবাই বয়েল লাঙল জমা দিতে থাকে।

    ৰয়েলটয়েল বুঝিয়ে ধর্মারা যখন চলে যাবে সেই সময় হিমগিরি তদের ডাকল, ‘শোন্—’

    ধর্মারা কাছে এগিয়ে এলে হিমগিরির ঘুমন্ত ঢুলুঢুলু চোখ একেবারে বদলে গেল। চরকির মতো চোখ দুটো গণেরি, বুধেরি, ধর্মা থেকে শুরু করে সবগুলো মেয়ের মুখের ওপর দিয়ে ঘুরতে লাগল। খানিকক্ষণ দেখার পর ভুরু কুঁচকে বলল, ‘সবাইকে তো দেখছি, ওহী ছোকরিয়া কঁহা গৈল?’

    গণেরি জিজ্ঞেস করল, ‘কৌন?’

    ‘কুশী।’

    গুণেরি উত্তর দেবার আগে ধর্মা বলল, ‘কুশী আয়ী নহী। ক্ষেতিসে চলি গয়ী।’

    তীক্ষ্ণ সরু গলায় হিমগিরি চেঁচিয়ে উঠল, ‘ঝুট। ছোকরিয়া কামমে নহী আয়ী। এক রোজ আদমী নহী ভেজা তো ব্যস কাম চৌপট। পেটের দানা এ্যায়সা এ্যায়সা মেলে!’

    অন্য দিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দশবার করে জমিতে লোক পাঠায় হিমগিরি। নিজেও কখনও কখনও গিয়ে হানা দেয়। উদ্দেশ্য, কাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা, সেটা লক্ষ্য রাখা। আজ ইচ্ছে করেই লোক পাঠায় নি হিমগিরি। মাঝে মাঝে একটু ঢিলে দিয়ে সে দেখতে চায় কেউ ফাঁকি দিচ্ছে কি না।

    ধর্মা বলল, ‘আয়ী সরকার। হামনিকো সাথ থী। পুরা রোজ কাম কিয়া থী।’

    ‘ঝুট, পুরী ঝুট। শুনা হ্যায় উয়ো ছোকরিয়াকো সাথ তুহারকো পেয়ার চালু হো গ্যয়া। উসকী বাঁচানেকো বাহানা। ছোকরির এক রোজের খোরাকি আমি কাটব।’

    ‘নায় নায় দেওতা, এ্যায়সা নায় করনা। উ আয়ী আ নহী আয়ী, সব কোইকো পুছো-এ গণেরি চাচা, এ বুধেরি চাচা, এ ঢোড়াইয়া, এ এতোয়ারী, এ শনচারী বোল্ তু লোগ, বোল্ না—সবার দিকে ঘুরে ঘুরে কাকুতি মিনতি করতে লাগল ধর্মা। সারাদিন ঝলসানো রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে কুশী। তবু একটা ঝুটা অজুহাত তুলে তার খোরাকি কাটতে চাইছে এই মৈথিলী বামহনটা। কিন্তু কিছুতেই তা হতে দেবে না ধর্মা।

    গণেরিরা এবার বলে উঠল, ‘হুঁ দেওতা, কুশী পুরী রোজ ক্ষেতিমে থী। আভি গৈল—ভগোয়ান রামজী কসম।’

    হিমগিরি বলল, ‘ঠিক আছে, আজকের দিনটা ছেড়ে দিলাম। লেকিন এক বাত, কাল থেকে সুবে সবাইকে এখানে আসতে হবে, আবার সামকো কাম পুরা হবার পরও সবাই আসবি। কানমে ঘুষল?’

    অর্থাৎ সত্যি সত্যি ধর্মারা হাজিরা দিচ্ছে কিনা সেটাই এভাবে দেখতে চায় হিমগিরি। সবাই মাথা কাত করে জানালো কাল থেকে তারা দু’বারই এখানে আসবে।

    একটু চুপচাপ। সবাইকে দেখতে দেখতে শনিচারীর ওপর নজর আটকে গেল হিমগিরির। জাবর কাটার মতো চাকুম চুকুম করে পান চিবিয়েই যাচ্ছিল সে। শনিচারীকে দেখতে দেখতে তার ভুরু কুঁচকে যেতে লাগল। মেয়েটার পেটে পাঁচ-ছ মাসের বাচ্চা রয়েছে।

    শনিচারী লজ্জায় মুখ তুলতে পারছিল না, একেবারে কুঁকড়ে জড়সড় হয়ে ঘাড় নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে ছিল।

    বেশ খানিকটা সময় শনিচারীকে দেখার পর হিমগিরি গলার স্বর ঈষৎ চড়িয়ে বলে ওঠে, ‘হারামজাদী কুত্তী—’

    সবাই চুপ করে থাকে।

    হিমগিরি আবার বলে, ‘দো সাল আগে না একটা বাচ্চা হয়েছে তোর?’

    শনিচারী উত্তর দেয় না। জগতের সবটুকু সঙ্কোচ সারা গায়ে মেখে নতচোখে দাঁড়িয়েই থাকে।

    এদিকে হিমগিরি হঠাৎ ক্ষেপে উঠল যেন, ‘মুহু সে বাত নিকালতে নহী! বহোত শরমবালী; হাঁ কি নায়—বোল, বোল–’

    শনিচারী সন্ত্রস্ত ভঙ্গিতে একবার চোখ তুলেই নামিয়ে নিল, ‘জী দেওতা—’

    ‘এখন তো বড়ী শরম। লেকেন মরদের সিনার ওপর সিনা চড়িয়ে না শুলে নিদ আসে না—ক্যা?’

    শনিচারী চুপ।

    অশ্রাব্য একটা খিস্তি দিয়ে হিমগিরি এবার বলে, ‘হর সাল বাচ্চা পয়দা করবি। বাচ্চার বাহানা করে দো মাহিনা করে কামে ফাঁকি মারবি-এ নহী চলেগি! নায় কাম তো নায় খোরাকি। কানমে ঘুষল?’

    ‘কানমে ঘুষল’ শব্দ দুটো হিমগিরির কথার মাত্রা। শনিচারীরা ঘাড় কাত করে জানায় কানে ঢুকেছে।

    সোমবারী, গাংনী, কুঁদরী—এমনি জনকয়েক সাদী-হওয়া যুবতী মেয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা চোখ ছোট করে এবার তাদের দিকে তাকায় হিমগিরি; সরু চাপা গলায় বলে, ‘তোদের মতলব কী রে জোয়ানী মুরগীরা?’

    কেউ উত্তর দিল না।

    হিমগিরি বলে, ‘একটা বাত মনে রাখিস। আপনা আপনা মরদদের সাথ জেয়াদা মজা লুটবি না। হর সাল মুরগীর মত যদি আণ্ডা পাড়িস আর ক্ষেতির কাম বন্ধ হয়ে যায় লাথ মারকে মারকে একেক জনের পাছার হাড্ডি তুড়ে দেব। কানমে ঘুষল?’ বলেই বোতল বার করে গলায় বগ বগ শব্দ তুলে আবার খানিকটা ভয়সা দুধ খেয়ে মুখ মোছে। তারপর পান চিবুতে চিবুতে ফের বলে, ‘আচ্ছা করকে শুনে রাখ, দশ সাল বাদ বাদ এক এক আণ্ডা। দো বাচ্চার পর ফুল ইস্টপ। গরমিন কানুন বানিয়ে দিয়েছে। কানমে ঘুষল?’ মাঝে মাঝে দু-একটা ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে কথা বলে সে।

    সবাই নিঃশব্দে মাথা নাড়ল।

    দাঁতের ফাঁক দিয়ে পিচকিরির মতো পানের পিচ ফেলে হিমগিরি আবার বলে, ‘ভাদই (ভাদ্র) মাসের কুত্তীর দল। মওকা পেলেই পেট ফোলাবার ধান্দা!’

    কুঁদরী নামের মেয়েটা—তার রুক্ষ লালচে চুল ঝুঁটিবাধা, বুক যেন জোড়া পাহাড়, পতলী কোমর, দেওদার গাছের গুড়ির মতো উরু—খুবই হাসিখুশি যে, তবে ডাকাবুকো। ভয়ডরটা তার কম। বামহন, অন্য উচা জাত, মুনশী কাউকেই বিশেষ রেয়াত করে না। তাদের সামনাসামনি মুখের ওপর কিছু বলে না, তবে আড়ালে যা বলে তাতে ভয়ে অন্যদের বুক কাপে। তা ছাড়া তার জিভ ভীষণ আলগা, মুখে কোন কথাই আটকায় না। সোমবারীর কানের ভেতর মুখ গুঁজে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, বুঢ়া লাকড়াটা ক্যা কহল রে! ছোকরিদের এহী সিনা, এহী কোমর, এই জোয়ানি নিয়ে মরদের পাশে শোবে আর ‘মরদ মেরে কালাপন দুলহানিয়া’ বলে তার সিনার ওপর যখন তার আওরতকে তুলে নেবে তখন এই বামহনটার কথা মনে থাকবে?’

    সোমবারী খানিকটা কুঁকড়ে গিয়ে দ্রুত চারপাশ দেখে নেয় তারপর বলে, ‘বেশরম—’

    কুঁদরী বলতে লাগল, ‘মরদ যখন আটার মতো ডলতে থাকে তখন শরম লাগে না? শুনলেই বেশরম—ও হো-হো-হো—’

    ‘চুপ তে! যা। কাই শুনেগা—’

    ‘শুনুক। দশ সাল বাদ বাদ এক এক আণ্ডা! তার আগে হলে বামহনটা পাছার হাড্ডি তুড়ে দেবে! ওহো-হো-হো, হাড্ডি তোড়নেবালা! বুঢ়া লাকড়ার মুখে তিন লাথ, তিন বার থুক—’ বলে গুনে গুনে তিনবার থুতু ফেলল কুঁদরী।

    সোমবারাী ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সন্ত্রস্ত ভঙ্গিতে সে বলে, ‘চুপ হো কুঁদরিয়া—চুপ হো যা—’

    ঘুমন্ত হলে কী হবে, হিমগিরির চোখ হলো শকুনের চোখ আর কান দুটো কুকুরের কানা সে কুঁদরীদের দিকে তাকাল। কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, ‘কা বাত? কী হয়েছে?’

    কুঁদরীটার মুখ অলগা, দুম করে কিছু বলে ফেলতে পারে। তার ফলাফল হবে খুবই খারাপ। তাই সোমবারী দম আটকানে গলায় তাড়াতাড়ি বলে উঠল, ‘কুছ নায় দেওতা, কুছ নায়। এয়সা—দুসরা বাত—’

    ধারাল সন্দিগ্ধ চোখে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকে হিমগিরি। তবে আর কোন প্রশ্ন করে না। শুধু বলে, ‘কুঁদরী বহোত হারামী ঔরত।’

    সন্ধ্যে হয়ে আসছিল। সূর্যটা মিনিট কয়েক আগে ডুবে গেছে। হাল্কা অন্ধকার ছোটনাগপুরের এই অঞ্চলটার গায়ে উলঙ্গবাহার শাড়ির মতো জড়িয়ে রয়েছে।

    ধর্মা ভয়ে ভয়ে একসময় বলে, ‘বামহন দেওতা, আপহিকো হুকুম হো তো ঘর লৌট যায়—’ কুশী অনেকক্ষণ কোয়েলের খাতে সাবুই ঘাসের জঙ্গলে তার জন্য দাড়িয়ে আছে। মেয়েটার জন্য ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠছিল সে।

    তা ছাড়া আজ তাদের খোরাকি নেবার দিনও না। রঘুনাথ সিংয়ের চাষের জমিতে পেটভাতায় কাজের বদলে তাদের জন্য যে খাদ্য বরাদ্দ তা তারা রোজ পায় না; একদিন পর পর পায়। কাল দু’দিনের খোরাকি তারা হিসেব করে নিয়ে গেছে। আবার আসছে কাল সারাদিন ক্ষেতিতে কাজের পর দু’দিনের খাদ্য পাবে।

    হাল-লাঙল রাখার যে টানা টিনের চালাগুলো রয়েছে তার ওধারে যে তালাবন্ধ লম্বা চালাটা, সেখান থেকে ধর্মাদের ভাগের খাদ্য মেপে দেওয়া হয়।

    যা বলার বলা হয়ে গেছে। হিমগিরি বলে, ‘যা—কিন্তু ধর্মারা যখন ফিরে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছে সেই সময় কী মনে পড়ে যেতে খুব ব্যস্তভাবে ডেকে ওঠে, ‘আরে শুন শুন্—’

    সবাই ঘুরে দাড়ায়, ‘জী—’

    ‘ঘরে লৌটবার আগে একবার বড়ে সরকারের মকান হয়ে যা।’

    বড়ে সরকার অর্থাৎ রঘুনাথ সিংয়ের সঙ্গে ধর্মাদের এমনিতে সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। অত উঁচুতে যাবার সাহসও তাদের কোনদিনই হয় না। তাদের যাবতীয় কাজ-কারবার হিমগিরিনন্দনের সঙ্গে। হঠাৎ বড়ে সরকারের মকানে কেন তাদের যেতে হবে, সেটা ভেবে পায় না তারা। ধর্মারা মনে করতে পারে না, বড়ে সরকার রঘুনাথ সিং কখনও তাদের নিজের মকানে ডেকেছেন কিনা। শুধু তাদেরই না, রঘুনাথ সিংয়ের বাপ-ঠাকুরদা ধর্মাদের বাপ-ঠাকুরদাকে কখনও ডেকেছেন বলে তারা শোনেনি। একই সঙ্গে ভয় এবং কৌতূহল তাদের পেয়ে বসে।

    হিমগিরি এবার ব্যাপারটা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেয়। বড়ে সরকার এবার ‘এম্লে’ হতে যাচ্ছেন। তাই নিজের লোকেদের সঙ্গে দু-একটা কথা বলবেন। পাটনা থেকে ফিরেই তিনি খবর পাঠিয়েছেন, বছরের পর বছর যারা তার কাছে কাজ করছে সেই সব আপনা আদমীরা জমিন থেকে ফিরলেই যেন তাঁর মকানে পাঠিয়ে দেয় হিমগিরি।

    হিমগিরি আরো জানায়, বড়ে সরকার নিজে ধর্মদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে, এটা তাদের চোদ্দ পুরুষের ভাগ্য। খুবই খুশনসীব তারা। তাড়া লাগিয়ে বলে, যা যা, চলা যা—’

    ধর্মার অস্থিরতা বাড়ছিলই। বড়ে সরকারের বাড়ি যাওয়া মানে আরো খানিকটা সময় বরবাদ। আবার না গেলে ও নয়। তার ঘাড়ের ওপর এমন শক্ত মাথা নেই যাতে বলতে পারে—যাবে না। অগত্যা ঘাড় গুঁজে অন্য সবার সঙ্গে সে বড়ে সরকারের কোঠির দিকে এগিয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতিহাসের গল্প – প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    Next Article পাগল মামার চার ছেলে – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }